ঈশ্বরের প্রতিদিনের বাক্য: ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কাজ | উদ্ধৃতি 72

13-03-2022

তুমি আমেরিকান, ব্রিটিশ, বা অন্য যেকোনো দেশের নাগরিক হও না কেন, তোমাকে তোমার নিজের জাতীয়তার গণ্ডির বাইরে, তোমার সত্তার অভিজ্ঞতার সীমা ছাড়িয়ে বেরিয়ে আসতে হবে, আর স্রষ্টার সৃষ্টি হিসাবে ঈশ্বরের কার্যকলাপকে দেখতে হবে। এই পথে চললে, তুমি ঈশ্বরের পায়ের পদাঙ্কে কোনো সীমা আরোপ করবে না। এটা করা দরকার, কারণ আজকাল অনেকে এমন ধারণা পোষণ করে যে, কোনো একটা বিশেষ দেশে বা কিছু বিশেষ মানবগোষ্ঠীর মধ্যে ঈশ্বর আবির্ভূত হবেন না। ঈশ্বরের কার্যকলাপের গুরুত্ব কতই না প্রগাঢ়, আর ঈশ্বরের আবির্ভাব কতই না গুরুত্বপূর্ণ! মানুষের ধারণা আর চিন্তাধারার পক্ষে কি তার পরিমাপ করা সম্ভব? আর তাই আমি বলি ঈশ্বরের আবির্ভাব কোথায় হয়েছে সেটা খুঁজতে হলে তোমার জাতীয়তা আর বংশগত পরিচয়ের গণ্ডি ভেঙে বেরিয়ে আসতে হবে। শুধুমাত্র এইভাবেই তুমি নিজের ধারণার মধ্যে বন্দী থাকবে না; কেবল এইভাবেই তুমি ঈশ্বরের আবির্ভাবকে স্বাগত জানাবার যোগ্য হবে। তা না হলে, তুমি অনন্ত অন্ধকারে ডুবে থাকবে, আর কখনোই ঈশ্বরের কৃপা লাভ করবে না।

ঈশ্বর সমগ্র মানবজাতিরই ঈশ্বর। তিনি নিজেকে কোনো দেশ বা জনগণের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বলে মনে করেন না, বরং তিনি কোনো বিশেষ রূপ, জাতীয়তা বা জনগণের সীমায় বন্দী না থেকে নিজের পরিকল্পনা অনুসারেই নিজের কাজ করে চলেন। সম্ভবত তুমি কখনই এই রূপের কথা কল্পনা করোনি, অথবা তোমার আদব কায়দা সম্ভবত এই রূপকে অস্বীকার করার মতো ছিল, অথবা সম্ভবত ঈশ্বর নিজেকে যে দেশে প্রকাশিত করেন এবং যে জনসাধারণের মধ্যে তিনি নিজেকে প্রকাশিত করেন, তাদের বিরুদ্ধে সম্ভবত সবাই কেবল পক্ষপাতিত্ব করে থাকে আর সেটা সম্ভবত পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা এলাকা। তবুও ঈশ্বরের নিজস্ব প্রজ্ঞা আছে। তাঁর মহান ক্ষমতার জোরে, আর তাঁর সত্য ও মনোভাবের দ্বারা, তিনি সত্যই এমন এক মানব গোষ্ঠীকে পেয়েছেন যারা তাঁর প্রতি একমুখী, এবং তারা এমন এক মানব গোষ্ঠী যাকে তিনি সম্পূর্ণ করে গড়ে তুলতে চান—এমন এক গোষ্ঠী, যাদের তিনি জয় করেছেন, যারা, সমস্ত ধরনের পরীক্ষা ও কষ্ট ভোগ করে এবং সমস্ত ধরনের যন্ত্রণা সহ্য করে, অন্তিম পর্যায় পর্যন্ত তাঁকে অনুসরণ করতে পারে। ঈশ্বরের আবির্ভাবের উদ্দেশ্য হল, নিজের পরিকল্পনা অনুসারে তাঁর কাজ সম্পূর্ণ করায় নিজেকে সক্ষম করে তোলা, যা কোনো রূপ বা দেশের সীমায় সীমিত নয়। এটা তখনও ঠিক এমনই ছিল যখন ঈশ্বর জুডিয়াতে রক্ত-মাংসের শরীরে আবির্ভূত হয়েছিলেন: তাঁর উদ্দেশ্য ছিল সমগ্র মানবজাতিকে উদ্ধার করার জন্য ক্রুশবিদ্ধকরণের কাজ সম্পূর্ণ করা। তবুও ইহুদিরা বিশ্বাস করত যে ঈশ্বরের পক্ষে এটা করা অসম্ভব, আর তারা এটাকে অসম্ভব বলে মনে করত যে ঈশ্বর রক্ত-মাংসের শরীরে আবির্ভূত হবেন আর প্রভু যীশুর রূপ ধারণ করবেন। তাদের “অসম্ভব” মনে হবার ধারণার ভিত্তিতে তারা ঈশ্বরের নিন্দা করেছে আর তাঁর বিরোধিতা করেছে, আর শেষ পর্যন্ত সেটা ইস্রায়েলের ধ্বংসের কারণ হয়েছে। আজকের দিনে, অনেকেই একই রকম ভুল করেছে। তারা সর্বশক্তি দিয়ে অবধারিত ভাবে ঈশ্বরের আবির্ভাব ঘটার দাবী করে, অথচ সাথে সাথে তাঁর আবির্ভাবের ঘটনার নিন্দাও করে; তারা যেটা “অসম্ভব” বলে মনে করে, তার ফলে আরেকবারও তারা ঈশ্বরের আবির্ভাবকে তাদের কল্পনার সীমার মধ্যে আটকে রাখতে চায়। আমি এমন অনেক মানুষ দেখেছি যারা ঈশ্বরের বাণী জানতে পেরে কর্কশ অট্টহাসি হেসে উঠেছে। তাহলে এই হাসি কি ইহুদিদের ঈশ্বরনিন্দা করা আর তাঁকে দোষারোপ করার চেয়ে আলাদা কিছু? তোমরা সত্যের সামনে শ্রদ্ধাশীল নও, তাঁর জন্য তীব্র আকাঙ্ক্ষা থাকার মনোভাব তো তোমাদের মধ্যে আরোই কম। তোমরা কেবল উদ্দেশ্যহীনভাবে অধ্যয়ন করো আর খুশি মনে নিরুদ্বিগ্নভাবে অপেক্ষা করতে থাকো। এভাবে অধ্যয়ন করতে করতে আর অপেক্ষা করতে করতে তোমরা কী পাবে? তোমরা কি মনে করো যে তোমরা ঈশ্বরের থেকে ব্যক্তিগত দিশানির্দেশ পাবে? তুমি যদি ঈশ্বরের বাণী উপলব্ধি না করতে পেরে থাকো, তাহলে তুমি কীভাবে ঈশ্বরের আবির্ভাবের সাক্ষী থাকবার যোগ্যতা অর্জন করতে পারবে? যেখানেই ঈশ্বরের আবির্ভাব হয়, সেখানেই সত্য প্রকাশিত হয়, আর সেখানে দৈববাণী শোনা যায়। যারা সত্যকে মেনে নিতে পারে কেবল তারাই দৈববাণী শুনতে পাবে, আর কেবল সেই ধরনের মানুষই ঈশ্বরের আবির্ভাবের সাক্ষী হবার যোগ্য। তোমার ভ্রান্ত ধারণাগুলি ত্যাগ করো! নিজেকে শান্ত করো আর এই কথাগুলি মনোযোগ দিয়ে পড়ো। তোমার যদি সত্য জানার তীব্র আকাঙ্ক্ষা থাকে, তাহলে ঈশ্বর তোমাকে আলোকিত করবেন আর তুমি তাঁর ইচ্ছা আর তাঁর বাণী বুঝতে পারবে। “অসম্ভব” বলে তোমাদের যে মতামতগুলি আছে সেগুলি ত্যাগ করো! মানুষ যা কিছু অসম্ভব বলে মনে করে, সেগুলি আবির্ভূত হবার সম্ভাবনা তত বেশী, কারণ ঈশ্বরের প্রজ্ঞা স্বর্গের চেয়েও সুউচ্চ, ঈশ্বরের ভাবনাগুলি মানুষের ভাবনার চেয়ে উঁচু, আর ঈশ্বরের কার্যকলাপ মানুষের চিন্তাশক্তি ও ধারণার সীমা ছাপিয়ে যায়। কোনো কিছু যতই অসম্ভব বলে মনে হয়, ততই তার মধ্যে সত্য খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে; কোনো কিছু যতই মানুষের ধারণা আর কল্পনার সীমা ছাড়িয়ে যায়, ততই তার মধ্যে ঈশ্বরের ইচ্ছা নিহিত থাকে। এর কারণ হল, তিনি নিজেকে যেখানেই প্রকাশমান করুন না কেন, ঈশ্বর তো তবু ঈশ্বরই থাকবেন, আর তাঁর অবস্থান বা তিনি কীভাবে আবির্ভূত হন তার জন্য তাঁর মর্মবস্তু কখনই পরিবর্তিত হবে না। তাঁর পদাঙ্ক যেখানেই থাকুক না কেন, ঈশ্বরের মনোভাব একই থাকে আর ঈশ্বরের পদাঙ্ক যেখানেই থাকুক না কেন, তিনি হলেন সমস্ত মানব জাতির ঈশ্বর, ঠিক যেমন প্রভু যীশু কেবল ইস্রায়েলীয়দের ঈশ্বর নন, তিনি এশিয়া, ইউরোপ আর আমেরিকার সমস্ত মানুষের ঈশ্বর, এবং এমনকি তার চেয়েও বড় কথা হল, তিনি হলেন সমগ্র বিশ্বজগতের একমাত্র ঈশ্বর। তাই এসো আমরা ঈশ্বরের ইচ্ছা জানবার চেষ্টা করি আর তাঁর বাণীর মধ্যে তাঁর আবির্ভাবকে আবিষ্কার করি আর তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলি। ঈশ্বরই হলেন সত্য, পথ আর জীবন। তাঁর বাণী আর তাঁর আবির্ভাব একই সাথে ঘটে আর তাঁর মনোভাব আর তাঁর পদাঙ্ক চিরকাল মানব জাতির কাছে প্রকাশমান হয়ে আছে। প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আমি আশাকরি যে তোমরা এই শব্দগুলির মধ্যে ঈশ্বরের আবির্ভাব দেখতে পাচ্ছো, এক নতুন যুগের দিকে দ্রুত এগিয়ে চলার পথে তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করা শুরু করো, আর এক অপরূপ ও নতুন স্বর্গ এবং জগতে প্রবেশ করো যেটা ঈশ্বর তাদের জন্য প্রস্তুত করেছেন যারা তাঁর আবির্ভাবের জন্য অপেক্ষা করে আছে!

“বাক্য দেহে আবির্ভূত হল” থেকে

আরও দেখুন

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? অনুগ্রহ করে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। 😊

শেয়ার করুন

বাতিল করুন

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন