কীভাবে আমি পারিবারিক নিপীড়নের মুখোমুখি হই

31-03-2023

যখন ছোট ছিলাম, তখন আমার মা প্রায়ই বলত: “নারীর জন্য, একজন ভাল স্বামী এবং সহৃদয় পরিবার পাওয়ার চেয়ে ভাল আর কিছুই হতে পারে না। শুধুমাত্র এগুলো নিয়েই একজন নারী সুখী হতে পারে।” এই চিন্তাধারা আমার মনের মধ্যে গভীরভাবে প্রোথিত হয়, এবং আমি একজন ভালো স্বামীর জন্য আকুল হয়ে উঠি যে পরিণত বয়সে আমার যত্ন নেবে। কিন্তু আমি যেমন চেয়েছিলাম ঘটনা সেভাবে ঘটল না। প্রথম বিয়েতে আমি খুবই অসুখী ছিলাম, যা আমাকে প্রভু যীশুর প্রতি বিশ্বাসী করে তুলেছিল। প্রভুর কৃপায় আমার হৃদয় কিছুটা স্বস্তি পায়, কিন্তু প্রভুর প্রতি আমার বিশ্বাসের কারণে স্বামী প্রায়ই আমাকে মারধর করত, এবং ধর্ম পালনের জন্য তার সাথে বিবাহ-বিচ্ছেদ ছাড়া আমার আর উপায় ছিল না। পরে, ইয়াং নামে গির্জার এক সহকর্মীর মাধ্যমে, ভ্রাতা ওয়াংয়ের সাথে আমার সম্পর্ক হয়। তার পুরো পরিবার প্রভুকে বিশ্বাস করে এবং আমার প্রতি সহৃদয় দেখে আমি সত্যিই আনন্দিত হই। ভ্রাতা ওয়াং এবং আমি সিদ্ধান্ত নিই আমরা প্রভুর জন্য কঠোর পরিশ্রম করব এবং তাঁর প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষা করব।

বছর খানেক পর, এক ভগিনী আমাকে ধর্মোপদেশ শোনার আমন্ত্রণ জানায়। কয়েক দিন ধরে আলোচনা হয় এবং আমি সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের বহু বাক্য পড়ি। সর্বশক্তিমান ঈশ্বর অনেক সত্য প্রকাশ করেছেন, ঈশ্বরের ছয় হাজার বছরের পরিচালনামূলক পরিকল্পনার রহস্য উদঘাটন, এবং অন্তিম সময়ের বিচারের কাজ করছেন। আমি নিশ্চিত হই যে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর হলেন প্রত্যাবর্তিত প্রভু যীশু। আমি অত্যন্ত উদ্দীপ্ত হই, এবং বাড়ি ফিরে এসেই, আমার স্বামীকে এই সুসংবাদ জানাই, এবং সেও সানন্দেই তা গ্রহণ করে। এর পরে, আমরা গির্জার ভ্রাতা ও ভগিনীদের সাথে সুসমাচার ভাগ করে নিই, অনেকেই সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের বাক্য পড়ে, সেগুলিকে ঈশ্বরের কথা বলে চিনতে পারে, এবং ঈশ্বরের অন্তিম সময়ের কাজ বলে গ্রহণ করে।

কিন্তু বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, ইয়াং এই সম্পর্কে জানা মাত্রই, কয়েকজন সহকর্মীর সাথে সেই রাতে কাছাকাছি কয়েকটি গির্জায় ছুটে যায়, এবং যারা ঈশ্বরের অন্তিম সময়ের কাজ সবেমাত্র স্বীকার করেছে তাদের অনেককে ভয় দেখিয়ে সেই বিশ্বাস থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। পরদিন খুব ভোরে, সে আমার বাড়িতে এসে আমাকে অভদ্রভাবে বলে: “তুমি নিজেই শুধু পূর্বের বজ্রালোক গ্রহণ করোনি, তুমি অন্যান্য ভ্রাতা ও ভগিনীদেরও এই বিশ্বাসে পরিচালিত করেছ। তুমি কি প্রভুর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করছ না?” জবাবে আমি বলি: “সর্বশক্তিমান ঈশ্বর হলেন প্রত্যাবর্তিত প্রভু যীশু। সর্বশক্তিমান ঈশ্বরকে স্বীকার করা হলো প্রভুকে স্বাগত জানানো। প্রভু প্রত্যাবর্তিত হয়েছেন জেনেও তাঁকে স্বীকার না করা হলো তাঁর প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা।” কিন্তু তারা আমার কথায় কান তো দেয়ইনি, বরং আমায় নিন্দা করে বলতে থাকে: “তুমি আমাদের গির্জার মেষ অপহরণ করেছ। তোমাকে অবিলম্বে ঈশ্বরের কাছে তোমার পাপ স্বীকার করতে হবে, অন্যথায় প্রভু তোমাকে অভিশাপ এবং শাস্তি দেবেন।” নিজের দৃঢ় বিশ্বাসের জোরে, আমি জবাব দিই: “প্রভু যীশু বলেছেন, ‘আমিই উত্তম মেষপালক। আমার মেষপালকে আমি চিনি, আর তারাও আমায় চেনে(যোহন ১০:১৪)। মেষের অধিকার ঈশ্বরের, কোন ব্যক্তির নয়। সর্বশক্তিমান ঈশ্বরে যারা বিশ্বাস করে তারা ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর শুনতে পায়, তারাই প্রভুকে স্বাগত জানাচ্ছে এবং ঈশ্বরের পদাঙ্ক অনুসরণ করছে।” আমাকে তর্কে পরাস্ত করতে না পেরে তারা উত্তেজিত হয়ে বলে: “এই গির্জাগুলো আমরা প্রতিষ্ঠা করেছি, আমরাই এই লোকদের প্রভুর প্রতি বিশ্বাসী করে তুলেছি। এই সমস্ত মেষ আমাদের, এবং তুমি ও অন্য সবার জন্য সর্বশক্তিমান ঈশ্বরে বিশ্বাস করা আমি নিষিদ্ধ করলাম!” তারা আমার স্বামী এবং শাশুড়িকেও হুমকি দেয়: “সঙ্কটের সময় গির্জা তোমাদের পরিবারকে সর্বদা সাহায্য করেছে, কিন্তু ঝেং ল্যান যদি পূর্বের বজ্রালোকে বিশ্বাস রাখে, আমরা যোগাযোগ ছিন্ন করব, আর কখনও তোমাদের সাহায্য করব না।” এই কথা শুনে আমার শাশুড়ি ভীত হয়ে, মাথা নেড়ে সম্মতি জানিয়ে বলে: “চিন্তা করো না! পূর্বের বজ্রালোকে আমি বিশ্বাস করি না, এবং ঝেং ল্যানকেও বিশ্বাস করতে দেব না।” তারপর সে আমাকে বলে: “ইয়াং-ই প্রথম আমাকে প্রভুর প্রতি বিশ্বাসী করে তুলেছে এবং অনেকবার সে আমাদের সাহায্য করেছে। তার কথা আমাদের শোনা উচিত। আমরা তাকে হতাশ করতে পারি না। যাই হোক না কেন, তুমি সর্বশক্তিমান ঈশ্বরে বিশ্বাস করতে পারবে না। এই পরিবারে, আমার কথাই চূড়ান্ত, তোমাদেরকে আমার বিশ্বাসই অনুসরণ করতে হবে।” তাদের কথা শুনে, সেও গুটিয়ে গিয়ে বলল: “আমি আর সর্বশক্তিমান ঈশ্বরে বিশ্বাস রাখতে পারছি না। ইয়াং আমাদের অনেক সাহায্য করেছে, এবং সে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল বলেই আমাদের বিয়ে হয়েছে। সর্বশক্তিমান ঈশ্বরে বিশ্বাস করলে তাকে হতাশ করা হবে। তাছাড়া মা এর প্রবল বিরোধী, আমি প্রতিদিন এ নিয়ে ঝগড়া সহ্য করতে পারব না।” এ কথা শুনে আমি ভীষণ রেগে যাই এবং বলি: “সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের অনেক বাক্য তুমি পড়েছ, এবং তুমি জানো যে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর হলেন প্রত্যাবর্তিত প্রভু যীশু, তবু তুমি তাঁকে অনুসরণ করতে চাইছো না, শুধুমাত্র ইয়াং-এর সাথে তোমার সম্পর্ক রক্ষার জন্য। তোমার বিশ্বাস কি মানুষের প্রতি নাকি ঈশ্বরের প্রতি?” ইতস্তত করে আমার স্বামী বলে: “আমি স্বীকার করছি যে এটাই সত্য পথ, কিন্তু ইয়াং বলেছে যে আমরা যদি সর্বশক্তিমান ঈশ্বরে বিশ্বাস করতে থাকি, তাহলে ওরা আমাদের আর সাহায্য করবে না। এই বিশ্বাস আমি রাখতে পারব না।”

তারপর থেকে, আমার শাশুড়ি বাধা দেয়ার বহু চেষ্টা করেছে। একবার সে আমাকে বলে: “ঘরের সবাই মিলে প্রভুর উপাসনা করলে পরিবারের সবাই খুশি হবে। তুমি যদি সর্বশক্তিমান ঈশ্বরেই বিশ্বাস রাখতে চাও, এবং আমি ও আমার ছেলে প্রভু যীশুতে বিশ্বাস করি, তাহলে সামনের দিনগুলোতে কি তোমরা একসাথে থাকতে পারবে, ভিন্ন আদর্শ ও পথ নিয়ে? একটা সময়ে গিয়ে প্রত্যেক নারীকে কি সংসার পাততে হয় না? তুমি বৃদ্ধ হলে কে তোমার দেখাশোনা করবে? তোমার মাথা-ব্যথা বা জ্বর হলে কে তোমার সেবা-শুশ্রূষা করবে? আমার ছেলে তোমাকে খুবই ভালোবাসে, কিন্তু তুমি যদি সর্বশক্তিমান ঈশ্বরে বিশ্বাস রাখতে চাও, তাহলে তোমাদের শেষপর্যন্তবিবাহবিচ্ছেদ করতে হবে, এবং তুমি সেক্ষেত্রে গৃহহীন হয়ে পড়বে। তোমার ভালোর জন্যই আমি এসব বলছি। এ বিষয়ে মন দিয়ে চিন্তা ভাবনা করো!” সেই সময়, কিছুটা অনিশ্চিত বোধ করেছিলাম। আমি সর্বশক্তিমান ঈশ্বরে বিশ্বাস রাখলে কি সংসার ভেঙে যাবে? নারীর জীবনে সবচেয়ে আনন্দের বিষয় একজন ভাল স্বামী পাওয়া ও স্থায়ী সংসার গড়া। আমি এই পরিবারকে হারাতে চাইনি, তাহলে কি আমার শাশুড়ির কথা শুনে, সর্বশক্তিমান ঈশ্বরে বিশ্বাস ত্যাগ করা উচিত? এইভাবে চিন্তা করায় আমার ভীষণ অপরাধবোধ হলো। প্রভুর প্রতি বিশ্বাসের বছরগুলোতে আমি কি প্রভুর প্রত্যাবর্তনের আকাঙ্ক্ষা করিনি? প্রভু যীশু ফিরে এসেছেন, তাঁকে অনুসরণ না করলে, আমি কি বিশ্বাসী বলে গণ্য হবো? আমি ঈশ্বরে বিশ্বাস ছাড়তে পারিনি। আমি তখনও, আমার স্বামীকে নিয়ে আশার আলো জ্বালিয়ে রেখেছিলাম। মনে হতো যদি প্রতিদিন তাকে ঈশ্বরের বাক্য পড়ে শোনাতে থাকি, একদিন তার ঠিকই বোধোদয় হবে এবং আমার মতো বিশ্বাসী হতে পারবে। এর পরে, আমি যখনই সময় পেতাম স্বামীকে ঈশ্বরের বাক্য পড়ে শোনাতাম। সবসময় বাড়ির সবার জন্য ভালো খাবার রান্না করতাম এবং পুরো বাড়ি পরিচ্ছন্ন-পরিপাটি রাখতাম। আমার সম্পর্কে শ্বাশুড়ি যাই বলুক না কেন, আমি তাকে বরাবরের মতো মায়ের সম্মানই দিতাম, এই আশায় যে আমার স্বামীর হৃদয় পরিবর্তিত হবে, এবং আমরা একসাথে সর্বশক্তিমান ঈশ্বরে বিশ্বাস করব। কিন্তু যতই চেষ্টা করি না কেন, সর্বশক্তিমান ঈশ্বররের কথা তুললেই আমার স্বামী বিরক্ত হতো, এবং যখনই আমি তাকে ঈশ্বরের বাক্য পড়ে শোনাতাম, সে ঘুমিয়ে পড়ত। স্বামীকে এভাবে দেখে আমার হৃদয় আবেগশূন্য হয়ে গেল। সেই সময় আমি উপলব্ধি করলাম যে ঈশ্বরের মেষ তাঁর কন্ঠ শুনতে পায়, আরো বুঝলাম যে আমার স্বামীর বিশ্বাস সত্য ছিল না, সে সত্যের অনুসরণ করেনি, এবং তাকে আমার আবেগ দিয়ে সত্যের পথে টেনে আনা উচিত হবে না, কারণ তা ঈশ্বরের ইচ্ছার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। যদি কেউ ঈশ্বরের মেষদের একজন না হয়, এবং সত্যকে না ভালবাসে, তাহলে তুমি যতই চেষ্টা করো, কোনো লাভ হবে না। পরিবারের সবাই হয়তো বিশ্বাস করতে পারে, কিন্তু তারা যে উন্নীত হবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। প্রভু যীশুর ভবিষ্যদ্বাণীও এমনই ছিল: “সেই রাত্রে এক শয্যায় দুজন থাকলে, একজনকে নিয়ে যাওয়া হবে, অন্যজন পনে থাকবে(লুক ১৭:৩৪)। “তখন মাঠে দুজন লোক থাকলে, একজনকে তুলে নেওয়া হবে, অন্যজন পরিত্যক্ত হবে(মথি ২৪:৪০)

কিছু দিন পর, আমার স্বামী ও শাশুড়ির অত্যাচারের মাত্রা আরো বেড়ে গেল। একদিন, এক ভগিনী আমাকে ঈশ্বরের বাক্যর কয়েকটি বই দিতে এলে, আমার শাশুড়ি উঠোনে দাঁড়িয়ে তার উদ্দেশ্যে এমন চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করে, যে রীতিমতো একটা হৈচৈ বেধে যায়। ভগিনীকে আমি বিদায় দিতে যাব সেই মুহুর্তে আমার শাশুড়ি স্বামীকে চিৎকার করে বলে: “আমার হয়ে ঝেং ল্যানকে মারো!” তখন আমার স্বামী উন্মাদের মতো একটা মুরগি ধরে আমার দিকে সজোরে ছুঁড়ে মারে। আমি এড়িয়ে যাই আর মুরগিটা আমার পাশের লোহার গেটে আছড়ে পড়ে মুহুর্তেই মারা যায়। স্বামী আমাকে মারতে পারলো না দেখে শাশুড়ি তার সর্বশক্তি দিয়ে চিৎকার করে ওঠে: “মারো ওকে! মারো ওকে!” আমার স্বামীর চোখ তখন লাল, ও চিৎকার করে আমার দিকে ছুটে এলো: “মনে হচ্ছে তুমি মার খেতেই চাইছ! আজ তোমাকে সত্যিই পেটাব! যদি সর্বশক্তিমান ঈশ্বরে বিশ্বাস রাখতে চাও, এখান থেকে চলে যাও!” যে স্বামী সবসময় আমার সাথে ভালো ব্যবহার করত, তাকে রূপ বদলে হঠাৎই ভয়ংকর এক পিশাচ হয়ে উঠতে দেখে আমি ভয় পেয়ে গেলাম। সে কীভাবে আমাকে শত্রুর মতো ঘৃণা করতে পারে? আমি খুবই হতাশ হলাম, দেখলাম সে তার ভিতরের ঘৃণা বের করার জন্য আমাকে খুন করতে চাইছে। যখন দেখলাম আমাকে মারার জন্য সে ঘুসি তুলেছে দ্রুত আমি মন থেকে ঈশ্বরের কাছে সুরক্ষা প্রার্থনা করলাম। আমার স্বামীকে শান্তভাবে বললাম: “প্রভু যীশু আমাদের শিখিয়েছেন শত্রুদেরও ভালোবাসতে। আমি তোমার শত্রু নই, আর আমি তোমার প্রতি কোনো অন্যায়ও করিনি, তাহলে তুমি আমাকে মারছ কেন? এই কাজ করে, তুমি কি এখনও প্রভুতে বিশ্বাসী?” এ কথা বলাতে সে আমাকে মারা বন্ধ করল। আমার শাশুড়ি অবশ্য না থেমে বলতে থাকে: “ঝেং ল্যান সর্বশক্তিমান ঈশ্বরে বিশ্বাস জারি রাখলে সেই রাগেই আমি মারা যাব। এই সংসারে হয় ও থাকবে নয় তো আমি। তুমি কি স্ত্রীকে চাও নাকি আমাকে?” পরে স্বামী আমার সামনে নতজানু হয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলে: “আমি ভিক্ষা চাইছি, সর্বশক্তিমান ঈশ্বরে বিশ্বাস বন্ধ করো। মেজাজ হারানো আমার উচিত হয়নি, আর কখনো তোমাকে মারবো না। শুধু একবার আমার কথা শোনো, বইগুলো ফেরত দিয়ে দাও। মা যদি রাগে-দুঃখে মারা যায়, তাহলে সন্তান হিসেবে আমাদের দুর্নাম হবে, এবং আমাদের বাকি জীবন কাটবে লজ্জার মধ্যে। তুমি যদি আমার মাকে আর ক্রুদ্ধ না করো তাহলে একদিন তোমাকে নিয়ে আমি শহরে চলে যাবো, আর একসাথে সর্বশক্তিমান ঈশ্বরে বিশ্বাস করব।” স্বামীকে এতটা ভেঙে পড়তে দেখে বুঝতে পারছিলাম না কি করব। জানতাম মানুষকে উদ্ধারে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর বহু সত্য প্রকাশ করেছেন, আমার তাঁকে বিশ্বাস করতে হবে। কিন্তু আমি এই পরিবার হারাতে চাইনি। চোখের জল ধরে রাখতে পারিনি। সে যদি তার মত বদলায় এবং আমার মতো সর্বশক্তিমান ঈশ্বরে বিশ্বাসী হতে পারে, সেটা এক দারুণ ব্যাপার হবে। কিন্তু তখন কী হবে, যদি আমি তার কথা না শুনি, আর সে ব্যাপারটা সহজভাবে না নেয়, আর খারাপ কিছু ঘটে যায়? তাছাড়া, আমি যদি সত্যিই আমার শাশুড়িকে ক্রুদ্ধ করে থাকি, তাহলে কেবল সন্তান হিসেবে দুর্নামই হবে না, স্বামীও আমাকে তাড়িয়ে দেবে। এসব চিন্তা করে আমি একেবারে হতবুদ্ধি ও দুর্বল হয়ে পড়লাম। অনুভব করলাম আমার হাত-পা বাঁধা, এই পরিস্থিতি থেকে বেরোতে পারছি না। তখন এমন এক সিদ্ধান্ত নিই যে আজও সেজন্য আমার অনুশোচনা হয়।

কয়েকদিন পর এক ভগিনী আমার সাথে দেখা করতে আসে এবং অসহায়ভাবে আমি তাকে বলি: “তুমি ঈশ্বরের বাক্যের এই বইগুলো নিয়ে গিয়ে আমার শাশুড়িকে শান্ত করো। এখান থেকে একবার চলে যেতে পারলে আমি ও আমার স্বামী আবার একসাথে উপাসনা শুরু করব।” ভগিনী আমাকে ভেবে দেখার জন্য বলল, কিন্তু সংসার বাঁচানোর জন্য, অনেক দ্বিধার পরে, আমি তাকে ঈশ্বরের বাক্যের বইগুলো নিয়ে যেতেই বলি। বইগুলো নিয়ে যাওয়ার পর থেকে, আমার দিন কাটতে থাকে অস্বস্তি এবং হতাশায়, যেন আমার হৃদয় শূন্য হয়ে গেছে। আমি খেতে-ঘুমাতে পারতাম না মনে বড় আঘাত অনুভব করতাম। আমার শাশুড়ি খুবই খুশি হয়েছিল এই দেখে যে আমি সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের বাক্য পড়ছি না অথবা সমাবেশে যোগ দিচ্ছি না, খুশিতে সে উঠোনে দাঁড়িয়ে গান গাইত, এবং আমাকে দেখলেই গানের সুর চড়িয়ে দিত। মনে হতো শয়তান যেন আমাকে ঠাট্টা করছে। ঈশ্বরের বাক্যের বইগুলো ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ভীষণ অনুশোচনা হত, নিজেকে ঘৃণা করতাম। দিনদিন আরও অবসন্ন হয়ে পড়ছি দেখে আমার স্বামী আমাকে কেনাকাটা করতে, আত্মীয়দের বাড়ি বেড়াতে নিয়ে যেত। যখন আমি স্বামীকে অবিশ্বাসীদের মধ্যে দেখতাম, ধূমপান, মদ্যপান, খেলা এবং মাতলামো করতে, যেগুলোর সাথে বিশ্বাসীর কোন মিল নেই, আমি হতাশ বোধ করতাম। অবশেষে আমার বোধ ফেরে। আমার স্বামী স্পষ্টভাবে জানত যে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর হলেন প্রত্যাবর্তিত প্রভু যীশু, তবুও সে ইয়াং এবং আমার শাশুড়ির কথা শুনল। সে কেবল সর্বশক্তিমান ঈশ্বরে অবিশ্বাস করেছিল তাই নয়, আমাকে নিপীড়ন করে বিশ্বাস করা থেকে বিরতও রেখেছিল। এমনকি সে আর প্রভু যীশুর বাক্যও মেনে চলত না, সে প্রভুর কাছে প্রার্থনা বা বাইবেল পড়ত না, বরং ধূমপান ও মদ্যপান করত। তার কথাবার্তা ও আচরণ পুরোপুরি অখ্রীষ্টানসুলভ হয়ে গিয়েছিল। সে ছিল অবিশ্বাসী, তাহলে সে কীভাবে আমার সাথে সর্বশক্তিমান ঈশ্বরে বিশ্বাস করবে? হঠাৎ করেই বুঝতে পারলাম আমার স্বামী যে বলেছিল একদিন আমার সাথে সর্বশক্তিমান ঈশ্বরে বিশ্বাস করবে, তা ছিল ঈশ্বরের বাক্যের বইগুলো ফেরত পাঠানোর কৌশল মাত্র, আমি যেন সর্বশক্তিমান ঈশ্বর থেকে দূরে থাকি, তার মা শান্ত থাকে, এবং সর্বান্তকরণে আমি যেন ওদের পরিবারের সেবা করি। এটা কি শয়তানের কৌশল নয় যাতে আমি ঈশ্বর-বিচ্ছিন্ন হয়ে তাঁর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করি? আমি অন্ধ ও অসচেতন হয়ে শয়তানের কৌশল সফল হতে দিয়েছিলাম। সমাবেশে ভ্রাতা ও ভগিনীদের সাথে মিলে ঈশ্বরের বাক্য পাঠ করার দিনগুলো খুব মনে পড়ত, মনে পড়ত ঈশ্বরের বাক্য পড়লে কী আনন্দই না পেতাম। পরে, আমি সমাবেশের এক ভগিনীর সন্ধানে যাই, কিন্তু সে এর মধ্যেই অন্যত্র চলে গিয়েছে, আর আমি জানতাম না অন্য ভ্রাতা-ভগিনীরা কোথায় থাকে। কাঁদতে কাঁদতে আমি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমায় পথ দেখান। মনে পড়ল, বাড়িতে ঈশ্বরের বাক্যের স্তোত্রের একটা টেপ তখনও আছে। উত্তেজনায় আমি ঈশ্বরকে বারবার করে ধন্যবাদ দিলাম। টেপে বাজানো প্রথম স্তোত্র ছিল “ঈশ্বর ব্যতীত দিন পূর্ণ হয় দুঃখে।” “যখন কোনো মানুষের ঈশ্বর থাকে না, যখন তিনি দৃশ্যমান হন না, তাঁর সার্বভৌমত্বকে স্পষ্টভাবে সে চিনতে পারে না, তখন তার প্রতিটি দিনই নিরর্থক, মূল্যহীন, দুঃখজনক। যে কোনো স্থানেই সে থাকুক, তার কাজ যা-ই হোক, শুধুমাত্র জীবনধারণের উপায় এবং নিজ লক্ষ্যের অন্বেষণ তাকে শুধুই অসীম হৃদয়বিদারণ ও নিরন্তর যন্ত্রণা ছাড়া আর কিছুই দেয় না, এমন কি সে অতীত স্মৃতিচারণও সহ্য করতে পারে না। কেবলমাত্র যখন কেউ স্রষ্টার সার্বভৌমত্ব স্বীকার করে, তাঁর সমন্বয়সাধন ও ব্যবস্থাপনার কাছে আত্মসমর্পণ করে এবং সদর্থে মানবজীবনের সন্ধান করে তখনই ধীরে ধীরে তার সমগ্র হৃদয় যন্ত্রণা-মুক্ত হতে শুরু করে এবং মোচন হতে শুরু করে জীবনের সমস্ত শূন্যতা(মেষশাবককে অনুসরণ করুন ও নতুন গীত গান)। শোনার সাথে সাথেই আমি কান্নায় ভেঙে পড়ি। নতজানু হয়ে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি: “হে ঈশ্বর! আপনাকে ছাড়া দিনগুলি ছিল অন্ধকার আর বেদনাদায়ক। কোন আশাই ছিল না জীবনে, মনে হত এর থেকে মৃত্যুও ভালো। আপনি আমার প্রতি সদয় ছিলেন যাতে আমি আপনার সামনে আসতে পারি, ভ্রাতা ও ভগিনীদের অনুপ্রাণিত করেছেন আমাকে সাহায্য-সহযোগিতা করতে। এই সবই আপনার ভালবাসা। কিন্তু আমি তা ধরে রাখতে পারিনি, সংসার বাঁচাতে গিয়ে বেইমানি করেছি। আমি সত্যিই বিবেকহীন হয়ে গিয়েছিলাম। হে ঈশ্বর, আমি আপনার বিদ্রোহী হয়েছি, তবুও আমাকে আলোকিত করেছেন, আপনার বাক্য দিয়ে অনুপ্রাণিত করেছেন। আমি আপনার কাছে ঋণী। আমি পথ সংশোধন করতে চাই। আমার পরিবার আমাকে যতই পীড়ন করুক, আপনাকে সমস্ত হৃদয় দিয়ে অনুসরণ করব।” প্রার্থনা করার পর, আমি সত্যিই শান্তি অনুভব করি। আশ্চর্যের কথা, পরের দিনই পথে এক ভগিনীর সাথে দেখা হয়। আমি এত খুশি হই, যেন দীর্ঘদিনের হারিয়ে যাওয়া আত্মীয়ের দেখা পেয়েছি। আমি জানতাম এটা আমার প্রতি ঈশ্বরের ভালবাসা, এবং অন্তরের অন্তঃস্তল থেকে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাই।

যখন আমার স্বামী দেখে যে আমি আবার সমাবেশে যেতে শুরু করেছি, সে আমার বাইক ভেঙে দিতে চায় এবং মারধর করার হুমকি দেয়। আমার শাশুড়িও আবার আগের মত অত্যাচার করতে শুরু করে, কিন্তু তারা যতই অত্যাচার করুক না কেন, আমি তাদের কাছে নতি স্বীকার করিনি। সাধারণত সমাবেশে যাওয়ার জন্য, প্রতিদিন ভোরে উঠতে হতো এবং দেরি করে ঘুমাতাম যাতে বাড়ির সব কাজ যত দ্রুত সম্ভব শেষ করে আমি ঈশ্বরের বাক্য পাঠ করার জন্য সময় পাই। যদিও বাড়ির সব কাজ আমিই করতাম এবং কখনও কখনও অত্যন্ত ক্লান্ত হয়ে যেতাম, তাতে আমার প্রতি স্বামী ও শাশুড়ির মনোভাবের সামান্যতম উন্নতিও হয়নি। নিপীড়ন আসলে আরও বেড়েছিল। যখন তারা আমাকে ঈশ্বরের বাক্য পড়তে দেখত, আমাকে ঠাট্টা করে বলত: “বই পড়লে কি পেট ভরবে? এ সব করলে বাড়ির কাজ করবে কে?” একবার, পেটব্যথার জন্য আমি সারাদিন বিশ্রাম নিয়েছিলাম, কাজ করতে পারিনি আমার স্বামী ক্রুদ্ধ হয়ে বলেছিল: “আর আমি যেসব কাজ করতে বলেছিলাম সেগুলোর কি হলো? তুমি না করলে কে করবে?” শাশুড়ি আমার জন্য কয়েকটা ব্যথানাশক ওষুধ আনে, এবং আমাকে সেগুলি খেয়ে আবার কাজ করতে বাধ্য করে। আমার প্রতি তাদের এমন আচরণ দেখে মন ভেঙে যায়। আমি এই পরিবারের জন্য কত কষ্ট সহ্য করেছি, রাত-দিন খেটেছি, তবুও তাদের আমার জন্য সামান্যতম যত্ন বা বিবেচনাও ছিল না। আমি এই বাড়িতে ঈশ্বরের বাক্য পড়তে পারিনি যখন অসুস্থ ছিলাম বিশ্রামেরও অধিকার আমার ছিল না। এই সংসার কি আমি চেয়েছিলাম? এই কি “সুখ”? এভাবে বেঁচে থাকা ভীষণ পীড়ার আর বেদনার। আমি ঈশ্বরের বাক্য পড়লাম: “হাজার হাজার বছরের ‘জাতীয়তাবাদের দাম্ভিক আত্মা’ মানুষের মনে যে গভীর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলেছে, তার পাশাপাশি রয়েছে মানুষের সামন্ততান্ত্রিক চিন্তাভাবনা, যার দ্বারা সে আবদ্ধ ও শৃঙ্খলিত, যেখানে বিন্দুমাত্র স্বাধীনতা নেই, উচ্চাকাঙ্ক্ষা বা উদ্যমী হওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই, তার বদলে রয়েছে নিষ্ক্রিয় ও পশ্চাদমুখী, গেঁথে থাকা দাস-মনোবৃত্তি, এবং এরকম অনেক কিছু—এই উদ্দেশ্যমূলক বিষয়গুলো মানবজাতির ভাবগত দৃষ্টিভঙ্গি, আদর্শ, নৈতিকতা ও স্বভাবের উপরে এক অমোচনীয়ভাবে কলঙ্কিত ও কুৎসিত প্রভাব বিস্তার করেছে। মনে হয় মানুষ যেন সন্ত্রাসবাদের এক অন্ধকার জগতে বসবাস করছে, তাদের মধ্যে কেউ যেটাকে অতিক্রম করার অন্বেষণ করে না, এবং তাদের কেউই এক আদর্শ বিশ্বে স্থানান্তরিত হওয়ার কথা চিন্তা করে না; বরং তারা জীবনে তাদের এই ভাগটুকু পেয়েই সুখী, সন্তান ধারণ ও তাদের বড়ো করে তোলা, সংগ্রাম করা, ঘাম ঝরিয়ে যাওয়া, দৈনন্দিন কাজ করা, আরামপ্রদ ও সুখী পরিবারের স্বপ্ন দেখা, এবং দাম্পত্যের মমতা, যোগ্য সন্তানের স্বপ্ন দেখা, শান্ত জীবনযাপনের গোধূলি বেলায় আনন্দের স্বপ্ন দেখা, এ নিয়েই তাদের দিনযাপন…। কয়েক দশক, কয়েক শতক, কয়েক সহস্র বছর ধরে আজ পর্যন্ত, মানুষ তার সময় বৃথা অতিবাহিত করে চলেছে, কেউই নিখুঁত একটা জীবন নির্মাণ করেনি, সমস্ত অভিপ্রায় শুধু এই অন্ধকার দুনিয়ায় পারস্পরিক হত্যার, খ্যাতি ও সৌভাগ্য লাভের জন্য দৌড়ানোর, এবং একে অন্যের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার। কেউ কি কখনো ঈশ্বরের ইচ্ছার অন্বেষণ করেছে? কেউ কি কখনো ঈশ্বরের কাজে মনোযোগ দিয়েছে?(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, কাজ এবং প্রবেশ (৩))। যখন আমি ঈশ্বরের বাক্য পড়া শেষ করলাম, তখন আমার গাল বেয়ে অশ্রু গড়াচ্ছিল। ঈশ্বরের বাক্যে যেন আমার কথাই বলছিল। এই সামন্ততান্ত্রিক ভাবনায় এতটাই আচ্ছন্ন ছিলাম যে আমার কোন স্বাধীনতা ছিল না। ছোটবেলা থেকেই এই ধারণার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিলাম যে “বার্ধক্যে সঙ্গী পেতে যৌবনে বিয়ে করো” এবং “তোমার স্বামী তোমার নির্ভরতা আর পরিবার তোমার আশ্রয়।” তাই আমি সবসময় একটি সুখী গৃহের স্বপ্ন দেখতাম, দাম্পত্য সুখ, একটি সহৃদয় পরিবার, এবং আনন্দে ভরা একটি জীবন। কিন্তু বাস্তবতা আমার চাওয়ার থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। আমি প্রথম বিয়েতে সুখী হইনি, এবং আমার স্বামী পীড়ন ও মারধোর করে বিশ্বাস থেকে দূরে রাখত। পরবর্তী স্বামীর সাথে সংসার পাতার পর, আমি সত্যিই পরিবারটিকে লালন করেছি, এবং সুখী জীবন যাপন করতে আমি নির্বিবাদে ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গৃহস্থালির কাজ করেছি, সামর্থ্যের সবটুকু নিঙরে দিয়েছি। কিন্তু স্বামী ও শাশুড়ি আমার কথা তো ভাবেইনি, উল্টো আমাকে পীড়ন করেছে, বাধা দিয়েছে, সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের বাক্য পড়তে দেয়নি, এবং অসুস্থ হলেও আমাকে কাজ করতে বাধ্য করেছে। আমি যেন ছিলাম ক্রীতদাস। এটা কোন পরিবার নয়! এই পরিবার ছাড়লে, আমি অন্তত স্বাধীনভাবে ঈশ্বরে বিশ্বাস করতে পারব, তাঁর বাক্য পড়তে পারব, এবং সমাবেশে গিয়ে ভ্রাতা-ভগিনীদের সাথে আলোচনা করতে পারব। এই পরিবার আমার জীবনের শ্বাসরোধ করে দিচ্ছিল, হয়ে উঠেছিল আমার হাত-পায়ের বেড়ি। এটা আমার বিশ্বাস বা দায়িত্ব পালনের জন্য উপযোগী ছিল না। এই পরিবার আমার জীবন ধ্বংস করে দিত। অবশেষে আমি জেগে উঠি। আমি সবসময় একটি সুখী পরিবার কল্পনা করতাম, কিন্তু মানুষ শয়তান দ্বারা কলুষিত এবং কলুষিত স্বভাবে পরিপূর্ণ। মানুষ খুব দাম্ভিক, অহংকারী, কুটিল, বিশ্বাসঘাতক এবং স্বার্থপর। একদা যে সুখী বিবাহের স্বপ্ন দেখতাম তা এই পৃথিবীতে থাকার কোন সম্ভাবনা নেই। “বার্ধক্যের সঙ্গীর জন্য যৌবনে বিয়ে করো” এবং “তোমার স্বামী তোমার নির্ভরতা আর পরিবার তোমার আশ্রয়,” এ সব ধারণা হল শয়তানের চাতুরী ও কৌশল যাতে মানুষ বিভ্রান্ত হয় ও আঘাত পায়। ঈশ্বরের বাক্যের মাধ্যমে আমি, আমার পরিবারের সারসত্য সম্পর্কে কিছুটা জ্ঞান অর্জন করেছি। আগে আমি এত অন্ধ আর অজ্ঞ ছিলাম! ঈশ্বরে বিশ্বাস করে, আমি সঠিক পথে আসি এবং তাদের দ্বারা আর বাধাপ্রাপ্ত হইনি। সব সময় সকল সমাবেশে এবং সকল দায়িত্ব পালনে আমি অবিচল থাকি। তাই আমি আমার স্বামীকে বললাম: “শুধু ঈশ্বরে বিশ্বাসের কারণেই তোমার সাথে একত্রিত হয়েছিলাম। এখন আমি প্রভুর প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানাচ্ছি, তুমি বিশ্বাস না করলেও আমাকে করতে হবে। এমন কি বিবাহবিচ্ছেদ হলেও আমি সুসমাচার সংগ্রহ এবং তা প্রচার করতে থাকব।” আমার সংকল্প দেখে সে আর আমার পথে দাঁড়াতে রাজি হল না। কিন্তু ভাল জিনিস স্থায়ী হয় না, আর কিছুদিনের মধ্যেই সে আবার অত্যাচার শুরু করে।

একবার, কয়েকজন ভ্রাতা ভগিনী জমায়েতের জন্য আমার বাড়িতে আসে। এক ভগিনীর বাইকের চাকার হাওয়া বেরিয়ে গিয়েছিল, আমি পাম্প জোগাড় করে বাতাস দেওয়ার চেষ্টা করি। তা দেখে আমার শাশুড়ি ভয়ঙ্কর মুখ করে ঝাঁপিয়ে পড়ে পাম্পটি ছিনিয়ে নেয়। ভগিনী ভীত হয়ে পড়ে আমার শাশুড়ি ধমক দিয়ে, দাঁত খিঁচিয়ে বলে: “তোমাকে সর্বশক্তিমান ঈশ্বরে বিশ্বাসের অনুমতি দিইনি, তাও তুমি করছ। দেখাচ্ছি কত ধানে কত চাল। সর্বশক্তিমান ঈশ্বরে বিশ্বাসের জন্য তোমাকে আমি বের করে দিব …” এই বলে, সে চিৎকার করতে করতে আমাকে মারতে শুরু করে। আমার মাথা ভোঁ ভোঁ করা পর্যন্ত মারতে থাকে। আমাকে মার খেতে দেখে ভ্রাতা-ভগিনীরা আমার শাশুড়িকে থামানোর চেষ্টা করে, সে তাদের চিৎকার করে বলে: “আমি তোমাদের সবাইকে পাবলিক সিকিউরিটি ব্যুরোতে পাঠাব, তারপর দেখব সর্বশক্তিমান ঈশ্বরে তোমাদের বিশ্বাস!” ততক্ষণে রাস্তায় ভিড় জমে গেছে হৈহট্টগোল দেখতে। আমি ভেবেছিলাম স্বামী আমার হয়ে শাশুড়ির সাথে কথা বলবে, আমাকে অবাক করে, তার মায়ের রাগ করা দেখে, সে আমাকে মাথার পিছনে ঘুসি মারে, আমি জ্ঞান হারাই। আমার স্বামীর আঘাতে আমার মন ভেঙে যায় আমি নতুন করে ভাবতে শুরু করি: এই সংসারের দেখাশুনা করে আমার কী লাভ?

পরে, আমি ঈশ্বরের বাক্য স্মরণ করি: “কেন একজন স্বামী তার স্ত্রীকে ভালোবাসে? কেন একজন স্ত্রী তার স্বামীকে ভালোবাসে? কেন সন্তানেরা তাদের পিতামাতার প্রতি কর্তব্যপরায়ণ হয়? কেন পিতামাতা তাদের সন্তানদের অন্ধভাবে ভালোবাসে? মানুষ আসলে কি ধরনের অভিপ্রায় পোষণ করে? তাদের অভিপ্রায় কি তাদের নিজস্ব পরিকল্পনা এবং স্বার্থপর ইচ্ছাসমূহকে চরিতার্থ করা নয়? … বর্তমান সময়ের মানুষের মধ্যে যেমন শারীরিক সম্পর্ক আছে, তেমনি রক্তের সম্পর্কও রয়েছে, কিন্তু ভবিষ্যতে সেসকল চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে। বিশ্বাসী এবং অবিশ্বাসী সঙ্গতিপূর্ণ নয়; বরং তারা একে অপরের বিরোধী(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, ঈশ্বর এবং মানুষ একসাথে বিশ্রামে প্রবেশ করবে)। ঈশ্বর বাক্য থেকে আমি বুঝতে পারি সকল মানুষ শয়তান দ্বারা কলুষিত এবং প্রত্যেকেই স্বার্থপর। স্বামী ও স্ত্রী একসাথে থাকে শুধুই নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে এবং অন্যকে ব্যবহার করতে। আমার স্বামীর মিষ্টি কথা এবং আমার প্রতি যত্ন আসলে ছিল স্রেফ আমাকে দিয়ে তার সন্তান ও মায়ের দেখাশুনা ও ঘরের কাজ করানোর জন্য, এবং আমি তাকে বিয়ে করেছিলাম আশ্রয় হিসেবে। এমন সম্পর্কে প্রকৃত ভালবাসা কীভাবে থাকবে? সেটা ছিলও না। আমার স্বামী সর্বদা আমার ঈশ্বরে বিশ্বাস ও তাঁর বাক্য পাঠের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল, এবং অচিরেই ঈশ্বর প্রকাশ করেন সে আসলে ঈশ্বর বিশ্বাসীই নয়। ঈশ্বরের বাক্যে ঠিক যেমন বলে: “বিশ্বাসী এবং অবিশ্বাসী সঙ্গতিপূর্ণ নয়; বরং তারা একে অপরের বিরোধী।” কিন্তু আমি কখনই তাকে ছাড়তে পারতাম না, এবং সবসময় চেয়েছিলাম সংসারটা টিকিয়ে রাখতে। আমি কী বোকা ছিলাম। আমি আরো ঈশ্বরের বাক্য পড়ি: “যে ঈশ্বরকে চিনতে পারে না সেই হল শত্রু; অর্থাৎ, যে ঈশ্বরের অবতারকে চিনতে পারে না—তা সে এই স্রোতের ভিতরেই থাকুক অথবা বাইরে—সে খ্রীষ্টবিরোধী! ঈশ্বরে অবিশ্বাস করা সেই ঈশ্বর-প্রতিরোধকারীগণ ব্যতীত আর কে-ই বা শয়তান, আর কারা-ই বা দানব, আর কারা-ই বা ঈশ্বরের শত্রু? এরাই কি সেই ব্যক্তি নয় যারা ঈশ্বরের প্রতি আনুগত্যহীন? এরাই কি সেই মানুষ নয় যারা দাবি করে যে তাদের বিশ্বাস রয়েছে, অথচ যাদের মধ্যে সত্যের অভাব বিদ্যমান? এরাই কি সেই মানুষ নয় যারা ঈশ্বরের সাক্ষ্য বহন করতে অক্ষম হলেও কেবলমাত্র আশীর্বাদ আদায়ের চেষ্টা করে?(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, ঈশ্বর এবং মানুষ একসাথে বিশ্রামে প্রবেশ করবে)। ঈশ্বরের বাক্য পড়ার পর, স্বামীর সারসত্য আমি আরও স্পষ্টভাবে দেখতে পাই। আমার স্বামী শুধু নামেই প্রভু যীশুকে বিশ্বাস করত, কিন্তু আসলে, সে কেবল ঈশ্বরের অনুগ্রহ ও আশীর্বাদ চাইত। কেবল লাভের আশা থাকলেই সে বিশ্বাস করত, অন্যথায়, নয়। প্রভুর প্রত্যাবর্তনের কথা শুনে, সে ভেবেছিল স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করে বসবাস করবে, এবং সানন্দে গ্রহণ করেছিল। কিন্তু যখন সে ধর্মীয় লোকদের দ্বারা বাধা পায় ও প্রত্যাখ্যাত হয়, সে শুধু বিশ্বাস করাই বন্ধ করেনি, আমাকে নিপীড়ন ও বাধা দিতে শুরু করে। তার সারমর্ম হল শয়তান—ঈশ্বরের শত্রু। মানুষের সারমর্ম বিভিন্ন হয়, যেমন পথ সে গ্রহণ করে, এমনকি পরিবারও শত্রু হয়ে উঠতে পারে। ঠিক যেমনটা প্রভু যীশু বলে গিয়েছিলেন: “ফলে মানুষের আপনজনেরাই মানুষের শত্রু হয়ে উঠবে(মথি ১০:৩৬)। আমি আরও ঈশ্বরের বাক্য পড়ি: “কেন মানুষ ঈশ্বরের হৃদয়ের প্রতি এত অযত্নবান? সে কি নীরবেই এই নিপীড়ন ও দুর্ভোগ সহ্য করে? সে কি সেইদিনের স্বপ্ন দেখে না, যেদিন সে অন্ধকারকে আলোয় পরিণত করতে পারবে? সে কি আরো একবার ধার্মিকতা ও সত্যের দিকে সমস্ত অন্যায়ের প্রতিবিধান চায় না? মানুষ যখন সত্যকে ত্যাগ করছে এবং বাস্তবকে বিকৃত করছে, তখনও কি সে কিছু না করে শুধু দেখে যেতে চায়? সে কি এই অসদাচরণ খুশি মনে সহ্য করে যেতে চায়? সে কি দাস হয়ে থাকতে চায়? সে কি এই বিফল রাজ্যে দাসেদের সঙ্গে একসাথে ঈশ্বরের হাতে ধ্বংস হয়ে যেতে চায়? তোমার সঙ্কল্প কোথায়? কোথায় তোমার উচ্চাশা? কোথায় তোমার মর্যাদা? কোথায়ই বা সততা? তোমার স্বাধীনতা কোথায়? … কেন সে যত শীঘ্র সম্ভব তার জীবন ঈশ্বরের জন্য প্রদান করে না? কেন সে এরপরেও দোদুল্যমান? কখন সে ঈশ্বরের কাজ শেষ করতে পারবে? এইভাবে লক্ষ্যহীনভাবে অত্যাচারিত ও নিপীড়িত হয়ে চললে তার সমস্ত জীবন শেষ পর্যন্ত বিফলে ব্যয় করা হবে; আগমনের জন্য কেন তার এত ব্যস্ততা, আর কেনই বা প্রস্থানের জন্য এত তাড়া? ঈশ্বরকে দেওয়ার মতো মূল্যবান কিছু সে রাখে না কেন? সে কি ঘৃণার সহস্রাব্দের কথা ভুলে গেছে?(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, কাজ এবং প্রবেশ (৮))। ঈশ্বরের বাক্য আমাকে তাঁর জরুরি উদ্দেশ্য বুঝতে সাহায্য করে। ঈশ্বর মানবজাতির জন্য উদ্বিগ্ন, এবং চান না আমরা শয়তানের দাসত্ব এবং যন্ত্রণার মধ্যে চিরকাল জীবন যাপন করি। তিনি চান আমরা অন্ধকারের শক্তির নাগপাশ থেকে মুক্ত হই, যাতে আমাদের জীবন তাঁকে নিবেদন করে আলোকিতভাবে বাঁচতে পারি। কিন্তু আমি অত্যন্ত ভীরু ছিলাম। আমার স্বামী এবং শাশুড়ি হল শয়তান, এবং তারা আমার বিশ্বাসের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল, আমাকে মারধর, বকাঝকা এবং অত্যাচার করত, কিন্তু আমি এই পরিবারের সাথে বিচ্ছেদ সহ্য করতে পারিনি। তাই সইতে হয়েছে অন্যায় ও অপমান, ক্রীতদাসের মতো, আমার জীবন আবর্তিত হয়েছে স্বামী-সংসার ঘিরে, আর ছুটেছি অর্থহীন জিনিসের পিছনে। ঈশ্বর আমাকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন, তিনি এমন সত্য প্রকাশ করেন যা আমাকে মানব-জীবনের অর্থ এবং মূল্য বোঝায়, কিন্তু আমার তা অনুসরণের সংকল্প ছিল না। প্রকৃতই আমি এক অপদার্থ হতভাগ্য। প্রভু যীশু বলেছেন, “যে তার পিতা বা মাতাকে আমার চেয়ে বেশী ভালোবাসে সে আমার শিষ্য হওয়ার যোগ্য নয়: যে নিজের পুত্রকন্যাকে আমার চেয়ে বেশী ভালবাসে সেও আমার যোগ্য নয়(মথি ১০:৩৭)। ঈশ্বর আমাকে মুক্তি দিয়েছেন—তিনি আমাকে সত্য ও জীবন দিয়েছেন। আমি ঈশ্বরকে অনুসরণ করব ও ভালবাসব। আমার স্বামী ও শাশুড়ি উভয়েই ঈশ্বরকে প্রতিরোধ করেছিল এবং তারা আমার ভালবাসা বা শ্রমের যোগ্য নয়। আমি খুবই অজ্ঞ আর অন্ধ ছিলাম। আমি সবসময় বৈবাহিক সম্প্রীতি এবং পারিবারিক সুখ চেয়েছিলাম। আমার অর্ধেক জীবন বৃথা কেটেছে। বাকি দিনগুলি ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করতে ব্যবহার করতে হবে। আমরা এখন রাজ্যের সুসমাচার প্রচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আছি, এবং অন্তিম সময়ে ঈশ্বরের কাজের সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য আরও বেশি লোকের প্রয়োজন যাতে আরও বেশি লোক অন্তিম সময়ে ঈশ্বরের পরিত্রাণ লাভ করে। আমি অবশ্যই ঈশ্বরের সাথে সহযোগিতা এবং আমার দায়িত্ব যথাসাধ্য পালন করব। সার্থক ও মূল্যবোধের জীবন যাপনের এটিই একমাত্র উপায়।

কিছু দিন পরেই, সুসমাচার প্রচারের জন্য আমি বাড়ি ছেড়েছিলাম। আমি প্রতিদিন ঈশ্বরের বাক্যের আলোচনা এবং ভ্রাতা ও ভগিনীদের সাথে দায়িত্ব পালন করি, অন্তরে স্বস্তি ও মুক্তি অনুভব করি। মাঝে মাঝে যখন দায়িত্ব পালনে অসুবিধার সম্মুখীন হই বা অসুস্থ থাকি, ভগিনীরা সবসময় আমাকে সাহায্য করে এবং আমার যত্ন নেয়। যেন আমি তাদের পরিবারের একজন। এই সবই ঈশ্বরের ভালবাসা। আমি এখন উপলব্ধি করি, ঈশ্বর আমার প্রকৃত নির্ভরতা, এবং ঈশ্বরের ঘর আমার আসল পরিবার। হৃদয়ের গভীর থেকে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ!

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।👇

সম্পর্কিত তথ্য

আমার নির্বাচন

২০১২ সালের মার্চ মাসে, আমার মা আমাকে সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের অন্তিম সময়ের সুসমাচার শোনালেন। আমি প্রতিদিন ঈশ্বরের বাণী পড়তে শুরু করলাম এবং...

Leave a Reply

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন