আদমের প্রতি ঈশ্বরের আদেশ

আদিপুস্তক ২:১৫-১৭ প্রভু পরমেশ্বর মানুষকে এদন উদ্যানে কৃষিকর্ম ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে নিযুক্ত করলেন। প্রভু পরমেশ্বর মানুষকে নির্দেশ দিলেন, তুমি এই উদ্যানের যে কোন ফল খেতে পার কিন্তু সৎ এবং অসৎ জ্ঞানদায়ী যে বৃক্ষটি রয়েছে, তার ফল খেও না। যেদিন সেই বৃক্ষের ফল তুমি খাবে, নিশ্চিত জেনো, সেই দিনই হবে তোমার মৃত্যু।

এই স্তোত্রগুলি থেকে তোমরা কী অনুধাবন করো? শাস্ত্রের এই অংশ তোমাদের মনে কী অনুভূতি জাগিয়ে তোলে? কেন আমি আদমের প্রতি ঈশ্বরের আদেশ নিয়ে আলোচনার সিদ্ধান্ত নিলাম? এখন কি তোমাদের প্রত্যেকের মনে ঈশ্বরের ও আদমের প্রতিমূর্তি রয়েছে? তোমরা কি কল্পনা করার চেষ্টা করতে পারো: তোমরা যদি সেই স্থলে থাকতে, তাহলে, ঈশ্বর কেমন হতেন বলে তোমাদের মনের গভীর থেকে মনে হয়? এই নিয়ে ভাবনাটা তোমাদের মনে কীরূপ অনুভূতি জাগিয়ে তোলে? এ হল মনকে নাড়া দেওয়ার মতো হৃদয়গ্রাহী এক ছবি। যদিও এর মধ্যে রয়েছেন কেবল ঈশ্বর এবং রয়েছে মানুষ, কিন্তু তাদের মধ্যে অন্তরঙ্গতা তোমাকে শ্রদ্ধার এই অনুভূতিতে ভরিয়ে তুলবে: ঈশ্বরের অপরিসীম ভালোবাসা মানুষের উপর অকাতরে বর্ষিত হয়, এবং তা মানুষকে ঘিরে রাখে, মানুষ হল নিষ্পাপ ও বিশুদ্ধ, সে নির্ভার ও নিশ্চিন্ত, ঈশ্বরের দৃষ্টির সম্মুখে পরমানন্দে বাস করে চলেছে; মানুষের জন্য ঈশ্বর উদ্বেগ দেখান, অন্যদিকে মানুষ ঈশ্বরের সুরক্ষা ও আশীর্বাদের অধীনে বাস করে; মানুষ যা করে ও বলে তার প্রতিটি এবং ঈশ্বরের সাথে ওতপ্রোত ও অবিচ্ছেদ্য ভাবে জড়িত।

একে বলা যেতে পারে মনুষ্যসৃষ্টির পর মানুষের প্রতি ঈশ্বরের প্রথম আদেশ। এই আদেশ কোন বিষয়টি নির্দেশ করে? তা ঈশ্বরের অভিপ্রায়কে ছাড়াও মানবজাতির জন্য তাঁর উদ্বেগকেও নির্দেশ করে। এ হল ঈশ্বরের প্রথম আদেশ, এবং এই প্রথমবার ঈশ্বর মানবজাতির জন্য তাঁর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। অর্থাৎ, মানুষ্যসৃষ্টির মুহূর্ত থেকে ঈশ্বর মানুষের প্রতি একটা দায়িত্ববোধ অনুভব করছেন। কী তাঁর দায়িত্ব? তাঁকে মানুষের সুরক্ষাবিধান করতে হবে, মানুষের দেখভাল করতে হবে। তিনি আশা করেন যে, মানুষ তাঁর বাক্যগুলিকে বিশ্বাস ও মান্য করতে পারবে। তা মানুষের কাছ থেকে ঈশ্বরের প্রথম প্রত্যাশাও বটে। সেই প্রত্যাশা নিয়েই ঈশ্বর এই বাক্যগুলি বলেছেন: “তুমি এই উদ্যানের যে কোন ফল খেতে পার কিন্তু সৎ এবং অসৎ জ্ঞানদায়ী যে বৃক্ষটি রয়েছে, তার ফল খেও না। যেদিন সেই বৃক্ষের ফল তুমি খাবে, নিশ্চিত জেনো, সেই দিনই হবে তোমার মৃত্যু।” এই সরল বাক্যগুলি ঈশ্বরের অভিপ্রায়ের প্রতিফলন ঘটায়। এগুলি এ-ও প্রকাশ করে যে, ঈশ্বর অন্তর থেকে মানুষের জন্য তাঁর উদ্বেগ দেখাতে শুরু করেছেন। সবকিছুর মধ্যে একমাত্র আদমকেই ঈশ্বরের প্রতিমূর্তি অনুযায়ী নির্মাণ করা হয়েছে; আদমই একমাত্র জীবিত সত্তা যার কাছে ঈশ্বরের প্রাণবায়ু রয়েছে; সে ঈশ্বরের সঙ্গে হাঁটতে পারে, ঈশ্বরের সঙ্গে বাক্যালাপ করতে পারে। মানুষ কী করতে পারবে ও কী করতে পারবে না, তা তাঁর আদেশের মাধ্যমে ঈশ্বর খুবই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন।

এই কয়েকটি সহজ বাক্যে, আমরা ঈশ্বরের হৃদয় দেখতে পাই। কিন্তু কী ধরনের হৃদয় প্রতিভাত হয়? ঈশ্বরের হৃদয়ে কি ভালোবাসা রয়েছে? সেখানে কি কোনো উদ্বেগ রয়েছে? এই স্তবকগুলিতে ঈশ্বরের ভালোবাসা ও উদ্বেগ শুধু অনুধাবনই করা যায় না, তা গভীর ভাবে উপলব্ধিও করা যায়। তোমরা কি একমত নও? আমার মুখে এই বাক্য শোনার পর, তোমরা কি এখনও মনে করো যে এগুলি নিছকই সহজ-সরল কিছু বক্তব্য? আদতে এগুলি তেমন সহজ-সরল নয়, তাই নয় কি? তোমরা কি আগে এই বিষয়ে সচেতন ছিলে? ঈশ্বর যদি ব্যক্তিগতভাবে তোমাকে এই বাক্যগুলি বলতেন, তাহলে তুমি নিজের অন্তরে কীরূপ অনুভব করতে? তুমি যদি একজন মানবিক ব্যক্তি না হতে, তোমার হৃদয় যদি হিমশীতল হত, তাহলে তুমি কিছুই অনুভব করতে না, তুমি ঈশ্বরের ভালোবাসা অনুভব করতে না, এবং তুমি ঈশ্বরের হৃদয়কে উপলব্ধির চেষ্টাও করতে না। কিন্তু বিবেক ও মানবতার বোধসম্পন্ন ব্যক্তি হিসাবে, তোমার অনুভব হবে ভিন্নতর। তুমি একটা উষ্ণতা অনুভব করবে, তুমি একটা যত্ন ও ভালোবাসা অনুভব করবে, এবং তোমার একটা সুখানুভূতি হবে। তাই নয় কি? যখন তোমার এই অনুভূতিগুলি হবে, তখন তুমি ঈশ্বরের সঙ্গে কীরূপ আচরণ করবে? তুমি কি ঈশ্বরের সঙ্গে একটা ঘনিষ্ঠতা অনুভব করবে? তুমি কি হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে ঈশ্বরকে ভালোবাসবে ও শ্রদ্ধা করবে? তোমার অন্তর কি ঈশ্বরের আরো নিকটবর্তী হবে? এর থেকেই তুমি বুঝতে পারছ যে, ঈশ্বরের ভালোবাসা মানুষের পক্ষে কতটা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু যা আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ তা হল, মানুষের তরফে ঈশ্বরের ভালোবাসার স্বীকৃতি প্রদান ও সেই ভালোবাসার অনুধাবন। আদতে, তাঁর কর্মের এই পর্যায়ে ঈশ্বর একই ধরনের অনেক বিষয় নিয়ে বলেন না কি? বর্তমানে কি এমন মানুষ রয়েছে, যারা ঈশ্বরের হৃদয়কে অনুধাবন করে? ঈশ্বরের যে অভিপ্রায়ের বিষয়ে আমি এইমাত্র বললাম তা কি তুমি অনুধাবন করতে পারো? ঈশ্বরের ইচ্ছা যখন স্পর্শযোগ্য, মূর্ত, ও বাস্তব, তখনও তোমরা তা প্রকৃতপক্ষে উপলন্ধি করতে পারো না। এই কারণেই আমি বলি যে, ঈশ্বর সম্বন্ধে তোমাদের প্রকৃত জ্ঞান বা উপলব্ধি নেই। তা কি সত্য নয়? এখনকার মতো এই প্রসঙ্গটির আলোচনা আমরা বন্ধ রাখছি।

—বাক্য, খণ্ড ২, ঈশ্বরকে জানার প্রসঙ্গে, ঈশ্বরের কর্ম, ঈশ্বরের স্বভাব এবং স্বয়ং ঈশ্বর ১

পূর্ববর্তী: সৃষ্ট এবং অসৃষ্ট কোনো জীবই সৃষ্টিকর্তার পরিচয়ের প্রতিস্থাপন করতে পারে না

পরবর্তী: ঈশ্বর হবাকে সৃষ্টি করলেন

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।

সম্পর্কিত তথ্য

ঈশ্বর হবাকে সৃষ্টি করলেন

আদিপুস্তক ২:১৮-২০ তারপর প্রভু পরমেশ্বর বললেন, মানুষের একা থাকা ভাল নয়, আমি তাকে তার যোগ্য এক সঙ্গিনী দেব। প্রভু পরমেশ্বর মৃত্তিকা থেকে...

প্রথম দিবসে, ঈশ্বরের কর্তৃত্বের বদান্যতায় মানবজাতির দিন এবং রাতের সূচনা হয় এবং অবিচল থাকে

প্রথম অনুচ্ছেদটির প্রতি দৃষ্টিপাত করা যাকঃ: “ঈশ্বর বললেন, দীপ্তি হোক! দীপ্তির হল আবির্ভাব। ঈশ্বর দেখলেন, চমৎকার এই দীপ্তি। অন্ধকার থেকে...

পঞ্চম দিবসে, বিবিধ এবং বৈচিত্র্যময় গঠনের জীবন বিভিন্ন উপায়ে সৃষ্টিকর্তার কর্তৃত্ব প্রদর্শন করে

শাস্ত্রে বলা হয়েছে, “ঈশ্বর বললেন, জলরাশি পূর্ণ হোক নানা জাতির জলচর প্রাণীতে এবং পৃথিবীর উপরে আকাশে উড়ে বেড়াক পক্ষীকুল। ঈশ্বর সৃষ্টি করলেন...

সেটিংস

  • লেখা
  • থিমগুলি

ঘন রং

থিমগুলি

ফন্টগুলি

ফন্ট সাইজ

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

পৃষ্ঠার প্রস্থ

বিষয়বস্তু

অনুসন্ধান করুন

  • এই লেখাটি অনুসন্ধান করুন
  • এই বইটি অনুসন্ধান করুন

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন