ঈশ্বরের প্রতিদিনের বাক্য: অবতার জন্ম | উদ্ধৃতি 117

22-05-2022

মানুষ এখন যা অর্জন করেছে—তার বর্তমান অবস্থা, জ্ঞান, প্রেম, বিশ্বস্ততা, আনুগত্য, এবং অন্তর্দৃষ্টি—এগুলি সবই বাক্যের বিচার দ্বারা সাধিত হয়েছে। তুমি যে আনুগত্য পেয়েছো এবং এখনও তাতে স্থিত আছো, এটি বাক্যের সাহায্যেই সাধিত হয়েছে। এখন মানুষ দেখে যে ঈশ্বরের অবতার রূপের কার্য সত্যিই অসাধারণ, এবং এর মধ্যে অনেক কিছু আছে যা মানুষ অর্জন করতে পারে না, এবং এগুলি রহস্যময় ও বিস্ময়কর। অতএব, অনেকেই আত্মসমর্পণ করেছে। কেউ কেউ তাদের জন্মের দিন থেকে কখনো কোনো মানুষের কাছে নতিস্বীকার করে নি, তবু তারা আজ যখন ঈশ্বরের বাক্য অবলোকন করে, তখন নিজের অজান্তেই, এবং কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করেই অথবা কিছু না বলেই তারা পুরোপুরি আত্মসমর্পণ করে। মানবতা বাক্যের অধীন হয়েছে, এবং বাক্যের বিচারকে নতমস্তকে গ্রহণ করেছে। ঈশ্বরের আত্মা যদি মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলত, তাহলে সমগ্র মানবজাতি কোনো ঐশী উদ্ঘাটনের বাক্য ছাড়াই সেই কণ্ঠস্বরের কাছে আত্মসমর্পণ করত, ঠিক যেমনভাবে দামেস্কের পথের আলোতে পৌল ভূপতিত হয়েছিল। ঈশ্বর যদি এই পন্থায় কার্য নির্বাহ করে যেতেন, তাহলে মানুষ কোনোদিনই বাক্যের বিচার দ্বারা নিজের ভ্রষ্টাচরণের কথা জানতে পারত না, এবং ফলতঃ পরিত্রাণও লাভ করত না। একমাত্র অবতার রূপ ধারণ করেই ঈশ্বর তাঁর বাক্য প্রত্যেক মানুষের কানে ব্যক্তিগতভাবে পৌঁছতে পারেন, যাতে যাদের কান আছে তারা তাঁর বাক্য শুনতে পায় এবং তাঁর বাক্যের দ্বারা বিচারের কার্য লাভ করতে পারে। মানুষকে ভয় দেখিয়ে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার জন্য আত্মার প্রকট হওয়ার বদলে এটিই তাঁর বাক্য দ্বারা অর্জিত ফলাফল। এটিই একমাত্র তাঁর ব্যবহারিক তথা অসাধারণ কার্য, যার দ্বারা মানুষের অন্তরে দীর্ঘদিন ধরে লুকিয়ে থাকা প্রাচীন স্বভাব পুরোপুরি প্রকাশিত হয়, যাতে মানুষ তা চিনতে পারে, এবং পরিবর্তন করতে পারে। এগুলি সবই ঈশ্বরের অবতার রূপের ব্যবহারিক কার্য, যেখানে তিনি সরাসরি কথা বলে এবং বিচারকে কার্যকর করে মানুষের উপর বাক্যের দ্বারা বিচারের ফলাফল অর্জন করেন। এই হল ঈশ্বরের অবতার রূপের কর্তৃত্ব এবং তাৎপর্য। এটি করা হয় যাতে ঈশ্বরের অবতার রূপের কর্তৃত্ব এবং বাক্যের কার্য দ্বারা অর্জিত ফলাফল জানানো যায়, এবং এ কথাও জানাতে যে, তাঁর আত্মা অবতার রূপ ধারণ করে এসেছেন এবং বাক্যের দ্বারা মানুষের বিচার করে তিনি নিজের কর্তৃত্ব প্রদর্শন করেন। যদিও তাঁর অবতার রূপ এক সাধারণ এবং স্বাভাবিক মানুষের বাহ্যিক আকৃতি, তাঁর বাক্য দ্বারা অর্জিত ফলাফল মানুষকে দেখায় যে তিনি কর্তৃত্বপূর্ণ, তিনিই স্বয়ং ঈশ্বর, এবং তাঁর বাক্য স্বয়ং ঈশ্বরের অভিব্যক্তি। এর সাহায্যে সমগ্র মানবজাতিকে দেখানো হয় যে তিনিই স্বয়ং ঈশ্বর, তিনিই ঈশ্বরের অবতার রূপ, তিনি অপ্রতিরোধ্য, এবং কেউ তাঁর বাক্যের বিচার অতিক্রম করতে পারে না, এবং কোনো অন্ধকারের শক্তি তাঁর কর্তৃত্বকে পরাজিত করতে পারে না। তিনি বাক্যের দেহে আবির্ভূত রূপ, এবং তাঁর কর্তৃত্ব ও বাক্যের দ্বারা বিচারের জন্য মানুষ তাঁর কাছে পুরোপুরি আত্মসমর্পণ করে। তাঁর অবতার রূপের দ্বারা সম্পাদিত কার্যই হল তাঁর কর্তৃত্ব। যে কারণে তিনি অবতার রূপ ধারণ করেন, তা এই যে, সেই অবতার রূপেরও কর্তৃত্ব থাকে, এবং তিনি এমন ব্যবহারিক ভাবে মানবজাতির মাঝে কার্য নির্বাহ করতে সক্ষম, যা মানুষ দেখতে এবং অনুভব করতে পারে। ঈশ্বরের আত্মা, যিনি সকল কর্তৃত্বের অধিকারী, তাঁর সরাসরি সম্পাদিত কার্যের চেয়েও এটি বেশি বাস্তবসম্মত, এবং এর ফলাফলও স্পষ্ট। এর কারণ ঈশ্বরের অবতার রূপ ব্যবহারিক ভাবে কথা বলতে এবং কার্য নির্বাহ করতে সক্ষম। তাঁর অবতার রূপের বাহ্যিক আকারের কোনো কর্তৃত্ব নেই এবং মানুষ তাঁর কাছে যেতে পারে, অপরদিকে তাঁর সারসত্য কর্তৃত্ব বহন করে, কিন্তু তা কারও কাছে দৃশ্যমান নয়। যখন তিনি কথা বলেন এবং কার্য নির্বাহ করেন, মানুষ তাঁর কর্তৃত্বের উপস্থিতি বুঝতে পারে না; এটি তাঁকে ব্যবহারিক উপায়ে কার্য নির্বাহ করতে সাহায্য করে। এই সকল ব্যবহারিক কার্য ফলাফল অর্জন করতে সক্ষম। যদিও তাঁর কর্তৃত্ব কোনো মানুষ বুঝতে পারে না, অথবা বোঝে না যে তিনি অপ্রতিরোধ্য, বা তাঁর ক্রোধ দেখে না, তিনি তাঁর প্রচ্ছন্ন কর্তৃত্ব, অপ্রকাশ্য ক্রোধ, এবং প্রত্যক্ষ বাক্যের দ্বারা অভিপ্রেত ফলাফল অর্জন করেন। অন্যভাবে বললে, মানুষ তাঁর কণ্ঠস্বর, তাঁর বাচনভঙ্গির দৃঢ়তা এবং তাঁর বাক্যের সমস্ত প্রজ্ঞার দ্বারা সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিত হয়ে ওঠে। এইভাবে মানুষ ঈশ্বরের অবতার, যাঁর আপাতদৃষ্টিতে কোনো কর্তৃত্ব নেই, তাঁর বাক্যের কাছে আত্মসমর্পণ করে, এবং ঈশ্বরের মানুষকে উদ্ধারের লক্ষ্য পূরণ হয়। এটি তাঁর অবতার রূপ ধারণের তাৎপর্যের আরেকটি দৃষ্টিভঙ্গি: আরও বেশি বাস্তবোচিত ভাবে কথা বলা এবং তাঁর বাক্যের বাস্তবতাকে মানুষের উপর প্রভাবিত করা, যাতে মানুষ ঈশ্বরের বাক্যের ক্ষমতা প্রত্যক্ষ করতে পারে। অতএব, এই কার্যগুলি অবতার রূপের দ্বারা সম্পাদিত না হলে সামান্যতম ফলাফলও অর্জিত হত না, এবং পাপী মানুষদের সম্পূর্ণরূপে উদ্ধার করা যেত না। ঈশ্বর যদি অবতার রূপ ধারণ না করতেন, তাহলে তিনি মানুষের কাছে যুগপৎ অদৃশ্য এবং অধরা আত্মা হয়েই থেকে যেতেন। মানুষ রক্ত-মাংসের জীব হওয়ায়, সে এবং ঈশ্বর দুই ভিন্ন জগতের অন্তর্গত, এবং ভিন্ন প্রকৃতির অধিকারী। ঈশ্বরের আত্মা রক্ত-মাংসের মানুষের সঙ্গে বিসদৃশ, এবং তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনের কোনো উপায় নেই। এ কথা বলাই বাহুল্য যে, মানুষ আত্মায় পরিণত হতে অক্ষম। এই কারণে ঈশ্বরের আত্মাকে তাঁর আসল কার্য নির্বাহ করার জন্য সৃষ্ট জীবের রূপ নিতেই হয়। ঈশ্বর যেমন সর্বোচ্চ স্থানে উন্নীত হতে পারেন, তেমনই মানুষের রূপে নিজেকে অবনমিত করে মানবজাতির মাঝে বসবাস এবং কার্য নির্বাহ করতে পারেন, কিন্তু মানুষ সর্বোচ্চ স্থানে উন্নীত হয়ে আত্মায় পরিণত হতে পারে না, আর সর্বনিম্ন স্থানে আরোই নামতে পারে না। এই কারণেই ঈশ্বরকে তাঁর কার্য নির্বাহ করার জন্য অবতার রূপ ধারণ করতেই হয়। একই প্রতীকের দ্বারা প্রথম অবতারের সময়, শুধুমাত্র ঈশ্বরের অবতার রূপই তাঁর ক্রুশবিদ্ধকরণের মাধ্যমে মানবজাতিকে মুক্তি দিতে পেরেছিলেন, কারণ মানুষের পাপ-উৎসর্গ হিসেবে ঈশ্বরের আত্মার ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার কোনো উপায় ছিল না। ঈশ্বর মানুষের পাপ-উৎসর্গ হওয়ার জন্য সরাসরি অবতার রূপ ধারণ করতে পেরেছিলেন, কিন্তু মানুষ ঈশ্বরের কাছ থেকে তাঁর তৈরি পাপ-উৎসর্গ গ্রহণ করার জন্য সরাসরি স্বর্গে আরোহণ করতে পারত না। এই কারণে ঈশ্বরকে একাধিকবার স্বর্গ ও পৃথিবীর মধ্যে যাতায়াত করতে হত, যাতে মানুষ এই পরিত্রাণ পেতে স্বর্গে না যেতে পারে, কারণ তার অধঃপতন হয়েছিল, এবং মানুষ সরাসরি স্বর্গে আরোহন করে পাপ-উৎসর্গ লাভ করতে অক্ষম ছিল। অতএব, মানুষ যে কাজ করতে পারে নি, তা ব্যক্তিশরীরে সম্পাদন করার জন্যই যীশুর মানবজাতির মাঝে অবতীর্ণ হওয়ার প্রয়োজন ছিল। ঈশ্বর যতবার অবতার রূপ ধারণ করেন, তা পরম আবশ্যিকতার জন্যই। এর কোনো পর্যায় যদি সরাসরি ঈশ্বরের আত্মার দ্বারা সম্পাদিত হতে পারত, তাহলে তিনি অবতার রূপ ধারণের অমর্যাদার কাছে নতিস্বীকার করতেন না।

“বাক্য দেহে আবির্ভূত হল” থেকে

আরও দেখুন

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? অনুগ্রহ করে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। 😊

শেয়ার করুন

বাতিল করুন

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন