আশীর্বাদের জন্য সাধনা কি ঈশ্বরের ইচ্ছার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ?

31-03-2023

২০১৮-তে, আমি সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের অন্তিম সময়ের কাজকে মেনে নেওয়ার সৌভাগ্য লাভ করেছি। আমি প্রভুর প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানানোর সুযোগ পেয়েছি সেই ভেবে আমি অবিশ্বাস্য রকমের উত্তেজনা বোধ করছিলাম। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই কীভাবে সুসমাচার প্রচার করতে হয় তা শিখতে শুরু করলাম, কিন্তু যেহেতু আমি দিনের বেলাতেই বেশিরভাগ কাজ করতাম এবং রাতে ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফিরতাম, দায়িত্বে মনোনিবেশ করা আমার পক্ষে সত্যিই কঠিন ছিল। আমি চাকরি ছেড়ে দিয়ে পুরো সময়টাই সুসমাচার প্রচার করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আমার বাস্তব পরিস্থিতির কারণে এটা সম্ভব ছিল না। আমি পাঁচটি সন্তান লালনপালন করছিলাম, এবং যদি আমি তাদের স্কুলে না পাঠাই, সরকার মনে করবে আমি তাদের যত্ন নেওয়ার যোগ্য নই, এবং সন্তানদের আমার কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হবে। আমার জীবনে অনেক চাপ ছিল, কিন্তু আমি জানতাম যে সৃষ্ট সত্তা হিসেবে, অসুবিধা যতই বড় হোক না কেন, আমাকে আমার দায়িত্ব পালন করতেই হবে।

২০১৯, সালে, আমি একজন গির্জার নেতা হয়েছিলাম এবং আমার দিনগুলি আরও ব্যস্ত হয়ে উঠেছিল। আমি আমার কাজের দিন সপ্তাহে ছয় থেকে চার দিনে কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আমি ভেবেছিলাম হয়ত, ঈশ্বর আমার এই ত্যাগের জন্য আশীর্বাদ করবেন। কাজের সময় কমে যাওয়ার কারণে তেমন একটা কাজকর্ম যদিও করছিলাম না তারপরেও আমার জীবনে সত্যিই এর প্রভাব ছিল না যেহেতু সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল, এবং আমাদের কোনো স্বাস্থ্যের সমস্যা ছিল না বা কোনো ধরনের অসুবিধা ছিল না। জীবনটাকে বেশ শান্তিপূর্ণ মনে হচ্ছিল কারণ উৎসাহের সাথে ঈশ্বরের জন্য যে ব্যয় করছিলাম তার প্রাপ্য আমি পেয়েছিলাম। দায়িত্ব পালনের জন্য আরও বেশি সময় পেয়ে খুবই খুশি ছিলাম। কিন্তু ২০২১-এ অতিমারি শুরুর পর, সবকিছু বদলে গেল।

আমি যে হেয়ার সেলুন চালাচ্ছিলাম অতিমারির কারণে তার আয় ভীষণভাবে কমে গিয়েছিল। ব্যবসার আয় দিয়ে ভাড়ার টাকাটাও থাকতো না। তাই, সস্তার একটা দোকানে উঠে যাওয়া ছাড়া আমার আর কোনো উপায় ছিল না, কিন্তু এটার কিছু সংস্কার প্রয়োজন ছিল। এ কাজে সাহায্য করার জন্য আমি এক রাজমিস্ত্রির খোঁজ পেয়েছিলাম, কিন্তু কয়েক সপ্তাহ পর তিনি বললেন আমার এই কাজে অনেক সময় লাগবে, তার নিজের অনেক কাজ ছিল আর তার যথেষ্ট সংখ্যক কর্মীও ছিল না, যার কারণে তিনি আমার কাজ করা বন্ধ করে দিলেন। আমার প্রতিবেশীরা এবং গ্রাহকরাও জানতে পেরে গিয়েছিলেন কী ঘটছে না ঘটছে। এবং বলেছিলেন যে নতুন দোকানের কাজ যদি শেষ করতে না পারি, তাহলে একই সাথে আমাকে দুই জায়গার ভাড়া গুনতে হবে যা সত্যিই ব্যয়বহুল হবে, এবং আমি একজন বিশ্বাসী হওয়া সত্ত্বেও আমার ক্ষেত্রে কেন এমনটা ঘটবে? প্রথমে আমি তাদের খুব আত্ম বিশ্বাসের সাথে বলেছিলাম, যে সব কিছুই ঈশ্বরের সার্বভৌমত্ব এবং ব্যবস্থার উপর নির্ভর করে, এবং আমি অভিযোগ করতে পারি না। এর পরে আমি আরেকজন লোকের খোঁজ পেলাম যিনি অন্য একটা রাজমিস্ত্রীর দলের সাথে কাজ করেন, কিন্তু স্বাস্থ্যের কারণ দেখিয়ে তিনিও আমার কাজটা হাতে নিলেন না। শুধু সময় নষ্ট হয়ে গেল কিন্তু আমার দোকান আর ঠিক হলো না। পুরো তিন মাস ধরে আমি একই সাথে দুটো দোকানের ভাড়া গুনে গেলাম। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই, নতুন দোকানে একটা পাইপ ফুটো হতে শুরু করল। ফুটোটা খুঁজতে গিয়ে পুরো ছাদটাই ভেঙে ফেলতে হয়েছিল। দোকানের এই পরিবর্তনের জন্য সব মিলিয়ে ইতিমধ্যে আমার প্রায় ৩০০০ পাউন্ড খরচ হয়ে গেছে। আমি সত্যিই অসন্তুষ্ট এবং বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিলাম। আমার সাথে কেন এমনটা ঘটবে—কেন আমাকে এত টাকা ব্যয় করতে হবে? আমি সবসময় ভেবেছিলাম যে ঈশ্বর আমাকে একজন ভালো রাজমিস্ত্রি খুঁজে পেতে সাহায্য করবেন। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে, সেই লোকটি হিটার বসানোর কাজটি শেষ না হতেই কাজটি ছেড়ে দিয়েছিল, সে যে হিটারের অর্ধেক কাজ সে করেছিল পাইপটা ফুটো হয়ে সেটাও নষ্ট হয়ে গেল। সেই সময় আমিও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলাম। আমি অভিযোগ করতে শুরু করলাম: এ ধরণের ঘটনা কেন ঈশ্বর আমার বেলায় ঘটতে দিচ্ছেন? আমি গির্জায় একটি দায়িত্ব পালন করছিএবং তার জন্য আমার কাজ এবং অর্থ উপার্জনের সময়ও কমিয়ে দিয়েছি তাহলে আমাকে কেন এত সমস্যা ভোগ করতে হচ্ছে? মনের ভেতর অনেক অভিযোগ জমা হয়েছিল।

এর পর থেকে আমার দায়িত্বের প্রতি আমার ঐকান্তিকতা কমে গেল। আমি তখনও আমার দায়িত্ব পালন করছিলাম, কিন্তু এতে আমার মোটেও মন বসছিল না। দোকানের সমস্যাগুলো কীভাবে সমাধান করা যা তা নিয়েই পুরোপুরি ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম। এটি আমার জন্য একটি বাস্তব সংকট ছিল, এবং ফলস্বরূপ এই কারণেই আমি সমাবেশগুলিতে খুব বেশি মন দিতে পারছিলাম না। আমি আগে সমাবেশের পরে একটি সারাংশ তৈরি করতাম, কিন্তু পরে আমি আর তা করতে চাইনি। আমি আমার ঘুমেরও কিছুটা সময় উৎসর্গ করতাম অন্যদের সাথে আলোচনা এবং সমস্যা সমাধানের জন্য, কিন্তু এখন আমার কাছে কেউ সমস্যার বিষয়ে জানতে চাইলে আমি ফোনের উত্তর দিতেও চাই না। আগে ব্রাদার এবং সিস্টাররা ভালো আছেন কিনা সে বিষয়ে খোঁজ খবর নিতাম, দায়িত্বে পালনে তাদের কষ্ট হচ্ছে কিনা, তাদের বিভিন্ন সমস্যার ভিত্তিতে আমি ঈশ্বরের বাণী নিয়ে আলোচনা করতাম। কিন্তু এখন আমি আর ওসব কোনো কাজই করতে চাইনা। দায়িত্বপালনে আমি দিন দিন যত্নহীন হয়ে উঠতে থাকি। একদিন উচ্চ পর্যায়ের এক নেতা আমাকে বললেন যে আমাকে আমার দায়িত্বে মনোযোগী হতে হবে, এবং সব নবাগতদের জন্য সমাবেশের আয়োজন করতে হবে আর তাদের সিঞ্চন করতে হবে, একজন সদস্যও যেন বাদ না পড়ে। আমি তাঁর এই ব্যবস্থার ঘোর বিরোধী ছিলাম। এভাবে কাজগুলো করলে, বাড়ির কাজকর্মের জন্য বেশি সময় পাওয়া যাবে না। আমি আমার পরিবার এবং বন্ধুদের সাথে অবসর সময় কাটাতে চেয়েছিলাম, শরীরকে আরও তৃপ্ত করার জন্য। দিন দিন অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছিল, আমি ঈশ্বরের বাণীও পড়তে চাইতাম না, প্রার্থনাও করতে চাইতাম না। আগে আমি ঈশ্বরের বাণী পাঠ করার জন্য তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে পড়তাম এবং দিনের বেলা সেই পাঠ শুনতাম। কিন্তু এখন আমি সকালে উঠতে বা ঈশ্বরের বাণী আর চাই না, কারণ আমি আমার প্রচেষ্টার বিনিময়ে আশীর্বাদ পাইনি, এবং আমি শুধু পদে পদে ধাক্কাই খেয়েছি। আমি জানতাম না সমাবেশে কী আলোচনা করতে হবে, আমি এমন ভান করতাম যেন সবকিছু ঠিকঠাক আছে, যেন অন্তত আমি গির্জায় আমার পদ ধরে রাখতে পারি। আমি আমার কর্তব্যেও বিপথগামী হতে লাগলাম। যখন কেউ আমাকে জিজ্ঞেস করত, সবকিছু কেমন চলছে, তখন ভালোভাবে কোনো কাজ শেষ না করেও বলতাম শেষ করেছি, ব্রাদার ও সিস্টারদের সাথে প্রতারণা করতাম, আমার এমন মনোভাবের কারণ হল ঈশ্বর আমাকে আশীর্বাদ করেননি, বরং আমাকে তিনি অনেক অসুবিধার মধ্যে ফেলে দিয়েছেন। আমি ঈশ্বরের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করছিলাম না, প্রার্থনাও অনেক কমিয়ে এনেছিলাম।

আমি একটি ভয়ঙ্কর অবস্থায় ছিলাম, তাই আমার এই অবস্থা সম্পর্কে নেত্রীকে বললাম। তিনি আমাকে ঈশ্বরের বাণীর এই অনুচ্ছেদটি পড়ালেন: “পরীক্ষা চলাকালীন মানুষদের পক্ষে দুর্বল হয়ে পড়া, নিজেদের মধ্যে নেতিবাচকতা থাকা অথবা ঈশ্বরের ইচ্ছার বা তাদের অনুশীলনীয় পথের বিষয়ে স্পষ্টতার অভাব থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু যেকোনো ক্ষেত্রেই, তুমি অবশ্যই ঈশ্বরের কাজে বিশ্বাস রেখো, আর ঈশ্বরকে প্রত্যাখ্যান কোরো না, ঠিক যেমনটা ইয়োব করেছিল। যদিও ইয়োব ছিল দুর্বল এবং নিজের জন্মের দিনেই অভিশপ্ত হয়েছিল, তা সত্ত্বেও সে কিন্তু অস্বীকার করে নি যে মানবজীবনে যা কিছু রয়েছে সবই যিহোবার দান এবং যিহোবাই হলেন সেইজন যিনি তাদের সকলকে নিয়ে যাবেন। তাকে যেভাবেই পরীক্ষা করা হয়ে থাক না কেন, সে কিন্তু এই বিশ্বাস বজায় রেখেছিল। তোমার অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে তুমি ঈশ্বরের বাক্য দ্বারা যে পরিমার্জনার মধ্য দিয়েই যাও না কেন, ঈশ্বর মানবজাতির কাছ থেকে যা চান তার সারসংক্ষেপ হল তাঁর প্রতি তাদের বিশ্বাস এবং ভালোবাসা। এইভাবে কাজ করার মাধ্যমে তিনি মানুষদের মধ্যেকার বিশ্বাস, ভালোবাসা এবং প্রেরণা নিখুঁত করে তোলেন। ঈশ্বর মানুষদের নিখুঁতকরণের কাজ করেন, এবং তারা তা প্রত্যক্ষ করতে পারে না, অনুভব করতে পারে না; এই ধরনের পরিস্থিতিতে তোমার বিশ্বাসের প্রয়োজন হয়। যখন কিছু খালি চোখে দেখা যায় না তখন মানুষের বিশ্বাসের প্রয়োজন হয়, এবং যখন তুমি নিজের ধারণাগুলি বর্জন করতে পারো না, তখনই তোমার বিশ্বাসের প্রয়োজন হয়। যখন তোমার ঈশ্বরের কাজ সম্পর্কে স্পষ্টতা থাকে না, তখন তোমাদের প্রয়োজন হল বিশ্বাস রাখা এবং দৃঢ় অবস্থান নেওয়া এবং সাক্ষ্য দেওয়া(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, যাদের নিখুঁত করা হবে তাদের অবশ্যই পরিমার্জনা ভোগ করতে হবে)। ঈশ্বরের বাণী পড়ে আমি বুঝলাম যে কোন অভিপ্রায়ে ঈশ্বর আমাকে এমন দুর্দশায় ফেলেছেন তা আমি মোটেও বুঝতে পারিনি। আমি হতাশ এবং নিঃসঙ্গ বোধ করতাম, এমনকি ঈশ্বরের সার্বভৌমত্ব সম্পর্কেও সন্দিহান ছিলাম। কিন্তু আমি বারবার দাবি করতাম যে আমি ঈশ্বরের একজন নিষ্ঠাবান অনুসারী। যখন আমার ব্যবসা ভালো চলছিল এবং আমার স্বাস্থ্য ভালো ছিল, আমি ভেবেছিলাম ঈশ্বর আমাকে প্রচুর আশীর্বাদ করেছেন এবং আমি তাঁর জন্য নিজেকে আরও বেশি নিবেদন করতে পারি। যখন দুর্দশায় পড়লাম, যখন জীবনে অসুবিধা দেখা দিল, তখন ঈশ্বরকে দোষারোপ শুরু করলাম। তাহলে এটা কী ধরণের বিশ্বাস ছিল? যখন ইয়োব তাঁর সমস্ত পারিবারিক সম্পত্তি এবং তাঁর সব সন্তানকে হারালেন, তিনি ঈশ্বরকে দোষারোপ করেননি, বরং তিনি ঈশ্বরের নামের স্তুতি করেছেন। যখন তাঁর স্ত্রী তাঁর বিশ্বাসকে দুর্বল করে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, তিনি তাঁকে একজন বোকা মহিলা বলে তিরস্কার করে বলেছিলেন, “ঈশ্বরের হাত থেকে আমরা কি শুধু মঙ্গলই গ্রহণ করব? অমঙ্গল কিছুই গ্রহণ করব না?” (ইয়োবে ২:১০)। ঈশ্বরের প্রতি ইয়োবের বিশ্বাসে কোনো চাওয়া পাওয়া বা দাবি দাওয়া ছিল না। তিনি আশীর্বাদ কিংবা দুর্দশা যাই লাভ করুন না কেন, তিনি ঈশ্বরের কাছে নিজেকে সমর্পণ করেছেন। ঈশ্বরের প্রতি ইয়োবের বিশ্বাস ছিল অকৃত্রিম। আমি অনুভব করেছি যে তাঁর সাথে কোনোভাবেই আমার মিল হতে পারে না। আমার জীবনে একের পর এক কষ্ট দেখে আমি কিছুটা অতৃপ্তি অনুভব করি। পরিচিতজনরা আমাকে জিজ্ঞাসা করত আমি একজন বিশ্বাসী হওয়া সত্ত্বেও কেন এমনটা আমার সাথে ঘটছে, যদিও সব কিছু ঠিকঠাক আছে বলে আমি দাবি করতাম, সময়ের সাথে সাথে আমি দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়লাম, এবং ঈশ্বরের সার্বভৌমত্বকে সন্দেহ করতে শুরু করলাম। ইয়োবের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে, আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে অন্য লোকেদের কথার মাধ্যমে শয়তান আমাকে আক্রমণ করছে, যেন আমি ঈশ্বরকে অস্বীকার এবং দোষারোপ করি। সেই অভিজ্ঞতায় আমি সম্পূর্ণরূপে সাক্ষ্যবিহীন ছিলাম—আমি শয়তানের হাসির পাত্র হয়ে উঠেছিলাম। আমি যে আচরণ করেছি তার জন্য আমি ভীষণ লজ্জিত এবং অনুতপ্ত ছিলাম।

পরে আমি ঈশ্বরের বাণীর আরও কয়েকটি অনুচ্ছেদ পড়েছিলাম। “মানুষের জীবনের অভিজ্ঞতায়, তারা নিজেদের মনে প্রায়ই ভাবে: ‘আমি আমার পরিবার ও কর্মজীবন ঈশ্বরের জন্য ত্যাগ করেছি, আর তিনি আমায় কী দিয়েছেন? আমাকে অবশ্যই এটা হিসাব করে দেখতে হবে আর নিশ্চিত হতে হবে—আমি কি সম্প্রতি কোন আশীর্বাদ লাভ করেছি? এই সময়ের মধ্যে আমি অনেক কিছু দিয়েছি, অনেক দৌড়ে বেড়িয়েছি, এবং অনেক কষ্ট পেয়েছি—ঈশ্বর কি প্রতিদানে আমায় কোনও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন? তিনি কি আমার ভালো কাজগুলো মনে রেখেছেন? আমার পরিণতি কেমন হবে? আমি কি ঈশ্বরের আশীর্বাদ পেতে সক্ষম হবো? …’ প্রত্যেক ব্যক্তি নিজেদের হৃদয়ের অভ্যন্তরে প্রতিনিয়ত এই ধরণের গণনা করে চলে, এবং ঈশ্বরের কাছে নিজেদের চাহিদা জানায় যাতে রয়েছে তাদের উদ্দেশ্য, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং এক লেনদেনের মানসিকতা। অর্থাৎ বলা যায় যে মানুষ নিজের হৃদয়ে প্রতিনিয়ত ঈশ্বরকে পরীক্ষা করছে, প্রতিনিয়ত ঈশ্বরের বিষয়ে পরিকল্পনা করছে, প্রতিনিয়ত তার ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যের জন্য ঈশ্বরের সঙ্গে তর্ক করছে, এবং ঈশ্বরের কাছ থেকে একটা বিবৃতি বার করে নেওয়ার চেষ্টা করছে, দেখতে চাইছে সে যা চায় ঈশ্বর তাকে তা দিতে পারেন কি না। একই সময়ে যখন সে ঈশ্বরের সাধনা করছে, তখনও মানুষ ঈশ্বরের সাথে ঈশ্বরসুলভ আচরণ করে না। মানুষ সবসময় ঈশ্বরের সঙ্গে বোঝাপড়াতে আসতে চেয়েছে, অবিরাম তাঁর কাছে চাহিদা প্রকাশ করে, এবং এমনকি তাঁকে প্রতি পদক্ষেপে চাপ দেয়, এক ইঞ্চি তাকে দেওয়া হলে এক মাইল নেওয়ার চেষ্টা করে। ঈশ্বরের সঙ্গে লেনদেনের চেষ্টা করার সময়, মানুষ তাঁর সঙ্গে বিতর্কেও জড়ায়, এমনকি এমনও কিছু মানুষ আছে যারা পরীক্ষার মধ্যে পড়লে, বা কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে, প্রায়শই দুর্বল, নিষ্ক্রিয়, এবং কাজে শ্লথ হয়ে পড়ে, এবং ঈশ্বরের বিষয়ে অভিযোগে পূর্ণ হয়ে ওঠে। যে সময় থেকে মানুষ প্রথম ঈশ্বরে বিশ্বাস করতে শুরু করেছে, তখন থেকেই সে ঈশ্বরকে একজন প্রাচুর্যে পরিপূর্ণ ভাণ্ডার মনে করেছে, সমস্ত পরিস্থিতিতে প্রভূত উপযোগিতাসম্পন্ন বলে বিবেচনা করেছে, এবং নিজেকে ঈশ্বরের সবচেয়ে বড় পাওনাদার বলে ভেবে নিয়েছে, যেন ঈশ্বরের কাছ থেকে আশীর্বাদ এবং প্রতিশ্রুতি পাওয়ার চেষ্টাটা তার জন্মগত অধিকার এবং বাধ্যতা, এদিকে ঈশ্বরের দায়িত্ব হল মানুষকে রক্ষা করা, তার পরিচর্যা করা, এবং তাকে সংস্থান যোগান দেওয়া। যারা ঈশ্বরে বিশ্বাস করে তাদের সকলের কাছে ‘ঈশ্বরে বিশ্বাস’ করার মৌলিক জ্ঞান এরকমই, এবং এরকমই তাদের ঈশ্বর বিশ্বাসের ধারণার গভীরতম উপলব্ধি। মানুষের প্রকৃতি ও সারসত্য থেকে শুরু করে তার বিষয়গত সাধনা পর্যন্ত, কোথাও ঈশ্বর ভীতির সাথে কোনো সম্পর্ক নেই। মানুষের ঈশ্বর বিশ্বাসের লক্ষ্যের সাথে সম্ভবত ঈশ্বরের উপাসনা করার কোনো সম্পর্কই নেই। অর্থাৎ বলা যায় যে মানুষ কখনোই বিবেচনা করেনি বা উপলব্ধি করেনি যে ঈশ্বরে বিশ্বাস করতে হলে ঈশ্বরে ভীতি ও তাঁর উপাসনার প্রয়োজন। এইধরনের অবস্থার আলোকে মানুষের সারসত্য অত্যন্ত সুস্পষ্ট। কী সেই সারসত্য? তা হল, মানুষের হৃদয় বিদ্বেষপরায়ণ, তা বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রতারণা পোষণ করে, ন্যায় ও ধার্মিকতা এবং ইতিবাচক কোনোকিছুই ভালোবাসে না, এবং তা অবজ্ঞাজনক ও লোভী। মানুষের হৃদয় ঈশ্বরের জন্য এর চেয়ে বেশি অবরুদ্ধ আর হতে পারে না; সে কখনোই তার হৃদয় ঈশ্বরকে দেয়নি। ঈশ্বর কখনোই মানুষের প্রকৃত হৃদয় দেখেননি, বা তিনি কখনোই মানুষের দ্বারা পূজিত হননি। ঈশ্বর কত বড় মূল্য পরিশোধ করেন, বা তিনি কত কাজ করেন, বা মানুষকে কত সংস্থান যোগান দেন, সেসব নির্বিশেষে মানুষ এই সবকিছুর প্রতি অন্ধ ও চূড়ান্ত উদাসীন থাকে। মানুষ কখনোই ঈশ্বরকে তার হৃদয় অর্পণ করেনি, সে তার হৃদয়ের বিষয়ে শুধু নিজেই বিবেচনা করতে চায়, নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে চায়—এর অন্তর্নিহিত অর্থ হল মানুষ ঈশ্বরে ভীতি ও মন্দ কর্ম পরিত্যাগের পথ অনুসরণ করতে চায় না, অথবা ঈশ্বরের সার্বভৌমত্ব ও তাঁর আয়োজন মান্য করতে চায় না, বা ঈশ্বরকে ঈশ্বর হিসাবে উপাসনা করতেও চায় না। এটাই মানুষের বর্তমান অবস্থা(বাক্য, খণ্ড ২, ঈশ্বরকে জানার প্রসঙ্গে, ঈশ্বরের কর্ম, ঈশ্বরের স্বভাব এবং স্বয়ং ঈশ্বর ২)। “তাদের যেভাবেই বিচার করা হোক না কেন, যাদের অন্তরে ঈশ্বর রয়েছে তাদের আনুগত্য অপরিবর্তিত থাকে; কিন্তু যাদের অন্তরে ঈশ্বর নেই তাদের কাছে, একবার ঈশ্বরের কাজ তাদের দৈহিকভাবে সুবিধা-প্রদানকারী না হলে, তারা ঈশ্বরের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে, এমনকি ঈশ্বরের কাছ থেকে দূরেও সরে যায়। তারাই শেষ অবধি অবিচল থাকবে না, যারা কেবল ঈশ্বরের আশীর্বাদের অন্বেষণ করে, এবং যাদের ঈশ্বরের জন্য নিজেদের ব্যয় করার এবং তাঁর প্রতি নিজেদের নিবেদন করার ইচ্ছামাত্র নেই। ঈশ্বরের কার্য সম্পন্ন হলে, এই প্রকার হীন ব্যক্তিদের বহিষ্কার করা হবে, এবং তারা কোনোপ্রকার সহানুভূতির অযোগ্য। যারা মনুষ্যত্ববিহীন, তারা প্রকৃত ঈশ্বরপ্রেমে অক্ষম। যখন পরিবেশ নিরাপদ এবং সুরক্ষিত থাকে, বা সেখানে লাভজনক কিছু থাকে, তখন তারা ঈশ্বরের প্রতি সম্পূর্ণ অনুগত হয়, কিন্তু যখন তাদের বাসনা চরিতার্থ হয় না, বা যদি শেষ পর্যন্ত তা অস্বীকার করা হয়, তাহলে তারা অবিলম্বে বিদ্রোহ করে। এমনকি একটিমাত্র রাত্রির ব্যবধানেই, তারা হাস্যোজ্জ্বল, ‘হৃদয়বান’ ব্যক্তি থেকে এক কুৎসিত চেহারা-বিশিষ্ট এবং হিংস্র ঘাতকে পরিণত হতে পারে, হঠাৎ করেই তাদের গতকালের হিতৈষীকে পরম শত্রু হিসাবে গণ্য করে বসতে পারে, কোনোপ্রকার যুক্তিসঙ্গত বিবেচনা ছাড়াই। এই দানবদের যদি নির্মূল করা না হয়, তাহলে, চোখের পলকমাত্র না ফেলে প্রাণনাশে সমর্থ এই দানবরা কি প্রচ্ছন্ন বিপদে পরিণত হবে না?(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, ঈশ্বরের কার্য এবং মানুষের অনুশীলন)। ঈশ্বরের বাণী আমাকে দেখিয়েছিল আমার মনের গভীরে কী লুকিয়ে ছিল। ঈশ্বরে বিশ্বাস করে আমি তাঁর কাছে সমর্পণ ও তাঁর উপাসনা করিনি, বরং তা করেছি তাঁর অনুগ্রহ এবং আশীর্বাদ উপভোগ করার জন্য। আমি আমার দায়িত্ব পালনের জন্য কাজ এবং অর্থ উপার্জনের সময় কমিয়ে দিয়েছিলাম যেন আমি আরও বেশি করে আশীর্বাদপ্রাপ্ত হই। আমি যা কিছু বিসর্জন দিয়েছিলাম তা ছিল আসলে ঈশ্বরের সাথে একটা চুক্তি করার চেষ্টা। প্রকৃত বিশ্বাস বা অকৃত্রিম ভালোবাসা থেকে নয়। আমার জীবনে যখন প্রথম সমস্যা শুরু হয়েছিল, আমি আমার দায়িত্বে দৃঢ় ছিলাম কারণ আমি ভেবেছিলাম কষ্টগুলো দূর হয়ে যাবে, এবং তারপর ঈশ্বর আমাকে আরও আশীর্বাদ করবেন। কিন্তু অবস্থা ক্রমেই জটিল হতে থাকল। আমি নতুন দোকানে সমস্যায় পড়েছিলাম এবং অনেক টাকা খুইয়েছিলাম। দায়িত্ব পালনের আমার আর কোনো কোনো প্রেরণা ছিল না, এবং আমি ঈশ্বরকে দোষারোপ করতে লাগলাম। ঈশ্বরের আশীর্বাদ ছাড়া, আমি ঈশ্বরের জন্য আগের মত পরিশ্রম করতে চাইনি। আমি শুধু আমার নিজের আরো আরাম আয়েশের কথা ভেবেছিলাম। আমি যেভাবে বিষয়গুলো নিয়ে ভাবতাম তাতে আমার সব দুঃখযন্ত্রণা এসে পড়ত, এবং এই সংগ্রামের মাধ্যমে, আমি ঈশ্বরের ইচ্ছা খুঁজতে ব্যর্থ হয়েছি, বা কীভাবে সত্যের চর্চা করতে হয় এবং দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানো যায় তা বুঝতে। পরিবর্তে, আমি নিজেই আমার আর্থিক সমস্যার সমাধানের উপায় বের করার চেষ্টা করেছি, এমনকি আমার দায়িত্বে গোলমাল পাকিয়েছি এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন হয়েছি। আমার হৃদয়ে ঈশ্বরের কোনো স্থান ছিল না। আমার কর্তব্যের প্রতি এবং ঈশ্বরের প্রতি আমার মনোভাবের মাধ্যমে, আমি দেখলাম যে আমি ঈশ্বরের প্রকৃত অনুসারী নই। আমি সবসময় ঈশ্বরকে ভালবাসি বলে দাবি করেছি, কিন্তু যখন আমি জীবনে কষ্ট পেয়েছি তখন ঈশ্বরকে দোষারোপ করেছি। আমি তর্ক করেছি এবং তাঁর সাথে হিসাব মেটানোর চেষ্টা করেছি, ঠিক যেমনটা ঈশ্বর বলেছেন: “এমনকি একটিমাত্র রাত্রির ব্যবধানেই, তারা হাস্যোজ্জ্বল, ‘হৃদয়বান’ ব্যক্তি থেকে এক কুৎসিত চেহারা-বিশিষ্ট এবং হিংস্র ঘাতকে পরিণত হতে পারে, হঠাৎ করেই তাদের গতকালের হিতৈষীকে পরম শত্রু হিসাবে গণ্য করে বসতে পারে, কোনোপ্রকার যুক্তিসঙ্গত বিবেচনা ছাড়াই।” আমার আচার-ব্যবহার ঠিক সেরকমই ছিল যা ঈশ্বর তাঁর বাণীতে প্রকাশ করেন। আমি তখনই আমার দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করেছি যখন ঈশ্বর আমাকে আশীর্বাদ করেছেন। আমি পাওনাদারের মত আচরণ করতাম, ঈশ্বরের কাছে যা চাইতাম তাই দাবি করতাম। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে, ঈশ্বর আমাকে জীবন দিয়েছেন—তিনি আমাকে সবকিছু দিয়েছেন। তিনি আমাকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি দিয়েছেন। তারপরেও কেন আমি ঈশ্বরকে তিরস্কার করতে, তাঁর সাথে যুক্তি তর্ক করতে চেয়েছিলাম? এছাড়াও, সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করে তাঁর সাথে লড়াই করেছি। এসব কথা আমি যতই চিন্তা করি ততই লজ্জিত হই। আমি যদি ঈশ্বরের কাছে অনুতপ্ত না হই, তাহলে ঈশ্বর কি আমাকে ঘৃণা করবেন না এবং আমার মতো একজন মানুষকে বিতাড়িত করবেন না? মনে মনে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করলাম, “ঈশ্বর, আমার সত্যিই বিবেকের অভাব আছে। আমি ইতিমধ্যেই আপনার অনেক অনুগ্রহ উপভোগ করেছি, কিন্তু আমি এখনও আপনার কাছে একের পর এক দাবি করে যাচ্ছি। আমার ইচ্ছা পুরণ না হলেই আমি নেতিবাচক আচরণ এবং অভিযোগ করেছি। ঈশ্বর, আমি আমার আসল চেহারা দেখতে পেয়েছি, এবং আমি নিজেকে ঘৃণা করি। অনুগ্রহ করে আমাকে সাহায্য করুন যাতে আমি আমার এই ভুল সাধনাগুলির পরিবর্তন করতে পারি।”

এরপর আমি ঈশ্বরের বাণী পাঠ করলাম: “তুমি যা অন্বেষণ করো সেগুলি হল ঈশ্বরে বিশ্বাস করার পরে শান্তি লাভ করতে সক্ষম হওয়া, অসুস্থতা থেকে তোমার সন্তানাদির মুক্ত থাকা, তোমার স্বামীর একটি ভাল চাকরি হওয়া, তোমার পুত্রের জন্য একটি ভাল স্ত্রী খুঁজে পাওয়া, তোমার কন্যার জন্য একটি উপযুক্ত স্বামী খুঁজে পাওয়া, তোমার বলদ ও ঘোড়াগুলির ভালোভাবে জমি কর্ষণ করতে পারা, তোমার ফসলের জন্য বর্ষব্যাপী ভাল আবহাওয়া। তুমি যা অন্বেষণ করো তা হচ্ছে এইসব। তোমার সাধনা কেবল স্বাচ্ছন্দ্যে বেঁচে থাকার জন্য, যাতে তোমার পরিবারের কোনও দুর্ঘটনা না ঘটে, বাতাস তোমাকে পাশ কাটিয়ে চলে যায়, তোমার মুখে যাতে এক কণা বালুও স্পর্শ না করে, তোমার পরিবারের ফসল যাতে প্লাবিত না হয়, যাতে তুমি কোনও বিপর্যয় দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত না হও, যেন ঈশ্বরের আলিঙ্গনে জীবন যাপন করতে পারো, একটি আরামদায়ক আশ্রয়ে বসবাস করতে পারো। তোমার মতো কাপুরুষ, যে সর্বদা দেহসর্বস্বতার পিছনে ছুটছে—তোমার কি হৃদয় আছে, তোমার কি আত্মা আছে? তুমি কি একটি পশু নও? বিনিময়ে কিছু না চেয়ে আমি তোমাকে প্রকৃত পথ দিই, তবুও তুমি তা অন্বেষোণ করো না। তুমি কি আদৌ ঈশ্বরে বিশ্বাসীদের একজন? আমি তোমাকে প্রকৃত মানব জীবন দান করি, তবুও তুমি অন্বেষণ করো না। তুমি কি শূকর বা কুকুরের চেয়ে কোনোভাবেই পৃথক নও?(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, পিটারের অভিজ্ঞতাঃ তার শাস্তি ও বিচারের জ্ঞান)। “সমস্ত দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষ নিজেদের জন্য বাঁচে। প্রত্যেক মানুষই নিজের জন্য এবং শয়তান সবচেয়ে পিছনের জনকে দখল করে—এটাই হল মানবপ্রকৃতির সারাংশ। মানুষ তাদের নিজেদের স্বার্থে ঈশ্বরে বিশ্বাস করে; তারা যখন সমস্ত কিছু পরিত্যাগ করে এবং ঈশ্বরের জন্য নিজেদের ব্যয় করে, তখন তা আশীর্বাদ পাওয়ার জন্যই; এবং তারা যখন তাঁর প্রতি বিশ্বস্ত থাকে, তখন তা পুরস্কৃত হওয়ার জন্য। সংক্ষেপে, এই সমস্ত কিছুই আশীর্বাদ পাওয়া, পুরস্কৃত হওয়া এবং স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করার উদ্দেশ্যেই করা হয়। সমাজে মানুষ তার নিজের সুবিধার জন্যই কাজ করে, এবং ঈশ্বরের গৃহে তারা আশীর্বাদ লাভের জন্য কর্তব্য সম্পাদন করে। আশীর্বাদ অর্জনের স্বার্থে মানুষ সমস্ত কিছু পরিত্যাগ করে এবং প্রচণ্ড যন্ত্রণা সহ্য করতে পারে: মানুষের শয়তানোচিত স্বভাবের এর থেকে ভালো প্রমাণ আর হয় না(বাক্য, খণ্ড ৩, অন্তিম সময়ের খ্রীষ্টের উপদেশ, তৃতীয় অংশ)। ঈশ্বরের বাণী পড়ে বুঝতে পারলাম যে আমি কতটা স্বার্থপর এবং ঘৃণ্য ছিলাম। এই ধারণাই আমার মনকে নিয়ন্ত্রণ করত যে “প্রত্যেক মানুষই নিজের জন্য এবং শয়তান সবচেয়ে পিছনের জনকে দখল করে।” আমি ভাবতাম যাই করি না কেন, আমার উচিত লাভবান হওয়া এবং আমি এমন কিছু করতে চাইনি যা থেকে আমার লাভ নেই। এই ধরণের দর্শন, এই ধরণের চিন্তাভাবনা আমার হৃদয়ে গভীরভাবে গেঁথে গিয়েছিল, এবং আমাকে সবসময় শুধু নিজের জন্য বাঁচতে উদ্বুদ্ধ করেছিল। এমনকি আমার বিশ্বাস এবং ঈশ্বরের জন্য ত্যাগ শুধুমাত্র একটি লক্ষ্যের জন্যই ছিল—আশীর্বাদ পাওয়া। আমি ঈশ্বরকে ঠকাচ্ছিলাম। আমি একজন অত্যন্ত স্বার্থপর এবং ধূর্ত মানুষ ছিলাম। আমি ক্রমাগত আমার ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করেছি, এবং কীভাবে ঈশ্বরের অনুগ্রহ ও আশীর্বাদ লাভ করা যায় সেই কথা ভেবেছি। যখন আমি দেখলাম যে আমি ঠিক যেভাবে চাই ঈশ্বর আমাকে সেভাবে আশীর্বাদ করছেন না, তখন আমার খুব দুঃখ হয়েছিল এবং আমার অভিযোগের অন্ত ছিলনা। সেই পরিস্থিতিতে ঈশ্বরের ইচ্ছা কী ছিল? তা আমি খুঁজেও দেখিনি, ভেবেও দেখিনি, বিষয়টা আমি পাত্তাই দিইনি। আমি কেবল আমার দৈহিক স্বার্থের দিকে মনোযোগ দিয়েছিলাম। আমি কি সত্য লাভের সুযোগ হারাচ্ছিলাম না? অন্তিম সময়ে ঈশ্বর আমাদের উদ্ধার করতে দেহ ধারণ করেছিলেন। তিনি আমাদের জন্য তাঁর রক্ত, ঘাম, অশ্রু ঢেলে অনেক বাণী শুনিয়েছেন যাতে এইসব বাণীর মাধ্যমে, এইসব সত্যের মাধ্যমে, আমরা পাপ এবং মন্দের হাত থেকে বাঁচতে পারি, শয়তানের দুর্নীতি ও ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেতে পারি। কিন্তু আমি সত্যের অনুসরণ করছিলাম না—এটা নিয়ে ভেবেছি খুব কম। আমি শুধু দৈহিক আরাম আয়েশের জন্য লোভী ছিলাম, শুধু এর জন্যই আমার যাবতীয় চিন্তা আর পরিকল্পনা। আমি যদি এভাবেই চলতে থাকতাম, তাহলে ঈশ্বর আমার মতো একজনের সাথে কী আচরণ করতেন? নির্মূল ও নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়াই আমার পরিণতি হতে পারত। আমি মনে মনে প্রার্থনা করলাম, “ঈশ্বর আমাকে উদ্ধার করুন। নিজেকে জানার এবং অনুশীলনের উপায় খুঁজে বের করার অনুমতি দিন।” আমি প্রতিদিন এই ধরনের প্রার্থনা করেছি

পরে আমি ঈশ্বরের বাণীতে এটা পড়েছিলাম: “তোমার মনে হতে পারে যে ঈশ্বরে বিশ্বাস করার অর্থ হল দুঃখকষ্ট ভোগ করা, অথবা তাঁর জন্য সমস্ত কিছু করা; তুমি ভাবতে পারো যে ঈশ্বর-বিশ্বাসের উদ্দেশ্য হল দৈহিক শান্তি লাভ, বা যাতে তোমার জীবনের সবকিছু সুষ্ঠুভাবে চলতে পারে, বা যাতে তুমি সমস্ত বিষয়ে আরাম এবং স্বাচ্ছন্দ্য পেতে পারো। যাইহোক, এই উদ্দেশ্যগুলির কোনোটিকেই মানুষের ঈশ্বর-বিশ্বাসের ক্ষেত্রে যুক্ত করা উচিত নয়। যদি তুমি এই সমস্ত উদ্দেশ্যে বিশ্বাস করো, তাহলে তোমার দৃষ্টিভঙ্গি সঠিক নয়, এবং তোমার পক্ষে নিখুঁত হওয়া একেবারেই সম্ভব নয়। ঈশ্বরের কাজ, ঈশ্বরের ধার্মিক স্বভাব, তাঁর প্রজ্ঞা, বাক্য, তাঁর বিস্ময় এবং অতলতা—এই সমস্ত জিনিসই মানুষের উপলব্ধি করা উচিত। এই উপলব্ধি থাকলে, হৃদয় থেকে সকল ব্যক্তিগত চাহিদা, আশা এবং ধারণা মুক্ত করতে তোমার তা ব্যবহার করা উচিত। শুধুমাত্র এই বিষয়সমূহকে নির্মূল করার মাধ্যমেই তুমি ঈশ্বরের দাবিকৃত শর্তগুলি পূরণ করতে পারো, এবং কেবলমাত্র এমন করার মাধ্যমেই তুমি জীবন অর্জন এবং ঈশ্বরের সন্তুষ্টিবিধান করতে পারো। ঈশ্বর বিশ্বাসের উদ্দেশ্য হল তাঁকে সন্তুষ্ট করা এবং তিনি যে স্বভাব চান তা যাপন করা, যাতে তাঁর কর্ম ও মহিমা এই অযোগ্য মানুষদের দলের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। এই হল ঈশ্বর-বিশ্বাসের সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি, এবং এই লক্ষ্যটিই তোমাদের অনুসন্ধান করা উচিত(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, যাদের নিখুঁত করা হবে তাদের অবশ্যই পরিমার্জনা ভোগ করতে হবে)। “মানুষের কর্তব্য ও সে আশীর্বাদধন্য না অভিশপ্ত—এই দুইয়ের মধ্যে কোনো পারস্পরিক সম্পর্ক নেই। কর্তব্য হলো মানুষের যা পালন করা উচিৎ, যা স্বর্গ-প্রেরিত বৃত্তি, এবং এই বিষয়ে প্রতিদান, শর্তসমূহ, অথবা যুক্তির উপর নির্ভরশীল হওয়া এর উচিত নয়। কেবল তাহলেই বলা যায় যে সে তার কর্তব্য করছে। আশীর্বাদধন্য হওয়ার অর্থ হল বিচারের অভিজ্ঞতার অন্তে নিখুঁত হওয়া ও ঈশ্বরের শুভাশিস উপভোগ করা। অভিশপ্ত হওয়ার অর্থ হল বিচার ও শাস্তির অভিজ্ঞতার পরেও স্বভাবের পরিবর্তন না ঘটা; তা হল যখন কেউ নিখুঁত হয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা অর্জন না করে কেবলমাত্র শাস্তিপ্রাপ্তই হয়। কিন্তু আশীর্বাদধন্য বা অভিশপ্ত যা-ই হোক না কেন, সৃজিত সত্তার যা করণীয় ও যা তাদের সাধ্যায়ত্ত তা সম্পাদন করে তাদের কর্তব্য পালন করা উচিৎ; একজন মানুষের, একজন ঈশ্বর-সন্ধানী মানুষের, ন্যূনতম এটুকু করাই উচিৎ। নিছক আশীর্বাদধন্য হওয়ার উদ্দেশ্যে কর্তব্য সম্পাদন করা তোমার অনুচিৎ, আবার অভিশপ্ত হওয়ার ভয়ে কাজ করতে অস্বীকার করাও উচিৎ নয়। তোমাদের এই একটা কথা বলা যাক: মানুষের কর্তব্য সম্পাদন হল তার করণীয় কাজ করা, আর যদি সে তার কর্তব্য পালনে অসমর্থ হয়, তবে সেটা তার বিদ্রোহীসুলভ আচরণ(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, ঈশ্বরের অবতারের সেবাব্রত ও মানুষের কর্তব্যের মধ্যে পার্থক্য)। আমি অসংখ্যবার দাবি করেছি যে ঈশ্বরের প্রতি আমার প্রকৃত বিশ্বাস আছে, কিন্তু তারপরেই আমি উপলব্ধি করেছি এটা ছিল পুরোটাই কল্পনা। আমার এমন বিশ্বাস ঠিক পৌল ২ তিমোথির ৪:৭-৮-এ যেমনটা বলেছেন তেমন: “জীবনের সংগ্রাম আমি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করেছি, নিরূপিত পথের শেষ পর্যন্ত দৌড়েছি। বিশ্বাস আমার এখনও অটুট রয়েছে। ধর্মনিষ্ঠার পুরস্কার আমার জন্য তোলা রয়েছে।” সন্ত পৌল প্রভুর সেবা করার পর ধর্মনিষ্ঠার মুকুটের অপেক্ষায় ছিলেন, এবং আমার বিশ্বাসেও এটাই ছিল আমার লক্ষ্য—আশীর্বাদপ্রাপ্ত হওয়া। ঈশ্বরের বাণী আমাকে বিশ্বাসের অর্থ বলেছে এবং বলেছে যে আমার বিশ্বাসে সঠিক সাধনা থাকা উচিত। আগে যে ভুল পথে ছিলাম তা পরিবর্তন করতে মনে মনে তৈরি হয়েছি, কারণ এতে আমি আমি শুধুই আরো বেশি করে অধঃপাতের পথে যাব ও ঈশ্বরের শত্রু হয়ে উঠব। আমি ঠিক শিশুর মত ছিলাম যে সত্যিই তার পিতামাতার প্রতি অনুগত ছিল না, কিন্তু তাদের কাছ থেকে শুধুই কিছু না কিছু চাইত। এই ধরনের শিশু কখনোই তার পিতামাতার ভালোবাসা পেতে পারে না পারে না, তারা শুধু পিতামাতাকে কষ্টই দেয়। আমার বিশ্বাসে আমার প্রেরণা এবং দৃষ্টিভঙ্গি আমার পক্ষে লজ্জাজনক ছিল। কী ধরনের প্রতিদান আমি ঈশ্বরের কাছ থেকে প্রত্যাশা করছিলাম? আমি ইতিমধ্যেই তাঁর অনেক অনুগ্রহ এবং আশীর্বাদ উপভোগ করেছি এবং তাঁর বাণীর সত্য থেকে অনেক পুষ্টিলাভ করেছি ও তাঁর যত্ন ও সুরক্ষা পেয়েছি, এবং আমি যে বায়ুতে শ্বাস নিই, যে সূর্যালোক পাই, আমার প্রতিদিনের খাবার, সেগুলোর কথা আর নাই বা বললাম। এ সবই ঈশ্বর প্রদত্ত। এমনকি আমার এই জীবনও ঈশ্বরের দান। সৃষ্টিকর্তার ভালবাসা কীভাবে আমি শোধ করব? এমনকি আমার সত্তার প্রতিটি তন্তুও যদি প্রদান করি, তাহলেও আমি কখনই তাঁর ঋণ শোধ করতে সক্ষম হব না। তারপরেও, আমি এখনও ঈশ্বরকে দোষারোপ করছি, তর্ক করছি এবং তাঁর সাথে হিসাব নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করছি। আমার সত্যিই মানবতার অভাব ছিল এবং নিজের সম্বন্ধে সামান্যতম সচেতনতাও ছিল না। আমি ঈশ্বরের অনুসরণ করেছি এবং আমার কর্তব্য করেছি যা ছিল আমার দায়িত্ব, এবং আমার করণীয় সবচেয়ে মৌলিক বিষয়। ঈশ্বর আমাকে সত্য অনুসরণ এবং পরিত্রাণ লাভের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। আমি যদি দায়িত্ব পালন না করতাম, তাহলে আমি সত্য লাভ করতে পারতাম না অথবা আমার কলুষিত স্বভাবের পরিবর্তন করতে পারতাম না। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ! এখন আমি বুঝতে পারি যে কর্তব্য পালন হল সেটাই যা একজন সৃষ্ট সত্তার করা উচিত, এটা একজন মানুষের দায়িত্ব। দায়িত্ব পালনের বিনিময়ে ঈশ্বরের সাথে আমার কোনো চুক্তি হওয়া উচিত নয়। আমি এটাও বুঝি আমি যতই সমস্যার সম্মুখীন হই না কেন আমি অসুস্থ হই বা আমার ব্যবসা ভালো না চলুক, আমাকে এটা মেনে নিতে হবে, এবং আমার কোনো অভিযোগ করা উচিত নয়। সৃষ্ট সত্তা হিসাবে এই বোধ ও মনোভাব আমার থাকা উচিত। এই ধরনের উপলব্ধি দানের জন্য আমি ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞ। আমি এখন খুব বেশি অর্থ উপার্জন করছি না এবং আমার জীবনের মান কিছুটা কমে গেছে, কিন্তু আমি আগের চেয়ে বেশি মিতব্যয়ী—আমি ততটা খরচ করছি না। এখন বেশ চালিয়ে নিতে পারি। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা আর জীবনের নানান সমস্যার কারণে দায়িত্বের প্রতি আমার মনোভাবকে আমি প্রভাবিত হতে দিতে পারি না। ব্রাদার ও সিস্টারদের আমি সাহায্য করে যাচ্ছি আমার দায়িত্বের প্রতিটি কাজ সম্পন্ন করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছি। এই পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা আমাকে দেখিয়েছে যে আমি কতটা স্বার্থপর এবং জঘন্য ছিলাম, এবং আমার বিশ্বাস ও সাধনায় আমার ভুল দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে আমাকে কিছুটা ধারণা দিয়েছে। ঈশ্বরের বাণীর নির্দেশনাকে ধন্যবাদ, যার কারণে এই সব অর্জন করতে পেরেছি।

পূর্ববর্তী: আমার নির্বাচন

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।

সম্পর্কিত তথ্য

এঞ্জেলের কাহিনী

২০২০ সালের আগস্টে ফেসবুকে সিস্টার ইয়ে জিয়াং-এর সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। সে আমাকে বলে, প্রভু যীশু ফিরে এসেছেন, তিনি অনেক সত্য প্রকাশ করছেন,...

Leave a Reply

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন