ইয়োব নিজের কানে ঈশ্বরকে শ্রবণ করেছিল (পর্ব ১)

ইয়োবে ৯:১১ তিনি আমার সামনে দিয়ে চলে যান কিন্তু আমি তাঁকে দেখতে পাই না, চলে যান আমার পাশ দিয়ে আমি তাঁকে চিনতে পারি না।

ইয়োবে ২৩:৮-৯ দেখ, আমি পূর্ব দিকে গিয়েছি কিন্তু সেখানে তিনি নেই, পশ্চিমে গিয়েছি, সেখানেও তাঁকে পাইনি। আমি উত্তর দিকে তাঁকে খুঁজেছি কিন্তু তাঁর দেখা পাইনি, দক্ষিণ দিকে তাকিয়েছি কিন্তু দেখতে পাইনি তাঁকে।

ইয়োবে ৪২:২-৬ আমি জানি, তুমি সব কিছুই করতে পার, তোমার কোন সঙ্কল্প ব্যর্থ করা যায় না। তুমি বলেছ, তুমি কে যে অসার কথা দিয়ে, আমার প্রজ্ঞাকে আচ্ছন্ন করতে সাহস কর? সত্যিই, আমি যা বুঝি না তাই বলেছি, আমার অজানা পরামশ্চর্য বিষয় সম্পর্কে উক্তি করেছি। তুমি বলেছিলে শোন, আমি তোমাকে যা প্রশ্ন করি, তার উত্তর দাও। এর আগে আমি তোমার বিষয় কানে শুনেছিলাম কিন্তু এখন স্বচক্ষে তোমাকে দেখছি। তাই নিজের সম্পর্কে এখন আমি লজ্জিত ও মর্মাহত, ধূলায় ও ভস্মে বসে আমি তোমার কাছে নতি স্বীকার করছি।

যদিও ঈশ্বর নিজেকে ইয়োবের সম্মুখে প্রকাশ করেননি, কিন্তু ঈশ্বরের সার্বভৌমত্বে ইয়োবের বিশ্বাস ছিল

এই কথাগুলোর অভিঘাত কেমন? এর মধ্যে যে একটা সত্য আছে, তা কি তোমাদের মধ্যে একজনও উপলব্ধি করতে পেরেছে? প্রথমত, ইয়োব কী করে জানতে পেরেছিল যে ঈশ্বর বলে একজন আছেন? তারপর, সে কীভাবে জানল যে আকাশ, পৃথিবী এবং সমস্ত কিছু ঈশ্বরই শাসন করেন? এই দুটো প্রশ্নের উত্তর এই অনুচ্ছেদে আছে: “এর আগে আমি তোমার বিষয় কানে শুনেছিলাম কিন্তু এখন স্বচক্ষে তোমাকে দেখছি। তাই নিজের সম্পর্কে এখন আমি লজ্জিত ও মর্মাহত, ধূলায় ও ভস্মে বসে আমি তোমার কাছে নতি স্বীকার করছি।” এই বাক্যগুলো থেকে আমরা জানতে পারি যে ঈশ্বরকে নিজের চোখে প্রত্যক্ষ করার পরিবর্তে, সে কিংবদন্তি থেকে ঈশ্বরের বিষয়ে জানতে পেরেছিল। এই সমস্ত পরিস্থিতিতেই সে ঈশ্বরকে অনুসরণ করার পথে চলতে শুরু করেছিল, তার পরেই সে নিজের জীবনে এবং সমস্ত কিছুর মধ্যে ঈশ্বরের অস্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছিল। এখানে একটা অনস্বীকার্য সত্য রয়েছে—কী সেই সত্য? ঈশ্বরে ভীতি ও মন্দ কর্ম পরিত্যাগের পথ অনুসরণে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও, ইয়োব কখনোই ঈশ্বরকে প্রত্যক্ষ করেনি। এই দিক দিয়ে দেখলে, সে কি বর্তমানের মানুষদের মতোই ছিল না? ইয়োব কখনো ঈশ্বরকে প্রত্যক্ষ করেনি, যার তাৎপর্য হল, ঈশ্বরের সম্পর্কে শুনে থাকলেও সে জানত না ঈশ্বর কোথায় রয়েছেন, বা ঈশ্বর ঠিক কী রকম, অথবা ঈশ্বর কী করছেন। এগুলো সবই বিষয়গত ব্যাপার; নিরপেক্ষভাবে বলতে গেলে, যদিও সে ঈশ্বরকে অনুসরণ করতো, কিন্তু ঈশ্বর কখনোই তার সামনে আবির্ভূত হননি বা তার সাথে কথা বলেননি। এ কথা সত্যি নয় কি? যদিও ঈশ্বর ইয়োবের সাথে কথা বলেননি বা তাকে কোনো আদেশ দেননি, কিন্তু সে ঈশ্বরের অস্তিত্ব প্রত্যক্ষ করেছিল, এবং সমস্ত কিছুর মাঝে, ও যে কিংবদন্তিতে সে নিজের কানে ঈশ্বরের সম্পর্কে শুনেছিল সেখানে, তাঁর সার্বভৌমত্ব উপলব্ধি করেছিল, যার পর সে ঈশ্বরে ভীতি ও মন্দ কর্ম পরিত্যাগের জীবনে প্রবেশ করে। ইয়োবের ঈশ্বরকে অনুসরণ করার উৎপত্তি এবং প্রক্রিয়া ছিল এরকম। কিন্তু সে যতই ঈশ্বরে ভীতি ও মন্দ কর্ম পরিত্যাগের পথে চলুক, যতই সততায় দৃঢ় থাকুক, ঈশ্বর কখনোই তার কাছে আবির্ভূত হননি। চলো এই অনুচ্ছেদটা পড়া যাক। সে বলেছিল “তিনি আমার সামনে দিয়ে চলে যান কিন্তু আমি তাঁকে দেখতে পাই না, চলে যান আমার পাশ দিয়ে আমি তাঁকে চিনতে পারি না” (ইয়োবে ৯:১১)। এই বাক্যগুলোয় যা বলা হচ্ছে তা হল, ইয়োব ঈশ্বরকে নিজের চারিপাশে অনুভব করেও থাকতে পারে, আবার না করেও থাকতে পারে—কিন্তু কখনোই সে ঈশ্বরকে প্রত্যক্ষ করতে সক্ষম হয়নি। অনেক সময় সে কল্পনা করেছে যে ঈশ্বর তার সামনে দিয়ে চলে যাচ্ছেন, অথবা কর্ম সম্পাদন করছেন, বা মানুষকে পথনির্দেশ দিচ্ছেন, কিন্তু সে কখনো সেসবের সত্যতা জানতে পারেনি। ঈশ্বর তখনই মানুষের কাছে আসেন যখন সে সেটার প্রত্যাশা করছে না; মানুষ জানে না ঈশ্বর কখন তার কাছে আসেন বা কোথায় তার সামনে আসেন, কারণ মানুষ ঈশ্বরকে প্রত্যক্ষ করতে পারে না, আর এইভাবেই মানুষের কাছ থেকে ঈশ্বর সর্বদা আড়ালেই থেকে যান।

ঈশ্বর তার কাছে প্রচ্ছন্ন থাকেন, এই ঘটনা ইয়োবের ঈশ্বর বিশ্বাসকে নড়াতে পারেনি

শাস্ত্রের পরবর্তী অনুচ্ছেদে, ইয়োব তারপর বলল, “দেখ, আমি পূর্ব দিকে গিয়েছি কিন্তু সেখানে তিনি নেই, পশ্চিমে গিয়েছি, সেখানেও তাঁকে পাইনি। আমি উত্তর দিকে তাঁকে খুঁজেছি কিন্তু তাঁর দেখা পাইনি, দক্ষিণ দিকে তাকিয়েছি কিন্তু দেখতে পাইনি তাঁকে” (ইয়োবে ২৩:৮-৯)। এই বিবরণে আমরা জানতে পারি যে ইয়োবের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, ঈশ্বর তার কাছ থেকে সর্বদাই প্রচ্ছন্ন ছিলেন; তার সামনে কখনোই উন্মুক্তভাবে আবির্ভূত হননি, তার সাথে সরাসরি কোনো বাক্য বিনিময়ও করেননি, তা সত্ত্বেও ইয়োবের হৃদয়ে ঈশ্বরের অস্তিত্বের দৃঢ় বিশ্বাস প্রতীয়মান ছিল। সে সর্বদা কল্পনা করেছে যে হয়ত ঈশ্বর তার সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন, অথবা তার পাশে থেকে কর্ম সম্পাদন করছেন, এবং সে ঈশ্বরকে দেখতে না পেলেও তিনি তার পাশেই রয়েছেন, তার বিষয়ে সমস্ত কিছু পরিচালনা করছেন। ইয়োব কখনো ঈশ্বরকে প্রত্যক্ষ করেনি, কিন্তু সে নিজের বিশ্বাসে অটল থাকতে পেরেছিল, যা আর কেউই করতে পারেনি। অন্যান্যরা তা করতে পারেনি কেন? এর কারণ হল, ঈশ্বর ইয়োবের সাথে কথা বলেননি বা তার সামনে আবির্ভূত হননি, সুতরাং ইয়োব যদি প্রকৃতই বিশ্বাস না করত, তাহলে সে ঈশ্বরে ভীতি ও মন্দ কর্ম পরিত্যাগের পথ ধরে এগিয়ে যেতে অথবা সেখানে অবিচল থাকতে সক্ষম হতো না। তাই নয় কি? ইয়োবের এইসব কথা বলার বিষয়ে যখন তুমি পড়ো, তোমার কেমন অনুভূতি হয়? তোমার কি মনে হয় ইয়োবের ত্রুটিহীনতা ও ন্যায়নিষ্ঠতা, ঈশ্বরের সম্মুখে তার ন্যায়পরায়ণতা, এগুলো বিশুদ্ধ, ঈশ্বরের দিক থেকে কোনো অত্যুক্তি নয়? ঈশ্বর যদিও ইয়োবের সাথে অন্যান্য লোকেদের মতোই আচরণ করেছিলেন এবং তার সামনে আবির্ভূত হননি বা তার সঙ্গে কথাও বলেননি, তা সত্ত্বেও ইয়োব তার সততায় দৃঢ় ছিল, তবুও ঈশ্বরের সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করেছিল, এবং তাছাড়াও, ঈশ্বরকে ক্ষুব্ধ করে ফেলার ভীতির কারণে সে প্রায়ই ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে অগ্নিদগ্ধ উৎসর্গ নিবেদন করত ও তাঁর সম্মুখে প্রার্থনা করত। ঈশ্বরকে প্রত্যক্ষ না করেও তাঁকে ভয় করার যে ক্ষমতা ইয়োবের ছিল, তাতে আমরা ইতিবাচক বিষয়ের প্রতি তার প্রভূত ভালোবাসা দেখতে পাই, এবং তার বিশ্বাস কতটা দৃঢ় ও বাস্তব ছিল তাও উপলব্ধি করতে পারি। ঈশ্বর তার থেকে প্রচ্ছন্ন ছিলেন বলে সে ঈশ্বরের অস্তিত্ব অস্বীকার করেনি, আবার তাঁকে কখনো প্রত্যক্ষ না করার কারণেও সে তাঁর ওপর বিশ্বাস হারায়নি এবং তাঁকে ত্যাগ করেনি। পরিবর্তে, ঈশ্বরের সমস্ত কিছুকে শাসন করার প্রচ্ছন্ন কাজের মাঝে, সে ঈশ্বরের অস্তিত্ব উপলব্ধি করেছিল, এবং ঈশ্বরের সার্বভৌমত্ব ও ক্ষমতা অনুভব করেছিল। ঈশ্বরের প্রচ্ছন্ন থাকার কারণে সে ন্যায়নিষ্ঠতা ত্যাগ করেনি, অথবা ঈশ্বর তাঁর সামনে কখনো আবির্ভূত হননি বলেও সে ঈশ্বরে ভীতি অর্জন ও মন্দ কর্ম পরিত্যাগের পথ ত্যাগ করেনি। ইয়োব কখনোই ঈশ্বরকে তাঁর অস্তিত্বের প্রমাণ দেওয়ার জন্য তার কাছে প্রকাশ্যে আবির্ভূত হওয়ার অনুরোধ করেনি, কারণ সে ইতিমধ্যেই সমস্ত কিছুর মধ্যে ঈশ্বরের সার্বভৌমত্ব প্রত্যক্ষ করেছিল, এবং তার বিশ্বাস ছিল যে সে এমন আশীর্বাদ ও অনুগ্রহ অর্জন করে ফেলেছে যা অন্যরা অর্জন করতে পারেনি। যদিও ঈশ্বর ইয়োবের কাছ থেকে প্রচ্ছন্ন থেকেছিলেন, কিন্তু তাঁর প্রতি ইয়োবের বিশ্বাসে কখনোই নড়চড় হয়নি। এইভাবেই সে সেই ফসল সংগ্রহ করতে পেরেছিল যা অন্য কারো কাছেই ছিল না: ঈশ্বরের অনুমোদন এবং ঈশ্বরের আশীর্বাদ।

ইয়োব ঈশ্বরের নামের গুণকীর্তন করেছিল এবং আশীর্বাদ বা বিপর্যয়ের কথা ভাবেনি

ইয়োবের সম্পর্কে একটা সত্য কখনোই শাস্ত্রের কাহিনীতে উল্লেখ করা হয়নি, আর সেই সত্যই আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়বস্তু। যদিও ইয়োব কখনো ঈশ্বরকে প্রত্যক্ষ করেনি বা নিজের কানে তাঁর বাক্য শ্রবণ করেনি, কিন্তু ইয়োবের হৃদয়ে ঈশ্বরের একটা স্থান ছিল। ঈশ্বরের প্রতি ইয়োবের মনোভাব কেমন ছিল? ঠিক তেমনই ছিল যেমন আগে উল্লেখ করা হয়েছে, “যিহোবার নাম ধন্য হোক”। সে নিঃশর্তে, প্রসঙ্গ নির্বিশেষে এবং কোন কারণ ছাড়াই ঈশ্বরের নামের গুণকীর্তন করত। আমরা দেখি যে ইয়োব ঈশ্বরকে নিজের হৃদয় সমর্পণ করেছিল, ঈশ্বরের হাতে হৃদয়ের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিয়েছিল; সে তার অন্তরের সকল চিন্তাভাবনা, সকল সিদ্ধান্ত, ও সকল পরিকল্পনা কোনো আড়াল ছাড়াই ঈশ্বরের সামনে উন্মুক্ত করে রেখেছিল। তার হৃদয় ঈশ্বরের বিরুদ্ধাচরণ করেনি, সে কখনো ঈশ্বরকে তার জন্য কিছু করতে বলেনি বা তাকে কিছু দিতে বলেনি, এবং তার এমন কোনো অসংযত আকাঙ্ক্ষাও ছিল না যে সে তার ঈশ্বর উপাসনা থেকে কিছু অর্জন করতে পারবে। ইয়োব ঈশ্বরের সাথে কোনো ব্যবসায়িক আলোচনা করেনি, এবং ঈশ্বরের কাছে কোনো অনুরোধ বা দাবিও করেনি। সমস্ত বস্তুর উপর ঈশ্বরের শাসনভারের অতীব ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের কারণেই সে তাঁর নামের গুণকীর্তন করেছিল, সে আশীর্বাদ লাভ করবে বা বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে তার উপর তা নির্ভরশীল ছিল না। তার বিশ্বাস ছিল, ঈশ্বর মানুষকে আশীর্বাদ করুন বা তাদের উপর বিপর্যয় নিয়ে আসুন, তাঁর ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের পরিবর্তন হবে না, আর তাই মানুষের পরিস্থিতি নির্বিশেষে ঈশ্বরের নামের গুণগান করা উচিত। ঈশ্বরের সার্বভৌমত্বের কারণেই মানুষ তাঁর আশীর্বাদ লাভ করে, আবার যখন মানুষের উপর বিপর্যয় নেমে আসে, সেটাও তাঁর সার্বভৌমত্বের কারণেই ঘটে। ঈশ্বরের ক্ষমতা ও কর্তৃত্বই মানুষের সমস্ত বিষয় শাসন করে ও তার আয়োজন করে; মানুষের ভাগ্যের খামখেয়ালীপনা হল ঈশ্বরের ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের প্রকাশ, এবং কারোর দৃষ্টিভঙ্গি নির্বিশেষেই ঈশ্বরের নামের গুণগান করা উচিত। ইয়োব তার সারাজীবন ধরে এই অভিজ্ঞতাই লাভ করেছিল এবং এটাই জানতে পেরেছিল। ইয়োবের সমস্ত চিন্তাভাবনা ও ক্রিয়াকলাপ ঈশ্বরের কানে পৌঁছেছিল এবং তাঁর সম্মুখে উপনীত হয়েছিল, এবং ঈশ্বরের চোখে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হয়েছিল। ঈশ্বর ইয়োবের এই জ্ঞানকে লালন করেছিলেন এবং এইরকম হৃদয় থাকার জন্য তাকে মূল্যবান মনে করেছিলেন। এই হৃদয় সর্বদা ও সর্বত্র ঈশ্বরের আদেশের অপেক্ষা করেছে, এবং তার উপর যা-ই নেমে আসুক, স্থান-কাল নির্বিশেষে এই হৃদয় সেগুলোকে স্বাগত জানিয়েছে। ইয়োব ঈশ্বরের কাছে কোনো দাবি করেনি। সে নিজের কাছে দাবি করেছিল যাতে সে ঈশ্বর প্রদত্ত সমস্ত ব্যবস্থাপনার অপেক্ষা করতে পারে, সেগুলো গ্রহণ করতে পারে, সেগুলোর সম্মুখীন হতে পারে এবং সেগুলো মান্য করতে পারে; ইয়োব এটাকেই কর্তব্য বলে বিশ্বাস করত, এবং ঈশ্বরও ঠিক এটাই চেয়েছিলেন। ইয়োব কখনো ঈশ্বরকে প্রত্যক্ষ করেনি, অথবা তাঁকে কোনো বাক্য উচ্চারণ করতে, কোনো আদেশ জারি করতে, কোনো শিক্ষা প্রদান করতে, বা ইয়োবকে কোনো বিষয়ে নির্দেশ দিতে শোনেনি। আজকের ভাষায় বলা যায়, যখন ঈশ্বর তাকে সত্যের বিষয়ে কোনো আলোকপ্রদান, পথনির্দেশ, বা সংস্থান প্রদান করেননি, তখনও ঈশ্বরের প্রতি তার এইরকম জ্ঞান ও মনোভাবের অধিকারী হতে সক্ষম হওয়া—এটা ছিল খুবই মূল্যবান বিষয়, এবং তার এই সমস্ত বিষয় প্রদর্শন করার সক্ষমতাই ঈশ্বরের কাছে যথেষ্ট ছিল, আর তার সাক্ষ্য ঈশ্বর প্রশংসা ও লালন করেছিলেন। ইয়োব কখনো ঈশ্বরকে প্রত্যক্ষ করেনি, বা ঈশ্বর ব্যক্তিগতভাবে তাকে কোনো শিক্ষা দিচ্ছেন এমনটা শোনেনি, কিন্তু যারা ঈশ্বরের সামনে শুধুমাত্র গভীর তত্ত্বের ভাষায় কথা বলতে সক্ষম ছিল, যারা শুধুমাত্র নিজেদের জাহির করতে ও উৎসর্গের কথা বলতে সক্ষম ছিল, কিন্তু যাদের কখনোই ঈশ্বরের কোনো প্রকৃত জ্ঞান ছিল না, এবং যারা কখনোই প্রকৃতপক্ষে ঈশ্বরকে ভয় করেনি, তাদের চেয়ে ঈশ্বরের কাছে ইয়োবের হৃদয় এবং ইয়োব নিজে অনেক বেশি মূল্যবান ছিল। কারণ ইয়োবের হৃদয় ছিল বিশুদ্ধ, তা ঈশ্বরের কাছে গোপন ছিল না, এবং তার মানবিকতা ছিল সৎ ও দয়ালু, এবং সে ন্যায়বিচার ও ইতিবাচক সমস্ত কিছু পছন্দ করত। শুধুমাত্র এমন এক হৃদয় ও মানবিকতার অধিকারী একজন মানুষই ঈশ্বরের প্রকৃত পথে চলতে, এবং ঈশ্বর ভীতি অর্জন করতে ও ও মন্দ কর্ম পরিত্যাগ করতে সক্ষম ছিল। এমন একজন মানুষই ঈশ্বরের সার্বভৌমত্ব প্রত্যক্ষ করতে পারত, তাঁর কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা প্রত্যক্ষ করতে পারত, এবং তাঁর সার্বভৌমত্ব ও ব্যবস্থাপনার প্রতি আনুগত্য অর্জন করতে পারত। শুধুমাত্র এমন একজন মানুষই প্রকৃতপক্ষে ঈশ্বরের নামের গুণগান করতে পারত। কারণ ঈশ্বর তাকে আশীর্বাদ করবেন নাকি তার উপর বিপর্যয় ডেকে আনবেন সে সেদিকে তাকায়নি, কারণ সে জানত সবকিছুই ঈশ্বরের হাতে নিয়ন্ত্রিত, এবং মানুষের সে বিষয়ে উদ্বিগ্ন হওয়াটা মূর্খতা, অজ্ঞতা, ও যুক্তিহীনতার চিহ্ন, এবং সমস্তকিছুর উপর ঈশ্বরের সার্বভৌমত্বকে সন্দেহ করার ও ঈশ্বরকে ভয় না পাওয়ার চিহ্ন। ঈশ্বর যেমন চেয়েছিলেন, ইয়োবের জ্ঞান ছিল ঠিক তেমনই। তাহলে, ঈশ্বরের বিষয়ে ইয়োবের তাত্ত্বিক জ্ঞান কি তোমাদের থেকে বেশি ছিল? যেহেতু ঈশ্বরের কাজ ও বাক্যের পরিমাণ সেই সময় ছিল নগণ্য, তাই তখন ঈশ্বর সম্পর্কিত জ্ঞান অর্জন করা সহজ ছিল না। ইয়োবের এইরকম কৃতিত্ব অর্জন কোনো তুচ্ছ বিষয় ছিল না। সে ঈশ্বরের কাজের অভিজ্ঞতা লাভ করেনি, অথবা তাঁকে কখনো কথা বলতে শোনেনি, বা তাঁর চেহারা দেখেনি। ঈশ্বরের বিষয়ে সে যে এমন মনোভাব লাভ করতে পেরেছিল, তা সম্পূর্ণভাবেই ছিল তার মানবিকতা ও ব্যক্তিগত সাধনার ফলাফল, বর্তমানকালের মানুষের যে রকম মানবিকতা ও সাধনার অধিকারী নয়। এইভাবে, সেই যুগে ঈশ্বর বলেছিলেন, “তার মত সৎ ও বিশ্বস্ত লোক পৃথিবীতে কেউ নেই।” সেই যুগেই ঈশ্বর তার বিষয়ে ইতিমধ্যেই এইরকম মূল্যায়ন করে ফেলেছিলেন, এইরকম উপসংহারে পৌঁছেছিলেন। আজকের দিনে তা এর থেকে কত বেশি সত্যি হত?

—বাক্য, খণ্ড ২, ঈশ্বরকে জানার প্রসঙ্গে, ঈশ্বরের কর্ম, ঈশ্বরের স্বভাব এবং স্বয়ং ঈশ্বর ২

পূর্ববর্তী: ইয়োবের সাক্ষ্য ঈশ্বরকে স্বস্তি এনে দিল

পরবর্তী: ইয়োব নিজের কানে ঈশ্বরকে শ্রবণ করেছিল (পর্ব ২)

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।

সেটিংস

  • লেখা
  • থিমগুলি

ঘন রং

থিমগুলি

ফন্টগুলি

ফন্ট সাইজ

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

পৃষ্ঠার প্রস্থ

বিষয়বস্তু

অনুসন্ধান করুন

  • এই লেখাটি অনুসন্ধান করুন
  • এই বইটি অনুসন্ধান করুন

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন