অন্তিম সময়ের প্রতীক: 2022 সালে দেখা দেবে ফ্লাওয়ার ব্লাড মুন চন্দ্রগ্রহণ

04-05-2022

সম্পাদকের নোট: সাম্প্রতিক কয়েক বছরে “রক্তাভ চাঁদ” এর মত মহাজাগতিক ঘটনা বারংবার দেখা গেছে। অতিমারী, ভূমিকম্প এবং দুর্ভিক্ষের মত বিভিন্ন ধরনের বিপর্যয় আরো বেশি খারাপ রূপ ধারণ করছে। অন্তিম সময়ের বিষয়ে বাইবেলের ভবিষ্যদ্বাণী ইতিমধ্যেই সত্য হয়েছে, এবং যিহোভার গুরুতর এবং ভয়ানক দিন আগতপ্রায়। আমাদের উপর এখন গুরুতর বিপর্যয় এসে গেছে, তাহলে আমাদের কীভাবে প্রভুর পুনরাবির্ভাবকে স্বাগত জানানো উচিত? এই নিবন্ধে তার উত্তর আছে।

প্রাসঙ্গিক বিশেষজ্ঞদের গণনা অনুযায়ী, 2022 সালের 16 মে, আকাশে রক্তাভ চাঁদের চন্দ্রগ্রহণ বা ফ্লাওয়ার ব্লাড মুন লুনার এক্লিপ্স দেখা যাবে। বাস্তবিক তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছর ধরেই ব্লাড মুন, সুপারমুন এবং সুপার ব্লাড মুন-এর মত বিস্ময়কর দৃশ্য ক্রমাগতই দেখা যাচ্ছে, উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, 2011 ও 2013 সালের ব্লাড মুন, 2014 এবং 2015 সালের মধ্যে চারবার দেখা দেওয়া ব্লাড মুন, 2018 সালের সুপার ব্লু ব্লাড মুন, যা 152 বছর আগে শেষ দেখা গিয়েছিল এবং 21 জানুয়ারি 2019-এ দেখা যাওয়া সুপার ব্লাড উলফ মুন যা জ্যোতির্বিদ্যার তিনটি দৃশ্যকে সম্পূর্ণরূপে সংযুক্ত করেছে, একটি সুপারমুন, একটি ব্লাড মুন এবং একটি উলফ মুন, এবং তা জ্যোতির্বিদ্যার এক উজ্জ্বল বিস্ময় হিসাবে সসম্মানে গৃহীত হয়েছে। তাছাড়াও, 2021 সালের 26 মে এক বিরল দৃশ্য দেখা যায়—পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় সুপার ব্লাড মুন দৃশ্যমান হয়।

অনেক ভবিষ্যতবক্তাই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে রক্তাভ চাঁদ দৃশ্যমান হওয়ার অর্থ হল অসাধারণ এবং মহান ঘটনা ঘটতে চলেছে। অনেক বাইবেল বিশেষজ্ঞই নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করেন যে রক্তাভ চাঁদ দেখা যাওয়ার অর্থই হল যোয়েল-এর গ্রন্থের 2:29–31-এ উল্লিখিত ভবিষ্যদ্বাণী সত্য হওয়া: “সেদিন আমি দাসদাসীদের উপরেও আমার আত্মা বর্ষণ করব। এবং আমি আকাশে নানা অলৌকিক নিদর্শন দেখাব এবং পৃথিবীতে দেখাব ধোঁয়ার কুণ্ডলী, আগুন আর রক্তপাত। যিহোবার মহাভয়ঙ্কর দিনের আবির্ভাবের আগে সূর্য অন্ধকার হয়ে যাবে, চন্দ্র হয়ে যাবে রক্তিম।” এছাড়াও, প্রকাশিত বাক্য 6:12-এ বলা হয়েছেঃ “এর পরে আমি দেখলাম, তিনি যখন ষষ্ঠ সীলমোহর খুললেন তখন মহাভূমিকম্প হল। সূর্য কালো কম্বলের মত এবং পূর্ণচন্দ্র রক্তের মত হয়ে গেল।” জোয়েল-এর গ্রন্থের ভবিষ্যদ্বাণীতে যে “মহাভয়ঙ্কর দিন”-এর কথা বলা হয়েছে তা মহা দুর্যোগের কথাই বলে। আমরা সকলেই দেখছি বিগত কয়েক বছরে দুর্যোগের তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার ফলে ভূমিকম্প, দুর্ভিক্ষ, প্লেগ এবং বন্যার মত বিপর্যয় বারংবার দেখা দিচ্ছে, যা দেখা আমাদের পক্ষে অত্যন্ত আতঙ্কজনক; বিশ্বের পরিস্থিতি টালমাটাল হয়ে পড়েছে এবং তা ক্রমাগত পরিবর্তিত হচ্ছে, ঘনঘন যুদ্ধের দামামা বেজে উঠছে, হিংসাত্মক ঘটনা এবং সন্ত্রাসবাদী আক্রমণ ক্রমবর্ধমান; পৃথিবীর পরিবেশের উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, এবং চরম আবহাওয়া এবং সব ধরনের জ্যোতির্বিজ্ঞানমূলক বিস্ময় ঘটে চলেছে সর্বদা। বাইবেলের ভবিষ্যদ্বাণীতে অন্তিম দিনের যে সব প্রতীকের কথা বলা হয়েছে তা একের পর এক দেখা দিচ্ছে, এবং গুরুতর বিপর্যয় এসে গেছে। তাহলে, আমাদের কীভাবে প্রভুকে স্বাগত জানানো এবং তাঁর পরিত্রাণ লাভ করা উচিত? প্রভু যীশু বলেছেন, “আমার নিজের মেষপাল আমার ডাক শোনে, তাদের আমি চিনি এবং তারা আমাকে অনুসরণ করে” (যোহন 10:27)। “তোমাদের আরও অনেক কথা আমার বলার আছে কিন্তু এখন তোমাদের পক্ষে তা হৃদয়ঙ্গম করা কঠিন। সেই সত্যের আত্মা যখন আসবেন তিনিই তখন তোমাদের পূর্ণ সত্যের উপলব্ধি দান করবেন” (যোহন 16:12–13)। প্রকাশিত বাক্য-এর অধ্যায় 2 এবং 3-এর বিভিন্ন অংশে এই ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে। “শোনার মত কান যার আছে সে শুনুক, পবিত্র আত্মা সকল মণ্ডলীকে কি বলছেন।” এইসব ভবিষ্যদ্বাণী থেকে, আমরা দেখতে পাই যে মানুষের পরিশোধন এবং রক্ষা করার জন্য অন্তিম সময়ে ঈশ্বর বাক্য উচ্চারণ করবেন এবং এক নতুন পর্যায়ের কর্ম সম্পাদন করবেন, এবং মানুষকে ঈশ্বরের রাজ্যে নিয়ে আসবেন। কেবলমাত্র ঈশ্বরের কন্ঠস্বর শোনার জন্য উদগ্রীব হওয়া, এবং অন্তিম সময়ে ঈশ্বরের আবির্ভাব ও কর্মের প্রত্যাশা এবং অণ্বেষণের মাধ্যমেই আমরা প্রভু যীশুর প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানাতে পারি, ঈশ্বরের দ্বারা পরিশোধিত এবং রক্ষিত হতে পারি, এবং ঈশ্বরের সঙ্গে এক সুন্দর গন্তব্যে পৌঁছতে পারি। অন্যথায়, আমরা ঈশ্বরের পরিত্রাণ থেকে বঞ্চিত হবো, অন্তিম সময়ের প্রবল বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবো, এবং নির্মূল ও শাস্তিপ্রাপ্ত হবো। এই বিষয়ে ঈশ্বর যা বলেছেন তা হলঃ

একের পর এক সমস্ত রকমের বিপর্যয় ঘটবে; সমস্ত জাতি এবং স্থান বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে: মহামারী, দুর্ভিক্ষ, বন্যা, খরা এবং ভূমিকম্প সব জায়গায় হচ্ছে। এসব বিপর্যয় শুধু দু-এক জায়গায় ঘটছে না, দু-একদিনের মধ্যে শেষও হবে না; বরং, পরিবর্তে তারা একটি বৃহত্তর এলাকা জুড়ে প্রসারিত হবে এবং আরো আরো গুরুতর হবে। এই সময়ে, একের পর এক সমস্ত ধরণের কীটপতঙ্গজাত মহামারী দেখা দেবে এবং সর্বত্র স্বজাতিভক্ষণের ঘটনা ঘটবে। এটাই সকল দেশ ও জাতির প্রতি আমার বিচার।

‘বাক্য দেহে আবির্ভূত হল’ থেকে ‘সূচনা কালে খ্রিষ্টের বাক্য’ ‘অধ্যায় ৬৫’

এই বিশাল জগতে, মহা সমুদ্রগুলির পলি জমে মাটি তৈরি হচ্ছে, আর মাটি ভেসে গিয়ে মহাসমুদ্রে ডুবে যাচ্ছে, অবিরাম। সবকিছুর উপরে যার শাসন চলে সেই পরমাত্মা ছাড়া আর কেউ এই মানবজাতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে ও দিশা দেখাতে পারে না। এমন কোনো সর্বশক্তিমান নেই যে এই মানবজাতির জন্য কষ্ট করে তাকে প্রস্তুত করে তুলতে পারবে। এই মানবজাতিকে নেতৃত্ব দিয়ে আলোকের পথে নিয়ে যেতে পারবে এবং জাগতিক অন্যায় থেকে মুক্ত করতে পারবে এমন অন্য কেউ থাকার সম্ভাবনা তো আরও কম। ঈশ্বর মানবজাতির ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে শোকার্ত হন, তিনি মানব জাতির অধঃপতন নিয়ে দুঃখ পান আর এটা তার পক্ষে বেদনাদায়ক যে মানব জাতি ধাপে ধাপে এমন ধ্বংসের পথে এগিয়ে চলেছে যেখান থেকে আর ফিরে আসা যায় না। কেউ এই কথাটা কখনও ভেবে দেখে না যে এই মানবজাতি যে ঈশ্বরের মন ভেঙে দিয়ে তাকে পরিত্যাগ করে অশুভ আত্মার প্রতি আকৃষ্ট হয়েছে সে আসলে কোন দিকে এগিয়ে চলেছে। ঠিক এই কারণেই কেউই ঈশ্বরের আক্রোশকে অনুভব করতে পারছে না। এই কারণেই কেউ ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করার পথ জানতে আগ্রহী নয় বা তাঁর কাছে যাবার চেষ্টা করে না, আর সবচেয়ে বড় কথা হল, এই কারণেই কেউ ঈশ্বরের কষ্ট ও বেদনা অনুভব করতে পারে না। এমনকি ঈশ্বরের বাক্য শোনার পরও, মানুষ তার নিজের পথেই চলছে, ঈশ্বরকে এড়িয়ে চলতে চাইছে, ঈশ্বরের অনুগ্রহ ও পরিচর্যা এড়িয়ে যাচ্ছে আর তাঁর সত্যের থেকে দূরে সরে থাকছে, নিজেকে ঈশ্বরের শত্রু শয়তানের কাছে বিক্রি করে দিতে বেশী পছন্দ করছে। কেউ কি চিন্তা করেছে—যদি মানুষ তার একগুঁয়েমি বজায় রাখে—তাহলে তাঁকে খারিজ করে দেওয়া মানবজাতির প্রতি ঈশ্বর কেমন আচরণ করবেন? কেউ জানে না যে ঈশ্বর কেন বারবার মানুষকে মনে করিয়ে দেন এবং উপদেশ দেন। এর কারণ হল তিনি নিজের হাতে এমন এক বিপর্যয় প্রস্তুত করে রেখেছেন যেমনটা আগে কখনও হয়নি, এমন এক দুর্যোগ যা মানুষের দেহ ও আত্মার পক্ষে অসহনীয় হবে। এই বিপর্যয় কেবল দেহের জন্য নয়, আত্মার জন্যও শাস্তিস্বরূপ। তোমাকে জানতে হবে: ঈশ্বরের পরিকল্পনা ভেঙে গেলে, তাঁর মনে করানোর প্রচেষ্টা ও উপদেশ নিষ্ফল হলে, তাঁর ক্রোধের আগুন কীভাবে জ্বলে উঠবে? স্রষ্টার সৃষ্ট কোনো জীবের দর্শন বা শ্রবণ অভিজ্ঞতায় যা পূর্বে কখনো অনুভূত হয়নি। আর তাই বলছি, যে এই বিপর্যয় হবে এতটাই অভূতপূর্ব যে সেটার পুনরাবৃত্তি আর কখনও ঘটবে না। কেননা ঈশ্বরের পরিকল্পনা হল মানবজাতিকে কেবল একবারের জন্য সৃষ্টি করা আর তাদেরকে তিনি কেবল একবারই রক্ষা করবেন। এটাই প্রথম আর এটাই শেষ। তাই, ঈশ্বর এবার যে কতটা শ্রমসাধ্য অভিপ্রায় এবং ঐকান্তিক প্রত্যাশা সহকারে মানবজাতিকে রক্ষা করছেন সেটা কেউ অনুমান করতে পারছে না।

‘বাক্য দেহে আবির্ভূত হল’ থেকে ‘ঈশ্বর হলেন মানুষের জীবনের উৎস’

প্রবল জলোচ্ছ্বাসের মতই ঈশ্বরের কাজ এগিয়ে চলে। তাঁর যাত্রা কেউই থামাতে বা আটকাতে পারে না। যারা তাঁর বাক্য মনোযোগ দিয়ে শোনে এবং তাঁর অন্বেষণে তৃষ্ণার্ত একমাত্র তারাই তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করতে পারে এবং তাঁর করুণা পায়। যারা তা করবে না তারা অপ্রতিরোধ্য বিপর্যয় এবং উপযুক্ত শাস্তির শিকার হবে।

‘বাক্য দেহে আবির্ভূত হল’ থেকে ‘মানবজীবনের ভাগ্য-বিধাতা ঈশ্বর’

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।👇

সম্পর্কিত তথ্য

মথি 24:27: পূর্বের বজ্রালোকের রহস্য অবশেষে প্রকাশিত হয়েছে

লিখেছেন মিংবিয়ান সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, পূর্বের বজ্রালোক খোলাখুলিভাবে সাক্ষ্য দিচ্ছে যে অন্তিম দিনগুলিতে প্রভু যীশু সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের...

নোহের দিনগুলি আবির্ভূত হয়েছে: এটি কিসের পূর্বলক্ষণ?

আমরা যখন নোহের সময়ের মানবজাতির কথা বলি, সকলেই জানে যে, খুন, অগ্নিসংযোগ, ডাকাতি ও চুরি এবং উশৃঙ্খলতা তখনকার মানুষের স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য হয়ে...

মহামারী এসেছে: কীভাবে কোন খ্রিস্টান ঈশ্বরের সুরক্ষা পাওয়ার জন্য অনুতাপ করবে?

আজকাল পৃথিবী জুড়ে অভূতপূর্ব বিপর্যয় নেমে আসছে। ভূমিকম্প, অতিমারী, বন্যা, খরা, কীট-পতঙ্গের উপদ্রব ইত্যাদি খুবই ঘন ঘন হচ্ছে, এবং, বিশেষত...

প্রভু যীশুর প্রত্যাবর্তন সম্বন্ধে বাইবেলের ৬টি ভবিষ্যদ্বাণী পূর্ণ হয়েছে

জিঞ্জি করেছেন এখন ইতিমধ্যেই অন্তিম সময়ের সমাপ্তিকাল এবং ঘন ঘন বিভিন্ন দুর্যোগের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। বাইবেলের ভবিষ্যদ্বাণীতে উল্লিখিত অন্তিম...

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন