ঈশ্বরের দ্বারা, এবং বাইবেলে, ইয়োবের মূল্যায়ন

ইয়োবে ১:১ উস দেশে ইয়োব নামে ব্যক্তি বাস করতেন। তিনি ছিলেন ঈশ্বরের পরমভক্ত, সৎ ও বিশ্বস্ত সেবক। মন্দের পথ তিনি পরিহার করে চলতেন।

ইয়োবে ১:৫ ভোজের পরের দিন ভোরে ইয়োব তাঁর পুত্রদের শুচীকরণের জন্য প্রত্যেকের নামে বলি উৎসর্গ করতেন কারণ তিনি মনে করতেন তাঁর পুত্রেরা হয়তো অনিচ্ছাকৃতভাবে ঈশ্বরকে অবজ্ঞা করে পাপ করে ফেলেছে।

ইয়োবে ১:৮ এবং যিহোবা শয়তানকে বললেন, তুমি কি আমার সেবক ইয়োবের কথা বিবেচনা করেছ, তার মত লোক পৃথিবীতে কেউ নেই, যে নিখুঁত এবং ন্যায়পরায়ণ, যে ঈশ্বরে ভয় পায় ও মন্দ পথ পরিত্যাগ করে?

এই অনুচ্ছেদগুলোতে তোমরা কী মূল বিষয় দেখতে পেলে? শাস্ত্রের এই তিনটে সংক্ষিপ্ত বর্ণনার সবকটাই ইয়োবের সাথে সম্পর্কিত। সংক্ষিপ্ত হলেও, এগুলো পরিষ্কারভাবে বর্ণনা করে ইয়োব ঠিক কেমন ধরনের মানুষ ছিল। ইয়োবের দৈনন্দিন আচরণ ও কার্যকলাপের বর্ণনা থেকে সকলেই বুঝতে পারে যে ঈশ্বর ইয়োবের যে মূল্যায়ন করেছিলেন তা ভিত্তিহীন ছিল না, বরং তার সুস্পষ্ট ভিত্তি ছিল। এগুলো থেকে আমরা জানতে পারি, ইয়োব সম্পর্কে মানুষের মূল্যায়নই হোক (ইয়োব ১:১) অথবা ঈশ্বরের মূল্যায়নই হোক (ইয়োব ১:৮), দুটোই ছিল মানুষের ও ঈশ্বরের কাছে ইয়োবের কর্মের ফলাফল (ইয়োব ১:৫)।

প্রথমে চলো আমরা এই অনুচ্ছেদটা পড়ে নিই: “উস দেশে ইয়োব নামে ব্যক্তি বাস করতেন। তিনি ছিলেন ঈশ্বরের পরমভক্ত, সৎ ও বিশ্বস্ত সেবক। মন্দের পথ তিনি পরিহার করে চলতেন।” এটাই বাইবেলে ইয়োবের প্রথম মূল্যায়ন, আর এই বাক্যটা হচ্ছে ইয়োবের সম্বন্ধে লেখকের মূল্যায়ন। স্বাভাবিকভাবেই, এটা ইয়োব সম্পর্কে মানুষের মূল্যায়নকেও উপস্থাপিত করে, যে মূল্যায়ন হচ্ছে, “তিনি ছিলেন ঈশ্বরের পরমভক্ত, সৎ ও বিশ্বস্ত সেবক। মন্দের পথ তিনি পরিহার করে চলতেন।” তারপরে, চলো ঈশ্বর ইয়োবের যে মূল্যায়ন করেছেন সেটা পড়ে নেওয়া যাক: “তার মত লোক পৃথিবীতে কেউ নেই, যে নিখুঁত এবং ন্যায়পরায়ণ, যে ঈশ্বরে ভয় পায় ও মন্দ পথ পরিত্যাগ করে।” এই দুটোর মধ্যে, একটা এসেছে মানুষের থেকে, আর অপরটা এসেছে ঈশ্বরের থেকে; এই দুটো মূল্যায়নেরই বিষয়বস্তু একই। তাহলে দেখা যাচ্ছে যে ইয়োবের আচরণ ও ব্যবহার মানুষের কাছে পরিচিত ছিল, এবং সেগুলো ঈশ্বরের দ্বারাও প্রশংসিত ছিল। অন্য ভাষায়, মানুষের সম্মুখে ইয়োবের আচরণ ও ঈশ্বরের সম্মুখে ইয়োবের আচরণ একই ছিল; সে সর্বদাই ঈশ্বরের সম্মুখে নিজের আচরণ ও উদ্দেশ্য উন্মুক্ত রেখেছিল, যাতে ঈশ্বর তা পর্যবেক্ষণ করতে পারেন, আবার সে ছিল ঈশ্বরে ভীত ও মন্দ কর্ম পরিত্যাগকারী এক ব্যক্তি। এইভাবে, ঈশ্বরের চোখে পৃথিবীর সকল মানুষের মধ্যে শুধু ইয়োবই ছিল নিখুঁত ও ন্যায়পরায়ণ, ঈশ্বরে ভীত ও মন্দ কর্ম পরিত্যাগকারী এক ব্যক্তি।

ইয়োবের দৈনন্দিন জীবনে ঈশ্বরে ভীতি ও মন্দ কর্ম পরিত্যাগের সুনির্দিষ্ট বহিঃপ্রকাশ

এরপর, ইয়োবের ঈশ্বরে ভীতি ও মন্দ কর্ম পরিত্যাগের সুনির্দিষ্ট বহিঃপ্রকাশের দিকে নজর দেওয়া যাক। এর আগের আর পরের অনুচ্ছেদের সাথে সাথে ইয়োব ১:৫-ও পড়া যাক, যার মধ্যে ইয়োবের ঈশ্বরে ভীতি ও মন্দ কর্ম পরিত্যাগের সুনির্দিষ্ট বহিঃপ্রকাশের উল্লেখ রয়েছে। এটা তার দৈনন্দিন জীবনে ঈশ্বরে ভীতি ও মন্দ কর্ম পরিত্যাগের সাথে সম্পর্কিত; সবচেয়ে স্পষ্টভাবে যা প্রকাশিত তা হল, সে যে শুধু নিজের ঈশ্বরে ভীতি ও মন্দ কর্ম পরিত্যাগের স্বার্থে তার যা করা উচিত তা করেছিল তেমন নয়, বরং তার পাশাপাশি সে নিজের পুত্রদের তরফ থেকেও ঈশ্বরের সম্মুখে নিয়মিতভাবে অগ্নিদগ্ধ বলি উৎসর্গ করত। সে ভয় পেতো যে ভোজের সময় তার পুত্রের হয়তো অনেকবার “অনিচ্ছাকৃতভাবে ঈশ্বরকে অবজ্ঞা করে পাপ করে ফেলেছে”। ইয়োবের মধ্যে এই ভীতির বহিঃপ্রকাশ কেমন ছিল? মূল পাঠ্য থেকে তার নিম্নলিখিত বিবরণ পাওয়া যায়: “ভোজের পরের দিন ভোরে ইয়োব তাঁর পুত্রদের শুচীকরণের জন্য প্রত্যেকের নামে বলি উৎসর্গ করতেন।” ইয়োবের এই আচরণ থেকে আমরা প্রত্যক্ষ করতে পারি যে তার ঈশ্বর ভীতির বহিঃপ্রকাশ শুধু তার বাহ্যিক আচরণে ছিল তা নয়, বরং তা তার হৃদয় থেকেই এসেছিল, আর এই ঈশ্বর ভীতি সর্বদা তার দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটা দিকেই সর্বদা প্রতিভাত হয়েছিল, কারণ সে শুধুমাত্র নিজেই মন্দ কর্ম পরিত্যাগ করেছিল তা নয়, বরং প্রায়শই তার পুত্রদের তরফ থেকেও অগ্নিদগ্ধ বলি উৎসর্গ করত। অন্য ভাষায়, ইয়োব যে শুধু নিজের অন্তরে ঈশ্বরের বিরুদ্ধে পাপ করা এবং নিজের হৃদয়ে ঈশ্বরকে ত্যাগ করার বিষয়ে গভীরভাবে ভীত ছিল তা নয়, বরং তার পুত্ররা হয়ত ঈশ্বরের বিরুদ্ধে পাপ করতে পারে এবং হৃদয় থেকে তাঁকে ত্যাগ করতে পারে বলেও চিন্তিত ছিল। এর থেকে প্রত্যক্ষ করা যায় যে ইয়োবের ঈশ্বরে ভীতি যে সত্য তা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ, এবং যে কোনো মানুষেরই সন্দেহের ঊর্ধ্বে। সে কি এমনটা মাঝে মাঝে করত, নাকি প্রায়শই করত? পাঠ্যটির শেষ বাক্যটি হল “ইয়োব নিয়মিতভাবে এই কাজ করতেন” এই কথার অর্থ হল, ইয়োব পুত্রদের কার্যকলাপের দিকে মাঝেমধ্যে নজর রাখত, অথবা নিজের যখন ইচ্ছা হতো তখন করত, এমনটা নয় অথবা সে প্রার্থনার মাধ্যমে ঈশ্বরের কাছে স্বীকার করত, তাও নয়। পরিবর্তে, সে নিয়মিতভাবে তার পুত্রদের পবিত্র করার জন্য পাঠাত এবং তাদের জন্য অগ্নিদগ্ধ বলি উৎসর্গ করত। এখানে “নিয়মিতভাবে” শব্দটার অর্থ হচ্ছে, সে এক বা দুই দিনের জন্য বা শুধু এক মুহূর্তের জন্য এমনটা করত না। এতে বোঝা যাচ্ছে যে ঈশ্বরের প্রতি ইয়োবের ভীতির বহিঃপ্রকাশ ক্ষণস্থায়ী ছিল না, এবং তা জ্ঞান বা কথিত বাক্যের মধ্যেই থেমে থাকেনি; পরিবর্তে, ঈশ্বর ভীতি ও মন্দ কর্ম পরিত্যাগের পথ তার হৃদয়কে পরিচালিত করেছিল, তার আচরণকে নির্দেশিত করেছিল, এবং তার হৃদয়ে এটাই ছিল তার অস্তিত্বের মূল। সে যে নিয়মিতভাবে এ কাজ করত তা থেকে বুঝতে পারা যায় যে সে প্রায়ই এই ভয় করত যে সে হয়ত ঈশ্বরের বিরুদ্ধে পাপ করে ফেলবে, এবং তার পুত্র ও কন্যারাও হয়ত ঈশ্বরের বিরুদ্ধে পাপ করে ফেলবে। এটা থেকেই বোঝা যায় তার অন্তরে ঈশ্বর ভীতি ও মন্দ কর্ম পরিত্যাগের পথ ঠিক কতখানি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সে নিয়মিতভাবেই এটা করত কারণ অন্তরে সে ভীত ও সন্ত্রস্ত থাকত—এই মনে করে ভীত থাকত যে সে মন্দ কর্ম করেছে ও ঈশ্বরের বিরুদ্ধে পাপ করেছে, ঈশ্বরের পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে, এবং তাই সে আর ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করতে সক্ষম নয়। একই সাথে, সে নিজের পুত্রকন্যাদের বিষয়েও উদ্বিগ্ন থাকত এই ভয়ে যে তারা হয়ত ঈশ্বরকে ক্ষুব্ধ করে ফেলেছে। দৈনন্দিন জীবনে ইয়োবের স্বাভাবিক আচরণ এমনই ছিল। বিশেষ করে এই স্বাভাবিক আচরণই প্রমাণ করে যে ইয়োবের ঈশ্বর ভীতি ও মন্দ কর্ম পরিত্যাগ শূন্যগর্ভ কথা নয়, এই ধরনের বাস্তবিকতা ইয়োব প্রকৃতপক্ষেই জীবনে যাপন করেছিল। “ইয়োব নিয়মিতভাবে এই কাজ করতেন”: এই বাক্যগুলো থেকে ঈশ্বরের সম্মুখে ইয়োবের প্রাত্যহিক ক্রিয়াকলাপের বিষয়ে জানা যায়। যখন সে নিয়মিতভাবে এই কাজ চালিয়ে যেত, তার আচরণ ও তার হৃদয় কী ঈশ্বরের সামনে পৌঁছেছিল? অন্য ভাষায়, ঈশ্বর কি প্রায়শই তার এই আচরণ ও হৃদয় সম্পর্কে সন্তুষ্ট হতেন? তাহলে, কী অবস্থায় এবং কী প্রসঙ্গে ইয়োব নিয়মিত এ কাজ করত? কেউ কেউ বলে, “ঈশ্বর প্রায়ই ইয়োবের কাছে অবতীর্ণ হতেন বলেই সে এমনটা করত।” কারো কারো মতে, “তার মন্দ কর্ম পরিত্যাগের ইচ্ছা থাকার কারণেই সে নিয়মিত এমনটা করত।” আবার কেউ কেউ বলে, “হয়ত সে ভেবেছিল যে সহজে তার সৌভাগ্য আসেনি, এবং সে জানত যে এগুলো ঈশ্বর তাকে দিয়েছেন, তাই ঈশ্বরকে ক্ষুব্ধ করা বা তাঁর বিরুদ্ধে পাপ করার ফলে সে সমস্ত সম্পত্তি হারিয়ে ফেলতে পারে, এই ভয়ে সে গভীরভাবে ভীত ছিল।” এই সমস্ত দাবির মধ্যে একটাও কি সত্য? স্পষ্টতই না। কারণ ঈশ্বরের দৃষ্টিতে, ইয়োবের যে বিষয়টা ঈশ্বর সবচেয়ে বেশি গ্রহণ ও লালন করেছিলেন তা শুধু এই নয় যে সে নিয়মিতভাবে এই কাজ করত, তার চেয়েও বেশি করে তা ছিল তাকে শয়তানের হাতে তুলে দেওয়ার পরে ও প্রলুব্ধ করার পরে ঈশ্বর, মানুষ ও শয়তানের সামনে তার আচরণ। নিচের অংশে সবচেয়ে নিশ্চিত প্রমাণ রয়েছে, যে প্রমাণ ইয়োবের প্রতি ঈশ্বরের মূল্যায়নের সত্যতা দেখায়।

—বাক্য, খণ্ড ২, ঈশ্বরকে জানার প্রসঙ্গে, ঈশ্বরের কর্ম, ঈশ্বরের স্বভাব এবং স্বয়ং ঈশ্বর ২

পূর্ববর্তী: আন্তরিক অনুশোচনার মাধ্যমে মানুষ ঈশ্বরের করুণা ও সহিষ্ণুতা লাভ করে (পর্ব ৪)

পরবর্তী: ইয়োবকে শয়তানের প্রথম প্রলোভন (তার গবাদিপশু চুরি হয়ে যায় এবং সন্তানদের উপরেও বিপর্যয় নেমে আসে)

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।

সম্পর্কিত তথ্য

চতুর্থ দিবসে, ঈশ্বর আবার তাঁর কর্তৃত্ব প্রয়োগ করায় মানবজাতির বিভিন্ন ঋতু, দিন এবং বছরগুলি সৃষ্টি হয়

সৃষ্টিকর্তা তাঁর পরিকল্পনা সম্পাদনের জন্য তাঁর বাক্যসমূহের ব্যবহার করেছিলেন, এবং এইভাবে তিনি তাঁর পরিকল্পনার প্রথম তিন দিবস অতিবাহিত...

ষষ্ঠ দিবসে, সৃষ্টিকর্তা কথা বলেন, এবং তাঁর মনের মধ্যে থাকা প্রতিটি জীব একাদিক্রমে আবির্ভূত হয়

ইন্দ্রিয়াতীতভাবে, সৃষ্টিকর্তার সমস্ত সৃষ্টিকার্য পাঁচ দিন ধরে অব্যাহত ছিল, ঠিক তার পরপরই সৃষ্টিকর্তা তাঁর সকল বস্তু সৃষ্টির ষষ্ঠ দিবসকে...

দ্বিতীয় দিবসে, ঈশ্বরের কর্তৃত্ব জলরাশির আয়োজন করে, এবং তৈরি করে নভোমণ্ডল এবং মানুষের বেঁচে থাকার জন্য সবচেয়ে মৌলিক একটি স্থান আবির্ভূত হয়

বাইবেলের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদটি পাঠ করা যাক: “ঈশ্বর বললেন, সৃষ্ট হোক নভোমণ্ডল, বিভক্ত করুক জলরাশিকে! ঈশ্বর এইভাবে নভোমণ্ডল সৃষ্টি করে তার...

সেটিংস

  • লেখা
  • থিমগুলি

ঘন রং

থিমগুলি

ফন্টগুলি

ফন্ট সাইজ

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

পৃষ্ঠার প্রস্থ

বিষয়বস্তু

অনুসন্ধান করুন

  • এই লেখাটি অনুসন্ধান করুন
  • এই বইটি অনুসন্ধান করুন

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন