তুমি কি ঈশ্বরের কণ্ঠ শুনেছ?

15-04-2023

স্বাগত, ভাই-বোনেরা। আমরা সৌভাগ্যবান যে একসাথে জমায়েত হয়েছি—প্রভুকে ধন্যবাদ! আমরা সকলেই ঈশ্বরের বাক্য শুনতে ভালোবাসি, আর প্রভুকে স্বাগত জানাতে ব্যাকুল। আজ, আমরা প্রভু যীশুর ভবিষ্যদ্বাণী সম্পর্কে কিছু আলাপ-আলোচনা করবো, আর প্রভুর প্রত্যাবর্তন বিষয়ক বিভিন্ন ধারণা নিয়ে কথা বলবো। অধিকাংশ মানুষ সংকীর্ণভাবে প্রভুর প্রত্যাবর্তনকে মেঘে আসীন হয়ে তাঁর অবতরণের মধ্যে সংজ্ঞায়িত করে রেখেছে, কিন্তু বাইবেলে উল্লিখিত প্রভু যীশুর নিজের ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী, তিনি মনুষ্যপুত্র হিসাবে ফিরে আসবেন ও বাক্য উচ্চারণ করবেন। প্রভু বিভিন্ন উপলক্ষে মনুষ্যপুত্রের আগমন, বা আবির্ভাবের ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, এবং মনুষ্যপুত্রের আগমন ঈশ্বরের দেহরূপে আবির্ভূত হয়ে কর্ম সম্পাদনের প্রতি নির্দেশ করে। শুধুমাত্র এটাই সবচেয়ে বিশুদ্ধ ব্যাখ্যা, এবং কোনো ধর্মীয় গির্জায় তোমাদের একথা শুনতে পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। মনুষ্যপুত্রের আগমন, বা আবির্ভাব, এক বিশাল রহস্য, যে ইতিমধ্যে তাঁর আবির্ভাব ও কাজকে স্বাগত জানায়নি সে তা জানতে পারবে না।

বাইবেলে প্রভুর প্রত্যাবর্তন সম্পর্কে প্রচুর ভবিষ্যদ্বাণী রয়েছে, কিন্তু তার অধিকাংশই মানুষের কাছে থেকে এসেছে, যেমন প্রেরিত শিষ্য বা নবী, অথবা স্বর্গদূতদের কাছ থেকে। জনগণ সাধারণত যেসব ভবিষ্যদ্বাণীর উদাহরণ দেয় সেগুলো মানুষের করা ভবিষ্যদ্বাণী, আর তাই তারা আকুল হয় প্রভুকে প্রকাশ্যে মেঘে আসীন হয়ে অবতীর্ণ হতে দেখার জন্য। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে, প্রভুর প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে সর্বোচ্চ গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়েছে। প্রভু যীশু বলেছেন, “সেই দিনের ও সেই ক্ষণের কথা কেউ জানে না, স্বর্গদূতেরাও না, এমন কি পুত্রও সে কথা জানেন না। একমাত্র পিতাই জানেন(মথি ২৪:৩৬)। যেহেতু কেউই সেই দিন-ক্ষণের কথা জানে না, এমনকি স্বর্গদূত বা পুত্রও নয়, তাহলে প্রভুর প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে কোনো মানুষ বা স্বর্গদূতের প্রদত্ত বাইবেলের যে কোনো ভবিষ্যদ্বাণী কি সত্যিই নির্ভুল হতে পারে? তা হতে পারা সম্ভবই নয়। আর তাই, যদি আমরা প্রভুকে স্বাগত জানাতে চাই, তাহলে আমাদের স্বয়ং প্রভু যীশুর করা ভবিষ্যদ্বাণীগুলোকেই অনুসরণ করতে হবে। প্রভুকে স্বাগত জানানোর এটাই আমাদের একমাত্র আশা। সুতরাং, যারা মেঘে চড়ে প্রকাশ্যে প্রভুর নেমে আসার অপেক্ষা করছে, তারা ক্রন্দনরত অবস্থায় দাঁতে দাঁত ঘষতে ঘষতে বিপর্যয়ে বিধ্বস্ত হতে বাধ্য। প্রভু যীশু বলেছেন, “বিদ্যুতের ঝলক যেমন হঠাৎ পূর্বদিক থেকে পশ্চিমদিক পর্যন্ত সমগ্র আকাশকে আলোকিত করে, ঠিক সেইভাবে মনুষ্যপুত্রের আগমন হবে(মথি ২৪:২৭)। “বিদ্যুৎ ঝলকে যেমন আকাশের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে, তেমনি করে মনুষ্যপুত্রও তাঁর দিনে উদ্ভাসিত হবেন। কিন্তু প্রথমে তাঁকে দুঃখ যন্ত্রণা ভোগ করতে হবে এবং এ যুগের লোক তাঁকে প্রত্যাখ্যান করবে(লুক ১৭:২৪-২৫)। “আমার এখনও অনেককিছুই তোমাদের বলার আছে, কিন্তু এখন তোমরা সেগুলো বহন করতে পারবে না। সেই সত্যের আত্মা যখন আসবেন তিনি তোমাদের সকল সত্যের পথে পরিচালিত করবেন। … এবং সমস্ত ভাবী ঘটনার কথা তিনি তোমাদের কাছে প্রকাশ করবেন(যোহন ১৬:১২-১৩)। “দেখ, আমি দুয়ারে দাঁড়িয়ে করাঘাত করছি। যে আমার ডাক শুনে দুয়ার খুলে দেয়, আমি ভেতরে তার কাছে যাব, তার সঙ্গে পানাহার করব, সেও আমার সঙ্গে পানাহার করবে(প্রকাশিত বাক্য ৩:২০)। “শোনার মত কান যার আছে সে শুনুক, পবিত্র আত্মা সকল মণ্ডলীকে কী বলছেন(প্রকাশিত বাক্য ২:৭)। “আমার নিজের মেষপাল আমার ডাক শোনে, তাদের আমি চিনি এবং তারা আমাকে অনুসরণ করে(যোহন ১০:২৭)। প্রভু যীশুর এই ভবিষ্যদ্বাণীগুলোর মধ্যে আমরা কী দেখতে পাই? প্রভুর বাক্য স্পষ্টভাবে আমাদের বলছে যে অন্তিম সময়ে মনুষ্যপুত্র হিসাবে তিনি ফিরে আসবেন। মনুষ্যপুত্রই আসলে অবতাররূপ, এবং তিনি মূলত বাক্য উচ্চারণ করবেন, প্রচুর সত্য অভিব্যক্ত করবেন, আর ঈশ্বরের মনোনীত মানুষদের সকল সত্যে প্রবেশ করতে নেতৃত্ব দেবেন। আবির্ভূত হয়ে এবং সত্যকে অভিব্যক্ত করার মাধ্যমে প্রভু কী কর্ম সম্পন্ন করবেন? নিঃসন্দেহে, এই কাজের উদ্দেশ্য ঈশ্বরের গৃহ থেকে আরম্ভ করে বিচারকার্য নির্বাহ করা, যা আরও বেশি করে প্রমাণ করে যে ঈশ্বর অন্তিম সময়ে সত্যের প্রকাশের মাধ্যমে বিচারের কাজ করেন। তাহলে, প্রভুকে আমরা কীভাবে স্বাগত জানাতে পারি? যেহেতু তিনি মনুষ্যপুত্র হিসাবে আসছেন, এবং মনুষ্যপুত্রের বাহ্যিক রূপ সম্পূর্ণ সাধারণ, তাতে প্রকটভাবে অতিপ্রাকৃতিক কিছু নেই, তাই তাঁর বাহ্যিক রূপ থেকে কেউই বুঝতে পারবে না যে এ শুধু ঈশ্বরেরই আবির্ভাব। মূল বিষয় হচ্ছে মনুষ্যপুত্রের কথন শ্রবণ করা এবং লক্ষ্য করা যে তা ঈশ্বরের কণ্ঠ কি না। ঈশ্বরের কণ্ঠ চিনতে পারা এবং তাঁর জন্য দ্বার উন্মুক্ত করার মাধ্যমেই তাঁকে স্বাগত জানানো সম্পন্ন হয়। যদি তিনি সত্যের উচ্চারণ করেন এবং মানুষ তা শুনেও তাঁর কণ্ঠ চিনতে না পারে, তাহলে তাঁকে স্বাগত জানানোর কোনো উপায় তাদের থাকবে না। প্রকাশিত বাক্যের গ্রন্থে বারংবার এই ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে: “শোনার মত কান যার আছে সে শুনুক, পবিত্র আত্মা সকল মণ্ডলীকে কী বলছেন(প্রকাশিত বাক্য, অধ্যায় ২, ৩)। মোট সাতবার এর উল্লেখ রয়েছে। সুতরাং, প্রভুকে স্বাগত জানানোর জন্য ঈশ্বরের কণ্ঠ শ্রবণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; তাঁকে স্বাগত জানানোর এটাই একমাত্র উপায়। এখন তোমরা জানলে প্রভুকে স্বাগত জানানোর মূল সূত্র কী? ঠিক তাই—প্রভুকে স্বাগত জানাতে হলে আমাদের অবশ্যই ঈশ্বরের কণ্ঠ শ্রবণের সন্ধান করতে হবে, এবং এই “কণ্ঠ” নির্দেশ করে সেই অজস্র সত্যকে যা প্রত্যাবর্তিত প্রভুর দ্বারা অভিব্যক্ত, সেই সকল সত্য যা জনগণ আগে কখনো শোনেনি আর এমন বিষয় যা বাইবেলে লিপিবদ্ধ নেই। বুদ্ধিমতী কুমারীরা শুনতে পায় যে মনুষ্যপুত্রের অভিব্যক্ত বাক্যই সমগ্র সত্য, তা সকলই ঈশ্বরের কণ্ঠ, এবং তারা আনন্দে উদ্বেল হয়ে প্রভুকে স্বাগত জানায়। একমাত্র প্রভুই সত্য প্রকাশে সক্ষম; একমাত্র প্রভুই পথ, তিনিই সত্য, এবং তিনিই জীবন। মনুষ্যপুত্রের অভিব্যক্ত সত্য শ্রবণ করেও যে নিস্পৃহ থাকে বা সেগুলো বাতিল করে দেয়, অথবা সত্যকে গ্রহণ করতে অস্বীকার করে, সে একজন বুদ্ধিহীনা কুমারীর মতো, প্রভু যাকে পরিত্যাগ করবেন। সে নিশ্চিতভাবে প্রবল বিপর্যয়ে পতিত হবে, ক্রন্দন করবে আর দাঁতে দাঁত ঘষবে। এখনও পর্যন্ত ধর্মীয় জগৎ প্রভুকে স্বাগত জানায়নি; পরিবর্তে, তারা বিপর্যয়ে বিধ্বস্ত হয়েছে, নিরন্তর হতাশাজনক অবস্থায় ঈশ্বরকে দোষারোপ ও অস্বীকার করছে। যারা ঈশ্বরের মেষ, তারা ঈশ্বরের কণ্ঠ শুনতে পেলেই আগ্রহের সাথে প্রকৃত পথের সন্ধান ও তদন্ত করে, যা তাদের প্রভুকে স্বাগত জানাতে সক্ষম করে তোলে। তাই আমাদের স্পষ্টভাবে বুঝতে হবে: অন্তিম সময়ে প্রভু যখন ফিরে আসবেন, তখন তিনি মনুষ্যপুত্ররূপে আবির্ভূত হবেন এবং সকল সত্য প্রকাশ করবেন, আর আমাদের জন্য প্রভুর আবির্ভাবের সন্ধান করার চাবিকাঠি হল প্রভুর প্রকাশিত এইসব সত্য কোথায় আছে তা খুঁজে বার করা, সেই গির্জার সন্ধান করা যেখানে ঈশ্বর কথা বলছেন। একবার মনুষ্যপুত্রের প্রকাশিত সত্যকে আবিষ্কার করতে পারলেই সেই কণ্ঠের উৎস অনুসরণ করে তোমরা ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কাজের সন্ধান পেতে পারবে। যে মুহূর্তে তোমরা আবিষ্কার করবে যে প্রভুর প্রকাশিত সকল সত্যই মানবজাতিকে পরিশুদ্ধ ও উদ্ধার করবে, তখনই তোমরা প্রভুর প্রত্যাবর্তনকে স্বীকার করে নেবে, এবং সেটাই তোমাদের তাঁকে স্বাগত জানানো হবে। এটাই ঈশ্বরকে স্বাগত জানানোর শ্রেষ্ঠ ও সহজতম উপায়। আকাশের দিকে নির্নিমেষে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার কোনো প্রয়োজন নেই, অথবা প্রভু মেঘে চড়ে অবতীর্ণ হলে তাঁকে স্বাগত জানানোর অপেক্ষায় পাহাড়ের চূড়ায় উঠে দাঁড়িয়ে থাকারও প্রয়োজন নেই, আর দিনরাত ধরে প্রার্থনা করা অথবা উপবাস ও প্রার্থনা করার তো একেবারেই কোনো প্রয়োজন নেই। তোমাদের প্রয়োজন শুধু লক্ষ্য রেখে চলা আর অপেক্ষা করা, ঈশ্বরের কণ্ঠ শোনার প্রতি তোমাদের অনুসন্ধিৎসায় কখনো বিরত না হওয়া।

এই পর্যায়ে এসে তোমাদের কেউ কেউ হয়তো অবাক হচ্ছো: আমরা যা শুনি তাকে ঈশ্বরের কণ্ঠ বলে কীভাবে চিনতে পারবো? আসলে, ঈশ্বরের কণ্ঠ চিনতে পারা মোটেই কঠিন নয়। প্রভু যীশু বলেছেন, “মাঝরাতে সাড়া পড়ে গেল, ‘দেখো, বর এসেছে, তাকে বরণ করতে এগিয়ে যাও’(মথি ২৫:৬)। যখনই তোমরা কাউকে ঈশ্বরের আবির্ভাব ও কাজের সাক্ষ্য দিতে শুনবে, বা শুনবে যে তিনি অনেক সত্য প্রকাশ করেছেন, তোমাদের তক্ষনি পরীক্ষা করে দেখতে হবে এই যেসব বাক্য আপাতভাবে ঈশ্বরের বলা হচ্ছে সেগুলোই সত্য কি না। যদি সেগুলোই সত্য হয়, তাহলে তোমাদের উচিত তা গ্রহণ করা, কারণ ঈশ্বরের মেষ তাঁর কণ্ঠ শুনতে পায়। এটা ঈশ্বরের পূর্বনির্ধারিত, এবং তা কোনো ব্যক্তি কতদূর শিক্ষিত, সে কত ভালোভাবে বাইবেল জানে, বা তার অভিজ্ঞতার গভীরতা কত, এসবের উপর নির্ভরশীল নয়। যখন প্রভু যীশুর কথিত প্রচুর বাক্য আমরা শুনি, তখন খ্রীষ্টান হিসাবে আমরা কেমন বোধ করি? এমনকি প্রভুর বাক্যের বিষয়ে কোনো অভিজ্ঞতা বা উপলব্ধি না থাকলেও, যখনই আমরা সেগুলো শুনি, অনুভব করতে পারি যে সেগুলোই সত্য, সেগুলো কর্তৃত্ব ও ক্ষমতার অধিকারী; আমরা উপলব্ধি করতে পারি যে সেগুলো গভীর ও রহস্যময়, মানুষের অনুধাবনের ঊর্দ্ধে—এটাই হল অনুপ্রেরণা ও অন্তর্দৃষ্টির ভূমিকা। আমরা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করতে পারি বা না পারি, এই অনুভূতি সঠিক এবং প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট যে কারো যদি হৃদয় ও আত্মা থাকে, তাহলে সে ঈশ্বরের বাক্যের শক্তি ও কর্তৃত্ব উপলব্ধি করতে পারে। ঈশ্বরের কণ্ঠ শোনার বিষয়টা এইরকমই। এই বিষয়ের আরও একটুখানি গভীরে যদি যাওয়া যায়, ঈশ্বরের বাক্যের আর কী কী বৈশিষ্ট্য আছে? ঈশ্বরের বাক্য আমাদের জীবনের সংস্থান প্রদান করে; সেগুলো রহস্যের উন্মোচন করে, নতুন যুগের সূচনা করে এবং পুরাতন যুগের পরিসমাপ্তি ঘটায়। ঠিক যেমন প্রভু যীশু স্থান-কাল নির্বিশেষে মানুষের পালন, সিঞ্চন ও সংস্থান সরবরাহের উদ্দেশ্যে সত্য প্রকাশ করতে সক্ষম ছিলেন; প্রভু স্বর্গ-রাজ্যের রহস্যও প্রকাশিত করেছিলেন, মানবজাতির কাছে স্বর্গ-রাজ্যে প্রবেশের জন্য অনুতাপের পথ নিয়ে এসেছিলেন, অনুগ্রহের যুগের উন্মেষ ঘটিয়েছিলেন, বিধানের যুগের পরিসমাপ্তি ঘটিয়েছিলেন, এবং মানবজাতির মুক্তির কাজ সম্পূর্ণ করেছিলেন। এ কাজ কোনো মানুষ সম্পন্ন করতে পারতো না। তাই নয় কি? তাহলে, বর্তমানে একজন মনুষ্যপুত্র আছেন যিনি বহু বছর ধরে বাক্য উচ্চারণ করছেন, বহু সত্য প্রকাশ করছেন। সেইসব বাক্য পাঠের পর অনেকেই অনুভব করেছে যে সেগুলো হল পবিত্র আত্মার উচ্চারণ, ঈশ্বরের কণ্ঠ, এবং তারা নিশ্চিত যে এই মনুষ্যপুত্র, যিনি সত্য প্রকাশ করছেন, তিনিই প্রত্যাবর্তিত প্রভু যীশু, তিনিই দেহরূপে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর। সর্বশক্তিমান ঈশ্বর মানবজাতিকে পরিশুদ্ধ ও উদ্ধার করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল সত্য প্রকাশ করেছেন, ঈশ্বরের ৬,০০০ বছরের পরিচালনামূলক পরিকল্পনাকে অর্গলমুক্ত করেছেন, এবং ঈশ্বরের গৃহ থেকে আরম্ভ করে বিচারকার্য করছেন। তিনি রাজ্যের যুগের সূচনা করেছেন এবং অনুগ্রহের যুগের পরিসমাপ্তি ঘটিয়েছেন। সকলে কি ঈশ্বরের কণ্ঠ শোনার জন্য সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কিছু বাক্য শুনতে চায়? সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কথনের কয়েকটা অনুচ্ছেদ পাঠ করা যাক।

সর্বশক্তিমান ঈশ্বর বলেছেন, “একসময় আমি যিহোবা নামে পরিচিত ছিলাম। আমাকে মশীহ নামেও ডাকা হত, এবং মানুষ একসময় স্নেহ ও সম্মানভরে পরিত্রাতা যীশু নামেও আমাকে সম্বোধন করত। যদিও আজ, আমি আর সেই অতীতকালের পরিচিত যিহোবা বা যীশু নই; আমি সেই ঈশ্বর যিনি অন্তিম সময়ে প্রত্যাবর্তন করেছেন, সেই ঈশ্বর যিনি যুগের অবসান ঘটাবেন। আমি স্বয়ং ঈশ্বর যিনি পৃথিবীর শেষ প্রান্ত থেকে জেগে ওঠেন, সম্পূর্ণ স্বভাব নিয়ে, এবং কর্তৃত্ব, সম্মান, ও মহিমায় পরিপূর্ণ অবস্থায়। মানুষ আমার সঙ্গে কখনো যুক্ত হয় নি, আমাকে কখনো চেনে নি, এবং সর্বদা আমার স্বভাব সম্পর্কে অজ্ঞ হয়েই থেকেছে। বিশ্ব সৃষ্টির কাল থেকে শুরু করে আজ অবধি একজন মানুষও আমাকে দেখে নি। ইনি হলেন সেই ঈশ্বর, যিনি অন্তিম সময়ে মানুষের কাছে আসেন কিন্তু মানুষের মাঝেই প্রচ্ছন্ন থাকেন। তিনি সত্য এবং বাস্তব, জ্বলন্ত সূর্য এবং প্রোজ্জ্বল শিখার মতো শক্তি ও কর্তৃত্বে পরিপূর্ণ হয়ে মানুষের মাঝে বসবাস করেন। এমন একজনও মানুষ বা একটিও বস্তু নেই যাকে আমি আমার বাক্যের দ্বারা বিচার করবো না, এবং জ্বলন্ত আগুনের দ্বারা শুদ্ধ করবো না। অবশেষে সকল জাতি আমার বাক্যের দ্বারা আশীর্বাদ লাভ করবে, এবং আমার বাক্যের জন্যই খণ্ড-বিখণ্ড হবে। এইভাবে অন্তিম সময়ে সকল মানুষ দেখবে যে আমিই সেই ফিরে আসা পরিত্রাতা, এবং আমিই সর্বশক্তিমান ঈশ্বর যিনি সমগ্র মানবজাতিকে জয় করেন। এবং সবাই দেখবে যে একসময় আমি ছিলাম মানুষের জন্য পাপস্খালনের বলি, কিন্তু অন্তিম সময়ে আমি হয়ে উঠি সূর্যের লেলিহান শিখা, যা সবকিছু ভস্মীভূত করে, এবং আমিই সেই ন্যায়পরায়ণতার সূর্য, যা সবকিছু প্রকাশিত করে। অন্তিম সময়ে এটিই আমার কার্য। আমি এই নাম এবং এই স্বভাব গ্রহণ করলাম, যাতে সকলে দেখতে পায় যে আমি ধার্মিক ঈশ্বর, এক জ্বলন্ত সূর্য, এক লেলিহান শিখা, এবং যাতে সকলে একমাত্র সত্য ঈশ্বর হিসেবে আমার উপাসনা করে, এবং যাতে তারা আমার প্রকৃত রূপ দেখতে পায়: আমি কেবলমাত্র ইসরায়েলীদের ঈশ্বর নই, এবং আমি শুধুমাত্র মুক্তিদাতা নই; আমি সমগ্র আকাশ, পৃথিবী ও সমুদ্রের সকল জীবের ঈশ্বর(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, পরিত্রাতা ইতিমধ্যেই একটি “সাদা মেঘে” চড়ে প্রত্যাবর্তন করেছেন)। “সমগ্র ব্রহ্মাণ্ড জুড়ে আমি আমার কাজ করছি, এবং প্রাচ্যে অবিরাম বজ্রপাত চলছে, যাতে সব রাষ্ট্র এবং সম্প্রদায় কেঁপে উঠছে। আমারই কন্ঠস্বর মানুষকে আজকের এই অবস্থায় নিয়ে এসেছে। আমিই সেই পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছি, যাতে সকল মানুষ আমার কন্ঠস্বরের দ্বারা পরাজিত হয়, এই স্রোতে তারা সামিল হয়, এবং আমার কাছে তারা আত্মসমর্পণ করে। কারণ দীর্ঘদিন হল আমি আমার মহিমা সমগ্র বিশ্ব থেকে পুনরুদ্ধার করেছি এবং প্রাচ্যে তাকে নতুন করে প্রকাশ করেছি। আমার মহিমা প্রত্যক্ষ করতে কে না ব্যাকুল হয়? আমার প্রত্যাবর্তনের জন্য কে না অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে? আমার পুনরাবির্ভাবের আকুল আকাঙ্ক্ষা করে না এমন কে আছে? আমার মাধুর্যের জন্য কে না উদগ্রীব? আলোকের সম্মুখে আসতে কে না চায়? কনানের সমৃদ্ধির প্রতি কে না আগ্রহী? মুক্তিদাতার প্রত্যাবর্তনের জন্য কে না অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে? যিনি ক্ষমতায় মহান, তাঁর উপাসনা কে না করে? সমগ্র বিশ্ব জুড়ে আমার কণ্ঠস্বর ছড়িয়ে পড়বে। আমি আমার নির্বাচিত মানুষদের সম্মুখীন হবো এবং তাদের উদ্দেশ্যে আরো কথা বলবো। শক্তিশালী বজ্র যেমন পর্বত আর নদীতে আলোড়ন সৃষ্টি করে, সমগ্র ব্রহ্মাণ্ড আর মানবজাতির কাছে আমার উচ্চারিত বাক্যও তেমন। তাই আমার বাক্য মানবজাতির কাছে সম্পদ হয়ে উঠেছে, এবং সব মানুষই আমার বাক্য সযত্নে লালন করছে। সেই বজ্রপাতের ঝলকে পূর্ব থেকে পশ্চিম আলোকিত। আমার বাক্য এমনই যে মানুষ তা উপেক্ষা করতে পারে না, আবার একই সাথে তার গভীরতার পরিমাপও করতে পারে না, অথচ তার মধ্যেই আনন্দ খুঁজে পায়। আমার আবির্ভাবে সকল মানুষই আনন্দিত এবং উচ্ছ্বসিত, যেন কোনো শিশু সদ্য জন্মলাভ করেছে। আমার কণ্ঠস্বরের সাহায্যে আমি সকল মানবজাতিকে আমার সম্মুখে আনবো। এরপর আমি আনুষ্ঠানিকভাবে মানবজাতির মধ্যে প্রবেশ করব, যাতে তারা আমার উপাসনা করতে আসে। আমার মহিমার বিকিরণে এবং আমার বাক্যের সাহায্যে আমি বাধ্য করবো যাতে সব মানুষ আমার সম্মুখে আসে এবং প্রাচ্যের বজ্রপাত দেখে, এবং সেই সঙ্গে দেখতে পায় যে আমি প্রাচ্যের ‘অলিভ পর্বত’-এ অবতরণ করেছি। তারা দেখতে পাবে যে, আমি ইতিমধ্যেই দীর্ঘদিন এই পৃথিবীতে আছি এবং তা ইহুদিদের পুত্র হিসাবে নয়, প্রাচ্যের বজ্রপাত হিসাবে। কারণ অনেকদিন হল আমি পুনরুত্থিত হয়েছি, মানবজাতির মধ্য থেকে প্রস্থান করেছি, এবং তারপর মানবজাতির মধ্যে পুনরাবির্ভূত হয়েছি আপন মহিমায়। আমিই সে, যাকে অগণিত যুগ আগে থেকেই উপাসনা করা হচ্ছে, এবং আমিই সেই শিশু যাকে অগণিত যুগ আগে ইসরায়েলীরা পরিত্যাগ করেছিল। আমিই হলাম বর্তমান যুগের সর্বমহিম সর্বশক্তিমান ঈশ্বর! সকলে আমার সিংহাসনের সামনে এসে আমার মহিমময় মুখাবয়ব দেখুক, আমার কন্ঠস্বর শুনুক এবং আমার কীর্তি দেখুক। এই হল আমার সার্বিক ইচ্ছা; এই হল আমার পরিকল্পনার শীর্ষবিন্দু এবং সমাপ্তি, আর আমার ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্য: যাতে সব রাষ্ট্র আমার উপাসনা করে, সব মুখেই আমার স্বীকৃতি শোনা যায়, সকল মানুষের বিশ্বাস আমাতেই স্থিত হয় এবং সকলেই আমার অধীনস্থ হয়(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, সপ্ত বজ্রের নিনাদ—ভবিষ্যদ্বাণী করছে যে রাজ্যের সুসমাচার মহাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে)। “কথা বলার জন্য আমি যখন মহাবিশ্বের দিকে মুখ ফেরাবো, তখন সমগ্র মানবজাতি আমার কণ্ঠস্বর শুনতে পাবে, এবং তারপর মহাবিশ্ব জুড়ে আমার সমস্ত কাজ প্রত্যক্ষ করবে। যারা আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, অর্থাৎ যেসব মানুষ তাদের কর্মের দ্বারা আমার বিরোধিতা করে, তারা সকলেই আমার শাস্তির আওতায় পড়বে। মহাকাশের অগণিত নক্ষত্রকে আমি নতুন করে গড়বো, আমার সৌজন্যে সূর্য এবং চন্দ্রের নবীকরণ হবে—আকাশ আর আগের মত থাকবে না এবং পৃথিবীর অগণিত সৃষ্টির নবীকরণ হবে। সবই আমার বাক্যের দ্বারা পূর্ণ হবে। এই বিশ্বের বহু রাষ্ট্রেরই নতুন করে বিভাজন হবে এবং আমার রাজত্বের দ্বারা প্রতিস্থাপিত হবে, যাতে বিশ্বের বর্তমান জাতিগুলি চিরকালের জন্য নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে এবং গড়ে উঠবে এমন একটি রাজ্য, যে আমার উপাসনা করে। পৃথিবীর সমস্ত জাতি ধ্বংস হবে, কোনোটিরই অস্তিত্ব থাকবে না। এই বিশ্বের যেসব মানুষ শয়তানের অধীনে আছে তারা সকলেই নির্মূল হবে, এবং যারা শয়তানের উপাসক তারা সকলেই আমার দ্বারা প্রজ্বলিত অগ্নিতে নিক্ষিপ্ত হবে—অর্থাৎ, আমার স্রোতের অনুগামীরা ছাড়া আর সকলেই ভস্মীভূত হয়ে যাবে। আমি অসংখ্য মানুষকে শাস্তি দেওয়ার সময় ধর্মীয় জগতের যাদের আমার কাজের দ্বারা বিভিন্ন মাত্রায় জয় করা হয়েছে, তারা আমার রাজ্যে ফিরে আসবে, কারণ তারা দেখবে সাদা মেঘে আসীন সেই একক পবিত্র সত্তার আবির্ভাব। নিজস্ব প্রকার অনুযায়ী সমস্ত মানুষ বিভাজিত হবে, এবং তাদের কর্ম অনুযায়ী শাস্তির বিধান পাবে। যারা আমার বিপক্ষে দাঁড়িয়েছিল তারা ধ্বংস হবে; যাদের পার্থিব ক্রিয়াকলাপ আমাকে জড়িত করে নি, তারা যেমন ভাবে নিজেদের মুক্ত করেছে সেই কারণে আমার পুত্র এবং আমার লোকেদের শাসনের অধীনে পৃথিবীতে বিদ্যমান থাকবে। অগণিত মানুষ ও অগণিত জাতির সামনে আমি নিজেকে প্রকাশ করব। আমার নিজের কণ্ঠে আমি সারা পৃথিবী ধ্বনিত করে আমার কাজের পরিসমাপ্তি ঘোষণা করবো, যাতে সমগ্র মানবজাতি তা স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করতে পারে(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের প্রতি ঈশ্বরের বাক্যে, অধ্যায় ২৬)

সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের বাক্যের এই কয়েকটা অনুচ্ছেদ শোনার পর এখন তোমরা সকলে কেমন বোধ করছো? এ কি ঈশ্বরের কণ্ঠ? সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের বাক্যের প্রত্যেকটা শব্দই ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব বহন করে, এবং মানুষকে তাদের ভিতর পর্যন্ত নাড়িয়ে দেয়। ঈশ্বর ছাড়া আর কে-ই বা সমগ্র মানবজাতিকে সম্বোধন করতে পারতো? ঈশ্বরের মানবজাতিকে উদ্ধার করার ইচ্ছা কে-ই বা ব্যক্ত করতে পারতো? কে প্রকাশ্যে অগ্রিমভাবে উদ্ঘাটন করতে পারতো অন্তিম সময়ে তাঁর কাজের জন্য ঈশ্বরের পরিকল্পনা ও আয়োজন, সেইসাথে মানবজাতির পরিণাম ও গন্তব্য? কে-ই বা ঈশ্বরের প্রশাসনিক ফরমানসমূহকে সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের কাছে পরিচিত করাতে পারতো? ঈশ্বর ছাড়া আর কেউই এসব করতে পারতো না। সমগ্র মানবজাতির উদ্দেশ্যে সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কথন আমাদের অনুভব করতে দেয় ঈশ্বরের বাক্যের কর্তৃত্ব ও শক্তি। সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের বাক্যগুলো সরাসরি ঈশ্বরের উচ্চারণ, স্বয়ং ঈশ্বরের কণ্ঠ! সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের এই বাক্যগুলো ঠিক এমন, যেন স্বর্গের সুবিশাল উচ্চতা থেকে সমগ্র পৃথিবীর দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে ঈশ্বর কথা বলছেন। সর্বশক্তিমান ঈশ্বর সৃষ্টির প্রভু হিসাবে তাঁর অবস্থান থেকে মানবজাতির উদ্দেশ্যে কথা বলছেন, মানবজাতির কাছে প্রকাশিত করছেন ঈশ্বরের ধার্মিক ও মহিমান্বিত স্বভাব, যা কোনো অপরাধ সহ্য করে না। যদিও তারা হয়তো প্রথমবার শুনে সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের বাক্যের অন্তর্নিহিত সত্য উপলব্ধি না-ও করতে পারে, অথবা কোনো প্রকৃত অভিজ্ঞতা বা উপলব্ধি লাভ না-ও করতে পারে, কিন্তু যারা ঈশ্বরের মেষ তারা সকলেই তবুও অনুভব করবে যে সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের প্রতিটা বাক্য ক্ষমতা ও কর্তৃত্বে পরিপূর্ণ, এবং নিশ্চিত হবে যে তা ঈশ্বরেরই কণ্ঠ আর তা প্রত্যক্ষভাবে ঈশ্বরের আত্মার কাছ থেকে আসছে। এটা প্রভু যীশুর এই বাক্যগুলোকে বাস্তবায়িত করে, “আমার নিজের মেষপাল আমার ডাক শোনে, তাদের আমি চিনি এবং তারা আমাকে অনুসরণ করে(যোহন ১০:২৭)

এখন যেহেতু আমরা ঈশ্বরের কণ্ঠ শুনেছি এবং ঈশ্বরের প্রকাশিত সত্য প্রত্যক্ষ করে ফেলেছি, তাহলে, সত্যকে ব্যক্ত করার মাধ্যমে ঈশ্বর কী কাজ সম্পন্ন করতে এসেছেন? তিনি অন্তিম সময়ে বিচারের কাজ করতে এসেছেন, যা স্বয়ং প্রভু যীশুর মুখনিঃসৃত ভবিষ্যদ্বাণীগুলোর দ্বারা প্রমাণ করা যেতে পারে। “পিতা কারও বিচার করেন না, বিচারের ভার সম্পূর্ণরূপে তিনি পুত্রকেই দান করেছেন(যোহন ৫:২২)। “তাঁকে তিনি বিচারকার্য নির্বাহের দায়িত্বও দিয়েছেন, কারণ তিনি মানবপুত্র(যোহন ৫:২৭)। “কেউ যদি আমার কথা শোনে, এবং অবিশ্বাস করে, আমি তার বিচার করি না: কারণ আমি এই জগৎকে বিচার করতে আসি নি, এসেছি জগতের উদ্ধার করতে। যে আমার বাক্য গ্রহণ না করে আমাকে প্রত্যাখ্যান করে, তারও বিচারকারী রয়েছে: শেষের দিনে আমার মুখনিঃসৃত সেই বাণীই হবে তার বিচারক(যোহন ১২:৪৭-৪৮)। “আমার এখনও অনেককিছুই তোমাদের বলার আছে, কিন্তু এখন তোমরা সেগুলো বহন করতে পারবে না। সেই সত্যের আত্মা যখন আসবেন তিনি তোমাদের সকল সত্যের পথে পরিচালিত করবেন। … এবং সমস্ত ভাবী ঘটনার কথা তিনি তোমাদের কাছে প্রকাশ করবেন(যোহন ১৬:১২-১৩)। এবং আমরা ভুলতে পারি না পিতরের প্রথম গ্রন্থের চতুর্থ অধ্যায়ের সপ্তদশ স্তবকটা: “বিচারের কাল সমাগত, ঈশ্বরের আপনজনদের দিয়েই তা হবে শুরু”। এই ভবিষ্যদ্বাণীগুলো সবই অত্যন্ত স্পষ্ট। অন্তিম সময়ের বিচার শুরু হবে ঈশ্বরের গৃহ থেকে, এবং যারা ঈশ্বরের অন্তিম সময়ের বিচারকার্য স্বীকার করেছে তাদের সকলের মধ্যেই তা সম্পাদিত হবে। অর্থাৎ, মনুষ্যপুত্ররূপ অবতার পৃথিবীতে মানবজাতির বিচার ও পরিশোধনের জন্য প্রচুর সত্য প্রকাশ করবেন, ঈশ্বরের নির্বাচিত ব্যক্তিদের সকল সত্যে প্রবেশ করার পথনির্দেশ দেবেন। এটাই অন্তিম সময়ে পরিত্রাতার সম্পাদিত বিচারের কাজ, যে কাজের পরিকল্পনা ঈশ্বর বহুকাল আগে করে রেখেছিলেন। এখন, সর্বশক্তিমান ঈশ্বর, দেহরূপী মনুষ্যপুত্র, বেশ কিছুকাল আগেই আবির্ভূত হয়েছেন, তিনি মানবজাতির পরিশোধন ও পরিত্রাণের জন্য সকল সত্য প্রকাশ করছেন, সমগ্র বিশ্ব, সমস্ত ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন। আরও বেশি সংখ্যক মানুষ ঈশ্বরের কণ্ঠে মনোযোগী হয়ে উঠছে, প্রকৃত পথের সন্ধান ও তদন্ত করছে। সর্বশক্তিমান ঈশ্বর শুধু যে ঈশ্বরের ৬,০০০ বছরের পরিচালনামূলক পরিকল্পনার সমস্ত প্রধান রহস্য প্রকাশিত করেছেন এবং বিভিন্ন সত্যের রহস্য, যেমন মানবজাতির ব্যবস্থাপনায় ঈশ্বরের লক্ষ্য, তিনি কীভাবে মানবজাতিকে উদ্ধারের জন্য তাঁর তিনটে পর্যায়ের কাজ নির্বাহ করেন, অবতাররূপের রহস্য, এবং বাইবেলের নেপথ্যের প্রকৃত কাহিনী, সেগুলো আমাদের জানিয়েছেন তা-ই নয়, উপরন্তু মানবজাতি কীভাবে শয়তানের দ্বারা কলুষিত হয়েছে, এবং আমাদের ঈশ্বরকে প্রতিরোধ করার শয়তানোচিত প্রকৃতি বিষয়ক সত্যও সর্বশক্তিমান ঈশ্বর প্রকাশ করেছেন, একইসাথে আমাদের কলুষিত স্বভাব পরিহার করার জন্য ও সম্পূর্ণভাবে উদ্ধার লাভের জন্য ব্যবহারিক পথের দিকেও নির্দেশ করেছেন। এছাড়াও সর্বশক্তিমান ঈশ্বর উন্মোচন করেছেন প্রত্যেক ধরনের মানুষের পরিণাম, মানুষের প্রকৃত চূড়ান্ত গন্তব্য, কীভাবে ঈশ্বর যুগের পরিসমাপ্তি নিয়ে আসবেন, আর কীভাবে খ্রীষ্টের রাজ্য আবির্ভূত হবে। সত্যের এইসব রহস্যের প্রত্যেকটাই আমাদের কাছে প্রকাশিত হয়েছে। সর্বশক্তিমান ঈশ্বর লক্ষ লক্ষ বাক্য উচ্চারণ করেছেন, এবং এই সকল বাক্যই সেই সমগ্র সত্য যা মানবজাতির বিচার ও পরিশোধনের জন্য ব্যবহৃত হয়। এটাই অন্তিম সময়ে ঈশ্বরের সম্পাদিত বিচারের কাজ। শুধুই বাক্যের মাধ্যমে মানবজাতিকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরিশুদ্ধ ও উদ্ধার করার যে কাজ, এটা তার একটা ধাপ।

তাহলে, বিচারকার্য সম্পূর্ণ করার জন্য সর্বশক্তিমান ঈশ্বর কীভাবে সত্যের ব্যবহার করেন? দেখা যাক তাঁর বাক্য কী বলে। সর্বশক্তিমান ঈশ্বর বলেছেন, “বিচারের কাজটি ঈশ্বরের নিজস্ব, তাই স্বাভাবিকভাবেই এটি স্বয়ং ঈশ্বরের দ্বারাই সম্পন্ন হওয়া উচিত; তাঁর পরিবর্তে মানুষ তা করতে পারে না। যেহেতু বিচার ব্যবস্থা হল মানবজাতিকে জয়ের জন্য সত্যের ব্যবহার, তাই প্রশ্নাতীত ভাবে ঈশ্বর এখনও মানুষের মধ্যে এই কাজটি সম্পাদন করার জন্য অবতার রূপে উপস্থিত হবেন। অর্থাৎ, অন্তিম সময়ে খ্রীষ্ট এই সত্য বিশ্বজুড়ে মানুষদের শিক্ষা দিতে এবং তাদের কাছে সমস্ত সত্য প্রকাশ করতেই ব্যবহার করবেন। এটিই হল ঈশ্বরের বিচারের কাজ(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, খ্রীষ্ট সত্যের দ্বারাই বিচারের কাজ করেন)। “বর্তমান অবতারে ঈশ্বরের কাজ হল প্রাথমিকভাবে শাস্তি ও বিচারের মাধ্যমে তাঁর স্বভাব ব্যক্ত করা। এর উপর ভিত্তি করে, তিনি মানুষের কাছে আরও সত্য নিয়ে আসেন এবং অনুশীলনের আরও উপায় নির্দেশ করেন, যার ফলে মানুষকে জয় করার এবং তার নিজের কলুষিত স্বভাব থেকে বাঁচানোর তাঁর উদ্দেশ্য সিদ্ধ হয়। রাজ্যের যুগে ঈশ্বরের কাজের পিছনে এটিই নিহিত আছে(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, ভূমিকা)। “অন্তিম সময়ের খ্রীষ্ট মানুষকে শেখানোর জন্য, মানুষের উপাদান প্রকাশ করার জন্য এবং মানুষের কথা ও কাজের বিশ্লেষণ করার জন্য বিভিন্ন সত্য ব্যবহার করেন। এই বাক্যে বিভিন্ন সত্য অন্তর্ভুক্ত থাকে, যেমন মানুষের কর্তব্য, কীভাবে মানুষের ঈশ্বরকে মান্য করা উচিত, কীভাবে মানুষের ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ত থাকা উচিত, কীভাবে মানুষের স্বাভাবিক মানবতাসম্পন্ন জীবনযাপন করা উচিত, সেইসাথে থাকে ঈশ্বরের প্রজ্ঞা এবং স্বভাব ইত্যাদি বিষয়সমূহ। এই সমস্ত বাক্য মানুষের উপাদান এবং তার ভ্রষ্ট স্বভাবের দিকেই ইঙ্গিত করে। বিশেষ করে, সেই সমস্ত বাক্য, যা অনাবৃত করে মানুষ কীভাবে ঈশ্বরকে প্রত্যাখ্যান করেছে, তা আসলে এ সম্পর্কে কথা বলে যে কীভাবে মানুষ শয়তানের মূর্ত প্রতীক হয়ে উঠেছে এবং ঈশ্বরের বিরুদ্ধে শত্রু শক্তিতে পরিণত হয়েছে। তাঁর বিচারকার্যের সময়, ঈশ্বর কেবলমাত্র কয়েকটি বাক্যের মাধ্যমে মানুষের প্রকৃতি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন না; তিনি দীর্ঘমেয়াদে তা অনাবৃত করেন, মোকাবিলা করেন এবং তাদের অপ্রয়োজনীয় অংশের কর্তন করেন। অনাবৃতকরণ, মোকাবিলা এবং অপ্রয়োজনীয় অংশের কর্তনের এই সমস্ত ভিন্ন পদ্ধতি সাধারণ শব্দ দ্বারা প্রতিস্থাপিত করা যায় না, সেই সত্যের দ্বারাই প্রতিস্থাপিত করা যায় যার সম্পর্কে মানুষ একেবারেই অসচেতন। শুধুমাত্র এই ধরনের পদ্ধতিকেই বিচার বলা যেতে পারে; শুধুমাত্র এই ধরনের বিচারের মাধ্যমেই মানুষ ঈশ্বরের প্রতি অনুগত হতে পারে, তাঁর সম্বন্ধে দৃঢ়ভাবে নিশ্চিত হতে পারে, এবং ঈশ্বর সম্পর্কে প্রকৃত জ্ঞান লাভ করতে পারে। এই বিচারের কাজই প্রতিফলিত করে ঈশ্বরের আসল চেহারা সম্পর্কে মানুষের উপলব্ধি, এবং তার নিজের বিদ্রোহের সত্য। বিচারের কাজ মানুষকে ঈশ্বরের ইচ্ছা, তাঁর কাজের উদ্দেশ্য এবং দুর্বোধ্য রহস্য সম্পর্কে অনেক বেশি করে বোঝার সুযোগ দেয়। এটি মানুষকে নিজের ভ্রষ্ট সারসত্য এবং সেই ভ্রষ্টাচরণের মূল চিনতে ও জানতে শেখায়, এবং সেইসাথে মানুষের কদর্যতা আবিষ্কার করতে শেখায়। এই সমস্ত প্রভাব বিচারের কাজের মাধ্যমে প্রতিভাত হয়, কারণ এই কাজের সারমর্ম হল ঈশ্বরের সত্য, পথ এবং জীবনকে তাঁর অনুগামীদের কাছে উন্মুক্ত করার কাজ। এই কাজ ঈশ্বরের বিচারের কাজ(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, খ্রীষ্ট সত্যের দ্বারাই বিচারের কাজ করেন)

ঈশ্বরের বাক্য পাঠের পর এটা পরিষ্কার হয়ে যাওয়া উচিত যে অন্তিম সময়ে ঈশ্বরের বিচারকার্য মূলত নির্বাহ করা হয় সত্য প্রকাশের দ্বারা, মানুষের বিচার, পরিশোধন, ও উদ্ধার করার জন্য সত্যকে ব্যবহার করার মাধ্যমে। অর্থাৎ, অন্তিম সময়ে, ঈশ্বর তাঁর বিচারকার্যের দ্বারা মানবজাতির কলুষতা পরিশুদ্ধ করেন, এক দল মানুষকে উদ্ধার করেন ও নিখুঁত করে তোলেন, ঈশ্বরের সমমনস্ক মানুষের একটা দল গঠন করেন: যা ঈশ্বরের ৬,০০০ বছরের পরিচালনামূলক পরিকল্পনার ফল। অন্তিম সময়ের বিচারকার্যের সমস্ত মনোযোগ এখানেই কেন্দ্রীভূত থাকে! এই কারণেই পরিত্রাতা, সর্বশক্তিমান ঈশ্বর, তাঁর আগমনের সময় থেকেই সত্যের প্রকাশ করে চলেছেন, মানুষের সমস্ত প্রকার ভ্রষ্ট স্বভাবকে অনাবৃত ও বিচার করছেন। এছাড়াও তিনি আমাদের অপ্রয়োজনীয় অংশের কর্তন ও আমাদের মোকাবিলা করার মাধ্যমে, এবং আমাদের পরীক্ষা গ্রহণ ও পরিমার্জনের মাধ্যমে, আমাদের ভ্রষ্ট স্বভাবকে পরিশুদ্ধ ও রূপান্তরিত করে চলেছেন; তা মানুষের পাপপূর্ণতার মূল কারণের সমাধান করে, আমাদের সম্পূর্ণরূপে পাপকে পরিত্যাগ করতে দেয়, শয়তানের প্রভাব থেকে মুক্ত হতে দেয়, এবং ঈশ্বরের কাছে সমর্পিত হতে ও ঈশ্বরের উপাসনা করতে দেয়। এই পর্যায়ে কেউ কেউ হয়তো সামান্য বিভ্রান্ত হতে পারে, মনে করতে পারে যে প্রভু যীশু ইতিমধ্যেই মানবজাতিকে মুক্ত করেছেন, তাহলে অন্তিম সময়ে মানবজাতির বিচারের জন্য ঈশ্বরের সত্য প্রকাশ করার কী প্রয়োজন? এর কারণ হল, প্রভু যীশু শুধু মুক্তির কাজই করেছেন, অর্থাৎ প্রভু যীশুতে বিশ্বাস পাপের ক্ষমা এনে দেয়, বা শুধু বিশ্বাসের দ্বারাই ন্যায্যতা এনে দেয়, যা মানুষকে যোগ্যতা প্রদান করে প্রার্থনার জন্য ঈশ্বরের সম্মুখে আসতে, ঈশ্বরের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে, এবং তাঁর অনুগ্রহ ও আশীর্বাদ উপভোগ করতে। তবে, পাপস্খালনের বলি হিসাবে প্রভু যীশুর ভূমিকা মানবজাতিকে শুধুমাত্র পাপের ক্ষমা পাওয়ার অনুমতি দিয়েছিল; তা মানুষের পাপপূর্ণতার মূল সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান করেনি। এগুলো সবই বাস্তব তথ্য। এই কারণেই অনুগ্রহের যুগে বসবাসকারী সকলেই একথা স্বীকার করে নিয়েছে যে মানুষের পাপের ক্ষমা করে দেওয়ার পরেও আমরা সর্বদাই পাপ করে চলা অব্যাহত রেখেছি। তা থেকে আমরা নিজেদের দূরে রাখতে পারিনি, আর পাপকে পরিত্যাগ করার জন্য যতই আকুল হয়ে থাকি, তা করে উঠতে পারিনি। দিনের বেলায় পাপ ক’রে আর রাতে দোষ স্বীকার ক’রে আমরা জীবন অতিবাহিত ক’রে চলেছি। এই কারণেই প্রভু যীশু ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, “আমার এখনও অনেককিছুই তোমাদের বলার আছে, কিন্তু এখন তোমরা সেগুলো বহন করতে পারবে না। সেই সত্যের আত্মা যখন আসবেন তিনি তোমাদের সকল সত্যের পথে পরিচালিত করবেন। … এবং সমস্ত ভাবী ঘটনার কথা তিনি তোমাদের কাছে প্রকাশ করবেন(যোহন ১৬:১২-১৩)। এটা নির্দেশ করছে সেই বিচারকার্যের প্রতি যা অন্তিম সময়ে যখন আবার প্রভু যীশু আসবেন তখন তিনি নির্বাহ করবেন, মানুষকে তাদের ভ্রষ্ট স্বভাব থেকে সম্পূর্ণভাবে পরিশুদ্ধ করবেন এবং তাদের পাপপূর্ণতার মূলের সমাধান করবেন। এভাবেই মানুষ সম্পূর্ণরূপে, পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে, উদ্ধারলাভ করবে। অর্থাৎ, যারা অন্তিম সময়ের বিচারকার্যের অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে না গিয়ে শুধুই প্রভু যীশুর প্রদত্ত মুক্তির অভিজ্ঞতা লাভ করেছে, তারা শুধুমাত্র নিজেদের কী কী কাজ পাপপূর্ণ সেটুকু বুঝতে পারার অতিরিক্ত আর কিছুই করতে পারবে না; মানুষের পাপপূর্ণতার মূল কারণ তারা দেখতে পাবে না। অর্থাৎ, তারা মানুষের শয়তানোচিত প্রকৃতি ও স্বভাবকে উপলব্ধি করতে অক্ষম, সেগুলো সমাধান করা তো অনেক দূরের কথা। মানুষের পাপপূর্ণতার মূল কারণ যে ভ্রষ্ট স্বভাব, সেই ভ্রষ্ট স্বভাবের সমস্যার সমাধান করার একমাত্র রাস্তা হল ঈশ্বরের বিচারের অভিজ্ঞতা লাভ করা। সর্বশক্তিমান ঈশ্বর বলেছেন, “মুক্তিলাভের পূর্বে শয়তানের অনেক বিষ ইতিমধ্যেই মানুষের মধ্যে রোপণ করা হয়েছিল, এবং হাজার হাজার বছর ধরে শয়তানের দ্বারা কলুষিত হওয়ার পর তার মধ্যে এক ঈশ্বরবিরোধী চরিত্র প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। অতএব, মানুষ যখন মুক্তিলাভ করে, তা এমন এক মুক্তির চেয়ে বেশি কিছুই নয়, যেখানে তাকে উচ্চ মূল্যে ক্রয় করা হয়, কিন্তু তার বিষাক্ত চরিত্র নির্মূল হয় নি। মানুষ, যে এত অপবিত্র, ঈশ্বরের সেবা করার যোগ্য হওয়ার আগে তাকে পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এই বিচার ও শাস্তিদানের কার্যের মাধ্যমে মানুষ নিজের ভিতরের কলুষিত ও ভ্রষ্ট সত্তার সম্বন্ধে জানতে পারবে, এবং সে সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তিত ও শুদ্ধ হতে সক্ষম হবে। একমাত্র এই উপায়েই মানুষ ঈশ্বরের সিংহাসনের সম্মুখে প্রত্যাবর্তনের যোগ্য হয়ে উঠবে। এখনকার দিনে যে সমস্ত কার্য সম্পাদিত হয়, তা সকলই মানুষকে শুদ্ধ ও পরিবর্তিত করার জন্য; বাক্য দ্বারা বিচার ও শাস্তির মাধ্যমে, এবং সেইসাথে পরিমার্জনের দ্বারা, মানুষ যাতে কলুষতা দূর করতে ও পরিশুদ্ধ হতে পারে। এই পর্যায়ের কাজকে পরিত্রাণের কাজ হিসেবে গণ্য না করে বরং শুদ্ধিকরণের কাজ বললে বেশি যথার্থ হবে। আসলে, এই পর্যায়টি হল বিজয়লাভের পর্যায়, এবং সেইসাথে পরিত্রাণের কার্যের দ্বিতীয় পর্যায়। মানুষ বাক্য দ্বারা বিচার ও শাস্তির মাধ্যমে ঈশ্বরের দ্বারা অর্জিত হওয়ার গন্তব্যে পৌঁছায়, এবং বাক্যের ব্যবহারের দ্বারাই পরিমার্জন, বিচার ও প্রকাশ ঘটে মানুষের হৃদয়ের অন্তর্নিহিত অশুদ্ধতা, ধারণা, উদ্দেশ্য, ও স্বতন্ত্র আকাঙ্ক্ষা, এইসবের। মানুষ যে কারণে হয়তো মুক্তিলাভ করেছে ও তার পাপের ক্ষমা পেয়েছে, তার কারণ একমাত্র এটাই হতে পারে যে, ঈশ্বর মানুষের অপরাধ মনে রাখেন নি, এবং মানুষের সঙ্গে সেই অপরাধের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ব্যবহার করেননি। তথাপি, একজন মানুষ, যে একটি রক্ত-মাংসের দেহে বাস করে, যে এখনো পাপ থেকে মুক্তি পায়নি, সে শুধুমাত্র অবিরাম তার ভ্রষ্ট শয়তানোচিত স্বভাব প্রকাশ করে পাপ করে যেতে পারে। মানুষ পাপ করা এবং ক্ষমা প্রাপ্ত হওয়ার এই অবিরাম চক্রে জীবনযাপন করে চলে। মানবজাতির অধিকাংশই সকালে পাপ করে সন্ধ্যায় তা স্বীকার করে নেওয়ার জন্য। অতএব, যদিও পাপ-উৎসর্গ মানুষের জন্য সর্বদা কার্যকর, কিন্তু তা মানুষকে পাপ থেকে উদ্ধার করতে পারবে না। পরিত্রাণের কার্যের কেবল অর্ধমাত্রই সম্পন্ন হয়েছে, কারণ মানুষের মধ্যে এখনো ভ্রষ্ট স্বভাব রয়ে গেছে। … নিজের পাপের বিষয়ে অবগত হওয়া মানুষের জন্য খুব সহজ নয়; তার নিজের গভীরে প্রোথিত চরিত্র চিনতে পারার কোনো উপায় তার নেই, এবং এই ফলাফল লাভের জন্য তাকে বাক্যের বিচারের উপর নির্ভর করতেই হয়। একমাত্র এভাবেই সেইখান থেকে মানুষ ধীরে ধীরে পরিবর্তনের পথে এগোতে পারে(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, অবতাররূপের রহস্য (৪))। “যদিও যীশু মানুষের মধ্যে অনেক কাজ করেছিলেন, কিন্তু তিনি শুধুমাত্র সমস্ত মানবজাতির মুক্তি সম্পূর্ণ করেছিলেন এবং মানুষের পাপস্খালনের বলি হয়েছিলেন; তিনি মানুষকে তার সমস্ত ভ্রষ্ট স্বভাব থেকে মুক্তি দেননি। শয়তানের প্রভাব থেকে মানুষকে পুরোপুরি মুক্ত করার জন্য শুধু যীশুর পাপস্খালনের বলি হওয়া আর মানুষের পাপ বহন করার প্রয়োজন ছিল তাই নয়, বরং মানবজাতিকে সম্পূর্ণরূপে তার শয়তানোচিত ভ্রষ্ট স্বভাব থেকে উদ্ধার করার জন্য ঈশ্বরের আরো মহত্তর কর্মের প্রয়োজন ছিল। এবং তাই, এখন যখন মানুষ তার পাপের ক্ষমা পেয়েছে, ঈশ্বর মানুষকে নতুন যুগে নিয়ে যাওয়ার জন্য দেহরূপে ফিরে এসেছেন এবং শাস্তি ও বিচারের কাজ শুরু করেছেন। এই কাজ মানুষকে এক উচ্চতর জগতে নিয়ে এসেছে। যারা তাঁর রাজত্বের অধীনে আত্মসমর্পণ করে তারা উচ্চতর সত্য উপভোগ করবে এবং বৃহত্তর আশীর্বাদ লাভ করবে। তারা প্রকৃতপক্ষেই আলোতে বাস করবে, এবং তারা সত্য, পথ ও জীবন লাভ করবে(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, ভূমিকা)। ঈশ্বর স্বয়ং আগমনের জন্য ও বিচারকার্য নির্বাহ করার জন্য এক দেহরূপ ধারণ করেছেন, প্রভূত সত্য প্রকাশ করছেন, এবং দীর্ঘমেয়াদি ভাবে মানুষকে অনাবৃত করছেন ও তাদের বিচার করছেন। একমাত্র এই উপায়েই মানুষ নিজেদের কলুষতার সত্যকে স্পষ্টভাবে দেখতে পারে এবং নিজেদের প্রকৃতি ও সারমর্মকে চিনতে পারে। এই বিচারের মাধ্যমে মানুষ ঈশ্বরের ন্যায়পরায়ণতা ও পবিত্রতাও প্রত্যক্ষ করবে, এবং এইভাবে ঈশ্বরের প্রতি তাদের সম্মান বৃদ্ধি পাবে। একমাত্র এই উপায়েই আমরা ধীরে ধীরে আমাদের ভ্রষ্ট স্বভাব পরিত্যাগ করতে পারবো এবং এক প্রকৃত মানব সদৃশ জীবন যাপন করতে পারবো। বলা যেতে পারে যে তা সম্পন্ন করার একমাত্র উপায় হল বিচারকার্য নির্বাহের উদ্দেশ্যে ঈশ্বরের অবতাররূপের দ্বারা সত্যের প্রকাশ। এই কারণেই সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের দ্বারা বাক্যের উচ্চারণ, বিচারকার্যের উদ্দেশ্যে সত্যের প্রয়োগ, এতটাই মূল, এতই গুরুত্বপূর্ণ, এবং এতই অর্থবহ!

একজন বিশ্বাসীকে সম্পূরূর্ণভাবে উদ্ধার করা যাবে কি না, বা সে উত্তম গন্তব্য লাভ করবে কি না, তার চাবিকাঠি নিহিত রয়েছে সে ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কাজকে স্বাগত জানাতে সক্ষম কি না তার মধ্যে। অর্থাৎ, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, কেউ ঈশ্বরের কণ্ঠ শুনতে সক্ষম কি না। প্রচুর মানুষ তাদের সারা জীবন ধরে প্রভুতে বিশ্বাস করে, কিন্তু কখনও ঈশ্বরের কণ্ঠ না শুনতে পেয়ে অথবা প্রভুকে স্বাগত না জানিয়েই তাদের জীবনের সায়াহ্নে পৌঁছে যায়, অর্থাৎ তাদের সকল প্রচেষ্টাই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। এই কারণেই, কেউ সম্পূর্ণ পরিত্রাণ লাভ করতে পারবে কি না এবং উত্তম গন্তব্য অর্জন করবে কি না তা নির্ধারণের মূল বিষয় হল সে ঈশ্বরের কণ্ঠ শুনতে সক্ষম কি না। অনেকেই সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের বাক্য পাঠ করে এবং স্বীকার করে যে সেগুলোই সত্য, কিন্তু তবুও তারা মেনে নিতে অক্ষম যে সর্বশক্তিমান ঈশ্বরই প্রত্যাবর্তিত প্রভু। এটা সত্যিই লজ্জার বিষয়, এবং মানুষের মূর্খতা ও অন্ধত্বের ফল। যারা প্রভুকে জানে না তারা বিপর্যয়ের মধ্যে পড়তে বাধ্য, তারা কাঁদবে আর দাঁতে দাঁত ঘষবে।

সর্বশক্তিমান ঈশ্বর বলেছেন, “রাজ্যের যুগে, যে পদ্ধতিতে তিনি কাজ করেন তা পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে, এবং সমগ্র যুগের কাজ সম্পাদন করার জন্য, ঈশ্বর নতুন যুগের সূচনা করতে বাক্যের ব্যবহার করেন। এই নীতির ভিত্তিতেই ঈশ্বর বাক্যের যুগে কাজ করে থাকেন। তিনি দেহে পরিণত হয়েছিলেন বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কথা বলার জন্য, যাতে মানুষ প্রকৃতপক্ষেই দেখতে পায় ঈশ্বরকে, যে ঈশ্বর দেহরূপে আবির্ভূত বাক্য, এবং তাঁর প্রজ্ঞা ও বিস্ময়করতা প্রত্যক্ষ করতে পারে। মানুষকে জয় করা, তাদের নিখুঁত করে তোলা, এবং অপসারণ করার লক্ষ্য আরও ভালোভাবে অর্জন করার জন্য এই কাজ করা হয়, বাক্যের যুগের কাজ করা জন্য বাক্য ব্যবহারের প্রকৃত অর্থ। এই সকল বাক্যের মাধ্যমেই মানুষ ঈশ্বরের কাজ, ঈশ্বরের স্বভাব, মানুষের জীবনের উপাদান, এবং মানুষের কোথায় প্রবেশ করা উচিত, সে সব বিষয় জানতে পারে। বাক্যের যুগে ঈশ্বর যে কাজ করতে চান তা বাক্যের মাধ্যমেই সামগ্রিকভাবে ফলদায়ী করা হয়। এই সকল বাক্যের মাধ্যমেই মানুষ উন্মোচিত হয়, অপসৃত হয় এবং তাদের বিচার করা হয়। মানুষ ঈশ্বরের বাক্য দেখেছে, শুনেছে এবং এই বাক্যের অস্তিত্ব স্বীকার করেছে। ফলস্বরূপ, তারা বিশ্বাস করতে পেরেছে ঈশ্বরের অস্তিত্বে, তাঁর সর্বশক্তিমানতা ও প্রজ্ঞায়, এবং সেইসাথে মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসায় ও মানুষকে উদ্ধার করার জন্য তাঁর আকাঙ্খায়। ‘বাক্য’ শব্দটি হয়তো সোজা ও সাধারণ, কিন্তু ঈশ্বরের অবতারের মুখনিঃসৃত বাক্য মহাবিশ্বকে কাঁপিয়ে দেয়, মানুষের হৃদয়কে রূপান্তরিত করে, তাদের পূর্বধারণা ও পুরানো স্বভাবে পরিবর্তন আনে, এবং সমগ্র বিশ্ব পূর্বে যেভাবে প্রতীয়মান হত তাতেও পরিবর্তন আনে। যুগে যুগে, শুধুমাত্র বর্তমানের ঈশ্বরই এইভাবে কাজ করেছেন, এবং শুধুমাত্র তিনিই এইভাবে কথা বলেন এবং এইভাবেই মানুষকে উদ্ধার করতে আসেন। এই সময়ের থেকে, মানুষ ঈশ্বরের বাক্যের নির্দেশনায় জীবন অতিবাহিত করে, তাঁর বাক্যের দ্বারাই পরিচালিত এবং প্রতিপালিত হয়। মানুষ ঈশ্বরের বাক্যের জগতে, ঈশ্বরের বাক্যের অভিশাপ ও আশীর্বাদের মধ্যেই বাস করে, এবং এমনকি আরও বেশি মানুষ আছে যাদের তাঁর বাক্যের বিচার ও শাস্তির অধীনে জীবন যাপন করতে হচ্ছে। এইসকল বাক্য এবং এই কাজটি সম্পূর্ণভাবে মানুষের পরিত্রানের স্বার্থে, ঈশ্বরের ইচ্ছা পূরণ করার স্বার্থে, এবং পুরানো সৃষ্টির আদি অবস্থা পরিবর্তন করার স্বার্থে। ঈশ্বর তাঁর বাক্যের ব্যবহার করেই বিশ্ব সৃষ্টি করেছেন, সমগ্র মহাবিশ্ব জুড়ে তিনি বাক্য ব্যবহার করেই মানুষকে নেতৃত্ব দেন, এবং তিনি বাক্যের ব্যবহার করেই তাদের জয় এবং উদ্ধার করেন। শেষ পর্যন্ত, তিনি বাক্য ব্যবহার করেই সমগ্র পুরাতন বিশ্বের পরিসমাপ্তি ঘটাবেন, এইভাবেই তাঁর পরিচালনামূলক পরিকল্পনার সমগ্রতাকে সম্পূর্ণতা দান করবেন(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, রাজ্যের যুগই হল বাক্যের যুগ)

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।

সম্পর্কিত তথ্য

ঈশ্বরের মানবজাতিকে উদ্ধার করার জন্য তিনটে পর্যায়ের কাজ প্রয়োজন কেন?

আমরা সবাই জানি, ২,০০০ বছর আগে, মানবজাতিকে মুক্তি দেওয়ার জন্য প্রভু যীশু যিহুদীয়াতে আবির্ভূত হয়েছিলেন ও কাজ করেছিলেন, এবং প্রচার করেছিলেন,...

ধর্মগুরুদের অনুসরণ করার অর্থই কি ঈশ্বরকে অনুসরণ করা?

আজ থেকে দু’হাজার বছর আগে আমাদের পরিত্রাতা প্রভু যীশু মুক্তির কার্য সম্পন্ন করতে এসেছিলেন এবং তাঁর উন্মত্ত নিন্দা করেছিল প্রধান পুরোহিত,...

এ কথা কি সত্যি যে ঈশ্বরের সব কাজ ও বাক্য বাইবেলে আছে?

পরিত্রাতা সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আবির্ভূত হয়েছেন এবং অন্তিম সময়ে কাজ করছেন এবং তিনি লক্ষ লক্ষ সত্য প্রকাশ করেছেন। তিনি মানবজাতিকে সম্পূর্ণ রূপে...

Leave a Reply

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন