আন্তরিক অনুশোচনার মাধ্যমে মানুষ ঈশ্বরের করুণা ও সহিষ্ণুতা লাভ করে (পর্ব ২)

নীনবীর রাজার অনুতাপ যিহোবা ঈশ্বরের প্রশংসা অর্জন করে

নীনবীর নৃপতি যখন এই সংবাদ শোনে, সে তার সিংহাসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়, তার আঙরাখা খুলে ফেলে, নিজেকে চটের পোশাকে সজ্জিত করে এবং ভস্মের উপর উপবেশন করে। তারপর সে ঘোষণা করেছিল যে, নগরীর কেউ কোনোকিছু আস্বাদন করতে পারবে না, এবং কোনো মেষ, বলীবর্দ বা অন্য কোনো পালিত পশু চারণ করতে বা জলপান করতে পারবে না। মানুষ ও পালিত পশু উভয়কেই চটবস্ত্র পরিধান করতে হবে, এবং মানুষদের ঈশ্বরের কাছে ঐকান্তিক প্রার্থনা করতে হবে। রাজা এ-ও ঘোষণা করে যে প্রত্যেককে তাদের অনাচারী পন্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে এবং তাদের হাতের দ্বারা সম্পাদিত সকল হিংস্রতা পরিত্যাগ করতে হবে। এই কার্যধারা বিচার করলে বোঝা যায়, নীনবীর রাজার হৃদয়ে প্রকৃত অনুতাপ এসেছিল। যে কার্যক্রম সে গ্রহণ করে—সিংহাসন থেকে উঠে দাঁড়ানো, রাজবস্ত্র ত্যাগ করা, চটের পোশাক পরিধান করা এবং ছাইয়ের উপর গিয়ে বসা—তা মানুষকে জানায় যে নীনবীর রাজা তার রাজকীয় পদমর্যাদা সরিয়ে রেখে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি চটবস্ত্র পরিধান করছিল। অর্থাৎ, যিহোবা ঈশ্বরের ঘোষণা শোনার পর নীনবীর রাজা তার দুষ্ট কর্মপন্থা বা তার হস্তে সম্পাদিত হিংস্রতা অব্যাহত রাখার জন্য তার রাজপদে কায়েম থাকেনি; বরং, যে কর্তৃত্ব তার অধিকারে ছিল তা সে সরিয়ে রেখেছিল এবং যিহোবা ঈশ্বরের কাছে অনুতাপ প্রকাশ করেছিল। নীনবীর রাজা সেই মুহূর্তে রাজা হিসাবে অনুতাপ প্রকাশ করছিল না, ঈশ্বরের একজন সাধারণ প্রজা হিসাবে অনুশোচনা করতে ও তার পাপ স্বীকার করতে সে ঈশ্বরের সম্মুখে এসেছিল। উপরন্তু, সমগ্র নগরবাসীকেও সে তার মতন করেই যিহোবা ঈশ্বরের সামনে অনুতাপ সহকারে তাদের পাপ স্বীকার করতে নির্দেশ দিয়েছিল; তদতিরিক্ত, কীভাবে তা করতে হবে সে বিষয়ে তার একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনাও ছিল, ধর্মগ্রন্থে যেমন দেখা যাচ্ছে: “মানুষ, পশু, গরু কিম্বা ভেড়ার পাল—কেউ-ই কিছু খাবে না, অন্ন-জল গ্রহণ করবে না। … এবং সকলকে একাগ্র হয়ে ঈশ্বরকে ডাকতে হবে। প্রত্যেকে কুপথ পরিহার করুক এবং দুষ্কর্ম থেকে নিবৃত্ত হোক।” নগরীটির শাসক হিসাবে নীনবীর রাজা সর্বোচ্চ পদমর্যাদা ও ক্ষমতার অধিকারী ছিল, এবং তার ইচ্ছা মতো সবকিছুই করতে পারতো। যিহোবা ঈশ্বরের ঘোষণার সম্মুখীন হয়ে, সে বিষয়টিকে উপেক্ষা করতে পারতো বা কেবল নিজে একাই অনুতাপ প্রকাশ ও তার পাপ স্বীকার করতে পারতো; নগরীর লোকজন অনুতাপ প্রকাশ করতে মনঃস্থির করলো কি না করলো, এই বিষয়টিকে সে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করতে পারতো। কিন্তু নীনবীর রাজা তা আদৌ করেনি। শুধু যে সে সিংহাসন থেকে উঠে দাঁড়িয়ে চটবস্ত্র পরিধান করে ছাইয়ের উপর উপবেশন করেছিল, অনুতাপ প্রকাশ করেছিল ও যিহোবা ঈশ্বরের সামনে নিজের পাপ স্বীকার করেছিল তা নয়, একই সাথে সে নগরীর মধ্যস্থ সকল মানুষ ও পালিত পশুকে একই কাজ করতে নির্দেশ দিয়েছিল। এমনকি সে মানুষকে “একাগ্র হয়ে ঈশ্বরকে ডাকতে”-ও আদেশ করেছিল। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে নীনবীর রাজা একজন শাসকের যা করা উচিৎ সেই কাজ যথার্থই সম্পন্ন করেছিল। তার এই ধারাবাহিক ব্যবস্থাপনা এমন একটা কৃতিত্ব যা মানুষের ইতিহাসে যে-কোনো রাজার পক্ষে অর্জন করা দুষ্কর ছিল, এবং বস্তুতই অন্য কোনো রাজা এই বিষয়গুলি অর্জন করতে পারেনি। এই কাজগুলিকে মানবজাতির ইতিহাসে অভূতপূর্ব বলা যায়, এবং এগুলি মানবজাতির কাছে উভয়ত স্মরণীয় ও অনুকরণীয় হওয়ার যোগ্য। মানবসভ্যতার প্রত্যুষকাল থেকে প্রত্যেক রাজা তার প্রজাদের ঈশ্বরকে প্রতিরোধ ও বিরোধিতা করার দিকে চালিত করেছে। কেউ কখনো তার প্রজাদের তাদের দুষ্টতা-জনিত পাপ থেকে পরিত্রাণ খোঁজার জন্য, যিহোবা ঈশ্বরের ক্ষমা প্রাপ্তির জন্য এবং আসন্ন শাস্তিভোগ এড়ানোর জন্য ঈশ্বরকে অনুনয় করার দিকে পরিচালিত করেনি। নীনবীর রাজা অবশ্য তার প্রজাদের ঈশ্বরের দ্বারস্থ করার, তাদের নিজ নিজ পাপাসক্ত পন্থাকে পরিহার করার এবং তাদের হস্ত-সম্পাদিত হিংসা পরিত্যাগ করার দিকে চালিত করতে সমর্থ হয়েছিল। অধিকন্তু, সে তার সিংহাসনকে সরিয়ে রাখতেও সক্ষম হয়েছিল, এবং প্রতিদানে, যিহোবা ঈশ্বরের হৃদয় পরিবর্তন ঘটে ও তিনি অনুতাপ বোধ করেন, তাঁর ক্রোধকে সংবরণ করে নগরীর মানুষদের তিনি জীবনধারণের অনুমোদন দেন, বিনাশের হাত থেকে তাদের রক্ষা করেন। রাজার কার্যাবলীকে শুধুমাত্র মানব সভ্যতার ইতিহাসে একটা বিরল অত্যাশ্চর্য ঘটনা বলেই অভিহিত করা যেতে পারে, এবং ভ্রষ্ট মানুষের অনুতাপ ও ঈশ্বরের সম্মুখে তাদের পাপ স্বীকারের এমনকি একটা আদর্শ দৃষ্টান্তও বলা যেতে পারে।

ঈশ্বর নীনবীবাসীদের হৃদয়ের গভীরে আন্তরিক অনুতাপ লক্ষ্য করেন

ঈশ্বরের ঘোষণা শোনার পর নীনবীর নৃপতি ও তার প্রজারা ধারাবাহিক কিছু কর্ম সম্পাদন করে। এই কর্মগুলির ও তাদের আচরণের প্রকৃতি কেমন ছিল? অন্যভাবে বললে, তাদের আচরণের সামগ্রিকতার সারসত্য কী ছিল? তারা যা করেছিল কেন তা করলো? ঈশ্বরের চোখে তারা আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত হয়েছিল, এর কারণ শুধু এই নয় যে তারা ঈশ্বরের কাছে ঐকান্তিক অনুনয় করেছিল এবং তাঁর সম্মুখে তাদের পাপ কবুল করেছিল, তারা তাদের দুষ্ট আচরণ পরিত্যাগ করেছিল বলেও বটে। তারা এরকম আচরণ করেছিল কারণ ঈশ্বরের বাক্য শ্রবণের পর তারা অবিশ্বাস্য রকমের ভয় পেয়েছিল এবং বিশ্বাস করেছিল যে তিনি যেমন বলেছেন তেমনই করবেন। উপবাস করার মাধ্যমে, চটের পোশাক পরিধান করার মাধ্যমে এবং ছাইয়ের উপর উপবেশন করার মাধ্যমে তারা তাদের পন্থা সংশোধন করার ও দুষ্টতা থেকে বিরত থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করতে চেয়েছিল, এবং তারা যিহোবা ঈশ্বরের কাছে তাঁর রোষ সংবরণ করার প্রার্থনা করেছিল, তাঁকে অনুনয় করেছিল যাতে তিনি তাঁর সিদ্ধান্ত ও তাদের উপর সমাসন্ন বিপর্যয়কে প্রত্যাহার করেন। আমরা যদি তাদের সকল আচরণকে পর্যালোচনা করি তাহলে আমরা দেখতে পাই, তারা ইতিমধ্যেই উপলব্ধি করেছিল যে তাদের আগেকার দুষ্ট কাজকর্ম যিহোবা ঈশ্বরের কাছে ঘৃণার্হ ছিল, এবং আমরা এও দেখতে পাই যে কী কারণে শীঘ্রই তিনি তাদের ধ্বংস করবেন সেটাও তারা উপলব্ধি করেছিল। এই কারণেই তারা সকলে একটা পরিপূর্ণ অনুতাপ প্রকাশ করতে, তাদের পাপাচারী পন্থা থেকে সরে দাঁড়াতে এবং তাদের হস্ত-কৃত হিংসা পরিত্যাগ করতে চেয়েছিল। অন্য কথায়, একবার যখন তারা যিহোবা ঈশ্বরের ঘোষণার বিষয়ে অবগত হয়, তাদের প্রত্যেকে অন্তরে ভীতি অনুভব করেছিল; তারা তাদের দুষ্ট আচরণ অব্যাহত রাখা থেকে বিরত হয়েছিল এবং আর কখনো সেইসব কাজ করেনি যা যিহোবা ঈশ্বরের কাছে অত্যন্ত ঘৃণার্হ ছিল। তদতিরিক্ত, যিহোবা ঈশ্বরকে তারা অনুনয় করেছিল যাতে তিনি তাদের অতীতের পাপ ক্ষমা করেন এবং তাদের অতীত কর্ম অনুসারে তাদের প্রতি ব্যবস্থা না নেন। আর কখনো দুষ্ট কাজে রত না হতে এবং যিহোবা ঈশ্বরের নির্দেশ অনুযায়ী আচরণ না করতে, এবং সম্ভব হলে আর কখনো যিহোবা ঈশ্বরের রোষের উদ্রেগ না করতে তারা ইচ্ছুক ছিল। তাদের অনুতাপ ছিল আন্তরিক ও পূর্ণাঙ্গ। তা তাদের হৃদয়ের গভীর থেকে নির্গত হয়েছিল এবং কপট ও ক্ষণস্থায়ী ছিল না।

রাজা থেকে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত নীনবীর সকল লোক একবার যখন জানতে পারলো যে যিহোবা ঈশ্বর তাদের প্রতি রাগান্বিত, ঈশ্বর স্পষ্ট ও পরিষ্কারভাবে তাদের পরবর্তী প্রত্যেকটি কাজকর্ম ও আচরণ সামগ্রিকভাবে দেখতে পেলেন, তাদের প্রত্যেকটি সিদ্ধান্ত ও বিকল্পচয়নও তিনি প্রত্যক্ষ করলেন। তাদের আচরণ অনুযায়ী ঈশ্বরের হৃদয় পরিবর্তিত হল। ঠিক সেই মুহূর্তে ঈশ্বরের মানসিক অবস্থা কেমন ছিল? বাইবেল তোমাকে এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে। ধর্মগ্রন্থে নিম্নলিখিত বাক্যগুলি লিপিবদ্ধ আছে: “ঈশ্বর তাদের আচরণ দেখলেন। তিনি দেখলেন, তারা কুপথ পরিত্যাগ করেছে। তখন ঈশ্বর তাঁর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলেন, তাদের আর শাস্তি দিলেন না” (যোনা ৩:১০)। যদিও ঈশ্বর তাঁর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন, কিন্তু তাঁর মানসিক অবস্থার ক্ষেত্রে কোনো জটিলতা ছিল না। শুধুমাত্র তিনি রাগের বহিঃপ্রকাশ থেকে রাগের প্রশমনে অবস্থান্তরিত হন, এবং তারপর নীনবী নগরীর উপর বিপর্যয় ডেকে না আনার সিদ্ধান্ত নেন। নীনবীবাসীকে বিপর্যয়ের হাত থেকে নিষ্কৃতি দেওয়ার ঈশ্বরের এই সিদ্ধান্ত যে কারণে এত ত্বরিত ছিল তা হল ঈশ্বর নীনবীর প্রতিটি মানুষের হৃদয় পর্যবেক্ষণ করেন। তাদের হৃদয়ের গভীরে তারা কী ধারণ করে রেখেছিল তিনি তা দেখেছিলেন: তাদের আন্তরিক অনুতাপ ও তাদের পাপের স্বীকারোক্তি, তাঁর প্রতি তাদের ঐকান্তিক বিশ্বাস, তাদের দুষ্ট কাজ কীভাবে তাঁর প্রকৃতিকে রাগান্বিত করেছে সে বিষয়ে তাদের গভীর সংবেদন, এবং যিহোবা ঈশ্বরের আসন্ন শাস্তিদানজনিত পরিণামস্বরূপ ভীতি। একই সঙ্গে যিহোবা ঈশ্বর তাদের প্রার্থনাও শুনেছিলেন, যা তাদের অন্তরের গভীর থেকে ক্ষরিত হয়েছিল, তাঁকে অনুনয় করে বলেছিল তিনি যেন আর তাদের প্রতি রাগান্বিত না থাকেন, যাতে তারা এই বিপর্যয় এড়াতে পারে। ঈশ্বর যখন এইসব বাস্তব সত্যকে লক্ষ্য করেন, তখন তাঁর রোষ একটু-একটু করে বিলীন হয়ে যায়। তাঁর রোষ পূর্বে যত ভয়ানকই থাকুক না কেন, তিনি যখন এই মানুষগুলির হৃদয়ের গভীরে আন্তরিক অনুতাপ লক্ষ্য করেন, তাঁর হৃদয় বিগলিত হয়, আর তাই তিনি তাদের উপর বিপর্যয় বয়ে আনতে পারেন না, এবং তাদের প্রতি তিনি আর রুষ্ট রইলেন না। পরিবর্তে, তাদের প্রতি তিনি তাঁর করুণা ও সহিষ্ণুতার প্রসার অব্যাহত রাখলেন এবং তাদের পথনির্দেশ দান ও রসদ সরবরাহ চালিয়ে গেলেন।

তুমি যদি বিশ্বাস করো যে ঈশ্বর সত্য, তাহলে তুমি প্রায়শই তাঁর তত্ত্বাবধান লাভ করবে

নীনবীর মানুষদের প্রতি ঈশ্বরের অভিপ্রায়ের পরিবর্তনের সঙ্গে কোনো দ্বিধা অথবা দ্ব্যর্থবোধক বা অস্পষ্ট কিছু সম্পৃক্ত ছিল না। বরং, এটা ছিল বিশুদ্ধ রাগ থেকে বিশুদ্ধ সহিষ্ণুতায় রূপান্তর। ঈশ্বরের সারসত্যের এটি হল একটি প্রকৃত উদ্ঘাটন। ইশ্বর তাঁর কাজকর্মে কখনো অস্থিরমতি বা দ্বিধাগ্রস্ত নন; তাঁর কর্মের পিছনের নীতি ও উদ্দেশ্য সমস্তই পরিষ্কার ও স্বচ্ছ, বিশুদ্ধ ও ত্রুটিহীন, এদের মধ্যে নিশ্চিতভাবে কোনো কৌশল বা অভিসন্ধি মিশে নেই। বাক্যান্তরে, ঈশ্বরের সারসত্যে কোনো অন্ধকার বা অসাধুতা নেই। নীনবীবাসীদের প্রতি ঈশ্বর রাগান্বিত হয়েছিলেন কারণ তাদের দুষ্ট কর্ম তাঁর নজরে পড়েছিল; সেই সময় তাঁর রোষ উদ্ভূত হয়েছিল তাঁর সারসত্য থেকে। কিন্তু, তাঁর রোষ যখন প্রশমিত হয় এবং নীনবীর মানুষদের উপর আরেকবার যখন তিনি তাঁর সহিষ্ণুতা অর্পণ করেন, তখন যা কিছু তিনি উদ্ঘাটিত করেন তা-ও তাঁর আপন সারসত্যই ছিল। এই সমুদয় পরিবর্তনের কারণ ঈশ্বরের প্রতি মানুষের মনোভাবের পরিবর্তন। এই সমগ্র সময়কাল জুড়ে, ঈশ্বরের অলঙ্ঘণীয় প্রকৃতির কোনো পরিবর্তন হয়নি, ঈশ্বরের সহিষ্ণু সারসত্য অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, এবং ঈশ্বরের প্রেমময় ও করুণাঘন সারসত্যের কোনো রূপান্তর ঘটেনি। মানুষ যখন দুষ্ট কাজ করবে এবং ঈশ্বরকে কুপিত করবে, তাঁর ক্রোধ গিয়ে তাদের আঘাত করবে। যখন মানুষ প্রকৃতই অনুতাপ করবে, ঈশ্ব্বরের হৃদয় পরিবর্তিত হবে, এবং তাঁর কোপ প্রশমিত হবে। যখন মানুষ অনমনীয় ঈশ্বর-বিরোধিতা অব্যাহত রাখবে, তাঁর রোষ অপ্রতিহত রয়ে যাবে, এবং তাঁর ক্রোধ একটু-একটু করে তাদেরকে চেপে ধরতে থাকবে যতক্ষণ না তারা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। এটাই ঈশ্বরের প্রকৃতির সারসত্য। ঈশ্বর তাঁর ক্রোধই প্রকাশ করুন কি তাঁর করুণা ও মমতারই প্রকাশ ঘটান, মানুষের আচরণ, ব্যবহার এবং তাদের অন্তরের গভীরে ঈশ্বরের প্রতি তারা যে মনোভাব পোষণ করে—এগুলোই নির্ধারণ করে ঈশ্বরের প্রকৃতির উদ্ঘাটনের মাধ্যমে কীসের প্রকাশ ঘটবে। ঈশ্বর যদি কোনো মানুষের উপর ক্রমাগত তাঁর কোপ বর্ষণ করেন, এই মানুষটির হৃদয় নিঃসন্দেহে ঈশ্বরের বিরোধিতা করে। যেহেতু এই মানুষটি কখনো সত্যিকারের অনুতপ্ত হয়নি, ঈশ্বরের সামনে কখনো তার মাথা অবনত করেনি, বা ঈশ্বরের প্রতি কখনো প্রকৃত বিশ্বাস পোষণ করেনি, তাই কখনোই সে ঈশ্বরের করুণা ও সহিষ্ণুতা লাভ করেনি। কেউ যদি প্রায়শই ঈশ্বরের তত্ত্বাবধান, তাঁর করুণা ও তাঁর সহনশীলতা লাভ করে, তাহলে ব্যক্তিটির অন্তরে নিঃসন্দেহে ঈশ্বরের প্রতি প্রকৃত বিশ্বাস আছে, এবং তার হৃদয় ঈশ্বর-বিরোধী নয়। এই মানুষটি প্রায়শই ঈশ্বরের সামনে আন্তরিকভাবে অনুতাপ প্রকাশ করে; সে কারণেই, এই মানুষটির উপর এমনকি যদি ঈশ্বরের অনুশাসন বার-বার নেমেও আসে, তাঁর ক্রোধ নেমে আসবে না।

এই সংক্ষিপ্ত বিবরণটি মানুষকে ঈশ্বরের হৃদয় দর্শন করার, তাঁর সারসত্যের বাস্তবতা দর্শন করার, ঈশ্বরের রোষ ও তাঁর হৃদয় পরিবর্তন যে অকারণ নয় তা দেখার সুযোগ দেয়। যখন তিনি ক্রোধান্বিত ও যখন তাঁর মনোভাবের পরিবর্তন হয়েছে, এই দুই পরিস্থিতির মধ্যে ঈশ্বর সম্পূর্ণ বৈপরীত্য প্রদর্শন করা সত্ত্বেও, যে বৈপরীত্য মানুষকে বিশ্বাস করতে বাধ্য করায় যে ঈশ্বরের সারসত্যের এই দুটি দিক—তাঁর ক্রোধ ও তাঁর সহিষ্ণুতা—এই দুইয়ের মধ্যে একটা বিশাল বিচ্ছিন্নতা বা বৈপরীত্য রয়েছে—কিন্তু নীনবীবাসীদের অনুতাপের প্রতি ঈশ্বরের মনোভাব মানুষকে আরেকবার ঈশ্বরের প্রকৃত স্বভাবের আরেকটি দিক দর্শন করার সুযোগ দেয়। ঈশ্বরের হৃদয় পরিবর্তন প্রকৃতই মানুষকে আরেকবার ঈশ্বরের করুণা ও মমতার সত্যতাকে এবং ঈশ্বরের সারসত্যের প্রকৃত উদ্ঘাটনকে দেখতে দেয়। মানুষকে শুধু এই সারবত্তা স্বীকার করতে হবে যে ঈশ্বরের করুণা ও মমতা কোনো জনশ্রুতি নয়, তা কোনো বানানো গল্পগাথাও নয়। কারণ সেই মুহূর্তে ঈশ্বরের অনুভূতি ছিল সত্য, এবং ঈশ্বরের হৃদয় পরিবর্তনও ছিল সত্য—ঈশ্বর প্রকৃতই মানুষের উপর আরেকবার তাঁর করুণা ও সহিষ্ণুতা অর্পণ করেছিলেন।

নীনবীবাসীদের অন্তরের প্রকৃত অনুতাপ তাদেরকে ঈশ্বরের করুণাধন্য করে তোলে এবং তাদের নিজেদের পরিণতির পরিবর্তন ঘটায়

ঈশ্বরের হৃদয় পরিবর্তন ও তাঁর ক্রোধের মধ্যে কি কোনো পরস্পরবিরোধিতা ছিল? নিঃসন্দেহে ছিল না! তার কারণ হল, সেই নির্দিষ্ট সময়ে ঈশ্বরের সহিষ্ণুতার নিজস্ব হেতু ছিল। হেতুটা কী হতে পারে? তা বাইবেলে উল্লেখ করা হয়েছে: “সকল মানুষ তাদের পাপাচারী পন্থা থেকে মুখ ফেরালো” এবং “দুষ্কর্ম থেকে নিবৃত্ত হয়েছে।”

এই “কুপথ” বলতে কতিপয় মন্দ কর্মের প্রতি নির্দেশ করা হচ্ছে না, বরং পাপের সেই উৎসের প্রতি নির্দেশ করা হচ্ছে যেখান থেকে মানুষের আচরণ উদ্ভূত হয়। “কুপথ পরিত্যাগ করা”-র অর্থ হল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আর কখনো এই কাজগুলি করবে না। অর্থাৎ, তারা আর কখনো এমন মন্দ আচরণ করবে না; তাদের কাজগুলির পদ্ধতি, উৎস, উদ্দেশ্য, অভিপ্রায় ও নীতি, সবই পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছে; তাদের হৃদয়ে উপভোগ ও আনন্দের সঞ্চার করতে তারা ওই পদ্ধতি ও নীতিগুলি আর কখনো ব্যবহার করবে না। “দুষ্কর্ম থেকে নিবৃত্ত হয়েছে” বাক্যে “নিবৃত্ত হওয়া” বলতে বোঝায় পরিত্যাগ করা বা বাতিল করে দেওয়া, অতীতের সঙ্গে সকল সম্পর্ক ছেদ করা এবং আর কখনো ফিরে না তাকানো। নীনবীর মানুষরা যখন তাদের হস্ত-সম্পাদিত হিংসা পরিহার করলো, তা তাদের প্রকৃত অনুতাপের প্রমাণ দিলো ও প্রতিনিধিত্ব করলো। ঈশ্বর মানুষের বাহ্যিক অবয়ব ও তাদের হৃদয়, উভয়ই পর্যবেক্ষণ করেন। নীনবীবাসীদের হৃদয়ে ঈশ্বর যখন সন্দেহাতীত ভাবে অকৃত্রিম অনুতাপ লক্ষ্য করলেন এবং এটাও লক্ষ্য করলেন যে তারা তাদের কুপথ ত্যাগ করেছে এবং তাদের হস্ত-সম্পাদিত হিংসা পরিহার করেছে, তখন তিনি তাঁর মনোভাব পরিবর্তন করলেন। অর্থাৎ, এই লোকগুলির আচরণ ও ব্যবহার এবং কাজ করার বিভিন্ন পদ্ধতি, সেই সাথে তাদের অকৃত্রিম স্বীকারোক্তি ও তাদের অন্তরের পাপ-জনিত অনুতাপের কারণে ঈশ্বরের মনোভাবের পরিবর্তন ঘটে, তাঁর অভিপ্রায়ের পরিবর্তন ঘটে, তিনি তাঁর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেন এবং তাদের শাস্তি না দেওয়ার বা ধ্বংস না করার সিদ্ধান্ত নেন। এইভাবে, নীনবীর লোকজন নিজেদের জন্য এক পৃথক ফলাফল অর্জন করে। তারা তাদের নিজেদের জীবন পুনরুদ্ধার করে এবং একই সঙ্গে ঈশ্বরের করুণা ও সহিষ্ণুতা অর্জন করে, এবং সেই মুহুর্তে ঈশ্বরও তাঁর ক্রোধ প্রত্যাহার করে নেন।

—বাক্য, খণ্ড ২, ঈশ্বরকে জানার প্রসঙ্গে, স্বয়ং অনন্য ঈশ্বর ২

পূর্ববর্তী: আন্তরিক অনুশোচনার মাধ্যমে মানুষ ঈশ্বরের করুণা ও সহিষ্ণুতা লাভ করে (পর্ব ১)

পরবর্তী: আন্তরিক অনুশোচনার মাধ্যমে মানুষ ঈশ্বরের করুণা ও সহিষ্ণুতা লাভ করে (পর্ব ৩)

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।

সেটিংস

  • লেখা
  • থিমগুলি

ঘন রং

থিমগুলি

ফন্টগুলি

ফন্ট সাইজ

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

পৃষ্ঠার প্রস্থ

বিষয়বস্তু

অনুসন্ধান করুন

  • এই লেখাটি অনুসন্ধান করুন
  • এই বইটি অনুসন্ধান করুন

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন