আমি আর আমার সঙ্গীকে অবজ্ঞা করি না

02-08-2023

আমি গির্জার বই ও জিনিসপত্র দেখাশোনার দায়িত্বে আছি। সাধারণত দেখি বিভিন্ন জিনিস গোছানো আর জায়গামতো আছে কিনা, সুন্দর করে সাজানো রয়েছে কিনা, আর চেক-ইন চেক-আউটের নথি ঠিকঠাক আছে কিনা। ভয় হয় আমি অসতর্ক হলেই সবকিছু তালগোল পাকিয়ে যাবে। ভ্রাতা ক্যামেরন আমার সঙ্গে কাজ করত, সে ছিল অসতর্ক, আর পরিচ্ছন্নতায় তার মনোযোগ ছিল না। কখনো, সে জিনিস ছুঁড়ে ফেলত বা স্তুপ করে রাখত, তাই সবসময় তাকে নিয়ে চিন্তা হতো, তার কাজের দেখভাল করতে হতো। ক্যামরনকে ভুল জায়গায় কিছু রাখতে দেখলেই বা জিনিসপত্রের চেক-ইন, চেক-আউটের নথি অস্পষ্ট দেখলেই, আমি দুশ্চিন্তায় মেজাজ হারাতাম, ওকে আলোচনার মাধ্যমে সাহায্য করতাম না। শুরুতে, ভ্রাতা কী ভাববে তা বিবেচনা করতাম কী বলছি কীভাবে বলছি সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতাম, কিন্তু সময়ের সঙ্গে, সেসব নিয়ে আর মাথা ঘামাতাম না, এবং প্রত্যেক বার, আমি তাকে বলতাম এটা ভুল, ওটা ভুল। কখনো, রেগে গিয়ে তাকে বকা দিতাম, বলতাম, “কেন আবার ভুল জায়গায় জিনিস রাখছো? এখানে একটা রাখো, ওখানে একটা। যেখান থেকে নিয়েছো সেখানে রাখতে পারো না? নিজের কাজের জায়গাটা পরিচ্ছন্ন করে ফেলতে এক মুহূর্ত লাগে, কিন্তু কিছু একটা অসম্পূর্ণ না রেখে দিয়ে তুমি থাকতে পারো না, আর পরে সেটা কখনোই পরিষ্কার করো না…।” ক্যামেরনের প্রতি আমার মনোভাব বিরূপ হতে থাকল। কখনো, তাকে আদেশের সুরে বলতাম সবকিছু পরিষ্কারর করতে।

মনে আছে একবার, যখন চেক-ইন চেক-আউটের নথি দেখছিলাম, কয়েকটা নথি পেলাম যাতে সে এমনভাবে কাটাকাটি করেছে যে পড়াই যাচ্ছে না। মুহূর্তেই আমার রাগ চড়ে গেল, আমি ভাবলাম, “সে কী লিখেছে অনুমানও করতে পারছি না!” সোজা ক্যামেরনের কাছে গেলাম। শিক্ষকের মতো ধমক দিয়ে আমি প্রতিটা নথি ধরে ধরে তাকে জিজ্ঞেস করলাম সেগুলো কী! বললাম, “জানো এখন আমার কী ইচ্ছে করছে? প্রধানকে এই নথিগুলো দেখাতে, যেন সে দেখে তুমি কেমন দায়িত্ব পালন করছো, আর কতটা অসতর্ক হতে পারো!” অপরাধবোধে ক্যামেরনের মুখটা বিষণ্ন হয়ে গেল, সে বলল ভবিষ্যতে মনোযোগ দিয়ে কাজ করবে। সে বলল এটা একটা দুর্ঘটনা। বিবরণী লেখার সময়, কেউ তাকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে ফোন করেছিল, তাই ভুলে গিয়েছিল। কিন্তু তাকে বলার সুযোগ না দিয়ে, রাগতস্বরে বললাম, “যদি এমনটা আবারও ঘটে, আমি এই নথির পাতা সোজা গিয়ে প্রধানকে দেব, সেই ব্যাপারটা বুঝে নেবে!” কিছুদিন পরেই, দেখলাম ক্যামেরনের বিবরণীর পাতায় আবারও কাটাকাটি করা। এবার আরো রেগে গেলাম। ক্যামেরনকে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, “তোমাকে না বলেছিলাম, ভুল করলে, নতুন করে লেখো, কাটাকাটি করো না। তাকিয়ে দেখো তো। কী লিখেছো কে বুঝবে? দেখে বুঝতে না পারলে, তোমাকে এসে জিজ্ঞেস করতে হয়। তোমার কি মনে হয় না এটা বিরক্তিকর? আমার তো লাগে!” যখন দেখল আবার রেগে গেছি, সে বিবরণীর পাতাটা হাতে নিয়ে বলল, “আমি আবার ঠিক করে দিচ্ছি।” আমি চিৎকার করে বললাম, “আর কষ্ট করতে হবে না! তাতে কিছুই ঠিক হবে না!” বলে আমি চলে এলাম, সেই কাগজটা হাতে নিয়ে বিহ্বল হয়ে ক্যামেরন একা বসে রইল। সেই মুহূর্তে, বুঝলাম আমি একটু বাড়াবাড়ি করে ফেলেছি। কিন্তু সেটা নিয়ে বেশি ভাবিনি, তখনকার মতো সব মিটে গেছে। কিছুদিন পরে, ফের ক্যামেরনের উপর একটা সামান্য বিষয়ে রাগ করলাম। সেও আমার ওপর রাগ করল, আর আমাদের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়ে গেল। প্রধান বুঝলেন, আমরা মিলেমিশে কাজ করতে পারছি না, তাই আমায় নিয়ে আলোচনায় বসলেন আমাকে ঈশ্বরের বাক্য পড়ে শোনালেন, “কোনো খ্রীষ্টবিরোধী যে দায়িত্বই পালন করুক, যার সাথেই সহযোগিতা করুক না কেন, সর্বদাই বিরোধ ও দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। তারা সর্বদাই অন্যদের ভাষণ দিতে চায়, চায় যে অন্যরা তাদের প্রতি মনোযোগ দিক। এই ধরনের মানুষ কাদের সাথে সহযোগিতা করতে পারবে? কারোর সাথেই না—তাদের ভ্রষ্ট স্বভাব অত্যন্ত গুরুতর। তারা যে শুধুমাত্র অন্যদের সাথে সহযোগিতায় অক্ষম, তা-ই নয়, বরং উপরন্তু, তারা সর্বদা উচ্চ অবস্থান থেকে অপরকে ভাষণ দিয়ে চলে, সর্বদাই অপরকে সীমাবদ্ধ ও প্রতিহত করতে বলপূর্বক মানুষের আনুগত্য আদায় করতে চায়। এটা নিছক কোনও স্বভাবগত সমস্যা নয়—তাদের মানবতাতেও অবশ্যই কোনো নিদারুণ ত্রুটি রয়েছে, যে ত্রুটিটি হল তাদের মধ্যে বিবেক বা যুক্তিবোধের অভাব। … মানুষে মানুষে স্বাভাবিক মেলামেশার জন্য একটা শর্ত অবশ্যই পূরণ হতে হবে: সহযোগিতার জন্য সক্ষম হতে গেলে, তার আগে তাদের মধ্যে অন্ততপক্ষে বিবেক ও যুক্তিবোধ, ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা থাকতেই হবে। নিজেদের দায়িত্বপালনে সহযোগিতায় সক্ষম হতে গেলে, মানুষকে অভিন্নমনা হতে হবে, এবং নিজের দুর্বলতা ও অপরের ক্ষমতার মধ্যে সামঞ্জস্যবিধানে সক্ষম হতে হবে, ধৈর্যবান ও সহিষ্ণু হতে হবে, হতে হবে মৌলিকভাবে শিষ্টাচারী। একমাত্র এই উপায়েই তারা বন্ধুত্বপূর্ণভাবে চলতে পারবে। মাঝেমধ্যে দ্বন্দ্ব-বিবাদের ঘটলেও, তাদের সহযোগিতা বজায় থাকে; কোনো বৈরিতা উৎপন্ন হয় না। মানবতাহীন প্রত্যেক মানুষই পচা আপেলের মতো। শুধুমাত্র স্বাভাবিক মানবতাবিশিষ্ট লোকেরাই অন্যান্যদের সাথে সহজে সহযোগিতা করতে পারে, অন্যান্যদের প্রতি ধৈর্যশীল ও সহিষ্ণু হতে পারে; শুধুমাত্র তারাই অন্যান্য লোকেদের মতামত শোনে এবং কর্ম সম্পাদনের সময় অন্যান্যদের সাথে আলোচনা করার জন্য নমিত হতে পারে। তাদের মধ্যেও রয়েছে ভ্রষ্ট স্বভাব, অপরের সুনজরে আসার অবিরাম ইচ্ছা। তাদেরও সেই অভিপ্রায় রয়েছে—কিন্তু যেহেতু তারা বিবেক ও যুক্তিবোধের অধিকারী, যেহেতু তারা সত্যের অন্বেষণ করতে পারে আর নিজেদেরকে জানে, এবং যেহেতু এহেন আচরণ তাদের কাছে অনুপযুক্ত বলে মনে হয়, যেহেতু তারা অন্তর্দহন অনুভব করে, এবং যেহেতু তাদের সংযম-ক্ষমতা রয়েছে, সেহেতু, তাদের কাজ করার উপায় ও পদ্ধতি একটু একটু করে পরিবর্তিত হয়, এবং তারা অপরের সাথে সহযোগিতায় সক্ষম হয়। এ হল নিছকই ভ্রষ্ট স্বভাবের বহিঃপ্রকাশ। তারা মন্দ লোক নয়, তাদের মধ্যে খ্রীষ্টবিরোধী নির্যাসও নেই। তারা অন্যদের সাথে সহযোগিতা করতে সক্ষম। তারা খ্রীষ্টবিরোধী বা মন্দ লোক হলে তাদের অপরের সাথে সহযোগিতা করার কোনো উপায়ই থাকতো না। মন্দ ও খ্রীষ্টবিরোধী লোকেরা, যারা ঈশ্বরের গৃহ থেকে বিতাড়িত হয়, তাদের ক্ষেত্রে এমনটাই হয়। তারা কারোর সাথেই সুসমন্বিতভাবে সহযোগিতা করতে পারে না, তাই তারা অনাবৃত ও বহিষ্কৃত হয়(বাক্য, খণ্ড ৪, খ্রীষ্টবিরোধীদের উন্মোচন, অষ্টম পরিচ্ছেদ: তারা অপরের থেকে কেবল নিজেদের প্রতিই আনুগত্য আদায় করে, সত্য অথবা ঈশ্বরের প্রতি নয় (প্রথম অংশ))। তারপর আমাকে মনে করিয়ে দিলেন, “মানুষের সঙ্গে মিলেমিশে থাকতে গেলে, আমাদের উচিত অন্ততপক্ষে তাদের সম্মান করা। এভাবে ক্যামেরনের উপর চিৎকার করলে, সবসময় তিরস্কার করলে, তাকে একটুও শ্রদ্ধা করতে পারবে না। এটা কি তোমার অতি অহংকার নয়? ওর সব কাজকেই তুমি খাটো করে দেখো, সারাদিন চোখে চোখে রাখো, সমস্যাগুলোকে জিইয়ে রাখো। এটা কি ঠিক? ক্যামেরন অনেক কাজ করে আর ওর স্মৃতিশক্তি দুর্বল। কিছু সমস্যা হবেই। ওর সঙ্গে আরো ভালো ব্যবহার ও ওকে আরো সাহায্য করা কি তোমার উচিত নয়? তাছাড়া, ও ক্রমশ উন্নতি করছে। কিন্তু তুমি কী করছ? তোমার স্বভাব ও মানবিকতায় সমস্যা আছে। মানুষের উপর সবসময় চিৎকার করা একটা ভ্রষ্ট স্বভাব। তুমি ভ্রাতার দোষ দেখতে পেলেও নিজের দোষের বেলায় কি অন্ধ থাকছো না?”

তারপর, প্রধান আমাকে ঈশ্বরের বাক্যের আর একটি অনুচ্ছেদ পড়ে শোনালেন, “অন্যান্যদের সাথে সহযোগিতা করা কি খুব কঠিন, তোমাদের কী অভিমত? আসলে তা নয়। তুমি বলতেই পারো যে এটা সহজ। কিন্তু এখনও লোকেদের এটা কঠিন বলে মনে হয় কেন? এর কারণ হল যে, তাদের ভ্রষ্ট স্বভাব রয়েছে। যারা মানবিকতার অধিকারী, যাদের বিবেকবোধ ও চেতনা রয়েছে, তাদের পক্ষে অন্যের সাথে সহযোগিতা করা অপেক্ষাকৃতভাবে সহজ, এবং খুব সম্ভবত এই বিষয়টিকে আনন্দময় কোনোকিছু বলেই অনুভব হবে তাদের। যেহেতু কারো পক্ষেই সবকিছু নিজেনিজে সম্পন্ন করা সহজ নয়, তাই তারা যে ক্ষেত্রের সাথেই যুক্ত থাকুক বা যে কাজই করুক, যদি প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোর দিকে ইঙ্গিত করার ও তাদের সাহায্য করার জন্য কেউ থাকে, তাহলে সেই কাজ তাদের নিজেনিজে করার চেয়ে অনেক সহজে সম্পন্ন করা যায়। এছাড়াও, মানুষের ক্ষমতা কতদূর কার্যকর, অথবা তারা কী অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারে, তারও সীমা রয়েছে। কেউই সব কাজে দক্ষ হতে পারে না, কোনো একজনের পক্ষে সবকিছু জানা, সবকিছু শেখা, সবকিছু সম্পন্ন করা সম্ভব নয়—এটা অসম্ভব, এবং প্রত্যেকেরই সেই বোধ থাকা উচিত। আর তাই, তুমি যা-ই করো না কেন, তা গুরুত্বপূর্ণ হোক বা না হোক, তোমাকে সহায়তা করতে, পরামর্শ দিতে, উপদেশ দিতে, অথবা তোমার সাথে সহযোগিতায় কিছু করতে সর্বদাই কোনো একজনের থাকা উচিত। একমাত্র এইভাবেই নিশ্চিত করা যায় যে তুমি আরও সঠিক ভাবে কাজ করবে, কম ভুল করবে এবং তোমার বিপথে যাওয়ার সম্ভাবনা কম হবে—যেটা একটা ভালো ব্যাপার(বাক্য, খণ্ড ৪, খ্রীষ্টবিরোধীদের উন্মোচন, অষ্টম পরিচ্ছেদ: তারা অপরের থেকে কেবল নিজেদের প্রতিই আনুগত্য আদায় করে, সত্য অথবা ঈশ্বরের প্রতি নয় (প্রথম অংশ))। তারপর প্রধান আমার সঙ্গে আরো আলোচনা করলেন, শেষে জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি একা যদি জিনিসগুলোর ব্যবস্থাপনা করতে, তুমি কি ভুল না করে তা করতে পারতে?” লজ্জিতকণ্ঠে বললাম, “না।” প্রধান বললেন, “একদম ঠিক। সবাই সব কিছু জানে না, এবং দায়িত্ব পালন করতে সবারই সঙ্গীর প্রয়োজন হয়। মিলেমিশে কাজ করতে না পারলে, তুমি কীভাবে ঠিকঠাক দায়িত্ব পালন করবে? তোমার এটা নিয়ে ভাবতে হবে, নিজের সমস্যায় মন দিতে হবে।”

ফিরে এসে সত্যি, খুব খারাপ লাগল। নিজের এত বড় সমস্যার ব্যাপারে কীভাবে অচেতন ছিলাম? আমি ভাবতাম, আমার মানবিকতাবোধ বেশ ভালো, আর আমি ভ্রাতা-ভগিনীদের সঙ্গে মিলেমিশে থাকতে পারি, কিন্তু যখন থেকে আমার কাজে ক্যামেরনের সঙ্গে সহযোগিতা করছি, আমি নিজের নৈতিকতার বিষয়ে উদ্ধত ছিলাম, ভাবতাম আমার ভাবনা আর কাজই সঠিক। আমি তার উপর নিজের ইচ্ছা চাপিয়ে দিতাম আর, মর্জিমাফিক কাজ করাতাম। সত্যের উপর আলোচনা করে তাকে সাহায্য করিনি, কেবল রেগে গিয়ে তাকে দায়ী ও তিরস্কার করেছি। আমার কোনো মানবিকতা ছিল না, বা এরকম করার কোনো কারণও ছিল না। সবসময় ভাবতাম ভ্রাতার চেয়ে আমি দক্ষ, তাই তাকে নিচু নজরে দেখতাম। তাকে আমার অস্বস্তিকর মনে হত, তাই তার দক্ষতা ও দুর্বলতাগুলোকে ঠিকঠাক ধরতে পারিনি। প্রতি সুযোগে নিজেকে জাহির করে তাকে ছোট করেছি। আসলে, ক্যামেরন আর আমি যৌথভাবে গির্জার জিনিসপত্রের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলাম, কিন্তু তার সঙ্গে কখনোই পরামর্শ করিনি। সবসময় ছিলাম আত্মকেন্দ্রিক, আমিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতাম, আর নির্দেশ দিতাম ক্যামেরনকে। শেখাতে গিয়ে প্রায়ই ওকে বাচ্চাদের মতো বকাবকি করতাম। আমার স্বভাব ছিল অত্যন্ত উদ্ধত এবং ঈশ্বর তা ঘৃণা করেন!

আমি জানতাম আমি উদ্ধত এবং সবাইকে আমার কথা শুনতে বাধ্য করতাম, কিন্তু জানতাম না ঠিক কীভাবে এই সমস্যার সমাধান করব। আমি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করলাম, তার বাক্যে প্রাসঙ্গিক অংশগুলিকে খুঁজলাম। একদিন, ঈশ্বরের বাক্যে পড়লাম, “অপরকে নিয়ন্ত্রণ ও জয় করার প্রতি খ্রীষ্টবিরোধীদের একটা অবিরাম আকাঙ্ক্ষা থাকে। লোকেদের সাথে মোকাবিলা করার সময় তারা সর্বদাই বুঝে উঠতে চায়, যে, লোকেরা তাদের কী নজরে দেখে, তাদের প্রতি মানুষের অন্তরে মর্যাদা রয়েছে কিনা, তারা তাদের প্রশংসা বা উপাসনা করে কিনা। যে সব লোক মোসাহেব, যারা তাদের তোষামোদ ও চাটুকারিতা করে, এমন মানুষের সাক্ষাত পেলে এই খ্রীষ্টবিরোধীরা বিশেষভাবে আনন্দিত হয়ে ওঠে; তারা সেই ব্যক্তিকে উচ্চ অবস্থান থেকে ভাষণ দিতে শুরু করে, এবং শূন্যগর্ভ আলাপচারিতায় মত্ত হয় তার মধ্যে নিয়ম, পদ্ধতি, মতবাদ ও ধারণাসমূহ সঞ্চারিত করার উদ্দেশ্যে, যাতে সেই ব্যক্তি এগুলিকেই সত্যরূপে গ্রহণ করে। তারা বিষয়টিকে এমনকি এইভাবে মহিমান্বিতও করে, ‘যদি এই বিষয়গুলো স্বীকার করতে পারো, তাহলেই তুমি সত্যপ্রেমী ও সত্য অন্বেষণকারী একজন মানুষ হয়ে উঠবে।’ অবিবেচকগণ ভাবে কোনো খ্রীষ্টবিরোধী যা বলে তাই বুঝি ন্যায্য, এমনকি তা অস্পষ্ট বলে মনে হলেও, এবং তা সত্যের সাথে সুসঙ্গত কিনা, সেবিষয়ে অজ্ঞ হলেও। তাদের মনে হবে যে, খ্রীষ্টবিরোধী যা কিছু বলে একমাত্র তা-ই ঠিক এবং তা সত্যের লঙ্ঘন করতে পারে না। এবং এইভাবে, তারা খ্রীষ্টবিরোধীদের প্রতি সমর্পিত হয়ে পড়ে। কেউ যদি কোনো খ্রীষ্টবিরোধীকে শনাক্ত ও অনাবৃত করে, তাহলে তা সেই খ্রীষ্টবিরোধীকে ক্রুদ্ধ করবে। সেই খ্রীষ্টবিরোধী তখন সেই ব্যক্তির প্রতি রূঢ়ভাবে অভিযোগ ও নিন্দামন্দ নিক্ষেপ করবে, তাকে হুমকি দেবে, এবং ক্ষমতা প্রদর্শন করবে। অবিবেচকগণ পূর্ণত বশীভূত এবং প্রশংসায় উত্তাল হবে; তারা খ্রীষ্টবিরোধীদের উপাসক এবং তাদের প্রতি নির্ভরশীল হয়ে উঠবে, এমনকি তাদের ভয়ও পাবে। এই সকল ব্যক্তিগণ অনুভব করবে যেন তারা ক্রীতদাস হয়ে পড়েছে, যেন খ্রীষ্টবিরোধীর নেতৃত্ব ছাড়া, তার নির্দেশনা এবং তিরস্কার ব্যতীত, তাদের হৃদয় অচল, যেন তারা এই বিষয়সকল হারিয়ে ফেললে ঈশ্বর তাদের চাইবেন না। এবং তারা কোনো ভরসার বোধ অনুভব করে না। যখন এমনটা হয়, তখন, খ্রীষ্টবিরোধী যাতে ক্রুদ্ধ না হয়ে পড়ে সেই ভয়ে, মানুষ কাজ করার আগে খ্রীষ্টবিরোধীর মুখের ভাব দেখেই সেই বিষয়ে আঁচ করা শিখে নেয়। তারা সকলেই খ্রীষ্টবিরোধীদের খুশি করার ইচ্ছা পোষণ করে; তারা সকলেই খ্রীষ্টবিরোধীকে অনুসরণ করবে বলে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে পড়ে। তারা সে সমস্ত কাজ করে, তাতে কোনো খ্রীষ্টবিরোধী মতবাদের বিষয়ে কথা বলে। মানুষকে নিয়ম পালন করানোর জন্য নির্দেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে তারা পারদর্শী, কিন্তু তারা কখনোই বলে না যে, সত্যের কোন নীতিমালা পালনীয়, বা কোনো কাজ কেন করণীয়, বা ঈশ্বরের ইচ্ছা কী, অথবা ঈশ্বরের গৃহের কাজ কীভাবে আয়োজিত হয়; কোন কাজটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বা প্রয়োজনীয়, বা কোন মূল কাজটা ভালোভাবে সম্পন্ন করতে হবে, সেসব তারা কখনোই বলে না। কোনো খ্রীষ্টবিরোধী এই সব অত্যন্ত জরুরি বিষয়ে কোনো কথাই বলে না। কাজ করার আর কাজের আয়োজনের ক্ষেত্রে, তারা কখনোই সত্যের বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করে না, কারণ তারা সত্যের নীতি উপলব্ধিমাত্র করে না। তাই, তারা শুধুমাত্র মানুষকে নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম ও মতবাদ অনুসরণ করার নির্দেশনাই দিতে পারে। এবং কেউ তাদের দাবিগুলির ও নিয়মাবলীর লঙ্ঘন করলে, তাকে নিন্দিত ও তিরস্কৃত করা হয়। খ্রীষ্টবিরোধীরা তাদের কাজ করার সময় প্রায়শই ঈশ্বরের গৃহের ধ্বজা বহন করে, নিজেদের উচ্চ অবস্থান থেকে লোকজনকে ভাষণ দেয়। এমনকি কোনো কোনো লোক তাদের বক্তৃতা শুনে এতটাই অভিভূত হয় যে, তারা মনে করে, খ্রীষ্টবিরোধীর দাবি অনুযায়ী কাজ না করলে তারা ঈশ্বরের কাছে ঋণী থেকে যাবে। এই ধরনের কোনো ব্যক্তি কি খ্রীষ্টবিরোধীর নিয়ন্ত্রণাধীন? (হ্যাঁ।) কোনো একজন খ্রীষ্টবিরোধীর তরফ থেকে, এটা কোন প্রকারের আচরণ? এ হল কাউকে দাসত্ববন্ধনে আবদ্ধ করা(বাক্য, খণ্ড ৪, খ্রীষ্টবিরোধীদের উন্মোচন, অষ্টম পরিচ্ছেদ: তারা অপরের থেকে কেবল নিজেদের প্রতিই আনুগত্য আদায় করে, সত্য অথবা ঈশ্বরের প্রতি নয় (প্রথম অংশ))। ঈশ্বর যেন আমার অবস্থার কথাই বলেছেন। ক্যামেরনের সঙ্গে কাজ করার সময় তাকে মনে হয়েছিল শান্তশিষ্ট। কাজে ভুল হলে আমি যখন নিন্দা করতাম সে মেনে নিত, অস্বীকারের চেষ্টা করত না। সে নরম মনের ও তার উপর কর্তৃত্ব ফলানো সহজ বলে, তার উপর হম্বিতম্বি করতাম, আর সব ব্যাপারেই আমি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতাম। অনেক সময়, যখন তার সঙ্গে পরামর্শ করতাম, আসলে আমি বলার জন্য বলতাম। শেষ পর্যন্ত, আমিই সিদ্ধান্ত নিতাম। এছাড়াও, জিনিসপত্রের ব্যবস্থাপনায় আমি কিছু সতর্কতা নিয়েছিলাম যেগুলোকে দেখে মনে হয় ত্রুটিমুক্ত ও কার্যকর, কিন্তু প্রাসঙ্গিক নীতির উপর ভিত্তি করে আমি এই সতর্কতাগুলো নিইনি। নিয়েছিলাম ক্যামেরনের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে। বলতে পারেন ওর জন্যই বানিয়েছিলাম। যখনই সে সতর্কতাগুলো নিতে ভুলে যেত, আমি তাকে দায়ী ও তিরস্কার করার অজুহাত পেতাম, সেও প্রতিবাদের সুযোগ পেত না। শেষবারে যেমন, সে যখন আমার কথা মতো বিবরণী লেখেনি, আমি বিনা দ্বিধায় তাকে বকেছি আমার মর্জিমাফিক কাজ করতে বাধ্য করেছি। মনে আছে সেদিন সে কী বলেছিল, “যখনই তোমাকে জিনিসপত্র গোছাতে দেখি, তখন আমি লুকিয়ে যাই। ভয় হয়, কাজ ঠিকমতো না হলে তুমি যদি আবার সমালোচনা করো।” শুনে নিজের খুব গ্লানিবোধ হল। যে শয়তানোচিত স্বভাব আমি প্রকাশ করেছি তা আমার ভ্রাতার মনে ছায়া ফেলেছে এবং তাকে অপ্রতিভ করেছে। ঠিক যেমনটা ঈশ্বরের বাক্যে বলা রয়েছে “কেউ তাদের দাবিগুলির ও নিয়মাবলীর লঙ্ঘন করলে, তাকে নিন্দিত ও তিরস্কৃত করা হয়। খ্রীষ্টবিরোধীরা তাদের কাজ করার সময় প্রায়শই ঈশ্বরের গৃহের ধ্বজা বহন করে, নিজেদের উচ্চ অবস্থান থেকে লোকজনকে ভাষণ দেয়। এমনকি কোনো কোনো লোক তাদের বক্তৃতা শুনে এতটাই অভিভূত হয় যে, তারা মনে করে, খ্রীষ্টবিরোধীর দাবি অনুযায়ী কাজ না করলে তারা ঈশ্বরের কাছে ঋণী থেকে যাবে। এই ধরনের কোনো ব্যক্তি কি খ্রীষ্টবিরোধীর নিয়ন্ত্রণাধীন?” অবশেষে বুঝলাম আমার সমস্যাটা গুরুতর। ক্যামেরনের সঙ্গে কাজ করার সময় আমার খ্রীস্টবিরোধী স্বভাব প্রকাশ পেয়েছিল। আমার তখন পদমর্যাদা ছিল না, কিন্তু যদি আমার পদমর্যাদা থাকতো, তাহলে মানুষকে সংকুচিত করা, নিয়ন্ত্রণ করা, আমার পক্ষে আরো অনেক সহজ হতো। তাহলে কি আমি খ্রীস্টবিরোধী হতাম না? আমি সাধারণত সত্যের অন্বেষণ বা আত্ম-বিশ্লেষণ করতাম না। আমি প্রায়ই অজান্তে ভ্রষ্ট স্বভাব প্রকাশ করে ফেলতাম। একেবারেই অনুভূতিহীন ছিলাম।

ঈশ্বরের বাক্য স্মরণ করলাম, “তুমি ঈশ্বরের গৃহের একজন সদস্য হওয়া সত্ত্বেও, যদি সর্বদাই নিজের কাজকর্মে দুর্দমনীয় থাকো, তোমার মধ্যে স্বাভাবিকভাবে যা কিছু রয়েছে সর্বদাই সেগুলো প্রকাশ করো, নিজের ভ্রষ্ট স্বভাব প্রকাশ করো, যদি ভ্রষ্ট শয়তানোচিত স্বভাবে মনুষ্যসুলভ পন্থা অবলম্বন করে বিভিন্ন জিনিস করো, তাহলে চূড়ান্ত পরিণতি হিসাবে থাকবে তোমার মন্দ কর্ম এবং ঈশ্বরের প্রতিরোধ সাধন—এবং যদি তুমি এই পুরো সময়টাতেই অনুতাপশূন্য থাকো এবং সত্য অন্বেষণের পথে পদার্পণ করতে না পারো, তাহলে তোমাকে অনাবৃত ও বহিষ্কৃত হতে হবে(বাক্য, খণ্ড ৩, অন্তিম সময়ের খ্রীষ্টের উপদেশ, শুধুমাত্র সত্যকে স্বীকার করার মাধ্যমেই কলুষিত স্বভাব ঠিক করা সম্ভব)। ক্যামেরনের প্রতি আমার আচরণ মনে করলাম। অসন্তোষ প্রকাশ ও সাময়িক স্বস্তির জন্য আমি, ভ্রাতার অনুভূতি পুরোপুরি উপেক্ষা করে গেছি। বিবরণীর পাতা পড়া যাচ্ছে না বলে যখন রেগে গেছিলাম, ক্যামেরনকে এমন ভাবে বকেছিলাম যেন কোনো বাচ্চা ভুল করেছে। সে কোনো কথা না বলে সেখানে বসে ছিল, সে যখন নিজের ভুল স্বীকার করল, আমি তখন তা মানতে অস্বীকার করেছি। দৃশ্যটা আমার মাথায় গেঁথে ছিল, ভুলতেই পারছিলাম না। ওই বিষয়ে ভাবলেই মনে এত অপরাধবোধ হচ্ছিল, যন্ত্রনা হচ্ছিল, যা বলে বোঝানো যায় না। নিজেকে জিজ্ঞেস করলাম, “ভ্রাতার সঙ্গে এমন ব্যবহার কীভাবে করলে? কখনো আলোচনা বা সাহায্য না করে, তিরস্কার করার অধিকার কীভাবে পেলে? তাকে কোন সাহসে তুমি ভ্রাতা বলো?” প্রশ্নগুলোর উত্তর আমার কাছে নেই। অতীতে, সবসময় ভাবতাম ক্যামেরন দোষী, তার মধ্যে অনেক দোষ আছে আর আমাকে খালি সমস্যায় ফেলে। এখন বুঝেছি আসলে সমস্যাটা আমারই। আমি নিজেকে কখনো বদলাইনি। আর ছিলাম অতিরিক্ত উদ্ধত আর অমানবিক। তীব্র অনুশোচনা হলো, নিঃশব্দে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করলাম, অনুতাপ করতে চাইলাম।

জানতে চাইলাম নীতি অনুযায়ী কীভাবে ভ্রাতা ও ভগিণীদের সঙ্গে আচরণ করতে হয়। ঈশ্বরের বাক্যে পড়লাম, “ভাই-বোনেরা কীভাবে মেলামেশা করবে, সেই বিষয়ে অবশ্যই নীতি থাকা উচিত। সর্বদা অন্যান্যদের ত্রুটির ওপর লক্ষ্য নিবদ্ধ না রেখে, বরং প্রায়শই আত্ম-বিশ্লেষণ করো, অন্যদের বিষয়ে হস্তক্ষেপকারী বা ক্ষতিকর কী কাজ তুমি করেছ, সেই বিষয়গুলো তাদের কাছে পরবর্তীকালে স্বীকার করার ক্ষেত্রে সক্রিয় হও, এবং নিজেকে উন্মুক্ত করে আলাপ-আলোচনা করতে শেখো। এটাই পারস্পরিক বোঝাপড়া গড়ে তুলবে। উপরন্তু, মানুষের ওপর যা-ই নেমে আসুক না কেন, ঈশ্বরের বাক্যের ভিত্তিতেই বিষয়গুলোকে তাদের দেখতে হবে। তারা যদি সত্যের নীতি উপলব্ধি করতে সক্ষম হয় এবং অনুশীলনের একটা পথ খুঁজে পায়, তাহলেই তারা অভিন্নমনা হতে পারবে, এবং ভাইবোনেদের মধ্যে সম্পর্ক হবে স্বাভাবিক, তারা অবিশ্বাসীদের মতো অনুভূতিশূন্য, নির্বিকার ও নিষ্ঠুর হবে না, এবং তারা তাদের একে অপরের প্রতি সন্দেহ ও অবিশ্বাসের মানসিকতা পরিত্যাগ করতে পারবে। ভাইবোনেরা একে অপরকে বিচ্ছিন্ন না করে, ঈর্ষা না করে, একে অপরের সাপেক্ষে নিজেদের পরিমাপ না করে, গোপনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করে, এবং একে অপরের প্রতি বিদ্বেষী না হয়ে, একে অপরের সাথে আরো ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠবে; তারা একে অপরকে সমর্থন করতে পারবে, ভালোবাসতে পারবে; তাদের হৃদয়ে সদিচ্ছা থাকবে, তারা একে অপরের প্রতি হবে সহিষ্ণু ও সহানুভূতিশীল হতে সক্ষম হবে, এবং তারা একে অপরকে সমর্থন ও সাহায্য করবে। মানুষ অবিশ্বাসীদের মতো হলে, নিজেদের দায়িত্ব কীভাবে ভালোভাবে সম্পাদন করতে পারবে? এটা যে শুধু তাদের জীবনে প্রবেশকেই প্রভাবিত করবে তা নয়, বরং অন্যান্যদেরও ক্ষতিগ্রস্ত ও প্রভাবিত করবে। … মানুষ যখন তাদের ভ্রষ্ট স্বভাব অনুসারে জীবনযাপন করে, তখন তাদের পক্ষে ঈশ্বরের সামনে শান্ত হয়ে থাকা খুবই কঠিন হয়, তাদের পক্ষে সত্যের পালন এবং ঈশ্বরের বাক্য অনুসারে জীবনযাপনও হয়ে পড়ে দুষ্কর। ঈশ্বরের সম্মুখে জীবনযাপন করতে হলে, তোমাকে প্রথমেই জানতে হবে কীভাবে নিজেকে জানা যায়, নিজের বিষয়ে ভাবনা-চিন্তা করা যায়, এবং ঈশ্বরের কাছে প্রকৃত প্রার্থনা করা যায়, তারপরে অবশ্যই শিখতে হবে কীভাবে ভাই-বোনেদের সাথে মিলেমিশে থাকা যায়। একে অপরের প্রতি তোমাদের অবশ্যই সহিষ্ণু হতে হবে, ক্ষমাশীল হতে হবে, দেখতে সক্ষম হতে হবে যে, একে অপরের কোন বিষয়টা ব্যতিক্রমী, ক্ষমতার জায়গাই বা কোনগুলো—এবং অন্যান্যদের বলা সঠিক মতামত ও বিষয়গুলো গ্রহণ করা শিখতেই হবে তোমায়। নিজেকে প্রশ্রয় দিও না, উদগ্র আকাঙ্ক্ষা পোষণ কোরো না, সর্বদা নিজেকে অন্যান্যদের থেকে ভালো হিসাবে গণ্য করে তারপর নিজেকে কোনো মহান ব্যক্তিত্ব ভেবে বোসো না, তোমার কথামতো বাকিদের কাজ করতে, তোমাকে মান্য করতে, তোমাকে সুনজরে দেখতে, মহিমান্বিত করতে, বাধ্য কোরো না—এ এক বিকৃত মানসিকতা। … সুতরাং, ঈশ্বর মানুষের সাথে কীভাবে আচরণ করেন? মানুষকে দেখতে কেমন, তারা লম্বা না বেঁটে—এসব ঈশ্বর গ্রাহ্য করেন না। বরং, তিনি দেখেন যে, তাদের হৃদয় দয়ালু কিনা, তারা সত্যপ্রেমী কি না, ঈশ্বরকে ভালোবাসে আর মান্য করে কি না। এইগুলোর ভিত্তিতেই ঈশ্বর মানুষের সাথে আচরণ করেন। যদি মানুষও এমন করতে পারে, তাহলে তারাও অন্যান্যদের সাথে ন্যায্য আচরণ করতে পারবে, এবং এইভাবেই সত্যের নীতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হতে পারবে। সর্বপ্রথমে, তোমাকে অবশ্যই ঈশ্বরের ইচ্ছা উপলব্ধি করতে হবে। ঈশ্বর মানুষের সাথে কীভাবে আচরণ করেন তা যদি আমরা জানতে পারি, তখন আমাদের কাছেও মানুষের সাথে আচরণ করার নীতি ও পথ থাকবে(বাক্য, খণ্ড ৩, অন্তিম সময়ের খ্রীষ্টের উপদেশ, তৃতীয় অংশ)। হ্যাঁ। আমাদের দায়িত্বপালনের সময় যখন আমরা একে অপরের সাথে যোগাযোগ করি, অন্ততঃপক্ষে আমাদের উচিত স্বাভাবিক মানবতা বজায় রাখা, একে অপরকে সাহায্য করা, সমর্থন করা, ধৈর্যশীল ও সহিষ্ণু হওয়া, একে অপরের যত্ন নেওয়া, যখন কেউ নীতির বিরুদ্ধে যায়, তখন তার সাথে সত্যের বিষয়ে আলোচনা করা, গুরুতর বিষয়ে, আমাদের প্রকাশ, ছাঁটাই ও মোকাবিলা করা উচিত। নীতি মেনে কাজ করার এটাই একমাত্র পথ। ভ্রাতা ও ভগিনীরা বিভিন্ন জায়গা থেকে আসে, সবার জীবনের বাস্তবতা, অভিজ্ঞতা, বয়স ও দক্ষতা ভিন্ন। তাদের ত্রুটি বা সীমাবদ্ধতা যাই থাকুক না কেন, আমাদের উচিত তাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা, তাদের কাছ থেকে খুব বেশি প্রত্যাশা না রাখা, এবং তাদের প্রতি বিবেচনাশীল ও সহিষ্ণু হওয়া। ক্যামেরন রক্ষণাবেক্ষণে ভালো ছিল, অনেক কাজে ব্যস্ত থাকত। তার ওপর, জিনিসপত্রের চেক-ইন চেক-আউটের বিবরণী রাখায় সে দক্ষ ছিল না। আমার উচিত ছিল আরো দায়িত্ব নেওয়া ও তার সমস্যা বোঝা, আমার মতো করে তাকে দিয়ে কাজ করানোটা উচিত হয়নি। এটা ছিল ভীষণ অমানবিক। ভ্রাতা রক্ষণাবেক্ষণের কাজে ভালো ছিল, মেরামতের কাজে নিষ্ঠাবান ছিল, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো কষ্টকে ভয় পেত না। এই বিচারে, সে আমার চেয়ে অনেক দক্ষ। কিন্তু আমি ভ্রাতার শক্তির দিক দেখিনি। তার সীমাবদ্ধতাটাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়ে তাকে দোষ দিতাম, তিরস্কার করতাম। কী ঔদ্ধত্য আর নির্বুদ্ধিতা।

পরে, আমি সচেতনভাবে নিজেকে বদলাই, নীতিঅনুযায়ী অনুশীলন করি। আবার যখন এই বিষয়গুলি ঘটল, তখন আমি অনেক শান্ত থাকলাম, আর ক্যামেরনের প্রতি অনেক সহানুভূতিশীল হলাম। একবার, আমাকে একটা কাজে যেতে হয়, ক্যামেরনকে একাই সব ব্যবস্থাপনা করতে হয়। কিছুক্ষণ পরে, ক্যামেরনকে ফোনে জিজ্ঞেস করি সব কেমন চলছে। শান্ত সতর্কভাবে, সে বলে, “তোমার কেমন মনে হয়? তুমি যেমন ভাবছো ঠিক তেমনই চলছে।” শুনে আমার, খুবই খারাপ লাগে। ভ্রাতা আমাকে এ কথা কেন বলবে? অতীতে ভ্রষ্ট স্বভাবের কারণে আমি তার সঙ্গে যে আচরণ করতাম, এবং যেভাবে তাকে মনে করিয়ে দিতাম যে সে কিছুই না, সে ঠিকমতো কিছুই করতে পারে না, সেই কারণেই এই কথা ব্যাপারটা নিয়ে যত ভাবছিলাম, তত খারাপ লাগছিল, কিন্তু এতে আমার সত্য অনুশীলনের ও নিজেকে বদলানোর সংকল্প দৃঢ় হলো। ক্যামেরনকে সান্ত্বনা দিয়ে বললাম, “চারপাশে দেখো কোনটা জায়গামতো নেই, সময় নিয়ে গোছাও। তুমি অন্য কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকো বলে, একটু অগোছালো হওয়া স্বাভাবিক। যদি তুমি গোছানোর সময় না পাও, আমি ফেরার পর দুজনে মিলে করতে পারি।” কথা শেষ করে, ভাবলাম ক্যামেরন একা বোধহয় সামলাতে পারবে না, তাই এক ভগিনীকে বললাম সাহায্য করতে। অতীতে এমন ঘটনা ঘটলে, আমি সবসময় তাকে ভুলের জন্য সমালোচনা ও তিরস্কার করতাম। এখন, এমনটা ঘটলে, আমি আলোচনা করি ও সাহায্য করি, তাতে আমি নিজেও শান্তি ও স্বস্তি বোধ করি। আমি ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞ। এখন, নিজের উদ্ধত স্বভাবের সম্বন্ধে আমার কিছুটা উপলব্ধি হয়েছে, এবং সামান্য হলেও আমি নিজেকে সংযত করতে পারি। এসবই ঈশ্বরের বাক্য পড়ার সুফল। যদিও এটা সামান্য বদল, এবং তা আমার ভ্রষ্ট স্বভাবের মৌলিক পরিবর্তন করার মতো যথেষ্ট নয়, তবু আমি খুশী, কারণ শুরু হিসেবে এটা মন্দ নয়। আমি বিশ্বাস করি, যদি আমি ঈশ্বরের বাক্যের মাধ্যমে অনুশীলন ও প্রবেশ করতে পারি, তাহলে নিজের ভ্রষ্ট স্বভাব পরিত্যাগ করতে পারব। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ!

পূর্ববর্তী: এঞ্জেলের কাহিনী

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।

সম্পর্কিত তথ্য

কর্তন ও মোকাবিলা সামলানোর উপায়

—এক নিষ্ঠামূলক দিনলিপি বুধবার, সতেরোই আগস্ট, দু’হাজার বাইশ, পরিষ্কার আকাশ আমি আজ একটা নতুন কাজ শুরু করেছি। লেখালিখি সংক্রান্ত কাজ। কাজটা...

মিথ্যা বলার যন্ত্রণা

২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে, আমি অন্তিম সময়ে সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কাজ মেনে নিই। সমাবেশগুলিতে আমি দেখেছি যে ব্রাদার ও সিস্টাররা তাদের...

ঈর্ষার বন্ধন থেকে মুক্তি

২০১৮ সালের জানুয়ারিতে, আমি তখন সবেমাত্র সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের অন্তিম সময়ের কাজ গ্রহণ করেছি। অচিরেই আমি একটা দায়িত্ব নিয়ে স্তবগানের মিউজিক...

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন