ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতার কঠিন পথ

04-09-2023

আমি ২০২০-এর জুলাইতে গির্জার নেত্রী নির্বাচিত হই এবং সিস্টার চেন শির সাথে গির্জার কাজের দায়িত্ব পাই। যখন দায়িত্ব পালন শুরু করি, অনেক নীতিই ভালো বুঝতাম না কিছু না বুঝলেই তাকে প্রশ্ন করতাম। তার যে কোনো পরামর্শই সহজে গ্রহণ করতাম। কিছুদিন পরে, কর্তব্য পালনে কিছু ফল পেতে শুরু করি স্বাধীনভাবে কাজ করার জন্য নিজেকে যথেষ্ট যোগ্য মনে হয়। তারপর, কাজ বরাদ্দের সময়, তার সাথে আলোচনা ছাড়াই সিদ্ধান্ত নিতে থাকি। এমনকি যেসব ক্ষেত্রে একসাথে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল, সেগুলোও আমি একাই নিতাম। নীতি না মেনে কাজ করছি দেখে, সে আমাকে যথেচ্ছ ভাবে সিদ্ধান্ত নিতে না বলে। কখনও কখনও যাজকদের সামনেই বলত। মনে হত বিরোধিতা করার জন্যই এসব করছে—আমার মর্যাদার প্রতি তার কোনো শ্রদ্ধা নেই। তার বিরুদ্ধে আমার প্রতিরোধ জেগে ওঠে। কাজ নিয়ে আলোচনার সময় সে আমার, অধিকাংশ ধারণাই বাতিল করে দিত আর আমি বিরূপ হয়ে ভাবতাম: “আমরা দুজনেই গির্জার কাজের দায়িত্বে আছি, তাহলে তোমার কথাই কেন শেষ কথা হবে? আমার ধারণা বাতিল করে তুমি নিজের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছ। কিন্তু তাতে সবাই আমাকে অযোগ্য নেত্রী ভাববে না? আমি সবাইকে মুখ দেখাব কী করে?” আমি তার প্রতি বিরূপ হয়ে উঠি। এরপর যখন কাজ নিয়ে আলোচনা করতাম, আমার ধারণা নাকচ হলেই চুপ করে যেতাম। মাঝে মাঝে মনে হত সে ঠিক বলছে, কিন্তু তার প্রতি নরম হবো ভাবলেই অস্বস্তি হত। দিন দিন আমি চেন শির প্রতি আরও বিরূপ হতে লাগলাম। তার সাথে কথাই বলতে চাইতাম না, কাজের আলোচনা তো দূরের কথা। তার জন্য আমি বাধা হয়ে দাঁড়াই, মনে হত আমাকে বাধা দেওয়া ও নিপীড়ন করা হচ্ছে।

২০২১-এর জানুয়ারিতে, আমাদের পারস্পরিক সহযোগিতার অভাব, আমার বাধা আর স্বাস্থ্যের সমস্যার কারণে, প্রচণ্ড নেতিবাচক হয়ে চেন শি শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করে। অক্টোবরে, গির্জার নেত্রীপদের নির্বাচন হয়। উচ্চপর্যায়ের এক নেতা চেন শি-এর প্রসঙ্গ তুলে তার সম্পর্কে জানতে চায়। সিস্টার ওয়াং ঝিক্সিন বলে: “সে দায়িত্বের চেয়েও বেশি ভার বহন করেছে করছে, তার অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে।” শুনে আমি কিছুটা চিন্তিত বোধ করি: “তার নিশ্চয়ই চেন শি সম্পর্কে উচ্চ-ধারণা! লিডার হয়তো ভাবছে এই পদের জন্য সেই যোগ্য সে নির্বাচিত হলে আবার তার সঙ্গে একত্রে কাজ করতে হবে না তো?” আগের একত্রে কাজ করার কথা চিন্তা করে, আতঙ্কিত হই। ভাবি: “কাজ এগোনোর ব্যাপারে দুজনের মত ভিন্ন হলে, বেশিরভাগ সহকর্মী চেন শির পাশে থাকত—কেউ আমার কথা শুনত না। সে খুবই নীতিবান মানুষ। আমাকে নীতিবিরুদ্ধ কিছু করতে দেখলেই তিরস্কার করত প্রায়ই বিব্রত করত। তার সাথে কাজ করা ভয়ঙ্কর ব্যাপার। সে যাওয়ার পর থেকে সহকর্মীরা আমার পরামর্শেই চলে। ফিরে এলে সহকর্মীরা কি আগের মতো শুধু তার কথাই শুনবে না? যদি সর্বদাই আমার সমালোচনা করে, ব্রাদার-সিস্টারদের মধ্যে আমার ভাবমূর্তি কি নষ্ট হবে না?” আমি তাই চেন শির সাথে কাজ করতে চাইনি। ভাবি: “কখনোই না, তার দুর্নীতির কথা সবাইকে বলতে হবে, সে নির্বাচিত হলে ফল খারাপ হবে।” এর সাথে, আমি তার খারাপ আচরণ বর্ণনা করি, কীভাবে সে নিজের মর্যাদাকে মূল্য দিয়ে কর্তব্যের ভার বহন করে না। আরও সুনির্দিষ্টভাবে, আমার কথার সপক্ষে কিছু উদাহরণ তুলে ধরি। নেত্রী দেখলেন যে চেন শির সাথে আমি অন্যায় আচরণ করছি। এ ব্যাপারে তিনি আমার সাথে আলোচনা করলেন। কিন্তু আমি কান দেইনি। কয়দিন পরে, নির্বাচন শুরু হলে, সিস্টার লি মিং চেন শি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। ভেবেছিলাম: “সে চেন শিকে ভালো চেনে না, তাকে বলি সে উপযুক্ত নেতা নয়, তা হলে সে আর তাকে ভোট দেবে না।” আমি তাকে বলি কীভাবে চেন শি কর্তব্যে অবহেলা করত। তখনই এক সিস্টার প্রতিবাদ করে বলল, “চেন শি তখন খারাপ অবস্থায় ছিল। পরে সে সামলে উঠেছে আর দায়িত্বে ভার বহন করছে। সে ধৈর্যের সাথে আলোচনা করে আর আমাদের কর্তব্য পালনে সহায়তা করে।” শুনে আমি উদ্বিগ্ন হয়ে উঠি: “তুমি তার এত প্রশংসা করছ কেন? তাকে ভোট দিয়ে দিয়েছ নাকি? তোমার কথা শুনেই কি লি মিং তাকে ভোট দেবে? সে সত্যিই নির্বাচিত হলে আমাদের আবার একত্রে কাজ করতে হবে। তখন নিজের স্বাতন্ত্র্যও রাখতে পারব না, সেও আমার ভুল ধরতেই থাকবে। তারচেয়ে নতুন কোনো নেতা হলেই ভালো। বেশ কিছুদিন ধরেই আমি ওদের নেত্রী, অনেক নীতিই বুঝতে পেরেছি, তাই ওরা আমার সাথে একমতই হবে, এমনকি যদি ভুলও করি তা ওরা ধরতে পারবে না, সরাসরি আমার সমালোচনাও করবে না, ফলে আমার মর্যাদাও অক্ষুণ্ণ থাকবে।” চেন শি-কে কিছুতেই নির্বাচিত হতে দেওয়া যাবে না। বলি, ওর জ্ঞান মতবাদেই সীমাবদ্ধ, ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা একেবারেই নেই। খেয়াল করি, লি মিং শুনে মাথা নাড়ছে সামান্য স্বস্তি বোধ করি, ভাবি লি মিং হয়তো চেন শিকে ভোট দেবে না। চেন শি ও আরেক সিস্টার সমান ভোটে এগিয়ে ছিল। আরো উদ্বিগ্ন হয়ে উঠি, চেন শি আবার আমার সাথে কাজ করবে।

পরে, নেত্রী জিজ্ঞেস করল: “চেন শির যা যোগ্যতা, সে নেত্রী হতেই পারে। সে সত্যিই নির্বাচিত হলে তোমার কেমন লাগবে?” আরো উদ্বিগ্ন হই যে চেন শি বুঝি সত্যি নির্বাচিত হবে, তাই বলি: “তার জীবনের অভিজ্ঞতা নেই, আর ভীষণ দুর্নীতিগ্রস্থ তার স্বভাব…।” চেন শি-র প্রতি আমার বিরোধিতা দেখে নেত্রী বলে: “তুমি শুধু তার ত্রুটিগুলোই দেখো, গুণগুলো দেখো না, তাই একত্রে কাজ করতে পারবে না, তুমি খুব উদ্ধত…।” তার মুখে “একত্রে কাজ করতে পারবে না” শুনে শুনে খুব আহত হই। মনে হয় নেত্রী আমার উদ্দেশ্য ধরে ফেলেছে, আমাকে নিচু চোখে দেখছে। ব্রাদার-সিস্টার থেকে শুরু করে নেতা-নেত্রীরাও চেন শিকে পছন্দ করে, তাহলে আমার আর কী রইল? এত খারাপ লাগে, পদ ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবি। ভাবি, “যদি সে এতই ভাল হয় তাহলে তাকেই নির্বাচিত করো।” নেত্রীকে বলি: “আমার মানবতা নেই, একত্রে কাজও করতে পারব না। এই দায়িত্ব আর পালন করতে পারব না। আপনি আমার বদলে নতুন নেতা নির্বাচিত করুন।” নেত্রী আমার সাথে আলোচনা করেন: “তোমাকে খাটো করতে উদ্ধত বলছি না, তোমার কলুষিত স্বভাব সংশোধনের জন্য বলছি…” এই কথা শুনে বুঝি যে কর্তব্যের প্রতি রাগ দেখিয়ে ঈশ্বরের বিরোধিতা করছি। খুব লজ্জা পাই আর অস্বস্তিতে পড়ে যাই। কিন্তু চেন শির সাথে কাজের কথা ভাবলেই বিচলিত হচ্ছিলাম। এর মোকাবিলা করতে চাইনি, তাই অন্য কাজের ছুতোয় সেখান থেকে চলে আসি। খুব বিষণ্ণ লাগছিল—বিদ্রোহী হওয়ায় ঈশ্বর আমার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। তার ব্যবস্থাপনাকে এড়িয়ে চলছিলাম। এভাবে চললে ঈশ্বর আমাকে ঘৃণা করবেন, আমি পবিত্র আত্মার কার্য হারাব। আমি শঙ্কিত হয়ে উঠি, তাই ঈশ্বরের সামনে প্রার্থনা করি: “হে ঈশ্বর, আমার জন্য আপনার আয়োজনে নিশ্চয়ই কোনো শিক্ষা রয়েছে। প্রতিরোধ করে ভুল করেছি, আমি জানি না কীভাবে আত্মসমীক্ষা করব। আপনার অভিপ্রায় বুঝতে এবং শিক্ষা নিতে আমাকে পথ দেখান।” প্রার্থনার পর একটু শান্তি পাই।

পরদিন ফল প্রকাশিত হয়, চেন শি নির্বাচিত হয়েছে। কিন্তু তাতে আমি খুব একটা প্রভাবিত হইনি। আমি আত্মসমীক্ষা করি: আমি সবসময় চেন শির দুর্নীতি ও ত্রুটির সমালোচনা করেছি, কখনই তার গুণ ও প্রতিভার কথা বলিনি। তাকে কি পরিহার করছিলাম না? ঈশ্বরের বাক্যে দেখলাম বিরোধীদের সরিয়ে রাখাটা খ্রীষ্ট-বিরোধীদের স্বভাব। একটি পরিচ্ছেদ আমাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। সর্বশক্তিমান ঈশ্বর বলেছেন, “যারা সত্যের অনুসরণ করে, খ্রীষ্টবিরোধীরা কীভাবে তাদের বিচ্ছিন্ন করে ও আক্রমণ করে? তারা প্রায়শই সেই পদ্ধতিগুলোই ব্যবহার করে যেগুলো অন্যদের চোখে যৌক্তিক ও যথাযথ মনে হয়, এমনকি অন্যদের আক্রমণ, নিন্দা, ও প্রতারণা করার উদ্দেশ্যে তারা সত্য সম্পর্কিত যুক্তিতর্কের আলোচনাগুলোকেও ব্যবহার করে। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো খ্রীষ্টবিরোধী মনে করে যে তাদের সঙ্গীরা সত্যের অনুসরণ করছে এবং তাদের পদমর্যাদার পক্ষে ক্ষতিকর হতে পারে, তখন তারা মানুষকে প্রতারণা করার জন্য এবং তাদের সম্পর্কে উচ্চ ধারণা পোষণ করানোর জন্য উন্নত মতবাদ ও আধ্যাত্মিক তত্ত্বের কথা বলে। এইভাবে তারা তাদের সঙ্গী ও সহকর্মীদের ছোট করে, তাদের দমন করে, এবং মানুষকে মনে করায় যে ‘যদিও যারা সত্যের অনুসরণ করে তারাই আমাদের নেতার সঙ্গী, কিন্তু যোগ্যতা ও সক্ষমতার দিক থেকে তারা আমাদের নেতার সমকক্ষ নয়। আমাদের নেতার ধর্মোপদেশ অত্যুন্নত এবং কেউ তার সাথে তুলনীয় নয়।’ একজন খ্রীষ্টবিরোধীর কাছে, এই ধরনের মন্তব্য অত্যন্ত সন্তোষজনক। তারা তাদের সঙ্গীদের দিকে তাকিয়ে ভাবে, ‘তুমিই তো সেই, যে সত্যের অনুসরণ করে? তোমার কি সত্যের কিছু বাস্তবতাও নেই? তুমি তা পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করতে পারো না কেন? যদি তোমার যোগ্যতা থাকে, মঞ্চে এসে বলো। তুমি এখন পুরোপুরি অপমানিত। তোমার সামর্থ্যের অভাব আছে, তবুও তুমি আমার সাথে তর্ক করার সাহস করো?’ খ্রীষ্টবিরোধী এটাই ভাবে। খ্রীষ্টবিরোধীর উদ্দেশ্য কী? তারা এমন উপায় ভাবতে চায় যা অন্যদের দমিয়ে রাখবে, ছোট করবে, এবং অন্যদের চেয়ে উঁচুতে তাদের স্থান দেবে। যারা সত্যের অনুসরণ করে, অথবা তাদের সঙ্গে কাজ করে, তাদের সকলের সাথে খ্রীষ্টবিরোধীরা এরকম আচরণই করে। … এইসমস্ত মন্দ কাজ ছাড়াও খ্রীষ্টবিরোধীরা আরো ঘৃণ্য একটা কাজ করে, সেটা হল, যারা সত্যের অনুসরণ করে, কীভাবে তাদের চেয়ে সুবিধাজনক অবস্থায় যাওয়া যায় সবসময় সেই রাস্তা খুঁজে বার করার চেষ্টা করে। যেমন, কেউ হয়তো ব্যভিচার করেছে বা অন্য কোনো সীমালঙ্ঘন করেছে, তাহলে খ্রীষ্টবিরোধীরা সেগুলোকে কাজে লাগিয়ে তাদের আক্রমণ করে, তাদের অপমান করার, অনাবৃত করার, এবং অপবাদ দেওয়ার সুযোগ খোঁজে, তাদের দায়িত্ব পালনের উদ্যমকে নিরুৎসাহিত করার জন্য তাদের উপর কলঙ্ক আরোপ করে যাতে তারা নেতিবাচক বোধ করে। এছাড়াও খ্রীষ্টবিরোধীরা ঈশ্বরের মনোনীত মানুষদের প্ররোচিত করে এই মানুষদের প্রতি বৈষম্য করার জন্য, তাদের এড়িয়ে চলার জন্য, এবং প্রত্যাখ্যান করার জন্য, যাতে যারা সত্যের অনুসরণ করে তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত, সত্যের অনুসরণকারীরা যখন নেতিবাচক হয়ে পড়ে এবং দুর্বল বোধ করে, সক্রিয়ভাবে আর দায়িত্ব পালন করে না, এবং সমাবেশে যোগ দিতে অনিচ্ছুক হয়ে ওঠে, তখনই খ্রীষ্টবিরোধীদের লক্ষ্য অর্জিত হয়। সত্যের অনুসরণকারীরা যখন আর তাদের পদমর্যাদা ও ক্ষমতার পক্ষে ঝুঁকি হয়ে দাঁড়ায় না, এবং কেউ আর তাদের বিষয়ে অভিযোগ করার বা তাদের প্রকাশ করার সাহস করে না, তখনই খ্রীষ্টবিরোধীরা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। … সংক্ষেপে, খ্রীষ্টবিরোধীদের এই সব বহিঃপ্রকাশের ভিত্তিতে আমরা সিদ্ধান্তে আসতে পারি যে তারা নেতৃত্বদানের দায়িত্ব পালন করছে না, কারণ তারা মানুষকে ঈশ্বরের বাক্য ভোজন ও পান করানোয় নেতৃত্ব দিচ্ছে না, সত্যের আলোচনা করার দিকে মানুষকে পরিচালিত করছে না, এবং তারা সত্য অর্জন করার জন্য মানুষকে জীবন সরবরাহ করছে না। পরিবর্তে, তারা গির্জার জীবনে ব্যাঘাত ঘটায় ও সমস্যা সৃষ্টি করে, গির্জার কাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ও বিনষ্ট করে, এবং সত্যের অনুসরণ ও পরিত্রাণ অর্জনের পথে যারা রয়েছে তাদের বাধা দেয়। তারা ঈশ্বরের মনোনীত মানুষদের বিপথগামী করতে চায় এবং তাদের পরিত্রাণ লাভের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করতে চায়। গির্জার কাজকে ব্যাহত করে ও তাতে ব্যাঘাত ঘটিয়ে খ্রীষ্টবিরোধীরা এই চূড়ান্ত লক্ষ্যই অর্জন করতে চায়(বাক্য, খণ্ড ৪, খ্রীষ্টবিরোধীদের উন্মোচন, তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তারা সত্যের অন্বেষণকারীদের বহিষ্কার ও আক্রমণ করে)। ঈশ্বরের এই বাক্য আমাকে সত্যিই নাড়া দেয়। ঈশ্বর বলেন খ্রীষ্টবিরোধীরা অন্যদের দমন ও পরিহার করে, সত্য-অন্বেষণকারীদের ত্রুটি খোঁজে, নিজের অবস্থান দৃঢ় করতে। আমি কি চেন শির সাথে তাই করিনি? নির্বাচনের সময় যখন দেখি সবাই তার সম্পর্কে ইতিবাচক, তখন মনে পড়ে গেল অতীতে, সকলেই তার পরামর্শ অনুসরণ করত, তাকেই সমস্ত মনোযোগ দিত। সে প্রায়ই আমার ত্রুটি ধরিয়ে দিত, আমার সম্মান নষ্ট করত। নির্বাচিত হলে ব্রাদার-সিস্টাররা কেবল তারই প্রশংসা করবে ও কথা শুনবে, আমার নয়। তাই ভীত হয়ে তার সক্ষমতা অস্বীকার করি, এবং তার আগের দুর্নীতির কথা ফলাও করে বলি। বলি তার জীবনে প্রবেশের দক্ষতা কম, সত্য অনুসন্ধান করে না। সবাইকে ভুলানোর চেষ্টা করি যেন তাকে ভোট না দেয়। যখন তা নেতার নজরে আসে আর পক্ষপাতের সমালোচনা করেন, আমি যা চেয়েছিলাম তা হয়নি বলে অযৌক্তিকভাবে চলে আসতে চাই। আমার সব কথাই ছিল গোপন উদ্দেশ্যপূর্ণ, আমার সুনাম এবং মর্যাদা রক্ষার জন্য। এটা খ্রীষ্টবিরোধীদের সত্যানুসন্ধানীদের আক্রমণ করা থেকে আলাদা কীভাবে? গির্জার আশু প্রয়োজন ছিল প্রতিভাবানের। চেন শি-এর মধ্যে দুর্নীতির লক্ষণ ও ত্রুটি দেখা গেলেও, সে ছিল নীতিবান এবং তার দায়িত্বে কঠোর পরিশ্রমী। সমস্যার সম্মুখীন হলে, সে সত্যের সন্ধান এবং অনুসরণ করত। নেত্রী হওয়ার যোগ্যতা তার ছিল। কিন্তু আমার শঙ্কা ছিল সে আমার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করবে, তাই গির্জার কাজ বিবেচনা না করে তাকে অপমান ও পরিহারের চেষ্টা করি। ঈশ্বরের অভিপ্রায়ের কথা চিন্তা করিনি, আমার দায়িত্ব পালন করিনি। গির্জার কাজে বাধা দিয়েছি; মন্দ কাজ করেছি! তখন হঠাৎ করেই ‍বুঝতে পারি কী ভয়াবহ কাজ করেছি। অতীতে, ভাবতাম বাদ দেয়া এবং শাস্তি দেয়া খ্রীস্টবিরোধীদের কাজ, কিন্তু এখন বুঝতে পারি আমারও খ্রীষ্টবিরোধী স্বভাব ছিল আমিও একই পথে হাঁটছিলাম। অনুতপ্ত না হলে, আমি ঈশ্বরের দ্বারা অনাবৃত ও বহিষ্কৃত হতাম। এই উপলব্ধির পর কিছুটা শঙ্কিত হয়ে উঠি। এটাও বুঝি ঈশ্বর আশা করেন অনাবৃত হওয়ার মাধ্যমে কলুষিত স্বভাব সংশোধনে আমি আত্মচিন্তন, অনুতাপ ও সত্যের অনুসন্ধান করব। আমার উচিত চেন শির সাথে সমন্বয় করে গির্জার কাজ সুসম্পন্ন করা। এরপরে, ব্রাদার ও সিস্টারদের নিজের দুর্নীতির কথা বলি যাতে আমার কথা বিবেচনা করে চেন শি-র সাথে যথাযথ আচরণ করে। চেন শি-কে বাদ দেওয়া ও বিরোধিতা করা বন্ধ করি, নিজে থেকেই দেখা করতাম, কাজের আলাপ ও সহযোগিতা করতাম। ধীরে ধীরে আমাদের মধ্যে ভালো বোঝাপড়া গড়ে ওঠে, আমিও স্বচ্ছন্দ্য হতে শুরু করি। বিশেষ করে যখন এক সমাবেশে শুনি চেন শি তার সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার বাস্তবিক বর্ণনা দিচ্ছে, ভাবি কীভাবে আমি তার নেতৃত্বে আসার পথে বাধা দিয়েছিলাম, আরো অনুতাপ ও অপরাধবোধ হলো।

পরে, এ নিয়ে আরো সত্যানুসন্ধান এবং আত্মচিন্তন করি। ঈশ্বরের বাক্য পড়ি, “সাধারণ মানুষের তুলনায় খ্রীষ্টবিরোধীদের কাছে নিজেদের মর্যাদা এবং সম্মান অনেক বেশি উপভোগ্য, সেটা তাদের স্বভাব ও সারমর্মেই নিহিত রয়েছে; তা কোনো সাময়িক উৎসাহ অথবা পারিপার্শ্বিক অবস্থার ক্ষণস্থায়ী প্রভাব নয়—সেটি তাদের জীবনের অংশ, তাদের অস্থিমজ্জায় মিশে থাকে, এবং সেহেতু, সেটিই তাদের সারমর্ম। অর্থাৎ বলা যায় যে, খ্রীষ্টবিরোধীরা যেকোনো কিছু করার সময়, নিজেদের মর্যাদা ও সুনামকেই সর্বাগ্রে বিবেচনা বিষয়; এছাড়া কোনোকিছুই নয়। মর্যাদা ও সুনাম হল খ্রীষ্টবিরোধীদের প্রাণস্বরূপ, তাদের আজীবনের লক্ষ্য। তাদের করা সকল কাজের ক্ষেত্রেই তারা সর্বপ্রথম এই মর্মে বিবেচনা করে: ‘এতে আমার মর্যাদার কী হবে? আর আমার সুনামের কী হবে? এটা করলে কি আমি খাতির পাব? লোকেদের মনে কি আমার মর্যাদা উন্নীত হবে?’ তারা সর্বপ্রথম এই চিন্তাই করে, এবং এটিই পর্যাপ্তভাবে প্রমাণ করে যে তাদের স্বভাব ও সারমর্ম খ্রীষ্টবিরোধী-সম; তারা সমস্যাকে অন্য কোনোভাবে বিবেচনা করে না। … যদিও খ্রীষ্টবিরোধীরাও ঈশ্বরের বিশ্বাস করে, কিন্তু তারা পদমর্যাদা ও সম্মানের অন্বেষণকে ঈশ্বরের বিশ্বাসের সমকক্ষ বলে মনে করে এবং সমান গুরুত্ব দেয়। অর্থাৎ বলা যায়, ঈশ্বর বিশ্বাসের পথে চলার সময়, তারা নিজেদের পদমর্যাদা এবং সম্মানের অন্বেষণও করে। বলা যেতে পারে, খ্রীষ্টবিরোধীরা তাদের অন্তর থেকে বিশ্বাস করে যে ঈশ্বরে বিশ্বাস এবং সত্যের অন্বেষণের অর্থই হল মর্যাদা ও খ্যাতির অন্বেষণ; আবার মর্যাদা ও খ্যাতির অন্বেষণই হল ঈশ্বরে বিশ্বাস এবং সত্যের অন্বেষণ; এবং মর্যাদা ও সম্মান অর্জনই হল সত্য ও জীবনকে অর্জন করা। যদি তারা অনুভব করে যে তাদের কোনো সম্মান বা মর্যাদা নেই, কেউ তাদের প্রশংসা করে না, শ্রদ্ধা করে না, বা তাদের অনুসরণ করে না, তখন তারা খুব হতাশ হয়ে পড়ে, তারা বিশ্বাস করে যে ঈশ্বরে বিশ্বাস করার কোনো অর্থ নেই, কোনো মূল্য নেই, এবং তারা নিজেদের উদ্দেশ্যেই বলে, ‘ঈশ্বরের প্রতি এমন বিশ্বাস কি ব্যর্থ? তা কি নিরর্থক?’ তারা প্রায়ই এই ধরনের চিন্তা নিজেদের মনে পোষণ করে, পরিকল্পিতভাবে চেষ্টা করে কীভাবে তারা ঈশ্বরের গৃহে নিজেদের স্থান প্রতিষ্ঠা করতে পারবে, কীভাবে তারা গির্জায় প্রচুর সুনাম অর্জন করতে পারবে, যাতে তারা কথা বললে মানুষ শোনে, তারা কাজ করলে মানুষ সমর্থন করে, এবং তারা যেখানেই যাক মানুষ তাদের অনুসরণ করে; যাতে গির্জায় তাদের জোরালো মতামত থাকে, সুনাম থাকে, যাতে তারা সুবিধা ভোগ করতে পারে, এবং মর্যাদা লাভ করে—তারা সত্যিই এই ধরনের বিষয়গুলোয় মনোনিবেশ করে। এই ধরনের মানুষদের অন্বেষণের বস্তু এগুলোই(বাক্য, খণ্ড ৪, খ্রীষ্টবিরোধীদের উন্মোচন, নবম পরিচ্ছেদ: কেবলমাত্র নিজেদেরকে বিশিষ্ট ভাবে তুলে ধরতে এবং নিজেদের স্বার্থ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে পরিতুষ্ট করতেই তারা তাদের কর্তব্য করে; তারা কখনোই ঈশ্বরের গৃহের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে না, এবং ব্যক্তিগত গৌরবের বিনিময়ে এমনকি সেই স্বার্থ বিক্রয় অবধি করে দেয় (তৃতীয় অংশ))। ঈশ্বর প্রকাশ করেন খ্রীষ্টবিরোধীরা সুনাম এবং মর্যাদার প্রতি কতটা লালায়িত এবং কীভাবে তারা নিজেদের ক্ষমতা রক্ষায় প্রতিটা কাজ করে। তারা চায় প্রত্যেকেই যেন তাদের মান্য ও উপাসনা করে। এই সবই তারা করে নিজেদের স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে। তারা ঈশ্বরের সাথে পাল্লা দেয়, যাতে মানুষ তাদের উপাসনা করে। আমি ঠিক তাদের মতো কাজ করছিলাম যাদের ঈশ্বর প্রকাশ করেছেন: আমি সবসময় অন্যদের কাছে নিজের ভাবমূর্তি বজায় রাখতে চেয়েছি, সুনাম, চূড়ান্ত আধিপত্য এবং সবার মনোযোগের কেন্দ্রে থাকতে চেয়েছি। আমার চেয়ে উপযুক্ত কেউ এলেই, তাদেরকে আমার সুনামের প্রতি হুমকি গণ্য করে তাদের আক্রমণ ও পরিহার করতাম। চেন শির সাথেও তাই করি। সে নেত্রী নির্বাচিত হলে নিজেকে আলাদা করে চেনাতে পারব না বলে, তার অতীতের দুর্নীতির কথা ফলাও করে বলি যাতে তাকে কেউ ভোট না দেয়। এমনকি আশা করি যাতে অন্য কেউ নির্বাচিত হয়। তাহলে, দীর্ঘদিন নেত্রী ছিলাম বলে, আমি যাই বলি বা করি না কেন, এমনকি নীতিসম্মত না হলেও, নতুন সঙ্গী তাতে নজরও দেবে না বা কিছু বলবেও না। গির্জার সর্বেসর্বা আমিই থাকব, আমি যা বলব তাই হবে, যা ইচ্ছা করতে পারব। আমি আকাঙ্ক্ষার বশবর্তী হয়েছিলাম। নিজের স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে চাইছিলাম! নিজের সুনাম বাঁচাতে, অন্যদের দমন ও পরিহার করেছি। ভিন্নমতাবলম্বীদের সিসিপি যেভাবে আক্রমণ করে। স্বৈরাচারী শাসন বজায় রাখতে, অন্যদের উপাসনা পেতে, তাদের কর্তৃত্বের মাধ্যমে দমন, এবং মূলোৎপাটন করে তাদের সুনাম ও স্বার্থের হুমকির। চেন শির সাথে আমি সিসিপির মতো আচরণ করি। বিশ্বাস হয় না সুনামের লোভে কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠেছিলাম। গির্জার নেত্রী হিসাবে, উচিত ছিল গির্জার কাজে যারা সত্য অনুসরণ করে তাদের সাথে কাজ করা, ব্রাদার-সিস্টারদের ঈশ্বরের সামনে আনা। কিন্তু আমি কেবল সুনামের কথাই ভেবেছি—মনে কর্তব্য পালনের কোন জায়গাই ছিল না, ঈশ্বরের ভয়ও ছিল না। দীর্ঘদিন ঈশ্বরে বিশ্বাস করেও, নিজ সুনামের স্বার্থে অন্যদের দমন করেছি। সত্যিই ঈশ্বরকে হতাশ করেছি তাঁর বিরাগের কারণ হয়েছি!

পরে, বুঝতে পারি, চেন শিকে দমন করার আরেকটি কারণ ছিল: সে আমার দুর্নীতি প্রকাশ করত, অসম্মানিত করত। ঈশ্বরের বাক্যের এই অনুচ্ছেদ্গুলো খুঁজে পাই: “খ্রীষ্টবিরোধীদের পথ পরিত্যাগ করতে চাইলে তোমার কী করা উচিত? তোমার সক্রিয়ভাবে সেই সৎ মানুষদের ঘনিষ্ঠ হওয়া উচিত যারা সত্যকে ভালোবাসে। তোমার সেই মানুষদের ঘনিষ্ঠ হওয়া উচিত যারা তোমাকে পরামর্শ দিতে পারে, যারা সত্যি কথা বলতে পারে এবং তোমার মধ্যে কোনো সমস্যা লক্ষ্য করলে তোমার সমালোচনা করতে পারে, বিশেষত সেই মানুষেরা যারা তোমার মধ্যে সমস্যা দেখলে তোমার চরিত্রের অনৈতিক অংশের ছাঁটাই করতে পারে ও তোমার মোকাবিলা করতে পারে। এরাই সেই মানুষ যারা তোমার পক্ষে সর্বাধিক উপকারী হতে পারে, এবং তোমার উচিত তাদের লালন করা। তুমি যদি এই ধরনের ভালো মানুষকে প্রত্যাখ্যান করো এবং তাদেরকে চোখের সামনে থেকে সরিয়ে দাও, তাহলে তুমি ঈশ্বরের সুরক্ষা হারাবে এবং দুর্ভাগ্য ধীরে ধীরে তোমার নিকটে আসবে। তুমি যদি তাদের ঘনিষ্ঠ হও যারা ভালো মানুষ এবং যারা সত্য উপলব্ধি করে, তুমি যদি তাদের ঘনিষ্ঠ হও, তাহলে তুমি শান্তি ও সুখ লাভ করবে এবং দুর্ভাগ্য থেকে দূরে থাকবে। তুমি যদি নীচ মানুষদের ঘনিষ্ঠ হও, নির্লজ্জ ও চাটুকারদের ঘনিষ্ঠ হও, তাহলে তুমি বিপদাপন্ন। তুমি যে শুধু মূর্খ প্রতিপন্ন হবে ও প্রতারিত হবে তা-ই নয়, যে কোনো সময় তোমার উপর দুর্ভাগ্য নেমে আসতে পারে। তোমার পক্ষে কারা সবচেয়ে বেশি উপকারী তা তোমায় জানতে হবে। যখন তুমি কোনো ভুল করো, আর যখন তুমি নিজের গুণগান করো ও নিজেই নিজের সাক্ষ্য দাও এবং অন্যদের প্রতারিত করার চেষ্টা করো, তখন যে সেটা দেখিয়ে দেয়, সেই ধরনের মানুষই তোমার পক্ষে সর্বাপেক্ষা উপকারী, এবং তাদের ঘনিষ্ঠ হওয়াই সঠিক পথ। তোমরা কি তা করতে পারো? যদি কেউ এমন কিছু বলে যাতে তুমি অপমানিত বোধ করো, সেক্ষেত্রে তুমি আজীবন তাদের প্রতি আক্রোশ পুষে রাখো এবং বলো, ‘তুমি কেন আমাকে অনাবৃত করলে? আমি তোমার সাথে খারাপ আচরণ করিনি; তুমি কেন সবসময় আমায় সমস্যায় ফেলো?’ তুমি নিজের মনে ক্ষোভ পুষে রাখো, যা বিভাজনের সৃষ্টি করে, এবং তুমি সর্বদা অনুভব করো, ‘নেতা হিসাবে আমার তোমাকে এগুলো এসব বলতে নিষেধ করার মতো অবস্থান ও পদমর্যাদা রয়েছে।’ এটা কিসের অভিব্যক্তি? এই অভিব্যক্তি সত্যকে স্বীকার না করার, বরং তার বিরোধিতা করার, এবং সামান্য অযৌক্তিকও। এটা কি পদমর্যাদার অপব্যবহার সংক্রান্ত উদ্বেগের বিষয় নয়? এতে অত্যন্ত দুর্নীতিগ্রস্ত স্বভাবের পরিচয় পাওয়া যায়। যারা সবসময় পদমর্যাদা নিয়ে অত্যধিক চিন্তিত তাদের মধ্যেই খ্রীষ্টবিরোধীর স্বভাব গুরুতর ভীষণভাবে বিদ্যমান, এবং তারা যদি মন্দ কাজ করে, তবে তাদের অবিলম্বে প্রকাশ করা হবে। যারা সত্যকে প্রত্যাখ্যান করে এবং সত্যকে স্বীকার করতে পারে না, তারা খুবই বিপদের মধ্যে রয়েছে। সর্বদা মর্যাদার জন্য লড়াই করা এবং পদমর্যাদাগত সুবিধার লোভ করা আসন্ন বিপদের লক্ষণ। যদি কারও হৃদয় সর্বদা পদমর্যাদার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তাহলে তারা কি সত্যের অনুশীলন করতে পারে বা নীতি অনুসারে কাজ করতে পারে? কেউ যদি সত্যের অনুশীলন করতে না পারে এবং সর্বদা খ্যাতি ও মর্যাদা অর্জনের জন্য কাজ করে, এবং সর্বদা তাদের ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে কাজ করে, তবে সেটা কি স্পষ্টতই কোনো খ্রীষ্টবিরোধীর দ্বারা নিজের প্রকৃত চরিত্র প্রদর্শন নয়?(বাক্য, খণ্ড ৪, খ্রীষ্টবিরোধীদের উন্মোচন, চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তারা নিজেদের মহিমান্বিত হিসাবে তুলে ধরে এবং নিজেদের সাক্ষ্য নিজেরাই দেয়)। পড়ে আমি উপলব্ধি করি ব্রাদার-সিস্টাররা আমাকে অনাবৃত করছিল আমাকে উপহাস, অপমান বা বিব্রত করতে নয়, বরং নিজেকে চিনতে সাহায্য করতে। আমার জীবনের জন্য তা উপকারী ছিল, যাতে ভুল পথে না যাই। চেন শির সাথে কাজ করার সময়ের কথা ভাবি, ঔদ্ধত্য লক্ষ্য করে সে সরাসরি আমাকে অনাবৃত করে দেয়। আসলে সে ভালোবেসে সহায়তা করেছিল। এমনভাবে কাউকে পাশে পাওয়া জীবনে প্রবেশে সহায়তা করে। কিন্তু তখন আমি তার ভুল ব্যাখ্যা করি, ভাবিনি এটা ঈশ্বরই করাচ্ছেন। ভেবেছিলাম সে আমাকে অপমান করছে, অনাবৃত ও সংশোধন করছে, তাই বিরূপ হয়ে আমি তাকে বাদ দিই। এগুলি ছিল আমার খ্রীষ্টবিরোধী স্বভাবের লক্ষণ। ঈশ্বরের বাক্য অনুশীলনের পথ দেখিয়েছিল। সৎ, সরল লোকদের সাথে সময় কাটানো উচিত যারা সত্যের অনুসরণ করে, এবং যখন নীতিবিরুদ্ধ কোনো কাজ করি, তখন সুনামের কথা না ভেবে তাদের কথা শোনা উচিত। এটি আমাকে মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখবে। ভাবি, গির্জার নেত্রী হওয়া সত্বেও কত কিছু আমার আয়ত্বে আসেনি। যেহেতু আমরা কলুষিত স্বভাব দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, আমরা অনিবার্যভাবে নিজ দায়িত্বে ব্যঘাত ও বাধা সৃষ্টি করব। তাই শুধুমাত্র ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করেই, একে অপরকে সমর্থন দিয়েই, আমরা দায়িত্ব এবং গির্জার কাজ ভালভাবে করতে পারি। ঈশ্বরের ইচ্ছা বুঝতে পেরে চেন শির কাছে সব খুলে বলে ক্ষমা চাই, বলি কীভাবে তাকে আক্রমণ এবং দমন করতে চেয়েছি, সবকিছু। ভেবেছিলাম শুনে সে আমাকে খারাপ ভাববে, অথচ আমাকে সাহায্য করতে তার অভিজ্ঞতার আলোচনা করে। সব খুলে বলে ও আলোচনা করে, আমার বিরূপ ভাব দূর হয়।

পরে একবার, ব্যস্ততার কারণে কয়েকটি সাধারণ বিষয়ে অবহেলা করি, এবং দুই মাস সাধারণ বিষয়ের সমাবেশ করতে ভুলে যাই। তার সে নেতৃত্বে থাকা সিস্টার ইয়াং ইয়ানি সমালোচনা করে বলে: “দুমাস ধরে আমাদের সাথে একত্রিত হওনি, আমাদের কর্তব্যের সমস্যার সমাধান করনি, তাতে আমাদের জীবনে প্রভাব পরেছে। ঈশ্বরের বাক্য বলে, যে নেতারা কর্মীদের কাজ বরাদ্দ করে আর খবর রাখে না, তারা ভণ্ড নেতা।” সিস্টারের কথা শুনে আমার মিশ্র অনুভূতি হয়: “আমি এই দুই মাসেও খবর নিয়েছি, তবে অনিয়মিত। তাছাড়াও, আমি অন্য কাজে ব্যস্ত ছিলাম। শুধু এই কারণে আমাকে ভণ্ড নেতা বলতে পার না! এভাবে বললে কীভাবে আশা করো তোমাদের কাজ দেখব? যদি আবার আমাকে ভুল করতে দেখ, আর আমাকে ভণ্ড নেতা বলে উপরের নেতাদের রিপোর্ট কর, আমি কি মর্যাদা হারাবো না? তোমাকে কোন ভাবেই ভবিষ্যতে কাজের তদারকি করতে দিতে পারি না।” তারপরই, মনে পড়ে কীভাবে চেন শিকে আক্রমণ করে বাদ দিয়েছিলাম, আর এখন ইয়ানি তার মত প্রকাশ করায় কাজের তত্ত্বাবধান করতে দিতে চাইছি না। এখনও কি ভিন্ন মতের লোকদের বাদ দিচ্ছি না? ঈশ্বরের বাক্যের একটি অনুচ্ছেদ মনে পরল। “যারা তোমাকে সত্য বলতে পারে, তোমাকে তাদের সাথেই ঘনিষ্ঠ হতে হবে। এই ধরনের মানুষকে তোমার পাশে পাওয়ার অনেক সুবিধা আছে, বিশেষত তাদের যারা তোমার মধ্যে সমস্যা লক্ষ্য করলে তোমার সমালোচনা করার ও তোমাকে অনাবৃত করার সাহস করে। এই ধরনের মানুষ তোমার পাশে থাকলে তা তোমাকে বিপথগামী হওয়া থেকে রক্ষা করে। যদি তারা জানতে পারে যে তুমি এমন কিছু করেছ যা সত্যের নীতি লঙ্ঘন করে, তাহলে তারা তোমার মর্যাদা নির্বিশেষে, প্রয়োজন অনুসারে তোমার সমালোচনা করবে, প্রয়োজন হলে তোমাকে অনাবৃতও করবে। ন্যায়ের বোধসম্পন্ন সৎ মানুষ এরকমই হয়। তারা যেভাবেই তোমার সমালোচনা করুক বা তোমাকে অনাবৃত করুক, এর সবই তোমাকে সাহায্য করতে পারে; এর সমস্তটাই তোমার জন্য তত্ত্বাবধান ও উপদেশ। তোমাকে অবশ্যই ধরনের মানুষের ঘনিষ্ঠ হতে হবে। এই ধরনের মানুষ তোমার পাশে সাহায্য করার জন্য থাকলে তুমি অনেকটাই নিরাপদ থাকবে। এটাই হল ঈশ্বরের সুরক্ষা(বাক্য, খণ্ড ৪, খ্রীষ্টবিরোধীদের উন্মোচন, চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তারা নিজেদের মহিমান্বিত হিসাবে তুলে ধরে এবং নিজেদের সাক্ষ্য নিজেরাই দেয়)। ঈশ্বরের বাক্য স্মরণ করে ধীরে ধীরে নিজেকে শান্ত করি। একটু রুঢ়ভাবে বললেও, ইয়ানি কিন্তু ঠিক কথাই বলেছে। সে সময় আমি তার অবস্থা বিবেচনা করে তার সমস্যার সমাধান করিনি। তাতে তার জীবন প্রভাবিত হয়। গির্জার নেত্রী হিসাবে আমার দায়িত্ব লোকদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত থাকা এবং শত ব্যস্ততা সত্বেও তাদের সমস্যার সমাধান করা। আমি তার জন্য কোন উদ্বেগ দেখাইনি, সে আমাকে পরামর্শ দিতে চাইলে, প্রতিশোধের বশে আক্রমণ করতে যাই, আমার সম্মানের কথা ভেবে। কী বিষাক্ত ছিলাম! মোকাবিলা করার সময় ইয়ানি আমার কাজের তত্ত্বাবধান ও সত্যের অনুশীলন করে। তাই তার বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিলে, তা হতো সত্যের বিরুদ্ধে গিয়ে মন্দ করা! বুঝতে পেরে, ঈশ্বরের সামনে প্রার্থনা করি: “হে ঈশ্বর, বুঝতে পেরেছি আমার মধ্যে মন্দ প্রকৃতি আছে। নিজের সুনাম রক্ষায় আমি ইয়ানিকে আক্রমণ করতে চেয়েছিলাম। এটা মানুষকে শাস্তি দেওয়া। হে ঈশ্বর, আমি আমার কলুষিত স্বভাব অনুসরণ করতে চাই না। আমি সত্য অনুশীলন করতে এবং ইয়ানির কথা শুনতে প্রস্তুত।” প্রার্থনার পরে, ইয়ানির কাছে আমার আচরণের জন্য ক্ষমা চাইতে যাই, আমাকে অবাক করে দিয়ে, সেই প্রথমে ক্ষমা চায়, বলে কলুষিত স্বভাবের বশে সে সীমা লংঘন করে এসব বলেছে। আমিও ক্ষমা চাই। বলি: “তুমিই ঠিক। আমি ঠিকমতো কাজ করিনি, আমার আত্মচিন্তন প্রয়োজন।” বুঝতে পারি, ব্রাদার-সিস্টাররা আমাকে অনাবৃত করেছে, দোষ ধরিয়ে দিয়েছে যাতে আমি বুঝতে পারি ব্যবহারিক কাজ করিনি, এবং তা ঈশ্বরের থেকে এসেছে। ঈশ্বর আমাকে রক্ষা করেছেন। ধন্যবাদ ঈশ্বর!

উপলব্ধি করি শয়তান কত গভীরভাবে আমাকে কলুষিত করেছিল যে সুনামের জন্য এত লালায়িত ছিলাম। নিজের সুনাম এবং পদ রক্ষায় আমি মানুষকে দমন ও পরিহার করেছি। এটি ছিল অবিশ্বাস্য রকম মন্দ। আরো বুঝলাম যে, পরিস্থিতি যাই হোক, আত্মচিন্তন করতে হবে, এবং কলুষিত স্বভাব সংশোধনে সত্যের অনুসন্ধান করতে হবে। তাহলেই কেবল ঈশ্বরের বিরোধিতা এড়াতে পারব। ধন্যবাদ ঈশ্বর!

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।

সম্পর্কিত তথ্য

একজন “ভালো নেতার” প্রতিফলন

ছোটবেলা থেকেই বাবা-মা সকলের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ, সহজগম্য এবং সহানুভূতিশীল থাকতে শিখিয়েছে। আশেপাশের মানুষের যদি সমস্যা বা ত্রুটি থাকত,...

Leave a Reply

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন