ইয়োব নিজের কানে ঈশ্বরকে শ্রবণ করেছিল (পর্ব ২)

যদিও ঈশ্বর মানুষের থেকে প্রচ্ছন্ন থাকেন, কিন্তু সমস্ত বস্তুর মাঝে নিহিত তাঁর কর্মই তাঁকে জানার জন্য মানুষের পক্ষে যথেষ্ট

ইয়োব ঈশ্বরের চেহারা প্রত্যক্ষ করেনি বা তাঁর উচ্চারিত বাক্য শোনেনি, ব্যক্তিগতভাবে ঈশ্বরের কাজের অভিজ্ঞতা লাভ করা তো আরো দূরের কথা; তা সত্ত্বেও তার ঈশ্বর ভীতি এবং পরীক্ষার সময় তার সাক্ষ্য সকলেই প্রত্যক্ষ করেছিল, আর সেগুলো ঈশ্বর ভালবেসেছিলেন, আনন্দিত হয়েছিলেন, ও সেগুলোর প্রশংসাও করেছিলেন, এবং মানুষ সেগুলোকে ঈর্ষা করে ও শ্রদ্ধা করে, এছাড়াও সেগুলোর গুণকীর্তনও করে। তার জীবনে মহৎ বা অসাধারণ কিছু ছিল না: যেকোনো একজন সাধারণ মানুষের মতোই সে একটা বিশেষত্ত্বহীন জীবনযাপন করেছিল, সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে কাজে যেত আবার সূর্যাস্তের সময় বিশ্রাম নেওয়ার জন্য বাড়িতে ফিরে আসত। পার্থক্য হচ্ছে যে তার জীবনের বিশেষত্ত্বহীন অনেকগুলো দশকের সময় সে ঈশ্বরের পথের বিষয়ে অন্তর্দৃষ্টি লাভ করেছিল, এবং ঈশ্বরের বিশাল শক্তি ও সার্বভৌমত্বকে উপলব্ধি করতে ও বুঝতে পেরেছিল, যা অন্য কেউ কখনো পারেনি। সে অন্যান্য সাধারণ মানুষের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান ছিল না, তার জীবন যেমন বিশেষভাবে কাঠিন্যের মাঝে জীবনকে আঁকড়ে ধরে থাকার মতো এক জীবন ছিল না, আবার তেমনই তার অদৃশ্য কোনো বিশেষ দক্ষতাও ছিল না। তবে তার যা ছিল তা হচ্ছে একটা সৎ, দয়ালু, ও ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব, যে ব্যক্তিত্ব ন্যায্যতা, ন্যায়পরায়ণতা, ও ইতিবাচক বিষয়কে ভালোবাসত—যেসবের কোনোটাই বেশিরভাগ সাধারণ মানুষের থাকে না। সে ভালোবাসা ও ঘৃণার পার্থক্য অনুধাবন করেছিল, ন্যায়বিচার সম্পর্কিত উপলব্ধি তার ছিল, সে ছিল অদম্য ও অবিচল, এবং সে তার চিন্তাধারায় বিশদ বিবরণের প্রতি অত্যন্ত মনোযোগী ছিল। এইভাবেই, পৃথিবীতে তার বিশেষত্ত্বহীন জীবনযাপনের সময় সে ঈশ্বরের সম্পাদিত সমস্ত অসাধারণ বিষয় প্রত্যক্ষ করেছিল, এবং সে দেখেছিল তাঁর মহানুভবতা, পবিত্রতা, ও ন্যায়পরায়ণতা, দেখেছিল মানুষের জন্য তাঁর চিন্তা, অনুগ্রহ, ও সুরক্ষা, এবং দেখেছিল পরম ঈশ্বরের সম্মান ও কর্তৃত্ব। ইয়োব যে এই সমস্তকিছু অর্জন করতে পেরেছিল যা যেকোনো সাধারণের মানুষের অর্জনের ঊর্ধ্বে, তার প্রথম কারণ হচ্ছে তার একটা বিশুদ্ধ হৃদয় ছিল, আর সেই হৃদয় ছিল ঈশ্বরের মালিকানার অধীন এবং সৃষ্টিকর্তার দ্বারা পরিচালিত। দ্বিতীয় কারণ ছিল তার সাধনা: তার অনবদ্য ও নিখুঁত হওয়ার সাধনা, স্বর্গের ইচ্ছার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ একজন মানুষ হয়ে ওঠার সাধনা, যে ঈশ্বরের প্রিয়, এবং যে মন্দ কর্ম পরিত্যাগ করেছে। ঈশ্বরকে প্রত্যক্ষ করতে বা ঈশ্বরের বাক্য শুনতে অক্ষম হলেও ইয়োব এই বিষয়গুলোর অধিকারী ছিল এবং এগুলোর সাধনা করত; যদিও সে কখনো ঈশ্বরকে দেখেনি, কিন্তু ঈশ্বর যে উপায়ে সমস্ত কিছুর উপর শাসন করেন তা সে জানতে পেরেছিল, এবং ঈশ্বর যে প্রজ্ঞার মাধ্যমে তা করেন সেটাও উপলব্ধি করেছিল। ঈশ্বরের উচ্চারিত বাক্য কখনো না শুনলেও ইয়োব জানত, মানুষকে পুরস্কৃত করা এবং মানুষের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া, সব কাজই ঈশ্বরের নির্দেশ। তার জীবনের বছরগুলো কোনো সাধারণ ব্যক্তির থেকে আলাদা না হলেও, সে তার জীবনের বিশেষত্ত্বহীন হওয়াকে সমস্ত কিছুর উপর ঈশ্বরের সার্বভৌমত্ব বিষয়ে তার জ্ঞানকে প্রভাবিত করতে দেয়নি, বা তার ঈশ্বর ভীতি ও মন্দ কর্ম পরিত্যাগের পথ অনুসরণের উপর প্রভাব ফেলতে দেয়নি। তার দৃষ্টিতে, সমস্ত কিছুর বিধান ঈশ্বরের কর্মে পরিপূর্ণ, এবং কোনো একজনের জীবনের যেকোনো অংশেই ঈশ্বরের সার্বভৌমত্ব প্রত্যক্ষ করা সম্ভব। সে ঈশ্বরকে দেখেনি, কিন্তু উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছিল যে ঈশ্বরের কাজ সর্বত্র ছড়িয়ে রয়েছে, আর পৃথিবীতে তার বিশেষত্ত্বহীন জীবনের প্রতিটা কোণেই সে ঈশ্বরের অসাধারণ ও বিস্ময়কর কাজ দেখতে ও উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছিল, এবং ঈশ্বরের বিস্ময়কর আয়োজনও প্রত্যক্ষ করতে পেরেছিল। ঈশ্বরের প্রচ্ছন্ন ও নীরব থাকা ঈশ্বরের কর্মের বিষয়ে ইয়োবের উপলব্ধিতে বাধা সৃষ্টি করেনি, আবার এগুলো সমস্ত কিছুর উপর ঈশ্বরের সার্বভৌমত্বের বিষয়ে তার জ্ঞানকেও প্রভাবিত করেনি। যে ঈশ্বর সমস্তকিছুর মধ্যে প্রচ্ছন্ন রয়েছেন, নিজের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় সেই ঈশ্বরের সার্বভৌমত্ব ও আয়োজনের উপলব্ধিই ছিল ইয়োবের জীবন। নিজের দৈনন্দিন জীবনে সে সেইসাথে ঈশ্বরের হৃদয়ের কণ্ঠস্বর ও ঈশ্বরের বাক্য শুনেছিল এবং উপলব্ধি করতে পেরেছিল, যিনি সমস্তকিছুর মধ্যে নীরব থেকেও সমস্তকিছুর বিধান পরিচালনা করার মাধ্যমে তাঁর হৃদয়ের কণ্ঠস্বর ও তাঁর বাক্য প্রকাশ করেন। তাহলে দেখতে পাচ্ছ, মানুষের মধ্যে যদি ইয়োবের মতো মানবিকতা ও সাধনা থাকে, তাহলে তারা ইয়োবের মতো একই উপলব্ধি ও জ্ঞান অর্জন করতে পারে, এবং তার মতোই সমস্তকিছুর উপর ঈশ্বরের সার্বভৌমত্বের উপলব্ধি ও জ্ঞান অর্জন করতে পারে। ঈশ্বর ইয়োবের কাছে আবির্ভূত হননি বা তার সাথে কথা বলেননি, কিন্তু সে নিখুঁত ও ন্যায়পরায়ণ হতে, এবং ঈশ্বর ভীতি অর্জন করতে ও মন্দ কর্ম পরিত্যাগে সক্ষম হয়েছিল। অন্য ভাষায়, ঈশ্বর মানুষের কাছে আবির্ভূত না হলেও বা তার সাথে কথা না বললেও, সমস্তকিছুর মধ্যে ঈশ্বরের কাজ এবং সমস্ত কিছুর উপর তাঁর সার্বভৌমত্বই ঈশ্বরের অস্তিত্ব, ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের বিষয়ে অবগত হয়ে ওঠার জন্য মানুষের পক্ষে যথেষ্ট, এবং ঈশ্বরের ক্ষমতা ও কর্তৃত্বই মানুষকে ঈশ্বরে ভীতির ও মন্দ কর্ম পরিত্যাগের পথ অনুসরণ করানোর পক্ষে যথেষ্ট। যেহেতু ইয়োবের মতো একজন সাধারণ মানুষ ঈশ্বরে ভীতি ও মন্দ কর্ম পরিত্যাগ অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিল, তাই প্রতিটা ঈশ্বর অনুগামী সাধারণ মানুষেরও তাতে সক্ষম হওয়া উচিত। এই কথাগুলো যুক্তিপূর্ণ সিদ্ধান্তের মতো শুনতে লাগলেও, এগুলো বস্তুর বিধানের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ নয়। তবুও প্রত্যাশার সাথে বাস্তব ঘটনা মেলেনি: মনে হতে পারে যে ঈশ্বরে ভীতি অর্জন ও মন্দ কর্ম পরিত্যাগ ইয়োব এবং একমাত্র ইয়োবের জন্যই সংরক্ষিত। “ঈশ্বরে ভীতি অর্জন ও মন্দ কর্ম পরিত্যাগ”-এর উল্লেখ করলেই মানুষ মনে করে যে তা শুধুমাত্র ইয়োবেরই করা উচিত, যেন ঈশ্বরে ভীতি ও মন্দ কর্ম পরিত্যাগের পথ ইয়োবের নামেই চিহ্নিত করা আছে, অন্যদের সাথে সেটার যেন কোনো সম্পর্কই নেই। এর কারণ পরিষ্কার: যেহেতু শুধুমাত্র ইয়োবই এমন একটা চরিত্রের অধিকারী ছিল যা সৎ, সহৃদয় ও ন্যায়নিষ্ঠ, এবং যা ন্যায্যতা, ন্যায়পরায়ণতা ও ইতিবাচক বিষয়গুলোকে ভালোবাসতো, তাই শুধু ইয়োবই ঈশ্বরে ভীতির ও মন্দ কর্ম পরিত্যাগের পথ অনুসরণ করতে সক্ষম হয়েছিল। তোমরা সকলে নিশ্চয়ই এখানে নিহিত তাৎপর্য উপলব্ধি করতে পেরেছ—যেহেতু কেউই এমন মানবিকতার অধিকারী নয় যা সৎ, দয়ালু, ও ন্যায়পরায়ণ, এবং যা ন্যায্যতা ও ন্যায়পরায়ণতা এবং ইতিবাচক সমস্তকিছু ভালোবাসে, তাই কেউই ঈশ্বরে ভীতি অর্জন ও মন্দ কর্ম পরিত্যাগ করতে পারে না, আর তাই মানুষ কখনও ঈশ্বরের আনন্দ লাভ করতে পারে না বা পরীক্ষার মধ্যে অবিচল থাকতে পারে না। এর অর্থ এটাও যে ব্যতিক্রম হিসাবে ইয়োবকে বাদ দিয়ে, সব মানুষ এখনও শয়তানের দ্বারা আবদ্ধ এবং বন্দী; তারা সকলেই শয়তানের দ্বারা অভিযুক্ত, আক্রান্ত, এবং নির্যাতিত। এদেরকেই শয়তান গ্রাস করার চেষ্টা করে, এবং এদের সকলেরই কোনো স্বাধীনতা নেই, এরা এমন বন্দি যাদের যাদের শয়তান আটক করে রেখেছে।

মানুষের হৃদয়ে যদি ঈশ্বরের প্রতি শত্রুতা থাকে, তাহলে মানুষ কী করে ঈশ্বরে ভীত হবে ও মন্দকে পরিত্যাগ করবে?

যেহেতু বর্তমানের মানুষেরা ইয়োবের মতো একই মানবতার অধিকারী নয়, তাহলে তাদের প্রকৃতি ও সারমর্ম কী, এবং ঈশ্বরের প্রতি তাদের মনোভাব কেমন? তারা কি ঈশ্বরকে ভয় পায়? তারা কি মন্দকে পরিত্যাগ করে? যারা ঈশ্বরে ভীত নয় বা মন্দকে পরিত্যাগ করে না, তাদের সংক্ষিপ্তসার শুধুমাত্র এই দুটো শব্দের মাধ্যমেই ব্যাখ্যা করা যায়: “ঈশ্বরের শত্রু”। তোমরা প্রায়ই এই দুটো শব্দ বলো, কিন্তু সেগুলোর প্রকৃত অর্থ কখনো জানতে পারোনি। “ঈশ্বরের শত্রু” শব্দগুলোর সারমর্ম হল: এই কথাগুলো বোঝায় না যে ঈশ্বর মানুষকে শত্রু হিসাবে দেখেন, বরং এর অর্থ হল মানুষই ঈশ্বরকে শত্রু বলে মনে করে। প্রথমত, যখন মানুষ ঈশ্বরকে বিশ্বাস করতে শুরু করে, তখন তাদের মধ্যে এমন কি কেউ আছে যার নিজস্ব লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, বা উচ্চাশা থাকে না? এমনকি যদিও তাদের একাংশ ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাস করে এবং তাঁর অস্তিত্ব প্রত্যক্ষ করেছে, তবুও ঈশ্বরের প্রতি তাদের বিশ্বাসে এখনও রয়েছে সেই উদ্দেশ্য, এবং ঈশ্বরের প্রতি তাদের বিশ্বাসের চূড়ান্ত লক্ষ্য হল তাঁর আশীর্বাদ এবং নিজেদের প্রার্থিত বস্তু লাভ করা। মানুষের জীবনের অভিজ্ঞতায়, তারা নিজেদের মনে প্রায়ই ভাবে: “আমি আমার পরিবার ও কর্মজীবন ঈশ্বরের জন্য ত্যাগ করেছি, আর তিনি আমায় কী দিয়েছেন? আমাকে অবশ্যই এটা হিসাব করে দেখতে হবে আর নিশ্চিত হতে হবে—আমি কি সম্প্রতি কোন আশীর্বাদ লাভ করেছি? এই সময়ের মধ্যে আমি অনেক কিছু দিয়েছি, অনেক দৌড়ে বেড়িয়েছি, এবং অনেক কষ্ট পেয়েছি—ঈশ্বর কি প্রতিদানে আমায় কোনও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন? তিনি কি আমার ভালো কাজগুলো মনে রেখেছেন? আমার পরিণতি কেমন হবে? আমি কি ঈশ্বরের আশীর্বাদ পেতে সক্ষম হবো? ...” প্রত্যেক ব্যক্তি নিজেদের হৃদয়ের অভ্যন্তরে প্রতিনিয়ত এই ধরণের গণনা করে চলে, এবং ঈশ্বরের কাছে নিজেদের চাহিদা জানায় যাতে রয়েছে তাদের উদ্দেশ্য, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং এক লেনদেনের মানসিকতা। অর্থাৎ বলা যায় যে মানুষ নিজের হৃদয়ে প্রতিনিয়ত ঈশ্বরকে পরীক্ষা করছে, প্রতিনিয়ত ঈশ্বরের বিষয়ে পরিকল্পনা করছে, প্রতিনিয়ত তার ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যের জন্য ঈশ্বরের সঙ্গে তর্ক করছে, এবং ঈশ্বরের কাছ থেকে একটা বিবৃতি বার করে নেওয়ার চেষ্টা করছে, দেখতে চাইছে সে যা চায় ঈশ্বর তাকে তা দিতে পারেন কি না। একই সময়ে যখন সে ঈশ্বরের সাধনা করছে, তখনও মানুষ ঈশ্বরের সাথে ঈশ্বরসুলভ আচরণ করে না। মানুষ সবসময় ঈশ্বরের সঙ্গে বোঝাপড়াতে আসতে চেয়েছে, অবিরাম তাঁর কাছে চাহিদা প্রকাশ করে, এবং এমনকি তাঁকে প্রতি পদক্ষেপে চাপ দেয়, এক ইঞ্চি তাকে দেওয়া হলে এক মাইল নেওয়ার চেষ্টা করে। ঈশ্বরের সঙ্গে লেনদেনের চেষ্টা করার সময়, মানুষ তাঁর সঙ্গে বিতর্কেও জড়ায়, এমনকি এমনও কিছু মানুষ আছে যারা পরীক্ষার মধ্যে পড়লে, বা কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে, প্রায়শই দুর্বল, নিষ্ক্রিয়, এবং কাজে শ্লথ হয়ে পড়ে, এবং ঈশ্বরের বিষয়ে অভিযোগে পূর্ণ হয়ে ওঠে। যে সময় থেকে মানুষ প্রথম ঈশ্বরে বিশ্বাস করতে শুরু করেছে, তখন থেকেই সে ঈশ্বরকে একজন প্রাচুর্যে পরিপূর্ণ ভাণ্ডার মনে করেছে, সমস্ত পরিস্থিতিতে প্রভূত উপযোগিতাসম্পন্ন বলে বিবেচনা করেছে, এবং নিজেকে ঈশ্বরের সবচেয়ে বড় পাওনাদার বলে ভেবে নিয়েছে, যেন ঈশ্বরের কাছ থেকে আশীর্বাদ এবং প্রতিশ্রুতি পাওয়ার চেষ্টাটা তার জন্মগত অধিকার এবং বাধ্যতা, এদিকে ঈশ্বরের দায়িত্ব হল মানুষকে রক্ষা করা, তার পরিচর্যা করা, এবং তাকে সংস্থান যোগান দেওয়া। যারা ঈশ্বরে বিশ্বাস করে তাদের সকলের কাছে “ঈশ্বরে বিশ্বাস” করার মৌলিক জ্ঞান এরকমই, এবং এরকমই তাদের ঈশ্বর বিশ্বাসের ধারণার গভীরতম উপলব্ধি। মানুষের প্রকৃতি ও সারসত্য থেকে শুরু করে তার বিষয়গত সাধনা পর্যন্ত, কোথাও ঈশ্বর ভীতির সাথে কোনো সম্পর্ক নেই। মানুষের ঈশ্বর বিশ্বাসের লক্ষ্যের সাথে সম্ভবত ঈশ্বরের উপাসনা করার কোনো সম্পর্কই নেই। অর্থাৎ বলা যায় যে মানুষ কখনোই বিবেচনা করেনি বা উপলব্ধি করেনি যে ঈশ্বরে বিশ্বাস করতে হলে ঈশ্বরে ভীতি ও তাঁর উপাসনার প্রয়োজন। এইধরনের অবস্থার আলোকে মানুষের সারসত্য অত্যন্ত সুস্পষ্ট। কী সেই সারসত্য? তা হল, মানুষের হৃদয় বিদ্বেষপরায়ণ, তা বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রতারণা পোষণ করে, ন্যায় ও ধার্মিকতা এবং ইতিবাচক কোনোকিছুই ভালোবাসে না, এবং তা অবজ্ঞাজনক ও লোভী। মানুষের হৃদয় ঈশ্বরের জন্য এর চেয়ে বেশি অবরুদ্ধ আর হতে পারে না; সে কখনোই তার হৃদয় ঈশ্বরকে দেয়নি। ঈশ্বর কখনোই মানুষের প্রকৃত হৃদয় দেখেননি, বা তিনি কখনোই মানুষের দ্বারা পূজিত হননি। ঈশ্বর কত বড় মূল্য পরিশোধ করেন, বা তিনি কত কাজ করেন, বা মানুষকে কত সংস্থান যোগান দেন, সেসব নির্বিশেষে মানুষ এই সবকিছুর প্রতি অন্ধ ও চূড়ান্ত উদাসীন থাকে। মানুষ কখনোই ঈশ্বরকে তার হৃদয় অর্পণ করেনি, সে তার হৃদয়ের বিষয়ে শুধু নিজেই বিবেচনা করতে চায়, নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে চায়—এর অন্তর্নিহিত অর্থ হল মানুষ ঈশ্বরে ভীতি ও মন্দ কর্ম পরিত্যাগের পথ অনুসরণ করতে চায় না, অথবা ঈশ্বরের সার্বভৌমত্ব ও তাঁর আয়োজন মান্য করতে চায় না, বা ঈশ্বরকে ঈশ্বর হিসাবে উপাসনা করতেও চায় না। এটাই মানুষের বর্তমান অবস্থা। এখন চলো আবার ইয়োবের দিকেই ফেরা যাক। প্রথমত, সে কি ঈশ্বরের সঙ্গে কোনও বোঝাপড়া করেছিল? ঈশ্বর ভীতি ও মন্দ কর্ম পরিত্যাগের পথে অবিচল থাকার পিছনে কি তার কোনও প্রচ্ছন্ন অভিসন্ধি ছিল? সেই সময়ে, ঈশ্বর কি কাউকে অন্তিম সময়ের আগমনের বিষয়ে কিছু বলেছিলেন? সেই সময়ে, ঈশ্বর কারোর কাছেই অন্তিম অবস্থার বিষয়ে কোনও প্রতিশ্রুতি দেননি, এবং এই পটভূমিতে দাঁড়িয়ে ইয়োব ঈশ্বরে ভীতি ও মন্দ কর্ম পরিত্যাগে সক্ষম হয়েছিল। বর্তমানের মানুষের সঙ্গে কি ইয়োবের কোনও তুলনা চলে? তাদের মধ্যে প্রচুর অসমতা রয়েছে; তারা একেবারেই ভিন্ন দলে রয়েছে। যদিও ঈশ্বর সম্পর্কে ইয়োবের খুব বেশি জ্ঞান ছিল না, কিন্তু সে তার হৃদয় ঈশ্বরকে অর্পণ করেছিল এবং তার হৃদয় ঈশ্বরেরই ছিল। সে কখনোই ঈশ্বরের সঙ্গে কোনো লেনদেন করেনি, এবং তার ঈশ্বরের কাছে কোনও অতিরঞ্জিত আশা বা চাহিদা ছিল না; পরিবর্তে সে বিশ্বাস করত যে “যিহোবা দিয়েছিলেন, যিহোবাই ফিরিয়ে নিয়েছেন।” তাঁর জীবনের বহু বছরের ঈশ্বরে ভীতি ও মন্দ কর্ম পরিত্যাগের পথে দৃঢ় থেকে সে এটাই প্রত্যক্ষ করেছিল এবং অর্জন করেছিল। একইভাবে, “ঈশ্বরের হাত থেকে আমরা কি শুধু মঙ্গলই গ্রহণ করব? অমঙ্গল কিছুই গ্রহণ করব না?” এই কথায় যে অর্থ উপস্থাপিত হয়েছে তাও সে অর্জন করেছিল। তার জীবনের অভিজ্ঞতার সময়ে ঈশ্বরের প্রতি তার মনোভাব ও আনুগত্যের ফলে সে এই দুটো বাক্য প্রত্যক্ষ করেছিল ও উপলব্ধি করেছিল, এবং শয়তানের প্রলোভনের বিরুদ্ধে লড়াইতে জয়লাভের পক্ষে এগুলোই ছিল তার শক্তিশালী অস্ত্র, এবং ঈশ্বরের পক্ষে সাক্ষ্য বহন করার ক্ষেত্রে এগুলোই ছিল তার ভিত্তিমূল। এই পর্যায় পর্যন্ত এসে, তোমরা কি একজন ভালো মানুষ হিসাবে ইয়োবের ছবি আঁকতে পারছ? তোমরাও কি এমন মানুষ হওয়ার আশা করো? তোমরা কি শয়তানের প্রলোভনের মধ্যে দিয়ে যেতে ভয় পাও? তোমরা কি ঈশ্বরের কাছে এই প্রার্থনার সংকল্প নিচ্ছ যাতে তিনি ইয়োবের মতো একই পরীক্ষায় তোমাদের ফেলেন? নিঃসন্দেহে বেশিরভাগ মানুষই এই ধরনের প্রার্থনা করার সাহস করবে না। তাহলে, স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে যে তোমাদের বিশ্বাস দুঃখজনকভাবে ক্ষুদ্র; ইয়োবের তুলনায় তোমাদের বিশ্বাস একেবারেই উল্লেখ করার যোগ্যও নয়। তোমরা ঈশ্বরের শত্রু, তোমরা ঈশ্বরকে ভয় পাও না, ঈশ্বরের পক্ষে তোমাদের সাক্ষ্যে দৃঢ় থাকতে পারো না, এবং তোমরা শয়তানের আক্রমণ, অভিযোগ ও প্রলোভন জয় করতে অক্ষম। তোমরা কীভাবে ঈশ্বরের প্রতিশ্রুতি লাভ করার যোগ্য হতে পারো? ইয়োবের কাহিনী শুনে এবং মানুষকে উদ্ধার করার পিছনে ঈশ্বরের উদ্দেশ্য উপলব্ধি করে বা মানুষের পরিত্রাণের অর্থ উপলব্ধির পরে, এখন কি তোমাদের ইয়োবের মতো একই পরীক্ষা গ্রহণ করার মতো বিশ্বাস আছে? তোমাদের মধ্যে কি ঈশ্বর ভীতি ও মন্দ কর্ম পরিত্যাগের পথ অনুসরণ করার সামান্য সংকল্পটুকুও থাকা উচিত নয়?

ঈশ্বরের পরীক্ষার বিষয়ে কোনো ভ্রান্ত ধারনা রেখো না

ইয়োবের পরীক্ষার শেষে তার থেকে সাক্ষ্য লাভ করার পরে, ঈশ্বর সংকল্প করেছিলেন যে তিনি ইয়োবের মতো এক দল বা একাধিক দল মানুষকে অর্জন করবেন, তিনি এও সংকল্প করেছিলেন, শয়তান ঈশ্বরের সঙ্গে বাজি রেখে যে সব উপায়ে ইয়োবকে প্রলুব্ধ করেছিল, আক্রমণ করেছিল, ও তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছিল, সেইসব উপায়ে শয়তানের দ্বারা আর কাউকে আক্রমণ বা দুর্ব্যবহার পেতে দেবেন না; ঈশ্বর শয়তানকে দুর্বল, বোকা এবং অজ্ঞ মানুষের সঙ্গে এমন করার অনুমতি আর কখনোই দেননি—শয়তান যে ইয়োবকে প্রলুব্ধ করেছিল, সেটাই যথেষ্ট ছিল! শয়তানকে ইচ্ছেমত মানুষের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতে না দেওয়াটা ঈশ্বরেরই করুণা। ইয়োব যে শয়তানের প্রলোভন ও দুর্ব্যবহার সহ্য করেছিল, ঈশ্বরের কাছে সেটাই যথেষ্ট ছিল। ঈশ্বর আর কখনো শয়তানকে এমন কিছু করতে দেননি, কারণ ঈশ্বরের অনুসরণকারী মানুষের জীবন ও সমস্তকিছু ঈশ্বরের দ্বারা শাসিত ও সমন্বিত, এবং শয়তান ঈশ্বরের নির্বাচিত মানুষদের ইচ্ছামতো চালিত করার অধিকারী নয়—তোমাদের এই কথাটা খুব ভালো করে বুঝতে হবে! ঈশ্বর মানুষের দুর্বলতার প্রতি যত্নবান, এবং তার মূর্খতা ও অজ্ঞতা বুঝতে পারেন। যদিও যাতে মানুষকে সম্পূর্ণরূপে উদ্ধার করতে পারা যায়, সেজন্য ঈশ্বরকে তাদের শয়তানের হাতে তুলে দিতে হয়, কিন্তু মানুষকে যে বোকার মতো চালিত করা হচ্ছে এবং তারা শয়তানের দুর্ব্যবহারের শিকার হচ্ছে, তা তিনি দেখতে চান না, এবং মানুষ সবসময় যন্ত্রণা সহ্য করছে এমনও তিনি দেখতে চান না। মানুষ ঈশ্বরের দ্বারাই সৃষ্ট, এবং ঈশ্বর যে মানুষকে শাসন করেন ও সমস্তকিছুর আয়োজন করেন তা স্বর্গের দ্বারা নিরূপিত অভিষিক্ত এবং পৃথিবীর দ্বারা স্বীকৃত; এটা ঈশ্বরেরই দায়িত্ব, এবং ঈশ্বর এই কর্তৃত্বের দ্বারাই সমস্ত কিছুর ওপর শাসন করেন! ঈশ্বর শয়তানকে মানুষের সঙ্গে ইচ্ছামত দুর্ব্যবহার করার বা অসদাচরণ করার অনুমতি দেন না, তিনি মানুষকে বিপথগামী করার জন্য শয়তানকে বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করতেও দেন না, এবং তাছাড়াও, তিনি মানুষের প্রতি ঈশ্বরের সার্বভৌমত্বে শয়তানকে হস্তক্ষেপ করতে দেন না, বা যে সব বিধানের মাধ্যমে ঈশ্বর সমস্তকিছুর উপর শাসন করেন শয়তানকে সেগুলো পদদলিত করতে বা ধ্বংস করতেও দেন না, মানবজাতির পরিচালনা ও পরিত্রাণের মতো ঈশ্বরের মহান কাজকে তো নয়ই! ঈশ্বর যাদের উদ্ধার করতে চান, এবং যারা ঈশ্বরের সাক্ষ্য বহন করতে সক্ষম, তারাই হল ঈশ্বরের ছয় হাজার বছরের পরিচালনামূলক পরিকল্পনার মূল ও নির্যাস, ও সেইসাথে তাঁর ছয় হাজার বছরের কাজের জন্য তাঁর প্রচেষ্টার মূল্যও বটে। কীভাবে ঈশ্বর নির্দ্বিধায় এই মানুষগুলোকে শয়তানের হাতে তুলে দিতে পারেন?

ঈশ্বরের পরীক্ষার বিষয়ে মানুষ প্রায়শই উদ্বিগ্ন ও ভীত থাকে, অথচ তারা সর্বদা শয়তানের ফাঁদের মধ্যে বাস করছে, এক বিপজ্জনক এলাকায় বাস করছে যেখানে শয়তান তাদের আক্রমণ ও পীড়ন করে—তবুও তারা ভয় কাকে বলে জানে না, তারা অবিচলিত। ব্যাপারটা কী হচ্ছে? মানুষ যেটুকু দেখতে পায়, ঈশ্বরের প্রতি তার বিশ্বাস শুধু সেটুকুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। মানুষের জন্য ঈশ্বরের ভালোবাসা ও উদ্বেগ, বা মানুষের প্রতি তাঁর মমত্ব ও বিবেচনাকে সে বিন্দুমাত্র সমাদর করে না। বরং ঈশ্বরের পরীক্ষা, বিচার, ও শাস্তি, এবং তাঁর মহিমা ও ক্রোধ সম্পর্কে সামান্য উদ্বেগ ও ভয় থাকায়, ঈশ্বরের শুভ উদ্দেশ্য নিয়ে মানুষের ন্যূনতম উপলব্ধিও নেই। পরীক্ষার উল্লেখ করলেই মানুষের মনে হয় যেন ঈশ্বরের কোনো প্রচ্ছন্ন উদ্দেশ্য রয়েছে, কেউ কেউ তো এমনও মনে করে যে ঈশ্বরের মন্দ পরিকল্পনা রয়েছে, তারা জানে না ঈশ্বর তাদের সাথে আসলে কী করবেন; এইভাবে, ঈশ্বরের সার্বভৌমত্ব ও আয়োজনের প্রতি আনুগত্যের কথা সোচ্চারে ঘোষণা করার সাথেসাথেই তারা মানুষের উপর ঈশ্বরের সার্বভৌমত্ব ও মানুষের জন্য তাঁর আয়োজনের যথাসম্ভব বিরোধিতা করে ও সেগুলোকে প্রতিহত করে, কারণ তারা বিশ্বাস করে, সতর্ক না থাকলে ঈশ্বর তাদের ভুল পথে চালিত করবেন, তাদের ভাগ্যকে যদি তারা নিজের নিয়ন্ত্রণে না রাখে তাহলে তাদের যা আছে ঈশ্বর সেই সমস্তকিছু কেড়ে নিতে পারেন, এমনকি তাদের জীবনও শেষ হয়ে যেতে পারে। মানুষ শয়তানের শিবিরেই রয়েছে, কিন্তু সে কখনো শয়তানের দ্বারা নির্যাতিত হওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন হয় না, এবং সে শয়তানের দ্বারা নির্যাতিত হয়, কিন্তু শয়তানের কাছে বন্দী হয়ে পড়াকে ভয় করে না। সে শুধু বলতে থাকে যে ঈশ্বরের পরিত্রাণ সে স্বীকার করে, কিন্তু সে কখনোই ঈশ্বরের উপর বিশ্বাস করেনি বা এ কথা বিশ্বাস করেনি যে ঈশ্বর সত্যিই মানুষকে শয়তানের থাবা থেকে উদ্ধার করবেন। মানুষ যদি ইয়োবের মতো ঈশ্বরের সমন্বয়সাধন ও আয়োজনের কাছে সমর্পণ করতে পারে, এবং ঈশ্বরের হাতে নিজের সমস্ত সত্তাকে সঁপে দিতে পারে, তাহলে মানুষও কি পরিশেষে ইয়োবের মতোই ঈশ্বপ্রের আশীর্বাদ লাভ করবে না? মানুষ যদি ঈশ্বরের নিয়মকে গ্রহণ করতে পারে ও তাঁর নিয়মের কাছে সমর্পণ করতে পারে, তাহলে হারানোর কী আছে? তাই আমি তোমাদের পরামর্শ দেবো তোমাদের কাজে সতর্ক থাকতে, এবং তোমরা যা কিছুর সম্মুখীন হতে চলেছ সেগুলোর প্রতি সাবধান থাকতে। হঠকারী বা আবেগপ্রবণ হয়ো না, এবং ঈশ্বরের সাথে ও তিনি তোমাদের জন্য যে মানুষ, ঘটনা, ও বস্তুর আয়োজন করেছেন সেগুলোর সাথে তোমাদের উষ্ণ রক্ত, তোমাদের স্বাভাবিক প্রকৃতি বা তোমাদের কল্পনা ও পূর্বধারণার ভিত্তিতে আচরণ কোরো না; নিজেদের কাজে তোমাদের সতর্ক হতে হবে, এবং আরও বেশি প্রার্থনা ও অনুসন্ধান করতে হবে, যাতে ঈশ্বরের ক্রোধ জাগ্রত করে তোলা থেকে বিরত থাকতে পারো। এটা মনে রেখো!

—বাক্য, খণ্ড ২, ঈশ্বরকে জানার প্রসঙ্গে, ঈশ্বরের কর্ম, ঈশ্বরের স্বভাব এবং স্বয়ং ঈশ্বর ২

পূর্ববর্তী: ইয়োব নিজের কানে ঈশ্বরকে শ্রবণ করেছিল (পর্ব ১)

পরবর্তী: পরীক্ষা-পরবর্তী সময়ে ইয়োব

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।

সেটিংস

  • লেখা
  • থিমগুলি

ঘন রং

থিমগুলি

ফন্টগুলি

ফন্ট সাইজ

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

পৃষ্ঠার প্রস্থ

বিষয়বস্তু

অনুসন্ধান করুন

  • এই লেখাটি অনুসন্ধান করুন
  • এই বইটি অনুসন্ধান করুন

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন