অসন্তোষ ছড়ালেও সত্যের চর্চা করুন

18-02-2023

২০২০ সালের মে মাসে, সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের অন্তিম সময়ের কাজকে আমি গ্রহণ করি। আমি প্রায়শই ঈশ্বরের বাণী পড়তাম, গির্জার জীবনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতাম, এবং আমি যা দায়িত্ব পারতাম, পালন করতাম। পরে, আমাকে একজন গির্জার নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। একবার, আমাদের গির্জার জরুরিভাবে দুজন সুসমাচার যাজককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার দরকার পড়ে। আমার কাছে সমস্ত যোগ্য লোকের একটি তালিকা ছিল, এবং আমি দেখলাম যে ভ্রাতা কেভিনের ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে ভাল ছিল, তিনি কাজে খুব বেশি ব্যস্ত ছিলেন না, এবং তিনি সক্রিয়ভাবে সভা-সমাবেশে আলাপ-আলোচনা করতেন এবং সুসমাচার প্রচারের নীতিগুলি আয়ত্ত করেছিলেন, তাই তাঁকে কাজের জন্য সঠিক মনে হল। ভগিনী জেনেলও আছেন, যিনি তাঁর দায়িত্বে সক্রিয় ছিলেন এবং কিছু ফলপ্রসূ কাজ করেছিলেন। অন্যদের তুলনায়, এই দুজনকে দায়িত্ব পালনের জন্য সঠিক বলে মনে হল এবং আমার নেতা আমার ভাবনার সাথে একমত হলেন। তাই, আমি তাঁদের দুজনকেই সুসমাচার যাজক করলাম। কিছু সময় পর, তাঁরা একজন সুসমাচার যাজকের সমস্ত দায়িত্ব বুঝে নিলেন এবং এর সাথে পরিচিত হয়ে গেলেন, তাই আমি তাঁদের স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন শুরু করার অনুমতি দিয়ে দিই। এবং আমার নিজের সমস্ত শক্তি জল সিঞ্চনের কাজে লাগিয়ে দিলাম। কয়েক সপ্তাহ পর, আমি জানতে পালাম যে, কয়েকজন যারা সবেমাত্র সুসমাচার পেয়েছিল তারা সভা-দল ছেড়ে চলে গিয়েছে, এবং কয়েকজন যারা সুসমাচার বিস্তার করেছিল, তারা এমন সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে যার সমাধান তারা জানে না। আমি যখন সুসমাচারের কাজে এই সমস্যাগুলি দেখলাম, তখন আমি ভাবলাম, “সুসমাচার যাজকরা কি ব্যবহারিক কাজ করছেন?” আমি একটু কাজের খুঁটিনাটি দেখতে গিয়েছিলাম এবং গিয়ে দেখলাম যে সুসমাচার যাজকরা কেবল জিনিসগুলি সাজিয়েছেন, কিন্তু নিজেরা কাজটি করেননি। সমাবেশে তাঁরা ব্যবহারিক সমস্যার সমাধান করেননি, তাঁরা শুধু অন্যান্য ভ্রাতা-ভগিনীদের তাদের দায়িত্ব পালনের জন্য অনুরোধ করেছিলেন। এই পরিস্থিতি জানার পর আমি খুবই হতাশ হয়ে পড়লাম। গির্জার যাজক হিসাবে, বাস্তবিক সমস্যার সমাধান না করা কি অবহেলা ছিল না? আমি আরও জানতে পারলাম যে ভ্রাতা কেভিন সঠিকভাবে কাজ করছিলেন না, এবং মাঝে মাঝে তিনি খেলা খেলতে যেতেন, এবং ভগিনী জেনেল এই সময়ে তাঁর দায়িত্ব পালনে অলস এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন হয়ে পড়েছিলেন। আমি তাঁদের সাথে আলাপ-আলোচনা করতে চেয়েছিলাম এবং তাঁদের দায়িত্ব পালনের সমস্যাগুলি তুলে ধরতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আমরা এত ভাল ভাবে মিশে গিয়েছিলাম, যে আমি আমাদের সম্পর্ক নষ্ট করতে চাইনি। আমি আশা করেছিলাম যে আমার ভ্রাতারা ও ভগিনীরা আমাকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে দেখবে, যে সহানুভুতিশীল এবং সুবিবেচক। আমি যদি সরাসরি তাঁদের সমস্যাগুলো তুলে ধরতাম, তাহলে সেটা আমার সুনাম নষ্ট করতে পারত। সেই দুই যাজকই বা আমার ব্যাপারে কি ভাবতেন? তাঁরা কি বলতেন যে আমি তাঁদের প্রচেষ্টাকে দেখিনি, শুধুই তাঁদের ঘাটতিগুলো দেখেছি, এবং আমার একটি প্রেমময় হৃদয়ের অভাব ছিল? এছাড়াও, যদি আমি তাঁদের সমস্যাগুলো তুলে ধরতাম, এবং তাঁরা সেটা গ্রহণ করতে না পেরে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়তেন, তখন কি আমার ভ্রাতারা ও ভগিনীরা ভাবত যে আমি নেতার কাজে অক্ষম ছিলাম? আমি একজন খারাপ নেতা ছিলাম? আমার নেতা যদি এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতেন, তাহলে হয়ত আমার সাথে মোকাবিলা করা হত। তাই এসব কথা ভেবেই আমি আর তাঁদের সমস্যাগুলো তুলে ধরিনি। মাঝে মাঝে, আমি ভাবতাম যে যেহেতু আমি গির্জার কাজের দায়িত্বে ছিলাম, তাঁদের সমস্যাগুলো তুলে ধরা আমার দায়িত্ব ছিল যাতে তাঁরা বুঝতে পারেন। কিন্তু তারপরও বলতে পারিনি। পরিবর্তে, আমি তাঁদের ঈশ্বরের কিছু উৎসাহ ও সান্ত্বনার বাণী পাঠালাম এবং তাঁদের সাথে নম্রভাবে কথা বললাম কীভাবে ভালভাবে দায়িত্ব পালন করা যায় এবং কীভাবে অন্যদের সাথে শান্তিপূর্ণভাবে সহযোগিতা করা যায়, সে সম্পর্কে। আমি তাঁদের দায়িত্বের মধ্যে সমস্যাগুলো তুলে ধরিনি। পরে নিজেকে খুব অপরাধী মনে হয়েছিল। আমার নিজেকে অসৎ এবং প্রতারক বলে মনে হয়েছিল।

এক রাতে, আমি ঘুমাতে পারিনি কারন আমি ভাবছিলাম সুসমাচারের ব্যার্থ কাজ আমার সাথে কিভাবে সরাসরি যুক্ত ছিল। আমি দুজন সুসমাচার যাজককে তাঁদের দায়িত্ব পালনে দায়িত্বজ্ঞানহীন হতে দেখেছিলাম, সুসমাচার প্রচারকারী ভ্রাতাদের ও ভগিনীদের সমস্যার সমাধান না করে, যা ভ্রাতাদের ও ভগিনীদের ওপর প্রচুর চাপ সৃষ্টি করেছিল, এবং কিছু নবাগতদের সভা দল ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করেছিল, কিন্তু আমি তাঁদের সমস্যা তুলে ধরিনি। আমি আমার হৃদয়ে এতটাই অপরাধবোধ অনুভব করছিলাম যে আমি বুঝতে পারছিলাম না কী করব, তাই আমি আন্তরিকভাবে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি, “ঈশ্বর, ভ্রাতা ও ভগিনীদের ভালভাবে নেতৃত্ব দিতে না পারার জন্য আমি খুব অপরাধ বোধে ভুগছি। ঈশ্বর, দয়া করে আমাকে আলোকিত করুন এবং এই সমস্যার সমাধানে আমার পথপ্রদর্শন করুন।” আমি প্রার্থনা করার পরে, আমি অভিজ্ঞতার সাক্ষ্যের একটি ভিডিও দেখলাম, যেটিতে ঈশ্বরের কিছু বাণী ছিল যা আমাকে অনেক অনুপ্রাণিত করে। ঈশ্বরের বাক্যে বলা হয়েছে, “বিবেক এবং যুক্তিবোধ, উভয়ই একজন ব্যক্তির মানবিকতার উপাদান হওয়া উচিত। উভয়ই খুব মৌলিক এবং খুব গুরুত্বপূর্ণ। যে ব্যক্তি বিবেকের অভাব রয়েছে এবং স্বাভাবিক মানবিকতা নেই, সে কেমন? সাধারণভাবে বলতে গেলে, সে এমন একজন ব্যক্তি যার মধ্যে মানবিকতার অভাব রয়েছে, যে অত্যন্ত হীন মানবতার একজন। আরও বিশদে বললে, এই ব্যক্তিটি হারিয়ে যাওয়া মানবিকতার কোন ধরনের প্রকাশকে প্রদর্শন করে? এই ধরনের ব্যক্তিদের মধ্যে কী কী বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায় এবং তারা কোন নির্দিষ্ট বিষয়গুলি প্রকাশ করে তা বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করে দেখো। (তারা স্বার্থপর এবং নিকৃষ্ট।) স্বার্থপর এবং নিকৃষ্ট লোকেরা তাদের ক্রিয়াকলাপে বেপরোয়া এবং যা তাদের সাথে ব্যক্তিগতভাবে জড়িত নয়, এমন যে কোনো কিছুর থেকেই দূরে থাকে। তারা ঈশ্বরের গৃহের স্বার্থ বিবেচনা করে না, অথবা তারা ঈশ্বরের ইচ্ছার বিবেচনাও করে না। তারা ঈশ্বরের জন্য সাক্ষ্য দেওয়ার অথবা তাদের কর্তব্য সম্পাদনের কোনো ভার বহন করে না, এবং তাদের কোন দায়িত্ববোধ নেই। … এমন কিছু লোক রয়েছে যারা তাঁদের দ্বারা সম্পাদিত কর্তব্য নির্বিশেষে কোনো দায়িত্ব নেয় না। তারা যে সমস্যাগুলি আবিষ্কার করে তা তাদের ঊর্ধ্বতনদের কাছে অবিলম্বে বিবৃতও করে না। যখন তারা মানুষকে হস্তক্ষেপকারী এবং বিঘ্নকারী হতে দেখে, তখন তারা দেখেও না দেখার ভান করে। যখন তারা দুষ্ট লোকদের মন্দ কাজ করতে দেখে, তখন তারা তাদের থামানোর চেষ্টা করে না। তারা ঈশ্বরের গৃহের স্বার্থের প্রতি সামান্যতম বিবেচনা করে না, এবং তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য কী, তা-ও বিবেচনা করে না। যখন তারা তাদের দায়িত্ব পালন করে, তখন এই ধরনের লোকেরা কোনো বাস্তব কাজ করে না; তারা হল সেই ভালোমানুষ যারা আরামের জন্য লোভী; তারা কেবল তাদের নিজস্ব অহংকার, মুখরক্ষা, মর্যাদা এবং স্বার্থের জন্য কথা বলে ও কাজ করে, এবং তারা নিশ্চিতভাবেই নিজেদের উপকার হবে এমন যে কোনো কিছুতে তাদের সময় এবং প্রচেষ্টা নিয়োজিত করে(বাক্য, খণ্ড ৩, অন্তিম সময়ের খ্রীষ্টের উপদেশ, ঈশ্বরকে হৃদয়দানের মাধ্যমে সত্য অর্জন সম্ভব)। ঈশ্বরের বাণী আমি দুবার পড়েছিলাম এবং আমার খুব দুঃখ হয়েছিল। আমি ভেবেছিলাম যে আমার ভালো মানবতা আছে, যে আমি ধৈর্য সহকারে আমার ভ্রাতাদের ও ভগিনীদের সাহায্য করছিলাম, এবং আমি সুসমাচার যাজকদের যত্ন নিচ্ছিলাম। আমি যখন কাজ করতাম, আমি সবসময় অন্যদের অনুভূতি বিবেচনা করতাম এবং তাদের আঘাত করতে চাইতাম না। আমি ভেবেছিলাম এইভাবে আমি ঈশ্বরের ইচ্ছার প্রতি মনোযোগী হচ্ছি, এবং আমি মনে করেছিলাম আমি একজন ভালো মানুষ। কিন্তু যখন সেই দুজন যাজক কে দেখলাম গির্জার কাজে দায়িত্বজ্ঞানহীন হতে, আমি তাঁদের সমস্যা তুলে ধরিনি তাঁদের বোঝানোর জন্য যে তাঁরা তাঁদের দায়িত্ব পালনে দায়িত্বজ্ঞানহীন হচ্ছিলেন। পরিবর্তে, আমি তাদের প্রশ্রয় দিচ্ছিলাম কারণ আমি ভয় পেয়েছিলাম যে তাঁদের সমস্যাগুলি তুলে ধরলে আমাদের সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যাবে। আমি এটাও ভেবে চিন্তিত ছিলাম যে আমি তাঁদেরকে নেতিবাচক করে তুললে আমার নেতা হয়ত আমাকে তিরস্কার করবেন এবং আমার ভ্রাতারা ও ভগিনীরা আমাকে খারাপভাবে দেখবেন, তাই আমি তাঁদের সাথে আমার সম্পর্ক, এবং সেই সঙ্গে আমার ভাবমূর্তি এবং মর্যাদা রক্ষা করাকে বেছে নিয়েছিলাম এবং শুধুমাত্র ঈশ্বরের সান্ত্বনা এবং উৎসাহের বাণীগুলি নিয়ে তাঁদের সাথে আলাপ-আলোচনা করেছিলাম। ফলস্বরূপ, তাঁরা তাঁদের সমস্যাগুলি চিনতে ব্যর্থ হয়েছিলেন এবং অনুতপ্ত হতে ও সময় মতো পরিবর্তিত হতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। আমার ভাবমূর্তি এবং ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য, আমি গির্জার কাজ বিবেচনা করতে ব্যর্থ হয়েছিলাম। এটা মোটেও ঈশ্বরের ইচ্ছার প্রতি সুবিচার ছিল না এবং আমি একজন ভালো মানুষ ছিলাম না। আসলে, ভালো মানবতার মানুষই সৎ মানুষ, তারা সত্যের চর্চা করতে এবং গির্জার কাজ রক্ষা করতে সক্ষম, সাহস রাখে আলাপ-আলোচনা করার এবং অন্যদের পরিবর্তনে সাহায্য করতে তাদের সমস্যা প্রকাশ করার, এবং তাদের ভ্রাতাদের ও ভগিনীদের সাথে আন্তরিকভাবে আচরণ করার। কিন্তু আমি? যখন আমি যাজকদের সমস্যাগুলি দেখেছিলাম, আমি কিছু বলিনি, আমার স্বার্থ রক্ষার জন্য গির্জার কাজ ক্ষতিগ্রস্ত হতে দিয়েছিলাম। আমার কি খারাপ মানবতা ছিল!

পরে, আমি ঈশ্বরের বাণীর একটি অংশ পড়েছিলাম এবং নিজের সম্পর্কে কিছুটা উপলব্ধি অর্জন করেছিলাম। সর্বশক্তিমান ঈশ্বর বলেছেন, “কোনো কোনো গির্জার নেতারা তাদের ভ্রাতা ও ভগিনীদের উদাসীন বা বেপরোয়াভাবে কর্তব্য পালন করতে দেখলে, তাদের তিরস্কার করা উচিত হলেও, তা করে না। যা স্পষ্টতই ঈশ্বরের গৃহের স্বার্থের পক্ষে ক্ষতিকর, এমন কিছু চোখে পড়লে তারা দেখেও দেখে না, এবং এই বিষয়ে কোনও অনুসন্ধান করে না, যাতে অন্যদের প্রতি সামান্যতম অন্যায়ও না সাধিত হয়। প্রকৃতপক্ষে, তারা মানুষের দুর্বলতাগুলির প্রতি সত্যিই কোনোরকম বিবেচনা দেখাচ্ছে না; পরিবর্তে, তাদের উদ্দেশ্য হল মানুষের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করা, আর এই বিষয়ে তারা সম্পূর্ণ সচেতন: ‘যদি আমি এটাই করতে থাকি, এবং কারোর প্রতি অন্যায় না করি, তারা ভাববে আমি একজন ভালো নেতা। আমার সম্পর্কে তারা ভালো, উচ্চমানের অভিমত পোষণ করবে। তাঁরা আমাকে স্বীকৃতি দেবে এবং পছন্দ করবে।’ ঈশ্বরের গৃহে যত ক্ষতিই সাধিত হোক না কেন, ঈশ্বরের মনোনীত ব্যক্তিরা জীবনে প্রবেশের ক্ষেত্রে যতই বাধাপ্রাপ্ত হোক না কেন, অথবা তাদের গির্জার জীবনে যতই বিঘ্ন ঘটুক না কেন, এই ধরনের নেতারা নিজেদের শয়তানোচিত দর্শন আঁকড়ে বসে থাকে, এবং কারোর প্রতি কোনো অন্যায় করে না। তাদের অন্তরে কখনোই আত্ম-নিন্দার অনুভূতি থাকে না। কাউকে বিঘ্ন ও বাধা সৃষ্টি করতে দেখলেও, খুব বেশি হলে তারা হয়ত এই সমস্যার বিষয়ে সাধারণভাবে উল্লেখ করতে পারে, আর এই করেই তারা ক্ষান্ত হয়। তারা না সত্যের বিষয়ে আলোচনা করে, না সেই ব্যক্তির কাছে সমস্যার সারমর্ম ইঙ্গিত করে, আর তাদের অবস্থা অনাবৃত করা বা তা নিয়ে কাটাছেঁড়া তো আরোই করে না। ঈশ্বরের ইচ্ছার বিষয়ে তারা কখনোই আলোচনা করে না। লোকেরা প্রায়শই যে ধরনের ভুল করে, বা যেসব দুর্নীতিগ্রস্ত স্বভাব প্রকাশ করে, সেই বিষয়ে ভণ্ড নেতারা কিছুই অনাবৃত করে না বা বিশ্লেষণ করে না। তারা কোনো বাস্তব সমস্যার সমাধান করে না, বরং পরিবর্তে, তারা সর্বদা মানুষের খারাপ আচরণ এবং দুর্নীতির বহিঃপ্রকাশ সহ্য করে চলে, এবং মানুষ যতই নেতিবাচক বা দুর্বল হোক না কেন, তারা নিরুদ্বিগ্ন থাকে, নিতান্ত কিছু মতবাদের বাক্য প্রচার করে, কিছু কিছু দায়সারা উপদেশ দিয়ে বিবাদ এড়ানোর চেষ্টা করে। ফলস্বরূপ, ঈশ্বরের মনোনীত ব্যক্তিরা চিন্তা করে না, নিজেদেরকে জানার চেষ্টা করে না, তারা বিভিন্ন ধরণের দুর্নীতির বহিঃপ্রকাশের কোনো সমাধান অর্জন করে না, এবং জীবনে কোনোরকম প্রবেশ ছাড়াই কিছু শব্দ, বাক্যাংশ, ধারণা এবং কল্পনার মধ্যে বাস করে। এমনকি তারা অন্তরে বিশ্বাস করে যে, ‘আমাদের দুর্বলতা সম্বন্ধে আমাদের নেতার উপলব্ধি ঈশ্বরের চেয়েও বেশি। ঈশ্বরের চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে আমাদের আত্মিক উচ্চতা হয়তো খুবই ক্ষুদ্র, কিন্তু আমাদের কেবলমাত্র আমাদের নেতার চাহিদা পূরণ করতে হবে; আমাদের নেতাকে মান্য করার মাধ্যমেই আমরা ঈশ্বরকে মান্য করছি। যদি কোনোদিন ঊর্ধ্বতন আমাদের নেতাকে প্রতিস্থাপন করে, সেদিন আমরা নিজেদের প্রার্থনা শোনাব; আমাদের নেতাকে ধরে রাখতে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃক তাঁর প্রতিস্থাপন আটকাতে, আমরা ঊর্ধ্বতনের সাথে মধ্যস্থতা করব এবং আমাদের দাবি মানতে বাধ্য করব। এভাবেই আমরা আমাদের নেতার প্রতি সুবিচার করব।’ মানুষের অন্তরে যখন এমন চিন্তাভাবনা থাকে, যখন নেতার সাথে তাদের এমন সম্পর্ক থাকে, আর নিজেদের অন্তরে তারা নির্ভরতা, প্রশংসা এবং শ্রদ্ধা অনুভব করে, তখন তারা এই নেতার প্রতি আরও বেশি আস্থা লাভ করে, তারা নেতার বাক্যই শুনতে চায়, এবং ঈশ্বরের বাক্যে সত্য অনুসন্ধান বন্ধ করে দেয়। এই ধরনের নেতা মানুষের মনে প্রায় ঈশ্বরের সমান স্থান অধিকার করে নিয়েছে। কোনো নেতা যদি ঈশ্বরের মনোনীত ব্যক্তিদের সাথে এইরকম সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়, যদি তারা এই বিষয়টা থেকে নিজেদের অন্তরে আনন্দ উপভোগ করে, এবং বিশ্বাস করে যে, ঈশ্বরের মনোনীত লোকেদের থেকে এমন আচরণই কাম্য, তাহলে তার আর পৌলের মধ্যে কোনো পার্থক্যই নেই, এবং তারা ইতিমধ্যেই খ্রীষ্টবিরোধীদের পথে চলা শুরু করেছে। … খ্রীষ্টবিরোধীরা বাস্তব কাজ করে না, তারা সত্যের বিষয়ে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করে না, তারা ঈশ্বরের বাক্য ভোজন ও পানের বিষয়ে এবং সত্যের বাস্তবিকতায় প্রবেশের ক্ষেত্রে মানুষকে নির্দেশিত করে না। তারা শুধুই মর্যাদা ও খ্যাতির জন্য কাজ করে, শুধুমাত্র নিজেদের প্রতিষ্ঠা করার কথা ভাবে, মানুষের হৃদয়ে নিজেদের অবস্থান রক্ষা করে, আর সবাইকে দিয়ে নিজের উপাসনা, প্রশংসা এবং অনুসরণ করায়; এই সমস্ত লক্ষ্যই তারা পূরণ করতে চায়। এইভাবেই খ্রীষ্টবিরোধীরা মানুষকে জয় করার এবং ঈশ্বরের মনোনীত ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে। এই রকম কাজের ধরণ কি শয়তানোচিত নয়? এটা ঘৃণ্য!(বাক্য, খণ্ড ৪, খ্রীষ্টবিরোধীদের উন্মোচন, প্রথম পরিচ্ছেদ: তারা মানুষকে স্বপক্ষে নিয়ে আসতে চায়)। ঈশ্বরের বাণীর এই অংশটি পড়ার পর, আমি গভীরভাবে বিব্রত বোধ করি। ঈশ্বরের বাণী সঠিকভাবে আমার অবস্থা প্রকাশ করে দিয়েছিল। স্পষ্ট দেখেছিলাম দুজন যাজক প্রকৃত কাজ করেননি, এবং সমস্যাটি গুরুতর, আমার উচিত ছিল ঈশ্বরের সেই বাণীগুলি ব্যবহার করা যা মানুষের ভ্রষ্ট স্বভাব বিচার ও প্রকাশ করে আলাপ-আলোচনার করা যাতে তাঁরা তাঁদের সমস্যাগুলো জানতে পারেন এবং তাঁদের কর্তব্যের প্রতি তাঁদের মনোভাব পরিবর্তন করতে পারেন। এটি তাঁদের গির্জার কাজকে প্রভাবিত করা থেকে বিরত রাখত। কিন্তু তাঁদের সাথে আমার সম্পর্ক বজায় রাখতে গিয়ে এবং তাঁদের একটি ভাল ধারণা দিতে গিয়ে, আমি তাঁদের সমস্যার সারসত্তা প্রকাশ করিনি, আমি তাঁদের উৎসাহিত করার জন্য শুধু ঈশ্বরের সান্ত্বনাদায়ক বাণী ব্যবহার করি। আমি ভেবেছিলাম, এটা করলে, তাঁরা আমাকে একজন ভালো নেতা মনে করবেন এবং আমার সম্পর্কে ভালো মতামত পোষণ করবেন, আমাকে সমর্থন করবেন, এবং আমাকে পছন্দ করবেন। কি স্বার্থপর ও ঘৃণ্য ছিলাম আমি! যেহেতু আমি সময়মতো দুই যাজকের সমস্যাগুলি তুলে ধরিনি এবং প্রকাশ করিনি, নতুনরা সময়মতো তাদের ধারণার সমাধান করতে পারেনি, এবং অন্যান্য যারা সবেমাত্র সুসমাচারকে গ্রহণ করেছিল তারা সভা-দল ছেড়ে চলে যায়। আমি বুঝতে পারলাম যে এটা আমারই নিজের কাজ। একজন নেতার দায়িত্ব হল গির্জার যাজকদের এবং দলের নেতাদের কাজ তত্ত্বাবধান করা এবং তদারকি করা, এবং সময়মতো সমস্যার সমাধান করা। আমাদের ভ্রাতাদের ও ভগিনীদের অবস্থা জানতে হবে, এবং যখন কেউ এমন কিছু করে যা নীতি লঙ্ঘন করে বা গির্জার কাজকে প্রভাবিত করে, আমাদের উচিত ভালবাসার সাথে আলাপ-আলোচনা করা এবং তাদের সাহায্য করা। যদি আমাদের আলাপ-আলোচনার পরেও কোন পরিবর্তন না হয়, তাহলে আমাদের তাদের ছেঁটে দেওয়া উচিত, মোকাবিলা বা বরখাস্ত করা উচিত। গির্জার কাজকে রক্ষা করার এটাই একমাত্র উপায়। কিন্তু একজন গির্জার নেতা হিসেবে, আমি শুধু দায়িত্বজ্ঞানহীন হয়েই ছিলাম না আমি শয়তানের দাস হিসেবে কাজ করেছিলাম এবং গির্জার কাজকে ব্যাহত করেছিলাম। এটা লজ্জাজনক ছিল! জিনিসপত্র কে এইভাবে পরিণত হতে দেখাটা অপমানজনক এবং দুঃখজনক ছিল। এই সমস্যাগুলো হয়েছে কারণ আমি একজন নেতার মতো কাজ করিনি। আমি যদি আলাপ-আলোচনা করতাম এবং তাঁদের সমস্যাগুলোকে প্রকাশ করতাম, তাহলে আমি গির্জার কাজের এমন ক্ষতি করতাম না, আমি একজন ভণ্ড নেতা ছিলাম যে কোনও আসল কাজ করেনি। আমি আমার ভ্রাতাদের ও ভগিনীদের সত্য বুঝতে সাহায্য করিনি এবং তাদেরকে ঈশ্বরের সামনে আনতে পারেনি। আমি সবসময় চাইতাম তারা আমাকে সমর্থন করুক এবং আমাকে রক্ষা করুক, যাতে তাদের কাছে আমার একটি ভাল ভাবমূর্তি থাকে এবং তাদের হৃদয়ে আমার মর্যাদা থাকে। আমি ঈশ্বরকে প্রতিরোধ করার খ্রীষ্টবিরোধী পথে হাঁটছিলাম। ঈশ্বরের বাণীর বিচার ছাড়া, আমি জানি না আমি কী অপরাধ করতে পারি। একবার এটা বুঝতে পারার পর, আমি আমার কাজের জন্য অনুতপ্ত হই, তাই আমি আন্তরিকভাবে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি: “ঈশ্বর, আমি বুঝতে পারিনি যে আমার স্বার্থপরতা গির্জার কাজের এমন ক্ষতি করে দেবে এবং আমার ভ্রাতাদের ও ভগিনীদের জীবন বিপন্ন করে দেবে। আমি এত গুরুত্বপূর্ণ কাজের অযোগ্য। ঈশ্বর, আমি অনুতাপ করতে চাই। আমি সেই ভ্রাতাদের ও ভগিনীদের ফিরিয়ে আনার আশা করছি যারা সবেমাত্র সুসমাচার গ্রহণ করেছিল। অনুগ্রহ করে আমাকে নিজেকে অনুধাবন করার জন্য পথপ্রদর্শন করুন যাতে আমি একই ভুল আবার না করি।” প্রার্থনা করার পর আমার অবস্থার একটু উন্নতি হলো, কিন্তু আমি তখনও খুব অপরাধী বোধ করতে থাকি। আমার নিজেকে একজন পাপীর মত মনে হচ্ছিল, যেন আমি যা করি তাই শয়তানের প্রতিনিধিত্ব করে, যে আমার মত মানুষকে রক্ষা করা যেত না, এবং আমার জন্য কোন আশা ছিল না।

এই সময়, এক ভগিনী আমাকে চ্যাট-গোষ্ঠীতে ঈশ্বরের কিছু বাণী পাঠান। ঈশ্বরের বাণী বলে, “তোমার প্রভূত ব্যর্থতার, দুর্বলতার, নেতিবাচক সময়ের অভিজ্ঞতাকে, ঈশ্বরের পরীক্ষা বলা যেতে পারে। এর কারণ সবই ঈশ্বরের কাছ থেকেই আসে, এবং সকল বস্তু এবং ঘটনা তাঁরই হাতে রয়েছে। তুমি যদি ব্যর্থ হও বা দুর্বল হয়ে পড় এবং পদস্খলিতও হও, সকলই ঈশ্বরে ন্যস্ত, এবং তাঁর নাগালের মধ্যেই রয়েছে। ঈশ্বরের দৃষ্টিকোণ থেকে, এ হল তোমার পরীক্ষা, এবং তুমি তা চিনতে না পারলে, তা প্রলোভনে পরিণত হবে। মানুষের চিনতে পারার মতো দুই ধরনের অবস্থা দেখা যেতে পারে: একটি পবিত্র আত্মার থেকে আসে এবং অপরটির সম্ভাব্য উৎস হল শয়তান। একটি অবস্থায় পবিত্র আত্মা তোমায় আলোকিত করবে এবং তোমায় জানতে সাহায্য করবে, নিজের বিষয়ে ঘৃণা এবং অনুতাপ করতে দেবে এবং ঈশ্বরকে প্রকৃতভাবে ভালোবাসতে সক্ষম করবে, তোমার হৃদয়কে তাঁর সন্তুষ্টিবিধানে সক্ষম করবে। অপর অবস্থায় তুমি নিজেকে জানো, কিন্তু তুমি নেতিবাচক ও দুর্বল অবস্থায় থাকো। বলা যেতে পারে যে এটি হল ঈশ্বরের পরিমার্জনা এবং, এটি শয়তানের প্রলোভনও। যদি তুমি বুঝতে পারো যে এ হল তোমার প্রতি ঈশ্বরের পরিত্রাণ এবং যদি তোমার মনে হয় যে তুমি এখন গভীরভাবে তাঁর কাছে ঋণী, এবং এখন থেকে তুমি তাঁকে পরিশোধ করতে চেষ্টা করো, এবং পুনরায় এই ধরনের অভাবে পতিত হতে না চাও, যদি তুমি তাঁর বাক্য ভোজন ও পানের উদ্দেশ্যে তোমার প্রচেষ্টাকে চালিত করো, এবং সর্বদা নিজের মধ্যে অভাব বোধ করো, হৃদয়ে আকুলতা অনুভব করো, তাহলে এই-ই হল ঈশ্বরের পরীক্ষা। যন্ত্রণা ভোগের শেষে তুমি যখন আরও একবার সামনে এগিয়ে যেতে শুরু করো, ঈশ্বর তখনও তোমাকে নেতৃত্ব দেবেন, আলোকিত, প্রদীপ্ত এবং পুষ্ট করবেন। কিন্তু তুমি যদি তা চিনতে না পারো ও নেতিবাচক থাকো, নিজেকে নিতান্ত হতাশায় একলা ফেলে রাখো, যদি তুমি এমন চিন্তাভাবনা করে থাকো, তাহলে শয়তানের প্রলোভন তোমার ওপর উপনীত হবে(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, যাদের নিখুঁত করা হবে তাদের অবশ্যই পরিমার্জনা ভোগ করতে হবে)। ঈশ্বরের বাণীর এই অংশটি পড়ার পর, আমি একটু স্বস্তি পেয়েছিলাম, এবং এগিয়ে যাওয়ারও একটা আত্মবিশ্বাস পেয়েছিলাম। আমি আগে যখন ঈশ্বরের কঠোর বাণী পড়েছিলাম, যেখানে ঈশ্বর আমার ভ্রষ্টাচার প্রকাশ করেছিলেন, সেটা ছিল বেদনাদায়ক এবং অস্বস্তিকর, এবং আমার মনে হয়েছিল আমার নিন্দা করা হচ্ছে এবং আমার রক্ষা পাওয়ার আশা নেই, তাই আমি নেতিবাচক এবং দুর্বল বোধ করেছিলাম। কিন্তু যখন আমি ঈশ্বরের বাণীর এই অংশটি পড়লাম, তখন আমি ঈশ্বরের ইচ্ছা বুঝতে পারলাম। লোকেরা যদি তাদের দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে গির্জার কাজ রক্ষা না করে এবং তারা প্রকাশিত হয় ও তাদের সাথে মোকাবিলা করা হয়, তখন তাদের পক্ষে নেতিবাচক এবং দুর্বল বোধ করা স্বাভাবিক। কিন্তু যদি আমি আমার ব্যর্থতার মধ্যে সত্যের সন্ধান করতে পারি এবং নিজেকে অনুধাবন করতে পারি, তাহলে এটা আমার কাছে একটা শিক্ষা পাওয়ার সুযোগ। যদি আমি নেতিবাচক হয়ে যেতাম, সরে যেতাম বা হাল ছেড়ে দিতাম, তাহলে আমি শয়তানের কৌশলে পড়ে যেতাম এবং প্রলোভনের কাছে হার মেনে নিতাম। আমি দেখেছিলাম যে ঈশ্বরের বিচার এবং মানুষের ভ্রষ্ট স্বভাব প্রকাশের পিছনে ঈশ্বরের ভালবাসা ছিল। ঈশ্বর চান আমরা নিজেদের কে জানি, আমাদের ব্যর্থতা থেকে শিখি, এবং শয়তানী স্বভাব দ্বারা নিয়ন্ত্রিত না হই। এটি একটি ভাল জিনিস, উন্নত হওয়ার একটি সুযোগ। এটি জানার পর, আমি আর নেতিবাচক অনুভব করিনি বা ঈশ্বরকে ভুল বুঝিনি। ঈশ্বরের বাণী ও নীতি অনুসারে আমাকে আমার দায়িত্ব পালন করতে হত। আমি আর আমার দৈহিক আবেগকে অনুসরণ করতে এবং আমার খ্যাতি ও মর্যাদাকে রক্ষা করতে পারলাম না।

পরে, আমি ঈশ্বরের কিছু বাণী পড়েছিলাম: “তোমাদের জানা উচিৎ যে যারা সৎ তাদের ঈশ্বর পছন্দ করেন। সারসত্য হলো, ঈশ্বর নিষ্ঠাবান, এবং তাই তাঁর বাক্যে সবসময় আস্থা রাখা যায়। উপরন্তু, তাঁর কার্য ত্রুটিহীন এবং প্রশ্নাতীত। সেই কারণে, ঈশ্বর তাদের পছন্দ করেন যারা তাঁর সাথে সম্পূর্ণভাবে সৎ থাকে। সততার অর্থ ঈশ্বরকে তোমার হৃদয় দেওয়া, সকল বিষয়ে ঈশ্বরের প্রতি আন্তরিক থাকা, সকল বিষয়ে তাঁর প্রতি উন্মুক্ত থাকা, কখনো তথ্য গোপন না করা, তোমার থেকে উপরে অথবা নীচে যারা রয়েছে তাদের ঠকানোর চেষ্টা না করা, এবং, শুধুমাত্র ঈশ্বরের চাটুকারিতার উদ্দেশ্য নিয়ে কোন কাজ না করা। সংক্ষেপে বললে, সৎ থাকা মানে তোমার কাজে এবং কথায় বিশুদ্ধ থাকা, এবং, ঈশ্বরের ও মানুষের সাথে প্রবঞ্চনা না করা(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, তিনটি সাবধানবাণী)। “সবসময় নিজের স্বার্থের জন্য কিছু কোরো না এবং ক্রমাগত নিজের স্বার্থ বিবেচনা কোরো না; মানুষের স্বার্থ বিবেচনা কোরো না, এবং তোমার নিজের গর্ব, খ্যাতি, বা মর্যাদা সম্পর্কে কোনো চিন্তা কোরো না। তোমাকে প্রথমে অবশ্যই ঈশ্বরের গৃহের স্বার্থের কথা চিন্তা করতে হবে এবং সেগুলিকেই তোমায় অগ্রাধিকার দিতে হবে। তোমার ঈশ্বরের ইচ্ছার বিবেচনা করা উচিত, এবং তুমি তোমার দায়িত্ব পালনে অশুদ্ধ হয়েছ কিনা, তুমি অনুগত ছিলে কিনা, তোমার দায়িত্ব পালন করেছ এবং তোমার সমস্ত কিছু দিয়েছ কিনা, সেইসাথে তুমি আন্তরিকভাবে তোমার কর্তব্য এবং গির্জার কাজ সম্পর্কে ভেবেছ দিয়েছ কিনা, তা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা শুরু করা উচিত। তোমাকে অবশ্যই এই বিষয়গুলি বিবেচনা করতে হবে(বাক্য, খণ্ড ৩, অন্তিম সময়ের খ্রীষ্টের উপদেশ, কেবলমাত্র ভ্রষ্ট স্বভাব পরিহার করলে তবেই স্বাধীনতা ও মুক্তি অর্জন করা যেতে পারে)। ঈশ্বরের এই বাণীগুলি আমাকে সাহায্য করেছিল। ঈশ্বরের বাণী থেকে, আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে ঈশ্বর প্রতারককে ঘৃণা করেন কিন্তু সৎ লোকদের ভালবাসেন। সৎ লোকেরা গির্জার কাজ এবং তাদের ভ্রাতা ও ভগিনীদের জীবনে প্রবেশকে রক্ষা করে। যখন সৎ লোকেরা নেতা হয়, তখন গির্জার কাজে কখনই দেরি হয় না। আমাকে গির্জার কাজকে প্রথমে রাখতে হয়েছিল এবং সততার সাথে দুই যাজকের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। আমাকে আলাপ-আলোচনা করে তাঁদের কাজগুলিকে প্রকাশ করতে হয়েছিল যাতে তাঁরা তাঁদের সমস্যার গুরুত্ব বুঝতে পারেন, সত্যিকারের অনুতপ্ত হন, এবং আবার দায়িত্বপূর্ণ ভাবে কাজ শুরু করতে পারেন। আমার আলাপ-আলোচনার পরেও যদি তাঁরা নিজেদের পরিবর্তন না করতেন, তাহলে গির্জার কাজ রক্ষা করার জন্য আমাকে তাঁদের বরখাস্ত করতে হত।

পরে, আমি ঈশ্বরের কিছু বাণী খুঁজে পাই এবং প্রথমে ভ্রাতা কেভিনের সাথে আলাপ-আলোচনা করি, তাঁকে জানাতে যে এই সামাজিক প্রবণতাগুলি শয়তানের প্রলোভন এবং তাঁর দৈহিক প্রবণতা ছেড়ে দেওয়া উচিত। তারপর, আমি ভগিনী জেনেলের সাথে আলাপ-আলোচনা করি ও তুলে ধরি তার কাজে তার দায়ভার নেওয়ার অভাবকে, এবং ঈশ্বরের ইচ্ছার প্রতি বিবেচনাশীল হতে বলি। আশ্চর্যভাবে, আমার আলাপ-আলোচনার পরে, তাঁরা দুজনেই তাঁদের দায়িত্ব পালনের প্রতি তাঁদের মনোভাব পরিবর্তনে এবং তাঁদের আচরণ সংশোধনে ইচ্ছুক ছিলেন। পরে ভ্রাতা কেভিনও কিছু পরিবর্তন করেছিলেন, তাই যখন তিনি আবার প্রলুব্ধ হন, তখন তিনি সচেতনভাবে তাঁর নিজের দৈহিক প্রবণতাকে ত্যাগ করতে পেরেছিলেন, এবং ভগিনী জেনেল তাঁর দায়িত্ব আরও সক্রিয় ভাবে পালন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। আমি যখন এই ফলাফল দেখলাম, তখন আমি তাঁদের সমস্যাগুলি আরো আগে তুলে না ধরার জন্য নিজেকে দোষারোপ করলাম। আমি এটাও দেখেছিলাম যে যারা সত্যকে গ্রহণ করে তারা যখন প্রকাশিত হয় এবং উপদেশ পায় তখন তারা নেতিবাচক হয় না। তারা সেটার থেকে নিজেদের জানতে, সত্যিকারের অনুতপ্ত হতে এবং ঈশ্বরের সাথে আরও ভাল সহযোগিতা করতে সক্ষম হয়। আমি খুব খুশি যে আমার এই অভিজ্ঞতা হয়েছে। ঈশ্বরের বাণীর বিচার এবং উদ্ঘাটন অনুভব করে আমি আমার নিজের ভ্রষ্টাচার সম্পর্কে কিছুটা উপলব্ধি করতে পেরেছিলাম। আমি এটাও অনুভব করেছিলাম যে সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের দ্বারা প্রকাশিত বাণী সত্য, এবং তা মানুষকে পরিবর্তন এবং রক্ষা করতে পারে। সর্বশক্তিমান ঈশ্বরকে ধন্যবাদ!

পূর্ববর্তী: ভূমিকম্পের পর

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।

সম্পর্কিত তথ্য

Leave a Reply

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন