খ্রীষ্টবিরোধী স্বভাব সম্পর্কে আমার সামান্য জ্ঞান

02-08-2023

আমি ২০২১ সালে গির্জার নেতা নির্বাচিত হলাম। কিছুকাল যাবৎ সিঞ্চনের কাজে আমার সমস্যা হচ্ছিল। কিছু জলদানকারী নিয়মিত সমাবেশে আসছিল না, আর এলেও নামমাত্রই আলোচনা করছিল। বুঝতে পারছিলাম না সমস্যার সমাধান করব কীভাবে, তাই এক নেতা সিস্টার লুসিকে সমস্যাটার কথা বলি। একদিন সে আমাদের সমাবেশ-দলে প্রচারক ব্রাদার ম্যাথিউকে যোগ করল। জানতাম সে আমার চেয়ে সত্য ভালো বোঝে, আর আগেও সে আমার কাজে সাহায্য করেছিল। কিন্তু তাকে আমাদের দলে যোগ দিতে দেখে খুব একটা খুশি হলাম না। প্রথমেই ভাবলাম সে আমার কাজের তদারকি করতে আসছে কি না। ভাবলাম, সে আমার সমস্যাগুলো অনাবৃত করলে, আমি মান হারাতে পারি। অন্যরা নেতা হিসাবে আমার কদর করবে না। তাই চাইনি সে আমার কাজের তদারকি করুক। পরে লক্ষ করলাম, সিস্টার লুসি ব্রাদার ম্যাথিউকে গির্জার আরও কিছু মুখ্য দলে যুক্ত করেছে, অন্যরা তাকে স্বাগতও জানিয়েয়েছে। তা আমাকে আরও বেশি বিব্রত করল। ভাবলাম, সে সম্ভবত আমারই জায়গা নিতে আসছে।

সেই সন্ধ্যায় ব্রাদার ম্যাথিউ নতুন বিশ্বাসীদের জন্য এক সমাবেশে যোগ দিল। তারা তার আলোচনা মন দিয়ে শুনে তার সাথে আগ্রহের সাথে কথাবার্তা বলল, কিন্তু আমার আলোচনার প্রতি তাদের উদাসীন মনে হল। আর কিছু বলতে চাইনি। ম্যাথিউকে ঈর্ষা করছিলাম। মনে হচ্ছিল, সে থাকলে কারোর আর আমাকে দরকার হবে না। ম্যাথিউর আলোচনা শুনে সবাই খুব খুশি হল। তারা ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাতে লাগল। কেউ কেউ এমনও বলল, তাদের আগে কখনো সমাবেশে এত আলোকিত লাগেনি, তার আলোচনা শুনে অনেককিছু অর্জন করেছে। ব্রাদার-সিস্টারদের কথায় রেগে গেলাম, মনে হল, আমার উপস্থিতিকে উপেক্ষা করা হচ্ছে, যেন তাদের সাথে কোনো আলোচনাই করিনি। অপমানিত বোধ করলাম। ব্রাদার-সিস্টারদের উপর বিরক্ত হলাম, মনে হল তারা যেন আমার আলোচনা করা সবকিছুই ভুলে গেছে। আলোচনার শেষে, ম্যাথিউ কিছু বিষয়ের সারসংক্ষেপ করে দেয়। কিছু বলতে চাইনি। সবাই যে তার প্রশংসা করছে তা শুনতেও চাইনি। তাড়াতাড়ি সমাবেশ শেষ করে বেরিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। ঠিক তখনই, ম্যাথিউ আমাকে জিজ্ঞাসা করল যে সমাবেশ সম্পর্কে আমার কী মনে হয়। আলোচনায় অংশ নিতে চাইনি। তাই ভাসাভাসা কিছু বললাম। তারপর ম্যাথিউ তার দেখা কিছু বিষয়ে কথা বলল। বলল যে আমার আলোচনা ছিল দীর্ঘসূত্রী ও অস্পষ্ট, অন্যরা তা বুঝতে পারেনি বা সাড়া দেয়নি, আর তা ফলপ্রসূ নয়। তাকে এমন বলতে শুনে প্রতিবাদ জেগে উঠল। সে আমার সমস্যাগুলো দেখিয়ে দিচ্ছে কেন? নিশ্চয় আমাকে টার্গেট করতেই এসেছে। আমাকে বরখাস্ত করতে চাইলে তা সরাসরি বললেই পারে। ম্যাথিউর প্রতি বিরূপ হলাম।

পরে, সে সমাবেশে নতুন বিশ্বাসীদের সমস্যাগুলোর সাথে সম্পৃক্ত ঈশ্বরের কিছু বাক্য খুঁজে দেখার পরামর্শ দিল। আমাদের আলোচনায় আরও নমনীয়তা আনা যায়, উদাহরণ বা কিছু উপাখ্যান দিয়ে বোঝানো যায়, যাতে ঈশ্বরের বাক্য তারা বুঝতে পারে। এইভাবে আলোচনা করাকে অতিমাত্রায় বিশদে যাওয়া ভেবে, একমত হইনি। কিন্তু অন্য সবার তার পরামর্শ বেশ পছন্দ হল। সন্ধ্যায়, আমরা আরেকটা সমাবেশের সহ-সভাপতিত্ব করলাম, ভাবছিলাম ম্যাথিউ আমাকে হয়তো আবার কথা শোনাবে। ভাবলাম, তার আলোচনার সমস্ত সমস্যাগুলো টুকে রাখব, আর সমাবেশ শেষ হওয়ার সময় সেগুলো বলব। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে, নতুন বিশ্বাসীদের এরপকম সমাবেশ পছন্দ হল। উদাহরণের মাধ্যমে আলোচনা তাদের ঈশ্বরের বাক্যের আরও ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করল। তা বেশ ফলপ্রসূই ছিল। কোনো দোষ খুঁজে পাইনি। কিন্তু উপস্থিতদের ম্যাথিউ কিছু প্রশ্ন করলে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ সাড়া না দেওয়ায় অস্বস্তিকর মুহূর্ত তৈরি হল। আমি বেশ খুশি হলাম। মনে হল, অবশেষে তার সমস্যাটা খুঁজে পেয়েছি। তার সমালোচনা করবো বলে তার এই ঘাটতিটা টুকে করে রাখলাম। আমার আলোচনার সময় এলে, যথাসাধ্য চেষ্টা করলাম যা বুঝেছি তার মূল বিন্দুগুলো বলতে, যথাসাধ্য চেষ্টা করলাম ব্রাদার ম্যাথিউকে ছাপিয়ে যেতে, অন্যদের সমাদর আদায় করতে। কিন্তু বুঝে ওঠার আগেই অন্য বিষয়ে আলোচনা করতে লাগলাম। ভেবেছিলাম সেটাও সত্যিই জরুরি, তাদের বোঝা দরকার। তাই বলে গেলাম। সমাবেশের শেষে, ব্রাদার ম্যাথিউ আবারও আমার সমস্যাগুলো অনাবৃত করল, বলল, আলোচনা বিষয়বস্তুর বাইরে চলে গিয়েছিল। এর ফলে সবার পক্ষে সেদিনের সমাবেশের মূল বিষয়টা বোঝা আরো কঠিন হয়েছিল। সমাবেশের বিষয়বস্তুকে গুরুত্ব দিয়ে চিন্তাভাবনা করার কথাও মনে করিয়ে দিল সে আমায়। একজন সিস্টারও বলল যে আমার আলোচনা খুব লম্বা ছিল, সে মূল বিষয়টা ধরতেই পারেনি। এসব শুনে খুব দুঃখ হল। না কেঁদে থাকতে পারলাম না। শুধু ভাবলাম, কেন সে বারবার আমার ভুলের কথা বলছে? এরপর আমাকে নিয়ে অন্যরা কী ভাববে? আমায় কি তবুও সম্মান করবে? তখন ব্রাদার ম্যাথিউর উপর খুব রাগ হল। মনে হল, সে ইচ্ছা করেই আমার জন্য সবকিছু কঠিন করে তুলছে, চাইছে সবাই আমার ত্রুটিগুলো দেখুক। চাইছিলাম যেন সে চলে যায়, যেন সে আর আমাদের সমাবেশে যোগ না দেয়। তবে কিছুটা সচেতনতা ছিল, যে এটা ঠিক হচ্ছে না। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করলাম, “সর্বশক্তিমান ঈশ্বর, জানি এসব থেকে আমাকে শিক্ষা নিতে হবে, কিন্তু ব্রাদার ম্যাথিউর প্রতি খুব রাগ হচ্ছে। তার পরামর্শ মেনে নেওয়া কঠিন। এই পরিস্থিতিকে কীভাবে বোঝা উচিত? ঈশ্বর, দয়া করে আমাকে শান্ত রাখুন, নিজেকে জানার আর আপনাকে ক্ষুব্ধ না করার পথ দেখান।”

পরের দিন, সমস্যা সমাধানের জন্য ঈশ্বরের বাক্য খুঁজলাম। কিছু অনুচ্ছেদ পড়ছি। “কেউ কেউ আছে যারা সবসময় ভয় পায় যে অন্যরা তাদের চেয়ে ভাল এবং তাদের চেয়ে উচ্চতর, যে অন্যরা সম্মানিত হবে আর তারা অবহেলিত অবস্থায় থাকবে। এটি তাদের অন্যদের আক্রমণ এবং বর্জন করার দিকে চালনা করে। এটা কি নিজেদের চেয়ে বেশি সক্ষম মানুষের প্রতি ঈর্ষান্বিত হওয়ার ঘটনা নয়? এ ধরনের আচরণ কি স্বার্থপর ও ঘৃণ্য নয়? এটা কেমনতর স্বভাব? এ তো বিদ্বেষপূর্ণ! শুধুমাত্র নিজের স্বার্থের কথাই চিন্তা করা, শুধুমাত্র নিজের ইচ্ছাকেই সন্তুষ্ট করা, অন্যের জন্য বা ঈশ্বরের গৃহের স্বার্থের প্রতি কোনো বিবেচনা না করা—এই ধরনের লোকেদের স্বভাব খারাপ হয়, এবং তাদের প্রতি ঈশ্বরের কোন স্নেহ নেই(বাক্য, খণ্ড ৩, অন্তিম সময়ের খ্রীষ্টের উপদেশ, কেবলমাত্র ভ্রষ্ট স্বভাব পরিহার করলে তবেই স্বাধীনতা ও মুক্তি অর্জন করা যেতে পারে)। “যে সমস্তকিছুতে সুনাম, মর্যাদা জড়িত থাকে, বা যা তাদের সকলের সামনে তুলে ধরতে পারে—সেগুলির ক্ষেত্রে, উদাহরণস্বরূপ, যখন লোকেদের কানে আসে যে ঈশ্বরের গৃহ বিভিন্ন রকমের প্রতিভা প্রতিপালনের পরিকল্পনা করছে—তখন প্রত্যেকের চিত্ত উত্তেজনায় চঞ্চল হয়ে ওঠে, এবং তোমাদের মধ্যে প্রত্যেকেই সর্বদা প্রসিদ্ধ ও বিখ্যাত হয়ে উঠতে চাও। প্রত্যেকেই খ্যাতি ও মর্যাদার জন্য সমরে অবতীর্ণ করতে চায়; যদিও তারা এই বিষয়ে লজ্জিত বোধ করে, তবু, এমনটা না করলে, তাদের খারাপ লাগে। কাউকে আলাদা হয়ে উঠতে দেখলে, তারা ঈর্ষা ও ঘৃণা অনুভব করে, বিদ্বেষপরায়ণ হয়ে পড়ে, এবং মনে করে যে, তা অন্যায়, তারা ভাবে যে, ‘আমি কেন সকলের চেয়ে আলাদা হয়ে দাঁড়াতে পারি না? কেন অন্য লোকেরা সবসময় প্রসিদ্ধি পায়? কেন আমার পালা কখনো আসে না?’ এবং বিদ্বেষপরায়ণ অনুভব করার পর, তারা তা দমন করার চেষ্টা করে, কিন্তু পারে না। তারা ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে এবং কিছুক্ষণের জন্য ভালো বোধ করলেও, আবার এই ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে, তখনও তারা তা অতিক্রম করতে পারে না। তা কি অপরিণত আত্মিক উচ্চতা দর্শায় না? যখন মানুষজন এহেন পরিস্থিতিতে নিমজ্জিত থাকে, তখন কি তারা শয়তানের ফাঁদে পড়ে যায় নি? এসব হল শয়তানের ভ্রষ্ট প্রকৃতির শৃঙ্খল, যা মানুষকে আবদ্ধ করে রাখে। যদি কেউ এইসব ভ্রষ্ট স্বভাব পরিহার করে থাকে, তাহলে সে কি মুক্ত ও স্বাধীন হয়ে ওঠেনি? বিষয়টা চিন্তা করো: খ্যাতি ও মুনাফা লাভের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতার অবস্থায় উপনীত হওয়া এড়াতে—এই ভ্রষ্ট অবস্থা থেকে নিজেকে মুক্ত করতে, নিজেকে মর্যাদা ও খ্যাতির চাপ এবং শিকল থেকে মুক্তি দিতে—কোন সত্যগুলো তোমাকে অবশ্যই উপলব্ধি করতে হবে? স্বাধীনতা ও মুক্তি লাভের জন্য তোমাকে সত্যের কোন কোন বাস্তবিকতার অধিকারী অবশ্যই হতে হবে? প্রথমত, তোমাকে অবশ্যই বুঝতে হবে যে মানুষকে ভ্রষ্ট করার জন্য, ফাঁদে ফেলার জন্য, নিপীড়নের জন্য, তাদের অধঃপতিত করে পাপে নিমজ্জিত করার জন্য, শয়তান মর্যাদা ও খ্যাতিকে ব্যবহার করে; এছাড়াও বুঝতে হবে, শুধুমাত্র সত্যকে গ্রহণ করার মাধ্যমেই মানুষ মর্যাদা ও খ্যাতি পরিত্যাগ করতে পারে। … তোমাকে অবশ্যই শিখতে হবে এই বিষয়সকল পরিত্যাগ করতে, একপাশে সরিয়ে রাখতে, শিখতে হবে অন্যদেরকে সুপারিশ করা, এবং তাদেরকে আলাদা হয়ে উঠতে দেওয়ার বিষয়ে। তুমি আলাদা হয়ে ওঠার বা গৌরব অর্জন করার সুযোগ পেলেই তৎক্ষণাৎ সেই সুবিধাটি নেওয়ার জন্য সংগ্রামরত বা ব্যতিব্যস্ত হয়ো না। তোমাকে অবশ্যই সেই বিষয়সকল একপাশে সরিয়ে রাখতে সক্ষম হতে হবে, কিন্তু অবশ্যই দায়িত্ব পালনে বিলম্ব করলেও চলবে না। এমন একজন ব্যক্তি হও, যে প্রশান্ত ও প্রচ্ছন্নভাবে কাজ করে, এবং যে বিশ্বস্তভাবে নিজের দায়িত্ব পালনের সময় অন্যদের কাছে সেটা জাহির করে না। তুমি যত বেশি তোমার সম্মান ও মর্যাদাকে ত্যাগ করবে এবং নিজের স্বার্থকে যত বেশি পরিহার করবে, তুমি ততই বেশি শান্তিপূর্ণ হয়ে উঠবে, তোমার হৃদয়ে ততই বেশি আলো থাকবে, এবং তোমার অবস্থাও ততই বেশি উন্নত হবে। তুমি যত বেশি সংগ্রাম এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, তোমার অবস্থাও তত অন্ধকার হবে। বিশ্বাস না হলে নিজেই চেষ্টা করে দেখো! তুমি যদি এইরকমের ভ্রষ্ট অবস্থার পরিবর্তন করতে চাও, এই বিষয়গুলোর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত না হতে চাও, তাহলে তোমাকে অবশ্যই সত্য অন্বেষণ করতে হবে, এই সমস্ত বিষয়গুলোর সারমর্ম পরিষ্কারভাবে উপলব্ধি করতে হবে, এবং তারপর এগুলোকে সরিয়ে রাখতে হবে, পরিত্যাগ করতে হবে। অন্যথায়, তুমি যত সংগ্রাম করবে ততই অন্ধকার তোমায় ঘিরে ধরবে, এবং তুমি ততই ঈর্ষা ও ঘৃণা অনুভব করবে, আর তোমার অর্জন করার আকাঙ্ক্ষাই শুধু শক্তিশালী হয়ে উঠবে। অর্জনের আকাঙ্ক্ষা তোমার যত বেশি হবে, অর্জনের ক্ষমতা ততই কম হতে থাকবে, আর যেহেতু তুমি অর্জন করতে পারবে না, তাই তোমার ঘৃণাও বৃদ্ধি পাবে। যত তোমার ঘৃণা বৃদ্ধি পাবে, তুমি অন্তর থেকে ততই অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে উঠবে। তোমার অন্তর যত অন্ধকারাচ্ছন্ন হবে, তুমি ততই নিকৃষ্টভাবে দায়িত্ব পালন করবে, আর তুমি যতই নিকৃষ্টভাবে দায়িত্ব পালন করবে, ঈশ্বরের গৃহে তোমার উপযোগিতা ততই কম হতে থাকবে। এটা পরস্পরের সাথে সংযুক্ত একটা দুষ্ট চক্র। তুমি যদি কখনোই নিজের দায়িত্ব ভালোভাবে সম্পাদন করতে না পারো, তাহলে ধীরে ধীরে, তোমাকে বহিষ্কার করা হবে(বাক্য, খণ্ড ৩, অন্তিম সময়ের খ্রীষ্টের উপদেশ, কেবলমাত্র ভ্রষ্ট স্বভাব পরিহার করলে তবেই স্বাধীনতা ও মুক্তি অর্জন করা যেতে পারে)। ঈশ্বরের বাক্য ঈর্ষাতুর আচরণের স্পষ্ট বর্ণনা দিয়েছে। লোকেরা তাদের চেয়ে ভালো যে কারও প্রতি ঈর্ষান্বিত ও দ্বন্দ্বপরায়ণ। এ হল শয়তানোচিত স্বভাব। আমি তেমনই ছিলাম। খুবই ঈর্ষাকাতর। অন্যদের সবসময় ব্রাদার ম্যাথিউর আলোচনা আর পরামর্শের কদর করতে দেখে, প্রতিযোগিতা করতে চেয়েছিলাম। তা আমায় খারাপ অবস্থায় ফেলে এমন অন্ধকারে ছেড়ে রেখে যায়। ব্রাদার ম্যাথিউ আসার আগে সবসময় সমাবেশগুলোর সভাপতিত্ব করতাম। জলদানকারীদের সমস্যা হলে আমায় জিজ্ঞাসা করত, সবাই আমার তারিফ করত। সমাবেশের আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে তারা প্রায়শই আমার পরামর্শ নিত। নিজেদের সমস্যা সমাধানে সাহায্য পেতে আমার আলোচনার অপেক্ষায় থাকত। কিন্তু পরে, আমার আলোচনা তাদের সমস্যার সমাধান করছিল না, তাই নবাগতদের সিঞ্চনে তাদের উন্নতি হচ্ছিল না। তারা নেতিবাচক হয়ে পড়ে, সমাবেশে কথা বলতে চায় না। ব্রাদার ম্যাথিউ এসে, তাদের সিঞ্চনকার্যের প্রকৃত দিকনির্দেশ দেয়। সে তাদের অনুশীলনের পথ দেখায়। তা থেকে তারা বাস্তবিক সাহায্য পায়। সবাই তার থেকে আলোচনা শুনতে চাইত। এতে আমার খুশি হওয়াই উচিত ছিল। নিজের সমস্যা আর ত্রুটি-বিচ্যুতি নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে পারতাম। কিন্তু তার পরিবর্তে, আত্মচিন্তন না করে মর্যাদার জন্য লড়াই করে যাই। স্পষ্টতই আমার অনেক ঘাটতি ছিল, ব্যবহারিক কাজ করতে পারছিলাম না। কিন্তু অপরের দ্বারা সিঞ্চিত হতেও চাইনি। একাই গির্জার নেতা হতে চাইছিলাম, যাতে সবাই আমার মুখাপেক্ষী হয়ে থাকবে, আমার কথা শুনবে। শুধু নিজের নামযশের দিকেই মন ছিল, গির্জার কাজের প্রতি নয়। সেই পরিস্থিতিটা আমার মর্যাদার আকাঙ্ক্ষা আর দুর্নীতিকে আদ্যন্ত অনাবৃত করল। ঈশ্বরকে প্রার্থনায় বললাম আমায় আলোকিত করতে, যাতে আমি আত্মচিন্তন করি।

আশ্চর্যজনকভাবে, তিন মাস পরে আবার অনুরূপ কিছু ঘটে। এক কর্মসভায়, ব্রাদার ম্যাথিউ আমাকে জিজ্ঞাসা করে গির্জার নতুন সদস্যরা কেমন করছে। আমি বেশ রেগে গেলাম। ভাবলাম, সে তো প্রচারক, তাহলে কি তার প্রত্যেক গির্জার পরিস্থিতির জানা উচিত না? তাহলে জিজ্ঞাসা করল কেন? আর এত লোকের সামনে প্রশ্নটা করে, সে কি আমাকে হেয় করছে না, যাতে স্বীকার করি যে সিঞ্চনের কাজ ভালোভাবে করতে পারিনি? চটজলদি রাগের সাথে উত্তর দিলাম, বিশদে না গিয়েই। নিজের সংগ্রামেগুলো উল্লেখ করলাম, তাকে জিজ্ঞাসা করলাম কী করণীয়। কিন্তু বলামাত্র অনুতাপ হল। ব্রাদার ম্যাথিউর কাজ কঠিন করার চেষ্টা করছিলাম, যা লজ্জাজনক। ভাবলাম: সে আমার ত্রুটিগুলো অন্যদের সামনে অনাবৃত করাকালীন কেন নিজেকে সামলাতে পারি নি? কেন-ই বা বিরক্তি বোধ করছিলাম, আর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য তার আলোচনার ত্রুটিগুলো টুকে রাখছিলাম? জানতাম এই অবস্থায় থাকাটা বিপজ্জনক। কিন্তু বুঝতেই পারছিলাম না কেন ব্রাদার ম্যাথিউর প্রতি এত রেগে ছিলাম। এক সন্ধ্যায়, একটা সাক্ষ্যমূলক বিবৃতি পড়লাম। সেটার নাম ছিল “প্রকাশ্যে সমালোচিত হওয়া আমার মুখোশ খুলে দিল।” সেখানে উদ্ধৃত কিছু ঈশ্বরের বাক্য থেকে আরও উপলব্ধি পেলাম। সর্বশক্তিমান ঈশ্বর বলেছেন, “একজন খ্রীষ্টবিরোধী যখন একজন ভিন্নমত পোষণকারীকে আক্রমণ করে ও বর্জন করে, তার পিছনে তাদের মূল উদ্দেশ্য কী? তারা গির্জার মধ্যে এমন একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায় যেখানে তাদের বিপরীত কোন কণ্ঠস্বর নেই, যেখানে তাদের ক্ষমতা, তাদের নেতৃত্বের মর্যাদা এবং তাদের কথাই হলো নিরঙ্কুশ। সকলকেই সেসমস্ত মনোযোগ সহকারে লক্ষ্য করতে হবে, তাদের মতের পার্থক্য থাকলেও তা কিছুতেই প্রকাশ করা যাবে না, নিজেদের অন্তরেই তাকে পচতে দিতে হবে। প্রকাশ্যে কেউ তাদের বিরোধিতা করার সাহস করলেই সে হয়ে উঠবে খ্রীষ্টবিরোধীর শত্রু, এবং তারা তাদের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করার সবরকম উপায় চিন্তা করবে, চাইবে তারা যাতে যত শীঘ্র সম্ভব উধাও হয়ে যায়। খ্রীষ্টবিরোধীদের নিজেদের পদমর্যাদা মজবুত করার ও নিজেদের ক্ষমতা সুরক্ষিত করার লক্ষ্যে একজন ভিন্নমত পোষণকারীকে আক্রমণ ও বর্জন করার উপায়গুলোর মধ্যে এটা একটা। তারা ভাবে, ‘তোমার ভিন্ন মত থাকতেই পারে, কিন্তু তুমি তোমার ইচ্ছামত সেসব বিষয়ে প্রকাশ্যে কথাবার্তা বলতে পারবে না, আমার ক্ষমতা ও পদমর্যাদার সঙ্গে আপস করা তো আরও দূরের কথা। তোমার যদি কিছু বলার থাকে, তুমি তা আমার কাছে একান্তে বলতে পারো। তুমি যদি সেকথা সকলের সামনে বলো আর তার জন্য যদি আমাকে অপ্রস্তুত হতে হয়, তাহলে তুমি তিরস্কৃত হতে চাইছ, এবং আমাকে তাহলে তোমার সঙ্গে বুঝে নিতে হবে।’ এ কী ধরনের স্বভাব? খ্রীষ্টবিরোধীরা অন্যকে স্বাধীনভাবে কথা বলার অনুমতি দেয় না। খ্রীষ্টবিরোধীদের সম্পর্কে কিংবা অন্য যে কোনো বিষয়ে তাদের যদি কোনো মতামত থাকে; তাদের তা গোপন রাখতে হবে; তাদের বিবেচনা করতে হবে খ্রীষ্টবিরোধীর সম্মানের কথা। তা না হলে, খ্রীষ্টবিরোধী তাদের শত্রু বলে চিহ্নিত করবে, এবং তাদের আক্রমণ ও বর্জন করবে। এ কী ধরনের প্রকৃতি? এ হলো একজন খ্রীষ্টবিরোধীর প্রকৃতি। এবং তারা এরকম কেন করে? তারা গির্জাকে কোনো বিকল্প কন্ঠস্বর রাখতে দেয় না, তারা চায় না যে গির্জায় কোনো ভিন্নমত পোষণকারী থাকুক, তারা ঈশ্বরের মনোনীত ব্যক্তিদের প্রকাশ্যে সত্য আলোচনা করার ও মানুষকে চিহ্নিত করার অনুমতি দেয় না। তাদের সবচেয়ে বড় আতঙ্ক হলো অনাবৃত হওয়ার ও মানুষের দ্বারা চিহ্নিত হয়ে পড়ার; তারা ক্রমাগত তাদের ক্ষমতা এবং মানুষের হৃদয়ে তাদের অবস্থানকে সুসংহত করার চেষ্টা করছে, যা তারা মনে করে কখনই দুর্বল হতে দেওয়া যাবে না। তারা এমন কিছু সহ্য করতে পারে না যা তাদের গর্ব, খ্যাতি, বা নেতা হিসাবে মর্যাদা এবং মূল্যকে বিপন্ন করে তোলে বা প্রভাবিত করে। এটা কি খ্রীষ্টবিরোধীদের বিদ্বেষপূর্ণ প্রকৃতির প্রকাশ নয়? তারা ইতিমধ্যেই যে ক্ষমতার অধিকারী তা নিয়ে সন্তুষ্ট না হয়ে তারা তা একত্রিত ও সুরক্ষিত করে এবং চিরন্তন আধিপত্য বিস্তার করতে চায়। তারা শুধু অন্যের আচরণই নয়, তাদের হৃদয়ও নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। খ্রীষ্টবিরোধীদের কার্যপ্রণালীর সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য হল নিজেদের ক্ষমতা ও অবস্থান রক্ষা করা, এটা সম্পূর্ণভাবেই তাদের ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখার বাসনার ফল(বাক্য, খণ্ড ৪, খ্রীষ্টবিরোধীদের উন্মোচন, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তারা ভিন্নমতাবলম্বীদের আক্রমণ ও বহিষ্কার করে)। আমার অবস্থাও ঠিক তেমনই ছিল যেমনটা ঈশ্বর অনাবৃত করেছেন। ম্যাথিউ আমার দোষত্রুটি অনাবৃত করার সময়ে, আমি শুধুই বদলা নিতে চেয়েছিলাম। এগুলো তো খ্রীষ্টবিরোধী আচরণ। ইতিমধ্যেই স্বীকার করেছি আমি মর্যাদা ভালোবাসতাম আর খুব উদ্ধত ছিলাম। কিন্তু আমার কোনো প্রকৃত আত্মজ্ঞান ছিল না। মনের গভীরে, মনে হত যে গির্জার নেতা হওয়া মানে আমার সামর্থ্য আর যোগ্যতা ছিল, দায়িত্বপালনে ত্রুটি সত্ত্বেও, ছিলাম গির্জার কাজে সক্ষম, নিশ্চয়ই বরখাস্ত হব না। ব্রাদার ম্যাথিউকে একের পর এক সমাবেশ-দলে যুক্ত করা হচ্ছে দেখে, ভেবেছিলাম আমার পদ বুধি আর নিরাপদ নয়, যেন আমাকে সরাতে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী হাজির হয়েছে। তাকে ঘৃণা ও প্রত্যাখ্যান পারতাম না। ব্রাদার-সিস্টারদের প্রয়োজনের বা গির্জার কাজের পরোয়া করি নি। শুধু নিজের পদ সুরক্ষিত রাখাতে ব্রাদার ম্যাথিউর সাথে যুদ্ধ করেছি। এ প্রকৃতই মন্দ স্বভাব। সে আমার সমস্যাগুলো তুলে ধরছিল। সেটা পছন্দ করি নি, তার বিরুদ্ধে গিয়েছিলাম। এমনকি বদলা নিতে আর তাকে হেয় করতেও চেয়েছিলাম। সে আমার ভুলের প্রতি আবার দৃষ্টি আকর্ষণ করলে অপমানিত বোধ করেছিলাম। প্রচণ্ড রেগে গিয়ে তার থেকে অব্যাহতিও চেয়েছিলাম। কিন্তু আসলে সে-ই সত্যের পালন করছিল। আমার কাজে সত্যিই ত্রুটি-বিচ্যুতি ছিল, অনেক নীতিও বুঝতে পারিনি। তাই সে আমায় আরো ভালোভাবে কাজ করতে শেখাচ্ছিল। কিন্তু তাকে স্বাগত জানানোর পরিবর্তে, সবার সামনে তার সমালোচনা করতে তার সমস্যা বের করার চেষ্টা করে চলি। আমার কাজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তাকে বিশদে কিছু বলিনি। বরং তাকে হেয় করার অভিপ্রায়ে নানা প্রশ্ন করি। আগে ভেবেছিলাম তাকে শুধু ঈর্ষাই করি। কিন্তু ঈশ্বরের বাক্যের মাধ্যমে বুঝলাম যে, তা ছিল খ্রীষ্টবিরোধী স্বভাব। নামযশ রক্ষার্থে তাকে আঘাত করতে, তার উপর প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিলাম। সুযোগ পেলে হয়ত আরও খারাপ কিছু করতাম। যখন নিজের খ্রীষ্টবিরোধী স্বভাব বুঝতে পারলাম, তখন হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম আর ভয় পেয়েছিলাম। জানতাম যে এভাবে চলতে থাকলে, ঈশ্বর অবশ্যই আমাকে বহিষ্কার করবেন, কারণ ঈশ্বর খ্রীষ্টবিরোধীদের উদ্ধার করেন না। অনুতপ্ত হয়ে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করলাম, “সর্বশক্তিমান ঈশ্বর, নেতার কাজ ভালোভাবে করিনি। নিছক নামযশের জন্য লড়াই করেছি, মন্দভাবে আঘাত হেনেছি, প্রতিশোধ নিয়েছি। নিজের আচরণে আমি শয়তানের ভূমিকা পালন করছিলাম। প্রিয় ঈশ্বর, অনুতাপ করতে চাই।”

এরপর একছত্র ঈশ্বরের বাক্য পড়লাম, যা নিজের ভ্রষ্ট স্বভাবকে আরও স্পষ্টভাবে দেখাল। “সাধারণ মানুষের তুলনায় খ্রীষ্টবিরোধীদের কাছে নিজেদের মর্যাদা এবং সম্মান অনেক বেশি উপভোগ্য, সেটা তাদের স্বভাব ও সারমর্মেই নিহিত রয়েছে; তা কোনো সাময়িক উৎসাহ অথবা পারিপার্শ্বিক অবস্থার ক্ষণস্থায়ী প্রভাব নয়—সেটি তাদের জীবনের অংশ, তাদের অস্থিমজ্জায় মিশে থাকে, এবং সেহেতু, সেটিই তাদের সারমর্ম। অর্থাৎ বলা যায় যে, খ্রীষ্টবিরোধীরা যেকোনো কিছু করার সময়, নিজেদের মর্যাদা ও সুনামকেই সর্বাগ্রে বিবেচনা বিষয়; এছাড়া কোনোকিছুই নয়। মর্যাদা ও সুনাম হল খ্রীষ্টবিরোধীদের প্রাণস্বরূপ, তাদের আজীবনের লক্ষ্য। তাদের করা সকল কাজের ক্ষেত্রেই তারা সর্বপ্রথম এই মর্মে বিবেচনা করে: ‘এতে আমার মর্যাদার কী হবে? আর আমার সুনামের কী হবে? এটা করলে কি আমি খাতির পাব? লোকেদের মনে কি আমার মর্যাদা উন্নীত হবে?’ তারা সর্বপ্রথম এই চিন্তাই করে, এবং এটিই পর্যাপ্তভাবে প্রমাণ করে যে তাদের স্বভাব ও সারমর্ম খ্রীষ্টবিরোধী-সম; তারা সমস্যাকে অন্য কোনোভাবে বিবেচনা করে না। বলা যেতে পারে যে, খ্রীষ্টবিরোধীর কাছে, মর্যাদা এবং সুনাম অতিরিক্ত কোনো প্রয়োজন নয়, অপ্রাসঙ্গিক কিছু যা তাদের না হলেও চলে যায়, এমন তো আরোই নয়। তারা খ্রীষ্টবিরোধীদের প্রকৃতিরই অংশ, এই বিষয়গুলি তাদের কাছে অস্থিমজ্জাগতভাবে সহজাত। নিজেরা মর্যাদা এবং সুনামের অধিকারী কিনা, সেবিষয়ে খ্রীষ্টবিরোধীরা উদাসীন নয়; তেমন উদাসীনতা তাদের মনোভাব নয়। তাহলে, তাদের মনোভাব কী? মর্যাদা এবং সুনাম তাদের দৈনন্দিন জীবনের সাথে, দৈনন্দিন অবস্থার সাথে, তারা নিয়ত যে উদ্দেশ্যে সচেষ্ট থাকে তার সাথে, অঙ্গাঙ্গীভাবে সংযুক্ত। এবং সেহেতু, খ্রীষ্টবিরোধীদের জন্য, মর্যাদা এবং প্রতিপত্তিই হল জীবন। তারা যেভাবেই বসবাস করুক, যে পরিবেশেই বাস করুক, যে কাজই করুক না কেন, তারা যে উদ্দেশ্যেই উদ্যম গ্রহণ করে থাকুক না কেন, তাদের লক্ষ্য তথা জীবনের দিশা যে অভিমুখেই থাকুক না কেন, সকলই সুনাম এবং উচ্চ মর্যাদাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়। এবং এই লক্ষ্য পরিবর্তিত হয় না; তারা কখনোই এই ধরনের বিষয়গুলিকে পরিহার করতে পারে না। এই হল খ্রীষ্টবিরোধীদের আসল চেহারা এবং সারমর্ম(বাক্য, খণ্ড ৪, খ্রীষ্টবিরোধীদের উন্মোচন, নবম পরিচ্ছেদ: কেবলমাত্র নিজেদেরকে বিশিষ্ট ভাবে তুলে ধরতে এবং নিজেদের স্বার্থ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে পরিতুষ্ট করতেই তারা তাদের কর্তব্য করে; তারা কখনোই ঈশ্বরের গৃহের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে না, এবং ব্যক্তিগত গৌরবের বিনিময়ে এমনকি সেই স্বার্থ বিক্রয় অবধি করে দেয় (তৃতীয় অংশ))। ঈশ্বরের এই বাক্য আমার অন্বেষণের লক্ষবস্তু এবং আমার প্রকৃতি ও সারমর্ম অনাবৃত করল। নিজের নামযশেরই সবচেয়ে বেশি পরোয়া করতাম। অন্যদের সাথে আদানপ্রদান এবং যা কিছু করেছি, সেসবে সবসময় ভালো ভাবমূর্তি রাখার আর সম্মান পাওয়ার চিন্তা করতাম। ছোটোবেলা থেকেই আমাকে এভাবেই শেখানো হয়েছে। সবসময় সেরা হওয়ারই চেষ্টা করেছি। হাই স্কুলে সবসময় অন্যদের সাথে প্রতিযোগিতা করতাম যাতে ক্লাসের সবচেয়ে দক্ষ ছাত্রী হয়ে উঠতে পারি, যাতে সব সতীর্থ আমার তারিফ করে। গির্জায় যোগদানের পরেও শুধু নিজের সুনাম নিয়েই ভাবতাম, অপরের প্রশংসা চাইতাম। ভেবেছিলাম গির্জা দায়িত্ব দিয়েছে কারণ আমার বিশেষ ক্ষমতা আছে, আর কাজগুলো তাড়াতাড়ি আর ভালো করে করতে পারি বলেই। পরে নেতা হিসাবে আরও বেশি অহংকারীক হয়ে উঠলাম। সবসময়ই আলোচনার মাধ্যমে নিজের পারদর্শিতা দেখাতে চাইতাম, কিন্তু দায়িত্ব নিয়ে শেখার আর ত্রুটি শুধরানোর দিকে মন দিইনি। যখন ব্রাদার ম্যাথিউ আমার ত্রুটিগুলো তুলে ধরল, তখন মনে হল যে, ব্রাদার-সিস্টারদের কদর হারাব। যা মেনে নিতে পারিনি বলেই তার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ঈশ্বরের বাক্যে দেখলাম, যা করেছি সবই নামযশ রক্ষার্থে, যা ঈশ্বরের কাছে ঘৃণ্য। ঈশ্বরকে বললাম আমায় সেই ভ্রষ্ট স্বভাব থেকে উদ্ধার করতে।

এরপর ব্রাদার-সিস্টারেরা ঈশ্বরের কিছু বাক্য পাঠাল। “ঔদ্ধত্যই মানুষের ভ্রষ্ট স্বভাবের মূল। মানুষ যত উদ্ধত হয়, তত যুক্তিহীন হয়, আর সে যত যুক্তিহীন হয়, ততই সে হয়ে ঈশ্বরের প্রতি প্রতিরোধপ্রবণ। এই সমস্যা কতটা গুরুতর? উদ্ধত স্বভাবের মানুষ যে কেবল বাকি সবাইকে হেয় ভাবে তাই নয়, বরং আরও খারাপ বিষয় হল, তারা ঈশ্বরের প্রতি দাম্ভিক মনোভাব পোষণ করে এবং তাদের অন্তরে ঈশ্বর সম্পর্কে কোনো ভীতি থাকে না। মানুষ ঈশ্বরকে বিশ্বাস করে, তাঁকে অনুসরণ করে বলে মনে হলেও, তারা তাঁর সাথে একেবারেই ঈশ্বরের উপযুক্ত আচরণ করে না। তারা সর্বদা মনে করে যে তারাই সত্যের অধিকারী এবং নিজেদের সম্পর্কে উঁচু ধারণা পোষণ করে। এই হল তাদের উদ্ধত স্বভাবের সারসত্য এবং মূল, আর এটা শয়তানের থেকেই আসে। অতএব, এই ঔদ্ধত্যের সমস্যার অবশ্যই সমাধান করতে হবে। একজন অপরজনের থেকে ভালো-এটা ভাবা একটা সাধারণ বিষয়। গুরুতর সমস্যা হল এই যে, কারোর উদ্ধত স্বভাব তাকে ঈশ্বরের কাছে, তাঁর সার্বভৌমত্ব এবং আয়োজনের কাছে সমর্পণের ক্ষেত্রে বাধা দেয়; এই ধরনের ব্যক্তি সর্বদা অপরের উপর ক্ষমতা বিস্তারের জন্য ঈশ্বরের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মনোভাব পোষণ করে। এই ধরণের মানুষ ঈশ্বরকে সামান্যতম সম্মানও করে না, ঈশ্বরকে ভালোবাসা বা তাঁর কাছে সমর্পণ করা তো দূরের কথা(বাক্য, খণ্ড ৩, অন্তিম সময়ের খ্রীষ্টের উপদেশ, তৃতীয় অংশ)। “কেউ যেন নিজেকে নিখুঁত, বা বিশিষ্ট ও মহৎ, বা অন্যদের থেকে আলাদা বলে মনে না করে, এসবই মানুষের উদ্ধত স্বভাব ও অজ্ঞতার থেকে সৃষ্ট। সর্বদা নিজেকে স্বতন্ত্র ভাবা—এটা উদ্ধত স্বভাবের কারণেই ঘটে; কখনোই নিজেদের ঘাটতি স্বীকার করতে না পারা, এবং নিজেদের ভুলত্রুটি ও ব্যর্থতা স্বীকার করতে না পারা—এগুলো উদ্ধত স্বভাবেরই পরিণাম; নিজের থেকে অন্যদের উঁচু হতে না দেওয়া, অথবা ভালো হতে না দেওয়া—এটা উদ্ধত স্বভাবের থেকেই আসে; তাদের থেকে কাউকে কখনোই উচ্চতর বা শক্তিশালী হতে না দেওয়া—এটা উদ্ধত স্বভাবের কারণেই ঘটে; কখনোই নিজেদের থেকে উন্নত চিন্তা, পরিকল্পনা, ও দৃষ্টিভঙ্গি অন্যদের থাকতে না দেওয়া, এবং তেমনটা কেউ করলে নেতিবাচক হয়ে যাওয়া, কথা বলতে না চাওয়া, ব্যথিত ও হতাশ বোধ করা, এবং বিচলিত হয়ে ওঠা—এগুলোর সবই উদ্ধত স্বভাবের থেকেই উৎপন্ন হয়। উদ্ধত স্বভাব তোমাকে তোমার সুনাম রক্ষা করাতে পারে, অন্যের উপদেশ গ্রহণে অপারগ করতে পারে, তোমাকে তোমার অক্ষমতার মুখোমুখি হতে অসমর্থ করতে পারে, এবং নিজের ব্যর্থতা ও ভুলত্রুটি স্বীকারে অক্ষম করে তুলতে পারে। তার চেয়েও বড় কথা, যখন কেউ তোমার চেয়ে ভালো হয়, তা তোমার হৃদয়ে ঘৃণা ও ঈর্ষার জন্ম দিতে পারে, এবং তুমি নিজেকে আবদ্ধ মনে করতে পারো, এতটাই যে তুমি নিজের দায়িত্ব পালন করতে চাও না এবং তা পালনে বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ো। উদ্ধত স্বভাব তোমার মধ্যে এই আচরণ ও অভ্যাসের জন্ম দিতে পারে। যদি তোমরা এই সমস্ত বিস্তারিত বিষয়ের গভীরে ধীরে ধীরে প্রবেশ করতে সক্ষম হও, সেগুলোয় সাফল্য অর্জন করতে পারো ও সেগুলোর উপলব্ধি অর্জন করতে পারো; এবং যদি তারপরে তুমি ধীরে ধীরে এই চিন্তাভাবনা পরিত্যাগ করতে সক্ষম হও, এবং এই ভ্রান্ত পূর্বধারণা, দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণগুলোকেও পরিত্যাগ করতে পারো, সেগুলোর দ্বারা সীমাবদ্ধ না হও; এবং যদি, নিজের দায়িত্ব সম্পাদনের ক্ষেত্রে তুমি তোমার জন্য সঠিক অবস্থান খুঁজে পাও, নীতি অনুযায়ী কাজ করো, এবং সেই দায়িত্ব সম্পাদন করো যা তোমরা করতে পারো ও তোমাদের করা উচিত; তাহলে, সময়ের সাথে সাথে, তোমরা আরো ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হবে। এটাই হল সত্যের বাস্তবিকতায় প্রবেশ করা। যদি তুমি সত্যের বাস্তবিকতায় প্রবেশ করতে পারো, তাহলে অন্যদের কাছে তুমি মনুষ্যসদৃশ বলে গণ্য হবে, এবং লোকেরা বলবে, ‘এই ব্যক্তি নিজেদের অবস্থান অনুযায়ী আচরণ করে, এবং এরা নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছে। এরা নিজেদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বাভাবিকতা, মাথা গরম করে ফেলা অথবা নিজেদের ভ্রষ্ট শয়তানোচিত স্বভাবের উপর নির্ভর করে না। এরা সংযমের সাথে কাজ করে, এরা এমন এক হৃদয়ের অধিকারী যা ঈশ্বরকে সম্মান করে, সত্যের প্রতি এদের ভালোবাসা রয়েছে, এবং এদের আচরণ ও অভিব্যক্তি থেকেই প্রকাশিত হয় যে এরা নিজেদের দৈহিক ইচ্ছা ও পছন্দকে ত্যাগ করেছে।’ নিজেকে এমনভাবে পরিচালিত করা কতই না চমৎকার! যখন অন্যরা তোমার ত্রুটির কথা উল্লেখ করে, তখন তুমি যে কেবল সেগুলো গ্রহণ করতে সক্ষম হও তা-ই নয়, বরং তুমি আশাবাদী থাকো, সুস্থিরভাবে নিজের ত্রুটি ও ঘাটতিগুলোর সম্মুখীন হতে পারো। তোমার মনের অবস্থা বেশ স্বাভাবিক থাকে, চরম আবেগ থেকে মুক্ত, রক্ত গরম হওয়া থেকে মুক্ত। মনুষ্যসদৃশ হওয়া বলতে কি এটাকেই বোঝায় না? শুধুমাত্র এই ধরনের মানুষেরই সঠিক বোধ রয়েছে(বাক্য, খণ্ড ৩, অন্তিম সময়ের খ্রীষ্টের উপদেশ, যে নীতিগুলি অনুসারে আচরণ করা উচিত)। ঈশ্বরের বাক্য সমস্যার হেতুটিকে অনাবৃত করে। আমাদের অনেক কলুষেরই উৎস হল উদ্ধত প্রকৃতি। ঔদ্ধত্যই আমায় ব্রাদার ম্যাথিউর প্রতি ঈর্ষাতুর করেছিল, তার পরামর্শ মানি নি। অহংকারের বশবর্তী ছিলাম। নিজের ভুলগুলো দেখতে পাচ্ছিলাম না। তার পরামর্শ আমার পক্ষে হিতকর হলেও তা মানতে পারিনি। নিছক নামযশ রক্ষার্থে তার সাহায্য আর পথনির্দেশ অস্বীকার করেছিলাম। দায়িত্বের সুষ্ঠু পালনে কী করণীয়, তা ভেবে দেখিনি। কাজে কিছু অসুবিধা ছিল, আমি ভালো কাজ করছিলামও না, তবু ছিলাম উদ্ধত। সত্যিই কোনো আত্মসচেতনতা ছিল না। ব্রাদার ম্যাথিউ আমার কর্তব্যে বেশ কিছু ব্যবহারিক ত্রুটি তুলে ধরেছিল। তা না মেনে উল্টে তার দোষ খুঁজছিলাম। কিন্তু তার আলোচনা সত্যিই ব্যবহারিক ছিল। সে নতুন বিশ্বাসীদের সত্য বুঝতে সাহায্য করছিল। তাদের পক্ষে তার আলোচনা আমার পূর্বে সভাপতিত্ব করা সমাবেশগুলো তুলনায় বেশি উপকারী ছিল। বাস্তবের মুখোমুখি হয়ে, মানতে পারিনি যে ব্রাদার ম্যাথিউ আমার চেয়ে বেশি দক্ষ। তার প্রতি এতই বিরক্ত ছিলাম। সত্যিই উদ্ধত আর যৌক্তিকতাবিহীন ছিলাম। নিজেকে খুব উঁচু নজরে দেখতাম। সবসময় সবার মধ্যে সেরা হতে চাইতাম। চাইতাম তোষামোদ। এ হল প্রধান দেবদূতের স্বভাব। এটা ঈশ্বরবিরুদ্ধ। অন্তরের প্রার্থনা করলাম, প্রস্তুত হলাম সত্য অন্বেষণ ও আত্ম-পরিবর্তন। আরও বেশি যৌক্তিকতাসম্পন্ন হতে।

পরে নিষ্ঠাপালনকালে, ঈশ্বরের এই বাক্য পড়লাম: “গির্জার মধ্যে এই ধরনের পরিবেশই তোমাকে রাখতে হবে—প্রত্যেকেই সত্যের প্রতি দৃষ্টিনিবদ্ধ এবং তা অর্জনের প্রতি সচেষ্ট হবে। লোকেরা বয়সে যত প্রবীণ বা নবীন হোক, অথবা অভিজ্ঞ বিশ্বাসীই হোক না কেন, তাতে কিছু যায় আসে না। অথবা তাদের যোগ্যতা বেশি না কম, তাতেও কিছু যায় আসে না। এই সমস্ত ব্যাপারে কিছু যায় আসে না। সত্যের সামনে সকলেই সমান। তোমাকে যে বিষয়গুলোর প্রতি অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে সেগুলো হল, কারা সঠিকভাবে এবং সত্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে কথা বলে, কারা ঈশ্বরের গৃহের স্বার্থের কথা চিন্তা করে, ঈশ্বরের গৃহের কাজে কারা সবচেয়ে গুরুদায়িত্ব বহন করে, কারা সত্যকে আরো স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করে, ন্যায়পরায়ণতার বোধ কাদের রয়েছে, আর কারাই বা মূল্য প্রদান করতে ইচ্ছুক। এই ধরনের লোকেদেরকেই ভাই বোনেদের সমর্থন ও উৎসাহ দেওয়া উচিত। সত্য অন্বেষণের থেকে আগত এই ন্যায়পরায়ণতার পরিবেশ গির্জায় বজায় রাখতেই হবে; এইভাবেই তুমি পবিত্র আত্মার কাজ লাভ করবে এবং ঈশ্বরও আশীর্বাদ ও পথনির্দেশ প্রদান করবেন। যদি গির্জার মধ্যে গল্প বলা, একে অপরের সাথে গোলমাল করা, একে অপরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ পোষণ করা, একে অপরের প্রতি হিংসা করা, এবং একে অপরের সাথে তর্ক করার মতো পরিবেশ বিরাজ করে, তবে পবিত্র আত্মা নিশ্চিতভাবেই তোমাদের মধ্যে কাজ করবেন না। একে অপরের বিরুদ্ধে বিরোধিতা করা এবং গোপনে লড়াই করা, প্রতারণা করা, ছলনা করা এবং একে অপরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা—এটা একটা মন্দ পরিবেশ! যদি গির্জার মধ্যে এমন পরিবেশ বিরাজ করে, তাহলে পবিত্র আত্মা নিশ্চিতরূপেই তাঁর কাজ করবেন না(বাক্য, খণ্ড ৩, অন্তিম সময়ের খ্রীষ্টের উপদেশ, যে কায়মনোবাক্যে তার দায়িত্ব পালন করে, কেবলমাত্র সেই ঈশ্বরকে ভালোবাসে)। “আজকের দিনে, যারা ঈশ্বরের সুবিবেচনাকে স্বীকার করে না তারা তাঁর অনুমোদন পাবে না, এবং যারা ঈশ্বরের অবতার সম্পর্কে জ্ঞাত নয় তাদের নিখুঁত করা যাবে না। তুমি যা যা করছ তার দিকে তাকাও এবং দেখো সেই সব কাজ ঈশ্বরের সামনে নিয়ে আসতে পারবে কিনা। যদি তুমি তোমার সকল কাজ ঈশ্বরের সামনে আনতে না পারো, তাহলে এটাই প্রমাণ হয় যে তুমি হলে এক মন্দকর্ম সংঘটকনকারী। যারা অন্যায় কাজে লিপ্ত তাদের কি কখনও নিখুঁত করা যেতে পারে? তুমি যা করো, প্রতিটা কাজ, প্রতিটা অভিপ্রায় এবং প্রতিটা প্রতিক্রিয়া ঈশ্বরের সামনে নিয়ে আসতে হবে। এমন কি তোমার রোজকার আধ্যাত্মিক জীবন—তোমার প্রার্থনা, ঈশ্বরের সাথে তোমার নৈকট্য, যেভাবে তুমি ঈশ্বরের বাক্য ভোজন ও পান করো, তোমার ভাই বোনদের সাথে তোমার সহকারিতা, এবং তোমার গির্জার মধ্যেকার জীবন—এবং অন্যের সাথে মিলেমিশে তোমার সেবাকার্য সবই ঈশ্বরের সামনে তাঁর সুবিবেচনার জন্য উপস্থিত করতে হবে। এটি হল সেই ধরনের অনুশীলন যা তোমায় জীবনে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, ঈশ্বর তাদেরই নিখুঁত করে তোলেন যারা তাঁর ইচ্ছার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ)। ঈশ্বরের বাক্য আমায় অনুশীলনের পথ আর সান্ত্বনা দিল। ঈশ্বর আমাদের বলেন গির্জায় প্রতিযোগী না হতে। আমাদের সত্যান্বেষণ করতেই হবে। সত্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ যে কারও কথা আমাদের শোনা উচিত। ব্রাদার ম্যাথিউ আমার ত্রুটি-বিচ্যুতি অনাবৃত করেছিল, নতুন বিশ্বাসীদের ভালোভাবে সিঞ্চনের সাহায্যার্থে। সে ব্যক্তিগত সম্পর্ক রক্ষা করে নি। আমার সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেছিল। আমার আত্মজ্ঞানে সহায় হয়েছিল। নিজের কলুষ স্বীকারকালে সে সৎ ছিল, প্রশংসা আদায়ের চেষ্টা করেনি। সে সত্যান্বেষণ আর গির্জার কাজকে সমর্থন করতে পেরেছিল। নিজের ত্রুটি শোধরাতে তার থেকে আমার শেখা উচিত। ঈর্ষান্বিত বা একগুঁয়ে হওয়া আর তার খুঁত ধরতে সচেষ্ট হওয়া উচিত নয় আমার। এ-ও বুঝলাম প্রকাশ্যে ত্রুটি-উন্মোচন ছিল আমার প্রতি ঈশ্বরের সুরক্ষা ও পরিত্রাণ। তা নিজের দুর্নীতি বুঝে ভুল শুধরে নিতে দিয়েছে। ঈশ্বর আমাদের দিকে চেয়ে আছেন এই আশায় যে আমরা নীতি মেনে কাজ করব। ঈশ্বরের নিরীক্ষার জন্য প্রস্তুত হয়ে, নিজের দুর্নীতি খুঁটিয়ে দেখব আর রদবদল করব, আর নীতি-মাফিক কাজ করব।

আর ব্রাদার ম্যাথিউকে ঈর্ষা করি না। তার আলোচনা আর পরামর্শ মানি। সমাবেশে অন্যদের প্রশ্ন করার সময়ে, বক্তব্য গুছিয়ে রাখি, যাতে অন্যরা তা আরও ভালোভাবে বুঝতে পারে। তারা সক্রিয়ভাবে আলোচনায় অংশ না নিলে, তাদের সাথে আদানপ্রদানমূলক যোগাযোগ স্থাপনের উপর জোর দিই। সমাবেশগুলোকে আরও কার্যকর করতে, আগে থেকেই ব্রাদার-সিস্টারদের সাথে যোগাযোগ করি, যাতে তাদের ব্যবহারিক সমস্যা খুঁজে বের করে ঈশ্বরের বাক্য নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সেগুলো সমাধান করা যায়। এছাড়াও, ঈশ্বরের বাক্য আরও বেশি করে পড়ি, সত্যের দ্বারা প্রস্তুত হই, যাতে আরো ভালো করে তাদের অসুবিধা দূর করতে পারি। আমার এই পরিবর্তনটুকু ঈশ্বরেরই পরিত্রাণ। সর্বশক্তিমান ঈশ্বরকে ধন্যবাদ!

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।

সম্পর্কিত তথ্য

আমি আমার বিশ্বাসে দৃঢ় ছিলাম না

আমার পরিবার সবসময়ই ছিল খুব গরিব, এবং আমি সমাজে নির্দিষ্ট মর্যাদা পাওয়ার জন্য একজন ব্যাঙ্ক এক্সিকিউটিভ হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম, যাতে টাকার...

আমি কেন দায়িত্ব নিতে চাই না?

দু’হাজার একুশের অক্টোবর মাসে, আমি ভিডিওর কাজ পরিচালনার প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলাম। আমাকে ব্রাদার লিও আর সিস্টার ক্লেয়ারের পার্টনার করা হয়েছিল।...

Leave a Reply

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন