প্রভুর প্রত্যাবর্তন সম্পর্কে, কার কথা শোনা উচিৎ?

18-02-2023

ঈশ্বরের আগমন কে স্বাগত জানানোর চাবিকাঠি কী? প্রভু যীশু বলেছেন, “আমার নিজের মেষপাল আমার ডাক শোনে(যোহন ১০:২৭)। “মাঝরাতে সাড়া পড়ে গেল, ‘বর আসছে, বর আসছে, তাকে বরণ করতে এগিয়ে যাও’(মথি ২৫:৬)। প্রকাশিত বাক্য ভবিষ্যদ্বাণী করেছে: “দেখ, আমি দুয়ারে দাঁড়িয়ে করাঘাত করছি। যে আমার ডাক শুনে দুয়ার খুলে দেয়, আমি ভেতরে তার কাছে যাব, তার সঙ্গে পানাহার করব, সেও আমার সঙ্গে পানাহার করবে(প্রকাশিত বাক্য ৩:২০)। “শোনার মত কান যার আছে সে শুনুক, পবিত্র আত্মা সকল মণ্ডলীকে কী বলছেন(প্রকাশিত বাক্য ২:৭)। এই ভবিষ্যদ্বাণীগুলি দেখায় যে ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর শোনা প্রভুকে স্বাগত জানানোর চাবিকাঠি। ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর শোনা হল একমাত্র পথ। কিন্তু অনেক বিশ্বাসীরা মনে করে যে যেহেতু যাজকরা বাইবেল জানেন এবং সবসময় তার ব্যাখ্যা করেন এরকম একটা গুরুত্বপূর্ণ জিনিসের জন্য তাঁদের পাহারাদার হওয়া উচিৎ। তাই যখন তারা সাক্ষ্য শুনতে পায় যে প্রভু প্রত্যাবর্তন করেছেন, তখন তারা সেই দিকে নজর দেয়না এবং যখন তারা দেখে যে সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের বাণী সত্য, তখনও তারা সেগুলো উপেক্ষা করে। এই ধরনের লোকেরা কি ঈশ্বরে বিশ্বাস করে, নাকী যাজকদের বিশ্বাস করে? প্রভুর আগমনের বিষয়ে আমাদের কার কথা শোনা উচিৎ? আমাদের কি ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর শোনা উচিৎ, নাকি আমাদের যাজকদের? আমার বিশ্বাসে আমি এটা এর আগে কখনো বুঝিনি, কিন্তু অন্ধভাবে আমার যাজকের কথা শুনেছি এবং প্রভুর প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানানোর আমার সুযোগ প্রায় হারিয়ে ফেলেছি।

২০১৭-র জুনে, ফেসবুকে জার্মানির ভগিনী লিউ এবং ভ্রাতা ডুয়ানের সাথে আমার পরিচয় হয়। আমাদের যোগাযোগের মাধ্যমে, আমি দেখলাম যে তাঁরা বিনয়ী এবং নির্ভরযোগ্য মানুষ ছিলেন এবং বাইবেলের ওপর তাঁদের বিশুদ্ধ বোধ শক্তি এবং আলোকময় আলোচনা ছিল। আমি অনেক কিছু অর্জন করেছি। আমাদের কয়েকটি সমাবেশ হয় এবং আমি অনেক সত্য শিখেছি যা আমি আগে কখনো বুঝিনি, যেমন প্রকৃত বিশ্বাস এবং প্রকৃত অনুতাপ কী, ঈশ্বরকে অনুসরণ এবং তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করা কী, মানুষকে অনুসরণ এবং আত্মসমর্পণ করা কী, প্রভু যীশু কে প্রতিরোধকারী ফরীশীদের সারসত্তা এবং মূল কী, কীভাবে ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর শুনতে এবং প্রভুকে স্বাগত জানাতে হয়, এবং আরও অনেক কিছু। আমার মনে হয়েছিল যে আমি এর থেকে অনেক পুষ্টিসাধকতা পেয়েছি এবং এটা আমার হৃদয় কে উজ্জ্বল করেছে। আমি এই সমাবেশগুলি উপভোগ করেছি। তাদের মধ্যে একটাতে, ভ্রাতা ডুয়ান বাইবেলের কয়েকটি স্তবক পড়েছিলেন: “বিদ্যুৎ ঝলকে যেমন আকাশের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে, ঠিক তেমনি মানবপুত্রও তাঁর সেই দিনে উদ্ভাসিত হবেন। কিন্তু প্রথমে তাঁকে দুঃখ যন্ত্রণা ভোগ করতে হবে এবং এ যুগের লোক তাঁকে প্রত্যাখ্যান করবে(লুক ১৭:২৪-২৫)। তিনি বললেন যে অন্তিম সময়ে, ঈশ্বর আবারও মানবপুত্র হিসাবে দেহধারণ করবেন কাজ করার জন্য এবং এই ভবিষ্যদ্বাণী কিছু কাল আগেই পূর্ণ হয়েছে। তিনি বললেন, “প্রভু সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের অবতাররূপে প্রত্যাবর্তন করেছেন, এবং তিনি সত্য ব্যক্ত করছেন এবং ঈশ্বরের গৃহ থেকে বিচারকার্য শুরু করছেন। সর্বশক্তিমান ঈশ্বর সমস্ত সত্য ব্যক্ত করেছেন যা মানবজাতিকে পরিশুদ্ধ এবং উদ্ধার করবে এবং এটা যেন পূর্ব থেকে জ্বলজ্বল করা একটা দুর্দান্ত আলোর মত, এবং এটা হল পূর্ব থেকে ‘বজ্রালোক’।” কথাটা শুনে আমি একটু হতভম্ব হয়ে গেলাম। “প্রভু যীশু ইতিমধ্যেই প্রত্যাবর্তন করেছেন?” তখন আমার মনে পড়ল যাজকদের কথা, যে শুধুমাত্র পূর্বের বজ্রালোক সাক্ষ্য দেয় যে ঈশ্বর দেহ ধারণ করে প্রত্যাবর্তন করেছেন এবং আমাদের তা বিশ্বাস করা উচিৎ নয় কারণ একমাত্র প্রভু যীশুই হলেন খ্রীষ্ট৷ এর পর আমি সত্যিই অস্থির গেলাম এবং ভ্রাতা ডুয়ানের আলোচনার দিকে আর মনোযোগ দিতে পারলাম না। আমি ভাবলাম, “যাজকরা এবং বয়োজ্যেষ্ঠরা প্রভুর সেবা করেন এবং বাইবেল ভাল জানেন। এরকম গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় সম্পর্কে তাঁদের জানা উচিৎ, তাই আমি প্রথমে তাঁদের জিজ্ঞাসা করব।”

সেই রবিবার আমি গির্জায় গেলাম এবং যাজক কে জিজ্ঞাসা করলাম, এবং তিনি বললেন, “সর্বশক্তিমান ঈশ্বরে বিশ্বাসীরা যা প্রচার করে তার মধ্যে মূল্য আছে কিন্তু তারা সাক্ষ্য দেয় যে প্রভু দেহধারণ করে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর হিসাবে প্রত্যাবর্তন করেছেন। এটা সম্ভব নয়। একমাত্র প্রভু যীশুই ছিলেন ঈশ্বরের অবতার, তাই তারা একজন মানুষকে বিশ্বাস করে। তাদের গির্জা চীনা কমিউনিস্ট সরকার দ্বারা নিপীড়িত হয় এবং পূর্বের বজ্রালোক-এ বিশ্বাস করা প্রভু যীশুর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা হবে।” এই কথা শুনে আমার মধ্যে দিয়ে একটা ভয়ের ঢেউ বয়ে গেল। আমি ভাবলাম যে ব্যাপারটা যদি তাই হয় তাহলে ভগিনী লিউ এবং ভ্রাতা ডুয়ান অবশ্যই প্রভুর কাছ থেকে বিচ্যুত হয়েছেন। আমার মধ্যে তাঁদের সম্পর্কে সন্দেহ তৈরি হতে শুরু করে এবং আমি সাবধানী হয়ে যাই এবং আমি আর তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে চাই না। কিন্তু আমি দ্বিধায় পড়লাম যখন আমি তাঁদের সাক্ষ্যের কথা ভাবলাম যে প্রভু যীশু প্রত্যাবর্তন করেছেন। সেটা যদি সত্যি হয় এবং আমি যদি সেই দিকে নজর না দিই প্রভু কী আমাকে তাড়িয়ে দেবেন না? কিন্তু আবার, সর্বশক্তিমান ঈশ্বর যদি ঈশ্বরের অবতার হতেন, যাজক কেন তা গ্রহণ করলেন না, অথচ বললেন যে তাঁরা একজন ব্যক্তিকে বিশ্বাস করে? আমি ভাবলাম যাজক বাইবেল জানেন এবং আমার চেয়ে বেশি বোঝেন তাই বিপথে যাওয়া এড়াতে আমার উচিৎ তাঁদের থেকে দূরে থাকা। কিন্তু বাড়িতে আসার পর আমি সত্যিই অস্থির এবং বিভ্রান্ত বোধ করলাম। আমি দু:খিত হলাম এবং বিষন্ন বোধ করলাম। আমি প্রভুর কাছে একটা প্রার্থনা করলাম: “হে প্রভু, আমি আজ যাজকের কথা শুনেছি এবং এখন আমি ভগিনী লিউ এবং ভ্রাতা ডুয়ানকে সন্দেহ করতে শুরু করেছি। পূর্বের বজ্রালোক নিয়ে খতিয়ে দেখার সাহস আর আমি পাচ্ছি না। প্রভু, আমি আপনার প্রত্যাবর্তনের জন্য আকুল, কিন্তু আমি ভুল পথ গ্রহণ এবং আপনার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করতে ভীত। আমি সত্যিই জানি না আমার কী করা উচিৎ। দয়া করে আমাকে আলোকীত করুন এবং পথপ্রদর্শন করুন যাতে আমি সঠিক আর ভুলের মধ্যে পার্থক্য করতে পারি।”

আমি আমার প্রার্থনার পর ধীরে ধীরে শান্তির অনুভূতি অর্জন করলাম এবং তারপরে ভগিনী লিউ-র একটা আলোচনার কথা মাথায় এল: আমাদের বিশ্বাসে ঈশ্বর সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সমস্ত কিছু ঈশ্বরের বাণীর উপর ভিত্তি করে হতে হবে, বিশেষ করে সত্য পথ অনুসন্ধানের মত গুরুত্বপূর্ণ কিছুর জন্য। আমরা যদি সবকিছুতে অন্য লোকেদের কথা শুনি, আমরা মানুষকে বিশ্বাস এবং অনুসরণ করি, তাহলে আমরা প্রভুর পথ থেকে বিচ্যুত হব। আমি নিজেকে নিয়ে চিন্তা করা শুরু করলাম। যখন শুনলাম প্রভু প্রত্যাবর্তন করেছেন, আমি প্রভুর ইচ্ছা প্রথমে অনুসন্ধান করিনি বা দেখিনি প্রভুর বাণীগুলি সে সম্পর্কে কী বলে বা এটা ঈশ্বরের কাছ থেকে এসেছে কি না৷ পরিবর্তে আমি যাজক কে উপাসনা করেছি এবং তাঁর কথা শুনেছি। সেটা প্রভুর ইচ্ছা নয়। প্রতিটি সমাবেশে আমি সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের গির্জার সদস্যদের সাথে ছিলাম, তাদের আলোচনা ছিল আলোকময় এবং বাইবেলের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ এবং ঈশ্বরের ইচ্ছার ওপর তাদের ব্যাখ্যা ছিল স্পষ্ট। মাত্র কয়েকটি সমাবেশ থেকে আমি এমন অনেক সত্য বুঝতে পারলাম যা আমি আগে কখনও জানতাম না এবং আমার মনে হল আমি ঈশ্বরের কাছাকাছি এসেছি এবং আমার বিশ্বাস বেড়ে গেল। এটা স্পষ্টতই ঈশ্বরের এবং পবিত্র আত্মার কাজ ছিল৷ কিন্তু গির্জার মধ্যে পবিত্র আত্মার কাজ বা সত্যের পুষ্টিসাধকতা আছে কি না তা আমি দেখিনি। আমি ভেবে নিলাম যাজক ভাল করে বাইবেল জানেন তাই আমি তাঁকে বিশ্বাস করলাম যে প্রভু প্রত্যাবর্তন করেননি। আমি নিশ্চিত ছিলাম যে সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের গির্জায় সত্য এবং পবিত্র আত্মার কাজ ছিল কিন্তু আমি তবুও এটার দিকে নজর দিইনি। সেটাই তো যাজকের প্রতি বিশ্বাস রাখা, তাই না? সেটা ঈশ্বরকে বিশ্বাস বা অনুসরণ করা হল কীভাবে? আমি ভাবলাম প্রভু যীশু যখন আবির্ভূত হয়েছিলেন এবং কাজ করেছিলেন। প্রধান যাজকরা, ধর্মগুরুরা এবং ফরীশীরা যারা গির্জায় ঈশ্বরের সেবা করত সকলেই শাস্ত্র এবং আইনের সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খ জানত কিন্তু প্রভু যীশু কে তারা মশীহ বলে মেনে নেয়নি। পরিবর্তে, তারা উন্মাদভাবে তাঁর বিরোধিতা ও নিন্দা করেছিল এবং তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছিল। আমি বুঝতে পারলাম যে বাইবেলে ভালভাবে পারদর্শী হওয়া আর ঈশ্বরকে জানা এক নয়, এবং যদি আমি অন্ধভাবে যাজকের কথা শুনতাম, সেটা ঈশ্বরের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যেত এবং আমি হয়ত তাঁর বিরোধিতা করতাম! আমি ভগিনী লিউ এবং ভ্রাতা ডুয়ানের সাথে সমাবেশে যোগ দিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম এবং যদি আমি স্থির করতে পারি যে সর্বশক্তিমান ঈশ্বরই হলেন প্রত্যাবর্তিত প্রভু, আমি তাঁকে গ্রহণ করব এবং অনুসরণ করব।

পরবর্তী সমাবেশে আমি তাঁদের কাছে আমার বিভ্রান্তি জানালাম। ভ্রাতা ডুয়ান বললেন, “আপনার যাজক যা বলেছেন তার কী কোন ভিত্তি আছে, যে সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের গির্জা একজন ব্যক্তিকে বিশ্বাস করে? তিনি কি সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের বাণী পড়েছেন বা তাঁর কাজের দিকে নজর দিয়েছেন? তিনি কী এইভাবে গির্জাকে নিন্দা করে ঈশ্বরকে প্রতিরোধ করতে ভয় পান না? ফরিশীরা প্রভু যীশুকে একজন সাধারণ ব্যক্তি হিসাবে বিচার করেছিল। তিনি যে সত্য ব্যক্ত করেছিলেন তারা তা শোনেনি, বরং চরমভাবে তাঁর বিরোধিতা ও নিন্দা করেছিল এবং তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ করার চক্রান্তে যোগ দিয়ে তারা ঈশ্বরের শাস্তি অর্জন করেছিল। আজকের যাজকরা সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের বাণী সত্য কি না তা, তা ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর কি না দেখে না, কিন্তু শুধু তাঁকে অস্বীকার এবং নিন্দা করে। ফরীশীরাও কী এই একই ভুল করেনি? সর্বশক্তিমান ঈশ্বর সত্যিই ঈশ্বরের অবতার কি না, তিনি প্রত্যাবর্তিত প্রভু যীশু কি না এগুলো ধর্মীয় বিশ্বের বা সরকারের অনুমোদন দ্বারা নির্ধারিত হয় না। আমাদের দেখতে হবে সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের বাণী সত্য কি না এবং তিনি ঈশ্বরের কাজ করেন কি না। এটাই হল চাবিকাঠি।” অবতারের বিষয়টি আরও ভালভাবে ব্যাখ্যা করার জন্য ভ্রাতা ডুয়ান আমাকে সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের বাণীর কয়েকটি অংশ পড়ে শোনালেন। “‘অবতার’ হল ঈশ্বরের দেহরূপে আবির্ভাব; ঈশ্বর সৃষ্ট মানবজাতির মাঝে দেহের প্রতিচ্ছবি হিসাবেই কার্য নির্বাহ করেন। তাই ঈশ্বরকে অবতার রূপ ধারণ করতে হলে প্রথমে তাঁকে দেহ ধারণ করতেই হবে, স্বাভাবিক মানবতা পূর্ণ দেহ; এটাই হল সবচেয়ে প্রাথমিক পূর্বশর্ত। বস্তুত, ঈশ্বরের অবতার রূপ ধারণের তাৎপর্য হল যে, ঈশ্বর দেহরূপে বাস এবং কার্য নির্বাহ করেন এবং ঈশ্বর তাঁর যথার্থ সারসত্য নিয়েই দেহরূপে, অর্থাৎ মানুষ রূপে পরিণত হন(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, ঈশ্বরের অধিষ্ঠিত দেহরূপের সারসত্য)। “ঈশ্বরের অবতাররূপকেই খ্রীষ্ট বলা হয়, এবং তাই যে খ্রীষ্ট মানুষকে সত্যের সন্ধান দেন তাঁকেই ঈশ্বর বলা হয়। এটি অতিশয়োক্তি নয়, কারণ তিনিই ঈশ্বরের সারসত্যের অধিকারী এবং তাঁর কাজের মধ্যেই প্রতিফলিত হয় ঈশ্বরের স্বভাব এবং জ্ঞান, যা মানুষের পক্ষে অর্জন করা অসাধ্য। যারা নিজেদেরকে খ্রীষ্ট বলে দাবি করে, কিন্তু ঈশ্বরের কাজে অপারগ, তারা আসলে প্রতারক। খ্রীষ্ট নিছক পৃথিবীতে ঈশ্বরের প্রকাশ নন, বরং ঈশ্বরের অবতাররূপ, কারণ তিনি মানুষের মধ্যে ঈশ্বরের কর্ম সম্পাদন করেন এবং সম্পূর্ণ করেন। এই অবতাররূপ যেকোনো মানুষ দ্বারা প্রতিস্থাপিত করা অসম্ভব, তিনিই তা করতে পারবেন যিনি যথাযথভাবে পৃথিবীতে ঈশ্বরের কর্ম সম্পাদন করতে পারেন, ঈশ্বরের স্বভাব প্রকাশ করতে পারেন, যথাযথ ভাবে ঈশ্বরের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন এবং মানুষকে জীবন দান করতে পারেন(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, শুধুমাত্র অন্তিম সময়ের খ্রীষ্ট মানুষকে অনন্ত জীবনের পথ দেখাতে পারেন)। “যিনি ঈশ্বরের অবতার তিনি ঈশ্বরের সারসত্যের অধিকারী হবেন, এবং যিনি ঈশ্বরের অবতার তিনি ঈশ্বরের অভিব্যক্তির অধিকারী হবেন। যেহেতু ঈশ্বর দেহরূপ ধারণ করেছেন, তিনি তাঁর অভিপ্রায় অনুযায়ী কার্য সমাধা করবেন, এবং যেহেতু তিনি দেহরূপ ধারণ করেছেন, তিনি তাঁর স্বরূপ প্রকাশ করবেন এবং সেই সত্যটি মানুষের সামনে নিয়ে আসতে সমর্থ হবেন, তাকে জীবন দান করবেন এবং তার জন্য পথ চিহ্নিত করবেন। যে দেহরূপে ঈশ্বরের সারসত্য নেই তাকে ঈশ্বরের অবতার বলে গণ্য করা হয় না; এই বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কেউ ঈশ্বরের দেহরূপী অবতার কিনা তা যদি মানুষ অনুসন্ধান করতে চায়, তাহলে তাকে অবশ্যই যে স্বভাব তিনি প্রকাশ করেন এবং যে সকল বাক্য তিনি বলেন, তার থেকেই তা জানতে হবে। অর্থাৎ, কেউ ঈশ্বরের দেহরূপী অবতার কিনা, এবং এটিই প্রকৃত পথ কিনা, তা সুনিশ্চিত করতে অবশ্যই তাঁর সারসত্যের ভিত্তিতে বিচার করতে হবে। এবং তাই, কেউ ঈশ্বরের দেহরূপী অবতার কি না, তা নির্ণয় করার মূল বিষয়টি তাঁর বাহ্যিক চেহারার পরিবর্তে তাঁর সারসত্যের (তাঁর কাজ, তাঁর কথা, তাঁর স্বভাব এবং অন্যান্য অনেক বিষয়) উপর নির্ভরশীল। মানুষ যদি শুধু তাঁর বাইরের চেহারাটাই যাচাই করে এবং এর ফলে তাঁর সারসত্যকে উপেক্ষা করে, তাহলে এটাই প্রমাণিত হয় যে সেই মানুষটি অজ্ঞানতিমিরে আচ্ছন্ন এবং অজ্ঞ(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, ভূমিকা)

ভ্রাতা ডুয়ান তারপর এই আলোচনাটি করলেন: “ঈশ্বরের অবতার হলেন নরদেহের পোশাক পরিহিত ঈশ্বরের আত্মা। তিনি একজন সাধারণ ব্যক্তি হয়ে ওঠেন, কথা বলেন এবং মানবজাতিকে উদ্ধার করতে পৃথিবীতে কাজ করেন। ঈশ্বরের অবতার কে দেখতে খুব স্বাভাবিক, খুব সাধারণ। তিনি স্বাভাবিক মানবতার অধিকারী এবং অন্য যে কারুর মতই খান এবং পোশাক পরেন, এবং তাঁর মধ্যে স্বাভাবিক মানবিক আবেগগুলি আছে। তাও, তাঁর সারসত্তা ঐশ্বরিক। তিনি যে কোন সময় এবং যে কোন স্থানে মানুষকে লালন করতে এবং সত্য ব্যক্ত করতে পারেন। তিনি ঈশ্বরের নিজের কাজ করেন এবং তিনি ঈশ্বরের স্বভাব এবং ঈশ্বরের যা আছে এবং ঈশ্বর যা তা ব্যক্ত করেন। এটা এমন একটা জিনিস যা কোন সৃষ্ট সত্তা করতে পারে না। এটা ঠিক প্রভু যীশুর মত, যিনি একজন সাধারণ ব্যক্তির মত দেখতে ছিলেন, কিন্তু সত্য ব্যক্ত করে অনুতাপের পথ নিয়ে এসেছিলেন। তিনি মানুষের পাপ ক্ষমা করেছিলেন এবং ঈশ্বরের করুণা ও ভালবাসার স্বভাব ব্যক্ত করেছিলেন। তিনি অসুস্থদের সুস্থ করেছিলেন, ভূতদের তাড়িয়েছিলেন এবং অনেক চিহ্ন ও আশ্চর্য কাজ করেছিলেন যেমন পাঁচ হাজার লোককে পাঁচটি রুটি এবং দুটি মাছ দিয়ে খাইয়েছিলেন, এক কথায় সমুদ্রকে শান্ত করেছিলেন, মৃতদের পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন এবং আরও অনেক কিছু। তিনি ঈশ্বরের ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব প্রদর্শন করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত তাঁকে ক্রুশে বিদ্ধ করা হয়েছিল, যা মানবজাতিকে পাপ থেকে মুক্ত করার তাঁর কাজ সম্পূর্ণ করে। আমরা প্রভুর কাজ এবং বাণী এবং তাঁর ব্যক্ত স্বভাব থেকে দেখতে পাই যে তিনি ছিলেন ঈশ্বরের অবতার – তিনি ছিলেন খ্রীষ্ট। ঈশ্বর আবার সর্বশক্তিমান ঈশ্বর হিসাবে অন্তিম সময়ে দেহধারণ করেছেন। ঠিক প্রভু যীশুর মত, তাঁকে বাইরে থেকে একজন সাধারণ ব্যক্তির মতই দেখতে। তিনি সত্যিই মানবজাতির মধ্যে বাস করেন এবং মোটেও অতিপ্রাকৃত নন, কিন্তু সর্বশক্তিমান ঈশ্বর সমস্ত সত্য ব্যক্ত করেন যা মানবজাতিকে পরিশুদ্ধ ও উদ্ধার করবে। তিনি ঈশ্বরের অন্তিম সময়ের বিচারকার্য করেন মানবজাতিকে পাপ থেকে পরিশুদ্ধ ও সম্পূর্ণরূপে উদ্ধার করতে এবং আমাদেরকে ঈশ্বরের রাজ্যে নিয়ে যেতে। সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের বাণী মানবজাতিকে উদ্ধার করার জন্য ঈশ্বরের পরিচালনামূলক পরিকল্পনার সমস্ত রহস্য উন্মোচন করে। তাতে থাকে বিধানের, অনুগ্রহের এবং রাজ্যের যুগে ঈশ্বরের কাজের তিনটি পর্যায়ের সত্য, এবং তারা যা অর্জন করে, ঈশ্বরের নাম এবং তাঁর অবতারের রহস্য, অন্তিম সময়ে ঈশ্বরের বিচারের তাৎপর্য, ঈশ্বর কীভাবে একটা যুগের অবসান ঘটান এবং মানুষকে তাদের ধরন অনুসারে সাজান, বিভিন্ন মানুষের ফলাফল, কীভাবে খ্রীষ্টের রাজ্য পৃথিবীতে বাস্তবায়িত করা হবে, এবং আরও অনেক কিছু। সর্বশক্তিমান ঈশ্বর প্রকাশ করেছেন শয়তানের দ্বারা আমাদের ভ্রষ্টাচারেরও সত্য এবং আমাদের ঈশ্বর-প্রতিরোধী শয়তানোচিত প্রকৃতি, যাতে আমরা দেখতে পাই আমাদের শয়তানোচিত স্বভাব যেমন অহংকার, প্রতারণা, এবং সত্যকে ঘৃণা করা। তিনি আমাদের কাছে ঈশ্বরের ধার্মিক, অপ্রতিরোধ্য স্বভাবও প্রকাশ করেছেন এবং আমাদের স্বভাব পরিবর্তন করার জন্য আমাদের নির্দিষ্ট পথ দেখিয়েছেন এবং আরও অনেক কিছু। ঈশ্বর ছাড়া কে সত্য ব্যক্ত করতে পারে এবং ঈশ্বরের পরিচালনামূলক পরিকল্পনার রহস্য প্রকাশ করতে পারে? মানবজাতিকে পরিশুদ্ধ ও উদ্ধার করার জন্য আর কে বিচারকার্য চালাতে পারে? আর কে ঈশ্বরের ধার্মিক, অপ্রতিরোধ্য স্বভাব প্রকাশ করতে পারে? আর কে মানুষের ফলাফল নির্ধারণ করতে পারে? মানবজাতির পরিত্রাণের জন্য এই ধরনের ব্যবহারিক কাজ কেবলমাত্র ঈশ্বরই করতে পারেন৷ সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কাজ এবং বাণী সবই প্রভুর মুক্তির কাজের উপর ভিত্তি করে করা হয়। এটা হল কাজের একটা নতুন, উচ্চ পর্যায়। এটা সম্পূর্ণরূপে প্রভুর ভবিষ্যদ্বাণী পূর্ণ করে: ‘তোমাদের আরও অনেক কথা আমার বলার আছে কিন্তু এখন তোমাদের পক্ষে তা হৃদয়ঙ্গম করা কঠিন। সেই সত্যের আত্মা যখন আসবেন তিনিই তখন তোমাদের পূর্ণ সত্যের উপলব্ধি দান করবেন(যোহন ১৬:১২-১৩)। ‘আমি এই পৃথিবীতে বিচার করতে আসি নি, এসেছি পৃথিবীকে উদ্ধার করতে। যে আমার বাণী গ্রহণ না করে আমাকে প্রত্যাখ্যান করে তার বিচার হবে অন্যভাবে। শেষের দিনে আমার মুখনিঃসৃত সেই বাণীই হবে তার বিচারক(যোহন ১২:৪৭-৪৮)। সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের দ্বারা ব্যক্ত সত্য, তাঁর বিচারকার্য, এবং তাঁর দেখানো স্বভাব সব প্রমাণ করে যে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর দেহরূপী ঈশ্বর, তিনিই প্রত্যাবর্তিত প্রভু যীশু। তিনিই অন্তিম সময়ের খ্রীষ্ট। তিনি খ্রীষ্ট কি না আমরা তা তাঁর চেহারা দিয়ে নির্ধারণ করতে পারি না। মূল বিষয় হল তিনি সত্য ব্যক্ত করেন কি না, তিনি মানবজাতিকে উদ্ধার ও মুক্ত করতে পারেন কি না।”

ভ্রাতা ডুয়ানের আলোচনা আমার জন্য সত্যিই আনন্দদায়ক ছিল। অবতার হলেন একজন সাধারণ ব্যক্তির দেহ পরিহিত স্বর্গের ঈশ্বর। তাঁকে যে কারুর মত দেখতে হয়, কিন্তু তাঁর মধ্যে ঈশ্বরের সারসত্তা আছে। তিনি সত্য ব্যক্ত করতে পারেন এবং ঈশ্বরের নিজের কাজ করতে পারেন। এটা এমন একটা জিনিস যা কোন মানুষ করতে পারে না। এটা আমাকে বাইবেলের একটা স্তবকের কথা মনে করিয়ে দিয়েছিল: “একমাত্র ঈশ্বরের আত্মা ছাড়া আর কেউ ঈশ্বরের মনোভাব জানে না” (১ করিন্থীয় ২:১১)। ঈশ্বরের অবতার ছাড়া আর কে এত স্পষ্টভাবে অবতারের রহস্য ব্যাখ্যা করতে পারে? সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের সত্যগুলো না পড়ে, বাইরে থেকে কোন সাধারণ ব্যাক্তিকে দেখে তাকে খ্রীষ্ট বলে ভুল হতেই পারে, তখন আপনি ঈশ্বরকে প্রত্যাখ্যান ও তাঁর বিরোধিতা করতে পারেন!

তখন ভগিনী লিউ কিছু জিনিস আলোচনা করলেন। তিনি বললেন, “সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের আবির্ভাব এবং কাজ সম্পূর্ণভাবে বাইবেলের ভবিষ্যদ্বাণীগুলো পূর্ণ করে। তিনিই প্রত্যাবর্তিত প্রভু যীশু। অনেক সম্প্রদায়ের অনেক প্রকৃত বিশ্বাসী সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের বাণী পড়েছে এবং তারা দেখেছে যে সেগুলো সত্য এবং ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর, এবং তারা সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কাছে ফিরে গেছে। তাঁর কাজ ও বাণী সমগ্র ধর্মীয় বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছে। যাজক সদস্যরা অবশ্যই এই সম্পর্কে শুনেছেন, তাহলে কেন তাঁরা এটার দিকে নজর দেবেন না এবং সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের বাণী পড়বেন না? কেন তাঁরা এটাকে প্রতিহত করার জন্য জোর দিচ্ছেন? ফরিশীরা জানত প্রভু যীশু অসুস্থদের সুস্থ করেছিলেন, ভূত তাড়িয়েছিলেন, অনুতাপের পথ প্রচার করেছিলেন এবং এটা ঈশ্বরের কাছ থেকেই এসেছিল, কিন্তু তারা সজ্ঞানে তাঁকে অস্বীকার করে বলেছিল তিনি ছিলেন একজন নাজারীন, একজন কাঠমিস্ত্রির পুত্র। তারা উন্মাদের মত তাঁর বিরোধিতা ও নিন্দা করেছিল এবং তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ করার জন্য রোমীয় সরকারের সাথে চক্রান্ত করেছিল। তারা খ্রীষ্টকে অস্বীকার করেছিল এবং নিন্দা করেছিল। তারা ছিল তাঁর শত্রু। তারা ঈশ্বরের কাজের দ্বারা প্রকাশিত খ্রীষ্টবিরোধী ছিল। সর্বশক্তিমান ঈশ্বর অন্তিম সময়ে আবির্ভূত হয়েছেন এবং এখন যাজকরা এবং বয়োজ্যেষ্ঠরা জানেন যে তিনি বিচারকার্য করার জন্য সত্য ব্যক্ত করেন। তাঁরা কেবল এটা তদন্ত করতেই অস্বীকার করেন না, তাঁরা সর্বশক্তিমান ঈশ্বরকে অস্বীকার ও নিন্দা করার জন্য গুজব ছড়ান। তাঁদের গির্জায় তাঁরা সিসিপির গুজব আর মিথ্যা ছড়ান সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের গির্জাকে অপবাদ দিতে এবং তাঁরা তাঁর বিরোধিতা করার জন্য নাস্তিক দলের সাথে যোগ দেন। প্রভু যীশুর বিরোধিতাকারী ফরীশীদের থেকে তাঁরা কীভাবে আলাদা? বাইবেল বলে ‘জগতে অনেকেই এসেছে যারা যীশু খ্রীষ্টের মানবদেহে আগমনের কথা স্বীকার করে না। এরাই বিভ্রান্ত সৃষ্টিকারী ও খ্রীষ্টবৈরী’ (২ যোহন ১:৭)। ‘যে আত্মা যীশুকে স্বীকার করে না তা ঈশ্বরের নয়। তা হচ্ছে খ্রীষ্টবৈরীর আত্মা, যার আবির্ভাব সম্পর্কে তোমরা শুনেছ। সে এখন সংসারে উপস্থিত হয়েছে’ (১ যোহন ৪:৩)। যাজকরা খ্রীষ্টকে অস্বীকার করেন, অন্তিম সময়ের খ্রীষ্টকে নিন্দা করেন এবং একগুঁয়ে ভাবে ঈশ্বরকে প্রতিরোধ করেন। তাঁরা কী অন্তিম সময়ে ঈশ্বরের কাজের দ্বারা প্রকাশিত খ্রীষ্টবিরোধী নন?”

ভগিনী লিউ-এর আলোচনার মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত আমার ভুল ধারণাগুলো দূর হল। আমি বুঝতে পারলাম যে যাজকরা খ্রীষ্ট বা অবতার সম্পর্কে কিছুই জানেন না। তারা প্রভু যীশুতে বিশ্বাস করে, কিন্তু তারা তাঁর সারসত্তা সম্পর্কে কিছুতেই জানে না। প্রভু যীশু দেহধারণ করে অনেক সত্য ব্যক্ত করে কাজ করতে প্রত্যাবর্তন করেছেন, কিন্তু তাঁরা সেদিকে নজর দেবেন না বা তাঁকে স্বীকারও করবেন না। তাঁরা কেবল বেপরোয়াভাবে তাঁর নিন্দা ও বিরোধিতা করে। তাঁরা ঈশ্বরের শত্রু! আমি জানতাম যে আমি আর তাঁদের অনুসরণ করতে পারব না বরং আমাকে সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কাজকে গ্রহণ করতে হয়েছিল এবং ঈশ্বরের পদচিহ্নের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। আমার যাজক যাই করুন না কেন আমি সর্বশক্তিমান ঈশ্বরকে অনুসরণ করার জন্য স্থিরপ্রতিজ্ঞ ছিলাম।

আমার যাজক সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের প্রতি আমার বিশ্বাস সম্পর্কে অনেক আগেই জানতে পারেন। তিনি সঙ্গে সঙ্গে ভীষণ রেগে গেলেন, সর্বশক্তিমান ঈশ্বরে বিশ্বাস করার জন্য আমাকে তিরস্কার করলেন। তিনি বললেন যে আমি একজন ব্যক্তিকে বিশ্বাস করছি, এটা ভুল ছিল, এবং আমার স্বামীকে দিয়ে আমার মন পরিবর্তন করার চেষ্টা করলেন। আমার স্বামীর যাজকের মিথ্যা সম্পর্কে কোন জ্ঞান ছিল না, তাই তিনি আমার বিশ্বাসের পথে দাঁড়াতে শুরু করলেন। মনে হচ্ছিল যেন তিনি একজন অন্য মানুষ। যখনই তিনি জানতেন পারতেন যে আমি একটা সমাবেশে ছিলাম তখনই তিনি তাঁর মেজাজ হারাতেন এবং জিনিসপত্র ছোঁড়াছুঁড়ি করতেন এবং এমনকি আমার বিশ্বাস ত্যাগ করতে আমাকে বাধ্য করার জন্য তিনি আমাদের পারিবারিক ব্যবসাকেও অবহেলা করেন। এটা আমার জন্য সত্যিই বেদনাদায়ক ছিল। যাজকের স্ত্রীও আমাকে আটকানোর চেষ্টা করছিলেন। তিনি এক এক সময়ে ঘন্টার পর ঘণ্টা আমাদের বাড়িতে থাকতেন এবং আমি ঈশ্বরের বাণী পড়তে পারতাম না কারণ আমাকে তাঁকে সঙ্গ দিতে হত। ঘরের কাজও ঠিক করে করতে পারতাম না। আমার জন্য এইসব সত্যিই অস্বস্তিকর ছিল।

যাজকের কাজ আমাকে সত্যিই রাগান্বিত করে তুলল। তিনি প্রভু যীশুর প্রত্যাবর্তনের দিকে নজর দেবেন না এবং তিনি আমাকে মিথ্যা দিয়ে প্রতারিত করার চেষ্টা করেন, আমাকে সত্যের পথ গ্রহণ করা থেকে বিরত রাখতে। এমনকি তিনি আমার স্বামীকেও ব্য বহার করেন আমার পথে বাধা সৃষ্টি করার জন্য যাতে আমি ঈশ্বরের পরিত্রাণ হারিয়ে ফেলি। কত নিন্দনীয়! আমি প্রভু যীশুর ফরীশীদের প্রকাশ ও নিন্দা করার কথা ভাবলাম: “ভণ্ড শাস্ত্রী ও ফরিশীর দল, ধিক তোমাদের। তোমরা লোকের সামনে স্বর্গরাজ্যের দরজা বন্ধ করে দাও। নিজেরা তো প্রবেশ করই না, যারা চায় তাদেরও ঢুকতে দাও না(মথি ২৩:১৩)। আমার মনে হল আধুনিক যুগের যাজকরা এবং বয়োজ্যেষ্ঠরা ঠিক তেমনই। তাঁরা ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর শুনবেন না এবং প্রভুকে স্বাগত জানাবেন না এবং তাঁরা মিথ্যা ছড়ান আমাদের যারা প্রভুকে স্বাগত জানাতে এবং ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করতে চাই তাঁদের বাধা দিতে। তাঁরা চান আমরা নরকে যাই এবং তাঁদের সাথে দণ্ডিত হই, তাঁদের সাথে আমাদের সমাহিত করা হোক। তাঁরা হলেন রাজ্যের পথে আমাদের প্রতিবন্ধকতা। তাঁরা আত্মা-গ্রাসকারী খ্রীষ্টবিরোধী এবং পিশাচ! ঠিক যেমন সর্বশক্তিমান ঈশ্বর বলেন: “অনেকেই আছে যারা মুখ্য গির্জাগুলিতে বাইবেল পড়ে এবং সারাদিন ধরে সেটি আবৃত্তি করে, তবুও তাদের কেউই ঈশ্বরের কাজের উদ্দেশ্য বোঝে না। তাদের মধ্যে কেউই ঈশ্বরকে জানতে সক্ষম নয়, আর তাদের মধ্যে কারোর ঈশ্বরের ইচ্ছার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা তো আরোই কম। তারা সকলে অপদার্থ, জঘন্য মানুষ, প্রত্যেকেই ঈশ্বরকে বক্তৃতা দেওয়ার জন্য উচ্চে দণ্ডায়মান। তারা ঈশ্বরের ধ্বজা বহন করলেও ইচ্ছাকৃতভাবে ঈশ্বরের বিরোধিতা করে। ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস দাবি করেও তারা মানুষের মাংস ভক্ষণ ও রক্ত পান করে। এই ধরনের মানুষেরা হল মানুষের আত্মা-গ্রাসকারী অপদেবতা, সঠিক পথে পা-রাখা মানুষদের ইচ্ছাকৃত ভাবে বাধাদানকারী প্রধান অপদেবতা, এবং তারা হল ঈশ্বর অন্বেষণকারীদের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী বাধাস্বরূপ। তাদের দেখে ‘ভালো অবস্থার’ মনে হতে পারে, কিন্তু তাদের অনুগামীরা কীভাবে জানবে যে তারা মানুষদের ঈশ্বরের বিরুদ্ধাচারী করে তোলা খ্রীষ্টবিরোধী ছাড়া আর কেউ নয়? তাদের অনুগামীরা কীভাবে জানবে যে তারা জীবন্ত শয়তান যারা মানুষের আত্মা গ্রাস করার জন্যই নিবেদিত?(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, যারা ঈশ্বরকে জানে না তারা সকলেই ঈশ্বরবিরোধী)। আমি যাজকের কপট, সত্য-বিদ্বেষী সারসত্তার আসল রূপ দেখেছিলাম এবং সর্বশক্তিমান ঈশ্বরকে অনুসরণ করতে আরও বেশি অনুপ্রাণিত হয়ে উঠেছিলাম। আমি সবসময় যাজকদের পূজা করতাম, এবং আমি কোনদিন কল্পনাও করিনি যে এই মানুষগুলো যারা বাইবেল জানে এবং ঈশ্বরের সেবা করে প্রকৃতপক্ষে সত্য-বিদ্বেষী খ্রীষ্টবিরোধী যারা ঈশ্বরের রাজ্যে বিশ্বাসীদের প্রবেশে বাধা দেয়। যদি সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আবির্ভূত না হতেন ও দেহধারণ করে কাজ না করতেন, গীর্জাগুলিতে লুকিয়ে থাকা এই দুষ্ট দাস এবং খ্রীষ্টবিরোধীদের প্রকাশ না করতেন, যাজক আমার অজান্তেই আমাকে ধ্বংস করে দিতেন। এটা ঈশ্বরের করুণা এবং পরিত্রাণ যে আমি সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের অন্তিম সময়ের কাজ গ্রহণ করেছি!

এরপর, আমি ঈশ্বরের উপর নির্ভরশীল হলাম এবং তাঁর সাক্ষী হয়ে দাঁড়ালাম এবং আমার স্বামী আমার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানো বন্ধ করলেন। এখন আমি ভ্রাতা ও ভগিনীদের সঙ্গে সমাবেশে যোগ দিই এবং গির্জায় আমার দায়িত্ব পালন করি। আমি শান্তি এবং আনন্দে পরিপূর্ণ। সর্বশক্তিমান ঈশ্বরকে ধন্যবাদ!

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।

সম্পর্কিত তথ্য

অবশেষে ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর শুনলাম

আমি যখন ছোট ছিলাম তখন আমার অনেক রকমের কাজ ছিল। ভেনিজুয়েলার সুক্রে রাজ্য সরকারের পে-রোল সুপারভাইজার ছিলাম। আমাকে প্রতিদিন বেতনের সমস্যা আর...

ধর্মে সত্য অর্জন করা যায় না

আমি ছোটবেলায় প্রভুকে বিশ্বাস করার বিষয়ে আমার মা-বাবার পথই বেছে নিয়েছিলাম, আর আমি সাগ্রহে আমার বিশ্বাস মেনে চলছিলাম। আমি সক্রিয়ভাবে...

Leave a Reply

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন