ঈশ্বরের প্রতিদিনের বাক্য: কর্মের তিনটি পর্যায় | উদ্ধৃতি 20

16-09-2023

বিধানের যুগের সময়, যিহোবা বহু সংখ্যক আদেশ নির্ধারণ করেছিলেন যাতে মোশি তা সেইসব ইস্রায়েলীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারে, যারা তাকে অনুসরণ করে মিশরের বাইরে চলে এসেছিল। এই আদেশগুলি যিহোবা ইস্রায়েলীদের জন্যই দিয়েছিলেন, এবং মিশরীয়দের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক ছিলনা; এগুলি ছিল ইস্রায়েলীদের সংযত রাখার জন্য, এবং তাদের কাছে দাবী জানানোর জন্য তিনি এই আদেশগুলি ব্যবহার করেছিলেন। তারা বিশ্রামবার পালন করে কিনা, তারা বাবা-মার প্রতি শ্রদ্ধাশীল কিনা, তারা মূর্তির উপাসনা করে কি না—এইসব নীতির দ্বারাই বিচার করা হত তারা পাপী না ধার্মিক। এদের মধ্যে, কেউ কেউ যিহোবার আগুনে দগ্ধ হয়েছিল, কাউকে পাথরের আঘাতে হত্যা করা হয়, আবার কেউ কেউ যিহোবার আশীর্বাদ লাভ করে, এবং তা নির্ধারিত হয় তারা যিহোবার আদেশগুলি মান্য করেছে কি না সেই অনুসারে। যারা বিশ্রামবার পালন করেনি, তাদের হত্যা করা হয়েছে পাথরের আঘাতে। যেসব ধর্মযাজক বিশ্রামবার পালন করেনি, তারা যিহোবার আগুনে দগ্ধ হয়েছে। যারা বাবা-মাকে শ্রদ্ধা করেনি, তাদেরও পাথর দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। এগুলো সবই যিহোবা প্রশংসা করেছিলেন। যিহোবা তাঁর আদেশ এবং বিধান প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন যাতে, তিনি মানুষকে তাদের জীবনের নেতৃত্ব দেওয়ার সময় মানুষ যেন তাঁর বাক্য শোনে ও তা মান্য করে, এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ না করে। সদ্যোজাত মনুষ্যজাতিকে নিয়ন্ত্রণের অধীনে রাখতে, এবং আরও বেশি করে তাঁর ভবিষ্যৎ কার্যের ভিত্তি স্থাপন করতে তিনি এই বিধানগুলি ব্যবহার করেছিলেন। আর তাই, যিহোবার সম্পাদিত কাজের ভিত্তিতে, প্রথম যুগকে বলা হতো বিধানের যুগ। যদিও যিহোবা অনেক বাক্য উচ্চারণ করেছিলেন এবং বহু কার্য সম্পাদন করেছিলেন, কিন্তু তিনি শুধুমাত্র জনগণকে ইতিবাচকভাবে পথনির্দেশ দিয়েছিলেন, এই অজ্ঞ মানবজাতিকে তিনি শিখিয়েছিলেন কীভাবে মানবিক হতে হয়, কীভাবে জীবনযাপন করতে হয়, কীভাবে যিহোবার পথ উপলব্ধি করতে হয়। অধিকাংশ সময়েই, যে কাজ তিনি করেছিলেন তার উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে তাঁর পথ মেনে চলানো এবং তাঁর বিধানগুলি অনুসরণ করানো। তাঁর কাজ সম্পন্ন হয়েছিল সেইসব মানুষের উপর যাদের ভ্রষ্ট আচরণ ছিল অগভীর; তাঁর কাজ তাদের স্বভাবের রূপান্তর ঘটানো অথবা জীবনে অগ্রগতি ঘটানো পর্যন্ত প্রসারিত হয়নি। তিনি শুধুমাত্র মনোযোগী ছিলেন মানুষকে সংযত ও নিয়ন্ত্রিত করতে বিধানগুলি ব্যবহার করার বিষয়ে। তৎকালীন ইস্রায়েলীদের কাছে যিহোবা ছিলেন নিছকই একজন মন্দিরে থাকা ঈশ্বর, স্বর্গের একজন ঈশ্বর। তিনি ছিলেন মেঘের স্তম্ভ, আগুনের স্তম্ভ। মানুষের কাছে যিহোবার শুধু প্রয়োজন ছিল যে তারা সেগুলি মেনে চলুক যেগুলিকে আজ তারা তাঁর বিধান এবং আদেশ বলে জানে—কেউ সেগুলিকে আইনও বলতে পারে—কারণ যিহোবা যা করেছিলেন তা তাদের রূপান্তরিত করার জন্য নয়, বরং আরও বেশি করে তাদের সেগুলি দেওয়ার জন্য যা মানুষের থাকা উচিত, এবং নিজের মুখে তাদের নির্দেশ দেওয়ার জন্য, কারণ, সৃষ্ট হওয়ার পর মানুষের এমন কিছুই ছিল না যা তার থাকা উচিত। আর তাই, যিহোবা মানুষকে সেইসব বস্তু দিয়েছিলেন যা পৃথিবীর বুকে তাদের জীবনযাপনের জন্য তাদের কাছে থাকা উচিত, এইভাবে তিনি যাদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তাদের এগিয়ে দিয়েছিলেন তাদের পূর্বপুরুষ আদম ও হবাকে অতিক্রম করে, কারণ যিহোবা তাদের যা দিয়েছিলেন তা আদিপর্বে আদম ও হবাকে যা দিয়েছিলেন তাকে অতিক্রম করে গিয়েছিল। যাই হোক, যিহোবা ইস্রায়েলে যে কাজ করেছিলেন, তা ছিল মানবজাতিকে পথনির্দেশ দেওয়ার জন্য এবং তাদের স্রষ্টাকে চিনতে সক্ষম করার জন্য। তিনি তাদের জয় করেননি বা রূপান্তরিত করেননি, কেবল পথনির্দেশ দিয়েছেন। এই হল বিধানের যুগে যিহোবার কার্যের যোগফল। এটাই পটভূমি, সত্য কাহিনী, সমগ্র ইস্রায়েলের ভূমিতে তাঁর কাজের নির্যাস, এবং পরবর্তী ছয় হাজার বছরের তাঁর কাজের সূচনা—যাতে মানবজাতিকে যিহোবার নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। এর থেকেই তাঁর ছয় হাজার বছরের পরিচালনামূলক পরিকল্পনায় আরো অনেক কাজের জন্ম হয়েছে।

—বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, বিধানের যুগের কার্য

আরও দেখুন

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।👇

Leave a Reply

শেয়ার করুন

বাতিল করুন

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন