কাজ এবং প্রবেশ (৭)

মানুষের আজকের দিন পর্যন্ত সময় লেগেছে এটা উপলব্ধি করতে যে মানুষের মধ্যে শুধু যে আধ্যাত্মিক প্রাণশক্তির সরবরাহ এবং ঈশ্বরকে জানার অভিজ্ঞতারই ঘাটতি রয়েছে তা নয়, বরং—তার চেয়েও যা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ—মানুষের স্বভাবের পরিবর্তন সংক্রান্ত ঘাটতিও রয়েছে। নিজেদের প্রজাতির ইতিহাস ও প্রাচীন সংস্কৃতি সম্পর্কে মানুষের সম্পূর্ণ অজ্ঞতার কারণে, ফলাফল দাঁড়িয়েছে যে মানুষ ঈশ্বরের কাজ সম্পর্কে কিছুই জানে না। সমস্ত মানুষই অন্তরের অন্তঃস্থলে ঈশ্বরের সঙ্গে সংযুক্ত হবার প্রত্যাশা করে, কিন্তু যেহেতু মানুষের দেহ মাত্রাতিরিক্ত ভ্রষ্ট, তা অসাড় এবং স্থূল, সেই কারণে, তারা ঈশ্বরের সম্পর্কে কিছুই জানতে পারেনি। আজ মানুষের মাঝে আসার পিছনে ঈশ্বরের উদ্দেশ্য মানুষের ভাবনা ও আত্মার রূপান্তর, এবং সেইসাথে মানুষের মনে লক্ষ লক্ষ বছর ধরে ঈশ্বরের যে প্রতিমূর্তি রয়েছে তার রূপান্তর ঘটানো ছাড়া কিছু নয়। তিনি মানুষকে নিখুঁত করে তোলার এই সুযোগ গ্রহণ করবেন। অর্থাৎ, তিনি মানুষের জ্ঞানের মাধ্যমে, যে পদ্ধতিতে মানুষ তাঁকে জানতে পারে এবং তাঁর প্রতি মানুষের যে আচরণ, তা বদলে দেবেন, ঈশ্বরকে জানার ক্ষেত্রে মানুষকে একটি বিজয়ী সূচনা করতে সক্ষম করবেন, এবং এইভাবে মানুষের আত্মার নবায়ন ও রূপান্তর অর্জন করবেন। মোকাবিলা ও অনুশাসন হল মাধ্যম, জয় ও নবায়ন হল লক্ষ্য। অস্পষ্ট ঈশ্বর সম্পর্কে মানুষ তার মনে যেসব কুসংস্কারাচ্ছন্ন ভাবনাচিন্তা ধারণ করে রেখেছে, সেগুলি দূর করা ছিল ঈশ্বরের সর্বকালের উদ্দেশ্য, এবং সম্প্রতি এটা তাঁর কাছে জরুরী বিষয়ও হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদি এমনটা হতো, তাহলে মানুষ হয়ত সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গিতে এই পরিস্থিতি বিবেচনা করত। প্রত্যেক ব্যক্তি যে পদ্ধতিতে অভিজ্ঞতা লাভ করে তার পরিবর্তন করো, যাতে ঈশ্বরের এই জরুরী উদ্দেশ্য শীঘ্র ফলপ্রসূ হতে পারে এবং যাতে পৃথিবীতে ঈশ্বরের কাজের অন্তিম পর্যায় নিখুঁতভাবে সমাপ্ত হতে পারে। ঈশ্বরের প্রতি সেই আনুগত্য প্রদান করো, যা প্রদান করা তোমার দায়িত্ব, এবং শেষবারের মতো ঈশ্বরের হৃদয়কে স্বাচ্ছন্দ্য দাও। ভাই ও বোনেদের মধ্যে, যদি এমন হতো যে কেউই এই দায়িত্ব এড়িয়ে না যেত, বা নিছক স্রোতে গা ভাসানোর ভান না করতো। ঈশ্বর একটি আমন্ত্রণের উত্তরে এইবার দেহধারণ করে অবতীর্ণ হয়েছেন এবং মানুষের অবস্থার সুনির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়ায় তাঁর আগমন হয়েছে। অর্থাৎ, তিনি এসেছেন মানুষকে তার চাহিদার যোগান দিতে। মানুষের ক্ষমতা বা বংশপরিচয় নির্বিশেষে, সংক্ষেপে বললে, তিনি মানুষকে ঈশ্বরের বাক্য প্রত্যক্ষ করতে সক্ষম করে তুলবেন, এবং তাঁর বাক্যের মাধ্যমে ঈশ্বরের অস্তিত্ব ও প্রকাশ প্রত্যক্ষ করতে সক্ষম করে তুলবেন, ঈশ্বরের দ্বারা তাদের নিখুঁত হয়ে ওঠাকে গ্রহণ করতে সক্ষম করে তুলবেন, মানুষের চিন্তা ও পূর্বধারণার পরিবর্তন করবেন যাতে ঈশ্বরের আদি অবয়ব তাদের হৃদয়ে দৃঢ়ভাবে বদ্ধমূল হয়। এটাই পৃথিবীতে ঈশ্বরের একমাত্র ইচ্ছা। মানুষের জন্মগত প্রকৃতি যতই মহান হোক, অথবা তার মূল উপাদান যতই খারাপ হোক, বা অতীতে মানুষের আচরণ যেমনই হয়ে থাকুক, ঈশ্বর এসবে কোনো গুরুত্ব দেন না। তিনি শুধুমাত্র আশা করেন যে মানুষ ঈশ্বরের ভাবমূর্তি সম্পূর্ণ নতুন রূপে অন্তরাত্মায় এঁকে নেবে ও মানবজাতির উপাদানকে জানতে পারবে, এবং এর মাধ্যমে মানুষের মতাদর্শগত দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটবে, এবং তারা হৃদয়ের গভীর থেকে ঈশ্বরের জন্য আকাঙ্ক্ষা করতে সক্ষম হবে ও তাঁর প্রতি চিরন্তন অনুরাগ জাগ্রত করতে পারবে: মানুষের কাছে ঈশ্বরের এই একটিমাত্রই দাবি।

কয়েক হাজার বছরের প্রাচীন সংস্কৃতি ও ইতিহাস সম্পর্কিত জ্ঞান মানুষের চিন্তাভাবনা ও ধারণা এবং তার মানসিক দৃষ্টিভঙ্গিকে এত শক্তভাবে অবরুদ্ধ করে দিয়েছে যে, সেগুলি দুর্ভেদ্য ও অক্ষয়[১] হয়ে পড়েছে। মানুষ নরকের অষ্টাদশতম বৃত্তে বাস করে, যেন সেখানে ঈশ্বর তাদের অন্ধকূপে নির্বাসিত করেছেন, যেখানে কখনো আলোর দর্শন পাওয়া যায় না। সামন্ততান্ত্রিক চিন্তাভাবনা মানুষকে এতটাই নিপীড়িত করেছে যে মানুষ প্রায় নিঃশ্বাস নিতে পারছে না এবং তাদের দমবন্ধ হয়ে আসছে। তাদের প্রতিরোধ করার সামান্যতম শক্তিও নেই; তারা শুধু সহ্য করে আর নীরবে সহ্যই করে যায়...। কখনোই কেউ ধার্মিকতা এবং ন্যায়ের জন্য লড়াই করার সাহস করেনি; মানুষ শুধুই সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থার আঘাত ও অপব্যবহারের অধীনে জন্তুর থেকেও খারাপ একটা জীবন যাপন করে যায়, দিনের পর দিন, বছরের পর বছর। তারা কখনোই মানবজগতে সুখ ভোগ করার জন্য ঈশ্বরের সন্ধান করার কথা চিন্তা করেনি। যেন তাদের এতদূর আঘাত করা হয়েছে যে তারা শরতের ঝরে পড়া পাতার মতো হয়ে গেছে, শুকনো, জীর্ণ, হলদে-বাদামি। মানুষ অনেক আগেই স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেছে; তারা মানবজগত নামক নরকে অসহায়ের মতো বাস করে, অন্তিম সময়ের আসার প্রতীক্ষা করে, যাতে তারা এই নরকের সঙ্গে একইসাথে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে, ঠিক যেন যে অন্তিম সময়ের আকুল প্রতীক্ষা তারা করছে, সেই সময় এলেই মানুষ প্রশান্ত বিশ্রাম উপভোগ করতে পারবে। সামন্ততান্ত্রিক নীতি মানুষের জীবনকে “মৃতস্থানে” নিয়ে এসেছে, মানুষের প্রতিরোধের ক্ষমতাকে আরও দুর্বল করে দিয়েছে। সমস্ত রকমের নিপীড়ন মানুষকে ধাপে ধাপে মৃতস্থানের গভীরে পতনের দিকে ঠেলে দিয়েছে, ঈশ্বরের কাছ থেকে আরও দূরবর্তী করেছে, যতক্ষণ না আজ সে ঈশ্বরের কাছে সম্পূর্ণ অপরিচিত হয়ে উঠেছে এবং ঈশ্বরের সাথে সাক্ষাত ঘটলে সে তাঁকে এড়িয়ে চলার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ছে। মানুষ তাঁর প্রতি মনোযোগ দেয় না এবং তাঁকে একাকী একপাশে দাঁড় করিয়ে রাখে, যেন মানুষ কখনো ঈশ্বরকে চেনেই নি, কখনো আগে তাঁকে দেখেনি। তা সত্ত্বেও, ঈশ্বর মানুষের জন্য দীর্ঘ মানবজীবনের যাত্রাপথের সম্পূর্ণ সময় জুড়ে অপেক্ষা করেছেন, কখনোই মানুষের প্রতি তাঁর অদম্য ক্রোধ উদ্গার করেননি, শুধুমাত্র শান্তভাবে, নিঃশব্দে অপেক্ষা করেছেন, মানুষের অনুশোচনা এবং নতুনভাবে শুরু করার জন্য অপেক্ষা করেছেন। ঈশ্বর বহু আগে মানবজগতের কষ্ট মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নিতে এখানে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। যত সময়কাল তিনি মানুষের সঙ্গে বসবাস করেছেন, কেউই তাঁর অস্তিত্ব আবিষ্কার করতে পারেনি। তিনি ব্যক্তিগত ভাবে যে কাজ নিয়ে এসেছিলেন, তা সম্পাদনকালে মানবজগতে তিনি শুধুই নিঃশব্দে হীন দুর্দশা সহ্য করেন। পিতা ঈশ্বরের ইচ্ছার স্বার্থে এবং মানবজাতির প্রয়োজনের স্বার্থে তিনি সহ্য করা অব্যাহত রাখেন, যে কষ্টের মধ্যে দিয়ে যান মানুষ কখনও তার অভিজ্ঞতা লাভ করেনি। মানুষের উপস্থিতিতে তিনি নীরবে তার জন্য অপেক্ষা করেছেন, মানুষের উপস্থিতিতে তিনি নিজেকে নম্র করেছেন, পিতা ঈশ্বরের ইচ্ছার জন্য এবং মানবজাতির প্রয়োজনের স্বার্থেও। প্রাচীন সংস্কৃতির জ্ঞান মানুষকে ঈশ্বরের উপস্থিতির থেকে গোপনে চুরি করে শয়তানদের রাজা ও তার বংশধরদের কাছে সমর্পণ করেছে। চারটি পুস্তক এবং পাঁচটি ধ্রুপদী রচনা[ক] মানুষের চিন্তাভাবনা ও ধারণাকে বিদ্রোহের অন্য স্তরে নিয়ে গেছে, যারা এই বই ও রচনা সংকলন করেছিল মানুষ তাদের অভূতপূর্ব চাটুকারিতায় ভরিয়ে দিয়েছে, এবং যার পরিণামে ঈশ্বর সম্পর্কে মানুষের ধারণা আরও খারাপের দিকে গেছে। মানুষের অজান্তে, শয়তানদের রাজা নির্দয়ভাবে ঈশ্বরকে তার হৃদয় থেকে বিতাড়িত করে দিয়েছিল এবং তারপর বিজয়ীর উল্লাসে সেই হৃদয়ের দখল নিয়েছিল। তখন থেকেই, মানুষ একটি কুৎসিত ও বিদ্বেষপূর্ণ হৃদয়ের অধিকারী এবং শয়তানদের রাজার অবয়বসম্পন্ন। তার অন্তর ঈশ্বরের প্রতি ঘৃণায় পরিপূর্ণ হয়েছে, এবং তাকে সম্পূর্ণরূপে গ্রাস না করা পর্যন্ত শয়তানদের রাজার ঘৃণাপূর্ণ বিদ্বেষ দিনের পর দিন মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। মানুষের আর বিন্দুমাত্রও স্বাধীনতা ছিল না এবং শয়তানদের রাজার জাল ছিন্ন করে মুক্ত হওয়ার কোনো রাস্তাও তার কাছে ছিল না। সেই মুহূর্তে বন্দি হওয়া এবং তার সম্মুখে আত্মসমর্পণ ও অধঃপতিত হওয়া ছাড়া মানুষের দ্বিতীয় পথ ছিল না। অনেক কাল আগে, যখন মানুষের আত্মা এবং হৃদয় তাদের শৈশবাবস্থায় ছিল, তখন শয়তানদের রাজা তার মধ্যে নাস্তিকতার ব্যাধির বীজ বপন করেছিল, তাকে ভ্রান্তিকর বিষয় শিখিয়েছিল, যেমন, “বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অধ্যয়ন করো; চারটি আধুনিকতাকে রপ্ত করো; এবং পৃথিবীতে ঈশ্বর নামক কিছু নেই।” শুধু তাই নয়, প্রতিটি সুযোগেই সে চিৎকার করে বলত: “একটি সুন্দর স্বভূমি গড়বার জন্য চলো আমরা শিল্পগত শ্রমেই ভরসা করি,” প্রত্যেক ব্যক্তিকে শৈশব থেকেই দেশের জন্য বিশ্বস্ত পরিষেবা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে বলত। মানুষকে অনিচ্ছাকৃতভাবে তার সম্মুখে আনা হত, যেখানে সে নিঃসংকোচে সমস্ত কৃতিত্ব (অর্থাৎ সমস্ত মানবজাতিকে তাঁর নিজের হাতে ধারণ করে রাখার যে কৃতিত্ব আসলে ঈশ্বরের) নিজের বলে দাবি করতো। তার বিন্দুমাত্র লজ্জাবোধও ছিল না। উপরন্তু, সে নির্লজ্জভাবে ঈশ্বরের লোকদের দখল করে আবার নিজের গৃহে টেনে নিয়ে গিয়েছিল, যেখানে সে ইঁদুরের মতো লাফিয়ে টেবিলে চড়ে বসেছিল আর মানুষদের তাকে ঈশ্বর হিসাবে উপাসনা করতে বাধ্য করেছিল। কত বড় দুঃসাহস! সে কলঙ্কজনক, জঘন্য কথাবার্তা চিৎকার করে বলত, যেমন: “জগতে ঈশ্বর বলে কিছু নেই। প্রাকৃতিক পরিবর্তনের নিয়ম অনুসারেই বায়ু প্রবাহিত হয়, বৃষ্টি উৎপন্ন হয় জলীয় বাষ্প থেকে, এই বাষ্প শীতল তাপমাত্রার সংস্পর্শে এলে, ঘনীভূত ফোঁটাগুলো পৃথিবীতে পতিত হয়; ভূমিকম্প হল ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীপৃষ্ঠের কম্পন; সূর্যের পৃষ্ঠে নিউক্লিওনিক ব্যাঘাতের কারণে বাতাসে শুষ্কতার ফলে খরা হয়। এগুলো প্রাকৃতিক ঘটনা। এই সমস্তকিছুর মধ্যে ঈশ্বরের কাজ কোথায়?” এমনও অনেকে আছে যারা নিচের কথাগুলো চিৎকার করে বলে, যেসব কথা মুখেও আনা উচিত নয়: “মানুষ সুদূর অতীতকালে বানর থেকে মানুষে রূপান্তরিত হয়েছে, আর বর্তমানের বিশ্ব প্রায় এক লক্ষ কোটি বছর আগে থেকে শুরু হওয়া আদিম সমাজের উত্তরসূরি। কোনো দেশের উন্নতি বা অবনতি সম্পূর্ণভাবেই তার মানুষদের উপরেই নির্ভরশীল।” নেপথ্যে, সে নিজের প্রতিচ্ছবি মানুষকে দেওয়ালে টাঙানো করায় বা টেবিলে স্থাপন করায় এবং তার প্রতি শ্রদ্ধা ও উৎসর্গ নিবেদনের জন্য মানুষকে বাধ্য করে। “ঈশ্বরের কোনো অস্তিত্ব নেই,” বলে চিৎকার করার সাথে একইসঙ্গে সে আবার নিজেকে ঈশ্বর বলে প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করে, সংক্ষেপে নিজে ঈশ্বরের স্থানে দণ্ডায়মান থেকে ও শয়তানদের রাজার ভূমিকা অধিকার করে রুক্ষভাবে ঈশ্বরকে পৃথিবীর সীমা থেকে ঠেলে বার করে দেয়। কী ভীষণ রকম অযৌক্তিক! এটাকে মানুষ অন্তর থেকে ঘৃণা করে। তাহলে দেখা যাচ্ছে যে সে আর ঈশ্বর একে অপরের আপোষহীন শত্রু, আর দুজনের সহাবস্থান সম্ভব নয়। সে নিজে আইনের নাগালের বাইরে স্বাধীনভাবে বিচরণ করে আর ঈশ্বরকে বিতাড়িত করার পরিকল্পনা করে।[২] সে এমনই শয়তানের রাজা! তার অস্তিত্ব কী করে সহ্য করা যায়? যতক্ষণ না সে ঈশ্বরের কাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এবং সমস্ত কিছুকে সম্পূর্ণ অস্থিতিশীল করে ফেলে ততক্ষণ সে বিশ্রাম নেবে না[৩] যেন যতক্ষণ না হয় মাছ মারা যায় বা জাল ছিঁড়ে যায় সেই তিক্ত শেষ সীমা পর্যন্ত সে ঈশ্বরের বিরোধিতা করতে চায়, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নিজেকে ঈশ্বরের বিরুদ্ধে স্থাপন করে এবং আরও চাপ সৃষ্টি করে। এর জঘন্য রূপ অনেক আগে থেকেই সম্পূর্ণরূপে উন্মুক্ত ছিল, আর তা আরও ক্ষতবিক্ষত ও ভয়াল[৪] এবং দুঃখজনক অবস্থায় রয়েছে, তবুও সে ঈশ্বরের প্রতি ঘৃণা ত্যাগ করবে না, যেন ঈশ্বরকে তার মুখের এক গ্রাসে গলাধঃকরণ করতে পারলে তবেই তার অন্তরস্থিত ঘৃণা দূর হবে। এই ঈশ্বরের শত্রুকে আমরা কী করে সহ্য করব! শুধুমাত্র তার নির্মূলকরণ এবং সম্পূর্ণ অপসারণই আমাদের জীবনের আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়িত করবে। তার অবাধ উন্মত্ত গতি কীভাবে অব্যাহত রাখতে দেওয়া যেতে পারে? সে মানুষকে এতটাই কলুষিত করেছে যে মানুষ স্বর্গসূর্যকে জানে না, এবং সে মৃত ও অনুভূতিহীন হয়ে পড়েছে। মানুষ স্বাভাবিক মানবিক যুক্তিবুদ্ধি হারিয়েছে। তাকে ধ্বংস করার জন্য আমাদের সমস্ত সত্তা কেন উৎসর্গ করবো না, এবং ভবিষ্যতের সমস্ত উদ্বেগ নিশ্চিহ্ন করতে ও ঈশ্বরের কাজকে শীঘ্র অভূতপূর্ব মহিমায় পৌঁছতে দেওয়ার জন্য কেন আমরা তাকে জ্বালিয়ে দেব না? এই দুর্বৃত্তের দল মানুষের জগতে এসে তাকে বিশৃঙ্খল করে তুলেছে। তারা সমস্ত মানবজাতিকে খাদের কিনারায় এনে দাঁড় করিয়েছে, গোপনে তাদের ধাক্কা দিয়ে টুকরো টুকরো করে ফেলার পরিকল্পনা করেছে যাতে তারা তাদের মৃতদেহ গ্রাস করতে পারে। তারা ঈশ্বরের পরিকল্পনা ভঙ্গ করার ব্যর্থ আশা করে ও তাঁর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামে, পাশার একটিমাত্র দানে সবকিছু বাজি রাখতে চায়।[৫] এটা কোনোভাবেই সহজ নয়! ক্রুশ প্রস্তুত করা হয়েছে শয়তানদের রাজার জন্যই, যে সবচেয়ে জঘন্য অপরাধে অপরাধী। ঈশ্বর ক্রুশের অধিকারভুক্ত নন। তিনি ইতিমধ্যেই শয়তানের জন্য সেটাকে একপাশে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছেন। অনেক আগেই বিজয়ী হিসাবে ঈশ্বরের উত্থান ঘটেছে এবং তিনি মানবজাতির পাপের জন্য আর দুঃখ অনুভব করেন না, কিন্তু তিনিই সমস্ত মানবজাতির জন্য পরিত্রাণ নিয়ে আসবেন।

উপর থেকে নীচ পর্যন্ত এবং আদি থেকে অন্ত পর্যন্ত শয়তান ঈশ্বরের কাজে ব্যাঘাত ঘটিয়ে চলেছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে কাজ করে চলেছে। “প্রাচীন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য”, মূল্যবান “প্রাচীন সংস্কৃতি সংক্রান্ত জ্ঞান”, “তাওবাদ ও কনফুসীয়বাদের শিক্ষা”, এবং “কনফুসীয় ধ্রুপদী রচনা ও সামন্ততান্ত্রিক প্রথা” এইসব সংক্রান্ত সমস্ত আলোচনা মানুষকে নরকে নিয়ে গেছে। উন্নত আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির পাশাপাশি অত্যাধুনিক শিল্প, কৃষি এবং ব্যবসা আর কোথাও দেখা যাচ্ছে না। বরং ঈশ্বরের কাজকে ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যাহত করার জন্য, তার বিরোধিতা করার জন্য এবং ভেঙে টুকরো টুকরো করে ফেলার জন্য সে প্রাচীনকালের "বনমানুষ"-দের প্রচারিত সামন্ততান্ত্রিক রীতিনীতির উপর জোর দেয়। মানুষকে সে আজ পর্যন্ত নিরন্তর শুধু কষ্টই দিয়ে আসছে তা-ই নয়, সে এমনকী মানুষকে সম্পূর্ণরূপে গ্রাস[৬] করতে চায়। সামন্ততন্ত্রের তত্ত্বের ও নৈতিকতার শিক্ষার হস্তান্তর, এবং প্রাচীন সংস্কৃতির জ্ঞান পরবর্তী প্রজন্মে প্রবাহিত হওয়ার ফলে মানবজাতি অনেক আগেই সংক্রামিত হয়েছে, পরিণামে তারা ছোট বা বড় আকারের শয়তানে পরিণত হয়েছে। খুব কম সংখ্যক মানুষই সানন্দে ঈশ্বরকে গ্রহণ করবে, তাঁর আগমনকে সানন্দে অভ্যর্থনা জানানোর মতো মানুষও কম। সমগ্র মানবজাতির মুখ হত্যার উদ্দেশ্যে ভরপুর, আর সর্বত্র বাতাসে হত্যার নিঃশ্বাস ভেসে বেড়ায়। তারা ঈশ্বরকে এই ভূমি থেকে নির্বাসন দিতে চায়; ছুরি ও তলোয়ার হাতে তারা ঈশ্বরকে “নিশ্চিহ্ন” করতে যুদ্ধের ব্যূহ নির্মাণ করে। এই শয়তানের ভূমির সমস্তটা জুড়ে, যেখানে মানুষকে অবিরত শেখানো হয় ঈশ্বর বলে কেউ নেই, সেখানে মূর্তির প্রচার হয়, এবং তার বাতাস জ্বলন্ত কাগজ ও ধূপের গন্ধে বমি উদ্রেককারী, এতো ঘন যে দমবন্ধ করে দেয়। তা বিষাক্ত সর্পের মোচড়ে উৎপন্ন কাদার দুর্গন্ধের মতো, তা এতটাই সুতীব্র যে বমি আটকে রাখা দুষ্কর। এর পাশাপাশি, অস্পষ্টভাবে অশুভ শয়তানদের শাস্ত্রবাক্য উচ্চারণের শব্দ শোনা যায়, যা নরকের সুদূর থেকে আগত শব্দ বলে মনে হয়, এতটাই যে সকলেই কেঁপে ওঠে। এই ভূমির সর্বত্র রামধনুর সমস্ত রঙের মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে, ফলে এই ভূমি ইন্দ্রিয়জাত আনন্দের জগতে পরিণত হয়েছে, এদিকে শয়তানেদের রাজা বিদ্বেষপূর্ণ অট্টহাসি হাসছে, যেন তার জঘন্য চক্রান্ত সফল হয়েছে। ইতিমধ্যে মানুষ সম্পূর্ণ অচেতন রয়ে গেছে, তার বিন্দুমাত্র আভাসও নেই যে শয়তান তাকে ইতিমধ্যেই এতদূর ভ্রষ্ট করে দিয়েছে যে সে জ্ঞানহীন হয়ে পড়েছে এবং পরাজয়ে মাথা নত করে ফেলেছে। শয়তানেদের রাজা এক ধাক্কাতেই ঈশ্বর সম্পর্কিত সমস্ত কিছু নিশ্চিহ্ন করে ফেলতে চায়, আরও একবার তাঁকে কলুষিত করে হত্যা করতে চায়; তাঁর কাজকে বিনষ্ট করা ও ব্যাহত করাই তার উদ্দেশ্য। সে কীভাবে ঈশ্বরকে সমান মর্যাদায় আসতে দিতে পারে? পৃথিবীতে মানুষের মধ্যে তার নিজের কাজে ঈশ্বরের "হস্তক্ষেপ" সে কীভাবে সহ্য করতে পারে? তার জঘন্য মুখের মুখোশ সে কীভাবে ঈশ্বরকে খুলতে দিতে পারে? ঈশ্বরকে তার কাজ বিশৃঙ্খল করার অনুমতি সে কীভাবে দিতে পারে? এই ক্রোধে উন্মত্ত শয়তান কীভাবে ঈশ্বরকে পৃথিবীতে তার রাজকীয় আদালতের নিয়ন্ত্রণ অধিকার করতে দিতে পারে? সে স্বেচ্ছায় কীভাবে তাঁর সুউচ্চ শক্তির সামনে মাথা নত করতে পারে? এর ভয়ঙ্কর চেহারার স্বরূপ প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে হাসা উচিত না কাঁদা উচিত সেটা কেউই অনুধাবন করতে পারে না, এবং এ বিষয়ে কথা বলা সত্যিই কঠিন। এটাই কি তার মূল উপাদান নয়? তার আত্মা কুৎসিত, সে তবুও বিশ্বাস করে যে সে অভাবনীয় সুন্দর। দুষ্কর্মের সহযোগী অপরাধীর দল![৭] তারা নশ্বর জগতে অবতীর্ণ হয় আনন্দে লিপ্ত হওয়ার জন্য এবং গোলযোগ সৃষ্টি করার জন্য, সবকিছু এতটাই আলোড়িত করে যে পৃথিবী একটি চঞ্চল ও অস্থির স্থানে পরিণত হয় এবং মানুষের হৃদয় আতঙ্ক ও অস্বস্তিতে ভরে যায়, তারা মানুষকে নিয়ে এতটাই খেলা করেছে যে তার চেহারা মাঠের অমানবিক পশুর মতো হয়ে গেছে, অত্যন্ত কুৎসিত, আর যার মধ্যে থেকে আসল পবিত্র মানুষের শেষ চিহ্নটাও হারিয়ে গেছে। তদুপরি, তারা পৃথিবীর উপর সার্বভৌম ক্ষমতাও অর্জন করতে চায়। তারা ঈশ্বরের কাজকে এতটাই ব্যাহত করে যে তা ইঞ্চিমাত্রও এগোতে পারে না, এবং তারা তামা ও ইস্পাতের দেওয়ালের মতো শক্তভাবে মানুষকে অবরুদ্ধ করে। এত জঘন্য পাপ করে এবং এত বিপর্যয় ঘটিয়ে তারপরেও কি তারা শাস্তি ছাড়া অন্য কিছু আশা করছে? অপদেবতা এবং মন্দ আত্মারা বহুকাল ধরে পৃথিবীতে উন্মত্তভাবে ছুটে চলেছে, এবং ঈশ্বরের ইচ্ছা এবং শ্রমসাধ্য প্রচেষ্টা দুটোকেই এত শক্তভাবে অবরুদ্ধ করে দিয়েছে যে সেগুলো দুর্ভেদ্য হয়ে উঠেছে। সত্যিই, এটা সজ্ঞানকৃত গুরুতর পাপ! ঈশ্বর উদ্বিগ্ন বোধ করবেন না, তা কীভাবে সম্ভব? ঈশ্বর ক্রোধান্বিত না হয়ে থাকবেন কীভাবে? তারা ঈশ্বরের কাজে গভীরভাবে বাধা সৃষ্টি করেছে ও বিরোধিতা করেছে: এত বড় বিদ্রোহী মনোভাব! এমনকি সেই সব শয়তান, ছোটই হোক বা বড়, সিংহের পায়ের কাছে থাকা শেয়ালের মতো আচরণ করে, এবং খারাপ স্রোতকে অনুসরণ করে, যাওয়ার পথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে থাকে। সত্য জেনেও তারা ইচ্ছাকৃতভাবে এর বিরোধিতা করে, এই অবাধ্য সন্ততিরা! যেন এখন তাদের নরকের রাজা রাজসিংহাসনে আরোহণ করেছে, তারা অন্য সকলের সাথে অবজ্ঞাসূচক আচরণ করে আত্মতুষ্টি ও আত্মশ্লাঘা অনুভব করছে। তাদের মধ্যে কতজন সত্যের সন্ধান করে এবং ন্যায়পরায়ণতা অনুসরণ করে? তারা সবাই পশু, শুয়োর এবং কুকুরের মতোই, দুর্গন্ধযুক্ত মাছিদের দলের নেতা হয়ে, গোবরের স্তূপের মাঝখানে, আত্মতুষ্টিতে মাথা নাড়াচ্ছে এবং সমস্ত রকমের সমস্যার উদ্রেক করছে[৮]। তারা বিশ্বাস করে যে তাদের নরকের রাজাই হচ্ছে সর্বশ্রেষ্ঠ রাজা, তারা নিজেরাই যে দুর্গন্ধযুক্ত মাছি ছাড়া আর কিছু নয়, সে বিষয়ে তাদের সামান্য জ্ঞানও নেই। এবং তবুও, তাদের বাবা-মা হিসাবে যে শুয়োর আর কুকুরেরা রয়েছে, তারা ঈশ্বরের অস্তিত্বকে কলঙ্কিত করার জন্য তাদের শক্তিকে ব্যবহার করার সুযোগ গ্রহণ করে। নিজেরা ছোট ছোট মাছি বলে তারা বিশ্বাস করে যে তাদের পিতামাতা নীল তিমির মতই বৃহৎ।[৯] তারা এটা জানেই না যে তারা নিজেরাই ক্ষুদ্র, তাদের অপরিষ্কার শুয়োর ও কুকুর বাবা-মা তাদের চেয়ে কোটি কোটি গুণ বড় আকারের। নিজেদের নীচতা সম্পর্কে না জেনেই, তারা উন্মত্তভাবে ছুটে চলার জন্য সেই শুয়োর আর কুকুরদের নির্গত পচনের দুর্গন্ধের উপর নির্ভর করে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্ম দেওয়ার দেওয়ার বৃথা চিন্তা করে, লজ্জা বিস্মৃত হয়ে! নিজেদের পিঠের সবুজ ডানায় ভর করে (এটা তাদের ঈশ্বর বিশ্বাসী হওয়ার দাবিকে বোঝাচ্ছে), তারা আত্মগর্বে পরিপূর্ণ এবং সর্বত্র নিজেদের সৌন্দর্য ও আকর্ষণশক্তির দম্ভ প্রদর্শন করে, এদিকে তারা নিজের শরীরের অশুদ্ধতা গোপনে মানুষের উপর নিক্ষেপ করে। উপরন্তু, তারা নিজেদের নিয়েই চূড়ান্ত সন্তুষ্ট, যেন তারা নিজেদের অশুদ্ধতাকে রামধনু রঙের ডানা দিয়েই আবৃত করতে পারবে, আর এই উপায়েই তারা প্রকৃত ঈশ্বরের উপর নিজেদের অত্যাচার চাপিয়ে দেয়, (এটা ধর্মীয় জগতের আড়ালে ঘটে চলা ঘটনাকে বোঝাচ্ছে)। মানুষ কী করে জানবে যে মাছির ডানা যতই মনোমুগ্ধকর সুন্দর হোক, মাছি আসলে একটা ক্ষুদ্র প্রাণী ছাড়া আর কিছুই নয়, যার পেট আবর্জনায় পূর্ণ আর শরীর জীবাণুতে ঢাকা? তাদের বাবা মা হিসাবে যে শুয়োর আর কুকুরেরা আছে তাদের শক্তির উপর ভর করে তারা সমগ্র ভূমিতে উন্মত্তভাবে ছুটে বেড়ায় (এটা নির্দেশ করছে, যেসব ধর্মীয় কর্মকর্তারা ঈশ্বরকে নিগৃহীত করে তারা যেভাবে প্রকৃত ঈশ্বর এবং সত্যের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার জন্য দেশের সরকারের শক্তিশালী সমর্থনের উপর নির্ভর করে), অসংযত বর্বরতায় মেতে ওঠে। ঠিক যেন ইহুদি ফরিশীদের ভূত ঈশ্বরের সাথে অতিকায় লাল ড্রাগনের দেশে ফিরে এসেছে, তাদের পুরনো নীড়ে প্রত্যাবর্তন করেছে। কয়েক হাজার বছর আগের কাজ আবার তুলে নিয়ে তারা আরেক দফা নিপীড়ন শুরু করেছে। অধঃপতিত এই দলের শেষ পর্যন্ত পৃথিবীতে ধ্বংস হওয়া সুনিশ্চিত! দেখতে পাওয়া যাচ্ছে যে বেশ কয়েক সহস্রাব্দের পরে অশুদ্ধ আত্মারা আরও বেশি কুশলী ও ধূর্ত হয়ে উঠেছে। তারা প্রতিনিয়ত ঈশ্বরের কাজকে গোপনে দুর্বল করার উপায় চিন্তা করছে। প্রভূত কৌশল ও ছলচাতুরীর মাধ্যমে, তারা তাদের জন্মভূমিতে কয়েক হাজার বছর আগের বিয়োগান্ত কাহিনী আবার অভিনীত করাতে চায়, অঙ্কুশের আঘাতে ঈশ্বরকে প্রায় যন্ত্রণায় আর্তনাদ করার পর্যায়ে নিয়ে যেতে চায়। তৃতীয় স্বর্গে ফিরে গিয়ে তাদের নিশ্চিহ্ন করার ইচ্ছা তিনি বহু কষ্টে সংবরণ করেন। ঈশ্বরকে ভালবাসতে হলে, মানুষকে অবশ্যই তাঁর ইচ্ছাকে উপলব্ধি করতে হবে, তাঁর আনন্দ ও দুঃখকে জানতে হবে, এবং তিনি কী ঘৃণা করেন তা বুঝতে হবে। এর ফলে মানুষের প্রবেশ আরও বেশি উদ্দীপ্ত হবে। মানুষের প্রবেশ যত দ্রুত হবে, ঈশ্বরের ইচ্ছা যত তাড়াতাড়ি পূর্ণ হবে, মানুষ ততই স্পষ্টভাবে শয়তানদের রাজাকে প্রত্যক্ষ করতে পারবে, এবং ততই ঈশ্বরের আরও বেশি নিকটবর্তী হতে পারবে, যাতে তাঁর আকাঙ্খা ফলপ্রসূ করে তোলা যায়।

পাদটীকা:

১. “অক্ষয়” এখানে ব্যঙ্গাত্মক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়েছে, এর অর্থ হচ্ছে মানুষ নিজেদের জ্ঞান, সংস্কৃতি এবং আধ্যাত্মিক দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়ে অনড়।

২. “আইনের নাগালের বাইরে স্বাধীনভাবে বিচরণ করা” বোঝাচ্ছে যে শয়তান নিষ্ঠুর এবং উন্মত্ত আচরণ করে।

৩. “সম্পূর্ণ অস্থিতিশীল করে ফেলা” বলতে, শয়তানের নৃশংস আচরণ চোখে দেখা অসহনীয়, সেটাই বোঝাচ্ছে।

৪. “ক্ষতবিক্ষত ও ভয়াল” বলতে শয়তানের রাজার কদাকার রূপকে বোঝাচ্ছে।

৫. “পাশার একটিমাত্র দানে সবকিছু বাজি রাখতে চাওয়া” বলতে, শেষ পর্যন্ত জেতার আশায় একটি একক বাজিতে সমস্ত অর্থ লাগিয়ে দেওয়া বোঝাচ্ছে। এটা শয়তানের অশুভ ও দুরভিসন্ধিপূর্ণ পরিকল্পনার রূপক। এই অভিব্যক্তি উপহাসমূলকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে।

৬. "গ্রাস করা" বলতে শয়তানের রাজার বিদ্বেষপূর্ণ আচরণ বোঝায়, যা মানুষকে হিংস্রভাবে সম্পূর্ণ দখল করে।

৭. “দুষ্কর্মের সহযোগী অপরাধীর দল” এর অর্থ হচ্ছে “গুণ্ডার দল”।

৮. “সমস্ত রকমের সমস্যার উদ্রেক করছে” বলতে বোঝায় পৈশাচিক মানুষ কীভাবে দাঙ্গা চালায়, ঈশ্বরের কাজে বাধা সৃষ্টি ও তার বিরোধিতার মাধ্যমে।

৯. “নীল তিমি” এখানে উপহাস করে বলা হচ্ছে। এটা একটা রূপক যা বোঝায় যে মাছি এত ছোট, তাদের চোখে শূকর এবং কুকুরও তিমির মতো বড়।

ক. চারটি পুস্তক এবং পাঁচটি ধ্রুপদী রচনা হল চীনে কনফুসীয়বাদীদের প্রামাণ্য বই।

পূর্ববর্তী: কাজ এবং প্রবেশ (৩)

পরবর্তী: কাজ এবং প্রবেশ (৮)

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।👇

সম্পর্কিত তথ্য

শুধুমাত্র অন্তিম সময়ের খ্রীষ্ট মানুষকে অনন্ত জীবনের পথ দেখাতে পারেন

জীবনের গতিপথ কারও নিয়ন্ত্রণে থাকে না, বা এটি সহজে অর্জন করতে পারার মতো বিষয়ও নয়। কারণ জীবন কেবল ঈশ্বর প্রদত্ত, অর্থাৎ, শুধুমাত্র ঈশ্বর...

পরিশিষ্ট ২ ঈশ্বর সমগ্র মানবজাতির ভাগ্য নির্ধারক

মানব প্রজাতির সদস্য এবং ধর্মপ্রাণ খ্রীষ্টান হিসাবে আমাদের সকলের দায়িত্ব এবং কর্তব্য হলো নিজেদের দেহ ও মনকে ঈশ্বরের অর্পিত দায়িত্বে নিযুক্ত...

ঈশ্বর হলেন মানুষের জীবনের উৎস

ক্রন্দনরত অবস্থায় এই জগতে ভূমিষ্ঠ হবার সময় থেকেই তুমি তোমার কর্তব্য পালন করা শুরু করো। ঈশ্বরের পরিকল্পনা ও তাঁর নির্ধারিত নিয়তি অনুসারে...

রাজ্যের যুগই হল বাক্যের যুগ

রাজ্যের যুগে, যে পদ্ধতিতে তিনি কাজ করেন তা পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে, এবং সমগ্র যুগের কাজ সম্পাদন করার জন্য, ঈশ্বর নতুন যুগের সূচনা করতে বাক্যের...

সেটিংস

  • লেখা
  • থিমগুলি

ঘন রং

থিমগুলি

ফন্টগুলি

ফন্ট সাইজ

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

পৃষ্ঠার প্রস্থ

বিষয়বস্তু

অনুসন্ধান করুন

  • এই লেখাটি অনুসন্ধান করুন
  • এই বইটি অনুসন্ধান করুন

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন