অনমনীয় ঈশ্বর-বিরোধিতার ফলে মানুষ ঈশ্বরের ক্রোধের দ্বারা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়

প্রথমে, ধর্মগ্রন্থের বেশ কিছু ছত্র দেখা যাক যেখানে ঈশ্বরের দ্বারা সদোম নগরী ধ্বংসের বিবরণ আছে।

আদিপুস্তক ১৯:১-১১ সেদিনই সন্ধ্যাবেলায় সেই দুইজন স্বর্গদূত সদোমে এসে পৌঁছালেন: লোট সেই সময়ে নগরদ্বারে বসে ছিলেন। তাঁদের দেখে লোট উঠে এগিয়ে গেলেন ও মাটিতে প্রণিপাত করে বললেন, প্রভু, অনুগ্রহ করে আপনাদের এই দাসের গৃহে পদার্পণ করে রাত্রি যাপন করুন ও পদপ্রক্ষালন করুন, আগামীকাল ভোরে উঠে আপনাদের গন্তব্য পথে যাত্রা করবেন। তাঁরা বললেন, না, আমরা নগরের পথে রাত্রি যাপন করব। কিন্তু লোট খুব অনুনয় বিনয় করায় তাঁরা তাঁর সঙ্গে গেলেন ও তাঁর বাড়িতে আতিথ্য গ্রহণ করলেন। লোট সাধারণ চ্যাপ্টা রুটি সেঁকে তাঁদের জন্য ভোজের আয়োজন করলেন, এবং তাঁরা সেই খাদ্য গ্রহণ করলেন। কিন্তু তাঁরা শয্যাগ্রহণ করার আগেই সদোম নগরের আবালবৃদ্ধ জনতা এসে লোটের বাড়ি ঘেরাও করল। তারা লোটকে ডেকে বলল, তোমার বাড়িতে আজ রাতে যে দুজন লোক এসেছে তারা কোথায়? তাদের বের করে আমাদের কাছে নিয়ে এস, আমরা তাদের সম্ভোগ করব। লোট দরজার বাইরে এসে জনতার সামনে দাঁড়ালেন এবং তাঁর পিছনে দরজা বন্ধ করে দিয়ে তাদের বললেন, ভাইসব, আমার অনুরোধ তোমরা এই দুষ্কর্ম করো না। দেখো, আমার দুটি মেয়ে আছে, তারা কোনদিন পুরুষ সংসর্গ করে নি, তাদের নিয়ে তোমরা যা খুশী কর, কিন্তু এই দুই ব্যক্তির প্রতি তোমরা কিছু করো না, কারণ তাঁরা আমার বাড়িতে আতিথ্য গ্রহণ করেছেন। কিন্তু তারা বলল সরে দাঁড়া। এই লোকটা এখানে প্রবাসী হয়েও আমাদের উপর মোড়লী করতে চায়! দাঁড়া, ওদের চেয়ে তোর দুদর্শা আমরা আর‍ও বেশী করব। এই বলে তারা লোটের উপর চড়াও হয়ে দরজা ভেঙে ফেলার উপক্রম করল। তখন সেই দুই ব্যক্তি হাত বাড়িয়ে লোটকে বাড়ির ভিতরে টেনে এনে দরজা বন্ধ করে দিলেন। আর দরজার বাইরে ছোট বড় যত লোক ছিল তাদের সকলের দৃষ্টিশক্তি তাঁরা লোপ করে দিলেন: ফলে সেই লোকগুলি দরজা খুঁজে খুঁজে হয়রান হয়ে পড়ল।

আদিপুস্তক ১৯:২৪-২৫ অতঃপর যিহোবা সদোম ও ঘমোরার উপর আকাশ থেকে গন্ধক ও অগ্নি বর্ষণ করলেন; উভয় শহর, সমগ্র উপত্যকা ও সকল নগরবাসী তথা ভূমিজাত সমস্তকিছু ধ্বংস করলেন তিনি।

এই ছত্রগুলি থেকে এটা বোঝা দুষ্কর নয় যে সদোমের পাপাচার ও বিকৃতি ইতিমধ্যেই মানুষ ও ঈশ্বর উভয়ের কাছে ঘৃণিত একটা মাত্রায় পৌঁছে গিয়েছিল, এবং ঈশ্বরের চোখে তাই নগরীটি বিনাশযোগ্য ছিল। কিন্তু বিনাশ হবার আগে নগরীর অভ্যন্তরে কী ঘটতো? এই ঘটনাগুলি থেকে মানুষ কী অনুপ্রেরণা আহরণ করতে পারে? এই ঘটনাগুলির প্রতি ঈশ্বরের মনোভাব মানুষকে তাঁর প্রকৃতির বিষয়ে কী প্রদর্শন করে? সম্পূর্ণ আখ্যানটি উপলব্ধি করার জন্য ধর্মগ্রন্থে যা লিপিবদ্ধ হয়েছিল তা যত্নসহকারে পাঠ করা যাক …

সদোমের বিকৃতি: মানুষের কাছে ক্ষিপ্তকর, ঈশ্বরের কাছে ক্রোধোদ্দীপক

সেই রাতে লোট ঈশ্বর-প্রেরিত দুজন দূতকে আপ্যায়ন করলো এবং তাদের জন্য ভোজের আয়োজন করলো। খাওয়া-দাওয়ার পর, তারা শুয়ে পড়ার আগে, গোটা শহরের লোকজন এসে লোটের বাসস্থান ঘেরাও করলো এবং তাঁকে বাইরে ডাকলো। ধর্মগ্রন্থের নথি মোতাবেক তারা বলেছিল, “তোমার বাড়িতে আজ রাতে যে দুজন লোক এসেছে তারা কোথায়? তাদের বের করে আমাদের কাছে নিয়ে এস, আমরা তাদের সম্ভোগ করব।” কথাগুলো কে বলেছিল? কাকেই বা বলা হয়েছিল? এগুলি সদোমের অধিবাসীদের কথা, লোটের বাড়ির বাইরে চিৎকার করে বলা হয়েছিল যাতে লোট শুনতে পায়। কথাগুলো শুনলে কেমন বোধ হয়? তুমি কি রুষ্ট বোধ করো? কথাগুলো কি তোমায় বিতৃষ্ণ করে তুলছে? তুমি কি রাগে ফুঁসছো? এই বাক্যগুলি কি শয়তানের পুতিগন্ধে পরিপূর্ণ নয়? এগুলির থেকে তুমি কি এই নগরীর পাপাচার ও অন্ধকার আন্দাজ করতে পারো? এই লোকগুলোর কথাগুলো থেকে তাদের আচরণের বর্বরতা ও অসভ্যতা আঁচ করতে পারো? তাদের ব্যবহার থেকে তাদের বিকৃতির গভীরতা টের পাচ্ছো? তাদের বক্তব্যের আধেয় থেকে এটা বোঝা দুষ্কর নয় যে তাদের দুষ্ট প্রকৃতি ও পাশবিক স্বভাব নিজেদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে একটা স্তরে গিয়ে পৌঁছেছে। লোটকে বাদ দিয়ে এই নগরীর প্রত্যেকটি লোক শয়তানের থেকে ভিন্নতর কেউ নয়; আর দুজন মানুষকে দেখা মাত্র তারা তাদের অনিষ্ট ও সম্ভোগ করতে চেয়েছিল ...। এই বিষয়গুলি কোনো ব্যক্তিকে শুধু যে এই নগরীর বীভৎস ও ভয়াবহ প্রকৃতি ও একে ঘিরে মৃত্যুর যে পরিমণ্ডল তার সম্বন্ধে একটা বোধ দেয় তা নয়, এর দুষ্টতা ও রক্তপিপাসুতা সম্পর্কেও একটা ধারণা দেয়।

যখন সে নিজেকে একদল মনুষ্যত্বহীন গুণ্ডার, মানুষের আত্মা গ্রাস করার বন্য কামনায় পরিপূর্ণ এক দঙ্গল মানুষের মুখোমুখি দেখতে পেলো, তখন লোট কীভাবে জবাব দিলো? ধর্মগ্রন্থ অনুযায়ী: “আমার অনুরোধ তোমরা এই দুষ্কর্ম করো না। দেখো, আমার দুটি মেয়ে আছে, তারা কোনদিন পুরুষ সংসর্গ করে নি, তাদের নিয়ে তোমরা যা খুশী কর, কিন্তু এই দুই ব্যক্তির প্রতি তোমরা কিছু করো না, কারণ তাঁরা আমার বাড়িতে আতিথ্য গ্রহণ করেছেন।” এই উক্তিগুলির মাধ্যমে লোট যা বোঝাতে চেয়েছিল তা হল: দূতদের সুরক্ষিত করার জন্য সে তার দুই কণ্যাকে বিসর্জন দিতেও প্রস্তুত ছিলো। যেকোনো যুক্তিসম্মত হিসাব অনুযায়ী, এই লোকগুলির লোটের শর্তে রাজি হয়ে দূত দুইজনকে ছেড়ে দেওয়া উচিৎ ছিলো; যতোই হোক, দূতগুলি তো তাদের কাছে একদম অপরিচিত মানুষই ছিলো, লোকগুলির সাথে যাদের কোনো সম্পর্ক ছিলো না, এবং যারা কখনো তাদের কোনো স্বার্থহানি করেনি। কিন্তু তাদের দুষ্ট প্রকৃতির দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়ে লোকগুলি বিষয়টিতে দাঁড়ি টানতে চাইলো না, বরং তাদের প্রচেষ্টা তীব্রতর করলো। এখানে, তাদের আরেকটি বাকবিনিময় সন্দেহাতীতভাবে মানুষকে এই লোকগুলির যথার্থ কলুষিত প্রকৃতির বিষয়ে অধিকতর অন্তর্দৃষ্টি দান করে, এবং একই সঙ্গে তা মানুষকে ঈশ্বর কেন এই নগরীকে ধ্বংস করতে চেয়েছিলেন তার কারণ হৃদয়ঙ্গম ও উপলব্ধি করতেও সমর্থ করে।

তাহলে এরপর তারা কী বলেছিল? বাইবেলে যা লেখা আছে তা হলো: “কিন্তু তারা বলল সরে দাঁড়া। এই লোকটা এখানে প্রবাসী হয়েও আমাদের উপর মোড়লী করতে চায়! দাঁড়া, ওদের চেয়ে তোর দুদর্শা আমরা আর‍ও বেশী করব। এই বলে তারা লোটের উপর চড়াও হয়ে দরজা ভেঙে ফেলার উপক্রম করল।” কেন তারা লোটের দরজা ভেঙে ফেলতে চেয়েছিল? কারণটা হল, তারা ওই দুই দূতের ক্ষতিসাধন করতে অতি ব্যাগ্র ছিল। দূতগুলি কী কারণে সদোমে এসেছিলো? তাদের সেখানে আসার উদ্দেশ্য ছিল লোট ও তার পরিবারকে রক্ষা করা, কিন্তু নগরীর লোকেরা ভুলক্রমে ভেবেছিল তারা বুঝি সরকারী পদের দায়িত্বভার গ্রহণ করতে এসেছে। তাদের আগমনের উদ্দেশ্য জিজ্ঞাসা না করে শুধুমাত্র অনুমানের উপর ভিত্তি করে এই নগরীর লোকজন দূতদ্বয়ের বর্বরোচিত ভাবে ক্ষতিসাধনের বাসনা করেছিল; তাদের সঙ্গে কোনো সম্পর্কই নেই এমন দুজন মানুষের তারা অনিষ্ট করতে চেয়েছিল। স্পষ্টতই, এই নগরীর লোকরা তাদের মানবতা ও যুক্তিবোধ সম্পূর্ণই হারিয়ে ফেলেছিল। তাদের বুদ্ধিভ্রংশতা ও অসভ্যতার মাত্রা ইতিমধ্যেই শয়তানের পাপাচারী প্রকৃতি, যার মাধ্যমে সে মানুষের ক্ষতিসাধন করে ও তাদের গ্রাস করে, তার তুলনায় কোনো অংশে আলাদা ছিল না।

যখন তারা দাবি করলো লোট যেন লোকদুটিকে তাদের হাতে তুলে দেয়, লোট তখন কী করলো? পাঠ্যাংশ থেকে আমরা জানতে পারি যে লোট তাদের হস্তান্তরিত করেনি। লোট কি ঈশ্বরের এই দূতদ্বয়কে চিনতো? অবশ্যই চিনতো না! তবু কীভাবে সে এই লোকদুটিকে উদ্ধার করতে সমর্থ হয়েছিল? তারা কী করতে এসেছিল তা কি সে জানতো? যদিও সে তাদের আগমনের কারণ সম্বন্ধে অনবহিত ছিল, কিন্তু এটা সে জানতো যে তারা ঈশ্বরের সেবক, আর তাই সে তাদের তার বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিল। সে যে ঈশ্বরের এই সেবকদের “প্রভু” আখ্যায় আপ্যায়িত করতে পেরেছিল এটাই প্রমাণ করে যে, লোট, সদোমের অপরাপর মানুষদের থেকে বিসদৃশ, ঈশ্বরের একজন নিয়মিত অনুসরণকারী ছিল। তাই, ঈশ্বরের দূতরা যখন তার কাছে এলো, এই দুই সেবককে বাড়ির অন্দরে নিয়ে যাওয়ার জন্য সে তার নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েছিল; তদুপরি, এই দুই সেবককে সুরক্ষিত রাখার বিনিময়ে সে তার দুই কণ্যাকে উৎসর্গ করার প্রস্তাবও দিয়েছিল। এটা ছিল লোটের ধার্মিক কাজ; এটা ছিল লোটের প্রকৃতি ও সারসত্যের এক ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য অভিব্যক্তি, এবং এই কারণেই ঈশ্বর লোটকে উদ্ধার করতে তাঁর সেবকদের প্রেরণ করেছিলেন। বিপদের মুখোমুখি হয়ে অন্য কোনোকিছুর পরোয়া না করে লোট এই দুই সেবককে রক্ষা করেছিল; এই সেবকদের সুরক্ষার খাতিরে এমনকি সে তার দুই কণ্যকে বিনিময় করার চেষ্টাও করেছিল। লোটকে বাদ দিলে, এই ধরনের একটা কাজ করতে পারে আর কেউ কি নগরীর মধ্যে ছিল? ঘটনাবলী প্রমাণ করে যে—না, আর কেউ ছিল না! তাই, এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে লোটকে বাদ দিয়ে সদোমের প্রতিটি বাসিন্দা ছিল বিনাশের লক্ষ্যবস্তু, এবং খুব ন্যায়সঙ্গত কারণেই—তারা এর যোগ্য ছিল।

—বাক্য, খণ্ড ২, ঈশ্বরকে জানার প্রসঙ্গে, স্বয়ং অনন্য ঈশ্বর ২

পূর্ববর্তী: ঈশ্বর অবশ্যই সদোমকে ধ্বংস করবেন

পরবর্তী: ঈশ্বরের ক্রোধের উদ্রেক ঘটানোর দরুন সদোমকে সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন করা হয়

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।

সম্পর্কিত তথ্য

ঈশ্বর হবাকে সৃষ্টি করলেন

আদিপুস্তক ২:১৮-২০ তারপর প্রভু পরমেশ্বর বললেন, মানুষের একা থাকা ভাল নয়, আমি তাকে তার যোগ্য এক সঙ্গিনী দেব। প্রভু পরমেশ্বর মৃত্তিকা থেকে...

চতুর্থ দিবসে, ঈশ্বর আবার তাঁর কর্তৃত্ব প্রয়োগ করায় মানবজাতির বিভিন্ন ঋতু, দিন এবং বছরগুলি সৃষ্টি হয়

সৃষ্টিকর্তা তাঁর পরিকল্পনা সম্পাদনের জন্য তাঁর বাক্যসমূহের ব্যবহার করেছিলেন, এবং এইভাবে তিনি তাঁর পরিকল্পনার প্রথম তিন দিবস অতিবাহিত...

শয়তানকে দেখে মানবিক, ন্যায়পরায়ণ ও সদ্গুনসম্পন্ন মনে হলেও, শয়তানের সারসত্য নিষ্ঠুর ও অশুভ

মানুষকে প্রতারণার মাধ্যমে শয়তান তার সুনাম নির্মাণ করে, এবং নিজেকে প্রায়শই ন্যায়পরায়ণতার একজন পুরোধা তথা আদর্শ নমুনা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করে।...

তৃতীয় দিবসে, ঈশ্বরের বাক্যসমূহ জন্ম দেয় পৃথিবী এবং সমুদ্রের এবং ঈশ্বরের কর্তৃত্ব বিশ্বে প্রাণসঞ্চার করে

এরপর, পাঠ করা যাক আদিপুস্তক ১:৯-১১-এর প্রথম বাক্যটি: “ঈশ্বর বললেন, আকাশের নীচে সমস্ত জলরাশি এক স্থানে সংহত হোক, প্রকাশিত হোক শুষ্ক ভূমি!”...

সেটিংস

  • লেখা
  • থিমগুলি

ঘন রং

থিমগুলি

ফন্টগুলি

ফন্ট সাইজ

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

পৃষ্ঠার প্রস্থ

বিষয়বস্তু

অনুসন্ধান করুন

  • এই লেখাটি অনুসন্ধান করুন
  • এই বইটি অনুসন্ধান করুন

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন