কাজ এবং প্রবেশ (৮)

আমি অনেকবার বলেছি যে ঈশ্বরের অন্তিম সময়ের কাজ সম্পন্ন করা হয় প্রত্যেক ব্যক্তির আত্মার পরিবর্তনের জন্য, প্রত্যেকের অন্তঃকরণের পরিবর্তন সাধনের জন্য, যাতে তাদের হৃদয়, যা প্রভূত আঘাত সহ্য করেছে, তার সংস্কারসাধন হয়, ফলে তাদের অন্তরাত্মাকে উদ্ধার করা যায়, যা মন্দের দ্বারা গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; এই কাজ মানুষের আত্মাকে জাগ্রত করার জন্য, তাদের শীতল হৃদয় উষ্ণ করার জন্য, ও তাদের পুনরুজ্জীবিত হতে দেওয়ার জন্য। এটাই ঈশ্বরের মহত্তম ইচ্ছা। মানুষের জীবন ও অভিজ্ঞতার উচ্চতা বা গভীরতার আলোচনা দূরে সরিয়ে রাখো; যখন মানুষের হৃদয় জাগরিত হবে, যখন তারা তাদের স্বপ্ন থেকে জাগ্রত হবে এবং খুব ভালো করে বুঝতে পারবে অতিকায় লাল ড্রাগনের সম্পাদিত ক্ষতি, তখনই ঈশ্বরের সেবাব্রত সম্পূর্ণ হবে। যে দিন ঈশ্বরের কাজ সম্পূর্ণ হয়, সেই দিনই মানুষ ঈশ্বর বিশ্বাসের সঠিক পথে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। সেই সময়, ঈশ্বরের সেবাব্রত সমাপ্তিতে পৌঁছবে: ঈশ্বরের দেহরূপের কাজ সম্পূর্ণভাবে শেষ হয়ে যাবে, এবং মানুষ আনুষ্ঠানিকভাবে তার পালনীয় কর্তব্য পালন করতে শুরু করবে—সে তার সেবাব্রত সম্পাদন করবে। এগুলিই ঈশ্বরের কাজের পর্যায়। এইভাবে, তোমাদের উচিত এই বিষয়গুলি জানার মূল ভিত্তিভূমিতে প্রবেশ করার জন্য পথের সন্ধানে সচেষ্ট হওয়া। এই সবকিছুই তোমাদের উপলব্ধি করতে হবে। অন্তরের অন্তঃস্থলে পরিবর্তন ঘটে থাকলে তবেই মানুষের প্রবেশের উন্নতি হতে পারে, কারণ ঈশ্বরের কাজ হল শয়তানদের সমাবেশের এই স্থান থেকে মানুষের সামগ্রিক পরিত্রাণসাধন—সেইসব মানুষর, যাদের উদ্ধার করা হয়েছে, যারা এখনো অন্ধকারের শক্তির অধীনে বাস করে, এবং যারা কখনো নিজেদের জাগিয়ে তোলেনি, তাদের পরিত্রাণসাধন; তা এইজন্য যাতে মানুষ অতিকায় লাল ড্রাগনকে সম্পূর্ণভাবে ধূলিস্যাৎ ক’রে, ঈশ্বরের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা ক’রে, এবং ঈশ্বরের হৃদয়ে শীঘ্র বিশ্রাম আনয়ন ক’রে, পাপের সহস্রাব্দ থেকে মুক্ত হতে পারে এবং ঈশ্বরের ভালোবাসার মানুষ হয়ে উঠতে পারে; তা সেই ঘৃণাকে অবাধ নির্গমনপথ দেওয়ার জন্য যা তোমাদের হৃদয়কে স্ফীত করে, সেই জীর্ণ জীবাণুদের নিশ্চিহ্ন করার জন্য, বৃষ বা অশ্বের থেকে অভিন্ন তোমাদের যে জীবন তা ত্যাগ করে আসতে তোমাদের সক্ষম ক’রে তোলার জন্য, আর দাস হয়ে না থাকার জন্য, অতিকায় লাল ড্রাগনের দ্বারা আর অবাধে ক্ষতিগ্রস্ত বা নির্দেশিত না হওয়ার জন্য; তোমরা আর এই ব্যর্থ জাতির অধীনে থাকবে না, আর এই ঘৃণ্য অতিকায় লাল ড্রাগনের অধিকৃত হয়ে থাকবে না, এবং তোমরা আর তার দাসত্ব করবে না। ঈশ্বর এই দৈত্যের আস্তানা ছারখার করে দেবেন, এবং তোমরা ঈশ্বরের পাশে দাঁড়াবে—তোমরা ঈশ্বরের অংশীভূত, এই দাসেদের সাম্রাজ্যের নও। ঈশ্বর বহু বছর ধরে এই অন্ধকার সমাজকে সমস্ত অস্থিমজ্জা থেকে ঘৃণা করে এসেছেন। তিনি দাঁতে দাঁত ঘষেন, এই দুষ্ট, জঘন্য প্রাচীন সর্পকে তিনি পদপিষ্ট করতে ব্যগ্র, যাতে সে আর কখনো জেগে উঠে মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতে না পারে; তার অতীতের কর্মকে ঈশ্বর ক্ষমা করবেন না, মানুষের প্রতি তার প্রতারণা তিনি সহ্য করবেন না, যুগের পর যুগ ধরে তার প্রতিটি পাপের তিনি হিসাব চোকাবেন। সমস্ত মন্দের এই পরিচালক দলনেতাকে[১] তিনি সামান্যতম রেহাই দেবেন না, তাকে তিনি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করবেন।

হাজার হাজার বছর ধরে এটি কলুষিত স্থান হয়ে রয়েছে। এই স্থান অসহনীয়ভাবে দূষিত, প্রভূত দুর্দশাগ্রস্ত, প্রেতাত্মারা উন্মত্তের মতো সর্বত্র বিচরণ করে, ছলচাতুরী ও শঠতা করে, ভিত্তিহীন অভিযোগ করে,[২] নির্মম ও দুশ্চরিত্র আচরণ করে, এই প্রেতাত্মার শহরকে পদদলিত করে আর মৃতদেহ দিয়ে তাকে ভরিয়ে দেয়; পচনের দুর্গন্ধ এই ভূমিকে ঢেকে রাখে আর বাতাসকে অধিগ্রহণ করে, আর এই ভূমি ভীষণভাবে সুরক্ষিত।[৩] আকাশের ওপারের জগৎকে কে দেখতে পায়? শয়তান মানুষের সমস্ত শরীরকে দৃঢ় বন্ধনে বেঁধে ফেলে, তার দুচোখ আবৃত করে রাখে, এবং তার দু-ঠোঁট বলিষ্ঠভাবে বন্ধ করে রাখে। শয়তানদের রাজা বহুবছর ধরে উন্মত্ত আচরণ করেছে, আজ পর্যন্ত তা-ই করে চলেছে, এখনও সে প্রেতাত্মাদের শহরে প্রতিনিয়ত নজর রাখে, যেন এটি শয়তানদের এক দুর্ভেদ্য প্রাসাদ; এদিকে, এই প্রহরীর দল জ্বলন্ত দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে, এই গভীর আতঙ্কে যে ঈশ্বর অজান্তেই তাদের ধরে ফেলবেন আর সবাইকে নিশ্চিহ্ন করে ফেলবেন, তাদের কোনো সুখের বা শান্তির জায়গা রাখবেন না। এমন এক প্রেতাত্মাদের শহরের লোকেরা কী করে ঈশ্বরকে কখনো দেখে থাকতে পারে? তারা কি কখনো ঈশ্বরের বন্ধুত্বপূর্ণতা ও মাধুর্য উপভোগ করেছে? মনুষ্যজগতের বিষয়ে তাদের উপলব্ধি কতটুকু? তাদের মধ্যে কে ঈশ্বরের সাগ্রহ ইচ্ছা উপলব্ধি করতে সক্ষম? তাহলে আশ্চর্যের কিছু নেই যে ঈশ্বরের অবতার সম্পূর্ণ প্রচ্ছন্ন থাকেন: এইরকম একটি অন্ধকারাচ্ছন্ন সমাজে, যেখানে শয়তানেরা নির্দয় ও অমানবিক, সেখানে শয়তানদের রাজা, যে মানুষকে নির্দ্বিধায় হত্যা করে, সে কীভাবে এমন একজন ঈশ্বরের অস্তিত্ব সহ্য করবে যিনি প্রেমময়, দয়ালু, এবং সেইসাথে পবিত্র? সে কী করে ঈশ্বরের আগমনকে সাধুবাদ জানাবে ও উল্লসিত হবে? এইসব পদলেহনকারী দাস! তারা দয়ার প্রতিদান দেয় ঘৃণার মধ্যে দিয়ে, তারা বহু আগেই ঈশ্বরের সাথে শত্রুর মতো আচরণ করতে আরম্ভ করেছে, তারা ঈশ্বরের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে, তারা চূড়ান্ত অসভ্য, ঈশ্বরের প্রতি তাদের ন্যূনতম সম্মান নেই, তারা হরণ ও লুণ্ঠন চালায়, তারা সমস্ত বিবেকবোধ হারিয়েছে, সমস্ত বিবেকবোধের বিপরীতে চলে, এবং সরলদের বোধশক্তিহীন হতে প্রলুব্ধ করে। প্রাচীন পূর্বপুরুষেরা? প্রিয় নেতৃবৃন্দ? তারা সকলে ঈশ্বরের বিরোধিতা করে! তাদের হস্তক্ষেপ স্বর্গের নিচের সমস্তকিছুকে এক অন্ধকার ও বিশৃঙ্খলাময় অবস্থায় নিয়ে এসেছে! ধর্মীয় স্বাধীনতা? নাগরিকদের বৈধ অধিকার ও স্বার্থ? এগুলো সবই পাপকে ঢাকা দেওয়ার কৌশল! কে ঈশ্বরের কাজকে সাদর আলিঙ্গন করেছে? কে ঈশ্বরের কাজের জন্য জীবন বিসর্জন দিয়েছে অথবা রক্ত ঝরিয়েছে? প্রজন্মের পর প্রজন্ম, অভিভাবক থেকে সন্তানেরা, ক্রীতদাসস্বরূপ মানুষ সৌজন্যহীনভাবে ঈশ্বরকে দাস বানিয়ে রেখেছে—কীভাবে তা ক্রোধের জন্ম দেবে না? হাজার হাজার বছরের ঘৃণা অন্তরে সঞ্চিত হয়েছে, সহস্রাব্দের পাপ হৃদয়ে খোদাই করা আছে—এর ফলে কি ঘৃণার জন্ম হবে না? ঈশ্বরের হয়ে প্রতিশোধ নাও, তাঁর শত্রুকে সম্পূর্ণরূপে নির্বাপিত করো, তাকে আর উন্মত্ত আচরণ করতে দিও না, এবং অত্যাচারী শাসকের মতো তাকে আর শাসন করতে দিও না। এখনই সেই সময়: মানুষ দীর্ঘকাল ধরে তার সমস্ত শক্তি সংগ্রহ করেছে, তার সকল প্রচেষ্টা নিবেদন করেছে এবং প্রতিটি মূল্য প্রদান করেছে এরই জন্য, যাতে এই দুষ্টের বীভৎস মুখাবয়ব ছিঁড়ে ফেলতে পারে, এবং যারা এতকাল অন্ধ হয়ে রয়েছে ও সকল প্রকারের কষ্ট ও দুর্দশা সহ্য করেছে, তারা যাতে তাদের যন্ত্রণা থেকে উঠে দাঁড়াতে পারে এবং এই দুষ্ট আদিম শয়তানের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে সক্ষম হয়। ঈশ্বরের কাজে এমন এক দুর্ভেদ্য প্রতিবন্ধকতা প্রস্তুত করা কেন? ঈশ্বরের লোকজনকে প্রতারিত করার জন্য এতরকম কৌশলের নিয়োগ করা কেন? প্রকৃত স্বাধীনতা এবং বৈধ অধিকার ও স্বার্থ কোথায়? ন্যায়পরায়ণতা কোথায়? স্বাচ্ছন্দ্য কোথায়? উষ্ণতা কোথায়? ঈশ্বরের জনগণের সাথে চাতুরী করার জন্য প্রতারণাপূর্ণ চক্রান্তের ব্যবহার করা কেন? ঈশ্বরের আগমনকে দমন করার জন্য শক্তিপ্রয়োগ কেন? কেন তাঁরই সৃষ্ট পৃথিবীতে স্বাধীনভাবে বিচরণের অনুমতি নেই? তাঁর বিশ্রামের শেষ জায়গাটুকুও না থাকা পর্যন্ত কেন তাঁকে শিকারির মতো তাড়া করা? মানুষের মধ্যে উষ্ণতা কোথায়? মানুষের মধ্যে স্বাগত মনোভাব কোথায়? ঈশ্বরের মধ্যে এই মরিয়া আকুলতা জাগিয়ে তোলা কেন? বারংবার আর্ত আহ্বান করতে ঈশ্বরকে বাধ্য করা কেন? ঈশ্বরকে তাঁর প্রিয় পুত্রের জন্য চিন্তিত হতে বাধ্য করা কেন? এই অন্ধকার সমাজে, এর দুর্ভাগা প্রহরী কুকুরেরা কেন ঈশ্বরকে তাঁর নিজের সৃষ্ট পৃথিবীতে ইচ্ছামতো বিচরণ করতে দেয় না? যে মানুষ যন্ত্রণা ও দুর্ভোগের মাঝে জীবনযাপন করছে, সে কেন উপলব্ধি করে না? তোমাদের স্বার্থে ঈশ্বর অনেক অত্যাচার সহ্য করেছেন, বহু ব্যথা নিয়েও তিনি তাঁর প্রিয় পুত্রকে, তাঁর রক্তমাংসের দেহকে, তোমাদের দান করেছেন—তাহলে তোমরা কেন এখনো দেখেও না দেখার ভান করছ? প্রত্যেকের চোখের সামনে, তোমরা ঈশ্বরের আগমনকে প্রত্যাখ্যান করো, এবং ঈশ্বরের বন্ধুত্ব অস্বীকার করো। কেন তোমরা এমন বিবেকহীন? তোমরা কি এইভাবেই একটি অন্ধকার সমাজে অন্যায় সহ্য করে যেতে চাও? তোমাদের উদর সহস্র বর্ষের শত্রুতা দিয়ে পূর্ণ না ক’রে তোমরা নিজেদের মধ্যে শয়তানদের রাজার “বিষ্ঠা” ভর্তি করছ কেন?

ঈশ্বরের কাজের বিঘ্নগুলো কত বড়? কেউ কি কখনো জেনেছে? মানুষ যেহেতু নানান রঙের বদ্ধমূল কুসংস্কারের খাঁচায় বন্দি, তাহলে কে ঈশ্বরের প্রকৃত মুখাবয়ব জানতে সক্ষম? এই অগভীর এবং অযৌক্তিক অনগ্রসর সাংস্কৃতিক জ্ঞান নিয়ে তারা কীভাবেই বা ঈশ্বরের কথিত বাক্য সম্পূর্ণ উপলব্ধি করতে পারে? এমনকি যদি সামনাসামনি তাদের সাথে কথা বলা হয়, যদি মুখোমুখিও তাদের পুষ্ট করা হয়, তবুও তারা কি করে উপলব্ধি করতে পারে? মাঝে মাঝে মনে হয় যেন ঈশ্বরের বাক্য বধির কর্ণে পতিত হয়েছে; মানুষের ন্যূনতম প্রতিক্রিয়াও নেই, তারা তাদের মাথা নেড়ে যায় কিন্তু কিছুই বোঝে না। এটা কি উদ্বেগজনক নয়? এই “দূরবর্তী,[৪] প্রাচীন সাংস্কৃতিক ইতিহাস এবং সাংস্কৃতিক জ্ঞান” এরকম একদল মূল্যহীন মানুষকে লালন করেছে। এই প্রাচীন সংস্কৃতি—মূল্যবান ঐতিহ্য—এইসবই আবর্জনার স্তূপ! তা বহু আগেই চিরস্থায়ী এক লজ্জার বিষয় হয়ে উঠেছে, এবং তা মোটেই উল্লেখ করার মতো নয়! এটা মানুষকে ঈশ্বরের বিরুদ্ধাচরণ করার কৌশল ও ফন্দি শিখিয়েছে, এবং জাতীয় শিক্ষার “শৃঙ্খলাবদ্ধ, মৃদু নির্দেশিকা”[৫] মানুষকে ঈশ্বরের প্রতি আরও বেশি আনুগত্যহীন করে তুলেছে। ঈশ্বরের কাজের প্রতিটা অংশই অত্যন্ত কঠিন, এবং পৃথিবীতে তাঁর কাজের প্রতিটা ধাপই তাঁর কাছে যন্ত্রণাময় থেকেছে। পৃথিবীতে তাঁর কাজ কতই না কঠিন! পৃথিবীতে ঈশ্বরের কাজের পর্যায়গুলোর সাথে সুবিশাল দুর্ভোগ জড়িত; মানুষের দুর্বলতা, ঘাটতি, শিশুসুলভতা, অজ্ঞতা, এবং মানুষের সবকিছুর জন্যই, ঈশ্বর সূক্ষ্ম পরিকল্পনা ও সুচিন্তিত বিবেচনা করেন। মানুষ হল সেই কাগুজে বাঘ যাকে কেউ টোপ দিতে বা প্ররোচিত করতে সাহস পায় না; সামান্য স্পর্শেও সে প্রত্যাঘাত করে, অথবা পতিত হয় ও বিপথগামী হয়, এবং ব্যাপারটা এমন যেন ন্যূনতম অমনোযোগীতাতেও তার পুনরবনতি ঘটে, অথবা সে ঈশ্বরকে উপেক্ষা করে, অথবা তার শুয়োর ও কুকুরের মতো পিতামাতার কাছে ছুটে যায় তাদের শরীরের অশুদ্ধ জিনিস নিয়ে আনন্দ করার জন্য। কী বিপুল বাধা! বাস্তবে তাঁর কাজের প্রত্যেক পর্যায়ে, ঈশ্বরকে প্রলোভিত করা হয়, এবং প্রায় প্রত্যেক ধাপেই ঈশ্বর বড় বিপদের ঝুঁকি নেন। তাঁর বাক্য আন্তরিক ও সৎ, এবং বিদ্বেষহীন, কিন্তু কে-ই বা সেসব গ্রহণ করতে চায়? কে-ই বা সম্পূর্ণ সমর্পণ করতে চায়? এটা ঈশ্বরের হৃদয় বিদীর্ণ করে। তিনি দিনরাত মানুষের জন্য পরিশ্রম করেন, তিনি মানুষের জীবনের জন্য উদ্বেগে বেষ্টিত, এবং তিনি মানুষের দুর্বলতার প্রতি সহানুভূতিশীল। তিনি তাঁর কাজের প্রতিটা ধাপে বহু ঘাত প্রতিঘাত সহ্য করেছেন, তিনি যা বলেন তার প্রতিটা বাক্যের জন্য; তিনি সবসময়েই দুটো সমান কঠিন অবস্থার মাঝখানে রয়েছেন, এবং মানুষের দুর্বলতা, অবাধ্যতা, শিশুসুলভতা, ও বিপন্নতার কথা ভাবছেন … সবসময়, বারংবার। কে-ই বা সেকথা কখনো জানতে পেরেছে? তিনি কাকেই বা বিশ্বাস করতে পারেন? কে-ই বা সেকথা বুঝতে সমর্থ হবে? মানুষের পাপ, এবং দৃঢ়তার অভাব, ও তাদের মেরুদন্ডহীনতাকে তিনি চিরকাল ঘৃণা করেন, এবং চিরকাল তিনি মানুষের বিপন্নতার জন্য উদ্বিগ্ন, এবং মানুষের সম্মুখে যে পথ পড়ে রয়েছে তার বিষয়ে চিন্তান্বিত। সবসময়েই, যখন তিনি মানুষের সমস্ত কথা ও কাজ লক্ষ্য করেন, তিনি করুণায় ও ক্রোধে পূর্ণ হয়ে ওঠেন, এবং এইসব বিষয়ের দৃশ্য সবসময়েই তাঁর অন্তরে যন্ত্রণা নিয়ে আসে। অপাপবিদ্ধ মানুষ, অবশেষে অসাড় হয়ে উঠেছে; ঈশ্বরকে সবসময় তাদের জন্য সবকিছু কঠিন করে তুলতে হবে কেন? দুর্বল মানুষ অধ্যবসায় থেকে সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত; সর্বদা তার প্রতি ঈশ্বরের এমন অপ্রশমিত ক্রোধ থাকবে কেন? দুর্বল, ক্ষমতাহীন মানুষের আর ন্যূনতমও জীবনীশক্তি নেই; ঈশ্বরকে সবসময় তাদের অবাধ্যতার জন্য তিরস্কার করতে হবে কেন? স্বর্গের ঈশ্বরের ভীতি প্রদর্শন কে সহ্য করতে পারে? মানুষ সর্বোপরি ভঙ্গুর, এবং প্রভূত প্রচেষ্টায় ঈশ্বর তাঁর ক্রোধকে হৃদয়ের গভীরে স্থান ঠেলে দিয়েছেন, যাতে মানুষ ধীরে ধীরে নিজেকে অনুসন্ধান করতে পারে। তবুও, ভয়াবহ সমস্যার মধ্যে থাকা মানুষ, তার মধ্যে ঈশ্বরের ইচ্ছার প্রতি সামান্যতম প্রশংসাও নেই; মানুষ শয়তানদের প্রাচীন রাজার পায়ের নিচে পদদলিত হয়েছে, তবুও সে সম্পূর্ণ অনবহিত, সে সবসময় নিজেকে ঈশ্বরের বিপরীতে স্থান দেয়, অথবা সে ঈশ্বরের প্রতি উষ্ণ বা শীতল কোনোটাই নয়। ঈশ্বর অনেক বাক্যই বলেছেন, কিন্তু কে-ই বা সেসব কখনো গুরুত্বসহ গ্রহণ করেছে? মানুষ ঈশ্বরের বাক্য উপলব্ধি করে না, তবুও সে অবিচলিত ও ব্যাকুলতাবিহীন থাকে, এবং সে কখনোই প্রকৃতপক্ষে পুরানো শয়তানের সারমর্ম জানতে পারেনি। মানুষ মৃতস্থানে বাস করে, কিন্তু তারা বিশ্বাস করে যে তারা সমুদ্রতলদেশে প্রাসাদে বাস করে; তারা অতিকায় লাল ড্রাগনের দ্বারা নির্যাতিত, কিন্তু তারা দেশের দ্বারা নিজেদের “অনুগ্রহপ্রাপ্ত”[৬] মনে করে; শয়তান তাদের বিদ্রূপ করে, তবুও তারা মনে করে তারা দৈহিক সত্তার সর্বোত্তম শৈল্পিকতা উপভোগ করছে। তারা কতখানি কলুষিত, নীচ, নিকৃষ্ট! মানুষ দুর্ভাগ্যের সম্মুখীন হয়েছে, কিন্তু সে তা জানে না, এবং এই অন্ধকার সমাজে সে একের পর এক দুর্ঘটনা সহ্য করে,[৭] তবুও সে কোনোদিনই জাগ্রত হয়ে ওঠেনি। কবে সে এই নিজেকে করুণা দেখানো ও দাসসুলভ স্বভাব থেকে মুক্ত করবে? কেন সে ঈশ্বরের হৃদয়ের প্রতি এত অযত্নবান? সে কি নীরবেই এই নিপীড়ন ও দুর্ভোগ সহ্য করে? সে কি সেইদিনের স্বপ্ন দেখে না, যেদিন সে অন্ধকারকে আলোয় পরিণত করতে পারবে? সে কি আরো একবার ধার্মিকতা ও সত্যের দিকে সমস্ত অন্যায়ের প্রতিবিধান চায় না? মানুষ যখন সত্যকে ত্যাগ করছে এবং বাস্তবকে বিকৃত করছে, তখনও কি সে কিছু না করে শুধু দেখে যেতে চায়? সে কি এই অসদাচরণ খুশি মনে সহ্য করে যেতে চায়? সে কি দাস হয়ে থাকতে চায়? সে কি এই বিফল রাজ্যে দাসেদের সঙ্গে একসাথে ঈশ্বরের হাতে ধ্বংস হয়ে যেতে চায়? তোমার সঙ্কল্প কোথায়? কোথায় তোমার উচ্চাশা? কোথায় তোমার মর্যাদা? কোথায়ই বা সততা? তোমার স্বাধীনতা কোথায়? তুমি কি তোমার সমস্ত জীবন[৮] অতিকায় লাল ড্রাগন, শয়তানদের রাজার সামনে নামিয়ে রাখতে চাও? তুমি কি মৃত্যু পর্যন্ত তাকে তোমার উপর অত্যাচার করতে দিয়ে খুশি? গভীরের আসল চেহারা অত্যন্ত বিশৃঙ্খল ও অন্ধকার, এদিকে এরকম দুর্দশা ভোগ ক'রে সাধারণ মানুষ স্বর্গের কাছে বিলাপ করে এবং পৃথিবীর কাছে অভিযোগ করে। কবে মানুষ উঁচুতে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে? মানুষ জীর্ণ ও ক্ষীণকায়, সে কীভাবে এই নিষ্ঠুর ও অত্যাচারী শয়তানের সঙ্গে মোকাবিলা করতে পারে? কেন সে যত শীঘ্র সম্ভব তার জীবন ঈশ্বরের জন্য প্রদান করে না? কেন সে এরপরেও দোদুল্যমান? কখন সে ঈশ্বরের কাজ শেষ করতে পারবে? এইভাবে লক্ষ্যহীনভাবে অত্যাচারিত ও নিপীড়িত হয়ে চললে তার সমস্ত জীবন শেষ পর্যন্ত বিফলে ব্যয় করা হবে; আগমনের জন্য কেন তার এত ব্যস্ততা, আর কেনই বা প্রস্থানের জন্য এত তাড়া? ঈশ্বরকে দেওয়ার মতো মূল্যবান কিছু সে রাখে না কেন? সে কি ঘৃণার সহস্রাব্দের কথা ভুলে গেছে?

সম্ভবত, বহু মানুষ ঈশ্বরের কিছু বাক্যকে ঘৃণা করে, অথবা হয়তো সেগুলোর প্রতি তাদের কোনও ঘৃণাও নেই আবার আগ্রহও নেই। তবে যাই হোক না কেন, সত্যি ঘটনা অর্থহীন যুক্তি হয়ে উঠতে পারে না; কেউই এমন কথা বলতে পারে না যা সত্যি ঘটনার পরিপন্থী। ঈশ্বর এই বার দেহধারণ করেছেন এরকম কাজ করার জন্য, তাঁর যে কাজ শেষ করা বাকি তার উপসংহার টানার জন্য, এই যুগ শেষ করার জন্য, এই যুগের বিচার করার জন্য, গভীরভাবে পাপী ব্যক্তিদের কষ্টভোগের সমুদ্রের জগৎ থেকে উদ্ধার করে তাদের আমূল পরিবর্তিত করার জন্য। ইহুদিরা ঈশ্বরকে ক্রুশবিদ্ধ করেছিল, এভাবেই যিহুদীয়াতে ঈশ্বরের যাত্রা শেষ হয়। বেশিদিন পরে নয়, ঈশ্বর ব্যক্তিগতভাবে মানুষের মাঝে আরো একবার এসেছিলেন, নীরবে অবতীর্ণ হয়েছিলেন অতিকায় লাল ড্রাগনের দেশে। আসলে, ইহুদিদের রাষ্ট্রের ধর্মীয় সম্প্রদায় বহুদিন আগে থেকে তাদের দেওয়ালে যীশুর ছবি ঝুলিয়ে রেখেছে, এবং তাদের মুখ থেকে মানুষ চিৎকার করেছে, “প্রভু যীশু খ্রীষ্ট”। তারা প্রায় জানতই না যে যীশু অনেক আগেই তাঁর কাজের অসমাপ্ত দ্বিতীয় পর্যায় শেষ করতে পৃথিবীতে ফিরে আসার জন্য তাঁর পিতার নির্দেশ স্বীকার করে নিয়েছিলেন। এর ফলে, মানুষ তাঁকে দেখে বিস্মিত হয়ে উঠেছিল: তিনি এমন একটা পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করেছেন যেখানে ইতিমধ্যেই অনেকগুলো যুগ পেরিয়ে গেছে, এবং তিনি মানুষের মধ্যে আবির্ভূত হয়েছেন এমন একজনের রূপে যে অত্যন্ত সাধারণ। আসলে, যুগের সঙ্গে সঙ্গে, তাঁর পোশাকপরিচ্ছদ এবং সমগ্র উপস্থিতি বদলে গেছে, যেন তাঁর পুনর্জন্ম ঘটেছে। কীভাবে মানুষ জানতে পারতো যে তিনি সেই একই প্রভু যীশু খ্রীষ্ট যিনি ক্রুশ থেকে নেমে এসেছিলেন এবং পুনরুত্থিত হয়েছিলেন? তাঁর শরীরে আঘাতের ন্যূনতম চিহ্ন নেই, ঠিক যেমন যীশু যিহোবার সঙ্গে কোনো সাদৃশ্য বহন করেননি। আজকের যীশু বহুদিন ধরেই অতীত হয়ে যাওয়া সময়ের সাথে সম্পর্কবিহীনভাবে রয়েছেন। মানুষ কীভাবেই বা তাঁকে চিনতে পারতো? তিনিই যে পুনর্জন্মপ্রাপ্ত যীশু, প্রতারক থোমা সবসময় সে বিষয়ে সন্দেহ করে, এবং সবসময় যীশুর হাতে পেরেকের ক্ষতচিহ্ন দেখতে চায় নিশ্চিন্ত হবার জন্য; সেগুলো না দেখতে পেলে সে সবসময় একটা সন্দেহের মেঘের উপরে দাঁড়িয়ে থাকে এবং কখনোই শক্ত মাটিতে পা রাখতে আর যীশুকে অনুসরণ করতে পেরে ওঠে না। বেচারা “থোমা”—সে কী করে জানবে যে যীশু পৃথিবীতে এসেছেন পিতা ঈশ্বরের অর্পিত কাজ করতে? কেন তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার ক্ষতচিহ্ন বহন করতে হবে? ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার ক্ষতচিহ্নই কি যীশুর চিহ্ন? তিনি তাঁর পিতার ইচ্ছায় কাজ করতে এসেছেন; কেন তিনি কয়েক হাজার বছর আগের এক ইহুদির মতো পোশাক পরিহিত ও সজ্জিত হয়ে আসবেন? ঈশ্বরের দেহরূপ কি তাঁর কাজের পক্ষে অন্তরায় হতে পারে? এটা কার তত্ত্ব? ঈশ্বর যখন কাজ করেন, কেন তা মানুষের কল্পনার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হতে হবে? ঈশ্বর তাঁর কাজে একমাত্র যে দিকে মনোযোগ দেন তা হল যাতে সেই কাজ প্রভাব অর্জন করতে পারে। তিনি বিধান মানেন না, এবং তাঁর কাজের কোনো নিয়মও নেই—মানুষ কী করে এর তল পেতে পারে? মানুষ কীভাবেই বা তার পূর্বধারণা ও কল্পনার উপরে ভর করে ঈশ্বরের কাজের মধ্যে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে প্রবেশ করতে পারে? তাই তোমাদের জন্য সবচেয়ে ভালো হচ্ছে যে তোমরা স্থিত হও; তুচ্ছ বিষয় নিয়ে উত্তেজিত হয়ো না, তোমাদের কাছে যে বিষয়গুলো নতুন, সেগুলোকে বড় করে তুলো না—তা না হলে তুমি নিজেই কৌতুকের পাত্র হয়ে উঠবে এবং লোকে তোমাকে উপহাস করবে। তুমি এই এত বছর ধরে ঈশ্বরে বিশ্বাস করেছ এবং তারপরেও তুমি ঈশ্বরকে চেনো না। শেষ পর্যন্ত, তুমি শাস্তিতে নিমজ্জিত হবে; যে তুমি “শ্রেণীর মধ্যে সর্বোচ্চ”[৯] ছিলে, সে দণ্ডিতের স্থানে নেমে আসবে। তোমার তুচ্ছ কৌশল দেখানোর জন্য চতুর পদ্ধতির ব্যবহার না করাই তোমার পক্ষে ভালো হবে। তোমার অদূরদর্শিতা কি ঈশ্বরকে সত্যিই উপলব্ধি করতে পারে, যিনি অনন্তকাল থেকে অনন্তকাল পর্যন্ত দেখতে পারেন? তোমার অগভীর অভিজ্ঞতা কি তোমাকে ঈশ্বরের ইচ্ছা সম্পূর্ণ স্পষ্টভাবে দেখতে দিতে পারে? অতিমাত্রায় আত্মগর্বে গর্বিত হোয়ো না। ঈশ্বর, সর্বোপরি এই পৃথিবীর নন—তাহলে তাঁর কাজ কী করে তোমার প্রত্যাশা অনুযায়ী হতে পারে?

পাদটীকা:

১. “সমস্ত মন্দের পরিচালক দলনেতা” বলতে পুরোনো শয়তানকে বোঝানো হয়েছে। এই শব্দগুলোর মাধ্যমে চূড়ান্ত বিতৃষ্ণা প্রকাশ করা হয়েছে।

২. “ভিত্তিহীন অভিযোগ করে” বলতে যে পদ্ধতিতে শয়তান মানুষের ক্ষতি করে তা বোঝানো হয়েছে।

৩. “ভীষণভাবে সুরক্ষিত” বলতে নির্দেশ করা হয়েছে যে শয়তান যে পদ্ধতিতে মানুষকে কষ্ট দেয় তা বিশেষভাবে নিষ্ঠুর, এবং শয়তান মানুষকে এতটাই নিয়ন্ত্রণ করে যে তাদের নড়াচড়ার জায়গাও থাকে না।

৪. “দূরবর্তী” শব্দটা উপহাস করে বলা হয়েছে।

৫. “শৃঙ্খলাবদ্ধ, মৃদু নির্দেশিকা” উপহাস করে ব্যবহৃত হয়েছে।

৬. “অনুগ্রহপ্রাপ্ত” শব্দটা সেইসব মানুষকে উপহাস করতে ব্যবহৃত হয়েছে যাদের কাঠের মতো মনে হয় এবং যাদের কোনো আত্ম-সচেতনতা নেই।

৭. “একের পর এক দুর্ঘটনা সহ্য করে” বলতে নির্দেশ করা হয়েছে যে সেই মানুষেরা অতিকায় লাল ড্রাগনের দেশে জন্মেছে, এবং তারা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মাথা তুলতে অক্ষম।

৮. “সমস্ত জীবন নামিয়ে রাখা” কথাটা অবমাননাকর ইঙ্গিতে ব্যবহৃত হয়েছে।

৯. “শ্রেণীর মধ্যে সর্বোচ্চ” কথাটা তাদেরকে ব্যঙ্গ করে বলা যারা উদ্দীপনার সাথে ঈশ্বরের সাধনা করত।

পূর্ববর্তী: কাজ এবং প্রবেশ (৭)

পরবর্তী: ঈশ্বরের কাজের দর্শন (১)

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।👇

সম্পর্কিত তথ্য

প্রার্থনার অনুশীলন বিষয়ে

তোমরা তোমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রার্থনার উপর জোর দাও না। মানুষ প্রার্থনার বিষয়টিকে অবহেলা করে। প্রার্থনা সাধারণত করা হয়ে থাকে দায়সারাভাবে...

ঈশ্বরের সঙ্গে সহজ সম্পর্ক স্থাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

যে পথে মানুষ ঈশ্বরকে বিশ্বাস করে, ভালোবাসে এবং ঈশ্বরের আস্থাভাজন হয়ে ওঠে, সেই পথটি হল নিজের হৃদয়ে ঈশ্বরের পরম শক্তিকে স্থান দিয়ে তাঁর...

তুমি কি জানো? ঈশ্বর মানুষের মধ্যে এক মহান কাজ করেছেন

পুরনো যুগ অতিক্রান্ত এবং নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। দিনের পর দিন, বছরের পর বছর ঈশ্বর প্রভূত কাজ করেছেন। তিনি জগতে আবির্ভূত হয়েছিলেন এবং তারপর...

সেটিংস

  • লেখা
  • থিমগুলি

ঘন রং

থিমগুলি

ফন্টগুলি

ফন্ট সাইজ

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

পৃষ্ঠার প্রস্থ

বিষয়বস্তু

অনুসন্ধান করুন

  • এই লেখাটি অনুসন্ধান করুন
  • এই বইটি অনুসন্ধান করুন

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন