মহামারীতে আক্রান্ত হয়ে আত্মসমীক্ষা

15-03-2023

সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের অন্তিম সময়ের সুসমাচার গ্রহণের ঠিক পরেই তাঁর কাজ থেকে জেনেছি ঈশ্বর যখন অন্তিম সময়ের কাজ শেষ করবেন, তখন ভালো মানুষদের পুরস্কার ও দুষ্টদের শাস্তি দিতে মহাবিপর্যয়গুলি নেমে আসবে। যারা মন্দ কাজ ও ঈশ্বরের বিরোধিতা করেছে তারা এই দুর্যোগে ধ্বংস হবে, আর যারা ঈশ্বরের বাক্যের বিচার গ্রহণ করে পরিশুদ্ধ হয়েছে ঈশ্বর তাদের এই বিপর্যয় থেকে সুরক্ষা দেবেন আর অনন্ত আশীর্বাদ উপভোগের জন্য তাঁর রাজ্যে নিয়ে যাবেন। তখন ভেবেছিলাম স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ এবং অনন্ত জীবন লাভই হবে এক বিরাট আশীর্বাদ, এমন সুযোগ জীবনে একবারই আসে, একে আমায় পরম যত্নে লালন করে ভালোভাবে কর্তব্য পালন করতে হবে, যাতে ঈশ্বরের কাজ শেষ হলে আমি বেঁচে থাকার যোগ্য বিবেচিত হব। তাই চাকরি ছেড়ে সুসমাচার প্রচার শুরু করি। দুর্যোগ যখন বাড়ছিল, তখন এই দুঃসময়ে আরো ভালো কাজ করে আর আরো বেশি মানুষের কাছে অন্তিম সময়ের সুসমাচার পৌঁছে দিয়ে রাজ্যের সুসমাচার প্রচারে অবদান রাখতে চেয়েছিলাম। তাই, সর্বশক্তি দিয়ে সুসমাচার প্রচার করি, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিজেকে কাজে ডুবিয়ে দিয়েছি। আমার জেলার আরও অনেক মানুষ অন্তিম সময়ের ঈশ্বরের কাজ গ্রহণ করছিল, নতুন নতুন গীর্জা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছিল। কাজের ফলাফলে নিজে খুব ছিলাম। মনে হয়েছিল, সুসমাচার প্রচারে আমার অবদান নিশ্চইয় সবাই খেয়াল করবে। যখন মহামারী সারা বিশ্বে ধ্বংসলীলা চালাচ্ছিল, আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছিল, আমি একদম শান্ত ছিলাম। ভেবেছিলাম যেহেতু ঈশ্বরের প্রতি কর্তব্য পালনে কঠোর পরিশ্রম করেছি, তাই, মহামারী যতই ছড়িয়ে পড়ুক, আমার কিছু হবে না। কিন্তু, আকস্মিক ভাবে মহামারীর ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আমার ধারণা, কল্পনা চূরমার হয়ে গেল। আমার উদ্দেশ্য ও এত বছরের বিশ্বাসের কোথায় ফাঁক ছিল তা নিয়ে ভাবতে হল।

মে ২০২১-এর একদিন, হঠাৎ কাশি শুরু হয়, এর পর জ্বর ও সারা শরীরে দুর্বলতা। প্রথমে ভেবেছিলাম ঠাণ্ডা লেগেছে, খুব একটা পাত্তা দিইনি, কিন্তু সপ্তাহ খানেক পরেও উপসর্গ গেল না। এক সিস্টার বলল উপসর্গগুলো করোনাভাইরাসের লক্ষণ তার আশংকা আমি বোধহয় আক্রান্ত হয়েছি। সে হাসপাতালে পরীক্ষা করিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিল। আমি তেমন গুরুত্ব দেইনি। ভেবেছিলাম দীর্ঘদিন ধরে কঠোর পরিশ্রম করেছি, যন্ত্রণা ভোগ করেছি, কর্তব্য পালনের নিজের মুল্যও চুকিয়েছি, তাছাড়া কাজে ভালো ফলও পেয়েছ। তার ওপর, মন্দ কিছুও করিনি, গির্জার কাজেও বাধা দিইনি, তাহলে কীভাবে ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারি? কিন্তু যা আশা করেছিলাম পরীক্ষার ফল একদম বিপরীত, করোনা পজিটিভ। বিহ্বল হয়ে বাড়ি ফিরি, বুঝতেই পারছিলাম না কীভাবে আক্রান্ত হলাম। বহুদিন ধরে কর্তব্য পালনের পরও, ঈশ্বর কেন আমায় সুরক্ষা দিলেন না না? ব্রাদার-সিস্টাররা জানতে পারলে সম্পর্কে কী ভাববে? তারা কি ভাববে না যে ঈশ্বর ক্ষুব্ধ হন এমন কিছু করার জন্যই শাস্তি পাচ্ছি? আমার তো মনে হয়নি যে অন্যায় কিছু করেছি বা গির্জার কাজ ব্যাহত করেছি। আগের বছর মহামারী ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ এই রোগে মারা গেছে। সংক্রমিত যখন হয়েছি, তখন আমিও কি মারা যাবো? ঈশ্বরের কাজ প্রায় গুটিয়ে আনার পর এখন মারা গেলে, আমার এত বছরের পরিশ্রম কি বৃথা যাবে না? তাহলে ভবিষ্যৎ রাজ্যের কোনো আশীর্বাদে আমার অংশ থাকবে না। যত ভাবছিলাম তত বিচলিত হচ্ছিলাম, জানতাম না কীভাবে এই পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাব। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করলাম, “হে ঈশ্বর, আপনার অনুমতিতে আমি সংক্রমিত হয়েছি—এটা নিশ্চয়ই আপনার শুভ উদ্দেশ্য। আপনি ভুল হতে পারেন না, আমি নিশ্চয়ই কোনোভাবে বিদ্রোহ বা আপনার বিরোধিতা করেছি। জানি না কীভাবে আপনার স্বভাবকে ক্ষুব্ধ করেছি। নিজের ভুল বুঝতে আমাকে আলোকিত করুন। আমি অনুতাপের জন্য প্রস্তুত।” তারপর ঈশ্বরের বাক্যের একটি অনুচ্ছেদ মনে পড়ল। “অসুস্থতার সূত্রপাতকে কীভাবে অনুভব করা উচিত? তোমার উচিত প্রার্থনার জন্য ঈশ্বরের সম্মুখে আসা ও তাঁর ইচ্ছাকে উপলব্ধি করার সন্ধান করা, এবং পরীক্ষা করে দেখে নেওয়া ঠিক কী ভুল তুমি করেছ, এবং তোমার মধ্যে কোন ভ্রষ্টতা রয়েছে যেটার সমাধান এখনো বাকি। যন্ত্রণা ছাড়া তুমি তোমার ভ্রষ্ট স্বভাবের সমাধান করতে পারবে না। মানুষকে অবশ্যই যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে পরিণত হয়ে উঠতে হবে, শুধু তাহলেই তাদের উচ্ছৃঙ্খলতার সমাপ্তি ঘটবে এবং তারা সর্বদা ঈশ্বরের সম্মুখে জীবনযাপন করতে পারবে। কষ্টভোগের সম্মুখীন হলে, মানুষ সর্বদাই প্রার্থনা করবে। খাদ্য, বস্ত্র, বা আনন্দের চিন্তা আর থাকবে না, তাদের অন্তরে তারা সর্বদাই প্রার্থনা করবে, এবং পরীক্ষা করে দেখবে এই সময়ের মধ্যে তারা কোনো ভুল করেছে কি না। যখন তুমি গুরুতর অসুখ বা কোনো অস্বাভাবিক অসুস্থতার দ্বারা বেষ্টিত হও, এবং তা তোমাকে প্রভূত যন্ত্রণা দেয়, বেশিরভাগ সময় সেগুলো আকস্মিকভাবে ঘটে না; তুমি অসুস্থ থাকো বা সুস্থ, এই সমস্ত কিছুর অন্তরালেই রয়েছে ঈশ্বরের ইচ্ছা(বাক্য, খণ্ড ৩, অন্তিম সময়ের খ্রীষ্টের উপদেশ, ঈশ্বরবিশ্বাসে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হল সত্যের অর্জন)। যথাসময়ে ঈশ্বর বাক্যের প্রদীপ্তি আমাকে দেখাল সংক্রমিত হওয়াটা বিক্ষিপ্ত ঘটনা নয়, তা ঈশ্বরেরই নিয়ম ও ব্যবস্থাপনা। আমাকে ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুসন্ধান করে আত্মসমীক্ষা করতে হবে। যাই হোক না, আমি ঈশ্বরকে অভিযুক্ত ও দোষী করতে পারি না। পরের কয়েকদিন যখন বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনে ছিলাম, যে দুর্নীতি আমি প্রকাশ করেছিলাম এবং নিজের সম্বন্ধে যা জেনেছিলাম তা ব্রাদার-সিস্টারদের খুলে বলি, এবং ঈশ্বরের বাক্য অনুশীলন ও তাতে প্রবেশের উপায় পাই। শরীর যতই খারাপ হোক, অনলাইনে সুসমাচার প্রচার করে গেলাম। কয়দিন পর অনেক সুস্থ বোধ করি, কাশি প্রায় সেরেই যায়, শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসে, শক্তিও ফিরে পাই। খুব আনন্দ পাই, ভাবি ঈশ্বর আমার আনুগত্য ও অনুতাপ দেখেছেন, তাই আমার যত্ন নিয়েছেন। ভেবে আমার অস্বস্তি অনেকটাই কমে যায়। কিন্তু পরদিন হঠাৎই বুকে চাপা কষ্ট ও অস্বস্তি অনুভব করি কাশিও থামছিল না। তারপর প্রচণ্ড জ্বর আসে, শরীরে প্রচন্ড দুর্বলতা। আমি ভীষণ ভয় পেয়ে যাই। রোগ ধরা পড়া থেকে, ঈশ্বরকে দোষারোপ না করে নিজের কর্তব্য পালন করে গেছি। কেন আরো অসুস্থ হয়ে পড়লাম? তখনো এটার কোনো ওষুধ ছিল না, ঈশ্বর না বাঁচালে মৃত্যু নিশ্চিত ছিল। মৃত্যুর চিন্তায় খুব ভয় পেয়ে যাই—এর কাছে আত্মসমর্পণ করতে পারি না। দশ বছরেরও বেশি সময় সময় ধরে ঈশ্বরকে অনুসরণ করছি, বাড়ি ও চাকরি ছেড়ে কর্তব্য পালনে কঠোর শ্রম দিয়েছি। অনেক কষ্ট করেছি, অনেক মূল্য দিয়েছি। ঈশ্বর কি সেসব মনে রাখেননি? মরে গেলে, রাজ্যের সৌন্দর্য দেখতে বা তার আশীর্বাদ উপভোগ করতে পারব না। যত ভাবি ততই হতাশা বাড়ে। তখনও কর্তব্য পালন করছিলাম বটে, কিন্তু ভেতর থেকে উৎসাহ পাচ্ছিলাম না, বেশি কাজ করতে হলেই বিরক্ত হতাম। তাড়াহুড়ো করে কাজ শেষ করতাম, যাতে বিশ্রাম নিতে পারি। আগে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করতাম, ভাবতাম ঈশ্বর আমায় রক্ষা করবেন। কিন্তু এখন ঈশ্বর তা করছেন না, নিজের কথা নিজেকেই ভাবতে হচ্ছিল আর স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে হচ্ছিল। অতিরিক্ত চাপ বা ক্লান্তি থাকলে আমি সহজে সুস্থ হব না। সমাবেশে অন্য ব্রাদার-সিস্টাররা অনেক উৎসাহ নিয়ে ক্রমাগত আলোচনা চালিয়ে যেতে পারত। কিন্তু আমার বেলায়, কথা বলতে গেলেই কাশি আসতো, ঈশ্বরের বাক্য পড়তে গেলেই দম ফুরিয়ে যেত। খুব হতাশ হয়ে পড়ি, ঈশ্বরের কাছে এর কারণ জিজ্ঞেস না করে থাকতে পারি না: “প্রভু, আমি কর্তব্য পালনে পরিশ্রমী, নিষ্ঠাবান আর দায়িত্বশীল। অনেকেই কর্তব্য পালনে আমার সমকক্ষ নয়। আর সবাই সুস্থ, কর্তব্য পালন করছে, কেবল আমিই কেন সংক্রমিত হলাম? এ যদি আপনার পরীক্ষা হয়, গির্জায় অনেকেই আমার চেয়েও বেশি সত্যের অনুসরণ করে, তারা কেন এর মুখোমুখি হচ্ছে না? এ যদি আপনার শাস্তি হয়, আমি কোনো অন্যায় করিনি, গির্জার কাজে বাধা দেইনি, আপনার স্বভাবকেও ক্ষুব্ধ করিনি। ঈশ্বর, আমি এখনো কর্তব্য পালন করতে চাই, আমার কাজটাকে ভালোবাসি। এখনও অনেক কিছু করা বাকি—বেঁচে থেকে কর্তব্য করতে চাই। হে প্রভু, আমি এখন এক গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য পালন করছি আর এখনও আপনার সেবা করতে পারি। আমাকে রক্ষা করুন যাতে বেঁচে থেকে আপনার সেবা করতে পারি।” যখন এইভাবে ভাবছি, ঈশ্বরের বাক্যের একটি অনুচ্ছেদ পরিষ্কার মনে পড়ে গেল: “তুমি—একজন সৃষ্ট সত্তা—কিসের ভিত্তিতে ঈশ্বরের কাছে দাবি করো? ঈশ্বরের কাছে দাবি করার যোগ্যতা মানুষের নেই। ঈশ্বরের কাছে দাবি জানানোর চেয়ে অযৌক্তিক কিছু আর নেই। তাঁর যা করা উচিত তিনি তা-ই করবেন, এবং তাঁর স্বভাব ন্যায়পরায়ণ। ন্যায়পরায়ণতা কোনোভাবেই ন্যায্য বা যৌক্তিক নয়; তা সমানাধিকারবাদ নয়, অথবা তুমি যে পরিমাণ কাজ সম্পন্ন করেছ তার ভিত্তিতে তোমার যা প্রাপ্য তা বরাদ্দ করা নয়, বা তুমি যে কাজ করেছ তার ভিত্তিতে মূল্য পরিশোধ করা নয়, অথবা তোমার ব্যয়িত প্রচেষ্টা অনুসারে যথোচিত প্রাপ্য দেওয়ার বিষয়ও নয়। সেগুলো ন্যায়পরায়ণতা নয়, সেগুলো শুধুই ন্যায্য ও যৌক্তিক হওয়া। খুব কম সংখ্যক মানুষই ঈশ্বরের ন্যায়পরায়ণ স্বভাব জানতে সক্ষম। ধরো, ইয়োব ঈশ্বরের সাক্ষ্য দেওয়ার পর ঈশ্বর তাকে নির্মূল করে দিলেন: তা কি ন্যায়পরায়ণতা হত? সত্যি বলতে, হত। এটাকে ন্যায়পরায়ণতা কেন বলে? মানুষ ন্যায়পরায়ণতাকে কীভাবে দেখে? কোনো কিছু মানুষের ধারণার সাথে সুসঙ্গত হলে তাদের পক্ষে বলা সহজ যে ঈশ্বর ন্যায়পরায়ণ। আবার, যদি তারা দেখে বিষয়টা তাদের ধারণার সাথে সুসঙ্গত নয়—যদি সেটা এমন কিছু হয় যা তারা বুঝতে অপারগ—তাহলে ঈশ্বর যে ন্যায়পরায়ণ, সেকথা বলা তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। যদি ঈশ্বর সেই সময়ে ইয়োবকে ধ্বংস করে দিতেন, তাহলে মানুষ ঈশ্বরকে ন্যায়পরায়ণ বলত না। আসলে, মানুষ ভ্রষ্ট হয়েছে কি না, তারা গভীরভাবে ভ্রষ্ট হয়েছে কি না, সেসব নির্বিশেষে, ঈশ্বর যখন তাদের ধ্বংস করবেন, তখন কি তাঁকে সেই কাজের ন্যায্যতা দেখাতে হবে? তিনি কিসের ভিত্তিতে এমন কাজ করলেন, সেটাও কি তাঁকে মানুষের কাছে ব্যাখ্যা করতে হবে? ঈশ্বর যে নিয়ম জারি করেছেন সে কথা কি মানুষকে তাঁর বলতেই হবে? তার কোনো প্রয়োজন নেই। যে ভ্রষ্ট, যে ঈশ্বরকে প্রতিরোধ করে, ঈশ্বরের দৃষ্টিতে তার কোনো মূল্য নেই; ঈশ্বর তাদের সাথে যেমন আচরণই করুন তা যথাযথই হবে, এবং সেগুলো সবই ঈশ্বরের আয়োজন। তুমি যদি ঈশ্বরের চোখে অপছন্দের কেউ হতে, এবং যদি তিনি বলতেন যে সাক্ষ্য দেওয়ার পর তাঁর আর তোমার প্রয়োজন নেই এবং সেই কারণে তোমাকে ধ্বংস করে দিতেন, তাহলে এটাও কি তাঁর ন্যায়পরায়ণতাই হতো? হ্যাঁ, হতো। … ঈশ্বর যা করেন তার সবকিছুই ন্যায়পরায়ণ। যদিও মানুষের কাছে হয়তো তা অতল হতে পারে, কিন্তু তাদের ইচ্ছামতো বিচার করা উচিত নয়। তিনি যা করেন তা যদি মানুষের কাছে অযৌক্তিক বলে মনে হয়, অথবা তাদের যদি এই বিষয়ে কোনো পূর্বধারণা থাকে, এবং তা থেকে যদি তারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে তিনি ন্যায়পরায়ণ নন, তাহলে তারাই সর্বাপেক্ষা অযৌক্তিক(বাক্য, খণ্ড ৩, অন্তিম সময়ের খ্রীষ্টের উপদেশ, তৃতীয় অংশ)। ভাবতে গিয়ে অনুভব করি ঈশ্বর যেন মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আমায় তিরস্কার করছেন, প্রতিটি শব্দ সোজা আমার হৃদয়ে গিয়ে বিঁধছিল। আমি কি ঈশ্বরকে অন্যায়কারী ও অধার্মিক হওয়ার জন্য দোষারোপ করছিলাম না? তাঁর সঙ্গে কি দর কষাকষি, অজুহাত তৈরি আর নানান শর্ত জুড়ে দিচ্ছিলাম না? নিজের কর্তব্যে বহু বছর ধরে নিজেকে ব্যয় ও কষ্ট ভোগ করে যা কিছু অর্জন করেছি, ভেবেছিলাম সেই কারণে ঈশ্বর আমায় বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করবেন, সেটাই হবে তাঁর ন্যায়পরায়ণতা। বাস্তবে এটা ছিল পুরোপুরি আমার ধারণাও কল্পনা, সত্যের সাথে একেবারে সঙ্গতিহীন। ঈশ্বর সৃষ্টিকর্তা প্রভু, আমি সৃষ্ট সত্তা মাত্র। আমি যা কিছু ভোগ করি সবই ঈশ্বর দিয়েছেন, আমার জীবনও তাঁর দান। ঈশ্বর আমার ভাগ্য কীভাবে সাজিয়েছেন, কতদিন আমাকে বাঁচিয়ে রাখবেন সবই তাঁর হাতে। সৃষ্ট সত্তা হিসেবে সবই আমাকে মেনে নিতে হবে। ঈশ্বকে যুক্তি দেখিয়ে শর্ত বেঁধে দেওয়ার কী অধিকার ছিল আমার? কিন্তু এত বছর ধরে বিশ্বাস করে, এত সিঞ্চন ও ঈশ্বরের কাছ থেকে সত্যের এত রসদ লাভ করেও, কোনো কৃতজ্ঞতা ছিল না। যখন ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে মৃত্যুর মুখোমুখি হলাম, তখন ঈশ্বরের সাথে তর্ক জুড়ে দিয়ে তাঁকে প্রতিরোধ ও অধার্মিক বলে দোষারোপ করলাম। কোথায় ছিল আমার বিবেক ও যুক্তিবোধ? যত ভাবি তত অপরাধবোধ ও লজ্জা হয়, ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি। “প্রভু, আমি কতটা নির্বোধ! আমি আপনার সৃষ্টি; এক সৃষ্ট সত্তা। আমার উচিত আপনার সব আয়োজনে ও সমন্বয়ে নিজেকে সমর্পণ করা। সেটাই সঠিক ও স্বাভাবিক। আপনার অনুমতিতেই আমি এই ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়েছি। আমি মরে যেতে আর নিজে সমর্পণ করতে চাইনি, তাই আপনার সাথে তর্ক করেছি, আর সঠিক কাজ না করার জন্য আপনাকে দোষারোপ করেছি, আমাকে বাঁচিয়ে রাখতে অনুরোধ করেছি। আমার কোনো সমর্পণ বা যুক্তিবোধই ছিল না। এতটাই বিদ্রোহী ছিলাম! প্রভু, আমি আত্মসমীক্ষার মাধ্যমে আপনার কাছে অনুতাপ করতে চাই।”

পরের কয়েক দিন, ঈশ্বরের প্রতি আমার অভিযোগ ও ভুল বোঝাবুঝির কথা মনে পড়লেই, খারাপ লাগত। এই ভেবে যে, আমার অবস্থা যখন সঙ্কটজনক হয়ে উঠেছিল, ঈশ্বরকে প্রতিরোধ ও তার সাথে তর্ক জুড়েছিলাম, নেতিবাচক হয়ে কাজে অবহেলা করেছিলাম, ঠিকমতো নিজের কর্তব্য পালন করিনি, দায়সারা কাজ করেছি, অপরাধবোধ ও অস্বস্তি আরো বেড়ে যায়। যখন সুস্থ ছিলাম, কোনো সংকট ছিল না, তখন ঈশ্বরের ন্যায়পরায়ণতার প্রশংসা করতাম, বলতাম সৃষ্ট সত্তাদের উচিত সৃষ্টির প্রভুর ব্যবস্থাপনার কাছে আত্মসমর্পণ করা। তাহলে অসুস্থ হয়ে কেন এত বিদ্রোহী স্বভাব ও প্রতিরোধ দেখালাম? উপাসনার সময় ঈশ্বরের বাক্যে পড়লাম। “ঈশ্বরের সাথে মানুষের সম্পর্ক নিছক এক নগ্ন স্বার্থের। এটি আশীর্বাদ গ্রহীতা ও দাতার মধ্যে একটি সম্পর্ক। স্পষ্টভাবে বলতে গেলে, এটি কর্মচারী এবং নিয়োগকর্তার সম্পর্কের অনুরূপ। কর্মচারী শুধুমাত্র নিয়োগকর্তা প্রদত্ত পুরস্কার পাওয়ার জন্যই কাজ করে। এমন সম্পর্কের মধ্যে কোনো স্নেহ নেই, আছে শুধু লেনদেন। কোনো ভালবাসার আদানপ্রদান নেই, শুধুমাত্র দাক্ষিণ্য এবং করুণা। কোন বোঝাপড়া নেই, আছে শুধু চাপা অসন্তোষ এবং প্রতারণা। কোন অন্তরঙ্গতা নেই, আছে শুধুমাত্র অলঙ্ঘনীয় এক দূরত্ব(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, পরিশিষ্ট ৩: মানুষ একমাত্র ঈশ্বরের ব্যবস্থাপনার মধ্যেই উদ্ধার পেতে পারে)। “খ্রীষ্টবিরোধীরা মনে করে, যতক্ষণ কেউ দায়িত্ব পালন করতে পারে, মূল্য প্রদান করতে পারে, কিছু পরিমাণ কষ্টভোগ করতে পারে, ততক্ষণ তারা ঈশ্বরের আশীর্বাদলাভের যোগ্য। আর তাই, কিছুকাল গির্জার কাজ করার পর, তারা গির্জার জন্য কী কী কাজ করেছে, ঈশ্বরের গৃহে তাদের কী কী অবদান রয়েছে, এবং ভাই-বোনেদের জন্য কী কী করেছে, তার হিসাব করতে শুরু করে দেয়। তারা এই সমস্ত কিছু দৃঢ়ভাবে মনের মধ্যে রেখে দেয়, অপেক্ষা করে এটা দেখার জন্য যে এর বিনিময়ে ঈশ্বরের কাছ থেকে কী আশীর্বাদ ও অনুগ্রহ তারা পাবে, যাতে তারা ভালোভাবে নির্ধারণ করতে পারে যে কাজ তারা করছে তা করার যোগ্য কি না। তারা এই সব বিষয়েই নিজেদের আচ্ছন্ন করে রাখে কেন? তাদের হৃদয়ের গভীর থেকে তারা যার অন্বেষণ করে চলেছে তা আসলে কী? তাদের ঈশ্বর বিশ্বাসের উদ্দেশ্য কী? শুরু থেকেই তাদের ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাসের উদ্দেশ্য হচ্ছে আশীর্বাদ অর্জন। এবং তারা যত বছর ধর্মোপদেশ শুনুক, যত পরিমাণেই ঈশ্বরের বাক্য ভোজন ও পান করুক, যত বেশি সংখ্যক মতবাদই উপলব্ধি করুক না কেন, তারা তাদের আশীর্বাদ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং অনুপ্রেরণা কখনোই পরিত্যাগ করবে না। তুমি যদি তাদের একজন সৃষ্ট সত্তা হিসাবে কর্তব্যপরায়ণ হতে বলো এবং ঈশ্বরের শাসন ও আয়োজনকে স্বীকার করে নিতে বলো, তারা বলবে, ‘আমার সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। এর জন্য আমার সচেষ্ট হওয়া উচিত নয়। আমার যে জন্য সচেষ্ট হওয়া উচিত তা হচ্ছে: যখন আমার লড়াই শেষ হয়ে যাবে, যখন আমার প্রয়োজনীয় প্রচেষ্টা প্রদান করা হয়ে যাবে এবং প্রয়োজনীয় কষ্টভোগ করা হয়ে যাবে—ঈশ্বর যা চান সেই অনুসারে যখন এগুলো আমি করে ফেলেছি—ঈশ্বরের উচিত তখন আমাকে পুরস্কৃত করা ও আমাকে থাকার অনুমতি দেওয়া, এবং রাজ্যে আমাকে অভিষিক্ত করা, এবং ঈশ্বরের মানুষদের চেয়ে আমাকে উচ্চ অবস্থান প্রদান করা। আমাকে অন্ততপক্ষে দুটো থেকে তিনটে শহরের দায়িত্ব দেওয়া উচিত।’ খ্রীষ্টবিরোধীরা এইসব বিষয়েই সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দেয়। ঈশ্বরের গৃহ যেভাবেই সত্যের আলোচনা করুক না কেন, তাদের অনুপ্রেরণা ও আকাঙ্ক্ষা দূর করা যায় না; পৌল যে ধরণের মানুষ ছিল এরাও সেইরকম। এই ধরনের নগ্ন লেনদেনের পিছনে কি মন্দ ও দূষিত স্বভাব নিহিত নেই? কোনো কোনো ধর্মবিশ্বাসী মানুষ বলে, ‘আমাদের প্রজন্ম ক্রুশের পথেই ঈশ্বরকে অনুসরণ করে। কারণ ঈশ্বর আমাদের বেছে নিয়েছেন, আর সেই কারণেই আমরা আশীর্বাদ লাভের অধিকারী। আমরা কষ্টভোগ করেছি ও মূল্য প্রদান করেছি, এবং আমরা তিক্ত পেয়ালা থেকে সুরাপান করেছি। এমনকি আমাদের মধ্যে কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়েছে এবং কারাবাসে দণ্ডিত হয়েছে। এই সমস্ত কষ্ট স্বীকারের পরে, এত ধর্মোপদেশ শোনার পরে, এবং বাইবেলের বিষয়ে এত কিছু জানার পরে, যদি আমরা কোনো একদিন আশীর্বাদ না লাভ করি, তাহলে আমরা তৃতীয় স্বর্গে যাবো এবং ঈশ্বরের কাছে কারণ জানতে চাইবো।’ তোমরা কি কখনো এইরকম কিছু শুনেছ? তারা বলে যে তারা তৃতীয় স্বর্গে গিয়ে ঈশ্বরের কাছে কারণ জানতে চাইবে—এটা কতখানি দুঃসাহসিক? এটা শুনেই তোমাদের ভয় লাগছে না? ঈশ্বরের সাথে বিতর্কের চেষ্টা করার সাহস কার আছে? … এই ধরনের লোকেরা কি প্রধান দেবদূত নয়? তারা কি শয়তান নয়? তুমি ইচ্ছেমতো যে কারোর সাথে যুক্তিতর্ক করতে পারো, কিন্তু ঈশ্বরের সাথে নয়। তোমার এরকম করা উচিত নয়, এই ধরনের চিন্তাও তোমার মধ্যে থাকা উচিত নয়। আশীর্বাদ ঈশ্বরের কাছ থেকে আসে, তিনি সেটা তাঁর ইচ্ছামতো যাকে খুশী দিতে পারেন। এমনকি যদি তুমি আশীর্বাদ লাভের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা পূরণ করে ফেলো, অথচ ঈশ্বর তোমাকে আশীর্বাদ প্রদান না করেন, তাহলেও তাঁর সাথে বিতর্কের চেষ্টা করা তোমার উচিত নয়। সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ড এবং সমস্ত মানবজাতি ঈশ্বরের হাতে, ঈশ্বরের কথাই শেষ কথা, তুমি একটা তুচ্ছাতিতুচ্ছ সামান্য মানুষ মাত্র—তা সত্ত্বেও তুমি ঈশ্বরের সাথে বিতর্কের সাহস দেখাও। তুমি এত উদ্ধত কীভাবে হতে পারো? তুমি বরং আয়নায় নিজেকে দেখো যে তুমি আসলে কী। তুমি যদি সৃষ্টিকর্তার বিরুদ্ধে সোচ্চার বিক্ষোভ ও তর্ক করার সাহস করো, তবে তুমি কি নিজেরই মৃত্যু ডেকে আনছ না? ‘যদি আমরা কোনো একদিন আশীর্বাদ না লাভ করি, তাহলে আমরা তৃতীয় স্বর্গে যাবো এবং ঈশ্বরের কাছে কারণ জানতে চাইবো।’ এই কথাগুলো বলে তুমি প্রকাশ্যে ঈশ্বরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাচ্ছ। তৃতীয় স্বর্গ কী ধরনের স্থান? তা ঈশ্বরের বাসস্থান। ঈশ্বরের সাথে তর্ক করার চেষ্টা করতে তৃতীয় স্বর্গে যাওয়ার সাহস করা প্রাসাদে ঝড় তোলার সমান। ব্যাপারটা তাই নয় কি? কেউ কেউ বলে, ‘খ্রীষ্টবিরোধীর সাথে এর সম্পর্ক কোথায়?’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আছে, কারণ যারা ঈশ্বরের সাথে তর্ক করার জন্য তৃতীয় স্বর্গে যেতে চায় তারা খ্রীষ্টবিরোধী; কেবলমাত্র খ্রীষ্টবিরোধীরাই এই ধরনের কথা উচ্চারণ করতে পারে, এই কথাগুলো খ্রীষ্টবিরোধীদের হৃদয়ের অন্তঃস্থলের ধ্বনি এবং এটাই তাদের মন্দত্ব(বাক্য, খণ্ড ৪, খ্রীষ্টবিরোধীদের উন্মোচন, সপ্তম পরিচ্ছেদ: তারা মন্দ, প্রতারণাপূর্ণ, এবং শঠ (দ্বিতীয় অংশ))। ঈশ্বরের এই প্রকাশের সামনে লজ্জা পেলাম, দেখলাম কর্তব্য পালনে আমার কষ্টভোগ ও মূল্য চোকানোটা আদপেই ঈশ্বরের ইচ্ছার প্রতি বিবেচনা আর তাঁর ভালোবাসার প্রতিদান দিতে সৃষ্ট সত্তার কর্তব্য ছিল না। তা ছিল ঈশ্বরের আশীর্বাদ জন্য, রাজ্যে প্রবেশ ও অনন্ত আশীর্বাদের বিনিময়ে। কর্তব্য পালনকে দুর্যোগ এড়ানোর ও ঈশ্বরের আশীর্বাদ লাভের উপায় ভেবেছিলাম, ঈশ্বরের সাথে দর কষাকষির মুদ্রা ও পুঁজি মনে করেছিলাম। এ জন্য মনে মনে হিসাব করতাম কী কী কাজ করেছি। কত মানুষকে ধর্মান্তরিত করেছি, কত কষ্ট সহ্য করেছি, কত মূল্য দিয়েছি। যত হিসাব করেছি, ভেবেছি আমি কী দারুণ অবদান রেখেছি, নিশ্চয়ই বিপর্যয়ের সময় ঈশ্বরের সুরক্ষা লাভের যোগ্যতা অর্জন করেছি। কখনো ভাবিনি হঠাৎ করে ভাইরাসে সংক্রমিত হবো। ঈশ্বরকে ভুল বুঝে দায়ী করেছি, অসুস্থতার সময় তাঁর কাছে আত্মসমর্পণের পথ খুঁজিনি। বদলে, ঈশ্বরের অনুমোদন লাভের উপায় চিন্তা করেছি, যাতে তিনি আমাকে রক্ষা করেন এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠি। তাই যখন দেখলাম আমার স্বাস্থ্য খারাপ হয়ে যাচ্ছে, ঈশ্বরের প্রতি ভরসা হারাই। আমার প্রতি অন্যায়ের জন্য তাকে দোষারোপ করি। স্পষ্টতই শুধু আশীর্বাদ লাভের জন্যই ছিল বিশ্বাস ও কর্তব্য, ঈশ্বরের প্রতি আন্তরিক ছিলাম না। আশীর্বাদ পাওয়ার লক্ষ্য পূরণে তাঁকে ব্যবহার করছিলাম, তাঁর সাথে চুক্তি ও প্রতারণা করছিলাম। কী স্বার্থপর আর ধূর্তই না ছিলাম! অনুগ্রহের যুগে পৌল প্রভুর সুসমাচার প্রচারে সমগ্র ইউরোপ ঘোরেন, অনেক কষ্ট সহ্য করেন, অনেক বড় মূল্য দেন, কিন্তু সবই ছিল স্বর্গরাজ্যে যাওয়ার ও পুরস্কার পাওয়ার জন্য। বলেছিলেন, “জীবনের সংগ্রাম আমি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করেছি, নিরূপিত পথের শেষ পর্যন্ত দৌড়েছি। বিশ্বাস আমার এখনও অটুট রয়েছে। ধর্মনিষ্ঠার পুরস্কার আমার জন্য তোলা রয়েছে” (২ তিমথির ৪:৭-৮)। তার মানে ঈশ্বর তাকে মুকুট না দিলে ঈশ্বর ন্যায়পরায়ণ নন। ধর্ম জগতের মানুষ পৌলের এসব কথায় ভীষণ প্রভাবিত হয়। স্বর্গে গিয়ে আশীর্বাদ লাভের জন্যই সবাই ঈশ্বরের নামে কাজ ও কষ্টভোগ করে। আশীর্বাদ না পেলে ঈশ্বরের সাথে তর্ক করে, আমিও তাদের মতোই ছিলাম, তাই না? তখন ভয় পেলাম। কখনো ভাবিনি আমার এমন স্বভাব উন্মোচিত হবে। এই পরিস্থিতি না এলে, জানতামই না আমার এমন খ্রিস্টবিরোধী স্বভাব ছিল। ঈশ্বরের কয়েকটি বাক্য স্মরণ করলাম: “আমি বরাবর মানুষকে এক কঠোর মানদন্ডে বিচার করেছি। তোমার আনুগত্য যদি অভিসন্ধিমূলক ও শর্তসাপেক্ষ হয়, তবে তোমার সেই তথাকথিত আনুগত্যে আমার প্রয়োজন নেই, কারণ আমি তাদের ঘৃণা করি যারা তাদের অভিসন্ধির মাধ্যমে আমাকে প্রতারিত করে আর শর্তারোপের মাধ্যমে আমাকে দোহন করে। আমি শুধু চাই যে, মানুষ সম্পূর্ণভাবে আমার অনুগত হবে, তার সকল কর্মের কারণ ও উদ্দেশ্য হবে একটিমাত্র শব্দকে সপ্রমাণ করা—‘বিশ্বাস’। তোষামোদের মাধ্যমে আমাকে খুশি করতে চাওয়ার তোমাদের যে প্রচেষ্টা আমি তাকে ঘৃণা করি, কারণ তোমাদের প্রতি আমি সবসময় অকপট আচরণ করেছি, আর তাই আমি চাই তোমরাও আমার প্রতি অকৃত্রিম বিশ্বাসপূর্ণ আচরণ করো(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, তুমি কি সত্যিকারের ঈশ্বরবিশ্বাসী?)। বুঝতে পারলাম ঈশ্বরের স্বভাব ন্যায়পরায়ণ, পবিত্র, এবং তা কোনো অপরাধ সহ্য করেন না। ঈশ্বর মানুষকে উদ্ধারের জন্য কাজ করেন, তিনি চান মানুষের সততা ও আনুগত্য। মানুষের প্রচেষ্টায় যদি উদ্দেশ্য, অশুদ্ধি, দর কষাকষি বা প্রতারণা থাকে, ঈশ্বর তাদের কেবল প্রত্যাখ্যানই করেন না, বরং তাদের ঘৃণা ও তিরস্কার করেন। পলের মতোই, শেষপর্যন্ত যিনি শুধু ঈশ্বরের আশীর্বাদেই বঞ্চিত হননি, তাকে শাস্তি দিতে নরকেও পাঠানো হয়। যেভাবে আমার কর্তব্যে দর কষাকষির খাদ মিশে ছিল, তাও নিশ্চয়ই ঈশ্বরের ঘৃণার কারণ হয়েছিল। আমার অসুস্থ হওয়াটা ঈশ্বরের ন্যায়পরায়ণতা ও পবিত্র স্বভাবেরই প্রকাশ। তখন, আমি মন থেকে অসুস্থতাকে গ্রহণ করে নিজেকে পুরোপুরি সমর্পণ করি।

পরে ঈশ্বরের বাক্যের আরেকটি অনুচ্ছেদ পড়ি: “যখন তুমি সৃষ্টিকর্তার সামনে আসো, একজন সৃষ্ট সত্তা হিসাবে তোমার উচিত তোমার দায়িত্ব পালন করা। এটাই প্রকৃত করণীয় কাজ, এবং তোমার উপর অর্পিত দায়িত্ব। সৃষ্ট সত্তারা তাদের দায়িত্ব পালন করবে, এই ভিত্তির উপরেই সৃষ্টিকর্তা মানবজাতির মধ্যে বৃহত্তর কর্ম সম্পাদন করেছেন। তিনি মানবজাতির উপর কাজের পরবর্তী ধাপ সম্পাদন করেছেন। আর কী সেই কাজ? তিনি মানবজাতিকে সত্য প্রদান করেন, নিজেদের দায়িত্ব পালনের সময় তাঁর কাছ থেকে তাদের সত্য লাভ করতে দেন ও এইভাবে তাদের ভ্রষ্ট স্বভাব পরিহার করে পরিশুদ্ধ হয়ে উঠতে দেন। এইভাবে, তারা ঈশ্বরের ইচ্ছা পূরণ করে এবং জীবনের সঠিক পথে পদার্পণ করে, এবং পরিশেষে তারা ঈশ্বরে ভীত হতে ও মন্দের পরিত্যাগ করতে সক্ষম হয়, সম্পূর্ণ পরিত্রাণ অর্জন করতে পারে, এবং আর শয়তানের দুর্ভোগের অধীনে থাকে না। ঈশ্বর চান মানবজাতি নিজেদের দায়িত্ব পালনের শেষে এই প্রভাবই অর্জন করুক। অতএব, তোমার নিজের দায়িত্ব পালনের সময়, ঈশ্বর তোমাকে শুধু কোনো একটা জিনিসই পরিষ্কারভাবে দেখান ও সামান্য সত্য উপলব্ধি করান তা নয়, অথবা তিনি শুধু তোমাকে একজন সৃষ্ট সত্তা হিসাবে নিজেদের দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে অনুগ্রহ ও আশীর্বাদ উপভোগ করতে সক্ষম করে তোলেন এমনও নয়। বরং, তিনি তোমাকে পরিশুদ্ধ হতে দেন, উদ্ধার লাভ করতে দেন, এবং শেষ পর্যন্ত সৃষ্টিকর্তার মুখমণ্ডলের আলোকে জীবনযাপন করতে দেন(বাক্য, খণ্ড ৪, খ্রীষ্টবিরোধীদের উন্মোচন, নবম পরিচ্ছেদ: কেবলমাত্র নিজেদেরকে বিশিষ্ট ভাবে তুলে ধরতে এবং নিজেদের স্বার্থ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে পরিতুষ্ট করতেই তারা তাদের কর্তব্য করে; তারা কখনোই ঈশ্বরের গৃহের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে না, এবং ব্যক্তিগত গৌরবের বিনিময়ে এমনকি সেই স্বার্থ বিক্রয় অবধি করে দেয় (সপ্তম অংশ))। ঈশ্বরের বাক্য আমায় নাড়া দেয়। কর্তব্য পালন এমন এক দায়িত্ব ও বাধ্যবাধকতা যা সৃষ্ট সত্তা এড়িয়ে যেতে পারে না। বিশেষ করে এটি সত্য লাভের এবং স্বভাব পরিবর্তনের উপায়। কর্তব্য পালনে, মানুষের কলুষিত স্বভাব প্রকাশ করতে ঈশ্বর সব ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন, তারপর তাঁর বাক্যের বিচার ও উদ্ঘাটন এবং তাঁর অনুশাসনের মধ্যেমে, তিনি আমাদের কলুষিত স্বভাব বুঝতে ও পরিবর্তন করতে দেন, যাতে শয়তান আর আমাদের কলুষিত আর ক্ষতি করতে না পারে। এটাই ঈশ্বরের সদিচ্ছা। কর্তব্য পালনের বছরগুলোতে, ঈশ্বর সৃষ্ট পরিবেশের মধ্যে দিয়ে নিজের অনেক দুর্নীতি প্রকাশ করেছি। আমি আমার কলুষিত স্বভাবের খানিকটা উপলব্ধি অর্জন করি, নিজেকে ঘৃণা, অনুতাপ আর বদলাতে শুরু করি, এবং কিছুটা মানব সদৃশ হই। কর্তব্যে মধ্য দিয়ে এত কিছু পেয়েও, আমি কৃতজ্ঞ ছিলাম না। পরিবর্তে, কর্তব্যকে দর কষাকষির মুদ্রা বানিয়ে বিনিময়ে আশীর্বাদ পেতে আর দুর্যোগ এড়াতে চেয়েছি, ঈশ্বরের সঙ্গে প্রতারকের মতো আচরণ ও তাঁকে ব্যবহার করতে চেয়েছি। কী জঘন্য ছিলাম আমি! ঈশ্বর এত সত্য প্রকাশ করেছেন, সেসব সংরক্ষণ করিনি, শুধু ভেবেছি কীভাবে আশীর্বাদ পাওয়া যায়, রাজ্যে প্রবেশ করা যায়। সত্যিই মন্দ ছিলাম। প্রার্থনায় ঈশ্বরের কাছে শপথ করি যে আশীর্বাদের জন্য আর কর্তব্য পালন করব না, ঈশ্বরের ভালবাসার প্রতিদান দিতেই কর্তব্য পালনে সত্যকে অনুসরণ করব। ঈশ্বরের বাক্যের আরেকটি অনুচ্ছেদ পড়ছি যা আমাকে অনুশীলনের পথ দেখিয়েছিল। “ঈশ্বরের প্রতি তোমার বিশ্বাসে এবং সত্যের সাধনায় তুমি যদি একথা বলতে পারো, ‘ঈশ্বর আমার সাথে যে কোনোরকম অসুস্থতা বা অপ্রীতিকর ঘটনাই ঘটতে দিন না কেন—ঈশ্বর যাই করুন না কেন—আমি অবশ্যই তাঁকে মান্য করব এবং একজন সৃষ্ট সত্তা হিসাবে নিজের অবস্থানেই থাকবো। সমস্তকিছুর আগে, আমাকে সত্যের এই দিক, অর্থাৎ আনুগত্য, অনুশীলন করতে হবে, তা বাস্তবে প্রয়োগ করতে হবে, এবং ঈশ্বরের আনুগত্যের বাস্তবিকতায় জীবনযাপন করতে হবে। উপরন্তু, ঈশ্বর আমার উপর যে দায়িত্ব অর্পণ করেছেন এবং আমার যে দায়িত্ব পালন করা উচিত, সেগুলো আমি কিছুতেই পরিহার করবো না। এমনকি আমার শেষ নিঃশ্বাসেও আমাকে অবশ্যই আমার দায়িত্ব পালন করতে হবে,’—একথা বলতে পারাই কি সাক্ষ্য দেওয়া নয়? যখন তোমার এমন সংকল্প ও এইরকম অবস্থা থাকে, তুমি কি তখনও ঈশ্বরের বিষয়ে অভিযোগ করতে পারো? না, পারো না। এই রকম পরিস্থিতিতে, তুমি নিজেই ভাববে, ‘ঈশ্বর আমাকে এই শ্বাসপ্রশ্বাস প্রদান করেন, তিনিই আমাকে এত বছর ধরে সংস্থান যুগিয়েছেন ও সুরক্ষিত রেখেছেন, আমার কত যন্ত্রণাই তিনি গ্রহণ করেছেন, আমাকে কত অনুগ্রহ এবং কত সত্যই না প্রদান করেছেন। মানুষ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে যে সত্য ও যে রহস্য উপলব্ধি করতে পারেনি, আমি তা উপলব্ধি করতে পেরেছি। আমি ঈশ্বরের কাছ থেকে কত কিছুই না অর্জন করেছি, তাই আমাকে ঈশ্বরকে পরিশোধ করতেই হবে! আগে আমার আত্মিক উচ্চতা ছিল খুবই সামান্য, আমি কিছুই উপলব্ধি করিনি, এবং আমি যা করেছি তার সবই ছিল ঈশ্বরের কাছে বেদনাদায়ক। আমি হয়ত ভবিষ্যতে ঈশ্বরকে প্রতিদান দেওয়ার সুযোগ নাও পেতে পারি। আমার জীবনে বাঁচার আর যতটুকু সময়ই বাকি থাকুক, আমাকে অবশ্যই আমার যে সামান্য শক্তিটুকু আছে তা সমর্পণ করতে হবে এবং ঈশ্বরের জন্য যথাসাধ্য করতে হবে, যাতে ঈশ্বর দেখতে পারেন আমার জন্য এত বছরে তিনি যা প্রদান করেছেন তা নিষ্ফল হয়নি, বরং ফলপ্রসূ হয়েছে। আমি যেন ঈশ্বরকে স্বস্তি প্রদান করতে পারি, এবং আর যেন তাঁকে আঘাত না দিই বা হতাশ না করি।’ এইভাবে চিন্তা করলে কেমন হয়? নিজেকে কীভাবে বাঁচানো যায় বা পালানো যায় তা নিয়ে ভেবো না, ভেবো না যে ‘এই অসুখ কবে সারবে? সেরে গেলে আমি আমার দায়িত্বপালনে যথাসাধ্য করবো এবং নিবেদিত হব। আমি অসুস্থ থাকলে কীভাবে নিবেদিত হতে পারব? কীভাবে সৃষ্ট সত্তার দায়িত্ব পালন করতে পারবো?’ যতক্ষণ তোমার একটামাত্র শ্বাসও বাকি আছে, তুমি কি তোমার কর্তব্য পালনে সক্ষম নও? যতক্ষণ তোমার একটামাত্র শ্বাসও বাকি আছে, ততক্ষণ কি ঈশ্বরের জন্য লজ্জা বয়ে আনা থেকে বিরত থাকতে পারো? যতক্ষণ তোমার একটামাত্র শ্বাসও বাকি আছে, তোমার মন নির্মল রয়েছে, যতক্ষণ ততক্ষণ কি ঈশ্বরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা থেকে বিরত থাকতে পারো? (হ্যাঁ।) এখন ‘হ্যাঁ’ বলা সহজ, কিন্তু তোমার সাথে সত্যিই যখন এমন কিছু ঘটবে, তখন তা খুব একটা সহজ হবে না। আর তাই, তোমাকে অবশ্যই সত্যের অন্বেষণ করতে হবে, সত্যের বিষয়ে প্রায়শই কঠিন পরিশ্রম করতে হবে, এবং আরো বেশি সময় দিয়ে চিন্তা করতে হবে, ‘আমি কীভাবে ঈশ্বরের ইচ্ছা পূরণ করতে পারি? ঈশ্বরের ভালোবাসার প্রতিদান কীভাবে দিতে পারি? একজন সৃষ্ট সত্তার কর্তব্য কীভাবে পালন করতে পারি?’ সৃষ্ট সত্তা কী? সৃষ্ট সত্তার দায়িত্ব কি শুধু ঈশ্বরের বাক্য শ্রবণ করা? না—তা হলো ঈশ্বরের বাক্য জীবনে যাপন করা। ঈশ্বর তোমাকে প্রচুর সত্য প্রদান করেছেন, কত উপায় দিয়েছেন, প্রভূত পরিমাণ জীবন প্রদান করেছেন, যাতে তুমি এই সমস্ত বিষয় জীবনে যাপন করতে পারো এবং তাঁর সাক্ষ্য দিতে পারো। একজন সৃষ্ট সত্তার যা করা উচিত তা এটাই, এবং এটাই তোমার দায়িত্ব ও বাধ্যতা(বাক্য, খণ্ড ৩, অন্তিম সময়ের খ্রীষ্টের উপদেশ, কেবলমাত্র ঈশ্বরের বাক্যের বারংবার পাঠ ও সত্যের ধ্যানের মধ্যেই রয়েছে অগ্রগতির পথ)। ঈশ্বরের বাক্য আমার হৃদয় স্পর্শ করে। ঈশ্বর সৃষ্টিকর্তা প্রভু, আমি তাঁর সৃষ্ট সত্তা, আমার ভাগ্য তাঁরই হাতে। তিনি আমার উপর অসুস্থতা আসতে দিয়েছেন, তাই আমি বাঁচি বা মরি, তাঁর নিয়ম-ও ব্যবস্থাপনাতেই নিজকে সমর্পণ করা উচিত। এক সৃষ্ট সত্তার এই মৌলিক ধারণা থাকাটা উচিত। সৃষ্ট সত্তার অবশ্যই কর্তব্য পালন করা উচিত। প্রতিটা সময়, সে যাই কিছুই ঘটে যাক না কেন, শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত, নিজের কর্তব্য পালন করে যেতে হবে। এত বছর ঈশ্বরের ভালবাসা উপভোগ করেও, যেহেতু সত্যের অনুসরণ করিনি, সর্বদা তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে করে তাঁকে আঘাত দিয়েছি—আমি তাঁর কাছে ঋণী। যতদিন বেঁচে থাকব, ঈশ্বরের ভালবাসার প্রতিদান দিতে কর্তব্য পালন করে যাব। এরপর থেকে প্রতিদিন ভেবেছি, কী করে ভালোভাবে কর্তব্য পালন করে ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করব। আমার সহযোগী সিস্টার কর্তব্যে নবাগত ছিল, আর সুসমাচার প্রচারের অনেক নীতিই জানত না, ফলে অনেক সমস্যা দেখা দেয়। অনলাইনে থেকে তাকে সাহায্য করতাম। প্রায়ই নীরবে ঈশ্বরের বাক্য পড়তাম, তাঁর স্তুতিমূলক স্তোত্র গাইতাম। তখনো কাশি ও জ্বর ছিল, কিন্তু অসুস্থতার কারণে আর পিছিয়ে থাকিনি, মরে যাব কিনা সে নিয়ে আর চিন্তা করিনি। জানতাম আমার ভাগ্য ঈশ্বরের হাতে, কতদিন বাঁচব তা তাঁর নিয়মেই বাঁধা রয়েছে। যতদিন তিনি বাঁচাবেন ততদিন কর্তব্য পালনের মাধ্যমে তাঁর ভালবাসার প্রতিদান দেওয়ার চেষ্টা করব, নিজেকে সমর্পণ করব, এবং যতদিন বাঁচব কখনো কোনো অভিযোগ করব না।

একদিন সন্ধ্যায় কাশি থামছিলই না, গলা শ্লেষ্মায় ভরে গিয়েছিল, প্রচণ্ড জ্বরও ছিল, সারা শরীরে ভীষণ ব্যথা। বিছানায় শুয়ে, অস্থিরভাবে এপাশ-ওপাশ করছিলাম, ঘুমোতে পারছিলাম না। ভাবলাম, “আমি কি তবে মারা যাচ্ছি? একবার ঘুমিয়ে পড়লে, আর কি কখনো জেগে উঠব?” মৃত্যুর চিন্তা আমাকে অস্থির করে তোলে, আর কখনো হয়তো ঈশ্বরের বাক্য পড়তে পারব না, এই চিন্তায় আমি কাঁদতে থাকি। ‍উঠে বসে, কম্পিউটার অন করে, ঈশ্বরের বাক্যের এই অনুচ্ছেদ পড়ি: “প্রত্যেকের জীবনকালই ঈশ্বরের পূর্বনির্ধারিত। কোনো অসুস্থতা চিকিৎসাগতভাবে প্রাণঘাতী মনে হতে পারে, কিন্তু ঈশ্বরের দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে, যদি তোমার জীবনকে এখনো এগিয়ে যেতেই হয় এবং তোমার অন্তিম সময় যদি না এসে থাকে, তাহলে তুমি মরতে পারবে না, এমনকি নিজে চাইলেও পারবে না। যদি ঈশ্বর তোমাকে কোনো দায়িত্ব অর্পণ করে থাকেন এবং তোমার অভীষ্ট সিদ্ধ না হয়ে থাকে, তাহলে তুমি এমনকি কোনো প্রাণঘাতী রোগেও মারা যাবে না—ঈশ্বর তখনও পর্যন্ত তোমাকে গ্রহণ করবেন না। এমনকি যদি তুমি প্রার্থনা না করো ও সত্যের অন্বেষণ না করো, অথবা তোমার অসুস্থতা নিরাময়ের চেষ্টা না করো, এমনকি চিকিৎসা বন্ধও করে দাও, তাহলেও তুমি মারা যাবে না। এটা বিশেষ করে তাদের জন্য সত্যি যারা ঈশ্বরের কাছ থেকে কোনো দায়িত্ব লাভ করেছে: তাদের অভীষ্ট যদি সম্পূর্ণ না হয়ে থাকে, তাহলে তাদের যে রোগই হোক না কেন, তারা তখনই মারা যাবে না, সেই অভীষ্ট সম্পূর্ণ হওয়ার চূড়ান্ত মুহূর্ত পর্যন্ত তাদের অবশ্যই বেঁচে থাকতে হবে। তোমার কি এতে বিশ্বাস আছে? … আসল ঘটনা হল, তুমি নিজের অসুস্থতা নিরাময়ের জন্য এবং নিজেকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচানোর জন্যই দরকষাকষি করে থাকো, অথবা তোমার অন্য কোনো উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য থাকুক, ঈশ্বরের দৃষ্টিকোণ থেকে, যদি তুমি তোমার কর্তব্য পূরণে সক্ষম হও এবং তখনও ব্যবহারযোগ্য থাকো, যদি ঈশ্বর সিদ্ধান্ত নেন যে তোমাকে ব্যবহার করবেন, তাহলে তুমি মারা যাবে না। এমনকি তুমি নিজে চাইলেও মরতে পারবে না। কিন্তু যদি তুমি সমস্যা সৃষ্টি করো, সমস্ত রকমের মন্দ কাজ করো এবং ঈশ্বরের স্বভাবকে ক্ষুব্ধ করো, তাহলে তুমি দ্রুত মারা যাবে; তোমার আয়ু সংক্ষিপ্ত করা হবে। পৃথিবী সৃষ্টির আগেই ঈশ্বর প্রত্যেকের আয়ুষ্কাল নির্ধারিত করে রেখেছেন। যদি তারা ঈশ্বরের আয়োজন ও সমন্বয়সাধন মান্য করতে পারে, তাহলে তারা অসুস্থতা ভোগ করুক বা না করুক, অথবা তাদের স্বাস্থ্য ভালো বা খারাপ যাই হোক, ঈশ্বর যত বছর তাদের আয়ু নির্ধারণ করেছেন তারা ততদিনই বেঁচে থাকবে। তোমার কি এতে বিশ্বাস আছে?(বাক্য, খণ্ড ৩, অন্তিম সময়ের খ্রীষ্টের উপদেশ, তৃতীয় অংশ)। ঈশ্বরের বাক্য পড়ে, তাঁর ভালোবাসা ও করুণা অনুভব করে, আমার হৃদয় ভরে যায়। আমি ঈশ্বরের ইচ্ছা আরেকটু বুঝতে পারি। আমার অন্তিম সময়ে জন্মগ্রহণ, ঈশ্বরে বিশ্বাস স্থাপন ও কর্তব্য পালন ঈশ্বর নির্ধারিত ছিল এবং এই দায়িত্বই ঈশ্বর আমাকে দিয়েছেন। যদি আমার কার্য সমাধা হতো, তাহলে রোগ নাহলেও আমাকে মরতে হতো। নইলে, মারণব্যাধি হলেও আমি মরব না। জানতাম না আগামী দিনে কী হতে চলেছে, তবে জানতাম ঈশ্বরের হাতে সমর্পণ করে তার ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করা উচিত। যে কোন সময় মরতে পারি ভেবে, অন্তর থেকে ঈশ্বরের সাথে কথা বলতে চাইলাম। নতজানু হয়ে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করলাম, “হে ঈশ্বর! আমাকে আপনার গৃহে আসার জন্য নির্বাচন এবং আপনার কণ্ঠ শুনতে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। আপনার অসংখ্য বাক্যের সিঞ্চন ও পুষ্টি লাভ করেছি। আমি অনেক সত্য শিখেছি, মানুষ হয়ে ওঠার নীতিগুলি জেনেছি। জানি, আমার জীবন বৃথা যায়নি। কিন্তু আমি গভীর ভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত, সবসময় আপনার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছি। ঠিকমতো সত্য অনুসরণ করিনি বা আপনার ভালবাসার প্রতিদান দিতে সততার সঙ্গে কর্তব্য পালন করিনি। আপনাকে কখনোই বিন্দুমাত্র স্বাচ্ছন্দ্য দিইনি। আপনার কাছে অনেক ঋণী। জানি না আপনার ভালোবাসার এই ঋণ শোধ করার আর সুযোগ পাবো কিনা। যদি বেঁচে থাকি, প্রকৃতই সত্য অনুসরণ ও কর্তব্য পালন করে আপনাকে সন্তুষ্ট করব…।”

সেই রাতে কখন যেন ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। পরদিন সকালে উঠতেই, একদম সুস্থ বোধ করি, যেন কখনোই অসুস্থ হইনি। গলা ঠিকঠাক, কোনো বাড়তি শ্লেষ্মা নেই। দ্রুত গিয়ে শরীরের তাপমাত্রা মাপি, দেখি একদম স্বাভাবিক। আবেগে ভেসে যাই হই, বুঝি এটা আমার জন্য ঈশ্বরের করুণা ও সুরক্ষা। যদিও করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে অনেক বিদ্রোহ ও প্রতিরোধ দেখিয়েছিলাম, কিন্তু ঈশ্বর আমার অধর্ম উপেক্ষা করে, আমার যত্ন নিয়ে গেছেন। চোখের জল ধরে রাখতে পারিনি, ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাই ও তাঁর স্তুতি করি।

দু মাস কেটে গেল। এই পুরো সময়টা আমার তাপমাত্রা একদম স্বাভাবিক ছিল। ভাইরাস ফিরে আসেনি, কিছু বুঝে ওঠার আগেই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যাই। এই মহামারীতে বহু মানুষ মারা গেছে, আমি বেঁচে গেছি ঈশ্বরের শুধুমাত্র চমকপ্রদ যত্ন এবং পরিত্রাণের কল্যাণে। ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়াটা আমার বিশ্বাস ও কর্তব্যের উদ্দেশ্য ও অশুদ্ধিগুলো উন্মোচিত করেছিল, আশীর্বাদের জন্য ঈশ্বরের সঙ্গে চুক্তি করার যে জঘন্য উদ্দেশ্য আমার ছিল তা দেখিয়েছিল, এরপর আমার নিজের উপর বিতৃষ্ণা এসেছিল। সেইসঙ্গে, কিছুটা ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা লাভের মাধ্যমে আমি ঈশ্বরের পবিত্র ধার্মিক স্বভাব বুঝতে পারি, আর ঈশ্বরের নিয়ম ও ব্যবস্থাপনার ব কাছে নিজেকে সমর্পণ করি। এই প্রক্রিয়ায় আমি কিছুটা পরিমার্জনা ও যন্ত্রণা পেলেও, এত কিছু অর্জন করেছি যা আরামদায়ক অবস্থায় থেকে অর্জন করা যায় না যখনই ভাবি এই অভিজ্ঞতা থেকে কী শিখেছি, মন ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও স্তুতিতে পূর্ণ হয়ে যায়। আমি ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞ!

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।

সম্পর্কিত তথ্য

মিথ্যা বলার যন্ত্রণা

২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে, আমি অন্তিম সময়ে সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কাজ মেনে নিই। সমাবেশগুলিতে আমি দেখেছি যে ব্রাদার ও সিস্টাররা তাদের...

ভূমিকম্পের পর

সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের অন্তিম সময়ের কাজকে আমি ২০১৯ সালে স্বীকার করেছি। এবং তারপরে, আমি সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের অনেক বাক্য পাঠ করেছি। এগুলি এতই...

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন