অবশেষে ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর শুনলাম

18-02-2023

আমি যখন ছোট ছিলাম তখন আমার অনেক রকমের কাজ ছিল। ভেনিজুয়েলার সুক্রে রাজ্য সরকারের পে-রোল সুপারভাইজার ছিলাম। আমাকে প্রতিদিন বেতনের সমস্যা আর প্রচুর লোকের নানান দাবি-দাওয়া সামলাতে হত। তাছাড়া আইন পরিষদের মানবসম্পদ কর্মকর্তাও ছিলাম, আর কিছু সময়ের জন্য, প্রাপ্তবয়স্কদের একটা নাইট স্কুলে কম্পিউটার ক্লাস নিতাম। আমার সমস্ত পদেই একটা জায়গায় মিল ছিল—প্রচুর লোকের সাথে সরাসরি যোগাযোগ। কাজই ছিল আমার প্রতিদিনের লক্ষ্য, কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও আমার জীবন সবসময় খুবই শান্তিপূর্ণ ছিল। যখন অপ্রত্যাশিত অতিমারী এল, তখন আর অন্যদের সাথে কথাবার্তা বলতে পারতাম না, এদিকে আমার আয় দিয়ে খাবারের খরচের অর্ধেকও উঠত না। জীবনটাই ছারখার হয়ে গেল। খাবার কেনার জন্য আমাকে লাইনে দাঁড়াতে হত আর গ্যাস কেনার জন্য ৩ দিন ধরে লাইন দিতাম। সেই সময়, সান্ত্বনার জন্য প্রভুর বাণীর শরণাপন্ন হলাম। আমার প্রতিবেশীও বিশ্বাসী ছিল, আর যখনই আমাদের দেখা হত, তখনই আমরা আলোচনা করতাম যে বাইবেলে কীভাবে সমস্ত বিপর্যয়ের ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে, মানবজাতির পাপ আর দুর্নীতিই এই সমস্ত বিপর্যয়ের কারণ। আমরা অন্তিম সময়ে ছিলাম, আর বাইবেলে ভবিষ্যদ্বাণী আছে যে প্রভু যীশু এই সময় আমাদের বিচার করতে ফিরে আসবেন, তাই তাঁর উদ্ধার আর পরিত্রাণ পেতে আমাদের ঈশ্বরের কাছে ফিরতেই হবে। প্রতিদিন, ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে জ্ঞানভিক্ষা করতাম আর আমাকে পথ দেখাতে বলতাম। ঈশ্বরকে জানতে চেয়েছিলাম, আর আমার তাঁকে খুঁজে পাওয়া দরকার ছিল, কারণ একমাত্র ঈশ্বরের বাণীই ছিল আমার একমাত্র সান্ত্বনা, ও পাপ থেকে বিরত থাকার উপায়। ব আর এই বাণী আমাকে এমন একজন করে তুলতে পারে যে ঈশ্বরকে আনন্দ দেয়। তাই একটা বাইবেল খুলে ঈশ্বরকে বললাম আমায় আলোকিত করুন। গীতসংহিতা (বুক অফ সামস) আর হিতোপদেশের বই দুটো, সেই সঙ্গে প্রভু যীশুর সার্মন অন দা মাউন্টও পড়লাম, কিন্তু তখনও কোন পথে চলা উচিত তা খুঁজে পেলাম না। অথৈ জলে পড়লাম আর আমার আর্থিক সমস্যাও আরো তীব্র হয়ে উঠল। জীবনটা এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল, পরিবারের অন্নসংস্থানও কঠিন হয়ে পড়েছিল। আমার মেয়ের প্রয়োজনের সময় তাকে সাহায্য করতে পারিনি। সত্যিই কষ্ট হচ্ছিল, এসব কষ্ট সাময়িক বলে তাকে সান্ত্বনা দেওয়া ছাড়া আর কিছু করতে পারিনি, যদিও নিজেই তা বিশ্বাস করতাম না। বিষাদে ডুবে যাচ্ছিলাম। কী করব বুঝতে পারছিলাম না। দেশান্তরী হতে চেয়েছিলাম, এই দেশ ছেড়ে অন্য কোনো সমাধান খুঁজতে চেয়েছিলাম, কিন্তু অতিমারীর কারণে আমার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বা পাসপোর্ট পাইনি। আমার জন্য সবকিছু আরো কঠিন হয়ে উঠছিল। ঠিক তখনই আমার স্ত্রী বলল সে আর আমার সাথে থাকতে চায় না। সেটাই আমার শেষ সম্বল ছিল। মনে হচ্ছিল এবার আমি ভেঙে চূরমার হয়ে যাব, এই জীবনের আর কোনো মানে নেই। ক্লিনিক্যাল ডিপ্রেশনে চলে যাই—ভীষণ যন্ত্রণার মধ্যে ছিলাম। আমি খুব কাঁদতাম, কত রাত ঘুমাইনি। শুধু ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে একটু শান্তি পেতাম।

তারপর একদিন হোয়াটসঅ্যাপে একটা মেসেজ পেলাম। এক ভগিনী আমাকে ঈশ্বরের বাণী শোনার জন্য একটা খ্রিস্টান ক্লাসে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানায়, আর জিজ্ঞাসা করে যে এই নিয়ে পড়াশোনা করতে চাই কিনা। বললাম, চাই, তখন সে আমাকে সেই স্টাডি গ্রুপে যোগ করে। যখন সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের বাণী শোনার সুযোগ পেলাম, তখন মনে হল যেন ঈশ্বর আমার প্রার্থনায় সাড়া দিলেন। সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কর্তৃত্বপূর্ণ উচ্চারণে আকৃষ্ট হয়েছিলাম, আর এই কথাগুলো আমার অনেক সংশয় আর পূর্বধারণার সমাধান করেছিল। আমি জানতাম যে ঈশ্বর ইতিমধ্যেই ফিরে এসেছেন আর নতুন কাজ করছেন। এটা আমার উপর বিরাট প্রভাব ফেলে। বিস্ময়, আনন্দ আর কৌতূহল নিয়ে, ঈশ্বরের ছয় সহস্র-বছরের পরিচালনামূলক পরিকল্পনা আর মানবজাতিকে উদ্ধারের জন্য তাঁর কাজের তিনটে ধাপ সম্পর্কে শিখলাম, জানলাম যে তিনি প্রতি যুগে নতুন নাম নেন (যিহোবা, যীশু আর সর্বশক্তিমান ঈশ্বর), আর প্রতি যুগে তিনি যে কাজ করেন তার অর্থও বুঝলাম। সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের বাণী আমাকে আকৃষ্ট করল—খুব খুশি হয়েছিলাম। আরো সত্য জানতে আর অন্যদের জানাতে চেয়েছিলাম, তাই সানন্দে আমার প্রতিবেশীদের সুসমাচার জানালাম, তাদের বললাম যে প্রভু যীশু ফিরে এসেছেন। ভেবেছিলাম যে কোনো বিশ্বাসী অন্তিম সময়ের ঈশ্বরের সুসমাচার শুনে আনন্দিত হবে, সত্যের সন্ধান করবে আর সানন্দে সুসমাচার গ্রহণ করবে। কিন্তু হল ঠিক উল্টো। তারা আমাকে জিজ্ঞেস করল, “বাইবেলে এসব তো নেই, পেলে কোথা থেকে?” তাদের বলতাম, “একটা অনলাইন স্টাডি গ্রুপ থেকে এ সম্পর্কে জেনেছি, আর সবেমাত্র পড়তে শুরু করেছি বলে আমার জ্ঞান সীমিত, কিন্তু সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের বাণীগুলো সত্যিই আমাকে আকৃষ্ট করেছে।” তারা আমাকে সাবধানে থাকতে বলল, আর বলল অন্তিম সময়ে প্রচুর ভণ্ড খ্রীষ্টের আবির্ভাব হবে। তারপর তারা আমাকে বাইবেলের কয়েকটা স্তোত্র পাঠায়: “সেই সময় কেউ যদি বলে, ‘এই দেখ, খ্রীস্ট এখানে’ অথবা ‘ঐ যে ওখানে’ বিশ্বাস করো না। কারণ তখন অনেক নকল মশীহ ও ভণ্ড নবীর উদ্ভব হবে। তারা চমকপ্রদ নিদর্শন ও অলৌকিক কাণ্ড দেখিয়ে সম্ভব হলে মনোনীতদেরও বিপথে নিয়ে যাবে। কিন্তু তোমরা সাবধান হয়ো, আগে থেকেই সব কথা আমি বলে রাখলাম(মার্ক ১৩:২১-২৩)। তারা বলল যে আমি একটা মিথ্যা ধর্ম খুঁজছি, আর ২১ শতকের প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত জগতে, যদি প্রভু যীশু ফিরে আসেন, তবে অবশ্যই এমন মহান কোনো অলৌকিক ঘটনা প্রদর্শন করবেন যা সমগ্র জগতকে নাড়িয়ে দেবে, কিন্তু সেরকম কিছুই এখনও ঘটেনি। এছাড়া, প্রভু যীশু আবির্ভূত হননি, পীড়িতদের সুস্থ করেননি, মৃতদের জীবিত করেননি, এইসব, তার মানে প্রভু এখনও ফিরে আসেননি। তাদের কথা শুনে আমার মনেও সংশয় দেখা দিল। প্রভু যীশুর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করার ভয় হল। চিন্তিত হয়ে পড়লাম, প্রতারিত হয়ে ভণ্ড খ্রীষ্টকে অনুসরণ করছি না তো। তখনও নিশ্চিত ছিলাম যে প্রভু যীশু মেঘে চড়ে ফিরে আসবেন আর বিশাল সাদা সিংহাসনে বসে পাপ অনুযায়ী প্রত্যেক ব্যক্তির বিচার করবেন, কিন্তু সুসমাচার প্রচারকরা বলল যে ঈশ্বর দেহধারণ করেছেন এবং আমাদের পাপের বিচার করার জন্য বাণী উচ্চারণ করছেন। এই সব বিষয়গুলো আমার ভিতরে একটা দ্বন্দ্ব তৈরি করে, এবং আমার অস্বস্তি আরো বেড়েই চলে। যদিও আমাদের সান্ধ্য উপদেশের জন্য উন্মুখ ছিলাম তবুও এই অনুসন্ধান চালিয়ে যেতে চাইলাম, কিন্তু আমার প্রতিবেশীরা যা বলল তা আমার হৃদয়ে গেঁথে গিয়েছিল, তাই সাবধান হয়ে গেলাম। উপদেশ শুরু হলে, গ্রুপ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলাম।

হোয়াটসঅ্যাপে একটা মেসেজে আমার গ্রুপ ছাড়ার কারণ লিখে দিলাম, আমার চিন্তার কথা জানিয়ে বললাম যে ভণ্ড খ্রীষ্টের প্রতারণায় পড়া নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন, আর প্রতিবেশীদের পাঠানো বাইবেলের স্তবকগুলোও পাঠালাম। ঠিক যখন সেই বার্তা পাঠিয়ে গ্রুপ ছাড়তে যাচ্ছিলাম, তখন হঠাৎ বিজ্ঞপ্তি পেলাম যে আমার সেলফোনে চার্জ নেই আর ফোনটা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অবাক হয়েছিলাম, কারণ সবসময় সমাবেশের আগে আমার ফোন চার্জ করি, তাহলে হঠাৎ ব্যাটারি ফুরিয়ে গেল কেন? কিন্তু তখনও সিদ্ধান্তে অটল ছিলাম। নিজেকে বললাম, খ্রীষ্ট ফিরে এসেছেন অথচ বিরাট বিস্ময়কর কিছু ঘটেনি, এটা হয় কী করে? আবার আমার ফোন প্লাগে লাগিয়ে ন্যূনতম চার্জ থাকা অবস্থাতেই মেসেজটা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলাম। যখন ব্যাটারি ৫% হয়ে গেল, তখন ফোন চালু করলাম আর কিছু বাইবেলের স্তোত্র দেখলাম যেগুলো গ্রুপ থেকে পাঠানো হয়েছিল। কৌতূহলবশত সেগুলো পড়লাম: “দেখ, আমি দুয়ারে দাঁড়িয়ে করাঘাত করছি। যে আমার ডাক শুনে দুয়ার খুলে দেয়, আমি ভেতরে তার কাছে যাব, তার সঙ্গে পানাহার করব, সেও আমার সঙ্গে পানাহার করবে(প্রকাশিত বাক্য ৩:২০)। “আমার নিজের মেষপাল আমার ডাক শোনে, তাদের আমি চিনি এবং তারা আমাকে অনুসরণ করে(যোহন ১০:২৭)। ভ্রাতা আর ভগিনীরা আলোচনা করল, “আমরা ঈশ্বরের বাণীতেই দেখতে পাচ্ছি যে যখন প্রভু ফিরে আসবেন, তিনি দরজায় টোকা দেবেন, আর বাণীর মাধ্যমে তাঁর মেষদের ডাকবেন। আমরা প্রভুকে স্বাগত জানাতে পারি কিনা সেটা আমরা তাঁর কণ্ঠস্বর শুনি কিনা তার উপর সাধারণত নির্ভর করে। প্রভুর কণ্ঠস্বর শুনতে হবে যাতে দরজা খুলে তাঁকে স্বাগত জানাতে আর তাঁর সাথে আহার করতে পারি। সুতরাং যদি তুমি দেখো কেউ প্রভু যীশুর ফিরে আসার সাক্ষ্য দিচ্ছে, তবে দরজা বন্ধ করবে না বা প্রতারিত হওয়ার ভয় পাবে না, বরং প্রাজ্ঞ কুমারী হও—প্রভুর কণ্ঠস্বর শোনার প্রতি মনোযোগ দেওয়াই আসল চাবিকাঠি।” তারপর দেখলাম একজন ভগিনী গ্রুপে সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের বাণীর একটা অনুচ্ছেদ পাঠিয়েছে। “যদি বর্তমানকালে এমন কেউ আবির্ভূত হয় যে সংকেত ও আশ্চর্যজনক বিষয় প্রদর্শন করতে পারে, অপদেবতা বিতাড়নে ও পীড়িতদেরদের নিরাময়ে সক্ষম হয় এবং বিবিধ অলৌকিক ঘটনা ঘটাতে পারে, আর যদি সেই ব্যক্তি দাবি করে যে সে-ই হল আবির্ভূত যীশু, তাহলে সে হল মন্দ আত্মাদের সৃষ্ট যীশুর অনুকরণকারী এক নকল সত্তা। একথা মনে রেখো! ঈশ্বর একই কাজের পুনরাবৃত্তি করেন না। যীশুর কাজের পর্যায় ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ হয়ে গেছে, এবং ঈশ্বর কখনোই সেই কাজের পর্যায়ের আর দায়িত্ব নেবেন না। … মানুষের ধারণায়, ঈশ্বর অবশ্যই সর্বদা সংকেত এবং বিস্ময়কর ঘটনা প্রদর্শন করবেন, সর্বদা পীড়িতদের নিরাময় করবেন, অপদেবতা বিতাড়ন করবেন এবং সর্বদাই হুবহু যীশুর মতো হবেন। তবুও এইবার ঈশ্বর একদমই সেরকম নন। অন্তিম সময়ে এসেও, ঈশ্বর যদি এখনও সংকেত ও আশ্চর্যজনক ঘটনা প্রদর্শন করেন, অপদেবতা বিতাড়ন করেন এবং পীড়িতদের নিরাময় করেন—যদি তিনি যীশুর মতো ঠিক একই কাজ করেন—তাহলে ঈশ্বর একই কাজের পুনরাবৃত্তি করবেন এবং তাহলে যীশুর কাজের কোনো তাৎপর্য বা মূল্যই থাকবে না। এইভাবে, ঈশ্বর প্রতিটি যুগে কাজের এক-একটি পর্যায় নির্বাহ করেন। একবার তাঁর কাজের একটি পর্যায় শেষ হয়ে গেলে, শীঘ্রই মন্দ আত্মারা তা অনুকরণ করে, এবং শয়তান ঈশ্বরের পথে হাঁটা শুরু করলে ঈশ্বর তাঁর পদ্ধতি পরিবর্তন করেন। ঈশ্বরের কাজের একটি পর্যায় সম্পূর্ণ হয়ে গেলে, মন্দ আত্মারা তা অনুকরণ করতে শুরু করে। তোমাদের অবশ্যই এই বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, ঈশ্বরের বর্তমানের কার্যকে জানা)। সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের বাক্য এবং অন্যদের আলোচনা আমায় অবাক করল। আমার প্রশ্নের সব উত্তরই তাতে ছিল। নিজেকে বললাম যে এটা একেবারে সত্যি। ঈশ্বর চিরকাল নবীন, কখনো পুরনো নন আর তিনি সবসময় নতুন কাজ করেন। তাঁর পুরানো কাজের পুনরাবৃত্তি করবেন না। প্রভু যীশু বিধানের যুগের কাজের পুনরাবৃত্তি করেননি, তাহলে কেন ঈশ্বর ফিরে আসার পর অনুগ্রহের যুগের মত একই কাজ করবেন? সর্বশক্তিমান ঈশ্বর এখন এসেছেন আর নতুন যুগ শুরু করেছেন, রাজ্যের যুগের নতুন কাজ করছেন। এই কাজ আগে কখনো করা হয়নি। সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের সতর্কও করেছেন, “যদি বর্তমানকালে এমন কেউ আবির্ভূত হয় যে সংকেত ও আশ্চর্যজনক বিষয় প্রদর্শন করতে পারে, অপদেবতা বিতাড়নে ও পীড়িতদেরদের নিরাময়ে সক্ষম হয় এবং বিবিধ অলৌকিক ঘটনা ঘটাতে পারে, আর যদি সেই ব্যক্তি দাবি করে যে সে-ই হল আবির্ভূত যীশু, তাহলে সে হল মন্দ আত্মাদের সৃষ্ট যীশুর অনুকরণকারী এক নকল সত্তা।” শুধুমাত্র দুষ্ট আত্মারা ঈশ্বরের আগেকার কাজের অনুকরণ করে, আর মানুষকে বিপথে নিয়ে যাওয়ার জন্য ঈশ্বর সেজে অলৌকিক কাজ করার ভান করে। এটা আমার কাছে সত্যিই জ্ঞানদায়ী ছিল। কীভাবে ভণ্ড খ্রীষ্টকে চিনতে হয় আর রাজ্যের যুগে ঈশ্বর কেন কেন সংকেত আর বিস্ময়কর কর্ম প্রদর্শন করেন না তার প্রকৃত কারণ জানলাম। অন্তিম সময়ে, সত্য প্রকাশের মাধ্যমে ঈশ্বর মানবজাতির বিচার করেন, তাদের পরিশুদ্ধ আর উদ্ধারের কাজ করেন, মানুষকে তাঁর রাজ্যে নিয়ে যান। এটা বোঝার পর থেকে সমাবেশগুলোতে যোগ দেওয়া বজায় রাখি।

পরে, সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের বাণীর আরেকটা অনুচ্ছেদ পড়লাম। “যারা যীশুকে বিশ্বাস করে, তারা কেউই অন্যকে নিন্দা বা অভিসম্পাত করার যোগ্য নয়। তোমাদের সকলকে এমন হতে হবে, যারা বিচক্ষণ এবং যারা সত্যকে স্বীকার করে। হয়তো সত্যের পথের বিষয়ে শুনে বা জীবনের বাক্য পড়ে তুমি বিশ্বাস করো যে, এই বাক্যগুলির ১০,০০০এর মধ্যে একটি হয়তো তোমার ধারণা এবং বাইবেলের সঙ্গে সুসঙ্গত, আর তারপর তোমার ১০,০০০তম বাক্য অবধি অনুসন্ধান চালানো উচিত। আমি এখনো তোমায় বিনয়ী হতে, অতি আত্মবিশ্বাসী না হতে, এবং নিজেকে অতি উচ্চে উন্নীত না করতেই উপদেশ দিই। তোমার হৃদয়ে ঈশ্বরের প্রতি সামান্য সম্মান থাকলেই তুমি মহত্তর আলোক অর্জন করবে। তুমি যদি এই বাক্যগুলিকে সযত্নে পরীক্ষা করো এবং বারংবার চিন্তা করো, তাহলেই তুমি বুঝতে পারবে এগুলি সত্য কিনা, এগুলিই জীবন কিনা। হয়তো মাত্র কিছু বাক্য পড়েই কিছু মানুষ এই বাক্যগুলিকে অন্ধভাবে নিন্দা করে বলবে, ‘এটা পবিত্র আত্মার কিছু আলোকপ্রাপ্তির চেয়ে বেশি কিছু নয়,’ অথবা ‘এ এক ভণ্ড খ্রীষ্ট মানুষকে বোকা বানাতে এসেছে’। যারা এসব বলে, তারা অজ্ঞতার বশে অন্ধ! তুমি ঈশ্বরের কার্য এবং প্রজ্ঞা সম্বন্ধে খুবই কম বোঝো, এবং আমি তোমাকে আবার শূন্য থেকে শুরু করার উপদেশ দিই! অন্তিম সময়ে ভণ্ড খ্রীষ্টদের আগমনের কারণে ঈশ্বরের অভিব্যক্ত বাক্যকে অন্ধভাবে নিন্দা করা একেবারেই অনুচিত, এবং শঠতার প্রতি তোমার ভয়ের কারণে পবিত্র আত্মার বিরুদ্ধে ধর্মনিন্দা করাও তোমার অনুচিত। সেটা কি খুবই দুঃখের বিষয় হবে না? যদি অনেক পরীক্ষার পরেও তুমি বিশ্বাস করতে থাকো যে এই বাক্যগুলি সত্য নয়, প্রকৃত পথ নয়, এবং ঈশ্বরের অভিব্যক্তি নয়, তাহলে অবশেষে তোমাকে দণ্ড ভোগ করতে হবে, এবং তুমি আশীর্বাদ থেকে বঞ্চিত থাকবে। তুমি যদি এত সাধারণ এবং স্পষ্টভাবে কথিত সত্য স্বীকার করতে না পারো, তাহলে কি তুমি ঈশ্বরের পরিত্রাণ লাভের অনুপযুক্ত নও? তুমি কি তাহলে এমন কেউ নও যে ঈশ্বরের সিংহাসনের কাছে প্রত্যাবর্তনের পক্ষে যথেষ্ট আশীর্বাদপ্রাপ্ত নয়? ভেবে দেখো! হঠকারী বা আবেগপ্রবণ হয়ো না, এবং ঈশ্বর-বিশ্বাসকে নিছক খেলা হিসেবে দেখো না। তোমার গন্তব্যের স্বার্থে, প্রত্যাশার স্বার্থে, জীবনের স্বার্থে ভাবো, আর নিজেকে ঠকিয়ো না। তুমি কি এই বাক্যগুলিকে স্বীকার করতে পারো?(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, যতক্ষণে তুমি যীশুর আধ্যাত্মিক দেহ প্রত্যক্ষ করবে, ততক্ষণে ঈশ্বর স্বর্গ ও পৃথিবীকে নতুন করে তৈরি করে ফেলবেন)। ঈশ্বরের বাণী পড়ে বুঝতে পারলাম যে অন্তিম সময়ে ঈশ্বরের প্রত্যাবর্তনের ব্যাপারে আমাদের ঠিক প্রাজ্ঞ কুমারীদের মতো হতে হবে, খ্রীষ্টের আবির্ভাবকে তাড়াহুড়ো করে অস্বীকার করলে হবে না। ভণ্ড খ্রীষ্টরা অন্তিম সময়ে আসবে বলে আমরা অন্ধভাবে ঈশ্বরের নতুন কাজ আর তিনি যেসব কথা বলেন তা প্রত্যাখ্যান ও তার অবমাননা করতে পারি না। আমাদের ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর শোনার শিক্ষা নিতে হবে, আর নম্রভাবে অন্বেষণের মনোভাব নিয়ে ঈশ্বরের কাজের অনুসন্ধান করতে হবে। এটাই ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর শোনার আর প্রভুকে স্বাগত জানানোর একমাত্র উপায়। নাহলে, আমরা ঈশ্বরের পরিত্রাণ পাব না। ঠিক যেমন সর্বশক্তিমান ঈশ্বর বলেন, “হঠকারী বা আবেগপ্রবণ হয়ো না, এবং ঈশ্বর-বিশ্বাসকে নিছক খেলা হিসেবে দেখো না। তোমার গন্তব্যের স্বার্থে, প্রত্যাশার স্বার্থে, জীবনের স্বার্থে ভাবো, আর নিজেকে ঠকিয়ো না। তুমি কি এই বাক্যগুলিকে স্বীকার করতে পারো?” সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের বাণী পড়ে বুঝেছি যে যখন আমার প্রতিবেশীদের ভুল মতামত আমাকে সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কাজ অনুসন্ধানে বাধা দিয়েছিল, তখন তা গ্রহণে তাড়াহুড়ো করেছিলাম। সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের গির্জা সম্পর্কে গভীরভাবে বোঝার চেষ্টা করিনি অথবা সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের গির্জার অন্যদের কাছে আমার প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইনি। শুধু আবেগতাড়িত হয়ে দল ছেড়ে দিয়ে প্রকৃত পথের অনুসন্ধান বন্ধ করতে চেয়েছিলাম। আমার হঠকারিতার জন্য আরেকটু হলেই অন্তিম সময়ে ঈশ্বরের পরিত্রাণ সুযোগ হারাচ্ছিলাম। তারপর বুঝলাম বিভ্রান্তি আর সংশয়ের মুখে আবেগতাড়িত হওয়া বা তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়া অনুচিত, আর আমাকে সতর্ক থাকতে হবে, ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতে হবে আর সবসময় সত্যের সন্ধান করতে হবে। আমাকে ঈশ্বরের কথার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে নম্রভাবে সন্ধান করতে হবে যাতে তাঁর পথনির্দেশের মাধ্যমে ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর চিনত পারি আর প্রভুর প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানাতে পারি। প্রতিদিন সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের বাক্য ভোজন ও পান করে বাইবেল আরো গভীরভাবে বুঝতে পারলাম, আর তাই নিশ্চিত হলাম যে অন্তিম সময়ে এটাই ঈশ্বরের আবির্ভাব আর কাজ, তখন নির্দ্বিধায় সর্বশক্তিমান ঈশ্বরকে গ্রহণ করলাম।

একদিন, সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের বাণীর আরো দুটো অনুচ্ছেদ পড়লাম। “এইরকম একটি বিষয়ে অনুসন্ধান করা কঠিন নয়, কিন্তু এর জন্য আমাদের প্রত্যেকের এই সত্যটি জানতে হবে: যিনি ঈশ্বরের অবতার তিনি ঈশ্বরের সারসত্যের অধিকারী হবেন, এবং যিনি ঈশ্বরের অবতার তিনি ঈশ্বরের অভিব্যক্তির অধিকারী হবেন। যেহেতু ঈশ্বর দেহরূপ ধারণ করেছেন, সেহেতু তিনি সেই কাজ নিয়ে আসবেন যা তিনি করতে চান, এবং যেহেতু তিনি দেহরূপ ধারণ করেছেন, তিনি তাঁর স্বরূপ প্রকাশ করবেন এবং সেই সত্যটি মানুষের সামনে নিয়ে আসতে সমর্থ হবেন, তাকে জীবন দান করবেন এবং তার জন্য পথ চিহ্নিত করবেন। যে দেহরূপে ঈশ্বরের সারসত্য নেই তাকে ঈশ্বরের অবতার বলে গণ্য করা হয় না; এই বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কেউ ঈশ্বরের দেহরূপী অবতার কিনা তা যদি মানুষ অনুসন্ধান করতে চায়, তাহলে তাকে অবশ্যই যে স্বভাব তিনি প্রকাশ করেন এবং যে সকল বাক্য তিনি বলেন, তার থেকেই তা জানতে হবে। অর্থাৎ, কেউ ঈশ্বরের দেহরূপী অবতার কিনা, এবং এটিই প্রকৃত পথ কিনা, তা সুনিশ্চিত করতে অবশ্যই তাঁর সারসত্যের ভিত্তিতে বিচার করতে হবে। এবং তাই, কেউ ঈশ্বরের দেহরূপী অবতার কি না, তা নির্ণয় করার মূল বিষয়টি তাঁর বাহ্যিক চেহারার পরিবর্তে তাঁর সারসত্য (তাঁর কাজ, তাঁর কথন, তাঁর স্বভাব এবং অন্যান্য অনেক বিষয়ের), উপর নির্ভরশীল। মানুষ যদি শুধু তাঁর বাইরের চেহারাটাই যাচাই করে এবং এর ফলে তাঁর সারসত্যকে উপেক্ষা করে, তাহলে এটাই প্রমাণিত হয় যে সেই মানুষটি অজ্ঞানতিমিরে আচ্ছন্ন এবং অজ্ঞ(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, ভূমিকা)। “ঈশ্বরের অবতাররূপকেই খ্রীষ্ট বলা হয়, এবং তাই যে খ্রীষ্ট মানুষকে সত্যের সন্ধান দেন তাঁকেই ঈশ্বর বলা হয়। এটি অতিশয়োক্তি নয়, কারণ তিনিই ঈশ্বরের সারসত্যের অধিকারী এবং তাঁর কাজের মধ্যেই প্রতিফলিত হয় ঈশ্বরের স্বভাব এবং প্রজ্ঞা, যা মানুষের পক্ষে অর্জন করা অসাধ্য। যারা নিজেদেরকে খ্রীষ্ট বলে দাবি করে, কিন্তু ঈশ্বরের কাজে অপারগ, তারা আসলে প্রতারক। খ্রীষ্ট নিছক পৃথিবীতে ঈশ্বরের প্রকাশ নন, বরং ঈশ্বরের অবতাররূপ, কারণ তিনি মানুষের মধ্যে ঈশ্বরের কর্ম সম্পাদন করেন এবং সম্পূর্ণ করেন। এই অবতাররূপ যেকোনো মানুষ দ্বারা প্রতিস্থাপিত করা অসম্ভব, তিনিই তা করতে পারবেন যিনি যথাযথভাবে পৃথিবীতে ঈশ্বরের কর্ম সম্পাদন করতে পারেন, ঈশ্বরের স্বভাব প্রকাশ করতে পারেন, যথাযথ ভাবে ঈশ্বরের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন এবং মানুষকে জীবন দান করতে পারেন। একদিন না একদিন, খ্রীষ্টের ছদ্মরূপ ধারণকারী প্রত্যেকের পতন অনিবার্য, কারণ তারা নিজেদের খ্রীষ্ট বলে দাবি করলেও, তাদের মধ্যে খ্রীষ্টের সারসত্যের ছিটেফোঁটাও নেই। আর তাই আমি বলি খ্রীষ্টের সত্যতা মানুষ সংজ্ঞায়িত করতে পারে না, বরং তার সত্যতা বিচার এবং সংজ্ঞা নির্ধারণ স্বয়ং ঈশ্বরের দ্বারাই করা সম্ভব। এইভাবে, তুমি সত্যিই জীবনের পথ খুঁজতে চাইলে অবশ্যই প্রথমে তোমাকে স্বীকার করতে হবে যে শুধুমাত্র পৃথিবীতে এসেই ঈশ্বর মানুষকে জীবন যাপনের পথের সন্ধান দেবার কাজ করেন, এবং তোমাকে এটাও মানতেই হবে যে একমাত্র অন্তিম সময়েই ঈশ্বর পৃথিবীতে আসেন মানুষকে জীবন যাপনের সঠিক পথের সন্ধান দেবার জন্য। এটা অতীত নয়; বর্তমানেই ঘটছে(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, শুধুমাত্র অন্তিম সময়ের খ্রীষ্ট মানুষকে অনন্ত জীবনের পথ দেখাতে পারেন)। ঈশ্বরের বাণী থেকে শিখেছি যে আমরা শুধু চেহারা দেখে ভণ্ডদের থেকে প্রকৃত খ্রীষ্টকে আলাদা করতে পারি না, সেটা করতে গেলে তাদের অন্তর দেখতে হবে, অর্থাৎ তারা ঈশ্বরের কাজ, ঈশ্বরের বাক্য আর স্বভাব প্রকাশ করতে পারে কিনা তা দেখে নির্ধারণ করতে হবে। ঈশ্বর দেহ ধারণ করেছেন, তিনি সত্য প্রকাশ আর তাঁর কাজ করছেন। ঈশ্বরের যা আছে এবং ঈশ্বর যা তাই তিনি প্রকাশ করেন—এটাই সামগ্রিক ভাবে ঈশ্বরের স্বভাব। আর তিনি যে কাজ করেন তা মানুষকে উদ্ধার করতে পারে। এগুলো এমনসব জিনিস যা কোনো মানুষের নেই আর কোনো মানুষ এগুলো করতে পারে না। সুতরাং, কেউ খ্রীষ্ট কিনা তা নির্ধারণ করার সবচেয়ে সঠিক উপায় হল তারা ঈশ্বরের কাজ, ঈশ্বরের বাণী আর স্বভাব প্রকাশ করতে পারে কিনা তা দেখা। সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কাজ অনুসন্ধান করা আর তাঁর বাণী পড়ার সেই সময়ে, সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের বাণীতে মানুষের প্রতি ভালবাসার প্রকাশ ছাড়াও, ঈশ্বরের ন্যায়পরায়ণতা, ক্রোধ আর মহিমাও দেখেছি। তাঁর বাণী ধারালো তলোয়ারের মত, আমাদের অন্তরের কলুষতা ভেদ করে, আমাদের ঈশ্বর-প্রতিরোধী শয়তান-সুলভ প্রকৃতি তুলে ধরে। তাঁর বাণীর মাধ্যমে নিজেদের অন্তরের কলুষতা প্রত্যক্ষভাবে দেখার পাশাপাশি, কোন পথ আমাদের বিশ্বাসের দিকে নিয়ে যেতে পারে তাও দেখতে পাই। তাঁর কথা বাস্তবে কার্যকর করে, আমরা ধীরে ধীরে আমাদের কলুষিত স্বভাব দূর করে স্বাভাবিক মানবতা ফিরে পেতে পারি। সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের বাণী সত্যের অনেক রহস্য উন্মোচন করে আর মানবজাতিকে উদ্ধারের জন্য তাঁর 6,000 বছরের পরিচালনামূলক পরিকল্পনা সম্পর্কে জানায়। এই বিষয়গুলো বাইবেলে বা কোনো ধর্মে পাওয়া যায় না। এসবই সত্যের রহস্য যা ঈশ্বর অন্তিম সময়ে মানবজাতির জন্য উন্মোচন করছেন, আর এসব এমন বিষয় যা মানুষ আগে শোনেনি বা দেখেনি। ঈশ্বর ছাড়া, অন্য কোনো ব্যক্তি বা মহামানব সত্য প্রকাশ করতে ও মানবজাতিকেউদ্ধার করতে পারে না। একমাত্র ঈশ্বরের অবতাররূপই সত্য প্রকাশ করতে পারেন, মানুষকে বিচার ও পরিশুদ্ধ করতে পারেন, আমাদের সত্যময় জীবনের পথ দেখাতে পারেন। সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের বাণী পড়ে নিশ্চিত হলাম যে তিনিই অন্তিম সময়ের খ্রীষ্ট, যে ঈশ্বর আকাশ, পৃথিবী আর সব কিছু সৃষ্টি করেছেন, যে ঈশ্বর বিশ্বে মানুষের জীবন পরিচালনার নিয়ম বানিয়েছেন, যে ঈশ্বর সমস্ত মানবজাতির মুক্তির জন্য ক্রুশবিদ্ধ হয়েছিলেন, আর তার চেয়েও বড় কথা, যে ঈশ্বর আমাদের পাপ থেকে উদ্ধার করার জন্য অন্তিম সময়ে ফিরে এসেছেন। নিঃসন্দেহে, ঈশ্বর আদি আর অন্ত, সর্বশক্তিমান ঈশ্বরই প্রত্যাবর্তিত প্রভু যীশু। সেই ভণ্ড খ্রীষ্টরা আসলে প্রতারক যারা একদিন না একদিন ধ্বংস হবেই, কারণ তারা সত্য প্রকাশ করতে পারে না, তারা ঈশ্বরের নতুন কাজ করতে অক্ষম, তারা মানুষকে নিষ্কলুষ হয়ে উদ্ধার পাওয়ার দিকনির্দেশনা দিতে পারে না। শুধু মানুষকে বিভ্রান্ত আর ভ্রষ্ট করার জন্য ঈশ্বরের আগের কাজের অনুকরণ করতে পারে। এখন, অন্তিম সময়ের খ্রীষ্ট, সর্বশক্তিমান ঈশ্বর, সত্য প্রকাশ করছেন আর ঈশ্বরের গৃহ থেকে শুরু করে বিচারকার্য করছেন। তিনি মানুষের দুর্নীতিকে পরিশোধন আর রূপান্তরিত করে মানবজাতিকে পাপ থেকে উদ্ধার করছেন। সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কাজ আর বাণী সম্পূর্ণভাবে প্রমাণ করে যে তিনিই প্রকৃত সত্য ঈশ্বরের আবির্ভাব। এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

আগে, আমার পূর্বধারণা আঁকড়ে ছিলাম। ভেবেছিলাম ঈশ্বর অন্তিম সময়ে আকাশে বিরাট সাদা সিংহাসন থেকে মানুষের পাপের বিচার করবেন, কিন্তু তারপর সমাবেশে যোগ দিয়ে ঈশ্বরের বাণী পড়ে আমার এই পূর্বধারণা ভেঙে গেছে। কারণ কীভাবে ঈশ্বর অন্তিম সময়ে তাঁর বিচারকার্যের মাধ্যমে মানুষকে পরিশুদ্ধ করেন তা জেনেছি। দেখেছি যে প্রভু যীশু বলেছেন: “তোমাদের আরও অনেক কথা আমার বলার আছে কিন্তু এখন তোমাদের পক্ষে তা হৃদয়ঙ্গম করা কঠিন। সেই সত্যের আত্মা যখন আসবেন তিনিই তখন তোমাদের পূর্ণ সত্যের উপলব্ধি দান করবেন। তিনি নিজে থেকে কিছুই বলবেন না, যা তিনি শুনবেন শুধুমাত্র তা-ই বলবেন এবং সমস্ত ভাবী ঘটনার কথা তিনি তোমাদের কাছে প্রকাশ করবেন(যোহন ১৬:১২-১৩)। “তোমার বাক্যই সত্যস্বরূপ, সেই সত্যের দ্বারা তুমি তাদের শুচিশুদ্ধ কর(যোহন ১৭:১৭)। “কেউ যদি আমার কথা শোনে, এবং অবিশ্বাস করে, আমি তার বিচার করি না: কারণ আমি এই পৃথিবীতে বিচার করতে আসি নি, এসেছি পৃথিবীকে উদ্ধার করতে। যে আমার বাণী গ্রহণ না করে আমাকে প্রত্যাখ্যান করে তার বিচার হবে অন্যভাবে। শেষের দিনে আমার মুখনিঃসৃত সেই বাণীই হবে তার বিচারক(যোহন ১২:৪৭-৪৮)। একদিন, সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের বাণীতে এটা পড়লাম। “মুক্তিলাভের পূর্বে শয়তানের অনেক বিষ ইতিমধ্যেই মানুষের মধ্যে রোপণ করা হয়েছিল, এবং হাজার হাজার বছর ধরে শয়তানের দ্বারা কলুষিত হওয়ার পর তার মধ্যে এক ঈশ্বরবিরোধী চরিত্র প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। অতএব, মানুষ যখন মুক্তিলাভ করে, তা এমন এক মুক্তির চেয়ে বেশি কিছুই নয়, যেখানে তাকে উচ্চ মূল্যে ক্রয় করা হয়, কিন্তু তার বিষাক্ত চরিত্র নির্মূল হয় নি। মানুষ, যে এত অপবিত্র, ঈশ্বরের সেবা করার যোগ্য হওয়ার আগে তাকে পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এই বিচার ও শাস্তিদানের কার্যের মাধ্যমে মানুষ নিজের ভিতরের কলুষিত ও ভ্রষ্ট সত্তার সম্বন্ধে জানতে পারবে, এবং সে সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তিত ও শুদ্ধ হতে সক্ষম হবে। একমাত্র এই উপায়েই মানুষ ঈশ্বরের সিংহাসনের সম্মুখে প্রত্যাবর্তনের যোগ্য হয়ে উঠবে। এখনকার দিনে যে সমস্ত কার্য সম্পাদিত হয়, তা সকলই মানুষকে শুদ্ধ ও পরিবর্তিত করার জন্য; বাক্য দ্বারা বিচার ও শাস্তির মাধ্যমে, এবং সেইসাথে পরিমার্জনের দ্বারা, মানুষ যাতে কলুষতা দূর করতে ও পরিশুদ্ধ হতে পারে। এই পর্যায়ের কাজকে পরিত্রাণের কাজ হিসেবে গণ্য না করে বরং শুদ্ধিকরণের কাজ বললে বেশি যথার্থ হবে(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, অবতাররূপের রহস্য (৪))। “অন্তিম সময়ের খ্রীষ্ট মানুষকে শেখানোর জন্য, মানুষের উপাদান প্রকাশ করার জন্য এবং মানুষের কথা ও কাজের বিশ্লেষণ করার জন্য বিভিন্ন সত্য ব্যবহার করেন। এই বাক্যে বিভিন্ন সত্য অন্তর্ভুক্ত থাকে, যেমন মানুষের কর্তব্য, কীভাবে মানুষের ঈশ্বরকে মান্য করা উচিত, কীভাবে মানুষের ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ত থাকা উচিত, কীভাবে মানুষের স্বাভাবিক মানবতাসম্পন্ন জীবনযাপন করা উচিত, সেইসাথে থাকে ঈশ্বরের প্রজ্ঞা এবং স্বভাব ইত্যাদি বিষয়সমূহ। এই সমস্ত বাক্য মানুষের উপাদান এবং তার ভ্রষ্ট স্বভাবের দিকেই ইঙ্গিত করে। বিশেষ করে, সেই সমস্ত বাক্য, যা অনাবৃত করে মানুষ কীভাবে ঈশ্বরকে প্রত্যাখ্যান করেছে, তা আসলে এ সম্পর্কে কথা বলে যে কীভাবে মানুষ শয়তানের মূর্ত প্রতীক হয়ে উঠেছে এবং ঈশ্বরের বিরুদ্ধে শত্রু শক্তিতে পরিণত হয়েছে। তাঁর বিচারকার্যের সময়, ঈশ্বর কেবলমাত্র কয়েকটি বাক্যের মাধ্যমে মানুষের প্রকৃতি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন না; তিনি দীর্ঘমেয়াদে তা অনাবৃত করেন, মোকাবিলা করেন এবং তাদের অপ্রয়োজনীয় অংশের কর্তন করেন। অনাবৃতকরণ, মোকাবিলা এবং অপ্রয়োজনীয় অংশের কর্তনের এই সমস্ত ভিন্ন পদ্ধতি সাধারণ শব্দ দ্বারা প্রতিস্থাপিত করা যায় না, সেই সত্যের দ্বারাই প্রতিস্থাপিত করা যায় যার সম্পর্কে মানুষ একেবারেই অসচেতন। শুধুমাত্র এই ধরনের পদ্ধতিকেই বিচার বলা যেতে পারে; শুধুমাত্র এই ধরনের বিচারের মাধ্যমেই মানুষ ঈশ্বরের প্রতি অনুগত হতে পারে, তাঁর সম্বন্ধে দৃঢ়ভাবে নিশ্চিত হতে পারে, এবং ঈশ্বর সম্পর্কে প্রকৃত জ্ঞান লাভ করতে পারে। এই বিচারের কাজই প্রতিফলিত করে ঈশ্বরের আসল চেহারা সম্পর্কে মানুষের উপলব্ধি, এবং তার নিজের বিদ্রোহের সত্য। বিচারের কাজ মানুষকে ঈশ্বরের ইচ্ছা, তাঁর কাজের উদ্দেশ্য এবং তাঁর দুর্বোধ্য রহস্য সম্পর্কে অনেক বেশি করে বোঝার সুযোগ দেয়। এটি মানুষকে নিজের ভ্রষ্ট সারসত্য এবং সেই ভ্রষ্টাচরণের মূল চিনতে ও জানতে শেখায়, এবং সেইসাথে মানুষের কদর্যতা আবিষ্কার করতে শেখায়। এই সমস্ত প্রভাব বিচারের কাজের মাধ্যমে প্রতিভাত হয়, কারণ এই কাজের সারমর্ম হল ঈশ্বরের সত্য, পথ এবং জীবনকে তাঁর অনুগামীদের কাছে উন্মুক্ত করার কাজ। এই কাজ ঈশ্বরের বিচারের কাজ(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, খ্রীষ্ট সত্যের দ্বারাই বিচারের কাজ করেন)। জানতে পারলাম, যে ঈশ্বর নিজেকে অবতার নিয়ে অন্তিম সময়ের বিচারকার্য করছেন আর মানবজাতিকে রূপান্তরিত ও উদ্ধার করতে সত্য প্রকাশ করছেন। সর্বশক্তিমান ঈশ্বর ইতিমধ্যেই তাঁর বাক্যের মাধ্যমে মানুষের শয়তানসুলভ প্রকৃতি প্রকাশ করেছেন যার মধ্যে অহংকার, ধূর্ততা আর পাপাচারের মত দিক রয়েছে। তিনি মানুষের স্বার্থপরতা ও লোভও প্রকাশ করেছেন, তাছাড়াও মানুষকে তাঁর বাণীর বিচারের মাধ্যমে তাদের দুর্নীতির সত্যতা দেখার, নিজেদের ঘৃণা করে ঈশ্বরের কাছে অনুতপ্ত হওয়ার, আর ঈশ্বরের প্রতি শ্রদ্ধাবনত হয়ে আত্মসমর্পণ করার সুযোগ দিয়েছেন। মানুষের শয়তানোচিত প্রকৃতি দূর করার একমাত্র উপায় হল অন্তিম সময়ে সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের বিচারকার্য। কোনো মানুষ তা করতে পারে না। তখন বুঝলাম ঈশ্বর যদি আকাশে বিরাট সাদা সিংহাসন থেকে প্রত্যেক ব্যক্তির বিচার করেন, তবে সারা মানব জগতে শয়তানের মাধ্যমে কলুষিত কেউ পরিত্রাণের সুযোগ পাবে না। কারণ সমগ্র মানবজাতি শয়তানের কলুষতায় আচ্ছন্ন। যদিও প্রভু যীশুর ক্রুশের পরিত্রাণের মাধ্যমে, আমরা মুক্তি পেয়েছি আর আমাদের পাপ ক্ষমা করা হয়েছে, তবু আমরা এখনও পাপী। আমরা বার বার পাপ আর পাপস্বীকারের চক্রেই আবদ্ধ থাকি। বিচারের মধ্য দিয়ে না গেলে আমাদের কলুষিত মন পরিষ্কার হবে না, আর শেষ পর্যন্ত, ঈশ্বর আমাদের তিরস্কার করে প্রত্যাখ্যান করবেন। শুধুমাত্র সরাসরি ঈশ্বরের বিচার পেলে ও ঈশ্বরের বাক্যের মাধ্যমে আমাদের স্বরূপ প্রকাশিত হলে তবেই আমরা প্রকৃতঅর্থে নিজেদের জানতে পারব আর আমাদের কলুষিত মন পরিশুদ্ধ হবে। ঠিক যেমন সর্বশক্তিমান ঈশ্বর বলেন, “এখনকার দিনে যে সমস্ত কার্য সম্পাদিত হয়, তা সকলই মানুষকে শুদ্ধ ও পরিবর্তিত করার জন্য; বাক্য দ্বারা বিচার ও শাস্তির মাধ্যমে, এবং সেইসাথে পরিমার্জনের দ্বারা, মানুষ যাতে কলুষতা দূর করতে ও পরিশুদ্ধ হতে পারে।

একবার একটা সমাবেশে সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের বাণীর একটা অনুচ্ছেদ পড়লাম, সেটা সত্যিই আমার অনুভূতিকে দোলা দিয়েছিল। “যাদের সত্যের উপলব্ধি নেই, তারা সব সময় অন্যদের অনুসরণ করে: যদি লোকেরা বলে যে এই কাজটি পবিত্র আত্মার করা, তাহলে তুমিও তাই বলবে, যে তা পবিত্র আত্মার কাজ; যদি লোকেরা বলে যে তা শয়তানের কাজ, তাহলে তুমিও, সন্দেহ প্রকাশ করবে, অথবা এমনটাই বলবে যে, এ হল শয়তানের কাজ। তুমি সবসময় অন্যের কথার পুনরাবৃত্তি করো এবং তুমি নিজে কোনোকিছু বিচার করতে অক্ষম, এমনকি তুমি নিজে কিছু ভাবতেও অক্ষম। এ-ই হল এমন একজন যার কোনো অভিমত নেইহল, যারা পার্থক্য করতে অপারগ—এরকম একজন মানুষ হল নিষ্কর্মা অপদার্থ! তুমি সবসময় অন্যের কথার পুনরাবৃত্তি করো: আজকে যদি বলা হয় যে এই কাজটি পবিত্র আত্মার কাজ, কিন্তু হতে পারে যে কোনো একদিন কেউ একজন বলবে যে এই কাজটি পবিত্র আত্মার কাজ নয় এবং এ আসলে মানুষেরই কাজ—তবুও তুমি এর প্রভেদ বুঝতে পারো না, এবং যখন তুমি প্রত্যক্ষ করবে যে এমনটি অন্যেরা বলছে তখন তুমিও সেই একই কথা বলবে। এটি প্রকৃতপক্ষে পবিত্র আত্মারই কাজ, কিন্তু তুমি বলো যে তা মানুষের কাজ; তুমি কি তাদের মধ্যে একজন নও যারা পবিত্র আত্মার কাজের নিন্দা করে? পার্থক্য করতে না পারার মাধ্যমে তুমি কি ঈশ্বরের বিরোধিতা করছ না?(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, ঈশ্বর এবং তাঁর কাজকে যারা জানে শুধুমাত্র তারাই ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করতে পারে)। ঈশ্বরের বাণী আমাদের এই বলে আমাদের আমাদের সতর্ক করে যে সত্য পথের অনুসন্ধান করার সময় অন্ধভাবে অন্যদের দিকনির্দেশ যেন আমরা না শুনি, সেইসঙ্গে মানুষের পূর্বধারণা আর কল্পনার ভিত্তিতে ঈশ্বরের কাজের মূল্যায়ন যেন আমরা না করি। এটা আমাদের প্রভুর পথ থেকে দূরে নিয়ে যেতে পারে, তার পরিণামে ঈশ্বর আমাদের প্রত্যাখ্যান আর বহিষ্কার করবেন, আর আমরা নিজেদের পরিত্রাণের সুযোগ হারাব। এই দুঃখজনক ঘটনা আমাদের যে কারও সাথে ঘটতে পারে। কতটা বোকা আর আবেগতাড়িত ছিলাম ভেবে আমার লজ্জা হয়। ভগবানের কণ্ঠস্বর শুনেও, সেই কথাগুলোর মধ্যে কর্তৃত্ব আর সত্য রয়েছে তা অনুভব করেও, প্রতিবেশীদের কথায় প্রভাবিত হয়ে, তারা যা বলেছিল তা শুনে বিপথগামী হলাম কীভাবে? আমার বোকামির জন্য আরেকটু হলেই সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের গির্জা ছেড়ে দিতাম, প্রভু যীশুর প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানানোর সুযোগ হারাতাম আর আমার পরিত্রাণের সুযোগও নষ্ট করতাম! অন্ধ আর অজ্ঞ হওয়ার কি ভয়ানক পরিণতি হতে পারত! আমি বুঝেছি যে আমাকে সবসময় প্রাজ্ঞ কুমারী হতে হবে। আমরা যখন ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর শুনব, তখন তাতে সন্দেহ করলে চলবে না। আমাদের অবশ্যই অন্তর থেকে প্রার্থনা করে আমাদের আলোকিত করা আর দিকনির্দেশ দেওয়ার জন্য ঈশ্বরকে অনুরোধ জানাতে হবে। অন্ধভাবে অন্যদের কথা শুনলে হবে না, কারণ আমরা সবাই সৃষ্ট সত্তা, সত্য আমাদের অজানা। আমাদের সবসময় ঈশ্বরের বাণী অনুসরণ করতে হবে, ঠিক যেমন পিতর প্রভু যীশুর কথা শুনে প্রভুকে অনুসরণ করেছিলেন। আমার আগের মূর্খতা আর অজ্ঞতার কথা চিন্তা করে সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করলাম, আমার ভুলের জন্য তিনি যেন আমাকে ক্ষমা করেন। মনে হল আমি সর্বশক্তিমান ঈশ্বরকে গ্রহণ করে, তাঁর কথার বিচার আর পরিত্রাণ পেতে প্রস্তুত।

তারপর থেকে, প্রতিদিন সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের বাণী পড়ি। যখন নিজেকে দুর্বল মনে হয়, তখন ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি যেন আমাকে বিশ্বাস আর শক্তি দেন, যাতে হোঁচট খেয়ে না পড়ি। ঈশ্বরের দিকনির্দেশ আর সহায়তায়, এখন অবসাদ কাটিয়ে ইতিবাচক হতে পেরেছি। একটা নতুন কাজও পেয়েছি। আমার মনে হয় এসবই ঈশ্বরের বিস্ময়কর ব্যবস্থার সুফল। ধীরে ধীরে আমার জীবনে বেশ উন্নতি হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, প্রতিদিন সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের বাক্য ভোজন ও পান করতে পারি আর অন্যদের সাথে আলোচনা করতে পারি। এখন সুসমাচার প্রচার করতে আর ঈশ্বরের বাক্যের সাক্ষ্য দিতে শুরু করেছি, ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর শুনে সত্য পথের জন্য যারা তৃষ্ণার্ত সেইসব প্রকৃত বিশ্বাসীদের সাহায্য করছি, আর তাঁর অন্তিম সময়ের পরিত্রাণ গ্রহণ করছি।

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।

সম্পর্কিত তথ্য

চীনে ঈশ্বরের আবির্ভাব এবং কাজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ

জ্যাং লান, দক্ষিণ কোরিয়া “আমি আমার মহিমা ইস্রায়েলে প্রদান করেও তা সরিয়ে নিয়েছি, ফলে সমস্ত ইস্রায়েলবাসীর পাশাপাশি সমগ্র মানবজাতি প্রাচ্যে...

প্রকৃত খ্রীষ্ট এবং ভন্ড খ্রীষ্টর মধ্যে আমি পার্থক্য করতে পারি

“ঈশ্বরের অবতাররূপকেই খ্রীষ্ট বলা হয়, এবং তাই যে খ্রীষ্ট মানুষকে সত্যের সন্ধান দেন তাঁকেই ঈশ্বর বলা হয়। এটি অতিশয়োক্তি নয়, কারণ তিনিই...

আমি ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর শুনেছি

দুই বছর আগে আমি সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের অন্তিম সময়ের কাজ গ্রহণ করেছি। সত্যি বলতে কি, আমি অনেক বেশি অর্জন করেছি দশ বছর ধরে ধর্মীয়...

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন