ঈশ্বরের মানবজাতিকে উদ্ধার করার জন্য তিনটে পর্যায়ের কাজ প্রয়োজন কেন?

25-07-2023

আমরা সবাই জানি, ২,০০০ বছর আগে, মানবজাতিকে মুক্তি দেওয়ার জন্য প্রভু যীশু যিহুদীয়াতে আবির্ভূত হয়েছিলেন ও কাজ করেছিলেন, এবং প্রচার করেছিলেন, “অনুতাপ কর: কারণ স্বর্গরাজ্য সমাগত(মথি ৪:১৭)। তিনি অনেক সত্য প্রকাশ করেছিলেন এবং অনেক অলৌকিক চিহ্ন ও নিদর্শন দেখিয়েছিলেন, যিহুদীয়াতে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিলেন। ইহুদিধর্মের উচ্চতর নেতারা দেখেছিল প্রভু যীশুর কাজ ও বাক্য কত কর্তৃত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী, এবং তিনি সর্বদাই অনুগামী অর্জন করছিলেন। এই নেতারা মনে করেছিল যীশুর কাজ তাদের মর্যাদার পক্ষে বিপজ্জনক, তারা তাই তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবহার করার মতো বিষয়গুলো খুঁজতে শুরু করে, গুজব ও মিথ্যা রচনা করতে থাকে, যীশুর নিন্দা করতে থাকে, এবং তাঁকে অনুসরণ করা থেকে জনগণকে বিরত করে। যীশুর মনুষ্যপুত্র হওয়া এবং আত্মার আকারে না থাকা তাদের আরও উদ্ধত ও অসংযত করে তোলে। উন্মত্তের মতো তাঁকে দোষারোপ করা ও তাড়া করা, এবং তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ করার জন্য তাদের অজুহাত ছিল যে তাঁর কাজ ও বাক্য বিধানকে অতিক্রম করে যাচ্ছে। এর ফলে তারা অর্জন করেছিল ঈশ্বরের অভিশাপ ও দণ্ড, যা ২,০০০ বছর ধরে ইসরায়েল ভূমিকে বিনষ্ট করেছিল। এখন অন্তিম সময়ে যীশু ফিরে এসেছেন সর্বশক্তিমান ঈশ্বর অবতাররূপে, তিনি সত্য প্রকাশ করছেন ও ঈশ্বরের গৃহ থেকে আরম্ভ করে বিচারের কাজ করছেন মানবজাতিকে সম্পূর্ণরূপে পরিশুদ্ধ ও উদ্ধার করার জন্য। সমস্ত সম্প্রদায়ের যে মানুষরা ঈশ্বরের আবির্ভাবের জন্য ব্যাকুল তারা সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের বাক্য পড়েছে, ঈশ্বরের কণ্ঠ চিনতে পেরেছে, এবং সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের অভিমুখী হয়েছে। কিন্তু অনেক ধর্মীয় নেতারা এটা মানতে পারছে না। তাদের ভালো মেষগুলো দল ছেড়ে চলে গেছে, এবং তাদের মর্যাদা ও জীবিকা বিপদাপন্ন, যা তারা সহ্য করতে পারছে না। সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের আবির্ভাব ও কাজকে অস্বীকার ও নিন্দা করার জন্য তারা সমস্তরকম মিথ্যা রচনা করছে, বিশ্বাসীদের পথভ্রষ্ট করতে ও প্রকৃত পথের অনুসন্ধান থেকে তাদের সরিয়ে রাখতে তারা যথাসাধ্য করে চলেছে। তারা বলে, প্রভু যীশু ইতিমধ্যেই মানবজাতিকে মুক্ত করেছেন এবং ঈশ্বরের পরিত্রাণের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে, তিনি যখন আসবেন, তখন বিশ্বাসীদের উন্নীত করবেন। পরিত্রাণের কাজ আর বাকি নেই। এমনকি তারা হৈচৈ করে: “যদি প্রভু ফিরে আসেন এবং আমাদের রাজ্যে না নিয়ে যান, তবে তিনি প্রকৃত প্রভু নন! দেহরূপধারী যে প্রভু বিচারের কাজ করছেন তিনি প্রকৃত প্রভু হতে পারেন না! তিনি শুধু তখনই প্রভু, যে প্রভুতে আমরা বিশ্বাস করি, যদি তিনি আমাদের উন্নীত করেন!” বিশেষ করে যখন তারা দেখে যে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আত্মার আকারের নন, বরং একজন সাধারণ মনুষ্যপুত্র, তখন তারা আরও দুর্বিনীত হয়ে ওঠে, এবং আরও তীব্রভাবে তাঁকে তিরস্কার ও নিন্দা করে। এমনকি যে বিশ্বাসীরা সুসমাচার প্রচার করে তাদের গ্রেপ্তার করানোর জন্য তারা কমিউনিস্ট পার্টির সাথেও যোগ দেয়। তাদের কর্মের মাধ্যমে, তারা ঈশ্বরকে আবার ক্রুশবিদ্ধ করেছে। বিষয়টা ভেবে দেখুন। এরকম কেন হয় যে ঈশ্বরের কাজের প্রতিটা পর্যায়কে ধর্মীয় বিশ্ব অস্বীকার, নিন্দা, ও প্রতিরোধ করে? কারণ মানবতা অত্যন্ত গভীরভাবে শয়তানের দ্বারা ভ্রষ্ট। প্রত্যেকেরই এক শয়তানোচিত প্রকৃতি রয়েছে; প্রত্যেকেই সত্যকে ঘৃণা করে ও সত্যের প্রতি বীতশ্রদ্ধ। আর একটা কারণ হল যে মানুষ ঈশ্বরের কাজ উপলব্ধি করতে পারে না, তাই মানবজাতিকে উদ্ধারের জন্য ঈশ্বরের যে কাজ তাকে তারা বাস্তবের চেয়ে আরও সহজ হিসাবে দেখে। আমরা জানি, ইসরায়েলীরা বিশ্বাস করতো যে বিধানের যুগে ঈশ্বরের কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার পর, তাদের শুধু বিধান মেনে চলতে হবে, তাহলেই তারা উদ্ধার পাবে, আর যখন মশীহ আসবেন, তখন তাদের সরাসরি রাজ্যে নিয়ে যাওয়া হবে। অথচ কী ঘটলো? প্রভু যীশু এলেন এবং ইহুদিরা তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ করলো। অনুগ্রহের যুগের মানুষেরা ভেবেছিল, যীশুর মুক্তির সাথে সাথে বরাবরের জন্য তাদের পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে ও তারা উদ্ধার পেয়েছে, তাই প্রভু যখন ফিরে আসবেন তখন তাদের সরাসরি রাজ্যে উন্নীত করে নেওয়া উচিত। আর কী ঘটলো? সর্বশক্তিমান ঈশ্বর এসেছেন, এবং ধর্মীয় জগৎ ও শয়তানের শাসনের মিলিত শক্তির দ্বারা তাঁকে আবার ক্রুশবিদ্ধ করা হচ্ছে। তারা মনে করে, প্রভু যীশু যখন তাঁর কাজ সম্পন্ন করেছেন, তখনই ঈশ্বরের পরিত্রাণের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু তা কি প্রকৃতরূপে সত্যি?

প্রকৃতপক্ষে, ঈশ্বর যে কাজ করেন তার প্রতিটা ধাপ অনেক আগে থেকেই ভবিষ্যদ্বাণী করা আছে। যীশু যখন মুক্তির কাজ করতে এসেছিলেন, নবীরা আগে থেকেই তাঁর আগমনের ভবিষ্যদ্বাণী করে রেখেছিল। “একটি কুমারী গর্ভবতী হয়ে প্রসব করবে পুত্র সন্তান, পরিচিত হবে সে ইন্মানুয়েল নামে(যিশাইয় ৭:১৪)। “আমাদের জন্য একটি শিশুর জন্ম হয়েছে! একটি পুত্র দেওয়া হয়েছে আমাদের! তিনিই হবেন আমাদের রাজা। তাঁকে বলা হবে মহান উপদেষ্টা ‘পরাক্রমশালী ঈশ্বর’, ‘সনাতন পিতা’, ‘শান্তিরাজ’(যিশাইয় ৯:৬)। এবং ঈশ্বরের অন্তিম সময়ের বিচারকার্যের ব্যাপারে তো বাইবেলে প্রচুর ভবিষ্যদ্বাণী রয়েছে, অন্ততপক্ষে ২০০ টা। দেখা যাক প্রভু যীশু কী বলেছেন: “যে আমার বাক্য গ্রহণ না করে আমাকে প্রত্যাখ্যান করে, তারও বিচারকারী রয়েছে: শেষের দিনে আমার মুখনিঃসৃত সেই বাণীই হবে তার বিচারক(যোহন ১২:৪৮)। “পিতা কারও বিচার করেন না, বিচারের ভার সম্পূর্ণরূপে তিনি পুত্রকেই দান করেছেন(যোহন ৫:২২)। এবং পিতরের গ্রন্থে বলছে: “বিচারের কাল সমাগত, ঈশ্বরের আপনজনদের দিয়েই তা হবে শুরু(১ পিতর ৪:১৭)। ঈশ্বরের কাজে আগ্রহী যে কেউ খুব সহজেই এর ভিত্তি খুঁজে পেতে পারে, তাহলে তারা এতটা আক্রমনাত্মক ও নির্বিকারভাবে ঈশ্বরকে ক্রুশবিদ্ধ করার জন্য জোর দেবে না। এটা একাই প্রদর্শন করে মানবজাতি কতটা গভীরভাবে শয়তানের দ্বারা ভ্রষ্ট। প্রত্যেক মানুষের একটা শয়তানোচিত প্রকৃতি আছে, এবং একথা বলা ন্যায়সঙ্গত যে মানুষ ঈশ্বরের শত্রু। আমরা সবাই এই ঘটনা দেখেছি: বিধানের যুগ থেকে শুরু করে অনুগ্রহের যুগে যীশুর মুক্তি পর্যন্ত, এবং এখন অন্তিম সময়ে, যখন সর্বশক্তিমান ঈশ্বর এইসব যুগের কাজ শেষ করার জন্য দেহরূপে বিচারের কাজ করছেন, তা থেকে এটা স্পষ্ট যে ঈশ্বরের মানবজাতিকে উদ্ধারের কাজে ঠিক তিনটে পর্যায় রয়েছে। তাহলে, তাঁর পরিত্রাণের কাজ তিনটে পর্যায়ে নির্বাহ করা আবশ্যক কেন? এটা এমন বিষয় মানুষ যার তল পায় না, যা বহু মানুষকে ঈশ্বরের কাজের প্রতিরোধ ও নিন্দা করার দিকে চালিত করেছে। এর পরিণাম মর্মান্তিক। এই কারণেই আমরা আজ যে বিষয়ের অনুসন্ধান করছি তা হল ঈশ্বরের তিন পর্যায়ে কাজ করার উদ্দেশ্য।

অন্তিম সময়ে, সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কাজ তাঁর পরিচালনামূলক পরিকল্পনার সমস্ত রহস্য প্রকাশ করেছে। এই বিষয়টা আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য আসুন সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের বাক্যের একটা অনুচ্ছেদ পড়ে নেওয়া যাক। সর্বশক্তিমান ঈশ্বর বলেছেন, “ঈশ্বরের ৬,০০০ বছরের ব্যবস্থাপনার কাজ তিনটি পর্যায়ে বিভক্ত: বিধানের যুগ, অনুগ্রহের যুগ এবং রাজ্যের যুগ। কাজের এই তিনটি পর্যায়ের সমস্তটাই মানবজাতির পরিত্রাণের জন্য, অর্থাৎ বলা যায় যে, এগুলি শয়তানের দ্বারা গুরুতরভাবে কলুষিত মানবজাতির পরিত্রাণের জন্য। আবার একই সাথে, সেগুলি এই জন্যেও, যাতে ঈশ্বর শয়তানের সঙ্গে যুদ্ধ করতে পারেন। এইভাবে, পরিত্রাণের কাজ যেমন তিনটি পর্যায়ে বিভক্ত, তেমন শয়তানের সাথে যুদ্ধও তিনটি পর্যায়েই বিভক্ত, আর ঈশ্বরের কাজের এই দুটি দিক একইসাথে সম্পাদিত হয়। শয়তানের সাথে যুদ্ধ করা হয় কার্যত মানবজাতির পরিত্রাণের স্বার্থে, আর যেহেতু মানবজাতির পরিত্রাণের কাজ একটি একক পর্যায়ে সম্পন্ন করা যায় না, তাই শয়তানের সাথে যুদ্ধও বিভিন্ন সময়কাল ও পর্যায়ে বিভক্ত, আর মানুষের চাহিদা এবং শয়তানের দ্বারা তার ভ্রষ্ট হওয়ার মাত্রার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ভাবেই শয়তানের সাথে যুদ্ধ করা হয়। … মানুষের পরিত্রাণের কাজের তিনটি পর্যায় রয়েছে, অর্থাৎ বলা যায়, শয়তানকে চিরতরে পরাজিত করার জন্য শয়তানের সাথে যুদ্ধকে তিনটি পর্যায়ে ভাগ করা হয়েছে। তবুও শয়তানের সাথে যুদ্ধের এই সম্পূর্ণ কাজের অন্তর্নিহিত সত্য হল, এর ফলাফল কাজের বিভিন্ন ধাপের মাধ্যমে অর্জিত হয়: মানুষের ওপর অনুগ্রহ বর্ষণ করা, মানুষের পাপস্খালনের বলি হয়ে ওঠা, মানুষের পাপের ক্ষমা করা, মানুষকে জয় করা, এবং তাকে নিখুঁত করা(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, মানুষের স্বাভাবিক জীবন পুনরুদ্ধার করা এবং তাকে এক বিস্ময়কর গন্তব্যে নিয়ে যাওয়া)। আমরা দেখতে পাচ্ছি যে ঈশ্বরের পরিত্রাণের কাজ তিনটে পর্যায়ে সম্পন্ন হয়। সেগুলো হল, বিধানের যুগে যিহোবা ঈশ্বরের কাজ, অনুগ্রহের যুগে প্রভু যীশুর মুক্তির কাজ, এবং রাজ্যের যুগে সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের অন্তিম সময়ের বিচারের কাজ। এই তিন পর্যায়ের কাজ মিলে ঈশ্বরের সম্পূর্ণ পরিত্রাণের কাজ গঠিত, এবং এইভাবেই ঈশ্বর ধাপে ধাপে মানবজাতিকে শয়তানের শক্তির কাছ থেকে উদ্ধার করেন, যাতে আমরা ঈশ্বরের দ্বারা পুরোপুরি অর্জিত হতে পারি। প্রতিটা পর্যায়ের পিছনে গভীর তাৎপর্য নিহিত রয়েছে। এগুলো সবই মানবজাতিকে উদ্ধার করার জন্য ঈশ্বরের পরিচালনামূলক পরিকল্পনার অপরিহার্য কাজ, এবং ভ্রষ্ট মানবজাতিকে পাপ ও শয়তানের শক্তি থেকে উদ্ধারের প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এরপর, ঈশ্বরের নিজের বাক্যের উপর ভিত্তি করে আমি সংক্ষেপে তাঁর তিন পর্যায়ের কাজের বর্ণনা করবো। প্রথমে, মানুষের পরিত্রাণের জন্য ঈশ্বরের কাজের প্রথম ধাপ সম্পর্কে বলা যাক: বিধানের যুগের কাজ। আমরা সবাই জানি যে ঈশ্বর তাঁর বিধানের যুগের কাজ নির্বাহ করার আগে, মানুষ ছিল সম্পূর্ণরূপে অজ্ঞ। তারা জানত না কীভাবে ঈশ্বরের উপাসনা করতে হয়, বা পৃথিবীতে তাদের জীবন কীভাবে যাপন করতে হয়। তারা ক্রমাগত পাপ করে চলেছিল এবং ঈশ্বরকে ক্ষুব্ধ করছিল, এবং জানতোও না যে পাপ কী। পাপ থেকে নিজেদের দূরে রাখতে ও সঠিকভাবে বাঁচতে মানুষকে সাহায্য করার জন্য ঈশ্বর তাঁর বিধানের যুগের কাজ আরম্ভ করেছিলেন। এই বিষয়ে ঈশ্বরের বাক্যের একটা অনুচ্ছেদ পড়ে নেওয়া যাক। “বিধানের যুগের সময়, যিহোবা বহু সংখ্যক আদেশ নির্ধারণ করেছিলেন যাতে মোশি তা সেইসব ইস্রায়েলীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারে, যারা তাকে অনুসরণ করে মিশরের বাইরে চলে এসেছিল। এই আদেশগুলি যিহোবা ইস্রায়েলীদের জন্যই দিয়েছিলেন, এবং মিশরীয়দের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক ছিলনা; এগুলি ছিল ইস্রায়েলীদের সংযত রাখার জন্য, এবং তাদের কাছে দাবী জানানোর জন্য তিনি এই আদেশগুলি ব্যবহার করেছিলেন। তারা বিশ্রামবার পালন করে কিনা, তারা বাবা-মার প্রতি শ্রদ্ধাশীল কিনা, তারা মূর্তির উপাসনা করে কি না—এইসব নীতির দ্বারাই বিচার করা হত তারা পাপী না ধার্মিক। এদের মধ্যে, কেউ কেউ যিহোবার আগুনে দগ্ধ হয়েছিল, কাউকে পাথরের আঘাতে হত্যা করা হয়, আবার কেউ কেউ যিহোবার আশীর্বাদ লাভ করে, এবং তা নির্ধারিত হয় তারা যিহোবার আদেশগুলি মান্য করেছে কি না সেই অনুসারে। যারা বিশ্রামবার পালন করেনি, তাদের হত্যা করা হয়েছে পাথরের আঘাতে। যেসব ধর্মযাজক বিশ্রামবার পালন করেনি, তারা যিহোবার আগুনে দগ্ধ হয়েছে। যারা বাবা-মাকে শ্রদ্ধা করেনি, তাদেরও পাথর দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। এগুলো সবই যিহোবা প্রশংসা করেছিলেন। যিহোবা তাঁর আদেশ এবং বিধান প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন যাতে, তিনি মানুষকে তাদের জীবনের নেতৃত্ব দেওয়ার সময় মানুষ যেন তাঁর বাক্য শোনে ও তা মান্য করে, এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ না করে। সদ্যোজাত মনুষ্যজাতিকে নিয়ন্ত্রণের অধীনে রাখতে, এবং আরও বেশি করে তাঁর ভবিষ্যৎ কার্যের ভিত্তি স্থাপন করতে তিনি এই বিধানগুলি ব্যবহার করেছিলেন। আর তাই, যিহোবার সম্পাদিত কাজের ভিত্তিতে, প্রথম যুগকে বলা হতো বিধানের যুগ(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, বিধানের যুগের কার্য)। বিধানের যুগে, যিহোবা ঈশ্বর প্রচুর বিধান ও আদেশ জারি করেছিলেন, মানবজাতিকে শিক্ষা দিয়েছিলেন কীভাবে ঈশ্বরের উপাসনা করতে হবে ও কীভাবে তাদের জীবন যাপন করতে হবে। যারা এই বিধান অনুসরণ করেছিল তারা ঈশ্বরের সুরক্ষা ও আশীর্বাদ পেয়েছিল, এদিকে যারা এই বিধান লঙ্ঘন করেছিল তাদের নিজেদের পাপের ক্ষমা পাওয়ার জন্য উৎসর্গ অর্পণ করতে হয়েছিল। নাহলে তাদের ঈশ্বরের দণ্ড ও অভিশাপের সম্মুখীন হতে হতো। বিধানের যুগের লোকেরা ব্যক্তিগতভাবে ঈশ্বরের ন্যায়পরায়ণতা ও ক্রোধের বিষয়ে জানতো, তাঁর অপ্রতিরোধ্য স্বভাবের বিষয়ে জানতো, এবং তাঁর করুণা ও আশীর্বাদের বিষয়েও জানতো। এই কারণেই প্রত্যেকে যিহোবা ঈশ্বরকে ভয় করতো এবং তাঁর বিধান ও আদেশ মেনে চলতো। তারা ঈশ্বরের সুরক্ষা পেয়েছিল এবং পৃথিবীতে যথাযথ জীবনযাপন করেছিল। এখন এই বিষয়টা নিয়ে একটু চিন্তা করা যাক: ঈশ্বর যদি তাঁর বিধানের যুগের কাজ না করতেন, তাহলে মানবজাতির কী হত? বিধানের বিধিনিষেধ বা ঈশ্বরের পথনির্দেশ ছাড়া, সমস্ত মানবজাতি সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়ত এবং শয়তান তাদের দখল করতো। ঈশ্বরের মানবজাতিকে বিধান প্রদান করা প্রচণ্ড গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল! বিধানের যুগে তাঁর কাজ মানুষকে শেখালো পাপ কী, আর ন্যায়পরায়ণতা কী, এবং তা মানুষকে দেখালো যে পাপ করলে তার প্রায়শ্চিত্তের জন্য উৎসর্গের প্রয়োজন হয়। ঈশ্বরের কাজের প্রথম পর্যায় মানবজাতিকে শুধু তাদের জীবনের সঠিক পথেই নিয়ে আসেনি, সেইসাথে তা অনুগ্রহের যুগের মুক্তির কাজের মঞ্চ প্রস্তুত করেছিল ও তার পথ প্রশস্ত করেছিল।

বিধানের যুগের শেষের দিকে, সমগ্র মানবজাতি শয়তানের দ্বারা এত গভীরভাবে ভ্রষ্ট ছিল যে তারা ক্রমাগত আরও পাপ করে চলেছিল, এবং বিধান তাদের আর নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিল না। তাদের পাপের জন্য পর্যাপ্ত উৎসর্গ তাদের ছিল না, তাই তারা বিধানের দ্বারা দোষী সাব্যস্ত ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হচ্ছিল, সকলেই যন্ত্রণাক্লিষ্ট অবস্থায় ঈশ্বরকে ডাকছিল। আর তাই, ঈশ্বর ব্যক্তিগতভাবে প্রভু যীশু হিসাবে দেহধারণ করলেন এবং মুক্তির কাজ সম্পাদন করলেন, অনুগ্রহের যুগের সূচনা করলেন এবং বিধানের যুগের পরিসমাপ্তি ঘটালেন। আসুন সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের আরও কিছু বাক্য পাঠ করা যাক। “অনুগ্রহের যুগ চলাকালীন, যীশু সমস্ত পতিত মানবজাতিকে (শুধুমাত্র ইস্রায়েলীদের নয়) মুক্তি দিতে এসেছিলেন। তিনি মানুষের প্রতি করুণা এবং প্রেমময় উদারতা প্রদর্শন করেছিলেন। যে যীশুকে মানুষ অনুগ্রহের যুগে দেখেছিল, তিনি ছিলেন প্রেমময় উদারতায় পূর্ণ, এবং সবসময় তিনি মানুষের প্রতি ভালোবাসাপূর্ণ ছিলেন, কারণ তিনি মানবজাতিকে পাপ থেকে উদ্ধার করতে এসেছিলেন। ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি মানবজাতিকে তাদের পাপের জন্য ক্ষমা করতে সক্ষম ছিলেন যতক্ষণ না তাঁর ক্রুশবিদ্ধকরণ মানবজাতিকে সম্পূর্ণরূপে পাপ থেকে মুক্ত করতে পেরেছিল। এই সময়ে ঈশ্বর মানুষের সামনে করুণা এবং প্রেমময় উদারতা নিয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন; অর্থাৎ তিনি মানুষের জন্য পাপস্খালনের বলি হয়েছিলেন এবং মানুষের পাপের জন্য ক্রুশবিদ্ধ হয়েছিলেন, যাতে তারা চিরতরে ক্ষমা পায়(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, দু’টি অবতার অবতাররূপের তাৎপর্য সম্পূর্ণ করে)। “যীশুর মুক্তি ব্যতীত মানবজাতি চিরকালের জন্য পাপের মধ্যেই থেকে যেত, এবং পরিণত হত পাপের বংশধর, অপদেবতাদের উত্তরসূরিতে। এইভাবে চললে, সমগ্র বিশ্ব শয়তানের আবাসে, তার বাসভূমিতে পরিণত হত। মুক্তির কাজে মানবজাতির প্রতি করুণা ও প্রেমময় উদারতার প্রয়োজন ছিল; শুধুমাত্র এইভাবেই মানবজাতি ক্ষমা পেতে পারতো এবং পরিশেষে ঈশ্বরের দ্বারা সম্পূর্ণ হওয়ার ও সম্যকভাবে অর্জিত হওয়ার অধিকার লাভ করতে পারতো। কাজের এই পর্যায় ব্যতীত, ছয় হাজার বছরের পরিচালনামূলক পরিকল্পনা এগোতে পারত না। যদি যীশু ক্রুশবিদ্ধ না হতেন, যদি তিনি কেবলমাত্র অসুস্থদের নিরাময় করতেন বা অপদেবতা বিতাড়ন করতেন, তাহলে মানুষ তাদের পাপের সম্পূর্ণ ক্ষমা পেত না। যীশু এই পৃথিবীতে সাড়ে তিন বছরের কার্য নির্বাহকালে কেবলমাত্র মুক্তির কাজের অর্ধেক সম্পন্ন করেছিলেন; তারপরে, ক্রুশবিদ্ধ হয়ে, পাপী শরীরের সমতুল্য হয়ে, দুষ্টের হাতে সমর্পিত হয়ে তিনি ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার কাজ সম্পূর্ণ করেন এবং মানুষের নিয়তির প্রভু হয়ে ওঠেন। শয়তানের হাতে তাঁকে তুলে দেওয়ার পরেই তিনি মানবজাতিকে মুক্ত করেছিলেন। সাড়ে তেত্রিশ বছর ধরে তিনি পৃথিবীতে কষ্ট সহ্য করেছিলেন, উপহাসের পাত্র হয়েছিলেন, তাঁকে অপবাদ দেওয়া হয়েছিল, ত্যাগ করা হয়েছিল, এমনকি তাঁর মাথা গোঁজার কোনো জায়গা ছিল না, বিশ্রামের জায়গা ছিল না, এবং পরবর্তীকালে তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছিল। তাঁর সমগ্র সত্তার সাথে সাথে তাঁর পবিত্র ও নিষ্পাপ শরীর ক্রুশবিদ্ধ হয়েছিল। তিনি সব ধরনের কষ্ট সহ্য করেছিলেন। ক্ষমতাসীন লোকেরা তাঁকে উপহাস করেছিল, চাবুক মেরেছিল, এবং এমনকি সৈন্যরা তাঁর মুখে থুতুও ফেলেছিল; তবুও তিনি ছিলেন নীরব এবং শেষ পর্যন্ত সহ্য করে গেছিলেন, মৃত্যুবরণ করা পর্যন্ত নিঃশর্তভাবে মেনে নিয়েছিলেন, যার ফলে তিনি সমস্ত মানবজাতিকে মুক্তি দিয়েছিলেন। কেবলমাত্র তার পরেই তাঁকে বিশ্রামের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। যীশু যে কাজ করেছিলেন তা কেবলমাত্র অনুগ্রহের যুগের প্রতিনিধিত্ব করে; তা বিধানের যুগের প্রতিনিধিত্ব করে না, অথবা তা অন্তিম সময়ের কাজের বিকল্পও নয়। এটিই হল অনুগ্রহের যুগে, অর্থাৎ মানবজাতি যে দ্বিতীয় যুগটি অতিক্রম করেছে, সেই মুক্তির যুগে যীশুর কাজের সারসত্য(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, মুক্তির যুগের কাজের নেপথ্যে থাকা সত্য ঘটনা)। যীশু যখন আমাদের মাঝে বাস করতেন, তখন তিনি প্রচার করেছিলেন “অনুতাপ কর: কারণ স্বর্গরাজ্য সমাগত(মথি ৪:১৭)। তিনি মানুষকে শিখিয়েছিলেন দোষ স্বীকার করতে ও অনুতাপ করতে, নিজের মতো করে অন্যদের ভালোবাসতে, সত্তরগুণ সাতবার অন্যদের ক্ষমা করতে, আমাদের হৃদয়, আত্মা, ও মন দিয়ে ঈশ্বরকে ভালোবাসতে, আত্মায় ও সত্যে ঈশ্বরের উপাসনা করতে, ইত্যাদি। যীশুর বাক্য মানুষকে দেখিয়েছিল ঈশ্বরের ইচ্ছা কী, এবং তাদের বিশ্বাসে তাদের একটা স্বতন্ত্র লক্ষ্য ও দিকনির্দেশ দিয়েছিল। তা ছিল বিধান ও নিয়মের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে একটা পদক্ষেপ। তিনি অনেক অলৌকিক চিহ্ন ও নিদর্শনও দেখিয়েছিলেন, অসুস্থের নিরাময়, অপদেবতাদের বিতারণ, এবং পাপের ক্ষমা। তিনি ছিলেন সহিষ্ণুতা ও ধৈর্য্যে পরিপূর্ণ। সকলেই ঈশ্বরের ভালোবাসা ও করুণা অনুভব করতে পেরেছিল, তাঁর মাধুর্য প্রত্যক্ষ করেছিল, এবং ঈশ্বরের ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। পরিশেষে, প্রভু যীশুকে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়, তিনি চিরন্তন পাপস্খলনের বলি হিসাবে কাজ করেন, আমাদের পাপ চিরকালের জন্য ক্ষমা করে দেন। এরপর, মানুষকে তাদের পাপের ক্ষমা পাওয়ার জন্য শুধু প্রভুর কাছে পাপ স্বীকার ও অনুতাপ করতে হতো, তাহলেই তারা বিধান অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত বা দণ্ডিত হতো না। তারা প্রার্থনার জন্য ঈশ্বরের সামনে আসতে পারতো, এবং শান্তি, আনন্দ, ও প্রভুর প্রদত্ত সমৃদ্ধ আশীর্বাদ উপভোগ করতে পারতো। স্পষ্টতই, যীশুর মুক্তির কাজ মানবজাতির জন্য এক বিরাট আশীর্বাদ ছিল, যা আমাদের আজকের দিন পর্যন্ত অস্তিত্বরক্ষা করতে ও উন্নতিলাভ করতে দিয়েছে।

তাহলে, যেহেতু প্রভু যীশু তাঁর কাজ সম্পূর্ণ করেছেন এবং শয়তানের কবল থেকে আমাদের মুক্ত করেছেন, তার মানে কি এই যে ঈশ্বরের পরিত্রাণের কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গেছে? তার মানে কি এই যে আমাদের আর ঈশ্বরের পরিত্রাণের কাজের প্রয়োজন নেই? উত্তর হল: না। ঈশ্বরের কাজ শেষ হয়ে যায়নি। ঈশ্বরের পরিত্রাণের কাজের আর একটা পর্যায় এখনও মানবজাতির প্রয়োজন। মানুষ প্রভু যীশুর দ্বারা মুক্তিলাভ করেছিল, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু আমাদের পাপপূর্ণ প্রকৃতির সমাধান হয়নি। আমরা আমাদের পাপপূর্ণ প্রকৃতির দ্বারাই চালিত, সর্বদাই ভ্রষ্টতার মধ্যে বাস করছি। সর্বক্ষণ মিথ্যাচার ও পাপ না করে আমরা পারি না। আমরা প্রভুর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করি ও তাঁকে প্রতিরোধ করি, এবং তাঁর বাক্যকে বাস্তবে অনুশীলন করতে পারি না। পাপ করা, স্বীকার করা, এবং আবার পাপ করা, এই চক্রে আমরা জীবনযাপন করি, পাপের বিরুদ্ধে এক যন্ত্রণাদায়ক সংগ্রামের মাঝে। পাপের বন্ধন ও সংকীর্ণতা থেকে কেউ অব্যাহতি পেতে পারে না। সুতরাং যারা পাপ থেকে অব্যাহতি পেতে অক্ষম, তারা কি সত্যিই বিচার ও পরিশোধন ছাড়া রাজ্যে উন্নীত হতে পারে? অবশ্যই না। ঈশ্বর এক পবিত্র ঈশ্বর। “পবিত্রতা ছাড়া কোন মানুষ প্রভুকে দেখতে পাবে না” (হিব্রু ১২:১৪)। যারা এখনও পাপ করতে পারে এবং তাঁকে প্রতিরোধ করতে পারে তাদের ঈশ্বর কখনোই তাঁর রাজ্যে প্রবেশ করতে দেবেন না। এই কারণেই প্রভু ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে তাঁর মুক্তির কাজ শেষ করার পর তিনি আবার আসবেন। প্রভু যীশুর প্রত্যাবর্তন মানুষের পাপপূর্ণ প্রকৃতির সম্পূর্ণ সমাধান করার জন্য, আমাদের পাপ থেকে উদ্ধার করার জন্য, যাতে আমরা পবিত্র হয়ে উঠতে পারি ও ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করতে পারি। ঠিক যেমন প্রভু যীশু বলেছেন, “আমার এখনও অনেককিছুই তোমাদের বলার আছে, কিন্তু এখন তোমরা সেগুলো বহন করতে পারবে না। সেই সত্যের আত্মা যখন আসবেন তিনি তোমাদের সকল সত্যের পথে পরিচালিত করবেন(যোহন ১৬:১২-১৩)। “তোমার বাক্যই সত্যস্বরূপ, সেই সত্যের দ্বারা তুমি তাদের শুচিশুদ্ধ কর(যোহন ১৭:১৭)। প্রকাশিত বাক্যেও ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে: “তিনি উচ্চকণ্ঠে ঘোষণা করলেন, ‘ঈশ্বরকে ভয় করো, তাঁকে মহিমা প্রদান করো, কারণ তাঁর বিচারের লগ্ন সমুপস্থিত’(প্রকাশিত বাক্য ১৪:৭)। আমরা দেখতে পাচ্ছি যে প্রভু যীশু যখন ফিরে আসবেন তখন সত্য প্রকাশ করবেন ও বিচারের কাজ করবেন, সকল সত্যে প্রবেশ করতে মানুষকে পরিচালিত করবেন। এটাই পাপ এবং শয়তানের শক্তির কাছ থেকে মানুষকে সম্পূর্ণভাবে উদ্ধার করা, আমাদের পরিচালিত ক’রে ঈশ্বরের রাজ্যে নিয়ে আসা। কাজের এই পর্যায় ঈশ্বর বহু আগে পরিকল্পনা করে রেখেছেন, এবং এটাই ঈশ্বরের পরিচালনামূলক পরিকল্পনার চূড়ান্ত ধাপ। সত্যের এই দিকটা আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কিছু বাক্য পড়া যাক।

সর্বশক্তিমান ঈশ্বর বলেছেন, “যদিও যীশু মানুষের মধ্যে অনেক কাজ করেছিলেন, কিন্তু তিনি শুধুমাত্র সমস্ত মানবজাতির মুক্তি সম্পূর্ণ করেছিলেন এবং মানুষের পাপস্খালনের বলি হয়েছিলেন; তিনি মানুষকে তার সমস্ত ভ্রষ্ট স্বভাব থেকে মুক্তি দেননি। শয়তানের প্রভাব থেকে মানুষকে পুরোপুরি মুক্ত করার জন্য শুধু যীশুর পাপস্খালনের বলি হওয়া আর মানুষের পাপ বহন করার প্রয়োজন ছিল তাই নয়, বরং মানবজাতিকে সম্পূর্ণরূপে তার শয়তানোচিত ভ্রষ্ট স্বভাব থেকে উদ্ধার করার জন্য ঈশ্বরের আরো মহত্তর কর্মের প্রয়োজন ছিল। এবং তাই, এখন যখন মানুষ তার পাপের ক্ষমা পেয়েছে, ঈশ্বর মানুষকে নতুন যুগে নিয়ে যাওয়ার জন্য দেহরূপে ফিরে এসেছেন এবং শাস্তি ও বিচারের কাজ শুরু করেছেন। এই কাজ মানুষকে এক উচ্চতর জগতে নিয়ে এসেছে। যারা তাঁর রাজত্বের অধীনে আত্মসমর্পণ করে তারা উচ্চতর সত্য উপভোগ করবে এবং বৃহত্তর আশীর্বাদ লাভ করবে। তারা প্রকৃতপক্ষেই আলোতে বাস করবে, এবং তারা সত্য, পথ ও জীবন লাভ করবে(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, ভূমিকা)

পাপ-উৎসর্গের মধ্যে দিয়ে মানুষ তার পাপের ক্ষমা পেয়েছে, কারণ ক্রুশবিদ্ধকরণের কার্য ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে, এবং ঈশ্বর শয়তানের উপর জয়লাভ করেছেন। কিন্তু মানুষের ভ্রষ্ট স্বভাব এখনো তার মধ্যে রয়ে গেছে, মানুষ এখনও পাপ করতে পারে ও ঈশ্বরকে প্রতিরোধ করতে পারে, এবং ঈশ্বর মানবজাতিকে অর্জন করেন নি। এই কারণে কার্যের এই পর্যায়ে ঈশ্বর বাক্যের দ্বারা মানুষের ভ্রষ্ট স্বভাব উন্মোচন করেন, যাতে সে সঠিক পথের সাথে সঙ্গতভাবে অনুশীলন করে। এই পর্যায়টি আগের পর্যায়ের চেয়ে বেশি অর্থবহ এবং ফলপ্রসূ, কারণ এখন এই বাক্যই মানুষকে প্রত্যক্ষভাবে তার জীবনীশক্তি সরবরাহ করে, এবং তার স্বভাবকে সম্পূর্ণ নবীকরণে সক্ষম করে; এটি কাজের অনেক বেশি পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যায়। অতএব, অন্তিম সময়ের অবতার ঈশ্বরের অবতার রূপগ্রহনের তাৎপর্য পূরণ করেছে, এবং মানুষের পরিত্রাণের জন্য ঈশ্বরের পরিচালনামূলক পরিকল্পনাকে সম্পন্ন করেছে(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, অবতাররূপের রহস্য (৪))

অন্তিম সময়ের খ্রীষ্ট মানুষকে শেখানোর জন্য, মানুষের উপাদান প্রকাশ করার জন্য এবং মানুষের কথা ও কাজের বিশ্লেষণ করার জন্য বিভিন্ন সত্য ব্যবহার করেন। এই বাক্যে বিভিন্ন সত্য অন্তর্ভুক্ত থাকে, যেমন মানুষের কর্তব্য, কীভাবে মানুষের ঈশ্বরকে মান্য করা উচিত, কীভাবে মানুষের ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ত থাকা উচিত, কীভাবে মানুষের স্বাভাবিক মানবতাসম্পন্ন জীবনযাপন করা উচিত, সেইসাথে থাকে ঈশ্বরের প্রজ্ঞা এবং স্বভাব ইত্যাদি বিষয়সমূহ। এই সমস্ত বাক্য মানুষের উপাদান এবং তার ভ্রষ্ট স্বভাবের দিকেই ইঙ্গিত করে। বিশেষ করে, সেই সমস্ত বাক্য, যা অনাবৃত করে মানুষ কীভাবে ঈশ্বরকে প্রত্যাখ্যান করেছে, তা আসলে এ সম্পর্কে কথা বলে যে কীভাবে মানুষ শয়তানের মূর্ত প্রতীক হয়ে উঠেছে এবং ঈশ্বরের বিরুদ্ধে শত্রু শক্তিতে পরিণত হয়েছে। তাঁর বিচারকার্যের সময়, ঈশ্বর কেবলমাত্র কয়েকটি বাক্যের মাধ্যমে মানুষের প্রকৃতি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন না; তিনি দীর্ঘমেয়াদে তা অনাবৃত করেন, মোকাবিলা করেন এবং তাদের অপ্রয়োজনীয় অংশের কর্তন করেন। অনাবৃতকরণ, মোকাবিলা এবং অপ্রয়োজনীয় অংশের কর্তনের এই সমস্ত ভিন্ন পদ্ধতি সাধারণ শব্দ দ্বারা প্রতিস্থাপিত করা যায় না, সেই সত্যের দ্বারাই প্রতিস্থাপিত করা যায় যার সম্পর্কে মানুষ একেবারেই অসচেতন। শুধুমাত্র এই ধরনের পদ্ধতিকেই বিচার বলা যেতে পারে; শুধুমাত্র এই ধরনের বিচারের মাধ্যমেই মানুষ ঈশ্বরের প্রতি অনুগত হতে পারে, তাঁর সম্বন্ধে দৃঢ়ভাবে নিশ্চিত হতে পারে, এবং ঈশ্বর সম্পর্কে প্রকৃত জ্ঞান লাভ করতে পারে। এই বিচারের কাজই প্রতিফলিত করে ঈশ্বরের আসল চেহারা সম্পর্কে মানুষের উপলব্ধি, এবং তার নিজের বিদ্রোহের সত্য। বিচারের কাজ মানুষকে ঈশ্বরের ইচ্ছা, তাঁর কাজের উদ্দেশ্য এবং দুর্বোধ্য রহস্য সম্পর্কে অনেক বেশি করে বোঝার সুযোগ দেয়। এটি মানুষকে নিজের ভ্রষ্ট সারসত্য এবং সেই ভ্রষ্টাচরণের মূল চিনতে ও জানতে শেখায়, এবং সেইসাথে মানুষের কদর্যতা আবিষ্কার করতে শেখায়। এই সমস্ত প্রভাব বিচারের কাজের মাধ্যমে প্রতিভাত হয়, কারণ এই কাজের সারমর্ম হল ঈশ্বরের সত্য, পথ এবং জীবনকে তাঁর অনুগামীদের কাছে উন্মুক্ত করার কাজ। এই কাজ ঈশ্বরের বিচারের কাজ(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, খ্রীষ্ট সত্যের দ্বারাই বিচারের কাজ করেন)

এই পাঠ আমাদের দেখতে সাহায্য করে যে ঈশ্বর কেন অন্তিম সময়ে বিচারের কাজ করছেন। প্রভু যীশুর মুক্তির কাজ শুধু আমাদের পাপ ক্ষমা করেছিল, কিন্তু আমাদের পাপপূর্ণ প্রকৃতি এখনও গভীরভাবে বদ্ধমূল। আমাদের প্রয়োজন ঈশ্বরের কাছ থেকে আরও সত্যের কথন, এবং মানবজাতিকে পরিশুদ্ধ ও উদ্ধার করার জন্য বিচারকার্যের পর্যায় সম্পাদন। অর্থাৎ, প্রভু যীশুর মুক্তির কাজ শুধুই ঈশ্বরের অন্তিম সময়ের বিচারের কাজের পথ প্রশস্ত করেছিল, যেটা ঈশ্বরের পরিত্রাণের কাজের সবচেয়ে প্রধান, সবচেয়ে কেন্দ্রীয় অংশ। সম্পূর্ণ পরিত্রাণলাভ এবং রাজ্যে প্রবেশের জন্য এটাই আমাদের একমাত্র পথও। কাজের এই পর্যায় যখন সম্পন্ন হবে, তখন মানুষের ভ্রষ্ট স্বভাব পরিশুদ্ধ হবে, এবং আমরা পাপ করা ও ঈশ্বরের প্রতিরোধ করা বন্ধ করবো। আমরা প্রকৃতই ঈশ্বরের কাছে সমর্পণ করতে ও তাঁকে ভালবাসতে সক্ষম হব, এবং ঈশ্বরের মানবজাতিকে উদ্ধারের কাজ সম্পূর্ণরূপে সম্পন্ন হবে। সেটাই হবে ঈশ্বরের ৬,০০০ বছরের পরিচালনামূলক পরিকল্পনার সম্পূর্ণতাপ্রাপ্তি। সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আবির্ভূত হয়েছেন এবং অন্তিম সময়ে কাজ শুরু করেছেন, অনুগ্রহের যুগের অবসান ঘটিয়ে রাজ্যের যুগের সূচনা করছেন। মানবজাতিকে পরিশুদ্ধ করার ও সম্পূর্ণরূপে উদ্ধার করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল সত্য তিনি প্রকাশ করেছেন, তিনি শুধু যে ঈশ্বরের পরিচালনামূলক পরিকল্পনার সমস্ত রহস্য উন্মোচন করছেন তা-ই নয়, বরং মানুষের যে শয়তানোচিত প্রকৃতি ও স্বভাব ঈশ্বরের বিরোধী তার সবগুলোকেই বিচার ও অনাবৃত করেন, এবং ঈশ্বর সম্পর্কে আমাদের সমস্ত পূর্বধারণা ও আমাদের বিশ্বাসে যে ভুল ধারণা রয়েছে সেগুলো প্রকাশিত করেন। এছাড়াও তিনি আমাদের দিয়েছেন পাপ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার ও সম্পূর্ণরূপে পরিত্রাণ লাভের পথ এবং আরও অনেক কিছু। সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের বাক্য অমূল্য! সেগুলো সবই সত্যের বাস্তবিকতা, যা পরিশুদ্ধ হওয়া এবং সম্পূর্ণরূপে উদ্ধার লাভ করার জন্য মানুষকে অবশ্যই অধিকার করতে হবে, এবং সেগুলো এমন বাক্য যা ঈশ্বর বিধানের যুগে বা অনুগ্রহের যুগে কখনো উচ্চারণ করেননি। এটা অন্তিম সময়ে আমাদের জন্য ঈশ্বরের নিয়ে আসা অনন্ত জীবনের পথ। ঈশ্বরের মনোনীত ব্যক্তিদের অনেকেই, যারা তাঁর বিচারের মধ্যে দিয়ে গেছে, তারা নিজেদের ভ্রষ্টতার ও শয়তানোচিত প্রকৃতির সত্য দেখতে পেয়েছে যা ঈশ্বরের প্রতিরোধ করে, ঈশ্বরের ধার্মিক, অপ্রতিরোধ্য স্বভাব সম্পর্কে প্রকৃত উপলব্ধি অর্জন করেছে, এবং ঈশ্বরের প্রতি তাদের সম্মান বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা শেষ পর্যন্ত পাপের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হয়েছে এবং সত্যিকারের মানব সদৃশ জীবন যাপন করছে। তাদের সকলেরই পাপ থেকে মুক্ত হওয়ার এবং শয়তানের উপর জয়লাভ করার অবিশ্বাস্য সাক্ষ্য রয়েছে। ঈশ্বরের মনোনীত ব্যক্তিরা সকলেই জানে, ঈশ্বরের অন্তিম সময়ের বিচারের কাজ প্রকৃতই মানবজাতির জন্য তাঁর চূড়ান্ত পরিত্রাণ! এই বিচারকার্য ছাড়া, আমরা কখনোই আমাদের নিজেদের ভ্রষ্টতার সত্য দেখতে পাবো না, কখনোই নিজেদের পাপের মূল জানতে পারবো না, এবং কখনোই আমাদের ভ্রষ্ট স্বভাব পরিশুদ্ধ করতে ও বদলাতে পারবো না। সর্বশক্তিমান ঈশ্বর ইতিমধ্যেই বিপর্যয়ের পূর্বে জয়ীদের একটা দল প্রস্তুত করে ফেলেছেন এবং তাঁর রাজ্যের সুসমাচার সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাপ্রবাহ থেকে দেখা যাচ্ছে যে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর শয়তানকে সম্পূর্ণরূপে পরাজিত করেছেন ও সকল মহিমা অর্জন করেছেন, এবং তাঁর ৬,০০০ বছরের পরিচালনামূলক পরিকল্পনা সম্পূর্ণ হয়েছে। বিশাল বিপর্যয়গুলো আরম্ভ হয়েছে, যেসব মন্দকর্মকারী ঈশ্বরকে প্রতিরোধ করে তারা সকলেই দণ্ডিত হবে ও বিপর্যয়ে ধ্বংস হবে, এবং যারা বিচারের মধ্যে দিয়ে গিয়ে পরিশুদ্ধ হয়েছে তারা এই বিপর্যয়ে ঈশ্বরের দ্বারা সুরক্ষিত থাকবে। তারপর থাকবে এক নতুন আকাশ ও পৃথিবী—পৃথিবীতে মূর্ত হবে খ্রীষ্টের রাজ্য, ঈশ্বরের জনগণই অবশিষ্ট থাকবে, যারা ঈশ্বরের রাজ্যে চিরকালের জন্য বসবাস করবে এবং তাঁর আশীর্বাদ ও যা কিছুর প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছেন তা উপভোগ করবে। প্রকাশিত বাক্যের এই ভবিষ্যদ্বাণীগুলোকে এটা প্রকৃতরূপে পূরণ করে: “জগতের রাজা এখন আমাদের প্রভুর অধীন, তাঁর অভিষিক্তের পদানত। রাজত্ব করবেন তিনি যুগে যুগে, চিরকাল(প্রকাশিত বাক্য ১১:১৫)। “তখন আমি সিংহাসন থেকে উচ্চকণ্ঠে ঘোষিত এই বাণী শুনলাম: দেখ, ঈশ্বরের উপাসনালয় মানুষের মাঝে, তিনি তাদের সঙ্গে বাস করবেন, তারা হবে তাঁর প্রজা। ঈশ্বর স্বয়ং তাদের সঙ্গে থাকবেন, হবেন তাদের ঈশ্বর। তিনি মুছিয়ে দেবেন অশ্রুধারা। থাকবে না আর মৃত্যুর অস্তিত্ব। শোক, আর্তনাদ, আর থাকবে না। পুরাতন সব কিছুই হয়েছে বিলীন(প্রকাশিত বাক্য ২১:৩-৪)

এই পর্যায়ে আমরা দেখতে পাই ঈশ্বরের কাজের তিনটে ধাপ কত মূল্যবান ও ব্যবহারিক! এর প্রত্যেকটার উদ্দেশ্যই হল মানুষের পাপের সমস্যার সমাধান করা এবং একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণ করা। সেই লক্ষ্য হচ্ছে ধাপে ধাপে মানবজাতিকে শয়তানের শক্তি থেকে এবং পাপ থেকে উদ্ধার করা, যাতে আমরা ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করতে পারি এবং তাঁর প্রতিশ্রুতি ও আশীর্বাদ উপভোগ করতে পারি। কাজের প্রতিটা পর্যায় পরবর্তী পর্যায়ের সাথে যুক্ত, এবং প্রতিটা ধাপ তার আগের ধাপের ভিত্তির উপর নির্মিত, প্রতিটাই গত ধাপের চেয়ে গভীর ও উন্নত। তারা ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত, অবিচ্ছেদ্য, এবং অন্যগুলোকে ছাড়া কোনোটাই কাজ করবে না। তাহলে দেখুন, বিধানের যুগের কাজ না থাকলে, কেউ জানতে পারতো না পাপ কী, এবং আমরা সকলে শয়তানের দ্বারা পদদলিত হতাম, পাপের মধ্যে জীবনযাপন করতাম। শয়তানের কব্জায় চলে যেতাম, নিশ্চিহ্ন হতাম। অনুগ্রহের যুগের মুক্তির কাজ না থাকলে, মানবজাতি প্রচুর পাপ করার জন্য দণ্ড ভোগ করত, এবং আমরা আজকের দিন পর্যন্ত টিকে থাকতাম না। তাহলে, ঈশ্বর যদি অন্তিম সময়ের বিচারের কাজ না করতেন? সেটা না থাকলে, আমরা কখনোই পাপের বন্ধন থেকে অব্যাহতি পেতাম না, বা স্বর্গ-রাজ্যে প্রবেশের যোগ্য হতাম না। গভীরভাবে পাপপূর্ণ হওয়ার ফলে পরিশেষে আমরা ধ্বংস হতাম। স্পষ্টতই, কাজের এই তিনটে ধাপের মধ্যে মাত্র কোনো একটা না থাকলেই মানবজাতি শয়তানের অধিকারে চলে যেত এবং কখনো সম্পূর্ণভাবে উদ্ধারলাভ করতো না। মানুষকে ঈশ্বরের পরিত্রাণ প্রদানের জন্য ঈশ্বরের যে পরিচালনামূলক পরিকল্পনা, তা কাজের এই তিনটে পর্যায় নিয়েই গঠিত। প্রতিটা পর্যায় তার আগেরটার চেয়ে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ, এবং এগুলো সবই মানবজাতিকে উদ্ধার করার জন্য ঈশ্বরের নির্ভুল আয়োজন। এ থেকে আমরা সম্পূর্ণরূপে দেখতে পাই মানবজাতির জন্য ঈশ্বরের সুবিশাল ভালবাসা ও পরিত্রাণ, এবং তাঁর প্রজ্ঞা ও সর্বশক্তিমানতা। ঠিক যেমন সর্বশক্তিমান ঈশ্বর বলেন, “আমার সমগ্র পরিচালনামূলক পরিকল্পনা, ছয় হাজার বছর ব্যাপী পরিচালনামূলক পরিকল্পনায় রয়েছে তিনটি পর্যায় বা তিনটি যুগ: সূচনাকালের বিধানের যুগ; অনুগ্রহের যুগ (যেটি মুক্তির যুগও বটে); এবং অন্তিম সময়ের রাজ্যের যুগ। এই তিনটি যুগে আমার কাজ প্রতিটি যুগের প্রকৃতি অনুসারে বিষয়বস্তুর দিক থেকে ভিন্ন, তবে প্রতিটি পর্যায়ে এই কাজ মানুষের প্রয়োজনের সাথে সঙ্গত—অথবা আরও পরিষ্কার করে বললে, শয়তানের বিরুদ্ধে আমার যুদ্ধে শয়তান যেসব কৌশল অবলম্বন করে, সেই অনুসারেই আমি আমার কাজ করে থাকি। আমার কাজের উদ্দেশ্য হল শয়তানকে পরাজিত করা, আমার প্রজ্ঞা ও সর্বশক্তিমানতার প্রকাশ করা, শয়তানের সমস্ত কৌশলের উদ্ঘাটন করা এবং এর মাধ্যমে শয়তানের আধিপত্যের অধীনে বসবাসকারী সমগ্র মানবজাতিকে উদ্ধার করা। এর উদ্দেশ্য আমার প্রজ্ঞা ও সর্বশক্তিমানতার প্রদর্শন, এবং শয়তানের অসহনীয় পাশবিকতার প্রকাশ ঘটানো; তার চেয়েও বেশি করে, এর উদ্দেশ্য, সৃষ্ট প্রাণীদের ভালো-মন্দের ভেদাভেদ শেখানো, তাদের জানানো যে আমিই সমস্তকিছুর শাসক, তাদের স্পষ্ট করে দেখানো যে শয়তানই হলো মানবজাতির শত্রু এবং অধঃপতিত ও মন্দ; এবং পরম নিশ্চয়তার সাথে তাদের বুঝতে শেখানো ভালো-মন্দের, সত্য-মিথ্যার, পবিত্রতা-মালিন্যের পার্থক্য, আর বুঝতে শেখানো কোনটা মহৎ ও কোনটা নীচ। এইভাবে অজ্ঞ মানবজাতি আমার কাছে সাক্ষ্য দিতে সক্ষম হবে যে মানবজাতিকে যে ভ্রষ্ট করে সে আমি নই, একমাত্র আমিই সৃষ্টিকর্তা মানবজাতিকে রক্ষা করতে পারি, মানুষকে তাদের উপভোগের জিনিস প্রদান করতে পারি; এবং তারা জানতে পারবে যে আমিই সমস্ত কিছুর শাসক, এবং শয়তান নিছক আমার সৃষ্ট সত্তার মধ্যে একজন, যে পরবর্তীকালে আমার বিরুদ্ধাচরণ করেছে। আমার ছয় হাজার বছরের পরিচালনামূলক পরিকল্পনা তিনটি পর্যায়ে বিভক্ত, এবং এই ফলাফল অর্জনের মতো করে আমি কাজ করি যাতে সকল সৃষ্ট সত্তা আমার সাক্ষ্য দিতে পারে, আমার ইচ্ছা উপলব্ধি করতে পারে এবং জানতে পারে যে আমিই সত্য(বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, মুক্তির যুগের কাজের নেপথ্যে থাকা সত্য ঘটনা)

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।

সম্পর্কিত তথ্য

“উন্নীত হওয়া” মানে আসলে কী?

২,০০০ বছর আগে, প্রভু যীশু ক্রুশবিদ্ধ হয়ে তাঁর মুক্তির কাজ সম্পন্ন করার পর, তিনি প্রত্যাবর্তন করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তখন থেকে,...

সর্বশক্তিমান ঈশ্বরে আস্থা রাখা কি প্রভু যীশুর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা?

অন্তিম সময়ের খ্রীষ্ট, সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের আবির্ভাবের পর ত্রিশ বছর কেটে গেছে এবং ১৯৯১ সালে কাজ ও সত্যের প্রকাশ শুরু করেছিলেন। তিনি প্রকাশ...

পরিত্রাতা কীভাবে মানবজাতিকে রক্ষা করেন, যখন তিনি আসেন?

পরিত্রাতার বিষয়ে কথা বলতে গেলে সমস্ত বিশ্বাসীরাই এটা মানবেন যে অন্তিম সময়ে মানবজাতিকে রক্ষা করতে তাঁর আগমন নিশ্চিত। অনেক নবীই বলে গেছেন যে...

Leave a Reply

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন