প্রথম পর্ব: ঈশ্বর প্রতিটি প্রকারের ভূখণ্ডের সীমানা নির্ধারণ করেন

আজ আমি যে বিষয়ে আলোচনা করতে চলেছি তা হল, ঈশ্বর যে বিধানসমূহ সকলকিছুর মধ্যে প্রবর্তন করেছেন, তা কীভাবে সমগ্র মানবজাতির প্রতিপালন করে। এটি বেশ বিস্তৃত এক বিষয়, তাই এটিকে আমরা কয়েকটি অংশে বিভক্ত করে একাদিক্রমে আলোচনা করতে পারি, যাতে সেগুলিকে তোমাদের কাছে প্রাঞ্জল ও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বর্ণনা করা যায়। এই পদ্ধতিতে, তোমাদের পক্ষে অনুধাবন করা আরো সহজসাধ্য হয়ে উঠবে, এবং তোমরা ক্রমশ বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারবে।

প্রথম পর্ব: ঈশ্বর প্রতিটি প্রকারের ভূখণ্ডের সীমানা নির্ধারণ করেন

তাহলে প্রথম অংশটি থেকে শুরু করা যাক। ঈশ্বর যখন সকলকিছু সৃষ্টি করেন, তিনি পর্বত, সমতল, মরুভূমি, পাহাড়, নদী ও হ্রদের সীমানা অঙ্কন করে দিয়েছিলেন। ভূপৃষ্ঠের উপর পর্বতমালা, সমতল, মরুভূমি ও পাহাড় যেমন আছে, তেমনি রয়েছে বিভিন্ন জলাধারসমূহও। এগুলি বিভিন্ন রকমের ভূমিরূপ গড়ে তোলে, তাই নয় কি? এগুলির মধ্যে ঈশ্বর সীমারেখা নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। সীমানির্দেশ বলতে বোঝায়, পর্বতরাজির রয়েছে নির্দিষ্ট সীমারেখা, সমতলভূমিগুলির নিজস্ব সীমানা আছে, মরুভূমিগুলির রয়েছে এক নির্দিষ্ট একটা চৌহদ্দি, আবার পাহাড়গুলিরও এক স্থির পরিসর রয়েছে। নদী ও হ্রদের মতো জলাধারসমূহেরও একটা সুনির্দিষ্ট পরিমাপ আছে। অর্থাৎ, ঈশ্বর যখন সকলকিছু সৃষ্টি করেন, তখন তিনি সকলকিছুকেই সুস্পষ্টরূপে বণ্টন করে দিয়েছিলেন। ঈশ্বর ইতিপূর্বেই নির্ধারণ করে দিয়েছেন কোনো নির্দিষ্ট পর্বতের ব্যাসার্ধ কত কিলোমিটার হওয়া উচিৎ এবং সেটির পরিসরই বা কতখানি। তিনি এ-ও নিরূপণ করে দিয়েছিলেন যে একটা বিশেষ সমতলভূমির ব্যাসার্ধ কত কিলোমিটার হবে এবং তার পরিসরই বা কী হবে। সকলকিছু সৃষ্টি করার সময়, মরুভূমিগুলির সীমানা এবং পাহাড়গুলির বিস্তার ও তাদের অনুপাত, এবং সেগুলির চতুঃসীমানায় কী কী থাকবে তা-ও তিনি স্থির করে দিয়েছিলেন—এই সবকিছুই তাঁর দ্বারা নির্ধারিত হয়েছিল। নদী ও হ্রদ সৃজনের সময়েই তিনি সেগুলির বিস্তার নিরূপণ করে দিয়েছিলেন—এগুলির সকলেরই নিজস্ব সীমানা রয়েছে। তাহলে, “সীমানা” বলতে আমরা কী বোঝাতে চাই? কিছু পূর্বেই আমরা আলোচনা করেছি ঈশ্বর কীভাবে সকলকিছুর জন্য বিধান প্রবর্তনের মাধ্যমে সমস্তকিছুর উপর আধিপত্য করেন, সেই বিষয়ে। অর্থাৎ, পর্বতের বিস্তার বা সীমানা পৃথিবীর আবর্তনের কারণে বা সময়ের অগ্রগতির সাথে প্রসারিত বা সঙ্কুচিত হবে না। এগুলি নির্দিষ্ট ও অপরিবর্তনীয়, এবং ঈশ্বরই সেগুলির অপরিবর্তনীয়তাকে নিয়ন্ত্রণ করেন। সমতলভূমিগুলির পরিসর, সেগুলির বিস্তার কতখানি, সেগুলির চতুঃসীমানায় কী কী রয়েছে—এসকল ঈশ্বরের দ্বারা সাব্যস্ত হয়ে গিয়েছে। এগুলির নিজস্ব সীমারেখা রয়েছে, আর সেই অর্থে, সমভূমির পৃষ্ঠদেশ থেকে যথেচ্ছভাবে মৃত্তিকাস্তূপ উঁচু হয়ে উঠতে পারে না। সমভূমি হঠাৎ করে পর্বতে পরিণত হতে পারে না—তা হবে অসম্ভব। যে বিধান ও সীমানার বিষয়ে কিছুপূর্বে বলা হয়েছিল, এ-ই হল তার অর্থ। মুরুভূমির কথা যদি ধরি, আমরা এখানে মরুভূমির সুনির্দিষ্ট কার্যাবলী বা অন্য কোনো ধরনের ভূমিরূপ বা ভৌগোলিক অবস্থানের কথা উল্লেখ করবো না, শুধু সেগুলির সীমানার উল্লেখ করবো। ঈশ্বরের নিয়মের অধীনে, মরুভূমির সীমারেখাও প্রসারিত হবে না। কারণ ঈশ্বর মরুপ্রান্তরকে সেটির নিজস্ব বিধি ও সীমারেখা প্রদান করেছেন। সেটির আয়তন কত বিস্তৃত এবং সেটির কার্যকারিতা কী, কীসের দ্বারা তা পরিবেষ্টিত, এবং সেটির অবস্থান কোথায়—এসকল ঈশ্বর ইতিমধ্যেই নির্ধারণ করে রেখেছেন। মরুভূমি সেটির সীমানা অতিক্রম করবে না অথবা সেটির অবস্থান পরিবর্তন করবে না, এবং সেটির ক্ষেত্রফল যদৃচ্ছ সম্প্রসারিত হবে না। যদিও নদী ও হ্রদের মতো সকল জলপ্রবাহ নিয়মানুগ ও অবিশ্রান্ত, তবু সেগুলি কখনো স্বীয় বিস্তৃতির বাইরে বা সীমানা ছাড়িয়ে সঞ্চালিত হবে না। যে অভিমুখে সেগুলির প্রবাহিত হওয়ার কথা, সকলে সেই এক অভিমুখেই সুশৃঙ্খলভাবে প্রবাহিত হয়। তাই ঈশ্বরের বিধি-বিধানের আওতায়, কোনো নদী অথবা হ্রদ পৃথিবীর আবর্তনের কারণে অথবা চলমান সময়ের সাথে যদৃচ্ছ বিশুষ্ক হবে না, অথবা নির্বিচারে প্রবাহের গতিমুখ বা জলরাশির পরিমাণ পরিবর্তন করবে না। এসবকিছুই ঈশ্বরের নিয়ন্ত্রণাধীন। অর্থাৎ, এই মানবজাতির মাঝে ঈশ্বরের দ্বারা সৃজিত সকলকিছুর সুনির্দিষ্ট অবস্থান, এলাকা ও সীমানা আছে। সুস্পষ্টতরভাবে বললে, ঈশ্বর যখন সকলকিছু সৃজন করেছিলেন, তখনই সেগুলির সীমারেখা নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল, এবং তা খেয়ালমাফিক রদবদল, নবায়ন, বা পরিবর্তনসাধন করা যাবে না। “যদৃচ্ছ” শব্দটির অর্থ কী? এর অর্থ, আবহাওয়া, তাপমাত্রা, বা পৃথিবীর আবর্তন-বেগের কারণে সেগুলি ইচ্ছা মতো স্থানপরিবর্তন করবে না, সম্প্রসারিত হবে না, বা সেগুলির আদি আকৃতির রূপান্তর ঘটাবে না। উদাহরণস্বরূপ, কোনো একটি পর্বত এক নির্দিষ্ট উচ্চতাবিশিষ্ট হয়, সেটির তলদেশ হয় এক নির্দিষ্ট ক্ষেত্রফলবিশিষ্ট, সেটির এক নির্দিষ্ট উচ্চতা থাকে, এবং সেটি একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ গাছপালা ধারণ করে। এই সকলকিছুই ঈশ্বরের দ্বারা পরিকল্পিত ও পূর্বনির্ধারিত, এবং তা যথেচ্ছভাবে পরিবর্তিত হবে না। সমতলভূমির কথা ধরলে, অধিকাংশ মানুষ সমভূমিতে বসবাস করে, এবং জলবায়ুর কোনো পরিবর্তন তাদের বসবাসের এলাকা বা তাদের অস্তিত্বের মূল্যকে প্রভাবিত করবে না। এমনকি ঈশ্বর-সৃষ্ট এইসব নানাবিধ ভূমিরূপ ও ভৌগোলিক পরিবেশের অন্তর্ধৃত বস্তুসমূহও ইচ্ছে মতো পরিবর্তিত হবে না। উদাহরণস্বরূপ, মরুভূমির উপাদানসমূহ, ভূগর্ভস্থ খনিজভাণ্ডারের প্রকৃতি, মরুভূমিতে ধৃত বালুরাশির পরিমাণ ও তার বর্ণ, মরুভূমির গভীরতা—এইসব খেয়ালমাফিক পরিবর্তিত হবে না। কেন এই সব ইচ্ছা মতো পরিবর্তিত হবে না? ঈশ্বরের নিয়ম ও তাঁর ব্যবস্থাপনার কারণে। ঈশ্বর-সৃষ্ট এইসমস্ত বিচিত্র ভূমিরূপ ও ভৌগোলিক পরিমণ্ডলের মধ্যে সকলকিছুকে তিনি এক পরিকল্পিত ও সুশৃঙ্খল পদ্ধতিতে পরিচালনা করছেন। সেই কারণেই, ঈশ্বরের দ্বারা সৃজিত হওয়ার শতসহস্র, এমনকি অযুত-লক্ষ বছর পরেও এসকল ভৌগোলিক পরিমণ্ডলগুলি অদ্যবধি বিদ্যমান রয়েছে, এবং আজও সেগুলি স্ব-স্ব নির্ধারিত কার্যকারিতায় বহাল রয়েছে। যদিও বিশেষ বিশেষ সময়কালে আগ্নেয়গিরি লাভা উদ্গিরণ করে, এবং বিশেষ বিশেষ সময়কালে ভূমিকম্প সংঘটিত হয়, এবং ভূপৃষ্ঠ জুড়ে ব্যাপক স্থানচ্যুতি ঘটে, কিন্তু তবু ঈশ্বর কোনোক্রমেই কোনো প্রকার ভূমিরূপকে সেটির মৌলিক কার্যকারিতা খোয়াতে দেবেন না। একমাত্র ঈশ্বরের এই ব্যবস্থাপনা, তাঁর বিধি, এবং এই বিধানসমূহের উপর তাঁর নিয়ন্ত্রণের কারণেই, এই সমস্তকিছু—মানবজাতি যা দর্শন ও উপভোগ করে সেই সবকিছু—পৃথিবীপৃষ্ঠে এক সুশৃঙ্খল রীতিতে টিকে থাকতে পারে। কিন্তু ঈশ্বর কেন পৃথিবীপৃষ্ঠে বিদ্যমান এই সকল বিচিত্র ভূমিরূপকে এইভাবে পরিচালনা করেন? তাঁর উদ্দেশ্য হল, বিভিন্ন ভৌগোলিক পরিবেশে জীবনধারণকারী সজীব বস্তুগুলি সকলেই যেন একটা সুস্থিত পরিবেশ পায়, এবং সেই সুস্থিত পরিবেশের মধ্যে তারা যেন তাদের জীবনধারা অব্যাহত রাখতে ও বংশবৃদ্ধি করতে পারে। এই সকলকিছু—যাকিছু জঙ্গম ও যাকিছু স্থাবর, যারা নাসারন্ধ্র দিয়ে শ্বাস নেয় ও যারা নেয় না—তারা সকলে মিলে মানবজাতির জীবনধারণের উপযোগী এক অদ্বিতীয় পরিমণ্ডল গড়ে তোলে। কেবল এই ধরনের প্রতিবেশই মানুষকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে প্রতিপালন করতে পারে, এবং কেবল এই ধরনের প্রতিবেশই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষকে শান্তিপূর্ণভাবে জীবনযাত্রা অব্যাহত রাখার সুযোগ দিতে পারে।

এইমাত্র আমি যা আলোচনা করেছি তা একটি বিস্তৃত প্রসঙ্গ, সম্ভবত তোমাদের জীবন থেকে এটি খানিকটা সম্পর্কচ্যুত, কিন্তু আমি আস্থা রাখি তোমরা সকলেই এটা উপলব্ধি করতে পারবে। অর্থাৎ, সমস্তকিছুর উপর তাঁর আধিপত্যের ক্ষেত্রে ঈশ্বরের বিধান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—বাস্তুতই অতীব গুরুত্ববাহী! এই বিধানের অধীনে সকল সত্তার বিকশিত হওয়ার পূর্বশর্ত কী? এই বিকাশ ঘটে ঈশ্বরের নিয়মের কারণে। তাঁর নিয়মের কারণেই সকলকিছু তাঁর নিয়মের অভ্যন্তরে তাদের নিজ নিজ কার্যাবলী সম্পন্ন করে। উদাহরণস্বরূপ, পর্বত অরণ্যকে প্রতিপালন করে এবং অরণ্য, প্রতিদানে, তার মধ্যে বসবাসকারী বিভিন্ন পশু-পাখিকে প্রতিপালন করে ও সুরক্ষা দেয়। সমতলভূমি হল মানুষের নিমিত্ত প্রস্তুত ফসল বপনের একটা মঞ্চ, একই সঙ্গে বিভিন্ন পশুপাখির বাসস্থানও বটে। এগুলি মানবজাতির অধিকাংশ সদস্যকে সমতল ভূভাগে বসবাস করার সুযোগ দেয়, এবং মানুষের জীবনে সাচ্ছন্দ্য প্রদান করে। এবং সমভূমির মধ্যে তৃণভূমিও পড়ে—বিপুল, বিস্তীর্ণ তৃণভূমি। এই তৃণভূমিগুলি ভূপৃষ্ঠের উপর উদ্ভিজ্জের আচ্ছাদন প্রদান করে। সেগুলি মৃত্তিকাকে সুরক্ষিত রাখে এবং তৃণভূমিবাসী গবাদি পশু, মেষ ও অশ্বাদি প্রতিপালন করে। মরুভূমিও তার নিজস্ব কার্য নির্বাহ করে। তা মনুষ্য-বসবাসের স্থান নয়; মরুভূমির কাজ হল আর্দ্র জলবায়ুকে শুষ্কতর করা। নদী ও হ্রদের প্রবাহ মানুষের কাছে স্বচ্ছন্দে পাণীয় জল বহন করে আনে। এগুলি প্রবাহিত হলে মানুষ পান করার জল পাবে এবং সকল বস্তু ও সত্তার জলের প্রয়োজন সহজেই মিটবে। এগুলিই হল বিভিন্ন ভূমিরূপের ঈশ্বর-চিহ্নিত সীমারেখা।

—বাক্য, খণ্ড ২, ঈশ্বরকে জানার প্রসঙ্গে, স্বয়ং অনন্য ঈশ্বর ৯

পূর্ববর্তী: মানবজাতির জন্য ঈশ্বর যে দৈনন্দিন খাদ্য ও পানীয় প্রস্তুত করেন (পর্ব ২)

পরবর্তী: দ্বিতীয় পর্ব: ঈশ্বর প্রতিটি প্রকারের প্রাণীর জন্য সীমানা নির্ধারণ করেন

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।

সেটিংস

  • লেখা
  • থিমগুলি

ঘন রং

থিমগুলি

ফন্টগুলি

ফন্ট সাইজ

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

পৃষ্ঠার প্রস্থ

বিষয়বস্তু

অনুসন্ধান করুন

  • এই লেখাটি অনুসন্ধান করুন
  • এই বইটি অনুসন্ধান করুন

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন