আমি ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর শুনেছি

06-09-2022

দুই বছর আগে আমি সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের অন্তিম সময়ের কাজ গ্রহণ করেছি। সত্যি বলতে কি, আমি অনেক বেশি অর্জন করেছি দশ বছর ধরে ধর্মীয় সম্প্রদায়ের একজন বিশ্বাসী হয়ে যা অর্জন করেছি তার থেকে। আমি আর আগের মত আমার কল্পনার অস্পষ্ট ঈশ্বরে বিশ্বাস করি না, বরং বাস্তবিক দেহরূপী ঈশ্বরে বিশ্বাস করি, যিনি মানবজাতির মধ্যে চলাফেরা করেন এবং কাজ করেন, যিনি যে কোনও সময় এবং যে কোনও স্থানে সত্য ব্যক্ত করতে পারেন। আমি ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর শুনেছি, তাঁর বাণীর প্রচুর সিঞ্চন এবং পুষ্টিসাধকতা উপভোগ করেছে। আমি সত্যিই প্রভুর কাছে এসেছি।

আমার নাম মথি, এবং আমি ফ্রান্সের লিওন শহরে ক্যাথলিকদের এক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলাম। আমার বড় হওয়া প্রথাগত ক্যাথলিক নিয়ম অনুযায়ী। আমি বাপ্তিস্ম নিয়েছিলাম, আমি মাসে যেতাম, সেখানে আশীর্বাদ নিতাম এবং আমি লর্ডেস তীর্থযাত্রায় গিয়েছিলাম। বড় হওয়ার পর, আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে ক্যাথলিক যাজকরা সবসময় একই পুরানো মতবাদ প্রচার করে কোন নতুন বিষয় ছাড়া। আমার মনে হয়েছিল ওটা একটা শীতল, প্রাণহীন পরিবেশ এবং মনে হয়েছিল অন্যান্য বিশ্বাসীদের বিশ্বাস শীতল হয়ে গিয়েছে। এটা আমার জন্য নিরুৎসাহের কারণ ছিল। পবিত্র আত্মার কাজ সহ একটি গির্জা পাওয়ার আকাঙ্খা ছিল আমার যেখানে আমি প্রভুর উপস্থিতি অনুভব করতে পারতাম। এই ধরনের গির্জার সন্ধানের জন্য আমি ক্যাথলিক ধর্ম ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিলাম। এর পরে আমি জেনেভাতে গেলাম, যেখানে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলাম এবং একটা স্থানীয় খ্রীষ্টান ইভাঞ্জেলিক্যাল গির্জায় যোগ দিলাম। কিন্তু আমি দেখলাম যে যাজক শুধু আক্ষরিক মতবাদ প্রচার করেন, কয়েকটা বুলি আওড়ান, এবং আধ্যাত্মিক উপহার ও ধর্মীয় তত্ত্ব সম্পর্কে কথা বলেন যেগুলো বাস্তবতা থেকে আলাদা। এমন কিছু ছিল না যা আমাকে নাড়া দিয়েছিল বা প্রভুকে জানতে সাহায্য করেছিল। আরেকটা বিষয় আমি লক্ষ্য করি যা আমাকে আরও বেশি হতবাক করেছিল তা হল বিগ্রহ পূজা। প্রধান যাজকের ছবি ওপরে বেদীর পাশে ছিল এবং যখনই কোন নবাগত গির্জায় যোগ দিত, স্থানীয় যাজক তাকে দিয়ে প্রধান যাজকের ছবি কে প্রণাম করাতেন। প্রত্যেক দিন যাজক বিশ্বাসীদের তাঁর নিজস্ব শাস্ত্রের ব্যাখ্যা পাঠাতেন এবং ভ্রাতারা ও ভগিনীরা সেটাকে তাদের দৈনিক বরাদ্দ মনে করত, যেন তারা ঈশ্বরের বাণী পড়ছে। তারা সেগুলিকে এমনভাবে অনুশীলন করত যেন সেগুলি ঈশ্বরের নিজস্ব বাণী। এটা আমার কাছে সত্যি অস্বস্তিকর হয়ে উঠল। আমার এটা ঠিক মনে হল না। আমি দেখতে পাচ্ছিলাম যে প্রভু সেই গির্জায় ছিলেন না, এবং তাই আমি সেই গির্জাটাও ছেড়ে দিলাম। আমি নিজেকে জিজ্ঞাসা করলাম, “প্রভু সত্যিই কোথায়?” আমি সেই সময়ে সত্যিই আধ্যাত্মিকভাবে শূন্য অনুভব করছিলাম এবং ভাবছিলাম প্রভু আমাকে দূরে সরিয়ে দিয়েছেন কিনা।

তারপর থেকে আমি নিজেই বাড়িতে বাইবেল পড়তে থাকি। আমি প্রকাশিত বাক্যের তৃতীয় অধ্যায় অনেকবার পড়েছি, এবং যে অংশটা ফিলাডেলফিয়ার গির্জার কথা বলে সেই অংশটা আমার উপর বিশেষভাবে গভীর ছাপ ফেলেছিল। “তুমি আমার নির্দেশে ধৈর্য ধারণ করেছ, তাই পৃথিবীনিবাসীদের পরীক্ষার জন্য সমগ্র জগতে যে সঙ্কটকাল আসন্ন তা থেকে আমি তোমাকে অব্যাহতি দেব। আমি শীঘ্রই আসছি, তোমার যা কিছু আছে তা সযত্নে রক্ষা কর। কেউ যেন তোমার প্রাপ্য মুকুট অপহরণ করতে না পারে। যে জয়ী হবে আমি তাকে আমার ঈশ্বরের মন্দিরের স্তম্ভস্বরূপ করব, সে কখনও স্থানচ্যূত হবে না” (প্রকাশিত বাক্য ৩:১০-১২)। এই স্তবকগুলি আমাকে সত্যিই উত্তেজিত করে এবং আমার কাছে সত্যি প্রভাবশালী বলে মনে হয় কারণ এগুলো রহস্যে এবং প্রতিশ্রুতিতে পূর্ণ ছিল। আমি দেখলাম যে প্রভু স্পষ্টভাবে বলছেন যে একটা গির্জা থাকবে যা প্রভু অনুমোদন করেন, যা ফিলাডেলফিয়ার গির্জা। মনে হতে লাগল যেন প্রভু আমাকে বলছেন, “আমি এই গির্জায় আছি।” এটা আমার মধ্যে একটা প্রশ্ন জাগাল: এই গির্জা কোথায়? আরও পড়ে, আমি এটা দেখলাম: “দেখ, আমি দুয়ারে দাঁড়িয়ে করাঘাত করছি। যে আমার ডাক শুনে দুয়ার খুলে দেয়, আমি ভেতরে তার কাছে যাব, তার সঙ্গে পানাহার করব, সেও আমার সঙ্গে পানাহার করবে” (প্রকাশিত বাক্য ৩:২০)। আমি এটা পড়ে এত উত্তেজিত হয়ে গেলাম যে প্রভু স্পষ্টভাবে বলেছেন যে তিনি দরজার কড়া নাড়বেন। আমি ভাবলাম ঠিক কীভাবে তিনি কড়া নাড়বেন এবং এর অর্থ কি এটাই যে প্রভু শীঘ্রই প্রত্যাবর্তন করবেন। এটা আমার জন্য অবিশ্বাস্যভাবে আলোকময় ছিল, এবং আমার অনুসন্ধান করে যাওয়ার ইচ্ছাকে চালিত করেছিল। ২০১৮ সালের ১ মে, আমি এক অন্ধকার সময়ের মধ্য দিয়ে যাওয়ার ঠিক পরে, মনে প্রাণে আবার ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করলাম। আমি সত্যিই সবকিছু বুঝতে চেয়েছিলাম যা আমি আগে কখনো বুঝিনি। আমি বললাম, “হে ঈশ্বর, দয়া করে আমাকে আলোকিত করুন। আমি জানি আপনি শীঘ্রই আসছেন। দয়া করে আমাকে আপনার ইচ্ছা বুঝতে দিন।” প্রার্থনা করার পর আমি ঘুমাতে গেলাম।

পরের দিন, আমি রোজকার মত কাজে গেলাম। আমি আমার দুপুরের খাবারের বিরতিতে জেনেভা হ্রদের তীরে গেলাম আর একটা বেঞ্চের ওপর বসলাম এবং প্রার্থনায় ঈশ্বরের সামনে উপস্থিত হলাম। তারপর দূর থেকে একজনকে লক্ষ্য করলাম, তাই আমি তাঁর কাছে হেঁটে গেলাম এই উদ্দেশ্য নিয়ে যে তাঁর সঙ্গে সুসমাচার ভাগ করে নেব। আমি অবাক হয়ে গেলাম যখন তিনি আমাকে বললেন, “ভ্রাতা, তুমি কি জানো? প্রভু প্রত্যাবর্তন করেছেন এবং লক্ষ লক্ষ বাণী ব্যক্ত করেছেন।” কথাটা শুনে আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম এবং ভাবলাম, “এই ভ্রাতা এমন কেন বললেন? প্রভু কি সত্যিই প্রত্যাবর্তন করেছেন?” আমি বিস্মিত হলাম। আমরা আমাদের আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সময়ে একের পর এক প্রশ্ন উঠতে থাকল: প্রভু কি প্রত্যাবর্তন করেছেন? প্রভু কীভাবে প্রত্যাবর্তন করেছেন? আমরা যখন আমাদের আলোচনা শেষ করছিলাম, তিনি আমাকে সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের গির্জার ওয়েবসাইটের ঠিকানা দিলেন এবং বললেন, “আপনি এর সম্বন্ধে আরও জানতে পারবেন এখানে।”

আমি অফিস থেকে ফিরে আসার পরেই সঙ্গে সঙ্গে সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের গির্জার ওয়েবসাইট খুললাম। আমার মনে আছে আমি প্রথম যেই জিনিস দেখেছিলাম সেটা হল “অন্তিম সময়ের খ্রীষ্ট চীনে আবির্ভূত হয়েছেন।” আমি সেটা উপলব্ধি করিনি। এটা দেখে আমি সত্যিই অবাক হলাম। আরও যেটা আশ্চর্যের বিষয় ছিল সেটা হল সেখানে সব ধরনের বই ছিল, যার মধ্যে ছিল দুটা বই যেগুলো সত্যিই আমার উপর ছাপ ফেলেছিল: “বাক্য দেহে আবির্ভূত হল” এবং “অন্তিম সময়ে খ্রীষ্টের কথন”। আমি সত্যিই বুঝতে চেয়েছিলাম এটা কি, আর তাই আমি “বাক্য দেহে আবির্ভূত হল” -র ওপর ক্লিক করলাম আর একটা অংশ দেখলাম। এটা সত্যিই একটা স্থায়ী ছাপ রাখে। “আমার যে সকল লোক আমার সম্মুখে সেবা করে, অতীত সময়টা তাদের ফিরে দেখা উচিৎ: আমার প্রতি তোমাদের ভালোবাসা কি অশুদ্ধির দ্বারা কলুষিত ছিল? আমার প্রতি তোমাদের আনুগত্য কি বিশুদ্ধ ও ঐকান্তিক ছিল? আমার বিষয়ে তোমাদের জ্ঞান কি যথাযথ ছিল? তোমাদের হৃদয়ের কতখানি স্থান আমি অধিকার করে ছিলাম? আমি কি তোমার সম্পূর্ণ হৃদয় জুড়ে ছিলাম? আমার বাক্য তোমাদের মধ্যে কতটা কার্য সাধন করেছিল? আমাকে মূর্খ ভেবো না! এই বিষয়গুলো আমার কাছে সম্পূর্ণ পরিষ্কার! আজ যখন আমার পরিত্রাণের কণ্ঠস্বর সশব্দে উচ্চারিত হচ্ছে, আমার প্রতি তোমাদের ভালোবাসায় কিছু কি বৃদ্ধি ঘটেছে? আমার প্রতি তোমাদের আনুগত্যের একটা অংশ কি বিশুদ্ধ হয়ে উঠেছে? আমার সম্বন্ধে তোমাদের জ্ঞান কি গভীরতা লাভ করেছে? অতীতে উচ্চারিত প্রশংসাবাক্য কি তোমাদের আজকের জ্ঞানের ক্ষেত্রে একটি সুদৃঢ বুনিয়াদ স্থাপন করতে পেরেছে? তোমাদের কতটা আমার আত্মার দ্বারা অধিকৃত? আমার প্রতিমুর্তি তোমাদের অভ্যন্তরে কতটা জায়গা ধারণ করে আছে? আমার উচ্চারণগুলি কি তোমাদের ভিতরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে? সত্যিই কি তোমরা অনুভব করো যে তোমাদের লজ্জা লুকানোর কোনো জায়গা নেই? তোমরা কি প্রকৃতই বিশ্বাস কর যে আমার লোক হওয়ার পক্ষে তোমরা অযোগ্য? উপরের প্রশ্নগুলির বিশয়ে তোমরা যদি সম্পূর্ণ বিস্মরণশীল হও, তাহলে তা প্রমাণ করে যে তোমরা ঘোলা জলে মাছ ধরছো, প্রমাণ করে যে শুধু সংখ্যা পূরণের জন্যই তোমরা উপস্থিত রয়েছ, এবং আমার দ্বারা পূর্বনির্ধারিত ক্ষণে অবশ্যই তোমরা অপসারিত হবে ও দ্বিতীয় বারের জন্য অতল গহ্বরে নিক্ষিপ্ত হবে। এগুলো স্বয়ং আমার সতর্কতাবাক্য, যারা এগুলি হালকাভাবে নেবে আমার বিচারের অভিঘাত তারা ভোগ করবে, এবং নির্ধারিত সময়ে বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে। তাই নয় কি?” (বাক্য দেহে আবির্ভূত হল, খণ্ড ১)। এই বাণীগুলো আমার কাছে খুবই কর্তৃত্বপূর্ণ মনে হয়েছিল, যেন ঈশ্বর নিজেই আমার সঙ্গে মুখোমুখি কথা বলছেন। মনে হয়েছিল যেন ঈশ্বর আমাকে জিজ্ঞাসা করছেন: তোমার কি আমার প্রতি সত্যিকারের ভালোবাসা আছে? আমার কাছে তোমার সমর্পণ কি আন্তরিক? আমি তখন একটু অস্বস্তি বোধ করছিলাম কারণ, সত্যি বলতে, আমি ঈশ্বরের সেবা এমনভাবে করেছি যেন আমি কোন কাজ সম্পন্ন করছি, ভালোবাসার কারণে নয়। আমার প্রার্থনায় আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। আমি ক্রমাগত প্রভুর কাছে নানা দাবি করছিলাম, বলছিলাম, “হে ঈশ্বর, আমি একটা গাড়ি চাই, আমি এরকম বাড়ি চাই, আমি ওরকম চাকরি চাই, আমি এই ধরনের স্ত্রী চাই, এবং এই ধরনের বেতন।” আমি বুঝলাম যে এই সব অযৌক্তিক ছিল। আরও খারাপ, যদি প্রভু আমার অসংযত আকাঙ্ক্ষাগুলি পূরণ না করতেন, আমি তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ও তাঁকে দোষারোপ করতাম। আমি এই বিষয়ে খুবই লজ্জিত ছিলাম এবং লুকানোর স্থান খুঁজতে চেয়েছিলাম কারণ আমি একদম প্রকাশিত হয়ে গিয়েছিলাম। তখন আমার মনে হল, যেন আমি একটা শিশু যে তার পিতামাতার মুখোমুখি হয়েছিল যারা তাকে খারাপ আচরণের জন্য তিরস্কার করছিল। এটা আমার জন্য কৌতূহল উদ্রেককারী ছিল, এবং আমি সত্যিই আনন্দিত হলাম কারণ আমার মনে হল যেন ঈশ্বর আমার সঙ্গে মুখোমুখি কথা বলছেন। আমার মনে হল এটাই ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর, কারণ একমাত্র ঈশ্বরই মানুষের হৃদয় দেখতে পারেন। এটা আমার ওপর গভীর ছাপ ফেলে। আমি বাকরুদ্ধ হয়ে গেলাম, কোনো অজুহাত ছিলনা। আমিও নিশ্চিত বোধ করলাম যে এটা ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর, তাই আমি পড়তে থাকলাম। আমি বেশ কয়েকটা অংশ পড়লাম। আমার মনে হল যেন ঈশ্বর আমার সঙ্গে ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের সঙ্গে কথা বলছেন। আমি এটা থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারলাম না।

আমার একটা অংশ মনে আছে যেটা সত্যিই আমার উপর একটা ছাপ ফেলেছিল। “আমি ঊর্ধ্বলোক থেকে সবকিছুর উপর নজর রাখি, এবং ঊর্ধ্বলোক থেকেই সবকিছুর উপর আধিপত্যের ব্যবহার করি। একই ভাবে আমি আমার পরিত্রাণ পৃথিবীতে স্থাপন করেছি। কখনো এমন কোনো মুহূর্ত নেই যখন আমি আমার গোপন স্থান থেকে মানুষের সমস্ত পদক্ষেপ এবং তারা যা কিছু বলে ও করে তার উপর নজর রাখি না। মানুষ আমার কাছে খোলা বইয়ের মতো: আমি তাদের প্রত্যেককে ও সকলকে দেখি এবং জানি। আমার আবাসস্থলই সেই গোপন স্থান, এবং স্বর্গের সমগ্র গম্বুজ সেই শয্যা যার উপর আমি অবস্থান করি। শয়তানের শক্তি আমার নিকটে পৌঁছতে পারে না, কারণ আমি মহিমা, ন্যায়পরায়ণতা ও বিচারের দ্বারা উচ্ছ্বসিত” (বাক্য দেহে আবির্ভূত হল, খণ্ড ১)। আমার মনে হল যেন এই শব্দগুলো ঈশ্বরের কর্তৃত্বে পূর্ণ। ঈশ্বর ছাড়া আর কে আমাদের হৃদয় দেখতে পারেন? ঈশ্বর ছাড়া আর কে সরাসরি আমাদের সঙ্গে এমন ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের সঙ্গে কথা বলতে পারেন? ঈশ্বর মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন এবং শুধুমাত্র ঈশ্বরই তা দেখতে পারেন যা আমরা আমাদের হৃদয়ের গভীরে লুকিয়ে রাখি। আমি নিশ্চিত বোধ করলাম যে এই বাণীগুলো ঈশ্বরেরই এবং আমি খুব উত্তেজিত বোধ করলাম। এই অনুভূতি আমার আগে কখনও হয়নি। সেদিন আমি অনেকটা পড়লাম এবং অন্যান্য দিনের থেকে তিন ঘন্টা দেরি করে বাড়ি ফিরলাম। আমি মনে হল যে এই বাণীগুলি সত্যিই বিশেষ। বাড়ি ফেরার পথে আমি বারবার বলছিলাম, “ঈশ্বর, আপনাকে সত্যিই ধন্যবাদ জানাই! আমি আপনার কণ্ঠস্বর চিনতে পেরেছি এবং আমি জানি আপনি প্রত্যাবর্তন করেছেন। আমি আপনার কর্তৃত্ব প্রত্যক্ষ করেছি। সমস্ত মহিমা আপনারই হোক!” আমি সত্যিই খুব শিহরিত, খুব উত্তেজিত ছিলাম। আগের রাতে আমার প্রার্থনার কথা মনে পড়ে গেল। মনে পড়ে গেল ঈশ্বরের কাছে আমার প্রার্থনা এবং তাঁকে বলার কথা তাঁর প্রত্যাবর্তনের পর তাঁর ইচ্ছা বুঝতে আমাকে সাহায্য করার জন্য। সেই মুহুর্তে আমি বুঝতে পারলাম ঈশ্বর আমার প্রার্থনা শুনেছেন। আরও আশ্চর্যজনক হল, তিনি আমার প্রার্থনার উত্তর দিয়েছিলেন। এটা সত্যিই একটা অবিশ্বাস্য ব্যাপার ছিল! কিন্তু একই সময়ে, আমার মধ্যে অনেক প্রশ্ন ছিল, যেমন: যেহেতু প্রভু এসেছেন, তিনি কীভাবে এসেছেন? তিনি কী কাজ করছেন? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পেতে, আমি সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের গির্জার ভ্রাতা ও ভগিনীদের সঙ্গে যোগাযোগ করলাম।

তাঁরা আমাকে বললেন যে প্রভু মানবপুত্র হিসাবে দেহধারণ করেছেন এবং তিনি গোপনে এসেছেন। তিনি সর্বশক্তিমান ঈশ্বর, এবং তিনি সত্য ব্যক্ত করেছেন এবং নতুন কাজ করছেন। এটা হল বাইবেলে ভবিষ্যদ্বাণী করা অন্তিম সময়ের বিচার যা ঈশ্বরের গৃহ থেকে শুরু হয় যা সম্পূর্ণরূপে মানবজাতিকে পরিশুদ্ধ এবং উদ্ধার করবে। আমি সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে গেলাম। তাঁরা আমার সঙ্গে যা আলোচনা করলেন তা সত্যিই আলোকময় ছিল, বাইবেলের কয়েকটা স্তবক যেমন প্রকাশিত বাক্য ১৬:১৫ “দেখ, আমি চোরের মত আসব।” এছাড়াও লুক ১২:৪০-এ আছে, “তোমরাও প্রস্তুত থেকো। তোমাদের অপ্রত্যাশিত সময়ে মানবপুত্র আসবেন।” আমি দেখলাম যে এই স্তবকগুলো বলছে যে প্রভু দেহধারণ করবেন এবং মানবপুত্র হিসাবে গোপনে আসবেন৷ “মানবপুত্র” স্পষ্টভাবে ঈশ্বরের আত্মা বা তাঁর আধ্যাত্মিক দেহকে বোঝায় না, বরং সেই অস্তিত্বকে বোঝায় যা মানুষের গর্ভে জন্ম নেয় এবং স্বাভাবিক মানবতা ও ঈশ্বরের সারসত্ত ধারণ করে। এটা ঠিক দুই হাজার বছর আগের প্রভু যীশুর মতো। তিনি একজন সাধারণ ব্যক্তির মত দেখতে ছিলেন, কিন্তু তিনি ঈশ্বরের সারসত্তা ছিলেন। তারপরে, তাঁরা প্রকাশিত বাক্য ৩:২০ নিয়েও আলোচনা করলেন, যা প্রভুর দরজায় কড়া নাড়ার কথা উল্লেখ করে। আমি শিখলাম যে “কড়া নাড়া” বলতে বোঝায় অন্তিম সময়ে ঈশ্বর নতুন বাণী ব্যক্ত করবেন মানুষের হৃদয়ের দরজায় কড়া নাড়ার জন্য। প্রকৃত বিশ্বাসীরা যখন প্রভুর বাণী শোনে তখন তারা সেগুলিকে ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর বলে চিনতে পারে, এবং তারা হল সেই বুদ্ধিমতী কুমারী যাদের ঈশ্বরের সামনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং প্রভুর প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানান হচ্ছে। এটা প্রভু যীশুর ভবিষ্যদ্বাণীও পূরণ করে: “আমার নিজের মেষপাল আমার ডাক শোনে, তাদের আমি চিনি এবং তারা আমাকে অনুসরণ করে” (যোহন ১০:২৭)। আমি চমকে গিয়েছিলাম। আমি ভাবলাম এই পৃথিবীতে কিভাবে ঈশ্বর দেহধারণ করে দ্বিতীয়বার এসেছেন কাজ করতে এবং ঠিক তখন যখন আমি পৃথিবীতে বেঁচে আছি, একই বাতাসে শ্বাস নিচ্ছি, এবং তিনি যে কোনোসাধারণ ব্যক্তির মত দেখতে। আমার কাছে এটা অবিশ্বাস্য ব্যাপার! আমি সবসময় ভাবতাম ঈশ্বরের ওই উপরে আকাশে থাকা উচিৎ, এবং আমি কোনদিন কল্পনাও করিনি যে অন্তিম সময়ে, ঈশ্বর পৃথিবীতে আসবেন দেহধারণ করে কথা বলার এবং নতুন কাজ করার জন্য।

তারপর ভ্রাতারা ও ভগিনীরা ঈশ্বরের অবতার সম্পর্কে আমার ঈশ্বরের বাণীর কয়েকটা অংশ পড়ে শোনালেন। “‘অবতার’ হল ঈশ্বরের দেহরূপে আবির্ভাব; ঈশ্বর সৃষ্ট মানবজাতির মাঝে দেহের প্রতিচ্ছবি হিসাবেই কার্য নির্বাহ করেন। তাই ঈশ্বরকে অবতাররূপ ধারণ করতে হলে প্রথমে তাঁকে দেহ ধারণ করতেই হবে, স্বাভাবিক মানবতা পূর্ণ দেহ; এটাই হল সবচেয়ে প্রাথমিক পূর্বশর্ত। বস্তুত, ঈশ্বরের অবতাররূপ ধারণের তাৎপর্য হল যে, ঈশ্বর দেহরূপে বাস এবং কার্য নির্বাহ করেন এবং ঈশ্বর তাঁর যথার্থ সারসত্য নিয়েই দেহরূপে, অর্থাৎ মানুষ রূপে পরিণত হন” (বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের কাজ এবং ঈশ্বরকে জানা, ঈশ্বরের অধিষ্ঠিত দেহরূপের সারসত্য)। “ঈশ্বরের অবতারকে খ্রীষ্ট নামে অভিহিত করা হয়, এবং ঈশ্বরের আত্মার পরিধান করা দেহই হলেন খ্রীষ্ট। এই দেহ অন্য যেকোনো মানুষের রক্তমাংসের দেহের মতো নয়। এই পার্থক্যের কারণ এই যে, খ্রীষ্ট রক্তমাংসের নন; তিনি হলেন আত্মার অবতার। তাঁর মধ্যে স্বাভাবিক মানবতা এবং সম্পূর্ণ দেবত্ব উভয়ই আছে। তাঁর দেবত্ব কোনো মানুষের অধিকারেই নেই। তাঁর স্বাভাবিক মানবতা মনুষ্যরূপে তাঁর সকল স্বাভাবিক কার্যকলাপ বজায় রাখে, অপরদিকে তাঁর দেবত্ব স্বয়ং ঈশ্বরের কার্য নির্বাহ করে। তাঁর মানবতাই হোক বা দেবত্ব, উভয়ই স্বর্গস্থ পিতার ইচ্ছার কাছে নিবেদিত। আত্মা, অর্থাৎ দেবত্বই হলো খ্রীষ্টের সারসত্য। অতএব, তাঁর সারসত্য হল স্বয়ং ঈশ্বরের সারসত্য” (বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের কাজ এবং ঈশ্বরকে জানা, খ্রীষ্টের সারসত্য হল স্বর্গস্থ পিতার ইচ্ছার প্রতি আনুগত্য)। ঈশ্বরের বাণীর এই অংশগুলি পড়ার পরে, আমি দেখলাম যে ঈশ্বরের অবতার হল ঈশ্বরের আত্মা যিনি দেহধারণ করেছেন এবং পৃথিবীতে এসেছেন মানবজাতিকে উদ্ধার করার জন্য কথা বলতে আর কাজ করতে। ওপর থেকে খ্রীষ্টকে দেখতে একজন সাধারণ ব্যক্তির মতো, যিনি বাকিদের মতই খাবার খান, পোশাক পরেন, ঘুমান, কিন্তু তাঁর একটা ঐশ্বরিক সারসত্তা আছে। তিনি স্বয়ং ঈশ্বর হিসাবে সমস্ত মানবতার সঙ্গে কথা বলতে পারেন এবং তিনি সত্য ব্যক্ত করতে পারেন যা কোনো মানুষ কখনও পারে না। তিনি নিজেই ঈশ্বরের কাজ করতে পারেন এবং ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করতে পারেন। বাইরে থেকে, খ্রীষ্ট অন্য যে কারুর মতই এবং আমরা বলতে পারি না যে তিনি ঈশ্বর, কিন্তু যখন আমরা তাঁকে কথা বলতে শুনি, আমরা বুঝতে পারি যে তাঁর কথা এই জগতের নয়। তিনি এমন সত্য এবং রহস্য ব্যাখ্যা করতে পারেন যা কেউ কখনও দেখেনি বা শোনেনি। তিনি মানবজাতির অন্তরতম ভ্রষ্টাচার প্রকাশ করতে পারেন। তিনি যা ব্যক্ত করেন তা ঈশ্বর নিজেই ব্যক্ত করেন। তাই আমরা বিশ্বাস করি যে তিনিই ঈশ্বর। ঠিক যেমন প্রভু যীশু যখন কাজ করেছিলেন, তাঁকে বাইরে থেকে একজন সাধারণ মানুষের মতই দেখতে ছিল, কিন্তু তিনি সমস্ত মানবজাতির জন্য পাপস্খালনের বলি হতে পেরেছিলেন, আমাদের পাপ ক্ষমা করবেন বলে। তিনি আমাদের শান্তি ও আনন্দ, এবং প্রচুর অনুগ্রহ দিতে পারেন। তিনি ছাড়া এই ধরনের কাজ আর কেউ করতে পারেনি কারণ মানুষ শুধু মানুষ, এবং ঈশ্বরের সারসত্তা তাদের মধ্যে নেই। ভ্রাতারা ও ভগিনীরা এটাও আলোচনা করলেন যে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর একদম প্রভু যীশুর মতই। তাঁকে বাইরে থেকে দেখতে একজন সাধারণ ব্যক্তির মতো, কিন্তু তাঁর মধ্যে ঈশ্বরের সারমর্ম রয়েছে। তিনি ঈশ্বরের গৃহ থেকে শুরু করে বিচারকার্য করছেন, সমস্ত সত্য ব্যক্ত করছেন যা মানবজাতিকে পরিশুদ্ধ এবং উদ্ধার করবে, এবং এমন সব রহস্য উন্মোচন করবেন যা কোন মানুষ কখনও করতে পারেনি। বিশেষ করে ঈশ্বরের ছয়-হাজার বছরের পরিচালনামূলক পরিকল্পনার রহস্যের মতো জিনিস, শয়তান কীভাবে মানুষকে ভ্রষ্ট করে, এবং মানুষের শয়তান প্রকৃতিকে তাঁর প্রকাশ – ঈশ্বর ছাড়া কেউ এই সত্যগুলো ব্যক্ত করতে পারে না। কোনো মানুষ তা করতে পারেনা। এর থেকে এটাই প্রমাণ হয় যে সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের মধ্যে একটা ঐশ্বরিক সারসত্তা রয়েছে এবং তিনিই অন্তিম সময়ের খ্রীষ্ট।

এই সব কথা আমাকে অবতারের কিছু সত্য বুঝতে সাহায্য করল, এবং আমি দেখলাম যে খ্রীষ্টের মধ্যে স্বাভাবিক মানবতা এবং ঐশ্বরিক সারসত্তা দুটোই রয়েছে। ঈশ্বর সম্পর্কে আমার কিছু অস্পষ্ট কল্পনা এবং ধারণা পরিষ্কার হয়ে গেল। এটা আমার কাছে সত্যিই মুক্তির সমান ছিল। ঈশ্বরের অবতারকে দেখা ও স্পর্শ করা যাবে, এবং তিনি মানুষের সঙ্গে মুখোমুখি কথা বলতে পারেন। অন্তিম সময়ে ঈশ্বর দেহধারণ করছেন এবং সমস্ত মানবতাকে উদ্ধার করার জন্য ব্যক্তিগতভাবে বাণীগুলি ব্যক্ত করছেন এই ব্যাপারগুলো আমার কাছে সত্যিই উত্তেজনাময় এবং মর্মস্পর্শী ছিল। কিন্তু যখন আমি শুনলাম যে ঈশ্বর বিচারকার্য করার জন্য দ্বিতীয়বার দেহধারণ করেছেন, আমি একটু আতঙ্কিত আর একটু ভীত হলাম। কারণ আমি পাপের মধ্যে বাস করছিলাম। আমি ভাবলাম প্রভুর বিচারে আমার নিন্দা করা হবে আর আমি দণ্ডিত হব কিনা। এইজন্য আমি চিন্তিত ছিলাম। কিন্তু ভ্রাতাদের ও ভগিনীদের সঙ্গে আলোচনা করার পর, আমি বুঝতে পারলাম যে ঈশ্বরের বিচারকার্য আমাদের নিন্দা করা এবং দণ্ডিত করার জন্য নয়, বরং আমাদের পরিশুদ্ধ করা এবং বাঁচানোর জন্য। এটা একটা কার্যকারী পরিত্রাণ। প্রকৃতপক্ষে, প্রভু যীশু পরিত্রাণের কাজের একটা অংশই করেছিলেন। তিনি শুধু আমাদের পাপ ক্ষমা করেছেন। কিন্তু আমাদের পাপের মূল নির্মূল করা হয়নি। যদিও আমরা ঈশ্বরের জন্য নিজেদেরকে ব্যয় করতে পারি এবং দৃশ্যত কিছু ভাল কাজ করতে পারি, আমাদের প্রকৃতি শয়তানোচিত স্বভাবে পূর্ণ যেমন অহংকার, বিপথগামীতা এবং অদম্যতা। আমরা প্রায়শই অন্যদের প্রতি ঈর্ষান্বিত হই যারা আমাদের ছাড়িয়ে যায় এবং আমরা আমাদের জীবনে যা কিছু করি তা নিজেদের জন্য। আমরা অবিশ্বাস্যভাবে স্বার্থপর। আমরা সম্পূর্ণরূপে আমাদের শয়তানোচিত স্বভাব দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং আবদ্ধ এবং আমাদের কোনো ধারণা নেই কীভাবে পাপের বন্ধন থেকে বেরনো যায়। এটা একটা সত্য, এবং এটা এমন একটা যা আমরা প্রতিদিন দেখতে পাই। এটা আমাকে বাইবেলের একটা স্তবকের কথা ভাবতে বাধ্য করে: ঈশ্বর বলেছেন, “অতএব তোমরা পবিত্র হও, কারণ আমি পবিত্র” (লেবীয় পুস্তক ১১:৪৫)। এই স্তবকটা আমাদের স্পষ্টভাবে দেখায় যে আমরা এখনও স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করার যোগ্য নই কারণ আমরা কেউ পবিত্র নই। এই কারণেই অন্তিম সময়ের খ্রীষ্ট, সর্বশক্তিমান ঈশ্বর, অন্তিম সময়ে আমাদের পরিশুদ্ধ ও উদ্ধার করার জন্য বিচারকার্য করেন, যাতে আমরা সম্পূর্ণরূপে পাপের বন্ধন থেকে মুক্ত হতে পারি এবং এমন মানুষে পরিণত হতে পারি যারা ঈশ্বরকে ভয় পায় এবং তাঁর কাছে সমর্পণ করে, যারা আর পাপ করবে না এবং ঈশ্বরকে প্রতিরোধ করবে না। এটাই ঈশ্বরের বিচারের কাজের লক্ষ্য, যা প্রভু যীশুর ভবিষ্যদ্বাণী পূরণ করে: “তোমার বাক্যই সত্যস্বরূপ, সেই সত্যের দ্বারা তুমি তাদের শুচিশুদ্ধ কর” (যোহন ১৭:১৭)। “তোমরা সত্যের স্বরূপ জ্ঞাত হবে এবং সেই সত্যই তোমাদের মুক্ত করবে” (যোহন ৮:৩২)।

তারপরে আমরা আরও কয়েকটা অংশ পড়লাম যা বেশ স্পষ্টভাবে বিচারকার্যকে ব্যাখ্যা করেছে। ঈশ্বরের কথায় বলতে গেলে, “যদিও যীশু মানুষের মধ্যে অনেক কাজ করেছিলেন, কিন্তু তিনি শুধুমাত্র সমস্ত মানবজাতির মুক্তি সম্পূর্ণ করেছিলেন এবং মানুষের পাপ-উৎসর্গ হয়েছিলেন; তিনি মানুষকে তার সমস্ত ভ্রষ্ট স্বভাব থেকে মুক্তি দেননি। শয়তানের প্রভাব থেকে মানুষকে পুরোপুরি মুক্ত করার জন্য শুধু যীশুর পাপ-উৎসর্গ হওয়া আর মানুষের পাপ বহন করার প্রয়োজন ছিল তাই নয়, বরং মানবজাতিকে সম্পূর্ণরূপে তার শয়তানোচিত ভ্রষ্ট স্বভাব থেকে উদ্ধার করার জন্য ঈশ্বরের আরো মহত্তর কর্মের প্রয়োজন ছিল। এবং তাই, এখন যখন মানুষ তার পাপের ক্ষমা পেয়েছে, ঈশ্বর মানুষকে নতুন যুগে নিয়ে যাওয়ার জন্য দেহরূপে ফিরে এসেছেন এবং শাস্তি ও বিচারের কাজ শুরু করেছেন। এই কাজ মানুষকে এক উচ্চতর জগতে নিয়ে এসেছে। যারা তাঁর রাজত্বের অধীনে আত্মসমর্পণ করে তারা উচ্চতর সত্য উপভোগ করবে এবং বৃহত্তর আশীর্বাদ লাভ করবে। তারা প্রকৃতপক্ষেই আলোতে বাস করবে, এবং তারা সত্য, পথ ও জীবন লাভ করবে” (বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের কাজ এবং ঈশ্বরকে জানা, ঈশ্বরের প্রতি প্রকৃত বিশ্বাসের অর্থ কী)। “অন্তিম সময়ে খ্রীষ্ট মানুষকে শেখানোর জন্য, মানুষের সারবস্তু প্রকাশের জন্য এবং মানুষের কথা ও কাজের বিশ্লেষণ করার জন্য বিভিন্ন সত্য ব্যবহার করেন। এই বাক্যে বিভিন্ন সত্য অন্তর্ভুক্ত থাকে, যেমন মানুষের কর্তব্য কী, কীভাবে মানুষের ঈশ্বর অনুগত থাকা উচিত, কীভাবে মানুষের ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ত থাকা উচিত, কীভাবে মানুষের স্বাভাবিক মানবতাসম্পন্ন জীবনযাপন করা উচিত, সেইসাথে থাকে ঈশ্বরের প্রজ্ঞা এবং স্বভাব ইত্যাদি বিষয়সমূহ। এই সমস্ত বাক্য মানুষের সারবস্তু এবং তার ভ্রষ্ট স্বভাবের দিকেই ইঙ্গিত করে। বিশেষ করে, সেই সমস্ত বাক্য, যা অনাবৃত করে মানুষ কীভাবে ঈশ্বরকে প্রত্যাখ্যান করেছে, তা আসলে এ সম্পর্কে কথা বলে যে কীভাবে মানুষ শয়তানের মূর্ত প্রতীক হয়ে উঠেছে এবং ঈশ্বরের বিরুদ্ধে শত্রু শক্তিতে পরিণত হয়েছে। তাঁর বিচারকার্যের সময়, ঈশ্বর কেবলমাত্র কয়েকটি বাক্যের মাধ্যমে মানুষের প্রকৃতি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন না; তিনি দীর্ঘমেয়াদে তা অনাবৃত করেন, মোকাবিলা করেন এবং তাদের অপ্রয়োজনীয় অংশের কর্তন করেন। প্রকাশ, মোকাবিলা এবং অপ্রয়োজনীয় অংশের কর্তনের এই সমস্ত ভিন্ন পদ্ধতি সাধারণ বাক্য দ্বারা প্রতিস্থাপিত করা যায় না, সেই সত্যের দ্বারাই প্রতিস্থাপিত করা যায় যার সম্পর্কে মানুষ একেবারেই অসচেতন। শুধুমাত্র এই ধরনের পদ্ধতিকেই প্রকৃত বিচার বলা যেতে পারে; শুধুমাত্র এই ধরনের বিচারের মাধ্যমেই মানুষ ঈশ্বরের প্রতি অনুগত হতে পারে, তাঁর সম্বন্ধে দৃঢ়ভাবে নিশ্চিত হতে পারে, এবং ঈশ্বর সম্পর্কে প্রকৃত জ্ঞান লাভ করতে পারে। এই বিচারের কাজই প্রতিফলিত করে ঈশ্বরের আসল চেহারা সম্পর্কে মানুষের উপলব্ধি, এবং তার নিজের বিদ্রোহের সত্য। বিচারের কাজ মানুষকে ঈশ্বরের ইচ্ছা, তাঁর কাজের উদ্দেশ্য এবং তাঁর দুর্বোধ্য রহস্য সম্পর্কে অনেক বেশি করে বোঝার সুযোগ দেয়। এটি মানুষকে নিজের ভ্রষ্ট সারসত্য এবং সেই ভ্রষ্টাচরণের মূল চিনতে ও জানতে শেখায়, এবং সেইসাথে মানুষের কদর্যতা আবিষ্কার করতে শেখায়। এই সমস্ত প্রভাব বিচারের কাজের মাধ্যমে প্রতিভাত হয়, কারণ এই কাজের সারসত্য হল সত্য, পথ এবং ঈশ্বরের জীবনকে তাঁর অনুগামীদের কাছে উন্মুক্ত করার কাজ। এই কাজ ঈশ্বরের বিচারের কাজ” (বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের কাজ এবং ঈশ্বরকে জানা, খ্রীষ্ট সত্যের দ্বারাই বিচারের কাজ করেন)। তারপর এক ভ্রাতা আলোচনা করলেন, “অন্তিম সময়ে, সর্বশক্তিমান ঈশ্বর মানবজাতির বিচার ও শুদ্ধিকরণের জন্য সত্য ব্যক্ত করেন। ঈশ্বরের বাণী আমাদের শয়তানোচিত প্রকৃতি এবং, সেই সঙ্গে আমাদের ভ্রষ্টাচারের সত্যতাও ব্যক্ত ও বিচার করে, পরীক্ষা এবং পরিমার্জনার মাধ্যমে আমাদের ভ্রষ্ট স্বভাব এবং পাপী প্রকৃতির সমাধান করে যাতে আমরা স্পষ্টভাবে দেখতে পাই যে শয়তান কতটা গভীরভাবে মানবজাতিকে ভ্রষ্ট করেছে, এবং আমাদের প্রকৃতির মধ্যে অহংকার, কুটিলতা এবং বিপথগামীতা দেখতে পাই। সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হল যে আমরা সেটা দেখতে পাই যদিও আমরা ঈশ্বরে বিশ্বাস করতে পারি এবং তাঁর জন্য নিজেদেরকে ব্যয় করতে পারি এবং দৃশ্যত কিছু ভাল কাজ করতে পারি, এই জিনিসগুলি ঈশ্বরের প্রতি ভালবাসা বা সমর্পণ থেকে করা হয় না, এগুলো করা হয় ধন্য এবং পুরস্কৃত হওয়ার জন্য, এবং শুধুমাত্র ঈশ্বরের সঙ্গে লেনদেনের জন্য করা হয়। যে মুহুর্তে ঈশ্বরের কাজ আমাদের চিন্তা ও ধারণার সঙ্গে সঙ্গত হয় না, আমরা ফরীশীদের মতই ঈশ্বরকে অস্বীকার করি এবং প্রত্যাখ্যান করি। আমরা পরীক্ষা এবং প্রতিকূলতার মুখে ঈশ্বরকে দোষারোপ করি এবং আমরা সম্পূর্ণরূপে আমাদের ভ্রষ্ট স্বভাবের মধ্যে বাস করি। এর থেকে এটাই দেখা যায়, যে আমরা এখনও শয়তানের ক্ষমতার অধীনে বাস করছি, আমরা সম্পূর্ণরূপে শয়তানের অন্তর্গত। এই ধরনের ব্যক্তি কিভাবে স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করতে পারে? ঈশ্বরের বাণীর মধ্যে বিচার এবং উদ্ঘাটন আমাদের নিজেদের প্রকৃত অবস্থা দেখায়, আমাদের দেখায় আমাদের ভ্রষ্টাচারের সত্য, আমরা ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুসরণ করতে অক্ষম এবং আমাদের কোন কাজ বা কাজই তাঁকে সন্তুষ্ট করে না। তারপর আমরা অনুশোচনায় পরিপূর্ণ হই এবং ঈশ্বরের সামনে অনুতপ্ত হতে ইচ্ছুক হই। ঈশ্বরের বিচার ও শাস্তির মধ্য দিয়ে, আমরা দেখি যে ঈশ্বরের স্বভাব শুধুমাত্র প্রেম এবং করুণা দ্বারা গঠিত নয়, তাতে ন্যায়পরায়ণতা, মহিমা, ক্রোধ এবং অভিশাপও আছে। আমরা ঈশ্বরকে ভয় করতে শুরু করি এবং সচেতনভাবে দৈহিক ইচ্ছা ত্যাগ করি এবং ঈশ্বরের বাণী অনুশীলন করতে সক্ষম হই। আমাদের মধ্যে ঈশ্বরের প্রতি একটু আনুগত্য তৈরি হয় এবং আমাদের জীবন চরিত্র পরিবর্তন হতে শুরু করে। তখন আমরা সত্যিই অনুভব করি যে ঈশ্বরের বিচার, শাস্তি, পরীক্ষা, এবং পরিমার্জন আমাদের জন্য তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ পরিত্রাণ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ ভালবাসা।”

ভ্রাতার কাছ থেকে এই কথা শুনে, আমি বুঝতে পারলাম যে ঈশ্বরের অন্তিম সময়ের বিচারকার্য কতটা গভীর। ঈশ্বরের অন্তিম সময়ের বিচার অনুভব না করে, আমরা কখনই আমাদের ভ্রষ্টাচারের সত্যতা বুঝতে পারব না অথবা সত্য অনুতাপের সঙ্গে ঈশ্বরের সামনে আসতে সক্ষম হব না। আর আমি প্রতিদিন প্রভুর কাছে প্রার্থনা করছিলাম এবং স্বীকার করছিলাম, তারপর আমি বাইরে গিয়ে আবার একই পাপ করতাম। আমি অনুতপ্ত হতাম কিন্তু কখনই পরিবর্তিত হইনি, এবং আমি ক্রমাগত পাপের মধ্যে বাস করছিলাম। আমি দেখলাম যে আমি সম্পূর্ণরূপে আমার ভ্রষ্ট প্রকৃতি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছিলাম, এবং এইরকম অবস্থায়, আমি কীভাবে স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করতে পারতাম এবং ঈশ্বরের অনুমোদন অর্জন করতে পারতাম? সেটা অসম্ভব হত। আগে, আমি সবসময় ভাবতাম যে যতক্ষণ আমি ভাল আচরণ করব, ঈশ্বর আমাকে সমর্থন করবেন। কিন্তু এখন বুঝলাম যে ঈশ্বর আমাদের মধ্যে শয়তানোচিত জিনিস পরিবর্তন করতে চান। তখনই আমি বুঝতে পারলাম যে আমাদের জন্য বিচারকার্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ, যে কাজের এই পর্যায়ে ছাড়া, কাউকে উদ্ধার করা যাবে না। ঈশ্বর সত্য ব্যক্ত করেন এবং অন্তিম সময়ে বিচারকার্য করেন আমাদের ভ্রষ্ট স্বভাব পরিশুদ্ধ করতে যাতে আমরা ঈশ্বরের জন্য উপযুক্ত হতে পারি এবং তাঁর রাজ্যে প্রবেশ করতে পারি। ঈশ্বরের ভালবাসা এত আন্তরিক, এত কার্যকর!

সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের বাণী প্রতিদিন পড়ার মাধ্যমে, আমি সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিত হলাম যে সর্বশক্তিমান ঈশ্বরই হলেন প্রত্যাবর্তিত প্রভু যীশু। তিনিই অন্তিম সময়ের খ্রীষ্ট। এই নিয়ে আর কোনো সন্দেহ নেই। তারপর থেকে প্রতিদিন গির্জার জীবনে অংশগ্রহণ করে এবং ভ্রাতাদের ও ভগিনীদের সঙ্গে আলোচনা করে, আমি ঈশ্বরকে জানতে শিখেছি এবং আমি ঈশ্বরের বাণীর সমৃদ্ধি সিঞ্চন এবং পুষ্টিসাধকতা আস্বাদন করি। আমি আর আগের মত আমার কল্পনার অস্পষ্ট ঈশ্বরে বিশ্বাস করি না, বরং কার্যকরী দেহরূপী ঈশ্বরকে বিশ্বাস করি, যিনি মানবজাতির মধ্যে চলাফেরা করেন এবং কাজ করেন, যিনি যে কোনও সময় এবং যে কোনও স্থানে সত্য ব্যক্ত করতে পারেন। আমি ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর শুনেছি তাঁর বাণীর প্রচুর সিঞ্চন এবং পুষ্টিসাধকতা উপভোগ করেছি, এবং পবিত্র আত্মার কাজের স্বাদ পেয়েছি। আমি সত্যিই প্রভুর কাছে এসেছি। তাঁর পরিত্রাণের জন্য সর্বশক্তিমান ঈশ্বরকে ধন্যবাদ! এটা আমার জন্য সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ!

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।👇

সম্পর্কিত তথ্য

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন