মানুষের ভাগ্যের উপর ঈশ্বরের সার্বভৌমত্ব—এই সত্য অপরিবর্তনীয়

আমি যা বলেছি সেগুলি সব শোনার পর, ভাগ্য সম্পর্কে তোমাদের ধারণার কি পরিবর্তন হয়েছে? মানুষের ভাগ্যের উপর ঈশ্বরের সার্বভৌমত্বের বিষয়টি তুমি কীভাবে অনুধাবন করো? সহজভাবে বলতে গেলে, ঈশ্বরের কর্তৃত্বের অধীনে, প্রত্যেক ব্যক্তি সক্রিয় বা নিষ্ক্রিয়ভাবে তাঁর সার্বভৌমত্ব এবং তাঁর ব্যবস্থাগুলি গ্রহণ করে এবং কোনো ব্যক্তি তার জীবনে যতই সংগ্রাম করুক বা, যতই বঙ্কিম হোক তার চলার পথ, শেষ পর্যন্ত তাকে ইশ্বরের এঁকে দেওয়া তার ভাগ্যের কক্ষপথে ফিরে আসতেই হয়। এটি স্রষ্টার কর্তৃত্বের অপ্রতিরোধ্যতা এবং মহাবিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ এবং পরিচালনায় তাঁর কর্তৃত্বের কাজ করার পদ্ধতি। এই অদম্যতা, নিয়ন্ত্রণ এবং শাসনের এই রূপ, এবং নিয়মের এই শৃঙ্খলের ফলেই সমস্ত কিছুর জীবন নির্দেশিত হয়, যা কোনো প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই মানুষকে বারবার পুনর্জন্মের অনুমতি দেয়, যা বিশ্বকে নিয়মিত ঘূর্ণায়মান রাখে, দিনের পর দিন বছরের পর বছর। তোমরা এই সব ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছো এবং সেগুলিকে বুঝতে পারো, তা আপাতভাবে হোক বা গভীরভাবে, এবং বোঝার গভীরতা নির্ভর করে তোমাদের উপলব্ধি ও সত্যের জ্ঞান, এবং ঈশ্বর সম্পর্কে জ্ঞানের উপর। সত্যের বাস্তবতা তুমি কতটা ভালভাবে জানো, ঈশ্বর-বাক্য কতটা উপলব্ধি করেছো, কত ভালভাবে ঈশ্বরের সারসত্য এবং স্বভাব জানো—এই সবই ঈশ্বরের সার্বভৌমত্ব এবং ব্যবস্থা সম্পর্কে তোমার উপলব্ধির গভীরতার প্রতিনিধিত্ব করে। মানুষের সমর্পণের উপর কি নির্ভর করে ঈশ্বরের সার্বভৌমত্ব এবং ব্যবস্থাপনার অস্তিত্ব? ঈশ্বর যে এই কর্তৃত্বের অধিকারী তা কি নির্ধারিত হয় মানুষের বশ্যতা স্বীকার দ্বারা? পরিস্থিতি নির্বিশেষে ঈশ্বরের কর্তৃত্ব বিদ্যমান। সকল পরিস্থিতিতে, ঈশ্বর প্রতিটি মানুষের ভাগ্য এবং সব কিছুই তাঁর ভাবনা এবং ইচ্ছা অনুসারে নির্দেশ দেন এবং ব্যবস্থা করেন। মানুষ বদলালেও এটির কোনো পরিবর্তন হবে না; এটি মানব—ইচ্ছা নিরপেক্ষ। সময়, স্থান এবং ভৌগোলিক কোনো পরিবর্তন দ্বারা এটির পরিবর্তন করা যায় না, কারণ ঈশ্বরের এই কর্তৃত্বই তাঁর সারসত্য। ঈশ্বরের সার্বভৌমত্ব জানতে এবং গ্রহণ করতে মানুষ সমর্থ কিনা, এবং এটির কাছে আত্মসমর্পণ করতে মানুষ সক্ষম কিনা—এই বিবেচনার কোনোটিই মানুষের ভাগ্যের উপর ঈশ্বরের সার্বভৌমত্বের বাস্তবতাকে সামান্যতমও পরিবর্তন করে না। অর্থাৎ, ঈশ্বরের সার্বভৌমত্বের প্রতি মানুষের মনোভাবই যাই হোক না কেন, এই সত্যটিকে কোনোভাবেই কেউ পরিবর্তন করতে পারে না যে ঈশ্বরের সার্বভৌমত্ব মানুষের ভাগ্য এবং সব কিছুর উপর প্রতিষ্ঠিত। যদি তুমি ঈশ্বরের সার্বভৌমত্বের কাছে আত্মসমর্পণ না-ও করো, তবুও তিনি তোমার ভাগ্যের নির্দেশদাতা; এমনকি তুমি তাঁর সার্বভৌমত্ব জানতে না পারলেও, তাঁর কর্তৃত্ব বিদ্যমান। ঈশ্বরের কর্তৃত্ব এবং মানুষের ভাগ্যের উপর ঈশ্বরের সার্বভৌমত্বের বাস্তবতা মানুষের ইচ্ছা—নিরপেক্ষ, এবং মানুষের পক্ষপাত ও পছন্দ অনুসারে পরিবর্তিত হয় না। ঈশ্বরের কর্তৃত্ব সর্বত্র, প্রতি ঘন্টায়, প্রতিটি মুহূর্তে। বিলুপ্ত হতে পারে স্বর্গ এবং পৃথিবী, কিন্তু তাঁর কর্তৃত্ব কখনই লোপ পাবে না, কারণ তিনি স্বয়ং ঈশ্বর, তিনি অনন্য কর্তৃত্বের অধিকারী, এবং কোনো মানুষ, ঘটনা বা বস্তু, স্থান বা ভূগোল দ্বারা তাঁর কর্তৃত্ব নিয়ন্ত্রিত বা সীমাবদ্ধ নয়। সর্বদা, ঈশ্বর তাঁর কর্তৃত্ব প্রয়োগ করেন, প্রদর্শন করেন তাঁর শক্তি, তাঁর পরিচালনার কাজ চালিয়ে যান যেমন তিনি সর্বদাই করেছেন। সমস্ত কিছুকে তিনি শাসন করেন, পালন করেন সব কিছুর, সমস্ত কিছুর সমন্বয়সাধন করেন—ঠিক যেমন তিনি চিরকাল করে আসছেন। কেউ এটি পরিবর্তন করতে পারবে না। এটি ধ্রুব সত্য, যা অনাদিকাল থেকে অপরিবর্তনীয়!

—বাক্য, খণ্ড ২, ঈশ্বরকে জানার প্রসঙ্গে, স্বয়ং অনন্য ঈশ্বর ৩

পূর্ববর্তী: সৃষ্টিকর্তার সার্বভৌমত্ব জানার সুযোগ হারাবেন না

পরবর্তী: ঈশ্বরের কর্তৃত্বের কাছে সমর্পিত হতে ইচ্ছুক ব্যক্তির জন্য সঠিক মনোভাব এবং অনুশীলন

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।

সম্পর্কিত তথ্য

চতুর্থ দিবসে, ঈশ্বর আবার তাঁর কর্তৃত্ব প্রয়োগ করায় মানবজাতির বিভিন্ন ঋতু, দিন এবং বছরগুলি সৃষ্টি হয়

সৃষ্টিকর্তা তাঁর পরিকল্পনা সম্পাদনের জন্য তাঁর বাক্যসমূহের ব্যবহার করেছিলেন, এবং এইভাবে তিনি তাঁর পরিকল্পনার প্রথম তিন দিবস অতিবাহিত...

পঞ্চম দিবসে, বিবিধ এবং বৈচিত্র্যময় গঠনের জীবন বিভিন্ন উপায়ে সৃষ্টিকর্তার কর্তৃত্ব প্রদর্শন করে

শাস্ত্রে বলা হয়েছে, “ঈশ্বর বললেন, জলরাশি পূর্ণ হোক নানা জাতির জলচর প্রাণীতে এবং পৃথিবীর উপরে আকাশে উড়ে বেড়াক পক্ষীকুল। ঈশ্বর সৃষ্টি করলেন...

দ্বিতীয় দিবসে, ঈশ্বরের কর্তৃত্ব জলরাশির আয়োজন করে, এবং তৈরি করে নভোমণ্ডল এবং মানুষের বেঁচে থাকার জন্য সবচেয়ে মৌলিক একটি স্থান আবির্ভূত হয়

বাইবেলের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদটি পাঠ করা যাক: “ঈশ্বর বললেন, সৃষ্ট হোক নভোমণ্ডল, বিভক্ত করুক জলরাশিকে! ঈশ্বর এইভাবে নভোমণ্ডল সৃষ্টি করে তার...

ঈশ্বর হবাকে সৃষ্টি করলেন

আদিপুস্তক ২:১৮-২০ তারপর প্রভু পরমেশ্বর বললেন, মানুষের একা থাকা ভাল নয়, আমি তাকে তার যোগ্য এক সঙ্গিনী দেব। প্রভু পরমেশ্বর মৃত্তিকা থেকে...

সেটিংস

  • লেখা
  • থিমগুলি

ঘন রং

থিমগুলি

ফন্টগুলি

ফন্ট সাইজ

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

পৃষ্ঠার প্রস্থ

বিষয়বস্তু

অনুসন্ধান করুন

  • এই লেখাটি অনুসন্ধান করুন
  • এই বইটি অনুসন্ধান করুন

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন