পরিত্রাতা কীভাবে মানবজাতিকে রক্ষা করেন, যখন তিনি আসেন?

06-05-2022

পরিত্রাতার বিষয়ে কথা বলতে গেলে সমস্ত বিশ্বাসীরাই এটা মানবেন যে অন্তিম সময়ে মানবজাতিকে রক্ষা করতে তাঁর আগমন নিশ্চিত। অনেক নবীই বলে গেছেন যে অন্তিম সময়ে পরিত্রাতা আসবেন। তাহলে কে সেই পরিত্রাতা? বিভিন্ন সম্প্রদায়ের বিভিন্নরকম ব্যাখ্যা রয়েছে, আর বিভিন্ন ধর্ম তাঁর সম্পর্কে বিভিন্ন কথা বলে। প্রকৃত পরিত্রাতা আসলে কে? প্রকৃত পরিত্রাতা হলেন সেই প্রভু যিনি আকাশ ও পৃথিবী এবং সমস্ত কিছু সৃষ্টি করেছেন, এবং একমাত্র তিনিই প্রকৃত ঈশ্বর ও স্রষ্টা। যিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন একমাত্র সেই প্রভুই প্রকৃত ঈশ্বর, আর দেহধারণ করে আবির্ভূত প্রকৃত ঈশ্বরই সেই পরিত্রাতা যিনি মানবজাতিকে রক্ষা করতে পারেন। তিনি যদি সেই প্রকৃত ঈশ্বর না হন যিনি সমস্ত কিছু সৃষ্টি করেছেন, তাহলে সেই ব্যক্তি সৃষ্টিকর্তা নন এবং তিনি মানবজাতিকে রক্ষা করতেও পারবেন না। এই বিষয়টা আমাদের ভালো করে বুঝে নেওয়া প্রয়োজন। মনে রাখবেন! একজনই প্রকৃত ঈশ্বর আছেন, এবং একমাত্র ঈশ্বরের অবতারই সেই পরিত্রাতা। একমাত্র দেহধারণকারী প্রকৃত ঈশ্বরই সত্যকে প্রকাশ করতে পারেন এবং মানবজাতিকে সম্পূর্ণভাবে রক্ষা করতে পারেন, আর আমাদের এক সুন্দর গন্তব্যে পৌঁছে দিতে পারেন। অনেক ভণ্ড ভগবান আছে, আলাদা করে তাদের প্রত্যেকের কথা না বললেও চলবে, কিন্তু প্রকৃত পরিত্রাতা একজনই। তাহলে, এই পরিত্রাতা বাস্তবে কে? দু’হাজার বছর আগে, প্রভু যীশু পৃথিবীতে এসে বলেছিলেন, “অনুতাপ কর: কারণ স্বর্গরাজ্য সমাগত(মথি ৪:১৭)। মানুষের পাপমোচন করতে তারপর তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়। তিনি পাপমোচন সম্পূর্ণ করে অনুগ্রহের যুগের সূচনা করলেন, মানুষকে সুযোগ দিয়েছিলেন ঈশ্বরের কাছে পৌঁছনোর প্রার্থনা করার, ঈশ্বরের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করার, এবং আজ পর্যন্ত ঈশ্বরকে অনুসরণ করার। মুক্তির জন্য এই ছিল প্রভু যীশুর কাজ। প্রভু যীশুই ছিলেন সেই পরিত্রাতা, যিনি মানুষের মাঝে এসেছিলেন এবং কাজ করেছিলেন। এখন পর্যন্ত আমরা যা দেখলাম, তাতে পরিত্রাতা কে? দেহধারণকারী ঈশ্বর, যিনি নিজেই আসেন মানবজাতিকে রক্ষা করতে। প্রভু যীশু সকল মানুষকে ক্ষমা করে তাদের পাপমোচন করেছিলেন, কিন্তু মানুষ এখনও ক্রমাগত পাপ করে চলে এবং প্রকৃত অনুশোচনা অর্জন করতে পারে না। ঈশ্বরের পরিত্রাণ হল মানুষকে সত্যিকার অর্থে অনুতপ্ত করা, শুধুমাত্র আমাদের পাপ ক্ষমা করে ছেড়ে দেওয়া নয়। সেই জন্যেই প্রভু যীশু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেই অন্তিম সময়ে তিনি আসবেন মানবজাতিকে সম্পূর্ণভাবে রক্ষা করতে। পরিত্রাতা এখন ফিরে এসেছেন এবং আমাদের মাঝেই আছেন। মানুষকে পরিশুদ্ধ করতে এবং পাপ থেকে রক্ষা করতে তিনি অনেক সত্য প্রকাশ করেছেন, যাতে আমরা ঈশ্বরের কাছে ফিরে যেতে পারি এবং তাঁর দ্বারা অর্জিত হতে পারি। আর সেই সুন্দর গন্তব্যে পৌঁছতে পারি যা তিনি স্বয়ং আমাদের জন্য প্রস্তুত করেছেন—তাঁর রাজ্য। বর্তমান পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অনেকেই ঈশ্বরের আহ্বান শুনেছেন এবং তাঁর সিংহাসনের সামনে উত্থিত হয়েছেন। ঈশ্বর স্বয়ং তাদের বিচার করছেন, পরিশুদ্ধ করছেন, এ বিষয়ে তাদের সুন্দর সাক্ষ্য রয়েছে। তাঁরাই জয়ী যাঁদের ঈশ্বর নিজে সম্পূর্ণ করেছেন। দুঃখের বিষয়, এখনও অনেক মানুষই ঈশ্বরের কন্ঠস্বর শোনেননি, ঈশ্বরের উপস্থিতি ও কর্ম প্রত্যক্ষ করেন নি। সে কারণেই আমরা আজ এখানে সাক্ষ্য দিতে এসেছি যে কীভাবে পরিত্রাতা মানবজাতিকে রক্ষা করেন।

যখন পরিত্রাণের কথা ওঠে, কিছু মানুষের অস্পষ্ট ধারণা আছে যে ঈশ্বর হঠাৎ আকাশ থেকে আবির্ভূত হবেন এবং সমস্ত বিপর্যয় উপেক্ষা করে বিশ্বাসীদের সোজা স্বর্গে নিয়ে যাবেন। এটি মানুষের ধারণা বা কল্পনা মাত্র, একেবারেই বাস্তবোচিত নয়। আর একটা গুরুতর সমস্যা আছে। মানুষ শয়তানের দ্বারা গভীরভাবে ভ্রষ্ট হয়ে শয়তানের প্রকৃতিকে নিজেদের মধ্যে স্থান দিয়েছে। প্রত্যেকে পাপ, আবর্জনা এবং ভ্রষ্টাচারের মধ্যে জীবনযাপন করছে। আমরা কি সত্যি সরাসরি উন্নীত হওয়ার যোগ্য? আমরা কি সেই ঐশরাজ্যের যোগ্য? যদি প্রত্যেকেই এই ধারণার বশবর্তী হয়ে পরিত্রাতার অবতরণের জন্য অপেক্ষা করে, তবে তা ব্যর্থ হতে বাধ্য। তারা বিপর্যয়ের মধ্যে পড়বে, কাঁদবে এবং দাঁতে দাঁত ঘষবে। তাহলে পরিত্রাতা কীভাবে মানবজাতিকে রক্ষা করেন যখন তিনি আসেন? প্রথমে তিনি আমাদের পাপ থেকে মুক্ত করেন। প্রভু যীশু মুক্তির কাজ করেছিলেন যাতে আমাদের পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হয়, কিন্তু সেই ক্ষমাশীলতা সত্বেও আমরা ক্রমাগত পাপ না করে থাকতে পারি না। পাপের শৃঙ্খল থেকে আমরা অব্যাহতি পাই নি। এ সত্য অনস্বীকার্য। ঈশ্বর পবিত্র এবং ন্যায়পরায়ণ। তিনি পবিত্র স্থানে আবির্ভূত হন এবং কলুষিত স্থান থেকে নিজেকে প্রচ্ছন্ন রাখেন। মানুষ অপবিত্র বলে প্রভুর দর্শন পায় না, তাহলে আমরা যারা পাপে নিমগ্ন হয়ে বেঁচে আছি, তারা কী করে ঈশ্বরের সাম্রাজ্যে প্রবেশের যোগ্যতা অর্জন করবো? সেই জন্যেই ঈশ্বর এই অন্তিম সময়ে আবার অবতার রূপে আবির্ভূত হয়েছেন, সত্যকে প্রকাশ করছেন, এবং বিচার ও শাস্তিকার্য সম্পাদন করছেন যাতে মানুষকে পরিপূর্ণ ভাবে শুদ্ধ করতে পারেন, এবং পাপের ও শয়তানের হাত থেকে রক্ষা করতে পারেন। যেমন সর্বশক্তিমান ঈশ্বর বলেছেন: “যদিও যীশু মানুষের মধ্যে অনেক কাজ করেছিলেন, কিন্তু তিনি শুধুমাত্র সমস্ত মানবজাতির মুক্তি সম্পূর্ণ করেছিলেন এবং মানুষের পাপস্খালনের বলি হয়েছিলেন; তিনি মানুষকে তার সমস্ত ভ্রষ্ট স্বভাব থেকে মুক্তি দেননি। শয়তানের প্রভাব থেকে মানুষকে পুরোপুরি মুক্ত করার জন্য শুধু যীশুর পাপস্খালনের বলি হওয়া আর মানুষের পাপ বহন করার প্রয়োজন ছিল তাই নয়, বরং মানবজাতিকে সম্পূর্ণরূপে তার শয়তানোচিত ভ্রষ্ট স্বভাব থেকে উদ্ধার করার জন্য ঈশ্বরের আরো মহত্তর কর্মের প্রয়োজন ছিল। এবং তাই, এখন যখন মানুষ তার পাপের ক্ষমা পেয়েছে, ঈশ্বর মানুষকে নতুন যুগে নিয়ে যাওয়ার জন্য দেহরূপে ফিরে এসেছেন এবং শাস্তি ও বিচারের কাজ শুরু করেছেন। এই কাজ মানুষকে এক উচ্চতর জগতে নিয়ে এসেছে। যারা তাঁর রাজত্বের অধীনে আত্মসমর্পণ করে তারা উচ্চতর সত্য উপভোগ করবে এবং বৃহত্তর আশীর্বাদ লাভ করবে। তারা প্রকৃতপক্ষেই আলোতে বাস করবে, এবং তারা সত্য, পথ ও জীবন লাভ করবে(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, ভূমিকা)

পরিত্রাতা ইতিমধ্যে আবির্ভূত হয়েছেন। প্রভু যীশুর প্রত্যাবর্তন ঘটেছে সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের অবতার রূপে। সর্বশক্তিমান ঈশ্বর সকল সত্য প্রকাশ করেছেন যা মানবজাতিকে পরিশুদ্ধ ও রক্ষা করতে পারে, সেই বিচার-কার্যের মাধ্যমে যা শুরু হয়েছে ঈশ্বরের নিবাস থেকে। ঈশ্বরের অবতার ছাড়া অন্য কেউ সত্যের প্রকাশ এবং মানবজাতিকে রক্ষা করতে পারবেন না, সে তিনি যতই মহান বা বিখ্যাত হন না কেন। যিনি ঈশ্বরের অবতার রূপে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন, একমাত্র সেই খ্রীষ্টই আমাদের পরিত্রাতা। “খ্রীষ্ট” শব্দের অর্থ কি? এর অর্থ পরিত্রাতা। তাহলে, কি করে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর, অন্তিম সময়ের খ্রীষ্ট সকলকে পরিশুদ্ধ করার বিচার কার্য সম্পাদন করে মানবজাতিকে রক্ষা করেন?

সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের বলেন: “অন্তিম সময়ের খ্রীষ্ট মানুষকে শেখানোর জন্য, মানুষের উপাদান প্রকাশ করার জন্য এবং মানুষের কথা ও কাজের বিশ্লেষণ করার জন্য বিভিন্ন সত্য ব্যবহার করেন। এই বাক্যে বিভিন্ন সত্য অন্তর্ভুক্ত থাকে, যেমন মানুষের কর্তব্য, কীভাবে মানুষের ঈশ্বরকে মান্য করা উচিত, কীভাবে মানুষের ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ত থাকা উচিত, কীভাবে মানুষের স্বাভাবিক মানবতাসম্পন্ন জীবনযাপন করা উচিত, সেইসাথে থাকে ঈশ্বরের প্রজ্ঞা এবং স্বভাব ইত্যাদি বিষয়সমূহ। এই সমস্ত বাক্য মানুষের উপাদান এবং তার ভ্রষ্ট স্বভাবের দিকেই ইঙ্গিত করে। বিশেষ করে, সেই সমস্ত বাক্য, যা অনাবৃত করে মানুষ কীভাবে ঈশ্বরকে প্রত্যাখ্যান করেছে, তা আসলে এ সম্পর্কে কথা বলে যে কীভাবে মানুষ শয়তানের মূর্ত প্রতীক হয়ে উঠেছে এবং ঈশ্বরের বিরুদ্ধে শত্রু শক্তিতে পরিণত হয়েছে। তাঁর বিচারকার্যের সময়, ঈশ্বর কেবলমাত্র কয়েকটি বাক্যের মাধ্যমে মানুষের প্রকৃতি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন না; তিনি দীর্ঘমেয়াদে তা অনাবৃত করেন, মোকাবিলা করেন এবং তাদের অপ্রয়োজনীয় অংশের কর্তন করেন। অনাবৃতকরণ, মোকাবিলা এবং অপ্রয়োজনীয় অংশের কর্তনের এই সমস্ত ভিন্ন পদ্ধতি সাধারণ শব্দ দ্বারা প্রতিস্থাপিত করা যায় না, সেই সত্যের দ্বারাই প্রতিস্থাপিত করা যায় যার সম্পর্কে মানুষ একেবারেই অসচেতন। শুধুমাত্র এই ধরনের পদ্ধতিকেই বিচার বলা যেতে পারে; শুধুমাত্র এই ধরনের বিচারের মাধ্যমেই মানুষ ঈশ্বরের প্রতি অনুগত হতে পারে, তাঁর সম্বন্ধে দৃঢ়ভাবে নিশ্চিত হতে পারে, এবং ঈশ্বর সম্পর্কে প্রকৃত জ্ঞান লাভ করতে পারে। এই বিচারের কাজই প্রতিফলিত করে ঈশ্বরের আসল চেহারা সম্পর্কে মানুষের উপলব্ধি, এবং তার নিজের বিদ্রোহের সত্য। বিচারের কাজ মানুষকে ঈশ্বরের ইচ্ছা, তাঁর কাজের উদ্দেশ্য এবং দুর্বোধ্য রহস্য সম্পর্কে অনেক বেশি করে বোঝার সুযোগ দেয়। এটি মানুষকে নিজের ভ্রষ্ট সারসত্য এবং সেই ভ্রষ্টাচরণের মূল চিনতে ও জানতে শেখায়, এবং সেইসাথে মানুষের কদর্যতা আবিষ্কার করতে শেখায়। এই সমস্ত প্রভাব বিচারের কাজের মাধ্যমে প্রতিভাত হয়, কারণ এই কাজের সারমর্ম হল ঈশ্বরের সত্য, পথ এবং জীবনকে তাঁর অনুগামীদের কাছে উন্মুক্ত করার কাজ। এই কাজ ঈশ্বরের বিচারের কাজ(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, খ্রীষ্ট সত্যের দ্বারাই বিচারের কাজ করেন)

অন্তিম সময়ে ঈশ্বর মানবতাকে রক্ষা করেন সত্যকে প্রকাশ করে আমাদের পাপপূর্ণ প্রকৃতিকে অনাবৃত করার জন্য, যাতে আমরা আমাদের পাপপূর্ণ হওয়ার উৎস দেখতে পাই এবং আমাদের শয়তান-প্ররোচিত কলুষের সত্যকে জানতে পারি। যখন কেউ এই সত্য অনুধাবন করতে পারে, তাদের মধ্যে সত্যিকারের অনুশোচনা, নিজেদের প্রতি অশ্রদ্ধা এবং ঘৃণা জন্ম নেয়। তারা তখন আন্তরিক ভাবে অনুতপ্ত হতে শুরু করে, এবং শুধুমাত্র সত্যকে বুঝতে ও লাভ করতে চায়। যখন তারা সত্যকে অনুশীলন করতে শেখে, তখন তাদের ঈশ্বরের কাছে নিজেকে সমর্পন করার শিক্ষা সম্পূর্ণ হয়। তারা সত্যকে বুঝতে পারে এবং সত্য ও ঈশ্বরের বাক্য অনুযায়ী বাঁচতে শুরু করে ফলে তাদের জীবন চরিত্রের রূপান্তর ঘটতে শুরু করে। ঈশ্বরের বাক্যের বিচারকে ক্রমাগত অনুভব করার ফলে শেষ পর্যন্ত তাদের ভ্রষ্ট চরিত্র পরিশুদ্ধ হয়। এই এমন কেউ যে সম্পূর্ণরূপে রক্ষা পেয়েছে আর এরপর তারা সেই মনোরম গন্তব্যে পৌঁছনোর অধিকার লাভ করে যা ঈশ্বর তাদের জন্য প্রস্তুত করেছেন। এই কারণেই আমাদের সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের বাক্যের বিচার ও শাস্তিকে গ্রহণ করতে হবে। আমাদের আন্তরিক ভাবে অনুতপ্ত হতে হবে, নিজেদের প্রকৃত অর্থে পরিবর্তিত হতে হবে, আর সেই মানুষে পরিণত হতে হবে যে নিজেকে সমর্পন করে ও ঈশ্বরের উপাসনা করে। একমাত্র এটাই সত্যিকারের মুক্তি, আর একমাত্র এটাই আমাদের তাঁর রাজ্যে প্রবেশের যোগ্য করে তুলতে পারে।

তাহলে একটা বিষয় এখন আমাদের কাছে একদম পরিষ্কার। একমাত্র ঈশ্বর, একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই আমাদের রক্ষা করতে পারেন আর আমাদের সেই মনোরম গন্তব্যে পৌঁছে দিতে পারেন। এই ঈশ্বর, এই সৃষ্টিকর্তা পুরো সময় ধরে মানবজাতিকে পরিচালনা ও উদ্ধার করার জন্য কথা বলে চলেছেন এবং কাজ করে যাচ্ছেন। আজ এই মুহূর্ত পর্যন্ত। সমগ্র বাইবেল হচ্ছে ঈশ্বরের উপস্থিতি ও কাজের সাক্ষ্য। এটি সাক্ষ্য দেয় যে আকাশ ও পৃথিবী এবং সমস্ত কিছু ঈশ্বর সৃষ্টি করেছেন, এবং এটি ঈশ্বরের উপস্থিতির ও কাজের প্রত্যক্ষ প্রমাণ বহন করে। একমাত্র এই প্রকৃত ঈশ্বরের অবতার রূপে যিনি আমাদের মাঝে আসেন তিনিই আসল পরিত্রাতা। একমাত্র তিনিই মানবজাতিকে রক্ষা করতে পারেন। এই পরিত্রাতাকে ঈশ্বরের অবতাররূপ হতে হবে এবং অবশ্যই সত্যকে প্রকাশ করতে হবে। তিনিই একমাত্র প্রকৃত পরিত্রাতা। যে কোনো তথাকথিত পরিত্রাতা যিনি সত্যকে প্রকাশ করতে পারেন না তিনি আসলে একজন অশুভ আত্মা যিনি মানুষকে প্রতারণা করছেন। অনেক ভণ্ড ঈশ্বর আছেন, যেমন সেইসব বিখ্যাত ব্যক্তিরা যাঁরা হীনভাবে প্রশংসিত হন এবং মৃত্যুর পর সম্রাটেরা যাঁদের ঈশ্বর বলে ঘোষণা করেন। এর কি কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা আছে? এঁরা সবাই আসলে ভ্রষ্ট মানুষজন যাঁদের মৃত্যুর পর নরকবাস হয়, তাহলে তাঁরা কাকে রক্ষা করতে পারবেন? এঁরা এমনকি নিজেদেরও রক্ষা করতে পারেন না আর ঈশ্বর সকল পাপের জন্য এঁদের দণ্ড দেন। তাহলে তাঁরা কি মনুষ্যজাতিকে রক্ষা করতে পারেন? সেই সব সম্রাটরা অনেক আগেই মারা গেছেন আর তাঁরা সবাই এখন নরকে। যেসব ভণ্ড দেবতাদের তাঁরা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তাঁরা কেউই মানবজাতিকে রক্ষা করতে পারেন না। কোনো মূল্যেই এই সব ভণ্ড ঈশ্বরকে বিশ্বাস করবেন না। এটি প্রচণ্ড মূর্খ ও অজ্ঞের মতো কাজ যা অচিরেই আপনার ধ্বংস ডেকে আনবে। মনে রাখবেন প্রকৃত পরিত্রাতাকে ঈশ্বরের অবতাররূপ হতে হবে, তাঁকে অবশ্যই সত্য প্রকাশ করতে হবে। একমাত্র ঈশ্বরের কাছ থেকেই তা আসতে পারে। যে কোনো তথাকথিত পরিত্রাতা যিনি সত্যকে প্রকাশ করতে পারেন না তিনি অবশ্যই ভণ্ড এবং জনগণকে বিপথগামী করছেন। যে কেউ, যিনি ঈশ্বরের অবতার নন কিন্তু নিজেকে ঈশ্বর বলে দাবী করেন তিনি আসলে নকল খ্রীষ্ট এবং অশুভ আত্মা। এই ব্যক্তিরা পরিত্রাতা নন এবং মনুষ্যজাতিকে রক্ষা করতেও পারেন না। শয়তান এবং সকল অশুভ আত্মাই ঈশ্বর হওয়ার ভান করে, কিন্তু তারা কখনোই সমস্তকিছুর সৃষ্টিকর্তা হওয়ার দাবী করতে সাহস করে না, বিশেষ করে তারা মানুষকে সৃষ্টি করেছে এরকম দাবী করতে তো তারা কখনোই সাহস পায় না। তারা এটাও দাবি করার সাহস করেনা যে তারা মানুষের ভাগ্য পরিচালনা করে। তারা শুধু মানুষকে বিপথে নিয়ে যাওয়ার জন্য, তাদের আনুগত্য অর্জনের জন্য এদিক ওদিক কিছু চিন্হ দেখায় এবং অলৌকিক ঘটনা ঘটায়। এই ভণ্ড ঈশ্বর আর অশুভ আত্মারা সকলেই শয়তান অপদেবতা যারা মানুষকে বিপথগামী এবং ভ্রষ্ট করে। তারা আসলে সৃষ্টিকর্তা এবং প্রকৃত ঈশ্বরের শত্রু, যারা জোর করে মনুষ্যজাতিকে তাঁর কাছ থেকে সরিয়ে দিতে চায়। তাই এই পিশাচ ও অশুভ আত্মারা হচ্ছে ঈশ্বরের গভীর শত্রু যাদের ওপর ঈশ্বরের ঘৃণা এবং অভিশাপ বর্ষিত হয়। যারা এই পিশাচ ও অশুভ আত্মাদের শ্রদ্ধা এবং উপাসনা করবে ঈশ্বর তাদের অভিশাপ দেবেন এবং ধ্বংস করবেন। সর্বশক্তিমান ঈশ্বর বলেছেন, “যতদিন সেই পুরাতন পৃথিবীর অস্তিত্ব থাকবে, আমি আমার ক্রোধ পৃথিবীর সকল জাতির উপর নিক্ষেপ করবো, প্রশাসনিক ফরমানসমূহ ব্রহ্মাণ্ডজুড়ে প্রকাশ্যে জারি করবো, এবং যারা এই নির্দেশ লঙ্ঘন করবে তাদের ওপর নেমে আসবে শাস্তির বিধান। কথা বলার জন্য আমি যখন মহাবিশ্বের দিকে মুখ ফেরাবো, তখন সমগ্র মানবজাতি আমার কণ্ঠস্বর শুনতে পাবে, এবং তারপর মহাবিশ্ব জুড়ে আমার সমস্ত কাজ প্রত্যক্ষ করবে। যারা আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, অর্থাৎ যেসব মানুষ তাদের কর্মের দ্বারা আমার বিরোধিতা করে, তারা সকলেই আমার শাস্তির আওতায় পড়বে। মহাকাশের অগণিত নক্ষত্রকে আমি নতুন করে গড়বো, আমার সৌজন্যে সূর্য এবং চন্দ্রের নবীকরণ হবে—আকাশ আর আগের মত থাকবে না এবং পৃথিবীর অগণিত সৃষ্টির নবীকরণ হবে। সবই আমার বাক্যের দ্বারা পূর্ণ হবে। এই বিশ্বের বহু রাষ্ট্রেরই নতুন করে বিভাজন হবে এবং আমার রাজত্বের দ্বারা প্রতিস্থাপিত হবে, যাতে বিশ্বের বর্তমান জাতিগুলি চিরকালের জন্য নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে এবং গড়ে উঠবে এমন একটি রাজ্য, যে আমার উপাসনা করে। পৃথিবীর সমস্ত জাতি ধ্বংস হবে, কোনোটিরই অস্তিত্ব থাকবে না। এই বিশ্বের যেসব মানুষ শয়তানের অধীনে আছে তারা সকলেই নির্মূল হবে, এবং যারা শয়তানের উপাসক তারা সকলেই আমার দ্বারা প্রজ্বলিত অগ্নিতে নিক্ষিপ্ত হবে—অর্থাৎ, আমার স্রোতের অনুগামীরা ছাড়া আর সকলেই ভস্মীভূত হয়ে যাবে। আমি অসংখ্য মানুষকে শাস্তি দেওয়ার সময় ধর্মীয় জগতের যাদের আমার কাজের দ্বারা বিভিন্ন মাত্রায় জয় করা হয়েছে, তারা আমার রাজ্যে ফিরে আসবে, কারণ তারা দেখবে সাদা মেঘে আসীন সেই একক পবিত্র সত্তার আবির্ভাব। নিজস্ব প্রকার অনুযায়ী সমস্ত মানুষ বিভাজিত হবে, এবং তাদের কর্ম অনুযায়ী শাস্তির বিধান পাবে। যারা আমার বিপক্ষে দাঁড়িয়েছিল তারা ধ্বংস হবে; যাদের পার্থিব ক্রিয়াকলাপ আমাকে জড়িত করে নি, তারা যেমন ভাবে নিজেদের মুক্ত করেছে সেই কারণে আমার পুত্র এবং আমার লোকেদের শাসনের অধীনে পৃথিবীতে বিদ্যমান থাকবে। অগণিত মানুষ ও অগণিত জাতির সামনে আমি নিজেকে প্রকাশ করব। আমার নিজের কণ্ঠে আমি সারা পৃথিবী ধ্বনিত করে আমার কাজের পরিসমাপ্তি ঘোষণা করবো, যাতে সমগ্র মানবজাতি তা স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করতে পারে(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের প্রতি ঈশ্বরের বাক্য, অধ্যায় ২৬)

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।

সম্পর্কিত তথ্য

ধর্মগুরুদের অনুসরণ করার অর্থই কি ঈশ্বরকে অনুসরণ করা?

আজ থেকে দু’হাজার বছর আগে আমাদের পরিত্রাতা প্রভু যীশু মুক্তির কার্য সম্পন্ন করতে এসেছিলেন এবং তাঁর উন্মত্ত নিন্দা করেছিল প্রধান পুরোহিত,...

ঈশ্বরের অবতারকে তাঁর অন্তিম সময়ের বিচারের কাজ সম্পাদন করতে হবে কেন?

আমরা ইতিমধ্যেই কয়েকবার অন্তিম সময়ে ঈশ্বরের বিচারের কাজ নিয়ে কথা বলেছি। আজ আমরা এই বিষয়টার দিকে দৃষ্টিপাত করতে চাই যে এই বিচারের কাজ কে...

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন