সুসমাচার প্রচারে যখন আমার সমস্যা হত

04-09-2023

২০২০ সালে, আমি অন্তিম সময়ে সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কাজ স্বীকার করি। প্রভুর প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানাতে পারা আমার কাছে এক মহান আশীর্বাদ ছিল। অবিশ্বাস্যভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সুসংবাদটি ছড়িয়ে দিতে, আমি সুসমাচার প্রচার শুরু করি, এই আশায় যে আরও বেশি মানুষ ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর শুনে তাঁর কাছে ফিরে যেতে পারে। তবে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে, মায়ানমার সরকার কর্তৃক ধর্মীয় বিশ্বাস দমনের কারণে, আমার গির্জা নিগৃহীত হয়, এবং সুসমাচার প্রচারের কাজ ব্যাপকভাবে বাধা পায়। কাপুরুষতা ও দুর্বলতার কারণে অনেক ভ্রাতা ও ভগিনী সমাবেশে যোগ দিত না, কেউ কেউ নিজেদের দায়িত্বে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে, এবং সুসমাচার প্রচারের কাজ মূলত থেমে যায়। সে সময় আমিও নিজের দায়িত্ব পালনে নিষ্ক্রিয় থাকতাম। আমার নেতা যতটুকু ব্যবস্থা করতে পারত আমি ততটুকুই করতাম। আমি ভাবতাম যে মানুষকে সিঞ্চনের কাজ আমি স্বাভাবিকাভাবেই করছি, কিন্তু তারাই অনিয়মিতভাবে সমাবেশে যোগ দেয় এবং নিজেদের দায়িত্ব পালনে নিষ্ক্রিয়। তাই আমার কিছুই করার ছিল না। এবং কখনও কখনও, ইন্টারনেটও থাকত না, তাই কাজ সম্পর্কে জানতে ভ্রাতা ও ভগিনীদের সাথে অনলাইনে হতে পারতাম না, অর্থাৎ, আমাকে ইন্টারনেট যোগাযোগ খুঁজতে হত। মাঝে মাঝে আমি অনেকঅনুসন্ধান করেও ভালো ইন্টারনেট খুঁজে পেতাম না, এবং সময়ের সাথে সাথে, আমি আর কাজ সম্পর্কে জানতে অনলাইন হতে চাইতাম না। সেই সময়ে, আমি এক ভগিনীর আত্মীয়ের কাছে সুসমাচার প্রচার করছিলাম। তাদের তিনজনের পরিবার অন্তিম সময়ের ঈশ্বরের কাজকে গ্রহণ করে, তাই আমি সেখানে দশ দিন ধরে থেকে সিঞ্চন করি। আমি এই তিন নবাগতকে সিঞ্চন করেই সন্তুষ্ট ছিলাম, এবং আর প্রচার করতে চাইনি। আমি ভেবেছিলাম, “তারা জানায় যে কাছের গ্রামগুলিতে এত গুজব রটেছে যে সুসমাচার ছড়িয়ে দেওয়া কঠিন। আমি যদি এই তিনজনের পরিবারকে ভালো করে সিঞ্চন করতে পারি, তা হলে তারা আমাকে তাদের আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের কাছে প্রচার করার জন্য নিয়ে যাবে। এটি কি সুসমাচার প্রচার করার একটি ভালো উপায় নয়?” সুতরাং, যখন ভ্রাতা ও ভগিনীরা পার্শ্ববর্তী গ্রামে সম্ভাব্য সুসমাচার প্রাপকদের উল্লেখ করত, আমি খুব কমই আলোচনা করতাম যে কীভাবে তাদের কাছে সুসমাচার প্রচার করা যায়। এটি সুসমাচারের কাজকে সরাসরি প্রভাবিত করে।

আমরা পরে যখন কাজ করতে যাই, নেতা বলেন যে আমাদের গির্জার সুসমাচার প্রচার মূলত সেই মাসের জন্য বন্ধ ছিল, এবং আরো কিছু সমস্যা উল্লেখ করে। এতে আমার খুব দুঃখ হয়। পরে এক ভগিনী আমাকে সতর্ক করে দেয় যে আমি স্থিতাবস্থায় সন্তুষ্ট হয়ে নিজের দায়িত্বে অগ্রগতি চাইছি না। এতে আমি হঠাৎ জাগ্রত হয়ে উঠি। বুঝতে পারি যে আমি নিজ দায়িত্বের ভার বহন করছি না। কোনো নেতার যা করা উচিত গির্জার এক নেতা হিসাবে আমি তা করিনি, এবং আমি সমস্যার সম্মুখীন হইনি বা সমাধান করিনি, যার ফলস্বরূপ সুসমাচারের কাজ প্রভাবিত হয়। এটা নিয়ে যতই ভাবি, ততই খারাপ লাগে। আত্মচিন্তন করতে গিয়ে আমি ঈশ্বরের বাক্য পড়ি, “বর্তমানে, এমন কিছু মানুষ রয়েছে যারা গির্জার জন্য কোনও বোঝা বহন করে না। এদের মধ্যে শৈথিল্য রয়েছে এবং এরা ভাবপ্রবণ, এবং শুধুমাত্র তারা নিজেদের দেহ নিয়ে যত্নশীল। এরা অত্যন্ত স্বার্থপর, এবং তারা অন্ধ। তুমি যদি এই বিষয়টি পরিষ্কারভাবে দেখতে না পাও তবে তুমি কোনও দায়ভারই বহন করতে পারবে না। তুমি ঈশ্বরের ইচ্ছা সম্পর্কে যত বেশি মনোযোগী হবে, তত বেশি দায়ভার তিনি তোমায় অর্পণ করবেন। স্বার্থপর লোকেরা এই কষ্টভোগ করতে ইচ্ছুক নয়; তারা মূল্য দিতে চায় না, এবং ফলে তারা ঈশ্বরের দ্বারা নিখুঁত হয়ে ওঠার সুযোগগুলো হারাবে। এতে কি তারা নিজেদের ক্ষতি করছে না? তুমি যদি এমন কেউ হও যে ঈশ্বরের ইচ্ছা সম্পর্কে মনোযোগী, তবে তোমার গির্জার জন্য একটি সত্যিকারের দায়ভারের বোধ তৈরি হবে, গির্জার জন্য তুমি একটি বোঝা বহন করছো এই কথা বলার পরিবর্তে, এমন বলা ভালো যে, এই বোঝা তুমি তোমার নিজের জীবনের জন্য বহন করছ; কারণ গির্জার জন্য তুমি যে সব বোঝা তৈরি করেছ তার উদ্দেশ্য হল যাতে এই ধরনের অভিজ্ঞতাগুলো কাজে লাগিয়ে ঈশ্বরের দ্বারা তুমি নিখুঁত হও। অতএব, যে গির্জার জন্য সবচেয়ে বড় বোঝা বহন করে, যে জীবনে প্রবেশ করার জন্য একটি বোঝা বহন করে সেই ঈশ্বরের দ্বারা নিখুঁত হবে। তুমি কি এটা পরিষ্কারভাবে দেখতে পাচ্ছ? তুমি যে গির্জার সাথে আছো তা যদি বালির মতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে, কিন্তু তুমি যদি তাতে চিন্তিত বা উদ্বিগ্ন না হও, এবং যখন তোমার ব্রাদার-সিস্টারেরা ঈশ্বরের বাক্যগুলো স্বাভাবিকভাবে ভোজন এবং পান করছে না, তখন তুমি যদি তা দেখেও না-দেখার ভান করো, তবে তুমি কোনও বোঝা বহন করছ না। এই ধরনের মানুষদের নিয়ে ঈশ্বর কোনো আনন্দ পান না। যে ধরনের মানুষেরা ন্যায়পরায়ণতার জন্য ক্ষুধিত ও তৃষ্ণার্ত হয় এবং ঈশ্বরের ইচ্ছা সম্পর্কে মনোযোগী থাকে ঈশ্বর তাদের নিয়ে আনন্দিত হন(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, নিখুঁত হওয়ার জন্য ঈশ্বরের ইচ্ছা সম্পর্কে সচেতন হও)। যখন ঈশ্বরের বাক্য চিন্তা করি, তখন নিজেকে খুব অপরাধী বোধ হয়। গির্জার নেতা হয়েও, যখন দেখি যে সুসমাচারের কাজ থমকে গেছে, আমি কোনো তাড়না বোধ করিনি, বরং বাস্তব কোনো অজুহাত খাড়া করেছি, এবং ভাবি যেহেতু আমার কাছে ভালো ইন্টারনেট যোগাযোগ ছিল না, তাই সকলে বুঝবে যে কেন আমি কাজ সম্পর্কে শিখতে পারি নি। আমার ভ্রাতা ও ভগিনীদের থেকে আসা সুসমাচারের সম্ভাব্য প্রাপকদের কাছে, কীভাবে সুসমাচার প্রচার করা যায় সে বিষয়ে আমি খুব কমই কারোর সাথে আলোচনা করি, এবং যখন ভগিনীরা আমার সাথে কাজ নিয়ে আলোচনা করতে চাইত, তারা আমার খোঁজ পেত না। গির্জার নিপীড়নের সময়, ভ্রাতা ও ভগিনীরা ভীত এবং দুর্বল হয়ে পড়ে, তাই স্বাভাবিকভাবে সমাবেশে আসতে বা তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারত না, কিন্তু তা সমাধানের জন্য আমি সত্য অন্বেষণ করি নি। অবশেষে বুঝতে পারি সুসমাচার প্রচারের কাজ বন্ধ হওয়ার জন্য সরাসরি দায়ী আমি। ঈশ্বরের বাক্যে বলা হয়েছে, “বর্তমানে, এমন কিছু মানুষ রয়েছে যারা গির্জার জন্য কোনও বোঝা বহন করে না। এদের মধ্যে শৈথিল্য রয়েছে এবং এরা ভাবপ্রবণ, এবং শুধুমাত্র তারা নিজেদের দেহ নিয়ে যত্নশীল। এরা অত্যন্ত স্বার্থপর, এবং তারা অন্ধ।” আমি উপলব্ধি করি ঈশ্বরের বাক্য বর্ণিত স্বার্থপর মানুষটি হলাম আমি। গির্জার কাজের ভার আমি বহন করি নি, সবসময়ই সন্তুষ্ট ছিলাম স্থিতাবস্থায়। কেবলমাত্র নিজের আরামের কথাই ভেবেছি, যথাযথ মূল্য দিতে বা স্বার্থত্যাগ করতে অস্বীকার করেছি। যখন দেখেছি যে গির্জার সুসমাচারের কাজ ব্যাহত হচ্ছে আমার মধ্যে কোনো তাড়না বা উদ্বেগ তৈরি হয়নি, এবং অসুবিধার সময়ে দুর্বল ও নিষ্ক্রিয় হয়ে থেকেছি। খুবই স্বার্থপর ছিলাম আমি। অন্যান্য যেসব জায়গার গির্জায় সরকার নিপীড়ন চালিয়েছে তাদের কথা ভেবেছি, সেখানকার ভ্রাতা ও ভগিনীরা কিন্তু সুসমাচার প্রচারের কাজ চালিয়ে গেছেন এবং নতুন গির্জা তৈরি করেছেন, কিন্তু আমাদের গির্জার সুসমাচার প্রচারের কাজ থেমে গিয়েছিল। এই সবই ঘটার কারণ হলো আমি ছিলাম স্বার্থপর ও ঘৃণ্য, ভার বহন ও দায়িত্ব পালন করতে চাইতাম না। ঈশ্বরের কাছে আমি খুবই কৃতজ্ঞ বোধ করি। যখন আমি আবার ভার বহন করতে শুরু করি, যখনই কেউ সত্য পথের অনুসন্ধান করতে চাইত আমি দ্রুততার সাথে কোনো একজন সুসমাচার প্রচারকের ব্যবস্থা করতাম, এবং যখন ভ্রাতা ও ভগিনীরা কোনো সমস্যায় পড়ত, সেগুলির সমাধানে সত্য অনুসন্ধানের জন্য আমি তাদের সাথে আলাপ-আলোচনা করতাম। যতই আমি সহযোগিতা করেছি পবিত্র আত্মার কাজ ততই আমি বেশি পেয়েছি, ফলপ্রসূ হয়েছে সুসমাচার প্রচার, এবং আমি স্বস্তি ও আনন্দিত বোধ করেছি। কিন্তু অতি সম্প্রতি, যেহেতু আমি বোঝা বহন না করেই আমি দায়িত্ব পালন করেছি, তাই সুসমাচারের কাজ ফলপ্রসূ হয় নি। এই সময়ে, ঈশ্বরের এই বাক্যগুলি, “যে গির্জার জন্য সবচেয়ে বড় বোঝা বহন করে, যে জীবনে প্রবেশ করার জন্য একটি বোঝা বহন করে সেই ঈশ্বরের দ্বারা নিখুঁত হবে।” অবশেষে আমি সামান্য উপলব্ধি অর্জন করি। কেবলমাত্র যারা ঈশ্বরের অভিপ্রায় বিবেচনা করে এবং যারা গির্জার কাজের বোঝা বহন করে তারাই ঈশ্বরের দ্বারা নিখুঁত হবে। আমি আরও উপলব্ধি করি নিষ্ক্রিয় অবস্থা থেকে যদি আমি ঘুরে না দাঁড়াই, তা হলে গির্জার কাজই শুধু ব্যাহত হবে না, আমিও শেষ পর্যন্ত প্রকাশিত এবং বিতাড়িত হব। এ কথা ভেবে আমি সামান্য ভীত হই। আমি আর নিষ্ক্রিয় বা অমনোযোগী হতে পারি না। ঈশ্বরের কাছে আমি প্রার্থনা করি যাতে বোঝা বহনে আমাকে সাহায্য করেন, এবং তাঁর অভিপ্রায় যাতে বিবেচনা করতে পারি এবং নিজ দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করতে পারি তাঁর দিক-নির্দেশ দেন।

তারপর, দলের নেতা ও সুপারভাইজারদের সাথে আমি আলোচনা করি যে অন্যত্র আর কোথায় আমরা সুসমাচার প্রচারের কাজ করতে পারি। একটি গ্রাম খুঁজে পাই আমরা যেখানকার মানুষরা সকলেই ঈশ্বর-বিশ্বাসী, কিন্তু সে সময়ে সেখানে যাওয়ার মত উপযুক্ত লোক পাওয়া যায়নি। আমি ভাবঅলাম, “এবার, আমাকে ঈশ্বরের ইচ্ছা বিবেচনা করতে হবে এবং আগের মত বোঝাহীন হওয়া চলবে না। সক্রিয়ভাবে আমাকে এই দায়িত্ব নিতে হবে।” তাই, আমি স্বেচ্ছায় সেই গ্রামে গিয়ে সুসমাচার প্রচার করি। কিন্তু আমি সামান্য ঘাবড়ে গিয়েছিলাম, কারণ ঈশ্বরের অন্তিম সময়ের কাজের সাক্ষ্য দিতে এর আগে আমি কখনও একা যাইনি, তাই আমি উদ্বিগ্ন ছিলাম যে হয় তো আমি স্পষ্টভাবে কথা বলতে পারব না। আমি চিন্তা করি, “আমি জানি না ওদের ওখানে ইন্টারনেট আছে কিনা। যে সব ভ্রাতা ও ভগিনী সুসমাচার প্রচার করবে তাদের সাথে অনলাইনে আলাপচারিতা সম্ভব কি?” আমি বুঝি যে আমার অবস্থা ঠিক নেই এবং আমি অন্যদের উপর নির্ভর করছি, তাই আমি অন্তর থেকে প্রার্থনা করি, যে সেখানে সুসমাচার প্রচারের সময় ঈশ্বর যেন আমাকে প্রজ্ঞা ও বিশ্বাস দান করেন। আমি যখন গ্রামে পৌঁছালাম, তখন এক ভগিনী আমাকে সরাসরি মেয়রের বাড়িতে নিয়ে গেল প্রচারের জন্য। অপ্রত্যাশিতভাবে, মেয়র আমাকে যাজকের কাছে নিয়ে যেতে চাইলেন। এ কথা শুনে আমি উত্তেজিত হয়ে উঠি, কিন্তু আমার কিছু উদ্বেগও ছিল, “আমি একা কখনো সুসমাচার প্রচার করিনি। যাজকের যদি কোন পূর্ব-ধারণা থাকে, তাহলে আমি কীভাবে তার সাথে আলোচনা করব? সে যদি সব মেনে না নিয়ে আমার বিরোধিতা করে তা হলে কী হবে? তা হলেও কি আমরা এই গ্রামে সুসমাচার প্রচার করতে পারব?” আমি খুব শঙ্কিত ছিলাম। যাজকের বাড়িতে পৌঁছানোর পর, আমি সাহায্যের জন্য ভ্রাতা ও ভগিনীদের ডাকতে চাইলাম, কিন্তু আমার ফোনে কোনো ইন্টারনেট ছিল না। কোথা থেকে শুরু করব তা বুঝতে না পেরে আমি বারবার ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি, ঈশ্বরের উপস্থিতি এবং আমার বিশ্বাস ভিক্ষা করি যাতে অন্তিম সময়ে ঈশ্বরের কাজের সাক্ষ্য দিতে পারি। প্রার্থনার পর, ঈশ্বরের এই বাক্যগুলি স্মরণ করি, “মানুষের হৃদয় ও আত্মা ঈশ্বরের হাতেই ধৃত, তার জীবনের সবকিছুই ঈশ্বরের দৃষ্টির অন্তর্গত। তুমি বিশ্বাস করো বা না করো, ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুসারেই জীবিত বা মৃত যে কোনো জিনিস ও সমস্ত কিছু স্থানান্তরিত হবে, পরিবর্তিত হবে, পুনর্নবীকৃত হবে, আর বিলীন হয়ে যাবে। ঈশ্বর এভাবেই সমস্ত বস্তুর উপরে আধিপত্য করেন(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, ঈশ্বর হলেন মানুষের জীবনের উৎস)। এ কথা সত্য। ঈশ্বর সর্বশক্তিমান এবং সব মানুষ, পদার্থ ও বস্তুই ঈশ্বরের অধীনে, মানুষের হৃদয় ও আত্মা সমেত, তাই আমাকে ঈশ্বরের উপর নির্ভর করতেই হবে। আমি অন্তর দিয়ে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি, “হে ঈশ্বর, এই যাজক যদি আপনার মেষ হয়, তা হলে আমি নিশ্চিত যে সে আপনার কন্ঠস্বর উপলব্ধি করবে এবং স্বীকার করবে আপনার কাজ।” প্রার্থনার পর, আমি হৃদয়ে এক শক্তি অনুভব করি, যেন ঈশ্বর সহায় থাকলে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়। তারপর, ঈশ্বরের প্রত্যাবর্তন বোঝাতে আমি বিশ্ব জোড়া সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের উল্লেখ করি। এ সব কথা শুনে যাজক স্বীকার করে যে ঈশ্বর সম্ভবত প্রত্যাবর্তন করেছেন। এ কথা শোনার জন্য সে আরও দুই যাজককে ডাকতে লোক পাঠায়। আমি ভয় পেয়েছিলাম যে আমি হয়ত স্পষ্টভাবে কথা বলতে এবং তাদের প্রশ্নর জবাব দিতে পারব না, তাই অন্তর দিয়ে আমি ঈশ্বরকে ডাকি যাতে তিনি আমাকে পথ দেখান। আমি ভাবি, সেই সময়ের কথা যখন ঈশ্বর মিশর থেকে ইস্রায়েলিদের বার করে নিয়ে যাওয়ার জন্য মোশিকে বলেছিলেন। মোশি জানতেন যে মিশরের ফারাওয়ের কাছে যাওয়া কঠিন এবং বিপজ্জনক হতে পারে, কিন্তু তার মানসিকতা ছিল বাধ্যতা ও বশ্যতার। ঈশ্বর তার সাথে ছিলেন, তাকে সমর্থন করেছিলেন, এবং ঈশ্বরের নির্দেশে, মোশি ইস্রায়েলিদের মিশর থেকে বের করে আনেন। তারপর আমি দাউদের গলিয়াৎকে পরাজিত করার গল্পের কথা ভাবলাম। গলিয়াৎকে দেখে ইস্রায়েলিরা ভীত হয়ে পড়ে। শুধুমাত্র দাউদ বেরিয়ে এসে লড়াই করার সাহস দেখিয়েছিল। গলিয়াৎকে দাউদ বলে, “তুমি আমার কাছে এসেছো তরবারি নিয়ে, বল্লম ও ঢাল নিয়ে: কিন্তু আমি তোমার কাছে এসেছি সৈন্যদলের উপাস্য যিহোবার নামে” (১ শমুয়েলে ১৭:৪৫)। শেষ পর্যন্ত দাউদ গলিয়াৎকে একটি নুড়ি দিয়ে হত্যা করে। এই দুটি গল্পে আমি দেখি, সমস্যার মুখোমুখি হলে একমাত্র প্রকৃত বিশ্বাসের মাধ্যমেই আমরা ঈশ্বরের কাজ দেখতে পাই, এবং মানুষ যেখানে শেষ করে সেখান থেকেই ঈশ্বরের কাজের সূচনা। এই কথা ভেবে আমি সাহস পাই।

এই সময় আরো দুজন যাজক এসে পৌঁছান। বাইবেলের ভবিষ্যদ্বাণী উল্লেখ করে তাদের সঙ্গে আলোচনা করি যে কীভাবে ঈশ্বর অন্তিম সময়ে অবতাররূপে আবির্ভূত হয়েছেন, ঈশ্বরের অবতার রূপের অর্থ, এবং অবতার বলতে কী বোঝায়। আমি এই সাক্ষ্যও দিই যে ঈশ্বর আবির্ভূত হয়েছেন বিচার এবং পরিশুদ্ধির কাজের জন্য, অন্তিম সময়ে ঈশ্বরের নাম সর্বশক্তিমান ঈশ্বর এবং তিনি হলেন প্রত্যাবর্তিত প্রভু যীশু। যখন আমি শেষ করলাম তখন প্রথম যাজক খুব উত্তেজিত হয়ে কাঁদতে শুরু করে। চোখ মুছতে মুছতে তিনি বলেন, “আমি ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রভুর জন্য প্রচার করেছি এবং আমার জীবনের বেশিরভাগ সময় তাঁর প্রত্যাবর্তনের জন্য অপেক্ষা করেছি। এখন প্রভু প্রকৃতই প্রত্যাবর্তিত হয়েছেন! প্রভুকে আজ স্বাগত জানাতে পারার জন্য আমি ঈশ্বরের কাছে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ!” যাজকের কথা শুনে আমারও তার সাথে কান্না পায়, এবং আমিও ঈশ্বরের কাছে খুবই কৃতজ্ঞ। প্রকৃতপক্ষে আমার আলাপচারিতা এমন কিছু নিখুঁত হয়নি যাতে যাজক সুসমাচার গ্রহণ ও ঈশ্বরের বাক্য উপলব্ধি করতে পারে, এসবই ঈশ্বরের নির্দেশনা।

যাজক তা মেনে নেয়, এবং বলে যে সে রাতে পুরো গ্রামকে আমার ধর্মোপদেশ শোনাতে হবে। আমি এতই উত্তেজিত হই যে মনে মনে বারবার ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাই। সেই সন্ধ্যায়, যাজক এবং মেয়র দুই গ্রামের গ্রামবাসীদের একত্রিত হওয়ার আমন্ত্রণ জানায়, এবং প্রভুর আগমনের সুসংবাদ সকলকে জানায়। সেই রাতে, ৩০ জনেরও বেশি মানুষ অন্তিম সময়ের ঈশ্বরের কাজকে স্বীকার করে। কয়েকজন গ্রামবাসী বলে, “প্রভু সম্পর্কে আমাদের বিশ্বাসের উপর সরকারি নিষেধাজ্ঞার চার বছর পেরিয়ে গেছে। আমরা সকলেই কষ্টের মধ্যে আছি এবং সমাবেশ করতে পারছি না। ধন্যবাদ ঈশ্বর!” আর এক গ্রামবাসী বিচলিত হয়ে বলে, “অনেক বছর ধরে আমাদের কোনো সমাবেশ হয়নি। তুমি আমাদের কাছে সুসমাচার প্রচার করতে এসেছ, যাতে আমরা ঈশ্বরের কণ্ঠস্বরশুনতে পারি, এবং এ জন্য ঈশ্বরের কাছে আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।” এক রাতের মধ্যেই সুসমাচার ছড়িয়ে পড়ে সারা গ্রামে। আমি কখনই আশা করিনি আমার প্রথমবারের সুসমাচার প্রচার যাজক গ্রহণ করবে, আরও অনেকের সাথে। এটি শুধু অবিশ্বাস্য ছিল! আমি জানতাম যে এটি পবিত্র আত্মার কাজের ফল, কিন্তু তাও ভেবেছি যে আমি দক্ষ এবং নিজ দায়িত্ব খুব ভালোভাবে পালন করেছি। নিজের অজ্ঞাতেই আমি গর্বিত বোধ করতে এবং আবার স্থিতাবস্থায় সন্তুষ্ট হতে শুরু করি, তাই আমি শুধু সিঞ্চনের দায়িত্বে থাকা ভগিনীর সাথে এই নবাগতদের সিঞ্চন করতে চাই, এবং সুসমাচার প্রচার করতে আমি আর যেতে চাইনি। সেই সময়ে, আমি খুব কমই গির্জার কাজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি এবং ঈশ্বরের কাছে আমি আগের চেয়ে কম প্রার্থনা করেছি।

একদিন, আমার ফোন চার্জ দেওয়ার সময় এটি শর্ট সার্কিট হয়। আমার সিম কার্ডটি অন্য ফোনে লাগাই, কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে সেই ফোনটিও ভেঙে যায়। এই মুহূর্তে, আমি বুঝি যে সামনে অলঙ্ঘনীয় এক বাধা আসছে, এবং এটি ঈশ্বরের শৃঙ্খলা হতে পারে, তাই আমি আমার সমস্যা নিয়ে চিন্তা শুরু করি। ঈশ্বরের বাক্যে আমি পড়ি, “সাধারণত, তোমাদের সকলেই অবস্থান কর এক আলস্যপূর্ণ অনুপ্রেরণাবিহীন অবস্থার মধ্যে, ব্যক্তিগত কোনো ত্যাগস্বীকারে তোমরা অনিচ্ছুক; অথবা তোমরা নিষ্ক্রিয়ভাবে অপেক্ষা কর, কেউ কেউ তো অভিযোগও জানায়; তারা ঈশ্বরের কাজের লক্ষ্য ও তাৎপর্যগুলি উপলব্ধি করে না, এবং তাদের পক্ষে সত্য অন্বেষণ করাটা কঠিন। এইধরনের মানুষ সত্যকে ঘৃণা করে এবং এদের অবশেষে বহিষ্কার করা হবে। এদের মধ্যে কাউকেই নিখুঁত করে তোলা যাবে না, এবং এদের কেউই হয়ত টিকে থাকবে না। মানুষের মধ্যে যদি শয়তানের শক্তিকে প্রতিহত করার মতো এতটুকুও স্থিরসংকল্প না থাকে, তাহলে তাদের কোনো আশা নেই!(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, অনুশীলন (৭))। “ঈশ্বরের একজন নিষ্ক্রিয় অনুগামী হয়ে উঠো না, এবং যা তোমাকে কৌতূহলী করে তার অনুসরণ কোরো না। শীতল বা উষ্ণ কোনোটাই না হওয়ার মাধ্যমে তুমি নিজেকে ধ্বংস করবে এবং নিজের জীবনকে বিলম্বিত করবে। তোমাকে অবশ্যই এই জাতীয় নিষ্ক্রিয়তা ও অকর্মণ্যতা থেকে নিজেকে মুক্ত করতে হবে, এবং ইতিবাচক বিষয়গুলির সাধনা করতে ও নিজের দুর্বলতাগুলি কাটিয়ে উঠতে পারদর্শী হতে হবে, যাতে তুমি সত্যকে অর্জন করতে পারো এবং সত্যকে জীবনে যাপন করতে পারো। তোমার দুর্বলতা সম্পর্কে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, এবং নিজের ত্রুটিগুলি তোমার সবচেয়ে বড় সমস্যা নয়। তোমার সবচেয়ে বড় সমস্যা, এবং তোমার সবচেয়ে বড় ত্রুটি হল উষ্ণ অথবা শীতল কোনোটাই না হওয়া এবং তোমার সত্য অন্বেষণের ইচ্ছার অভাব। তোমাদের সকলের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল ভীরু মানসিকতা যার ফলে তুমি কোনোকিছু যেমনটা আছে তেমনটা নিয়েই খুশি থাকো আর শুধু নিষ্ক্রিয়ভাবে অপেক্ষা করতে থাকো। এটাই তোমাদের সবচেয়ে বড় বাধা, এবং তোমাদের সত্যের সাধনার সবচেয়ে বড় শত্রু(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, পিটারের অভিজ্ঞতাঃ তার শাস্তি ও বিচারের জ্ঞান)। ঈশ্বরের বাক্য পড়ার পর আমি আত্মমন্থন করি। যখন আমি দেখলাম যে সুসমাচার পুরো গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে, আমি অনুভব করি যে ঈশ্বর আমার দায়িত্ব পালনে সন্তুষ্ট হয়েছেন, তাই স্থিতাবস্থায় আমি গর্বিত এবং সন্তুষ্ট হয়ে পড়ি, এবং আমি সুসমাচার প্রচার করতে চাইনি। ফললাভ যেহেতু একবার হয়ে গেছে, তাই আমি আর অগ্রগতির চেষ্টা করি নি। স্থিতাবস্থায় সন্তুষ্ট থাকার ইচ্ছা আমার মধ্যে প্রবল হয়ে ওঠে। অতীতে, আমি সুসমাচারের কাজ বিলম্বিত করেছি কারণ আমি স্থিতাবস্থায় সন্তুষ্ট ছিলাম, এবং এখন আমি আবার তাই করছি। ঈশ্বর চান যে কর্তব্য পালনে আমারা যেন হৃদয় ও মন সবই নিয়োজিত করি। আমার দায়িত্ব পালনে ঈশ্বর কী ভাবে সন্তুষ্ট হতে পারেন? সেই সময়ে আমি উপলব্ধি করি যে নিজ দায়িত্বে অগ্রগতি না করে আমি পিছিয়ে পড়েছি, এবং জীবনে প্রবেশ এবং সুসমাচার প্রচারের ফলাফলের পরিপ্রেক্ষিতে, আমি পিছিয়ে থাকব। স্থিতাবস্থায় আমি সর্বদাই সন্তুষ্ট ছিলাম, আমি সত্যের অনুসরণ করিনি, এবং আমি ঈশ্বিরের থেকে ক্রমাগত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ি। দীর্ঘমেয়াদে, আমি কেবল নিজেরই ক্ষতি করতে পারি। স্থিতাবস্থায় সন্তুষ্ট থাকাই ছিল সত্য অনুসরণে এবং দায়িত্ব পালনে আমার সবচেয়ে বড় বাধা, এবং আমি কেবল নিজের ক্ষতি এবং ধ্বংস সাধন করেছি। ঈশ্বরের বাক্য ঠিক যেমন বলে, “শীতল বা উষ্ণ কোনোটাই না হওয়ার মাধ্যমে তুমি নিজেকে ধ্বংস করবে এবং নিজের জীবনকে বিলম্বিত করবে।” এবং প্রকাশিত বাক্যে যেমন বলা হয়েছে, “তুমি কবোষ্ণ, না শীতল না উষ্ণ। তাই আমি তোমাকে আমার মুখ থেকে উদবমন করব(প্রকাশিত বাক্য ৩:১৬)। ঈশ্বরের বাক্য অনুযায়ী আমি কবোষ্ণ ছিলাম, না শীতল না উষ্ণ এবং স্থিতাবস্থায় সন্তুষ্ট। এভাবে চলতে থাকলে আমার আর কোনো আশাই থাকত না, এবং আমি সত্যিই বর্জিত হতাম। এই ভেবে আমি একটু ভয় পাই, তাই অনুতাপের জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি, বলি যে আমি ভবিষ্যতে যতই সমস্যার সম্মুখীন হই না কেন, আমি চেষ্টা করব, কখনও পিছপা হব না এবং স্থিতাবস্থায় সন্তুষ্ট হব না।

কিন্তু প্রচারের কাজ সক্রিয়ভাবে শুরু করতেই, আমি আরেকটি বড় অসুবিধার সম্মুখীন হই। আমাদের বিরুদ্ধে খবর দেওয়া হয়েছিল তাই নগর-সরকার জানত যে সুসমাচার প্রচারের জন্য কিছু মানুষ এসেছে। আমাদের খুঁজে পাওয়া গেলে গ্রামবাসী ও মেয়রের সাথে আমাদের গ্রেপ্তার করা হত। অভিযুক্ত হওয়ার ভয়ে গ্রামবাসী ও মেয়র ভীত হয়ে পড়ে, এবং আমাদের চলে যেতে এবং পরে সব শান্ত হলে আবার আসতে বলে। আমি ভাবলাম, “আমরা চলে গেলে এই নবাগতদের কী হবে? তারা সবেমাত্র সুসমাচার গ্রহণ করেছে এবং তাদের এখনও কোনো ভিত গড়ে ওঠে নি। কিন্তু আমরা দু পক্ষই থেকে গেলে সহজেই অন্যের মনোযোগ আকর্ষণের বিষয় হব।” শেষ পর্যন্ত আমরা সিদ্ধান্ত নিই, সিঞ্চনকারী ভগিনীরা চলে যাক, নবাগতদের সাহায্যের জন্য গ্রামে আমি একাই থাকব। যদিও জানতাম যে এই ব্যবস্থা সর্বাধিক উপযুক্ত, তবুও আমি বিষন্ন হয়ে পড়ি, আমার মনে হতে লাগল অচেনা এক স্থানে আমি থাকছি সম্পূর্ণ একা। যাজকের তখনও বহু পূর্বধারণা ছিল এবং সত্য পথ সম্পর্কে তিনি সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিত ছিলেন না, এবং তিনি গ্রেপ্তারেও ভীত ছিলেন, তাই তিনিও চেয়েছিলেন আমি যাতে চলে যাই। আমি খুব বিরক্ত বোধ করি। যাজক এবং মেয়র আমাকে তাড়িয়ে দিচ্ছিলেন, এবং মনে হচ্ছিল আমার যেন কোন গৃহ নেই। এই মানসিকতায় আমি প্রার্থনার জন্য কোনো অনুপ্রেরণা পাচ্ছিলাম না এবং স্বদেশে ফেরার জন্য কাতর হয়ে পড়ি। যাজকের সাথে আলোচনার পর বুঝলাম যে তার তখনও অনেরক পূর্বধারণা রয়ে গেছে। তাই আমার মনে হয় যে বিষয়টি যাজকের সঠিক উপলব্ধি হয়নি। যখন দেখলাম যে গ্রেপ্তারের ভয়ে মাত্র কয়েকজন নবাগত জমায়েতে এসেছে, তাদের সমর্থনের কোনো ভার আমি বহন করি নি। সেই সময়ে, আমার মনে হয়, “অল্প কয়েকজন যে এসেছে সেটাই ভালো। আমি সবাইকেই ফোন করেছি, কিন্তু বাকিরা আসেনি, তাই আমার আর কিছু করার নেই।” নিয়মিত সমাবেশে যোগ দেওয়া নবাগতদের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমতে লাগল, এবং বহু অসুবিধায় নিমজ্জিত হয়ে আমি আরও বেশি বিষণ্ণ হয়ে পড়তে থাকি। পরে, নিজের মানসিকতা সম্পর্কে ফোনে এক ভগিনীর সাথে কথা বলি, এবং সে আমাকে ঈশ্বর-বাক্যের একটি অনুচ্ছেদ পাঠায়। “সত্যকে অর্জন না করলে মানুষ এরকমই হয়, তারা সকলে আবেগ নিয়েই বেঁচে থাকে—এমন এক আবেগ যা বজায় রাখা অত্যন্ত কঠিন: তাদের ধর্মোপদেশ দেওয়ার জন্য ও তাদের সাথে সহকারিতা করার জন্য প্রতিদিন কোনো একজনকে তাদের অবশ্যই প্রয়োজন; একবার যদি তাদের জলদান করার ও সত্যের যোগান দেওয়ার জন্য কেউ না থাকে, সমর্থন দেওয়ার মতো কেউ না থাকে, তাহলেই তাদের হৃদয় আবার শীতল হয়ে যায়, তারা আরও একবার শিথিল হয়ে পড়ে। আর যখনই তাদের হৃদয় শিথিল হয়ে পড়ে, দায়িত্ব সম্পাদনে তাদের কার্যকারিতাও কমে যায়; যদি তারা বেশি সচেষ্ট হয়, তাহলে তাদের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়, তাদের কার্য সম্পাদন আরও ফলদায়ক হয়ে ওঠে, এবং তারা আরও বেশি অর্জন করে। তোমাদের অভিজ্ঞতা কি এটাই? … মানুষের মধ্যে ইচ্ছা থাকতে হবে, শুধুমাত্র যাদের ইচ্ছা রয়েছে, তারাই প্রকৃতপক্ষে সত্যের জন্য সচেষ্ট হতে পারে, এবং একবার এই সত্য তারা উপলব্ধি করতে পারলে তবেই নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে সম্পাদন করতে পারবে, ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করতে পারবে, এবং শয়তানকে অপমানিত করতে পারবে। যদি তোমার মধ্যে এই ধরনের আন্তরিকতা থাকে, আর যদি নিজের স্বার্থের জন্য পরিকল্পনা করার পরিবর্তে শুধুমাত্র সত্য অর্জনের জন্য এবং নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য পরিকল্পনা করো, তাহলে তোমার দায়িত্বের সম্পাদন স্বাভাবিক হবে, এবং তা সবসময় একই থাকবে; তুমি যে পরিস্থিতিরই সম্মুখীন হও না কেন, তুমি তোমার দায়িত্ব পালনে অব্যাহত থাকতে সক্ষম হবে। যে বা যা-ই তোমাকে বিভ্রান্ত বা বাধাপ্রাপ্ত করতে আসুক না কেন, তোমার মানসিক অবস্থা ভালো হোক বা খারাপ, তুমি তা সত্ত্বেও তোমার দায়িত্ব স্বাভাবিকভাবে সম্পাদনে সক্ষম হবে। এইভাবে, ঈশ্বর তোমার বিষয়ে তাঁর মনকে বিশ্রাম দিতে পারবেন, এবং পবিত্র আত্মা তোমাকে সত্যের নীতি উপলব্ধি করার জন্য আলোকিত করতে সক্ষম হবেন, এবং সত্যের বাস্তবিকতায় প্রবেশের জন্য তোমাকে পথনির্দেশ দিতে পারবেন, এবং ফলস্বরূপ, তোমার দায়িত্ব সম্পাদন অবশ্যই যথাযথ মান অর্জন করবে। … তোমার এই বিশ্বাস থাকতে হবে যে সমস্ত কিছুই ঈশ্বরের হাতে, আর মানুষ শুধু তাঁর সাথে সহযোগিতা করে। যদি তোমার হৃদয় আন্তরিক হয় তবে ঈশ্বর তা প্রত্যক্ষ করবেন, এবং তিনি তোমার জন্য সমস্ত পথ উন্মুক্ত করে দেবেন, অসুবিধাগুলো আর কঠিন রাখবেন না। এই বিশ্বাস তোমার অবশ্যই থাকতে হবে। অতএব, যতক্ষণ তুমি তোমার দায়িত্ব পালনে সমস্ত শক্তি ব্যবহার করছ এবং তাতে তোমার হৃদয় ঢেলে দিচ্ছ, ততক্ষণ নিজের দায়িত্ব পালনের সময় তোমার কোনো বিষয়ে চিন্তা করার দরকার নেই। ঈশ্বর তোমার জন্য বিষয়গুলো কঠিন করে তুলবেন না, বা যা করার ক্ষমতা তোমার নেই তা করার জন্য জোর করবেন না(বাক্য, খণ্ড ৩, অন্তিম সময়ের খ্রীষ্টের উপদেশ, ঈশ্বরবিশ্বাসে যা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ তা হল তাঁর বাক্যের অনুশীলন ও অভিজ্ঞতা)। ঈশ্বরের বাক্য প্রয়োগ করে, আমি বুঝি যে শুধুমাত্র নিজের উৎসাহেই আমি দায়িত্ব পালন করেছি এবং আমি ঈশ্বরের অনুগত ছিলাম না। আমাদের উপর সরকারি নিপীড়ন হওয়ার পর, মেয়র আমাকে চলে যেতে বলেন, এবং গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় নবাগতরা সমাবেশে যোগ দেয়নি। এই সব অসুবিধার মুখে, আমার ইতিবাচক মনোভাব ছিল না, ঈশ্বরের নির্দেশনাও চাই নি, অথবা নবাগতদের সিঞ্চনের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করিনি যাতে তারা বিশ্বাসের ভিত্তি স্থাপন করতে পারে। পরিবর্তে, আমি নিষ্ক্রিয় হয়ে মাত্র কয়েকজন নবাগতর সাথে থেকে নিজেকে সন্তুষ্ট করেছি। সঠিকভাবে, কোনো ভার বহন না করে বা অগ্রগতি না চেয়ে কর্তব্য-পালন করার ফলে সমাবেশে নবাগতদের উপস্থিতি ক্রমশই অনিয়মিত হয়ে পড়ে। ঠিক যেমন ঈশ্বরের বাক্যে বলা হয়েছে, “আর যখনই তাদের হৃদয় শিথিল হয়ে পড়ে, দায়িত্ব সম্পাদনে তাদের কার্যকারিতাও কমে যায়; যদি তারা বেশি সচেষ্ট হয়, তাহলে তাদের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়, তাদের কার্য সম্পাদন আরও ফলদায়ক হয়ে ওঠে, এবং তারা আরও বেশি অর্জন করে।” এটি প্রকৃতই সত্য। যদি আমি ভার বহন করতে এবং মূল্য দিতে প্রস্তুত থাকতাম, তা হলে আমি ঈশ্বরের নির্দেশনা ও আশীর্বাদ দেখতে পেতাম, ফলপ্রসূ হত আমার সুসমাচারের প্রচার। তবুও যখনই অসুবিধায় পড়েছি, আমি কর্তব্যের ভার বহন করিনি, দায়িত্বজ্ঞানহীন, দুর্বল ও নিষ্ক্রিয় থেকেছি, এবং তাই আমার দায়িত্বপালন ফলপ্রসূ হয়নি। ঈশ্বরের করুণায় আমি কর্তব্য পালন করলেও তা ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করার জন্য যথেষ্ট ভালো হয়নি। আমি খুবই বিদ্রোহী ছিলাম!

পরে আমি ঈশ্বরের বাক্যর আর একটি অনুচ্ছেদ পড়ি। “‘নিজ কর্তব্যে অবিচল থাকা’ বলতে কী বোঝায়? এর অর্থ হল, কেউ যতই অসুবিধার সম্মুখীন হোক না কেন, তারা হাল ছেড়ে দেয় না অথবা পলাতক হয় না, বা নিজেদের দায়িত্ব এড়িয়ে যায় না। তারা নিজেদের সাধ্যমতো সমস্ত কিছু করে। নিজ কর্তব্যে অবিচল থাকা এটাকেই বলে। যেমন ধরো, তোমার জন্য কোনো একটা কাজের ব্যবস্থা করা হলো। তোমার ওপর নজর রাখার মতো কেউ নেই, অথবা তোমার তত্ত্বাবধান করার মতো বা উৎসাহিত করার মতো কেউ নেই। সেক্ষেত্রে কর্তব্যে অবিচল থাকা বলতে তুমি কী বুঝবে? (ঈশ্বরের পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যবেক্ষণ স্বীকার করা এবং তাঁর সম্মুখে জীবনযাপন করা।) ঈশ্বরের পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যবেক্ষণ স্বীকার করা হল প্রথম পদক্ষেপ; এটা কর্তব্যে অবিচল থাকার একটা অংশ। অপর অংশটা হল, সেই কাজ নিজের মন-প্রাণ দিয়ে সম্পাদন করা। সমস্ত মন-প্রাণ দিয়ে কাজ করতে সক্ষম হতে গেলে তোমাকে কী করতে হবে? তোমাকে অবশ্যই সত্যকে স্বীকার করতে হবে এবং তা অনুশীলনে প্রয়োগ করতে হবে; ঈশ্বর যা কিছু চান সেগুলো তোমাকে স্বীকার ও মান্য করতে হবে; তোমাকে অবশ্যই নিজের দায়িত্বকে নিজস্ব, ব্যক্তিগত বিষয় বলে মনে করতে হবে, সেখানে অন্য কারোর হস্তক্ষেপের প্রয়োজন বোধ করলে চলবে না, অন্য কারোর ক্রমাগত নজরদারি, দেখাশোনা ও উৎসাহপ্রদান বা তাদের তত্ত্বাবধানের প্রয়োজন তোমার থাকবে না—এমনকি তাদের দ্বারা মোকাবিলা এবং অপ্রয়োজনীয় অংশের কর্তনেরও দরকার হবে না। তোমাকে মনে করতে হবে, ‘এই কর্তব্য সম্পাদন করা আমার দায়িত্ব। এটাই আমার কাজ, আর যেহেতু আমাকে এই কাজ করতে দেওয়া হয়েছে এবং আমাকে নিয়মকানুন বলে দেওয়া হয়েছে ও আমি সেগুলো বুঝে নিয়েছি, সেহেতু আমি দৃঢ় সংকল্প হবো এবং একনিষ্ঠভাবে এই কাজ করবো। আমি সমস্তরকম চেষ্টা করবো যাতে এ কাজ ভালোভাবে সম্পন্ন হয়। আমি শুধু তখনই থামবো যখন কেউ বলবে “থামো”; ততক্ষণ আমি একনিষ্ঠভাবে আমার কাজ করে যাবো।’ নিজের সমগ্র হৃদয় ও মন দিয়ে নিজের কর্তব্যে অবিচল থাকা এটাকেই বলে। মানুষের এইভাবেই আচরণ করা উচিত। অতএব, নিজের সমগ্র হৃদয় ও মন দিয়ে নিজের কর্তব্যে অবিচল থাকতে গেলে কাউকে কীসের দ্বারা সজ্জিত হতে হবে? প্রথমে, একজন সৃষ্ট সত্তার যে বিবেকবোধ থাকা উচিত, সেটা তাদের অবশ্যই থাকতে হবে। এটা ন্যূনতম প্রয়োজন। এটা ছাড়াও, তাদের অবশ্যই নিবেদিতও হতে হবে। মানুষ হিসাবে, ঈশ্বরের অর্পিত দায়িত্ব গ্রহণ করতে গেলে অবশ্যই নিবেদিতপ্রাণ হতে হবে। ঈশ্বরের প্রতি তাদের সম্পূর্ণভাবে নিবেদিত হতে হবে, নিরুদ্যম হলে চলবে না, অথবা দায়িত্ব গ্রহণে ব্যর্থ হলে চলবে না; কারোর নিজের স্বার্থ বা মেজাজের ভিত্তিতে কাজ করা অনুচিত, এটাকে নিবেদিত হওয়া বলে না। তাহলে নিবেদিত হওয়া বলতে কী বোঝায়? বোঝায় যে দায়িত্ব পালনের সময় তুমি মেজাজ, পরিবেশ, লোকজন, বিষয়, বা বস্তুর দ্বারা প্রভাবিত বা সীমাবদ্ধ হবে না। তোমার নিজের বিষয়ে এইরকম চিন্তা করা উচিত, ‘আমি ঈশ্বরের কাছ থেকে এই দায়িত্ব লাভ করেছি; তিনি আমাকে এটা প্রদান করেছেন। এটাই আমার করার কথা। তাই আমি এটাকে আমার নিজের কাজ হিসাবেই বিবেচনা করব, যে উপায়ে ভালো ফল পাওয়া যায়, ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সেইভাবেই এই কাজ সম্পাদন করব।’ যখন তুমি এই অবস্থায় পৌঁছও, তখন তুমি যে শুধু বিবেকের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হও তাই নয়, নিবেদনও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকে। যদি কার্যকর হওয়ার এবং ফলাফল অর্জনের আকাঙ্ক্ষা না করে শুধুমাত্র তোমার কাজ কোনোভাবেসম্পন্ন করেই তুমি সন্তুষ্ট হয়ে পড়ো, এবং মনে করো যে শুধুমাত্র কিছু পরিমাণ চেষ্টা করাটাই যথেষ্ট, তবে সেটা শুধুমাত্র বিবেকেরই মানদণ্ড, তাকে নিবেদন বলে গণ্য করা যায় না(বাক্য, খণ্ড ৩, অন্তিম সময়ের খ্রীষ্টের উপদেশ, তৃতীয় অংশ)। ঈশ্বরের বাক্য পড়ার পর আমি উপলব্ধি করি কীভাবে নিজের দায়িত্ব পালন করা উচিত। এই দায়িত্ব আমাকে অর্পণ করা হয়েছে, তাই তা পালনের জন্য আমাকে সর্বাধিক সচেষ্ট হতে হবে এবং তা অন্য কারোর তত্ত্বাবধান ছাড়াই। যতই অসুবিধার সম্মুখীন হই না কেন, আমার ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষিত হল কি না, অথবা আমাকে কষ্ট পেতে হবে কি না, আমাকে ঈশ্বরের পরিদর্শন অবশ্যই গ্রহণ করতে এবং নিজ দায়িত্ব ভালভাবে পালন করতে হবে। যতদিন সুসমাচারের কাজ চলে, আমার করণীয় আবশ্যিকভাবে পালন এবং নিজ দায়িত্বকে অভীষ্ট হিসাবে বিবেচনা করি, এবং নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী দায়িত্ব ছেড়ে দিতে বা এড়িয়ে যাই নি। তখন আমি দায়িত্ব পালনেই রত ছিলাম।

তার পর, আমি সেই সব নবাগতদের সাথে আলাপচারিতা করি যারা সমাবেশে আসত না। আমি বলি, “তোমরা যদি রাতের সমাবেশে আসতে না পারো, তা হলে দিনের বেলা তোমাদের সময় অনুযায়ী আমি এসে তোমাদের সাথে আলোচনা করব।” কয়েকজন নবাগত এতে অনুপ্রাণিত হয়ে সমাবেশে আসতে উৎসুক হয়। এক রাতে আমি যাজক এবং গ্রামবাসীদের এক সমাবেশের আয়োজন করি। আমি বলি, “এখন ঈশ্বরের কাজ সমাপ্ত হতে চলেছে, তাই সরকারি নিষেধাজ্ঞায় আমরা সমাবেশে ঈশ্বরের বাক্য পড়তেও ভীত হব না। যদি আমরা এটি করি তা হলে আমরা ঈশ্বরের পরিত্রাণ হারাবো। এখন, বিপর্যয় বাড়ছে, এবং একমাত্র সর্বশক্তিমান ঈশ্বরই আমাদের রক্ষা করতে পারেন। আমাদের বিশ্বাস করা উচিত যে ঈশ্বর সব কিছুর উপর শাসন করছেন, ঈশ্বরে বিশ্বাস রাখতে হবে, এবং নিপীড়নের সামনে নত হওয়া উচিত নয়। তোমাদের গ্রামে আমি সুসমাচার প্রচার করেছি, এবং ওরা আমাকে খুঁজে পেলেই গ্রেপ্তার করবে। আমি কেবল এক যুবতী, এবং আমি গ্রেপ্তারের ভয় পাই, তাহলে আমি চলে যাব না কেন? কারণ এটি আমার দায়িত্ব। তোমরা সবেমাত্র ঈশ্বরের রাজ্যের সুসমাচার গ্রহণ করেছ এবং অবশেষে ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর শুনেছ। এই সামান্য নিপীড়ন এসেছে এবং তোমরা আমাকে চলে যেতে বলছ, কিন্তু আমি যদি নিজেকে রক্ষার জন্য চলে যাই এবং তোমাদের সবাইকে ত্যাগ করি, তা হবে কর্তব্যে অবহেলা।” সততার সাথে আমি এই কথা বলার পর, যাজক গ্রামবাসীদের বললেন, “এখন থেকে আমাদেরই তাকে রক্ষা করতে হবে। কাউকে বোলো না যে সে এই গ্রামে সুসমাচার প্রচার করছে। কেউ জিজ্ঞাসা করলে বলবে যে তুমি জান না।” যাজকের কথা শুনে আমি খুবই আপ্লুত হয়ে পড়ি। যদিও তার তখনও অনেক ধর্মীয় পূর্বধারণা ছিল, তবুও তিনি অন্বেষণে ইচ্ছুক ছিলেন, তাই আমি তার ধারণাকে উদ্দেশ্য করেই আলোচনা করি, এবং ভ্রাতা ও ভগিনীরা যাজককে সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কিছু বাক্য পাঠায়। মনোযোগ সহকারে যাজক সব শোনেন এবং তার কিছু পূর্ব-ধারণার নিরসন হয়। পরে সেই যাজক সক্রিয়ভাবে সমাবেশে আসত, এবং সে গ্রামবাসীদের বলত, “আমি চাই তোমরা সকলে সমাবেশে এসো। অন্তিম সময়ে ঈশ্বরের কাজ আমাদের স্বীকার করা প্রয়োজন, জেগে ওঠো, পিছিয়ে থেকো না। সর্বশক্তিমান ঈশ্বর হলেন প্রত্যাবর্তিত প্রভু যীশু!” ধন্যবাদ ঈশ্বর! এই অভিজ্ঞতার পরে আমি প্রকৃতই উপলব্ধি করি সব কিছুই ঈশ্বরের হাতে। অতীতে, আমি শুধু বলতাম যে সবকিছুই ঈশ্বরের হাতে, কিন্তু এখন আমি বাস্তবে অনুভব করেছি যে সত্যিই সবকিছু ঈশ্বরের হাতে, এবং যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষ আন্তরিকভাবে ঈশ্বরের সাথে সহযোগিতা করবে, ঈশ্বর তাদের নেতৃত্ব দেবেন। ঈশ্বরের সাথে কিছুই অসম্ভব নয়।

কিছু দিন পর, নগরের কর্মকর্তারা গ্রামে এসে যাজক এবং আমাকে নগর-সরকারের কাছে নিয়ে যায়। আমি বিমূঢ় এবং ভীত হয়ে পড়ি, কিন্তু আমার মনে হত সবই ঈশ্বরের হাতে, এবং যেহেতু ঈশ্বর এই পরিবেশ আমার জন্য তৈরি করেছেন, তাই তা মান্য করা উচিত। রাস্তা দিয়ে আমাদের নিয়ে যাওয়ার সময়, আমি নীরবে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি যে তনি যেন আমার সাথে থাকেন। আমি ঈশ্বরের বাক্য স্মরণ করি, “শয়তান যতোই ‘শক্তিধর’ হোক না কেন, যতোই সে দুর্বিনীত ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী হোক, তার ক্ষতিসাধনের ক্ষমতা যত বিপুলই হোক, মানুষকে ভ্রষ্ট ও প্রলুব্ধ করার লক্ষ্যে সে যত বিচিত্র কৌশলই প্রয়োগ করুক, মানুষকে ভীতিপ্রদর্শন করতে তার কৌশল ও অভিসন্ধি যত চাতুর্যপূর্ণই হোক, যে রূপে সে অধিষ্ঠান করে সে যত পরিবর্তনশীলই হোক, কোনোদিন সে একটিমাত্র জীবন্ত বস্তু সৃষ্টি করতেও সক্ষম হয়নি, কোনোদিন সে সকলকিছুর অস্তিত্বের নিমিত্ত বিধান বা নিয়মাবলী প্রণয়ন করতে সমর্থ হয়নি, এবং কোনোদিন জীবিত বা নির্জীব কোনো বস্তুকেই শাসন ও নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়নি। মহাকাশ ও নভোমণ্ডলের মধ্যে, এমন একজন মানুষ বা এমন একটি বস্তুও নেই যা শয়তানের থেকে উদ্ভূত হয়েছিল বা তার দরুন বিদ্যমান; এমন একজন মানুষ বা এমন একটি বস্তুও নেই যা শয়তানের দ্বারা শাসিত বা নিয়ন্ত্রিত। উল্টে, তাকে যে শুধু ঈশ্বরের আধিপত্যের অধীনে বসবাস করতে হয় তা-ই নয়, তদুপরি ঈশ্বরের সকল নির্দেশ ও আদেশ মেনে চলতে সে বাধ্য। ঈশ্বরের অনুমতি ব্যতীত, ভূভাগের এক বিন্দু জল বা একটি বালুকণাকে স্পর্শ করাও শয়তানের পক্ষে দুরূহ; ঈশ্বরের অনুমোদন ব্যতিরেকে, ঈশ্বর-সৃষ্ট মানবজাতি দূরে থাক, ভূমির উপর এমনকি পিঁপড়েদের নড়ানোর স্বাধীনতাও শয়তানের নেই(বাক্য, খণ্ড ২, ঈশ্বরকে জানার প্রসঙ্গে, স্বয়ং অনন্য ঈশ্বর ১)। ঈশ্বরের বাক্য চিন্তা করে আমি শান্ত হয়ে থাকি, খুব ভীত হই না, এবং আমি বিশ্বাস করতাম সবকিছুই ঈশ্বরের হাতে।

যাজক এবং আমাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নগর সরকারের একটি ঘরে তালাবদ্ধ করা হয়। সেই সময়, যাজকের মাইগ্রেন আবার শুরু হয়। সে দুর্বল হয়ে পড়ে, তার হাত পা কাঁপতে থাকে, যন্ত্রণার মধ্যে সে শঙ্কিত হয়ে পড়েন যে সে হয় তো মারা যাবে। তাকে সাহচর্য দিয়ে বলি, “এই পরিবেশ আমাদের জন্য একটি পরীক্ষা, আমরা প্রকৃতই ঈশ্বরকে অনুসরণ করি কিনা তা দেখার। সব কিছুই ঈশ্বরের হাতে, এবং ঈশ্বরের অনুমতি ছাড়া শয়তান আমাদের কিছুই করতে পারবে না, তাই আমাদের অবশ্যই বিশ্বাস রাখতে হবে।” আমার সাহচর্যে যাজক অশ্রুতে আপ্লুত হয়ে পড়ে। সে বলে, “ধন্যবাদ ঈশ্বর! সব কিছুই ঈশ্বরের হাতে, এবং ঈশ্বর আমাদের সাথে আছেন, তাই আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না।” তারপর আমাকে বলেন, “যদি ওরা আমাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে, আমি বলব যে তুমি আমার মেয়ে, এবং আমার কাজে সাহায্য করতে তুমি এখানে এসেছো।” এবং এইভাবে, এই পরিবেশ অনুভব করার আত্মবিশ্বাস পাই যাজক ও আমি। শেষ পর্যন্ত, নগরপাল আমাকে এবং যাজককে ৩০০ ইউয়ান জরিমানা করে রেহাই দেন।

এই গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে যাওয়ার পরে, আমি উপলব্ধি করি ঈশ্বরের সর্বশক্তিমান সার্বভৌমত্ব, এবং মানুষের হৃদয় ও আত্মা সবই ঈশ্বরের হাতে। যদিও সুসমাচার প্রচারের পথ কঠিন এবং বিপজ্জনক, কিন্তু এই সময়ের মধ্যে, আমি সামান্য পরিণত হয়েছি। অতীতে নির্যাতিত হওয়ার সময়, আমি নিষ্ক্রিয় থাকতাম, কিন্তু এখন, বিপদের সম্মুখীন হলে আমি সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব নিতে পারি। এই পরিবর্তন, এবং এই মূল্যবান অভিজ্ঞতা, আমি অন্য কোন উপায় পেতে পারতাম না। ধন্যবাদ ঈশ্বর!

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।

সম্পর্কিত তথ্য

অসুস্থতার মাধ্যমে লব্ধ ফল

২০০৭ সালটা ছিল আমার জীবনের এক বিরাট সন্ধিক্ষণ। গাড়ি দুর্ঘটনায় আমার স্বামী শয্যাশায়ী হয়ে পড়ে। দুই সন্তানই তখনো ছোট পরিবারের জন্য সেটা ছিল...

আমি এইসব অধ্যয়ন করব না

আমি খ্রীষ্টান পরিবারে জন্মগ্রহণ করি। মা-বাবা দুজনেই কৃষক। আমাদের পরিবার সবজি আর ধান চাষ করে জীবিকা অর্জন করে। স্কুলে সবসময় ভালই রেজাল্ট...

Leave a Reply

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন