মায়ানমারবাসী এক খ্রীষ্টানের মৃত্যুর পর নরকের অভিজ্ঞতা

29-03-2023

ছোটবেলাতেই খ্রীষ্টধর্ম সম্পর্কে আমার আগ্রহ জন্মায়, কিন্তু আমার পরিবার যেহেতু বৌদ্ধ ছিল, তাই আমি খ্রীষ্টান হয়ে যাইনি। তখন নরকের কথা আমি শুনেছিলাম ঠিকই, কিন্তু সত্যিই তাতে বিশ্বাস করিনি।

দু’হাজার বাইশের এপ্রিলে এক বন্ধু আমাকে একটা অনলাইন সমাবেশে যোগ দিতে আমন্ত্রণ জানায়, তখনই আমি প্রথমবার সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের বাক্য পড়ি। সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের বাক্যগুলো শুনে আমার মনে হল স্বর্গস্থ সৃষ্টিকর্তা মানুষের উদ্দেশ্যে কথা বলছেন। এরপর আমি অনালাইনে সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের আরও অনেক বাক্য পাঠ করলাম। জানতে পারলাম, সর্বশক্তিমান ঈশ্বরই একমাত্র সত্য ঈশ্বর, আর ঈশ্বর পৃথিবীতে অবতীর্ণ হয়েছেন মানবজাতিকে উদ্ধার করতে। কিন্তু যেহেতু আমার পরিবার বাধা হয়ে দাঁড়াল, তাছাড়া আমিও পার্থিব বিষয়বস্তুতে আকৃষ্ট হয়ে পড়ছিলাম, তাই নিয়মিত সমাবেশে যোগ দিতাম না, এমনকি অল্প কিছু সময়ের জন্য আমি সমাবেশের দল থেকে বেরিয়েও যাই।

তারপর, দু’হাজার তেইশের ফেব্রুয়ারির তিন তারিখ, সকাল সাড়ে ন’টা নাগাদ, একটা সমাবেশের পর আমার একটু ক্লান্ত লাগছিল, তাই বিশ্রাম নেবো বলে একটু শুয়ে পড়লাম। পরে আমার ছোটভাইয়ের কাছে জানতে পারি, সেই ঘুম থেকে শতচেষ্টাতেও বাড়ির কেউ আমাকে আর তুলতে পারেনি, তাই আমাকে নিয়ে তক্ষনি তারা হাসপাতালে ছোটে এমার্জেন্সি চিকিৎসার জন্য। ডাক্তার পরীক্ষা করে জানায় এরমধ্যেই আমার নিঃশ্বাস নেওয়া বন্ধ হয়ে গেছে, একটা ডেথ সার্টিফিকেটও লিখে দেয়। আমাকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া ছাড়া আমার বাড়ির লোকের আর কিছু করার ছিল না। ওরা আত্মীয় আর প্রতিবেশীদের খবর দিয়ে দেয়, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার প্রস্তুতি নেয়, ঠিক করা হয় তার তিনদিন পর আমাকে কবর দেওয়া হবে।

সেই সময় আমাদের বাড়িতে যে কী চলছিল সে সম্পর্কে আমার কোনো ধারণাই ছিল না। শুধু জানতাম যে আমি একটা অন্য জগতে চলে গেছি। আমি একটা সাদা গাউন পরেছিলাম, আলোবিহীন, ধোঁয়ায় ঢাকা একটা ছোট পথ দিয়ে একা হেঁটে যাচ্ছিলাম। আকাশ দেখতে পাচ্ছিলাম না, আমার সামনে কী আছে তা-ও না। রাস্তাটা ছিল ঢালু, উঁচুনিচু, গর্তে ভরা, পাথুরে আর আঁকাবাঁকা। দু’পাশে অদ্ভুত অদ্ভুত সব গাছপালা দেখতে পাচ্ছিলাম, যেগুলো আমি আগে কখনো দেখিনি, সবগুলো কাঁটায় ভর্তি। চারিদিক থেকে জীবজন্তুর ডাকও শুনতে পাচ্ছিলাম…। আমি খালি পায়ে হাঁটছিলাম, আর সেই রাস্তা আমার পায়ের তলায় যেন গর্ত করে দিচ্ছিল। আমার সমস্ত শরীর গরমে জ্বালা করছিল, আমি একটু একটু হাঁপাচ্ছিলাম। আমি হেঁটেই চলেছি, হেঁটেই চলেছি, একসময় কালো পোশাক পরা এক প্রেতাত্মা আমার সামনে উপস্থিত হলো। তার মাথা থেকে পা পর্যন্ত কালো—মুখ বা পায়ের পাতা কিছুই দেখতে পাচ্ছিলাম না। সে বলল, “আমার সঙ্গে এসো!” তার আওয়াজ ছিল ভয়ঙ্কর। ভীষণ ভয় পেয়ে, আমি কোনোরকমে বললাম, “তুমি আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছ? আমি এখানে আগে কখনো আসিনি—আমি যাবো না। আমি বাড়ি যেতে চাই।” আমি দৌড়োতে চাইলাম। ঠিক তক্ষনি, নীল-কালো গাউন পরা চার-পাঁচটা প্রেতাত্মা হাওয়ায় ভেসে এলো, আমাকে জাপ্টে ধরে বলল, “তুমি মৃত—আর ফিরে যেতে পারবে না। তুমি অনেক পাপ করেছ, বেঁচে থাকতে যত পাপ করেছ তার জন্য তোমাকে শাস্তি পেতে হবে।”

তারপর ওরা আমাকে একটা বিশাল দরজার সামনে নিয়ে এলো, দেখলাম অনেকগুলো প্রেতাত্মা সেখানে দাঁড়িয়ে পাহারা দিচ্ছে। তারা বেশ লম্বা, চোখ আর কানগুলো বড় বড়, কারো কারো ধারালো দাঁত বাইরে বেরিয়ে আছে, ভয়াবহ দেখতে লাগছে। ওরা অস্ত্রশস্ত্র ধরে দাঁড়িয়ে ছিল, ওদের কোমরের উপরে কোনো পোশাক ছিল না, শরীরে ঝুলছিল হাড় আর মড়ার খুলির তৈরী মালা। ওদের সারা শরীর ক্ষতচিহ্নে ঢাকা। দ্বাররক্ষীরা যেই দরজা খুলল, আমি অসংখ্য যন্ত্রণা-ভরা চিৎকার শুনতে পেলাম। সেই জায়গাটার কাছে, দূরে, সমস্তটা ভরে ছিল ভয়াবহ যন্ত্রণায় ছটফট করার শব্দ। সেখানটা জ্বালা ধরানো গরম, তীব্র উত্তাপ। আমি সত্যিই ভয় পেয়ে গেছিলাম, প্রেতাত্মাগুলোকে জিজ্ঞেস করলাম, “আমি কী অন্যায় করেছি? আমার এখানে থাকার কথা নয়।” আমি সারা জীবনে যত পাপ করেছি, ওরা তার সবগুলো এক এক করে আমাকে দেখালো, কোন দিন, ক’টার সময়, এমনকি মিনিট সেকেণ্ড পর্যন্ত হিসাব দেখালো আমি কখন ঐসব কাজ করেছি। এমনকি একটা সামান্য মিথ্যা বলেছিলাম যেটা খেয়ালও রাখিনি, সেটাও একেবারে নিখুঁত স্পষ্ট করে হিসাব রাখা ছিল। কয়েকটা উদাহরণ এইরকম। পাঁচ সেপ্টেম্বর দু’হাজার বাইশ, ব্রাদার-সিস্টাররা আমাকে একটা সমাবেশে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ফোন করে, কিন্তু আমি পারিবারিক চাপে বিষন্ন ছিলাম, সমাবেশে যোগ দিইনি। দশ সেপ্টেম্বর দু’হাজার বাইশ, আমি একটা সমাবেশ এড়িয়ে গেছিলাম, ব্রাদার-সিস্টারদের ফোন তুলিনি, ওদের সাথে দেখা করতে চাইনি। পাঁচ অক্টোবর দু’হাজার বাইশ, আমি সমস্ত সমাবেশের দলগুলো থেকে ছেড়ে দিই আর গির্জার অন্য সদস্যদের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিই। ছয় অক্টোবর দু’হাজার বাইশ, আমি জাগতিক প্রবণতা আর আনন্দফুর্তিকে বেছে নিয়ে ঈশ্বরের কাছ থেকে বেরিয়ে আসি। আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম। এত এত পাপ করেছি দেখে আমি রীতিমত ভয় পেয়ে গেলাম।

তারপর সেই কালো পোষাক পরা প্রেতাত্মাটা আমাকে কোথাও একটা নিয়ে এলো, সেখানে একটা কাঠের সাইনবোর্ড ছিল, সেটায় লেখা, যারা ঈশ্বরকে প্রতারণা করে, তাঁর বিচার করে, তাঁর বিরুদ্ধে নিন্দা করে, এখানে তাদের শাস্তি দেওয়া হয়। সবচেয়ে কঠিন শাস্তি আমি দেখতে পেলাম এই জায়গাটায়। প্রথম প্রকারের শাস্তি হলো, যাদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছিল তাদের মুখ আর চামড়ার ভেতর থেকে গর্ত খুঁড়ে পোকা বেরিয়ে আসছিল, তাদের কামড়াচ্ছিল, তাদের সারা শরীরে পোকাগুলো কুটকুট করে কামড়ে বেড়াচ্ছিল—সত্যি ভয়াবহ। দ্বিতীয় ধরনের শাস্তিটায়, দণ্ডিতরা সবাই নগ্ন অবস্থায় ছিল, আর তাদের এক এক করে একটা লম্বা বোর্ডের কাছে নিয়ে যাওয়া হলো, সেখানে একসাথে দশজনকে শাস্তি দেওয়া যায়। তাদের হাঁটু মুড়ে বসিয়ে হাতদুটো পিছমোড়া করে বেঁধে দেওয়া হলো, আর চিবুকটা লাগিয়ে দেওয়া হলো বোর্ডের সাথে। তাদের গলায় ছিল দড়ি বাঁধা, সেই দড়ি পিছন দিকে টানলেই তাদের জিভ বেরিয়ে আসছিল। বোর্ডের ওপাশে ছিল একটা শিংওয়ালা কদাকার প্রেতাত্মা, সে তাদের জিভের মধ্যে দিয়ে হুক আটকে দিল, তারপর জোর দিয়ে বাইরের দিকে হ্যাঁচকা টান মারতে থাকলো; কয়েকজনের জিভ দ্বিগুণ লম্বা হয়ে বাইরে বেরিয়ে এল। তখন সেই প্রেতাত্মা একটা পেনের মতো লম্বা পেরেক দিয়ে তাদের জিভ বোর্ডের সাথে আটকে দিলো, তার নিচে জ্বলছিল আগুন। প্রেতাত্মাটা সেইসাথে তাদের জিভে ক্রমাগত আগুনের মতো ফুটন্ত জলও ঢেলে যাচ্ছিল। এই আগুনের মতো জল নিয়ে আসা হচ্ছিল দূরের একটা জলাশয় থেকে, আর অবিরত বিলি করা হচ্ছিল সব প্রেতাত্মাদের মধ্যে। কারো জিভে সেই জল ঢাললেই তার জিভ একেবারে নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। কয়েকজনের তো চোখ উপড়ে বাইরে বেরিয়ে এসেছিল। তারপর প্রেতাত্মাগুলো তাদের সারা শরীরে সেই আগুন-জল ঢেলে দিল, ফলে তাদের সারা শরীরটাই ধ্বংস হয়ে গেল। যারা শাস্তি পাচ্ছিল তারা মৃত্যু পর্যন্ত যন্ত্রণায় চিৎকার করছিল। সে এক ভয়ঙ্কর দৃশ্য। কেউ কেউ এসব সহ্য করতে না পেরে অনেক আগেই মারা গিয়েছিল, কিন্তু যদি তখনও আরো পাপের জন্য তাদের শাস্তি দেওয়া না হয়ে থাকে, তাহলে তাদের শাস্তি চালিয়ে যাওয়ার জন্য তাদের আবার বাঁচিয়ে তোলা হচ্ছিল। আর শাস্তি দেওয়া শেষ হয়ে গেলেও যদি তারা না মরে, তাহলে তাদের শরীর থেকে পোকা বেরিয়ে এসে তাদের খেয়ে ফেলছিল, তারপর তাদের প্রাণ ফিরিয়ে দিয়ে আবার অন্যভাবে শাস্তি দেওয়া হচ্ছিল।

তৃতীয় ধরনের শাস্তি হলো একটা অগ্নিগর্ভ জলাশয়ে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া। আমি একটা বিশাল আকৃতির লোহার গোল প্লেট দেখতে পেলাম, তার সাথে চারটে দড়ি আটকানো। একশো কি দুশো মানুষ অন্য একটা শাস্তির জায়গা থেকে মাত্র কয়েক সেকেণ্ডের মধ্যে এসে পৌঁছল, তারা ওই প্লেটের উপর আবির্ভূত হলো। বস্ত্রহীন শরীরে তাদের ওই জ্বলন্ত গরম প্লেটের উপর হাঁটু মুড়ে বসিয়ে দেওয়া হলো, এদিকে কিছু কাঁটাওয়ালা দড়ি নিজেনিজেই তাদের হাত আর শরীরের উপরের অংশ বেঁধে ফেলল। সেই লোকগুলো এসেছিল বিভিন্ন ধর্ম আর জাতির থেকে। কেউ কেউ ঈশ্বরে বিশ্বাস করতো না, আবার কেউ ছিল খ্রীষ্টান অথবা বৌদ্ধ। তাদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছিল কারণ তারা ঈশ্বরের নতুন কাজ গ্রহণ করেনি, এবং ঈশ্বরের নিন্দা করেছে ও তাঁর বিচার করেছে। যদিও ওদের মধ্যে কেউ কেউ ঈশ্বরের নতুন কাজ গ্রহণ করেছিল, কিন্তু ওদের বিশ্বাস ছিল অগভীর, দায়সারা, এবং ঈশ্বরের প্রতি প্রতারণাপূর্ণ। এই ধরনের মানুষদেরও ঈশ্বর শাস্তি দিচ্ছিলেন। তারা সবাই তাদের নিজের নিজের বিশ্বাসের ঈশ্বরকে ডাকছিল। কেউ এই ঈশ্বরকে ডাকছে, কেউ ওই ঈশ্বরকে। সে এক নানা কণ্ঠের কোলাহল, আমি স্পষ্টভাবে কিছুই শুনতে পাচ্ছিলাম না। অবশ্য যেভাবেই তারা চিৎকার করুক, কোনো উত্তর পাচ্ছিল না। এরপর, ওদের একটা বড়সড় জলাশয়ের কাছে নিয়ে যাওয়া হলো, আর সেই তার মধ্যে ছিল আগুনের মতো গরম ফুটন্ত জল। ওদের বেঁধে রাখা দড়িগুলো আলগা হয়ে গেল, লোহার প্লেটটা একপাশে কাত হলো, আর ওরা সবাই জলের মধ্যে পড়ে গেল। ওদের সেদ্ধ করা হচ্ছিল আর ভাজা হচ্ছিল, এতদূর পর্যন্ত পোড়ানো হচ্ছিল যে ওরা অপরিসীম যন্ত্রণায় চিৎকার করছিল। কেউ কেউ ধারের দিকে ছিল, তারা প্রাণপনে হামাগুড়ি দিয়ে জলাশয়ের বাইরে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছিল, কিন্তু আবার ভিতরেই পড়ে যাচ্ছিল। বেশি সময় পেরোনোর আগেই চিৎকারের শব্দ মিলিয়ে গেল। সবাই মারা গিয়ে আগুনের মতো গরম জলের উপর ভাসতে লাগল। সবার মৃত্যু হলে, একটা বিরাট জাল চামচের মতো করে তাদের সবাইকে তুলে উপরে নিয়ে গেল, আর তাদের আবার জীবিত করে তোলা হলো পরবর্তী শাস্তির জন্য।

এর পর আমাকে আর এক জায়গায় নিয়ে যাওয়া হলো। সেখানে যারা ছিল তাদের সবরকমভাবে শাস্তি দেওয়া হচ্ছিল তাদের বাবা-মা, প্রবীণ, ও শিক্ষকদের অপমান করার জন্য। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ছিল নগ্ন, গলায়, হাতে, আর পায়ে কাঁটাসমেত শিকল দিয়ে বাঁধা। তাদের চাবুক মেরে এমনভাবে রক্তাক্ত করা হচ্ছিল যে তাদের রক্ত-মাংস নিচের দিকে গড়িয়ে চলেছিল। তারা বাঁচার চেষ্টা করছিল আর যন্ত্রণায় চিৎকার করছিল। নরকের প্রেতাত্মারা কুঠার দিয়ে তাদের হাত-পা কেটে ফেলছিল, আর হাতুড়ির মতো কিছু একটা দিয়ে ওদের গুঁড়ো করে দিচ্ছিল। শাস্তি ভোগ করতে করতেই ওদের জিজ্ঞাসা করা হচ্ছিল, “এই পাপগুলো করার সময় কি না করার কথা একবারও মনে হয়েছিল?” ওরা অনুতাপ করছিল, কিন্তু কেউ ওদের উদ্ধার করতে পারলো না, ওদের অত্যাচার করে মেরে ফেলা হলো। তারপর, ওরা জীবন ফিরে পেল আর ওদের পরবর্তী শাস্তি দেওয়া হলো। কয়েকজনকে জ্যান্ত পুঁতে ফেলা হলো। সেখানকার মাটি ভীষণ নড়ছিল, উথালপাথাল করছিল, আর মাটির ভেতরে জ্বলছিল আগুন। দণ্ডিতদের মৃত্যু পর্যন্ত আস্তে আস্তে নিচের দিকে, ভূগর্ভে টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।

তারপর আমাকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হলো যেখানে ব্যভিচারীদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। তারা প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে পালাচ্ছিল। কয়েকজনকে তীরবিদ্ধ করে মেরে ফেলা হলো, বাকিদের ছুরির আঘাতে। কয়েকজনকে জন্তুরা তাড়া করে ধরল আর কামড়ে মেরে ফেলল। শেষপর্যন্ত কেউই পালাতে পারল না, তাদের প্রত্যেকেই মারা পড়ল। মৃতরা আবার প্রাণ ফিরে পেল পরের শাস্তি ভোগ করার জন্য।

আরও একটা জায়গা দেখলাম, সেটা ছিল তাদের শাস্তির জন্য যারা অন্যকে ঠকিয়েছিল, অন্যের প্রতি অসৎ অভিপ্রায় পুষে রেখেছিল, মানুষের অন্যায় সুবিধা নিয়েছিল, অথবা অন্যদের প্রতি খুব হিসেবি আর ঈর্ষার মনোভাব দেখিয়েছিল। সেখানে ছিল একটা ঝুলন্ত সেতু, যার পাটাতন কাঠের আর দু’পাশে কাঁটাসমেত দড়ি লাগানো। সেই কাঁটাসমেত দড়ি ধরলেই রক্ত ঝরে পড়ছিল, কিন্তু না চেপে ধরলে তারা নিচে পড়ে যাবে, আর নিচে রয়েছে একটা আগুনের হ্রদ। এমনকি যদি তারা নিচে না-ও পড়ে, তাদের একটা মাংস টুকরো করার যন্ত্রের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে, আর তারা ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবে, আর শেষে সেই আগুনের হ্রদের মধ্যেই পড়বে।

কেউ কেউ তাদের রূপের ব্যাপারেই মনোযোগী ছিল, ভালো করে সাজগোজ করার জন্য প্রচুর সময় নষ্ট করতো, কিন্তু ঈশ্বরে একেবারেই বিশ্বাস ছিল না, এমনকি ঈশ্বরের বিচার করতো ও তাঁর নিন্দা করতো। পোকামাকড়েরা তাদের মুখগুলোকে একটু একটু করে খেয়ে নিচ্ছিল। তারা ছাড়াও, এমন মানুষও ছিল যারা অন্যকে শাপশাপান্ত করা, চুরি করা, এইরকম নানা কাজের জন্য শাস্তি পাচ্ছিল। যে পাপ তারা করেছে তার উপর নির্ভর কোরে মানুষকে বারবার শাস্তি দেওয়া হচ্ছিল, একবার একরকমভাবে, তারপর আবার অন্যরকমভাবে। এই দৃশ্য দেখে আমার সারা শরীর ভয়ে কাঁপতে লাগল। সত্যি এইভাবে শাস্তি পাওয়া ভীষণ ভয়াবহ। যেসব পাপ করেছি তার জন্য আমি অনুতপ্ত বোধ করলাম, কিন্তু বুঝতে পারছিলাম না কার কাছে মিনতি করবো, কে আমাকে উদ্ধার করতে পারে। তখন, আমি বিহ্বল হয়ে কিছু বৌদ্ধ সূত্র উচ্চারণ করলাম, কিন্তু কেউ সাড়া দিলো না, আর আমার ভয়ও এতটুকু কমল না। আমার হঠাৎ মনে পড়ল যে আমি একজন প্রকৃত ঈশ্বরের বিশ্বাস করেছি—সর্বশক্তিমান ঈশ্বর। সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কিছু বাক্য মনে এলো। “তোমার দৈনন্দিন জীবনে তুমি যে সমস্যারই মুখোমুখি হও, তোমাকে অবশ্যই ঈশ্বরের সম্মুখে আসতে হবে; তোমাকে প্রথম যা করতে হবে তা হল ঈশ্বরের সামনে প্রার্থনায় নতজানু হওয়া, এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ(বাক্য, খণ্ড ৩, অন্তিম সময়ের খ্রীষ্টের উপদেশ, ঈশ্বরবিশ্বাসে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হল সত্যের অর্জন)। আমি জানতাম যে ঈশ্বর সমস্তকিছুর উপর শাসন করেন, আর আমি যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি তা তাঁর অনুমতিতেই ঘটছে, তাই আমার উচিত তাঁকেই ডাকা। আমি আমার বিভিন্ন পাপের কথা চিন্তা করলাম। ঈশ্বরের বিষয়ে আমি উদাসীন ছিলাম, তাঁকে অগ্রাহ্য করেছিলাম। যখন আমার মন ভালো থাকতো, আমি আমার বিশ্বাসের অনুশীলন করতাম আর সমাবেশে যোগ দিতাম, কিন্তু মন ভালো না থাকলে এড়িয়ে যেতাম। আমি একজন খ্রীষ্টান ছিলাম, কিন্তু ঈশ্বরে আমার প্রকৃত বিশ্বাস ছিল না। আমি তাঁর প্রতি উদাসীন ও প্রতারণাপূর্ণ ছিলাম। আনন্দ-ফুর্তির মধ্যে মূর্খের মতো সময় নষ্ট করেই আমি খুশি ছিলাম, ঈশ্বরের উপাসনার জন্য কোনো সময়ই ব্যয় করিনি। এই সব মনে করে আমি সত্যিই অনুতপ্ত বোধ করলাম, আর আমার অন্তরে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করলাম, “সর্বশক্তিমান ঈশ্বর, আমি অনেক পাপ করেছি। আমি নির্লিপ্ত ছিলাম, তোমাকে উপেক্ষা করেছি, পাপের আনন্দে মেতে থেকেছি আর নিজের কর্তব্য ভালোভাবে পালন করিনি। আমি এখন সত্যিই ভীত এবং অনুশোচনায় পূর্ণ। আমি এখানে এসে সেইসব পাপের শাস্তি পেতে চাই না। আমি পরিতাপ করতে প্রস্তুত—দয়া করে আমাকে তার জন্য একটা সুযোগ দাও। আমি তোমার আয়োজনের কাছে সমর্পণ করতে চাই আর তোমার ইচ্ছা অনুযায়ী সমস্তকিছু করতে চাই।” আমি বারবার এইভাবে প্রার্থনা আর দোষ স্বীকার করতে থাকলাম, এক এক করে আমার সমস্ত পাপের জন্য ঈশ্বরের কাছে অনুতাপ করতে থাকলাম। ধীরে ধীরে আমি শান্ত হলাম, ততটা ভয় আর করছিল না। একটু পর, মনে হলো যেন একটা কণ্ঠস্বর আমার নাম ধরে ডাকছে। তারপর একটা আলোর রেখা দেখতে পেলাম, আর সেই আলোর মধ্যে থেকে আসা একটা কণ্ঠস্বর আমাকে বলল, “ড্যানি, তুমি কি অনুতপ্ত হয়েছ? তুমি অনেক পাপ করেছ। তোমাকে ঈশ্বরের উপর নির্ভর করতে হবে এবং এইসব পাপকাজ বন্ধ করতে হবে—অনুতাপ করার জন্য তুমি শাস্তি পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারো না। ঈশ্বরের বাক্যকে তোমার অন্তরে উৎকীর্ণ করে নাও আর সত্যের অনুসরণ করো। তুমি যা উপলব্ধি করো আর বাস্তবে অনুশীলন করো তা সঠিক হওয়া চাই। এটাই তোমার শেষ সুযোগ, পরের বার তোমার জন্য আর পরিত্রাণের সুযোগ থাকবে না। তুমি যখন বেঁচে আছো, তোমার দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করো আর ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করো। নিজের পাপের অথবা ভুলের পুনরাবৃত্তি কোরো না, আর এমন কিছু কোরো না যার জন্য তোমাকে অনুতাপ করতে হয়। যেহেতু তুমি নিজের দায়িত্ব পূর্ণ করোনি, তোমার মৃত্যু হবে না। যারা বিপর্যয়ের মধ্যে পড়বে, তুমি তাদের উদ্ধার করতে চলেছ।”

সেই কণ্ঠস্বর আমার পরিচিত কারোর ছিল না। মনে হচ্ছিল তা যেন বাতাসের শব্দ দিয়ে কথা বলছে। খুব স্পষ্ট করে শোনা যাচ্ছিল না, কিন্তু আমি বুঝতে পারছিলাম। কঠোর হলেও সেই বাক্যগুলো ছিল উদ্দীপক, আর সেগুলো আমাকে শান্তি এনে দিলো। সেগুলোর মধ্যে উষ্ণতা ছিল, সেইসাথে ছিল নিরাপত্তাবোধ। আমি এমন একটা আনন্দ অনুভব করলাম যা আগে কখনও করিনি। আমি বুঝতে পারলাম যে ঈশ্বর আমাকে রক্ষা করছেন, জীবনে একটা দ্বিতীয় সুযোগ দিচ্ছেন। এই কণ্ঠস্বর শোনার পর আমি ধীরে ধীরে চেতনা ফিরে পেলাম।

জেগে ওঠার পর আমি কাঁপছিলাম, তখনও সত্যিই ভয় হচ্ছিল। এত পাপ করার জন্য আমার বিতৃষ্ণাবোধ হচ্ছিল, সত্যিকারের অনুতাপ বোধ করছিলাম। বুঝলাম যে এটা ছিল আমার জন্য ঈশ্বরের সতর্কবাণী। ঈশ্বর যা বলেছিলেন তার সবই ছিল সত্যি। তিনি যা বলেছিলেন আমাকে তা বিশ্বাস করতেই হতো, আর তাঁর কথা শুনতে হতো। তাঁকে অবজ্ঞা করা এবং নির্লিপ্ত থাকা আমার পক্ষে আর সম্ভব ছিল না। ঈশ্বর আমাকে একটা সুযোগ দিচ্ছিলেন যেটা আমার পক্ষে আবার ছেড়ে দেওয়া সম্ভব ছিল না। আমি আমার ছোট ভাইকে বললাম, “আমি সিস্টার সামারের সাথে কথা বলতে চাই।” সিস্টার সামার ছিলেন সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের গির্জার একজন সিঞ্চনকারী, যিনি অনেকবার আমার সঙ্গে অনলাইন সমাবেশে যুক্ত হয়েছিলেন। সিস্টার সামার আমার পরিস্থিতির কথা শুনে আমাকে ঈশ্বরের বাক্যের কিছু অংশ পাঠালেন। সর্বশক্তিমান ঈশ্বর বলেছেন, “প্রতিটি মনুষ্যজীবনের প্রতি ঈশ্বর দায়বদ্ধ, এবং চূড়ান্ত পরিসমাপ্তি পর্যন্ত তিনি দায়বদ্ধ। তোমার জন্য ঈশ্বর সংস্থানের যোগান দেন, এবং যদিও শয়তানের দ্বারা বিধ্বস্ত এই পরিমণ্ডলে তুমি পীড়িত বা দূষিত বা অবমানিত হয়েছো, কিন্তু তাতে কিছু আসে যায় না—ঈশ্বর তোমার সংস্থান যুগিয়ে যাবেন, এবং ঈশ্বর তোমার জীবনযাপন অব্যাহত রাখতে দেবেন। এ ব্যাপারে তোমাদের আস্থা থাকা উচিত। এক মনুষ্য সত্তাকে ঈশ্বর নির্বিকারচিত্তে মরতে দেবেন না(বাক্য, খণ্ড ২, ঈশ্বরকে জানার প্রসঙ্গে, স্বয়ং অনন্য ঈশ্বর ৭)। “তোমার জন্মলগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত তোমার উপরে ঈশ্বর প্রভূত কর্ম সম্পাদন করেছেন, কিন্তু তিনি যা করেছেন তোমাকে সেই সমস্ত কর্মের বিস্তারিত হিসাব তিনি দেন না। ঈশ্বর তোমাকে এগুলি জানার অনুমতিও দেননি, এবং তিনি তোমাকে বলেনওনি। কিন্তু তিনি যা কিছুই করেন সবই মানবজাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ঈশ্বরের দিক থেকে দেখতে গেলে, তাঁকে এটা করতেই হবে। তাঁর হৃদয়ে এসবের থেকে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ এমন একটি বিষয় রয়েছে, যা তাঁর সম্পন্ন করা প্রয়োজন। সেটি হল, একটি মানুষের জন্মলগ্ন থেকে আজকের দিন পর্যন্ত, ঈশ্বরকে তাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে। … এই ‘নিরাপত্তা’-র অর্থ হল, শয়তান তোমাকে সম্পূর্ণরূপে গ্রাস করতে পারবে না। সেটা কি গুরুত্বপূর্ণ? শয়তানের গ্রাসের কবলিত না হওয়া—তা কি তোমার নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত নয়? হ্যাঁ, তা তোমাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত, এবং তার থেকে বেশি গুরত্বপূর্ণ আর কিছুই হতে পারে না। একবার যদি তুমি শয়তানের গ্রাসের শিকার হও, তাহলে তোমার আত্মা এবং তোমার দেহ আর ঈশ্বরের থাকে না। তখন ঈশ্বর তোমাদের আর উদ্ধার করবেন না। যে সকল আত্মাকে ও মানুষকে শয়তান গ্রাস করেছে তাদের ঈশ্বর পরিত্যাগ করেন। তাই আমি বলি, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে কাজ ঈশ্বরকে করতে হয় তা হচ্ছে তোমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, এটা নিশ্চিত করা যে তুমি শয়তানের গ্রাসের শিকার হবে না। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই নয় কি?(বাক্য, খণ্ড ২, ঈশ্বরকে জানার প্রসঙ্গে, স্বয়ং অনন্য ঈশ্বর ৬)

সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের বাক্যের পাঠ আমাকে নিরাপত্তাবোধ এনে দিলো, যেন আমি নির্ভর করার মতো কিছু পেলাম। এই অভিজ্ঞতা আরও স্পষ্টভাবে আমাকে দেখিয়ে দিলো, জন্ম থেকে আজকের এই মুহূর্ত পর্যন্ত, প্রতিটা মুহূর্তে ঈশ্বর আমাদের পথ দেখিয়ে চলেছেন, আমাদের প্রতি লক্ষ্য রাখছেন, আমাদের রক্ষা করছেন। আমার উচিত ঈশ্বরের সম্মুখে আসা, নিজের দায়িত্ব পালন করা, এবং তাঁর অবিশ্বাস্য অনুগ্রহের প্রতিদান দেওয়া। আমাকে এই সাক্ষ্য দিতে হতো যে ঈশ্বর সত্যিই সমস্তকিছু শাসন করেন, আমাদের চোখে অদৃশ্য যে আধ্যাত্মিক জগৎ তা সমেত। নরকের অস্তিত্ব সত্যিই আছে। নরকের শাস্তির যন্ত্রণা আমি ভোগ করিনি, কিন্তু নরকে মানুষের শাস্তি পাওয়ার দৃশ্য আমি দেখেছি। আমার আশেপাশে প্রচুর মানুষ রয়েছে যারা পার্থিব প্রবণতার অন্বেষণ করে, শয়তানের অনুসরণ করে। তারা ঈশ্বরের সম্মুখে আসেনি। তাদের জন্য আমি সত্যিই চিন্তিত, আমি চাই না আমার পরিচিত কোনো মানুষ নরকে যাক, ঐভাবে কষ্টভোগ করুক। তারা সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের অন্তিম সময়ের কাজ গ্রহণ করুক বা না করুক, আমি আমার দায়িত্ব পালন করতে চলেছি, আর তাদের কাছে এই সাক্ষ্য বহন করতে চলেছি যে নরকের অস্তিত্ব সত্যিই আছে, এবং ঈশ্বরের কর্তৃত্বও সত্যিই আছে। নরকের যন্ত্রণা থেকে একমাত্র সর্বশক্তিমান ঈশ্বরই আমাদের উদ্ধার করতে পারেন। আমি সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের বাক্যের একটা অনুচ্ছেদ তাদের জন্য পড়ে শোনাতে চাই যারা তাঁর সম্মুখে আসেনি, আর তাদের জন্যও, যারা সর্বশক্তিমান ঈশ্বরকে গ্রহণ করেছে, কিন্তু তাঁর পরিত্রাণকে সম্পদজ্ঞান করে না।

সর্বশক্তিমান ঈশ্বর বলেছেন, “আমার অন্তিম কাজের উদ্দেশ্য শুধুই মানুষকে দণ্ড প্রদান নয়, মানুষের গন্তব্যেরও বন্দোবস্ত করা। উপরন্তু, এর উদ্দেশ্য হল সকল মানুষকে দিয়ে আমার কাজ ও আমার নেওয়া পদক্ষেপগুলোকে স্বীকার করানো। আমি চাই প্রতিটি ব্যক্তি দেখুক যে আমি যা কিছু করেছি তা সঠিক এবং আমি যা কিছু করেছি তা আমার স্বভাবের বহিঃপ্রকাশ। মানবজাতির সৃষ্টির পিছনে মানুষের কোনও হাত নেই, প্রকৃতির হাত তো আরোই নেই, বরং রয়েছে এই আমারই, সৃষ্টির প্রতিটি জীবকে লালন করি আমিই। আমার অস্তিত্ব বিহনে, মানবজাতি ধ্বংস হয়ে যাবে এবং বিপর্যয়ের অভিশাপ ভোগ করবে। কোনও মানুষই আর কখনও সুন্দর সূর্য ও চন্দ্র, অথবা আলোকময় জগতকে দেখতে পাবে না; মানবজাতি কেবলই হিমশীতল রাত্রি এবং মৃত্যুর ছায়াঘন অসহনীয় উপত্যকার মুখোমুখি হবে। আমিই মানবজাতির একমাত্র পরিত্রাণ। আমিই মানবজাতির একমাত্র আশা এবং, অধিকন্তু, আমারইউপর নির্ভর করে সমগ্র মানবজাতির অস্তিত্ব। আমি না থাকলে মানবজাতি অচিরেই স্থবির হয়ে পড়বে। আমি ছাড়া, মানবজাতি বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে এবং সমস্ত ধরনের অপদেবতা দ্বারা পদদলিত হবে, তবুও কেউ আমার কথা শোনে না। আমি এমন কাজ করেছি যা অন্য কারোর দ্বারা করা সম্ভব নয়, এবং কেবল আশা করি যে মানুষ কিছু সৎকর্ম করে আমায় প্রতিদান দিক। কেবল কয়েকজনই আমাকে প্রতিদান দিতে সক্ষম হলেও, আমি মানব জগতে আমার যাত্রা শেষ করব এবং আমার প্রকাশমান কাজের পরবর্তী ধাপ শুরু করব, কারণ এই বহু বছর ধরে মানুষের মধ্যে আমার ইতস্তত দ্রুত বিচরণ ফলপ্রসূ হয়েছে, এবং আমি খুবই সন্তুষ্ট। আমি মানুষের সংখ্যা নয়, বরং তাদের সৎকর্মের প্রতি আগ্রহী। যাই হোক না কেন, আমি আশা করি যে তোমরা তোমাদের নিজের গন্তব্যের জন্যই যথেষ্ট পরিমাণে সৎকর্ম করবে। তখনই আমি সন্তুষ্ট হব; অন্যথায়, আসন্ন বিপর্যয় থেকে তোমাদের মধ্যে কেউই পরিত্রাণ পাবে না। দুর্যোগ আমিই ঘটাই এবং অবশ্যই আমিই তা সুসংবদ্ধ করি। যদি আমার চোখে তোমরা ভালো হিসাবে প্রতিভাত হতে না পারো, তবে তোমরা বিপর্যয়ের কবল থেকে পরিত্রাণ পাবে না(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, তোমার নিয়তির জন্য যথাযথ সৎকার্যসমূহ প্রস্তুত করো)

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।

সম্পর্কিত তথ্য

কীভাবে সুসমাচার প্রচারে অসুবিধার মোকাবিলা করতে হয়

আমার পুরো পরিবার ক্যাথলিক ছিল, আর সেখানকার গ্রামের বেশিরভাগই তাই ছিল। কিন্তু যেহেতু আমাদের গ্রামের ক্যাথলিক গির্জায় সভাপতিত্ব করার জন্য...

ঈশ্বর নির্ভরতাই পরম জ্ঞা

২০১১ সালের শরতকালে, ফাং মিং নামে একজন গ্রামবাসীর সাথে দেখা হল। সে মানবিক আর খুব দয়ালু, ২০বছরেরও বেশি সময় ধরে তার প্রভুতে বিশ্বাস, সে...

Leave a Reply

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন