প্রতিকূলতার মাধ্যমে কৃত অর্জনসমূহ

18-02-2023

২০১৯ এর শেষের দিকে, এক আত্মীয় সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের অন্তিম সময়ের সুসমাচার আমাকে শোনাচ্ছিলেন। আমি দেখলাম যে সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কথার মধ্যে একটা কর্তৃত্ব ছিল আর কথাগুলো সব সত্যি। অনুভব করলাম যে এটা ঈশ্বরেরই কণ্ঠস্বর, আর তাই আমি খুশি হয়ে ঈশ্বরের নতুন কাজ গ্রহণ করলাম। আমি প্রতিদিন ঈশ্বরের বাক্য পড়তাম আর কোনো সমাবেশ বাদ দিতে চাইতাম না। আমি যেখানে ছিলাম, মাঝে মাঝে সেখানকার ইন্টারনেট বা বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে সমস্যা হত, তাই অনলাইন সমাবেশে যোগ দিতে পারতাম না। খুব মন খারাপ হত, কিন্তু সমাবেশ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে কী হল তা বিশদে পড়তাম, তারপর ঈশ্বরের বাণী সম্পর্কে আমার ধারণার কথা গ্রুপে পাঠাতাম, ভ্রাতা আর ভগিনীদের জানাতাম, আর আমার সাধ্যমত দায়িত্ব পালন করতাম।

কিছু সময় পরে, আমি গির্জার নেতা নির্বাচিত হলাম। প্রথমে, আমি গির্জার কাজের দায়িত্ব আরো দুই নেতার সাথে ভাগাভাগি করে পালন করতাম, তাই কাজ করা খুব একটা কঠিন বা চাপের মনে হয়নি। কিছুদিন আগে, আমাকে বেশ কয়েকটা গির্জার কাজ তদারকি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। শুরুতে আমি এই দায়িত্ব পালন করতে চাইনি। কারণ তখন মনে হয়েছিল যে দীর্ঘদিন ধরে আমার নেতা হিসাবে কাজ করার অভ্যাস নেই, তখনও আমার মধ্যে অনেক ত্রুটি ছিল, অনেক কিছুই বুঝতাম না, তাই খুব চিন্তিত ছিলাম যে আমি হয়তো এই দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করতে পারব না। পরে, ঈশ্বরের এই বাণী পড়লাম। “নোহ কেবল কয়েকটি বার্তাই শুনেছিল, আর সেই সময়ে ঈশ্বর প্রভূত পরিমাণে বাক্য প্রকাশ করেন নি, এবং নিঃসন্দেহেই নোহের পক্ষে অনেক সত্য উপলব্ধি করা সম্ভব ছিল না। আধুনিক বিজ্ঞান বা আধুনিক জ্ঞানের বিষয়ে তার বোধগম্যতা ছিল না। সে ছিল এক অতিসাধারণ মানুষ, মানবজাতির একজন নগণ্য সদস্য। তবুও এক দিক থেকে সে ছিল সকলের থেকে আলাদা: সে ঈশ্বরের বাক্য শুনতে জানত, তাঁর বাক্য কীভাবে অনুসরণ ও মান্য করতে হয় তা জানত, মানুষের অবস্থানের বিষয়ে যে জ্ঞাত ছিল, এবং সে প্রকৃতপক্ষেই ঈশ্বরের বাক্য বিশ্বাস এবং মান্য করতে সক্ষম ছিল—এর থেকে বেশি কিছুই না। এই কয়েকটা সাধারণ বৈশিষ্ট্যই নোহের দ্বারা তার উপর ঈশ্বরের অর্পিত সমস্ত দায়িত্ব সম্পন্ন করার পক্ষে যথেষ্ট ছিল, আর সে কয়েক মাস বা কয়েক বছর বা দশক নয়, বরং শততাধিক বৎসরকাল-ব্যাপী এই উদ্যমে ব্রতী ছিল। এই সংখ্যা কি বিস্ময়কর নয়? নোহ ছাড়া আর কে এমনটা করতে পারত? (কেউই না।) এবং কেন নয়? কেউ কেউ বলে যে সত্যের উপলব্ধি না থাকাটাই হল কারণ—কিন্তু বাস্তবে ব্যাপারটা তেমন নয়। নোহ কত পরিমাণ সত্য উপলব্ধি করতে পেরেছিল? নোহ এইসব বিষয়ে সক্ষম ছিল কেন? এখনকার বিশ্বাসীরা ঈশ্বরের অনেক বাক্য পড়েছে, তারা কিছুটা সত্য উপলব্ধি করেছে—তাহলে তারা এতে অক্ষম কেন? অন্যদের মতে মানুষের ভ্রষ্ট স্বভাবই হল এর কারণ—কিন্তু নোহের স্বভাবও কি ভ্রষ্ট ছিল না? নোহ যা অর্জন করতে পেরেছিল, বর্তমানের মানুষ তা করতে পারছে না কেন? (কারণ বর্তমানের মানুষ ঈশ্বরের বাক্যে বিশ্বাস করে না, তারা সেগুলিকে সত্য বলে গণ্য করে না বা মান্যও করে না।) এবং তারা ঈশ্বরের বাক্যকে সত্য বলে মানতে অক্ষম কেন? কেন তারা ঈশ্বরের বাক্য মেনে চলতে অক্ষম? (তাদের কোনো ঈশ্বরভীতি নেই বলে।) তাহলে মানুষ যখন সত্যকে বোঝে নি, অনেক সত্য শোনেনি, তখন ঈশ্বরের ভয় কীভাবে এসেছিল? মানুষের মানবিকতার মধ্যে সর্বাধিক মূল্যবান দুটি বিষয় অবশ্যই উপস্থিত থাকতে হবে: প্রথমটি হল বিবেক, এবং দ্বিতীয়টি হল স্বাভাবিক মানবিকতার বোধ। বিবেক এবং স্বাভাবিক মানবিকতাবোধই মানুষ হওয়ার ন্যূনতম মান; এটিই কাউকে পরিমাপ করার ন্যূনতম, মৌলিকতম মান। কিন্তু আজকের মানুষের মধ্যে তা অনুপস্থিত, এবং সেহেতু, তারা যতই সত্য শুনুক বা উপলব্ধি করুক, ঈশ্বরভীতি তাদের অনায়ত্ত। তাহলে আজকের মানুষের ও নোহের মধ্যে সারসত্যগত পার্থক্য কী? (তাদের মানবিকতা নেই।) এবং মানবিকতার এই অভাবের সারমর্মটি কী? (তা হল পশু এবং অপদেবতার সারমর্ম।) ‘পশু এবং অপদেবতা’ শুনতে খারাপ লাগলেও, এমনটাই বাস্তবিক; আরো মার্জিত ভাবে বলা যেতে পারে যে, তারা মানবিকতাশূন্য। মানবিকতা এবং চেতনাশূন্য লোকেরা মানুষ নয়, এমনকি তারা পশুরও অধম। নোহ ঈশ্বরের অর্পিত দায়িত্ব পালনে সক্ষম হয়েছিল কারণ ঈশ্বরের বাক্য শোনার পরে সে সেগুলি স্মরণে রেখেছিল, ঈশ্বরের অর্পিত দায়িত্ব পালন ছিল তার আজীবনের উদ্যোগ, তার বিশ্বাস ছিল অটল, একশত বছরকাল ধরে তার ইচ্ছাশক্তি ছিল অটুট। কারণ তার অন্তরে ঈশ্বরভীতি ছিল, সে ছিল একজন বাস্তবিক মানুষ, এবং তার মধ্যে এই পরম চেতনা ছিল যে ঈশ্বর তার উপর জাহাজ নির্মাণের দায়িত্বটি অর্পণ করেছেন। নোহের সমতুল্য চেতনার অধিকারী মানুষ খুব বিরল, এমন আর একজনকেও খুঁজে বার করা কঠিন(বাক্য, খণ্ড ৪, খ্রীষ্টবিরোধীদের উন্মোচন, পরিশিষ্ট দুই: কীভাবে নোহ এবং অব্রাম ঈশ্বরের বাক্য শ্রবণ করল এবং তাঁকে মান্য করল (প্রথম অংশ))। নোহ কখনও কোন গভীর বার্তা শোনেননি আর অনেক সত্যই বুঝতে পারেননি, কিন্তু মনে মনে তিনি ঈশ্বরকে ভয় আর মান্য করতেন। যখন ঈশ্বর নোহকে বলেছিলেন যে তিনি বন্যা এনে মানবতাকে নিশ্চিহ্ন করতে চলেছেন আর নোহকে নৌকা তৈরি করতে হবে, তখন নোহ নির্দ্বিধায় তা মেনে নিলেন। নোহ জানতেন যে ঈশ্বর তাকে যে আদেশ দিয়েছিলেন তা সহজ ছিল না, যেমন নৌকা তৈরি করতে গেলে গাছ কাটতে হবে, পরিমাপ সুনির্দিষ্ট করতে হবে, যদিও কাজটা বিশাল আর কঠিন ছিল, নোহ কিন্তু পিছপা হননি, কারণ তিনি জানতেন যে এটাই তার জন্য ঈশ্বরের আদেশ। ঈশ্বরের বাণী নিয়ে চিন্তা করার পর, আমি বুঝতে পারলাম যে আমার মধ্যে নোহের মত মানবিকতা বা মানবিক বোধ ছিল না। যখন সেই নেতা আমাকে বেশ কয়েকটা চার্চের কাজের দায়িত্বে নিযুক্ত করেছিলেন, তখন আমার ঈশ্বরের উপর বিশ্বাস ছিল না, শুধু নিজের ক্ষমতার উপর নির্ভর করে ছিলাম। মনে হয়েছিল আমার কাজের ক্ষমতা সীমিত, দীর্ঘদিন গির্জার নেতা হিসাবে কাজ করার অভ্যাস নেই, এছাড়া আমার আরো অনেক ত্রুটি ছিল। তখন ভাবছিলাম যে আমি হয়তো ভালোভাবে কাজটা করতে পারব না, তাই এই দায়িত্ব নিতে রাজি ছিলাম না। আমার ঈশ্বরের উপর নোহের মত বিশ্বাস ছিল না, এমনকি ঈশ্বরকে ভয়ও করতাম না আর তাঁকে মান্যও করতাম না, নোহের মত মানবিকতা বা মানবিক বোধ থাকা তো দূরের কথা। এটা বোঝার পর আমার আর কোনো চিন্তা রইল না, যেভাবে নোহ তাঁর দায়িত্ব পালন করতে চেয়েছিলেন সেভাবে আমিও এই দায়িত্ব মানতে আর পালন করতে চেয়েছিলাম।

তবে আমি কাজ শুরু করার পরে একটা নতুন সমস্যার সম্মুখীন হলাম। জানতে পারলাম যে আমাকে অনেক কাজ করতে হবে। যেমন, আমাকে গির্জার মধ্যে ভ্রাতা আর ভগিনীদের অবস্থা বুঝতে হত, যারা সাধারণভাবে সমাবেশে আসত না তাদেরকে বোঝাতে হত, যাদের দায়িত্ব পালন করতে অসুবিধা হত তাদের অসুবিধার কথা জেনে তা সমাধানের জন্য আলোচনা করতে হত, আর লোকেদের কীভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করতে হয় তা শিখতে সাহায্য করতে হত, এইসব। এই দায়িত্বগুলো আমাকে পালন করতে হত। এইসব সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার পর, কোথা থেকে শুরু করব তাই ঠিক করতে পারছিলাম না, বুঝতে পারছিলাম না কীভাবে এই কাজ ভালভাবে করতে হয়, আর অত্যন্ত চাপে ছিলাম। এইসব অসুবিধায় পড়ে আমি নেতিবাচক হয়ে গিয়েছিলাম, শুধু ভাবতাম নেতাকে জানাই যে আমার নিজেকে এই দায়িত্বের উপযুক্ত মনে হচ্ছে না, কারণ আমার কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না আর আমার এটা নিয়ে অনেক অসুবিধা হচ্ছিল। পরে সেই নেতা আমার অবস্থার কথা জানতে পারেন আর আমাকে সাহায্য করার জন্য ঈশ্বরের বাণীর একটা অনুচ্ছেদ পাঠান। আমি ঈশ্বরের সেই বাণী পড়ি। “যখন ঈশ্বর মোশিকে ইসরায়েলীদের মিশর থেকে নির্গমনের নেতৃত্বদানের দায়িত্ব দিয়ে পাঠিয়েছিলেন, তখন মোশির ঈশ্বরের প্রতি তাঁর দ্বারা অর্পিত এহেন দায়িত্বের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া কী ছিল? (সে বলেছিল যে সে সুবক্তা নয়, বরং তার কথাবার্তা ধীর ও জড়তাসম্পন্ন।) সুবক্তা না হওয়া, কথাবার্তা ধীর এবং জড়তাসম্পন্ন হওয়া নিয়ে তার মধ্যে সামান্য দ্বিধা ছিল। কিন্তু সে কি ঈশ্বরের অর্পিত দায়িত্বের প্রতিরোধ করেছিল? সেই বিষয়ে তার আচরণ কী ছিল? সে সাষ্টাঙ্গে লুটিয়ে পড়েছিল। সাষ্টাঙ্গে লুটিয়ে পড়ার অর্থ কী? এর অর্থ সমর্পণ করা এবং গ্রহণ করা। সে নিজস্ব পছন্দের প্রতি দৃষ্টিপাত না করেই নিজের সম্পূর্ণ সত্তা ঈশ্বরের সামনে প্রণীত করেছিল এবং নিজস্ব কোনো অসুবিধার কথা সে উল্লেখ করেনি। ঈশ্বর তাকে যা করতে বলতেন, সে তৎক্ষণাৎ তা-ই করত। তার পক্ষে কিছু করা সম্ভব নয় জেনেও সে কেন ঈশ্বরের দায়িত্ব গ্রহণে সক্ষম হয়েছিল? কারণ তার অন্তরে প্রকৃত বিশ্বাস ছিল। সমস্ত বস্তু এবং বিষয়ের উপর ঈশ্বরের সার্বভৌমত্বের বিষয়ে সে কিছুটা অভিজ্ঞতা লাভ করেছিল, এবং তার চল্লিশ বছরের অভিজ্ঞতায় সে জেনেছিল যে, ঈশ্বরের সার্বভৌমত্ব সর্বশক্তিমান। তাই, সে তৎপরতা সহযোগে ঈশ্বরের অর্পিত দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল, এবং এই বিষয়ে দ্বিরুক্তিমাত্র না করে সেই দায়িত্ব পালনের যাত্রাপথে সে চলা শুরু করেছিল। যাত্রাপথে চলা শুরু করেছিল বলতে এখানে কী বোঝানো হচ্ছে? এর মানে হল সে ঈশ্বরে প্রকৃত বিশ্বাস করত, প্রকৃত অর্থেই তাঁর ওপর নির্ভর করত, তাঁর প্রতি প্রকৃতপক্ষেই সমর্পিত ছিল। সে কাপুরুষ ছিল না, সে নিজের পছন্দ জানায় নি, বা তার দায়িত্ব প্রত্যাখ্যানও করে নি; পরিবর্তে, তার অন্তরে সম্পূর্ণ বিশ্বাস ছিল, এবং সে তার ওপরে ঈশ্বরের অর্পিত দায়িত্ব পালনের জন্য বিশ্বাসপূর্ণ ভাবে যাত্রাপথে চলা শুরু করেছিল। তার বিশ্বাস ছিল, ‘যদি এটাই ঈশ্বরের অর্পিত দায়িত্ব হয়, তাহলে তা সম্পূর্ণই তাঁর বাক্য অনুসারেই হবে। ঈশ্বর আমাকে বলেছেন ইসরায়েলীদের মিশর থেকে নিষ্ক্রান্ত করতে, তাই আমি যাবো। যেহেতু এটা ঈশ্বরের অর্পিত দায়িত্ব হওয়ার কারণে, তিনি কাজে যাবেন এবং তিনিই আমায় শক্তি যোগাবেন। আমাকে শুধু সহযোগিতা করতে হবে’। মোশির অন্তর্দৃষ্টি এমনই ছিল। … সেই সময়কার পরিস্থিতি ইসরায়েলী বা মোশির পক্ষে প্রীতিকর ছিল না। ইসরায়েলীদের মিশর থেকে নিষ্ক্রান্ত করার বিষয়টি একজন মানুষের নজরে নিছকই এক অসম্ভব ব্যাপার ছিল, কারণ মিশর লোহিত সাগর দিয়ে বিচ্ছিন্ন ছিল আর তা লঙ্ঘন ছিল আরো এক দুঃসাধ্য বিষয়। মোশি কি সত্যিই জানত না যে, এই দায়িত্ব পালন করা কতখানি কঠিন? অন্তঃকরণে সে তা জানত, তবু সে কেবল মৌখিকভাবে উল্লেখ করল যে তার বাচন ধীর ও জড়তাসম্পন্ন বলে কেউই তার কথায় কর্ণপাত করবে না। সে নিজের অন্তর থেকে ঈশ্বরের অর্পিত দায়িত্ব প্রত্যাখ্যান করে নি। যখন ঈশ্বর মোশিকে ইসরায়েলীদের মিশর থেকে নির্গমনে নেতৃত্বদানের দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন, সে তা সাষ্টাঙ্গ হয়ে গ্রহণ করেছিল। সে সমস্যার বিষয়গুলি উল্লেখ করে নি কেন? তার কারণ কি চল্লিশটি বছর বিজনপ্রদেশে অতিবাহিত করার পর, সে মনুষ্যজগতের বিপদ, বা মিশরের অবস্থা কতখানি ভয়াবহ, বা ইসরায়েলীদের বর্তমান দুর্দশা সম্পর্কে অজ্ঞ ছিল? সে কি সেসব স্পষ্টভাবে দেখতে পায়নি? বস্তুতই কি সে তা পায়নি? বিষয়টি অবশ্যই তেমন নয়। মোশি ছিল বুদ্ধিমান এবং জ্ঞানী। সে এই সমস্ত বিষয়ে অবগত ছিল, মনুষ্যজগতে সেগুলি সে প্রত্যক্ষ করেছিল, সহ্য ও অনুভব করেছিল, এবং সেগুলি কখনোই তার পক্ষে ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়। সেই সকল বিষয় সে ছিল সম্যক ওয়াকিবহাল। তাহলে, ঈশ্বরের অর্পিত সেই দায়িত্বটি কতটা কঠিন ছিল, তা কি সে জানত? (হ্যাঁ।) যদি জানত, তাহলে সে কীভাবে সেই দায়িত্ব গ্রহণ করতে পেরেছিল? তার বিশ্বাস ছিল। জীবনভর অভিজ্ঞতার মাধ্যমে, সে ঈশ্বরের সর্বশক্তিমানতায় বিশ্বাস করেছিল, তাই সে পূর্ণবিশ্বাসী ও নিঃসন্দিগ্ধ অন্তঃকরণে ঈশ্বরের অর্পিত এই দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল। … আমাকে বলো, বিজনপ্রদেশে অতিবাহিত চল্লিশ বছর সময়কালে, মোশি কি অনুভব করতে পেরেছিল, যে, ঈশ্বরের কাছে কিছুই কঠিন নয়, যে, মানুষেরা ঈশ্বরেরই করতলে রয়েছে? একেবারেই তাই—এটাই ছিল তার প্রকৃততম অভিজ্ঞতা। চল্লিশ বছর বিজনপ্রদেশে অতিবাহিত করাকালীন, সে বহু মারাত্মক বিপদের সম্মুখীন হয়েছিল, এবং সেগুলি থেকে বাঁচবে কিনা সে বিষয়েই সন্দিহান ছিল। নিয়ত সে জীবনসংগ্রাম করত এবং সুরক্ষার জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করত। সেটাই ছিল তার একমাত্র ইচ্ছা। সেই চল্লিশ বছরে, সে সবচেয়ে গভীরভাবে যে বিষয়ে অভিজ্ঞতা লাভ করেছিল তা হল ঈশ্বরের সার্বভৌমত্ব এবং সুরক্ষা। পরবর্তীকালে, ঈশ্বরের অর্পিত দায়িত্ব গ্রহণ করার সময়ে, তার প্রথম অনুভূতি নিশ্চয়ই এরকমই ছিল: ঈশ্বরের পক্ষে কিছুই কঠিন নয়, যদি ঈশ্বর বলেন যে এটা করা সম্ভব, তাহলে তা নিশ্চিতভাবেই সম্ভব; ঈশ্বর আমার উপর এই দায়িত্ব অর্পণ করেছেন, তাই তিনি এই বিষয়ে অবশ্যই নজর দেবেন—এই কর্ম কোনো মানুষ নয়, বরং তিনিই করবেন। কোনো বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করার আগে, মানুষকে পূর্বপরিকল্পনা এবং পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করতেই হবে। তাকে অবশ্যই প্রাথমিক বিষয়গুলির নিরসন করতে হবে। ঈশ্বরকেও কি কোনো কাজ করার আগে এসব করতে হয়? তাঁর এসব করার কোনো কোনো প্রয়োজন নেই। প্রতিটি সৃষ্ট সত্তা, তা যতই প্রভাবশালী হোক, যতই সক্ষম বা শক্তিশালী হোক, যতই উন্মত্ত হোক না কেন, ঈশ্বরের করতলেই থাকে। মোশির বিশ্বাস ছিল, জ্ঞান ছিল এবং এই বিষয়ে অভিজ্ঞতা ছিল, তাই তার হৃদয়ে কোনো সন্দেহ বা ভয়ের লেশমাত্র ছিল না। সেই হিসাবে, ঈশ্বরের প্রতি তার বিশ্বাস ছিল বিশেষভাবে সত্য এবং বিশুদ্ধ। বলা যেতে পারে যে, সে ছিল বিশ্বাসে পরিপূর্ণ(বাক্য, খণ্ড ৩, অন্তিম সময়ের খ্রীষ্টের উপদেশ, কেবলমাত্র প্রকৃত আনুগত্যের মাধ্যমেই বিশুদ্ধ বিশ্বাস প্রাপ্ত হওয়া যায়)। ঈশ্বরের বাণী পড়ে বুঝতে পারলাম যে আমি কাপুরুষ ছিলাম, ঈশ্বরের উপর ভরসা আর বিশ্বাস রাখিনি। ঈশ্বর মোশিকে মিশর থেকে ইসরায়েলীদের নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন যাতে তারা দাসত্ব থেকে মুক্তি পায়। ফারাও-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার মত কোনো সেনাবাহিনী মোশির ছিল না, আর এই আদেশ পালন করা খুব কঠিন ছিল, কিন্তু মোশি ঈশ্বরের বাণী মানতে পেরেছিলেন, তিনি বিশ্বাস করেছিলেন যে ঈশ্বর ব্যক্তিগতভাবে তাঁর লোকেদের মিশর থেকে বের করে নিয়ে যাবেন। আবার নিজের কথা ভাবলাম, এত কাজ দেখে আমি পিছিয়ে গিয়েছিলাম, আর তাই এই দায়িত্ব থেকে দূরে সরে যেতে চেয়েছিলাম কারণ আমার মনে হয়েছিল যেন অনেক চাপে ছিলাম, মনে হয়েছিল এই দায়িত্ব যেন আমার উপর বোঝা, আর সেটা পালন করতে পারব না। আমি ঈশ্বরের উপর ভরসা আর ঈশ্বরে বিশ্বাস কোনোটাই করিনি। শুধু নিজের সীমিত ক্ষমতার ভরসায় ছিলাম। ভেবেছিলাম আমি যে কাজ করতে পারি সেটা আমার দক্ষতা আর অভিজ্ঞতার সাথে সম্পর্কিত। তখন বিশ্বাস করিনি যে কাজটা ঈশ্বরই করেন আর আমরা শুধু সহায়ক ভূমিকা পালন করি। আমি সত্যিই অহংকারী ছিলাম। ঈশ্বরের অনুমতিতেই আমি সেই দায়িত্ব পালন করতে পেরেছিলাম। সবকিছুই ঈশ্বরের নিয়ন্ত্রিত আর তাঁরই ব্যবস্থা। তাঁর কাজে সহযোগিতা করার জন্য আমাকে কার্যত বিশ্বাস রাখতে হবে। এখন থেকে, আমি আর এই দায়িত্ব প্রত্যাখ্যান করতে পারি না। আমার বিশ্বাস ছিল যে যতক্ষণ আমি ঈশ্বরের উপর নির্ভরশীল এবং তাঁর মুখাপেক্ষী থাকবো, তিনি আমার পথ দেখাবেন এবং সহায় হবেন, এমনকি যদি বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হই, তাহলেও ঈশ্বর সবসময় আমাকে পথ দেখাবেন। এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমার বিশ্বাসের অভাব উন্মোচিত হয়েছিল, এবং এই দায়িত্বপালন আমার ঘাটতিগুলি মিটিয়ে দিয়েছিল, যার ফলে আমি আরও পরিস্থিতিসমূহের মধ্যে দিয়ে যেতে এবং সত্য উপলব্ধি করতে পেরেছিলাম।

ভেনেজুয়েলায়, জল, কারেন্ট, ইন্টারনেট আর অর্থনৈতিক সমস্যা আছে, আর কখনও কখনও আমাদের পরিবারের দেখাশোনা করতে, আমাদের স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। আমি আর আমার বাবা প্রতিদিন ভোর ৩টের সময় মাছ ধরতে যেতাম। আর আমরা বিকেল তিনটে-চারটের আগে ফিরতাম না। সারাদিন সাগরে ভাসতে ভাসতে খুব ক্লান্ত লাগত, কিন্তু বাড়ি ফেরার পর আমি বিশ্রাম নিতে চাইতাম না, কারণ তখনও কর্তব্যের অনেক কিছুই বাকী থাকত, পড়াশোনা করতে, সবকিছু ভালভাবে জানতে, আর আমার ত্রুটিগুলো শোধরাতে আরও বেশি সময় দরকার ছিল, যাতে আমার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারি। যদি আমার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করি, তাহলে ঈশ্বরের কাছে ছোটো হয়ে যাব। আমি অনুগ্রহের যুগের মহাত্মাদের কথা ভাবছিলাম। তাঁরা প্রভু যীশুকে অনুসরণ করেছিলেন, সুসমাচার প্রচার করেছিলেন, তাঁদের দায়িত্ব পালন করেছিলেন, অনেক অসুবিধা আর বিপদের সম্মুখীন হয়েছিলেন, আর অনেক কষ্টও পেয়েছিলেন। তার সঙ্গে আমার সামান্য কষ্টকে তুলনা করি কীভাবে? তাই, আমি প্রতিদিন বাড়ি ফেরার পরেই সবার আগে ফোনটা হাতে তুলে নিতাম, কী কী কাজ আর অ্যাসাইনমেন্ট থাকত সেসব দেখতাম। তাছাড়া আমাকে ভ্রাতা আর ভগিনীদের বার্তা পাঠাতে হত, তাদের কোনো অসুবিধা হচ্ছে কিনা জানতে হত। যদি এমন কেউ থাকে যে কীভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করতে হয় জানে না, তাহলে আমি তাদের সাহায্য করতাম আর আমার দায়িত্বপালনের সময় যা শিখেছি সেসব তাদের বলতাম। আমার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ঈশ্বরের উপর নির্ভর করতে শিখেছিলাম, যখন আমার ভ্রাতা আর ভগিনীরা অসুবিধায় পড়ত, তখন আমি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতাম যেন তিনি আমাকে পথ দেখান, আর ঈশ্বরের বাণীকে পাথেয় করে আমি যেন তাদের সাহায্য করতে পারি। তাদের সাথে আলাপচারিতার সময় ঈশ্বরের বাণীর পাশাপাশি আমার অভিজ্ঞতা, আর যেটুকু বুঝি সেসব নিয়ে আলোচনা করার পরে, তাদের অবস্থা কিছুটা ভাল হত। ভ্রাতা আর ভগিনীদের সাহায্য করার সময় আমিও শিখতাম, এভাবে সত্য সম্পর্কে আমার জানার পরিধি আগের চেয়ে আরও স্পষ্ট হয়েছিল। এসবের মধ্য দিয়ে যেতে যেতে, আমি দেখেছি যে যতই অসুবিধা হোক না কেন, যতক্ষণ আমরা ঈশ্বরের উপর প্রকৃতপক্ষেই নির্ভরশীল থাকছি, ততক্ষণ ঈশ্বর সর্বদা আমাদের পথ দেখাবেন। যদিও প্রতিদিনই অসুবিধা হত, তবে আমি প্রথমে যতটা দুর্বল ছিলাম, ততটা দুর্বল আর ছিলাম না। কিন্তু অচিরেই আরেকটা বড় সমস্যায় পড়েছিলাম।

আমি যেখানে ছিলাম সেখানে ইন্টারনেট ভালো ছিল না বলে, আমার ভ্রাতা আর ভগিনীদের সাথে নিয়মিত সমাবেশে যোগ দেওয়ার বা যোগাযোগ করার কোনো উপায় ছিল না, আর আমার দায়িত্ব পালন করারও কোনো উপায় ছিল না। আমি জানতাম যে এই সমস্যা আমার হাতের বাইরে ছিল, তাই অনেকক্ষণ ধরে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করলাম, তাঁকে এই অবস্থায় আমাকে পথ দেখতে বললাম। প্রার্থনা করার পর, ধীরে ধীরে শান্ত হলাম। তারপর ঈশ্বরের সেই বাণী পড়লাম: “যখন তুমি হীনতম অবস্থায় থাকো, যখন ঈশ্বরকে সবচেয়ে কম অনুভব করতে পারো, যখন সর্বাপেক্ষা যন্ত্রণাকাতর এবং একাকী অনুভব করো, যখন মনে করো ঈশ্বরের থেকে তুমি বহু দূরে—তখন তোমার আবশ্যিকভাবে কোন কাজটি করতেই হবে? তা হল ঈশ্বরকে ডাকা। ঈশ্বরকে ডাকালে তুমি শক্তিশালী হয়ে ওঠো; ঈশ্বরকে ডাকলে, তুমি অনুভব করতে পারো যে তিনি বিদ্যমান; ঈশ্বরকে ডাকলে, তাঁর নিয়ন্ত্রণ অনুভব করতে পারো; যখন তুমি ঈশ্বরকে আহ্বান, তাঁর নিকটে প্রার্থনা এবং তাঁর হস্তেই নিজের জীবন সমর্পণ করো, তখনই তুমি তোমার পাশে তাঁর উপস্থিতি অনুভব করো, অনুভব করো যে তিনি তোমায় পরিত্যাগ করেন নি। যখন তুমি উপলব্ধি করবে যে তিনি তোমাকে পরিত্যাগ করেন নি, যখন সত্যিই অনুভব করবে যে ঈশ্বর তোমার পাশেই রয়েছেন, তখন তোমার বিশ্বাস কেমন হবে? তা কি সময়ের সাথে সাথে লুপ্ত হয়ে যাবে? না, হবে না(বাক্য, খণ্ড ৩, অন্তিম সময়ের খ্রীষ্টের উপদেশ, কেবলমাত্র প্রকৃত আনুগত্যের মাধ্যমেই বিশুদ্ধ বিশ্বাস প্রাপ্ত হওয়া যায়)। যখন আপনি অসুবিধার সম্মুখীন হন, তখন আপনার মনপ্রাণ দিয়ে ঈশ্বরকে ডাকুন, দেখবেন আপনার মধ্যে বিশ্বাস আর শক্তি থাকবে। মানুষের ক্ষমতা সীমিত। নিজেদের দৃষ্টির অগোচর কোনো জিনিস দেখার কোনো উপায় আমাদের নেই, তাই আমরা সবসময় আমাদের চোখের সামনে যে অসুবিধাগুলো দেখি সেগুলোকে ভয় করি। ঈশ্বরই সকল বস্তুর শাসনকর্তা, আর যতক্ষণ আমরা আন্তরিকভাবে ঈশ্বরের উপর নির্ভর করে থাকি, ততক্ষণ ঈশ্বর আমাদের পথ দেখান আর আমাদের দায়িত্বপালনে সাহায্য করেন। ঈশ্বরের বাণী আমাকে বিশ্বাস আর শক্তি দিয়েছিল। অসংখ্য প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের দায়িত্বপালনে বিফল হইনি। এই অসুবিধাগুলো কাটিয়ে উঠতে আমাকে প্রার্থনা করতে আর ঈশ্বরের উপর নির্ভর করতে হয়েছিল, আমায় দায়িত্বপালনে আরও কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছিল। তাই আরও ভালো ইন্টারনেট সংযোগের খোঁজে রাস্তায় বের হতে লাগলাম যাতে স্বাভাবিকভাবে সমাবেশে যোগ দিতে পারি। মাঝে মাঝে যখন কোনো সমাবেশের আয়োজন করতাম, তখন রাত ৮টার দিকে রাস্তায় বের হতাম, আর সমাবেশ শেষ হলে তবেই সাড়ে দশটা বা এগারোটার সময় বাড়ি ফিরতাম। বাড়ি ফেরার পথে খুব ভয় করত কারণ আমি মার্গারিটার একটা বিপজ্জনক এলাকায় থাকতাম, আর আমার ভয় হত যে, কেউ আমার ফোন চুরি করে নেবে, সেক্ষেত্রে আমি সমাবেশে যেতে বা নিজের দায়িত্ব পালন করতে পারব না। আমি প্রায়ই ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতাম, যাতে এসব অসুবিধা জয় করতে পারি। কিছুদিন আগে একটা মেসেজ পেলাম। এক ভ্রাতা আমার অবস্থা সম্পর্কে জানতে পেরে, আমাকে মেসেজ পাঠিয়েছিলেন: “ভ্রাতা, আমি জানি আপনি এখন কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, আর আপনি আপনার দায়িত্ব পালন করার জন্য গভীর রাতে রাস্তায় বের হন। এটা অত্যন্ত বিপজ্জনক। আমার একটা বাইক আছে, আপনার যখন প্রয়োজন হবে তখন আমি এটা আপনাকে দিতে পারি। তাহলে আপনার পক্ষে যাতায়াত করা সহজ হবে।” আমি এইসব অসুবিধার মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় অনেক কিছু শিখেছি, আর ঈশ্বরের উপর নির্ভর করতেও শিখেছি। বুঝেছি যে ঈশ্বরই সব কিছুর উপর সার্বভৌম, আর ঈশ্বরই প্রত্যেকের জন্য নানা পরিস্থিতি তৈরি করেন। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, আমি সত্যিই ঈশ্বরের কাজ দেখেছি, ঈশ্বরের প্রতি আমার বিশ্বাস এখন আরো শক্তিশালী হয়েছে। অন্যরা যখন আমার মতো সমস্যার সম্মুখীন হয়, তখন আমি তাদেরকে ঈশ্বরের বাণীর কথা বলি, তাদের সাহায্য করার জন্য নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলি আর তাদের ঈশ্বরে বিশ্বাস করাই।

প্রতিদিন মাছ ধরে বাড়ি ফেরার পর আমি বাড়িতেই থাকতাম আর ঈশ্বরের বাণী পড়তাম, আর যখন সমাবেশের সময় হত, তখন ভালো ইন্টারনেট আছে এমন জায়গার খোঁজে রাস্তায় বাইক নিয়ে ঘুরতাম। যতবার ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতাম, ততবার বলতাম যাতে আমার দায়িত্ব কীভাবে আরও ভালো করে পালন করতে পারি তিনি যেন আমাকে সেই পথ দেখান। আমি আর আমার কঠিন পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তা করতাম না। শুধু ঈশ্বরের ইচ্ছা আর চাওয়াকে সামনে রেখে আমার দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করতে চাইতাম। এমনকি যদি আমাকে আরও সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়, তবুও আমি ঈশ্বরের সার্বভৌমত্ব আর আয়োজন মানতে ইচ্ছুক ছিলাম, ঈশ্বর আমার জন্য যে পরিবেশের আয়োজন করেছিলেন তা অনুভব করতে আর ঈশ্বরের মনকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করতে ইচ্ছুক ছিলাম। কয়েকদিন পর, ভ্রাতা আর ভগিনীরা আমাকে একটা উপযুক্ত বাড়ি খুঁজে পেতে সাহায্য করেছিলেন, যেখানে তুলনামূলকভাবে ভালো ইন্টারনেট ছিল। আমি সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞ ছিলাম কারণ এখানে আমার দায়িত্ব আরও ভালোভাবে পালন করতে পারতাম, আর ঈশ্বরের মার্গদর্শনে আমার দায়িত্ব আগের থেকেও ভালোভাবে পালন করছিলাম। কয়েকদিন আগে আমার নেতা আমাকে আবারও বললেন যে আমাকে আরও বেশি কাজের দায়িত্ব দেওয়া হবে, আমার বোঝা আরও বাড়বে, আর আমাকে আরও বেশি কাজ, আরও বেশি ভ্রাতা আর ভগিনীদের দেখতে হবে। কিন্তু আমার আর কোনো চিন্তা বা অভিযোগ নেই। যতক্ষণ আমি ঈশ্বরের উপর ভরসা রাখি আর নির্ভর করি, ততক্ষণ ঈশ্বর আমাকে পথ দেখাবেন আর আমার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে সাহায্য করবেন।

ঈশ্বর বলেন, “তুমি ঈশ্বরের ইচ্ছার দিকে যত বেশি মনোযোগ দেবে, তত গুরুতর হবে তোমার দায়ভার, এবং তুমি যত বেশি বোঝা বহন করবে, তোমার অভিজ্ঞতা তত বেশি সমৃদ্ধ হবে। তুমি যখন ঈশ্বরের ইচ্ছার প্রতি মনোযোগী হবে, তখন ঈশ্বর তোমার উপর বোঝা চাপিয়ে দেবেন এবং তারপর তিনি যে সকল কাজ তোমার উপর অর্পণ করেছেন সেই সকল কাজ সম্পর্কে তোমাকে আলোকিত করবেন। যখন ঈশ্বর তোমাকে এই বোঝা দেন, তখন তুমি ঈশ্বরের বাক্য ভোজন ও পান করার সময় প্রাসঙ্গিক সমস্ত সত্যের দিকে মনোযোগ দেবে। যদি তোমার ভাই-বোনদের জীবনের অবস্থা সম্পর্কিত কোন ভার তোমার উপর থাকে, তবে এই ভারটিই ঈশ্বর তোমার উপর অর্পণ করেছেন, যেন তুমি তোমার প্রতিদিনের প্রার্থনায় এই বোঝা সবসময় তোমার সাথে বহন কর। ঈশ্বর যা কিছু করেন, তা তোমার উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তুমি তা-ই করতে ইচ্ছুক, যা ঈশ্বর করতে চান। ঈশ্বরের ভারকে নিজের মনে করে গ্রহণের অর্থ(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, নিখুঁত হওয়ার জন্য ঈশ্বরের ইচ্ছা সম্পর্কে সচেতন হও)। “অনেক ক্ষেত্রেই, ঈশ্বরের পরীক্ষাগুলি হল মানুষের উপর তাঁর অর্পিত দায়িত্ব। ঈশ্বর তোমার উপর যত বড় দায়িত্বই অর্পণ করুন না কেন, সেই গুরুভার তোমার বহন করা উচিত, কারণ ঈশ্বর তোমাকে বোঝেন এবং জানেন তুমি তা বহনে সক্ষম। ঈশ্বর তোমার উপর যে দায়িত্ব অর্পণ করেন তা তোমার আধ্যাত্মিক উচ্চতা বা ভারবহনের ক্ষমতাসীমা অতিক্রম করে না, তাই তুমি যে তা বহন করতে পারবে, তা একেবারেই প্রশ্নাতীত। ঈশ্বর তোমার উপর যে প্রকারেরই দায়িত্ব অর্পণ করুন বা যেমন পরীক্ষাই নিন না কেন, একটা বিষয় মনে রাখবে: তুমি ঈশ্বরের ইচ্ছা উপলব্ধি করতে পারো কিনা, প্রার্থনার পরে তুমি পবিত্র আত্মার দ্বারা আলোকিত ও প্রদীপ্ত হতে পেরেছ কিনা, ঈশ্বর এই পরীক্ষার মাধ্যমে তোমাকে অনুশাসিত বা সতর্ক করছেন কিনা—তোমার উপলব্ধি না থাকলে এই সব বিষয় অর্থহীন। যতক্ষণ তুমি অবিলম্বে, বিশ্বস্তভাবে নিজ দায়িত্ব পালন করতে পারবে, ততক্ষণ ঈশ্বরের ইচ্ছা সন্তুষ্ট হবে, এবং তুমিও তোমার সাক্ষ্যে অবিচল থাকতে পারবে(বাক্য, খণ্ড ৩, অন্তিম সময়ের খ্রীষ্টের উপদেশ, কেবলমাত্র ঈশ্বরের বাক্যের বারংবার পাঠ ও সত্যের ধ্যানের মধ্যেই রয়েছে অগ্রগতির পথ)। ঈশ্বরের বাণী পড়ে আমি বুঝতে পারলাম যে ঈশ্বর আমাদের উপর এমন বোঝা চাপাবেন না যা আমরা বইতে পারব না, ঈশ্বর জানেন আমাদের ক্ষমতা কতটা আর আমরা কী করতে পারি। আমরা যত বেশি ঈশ্বরের ইচ্ছা পালনে ইচ্ছুক হই আর আমাদের দায়িত্বের বোঝা যত বেশি হয়, আমাদের অভিজ্ঞতা তত সমৃদ্ধ হয়, আর ঈশ্বর সম্পর্কে আমাদের বোধও তত গভীর হয়। আমাকে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতে হবে যাতে আন্তরিক আর অনুগত হয়ে এই বোঝা গ্রহণ করা যায়, যাতে নানান অসুবিধার মাঝে সত্যের খোঁজ, আর সব কিছুর পিছনে তাঁর ইচ্ছার সন্ধান করা যায়, কারণ আমার হৃদয় অসাড়, কিন্তু মনে অনেক প্রশ্ন আছে, আমি জানি যে আমার মন এখনও পরিণতি পায়নি আর ঈশ্বরে আমার বিশ্বাসের অভাব রয়েছে। এই অসুবিধার মধ্য দিয়ে যাওয়ার ফলে এখন আমি বুঝি যে কঠিন সময়ে আমি নিজেকে আর ঈশ্বরের কাজকে আরও ভালোভাবে জানতে পারি, সেই সঙ্গে ঈশ্বরের উপর আরো বিশ্বাস রাখতে পারি। আমি যখন সবে এই দায়িত্ব পালন করতে শুরু করেছি, তখন ঈশ্বরের কাছে খুব বেশি প্রার্থনা করতাম না, ঈশ্বরকে পথ দেখাতেও বলতাম না। আমার দায়িত্বপালনের জন্য শুধু নিজের প্রতিভার উপর নির্ভর করার চেষ্টা করছিলাম, আর আমার ঈশ্বরে বিশ্বাসও ছিল না। ঈশ্বরের বাণী পড়ে আর তাঁর ইচ্ছা বোঝার পরে, আমি বিশ্বাস অর্জন করলাম আর আমার দায়িত্ব পালন করতে কঠোর পরিশ্রম করতাম। আমি প্রায়ই প্রার্থনা করতাম আর ঈশ্বরের উপর নির্ভর করতাম, নেতাদের খোঁজ করতাম আর তাদের সাথে যোগাযোগ করতাম, আমার দায়িত্বপালনের নীতিগুলি নিয়ে সচেতন হয়ে, সেইসাথে গির্জার কাজ করার জন্য কিছু পথ আর দিশা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করতাম। এই জিনিসগুলোর মধ্য দিয়ে যাওয়ার পরে, আমি আর নেতিবাচক অবস্থায় নেই। যখন প্রতিদিন আমার সঙ্গে কিছু ঘটে, তখন সত্য খুঁজতে শিখি, নিষ্ঠার সাথে আমার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করি, আর যখন আমি অসুবিধার সম্মুখীন হই, তখন ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি, আর ঈশ্বরও আমাকে এই সমস্ত পরিস্থিতি আর কষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে সাহায্য করেন। আমার কষ্ট বা চাপ আর বিরাট কিছু মনে হয় না। আমি যদি এইসব অসুবিধার মধ্য দিয়ে না যেতাম তাহলে ঈশ্বরের দ্বারা আলোকপ্রাপ্তি ঘটত না আমার, আমার এই উপলব্ধি হত না, প্রকৃত অভিজ্ঞতা অর্জন তো আরোই হত না। সেক্ষেত্রে, নিজের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারতাম না। এখন বুঝি ঈশ্বরের এই বাণীর মানে কী: “তুমি ঈশ্বরের ইচ্ছার দিকে যত বেশি মনোযোগ দেবে, তত গুরুতর হবে তোমার দায়ভার, এবং তুমি যত বেশি বোঝা বহন করবে, তোমার অভিজ্ঞতা তত বেশি সমৃদ্ধ হবে।” আমি ঈশ্বরের ভালবাসার প্রতিদান দিতে আরো বোঝা বইতে চাই।

আজকাল, ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি, গণপরিষেবা আর ইন্টারনেট নিয়ে অনেক সমস্যা রয়েছে। যদিও মাঝে মাঝে আমার চাপ লাগে, তবুও আমি ঈশ্বরের উপর নির্ভর করতে, তাঁর সন্ধান করতে আর তাঁর প্রতি বিশ্বাস রাখতে শিখেছি। আমি যদি এইসব অসুবিধার মধ্যে দিয়ে না যেতাম, তাহলে আমার দায়িত্বপালনের গুরুত্ব বা কীভাবে কঠিন সময়ে ঈশ্বরের সন্ধান করতে হয় তা বুঝতে পারতাম না। এই অর্জনগুলি করার জন্য এবং এই জ্ঞান লাভের জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।👇

সম্পর্কিত তথ্য

কর্তন ও মোকাবিলা সামলানোর উপায়

—এক নিষ্ঠামূলক দিনলিপি বুধবার, সতেরোই আগস্ট, দু’হাজার বাইশ, পরিষ্কার আকাশ আমি আজ একটা নতুন কাজ শুরু করেছি। লেখালিখি সংক্রান্ত কাজ। কাজটা...

Leave a Reply

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন