এক চিকিৎসকের অনুতাপ

15-02-2023

ডাক্তারি শুরুর পর, আমি সবসময় সদয় এবং পেশাদার হওয়ার জন্য কঠোর প্রয়াস করেছি। আমি মানুষের সাথে ভালো আচরণ এবং সঠিক রোগ নির্ণয় করতাম। অনতিবিলম্বেই, আমার প্রতিবেশীদের বিশ্বাস অর্জন করেছি। বেশ কয়েক বছর পরে, আমি আবিষ্কার করলাম আমার সহকর্মীরা নতুন গাড়ি এবং বাড়ি কিনেছে, কিন্তু আমার পরিবার এখনও আমাদের পুরানো বাড়িতে রয়েছে, এবং আমি এখনও সেই সাইকেলই চালাই। আমার যমজ ছেলেরা দ্রুত বড় হচ্ছিল এবং তাদের জন্য অনেক খরচ বাড়ে, কিন্তু আমার কাছে তত অর্থ ছিল না। নিজের আর্থিক সঙ্গতির কথা ভাবলে, আমি খেতে বা ঘুমাতে পারতাম না। আমি বিস্মিত হতাম, “কেন আমি কোনক্রমে সব খরচ চালাই, আর, এই সব ডাক্তাররা এত অর্থ উপার্জন করে?”

তারপর একদিন গ্রামীণ চিকিৎসকদের এক সম্মেলনে, আমি আমার কয়েকজন সহকর্মী, ও বন্ধুদের সাথে গল্প করছিলাম। তাদের প্রশ্ন করি,কীভাবে তারা এত অর্থ উপার্জন করে, এবং তারা আমাকে বলতে শুরু করে। তাদের একজন ডক্টর সান বলেন, “কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ বলেছে: ‘বিড়াল সাদা না কালো তাতে কিছু যায় আসে না, যতক্ষণ সে ইঁদুর ধরে।’ বর্তমান সমাজে টাকাই সবকিছু। অর্থ উপার্জন করাটাই এক বিশেষ দক্ষতা। কিন্তু যদি নিজের বিবেককে বাধা হতে দাও, তাহলে তুমি সারা জীবন গরিবই থাকবে!” অন্য একজন, ডাক্তার লি বললেন: “বেশি উপার্জন করতে চাইলে তোমাকে রোগীদের ধরে রাখতে হবে। তাদের চিকিৎসা করার সময়, তাদের কিছু হরমোন দিও। তাদের দ্রুত নিরাময় হবে এবং রোগীরা তা সহ্যও করতে পারবে। তোমার সুনাম বাড়বে, আরও রোগী আসবে এবং উপার্জনও বাড়বে।” আরেকজন ডাক্তার, ডাক্তার জিন বললেন: “‘ছোট অসুখের চিকিৎসা করুন বড়ো করে।’ যদি কেউ ঠান্ডা লাগার কারণে কাশি নিয়ে আসে, তবে প্রাকৃতিক নিরাময়ে তোমার রোজগার খুব বেশি নয়, এবং তাতে সময়ও বেশি লাগবে। এটির চিকিৎসা করো নিউমোনিয়ার মতো। চিকিৎসা যেমন দ্রুত কাজ করবে, তেমন অর্থও উপার্জন হবে, এবং রোগীও সন্তুষ্ট হবে। লাভ সকলেরই।” অর্থ উপার্জনের উপায় প্রত্যেকের নিজস্ব। আমি শঙ্কিত হয়ে উঠলাম। বিবেক ব্যতিরেকে এভাবে রোগীদের কাছ থেকে অর্থ উপার্জন করা, ডাক্তারদের কি এমন আচরণ করা উচিত? এটা কি সত্যিই হীন আচরণ নয়? কিন্তু তারা যে ধরনের বাড়িতে থাকে এবং যে সব গাড়ি চাপে সে কথাও ভাবলাম, এবং সকলেই কতটা আত্মবিশ্বাসের সাথে কথা বলছে। আর আমি তখনও সাইকেলে চড়েই ঘুরি, এবং খুবই গরিব। তাদের কথা মতো কাজ না করলে, আমি আরো অর্থ কীভাবে উপার্জন করব? তাহলে কীভাবে নিজের পরিবারকে আরও স্বচ্ছল করব? তাছাড়া মনে হয় সবাই একই কাজ করে। এমনকি আমি নীতি মেনে ডাক্তারি করলেও সমাজের কোনো পরিবর্তন করতে পারব না। বেশি অর্থের প্রত্যাশায় ডুবে গেল আমার বিবেক। সহকর্মীরা যে সব পদ্ধতির কথা বলেছিল, তা চেষ্টা করার সিদ্ধান্ত নিলাম। রোগীদের থেকে বাড়তি অর্থোপার্জন শুরু করলাম, দিতে লাগলাম অতিরিক্ত ওষুধ।

একদিন এক রোগী দাঁতে ব্যথা নিয়ে এলো। হয়েছিল জিনজিভাইটিস, সস্তার ওষুধ দিয়েই চিকিৎসা করা যেত। কিন্তু, রোগী কতটা যন্ত্রণার মধ্যে রয়েছে তা দেখে আমার মনে পড়ল ডাক্তার জিন যা বলেছিলেন: “ছোট অসুখের বড়ো চিকিৎসা।” তাই, আমি পশ্চিমী এবং প্রাচীন চীনা ওষুধ দুইই দিলাম এবং কয়েকটি ইন্ট্রামাসকুলার ইনজেকশন দিলাম। আ্মার আশঙ্কা হয়েছিল যে রোগী হয়তো এত ওষুধ ব্যবহার করতে চাইবে না, তাই সহানুভূতি দেখানোর ভান করে বললাম: “অনেক ওষুধ, কিন্তু এগুলি তোমার উপসর্গের মূল কারণের চিকিৎসা করবে।” রোগী শুধু তার গাল চেপে ধরে মাথা ঝাঁকালো, তারপর টাকা মিটিয়ে কোনো কথা না বলে চলে গেল। চলে যাওয়ার সময় তাকে দেখে, আমার যে উদ্বেগ হয়েছিল তা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। আমি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি অর্থ উপার্জন শুরু করলাম, যদিও প্রথমে অপরাধবোধ হত, কিন্তু সেই অনুভূতি শীঘ্রই চলে গেল। আরেকদিন, এক মা তার পাঁচ বছরের ছেলেকে নিয়ে এল। তার ঠান্ডা লেগে কাশি হয়েছিল, মাত্র কয়েক দিনের সস্তা দামের ওষুধ দরকার ছিল। কিন্তু তখন আমার মনে পড়ল যে এই ধরনের চিকিৎসায় আমার কোনো উপার্জন নেই। তাই, আমি শিশুটির মাকে বললাম: “আপনার ছেলের ট্র্যাকাইটিস হয়েছে। ওর এখনই একটি আই ভি ড্রিপ দরকার, নতুবা এটি নিউমোনিয়ায় পরিণত হবে।” সে হতবাক হয়ে গেল, কিন্তু আমি যা বললাম, তা সে প্রশ্ন ছাড়াই বিশ্বাস করল, এবং আমি তার ছেলেকে চার দিনের জন্য আইভি ড্রিপে রাখি। হাসপাতাল থেকে চলে যাওয়ার সময়, তারা আমাকে যে অর্থ প্রদান করেছিল তা এই ধরণের চিকিৎসার জন্য যে খরচ লাগা উচিত ছিল তার থেকে কয়েকগুণ বেশি। নিজেকে অপরাধী মনে হলো, কিন্তু, অন্য ডাক্তাররা যা বলেছিল তা নিয়ে আবার ভাবলাম, “বিবেক তোমার খরচ জোগাতে বা খাবার কিনতে পারে না। বিবেকের কথা শুনলে তুমি গরিবই থেকে যাবে।” তারা আমাকে যা বলেছিল তা নিয়ে যখন আমি ভাবলাম, তখন আমার অপরাধবোধ চলে গেল। অর্থ রোজগারের জন্য, এই সমাজে টিঁকে থাকতে অনেক সময় মানুষকে মিথ্যা বলতে হয়। আমার আর কোনো উপায় ছিল না।

পরে, ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিসের এক রোগী আমাকে দেখাতে আসে। তার অবস্থায় শুধুমাত্র কিছু সাধারণ ওষুধ খেলেই চলত। তবে, অবশ্যই তাতে আমার কোন অর্থ উপার্জন হত না। তাই, আমি তাকে বললাম: “তোমাকে আই ভি নিতে হবে, অন্যথায় এটি এমফিসেমাতে পরিণত হতে পারে, যা বাড়াবাড়ি হলে হৃদরোগের কারণ হতে পারে।” আমার উৎসাহে, সে সানন্দে সাত দিনের জন্য আই ভি নিল। আমার মনে আছে যে চিকিৎসার শেষ দিনে, সে আমার হাত তার হাতে নিয়ে বলেছিল: “ধন্যবাদ, ডাক্তার। এই চিকিৎসার পর আমি এখন অনেক ভালো বোধ করছি। এটি যদি এমফিসেমা বা হৃদরোগে পরিণত হত, তা হলে আমি সত্যিই ভুগতাম।” এই কথা শুনে আমার বিবেক কেঁপে উঠল এবং আমার মুখ উজ্জ্বল লাল হয়ে গেল। কিন্তু আবার ভাবলাম: “এই সমাজে কে মিথ্যা বলে না বা প্রতারণা করে না? অর্থ উপার্জন এক আলাদা দক্ষতা।” এই ভাবনায়, আমার অস্বস্তির অনুভূতি এবং সমস্ত উদ্বেগ বাষ্পীভূত হতে শুরু করল। এইভাবে, অর্থের সাধনায় নিজেকে গভীর থেকে গভীরতর পঙ্কে নিমজ্জিত করলাম। কয়েক বছরের মধ্যেই, আমি বহু অর্থ উপার্জন করলাম। আমার বাড়ি বড় হল, আমার ছেলেমেয়েদের বিয়ে হল এবং জীবন স্বচ্ছন্দে চলল। কিন্তু প্রায়ই আমার বেদনা এবং অপরাধ বোধ হত। ক্রমাগতই দুশ্চিন্তার মধ্যে থাকতাম। ভয়ে থাকতাম যে কেউ হয়তো জানতে পারবে আমি কী করেছি আর সবাইকে সেকথা বলে দেবে। এই চিন্তা দুর্বিষহ ছিল।

একদিন, আমাদের গ্রামের এক ভগিনী আমার কাছে সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের রাজ্যের সুসমাচার প্রচার করেছিলেন, এবং তারপর আমি প্রায়শই ঈশ্বরের বাক্য পড়তে শুরু করি। একবার, এক সমাবেশে, সততা সম্পর্কে ঈশ্বরের বাক্যগুলির একটি অনুচ্ছেদ আমরা পড়ি। “তোমাদের জানা উচিৎ যে যারা সৎ তাদের ঈশ্বর পছন্দ করেন। সারসত্য হলো, ঈশ্বর নিষ্ঠাবান, এবং তাই তাঁর বাক্যে সবসময় আস্থা রাখা যায়। উপরন্তু, তাঁর কার্য ত্রুটিহীন এবং প্রশ্নাতীত। সেই কারণে, ঈশ্বর তাদের পছন্দ করেন যারা তাঁর সাথে সম্পূর্ণভাবে সৎ থাকে। সততার অর্থ ঈশ্বরকে তোমার হৃদয় দেওয়া, সকল বিষয়ে ঈশ্বরের প্রতি আন্তরিক থাকা, সকল বিষয়ে তাঁর প্রতি উন্মুক্ত থাকা, কখনো তথ্য গোপন না করা, তোমার থেকে উপরে অথবা নীচে যারা রয়েছে তাদের ঠকানোর চেষ্টা না করা, এবং, শুধুমাত্র ঈশ্বরের চাটুকারিতার উদ্দেশ্য নিয়ে কোন কাজ না করা। সংক্ষেপে বললে, সৎ থাকা মানে তোমার কাজে এবং কথায় বিশুদ্ধ থাকা, এবং, ঈশ্বরের ও মানুষের সাথে প্রবঞ্চনা না করা। আমি যা বলছি তা খুবই সহজ, কিন্তু তোমাদের পক্ষে তা পালন করা দ্বিগুণ কষ্টসাধ্য। এমন অনেকে আছে যারা সৎ কথা বলার এবং সৎ ভাবে কাজ করার পরিবর্তে নরকে যেতেও রাজি। এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছুই নেই যে যারা অসৎ তাদের জন্য আমি অন্য ব্যবস্থা করে রেখেছি। … অন্তিমে কার অদৃষ্টে কী রয়েছে, তা নির্ভর করে তাদের একটা সৎ ও রক্তিম হৃদয় আছে কি না তার উপর, এবং বিশুদ্ধ আত্মার অধিকারী কি না, তার উপর। তুমি যদি এমন মানুষ হও যে অত্যন্ত অসৎ, যার হৃদয় বিদ্বেষে পরিপূর্ণ, যার আত্মা অশুচি, তাহলে নিশ্চিৎ ভাবেই তোমার অন্তিম পরিণতি ঘটবে সেই স্থানে যেখানে মানুষের শাস্তি হয়—এমনই লেখা রয়েছে তোমার ভাগ্যলিপিতে। যদি দাবী কর যে তুমি খুবই সৎ, অথচ কখনোই সত্য অনুসারে কোনো কাজ করে উঠতে বা একটিও সত্য কথা বলে উঠতে না পারো, তবুও কি এখনো তুমি ঈশ্বরের কাছ থেকে পুরস্কার পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছ? তুমি কি এখনো আশা করছ যে ঈশ্বর তোমাকে নিজের নয়নের মণি হিসেবে বিবেচনা করবেন? এই ধরণের চিন্তাভাবনা কি অসঙ্গত নয়? তুমি ঈশ্বরকে সকল বিষয়ে ঠকাও; তাহলে তোমার মতো যাদের হাত এইভাবে কলুষিত, তাদের ঈশ্বরের গৃহে কীভাবে স্থান হবে?(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, তিনটি সাবধানবাণী)। ঈশ্বরের বাক্য পড়ে আমি বুঝেছিলাম যে ঈশ্বরের সারমর্ম বিশ্বস্ততা, এবং তিনি সৎ লোকদের পছন্দ করেন। ঈশ্বর আমাদের কথায় এবং কাজে তাঁর সাথে খোলামেলা হতে বলেন। উন্মুক্তভাবে বা নিভৃতে, আমাদের অবশ্যই মেনে নিতে হবে ঈশ্বরের যাচাই-বাছাইকে, এবং ঈশ্বর বা অন্য কারোর কাছে মিথ্যা বলা চলবে না। আমাদের অবশ্যই সৎ এবং বিশ্বস্ত হতে হবে, কারণ শুধুমাত্র এই ধরনের লোকেরাই রক্ষা পেতে পারে এবং ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করতে পারে। ঈশ্বর আমাদের কাছ থেকে কী চান তা নিয়ে চিন্তা করে, আমি বুঝতে পারি যে একজন ডাক্তার হিসাবে, রোগীদের কীভাবে নিরাময় করব বা তাদের কষ্ট লাঘব করব তা নিয়ে আমি ভাবিনি, কিন্তু শুধুই ভেবেছি কীভাবে নিজের জন্য আরও অর্থ উপার্জন করতে পারি। নিরাময় করার বদলে অর্থের জন্য আমি রোগীদের ঠকিয়েছি। মানুষের ভীতির সুযোগ নিয়েছি, তুচ্ছ অবস্থাকে গুরুতর দেখিয়ে এবং তার সুযোগ নিয়ে ব্যয়বহুল ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা দীর্ঘায়িত করেছি। এভাবে তাদের অর্থ নষ্ট করলেও তারা কিন্তু এখনও এর জন্য আমাকে ধন্যবাদ জানায়। এই আচরণ ছিল ঘৃণ্য, লজ্জাজনক! এসব করে যদিও এক আরামদায়ক জীবনযাপন করতাম, কিন্তু প্রতি মুহূর্তেই উন্মাদের মত ভীত থাকতাম এবং শেষ পর্যন্ত স্বস্তি পেতাম না। সম্পূর্ণ বিবেকহীনভাবে নিজেকে পরিচালনা করতাম। ঈশ্বরের বাক্য আমাকে দেখায় যে ঈশ্বর সেই লোকদের ঘৃণা করেন যারা মিথ্যা বলে এবং অন্যদের প্রতারণা করে, এবং সেই সব মানুষ শেষ পর্যন্ত সুখী হয় না। শুধুমাত্র সৎ লোকেরাই ঈশ্বরের প্রশংসা এবং তাঁর পরিত্রাণ পেতে পারে। তখন থেকেই আমি একজন সৎ মানুষ হতে চাই। আমি স্থির করি যে আমি আর কাউকে ঠকাব না, এবং রোগীদের বাড়তি চিকিৎসা করা বন্ধ করব। সম্মান ও সততার সাথে আমি ডাক্তারি করতে চাই।

কিছুদিন পর, আমি বুঝতে পারি যে, রোগীদের সাথে প্রতারণা এবং বাড়তি চিকিৎসা করা বন্ধ করায়, আমার আয় অনেক কমে এসেছে। এই সময়ে নিয়ন্ত্রক হাসপাতালের কার্যকারিতা নির্ভর করত ক্লিনিকের ঔষধ বিক্রির পরিমাণের উপর। একদিন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কার্যকারিতা মূল্যায়ন সভার নির্দেশ দেয়। আমার বিরুদ্ধে হাসপাতালের মান নামিয়ে দেওয়ার এবং “উন্নত হাসপাতালের” তকমা নষ্ট করার অভিযোগ আনেন সভাপতি। এ সময়ে হাসপাতাল তার কর্মীদের উৎসাহ-ভাতা দেওয়া শুরু করে, প্রতি মাসে, যদি কোনো ডাক্তার তাদের মাসিক ওষুধ বিক্রির সীমা অতিক্রম করতে সক্ষম হয়, উদ্বৃত্ত আয়ের পঞ্চাশ শতাংশ তাদের কমিশন হিসেবে দেওয়া হবে। আমি ভাবলাম যে আমি যদি রোগীদের বাড়তি চিকিৎসার পথে ফিরে যাই, আমি প্রতি মাসে ৪,০০০ ইউয়ান অতিরিক্ত পাব, অর্থাৎ, প্রতি বছরত,বাড়তি ৫০,০০০ ইউয়ান। কিন্তু, যদি আমি রোগীদের বাড়তি চিকিৎসা করা শুরু না করি, তা হলে আমাদের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা কখনই পূরণ হবে না, এবং আমার বহু অর্থ লোকসান হবে। ব্যাপারটি নিয়ে যত বেশি চিন্তা করি, ততই আমি একজন সৎ মানুষ হওয়ার চেষ্টাকে আমার পেশায় অসম্ভব বলে মনে করি। উপার্জনের জন্য আমাকে মানুষকে ঠকাতেই হবে। আর তাই, আবারও, ঈশ্বর আমার কাছে যা চেয়েছিলেন তার বিরুদ্ধে যেতে হল। নিজের বিবেককে উপেক্ষা করে আমার পুরানো পথে ফিরে গেলাম।

একদিন এক দম্পতি তাদের ছেলেকে আমাকে দেখতে নিয়ে এল। ঠান্ডা লাগার কারণে তার শ্বাসযন্ত্রে সংক্রমণ হয়েছিল, এবং সামান্য ওষুধেই নিরাময় করা যেত। উদ্বিগ্নতার ভান করে আমি স্টেথোস্কোপ বের করলাম এবং শিশুর বুক এবং পিঠের আওয়াজ শুনলাম। এই মেকি পরীক্ষার পর, তার বাবা-মাকে কঠোরভাবে বললাম, “আপনার সন্তানের পেডিয়াট্রিক নিউমোনিয়া হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে। তোমাদের আরো আগেই আসা উচিত ছিল! একদিন পরে এলে সমস্যা গুরুতর হতো! তবে আশার কথা হল, এখনও সময় আছে। আমরা ওকে কয়েক দিনের জন্য আইভি ড্রিপে রাখব, এবং ও ঠিক হয়ে যাবে।” এবং,ঠিক এই ভাবে আমি আবার অর্থের জন্য রোগীদের প্রতারণা করা শুরু করলাম। আমি ইচ্ছাকৃতভাবে শিশুটির অসুস্থতাকে গুরুতর বলে দেখিয়েছি। পরে, আমি নিজেকে তিরস্কার করেছি। আমার আশঙ্কা ছিল যে আমি যা করেছি তা প্রকাশ হয়ে যাবে, ফলে প্রতিটি দিন উদ্বেগে কেটেছে। কখনও কখনও, নিজেকে আশ্বস্ত করতাম যে এটিই শেষ বার এবং এর পরে আমি আর করব না। কিন্তু অর্থের লোভ সামলাতে পারিনি, এবং নিজেকে এই পাপ থেকে বিরত রাখতে পারিনি। আমার জীবন এক লড়াইতে পরিণত হয়েছিল। আমি জানতাম যে ঈশ্বর আমাদের কাছ থেকে সততা চান, কিন্তু আমি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি বা রোগীদের প্রতারণা করা থেকে বিরত থাকতে পারিনি।

পরে, আমি সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের বাক্যের একটি অনুচ্ছেদ পড়ি: “এমন কলুষিত স্থানে জন্মগ্রহণ করে, মানুষ সমাজের দ্বারা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সে সামন্ততান্ত্রিক নৈতিকতার দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে, এবং সে পাঠ গ্রহণ করেছে ‘উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি’ থেকে। পশ্চাদভিমুখী চিন্তাধারা, ভ্রষ্ট নীতিবোধ, জীবনের প্রতি সঙ্কীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি, জীবনযাপনের ঘৃণ্য দর্শন, সম্পূর্ণভাবে মূল্যহীন অস্তিত্ব, এবং বিকৃত জীবনধারা ও রীতিনীতি—মানবহৃদয়ে এই সকল বিষয়ের উদগ্র অনুপ্রবেশ ঘটেছে, এবং তার বিবেকবোধকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং আক্রান্ত করেছে। ফলতঃ, মানুষ ঈশ্বরের থেকে আগের চেয়ে অনেক বেশি দূরে সরে গিয়েছে, এবং সে হয়ে উঠেছে পূর্বাপেক্ষা প্রবলতর ঈশ্বরবিরোধী। মানুষের স্বভাব দিনে দিনে হিংস্রতর হয়ে চলেছে, এবং এমন একজনও ব্যক্তি অবশিষ্ট নেই যে স্বেচ্ছায় ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে কোনো কিছু ত্যাগ করবে, এমন একজনও নেই যে স্বেচ্ছায় ঈশ্বরকে মান্য করবে, উপরন্তু, এমনকি এমন একজনও নেই যে স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে ঈশ্বরের আবির্ভাবের অনুসন্ধান করবে। পরিবর্তে, শয়তানের আধিপতের অধীনে, মানুষ সুখের পশ্চাৎধাবন ব্যতিরেকে আর কিছুই করে না, পঙ্কিল দেশে সে দৈহিক ভ্রষ্টাচারে লিপ্ত হয়। এমনকি অন্ধকারের সেই বাসিন্দারা সত্য শ্রবণ করলেও তা অনুশীলন করার চিন্তামাত্র করে না, এমনকি ঈশ্বরের আবির্ভাব চাক্ষুষ করলেও তারা ঈশ্বরের অনুসন্ধানে বিন্দুমাত্র উৎসাহী হয় না। যে মানবজাতি এমন ভাবে বিকৃত, তার কি আদৌ পরিত্রাণের কোনো সম্ভাবনা থাকতে পারে? যে মানবজাতি এমন ভাবে অধঃপতিত, সে কেমন ভাবে আলোকে বসবাস করবে?(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, অপরিবর্তিত স্বভাব থাকার অর্থ হলো ঈশ্বরের প্রতি শত্রুতা)। “হাজার হাজার বছরের ভ্রষ্টাচারের পর মানুষ অসাড় এবং ক্ষুদ্রবুদ্ধি-সম্পন্ন হয়ে পড়েছে; সে এমনই এক ঈশ্বরবিরোধী দানবে পরিণত হয়েছে, যে মানুষের ঈশ্বরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী মনোভাব ইতিহাসের গ্রন্থসমূহে নথিভুক্ত হয়েছে, এবং এমনকি মানুষ স্বয়ং নিজের বিদ্রোহী ব্যবহারের সম্পূর্ণ খতিয়ান পেশ করতে অক্ষম—কারণ মানুষ শয়তানের দ্বারা প্রবলভাবে ভ্রষ্ট হয়েছে, এবং শয়তানের দ্বারা সে এমনভাবে বিপথগামী হয়েছে যে সে নিজেও জানে না যে কোথায় ফিরতে হবে তাকে। এমনকি আজও, মানুষ ঈশ্বরের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে: মানুষ যখন ঈশ্বরকে দেখে তখন সে তাঁর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে, আবার মানুষ যখন ঈশ্বরকে দেখতে পায় না, তখনও সে তাঁর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে। এমনও অনেকে আছে যারা, এমনকি ঈশ্বরের অভিসম্পাত এবং ঈশ্বরের ক্রোধের সাক্ষী থাকা সত্ত্বেও, তাঁর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে। এবং এই কারণেই আমি বলি, যে, মানুষের বোধ তার মূল কার্যকারিতা হারিয়েছে, এবং মানুষের বিবেকও তার মূল কার্যকারিতা হারিয়েছে(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, অপরিবর্তিত স্বভাব থাকার অর্থ হলো ঈশ্বরের প্রতি শত্রুতা)। ঈশ্বরের বাক্য আমাকে দেখায় যে সমাজে আমরা বাস করি এবং যে শিক্ষা আমরা পাই তা শয়তান দ্বারা কলুষিত। “কোনো সম্পদই আগ্রহ ছাড়া হয় না,” “অর্থই সর্বাগ্রে,” এবং “প্রত্যেক মানুষ নিজের জন্য এবং শয়তান সবচেয়ে পিছনের জনকে দখল করে”—এই সব দর্শন শয়তানের কাছ থেকে আসে। এই দৃষ্টিভঙ্গির দ্বারা প্রভাবিত এবং বিষাক্ত হয়ে আমাদের মূল্যবোধ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। অর্থকে আমরা সর্বাগ্রে রাখি। নিজেদের সর্বাধিক সুবিধার স্বার্থে বিবেক ও নৈতিকতা ত্যাগ করি। মিথ্যা বলি ও প্রতারণা করি, আরও বেশি স্বার্থপর, প্রতারক, লোভী এবং দুষ্ট হয়ে উঠি, মানবিকতাকে আরও বেশি হারাই। যে কোন ডাক্তারের কর্তব্য হল রোগীদের নিরাময় করা এবং চিকিৎসায় নৈতিকতা রক্ষা করা। মানুষের বিবেকের এটিই মূল কথা। কিন্তু, অর্থের তাড়নায় অধিকাংশ ডাক্তার রোগীদের বাড়তি চিকিত্সা এবং অতিরিক্ত ওষুধের পরামর্শ দেয়, এমনকি প্রতারণা করে রোগীদের হরমোন নেওয়ায়। প্রাথমিকভাবে তারা বিপদ দেখতে পায় না, দীর্ঘ সময় ধরে অত্যধিক ওষুধ এবং হরমোন চিকিত্সা ব্যবহার করা শরীরের মারাত্মক ক্ষতি করে। ওষুধের টক্সিন রোগীর শরীরে জমা হয় এবং প্রায়ই দীর্ঘস্থায়ী রোগের কারণ হয়। এটি এক রকমের ধীরগতির হত্যাকাণ্ড। যতই ভাবলাম ততই শঙ্কিত হয়ে উঠতে লাগলাম। আমি ভাবি তরুন বয়সেই আমি ডাক্তার হওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। মূলত, আমি সাধারণ মানুষকে সাহায্য করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এই শয়তানী দৃষ্টিভঙ্গি, “প্রত্যেক মানুষ নিজের জন্য এবং শয়তান সবচেয়ে পিছনের জনকে দখল করে,” “টাকাই প্রথম,” এবং “বিড়াল সাদা না কালো তাতে কিছু যায় আসে না, যতক্ষণ সে ইঁদুর ধরে,” আমাকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে, এবং ধীরে ধীরে আমি বিবেক এবং যুক্তি হারিয়ে ফেললাম। তিন দিনের অসুস্থতাকে আমি পাঁচ দিনে বাড়িয়ে দিই, শুধু অর্থ উপার্জনের জন্য। স্বল্প ব্যয়ে যে রোগ সারানো যায়, তা সারাতে আমি বিপুল অর্থ খরচ করাতাম। শয়তান আমাকে এমনভাবে কলুষিত করেছিল যেখানে আমি আমার সমস্ত বিবেক এবং যুক্তি হারিয়ে ফেলেছিলাম। ঈশ্বরের কাজ স্বীকার করার পরে, আমি জানি যে ঈশ্বর চান আমরা যেন সৎ মানুষ হই। কিন্তু তাও আমি অর্থ বা ব্যক্তিগত লাভের মোহ ত্যাগ করতে পারিনি, এবং, আবার, আমি আমার রোগীদের প্রতারণা শুরু করি। দেখতে পাই শয়তানের বিষ কী ভাবে আমার প্রকৃতির অংশ হয়ে গেছে। যদি ঈশ্বরের বাক্য আমার মিথ্যার ঘৃণ্য ও ভয়ঙ্কর দিক দেখাতে সাহায্য না করত, প্রতারক হিসাবেই আমি বেঁচে থাকতাম। সারাজীবন ধরে আমি উদ্বিগ্ন ও অনুতপ্ত থাকতাম, আমার কুপ্রবৃত্তির শাস্তি হিসাবে নরক বাস করতাম। আমি অবশেষে বুঝতে পারি যে ঈশ্বর যে আমাদের সৎ হতে বলেন তা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। সৎ হওয়া এবং সৎ কাজ করা আমাদের নৈতিকতা এবং মর্যাদা দেয়। সৎ হওয়াই ঈশ্বরের প্রশংসা এবং হৃদয়ের শান্তি লাভের একমাত্র উপায়। একবার ঈশ্বরের ইচ্ছা বুঝতে পারার পর থেকে আমি প্রার্থনা করতাম। আমি নিজের পুরনো স্বভাবকে পরিত্যাগ করে সবকিছু নতুন করে শুরু করতে আগ্রহী ছিলাম, সত্যের অনুশীলন করে একজন সৎ মানুষ হয়ে উঠতে চাইছিলাম।

একদিন, অন্য গ্রাম থেকে একজন রোগী আমাকে দেখাতে এল ভালো করে পরীক্ষা করার পর আমি দেখলাম তার পায়ে একটা বিষাক্ত আলসার হয়েছে। হ্যাঁ। সেটা ছিল যথেষ্ট জোরালো এবং চিকিৎসা করাও কঠিন। কিন্তু আমি এক গোপন চিকিৎসা পদ্ধতি জানতাম যাতে এটি নামমাত্র খরচে দ্রুত সেরে যাবে। রোগীটি আমাকে জানাল যে সে কাউন্টির ডাক্তারদের এমনকী বেশ কয়েকজন হাতুড়ে ডাক্তারকেও দেখিয়েছে, এবং হাজার হাজার ইউয়ান খরচ করেও কোনো ফল হয়নি। এই কথা শুনে আমি ভাবতে লাগলামঃ “সে ইতিমধ্যেই কয়েক হাজার ইউয়ান খরচ করে ফেলেছে, তাই রোগ সারানোর জন্য আমি যদি কয়েকশো ইউয়ান নিই, সেটা খুব একটা খারাপ হবে না, তাই না? এমন সুযোগ হাতছাড়া করা উচিত হবে না।” এইসব কথা ভাবতে ভাবতে আমার মন আনন্দে নেচে উঠল। “আমি কেবল এই লোকটির সঙ্গেই প্রতারণা করব এবং এর পর থেকে, আমি সৎ হয়ে যাবো।” কিন্তু তাকে যখন প্রেসক্রিপশন দিতে প্রস্তুত হচ্ছিলাম, ঈশ্বরের সামনে আমি যে সঙ্কল্প করেছিলাম তার কথা মনে পড়ে গেল। আমি প্রার্থনা করতে শুরু করলামঃ “হে ঈশ্বর, আমার এখনও মিথ্যা বলার ইচ্ছা রয়েছে। আমি জানি আমার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে আপনাকে হতাশ করা উচিত নয়। হে ঈশ্বর, দয়া করে আমাকে ব্যক্তিগত স্বার্থ সরিয়ে রেখে সৎ মানুষ হয়ে উঠতে সাহায্য করুন।” ঈশ্বরের বাক্যের একটি অনুচ্ছেদের কথা আমার মনে পড়লঃ “যে মানুষ প্রকৃতই ঈশ্বরে বিশ্বাস করে তারা তাঁকে সবসময় হৃদয়ে ধারণ করে রাখে, আর তারা তাদের অন্তরে সবসময় ঈশ্বরের প্রতি সশ্রদ্ধ ও প্রীতিপূর্ণ এক হৃদয়কে বহন করে। যারা ঈশ্বরে বিশ্বাস করে তাদের সব কাজ সতর্কতা ও বিচক্ষণতার সাথে করা উচিৎ, এবং যা-ই তারা করুক তা ঈশ্বরের প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও তাঁর হৃদয়কে সন্তুষ্ট করতে সক্ষম হওয়া উচিৎ। কোনভাবেই তাদের একগুঁয়ে ও যথেচ্ছাচারী হওয়া উচিত নয়; তা সাধুস্বভাবের পরিপন্থী(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, যারা সত্যের অনুশীলন করে না তাদের জন্য একটি সাবধানবাণী)। ঈশ্বরের বাক্যের এই অনুচ্ছেদটি আমাকে দেখাল যে প্রকৃত বিশ্বাসীরা ঈশ্বরকে অন্তর থেকে শ্রদ্ধা করে, তারা সৎ এবং ভরসাযোগ্য। তারা সবকিছু প্রকাশ্যে করে, ঈশ্বরের নিরীক্ষণকে গ্রহণ করে এবং তারা অন্যকে ঠকায় না। তারা সবকিছু সন্তসুলভ যথার্থতার সঙ্গে করে এবং ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুসারে সবকিছু করে, তারা ঈশ্বরকে অশ্রদ্ধা করে না, তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে না অথবা তিনি নিন্দা করবেন এমন কিছু করে না। ঈশ্বরের বাক্যের দ্বারা দিকনির্দেশ এবং আলোকপ্রাপ্তির জন্য আমি খুবই কৃতজ্ঞ ছিলাম। এবং আমি আবার ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি; “হে ঈশ্বর! এর আগে আমি অর্থের জন্য মিথ্যাচার ও প্রতারণা করেছি, এবং আমি শয়তানের মতো বেঁচেছি। কিন্তু আজ থেকে, আমি একজন সৎ মানুষ হতে চাই, যাতে আমি আপনাকে সন্তুষ্ট করতে পারি এবং শয়তানের অবমাননা করতে পারি।” প্রার্থনার পরে, আমি সেই রোগীকে আন্তরিকভাবে বলিঃ “যদিও এই অসুখের চিকিৎসা করা কঠিন, আমার কাছে একটি পদ্ধতি আছে যা নিশ্চিতভাবে আপনার রোগ সারিয়ে দেবে আর তার জন্য খরচ হবে মাত্র ৩০ সেন্ট।” এর আগে এইরকম কিছু হলে যদি আমাকে চিকিৎসা করতে হত, আমি এর থেকে অনেক গুণ বেশি অর্থ চাইতাম। কিন্তু এখন ঈশ্বরের বাক্য আমাকে সত্যের পথ অবলম্বন করার আত্মবিশ্বাস দিয়েছে, যাতে আমি সৎ এবং নীতিবান মানুষ হতে পারি। আমি আর মানুষের সঙ্গে অর্থের জন্য প্রতারণা করব না। সেই দিনের কথা আমার মনে আছে, যখন সেই রোগী ওষুধ নিয়ে চলে গেল। আমার হৃদয় অবিশ্বাস্যরকমের আনন্দ ও শান্তিতে ভরে উঠল।

দশ দিন পরে সেই রোগী আবার আসে এবং কৃতজ্ঞতার সঙ্গে বলেঃ “এই রোগের চিকিৎসার জন্য আমি সব জায়গায় গেছি, কিন্তু ভাগ্য আমাকে সহায়তা করেনি। আপনার দেওয়া সব ওষুধও আমি ব্যবহার করিনি, কিন্তু তা সত্ত্বেও আমার ঘা সম্পূর্ণ সেরে গেছে! এটা অত্যাশ্চর্য রকমের নিরাময়! আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ! আমি যাদের চিনি তাদের সকলকে আপনার কথা বলব। আপনি শুধু দক্ষই নন, আপনার চিকিৎসার খরচও সাধ্যের মধ্যে।” যখন আমি তার ধন্যবাদের কথা শুনলাম, আমি জানতাম যে আমার মধ্যে এই ছোট্ট পরিবর্তনের কারণই হল আমি ঈশ্বরের বাক্যের দ্বারা নির্দেশিত হয়েছি।

আমার মনে পড়ল, আমি কীভাবে ভাবতাম যে, “অর্থই সবথেকে আগে,” “ধূর্ততা ছাড়া সম্পদ লাভ করা যায় না” এবং “প্রত্যেক মানুষ নিজের জন্য এবং শয়তান সবচেয়ে পিছনের জনকে দখল করে” এইসব বিষময় ভাবনার ক্রীতদাস হিসাবে, আমি আমার বিবেক, সততা এবং নৈতিকতা হারিয়ে ফেলেছিলাম। আমি ক্রূরমতি হয়ে গিয়েছিলাম। ঈশ্বরের বাক্য এবং পরিত্রাণ আমার মধ্যে বিবেক ও যুক্তিবোধকে পুনরায় অধিষ্ঠিত করেছিল, এবং নৈতিকতাকে ফিরে পেতে সাহায্য করেছিল। তারপর থেকে আমি বিবেকবুদ্ধি সহকারে আমার কাছে আসা সব রোগীর চিকিৎসা করতাম। আমি তাদের ঠিক ততটুকুই দিতাম, যা তাদের প্রয়োজন, এবং তাদের অবস্থা সম্পর্কেও সততার সঙ্গে সবকিছু জানাতাম। আমি আমার সততার অবস্থানে অটল ছিলাম। এইভাবে কিছুদিন ডাক্তারি করার পরে, আমি যুক্তিযুক্ত, শান্তিময় এবং চিন্তামুক্ত বোধ করতে লাগলাম। এছাড়াও, যেসব রোগীদের আমি চিকিৎসা করতাম, তারা আমার সঙ্গে তাদের অভিজ্ঞতার কথা অন্যদের বলত। আশেপাশের সব গ্রামের মানুষই চাইত আমি তাদের চিকিৎসা করি। আমি অনুভব করলাম, কেবল সত্যি কথা বলে এবং সৎ হয়েই একজন সদর্থে মানুষ হতে পারে। মিথ্যাকে প্রত্যাখ্যান এবং সত্য কথা বলাই হল সৎ মানুষ হওয়ার পথে প্রথম পদক্ষেপ, এবং আমি জানি আমাকে ঈশ্বরের প্রয়োজন অনুসারে এখনও অনেক পরিশ্রম করতে হবে এবং প্রকৃত সৎ ব্যক্তি হয়ে ওঠার চেষ্টা করতে হবে।

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।

সম্পর্কিত তথ্য

একজন ডাক্তারের পছন্দ

যখন ছোট ছিলাম, আমার পরিবার খুব গরিব ছিল। আমার মা পক্ষাঘাতে শয্যাশায়ী ছিল, সারা বছর ওষুধ খেত, বাবা বহু বছর ধরে গ্রামের বাইরে কাজ করত।...

নিশ্চিন্ত চাকরি কী করে ছাড়লাম

আমার জন্ম এক গরিব, পিছিয়ে পড়া গ্রামীণ পরিবারে। ছোটবেলায় বাবা আমায় ভালো করে পড়াশোনা করতে বলত, যাতে ভবিষ্যতে একটা ভালো স্কুলে ভর্তি হতে...

একজন অর্থের দাসের জাগরণ

আমি যখন ছোটো ছিলাম, আমার পরিবার ছিল দরিদ্র, এবং আমার বাবা-মা আমার পড়াশোনার খরচ বহন করতে পারেননি। তাই আমি স্কুলের খরচ যোগাতে বেড়া তৈরি...

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন