প্রভু যীশু মানবজাতিকে মুক্ত করেছিলেন, সুতরাং অন্তিম সময়ে তাঁর প্রত্যাগমন-কালে তিনি কেন বিচারের কাজ করবেন?

10-08-2022

২০০০ বছর আগে, অবতাররূপী প্রভু যীশু মানবজাতির মুক্তির জন্য ক্রুশবিদ্ধ হয়েছিলেন, পাপ উৎসর্গের রূপে এবং তাঁর মুক্তির কাজকে সম্পূর্ণ করেছিলেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে অন্তিম সময়ে তিনি ফিরে আসবেন, তাই সব বিশ্বাসীরাই সতর্কভাবে প্রভুর আগমনের অপেক্ষায় রয়েছে, এবং মনে করে যে প্রভুর প্রতি বিশ্বাসের ফলে তাদের সব পাপ ক্ষমা করা হয়েছে, এবং তিনি তাদের আর পাপী হিসাবে গণ্য করেন না। তারা মনে করে যে তারা সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত, অতএব তাদের শুধু প্রভুর পুনরাবির্ভাবের জন্য অপেক্ষা করতে হবে যাতে তাদের তাঁর রাজ্যে নিয়ে যাওয়া যায়। সেই কারণেই মানুষ সর্বদাই আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে, সেই দিনের অপেক্ষায় যখন তিনি হঠাত মেঘারূঢ় হয়ে আবির্ভূত হবেন এবং তাদের স্বর্গে উত্তোলিত করে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করাবেন। কিন্তু তারা যারপরনাই বিস্মিত যে, তারা প্রবল দুর্যোগের সূচনা দেখলেও এখনও পর্যন্ত প্রভুকে স্বাগত জানাবার সৌভাগ্য তাদের হয়নি। কী হচ্ছে তা কেউই সঠিকভাবে বুঝতে পারছে না। তারা মেঘারূঢ় হয়ে প্রভুর আগমন দেখতে না পেলেও, তারা পূর্বের বজ্রালোক দেখেছে যা এই বিষয়ে অটল সাক্ষ্য দেয় যে তিনি ফিরে এসেছেন সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের অবতার রূপে। তিনি সত্য ব্যক্ত করেছেন এবং বিচারের কাজ ঈশ্বরের ঘর থেকেই শুরু করেছেন। সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের উপস্থিতি এবং তাঁর কাজ সমগ্র ধর্মীয় জগতকে উত্তাল করে তুলেছে এবং প্রবল নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। ঈশ্বরের অবতারের বিচারের কাজ মানুষের ধারণা এবং কল্পনার থেকে অনেক আলাদা। অনেকেই জিজ্ঞাসা করছে, প্রভু যীশু ইতিমধ্যেই তাঁর মহান উদ্ধারকার্য সম্পূর্ণ করেছেন, এবং ঈশ্বর আমাদের ন্যায়নিষ্ঠ বলেছেন, তাহলে অন্তিম সময়ে তাঁর বিচারের কাজ করার প্রয়োজন কেন হবে? তাদের মনে হয় এটি অসম্ভব ধর্মীয় সম্প্রদায়, এমনকী, সর্বশক্তিমান ঈশ্বরকে প্রতিরোধ এবং তাঁর নিন্দাও করছে, তাঁর কাজ বিশ্লেষণকে প্রত্যাখ্যান করে, সবই ঘটছে যখন সকলেই অধীর আগ্রহে মেঘারূঢ় প্রভুর আগমনের প্রতীক্ষা করছে, যিনি তাদের তাঁর রাজ্যে নিয়ে যাবেন, যাতে মহাবিপর্যয় থেকে তারা রক্ষাও পাবে। কিন্তু ঈশ্বরের কর্মকাণ্ড বিশাল ও শক্তিশালী এবং কেউই তাকে থামাতে পারবে না। সর্বশক্তিমান ঈশ্বর ইতিমধ্যেই জয়ীদের এক গোষ্ঠী তৈরি করেছেন এবং বিপর্যয় শুরু হয়ে গিয়েছে, অপরদিকে ধর্মীয় জগত বিপর্যয়ে ডুবে গিয়ে, কান্নাকাটি করছে আর দাঁত ঘষছে। যেহেতু তারা বিপর্যয়ের আগে পরমানন্দে উত্তীর্ণ হয়নি, তাই তারা এই আশায় দিন গুনছে যে বিপর্যয়ের সময় অথবা তার পরে তারা উত্তীর্ণ হতে পারে। বিপর্যয়ের আগে কেন তারা প্রভুকে স্বাগত জানাতে পারেনি? কোথায় তাদের ভুল হয়েছিল? প্রভু যীশু কি তাঁর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছিলেন, যার ফলে বিপর্যয়ের আগে তিনি বিশ্বাসীদের তাঁর রাজ্যে নিয়ে যেতে ব্যর্থ হন এবং তাদের সম্পূর্ণরূপে হতাশ করেন? নাকি মানুষ বাইবেল-বর্ণিত ভবিষ্যদ্বাণী বুঝতে ভুল করেছিল, তারা তাদের ধারণাতেই অটল ছিল যে প্রভু মেঘারূঢ় হয়ে আসবেন, আর তাই ঈশ্বরের কন্ঠস্বর শুনতেও তারা অস্বীকার করে, তাই প্রভুকে স্বাগত জানাতে না পেরে তারা দুর্যোগে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে? এই ব্যাপারে সকলেই অত্যন্ত বিভ্রান্ত যে কেন প্রভু মেঘারূঢ় হয়ে এলেন না এবং বিশ্বাসীদের পরমানন্দে উত্তীর্ণ করলেন না বিপর্যয়ের আগে। আজ, আমি অন্তিম সময়ে মনুষ্যপুত্র হিসাবে ঈশ্বরের অবতারের বিচারের কাজ সম্পর্কে আমার ব্যক্তিগত উপলব্ধি ভাগ করে নেবো।

বাইবেলের সঙ্গে যারা পরিচিত তারা সকলেই বোঝে অধিকাংশ বাইবেল-সংক্রান্ত ভবিষ্যদ্বাণী দুটি বিষয় আগাম জানান দেয়ঃ প্রভুর পুনরাবির্ভাব হবে এবং অন্তিম সময়ে তিনি বিচার করবেন। যদিও এই দুটি বিষয় প্রকৃতপক্ষে একই, অন্তিম সময়ে ঈশ্বর দেহরূপে আবির্ভূত হবেন তাঁর বিচারের কাজ করার জন্য। অনেকে অবশ্যই জিজ্ঞাসা করবে এই কথার কোনো বাইবেল-সক্রান্ত ভিত্তি আছে কিনা। অবশ্যই আছে। এই বিষয়ের উপর বাইবেলের বহুসংখ্যক ভবিষ্যদ্বাণী আছে – ২০০ বা তারও অধিক। একটি উদাহরণের উপর দৃষ্টিপাত করা যাক, যেমন পুরাতন নিয়মে আছেঃ “তিনি করবেন জাতিরাষ্ট্রসমূহের বিচার, এবং করবেন বহু মানুষকে ভর্ৎসিত” (যিশাইয় 2:4)। “পৃথিবীর বিচার করতে তিনি আসছেন। ন্যায় ও সত্যে তিনি জগতের ও সকল জাতির উপর রাজত্ব করবেন” (গীতসংহিতা 96:13)। নতুন নিয়মেও এই কথা বলা হয়েছেঃ “বিচারের কাল সমাগত, ঈশ্বরের আপনজনদের দিয়েই তা হবে শুরু” (১ পিতর 4:17)। প্রভু যীশু স্বয়ং ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে, তিনি পুনরায় আসবেন এবং অন্তিম সময়ে বিচারের কাজ করবেন। প্রভু যীশু বলেছেন, “কেউ যদি আমার কথা শুনে তা পালন করে, তার বিচার আমি করব না। কারণ আমি এই পৃথিবীতে বিচার করতে আসি নি, এসেছি পৃথিবীকে উদ্ধার করতে। যে আমার বাণী গ্রহণ না করে আমাকে প্রত্যাখ্যান করে তার বিচার হবে অন্যভাবে। শেষের দিনে আমার মুখনিঃসৃত সেই বাণীই হবে তার বিচারক” (যোহন 12:47-48)। “পিতা কারও বিচার করেন না, বিচারের ভার সম্পূর্ণরূপে তিনি পুত্রকেই দান করেছেন” (যোহন 5:22)। “মানবপুত্ররূপে বিচারের অধিকারও তিনি তাঁকে দিয়েছেন” (যোহন 5:27)। প্রকাশিত বাক্যের ভবিষ্যদ্বাণীঃ “তিনি উচ্চকণ্ঠে ঘোষণা করেলন, ‘ঈশ্বরকে সম্ভ্রম কর, তাঁর মর্যাদা স্বীকার কর, কারণ তাঁর বিচাররে লগ্ন সমুপস্থিত’” (প্রকাশিত বাক্য 14:7)। এই ভবিষ্যদ্বাণীগুলি স্পষ্টভাবে বলেছে, মনুষ্যপুত্র হিসাবে প্রভু পুনরায় আসবেন এবং অন্তিম সময়ে বিচারের কাজ করবেন। এই বিষয়ে কোনো সংশয় নেই। আমরা দেখতে পাই যে করুণার যুগে প্রভু যীশু স্পষ্টভাবেই ভবিষ্যদ্বাণী করেন যে তিনি অন্তিম সময়ে মনুষ্যপুত্র হিসাবে প্রভু পুনরায় আসবেন বিচারের কাজের জন্য। প্রকাশিত বাক্যে স্পষ্টভাষায় ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে, “কারণ তাঁর বিচাররে লগ্ন সমুপস্থিত।” এই ভবিষ্যদ্বাণীগুলিতে বলা হয়েছে, যে প্রভু অন্তিম সময়ে মনুষ্যপুত্র হিসাবে অবতাররূপ ধারণ করে স্বয়ং আমাদের মধ্যে অবতীর্ণ হবেন বিচারের কাজ করতে। ঈশ্বর স্পষ্টতই দীর্ঘদিন আগে এই পরিকল্পনা করেছিলেন, এবং এই বিষয়টি কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। সর্বশক্তিমান ঈশ্বর বিচারের কাজের জন্য সত্য প্রকাশ করেছেন, তিনি অনেক বাক্য উচ্চারণ করেছেন এবং জয়ীদের এক গোষ্ঠী গঠন করেছেন। এর থেকেই বোঝা যায় যে এইসব ভবিষ্যদ্বাণী সম্পূর্ণরূপে সত্য হয়েছে। আসুন এবার দৃষ্টিপাত করা যাক সাধারণ ধর্মীয় বিশ্বাসের দিকে যা মনে করে যে প্রভু তাঁর মুক্তির কাজ সম্পূর্ণ করেছেন, তাই অন্তিম সময়ে তিনি বিচারের কাজ করবেন, এটি অসম্ভব। এর কি কোনো বাইবেল-সমর্থিত ভিত্তি আছে? প্রভু যীশু কি এই কথা বলেছিলেন? একেবারেই না। এই জাতীয় ভাবনা মনুষ্য মস্তিস্কপ্রসূত ধারণা এবং কল্পনা ছাড়া ছাড়া আর কিছুই নয় – স্বকপোলকল্পিত ভাবনা এইসব ভাবনা বাইবেলের ভবিষ্যদ্বাণীর সম্পূর্ণ বিপরীত, এবং ঈশ্বরের কোনো কথাই এগুলিকে সমর্থন করে না। এই ধরনের ভাবনা নিছকই মূর্খের মতো! মানুষ ঈশ্বরের বাক্য এবং বাইবেলে বর্ণিত ভবিষ্যদ্বাণী আন্তরিকভাবে সন্ধান কেন করে না, পরিবর্তে তারা নিজেদের ধারণার বশবর্তী হয়ে অন্তিম সময়ে ঈশ্বরের কাজের বিচার ও সমালোচনা করার উপর জোর দেয়? এটা কি স্বেচ্ছাচার এবং ঔদ্ধত্য নয়? মনুষ্যপুত্রের আগমন এবং অন্তিম সময়ের বিচারের বিষয়ে বাইবেলে বহু ভবিষ্যদ্বাণী আছে, তাহলে চোখের সামনে থাকা শাস্ত্র কেন মানুষ দেখেনা? ঠিক যেমন বাইবেলে বলা হয়েছে, “তোমরা শুনে যাবে, কিন্তু বুঝবে না, চেয়ে থাকবে, কিন্তু কিছুই দেখবে না। কারণ এ জাতির বোধশক্তি লোপ পেয়েছে, তাদের শ্রবণ হয়েছে বধির, দৃষ্টিও হয়েছে আচ্ছন্ন, যদি এরা চোখে দেখতে এবং কানে শুনে অন্তরে উপলব্ধি করে আমার কাছে ফিরে আসতো, তাহলে আমি তাদের সুস্থ করতাম” (মথি 13:14-15)। অন্তিম সময়ে ঈশ্বর কেন তাঁর বিচারের কাজ করেন, জ্ঞানীদের তা সন্ধান এবং অণ্বেষণ করে দেখা উচিত, কাজ করার জন্য মনুষ্যপুত্রই কেন আবির্ভূত হন। বাইবেলের ভবিষ্যদ্বাণী যথাযথভাবে বোঝার আগে আমাদের এইসব প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।

এবার দেখা যাক মানবজাতিকে উদ্ধার করার পরেও বিচারের কাজ করার জন্য প্রভু কেন পুনরায় অবতাররূপ ধারণ করেন। সর্বশক্তিমান ঈশ্বর ইতিমধ্যেই এই রহস্যের সমাধান করেছেন। এই বিষয়ে সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের বাক্যে কী বলা হয়েছে তা দেখা যাক। “যদিও যীশু মানুষের মধ্যে অনেক কাজ করেছিলেন, কিন্তু তিনি শুধুমাত্র সমস্ত মানবজাতির মুক্তি সম্পূর্ণ করেছিলেন এবং মানুষের পাপ-উৎসর্গ হয়েছিলেন; তিনি মানুষকে তার সমস্ত ভ্রষ্ট স্বভাব থেকে মুক্তি দেননি। শয়তানের প্রভাব থেকে মানুষকে পুরোপুরি মুক্ত করার জন্য শুধু যীশুর পাপ-উৎসর্গ হওয়া আর মানুষের পাপ বহন করার প্রয়োজন ছিল তাই নয়, বরং মানবজাতিকে সম্পূর্ণরূপে তার শয়তানোচিত ভ্রষ্ট স্বভাব থেকে উদ্ধার করার জন্য ঈশ্বরের আরো মহত্তর কর্মের প্রয়োজন ছিল। এবং তাই, এখন যখন মানুষ তার পাপের ক্ষমা পেয়েছে, ঈশ্বর মানুষকে নতুন যুগে নিয়ে যাওয়ার জন্য দেহরূপে ফিরে এসেছেন এবং শাস্তি ও বিচারের কাজ শুরু করেছেন। এই কাজ মানুষকে এক উচ্চতর জগতে নিয়ে এসেছে। যারা তাঁর রাজত্বের অধীনে আত্মসমর্পণ করে তারা উচ্চতর সত্য উপভোগ করবে এবং বৃহত্তর আশীর্বাদ লাভ করবে। তারা প্রকৃতপক্ষেই আলোতে বাস করবে, এবং তারা সত্য, পথ ও জীবন লাভ করবে” (বাক্য দেহে আবির্ভূত হল, খণ্ড ১, ভূমিকা)। “মানুষ যে কারণে হয়তো মুক্তিলাভ করেছে ও তার পাপের ক্ষমা পেয়েছে, তার কারণ একমাত্র এটাই হতে পারে যে, ঈশ্বর মানুষের অপরাধ মনে রাখেন নি, এবং মানুষের সঙ্গে সেই অপরাধেরসাথে সঙ্গতিপূর্ণ ব্যবহার করেননি। তথাপি, একজন মানুষ, যে একটি রক্ত-মাংসের দেহে বাস করে, যে এখনো পাপ থেকে মুক্তি পায়নি, সে শুধুমাত্র অবিরাম তার ভ্রষ্ট শয়তানোচিত স্বভাব প্রকাশ করে পাপ করে যেতে পারে। মানুষ পাপ করা এবং ক্ষমা প্রাপ্ত হওয়ার এই অবিরাম চক্রে জীবনযাপন করে চলে। মানবজাতির অধিকাংশই সকালে পাপ করে সন্ধ্যায় তা স্বীকার করে নেওয়ার জন্য। অতএব, যদিও পাপ-উৎসর্গ মানুষের জন্য সর্বদা কার্যকর, কিন্তু তা মানুষকে পাপ থেকে উদ্ধার করতে পারবে না। পরিত্রাণের কার্যের কেবল অর্ধমাত্রই সম্পন্ন হয়েছে, কারণ মানুষের মধ্যে এখনো ভ্রষ্ট স্বভাব রয়ে গেছে। … নিজের পাপের বিষয়ে অবগত হওয়া মানুষের জন্য খুব সহজ নয়; তার নিজের গভীরে প্রোথিত চরিত্র চিনতে পারার কোনো উপায় তার নেই, এবং এই ফলাফল লাভের জন্য তাকে বাক্যের বিচারের উপর নির্ভর করতেই হয়। একমাত্র এভাবেই সেইখান থেকে মানুষ ধীরে ধীরে পরিবর্তনের পথে এগোতে পারে” (বাক্য দেহে আবির্ভূত হল, খণ্ড ১, অবতার রূপের রহস্য (৪))। সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের বাক্যগুলি খুবই স্পষ্ট, তাই না? প্রভু যীশু অনুগ্রহের যুগে মানবজাতিকে উদ্ধার করেছিলেন, তাহলে তিনি অন্তিম সময়ে বিচারের জন্য কেন ফিরে আসবেন? কারণ প্রভু যীশু কেবল উদ্ধারের কাজ সম্পূর্ণ করেছিলেন, যার ফলে ঈশ্বরের পরিত্রাণের কাজের অর্ধেক সম্পূর্ণ হয়েছিল। এর ফলে মানুষের পাপ থেকে মুক্তি অর্জিত হয়েছিল, অতএব, আমরা প্রভুর কাছে প্রার্থনা এবং তাঁর সহভাগী হবার এবং তাঁর অনুগ্রহ এবং আশীর্বাদ লাভের যোগ্যতা অর্জন করেছি। আমাদের পাপ ক্ষমা করা হয়েছে এবং আমরা পবিত্র আত্মার প্রদান করা শান্তি এবং আনন্দ উপভোগ করছি, কিন্তু তা সত্বেও আমরা সর্বদাই পাপ করছি, পাপ করা, স্বীকারোক্তি, এবং পুনরায় পাপ করার চক্রে আবর্তিত হয়ে চলেছি। পাপের বন্ধন ও সীমাবদ্ধতা থেকে কারোরই মুক্তি নেই, কিন্তু আমরা তার সঙ্গে সংগ্রাম করেই বেঁচে থাকি। এটি খুবই যন্ত্রণাদায়ক এবং এর থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো উপায় নেই। এর থেকেই দেখা যায় যে প্রভু আমাদের পাপকে ক্ষমা করলেও, আমাদের পাপী প্রকৃতি থেকেই যায়; আমাদের ভ্রষ্ট স্বভাব থেকেই যায়। আমরা যে কোনো সময়েই ঈশ্বরের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, তাঁকে প্রতিহত করা এবং তাঁর বিচার করতে পারি। এটি একটি অনস্বীকার্য বাস্তব। একজন যত দীর্ঘদিনই ঈশ্বরে বিশ্বাসী থাকুক না কেন, পাপের হাত থেকে তাদের নিষ্কৃতি নেই এবং তারা না পবিত্রতা অর্জন করতে পারে, না ঈশ্বরের সম্মুখীন হওয়ার যোগ্যতা। এটি সম্পূর্ণভাবে প্রভুর ভবিষ্যদ্বাণীর সঙ্গে মিলে যায়ঃ “যারা আমাকে ‘প্রভু’, ‘প্রভু’, বলে ডাকে তারা সকলেই যে স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করতে পারবে তা নয়, কিন্তু যে আমার স্বর্গস্থ পিতার ইচ্ছা পালন করবে সে-ই শুধু স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করতে পারবে। সেই দিনটি যখন আসবে তখন অনেকেই আমাকে বলবে ‘প্রভু, প্রভু, তোমার নাম নিয়ে আমরা তো অনেক ভাবোক্তি করেছি, তোমার নাম নিয়ে আমরা অপদেবতা তাড়িয়েছি এবং কত অলৌকিক কাজ সম্পন্ন করেছি।’ আমি তখন তাদের স্পষ্টই বলব, ‘কোন কালেই আমি তোমাদের চিনতাম না। অধর্মচারীর দল। আমার কাছ থেকে দূর হও’” (মথি 7:21-23)। হিব্রু 12:14-এ যেমন বলা হয়েছে, “পবিত্রতা লাভের চেষ্টা কর অন্যথায় কেউ প্রভুর দর্শন পাবে না।” আমরা এখানে দেখতে পাচ্ছি যে একমাত্র যারা ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুযায়ী চলবে, তারাই স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করতে পারবে। কিন্তু প্রভু কেন বলেছিলেন যে যারা তাঁর নামে প্রচার করে এবং ভূত তাড়ায় তারা অন্যায়কারী? অনেক মানুষের কাছেই এই বিষয়টি বিভ্রান্তিকর মনে হতে পারে। এর অর্থ যে তারা তাদের বিশ্বাসের কথা প্রচার করে, কিন্তু তা সত্বেও তারা ক্রমাগত পাপ করতে থাকে এবং তারা সদর্থে অনুতপ্ত নয়। প্রভুর নামে তারা যতই প্রচার, জাদু অথবা চমৎকার করুক না কেন, তাদের কাছে ঈশ্বরের অনুমোদন নেই। প্রভুর চোখে এই ধরনের মানুষ হল অন্যায়কারী। তারা ঈশ্বরের নামে অনেক কিছু করতে পারে, কিন্তু তা প্রভুর অমর্যাদা যা তিনি ঘৃণা করেন। যেসব মানুষের পাপ ক্ষমা করা হয়েছে, তারা কি স্বর্গরাজ্যে প্রবেশের যোগ্য? একেবারেই না। তারা এখনও স্বপ্ন দেখছে সেইদিনের যেদিন প্রভু এসে তাদের ঊর্ধ্বাকাশে নিয়ে যাবেন। এটা মানুষের কল্পনা। স্পষ্টতঃ প্রভু যীশু তাঁর প্রত্যাবর্তনের ভবিষ্যদ্বাণী করছেন এর অর্থ এই নয় যে তিনি মানুষকে সোজা আকাশে নিয়ে যাবেন তাঁর সঙ্গে দেখা করার জন্য, বরং তিনি তাঁর বিচারের কাজ করবেন এবং মানুষকে তাদের পাপী স্বভাব এবং ভ্রষ্টাচারের থেকে পরিশুদ্ধ করবেন, তিনি আমাদের পাপ এবং শয়তানের শক্তি থেকে সম্পূর্ণরূপে রক্ষা করবেন, এবং আমাদের এক সুন্দর গন্তব্যে নিয়ে যাবেন। অন্তিম সময়ে সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের বিচারকার্যের এটাই অর্থ। এবার আমি নিশ্চিত যে আমরা সকলেই দেখতে পাচ্ছি যে অনুগ্রহের যুগে মুক্তির কাজ ছিল কেবলই আমাদের সকলকে পাপ থেকে মুক্ত করার জন্য, তাই আমাদের পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছিল। এর মাধ্যমে পরিত্রাণের কাজের অর্ধেক সম্পন্ন হয়েছিল, এবং অন্তিম সময়ে ঈশ্বর বৃহত্তর পর্যায়ের কাজ করছেন। প্রভু যীশুর মুক্তির কাজের উপর ভিত্তি করে, সর্বশক্তিমান ঈশ্বর অন্তিম সময়ের বিচারের কাজের জন্য সত্য প্রকাশ করছেন যাতে মানবজাতিকে পাপ থেকে সম্পূর্ণ পরিশুদ্ধ এবং রক্ষা করা যায়, শয়তানের শক্তির থেকে তাদের মুক্ত করা যায়। এখানে আমরা দেখতে পাই যে প্রভু যীশুর মুক্তির কাজ সম্পূর্ণত অন্তিম সময়ে ঈশ্বরের বিচারের কাজের পথ সৃষ্টি করছিল। এটি ছিল ভিত্তি স্থাপনের কাজ। এবং সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের বিচারের কাজ হল মানবজাতিকে রক্ষা করার জন্য ঈশ্বরের পরিচালনামূলক পরিকল্পনার সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এবং তা যুগের অবসান ঘটাবে। কেবল প্রভু যীশুর উদ্ধারের কাজকে স্বীকার করে সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের অন্তিম সময়ের বিচারের কাজকে স্বীকার না করার অর্থ হল বিশ্বাসের পথের মাঝখানে থেমে যাওয়া এবং শেষ পদক্ষেপই হল সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ যা আমাদের নিয়তি এবং পরিণতি নির্ধারণ করবে। এই পদক্ষেপ স্বীকার না করা যথার্থভাবেই অর্ধেক পথ অতিক্রম করে সবকিছু পরিত্যাগ করা এবং পূর্বের সব প্রয়াসকে বিনষ্ট করা। আরার ধারণা সকলেই বোঝে যে যাত্রার অন্তিম পর্ব প্রায়সই কঠিনতম পর্ব হয়। তোমার বিশ্বাসের পথের এই শেষ পর্বই হল সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ যা তোমার নিয়তিকে নির্ধারণ করে। বিশ্বাসীদের জন্য, যা আমাদের পরিণতি এবং নিয়তি নির্ধারণ করে তা হল অন্তিম সময়ে ঈশ্বরের বিচারের কাজ। মানুষ যদি এটিকে স্বীকার না করে তাহলে তারা ঈশ্বরের দ্বারা নির্মূল হয়ে যাবে; তা সত্যিই মর্মান্তিক। তাই আমরা নিশ্চিত হতে পারি, কেউ যতদিনই বিশ্বাসী থাকুক না কেন, তারা যদি সর্বশক্তিমান ঈশ্বরকে স্বীকৃতি না দেয়, ঈশ্বর তাদের নির্মূল করবেন, আর তারা নির্বোধ কুমারীর মত হয়ে যাবে যারা বিপর্যয়ের সময় কাঁদবে এবং দাঁত ঘষবে। পুর্বের অবিশ্বাসীদের মধ্যে অনেকেই প্রত্যক্ষভাবে সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কাজকে গ্রহণ করেছে এবং অন্তিম সময়ে ঈশ্বরের পরিত্রাণ লাভ করেছে। তারা ভাগ্যবান এবং তারা সেইসব বিশ্বাসীদের অভাব পূরণ করে যারা সর্বশক্তিমান ঈশ্বরকে স্বীকৃতি দিতে পারেনি এবং নির্মূল হয়ে গেছে। এটা কি বিশ্বাসীদের পক্ষে বৃহত্তম অনুশোচনা নয়? এত দীর্ঘ সময় ঈশ্বরের জন্য অপেক্ষা করার পর, তারা দেখে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর বিচারের কাজ করছেন এবং বহু সত্য প্রকাশ করছেন কিন্তু তারা তাকে স্বীকৃতি দিচ্ছেনা পরিবর্তে শূকরের মত একগুঁয়েভাবে মেঘারূঢ় হয়ে ঈশ্বরের আগমনের প্রতিক্ষা করছে এবং এবং এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে বসে আছে। শেষপর্যন্ত তারা পরিত্রাণের সুযোগ হারাবে। এটি কি বিশ্বাসীদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক হবে না?

কেউ জিজ্ঞাসা করতে পারে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর কীভাবে বিচারের কাজএবং মানবজাতিকে সম্পূর্ণরূপে রক্ষা করার জন্য পরিশোধন করেন। এর সঙ্গে যুক্ত সত্যের বিষয়ে কত রকমের সহকারিতা রয়েছে, তাই আজ আমরা কেবল এই বিষয়ের সামান্যতম অংশ নিয়েই আলোচনা করতে পারি। সর্বশক্তিমান ঈশ্বর বলেছেন, “অন্তিম সময়ে খ্রীষ্ট মানুষকে শেখানোর জন্য, মানুষের সারবস্তু প্রকাশের জন্য এবং মানুষের কথা ও কাজের বিশ্লেষণ করার জন্য বিভিন্ন সত্য ব্যবহার করেন। এই বাক্যে বিভিন্ন সত্য অন্তর্ভুক্ত থাকে, যেমন মানুষের কর্তব্য কী, কীভাবে মানুষের ঈশ্বর অনুগত থাকা উচিত, কীভাবে মানুষের ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ত থাকা উচিত, কীভাবে মানুষের স্বাভাবিক মানবতাসম্পন্ন জীবনযাপন করা উচিত, সেইসাথে থাকে ঈশ্বরের প্রজ্ঞা এবং স্বভাব ইত্যাদি বিষয়সমূহ। এই সমস্ত বাক্য মানুষের সারবস্তু এবং তার ভ্রষ্ট স্বভাবের দিকেই ইঙ্গিত করে। বিশেষ করে, সেই সমস্ত বাক্য, যা অনাবৃত করে মানুষ কীভাবে ঈশ্বরকে প্রত্যাখ্যান করেছে, তা আসলে এ সম্পর্কে কথা বলে যে কীভাবে মানুষ শয়তানের মূর্ত প্রতীক হয়ে উঠেছে এবং ঈশ্বরের বিরুদ্ধে শত্রু শক্তিতে পরিণত হয়েছে। তাঁর বিচারকার্যের সময়, ঈশ্বর কেবলমাত্র কয়েকটি বাক্যের মাধ্যমে মানুষের প্রকৃতি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন না; তিনি দীর্ঘমেয়াদে তা অনাবৃত করেন, মোকাবিলা করেন এবং তাদের অপসারণ করেন। প্রকাশ, মোকাবিলা এবং অপসারণের এই সমস্ত ভিন্ন পদ্ধতি সাধারণ বাক্য দ্বারা প্রতিস্থাপিত করা যায় না, সেই সত্যের দ্বারাই প্রতিস্থাপিত করা যায় যার সম্পর্কে মানুষ একেবারেই অসচেতন। শুধুমাত্র এই ধরনের পদ্ধতিকেই প্রকৃত বিচার বলা যেতে পারে; শুধুমাত্র এই ধরনের বিচারের মাধ্যমেই মানুষ ঈশ্বরের প্রতি অনুগত হতে পারে, তাঁর সম্বন্ধে দৃঢ়ভাবে নিশ্চিত হতে পারে, এবং ঈশ্বর সম্পর্কে প্রকৃত জ্ঞান লাভ করতে পারে” (বাক্য দেহে আবির্ভূত হল, খণ্ড ১, খ্রীষ্ট সত্যের দ্বারাই বিচারের কাজ করেন)। সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের বাক্যগুলি খুব স্পষ্ট যে অন্তিম সময়ে তাঁর বিচার হল মূলত মানবজাতির ভ্রষ্ট সত্তার বিচারের জন্য সত্য প্রকাশ করে, আমাদের ভ্রষ্টাচারকে প্রকাশিত করা যাতে আমরা নিজেদের সঠিকভাবে জানতে পারি এবং নিজেদের ভ্রষ্টাচারকে দেখতে পাই। তখন আমাদের অনুশোচনা হবে, আমরা নিজেদের এবং আমাদের রক্ত-মাংসের শরীরকে ঘৃণা করবো, যা প্রকৃত অনুতাপের জন্ম দেবে। এই বিচারকার্য মানুষের বোঝার জন্য নিছক কয়েকটি সত্য প্রকাশের মাধ্যমে হয় না, বরং ঈশ্বর সত্যের বিভিন্ন দিক প্রকাশ করেন। এই সব সত্যই হল মানুষের বিচার, তার স্বরূপ প্রকাশ, তাকে ছেঁটে ফেলা এবং তার মোকাবেলা করার জন্য, এবং আমাদের পরীক্ষা নেওয়া এবং পরিশুদ্ধ করার জন্য। বিশেষ করে ঈশ্বরের সেইসব বাক্য যেগুলি মানুষের বিচার করে এবং তার ভ্রষ্ট সত্তাকে প্রকাশ করে তীক্ষ্নভাবে মানবিকতার শয়তানসুলভ স্বভাব এবং আমাদের স্বভাব ও সত্তাকে প্রকাশ করে। এই বাক্যগুলি অত্যন্ত মর্মস্পর্শী এবং এগুলি সরাসরি আমাদের হৃদয়ে প্রবেশ করে। আমরা দেখতে পাই যে আমরা কতটা গভীরভাবে ভ্রষ্ট যে মানুষ বলার যোগ্যও নই। আমাদের আত্মগোপনের জায়গা নেই, আর আমরা ঈশ্বরের রোষের থেকে রক্ষা পেতে মাটির ফাটলের ভিতরে লুকোতে চাই। আমাদের ভ্রষ্টাচারের সত্য রূপ দেখার একমাত্র উপায় হল এই বিচার পড়ে দেখা, আর তারপরেই অনুশোচনায় আমাদের হৃদয় ভরে যায় এবং আমরা বুঝতে পারি যে আমরা ঈশ্বরের আশীর্বাদের, তাঁর রাজত্বে প্রবেশের অযোগ্য। এত ভ্রষ্ট হওয়ার ফলে আমরা ঈশ্বরের দর্শন পাওয়ার অযোগ্য। ঈশ্বরের বিচার এবং তাঁর শাস্তি ছাড়া আমরা কখনও নিজেদের সদর্থে বুঝতে পারবো না, কেবল মুখে নিজেদের পাপ স্বীকার করবো, একথা না জেনেই যে আমরা সম্পূর্ণরূপে শয়তানের প্রভাবের মধ্যে বাস করছি। আমরা ক্রমাগতই ঈশ্বরের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং তাঁকে প্রতিহত করতে থাকবো, এবং তারপরেও ভাববো যে আমরা স্বর্গে প্রবেশ করতে পারি। এই ভাবনা নির্লজ্জ এবং বিভ্রান্তিকর, সম্পূর্ণ আত্মসচেতনতা রহিত। আমাদের মধ্যে যাদের সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের বিচার এবং পরিশোধনের অভিজ্ঞতা হয়েছে তাদের প্রত্যক্ষ জ্ঞান রয়েছে যে তাঁর বাক্য হল সত্য, এগুলি অমূল্য! একমাত্র ঈশ্বরের প্রকাশিত সত্যই আমাদের ভ্রষ্টাচার পরিশুদ্ধ করে পাপের হাত থেকে রক্ষা করতে পারবে। একমাত্র ঈশ্বরের প্রকাশিত সত্যের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা আমাদের পরিশুদ্ধ করতে এবং ভ্রষ্ট স্বভাব পরিবর্তন করতে পারবে, যাতে আমরা ঈশ্বরের ইচ্ছা পূরণকারী হতে পারি, এবং তাঁর রাজ্যে প্রবেশাধিকার পাই। সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের অন্তিম সময়ের বিচারই আমাদের পথ, সত্য এবং জীবন। সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কাজের মাধ্যমেই আমরা সত্য এবং জীবন লাভ করতে পারি এবং ঈশ্বরের সম্মুখে বাঁচতে পারি, যা ঈশ্বরের এক অসাধারণ আশীর্বাদ!

য়ামার মনে হয়, আমাদের সহকারিতার এই পর্যায়ে বেশিরভাগ মানুষই বুঝতে পারে যে মানবজাতিকে রক্ষা করার জন্য ঈশ্বরের কাজ আমরা যত সহজ ভাবি তত সহজ নয়। এটা নিছক আমাদের মুক্তি দেওয়াএবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে দেওয়ার মত নয়, বরং তাঁর পরিত্রাণের কাজ হল মন্দতা ও পাপ থেকে আমাদের সম্পূর্ণ রক্ষা করা, শয়তানের কবল থেকে আমাদের রক্ষা করা যাতে আমরা ঈশ্বরের কাছে নিজেদের সমর্পণ করতে পারি এবং তাঁর উপাসনা করতে পারি। বিচারের কাজই এর একমাত্র পথ। এখন সর্বশক্তিমান ঈশ্বর অনেক সত্য প্রকাশ করেছেন এবং বিচারের কাজ করছেন। তাঁর এই কাজ একেবারে অসাধারণ এবং অতুলনীয়! সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের বাক্য সমগ্র বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়েছে এবং ব্রম্ভাণ্ডকে আন্দোলিত করেছে। অন্তিম সময়ে ঈশ্বরের মহান কার্যের দিকে সকলেই তাকিয়ে আছে এবং তা বিশ্বকে বিস্মিত করেছে। যারা সতকে ভালোবাসে তারা সকলেই অন্তিম সময়ে ঈশ্বরের কাজকে অণ্বেষণ করছে, এবং একমাত্র যারা সত্যকে ভালোবাসে না, তারা এই দিকে দৃষ্টিপাত করে না এবং ঈশ্বরের কাজকে অশ্রদ্ধা করে। তবে ঈশ্বরের কাজের কোনো প্রভাব ধর্মীয় বিশ্ব অথবা অবিশ্বাসীদের উপর কখনও পড়বে না। এটির অগ্রগতি অপ্রতিরোধ্য। চোখের নিমেষে, মহা বিপর্যয়গুলি শুরু হয়ে গেছে এবং অন্তিম সময়ে ঈশ্বরের বিচারের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তাঁর অনুগামীদের জন্য বিচারের কাজ শুরু হয় ঈশ্বরের গৃহ থেকে, কিছু মানুষকে বিশুদ্ধ এবং অনেককে নির্মূল করা হয়। অন্যান্যদের জন্য এটি হল বিপর্যয়কে ব্যবহার করে ঈশ্বরের বিরুদ্ধাচরণ করা পাপীদের ক্রমে দমন করা, যাতে শয়তানের কুক্ষিগত থাকা এই দুষ্ট যুগের সম্পূর্ণ অবসান ঘটে। তারপরে আমরা নতুন যুগকে স্বাগত জানাবো এবং সেই যুগে প্রবেশ করবো, যেখানে পৃথিবীর বুকে খ্রীষ্টের রাজত্ব স্থাপিত হবে। যারা এখনও ঈশ্বরের মেঘারূঢ় হয়ে আসার অপেক্ষায় রয়েছে তারা বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে কাঁদবে এবং দাঁত ঘষবে, যাতে প্রকাশিত বাক্যের ভবিষ্যদ্বাণী পূর্ণ হবে, “দেখ, মেঘবাহনে তিনি আসিতেছেন! প্রতিটি নয়ন তাঁকে দেখবে, দেখবে তারাও যারা তাঁকে বিদ্ধ করেছিল। পৃথিবীর সমস্ত মানবগোষ্ঠী তাঁর জন্য বিলাপ করবে” (প্রকাশিত বাক্য 1:7)। সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আরো বলেছেন, “অনেকে হয়তো আমি যা বলছি তার পরোয়া না করতে পারে, কিন্তু তাও আমি সকল তথাকথিত সন্ত যারা যীশুকে অনুসরণ করে তাদের বলতে চাই যে, তোমরা যখন তোমাদের নিজেদের চোখে যীশুকে স্বর্গ থেকে সাদা মেঘে চড়ে অবতীর্ণ হতে দেখবে, তা হবে ন্যায়পরায়ণতার সূর্যের জনসমক্ষে আবির্ভাব। হয়তো তোমার জন্য তা দারুণ উত্তেজনার এক মুহূর্ত হবে, তবু তোমার জানা উচিত যে, যে সময়ে তুমি স্বর্গ থেকে যীশুকে অবতীর্ণ হতে দেখবে, সেই একই সময়ে তুমিও শাস্তিভোগ করার জন্য নরকে নিমজ্জিত হবে। সেই সময়েই ঈশ্বরের পরিচালনামূলক পরিকল্পনার সমাপ্তি ঘটবে, এবং সেই সময়েই ঈশ্বর শিষ্টকে পুরস্কৃত করবেন এবং দুষ্টকে দণ্ড দেবেন। মানুষের কোনো প্রতীক দেখতে পাওয়ার আগেই ঈশ্বরের বিচার সম্পন্ন হয়ে যাবে, শুধুমাত্র সত্যের অভিব্যক্তিই থেকে যাবে। যারা প্রতীক না খুঁজে সত্যকে স্বীকার করে এবং ফলত যারা পরিশুদ্ধ, তারা ঈশ্বরের সিংহাসনের সম্মুখে ফিরে যাবে এবং সৃষ্টিকর্তার বন্ধনে আবদ্ধ হবে। কেবলমাত্র যারা এই বিশ্বাসে অনড় থাকবে যে ‘যে যীশু সাদা মেঘে চড়ে আসে না,সে ভণ্ড খ্রীষ্ট’, তারা চিরকালীন দণ্ড ভোগ করবে, কারণ তারা কেবলমাত্র সেই যীশুকে বিশ্বাস করে যিনি প্রতীক প্রদর্শন করেন, কিন্তু যে যীশু কঠোর বিচার ঘোষণা করেন এবং প্রকৃত পথ ও জীবন উন্মুক্ত করেন, তাঁকে বিশ্বাস করে না। আর তাই এটাই হতে পারে যে যীশু যখন সাদা মেঘে চড়ে সবার সামনে প্রত্যাবর্তন করবেন, কেবল তখনই তাদের সঙ্গে বোঝাপড়া করবেন” (বাক্য দেহে আবির্ভূত হল, খণ্ড ১, যতক্ষণে তুমি যীশুর আধ্যাত্মিক দেহ প্রত্যক্ষ করবে, ততক্ষণে ঈশ্বর স্বর্গ ও পৃথিবীকে নতুন করে তৈরি করে ফেলবেন)।

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।👇

সম্পর্কিত তথ্য

অবতারত্ব কী?

আমরা সবাই জানি যে দু’হাজার বছর আগে, মানুষকে উদ্ধার করতে ঈশ্বর মানুষের পৃথিবীতে প্রভু যীশুর অবতার গ্রহণ করেছিলেন এবং প্রচার করেছিলেন, “তোমরা...

অদ্বিতীয় সত্য ঈশ্বর কে?

আজকাল অধিকাংশ মানুষই আস্থাশীল এবং তাদের ঈশ্বরর অস্তিত্ব সম্পর্কে বিশ্বাস আছে। তারা তাদের হৃদয়ে অধিষ্ঠিত ঈশ্বরেই বিশ্বাস করে। তাই সময়ের...

সর্বশক্তিমান ঈশ্বরে আস্থা রাখা কি প্রভু যীশুর সঙ্গে কৃতঘ্নতা?

অন্তিম সময়ের খ্রীষ্ট, সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের আবির্ভাবের পর ত্রিশ বছর কেটে গেছে এবং ১৯৯১ সালে কাজ ও সত্যের প্রকাশ শুরু করেছিলেন। তিনি প্রকাশ...

বিশ্বাসের দ্বারা পরিত্রাণ কি ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশের অনুমোদন দেয়?

অব্যাহতভাবে এক অতিমারী ছড়িয়ে পড়ছে, এবং ভূমিকম্প, বন্যা, কীটপতঙ্গের প্রাদুর্ভাব, দুর্ভিক্ষের প্রকোপ শুরু হয়ে গিয়েছে। অনেক মানুষ ক্রমাগত...

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন