মানবজাতিকে ভ্রষ্ট করা হলেও, এখনো সে সৃষ্টিকর্তার কর্তৃত্বের সার্বভৌমত্বের অধীনে বাস করে

হাজার হাজার বছর ধরে শয়তান মানবজাতিকে ভ্রষ্ট করে আসছে। অপরিমিত পরিমাণ মন্দ কাজ শয়তানের দ্বারা সাধিত হয়েছে, মানুষের প্রজন্মের পর প্রজন্মকে সে প্রতারিত করেছে, এবং পৃথিবীতে বহু ঘৃণ্য অপরাধ সম্পাদন করেছে। মানুষকে সে খারাপ কাজে ব্যবহার করেছে, মানুষকে প্রতারণা করেছে, মানুষকে ঈশ্বর-বিরোধিতায় প্রলুব্ধ করেছে, এবং এমন মন্দ কাজকর্ম সম্পাদন করেছে যা ঈশ্বরের পরিচালনামূলক পরিকল্পনাকে বারংবার বানচাল ও বিকল করেছে। তা সত্ত্বেও, ঈশ্বরের কর্তৃত্বের অধীনে, সকল বস্তু ও জীবন্ত প্রাণী ঈশ্বরের স্থাপিত নিয়ম ও বিধান মান্য করে চলা অব্যাহত রাখে। ঈশ্বরের কর্তৃত্বের তুলনায়, শয়তানের ভ্রষ্ট প্রকৃতি ও অনিয়ন্ত্রিত অনাচার অতি কুৎসিত, অত্যন্ত বিতৃষ্ণাজনক ও ঘৃণ্য, এবং নিতান্তই ক্ষুদ্র ও অরক্ষিত। ঈশ্বরের সৃষ্ট সকল বস্তুর মাঝে শয়তান পদচারণা করলেও, ঈশ্বরের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত মানুষ, সামগ্রী, ও বস্তুর মধ্যে সামান্যতম পরিবর্তন সাধন করতেও সে সক্ষম নয়। বহু সহস্র বছর অতিবাহিত হয়ে গেছে, এবং মানবজাতি এখনো ঈশ্বর-প্রদত্ত আলো-বাতাসকে উপভোগ করে, এখনো স্বয়ং ঈশ্বর-নিঃসৃত শ্বাসবায়ু তারা শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করে, এখনো ঈশ্বর-সৃষ্ট পুষ্প, পক্ষী, মৎস্য ও পতঙ্গসমূহকে উপভোগ করে, এবং ঈশ্বর-প্রদত্ত সকল বস্তুকে উপভোগ করে; এখনো দিবা ও রাত্রি অবিরাম পরস্পরকে প্রতিস্থাপিত করে চলে; চারটি ঋতু যথারীতি পালাক্রমে পরিবর্তিত হয়; আকাশে উড়ন্ত বুনোহাঁসগুলি শীতঋতুতে বিদায় নেয়, এবং এখনো তারা পরের বসন্তে প্রত্যাবর্তন করে; জলের মাছ কখনো নদী ও হ্রদ—তাদের বাসগৃহ—পরিত্যাগ করে যায় না; ধরিত্রীবক্ষের ঘুর্ঘুরে পোকা গ্রীষ্মের দিবাভাগ জুড়ে প্রাণভরে গান গায়; ঘাসের ভিতর ঝিঁঝিঁ পোকা যথাসময়ে শরতের বাতাসে মৃদুস্বরে গুঞ্জন করে; বুনোহাঁসরা ঝাঁক বেঁধে একত্রিত হয়, অথচ ঈগল নিঃসঙ্গই থেকে যায়; শিকার করার মাধ্যমে সিংহদের দর্প অক্ষুণ্ণ থাকে; হরিণেরা ঘাস ও ফুল ছেড়ে অন্যত্র বিচরণ করে না…। সকল বস্তুর মধ্যে প্রত্যেক প্রকারের জীবন্ত প্রাণীই অন্তর্হিত হয় ও প্রত্যাবর্তন করে, এবং তারপর পুনরায় অন্তর্ধান করে, চোখের একটি নিমেষের মধ্যে লক্ষ নিযুত পরিবর্তন সংঘটিত হচ্ছে—কিন্তু এই প্রাণীদের সহজাত প্রবৃত্তি ও উদ্বর্তনের বিধানসমূহের কোনো রূপান্তর ঘটে না। ঈশ্বরের সংস্থান ও পরিপোষণের অধীনে তারা জীবনধারণ করে, এবং কেউই তাদের সহজাত প্রবৃত্তির কোনো বদল ঘটাতে পারে না, এবং কেউ তাদের উদ্বর্তনের নিয়মগুলিরও কোনো হানি সাধন করতে পারে না। সকলকিছুর মাঝে বাসরত মানবজাতি শয়তানের দ্বারা ভ্রষ্ট ও প্রতারিত হয়েছে বটে, তবু ঈশ্বরের প্রস্তুত জল, এবং ঈশ্বরসৃষ্ট বায়ু, এবং ঈশ্বরের প্রস্তুত সকল বস্তুকে মানুষ এখনো বর্জন করতে পারে না, এবং আজও মানুষ ঈশ্বরের সৃষ্ট এই পরিসরের মধ্যেই জীবনধারণ ও বংশবিস্তার করে চলে। মানবজাতির সহজাত প্রবৃত্তি পরিবর্তিত হয়নি। আজও মানুষ দেখার কাজে তার চক্ষুদ্বয়, শোনার জন্য তার কর্ণদ্বয়, চিন্তাভাবনা করতে তার মস্তিষ্ক, উপলব্ধি করতে তার হৃদয়, চলাফেরা করতে তার দুই পা ও পায়ের পাতা, কাজ করার জন্য তার দুই হাত, ইত্যাদির উপর নির্ভর করে; মানুষ যাতে ঈশ্বর প্রদত্ত সংস্থান গ্রহণ করতে পারে তার জন্য ঈশ্বর মানুষকে যে সকল সহজাত প্রবৃত্তি প্রদান করেছিলেন সেগুলি অপরিবর্তিতই রয়েছে, যে সহজাত ক্ষমতাগুলির মাধ্যমে মানুষ ঈশ্বরের সাথে সহযোগিতা করে তাদের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি, এক সৃজিত জীবের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে মানবজাতির স্বাভাবিক দক্ষতার কোনো পরিবর্তন হয়নি, মানবজাতির আধ্যাত্মিক চাহিদা অপরিবর্তিত রয়েছে, তার উৎপত্তিস্থলগুলি খুঁজে বের করার জন্য মানবজাতির আকাঙ্ক্ষার কোনো রদবদল ঘটেনি, সৃষ্টিকর্তার দ্বারা উদ্ধার লাভের জন্য মানবজাতির যে বাসনা তাও অপরিবর্তিত রয়ে গেছে। যে মানবজাতি ঈশ্বরের কর্তৃত্বের অধীনে জীবনধারণ করে, এবং যে মানবজাতি শয়তানের সাধিত রক্তাপ্লুত বিনষ্টি সহ্য করেছে, সেই মানবজাতির বর্তমান পরিস্থিতি এমনই। যদিও মানবজাতি শয়তানের উৎপীড়নের শিকার হয়েছে, এবং সে আর সৃষ্টির সূচনালগ্নের সেই আদম ও হবা নয়, পরিবর্তে বরং জ্ঞান, কল্পনা, পূর্বধারণা, এবং এমনতরো নানান ঈশ্বর-বিরোধী সম্ভারে ভরপুর, এবং শয়তানোচিত ভ্রষ্ট স্বভাবে পরিপূর্ণ, তবুও ঈশ্বরের দৃষ্টিতে মানবজাতি আজও তাঁর সৃষ্ট সেই একই মানবজাতিই রয়ে গেছে। মানবজাতি আজও ঈশ্বরের দ্বারাই শাসিত ও সমন্বিত হয়, এবং এখনও সে ঈশ্বরের প্রবর্তিত গতিপথের মধ্যেই জীবনধারণ করে, আর তাই, ঈশ্বরের নজরে, শয়তানের দ্বারা ভ্রষ্ট মানবজাতি কেবল ময়লার আস্তরণে প্রলিপ্ত, যার উদরে অস্বস্তিকর শব্দ হয়, যার প্রতিক্রিয়াসমূহ কিছু মন্থর, স্মৃতিশক্তি আগের মতো ততোটা প্রখর নয়, এবং যার বয়স কিছুটা বেড়েছে—কিন্তু মানুষের সকল কার্যাবলী ও সহজাত প্রবৃত্তিসমূহ সম্পূর্ণ অক্ষতই রয়ে গেছে। এই সেই মানবজাতি যাকে ঈশ্বর উদ্ধার করার অভিপ্রায় পোষণ করেন। এই মানবজাতির কেবল সৃষ্টিকর্তার আহ্বান শোনার অপেক্ষা, এবং কেবল সৃষ্টিকর্তার কণ্ঠস্বর কর্ণগোচর হওয়ার অপেক্ষা, এবং তার পরেই সে উঠে দাঁড়াবে এবং ওই কণ্ঠস্বরের উৎসকে চিহ্নিত করতে ধাবিত হবে। মানবজাতিকে শুধু একবার সৃষ্টিকর্তার রূপ প্রত্যক্ষ করতে হবে, তাহলেই ঈশ্বরের কাছে নিজেকে উৎসর্গ করার উদ্দেশ্যে, সে আর কোনোকিছুর পরোয়া করবে না, এবং সমস্তকিছুকে পরিত্যাগ করবে, এবং তাঁর জন্য এমনকি নিজের জীবনও বিসর্জন করবে। মানবজাতির হৃদয় যখন সৃষ্টিকর্তার আন্তরিকতাপূর্ণ বাক্যগুলি উপলব্ধি করবে, মানবজাতি তখন শয়তানকে প্রত্যাখ্যান করে সৃষ্টিকর্তার পক্ষ অবলম্বন করবে; মানবজাতি যখন তার শরীর থেকে সকল কলুষ সম্পূর্ণরূপে প্রক্ষালিত করে ফেলবে, এবং আরেকবার সৃষ্টিকর্তার সংস্থান ও পরিপোষণ লাভ করবে, তখন মানবজাতির স্মৃতি পুনরায় পূর্বাবস্থায় ফিরে আসবে, এবং সেই ক্ষণে মানবজাতি প্রকৃত অর্থে সৃষ্টিকর্তার আধিপত্যে প্রত্যাবর্তন করবে।

—বাক্য, খণ্ড ২, ঈশ্বরকে জানার প্রসঙ্গে, স্বয়ং অনন্য ঈশ্বর ১

পূর্ববর্তী: ঈশ্বরের স্বরূপ অদ্বিতীয়, এবং তোমাদের বহু-ঈশ্বরবাদের ধারণাকে মান্য করা উচিত নয়

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।

সেটিংস

  • লেখা
  • থিমগুলি

ঘন রং

থিমগুলি

ফন্টগুলি

ফন্ট সাইজ

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

পৃষ্ঠার প্রস্থ

বিষয়বস্তু

অনুসন্ধান করুন

  • এই লেখাটি অনুসন্ধান করুন
  • এই বইটি অনুসন্ধান করুন

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন