সৃষ্টিকর্তার সার্বভৌমত্ব জানার সুযোগ হারাবেন না

উপরে বর্ণিত ছয়টি সন্ধিক্ষণ হল স্রষ্টার দ্বারা নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়, যার মধ্য দিয়ে প্রত্যেক সাধারণ মানুষকে তাদের জীবনে যাত্রা করতে হয়। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে, এই সন্ধিক্ষণের প্রত্যেকটিই বাস্তব, কোনোটিকেই এড়িয়ে যাওয়া যায় না এবং সবই সৃষ্টিকর্তার পূর্বনির্ধারণ ও সার্বভৌমত্বের সাথে সম্পর্কযুক্ত। তাই, প্রতিটি মানুষের জন্য, এই সন্ধিক্ষণগুলির প্রতিটিই এক একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাস্থল, এবং এগুলির প্রত্যকটিই কীভাবে সাফল্যের সাথে অতিক্রম করবে তোমরা এখন সেই গুরুতর প্রশ্নের মুখোমুখি।

কয়েক দশক ধরে গড়া কোনো মানুষের জীবন দীর্ঘ বা হ্রস্ব কোনোটাই নয়। জন্ম এবং বিশ বছর বয়সের মধ্যবর্তী সময় চোখের পলকে চলে যায়, এবং জীবনের এই ক্ষণে কোনো মানুষকে প্রাপ্তবয়স্ক হিসাবে বিবেচনা করা হলেও, এই বয়সের ব্যক্তিরা মানুষের জীবন এবং ভাগ্য সম্পর্কে প্রায় কিছুই জানে না। অভিজ্ঞতা অর্জনের সাথে সাথে, তারা ধীরে ধীরে মধ্যবয়সে পা রাখে। ত্রিশ এবং চল্লিশের কোঠার ব্যক্তিরা জীবন এবং ভাগ্যের এক নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করে, তবে এই ব্যাপারগুলি সম্পর্কে তাদের ধারণা কিন্তু তখনও খুব অস্পষ্ট। কিছু মানুষ অন্তত তাদের চল্লিশ বছর বয়সে বুঝতে শুরু করে মানবজাতি এবং মহাবিশ্বকে, যা ঈশ্বর সৃষ্টি করেছিলেন, এবং উপলদ্ধি করে মানুষের জীবন কী, মানুষের ভাগ্য বলতেই বা কী বোঝায়। দীর্ঘকাল ধরে ঈশ্বরের অনুগামী এবং এখন মধ্যবয়সী হলেও কিছু মানুষ ঈশ্বরের সার্বভৌমত্বের সঠিক জ্ঞান এবং সংজ্ঞার অধিকারী হতে পারে না, সদর্থে সমর্পিত হওয়া তো আরো দূরের কথা। কিছু মানুষ আশীর্বাদ-প্রার্থনা ব্যতীত আর কিছুই চিন্তা করে না, এবং যদিও তারা বহু বছর ধরে বেঁচে আছে, তারা মানুষের ভাগ্যের উপর স্রষ্টার সার্বভৌমত্বের ন্যূনতম সত্যটিও জানে না বা উপলব্ধি করে না, এবং ঈশ্বরের সমন্বয়সাধন ও ব্যবস্থাপনায় সমর্পণের জন্য ক্ষুদ্রতম পদক্ষেপও নেয়নি। এই ধরনের মানুষ সম্পূর্ণরূপে মূর্খ এবং তাদের জীবন বৃথা।

মানুষের জীবনের অভিজ্ঞতা এবং মানুষের ভাগ্য সম্পর্কে জ্ঞানের ভিত্তিতে যদি মানুষের জীবনের সময়কালকে ভাগ করা হয় তবে সেগুলিকে মোটামুটিভাবে তিনটি পর্যায়ে বিভক্ত করা যেতে পারে। প্রথম পর্যায় হল যৌবন, যা জন্ম থেকে মধ্য বয়সের মধ্যে বা জন্ম থেকে ত্রিশ বছর বয়স পর্যন্ত। দ্বিতীয় পর্যায় হল পরিণতি প্রাপ্তির সময়, মধ্য বয়স থেকে বার্ধক্য, বা ত্রিশ থেকে ষাট পর্যন্ত। এবং তৃতীয় পর্যায় হল একজনের পরিণত বয়স, যা বার্ধক্যের শুরুতে, অর্থাৎ ষাট থেকে শুরু করে, পৃথিবী থেকে বিদায় নেওয়া পর্যন্ত স্থায়ী হয়। অর্থাৎ, জন্ম থেকে মধ্যবয়স পর্যন্ত, ভাগ্য এবং জীবন সম্পর্কে বেশিরভাগ মানুষের জ্ঞান অন্যদের ধারণা অনুকরণ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ, এবং এগুলির কোনও বাস্তব, ব্যবহারিক উপাদান প্রায় নেই। এই সময়কালে, জীবনের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি এবং কীভাবে কোনো ব্যক্তি পৃথিবীতে তার পথ তৈরি করে, তা বেশ অগভীর এবং শিশুসুলভ। এটি মানুষের কিশোরবেলা। জীবনের সব সুখ-দুঃখের আস্বাদনের পরেই কোনো মানুষ ভাগ্য সম্পর্কে প্রকৃত উপলব্ধি লাভ করে, এবং—অবচেতনে, নিজের হৃদয়ের গভীরে—ধীরে ধীরে ভাগ্যের অপরিবর্তনীয়তা উপলব্ধি করতে পারে এবং ধীরে ধীরে বুঝতে পারে যে মানুষের ভাগ্যের উপর সৃষ্টিকর্তার সার্বভৌমত্ব সত্যই বিদ্যমান। এটি মানুষের পরিণত অবস্থা প্রাপ্তির সময়কাল। কোনো ব্যক্তি তার পরিণত বয়সে প্রবেশ করে যখন সে ভাগ্যের বিরুদ্ধে লড়াই বন্ধ করে, এবং যখন তারা বিবাদে আর আকৃষ্ট হতে ইচ্ছুক থাকে না, এবং পরিবর্তে, জীবনে তাদের অংশ জানে, দৈব-ইচ্ছার কাছে নতি স্বীকার করে, জীবনের অর্জন এবং ত্রুটিগুলি সংহত করে, এবং তাদের জীবনের বিষয়ে সৃষ্টিকর্তার রায়ের অপেক্ষা করে। এই তিনটি সময়কালে মানুষ যে বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধি অর্জন করে থাকে, তা বিবেচনা করে, সাধারণ পরিস্থিতিতে, সৃষ্টিকর্তার সার্বভৌমত্ব সম্পর্কে জানার সুযোগ খুব বৃহৎ নয়। যদি কেউ ষাট বছর অবধি জীবিত থাকে, তবে ঈশ্বরের সার্বভৌমত্ব জানার জন্য তার মাত্র ত্রিশ বছরের মত সময় আছে; যদি কেউ দীর্ঘ সময় ধরে তা জানতে চায়, তবে এটি কেবল তখনই সম্ভব যদি সে দীর্ঘজীবী হয়, অন্তত এক শতাব্দী বেঁচে থাকতে পারে। তাই আমি বলি, মানুষের অস্তিত্বের স্বাভাবিক নিয়ম অনুসারে, যদিও এটি খুব দীর্ঘ প্রক্রিয়া যখন কেউ প্রথম স্রষ্টার সার্বভৌমত্ব জানার বিষয়টির মুখোমুখি হয় তখন থেকে যখন কেউ সেই সার্বভৌমত্বের সত্যকে চিনতে সক্ষম হয়, এবং তারপর থেকে যতক্ষণ না কেউ তাতে সম্পূর্ণ সমর্পিত হতে সক্ষম হয়, যদি কেউ প্রকৃতপক্ষে বছরগুলি গণনা করে, তবে ত্রিশ বা চল্লিশটির বেশি বছর নেই যার মধ্যে এই পুরস্কারগুলি অর্জনের সুযোগ থাকে। এবং প্রায়শই, মানুষ আশীর্বাদ-প্রপ্তির বাসনায় এবং তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণে আত্মহারা হওয়ায় বুঝতে পারে না যে মানবজীবনের সারবত্তা কোথায় রয়েছে এবং উপলব্ধি করতে পারে না সৃষ্টিকর্তার সার্বভৌমত্বকে জানার গুরুত্ব। এই ধরনের লোকেরা মানবজীবন এবং স্রষ্টার সার্বভৌমত্ব অনুভব করার জন্য মানব জগতে প্রবেশের এই মূল্যবান সুযোগটিকে লালন করে না এবং তারা উপলব্ধি করে না যে সৃষ্টিকর্তার ব্যক্তিগত নির্দেশনা পাওয়া কোনো সৃষ্ট সত্তার জন্য কতটা মূল্যবান। তাই আমি বলি, যারা চায় ঈশ্বরের কাজ দ্রুত শেষ হয়ে যাক, যারা চায় যে ঈশ্বর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মানুষের শেষের ব্যবস্থা করবেন যাতে তারা অবিলম্বে প্রকৃত ঈশ্বরকে দেখতে পায় এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আশীর্বাদ লাভ করতে পারে—অবাধ্যতার অপরাধে তারা নিকৃষ্টতম দোষী এবং চরম মূর্খ। অন্যদিকে, যারা তাদের সীমিত সময়ের মধ্যে সৃষ্টিকর্তার সার্বভৌমত্ব জানার এই অনন্য সুযোগটি উপলব্ধি করতে চায়, তারাই সকল মানুষের মধ্যে জ্ঞানী, প্রখর ধীশক্তির অধিকারী। এই দুটি ভিন্ন আকাঙ্ক্ষা দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি এবং সাধনা প্রকাশ করে: যারা আশীর্বাদ খোঁজে তারা স্বার্থপর ও নীচ এবং ঈশ্বরের ইচ্ছার প্রতি অবিবেচক, কখনই ঈশ্বরের সার্বভৌমত্ব জানতে চায় না, কখনও এটির কাছে আত্মসমর্পণ করতে চায় না, কেবল যথেচ্ছ জীবনযাপন করতে চায়। তারা অচিন্ত্যনীয়ভাবে অধঃপতিত, এবং এই শ্রেণীর মানুষই ধ্বংস হয়ে যাবে। যারা ঈশ্বরকে জানতে চায় তারা তাদের আকাঙ্ক্ষা পরিহার করতে সক্ষম হয়, ঈশ্বরের সার্বভৌমত্ব এবং ঈশ্বরের ব্যবস্থার কাছে সমর্পিত হতে ইচ্ছুক, এবং তারা এমন ধরনের মানুষ হতে সচেষ্ট যারা ঈশ্বর-কর্তৃত্বের কাছে সমর্পিত এবং ঈশ্বরের ইচ্ছা পূরণ করে। এই ধরনের মানুষ ঈশ্বরের আশীর্বাদের আলোকে জীবনযাপন করে এবং তারা অবশ্যই ঈশ্বরের দ্বারা প্রশংসিত হবে। মানুষের মতামত যাই হোক না কেন তা নিরর্থক এবং ঈশ্বরের কাজ কতটা সময় নেবে সে ব্যাপারে মানুষের বলার কিছু নেই। মানুষের জন্য মঙ্গলকর হলো ঈশ্বরের সমন্বয়সাধন এবং সার্বভৌমত্বের কাছে আত্মসমর্পণ করা। তুমি যদি ঈশ্বরের সমন্বয়সাধনের কাছে নিজেকে সমৰ্পণ না করো, তবে কি পারবে তুমি? ঈশ্বরের কি তার ফলে কোনো ক্ষতি হবে? ঈশ্বরের সমন্বয়সাধনের কাছে নিজেকে সমৰ্পণ না করে যদি তুমি নিজেই নিজের দায়িত্ব নিতে সচেষ্ট হও, তাহলে তোমার সিদ্ধান্ত নেহাতই মূর্খের মতো, এবং শেষ পর্যন্ত ক্ষতির সম্মুখীন হবে একমাত্র তুমিই। শুধুমাত্র মানুষ যদি যথাশীঘ্র সম্ভব ঈশ্বরের সাথে সহযোগিতা করে, যদি সত্ত্বর তাঁর সুসমন্বয় গ্রহণ করে, তাঁর কর্তৃত্বকে জানতে চায় এবং তিনি মানুষের জন্য যা করেছেন তা উপলব্ধি করে, তবে তাদের আশা আছে। একমাত্র এইভাবেই তাদের জীবন বৃথা যাবে না এবং তারা পরিত্রাণ লাভ করবে।

—বাক্য, খণ্ড ২, ঈশ্বরকে জানার প্রসঙ্গে, স্বয়ং অনন্য ঈশ্বর ৩

পূর্ববর্তী: ষষ্ঠ সন্ধিক্ষণ: মৃত্যু

পরবর্তী: মানুষের ভাগ্যের উপর ঈশ্বরের সার্বভৌমত্ব—এই সত্য অপরিবর্তনীয়

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।

সম্পর্কিত তথ্য

তৃতীয় দিবসে, ঈশ্বরের বাক্যসমূহ জন্ম দেয় পৃথিবী এবং সমুদ্রের এবং ঈশ্বরের কর্তৃত্ব বিশ্বে প্রাণসঞ্চার করে

এরপর, পাঠ করা যাক আদিপুস্তক ১:৯-১১-এর প্রথম বাক্যটি: “ঈশ্বর বললেন, আকাশের নীচে সমস্ত জলরাশি এক স্থানে সংহত হোক, প্রকাশিত হোক শুষ্ক ভূমি!”...

চতুর্থ দিবসে, ঈশ্বর আবার তাঁর কর্তৃত্ব প্রয়োগ করায় মানবজাতির বিভিন্ন ঋতু, দিন এবং বছরগুলি সৃষ্টি হয়

সৃষ্টিকর্তা তাঁর পরিকল্পনা সম্পাদনের জন্য তাঁর বাক্যসমূহের ব্যবহার করেছিলেন, এবং এইভাবে তিনি তাঁর পরিকল্পনার প্রথম তিন দিবস অতিবাহিত...

পঞ্চম দিবসে, বিবিধ এবং বৈচিত্র্যময় গঠনের জীবন বিভিন্ন উপায়ে সৃষ্টিকর্তার কর্তৃত্ব প্রদর্শন করে

শাস্ত্রে বলা হয়েছে, “ঈশ্বর বললেন, জলরাশি পূর্ণ হোক নানা জাতির জলচর প্রাণীতে এবং পৃথিবীর উপরে আকাশে উড়ে বেড়াক পক্ষীকুল। ঈশ্বর সৃষ্টি করলেন...

সেটিংস

  • লেখা
  • থিমগুলি

ঘন রং

থিমগুলি

ফন্টগুলি

ফন্ট সাইজ

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

পৃষ্ঠার প্রস্থ

বিষয়বস্তু

অনুসন্ধান করুন

  • এই লেখাটি অনুসন্ধান করুন
  • এই বইটি অনুসন্ধান করুন

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন