আরাম অন্বেষণের পরিণামসমূহ

31-03-2023

গির্জায় আমার কাজই হল ভিডিও বানানো। ভিডিও বানানোর সময়, যখন কোনো কঠিন প্রজেক্ট থাকে, তখন বারবার প্রত্যেক ফ্রেমের উদ্দিষ্ট প্রভাব যাচাই করে নিতে হয়, সেই অনুসারে তাতে রদবদল করতে হয়, অনেক সময় ব্যর্থও হতে হয়। যখন আমি লক্ষ্য করলাম যে আমার ভাইবোনদের প্রজেক্টগুলো তুলনামূলকভাবে সহজ, আর তারা আরও প্রজেক্ট পুরো করেছে, তখন ভাবলাম, “আমার প্রজেক্টে উচ্চ প্রযুক্তিগত প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, আমাকে এ নিয়ে ভাবার জন্য সময় দিতে হবে, উপকরণ খুঁজতে হবে, পড়াশোনা করতে হবে, এসবের পাশাপাশি বানানোর প্রক্রিয়াতেও অনেক সময় লাগবে। প্রজেক্টগুলো সহজ হলে এত সমস্যা হতো না। শুধুমাত্র কিছু সহজ পদ্ধতি আর দক্ষতা আয়ত্ত করলেই হতো, আর বানানোর প্রক্রিয়াতেও কম সময় লাগতো, যার ফলে প্রজেক্টগুলোতে ঝামেলা আরো কমতো।” এরপর, আমার দায়িত্ব থাকলে, দেখতাম যে কোন প্রজেক্টগুলো কঠিন আর কোনগুলো সহজ; তারপর সিদ্ধান্ত নিতাম যে কোনটা নেব। একবার, আমি একটা সাধারণ প্রজেক্ট বেছে নিয়েছিলাম, আর কঠিনগুলো আমার ভ্রাতা আর ভগিনীদের জন্য রেখে দিয়েছিলাম। যখন আমি দেখলাম আমার অনেক ভ্রাতা আর ভগিনী অনায়াসে সেসব করতে রাজি হল, তখন একটু অস্বস্তি বোধ করলাম: “আমি অসুবিধার মুখে পিছিয়ে যাচ্ছিলাম না?” কিন্তু তারপর ভাবলাম, “কঠিন প্রজেক্টগুলোতে আমাকে অনেকটা সময় আর কর্মশক্তি দিতে হয়, মানসিক দিক থেকেও অনেক কিছু ভাবতে হয়, তাই সহজ কাজ বেছে নেওয়াই আমার জন্য সবচেয়ে ভালো।” পরে, আমার একটা প্রজেক্টে মনে হয়েছিল সেটাকে আরো ভাল করার জায়গা রয়েছে, কিন্তু সেই পরিবর্তন করার জন্য খুব বেশি পরিশ্রম করতে চাইনি, আর আমি লক্ষ্য করেছিলাম যে আমার ভ্রাতা আর ভগিনীরা তাতে কোন সমস্যা দেখতে পাচ্ছিল না, তাই আমি কোনো পরিবর্তন না করেই সেটা বাস্তবায়িত করেছিলাম। মাঝে মাঝে, যখন আমার সমস্যা হতো, তখন আমি শুধু কিছুক্ষণ সেটা সম্পর্কে চিন্তা করতাম, সুরাহা না মিললে তখন আমার ভ্রাতা আর ভগিনীদের সাহায্য নিতাম। আমার মনে হতো এভাবে সমস্যার তাড়াতাড়ি সমাধান হয় আর আমি ক্লান্তও হই না, তাই এটা আমার কাজ শেষ করার একটা সহজ উপায় ছিল। কিন্তু এটা করার সময় নিজেকে দোষী মনে হতো। কিছু প্রশ্ন আসলে বেশ সরল ছিল, আরেকটু চেষ্টা করলেই হয়তো সেগুলো সমাধান করতে পারতাম, এদিকে আমার ভ্রাতা আর ভগিনীদের জিজ্ঞাসা করে তাদের কাজে বাধা দিচ্ছিলাম, কিন্তু তখন আত্মপ্রতিফলন বা আত্মোপলব্ধির চেষ্টা করিনি। আর তাই, আমি নিজের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এভাবে প্রায়ই এই ধরনের চালাকির আশ্রয় নিতাম।

ভিডিও বানানোর পাশাপাশি, আমাকে আমার ভ্রাতা আর ভগিনীদের পঠন-পাঠনেও নেতৃত্বদান করতে হতো আর প্রত্যেকের পেশাগত দক্ষতাও বাড়াতে হতো, তাই আমাকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি কাজ করতে হতো। আমাকে পেশাদার দক্ষতা শেখার পাশাপাশি ভ্রাতা আর ভগিনীদের জন্য পড়াশোনার জিনিস খুঁজে আনতে হতো। এসবই কঠিন আর ক্লান্তিকর মনে হতো। পরে ভাবতে লাগলাম যে আমি কীভাবে সময় বাঁচাতে পারি, কীভাবে ক্লান্তি এড়াতে পারি, তখনই আমার ভ্রাতা আর ভগিনীদের কাছে টিউটোরিয়ালগুলো পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলাম। এভাবে, ভ্রাতা আর ভগিনীরা সেগুলো নিয়ে পড়াশোনা করতে পারতো আর আমাকেও জিনিগুলো খুঁজতে সময় খরচ করতে হতো না। আমি যত বেশি ভাবতাম, ততই মনে হতো যে এর চেয়ে ভাল পদ্ধতি আর হতে পারে না। কিছু সময় পরে, আমার ভ্রাতা আর ভগিনীরা বলে যে টিউটোরিয়ালগুলো তাদের সমস্যার সমাধান করেনি। সেই সময় আমার একটু খারাপ লাগল, তাই অন্য উপায় না দেখে, আমি একটা সহজ পদ্ধতিতে সবাইকে শেখানোর জন্য কিছু জিনিস জোগার করলাম, আর ভাবলাম, “আচ্ছা, সবার জন্য পাঠের ব্যবস্থা করে ফেলেছি, আমার কাজ তাহলে শেষ।” একটু সময় যেতে না যেতেই আমাদের দলনেতা বললেন, “সম্প্রতি একটা ভিডিওতে কিছু সমস্যা হয়েছিল বলে পরের পর্যায়ে যেতে দেরি হল।” এটা শোনার পর, আত্মপ্রতিফলনের বা আত্মোপলব্ধির চেষ্টা করিনি, তখন আমার মনে হয়েছিল যে এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শুধু কষ্টভোগ করতে হয় তাই নয়, আরো মূল্যও দিতে হয়, কোথাও কিছু ভুল হলে তার দায়ও নিতে হয়, তাই আমি আর এই দায়িত্ব নিতে চাইনি। একদিন, আমার নেতা আমার কাছে এল, আর আমাকে দায়সারাভাবে কাজ চালানোর জন্য আর আমার দায়িত্ব পালনে চাতুরী করার জন্য উষ্মা প্রকাশ করে বলে যে নিজেকে পরিবর্তন না করলে আমাকে বরখাস্ত করা হবে। যখন আমার নেতাকে এই কথা বলতে শুনলাম, যদিও আমি স্বীকার করেছিলাম যে আমার দায়িত্বপালনে দায়সারা করেছিলাম, তবুও তখন আমি কোনও অনুশোচনা অনুভব করিনি। যখন আমার দায়িত্বপালনে ভবিষ্যতে আমাকে যে সব অসুবিধা আর সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে সে সম্পর্কে ভাবতাম, তখন আর এই দায়িত্ব পালন করতে চাইতাম না। তার চেয়ে সহজ কোনো দায়িত্ব পালন করতে চাইতাম। পরের দিন, আমার নেতার কাছে গিয়ে বললাম, “আমি এই দায়িত্ব পালন করতে পারছি না। অন্য কোনো দায়িত্ব নিতে চাই।” এটা শোনার পর সেও আমায় শোনাল, “তুমি কি সত্যিই এই দায়িত্ব পালন করতে পারবে না? আদৌ চেষ্টা করেছিলে কি? তুমি কঠোর পরিশ্রম এড়িয়ে চল, সব সময় দায়সারা কর, চাতুরীর চেষ্টা কর, আর তা করতে তোমার মানবতায় বাধে না। এই আচরণ দেখে তোমায় সত্যিই এই দায়িত্বের যোগ্য বলে মনে হয় না।” যখন আমার নেতাকে একথা বলতে শুনলাম, তখন মনে হল যেন আমার হৃদয় হঠাৎ করে ফাঁকা হয়ে গেল। স্টুডিওতে ফিরে দেখলাম অন্য ভগিনীরা তাদের দায়িত্ব নিয়ে ব্যস্ত, কিন্তু আমাকে বরখাস্ত করা হয়েছিল আর আমার দায়িত্বও হারিয়ে ছিলাম, এবং আমি খুবই মর্মাহত ছিলাম। কখনও ভাবিনি যে সত্যিই আমার কাজ হারাতে পারি। কিন্তু তারপর ভাবলাম, “সবকিছুতেই ঈশ্বরের সার্বভৌমত্ব। আমার বরখাস্ত হওয়া ঈশ্বরের ধার্মিক স্বভাবের ফল। সেটা মেনে নিয়ে আমার আত্মপ্রতিফলন করা দরকার।” এর পরের কয়েক দিন, আমার নেতার আমাকে বরখাস্ত করার দৃশ্যটা চলচ্চিত্রের মতো আমার মনের মধ্যে বারবার ভাসতে লাগল। নেতার কথা মনে হলেই মন খারাপ হতো, বিশেষ করে আমার নেতার সেই কথাটা যে আমার মানবতায় বাধে না। আমি কীভাবে আত্মপ্রতিফলন করব বা নিজেকে জানব সেটা জানতাম না, তাই, সেই যন্ত্রণার মধ্যে থাকার সময় আমি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতাম যেন তিনি আমাকে পথ দেখান

পরে, আমি ঈশ্বরের বাণীর একটা লেখা দেখলাম, “ভ্রষ্ট স্বভাবের মধ্যে যে কোনো বিষয়কে উদাসীন ও দায়িত্বহীনভাবে সামলানোর কিছু কারণ আছে: যাকে মানুষ মলিনতা বলে উল্লেখ করে। তারা সমস্ত ব্যাপারেই ‘প্রায় এরকমই’ এবং ‘অনেকটা কাছাকাছি’ এমন বলে থাকে; এগুলি ‘হয়তো’, ‘হতে পারে’ এবং ‘পাঁচের মধ্যে চার’ বলার মতো মনোভাব; তারা দায়সারাভাবে সব কাজ করে, ন্যূনতম কাজ করেই সন্তুষ্ট হয়, এবং বিশৃঙ্খলার মধ্যে যেনতেন প্রকারেণ অগ্রসর হয়েই সন্তুষ্ট থাকে; তারা কোনো ব্যাপারকে গুরুত্ব দেয় না বা নির্ভুল হওয়ার চেষ্টা করে না, আর সত্যের নীতি অন্বেষণে আরোই কম মাথা ঘামায়। এটাই কি ভ্রষ্ট প্রকৃতির অন্তর্গত বিষয় নয়? এ কি স্বাভাবিক মানবতার প্রকাশ? না, তা নয়। এটাকে অহংকার বলাই সঠিক, এটাকে উচ্ছৃঙ্খল বলাও যুক্তিযুক্ত—তবে এটাকে একেবারে নিখুঁতভাবে ধরার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত শব্দ হল ‘মলিন’। বেশীরভাগ মানুষেরই মধ্যে মলিনতা নিহিত রয়েছে, কেবল তার মাত্রা আলাদা। তারা কতটা নিয়ে পার পেয়ে যেতে পারে তা দেখার জন্য সমস্ত ব্যাপারেই তারা যত কম সম্ভব কাজ করতে চায়, আর তাদের সমস্ত কাজেই প্রতারণার আভাস থাকে। তারা সুযোগ পেলেই অন্যদের সাথে প্রতারণা করে, সম্ভব হলেই কাজে ফাঁকি দেয়, যখনই পারে সময়টুকু বাঁচায়। তারা নিজেদের বিষয়ে ভাবে—‘যতক্ষণ অবধি আমি অনাবৃত হওয়া এড়াতে পারি, আর কোনও সমস্যা না করি, আর আমাকে কোনও হিসাব দিতে ডাকা না হয়, ততক্ষণ আমি এর মধ্যে দিয়ে যেনতেন প্রকারেণ এগিয়ে যেতে পারি। কাজ ভালোভাবে করার ব্যাপারটা যতটা না দামী, তার চেয়ে অনেক বেশি কষ্টের’। এইরকম মানুষ কোনোকিছুতেই সুদক্ষ হতে শেখে না, এবং তারা নিজেদের প্রয়োগ করে না বা কষ্টভোগ করে না এবং তাদের পড়াশোনাতেও কোনো মূল্য দেয় না। তারা শুধুমাত্র যে কোনও বিষয়ে জোড়াতালি দেওয়া জ্ঞান লাভ করতে চায় এবং তাতেই নিজেদের বিজ্ঞ বলে জাহির করে, তারা বিশ্বাস করে, যা কিছু জানার, সবই তারা জেনে গেছে, আর এর ভিত্তিতেই তারা তাদের এলোমেলো পথে এগিয়ে চলে। মানুষের কি সব বিষয়ের প্রতি এরকম মনোভাবই থাকে না? এটা কি ভালো মনোভাব? না, তা নয়। সহজভাবে বললে, এটা ‘বিশৃঙ্খল ভাবে চলা’-র জন্যই করা হয়। এই ধরনের মলিনতা সমগ্র ভ্রষ্ট মানবজাতি জুড়েই রয়েছে। স্বীয় মানবিকতাবোধে এই রকম মলিনতাযুক্ত মানুষেরা নিজেদের যে কোনো কাজেই ‘বিশৃঙ্খল ভাবে চলা’-র দর্শন ও মনোভাব গ্রহণ করে। এই ধরনের মানুষেরা কি নিজেদের কর্তব্য সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করতে সক্ষম? না। তারা কি নীতি মেনে কিছু করতে সক্ষম? তার সম্ভাবনা আরোই কম(বাক্য, খণ্ড ৪, খ্রীষ্টবিরোধীদের উন্মোচন, অষ্টম পরিচ্ছেদ: তারা অপরের থেকে কেবল নিজেদের প্রতিই আনুগত্য আদায় করে, সত্য অথবা ঈশ্বরের প্রতি নয় (দ্বিতীয় অংশ))। “একজন উন্নত ও সাধারণ মানুষের মধ্যে কীভাবে পার্থক্য করা যায়? শুধুমাত্র তাদের মনোভাব, কাজ করার ধরণ, মানুষ, ঘটনাবলী এবং বস্তুসমূহের বিষয়ে তাদের আচরণের মধ্যে কী প্রকাশ পায়—তারা কীভাবে কাজ করে, নানা বিষয় সামলায়, এবং সমস্যা দেখা দিলে কীভাবে আচরণ করে, সেগুলি দেখো। সচ্চরিত্র এবং মর্যাদাসম্পন্ন মানুষেরা কাজের প্রতি সুবিবেচক, সচেষ্ট এবং পরিশ্রমী হয়, এবং তারা ত্যাগস্বীকার করতে ইচ্ছুক থাকে। অসচ্চরিত্র এবং মর্যাদাহীন মানুষেরা সর্বদা তাদের কাজে অসংলগ্ন ও বিশৃঙ্খল হয়, সর্বদা কোনো না কোনো কৌশল অবলম্বন করে, সর্বদা শুধু বিশৃঙ্খলভাবে চলতে চায়। তারা দক্ষতা অর্জনের মতো করে কোনোকিছু শেখে না, এবং তারা যতই শিক্ষালাভের পেছনে সময় ব্যয় করুক না কেন, তারা কোনোকিছু ঠিকমতো শেখে না, হতভম্ব হয়ে থাকে সম্পর্কিত মূল বিষয় এবং সাধারণ সমস্যাতেও তারা অজ্ঞতার দ্বারা বিভ্রান্ত হয়েই থেকে যায়। তুমি উত্তরের জন্য তাদের উপর চাপসৃষ্টি না করলে, তা আর পাবে না; আর যখন তুমি তা করো, তখন তারা আতঙ্কিত হয়—তাদের ভ্রু ঘর্মসিক্ত, তাদের থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় না। এরা কী ধরনের মানুষ? এরা নিম্ন চরিত্রের মানুষ, এরা তুচ্ছ, মূল্যহীন(বাক্য, খণ্ড ৪, খ্রীষ্টবিরোধীদের উন্মোচন, অষ্টম পরিচ্ছেদ: তারা অপরের থেকে কেবল নিজেদের প্রতিই আনুগত্য আদায় করে, সত্য অথবা ঈশ্বরের প্রতি নয় (দ্বিতীয় অংশ))। ঈশ্বরের কথা যেন হৃদয়ে বিঁধল, বিশেষ করে তাঁর বাণী, “তারা সুযোগ পেলেই অন্যদের সাথে প্রতারণা করে, সম্ভব হলেই কাজে ফাঁকি দেয়,” “অসচ্চরিত্রে এবং মর্যাদাহীন”; এবং “নিম্ন চরিত্রের”। সেগুলি নিখুঁতভাবে আমার অবস্থা অনাবৃত করল। তখন বুঝতে পারলাম যে আমি আমার দায়িত্ব ঠিক এইভাবেই পালন করে এসেছি। আমি সব কিছুই দায়সারাভাবে করতাম, আর তাও কোনোরকমে কাজ চালানোর মতো করতাম। আমি সবকিছুতে আমার বস্তুগত স্বার্থ বিবেচনা করতাম, দুঃখকষ্ট এড়ানোর উপায় খুঁজতাম, কখনও ভাবিনি যে কীভাবে আমার দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করা যায়। বস্তুগত আরাম পেতে, কষ্ট এড়াতে যা করেছি তার মূল্য দিতে হচ্ছে, আমি সবসময় নিজের জন্য সহজ প্রজেক্ট বেছে নিয়েছি। বানানোর প্রক্রিয়াতেও, যখন দেখতাম কোনো সমস্যা রয়েছে বা কোনো কিছু আরো ভাল করা যেতে পারে, তখন সেটা অন্য কারও চোখে না পড়লে এড়িয়ে গেছি। আমাদের পেশাদারি দক্ষতা শেখার দরকার ছিল। কিন্তু আমার ভ্রাতা ও ভগিনীদের সেই শিক্ষাগ্রহণে নেতৃত্ব দেওয়া আমার পক্ষে ক্লান্তিকর মনে হয়েছিল। অতএব, নিজস্ব বস্তুগত আরামের খাতিরে, আমি ছলচাতুরি করার চেষ্টা করতাম। আর আমার ভ্রাতা আর ভগিনীদের নিজেদেরই শিখতে হতো, তার মানে তাদের দক্ষতা কখনও উন্নত হতো না, ফলে তাদের দায়িত্বের কার্যকারিতা কমে যেত, আর কাজ শেষ করতেও দেরি হতো। আমার সব দায়িত্বেই, আমি চালাকি আর প্রতারণা করতাম, কীভাবে গির্জার কাজ বা আমার দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করা যায় তা নিয়ে কখনো ভাবিনি। আমার মানবতা বলে কিছু ছিল না! আমি সত্যিই স্বার্থপর, ঘৃণ্য আর নীচ চরিত্রের ছিলাম। আমি যখন এই বিষয়গুলো নিয়ে ভাবলাম, তখন গভীর অনুশোচনা আর অপরাধবোধ অনুভব করলাম।

এরপর, আমি ঈশ্বরের বাণীতে পড়লাম, “বাহ্যিক ভাবে, কর্তব্য সম্পাদনের সমগ্র সময় জুড়ে কিছু লোকের কোনও গুরুতর সমস্যা হয় বলে মনে হয় না। তারা স্পষ্টত মন্দ কিছু করে না; তারা বিঘ্ন বা ঝামেলা সৃষ্টি করে না, অথবা খ্রীষ্টবিরোধীদের পথে চলে না। কর্তব্য সম্পাদনে তাদের কোনো বড় ভুল বা নীতিগত সমস্যা আসে না, তবুও, এটা বুঝে ওঠার আগেই, কয়েক বছরের মধ্যে তারা সত্যকে একেবারেই স্বীকার না করে অবিশ্বাসীদের একজন হিসাবে অনাবৃত হয়। কেন এমনটা হয়? অন্যরা কোনো সমস্যা দেখতে পায় না, কিন্তু ঈশ্বর এই লোকেদের অন্তরতম হৃদয় পরীক্ষা করেন, এবং তিনি সমস্যাটি দেখেন। তারা তাদের দায়িত্ব পালনে সর্বদা বেপরোয়া এবং অননুতপ্ত থেকেছে। সময়ের সাথে সাথে, তারা স্বাভাবিকভাবেই অনাবৃত হয়। অননুতপ্ত থাকার মানে কি? এর মানে হল যে, যদিও তারা তাদের কর্তব্য পুরোপুরি সম্পাদন করেছে, তবুও তারা সর্বদা এটির প্রতি ভুল মনোভাব পোষণ করেছে, একটি অসাবধান এবং বেপরোয়া মনোভাব, একটি দায়সারা মনোভাব, এবং তারা কখনই বিবেকবান নয়, আরোই কম নিবেদিত। তারা হয়তো অল্প চেষ্টা করে, কিন্তু তারা শুধু গতিবিধির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তারা তাদের সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করছে না, এবং তাদের অধর্মের শেষ নেই। ঈশ্বরের দিক থেকে, তারা কখনও অনুতাপ করে নি; তারা সর্বদা বেপরোয়া থেকেছে, এবং তাদের মধ্যে কোন পরিবর্তন ঘটে নি—অর্থাৎ, তারা তাদের নিকটবর্তী মন্দকে পরিত্যাগ করে না এবং তাঁর কাছে অনুতপ্ত হয় না। ঈশ্বর তাদের মধ্যে অনুতাপের মনোভাব দেখেন না, এবং তিনি তাদের মনোভাবের মধ্যে কোনো প্রতিবর্তন দেখতে পান না। তারা তাদের কর্তব্য এবং ঈশ্বরের অর্পিত দায়িত্ব সম্পর্কে এমন মনোভাব নিয়ে, এবং এই জাতীয় পদ্ধতিতে বিবেচনায় অবিচল থাকে। সর্বাংশে, এই একগুঁয়ে, অস্থির স্বভাবের কোন পরিবর্তন হয় না, আর এছাড়া, তারা কখনও ঈশ্বরের কাছে ঋণী বোধ করে নি, কখনও অনুভব করেনি যে তাদের অসতর্কতা এবং বেপরোয়া আচরণ একটি অধর্ম, একটি মন্দ কর্ম। তাদের অন্তরে কোনো ঋণের বোধ নেই, কোনো অপরাধবোধ নেই, কোনো আত্ম-নিন্দা নেই, এবং কোনো আত্ম-অভিযোগ আরোই নেই। এবং, যত সময় যায়, ঈশ্বর দেখেন যে এই ব্যক্তি প্রতিকারের ঊর্ধ্বে। ঈশ্বর যাই বলুন না কেন, এবং তারা যতই ধর্মোপদেশ শুনুক বা যতটা সত্যই বুঝুক না কেন, তাদের হৃদয় প্রভাবিত হয় না এবং তাদের মনোভাব পরিবর্তিত অথবা বিপরীতমুখী হয় না। ঈশ্বর এটা দেখেন এবং বলেন: ‘এই ব্যক্তির কোন আশা নেই। আমি যা-ই বলি না কেন, তা তাদের হৃদয় স্পর্শ করে না, এবং আমি যা-ই বলি না কেন, তাতে তারা নতুন করে ঘুড়ে করে না। তাদের পরিবর্তন করার কোনো উপায় নেই। এই ব্যক্তি তাদের কর্তব্য সম্পাদনের অযোগ্য, এবং তারা আমার গৃহে সেবা প্রদানের অযোগ্য।’ ঈশ্বর কেন এই কথা বলেন? কারণ তারা যখন তাদের কর্তব্য সম্পাদন করে এবং কাজ করে, তখন তারা ক্রমাগত অসাবধান এবং বেপরোয়া থাকে। যতই তাদের অপ্রয়োজনীয় অংশ কর্তন করা হোক না কেন এবং মোকাবিলা করা হোক না কেন, এবং তাদের প্রতি যতই সহনশীলতা ও ধৈর্য প্রসারিত করা হোক না কেন, তার কোন প্রভাব পড়ে না, এবং তা তাদেরকে প্রকৃত অনুতাপ বা পরিবর্তন করাতে পারে না, তা তাদেরকে তাদের কর্তব্য ভালোভাবে সম্পাদন করাতে পারে না, তা তাদেরকে সত্য অন্বেষণের পথে যাত্রা করতে অনুমতি দেয় না। তাই, এই ব্যক্তি প্রতিকারের ঊর্ধ্বে। ঈশ্বর যখন নির্ধারণ করেন যে একজন ব্যক্তি প্রতিকারের ঊর্ধ্বে, তখনও কি তিনি সেই ব্যক্তির উপর শক্তভাবে হাল ধরে রাখবেন? তিনি তা রাখবেন না। ঈশ্বর তাদের ছেড়ে দেবেন(বাক্য, খণ্ড ৩, অন্তিম সময়ের খ্রীষ্টের উপদেশ, তৃতীয় অংশ)। “তুমি ঈশ্বরের অর্পিত দায়িত্বগুলিকে কীভাবে বিবেচনা করো তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং এটি খুবই গুরুতর একটি বিষয়। ঈশ্বর মানুষের উপর যা অর্পণ করেছেন, তা যদি তুমি সম্পূর্ণ করতে না পারো, তাহলে তুমি তাঁর উপস্থিতিতে বসবাসের উপযুক্ত নও এবং তোমার শাস্তি পাওয়া উচিত। এটা স্বর্গের দ্বারা অভিষিক্ত এবং পৃথিবী দ্বারা স্বীকৃত যে, ঈশ্বর মানুষদের উপর যে দায়িত্ব অর্পণ করেছেন তা তাদের সম্পূর্ণ করা উচিত; এটি তাদের সর্বোচ্চ দায়িত্ব, এবং তাদের জীবনের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। যদি তুমি ঈশ্বরের অর্পিত দায়িত্বকে গুরুত্ব সহকারে না নাও, তাহলে তুমি তাঁর সাথে শোচনীয়তমভাবে বিশ্বাসঘাতকতা করছো; এতে তুমি যিহূদার চেয়েও বেশি শোচনীয়, এবং তোমার অভিশপ্ত হওয়া উচিত(বাক্য, খণ্ড ৩, অন্তিম সময়ের খ্রীষ্টের উপদেশ, মানব-প্রকৃতি জানার উপায়)। আমি বারবার ঈশ্বরের বাণী পড়তে থাকলাম। বুঝলাম যে অতীতে, বাহ্যিকভাবে আমার দায়িত্ব পালন করছি মনে হলেও, আমার অন্তরে, আমি ঈশ্বরের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করছিলাম। আমার দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে শুধু নিজের বস্তুগত স্বার্থ বিবেচনা করতাম আর দুঃখকষ্ট এড়াতাম, চালাকি আর চাতুরীর আশ্রয় নিয়ে দায়সারাভাবে কাজ করতাম। এমনকি নিজের কাজ আরও ভালভাবে করা গেলেও তা করিনি, কারণ তখন ভাবতাম সেটা খুব ভালভাবে করা না হলেও অন্তত যেমন হোক করা তো হয়েছে, আর সেটাই যথেষ্ট ছিল। আমি কখনই আমার এভাবে দায়সারাভাবে কাজ করার সমস্যাকে গুরুত্ব দিইনি, এবং কখনই আত্মপ্রতিফলন অথবা আত্মোপলব্ধি করার চেষ্টা করি নি। পরে, আমার নেতা আমার কাছে এগুলো তুলে ধরে আমাকে সতর্ক করে দিয়েছিল, কিন্তু আমি একটুও অনুতপ্ত হইনি, তখনও আমার বস্তুগত স্বার্থই বিবেচনা করছিলাম। যখন ভাবতাম আমার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কঠোর পরিশ্রম করতে আর মূল্য দিতে হবে, তখন আমি আর সেই দায়িত্ব নিতে ​​চাইনি। আমি এত জরদ্গব আর একগুঁয়ে ছিলাম কেন? আমি কেবল নিজের বস্তুগত স্বার্থই বিবেচনা করতাম, সত্যের সন্ধান করিনি বা আত্মপ্রতিফলন করিনি, আর একগুঁয়েমি করে ঈশ্বরের বিরোধিতা করে যাচ্ছিলাম। আমি এত বিদ্রোহী ছিলাম! আমি যে শুধু নিজের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে ব্যর্থ হয়েছি তাই নয়, ঈশ্বরকে ফাঁকি দেওয়ার জন্য দায়সারাভাবে কাজ করেছি, এমনকি আমার দায়িত্বও প্রত্যাখ্যান করেছি। এটা কি ঈশ্বরের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা ছিল না? ঈশ্বরের ধার্মিক স্বভাব কোনো অপরাধ সহ্য করে না, আর আমি যা করেছি তা ঈশ্বর ঘৃণা করেছিলেন। আমার বরখাস্ত হওয়া ঈশ্বরের ধার্মিকতাকেই দর্শায়। যখন আমি তা বুঝতে পারলাম, তখন কিছুটা ভয় পেয়েছিলাম। ঈশ্বরের কাছে হৃদয়বিদারক এমন কাজ করার জন্য আমার অনুশোচনাও হয়েছিল। আমি আর এভাবে দায়সারা কাজ করতে পারলাম না। অনুতপ্ত হয়ে নিজেকে বদলাতেই হল।

এরপর, আমি আমার ভ্রাতা আর ভগিনীদের সাথে সুসমাচার প্রচার করি। যেহেতু আমি নীতিগুলো সম্পর্কে জানতাম না আর লোকেদের সাথে ভালো করে কথা বলতে পারতাম না, দায়িত্বটা খুব কঠিন মনে হয়েছিল, আর আমি কঠোর পরিশ্রম করতে বা আবার এর মূল্য দিতে চাইনি। কিন্তু আমার দায়িত্ব সম্পর্কে আগের মনোভাবের কথা মনে করলাম, এবং আমি জানতাম যে সমস্যার সম্মুখীন হলেই আমার আগের মত পলায়নপর হওয়া উচিত নয়। আর এটা বোঝার পরেই আমি কিছুটা ইতিবাচক বোধ করেছিলাম।

পরে আমি নিজেকে নিয়েও ভাবলাম, বুঝতে চাইলাম যে, আমার দায়িত্ব কষ্টকর মনে হওয়া মাত্র কেন আমি পিছিয়ে যেতে চাইতাম। আমার কোন প্রকৃতি সেই সময় আমাকে নিয়ন্ত্রণ করছিল? এরপর, আমি ঈশ্বরের বাণী পড়ার একটা ভিডিও দেখলাম। সর্বশক্তিমান ঈশ্বর বলেছেন, “আজ, আমি যে বাক্যগুলি বলি তা তোমরা বিশ্বাস করো না, এবং তোমরা সেগুলির প্রতি মনোযোগ দাও না। যখন এই কাজটি ছড়িয়ে পড়ার দিন আসবে এবং তুমি এর সম্পূর্ণতা চাক্ষুষ করবে, তখন তুমি অনুতাপ করবে এবং সেই সময় তুমি হতবাক হয়ে যাবে। আশীর্বাদ আছে, তবুও তুমি সেগুলি উপভোগ করতে জানো না, এবং সত্য আছে, তবুও তুমি তার অন্বেষণ করো না। তুমি কি নিজের প্রতি অবজ্ঞা বয়ে আনছ না? আজ, যদিও ঈশ্বরের কাজের পরবর্তী পর্যায়ের এখনও সূচনা হয়নি, কিন্তু তোমার কাছে যে দাবিগুলি করা হয়েছে এবং তোমাকে যা নিয়ে জীবন যাপন করতে বলা হয়েছে, তা মোটেই অতিরিক্ত কিছু নয়। অনেক কাজ, এবং অনেক সত্য রয়েছে; সেগুলি কি তোমার দ্বারা পরিচিত হওয়ার যোগ্য নয়? ঈশ্বরের শাস্তি এবং বিচার কি তোমার আত্মাকে জাগ্রত করতে অক্ষম? ঈশ্বরের শাস্তি এবং বিচার কি তোমাকে নিজেকে ঘৃণা করাতে অক্ষম? তুমি কি শান্তি ও আনন্দ এবং যৎসামান্য দৈহিক স্বাচ্ছন্দ্য সহকারে শয়তানের প্রভাবের অধীনে বসবাস করে সন্তুষ্ট? তুমি কি সব মানুষের চেয়ে নীচ নও? যারা পরিত্রাণ চাক্ষুষ করেছে অথচ তা অর্জন করার জন্য সাধনা করে না তাদের চেয়ে অধিক মূর্খ আর কেউ নেই; এরা এমন মানুষ যারা দেহসর্বস্বতার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং শয়তানকে উপভোগ করে। তুমি আশা করো যে ঈশ্বরের প্রতি তোমার বিশ্বাস কোনো বাধা-বিপত্তি বা যন্ত্রণা বা সামান্যতম কষ্টেরও সম্মুখীন হবে না। তুমি সর্বদাই সেই জিনিসগুলির অন্বেষণ করো যা মূল্যহীন, এবং তুমি জীবনের সাথে কোনো মূল্য সংযোজন করো না, বরং সত্যের সামনে তোমার নিজের অসংযত চিন্তাভাবনাগুলি রেখে দাও। তুমি এতটাই মূল্যহীন! তুমি শূকরের মত বাস করো—তোমার আর শূকর আর কুকুরের মধ্যে পার্থক্য কী? যারা সত্যের সাধনা করে না, এবং তার পরিবর্তে দেহসর্বস্বতাকে ভালবাসে, তারা কি সবাই পশু নয়? আত্মা বিহীন ঐ মৃত ব্যক্তিরা কি সব চলমান শবদেহ নয়? … আমি তোমাকে প্রকৃত মানব জীবন দান করি, তবুও তুমি অন্বেষণ করো না। তুমি কি শূকর বা কুকুরের চেয়ে কোনোভাবেই পৃথক নও? শূকররা মানুষের জীবনকে অনুসন্ধান করে না, তারা পরিশুদ্ধ হওয়ার সাধনা করে না, এবং তারা জীবন কী তা বোঝে না। প্রতিদিন, পেট ভরে খাদ্য গ্রহণ করার পরে, তারা কেবলই নিদ্রা যায়। আমি তোমাকে প্রকৃত পথ দিয়েছি, তবুও তুমি তা অর্জন করনি: তুমি শূন্যহস্ত। তুমি কি এই জীবনযাপন চালিয়ে যেতে চাও, একটি শূকরের জীবন? এমন মানুষের বেঁচে থাকার তাৎপর্য কী? তোমার জীবন নিন্দনীয় এবং তুচ্ছ, তোমার জীবনযাপন আবর্জনা ও লাম্পট্যের মাঝে, এবং তুমি কোন লক্ষ্যের অনুসরণ করো না; তোমার জীবন কি সকলের চেয়ে তুচ্ছ নয়? তোমার কি ঈশ্বরের দিকে মুখ তুলে তাকাবার দুঃসাহস আছে? তুমি যদি এইভাবেই অনুভব করতে থাকো, তাহলে কি তুমি কিছু অর্জন করতে পারবে? প্রকৃত পথ তোমাকে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তুমি শেষ পর্যন্ত তা অর্জন করতে পারবে কিনা তা নির্ভর করে তোমার নিজের ব্যক্তিগত অন্বেষণের উপর(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, পিটারের অভিজ্ঞতাঃ তার শাস্তি ও বিচারের জ্ঞান)। ঈশ্বরের প্রতিটি প্রশ্ন আমার হৃদয়ে বিঁধল, আর ঈশ্বরের প্রতি ভীষণভাবে ঋণী মনে হল নিজেকে। তখন ভাবছিলাম যে, আমাদের সিঞ্চন ও সংস্থানের উদ্দেশ্যে, অবতাররূপী ঈশ্বর কতই না সত্য প্রকাশ করেছেন, যাতে আমরা সত্য লাভ করতে পারি, আমাদের ভ্রষ্ট স্বভাব ত্যাগ করে পরিত্রাণের সুযোগ পেতে পারি। এটাই মানবজাতির জন্য ঈশ্বরের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ। প্রকৃত জ্ঞানীরা ঈশ্বরের কাজের মাধ্যমে পাওয়া সুযোগকে কাজে লাগাবে, আর তাদের সময়কে সত্য অনুসরণের কাজে লাগাবে, সৃষ্ট সত্তার দায়িত্ব পালন করবে, তাদের দায়িত্ব পালনের সময় নিজেদের জীবনচরিত্র পরিবর্তনের চেষ্টা করবে, অবশেষে সত্য বুঝতে পারবে আর সম্পূর্ণরূপে ঈশ্বরের মাধ্যমে পরিত্রাণ লাভ করবে। কিন্তু অন্ধ ও অজ্ঞরা দৈহিক ভোগ পাওয়ার চেষ্টায় জীবন কাটিয়ে দেবে তারা সত্য অনুসরণ করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করে না। তারা গতানুগতিকভাবে চলতে থাকে আর তাদের দায়িত্বপালনে খুব একটা চেষ্টা করে না, তারা যতদিন বিশ্বাস করুক না কেন, কখনই সত্য বুঝতে পারে না, তাদের জীবনচরিত্রে কোনো পরিবর্তন আসে না, আর শেষ পর্যন্ত ঈশ্বর তাদের বিনাশ করেন নিজের কথা মনে হল। আমি কি ঠিক এই রকমের অজ্ঞ ছিলাম না? শয়তানসুলভ দর্শন যেমন “জীবন যেমন চলছে চলতে দাও” আর “অলস হওয়ারও সুবিধা আছে” এই নীতি মেনে জীবন কাটাতেই আমার ভাল লাগত। প্রতিদিন আমি অচলাবস্থায় স্থিত হচ্ছিলাম, চলছে-চলবে মনোভাব নিয়ে কাজ করতাম আর বস্তুগত আরামের খোঁজ করতাম। আমি সত্য অনুসরণ না করে বা স্বভাবগত পরিবর্তনের প্রতি মনোযোগী না হয়ে বছরের পর বছর ধরে ঈশ্বরে বিশ্বাস করে গিয়েছিলাম আর আমার দায়িত্বগুলি ঈশ্বরের ইচ্ছার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল কিনা, সেদিকে মনোযোগ দিইনি। বস্তুগত ভোগ আমার কাছে ঈশ্বরের ইচ্ছার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তাই যে কোনো সময় আমার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমাকে কষ্ট পেতে বা মূল্য দিতে হলে, দায়সারাভাব আর ছলের আশ্রয় নিতাম, ফলে আমার কাজ ফলপ্রসূ হত না আর গির্জার কাজেও দেরি হত। এমনকি এসব করেও আমার কোনো অনুশোচনা বা অপরাধবোধ হয়নি। আরামের জন্য আমার লালসা আমাকে অধঃপতিত, উন্নতির প্রতি উদাসীন আর চিন্তাহীন করে তুলেছিল। আমি কি শুধুই আমার জীবন নষ্ট করছিলাম না? আমি অবশেষে দেখতে পেলাম যে শয়তান এইসব বিষ দিয়ে মানুষকে ভ্রষ্ট করে। তারা মানুষকে উন্নতি না করে আরামের পিছনে ছুটতে বাধ্য করে, অধঃপতিত করে, আর সে শেষ পর্যন্ত অজ্ঞ থেকেই মারা যায়। আমার কাজ হারানোর জন্য শুধু আমি নিজেই দায়ী। আমি খুব অলস ছিলাম, আমার নিজের চরিত্রকে তুচ্ছ করে রেখেছিলাম, কারো বিশ্বাসের যোগ্য ছিলাম না, যা আমার ভ্রাতা আর ভগিনীদের বিরক্তির কারণ ছিল আর আমাকে ঈশ্বরের ঘৃণার পাত্র করে তুলেছিল। আগে বেশি পরিশ্রমের দায়িত্ব আর অনেক কাজই আমার কাছে কষ্টের সমতুল্য ছিল। কিন্তু সেই কষ্ট আদৌ আমার দায়িত্বের জন্য ছিল না। স্পষ্টতই, আমার স্বভাব খুব অলস আর স্বার্থপর ছিল, আর আমি দৈহিক বিষয়গুলো নিয়েই বেশি ভাবতাম। যদিও দায়িত্বপালনে অসুবিধা আমাদেরকেই কষ্ট পেতে আর মূল্য দিতে হয়, তবুও এসব আমরা সহ্য করতে পারি, কারণ ঈশ্বর কখনোই আমাদের উপর অসহ্য বোঝা চাপিয়ে দেন না। এই সকল কাঠিন্যের মাধ্যমে, আমার ভ্রষ্ট স্বভাব এবং খামতিগুলি অনাবৃত হল, যা আমায় নিজেকে জানতে, সমস্যার সমাধের উদ্দেশ্যে সত্যের অন্বেষণ করতে, এবং আমার জীবনচরিত্রের পরিবর্তনসাধন করতে দিলো। একই সঙ্গে, আমি এইসকল সমস্যার সম্মুখীন হওয়াকালীন তাঁর উপর নির্ভর করতে শিখলাম, আর আন্তরিক বিশ্বাস রাখতে পারি। আগে আমি অজ্ঞ, অন্ধ ছিলাম আর ঈশ্বরের ইচ্ছা বুঝতে পারিনি। আমি সত্য লাভ করার আর ঈশ্বরের মাধ্যমে নিখুঁত হওয়ার অনেক সুযোগ হারিয়েছি, আর আমি এই আশীর্বাদধন্য সময় নিরর্থকভাবে কাটিয়ে দিয়েছিলাম। যদিও বস্তুগত সান্ত্বনা পেয়েছিলাম, কোনো কষ্ট পাইনি বা খুব বেশি মূল্য দিতে হয়নি, তবে আমার কাছে সত্য ছিল না আর আমার ভ্রষ্ট স্বভাবের কোনও সমাধানও ছিল না, আমার দায়িত্বগুলি থেকে আমি কোনও সৎকার্যের পূণ্যফল সঞ্চয় করিনি, গির্জার কাজে বিলম্ব ঘটিয়েছি, এবং ঈশ্বরের বিতৃষ্ণার উদ্রেক ঘটিয়েছি। আমি যদি এমন অগোছালোভাবে জীবনযাপন করে যেতাম, তাহলে শেষ পর্যন্ত ঈশ্বরের পরিত্রাণ হতে সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত হতাম। এইসব বুঝে, আমার গভীর অনুতাপ ও আত্মগ্লানি হল, আমি আর সেই ভাবে বাঁচতে চাইনি।

একদিন আমার প্রার্থনার সময় ঈশ্বরের বাণীর আরেকটা অংশ পড়লাম। “আজকের অন্বেষণ পুরোটাই ভবিষ্যতের কার্যের বুনিয়াদ নির্মাণের জন্য, যাতে তোমরা ঈশ্বরের দ্বারা ব্যবহৃত হতে পারো এবং তাঁর সাক্ষ্য বহন করতে পারো। একে তুমি যদি তোমার অন্বেষণের লক্ষ্যে পরিণত কর, তাহলে তুমি পবিত্র আত্মার সান্নিধ্য লাভ করতে পারবে। তোমার অন্বেষণের লক্ষ্য তুমি যত ঊর্ধ্বে স্থাপন করবে, তত বেশি তোমায় নিখুঁত করা যাবে। যত বেশি তুমি সত্যের সন্ধান করবে, পবিত্র আত্মা তত বেশি কার্য করবেন। তোমার অন্বেষণে তুমি যত বেশি উদ্যম ঢালবে তত বেশি তুমি অর্জন করবে। মানুষের অভ্যন্তরীণ অবস্থা অনুসারে পবিত্র আত্মা তাদের নিখুঁত করেন। কিছু কিছু মানুষ বলে যে তারা ঈশ্বরের দ্বারা ব্যবহৃত হতে বা তাঁর দ্বারা নিখুঁত হতে আগ্রহী নয়, তারা বলে যে তারা শুধু চায় তাদের শরীরটি যেন নিরাপদে থাকে এবং কোনো দুর্ভাগ্য যাতে সহ্য করতে না হয়। কিছু কিছু মানুষ আবার রাজ্যে প্রবেশে অনিচ্ছুক, অথচ অতল গহ্বরে অবতরণ করতে তাদের আপত্তি নেই। এসব ক্ষেত্রে, ঈশ্বরও তোমার ইচ্ছে পূরণ করবেন। তুমি যার পিছনে দৌড়াবে, ঈশ্বর তা-ই ঘটাবেন। তাহলে বর্তমানে তুমি কীসের পশ্চাদ্ধাবন করছো? নিখুঁত হয়ে ওঠার? তোমার বর্তমান কাজকর্ম ও আচরণ কি ঈশ্বরের দ্বারা নিখুঁত হওয়া ও তাঁর দ্বারা অর্জিত হওয়ার লক্ষ্যে? তোমার দৈনন্দিন জীবনে তোমাকে ক্রমাগত এইভাবে নিজেকে পরিমাপ করে যেতে হবে। একটি মাত্র লক্ষ্যের সন্ধানে তুমি যদি তোমার সমস্ত হৃদয় সঁপে দাও, ঈশ্বর নিশ্চিতভাবেই তোমায় নিখুঁত করবেন। পবিত্র আত্মার পথ এটাই। যে পথে পবিত্র আত্মা মানুষদের চালিত করেন তা নির্ধারিত হয় তাদের অন্বেষণের দ্বারা। তুমি যত বেশি করে নিখুঁত হওয়ার জন্য ও ঈশ্বরের দ্বারা অর্জিত হওয়ার জন্য ব্যাকুল হবে, পবিত্র আত্মা তোমার অন্তরে তত বেশি কার্য সম্পাদন করবেন। তোমার অন্বেষণে তুমি যত বেশি ব্যর্থ হবে, এবং যত বেশি তুমি নেতিবাচক ও অধোগতিপ্রবণ হবে, কার্য করার সুযোগ থেকে পবিত্র আত্মাকে তত বেশি তুমি বঞ্চিত করবে; সময়ের সাথে সাথে একদিন পবিত্র আত্মা তোমায় পরিত্যাগ করবেন। তুমি কি ঈশ্বরের দ্বারা নিখুঁত হতে চাও? তুমি কি ঈশ্বরের দ্বারা অর্জিত হতে চাও? তুমি কি ঈশ্বরের দ্বারা ব্যবহৃত হতে চাও? ঈশ্বরের দ্বারা নিখুঁত হওয়া, অর্জিত হওয়া ও ব্যবহৃত হওয়ার খাতিরে সবকিছু করার জন্য তোমাদের প্রয়াসী হওয়া উচিৎ, যাতে এই মহাবিশ্ব ও সকল বস্তু তোমাদের মধ্যে ঈশ্বরের ক্রিয়াকর্মকে প্রতীয়মান দেখতে পায়। সকল জিনিসের মাঝে তোমরা হলে প্রধান, এবং যা কিছু আছে সেগুলির মধ্যে, তোমরা তোমাদের মধ্যে দিয়ে ঈশ্বরকে তাঁর সাক্ষ্য ও মহিমা উপভোগ করতে দেবে—এটাই প্রমাণ যে সকল প্রজন্মের মধ্যে তোমরাই হলে সবচেয়ে বেশি আশীর্বাদধন্য!(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, যারা ঈশ্বরের বাক্যের বাস্তবতার মধ্যে প্রবেশ করেছে শুধু সেইসব মানুষেরই স্বভাব পরিবর্তিত হয়েছে)। “সত্যের জন্য তোমাকে কষ্ট পেতে হবে, তোমাকে সত্যের প্রতি নিজেকে প্রদান করতে হবে, তোমাকে সত্যের জন্য অপমান সহ্য করতে হবে, এবং আরও বেশি করে সত্যকে অর্জন করতে তোমাকে আরও বেশি কষ্ট সহ্য করতে হবে। এটাই তোমার করা উচিত। একটি শান্তিপূর্ণ পারিবারিক জীবনের স্বার্থে তুমি সত্যকে ছুঁড়ে ফেলে দিও না, এবং ক্ষণিকের আনন্দের জন্য নিজের জীবনের মর্যাদা এবং সততা হারিয়ে ফেলো না। যা কিছু সুন্দর এবং যা কিছু ভালো, সে সব তোমার অন্বেষণ করা উচিত, এবং তোমার জীবনে আরো অর্থবহ পথ অনুসরণ করা উচিত। তুমি যদি এমন অমার্জিত জীবন যাপন করো, এবং কোনো উদ্দেশ্যের অনুসরণ না করো, তাহলে কি তুমি তোমার জীবন নষ্ট করছ না? এমন জীবন থেকে তুমি কী লাভ করতে পারো? একটি সত্যের জন্য তোমার যাবতীয় দৈহিক ইচ্ছা ত্যাগ করা উচিত, সামান্য ভোগ-বিলাসের জন্য যাবতীয় সত্যকে ত্যাগ করা উচিত নয়। এই ধরনের মানুষের কোন সততা বা মর্যাদা নেই; তাদের অস্তিত্ব অর্থহীন!(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, পিটারের অভিজ্ঞতাঃ তার শাস্তি ও বিচারের জ্ঞান)। আমি ঈশ্বরের বাণী থেকে বুঝলাম: দায়িত্বগুলির পালন করার ক্ষেত্রে সত্যলাভের উদ্দেশ্যে, আমাদেরকে দেহসর্বস্বতা ত্যাগ এবং সত্যের পালন করতে হবে, তখন অবশেষে আমরা ঈশ্বরের মাধ্যমে নিখুঁত হব। এটাই বেঁচে থাকার সবচেয়ে অর্থবহ আর মূল্যবান উপায়। আমরা সাময়িক বস্তুগত আরামের জন্য সত্যকে পরিত্যাগ করলে, আমাদের বাঁচার মর্যাদা থাকবে না, পবিত্র আত্মার কাজ হারাবো, অবশেষে ঈশ্বর আমাদের বিনাশ করবেন আর আমরা পরিত্রাণের সুযোগ হারাব। আরও শিখলাম যে বস্তুগত আরামের আকাঙ্ক্ষাজনিত সমস্যা দূর করতে, আমাদের সত্য অনুসরণের মানসিকতা থাকা দরকার, যখন কিছু ঘটে, তখন প্রায়ই আত্মোপলব্ধি করি, আমাদের দায়িত্বগুলিতে নিজেদের প্রচেষ্টাকে কেন্দ্রীভূত করি, আর কোনও অসুবিধার সম্মুখীন হলে, দৈহিক ইচ্ছা পরিত্যাগ করতে, আত্মকেন্দ্রিকতা পরিহার করতে, এবং গির্জার কাজকে সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম হতে হবে। এভাবেই পবিত্র আত্মার নির্দেশনা আর কাজ পেতে হয়। যখন আমি এসব বুঝতে পারলাম, তখন আমার হৃদয় উজ্জ্বল হয়ে উঠল, আর আমি শপথ নিলাম যে আমি দৈহিক ইচ্ছা ত্যাগ করব, আর আমার দায়িত্বগুলোতে আমার সমস্ত প্রচেষ্টা কেন্দ্রীভূত করব।

এরপর, আমি আন্তরিকভাবে বিবেচনা করেছি যে কীভাবে সুসমাচার ভালোভাবে প্রচার করা যায়। যখন নীতিগুলোর মানে আমার কাছে পরিষ্কার হতো না, তখন আমার ভ্রাতা আর ভগিনীদের কাছে যেতাম, আর অন্য সবার সাথে পড়াশোনা করার সময়ও বের করেছিলাম। পরে, সুসমাচার প্রচারের জন্য যখন আরও অনেক কিছু করতে হয়েছিল, তখন সেসব তেমন ঝামেলার মনে হয়নি। বরং মনে হয়েছিলে যে সেগুলো আমার করা উচিত আর আমারই দায়িত্ব। যদিও আমি প্রতিদিন খুব ব্যস্ত থাকতাম, তাহলেও নিজেকে সমৃদ্ধ অনুভব করতাম।

অপ্রত্যাশিতভাবেই, একদিন আমার নেতা আমার কাছে এল আর আমাকে আবার ভিডিও বানাতে বলল। খবরটা শুনে খুব উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলাম। মনে পড়ছিল যে আমি আগে কীভাবে দৈহিকতার পিছনে ছুটতাম আর দায়সারাভাবে দায়িত্বপালন করতাম, আর এখন আমি ঈশ্বরের কাছে বিশেষভাবে ঋণী বোধ করি। আমার আগের ভুলগুলো ফিরিয়ে নিতে পারি না, তাই আমি এখন আমার দায়িত্বের মধ্য দিয়েই ঈশ্বরের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে পারি। পরে যখন আমি আমার দায়িত্বগুলি পালন করতে গিয়ে অসুবিধার সম্মুখীন হলাম, তখন আমি সচেতনভাবেই ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতাম আর কীভাবে তার সমাধান করা যায় সে কথা বিবেচনা করতাম। একবার, আমার একটা প্রজেক্ট খুব একটা ভাল হয়নি, এদিকে দলের নেতা আর যে দায়িত্বে ছিল সেও কীভাবে সেটা ঠিক করবে, জানত না। আমিও অসুবিধার মধ্যে আটকে ছিলাম আর কীভাবে সেটা ঠিক করতে হবে, জানতাম না। তখন ভাবলাম, “যদি আমি এটা ঠিক করার চেষ্টা চালিয়ে যাই, এতে আমার সময় দিই, আর এই নিয়েই কাজ করি, তবে জানি না এটা আদৌ ঠিক করতে পারব কিনা, তাই হয়তো এটা অন্য কারো করা উচিত।” আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে, এসব চিন্তা করে আমি আবার সমস্যা এড়াতে চাইছি, তাই আমি সঙ্গে সঙ্গে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করলাম। ঈশ্বরের বাণী মনে পড়ল, “যখন তোমার সামনে একটি কর্তব্য থাকে, এবং সেটি তোমার উপর অর্পিত হয়, তখন কীভাবে অসুবিধা এড়ানো যায় তা ভেবো না; যদি কোনোকিছু কঠিন হয়, তাকে একপাশে রেখে উপেক্ষা কোরো না। তোমাকে অবশ্যই সেটির সাথে মুখোমুখি হতে হবে। সর্বদা তোমাকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, ঈশ্বর মানুষের সাথে রয়েছেন, যখনই তাদের কোনো অসুবিধা হয়, তখন তাদের কেবল প্রার্থনা করতে হয় এবং ঈশ্বরের কাছে উত্তর চাইতে হয়, এবং ঈশ্বর কাছে থাকলে, কোনোকিছুই কঠিন নয়। তোমাদের অবশ্যই এই আস্থা রাখতেই হবে(বাক্য, খণ্ড ৩, অন্তিম সময়ের খ্রীষ্টের উপদেশ, তৃতীয় অংশ)। ঈশ্বরের বাণী আমাকে অনুশীলনের পথ দিয়েছে। আমাদের দায়িত্বগুলি পালনে আমরা যতই সমস্যা আর অসুবিধার সম্মুখীন হই না কেন, সেসব সমাধানের উপায় খোঁজার জন্য আমাদের ঈশ্বরের উপর ভরসা করা উচিত। দৈহিক যন্ত্রণার কারণে আমাদের অসুবিধা এড়ানো বা নিজেদের দায়িত্ব থেকে মুখ লুকানোর চেষ্টা করা উচিত নয়। সেটা করা মানে ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা আর অবিশ্বস্ত হওয়া। এটা বোঝা মাত্র, নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা করলাম যে এইবার, আমি ঈশ্বরের উপর ভরসা রাখব, দৈহিক ইচ্ছা পরিত্যাগ করব, আর এটা ঠিক করার জন্য কাজ শুরু করব। তাই আমি শান্ত হয়ে এটা বারবার সংশোধন করতে লাগলাম, আর অবশেষে প্রয়োজনীয় সব সংশোধন করলাম। সেটা দেখার পর, সবারই মনে হয়েছিল যে তা ভালোই হয়েছে, আর তাদের কোনও পরামর্শও ছিল না। এইভাবে অনুশীলন করার পরে, আমার হৃদয় শান্ত আর স্বচ্ছন্দ হল। আমার মনে হয়েছিল যে নিজের দায়িত্বের জন্য মূল্য দেওয়া মানে সত্যিই ঈশ্বরের আশীর্বাদ পাওয়া। সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ!

পরবর্তী: আমার নির্বাচন

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।

সম্পর্কিত তথ্য

আশীর্বাদের জন্য সাধনা কি ঈশ্বরের ইচ্ছার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ?

২০১৮-তে, আমি সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের অন্তিম সময়ের কাজকে মেনে নেওয়ার সৌভাগ্য লাভ করেছি। আমি প্রভুর প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানানোর সুযোগ পেয়েছি...

Leave a Reply

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন