কে সত্যিই আমার পরিবারকে ছারখার করেছে?

04-09-2023

আমি শিক্ষকতা করতাম আর আমার স্বামী ছিল ইঞ্জিনিয়ার। প্রথম থেকেই আমাদের বৈবাহিক সম্পর্ক খুব ভাল ছিল, আমাদের ছিল সবদিক থেকে চৌকশ ভদ্র। বন্ধু আর সহকর্মীরা সবাই আমাদের প্রশংসা করত। তারপর, ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে, আমি সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের অন্তিম সময়ের কাজ গ্রহণ করলাম। ঈশ্বরের বাক্য পড়ে বুঝলাম যে আমাদের ত্রাতা, সর্বশক্তিমান ঈশ্বর, মানবজাতিকে পরিশুদ্ধ ও উদ্ধার করতে অনেক সত্য প্রকাশ করেছেন। বিশ্বাস রাখা, ঈশ্বরের বাক্য পড়া, সত্য লাভ করা, পাপ আর আমাদের কলুষিত স্বভাব বর্জন করাই মহাবিপর্যয়ে ঈশ্বরের দ্বারা রক্ষা পাওয়া, আর সবশেষে তাঁর রাজ্যে প্রবেশের একমাত্র উপায়। আরও বুঝলাম যে আমাদের প্রত্যেকের জীবন ঈশ্বরপ্রদত্ত, আর আমাদের যা আছে সবই ঈশ্বরের দান। সৃষ্ট সত্তা হিসাবে আমাদের নিজেদের কর্তব্য পালন করা উচিত। পরে আমি সুসমাচার প্রচার আর নবাগতদের সিঞ্চন শুরু করলাম। প্রত্যেকদিন তাই নিজেকে পরিপূর্ণ মনে হত। আমার স্বামী লক্ষ্য করল যে বিশ্বাসী হওয়ার পর থেকে, আমার মুখে সবসময় হাসি লেগে থাকে, সে খুশি হয়ে আমাকে বলে, “আগে তুমি একদিন কাজ করলেই একবারে নিস্তেজ যেতে। তোমার জন্য চিন্তা হত। কিন্তু বিশ্বাসী হওয়ার পর থেকে প্রতিদিনই ব্যস্ত থাকো, অথচ আগের চেয়ে আরও ভাল করে কাজ করছ। মনে হচ্ছে বিশ্বাসী হওয়া দারুণ ব্যাপার!” কিন্তু ভালো জিনিস স্থায়ী হয় না। কিছুদিনের মধ্যেই, সে আমার উপর অত্যাচার শুরু করে আর আমার বিশ্বাসের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

২০০৭ সালের মার্চ মাসে, একদিন সে কাজ থেকে বাড়িতে এসেই কড়া সুরে বলল, “আজ বস প্রত্যেক বিভাগের ক্যাডারদের সাধারণ সভা ডেকেছিল বলেছে যে সাম্প্রতিককালে সর্বশক্তিমান ঈশ্বরে বিশ্বাসীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে, এর জন্য পার্টি ভয় পাচ্ছে। তারা সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের গির্জাকে প্রধান জাতীয় শত্রু হিসাবে তালিকাভুক্ত করেছে, আর সর্বশক্তিমান ঈশ্বরে সব বিশ্বাসীকে কমিউনিস্ট পার্টি গ্রেপ্তার করবে। সরকারি কর্মীদের ক্ষেত্রে এরা আরও কঠোর: কেউ বিশ্বাসী বা তার পরিবারের কেউ গির্জার সদস্য হলে তাকে অবিলম্বে বরখাস্ত করা হবে, কোনো ছাড় নেই! যেহেতু তোমার স্কুলের কেউ এখনও তোমার বিশ্বাস সম্পর্কে জানতে পারেনি, তাই দেরি হওয়ার আগেই বিশ্বাস ত্যাগ করো। তোমার বস জানতে পারলেই তোমাকে গ্রেপ্তার করা হবে!” আমি ভাবছিলাম যে বিশ্বাস যদি সঠিক আর আইনবিরোধী না হয়, তাহলে পার্টি আমাকে আটকাতে চাইবে কেন? তাই আমি তাকে বললাম, “চিন যখন WTO-তে যোগ দেয়, তখন কি তারা ঘোষণা করেনি যে চিনে ধর্মবিশ্বাসের স্বাধীনতা আছে? তাহলে এখন দমন করছে কেন? আমার বিশ্বাসে খারাপ কী আছে?” সে খুব রেগে গিয়ে জবাব দিল, “জানি বিশ্বাস থাকা ভালো, কিন্তু পার্টি অনুমতি না দিলে আমরা কী করতে পারি? জলে থেকে কুমিরের সাথে লড়াই করা যায় না। তোমার বিশ্বাসে অটল থাকলে গ্রেপ্তার হয়ে জেলে যেতে পারো। যদি গ্রেপ্তার হও, তাহলে সেটা কি আমাদের পরিবারকে ছারখার করবে না? পরিবারের জন্য তোমার বিশ্বাস ত্যাগ করতে হবে!” ওর কথা শুনে একটু রুষ্ট হলাম। কল্পনাও করিনি যে মানুষের ঈশ্বরবিশ্বাস প্রতিহত করতে পার্টি, বসদের ব্যবহার করে লোকজনের উপর চাপ তৈরি করবে, তাই স্বামীর আকস্মিক পরিবর্তনের কারণ বুঝতে পারলাম। ভাবছিলাম পার্টি আমার বিশ্বাস সম্পর্কে জানতে পারলে কি আমায় ছেড়ে দেবে? বিশ্বাসীদের পক্ষে চিনে বাস করা এত কঠিন কেন? তখন এক ভগিনীর পড়া ঈশ্বরের একটা বাক্য মনে পড়ল। “এই অতিকায় লাল ড্রাগন ঈশ্বরকে নিগ্রহ করে এবং সে তাঁর শত্রু, আর সেজন্য এই দেশে ঈশ্বরবিশ্বাসীরা অপমানিত ও নিপীড়িত। ফলে তোমাদের, অর্থাৎ এই নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যেই ঈশ্বরের বাক্য সার্থক হয়ে উঠবে। যেহেতু একটি ঈশ্বরবিরোধী দেশে এ কাজ শুরু হয়েছে, তাই ঈশ্বরের সকল কার্যই প্রবল প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়, তাঁর অনেক বাক্য সম্পাদন করতে সময় লাগে; এইভাবে, ঈশ্বরের বাক্যের দ্বারা মানুষ পরিমার্জিত হয়, যা-ও কষ্টভোগেরই অংশ। এই অতিকায় লাল ড্রাগনের দেশে কাজ চালিয়ে যাওয়া ঈশ্বরের পক্ষে খুবই দুরূহ। তবু, এই দুরূহতার মধ্যেই ঈশ্বর তাঁর কাজের একটি পর্যায় সম্পন্ন করেন, যাতে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রজ্ঞা ও বিস্ময়কর কর্মকাণ্ড, আর এই সুযোগকে ব্যবহার করে এই মানবগোষ্ঠীকে তিনি করে তোলেন সম্পূর্ণ(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, ঈশ্বরের কার্য কি ততটাই সহজ যতটা মানুষ মনে করে?)। সে বুঝিয়েছিল, “কমিউনিস্ট পার্টি হল নাস্তিক পার্টি, তারা ঈশ্বরকে ঘৃণা ও তাঁর বিরোধিতা করে। কমিউনিস্ট পার্টি শাসিত দেশে বিশ্বাসী হয়ে থাকতে গেলে আমরা নিপীড়িত আর অপমানিত হবই। প্রভু যীশু একবার বলেছিলেন, ‘ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য নিপীড়িত যারা, তারাই ধন্য, ঐশ রাজ্য তাদেরই(মথি ৫:১০)। ঈশ্বর মানুষের বিশ্বাসকে নিখুঁত করার জন্য এই নির্মম পরিবেশ ব্যবহার করেন। এই ধরনের নিপীড়নমূলক, যন্ত্রণাদায়ক পরিবেশে দৃঢ়ভাবে রুখে দাঁড়ানোর ক্ষমতাই ঈশ্বর সবচেয়ে বেশি চান।” এটাই আমাকে বিশ্বাস যুগিয়েছে। জানতাম পার্টির অত্যাচারে হাল ছাড়লে চলবে না। স্বামী যতই আমার পথ আটকাক না কেন, বিশ্বাস বজায় রাখতে আমি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলাম।

কিছুদিন ধরে প্রায় প্রতিদিনই তাদের কর্মক্ষেত্রে মিটিং চলছিল, বলা হয়েছিল যে কোনো কর্মী বা তার পরিবারের কোনো সদস্য যেন বিশ্বাসী না হয়। স্বামী বাড়িতে এসে প্রায় প্রতিদিন আমাকে আদর্শ নিয়ে বক্তৃতা দিত। একদিন সন্ধ্যায় যখন সমাবেশ থেকে বাড়ি ফিরলাম, তখন সে গম্ভীরভাবে তাকিয়ে বলল, “আবার সমাবেশে গিয়েছিলে? তোমাকে কতবার বলেছি যে সমাবেশে যেতে পারো না—কথা শোনো না কেন? এমন নয় যে পার্টি ধর্ম নিষিদ্ধ করেছে সেটা তুমি জানো না। বস আমাদের বারবার বলেছে যে পার্টি সর্বশক্তিমান ঈশ্বরে বিশ্বাসীদের সহজে ছেড়ে দেবে না! এমন সংকটের সময়ে তোমার বিশ্বাস রক্ষা করা মানে কি খাল কেটে কুমির আনা নয়?” বললাম, “বিশ্বাস রাখা কোনো আইন লঙ্ঘন করে না। এটা অনুমোদন না করার অধিকার কি পার্টির আছে?” সে বলল, “তুমি আইন ভাঙছ কিনা তাতে পার্টির কিছু এসে যায় না। সর্বশক্তিমান ঈশ্বরে বিশ্বাসীদের রাজনৈতিক অপরাধী হিসেবে গণ্য করা হয়। নিজের বিশ্বাসের জন্য তুমি পার্টির হাতে প্রেপ্তার হলে, শুধু তোমার সুনাম নষ্ট হবে না, তোমার প্রাণসংশয়ও হতে পারে, আর তোমার পরিবারও জড়িয়ে পড়বে।” স্বামীকে বললাম, “তুমি ভালো করেই জানো যে পার্টি ঈশ্বরবিরোধী, তাও তুমি তাদের পক্ষ নিয়ে আমার বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছ। তোমার শাস্তির ভয় নেই?” সে তাচ্ছিল্যের সুরে বলল, “শাস্তি গুরুত্বপূর্ণ নয়—বাতাস কোন দিকে বইছে সেটা বোঝাই গুরুত্বপূর্ণ। কমিউনিস্ট পার্টি এখন ক্ষমতায়, তাই তাদের শাসনে টিকে থাকতে হলে তারা যা বলবে তাই করবে না? আমি পার্টি থেকেই টাকা পাই, তাই আমাকে তাদের হয়েই বলতে আর কাজ করতে হবে। তুমিও পার্টির অধীনে কাজ করে বেতন পাও, তাহলে পার্টির পরিবর্তে ঈশ্বরকে অনুসরণ করলে তারা তোমাকে ছেড়ে দেবে কেন? কিসের ঝুঁকি নিচ্ছ সেটা মাথায় রাখতে হবে! পার্টির সাথে থাকবে নাকি সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের সাথে, তোমাকে আজই সিদ্ধান্ত নিতে হবে!” তখন সত্যিই দ্বন্দ্বে ছিলাম। বিশ্বাস বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নিলে, আমার বস যে কোন সময় জানতে পারলেই আমার পদ হারাব আর সম্ভবত পুলিশের হাতে প্রেপ্তার হব। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এই চাকরি করছি। এতদিন ধরে কঠোর পরিশ্রম করে পদোন্নতি পেয়ে মধ্যমবর্গের শিক্ষিকা হয়েছি। ছাত্রদের প্রশংসা, তাদের মা-বাবার কদর, পেয়েছি, সহকর্মীরাও ঈর্ষা করত, সেই সঙ্গে বসের স্বীকৃতি আর অনুমোদন তো ছিলই। যেখানেই যেতাম, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব আমার সঙ্গে খুব ভালো ব্যবহার করত। চাকরি হারালে, পরিবারের কাছে মুখ লুকাতে হবে, অন্যরা উপহাস আর সহকর্মীরা অবজ্ঞা করবে। ভয় পেয়েছিলাম যে সেটা হলে আমার সুনাম নষ্ট হবে। তারপর ভাবলাম, “সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের অন্তিম সময়ের বিচারকার্য মানবজাতিকে উদ্ধার করতে তাঁর কাজের শেষ পর্যায়। দুর্নীতি থেকে মুক্তি পাওয়ার একমাত্র উপায় ঈশ্বরের বিচার ও পরিশোধনের মধ্যে দিয়ে যাওয়া, তাহলে আমরা ঈশ্বরের সুরক্ষায় বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাব আর সুন্দর গন্তব্যে যাব। সেই সুযোগ হাতছাড়া করলে আজীবন আফসোস হবে।” ঈশ্বরের একটা বাক্য মনে পড়ল। “উচ্চ পদাধিকার, সম্মান, বিপুল জ্ঞান, অপার ঐশ্বর্য বা বহু মানুষের সমর্থনের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও তা যদি তোমাকে ঈশ্বরের আহ্বান শুনতে ও তাঁর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে ব্যাহত না করে এবং তাঁর আজ্ঞাপালনে তুমি বিরত না হও, তাহলে তুমি যা করবে সেই সমস্ত কিছুই এই পৃথিবীর জন্য সব থেকে অর্থবহ এবং মানবজাতির সব থেকে ধার্মিক কাজ হিসাবে চিহ্নিত হবে। তোমার স্বাভিমান এবং লক্ষ্যের কারণে যদি তুমি ঈশ্বরের ডাক প্রত্যাখ্যান করো, তাহলে তুমি যে কাজই করো না কেন তা অভিশপ্ত হবে এবং ঈশ্বরের কাছে তুচ্ছ বলে বিবেচিত হবে(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, পরিশিষ্ট ২: ঈশ্বর সমগ্র মানবজাতির ভাগ্য নির্ধারক)। ঈশ্বরের এই বাক্যগুলি চিন্তা করে মনে শক্তি পেলাম। বিশ্বাস রাখা, সত্যের অন্বেষণ আর সৃষ্ট সত্তার দায়িত্ব পালনই জীবনকে মূল্যবান আর অর্থবহ করে। কিন্তু বিশ্বাস আর কাজের মধ্যে একটা বাছতে গিয়ে, আমি সুনাম আর মর্যাদা নিয়ে ভাবছিলাম, ভয় ছিল যে বিশ্বাসের কারণে কমিউনিস্ট পার্টি আমার চাকরি কেড়ে নিলে সুনাম নষ্ট হবে। আমার কাছে নিজের কর্মজীবন আর সুনাম তখনও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু এসব নিয়ে আমার কী হবে? এসব শুধু সাময়িক অহংবোধ জাগায়; এসব সত্য অর্জনে বা কলুষিত স্বভাব থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করবে না। আর অন্যদের প্রশংসায় এমন কী আছে? তাছাড়া, জানতাম কমিউনিস্ট পার্টি ঈশ্বরের শত্রু। আমার চাকরি ধরে রাখতে, মর্যাদা আর সুনাম উপভোগ করতে, যদি নিজের বিশ্বাস ছেড়ে পার্টির শাসনে কদর্য জীবনযাপন করি, তাহলে সেটা কি ঈশ্বরের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা নয়? এমন হতে পারিনি। আর তাই, স্বামীকে খুব শান্তভাবে বললাম, “কখনই নিজের বিশ্বাস ছেড়ে দেব না।” সে আমার দিকে তাকিয়ে কড়া গলায় বলল, “তুমি বিশ্বাস বজায় রাখলে পুলিশকে রিপোর্ট করে তোমাকে গ্রেপ্তার করাব।” কথাটা বলেই ফোন করতে শুরু করল। দেখে আমি একেবারে হতবাক হয়ে গেলাম। সে জানত যে কমিউনিস্ট পার্টি বিশ্বাসীদের উপর অত্যাচার করে, তবুও আমাকে তাদের হাতে তুলে দিতে যাচ্ছে। এটা কি জেনেবুঝে আমায় নেকড়েদের হাতে তুলে দেওয়া নয়? নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য সে স্বামী-স্ত্রীর ভালবাসার অসম্মান করছে, বিশ্বাস ছাড়তে তে আমাকে বাধ্য করার জন্য আমাকে পুলিশে দিতে চাইছে। তার কথা মানতে পারিনি। তারপর সে আমাকে বারবার জিজ্ঞাসা করল, “মনস্থির করলে?” বললাম, “প্রেপ্তার হয়ে জেলে যেতে হলেও বিশ্বাস ছাড়ছি না!” স্বামী রাগে লাল হয়ে ফোনটা মাটি ছুঁড়ে ফেলল।

মনে পড়ে একদিন রাতে, আমাকে ঈশ্বরের বাক্য পড়তে দেখেই তার মুখের ভাব বদলে গেল আর বলল, “তোমায় কতবার বলেছি, চিনে, তোমার বিশ্বাস বজায় রাখতে পারো না! কেন্দ্রীয় সরকার থেকে শুরু করে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, ম্যানেজমেন্ট থেকে শুরু করে প্রত্যেক কর্মী কর্মী, সব স্তরে সবকিছুর উপর কড়া নজর রেখে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তুমি ঈশ্বরে বিশ্বাস বজায় রাখলে পার্টি তোমাকে ধরে নিয়ে যাবে!” স্বামীকে সারাক্ষণ এসব বলতে শুনে, আর পার্টির শাসনে বিশ্বাসী হিসাবে গ্রেপ্তারের ক্রমাগত বিপদের কথাও ভেবে আমার ভয় হল। ভাবছিলাম প্রেপ্তার হলে অত্যাচার সহ্য করতে পারব কিনা। যদি তারা আমাকে পিটিয়ে মেরে বা বিকলাঙ্গ করে ফেলে তাহলে? কষ্ট সহ্য করতে না পেরে যদি জুডাসের মতো ঈশ্বরের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করি, তাহলে তো আমার জীবনের সবই শেষ, তাই না? জানতাম আমি ভালো অবস্থায় নেই, তাই মনে মনে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করলাম, আমার বিশ্বাস যেন অটুট থাকে, যাতে সেই নিপীড়ন আর কষ্টের মধ্যেও সাক্ষ্য না হারাই। ঈশ্বর তাঁর বাক্যে বলেছেন: “মানুষ যখন তাদের জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত, তখন সমস্তকিছুই তুচ্ছ হয়ে যায়, এবং কেউই তাদের পরাভূত করতে পারে না। জীবনের থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ কী-ই বা হতে পারে? সেকারণেই, শয়তান মানুষের মধ্যে আর কিছু করতে অক্ষম হয়ে পড়ে, মানুষকে নিয়ে তার করার মতো কিছুই থাকে না(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, “সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের প্রতি ঈশ্বরের বাক্যে”-র রহস্যগুলির ব্যাখ্যা, অধ্যায় ৩৬)। ঈশ্বরের বাক্য সঠিক ব্যাখ্যা করেছে। আমরা যখন মৃত্যুভয়ে ভীত না হয়ে আমাদের জীবনের বাজি লাগাতে প্রস্তুত থাকি তখন শয়তানের হাত বাঁধা পড়ে যায়। আমার বিশ্বাসের অভাব ছিল বলে পুলিশের মারে প্রাণ হারানোর ভয় পেয়েছিলাম। নিজের জীবনকে বড্ড বেশি মূল্য দিচ্ছিলাম। আমাদের জীবনমৃত্যু সহ সবকিছুই ঈশ্বরের ইচ্ছাধীন। তাই ঈশ্বরের কাছে নিজেকে উৎসর্গ এবং তাঁর সমন্বয়সাধন ও ব্যবস্থাপনার কাছে নিজেকে সমর্পণ করতে হবে। আমাকে পিটিয়ে হত্যা করা হলে তা হবে আমার ন্যায়পরায়ণতার শাস্তি, সেটারও মূল্য রয়েছে। ঈশ্বরের বাক্য থেকে আত্মবিশ্বাস পেয়ে, স্বামীকেও কিছু বাক্য পড়ে শোনালাম: “আমরা বিশ্বাস করি, কোনও রাষ্ট্র বা শক্তি ঈশ্বরের ইচ্ছা পূরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। যারা ঈশ্বরের কাজের পথে অন্তরায় হয়, ঈশ্বরের বাক্যের বিরোধিতা করে, ঈশ্বরের পরিকল্পনা রূপায়ণের পথে বিশৃঙ্খলা বা বিঘ্ন ঘটাতে চায়, তারা শেষ পর্যন্ত ঈশ্বরের দ্বারা শাস্তি পাবেই। নরকস্থ হবে ঈশ্বরের কাজের বিরোধীরা; কোনও রাষ্ট্র যদি ঈশ্বরের কার্য সম্পাদনে প্রতিবন্ধক হয়ে ওঠে, তবে তা ধ্বংস হবে। কোনও জাতি যদি ঈশ্বরের বিরোধিতা শুরু করে, তাহলে তা পৃথিবী থেকে মুছে যাবে, তাদের কোনো অস্তিত্বই থাকবে না(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, পরিশিষ্ট ২: ঈশ্বর সমগ্র মানবজাতির ভাগ্য নির্ধারক)। স্বামীকে ঈশ্বরের ন্যায়পরায়ণ স্বভাবের সাক্ষ্য দিয়ে বললাম যে তিনি কোনো অপরাধ সহ্য করেন না। কমিউনিস্ট পার্টি বিশ্বাসীদের প্রেপ্তার আর নিপীড়ন করে অন্যায় কাজ করছে, ঈশ্বরকে প্রতিরোধ করছে, ঈশ্বর এদের শাস্তি দেবেন। পার্টির পক্ষে থেকে আর আমাকে আমার বিশ্বাস থেকে দূরে রেখে, সেও তাদের সাথে মিলে অন্যায় করছে। শুনে সে অসহায় হয়ে বলল, “তুমি কী ভাবো আমি ইচ্ছে করে করছি? কমিউনিস্ট পার্টি এটা করাচ্ছে। তোমাকে ঈশ্বরবিশ্বাস দূর করতে না পারলে আমার চাকরিও হারাতে পারি। আমার কথা ভাবছ না কেন? তুমি যদি বিশ্বাসী হওয়ার কারণে গ্রেপ্তার হয়ে হাজতে যাও, তাহলে তোমাকে মেরে না ফেললেও অন্তত ছাল ছাড়িয়ে নেবে। তোমাকে এমন কষ্টে দেখতে পারি? কী করলে তোমার বিশ্বাস ছেড়ে দেবে?” আমি বললাম, “সর্বশক্তিমান ঈশ্বরই একমাত্র প্রকৃত ঈশ্বর, আমার বিশ্বাস ছাড়ব না!” আশ্চর্য, সে যখন দেখল হাল ছাড়ব না, তখন মারমুখী হয়ে উঠল। রেগে গিয়ে আমাকে বলল, “তোমার বিশ্বাসের জন্য যদি গ্রেপ্তার হও তাহলে সব শেষ। শুধু শুধু তাদের হাতে নিজেকে তুলে দিতে চাইছ, কিন্তু তুমিই বলো, মরে গেলে বিশ্বাস রেখে কী লাভ?” এরপর সে আমাকে উন্মত্তের মতো বিছানায় শুইয়ে দিয়ে শক্ত করে গলা চেপে ধরে বলল, “তোমার গলা টিপে ধরলে দেখব তোমার বিশ্বাস থাকে কিনা!” সে আমার গলা টিপে ধরায় দমবন্ধ হয়ে আসছিল, গায়ের জোরে আটকানোর চেষ্টা করছিলাম, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। অজ্ঞান হয়ে গেলাম। যখন ধীরে ধীরে চেতনা ফিরছিল, তখন ভাবলাম, যে স্বামী বিয়ের পর এত বছর ধরে আমার গায়ে হাত তোলেনি, সেই কিনা তার মর্যাদা আর চাকরি বাঁচাতে আমার প্রতি এতটা খড়গহস্ত হয়ে উঠেছে, টুটি টিপে আমাকে প্রায় মেরেই ফেলছিল, খুবই মর্মাহত হয়ে পড়লাম। কমিউনিস্ট পার্টিকে আরও ঘৃণা করতে লাগলাম। তারা হুমকি দিতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের চাকরি আর ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে না ফেললে আমার স্বামী এতটা নির্দয় হত না।

স্বামীকে কর্মক্ষেত্রে যতবার চাপ দিত ততবারই সে আমাকে নিপীড়ন করত। একদিন মিটিং থেকে বাড়ি ফিরে আমাকে মতাদর্শ নিয়ে আরেকটা বক্তৃতা দিল, আর বলল যে চিনে CCP’র শাসনে কোনো বিশ্বাসী থাকলে তার পুরো পরিবারকেই ভুগতে হয়, তাই আমার বিশ্বাস ছাড়তে হবে, নাহলে দুজনেই চাকরি হারাব, উপরন্তু আমাদের মেয়ের পড়াশোনা আর কর্মজীবনেরও ক্ষতি হবে। সে বলল আমার বিশ্বাসের জন্য আমি জেলবন্দী হলে মেয়েটা কীভাবে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারবে? আর বলল যে আমাদের দুজনের কথা না ভাবলেও আমার অন্তত মেয়েটার কথা ভাবা উচিত। ভেবে দেখলাম, কমিউনিস্ট পার্টি আমার বিশ্বাসের কারণে স্বামীর চাকরি কেড়ে নিলে আর আমার মেয়ের ভবিষ্যৎ নষ্ট করলে, তারা কি চিরকাল আমায় ঘৃণা করবে না? সেই সময় সত্যিই খুব যন্ত্রণার মধ্যে ছিলাম, তাই নীরবে ঈশ্বরকে ডাকলাম, তিনি যেন আমাকে পথ দেখান। ঈশ্বরের এই বাক্য মনে রেখেছিলাম: “বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে যা কিছু ঘটে তার মধ্যে এমন কিছুই নেই যেখানে আমার রায়ই চূড়ান্ত নয়। এমন কিছুই কি রয়েছে যা আমার হাতে নেই? আমি যা বলি তাই হয়, এবং মানুষের মধ্যে কে আমার মন পরিবর্তন করতে পারে? … এই সকল আয়োজন কি আমিই ব্যক্তিগতভাবে করি নি?(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের প্রতি ঈশ্বরের বাক্য, অধ্যায় ১)। সবকিছুই ঈশ্বরের হাতে। স্বামীর আর আমার চাকরি যাবে কিনা, আমার মেয়ের পড়াশোনার ক্ষতি হবে কিনা আর সে চাকরি পাবে কিনা, সব ব্যবস্থাই ঈশ্বর করবেন। একমাত্র ঈশ্বরই সব কিছু নির্ধারণ করতে পারেন—কমিউনিস্ট পার্টি নয়। এই ভেবে স্বামীকে বললাম, “মানুষের ভাগ্য ঈশ্বরের হাতে, তাঁর শাসনেই সবকিছু চলে। ভাবছ কমিউনিস্ট পার্টির কথা শুনলে তোমার চাকরি নিশ্চয়তা থাকবে? পার্টি নিজের ভাগ্যও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, তাহলে অন্যের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করবে কীভাবে?” তখন সে রেগে বলল, “যদি মনস্থির করেই থাকো যে বিশ্বাসী হয়েই থাকবে, তাহলে পার্টি কিন্তু তোমাকে ছাড়বে না। খুঁজে পেলেই তার বিশ্বাসীদের মেরে ফেলে। তার চেয়ে বরং তুমি আমার হাতেই মরো।” কিছু ভাবার আগেই, সে দিকবিদিক জ্ঞান হারিয়ে রান্নাঘরে ছুটে গিয়ে একটা ছুরি নিয়ে এসে আমার সামনে দাঁড়াল, তারপর ছুরিটা ধরে কড়া গলায় বলল, “তুমি কি বিশ্বাসী হয়ে থাকতে চাও নাকি সুন্দর জীবন কাটাতে চাও? বিশ্বাসী হওয়ার জেদ ধরে থাকলে তোমার গলা কেটে ফেলব!” রাগে-ভয়ে মনেপ্রাণে ঈশ্বরকে ডাকলাম। ঠিক তখনই, আমাদের মেয়ে হঠাৎ তার ঘর থেকে ছুটে এল, আমার সামনে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলল, “বাবা! মাকে মারতে গেলে আগে আমাকে মারতে হবে!” মেয়েকে এমন করতে দেখে সে চমকে গেল, তার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল, তার মুখের পেশি যেন একেবারে টানটান হয়ে গিয়েছিল। ধীরে ধীরে সে হাতের ছুরিটা নামিয়ে নিল। তখন এক অব্যক্ত ব্যথা অনুভব করলাম, ভিতরটা ফাঁকা ফাঁকা লাগছিল, রাগে-দুঃখে চোখ বেয়ে জল গড়াতে লাগল। কখনও ভাবিনি যে ঈশ্বর বিশ্বাসের কারণে স্বামী আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেবে। যাকে বিয়ে করেছিলাম এ যেন সে নয়। এ তো স্পষ্টতই দানব!

একদিন প্রার্থনার সময় ঈশ্বরের বাক্যের এই অংশটা পড়লাম। “কেন একজন স্বামী তার স্ত্রীকে ভালোবাসে? কেন একজন স্ত্রী তার স্বামীকে ভালোবাসে? কেন সন্তানেরা তাদের পিতামাতার প্রতি কর্তব্যপরায়ণ হয়? কেন পিতামাতা তাদের সন্তানদের অন্ধভাবে ভালোবাসে? মানুষ আসলে কি ধরনের অভিপ্রায় পোষণ করে? তাদের অভিপ্রায় কি তাদের নিজস্ব পরিকল্পনা এবং স্বার্থপর ইচ্ছাসমূহকে চরিতার্থ করা নয়? তারা কি প্রকৃতপক্ষে ঈশ্বরের পরিচালনামূলক পরিকল্পনার উদ্দেশ্যে কর্মরত হতে ইচ্ছুক? তারা কি বাস্তবিকই ঈশ্বরের কার্যের উদ্দেশ্যে কর্মরত? তাদের মধ্যে কি সৃষ্ট সত্ত্বার দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্য বিদ্যমান?(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, ঈশ্বর এবং মানুষ একসাথে বিশ্রামে প্রবেশ করবে)। “যে ঈশ্বরকে চিনতে পারে না সেই হল শত্রু; অর্থাৎ, যে ঈশ্বরের অবতারকে চিনতে পারে না—তা সে এই স্রোতের ভিতরেই থাকুক অথবা বাইরে—সে খ্রীষ্টবিরোধী! ঈশ্বরে অবিশ্বাস করা সেই ঈশ্বর-প্রতিরোধকারীগণ ব্যতীত আর কে-ই বা শয়তান, আর কারা-ই বা দানব, আর কারা-ই বা ঈশ্বরের শত্রু? এরাই কি সেই ব্যক্তি নয় যারা ঈশ্বরের প্রতি আনুগত্যহীন?(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, ঈশ্বর এবং মানুষ একসাথে বিশ্রামে প্রবেশ করবে)। ঈশ্বরের বাক্য নিয়ে ভাবলাম, স্বামীর আমাকে নিপীড়নের একটার পর একটা দৃশ্য ছায়াছবির মতো আমার মনে গেঁথে গেছে। যে স্বামী কখনও আমাকে চিৎকার করে কিছু বলেনি অথবা আঘাত করেনি, সেই কিনা বিশ্বাসী হওয়ার পর থেকে আমার উপর সবরকমের নির্যাতন করেছে? কেন ব্যক্তিগত লাভের জন্য এত বছরের বিয়ে ভেঙে যাবে? মানুষের মধ্যে সত্যিকারের ভালোবাসা নেই—সবাই একে অপরকে ব্যবহার করছে। স্বামী আগে আমার প্রতি সদয় ছিল কারণ আমি কাজ করতাম, আয় করতাম আর তার সন্তানদের জন্মও দিয়েছিলাম। তার চোখে আমি ছিলাম কাজের মানুষ। কিন্তু এখন বিশ্বাসী থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়ায়, তার স্বার্থে ঘা লেগেছে, সে আমাদের আবেগের সম্পর্কের কথা ভাবেনি। আমার ঈশ্বরবিশ্বাস প্রতিহত করতে, সে আমাকে পুলিশের হাতেও তুলে দিতে চেয়েছিল, অজ্ঞান না হওয়া পর্যন্ত আমার গলা টিপে ধরে ছিল, এমনকি ছুরি দিয়ে হুমকিও দিয়েছিল। যদিও সে বলেছিল যে সে আমার জন্য চিন্তা করে আর আমার গ্রেপ্তারির ভয় পায় বলেই আমাকে ঈশ্বরবিশ্বাস থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চায়, কিন্তু আসলে সে শুধু নিজের কথাই ভাবছিল। সে নিজের কর্মজীবন আর সুনামকে সবার উপরে রেখেছিল। নিজের চাকরি বজায় রাখতে, সে কমিউনিস্ট পার্টির আদরের কুকুর, তাদের দালাল হতেও ইচ্ছুক ছিল, আর তাই আমাকে এমন একটা চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করছিল। এমনকি সে আমাকে ঈশ্বর বিশ্বাস থেকে দূরে রাখতে সব রকম জঘন্য, কদর্য কৌশল অবলম্বন করেছিল। সব মিলিয়ে সে ছিল একটা দানব যে ঈশ্বরকে ঘৃণা আর প্রতিরোধ করত। তারপর ঈশ্বরের বাক্যের আরেকটা অনুচ্ছেদ পড়লাম। “এমন একজন হিসাবে যে স্বাভাবিক, এবং ঈশ্বরের প্রতি ভালোবাসার অন্বেষী, রাজ্যে প্রবেশ করে ঈশ্বরের লোক হয়ে ওঠাই তোমার প্রকৃত ভবিষ্যৎ, এবং সেই জীবনই পরম মূল্যবান এবং তাৎপর্যপূর্ণ; তোমাদের চেয়ে বেশি আশীর্বাদধন্য আর কেউ নয়। কেন একথা বলছি? কারণ, যারা ঈশ্বরে বিশ্বাস করে না তারা শুধু দৈহিক ইচ্ছা তৃপ্ত করার জন্যই বেঁচে থাকে এবং তারা শয়তানের জন্য বাঁচে, কিন্তু এখন তোমরা ঈশ্বরের জন্যই বেঁচে রয়েছ এবং ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করার উদ্দেশ্যেই জীবনধারণ করছ। সেই কারণেই আমি বলি, তোমাদের জীবন পরম তাৎপর্যপূর্ণ। একমাত্র এই গোষ্ঠীর লোকেরা, যারা ঈশ্বরের দ্বারা নির্বাচিত, তারাই পরম তাৎপর্যপূর্ণপূর্ণ জীবন যাপন করতে সক্ষম: পৃথিবীর অন্য কেউ এত মূল্যবান ও অর্থবহ জীবন যাপনে সক্ষম নয়(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, ঈশ্বরের নবতম কর্মকে জানো এবং তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করো)। ঈশ্বরের বাক্য পড়ে খুব অনুপ্রাণিত হলাম আর জীবনের মানে খুঁজে পেলাম। বিশ্বাস রাখা, সত্য অন্বেষণ আর সৃষ্ট সত্তার দায়িত্ব পালন করাই অর্থবহ আর মূল্যবান জীবনযাপনের একমাত্র উপায়। আমি হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে সুনাম কুড়িয়েছিলাম, কিন্তু ভিতরটা ফাঁকা ফাঁকা লাগত আর কষ্ট পেতাম, ক্লান্তিতে অসুস্থও হয়ে পড়তাম, আর আমার গলার এত ভালো স্বর এমন ভেঙে গিয়েছিল যে কথাই বলতে পারতাম না। সেই মুহূর্তে সত্যিই মনে হয়েছিল যতই সম্মান বা প্রশংসা পাই না কেন, এসব আমার অসুস্থতা বা আধ্যাত্মিক শূন্যতা পূরণ করতে পারবে না। এত বছর সুনামের পিছনে ছোটার পরেও তা আমাকে সত্য অর্জনে সাহায্য করতে পারেনি কিংবা আমাকে শয়তানের দুর্নীতি আর ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে পারেনি। উপরন্তু, শিক্ষিকা হিসাবে কাজ করার সময় শিক্ষার্থীদের এমন সব জিনিস শেখাতাম যা ঈশ্বরকে অস্বীকার করে। সারাক্ষণ কমিউনিস্ট পার্টির গুণগান করতাম। এমন চলতে থাকলে পরিণতি শুভ হত না। তাই পার্টির সেবা বন্ধ করতেই হত। মনে মনে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছিলাম, তিনি যেন আমায় পথ দেখান। পরে যখন স্বাস্থ্যপরীক্ষা করাতে গেলাম, তখন ডাক্তার আমাকে বলল, “তোমার গলার অবস্থা খুব খারাপ। পুরো জিনিসটার রঙ বদলে গেছে, আর রক্ত জমাট বেঁধে ফুলে গেছে। ফুলে এত বড় হয়ে গেছে যে তোমার ভোকাল কর্ডের খুব ক্ষতি হচ্ছে। তোমার পেশার কথা ভেবে বলছি, কথা বলা বন্ধ না করলে হয়তো তোমার বাক্‌শক্তি একেবারেই চলে যাবে।” তারপর সে আমাকে ছয় মাসের মেডিক্যাল লীভ নেওয়ার পরামর্শ দিল। ঈশ্বরকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানালাম। ভেবেছিলাম ঈশ্বরের বাক্য পড়া আর নিজের কর্তব্য পালনের জন্য আরও সময় পাব, কিন্তু স্বামী আমাকে বাধা দেওয়ার জন্য আরও জঘন্য কৌশল নিতে শুরু করে।

২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে, একদিন সে আমার দুই সহপাঠী আর আমার ছোট ভাইকে ডেকে পাঠায়। তারা আমাকে জোর করে গাড়িতে তুলে মানসিক হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু আমার কোনো মানসিক সমস্যা ছিল না, তাই হাসপাতাল আমাকে ভর্তি নেয়নি। স্বামী বলল, “তুমি জানো যে পার্টি বিশ্বাসীদের গ্রেপ্তার করে, তার মানেই মৃত্যুদণ্ড, তাও তুমি বিশ্বাসী হয়ে থাকতে চাও। একমাত্র মানসিক রোগীরাই মরতে ভয় পায় না। এখানকার মানসিক হাসপাতালে পরীক্ষার ব্যবস্থা সীমিত। প্রাদেশিক মানসিক হাসপাতালে উন্নত সুযোগসুবিধার পাশাপাশি অনেক দক্ষ চিকিৎসক রয়েছে। তুমি মানসিকভাবে অসুস্থ কিনা তা দেখতে সেখানেই চেকআপের জন্য নিয়ে যাব।” রেগে বললাম, “আমার মনে হয় তুমিই মানসিক সমস্যায় ভুগছ। এমন নয় যে মরতে ভয় পাই না। আমি বিশ্বাসী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এমনকি তার জন্য মরতেও রাজি, কারণ আমি জানি সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের মধ্যে দিয়েই পরিত্রাতার আবির্ভাব। তিনি অনেক সত্য প্রকাশ করেছেন, তিনিই মানুষকে পাপ আর বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে পারেন। যেসব অবিশ্বাসী ঈশ্বরের বিচার আর পরিশুদ্ধি গ্রহণ করে না তারা সবাই বিপর্যয়ে প্রাণ হারাবে।” কিন্তু সে শুনতেই চায় না। পরের দিন খুব সকালেই সে আমাকে প্রাদেশিক মানসিক হাসপাতালে নিয়ে গেল। আমরা তিন তলায় গেলাম আর একজন মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলাকে হলওয়ের মেঝেতে বলের উপর কুঁকড়ে থাকতে দেখলাম, তাকে ভারী শিকল দিয়ে বাঁধা হয়েছে। একজন মাঝবয়সী লোক শিকলের একদিক ধরে মহিলাকে জোরে, মেঝে উপর দিয়ে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল। ভয়ে সে তার দুই হাত দিয়ে শিকলটা শক্ত করে ধরে ছিল, তার সমস্ত শক্তি দিয়ে আটকানোর চেষ্টা করছিল আর জোরে আর্তনাদ করছিল। তার খড়ের মত খসখসে চুল আর তার আতঙ্কিত মুখ দেখে, আর তার হৃদয়বিদারী চিৎকার শুনে আমার রক্ত হিম হয়ে গিয়েছিল। সেই মুহূরর্তে যেন আমি যন্ত্রণায় কুঁকড়ে গেলাম, আমার সাথে এটা অন্যায় হচ্ছে। এটা আমার চূড়ান্ত সম্মানহানি, সঙ্গে সঙ্গে পিছন ফিরে, সিঁড়ি দিয়ে নেমে সেই অভিশপ্ত জায়গা থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পারিনি। স্বামী প্রতি মুহূর্তে আমাকে অনুসরণ করছিল। তখন ঈশ্বরের এই বাক্য মনে পড়ল। “মানবজাতির কর্মসম্পাদনের উদ্দেশ্যে ঈশ্বর বহু বিনিদ্র রজনীর কষ্ট সহ্য করেছেন। সুদীর্ঘ উচ্চতা থেকে নিম্নতম গভীরে, তিনি অবতীর্ণ হয়েছেন সেই জীবন্ত নরকে যেখানে মানুষ বাস করে, যাতে মানুষের সাথে তিনি দিনযাপন করতে পারেন, মানুষের মধ্যে যে মলিনতা রয়েছে সে বিষয়ে তিনি কখনোই অভিযোগ করেননি, এবং মানুষের আনুগত্যহীনতার জন্য তিনি কখনো তাদের তিরস্কার করেননি, বরং ব্যক্তিগতভাবে তাঁর কর্ম সম্পাদনের সময় চূড়ান্ত অপমান সহ্য করেছেন। ঈশ্বরের স্থান নরকে কীভাবে হতে পারে? তিনি নরকে কীভাবে জীবন অতিবাহিত করতে পারেন? কিন্তু সমগ্র মানবজাতির স্বার্থে, যাতে সমগ্র মানবজাতি শীঘ্রই বিশ্রাম লাভ করতে পারে, পৃথিবীতে আসার জন্য তিনি অপমান সহ্য করেছেন ও অন্যায়ের কষ্টভোগ করেছেন, এবং মানুষকে উদ্ধারের জন্য ব্যক্তিগতভাবে “নরকে” ও “মৃতস্থানে” প্রবিষ্ট হয়েছেন, বাঘের গুহায় প্রবেশ করেছেন। মানুষ কীভাবে ঈশ্বরের বিরুদ্ধাচরণের যোগ্য হতে পারে? ঈশ্বরের বিষয়ে অভিযোগ করার কী কারণ রয়েছে তার? ঈশ্বরের দিকে চোখ তুলে তাকানোর ধৃষ্টতা তার কীভাবে থাকতে পারে?(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, কাজ এবং প্রবেশ (৯))। মানবজাতিকে উদ্ধার করতে, ঈশ্বর অন্তিম সময়ে অবতাররূপ ধারণ করে নাস্তিকশাসিত চিনে এসেছেন, সবচেয়ে জঘন্য, সবচেয়ে ঈশ্বরবিরোধী স্থানে আবির্ভূত হয়ে তাঁর কাজ করছেন, কমিউনিস্ট পার্টি আর ধর্মজগতের নিপীড়ন আর অবমাননা সহ্য করছেন, চরম অপমান সইছেন, ঈশ্বর সবই নীরবে সহ্য করছেন। তিনি সৃষ্টির পালনকর্তা, তাই তিনি মহোত্তম ও পরম শ্রদ্ধেয়, তাও দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে থাকতে এসেছেন, চরম অপমান সহ্য করেও, মানুষের কাছে সত্য প্রকাশ করছেন আর নীরবে মানবজাতিকে উদ্ধারের কাজ করছেন। কিন্তু আমি, কলুষিত এক মানুষ, দেখছি যে আমাকে, মানসিকভাবে অসুস্থদের সাথে সাথে করে দেওয়া হচ্ছে, মনে হচ্ছিল আমার মর্যাদা ক্ষতবিক্ষত হয়েছে আর এটা আমার পক্ষে অপমানজনক। তাই পালাতে চেয়েছিলাম। সত্যের জন্য সামান্যতম কষ্টও সহ্য করার সংকল্প আমার ছিল না। এই ভেবে বিব্রত বোধ করলাম আর ঈশ্বরের কাছে নীরবে প্রার্থনা করলাম, শপথ করলাম যে এরপর আমার সাথে যাই হোক বা যত অপমানই সহ্য করতে হোক না কেন, কখনই শয়তানের কাছে মাথা নত করব না। ডাক্তার শুধু অগোছালোভাবে আমাকে কয়েক ব্যাগ ওষুধ দিয়ে বাড়ি যেতে বলল। পরে যখন স্বামী দেখল যে সে সত্যিই আমাকে আমার বিশ্বাস থেকে নড়াতে পারছে না, তখন আমাকে উপেক্ষা করতে লাগল, আর আমি আবার কাজে যোগ দিলাম। তারপর ২০১২ সালের অক্টোবরে, একজন বিশ্বাসঘাতক আমাদের খবর দিয়ে দিল, পুলিশ জানতে পারল যে আমি গির্জার নেত্রী হতে পারি, তাই সাদা পোশাকের অফিসাররা আমাকে অনুসরণ করতে শুরু করল। নিজের কাজ করার জন্য আমাকে বাড়ি ছেড়ে অন্য অঞ্চলে যেতে হয়েছিল যাতে গ্রেপ্তার না হতে হয়। পরে জানতে পারলাম যেদিন বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলাম, সেদিনই পুলিশ আমাকে গ্রেপ্তার করতে আমার বাড়িতে হানা দিয়েছিল। আমি কোথায় আছি সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করতে তারা আরও তিনজন ভ্রাতা-ভগিনীকে গ্রেপ্তার করেছিল, আর আমার ছবি নিয়ে তল্লাশিও শুরু করেছিল। দুই মাস পর, ন্যাশনাল সিকিয়রিটি ব্রিগেড আমার বাড়ি তল্লাশি করে আর ঈশ্বরের বাক্যের কয়েকটা বই বাজেয়াপ্ত করে, আর স্বামীকে বলে যে আমি পৃথিবীর শেষ প্রান্তে চলে গেলেও তারা আমাকে খুঁজে বের করবে। এডুকেশন ব্যুরোও কার্যত প্রতিদিন বাড়িতে হানা দিয়ে স্বামীকে আমার খোঁজ করতে বাধ্য করত। তখন কমিউনিস্ট পার্টির মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকার শীর্ষে ছিলাম।

এমনকি তারা আমার সন্তানকে ব্যবহার করে আমাকে বাড়ি ফেরাতে চেয়েছিল। ২০১২ সালের ডিসেম্বরের শেষের দিকে একদিন বিকালে, হঠাৎ মেয়ের একটা ফোন পেলাম: “মা, তোমাকে ফোন করতে ভয় করছিল। পুলিশ তোমাকে সব জায়গায় খুঁজছে, আমাদের বাড়িতেও তল্লাশি চালিয়েছে। এখন তোমাকে ফোন করছি কারণ এডুকেশন ব্যুরো আর তোমার স্কুলের নেতারা বাবা আর আমাকে তোমায় জানাতে বলেছে যে তারা চায় তুমি তোমার বিশ্বাস ছেড়ে বাড়ি ফিরে এস, তারা কথা দিয়েছে যে আর তোমাকে দোষীসাব্যস্ত করা হবে না। আর তুমি বাড়ি ফেরার পর, কখনও কাজে না গেলেও তোমাকে পুরো বেতন দেবে।” কথাটা শুনে খুব রেগে গেলাম। কমিউনিস্ট পার্টি মর্যাদা আর টাকার বিনিময়ে আমাকে বিশ্বাস ছেড়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখাচ্ছিল। কী জঘন্য! আরো কষ্ট হল এই ভেবে যে মেয়ের কথা শুনে মনে হয়েছিল যে সরকার আর স্কুলের নেতাদের কথাকে সে সত্যি বলেই বিশ্বাস করেছে। তখন স্পষ্টতই বুঝলাম যে স্বামী আর মেয়ে দুজনকেই কমিউনিস্ট পার্টি বোকা বানাচ্ছে ও ব্যবহার করছে। মেয়েকে দৃঢ়ভাবে বললাম, “সোনা, এসব তোমার খুব সহজ বলে মনে হচ্ছে। আমি বাড়ি ফিরলে কী হবে জানো? সেটা হবে নেকড়ের কাছে ভেড়াকে ছেড়ে দেওয়ার শামিল। বাড়ি যেতে পারব না।” সে উদ্বিগ্ন হয়ে বলল, “তারা বলেছে তুমি বাড়ি না ফিরলে তারা তোমার ২০ বছরের বেশি সময়ের পেনশন বন্ধ করে দেবে। মা, ফিরে এসো। তুমি না এলে বাবাকে তোমায় ডিভোর্স তারা দিতে বাধ্য করবে আর তোমার সাথে আমাকে সব সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। তুমি বাড়ি না ফিরলে আর আমার মা থাকতে পারবে না।” তখন স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলাম। কমিউনিস্ট পার্টি শুধু আমার জীবন কেড়ে নেয়নি, এমনকি স্বামীকে আমায় ডিভোর্স দিতে আর মেয়েকে আমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে বাধ্য করছে। কি জঘন্য আর নীচ! এই পার্টিকে আমি সর্বান্তঃকরণে ঘৃণা করি। মনে পড়ল ঈশ্বর বলেছেন: “ধর্মীয় স্বাধীনতা? নাগরিকদের বৈধ অধিকার ও স্বার্থ? এগুলো সবই পাপকে ঢাকা দেওয়ার কৌশল! কে ঈশ্বরের কাজকে সাদর আলিঙ্গন করেছে? কে ঈশ্বরের কাজের জন্য জীবন বিসর্জন দিয়েছে অথবা রক্ত ঝরিয়েছে? প্রজন্মের পর প্রজন্ম, অভিভাবক থেকে সন্তানেরা, ক্রীতদাসস্বরূপ মানুষ সৌজন্যহীনভাবে ঈশ্বরকে দাস বানিয়ে রেখেছে—কীভাবে তা ক্রোধের জন্ম দেবে না? হাজার হাজার বছরের ঘৃণা অন্তরে সঞ্চিত হয়েছে, সহস্রাব্দের পাপ হৃদয়ে খোদাই করা আছে—এর ফলে কি ঘৃণার জন্ম হবে না? ঈশ্বরের হয়ে প্রতিশোধ নাও, তাঁর শত্রুকে সম্পূর্ণরূপে নির্বাপিত করো, তাকে আর উন্মত্ত আচরণ করতে দিও না, এবং অত্যাচারী শাসকের মতো তাকে আর শাসন করতে দিও না। এখনই সেই সময়: মানুষ দীর্ঘকাল ধরে তার সমস্ত শক্তি সংগ্রহ করেছে, তার সকল প্রচেষ্টা নিবেদন করেছে এবং প্রতিটি মূল্য প্রদান করেছে এরই জন্য, যাতে এই দুষ্টের বীভৎস মুখাবয়ব ছিঁড়ে ফেলতে পারে, এবং যারা এতকাল অন্ধ হয়ে রয়েছে ও সকল প্রকারের কষ্ট ও দুর্দশা সহ্য করেছে, তারা যাতে তাদের যন্ত্রণা থেকে উঠে দাঁড়াতে পারে এবং এই দুষ্ট আদিম শয়তানের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে সক্ষম হয়। ঈশ্বরের কাজে এমন এক দুর্ভেদ্য প্রতিবন্ধকতা প্রস্তুত করা কেন? ঈশ্বরের লোকজনকে প্রতারিত করার জন্য এতরকম কৌশলের নিয়োগ করা কেন? প্রকৃত স্বাধীনতা এবং বৈধ অধিকার ও স্বার্থ কোথায়? ন্যায়পরায়ণতা কোথায়? স্বাচ্ছন্দ্য কোথায়? উষ্ণতা কোথায়? ঈশ্বরের জনগণের সাথে চাতুরী করার জন্য প্রতারণাপূর্ণ চক্রান্তের ব্যবহার করা কেন? ঈশ্বরের আগমনকে দমন করার জন্য শক্তিপ্রয়োগ কেন?(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, কাজ এবং প্রবেশ (৮))। কমিউনিস্ট পার্টি ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে বড় বড় বুলি আওড়ায়, অথচ গোপনে বিশ্বাসীদের নিপীড়ন করার জন্য সমস্ত রকম হীন কৌশল অবলম্বন করে। এটা স্পষ্টতই দেখায় যে তারা সত্যকে ঘৃণা আর ঈশ্বরবিরোধিতা করে। পার্টি আমাকে ভয় আর লোভ দুটো দেখিয়েই চেষ্টা করেছিল যাতে আমার বিশ্বাস দূর করা যায়, প্রথমে টোপ হিসাবে মোটা বেতনের কথা বলে, টাকার লোভ দেখিয়ে আমাকে বাড়ি ফেরানোর চেষ্টা করেছিল যাতে তারা আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারে। সেই ফাঁদে পড়িনি বলে আমার চাকরি আর বেতন কেড়ে নিয়ে, আমার সমস্ত আয় বন্ধ করতে চেয়েছিল, আর আমাকে ঘরছাড়াও করেছিল। এটা আমাকে স্পষ্টভাবে দেখিয়েছে যে এই পার্টি বাইরে থেকে নৈতিক আর উদার মনে হলেও আসলে নৃশংস আর শয়তান। এমন একটা বিকৃতমনস্ক দানবের দল। যারা প্রতি পদে ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যায়। এদের আমি মনেপ্রাণে ঘৃণা আর অস্বীকার করি। শপথ নিই যে প্রাণ গেলেও এদের নিয়ন্ত্রণে আর থাকব না! আমি বাড়ি ফিরে যাইনি। স্বামী আমাকে ডিভোর্স দিতে বাধ্য হয় আর মেয়েও আমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে।

আগে যখন পার্টির সিস্টেমে কাজ করতাম, তখন এটা কতটা খারাপ বুঝতে পারিনি। সব সময় এর প্রশংসা করেছি আর বিশ্বস্তভাবে পার্টির সেবা করেছি। তারপর পার্টির নিপীড়ন ভোগ করার পর, অবশেষে তাদের সত্যকে ঘৃণা আর ঈশ্বর বিরোধিতার অশুভ রূপটা দেখলাম। তাই একে পুরোপুরি ঘৃণাভরে পরিত্যাগ করে শপথ নিয়েছি যে আর কখনও একে অনুসরণ করবে না। অন্যদিকে ঈশ্বরের ভালোবাসা দেখেছি। ঈশ্বরের বাক্য আমাকে বিশ্বাস আর শক্তি দিয়েছিল, শত নিপীড়ন আর কষ্টের মাঝেও শক্ত থাকতে সাহায্য করেছিল। তাই ঈশ্বরের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আমার সামনের পথ যতই কঠিন হোক না কেন, অবিচল থেকে সর্বশক্তিমান ঈশ্বরকে শেষ পর্যন্ত অনুসরণ করব!

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।

সম্পর্কিত তথ্য

খ্রীষ্টবিরোধী স্বভাব সম্পর্কে আমার সামান্য জ্ঞান

আমি ২০২১ সালে গির্জার নেতা নির্বাচিত হলাম। কিছুকাল যাবৎ সিঞ্চনের কাজে আমার সমস্যা হচ্ছিল। কিছু জলদানকারী নিয়মিত সমাবেশে আসছিল না, আর এলেও...

ঈশ্বর নির্ভরতাই পরম জ্ঞা

২০১১ সালের শরতকালে, ফাং মিং নামে একজন গ্রামবাসীর সাথে দেখা হল। সে মানবিক আর খুব দয়ালু, ২০বছরেরও বেশি সময় ধরে তার প্রভুতে বিশ্বাস, সে...

ঈর্ষার বন্ধন থেকে মুক্তি

২০১৮ সালের জানুয়ারিতে, আমি তখন সবেমাত্র সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের অন্তিম সময়ের কাজ গ্রহণ করেছি। অচিরেই আমি একটা দায়িত্ব নিয়ে স্তবগানের মিউজিক...

Leave a Reply

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন