একজন সহকর্মী প্রতিদ্বন্দ্বী নয়

18-02-2023

অন্তিম সময়ে ঈশ্বর কর্তৃক প্রদত্ত দায়িত্ব গ্রহণ করার পর পরই আমি নতুনদের সহযোগিতা করতে শুরু করি। যেহেতু আমি উৎসাহী এবং সক্রিয় ছিলাম, তাই আমি আমার কাজের কিছু ফলাফল পেয়েছিলাম, এবং গ্রুপ লিডার নির্বাচিত হয়েছিলাম। পরে, আমি একজন পরম সত্য প্রচারক হয়েছিলাম। আমার ব্রাদার ও সিস্টারেরা বলতেন যে আমি কম বয়সী হলেও নির্ভরযোগ্য ছিলাম, আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি এবং আমি দায়িত্ববান ছিলাম। এ জন্য আমি খুব গর্বিত ছিলাম। ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে আমি গির্জার একজন লিডার হই, যা আমাকে এই বিষয়টি আরও বেশি অনুভব করিয়েছে যে আমার ব্রাদার ও সিস্টারদের কাছে আমি একজন সত্যের অনুসারী ছিলাম। এর কিছু পরে, একজন উচ্চ পর্যায়ের নেতা আমার সাথে কাজ করার জন্য ভগিনী অলিভিয়া-কে আনলেন। তাকে কাজের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময়, লিডার আমাদের গির্জার কিছু সমস্যার কথা বলেন। এই কথা শোনার পর অলিভিয়া বললেন, “আমাদেরকে সমস্যার উৎস খুঁজে বের করতে হবে এবং দ্রুত এর সমাধান করতে হবে। অন্যথায়, এটি গির্জার কাজকে বাধাগ্রস্ত করবে।” ওর কথা শুনে আমি লজ্জা পেলাম, কারণ, আমি এই নিয়ে চিন্তিত ছিলাম যে অলিভিয়া আমার কাজের ক্ষেত্রে এই সমস্যাগুলো হওয়ার জন্য আমাকে অবজ্ঞা করবেন। পরের কয়েক দিনের মধ্যে অলিভিয়া গির্জার বাস্তব পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। তারপর, তিনি আমাকে বেশ কয়েকজন সহকর্মী এবং ব্রাদার ও সিস্টারদের সামনে বললেন, “গত দুই দিনে আমি যে সকল পরম সত্য প্রচারক এবং গ্রুপ লিডারদের সাথে দেখা করেছি, তারা কোনও দায়িত্ব পালন করেন না। যখন নতুনদের কোনও ধারণা থাকেনা এবং তারা অসুবিধার সম্মুখীন হন, তখন গ্রুপ লিডাররা তাদের সমস্যার সমাধান করার পরিবর্তে তাদের বিপদে ফেলতো। তারা নতুনদের এভাবে সহযোগিতা করতে পারত না।” তিনি যা বললেন তা শুনে আমি কিছুটা অসম্মত হলাম। কিন্তু খুব কম গ্রুপ লিডারকেই আমি অন্যদেরকে সহায়তা করতে দেখেছি। তার মতে, তাদের কেউই ভালো ছিল না, তাই আমার মনে হয়েছিল তিনি হয়তো একটু বেশি কিছু চাচ্ছেন। আমি ভাবতাম, “আপনি সবেমাত্র এসেছেন এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতি সম্পর্কে জানেনও না। তারপরও আপনি ত্রুটি খোঁজা শুরু করেছেন। আপনি কি এটি দেখাতে চান যে আপনি দায়িত্ব পালন করেন এবং সমস্যাগুলি খুঁজে বের করতে পারেন? আপনি এখানে নতুন বলে কি প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছেন? আপনি যদি আমার কাজের ভুল ধরতেই থাকেন, তাহলে আপনি আমার ব্রাদার ও সিস্টারদের চোখে আমার ভালো ভাবমূর্তি নষ্ট করবেন।” আমি রাগ চেপে রেখে বললাম, “আপনার এই প্রশ্ন সঠিক। তবে, গ্রুপ লিডার এবং পরম সত্য প্রচারক উভয়ই বাস্তব ক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, তাই কখনও কখনও অনুসরণ করার কাজটি ভালভাবে করা যায় না এবং আমাদেরকে তা বুঝতে হবে।” একথা শোনার পর তিনি বললেন, “সত্যকে গ্রহণ করার মাধ্যমে এই সমস্যাগুলি সমাধান করা যেতে পারে। যদি তারা সত্যকে গ্রহণ করতে পারে এবং ঈশ্বরের ইচ্ছা বুঝতে পারে, তারা তাদের দায়িত্ব বুঝতে পারবে এবং পালন করবে। মূল বিষয় হল এই সমস্যাগুলো সমাধান করার জন্য আমরা সত্য গ্রহণ করব কি না।” কিন্তু আমি এটা সঠিকভাবে গ্রহণ করতে পারিনি, এমনকি আমি আরও অনেক বেশি রাগান্বিত হয়েছিলাম। আমি অবাক হয়ে গিয়েছিলাম, “আপনি কি বলতে চাচ্ছেন না যে আমি সত্যেকে গ্রহণ করতে পারিনি?” অলিভিয়া সম্পর্কে আমার দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছিলো। আমি তাকে আর আমার সঙ্গী ও সাহায্যকারী না ভেবে বরং আমার প্রতিপক্ষ হিসাবে ভাবছিলাম। আমি ভাবলাম, যদি এমনটিই চলতে থাকে, তবে আজ হোক কাল হোক, এই কাজের নেতৃত্ব তিনিই নিয়ে নেবেন, কিন্তু আমি ছিলাম লিডার এবং তিনি এখানে কেবল আমাকে সহযোগিতা করতে এসেছিলেন। তিনি সব দিক দিয়ে আমার চেয়ে ভালো ছিলেন এবং সবসময় আমাকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতেন। আমি এভাবে কীভাবে কোনও পদমর্যাদা পাব? এবং আমার ব্রাদার-সিস্টাররা আমাকে নিয়ে কী ভাববেন? এর পরে, আমি আর তার সাথে কাজ করতে এবং কথা বলতে চাইনি। একবার, সহকর্মীদের সাথে মিটিংয়ে, আমরা ঈশ্বরের বাণী পড়ি, সেখানে বলা হয় যে ভন্ড লিডাররা বাস্তব ক্ষেত্রে কাজ করে না, এবং অলিভিয়া এক্ষেত্রে নিজেকে মনে করেন এবং বলেন যে তিনি কিছু সময়ের জন্য গির্জায় ছিলেন, কিন্তু তিনি বাস্তব ক্ষেত্রে কাজ না করার কারণে, নতুনদের সমস্যাগুলো সময় মতো সমাধান করা যায়নি, তাই তারা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল এবং কীভাবে জীবনে সত্য চর্চা করতে হয় তা না জানায় তাদের জীবনে উন্নতি বিলম্বিত হয়েছিল। যদিও তিনি আমার কাছে আত্ম-জ্ঞান নিয়ে আলোচনা করছিলেন, তারপরও আমার মনে হচ্ছিল যে, আমি যে আমার আসল কাজ করছি না তা তিনি সবাইকে জানাচ্ছেন। আমি অনুমান করতে লাগলাম তিনি কী বোঝাতে চাইছেন, “আপনি আমার কাজের সমস্যা সম্পর্কে ইচ্ছাকৃতভাবে সবাইকে জানাতে এই সমস্যাগুলোর কথা বলছেন, তাই না? ব্রাদার ও সিস্টাররা আগে আমার সম্পর্কে ভালো ধারণা পোষণ করতেন, কিন্তু এখন আপনি আমাকে সবার সামনে যেভাবে উপস্থাপন করেছেন, তাতে কি আমার ভাবমূর্তি নষ্ট হবে না? তারা এখন আমার সম্পর্কে কী ভাববেন?” সেই সময়ে, আমি খুব বিরক্ত হয়ে চলে যেতে চাইলাম, কিন্তু আমার মনে হয়েছিল যে এই কাজটি করা যুক্তিসঙ্গত হবে না, তাই আমি শেষ পর্যন্ত থাকার জন্য নিজেকে বোঝালাম।

সেই সন্ধ্যায়, অলিভিয়া আমার কাছে নতুন গ্রুপ লিডার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করতে এসেছিলেন এবং জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, এমন কে আছেন যিনি প্রচারের কাজ সুন্দরভাবে করতে পারবেন এবং যাকে আমরা নির্বাচন করতে পারবো। তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করার পর, আমি খুব বিরক্ত বোধ করেছিলাম। আমি ভাবলাম, “আর কোনও উপযুক্ত প্রার্থী আছে কি? আপনি সকল উপযুক্ত প্রার্থীকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। আমাদের গির্জায় অনেক সমস্যা আছে যা এখানে খোলাখুলিভাবে না বলে, আপনি অন্য গির্জার ব্রাদার ও সিস্টারদের সামনে তাদের আলোচনা করেন। এখন তারা জানে আমি ব্যবহারিক কাজ করি না। কথা বলার সময় আমার অনুভূতির কথা ভাবেন না কেন? আমি মনে করি আপনি ইচ্ছাকৃতভাবে আমাকে আক্রমণ করছেন!” আমি কড়া গলায় বললাম, “আপনি আসার পর থেকে আর কেউ দায়িত্ব বহন করেনি।” তিনি আমাকে নিচু গলায় উত্তর দিলেন, “তাহলে আপনি কি বলতে চাচ্ছেন আমার এখানে থাকা উচিত নয়?” আমি খুব আবেগপ্রবণ ছিলাম, এবং আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে আমি যা বলেছি তা ভুল ছিল, তাই আমি সাথে সাথে উত্তর দিলাম “না।” কাজ নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আগে আমরা দুজনেই কিছুক্ষণ চুপ করে রইলাম। পরে আমি সিস্টারকে কড়া কথা বলার জন্য অপরাধ বোধ করি। ওনার সাথে আমার এভাবে কথা বলা উচিত হয়নি। আলোচনা শেষ হওয়ার পর আমি তার কাছে ক্ষমা চাইতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আমি কাজে ব্যস্ত হওয়ার পর তা ভুলেই গেলাম।

পরে যখন দেখলাম ঊর্ধ্বতন লিডার অলিভিয়ার সঙ্গে সব বিষয়ে পরামর্শ করছেন, আমার খুব অস্বস্তি লাগছিল। “আমিও একজন লিডার। আমার ব্রাদার-সিস্টারেরা আমাকে নিয়ে কী ভাববে? তারা কি বলবে যে আমি একজন লিডার হিসাবে ব্যর্থ এবং আমি অপ্রয়োজনীয়?” আমি অনুভব করলাম অলিভিয়া আমার খ্যাতি চুরি করছে এবং আমি তার প্রতি ঈর্ষান্বিত ছিলাম। আমি ভাবলাম, “তিনি এখানে না আসলে লিডার আমার সাথে কাজ নিয়ে আলোচনা করতেন।” আমি আরও ভাবলাম যে অলিভিয়া এখন সমস্ত কাজে আধিপত্য বিস্তার করেছে, এবং তিনি দীর্ঘকাল ধরে ঈশ্বরে বিশ্বাস করেছিলেন এবং আমার চেয়ে অনেক বেশি সত্য বুঝতে পেরেছিলেন। তিনি আমার ব্রাদার ও সিস্টারদের সামনে আমার কাজের সমস্যাগুলিও তুলে ধরেছিলেন, তাই এখন আমার ব্রাদার ও সিস্টাররা আমাকে নিয়ে কী ভাবছিলেন সে সম্পর্কে আমার ধারণা ছিল না। এসব ভাবতে ভাবতেই একটা সমস্যা অনুভব করলাম। আমি চিন্তিত ছিলাম অলিভিয়া আমার নেতৃত্বের অবস্থান নেবে। আমি এটি সম্পর্কে যত বেশি চিন্তা করেছি, ততই আমি অসন্তুষ্ট বোধ করেছি এবং আমার প্রতিশোধ নেওয়ার ইচ্ছা জেগেছিলো: “আপনি আমার অনুভূতি সম্পর্কে চিন্তা না করলে আমিও এখন থেকে আপনার জন্য ব্যাপারগুলি সহজ করব না।” আমার মনে আছে একবার, আমরা কাজ নিয়ে আলোচনা করছিলাম, এবং অলিভিয়া তার মতামত প্রকাশ করার পরে, তিনি আমার পরামর্শ চেয়েছিলেন। আমি তাকে উপেক্ষা করেছিলাম এবং তার কাজের ব্যবস্থায় ত্রুটি খুঁজে পেয়েছিলাম, এটা সেটা বলে ইচ্ছাকৃতভাবে তার জন্য কাজকে কঠিন করা যাবে না। একবার আমরা এমন একটি কাজ নিয়ে আলোচনা করছিলাম যেটির জন্য অলিভিয়া প্রধানত দায়ী। সেই সময়ে, আমি জানতাম কীভাবে সমস্যাটি সমাধান করা যায়, কিন্তু আমি কোনও পরামর্শ দিতে চাইনি। এমনকি আমি ভেবেছিলাম, “আপনার কর্মসূচী ব্যর্থ হলে ভাল হবে। এইভাবে, সবাই জানবে যে আপনি বিষয়গুলি পরিচালনা করতে পারেন না এবং লিডার দেখবেন আমার পরিবর্তে আপনার সাথে আলোচনা করা ভুল ছিল।” এর পরে, তিনি বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছিলেন, যেগুলি আমি প্রত্যাখ্যান করি। যখন আমি দেখলাম যে তিনি কীভাবে এটি সমাধান করবেন তা জানেন না এবং তিনি চান যে আমি তাকে কিছু পরামর্শ দিই, আমি তখন বরং নিজেকে নিয়ে গর্বিত হলাম। আমি ভাবলাম, “আপনি এরকম কাজও ঠিকভাবে আয়োজন করতে পারেন না, কিন্তু তারপরও আপনি আমার কাজের দিকে আঙুল তোলার সাহস করেন।” তখন আমার লিডার দেখলেন যে আমার চিন্তা-ভাবনা সহায়ক নেই এবং আমাকে মনে করিয়ে দিল যে আমাকে অলিভিয়া’র সাথে তাল মিলিয়ে কাজ করতে হবে, অন্যথায় গির্জার কাজ বিলম্বিত হবে। আমার লিডারের কথা শুনে আমি মনে মনে নিজেকে তিরস্কার করলাম। আমাদের কাজ যখন আটকে আছে, তখন আমি কেন তা সমাধানের দায়িত্ব নিলাম না? তা না করে আমি পাশে দাঁড়িয়ে থেকে হাসছিলাম। আমি মোটেও গির্জার কাজ সম্পন্ন করতে অবদান রাখছিলাম না। এটি উপলব্ধি করার পর, আমি আমার মানসিকতা পরিবর্তন করে আলোচনায় অংশ নিয়েছি। কিন্তু আগের আলোচনার ক্ষেত্রে দেরি হওয়ায় কাজটি অনেক দেরিতে সম্পন্ন হয়েছে। এক রাতে লিডার আমার সমস্যাগুলো আমাকে দেখাতে আমার কাছে এলেন। তিনি বললেন, “প্রতিপত্তি এবং পদমর্যাদার জন্য আপনার শক্তি খুব প্রবল। আপনি খ্যাতির জন্য অলিভিয়ায়ের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। কাজ নিয়ে আলোচনা করার সময়, আপনি তার কোনো মতামত গ্রহণ করেন না। প্রত্যেকের কথা খণ্ডন করেন। অলিভিয়া আপনাকে দেখে অপ্রস্তুত বোধ করেন এবং আপনার সাথে কীভাবে কাজ করতে হয় তা তিনি জানেন না। আপনার নিজের সম্পর্কে জানানো দরকার।” আমার লিডার যা বললেন তা শোনার পর, আমি খুব দুঃখিত এবং ক্ষুব্ধ হয়েছি: “কেন অলিভিয়া আমার অগোচরে আমার সমস্যার কথা জানাচ্ছেন? তিনি যদি সত্যিই আমাকে সাহায্য করতে চান, তাহলে তিনি আমাকে ব্যক্তিগতভাবে বলতে পারেন। এখন লিডার আমার সমস্যার কথা জেনে আমাকে আমার দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত করতে পারেন।” এটা ভাবার সাথে সাথেই আমি লিডারের কাছে আমার অবস্থার কথা খুলে বললাম। এমনকি আমি পদত্যাগ করার প্রস্তাবও দিলাম, যাতে গির্জার কাজে দেরি না হয়। এই কথাগুলো বলার সময় আমার খুব কষ্ট হচ্ছিল। আমার মনে হচ্ছিল আমি আমার দায়িত্ব হারাতে যাচ্ছি। লিডার আমাকে বললেন, “আমাদের কোনো সমস্যা থাকলে তা কোনো সমস্যা থাকলে আমরা সেগুলি এড়াতে পারি না। আমাদের সত্যের সন্ধান করতে হবে এবং নিজেদের উপর সেটির প্রভাব ফেলতে হবে। অলিভিয়া কাজের মধ্যে থেকে সমস্যা খুঁজে বের করতে পারেন, এর অর্থ হল তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারবেন। এটা কি গির্জার কাজের জন্য উপকারী নয়? কেন আপনি এই বিষয়টি সঠিকভাবে মেনে নিতে পারেন না? আপনি সর্বদা তার প্রতি ঈর্ষান্বিত থাকেন এবং ভয় পান যে তিনি আপনার দায়িত্ব নিয়ে নেবেন। এটিই দেখায় যে পদমর্যাদার জন্য আপনার শক্তি খুব প্রবল।” আমার লিডারের উপদেশের পর, আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে, খ্যাতি এবং মর্যাদার জন্য আমার ইচ্ছাশক্তি সত্যিই খুব প্রবল ছিল। সমস্যা সমাধানে আমাকে সত্যের সন্ধান করতে হয়েছিল। আর নিষ্ক্রিয় এবং প্রতিরোধী হতে পারিনি।

এর পরে, আমি ঈশ্বরের বাণী সম্বলিত একটি অনুচ্ছেদ পড়েছিলাম, এবং আমি যে অসৎ স্বভাব প্রকাশ করেছিলাম তার কিছুটা উপলব্ধি করি। “খ্রীষ্টবিরোধীরা ভাবে যারা তাদের অনাবৃত করছে, তারা নিছক তাদের জন্য কঠিন পরিস্থিতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই তা করছে, তাই তাই যারা তাদের অনাবৃত করে তাদের সাথে প্রতিযোগিতা ও লড়াই করে খ্রীষ্টবিরোধীরাই তাদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন করে তোলে। নিজেদের খ্রীষ্টবিরোধী স্বভাবের কারণে, যারা তাদের মোকাবিলা করে বা তাদের অপ্রয়োজনীয় অংশ কর্তন করে তাদের প্রতি কখনোই তারা সদয় ব্যবহার করবে না, বা এমন যারা করে তাদের সহ্য অথবা বরদাস্তও করবে না, তাদের কৃতজ্ঞতা জানানো বা তাদের প্রশংসা করা তো আরোই দূরের কথা। বরং তার বিপরীতে, যদি তাদের সাথে কেউ মোকাবিলা করে বা অপ্রয়োজনীয় অংশ কর্তন করে এবং তাতে তাদের মর্যাদা বা সম্মানহানি হয়, তাহলে সেই ব্যক্তির প্রতি তারা অন্তর থেকে ঘৃণা পোষণ করে, আর তাদের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। অপরের প্রতি তাদের কতই না ঘৃণা! তারা এটাই ভাবে আর অন্যান্যদের সামনে খোলাখুলি তারা বলে, ‘আজ তুমি আমার মোকাবিলা করলে, অপ্রয়োজনীয় অংশ কর্তন করলে, ঠিক আছে, এখন আমাদের শত্রুতা পাথরের গায়ে লেখার মতো স্থায়ী হয়ে গেল। তুমি তোমার পথে যাও, আর আমি আমার পথে যাবো, কিন্তু শপথ করছি আমার প্রতিশোধ আমি নেবোই! তুমি আমার কাছে যদি নিজের ভুল স্বীকার করো, আমার কাছে মাথা নত করো, বা নতজানু হয়ে আমার কাছে ভিক্ষা করো, তবেই আমি তোমাকে ক্ষমা করব, অন্যথায় আমি কখনোই ছেড়ে দেবো না!’ খ্রীষ্টবিরোধীরা যাই বলুক বা করুক না কেন, তারা কখনই কারও সদয় কর্তন বা মোকাবিলা বা কারও আন্তরিক সাহায্যকে ঈশ্বরের প্রেম এবং পরিত্রাণের আগমন হিসাবে দেখে না। পরিবর্তে, তারা এটা অপমানের চিহ্ন হিসাবে দেখে এবং এটাকে তাদের সবচেয়ে বড় বিব্রত মুহূর্ত হিসাবে গণ্য করে। এর থেকে দেখা যায় যে খ্রীষ্টবিরোধীরা সত্যকে একেবারেই গ্রহণ করে না, তাদের স্বভাবে সত্যের প্রতি হীন এবং ঘৃণার মনোভাব রয়েছে(বাক্য, খণ্ড ৪, খ্রীষ্টবিরোধীদের উন্মোচন, নবম পরিচ্ছেদ: কেবলমাত্র নিজেদেরকে বিশিষ্ট ভাবে তুলে ধরতে এবং নিজেদের স্বার্থ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে পরিতুষ্ট করতেই তারা তাদের কর্তব্য করে; তারা কখনোই ঈশ্বরের গৃহের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে না, এবং ব্যক্তিগত গৌরবের বিনিময়ে এমনকি সেই স্বার্থ বিক্রয় অবধি করে দেয় (অষ্টম অংশ))। ঈশ্বর বলেন, যখন খ্রীস্টবিরোধীদের ছাঁটাই করা হয় এবং তাদের সাথে যে মোকাবেলা করে, তখন তারা তা মেনে নিতে পারে না, এটা কেবল এমনই নয়, বরং যে ছাঁটাই করেছে এবং তাদের সাথে যে মোকাবেলা করেছে সেই ব্যক্তিকেও তারা ঘৃণা করতে শুরু করে এবং প্রতিশোধ নিতে চায়। আমি জানি যে খ্রীস্টবিরোধীরা সত্যকে গ্রহণ করতে পারে না, এবং সত্যের ব্যাপারে বিরক্ত হয়ে পড়ে এবং সত্যকে ঘৃণা করে। অতীতে, যখন আমি “মানুষের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ” শব্দগুলি দেখতাম, তখন আমি ভাবতাম এই পদ্ধতিটি অসৎ। আমি বিশ্বাস করতাম যে আমি অনৈতিকতা প্রকাশ করিনি এবং এই কাজগুলি করতে পারব না, এবং শুধুমাত্র খ্রীষ্টবিরোধীরা এবং অন্যায়কারীরাই মানুষের উপর প্রতিশোধ নেবে। আমি আমার নিজের আচরণ নিয়ে আবার ভাবলাম: যখন অলিভিয়া আমার সহকর্মী, ব্রাদার ও সিস্টারদের সামনে আমার কাজের সমস্যাগুলো তুলে ধরেন, আমি ভাবতাম যে আমার ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে, তাই আমি তার বিরুদ্ধে পক্ষপাত এবং প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলাম। একটি বৈঠকের সময়, অলিভিয়া বুঝতে পারলেন যে তিনি ঈশ্বরের বাণীর উপর ভিত্তি করে বাস্তব কোনও কাজ করেননি, এবং আমি ভাবতাম যে, সে তার নিজের জ্ঞান প্রকাশ করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে কাজের ক্ষেত্রে আমার সমস্যাগুলি প্রকাশ করছে, তাই তার প্রতি আমার ভুল ধারণা ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছিল। এমনকি আমি তাকে এই বলে দোষারোপও করেছিলাম যে সে আসার পর থেকে আর কেউ দায়িত্ব পালন করে না। এরপর যখন আমি দেখলাম যে লিডার সবসময় কাজ নিয়ে তার সাথে আলোচনা করছেন, আমি বুঝতে পারলাম অলিভিয়া আমার স্থান দখল করেছে। তার বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য, আমরা যখন কাজ নিয়ে আলোচনা করতাম তখন আমি আমার পরামর্শগুলি প্রকাশ করতাম না, এবং যখন অলিভিয়া তার চিন্তাভাবনা ও পরামর্শ ব্যক্ত করতেন, আমি ত্রুটি খুঁজতাম এবং তাকে অস্বীকৃতি জানাতাম, যার ফলে কাজের অগ্রগতি অসম্ভব ছিল। আমি আমার সিস্টারকে প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করতাম। আমার খ্যাতি এবং পদমর্যাদা বজায় রাখার জন্য, এমনকি আমি তার বিরুদ্ধে আক্রমণ এবং প্রতিশোধও নিতে পারতাম। আমি যে স্বভাব দেখিয়েছিলাম তা কি খ্রীষ্টবিরোধীদের মতই ছিল না? এছাড়াও, আমি এই বিষয়টি সম্পর্কে ভাবলাম যে তিনি আমার কাজের প্রকৃত সমস্যাগুলি চিহ্নিত করছেন। আমি যদি সত্যকে নিজের উপর প্রতিফলিত করার জন্য চিন্তা করতাম এবং ভুল ধারণাগুলোকে সঠিক করার জন্য সত্যের সন্ধান করতাম, তাহলে সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা যেত। এটি আমাদের কাজের জন্য উপকারীও হতো। কিন্তু আমি কেবল এটি মেনেই নিই নি তাই নয়, বরং আমি আমার সিস্টারের বিরুদ্ধে প্রতিশোধও নিতে চেয়েছিলাম। আমি সত্যিই ঈশ্বরে বিশ্বাসী বলার যোগ্য ছিলাম না!

পরবর্তীতে, আমি ঈশ্বরের বাণী সম্বলিত আরও দুটি অনুচ্ছেদ পড়ি যা আমাকে এই ধরনের আচরণের সারমর্ম এবং পরিণতি সম্পর্কে আরও সুস্পষ্ট ধারণা দিয়েছে। ঈশ্বর বলেন, “খ্রীষ্টবিরোধীদের একটা অন্যতম প্রধান প্রকৃতি হল অনৈতিকতা। ‘অনৈতিকতা’ বলতে কী বোঝায়? এর অর্থ হল সত্যের বিষয়ে তাদের এক সুনির্দিষ্ট মন্দ মনোভাব রয়েছে—তারা যে শুধু সত্যের প্রতি সমর্পণে ব্যর্থ হয় বা তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করে তাই নয়, এমনকি যারা তাদের অপ্রয়োজনীয় অংশ কর্তন করতে চায় বা সত্যের মোকাবিলা করতে চায়, তাদের তিরস্কারও করে। এটাই খ্রীষ্টবিরোধীদের অনৈতিক স্বভাব। খ্রীষ্টবিরোধীরা মনে করে, যারা নিজেদের সাথে মোকাবিলা হওয়া বা নিজেদের অপ্রয়োজনীয় অংশের কর্তন স্বীকার করে, তাদের উপহাসের পাত্র হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, আর যারা সর্বদা অন্যান্যদের মোকাবিলা বা অপ্রয়োজনীয় অংশের কর্তন করে, তারা সবসময় লোকের ওপর উপদ্রব ও উপহাস করতে চায়। সুতরাং, খ্রীষ্টবিরোধীরা তাদের মোকাবিলা বা অপ্রয়োজনীয় অংশের কর্তনকারী যেকোনো লোকের প্রতিরোধ করে, আর তাদের লাঞ্ছনাও করতে পিছপা হয় না। আর যারা খ্রীষ্টবিরোধীদের দোষত্রুটি বা ভ্রষ্টাচারগুলি তুলে ধরে, অথবা সত্যের সম্পর্কে বা ঈশ্বরের ইচ্ছা সম্পর্কে তাদের সাথে আলোচনা করে, বা তাদের আত্মোপলব্ধি করায়, খ্রীষ্টবিরোধীরা মনে করে সেই ব্যক্তি তাদের লাঞ্ছনা করছে এবং তাদের দিকে সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে। তারা সেই ব্যক্তিকে তাদের অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে ঘৃণা করে, এবং তারা তাদের উপর প্রতিশোধ নেবে ও তাদের জন্য কঠিন পরিস্থিতি তৈরী করবে। … কী ধরনের লোকেরা এইরকম অনৈতিক স্বভাবের অধিকারী হয়? মন্দ লোকেরা। আসল কথা হচ্ছে যে খ্রীষ্টবিরোধীরা মন্দ লোক। অতএব, শুধুমাত্র মন্দ এবং খ্রীষ্টবিরোধী লোকেরাই এই ধরনের অনৈতিক স্বভাবের অধিকারী হয়। যখন কোনো হিংস্র ব্যক্তি যেকোনো ধরনের সৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উপদেশ, অভিযোগ, শিক্ষা বা সাহায্যের সম্মুখীন হয়, তখন তাদের বিনীতভাবে ধন্যবাদ জানানো বা সেগুলো গ্রহণ করার মনোভাব থাকে না, বরং থাকে ক্রোধ, চরম ঘৃণা, শত্রুতা এবং এমনকি প্রতিশোধের ইচ্ছাও(বাক্য, খণ্ড ৪, খ্রীষ্টবিরোধীদের উন্মোচন, নবম পরিচ্ছেদ: কেবলমাত্র নিজেদেরকে বিশিষ্ট ভাবে তুলে ধরতে এবং নিজেদের স্বার্থ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে পরিতুষ্ট করতেই তারা তাদের কর্তব্য করে; তারা কখনোই ঈশ্বরের গৃহের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে না, এবং ব্যক্তিগত গৌরবের বিনিময়ে এমনকি সেই স্বার্থ বিক্রয় অবধি করে দেয় (অষ্টম অংশ))। “খ্রীষ্টবিরোধীদের কাছে নিজেদের মর্যাদা ও সম্মানই সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। এরা কুটিল, চক্রান্তকারী, দুষ্ট হওয়ার পাশাপাশি, চূড়ান্ত পাপাচারীও বটে। নিজেদের মর্যাদায় ঝুঁকি দেখতে পেলে, অথবা মানুষের হৃদয়ে নিজেদের স্থান হারিয়ে ফেললে, সকল মানুষের সমর্থন ও স্নেহ থেকে বঞ্চিত হলে, মানুষের উপাসনা ও সম্মান হারিয়ে তাদের অবজ্ঞার পাত্র হয়ে পড়লে, তারা কী করে? তারা হঠাৎ-ই পাল্টে যায়। নিজেদের মর্যাদা হারানোর সাথে সাথে, তারা কোনো রকমের কোনো দায়িত্ব পালনে অনিচ্ছুক হয়ে পরে, তাদের সমস্ত কাজকর্মই খেলো হয়ে যায়, কোনো কিছুতেই তাদের আগ্রহ থাকে না। কিন্তু এটাই সর্বাপেক্ষা মন্দ অবস্থার প্রকাশ নয়। তাহলে সর্বাপেক্ষা মন্দ অবস্থার প্রকাশটি কী? এই সব লোকেরা নিজেদের মর্যাদা হারিয়ে ফেলামাত্র, এবং সমস্ত লোকেদের সম্মান খোয়ানোর সঙ্গে সঙ্গে, যখন তাদের দেখে কেউ আকৃষ্ট না হয়—তৎক্ষণাৎ তাদের ভিতর থেকে ঘৃণা, ঈর্ষা এবং প্রতিশোধস্পৃহার উদ্গিরণ ঘটে। কেবল যে তাদের ঈশ্বরভীতি নেই তা-ই নয়, এর পাশাপাশি, তাদের মধ্যে সামান্যতম আনুগত্যেরও অভাব প্রতিভাত হয়। উপরন্তু, নিজ-নিজ অন্তঃকরণে, তারা ঈশ্বরের গৃহ, গির্জা, সেখানকার নেতৃত্ব ও কর্মীদেরও ঘৃণা করতে শুরু করে; তারা প্রবলভাবে চায় যে গির্জার কাজে সমস্যাসৃষ্টি হোক বা তা স্থগিত হয়ে যাক; তারা গির্জার প্রতি, ভাই ও বোনেদের প্রতি, উপহাস করতে চায়। এছাড়াও, যারা সত্য অন্বেষণ করে ও ঈশ্বরে ভীত, তাদেরকেও এরা ঘৃণা করে। কর্তব্যনিষ্ঠ ও মূল্য চোকাতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদেরও এরা আক্রমণ ও উপহাস করে, এটাই হল খ্রীষ্টবিরোধীদের স্বভাব—এবং তা কি পাপাচার নয়? এরা স্পষ্টতই মন্দ লোক; খ্রীষ্টবিরোধীরা সারমর্মগত ভাবে মন্দ মানুষই(বাক্য, খণ্ড ৪, খ্রীষ্টবিরোধীদের উন্মোচন, নবম পরিচ্ছেদ: কেবলমাত্র নিজেদেরকে বিশিষ্ট ভাবে তুলে ধরতে এবং নিজেদের স্বার্থ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে পরিতুষ্ট করতেই তারা তাদের কর্তব্য করে; তারা কখনোই ঈশ্বরের গৃহের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে না, এবং ব্যক্তিগত গৌরবের বিনিময়ে এমনকি সেই স্বার্থ বিক্রয় অবধি করে দেয় (দ্বিতীয় অংশ))। “পাপাচারী” এবং “মন্দ লোক” এই শব্দগুলি দেখে আমি কষ্ট পেয়েছিলাম এবং আমার মনে ভয় সৃষ্টি করেছিল। এই শব্দগুলো আমার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হোক আমি তা আশা করিনি। আমার ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে কারণ আমার সিস্টার আমার কাজে সমস্যা খুঁজে বের করেছিল, তাই আমি তার অনুভূতিতে আঘাত করি এবং প্রতিশোধ নিই, কাজ নিয়ে আলোচনা করার সময় তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিব্রত করতাম, এবং তার কাজের পরিকল্পনায় ভুল বের করতাম। এমনকি যখন আমি জানতাম কিভাবে তার কাজের সমস্যা সমাধান করা যায় তখন আমি তাকে তা ব্যাখ্যাও করিনি কারণ আমি তাকে বিব্রত করতে এবং তাকে উপহাস করতে চেয়েছিলাম। যখন লিডার আমার গোপন খবর প্রকাশ করলেন এবং আমার সাথে কারও তুলনা করলেন, তখন আমি কেবল এর দ্বারা প্রভাবিতই হই নি, বরং আমার সমস্যা তুলে ধরার জন্য আমি তাকে ঘৃণা করতাম। আমার মনোভাব নেতিবাচক ছিল এবং আমি কাজে বাধা দিয়েছিলাম, আমার দায়িত্বের প্রতি আমি আমার রাগ দেখিয়েছিলাম, এমনকি পদত্যাগ করতে এবং দায়িত্ব থেকে সরে আসতে চেয়েছিলাম। আমি যা করেছিলাম তা ছিল খ্রীস্টবিরোধী, একটি দুষ্ট স্বভাবের! আমি যা বিশ্বাস করতাম তা ছিল “আমাকে আক্রমণ না করলে আমি আক্রমণ করব না” এবং “তুমি যদি নির্দয় হও তবে আমাকে অন্যায় করার জন্য দোষ দিও না।” যখন কেউ আমার আগ্রহ এবং ভাবমূর্তি নষ্ট করত, আমি তাদের ঘৃণা করতাম, তাদের আক্রমণ করতাম এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতাম। ঈশ্বরে বিশ্বাস করার আগের একটি সময়ের কথা আমি ভাবলাম, যখন আমার এক বন্ধুর সাথে দ্বন্দ্ব ছিল এবং সে আমার সম্পর্কে অন্য কারও কাছে খারাপ কথা বলেছিল। আমার খুব রাগ হয়েছিল, এবং আমি ভাবলাম, “তুমি যদি নির্দয় হও তবে আমাকে অন্যায় করার জন্য দোষ দেবে না।” আমি গোপনে সেই একই ব্যক্তিকে বললাম, “আপনি কীভাবে তার প্রতি সদয় হওয়ার মতো এত বোকা হতে পারেন? আপনি হয়তো জানেনও না যে সে আপনার পিছনে আপনার সম্পর্কে খারাপ কথা বলছে!” আমি ভেবেছিলাম আমি যদি আমার বিরুদ্ধে খারাপ কথা বলার পরেও পাল্টা আঘাত না করি তবে আমি দুর্বল। জীবন সম্পর্কে এই দর্শন আমাকে স্বার্থপর এবং দুষ্ট করে তুলেছিল এবং আমার চিন্তাভাবনাকে বিকৃত করেছে এবং ভাল-মন্দের পার্থক্য বুঝতে অক্ষম করেছে। এটি বুঝতে পেরে আমি হতবাক হয়েছিলাম এবং একই সাথে বুঝতে পেরেছিলাম যে আমি কতটা ভয়ঙ্কর। আমি যদি আমার স্বভাব মোকাবেলা না করতাম, তাহলে আমি কেবল মন্দ কাজই করতাম, তাহলে ঈশ্বর কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত এবং বহিষ্কৃত হতাম! এটা বুঝতে পেরে আমি নীরবে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করলাম, “ঈশ্বর, আমি ভাবতাম আমার মনুষ্যত্ব বোধ আছে, কিন্তু আপনার বাণীর বিচার ও উল্লেখ প্রকাশ করে যে আমার মনুষ্যত্ব কতটা খারাপ এবং আমি খুবই দুষ্ট স্বভাবের। আমি আসলে আমার সিস্টারের সদয় সহযোগিতার জন্য তার বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিয়েছিলাম। আমার আসলে মনুষ্যত্বই নেই! ঈশ্বর, আমি প্রায়শ্চিত্ত করতে চাই, সত্য অনুশীলন করতে এবং নিজেকে পরিবর্তন করতে চাই। অনুগ্রহ করে আমাকে পথ দেখান।”

পরবর্তীতে, ঈশ্বরের বাণীতে আমি পড়লাম, “যখন কেউ তোমাকে কিছুক্ষণ ধরে পর্যবেক্ষণ বা নিরীক্ষণ করে, বা গভীর প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করে, তোমার সাথে ঐকান্তিক হওয়ার এবং এই সময়কালে তোমার অবস্থা কেমন থেকেছে তা অনুসন্ধানের চেষ্টা করে, এবং এমনকি কখনও কখনও যদি তাদের মনোভাব কিছুমাত্রায় কঠোরতর হয়, এবং তারা তোমার কিছুটা মোকাবিলা করে, তোমার কিছু অপ্রয়োজনীয় অংশ ছেঁটে ফেলে, এবং তোমাকে অনুশাসন ও তিরস্কারও করে—তবে বুঝবে যে, ঈশ্বরের গৃহের কাজের প্রতি তাদের বিবেকবান এবং দায়িত্বশীল মনোভাব থাকার কারণেই তারা এইসব করছে। এই বিষয়ে তোমার কোনও নেতিবাচক চিন্তাভাবনা বা অনুভূতি থাকা উচিত নয়। তুমি যদি অন্যদের তদারকি, পর্যবেক্ষণ এবং জিজ্ঞাসাবাদ গ্রহণ করতে পারো, তাহলে এর অর্থ কী? এর অর্থ হল, নিজের অন্তরে তুমি ঈশ্বরের সুবিবেচনা স্বীকার করেছ। তুমি যদি মানুষের তদারকি, পর্যবেক্ষণ এবং জিজ্ঞাসাবাদ গ্রহণ করতে না পারো—যদি এই সমস্ত কিছুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করো—তাহলে তুমি কি ঈশ্বরের সুবিবেচনা গ্রহণ করতে সক্ষম? ঈশ্বরের সুবিবেচনা মানুষের জিজ্ঞাসাবাদের থেকেও আরও বিশদ, সুগভীর এবং নির্ভুল; ঈশ্বর যে প্রশ্নগুলি করেন তা মানুষের করা প্রশ্নের থেকে আরও সুনির্দিষ্ট, যথাযথ এবং সুগভীর। তাই যদি তুমি ঈশ্বরের মনোনীত ব্যক্তিদের নজরদারিই মেনে নিতে না পারো, তবে ঈশ্বরের সুবিবেচনা গ্রহণ করার যে সক্ষমতা তুমি দাবি করো যে তোমার রয়েছে, তা কি ফাঁকা বুলি নয়? ঈশ্বরের সুবিবেচনা এবং পরীক্ষা গ্রহণ করতে সক্ষম হওয়ার জন্য, তোমাকে অবশ্যই প্রথমে ঈশ্বরের গৃহ, নেতা-কর্মী এবং ভাই ও বোনদের পর্যবেক্ষণ গ্রহণ করতে সক্ষম হতে হবে(বাক্য, খণ্ড ৫, নেতৃবৃন্দ ও কর্মীদের দায়িত্বসমূহ)। “তোমার মধ্যে যে সমস্যাই বিদ্যমান থাকুক অথবা যে ধরনের দুর্নীতিই প্রকাশিত হোক না কেন, তোমাকে অবশ্যই ঈশ্বরের বাক্যের নিরিখে আত্ম-প্রতিফলন করতে হবে এবং নিজের বিষয়ে উপলব্ধি করতে হবে, অথবা ভাই ও বোনেদের থেকে নিজের সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানতে হবে। সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল তোমাকে অবশ্যই ঈশ্বরের সুবিবেচনা গ্রহণ করতে হবে, এবং ঈশ্বরের থেকে আলোকপ্রাপ্তি ও প্রদীপ্তি লাভের জন্য তাঁর সমীপে অনুরোধ জানাতে হবে। এই বিষয়ে তুমি যেভাবেই অগ্রসর হও না কেন, আগে থেকেই সমস্যাগুলি খুঁজে বের করে, সেগুলো সমাধান করাই তোমার পক্ষে সবচেয়ে ভালো হবে, যা নিজের প্রতিফলনের পরিণামেই অর্জন করা সম্ভব। যাই করো না কেন, ঈশ্বরের দ্বারা অনাবৃত হওয়ার জন্য নিছক অপেক্ষা করে থেকো না, কারণ তখন খুব দেরি হয়ে যাবে!(বাক্য, খণ্ড ৪, খ্রীষ্টবিরোধীদের উন্মোচন, সপ্তম পরিচ্ছেদ: তারা মন্দ, প্রতারণাপূর্ণ, এবং শঠ (প্রথম অংশ))। ঈশ্বরের বাণী পড়ার পরই আমি বুঝতে পারলাম, আমার ব্রাদার ও সিস্টারদের আমাকে তত্ত্বাবধান এবং নির্দেশনা দেওয়ার মূল কারণ হল কাজ সম্পর্কে তাদের সচেতনতা এবং দায়িত্বশীলতা, এবং ঈশ্বরের কাছ থেকে আমার এটা গ্রহণ করা উচিত এবং স্বীকার করা এবং আনুগত্য শেখা উচিত। শুধুমাত্র এটা স্বীকার করা যে ঈশ্বর যাচাই করেন এবং ঈশ্বর ভীতির মতো একটি মানসিকতা থাকা। যখন সিস্টার আমার সমস্যাগুলি খুঁজে বের করে সেগুলি আমার সামনে উপস্থাপন করলেন, তা ছিল আমাকে সাহায্য এবং সহায়তা করার জন্য। আমার জীবনের অভিজ্ঞতা ছিল খুবই ভাসা-ভাসা। নতুনদের দায়িত্ব পালন করতে সমস্যা হত, কিন্তু আমি সেগুলো সমাধান করার জন্য সততার সাথে সহযোগিতা করিনি, এবং অনেক সময়, আমি কেবল কাজ শুরু করে দিতাম এবং পরবর্তীতে কোনো খোঁজখবর নিতাম না বা কোনো সহায়তাই করতাম না। আমি কর্মী ব্যবস্থাপনার নীতিগুলি আয়ত্ত করতে পারিনি, কিন্তু অলিভিয়া কিছু সত্য বুঝতে পেরেছিলেন এবং কিছু বিষয় স্পষ্টভাবে দেখতে পেয়েছিলেন, তাই যদি আমরা গির্জার কাজে সহযোগিতা করতাম, এতে শুধুমাত্র কাজ সম্পন্ন করতে সাহায্য করাই হতো না, বরং আমি তার কাছ থেকে শিখতে পারতাম এবং আরও দ্রুত উন্নতি করতে পারতাম। তখন আমি বুঝতে পারলাম যে ঈশ্বর কেন চান আমরা যেন আমাদের দায়িত্ব একা পালন না করে এই কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করি। কারণ মানুষের মধ্যে দুর্নীতিগ্রস্ত স্বভাব আছে, তাই আমাদের একে অপরের খেয়াল রাখতে হবে, একে অপরকে পথ দেখাতে হবে এবং ভুল কাজ করা থেকে বিরত রাখতে একে অপরকে সাহায্য করতে হবে। এটি ভেবে আমি বিশেষ করে নিজেকে অপরাধী মনে করতাম। আমি আর শুধুমাত্র আমার নিজের সম্মান এবং পদ মর্যাদার জন্য বেঁচে থাকতে পারবো না। আমাকে নিজের কথা না ভেবে অন্যের তত্ত্বাবধান এবং দিক নির্দেশনা গ্রহণ করা, আমার সিস্টারকে সাথে সহযোগিতা করা, সত্য সন্ধান করা এবং একসাথে কাজের সমস্যা সমাধান করা, এবং আমার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা শিখি।

এরপরে, আমি আমার নিজের দুর্নীতিগুলো প্রকাশ ও বিশ্লেষণ করার জন্য এবং অলিভিয়া-এর কাছে ক্ষমা চাওয়ার জন্য তার সাথে কথা বলতে চেয়েছি। আমার লিডার যখন আমাকে অন্য একটি গির্জায় দায়িত্ব পালনের জন্য পাঠালেন, তখন আমি খুব অবাক হয়েছিলাম। অলিভিয়া-এর থেকে আলাদা হওয়ার পরে আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে, আমি অনেক অনুতপ্ত ছিলাম। তাই আমি গোপনে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে বলতাম, আমি আমার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে চাই এবং আমার দুর্নীতিগ্রস্ত স্বভাব ঠিক করার দিকে মনোনিবেশ করতে চাই। পরবর্তীতে, নতুন গির্জায় আমি আমার দায়িত্বে নিজেকে নিয়োজিত করেছিলাম। আমার মনে আছে, একবার এস্থার, যিনি সহায়তা করার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন, নবাগতদের সমাবেশ কেমন চলছে তা জিজ্ঞাসা করার জন্য আমাকে ডেকেছিলেন। এস্থার আমাকে কিছু পরামর্শ দেন, “আপনি সবসময় অন্যদের সমাবেশে যান এবং খুব কমই নবাগতদের সমাবেশে আসেন, যা দেখে যেন মনে হয় লিডার অনুপস্থিত। কোনো ব্রাদার-সিস্টারই আপনাকে চেনে না। এটি পরবর্তীতে তাদের অবস্থা এবং অসুবিধাগুলি সঠিকভাবে জানার বিষয়টি কঠিন করে তোলে।” তার কথা শুনে আমি হতবাক হয়ে গেলাম এবং আমি বুঝতে পারলাম যে আমার মেজাজ খারাপ হচ্ছে। আমি ভাবলাম, “আপনি কীভাবে আমাকে অনুপস্থিত লিডার বলতে পারেন? আপনি কি বলতে চাচ্ছেন যে আমি কোনো কাজ করি না এবং আমি অকেজো? আপনি খুব কঠোর! এর অর্থ এই নয় যে আমি কাজ করছি না, আমি অন্যদের কাজের খোঁজ খবর রাখছি। যেহেতু আপনি এই গ্রুপের দায়িত্বে আছেন, তাহলে এই দায়িত্ব আপনিই কেন নিচ্ছেন না? আমাকেই সব কাজ করার প্রয়োজন হবে না। ঊর্ধ্বতন লিডাররা বিষয়টি জানতে পারলে মনে করবেন আমি বাস্তবিক কোনো কাজই করি না? এটি হতে পারেনা। আলোচনা করার জন্য আমাকে আপনার কাজের মধ্যে কিছু বৈচিত্র্য খুঁজে বের করতে হবে …” তখন আমি বুঝলাম যে, আমি আমার অবস্থান নিয়ে যা বুঝেছি তা ভুল ছিল। আমার সিস্টার কাজের ক্ষেত্রে আমার সমস্যাগুলি চিহ্নিত করছিলেন এবং সেগুলো স্বীকার করে শোধরানোর পরিবর্তে আমি ভেবেছি সে খুব কঠোর ছিল এবং তাকে ভুল প্রমাণ করার জন্য তার কাজের সমস্যা খুঁজতে চেয়েছি। আমি সত্য মানতে অস্বীকার করেছি এবং আবার প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করেছি। এটা বুঝতে পেরে, আমি গোপনে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করলাম, “ঈশ্বর, এস্থার আজ যে এই সমস্যাটি আমার কাছে তুলে ধরেছেন, তা আপনারই ইচ্ছা ছিল, কিন্তু আমি মেনে নিতে পারছিলাম না, যা ছিল আপনার ইচ্ছার বিরুদ্ধাচারণ। আমি অনুগত হতে চাই এবং নিজের উপর তার প্রতিফলন দেখতে চাই।” প্রার্থনা শেষ করে, আমি শান্তি পেলাম এবং নিজেকে নিয়ে চিন্তা করতে শুরু করলাম। আমি বুঝতে পারলাম যে আমার একটি সমস্যা ছিল: আমি এস্থার-এর উপর বেশিই নির্ভরশীল ছিলাম। আমার মনে হয়েছিল, তার সাথে আমি নবাগতদের সহায়তা করার দায়িত্বে থাকলে আমি অনেক আরামে থাকবো এবং আরও অনেক কাজ করতে পারব। গির্জার একজন লিডার হিসাবে, আমি খুব কমই নবাগতদের আসল অবস্থা এবং অসুবিধাগুলি জানতে পেরেছি। আমি আমার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করিনি। এটা আসলে কাজ না করার একটা কৌশল ছিল। অতঃপর, আমি এস্থার-কে বললাম, “আমি আমার সময় পুনর্বিন্যাস করব। আমি এই সমস্যাটি আগে বুঝতে পারিনি, তবে আমি এটি পরিবর্তন করতে চাই।” পরে, আমি নবাগতদের সাথে যোগাযোগ রাখতাম এবং তাদের সমাবেশে যোগ দিতাম, এবং তাদের সমস্যাগুলি সমাধানের জন্য সহযোগিতা করতাম। এইভাবে আমার দায়িত্ব পালন করে আমি খুব স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতাম। এই অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আমি এটি উপলব্ধি করেছি যে ঈশ্বরের বাণী অনুসরণ করে কাজ করার মাধ্যমে এবং আমার ব্রাদার ও সিস্টারদের তত্ত্বাবধান, নির্দেশনা, ছাঁটাই এবং আচরণগুলো গ্রহণ করার মাধ্যমে আমি আসলেই আমার মধ্যে কিছু পরিবর্তন দেখতে পেয়েছি।

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।

সম্পর্কিত তথ্য

কর্তন ও মোকাবিলা সামলানোর উপায়

—এক নিষ্ঠামূলক দিনলিপি বুধবার, সতেরোই আগস্ট, দু’হাজার বাইশ, পরিষ্কার আকাশ আমি আজ একটা নতুন কাজ শুরু করেছি। লেখালিখি সংক্রান্ত কাজ। কাজটা...

একটি ঘরোয়া যুদ্ধের নেপথ্যে

২০১০ সালের প্রথম দিকে, আমার স্ত্রী টিভিতে কিছু গুজব এবং নেতিবাচক প্রচার দেখেছিল যা কমিউনিস্ট পার্টির দ্বারা ছড়ান হয়েছিল সর্বশক্তিমান...

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন