ঈশ্বরের প্রতিদিনের বাক্য: ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কাজ | উদ্ধৃতি 71

17-04-2023

ঈশ্বরের ছয় হাজার বছরের পরিচালনামূলক পরিকল্পনা শেষ হতে চলেছে, এবং যারা তাঁর আবির্ভাবের পথ চেয়ে আছে তাদের সকলের জন্য স্বর্গের দ্বার ইতিমধ্যেই উন্মুক্ত হয়েছে। প্রিয় ভাই ও বোনেরা, তোমরা কীসের অপেক্ষা করছ? তোমরা কী খুঁজছ? তোমরা কি ঈশ্বরের আবির্ভাবের প্রতীক্ষা করছ? তোমরা কি তাঁর পদাঙ্ক খুঁজছ? ঈশ্বরের আবির্ভাব দেখার জন্য কতই না ব্যাকুলতা! আর ঈশ্বরের পদাঙ্ক খুঁজে পাওয়া কতই না কঠিন! এমন এক যুগে, এমন এক দুনিয়ায়, ঈশ্বরের আবির্ভাবের দিনটির সাক্ষী হতে আমাদের কী কী করতেই হবে? ঈশ্বরের পদক্ষেপের সাথে সমান গতিতে পথ চলতে হলে আমাদের অবশ্যই কী করতে হবে? এই ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি এমন সবাইকেই হতে হয় যারা ঈশ্বরের আবির্ভাবের প্রতীক্ষা করছে। তোমরা সবাই এইসব কথা অনেকবার ভেবেছ—কিন্তু তার ফল কী হয়েছে? ঈশ্বর কোথায় আবির্ভূত হন? ঈশ্বরের পদাঙ্ক কোথায় রয়েছে? তোমরা কি এর কোনো জবাব খুঁজে পেয়েছ? অনেকে এইভাবে এর জবাব দেবে: “যারা ঈশ্বরকে অনুসরণ করে তিনি তাদের মধ্যে আবির্ভূত হন আর আমাদের মধ্যেই তিনি বিরাজমান; এটা এতটাই সহজ!” যেকোনো ব্যক্তি কোনো একটা গতে বাঁধা জবাব দিতেই পারে, কিন্তু তোমরা কি ঈশ্বরের আবির্ভাব বা তাঁর পদাঙ্ক বলতে কী বোঝায় সেটা বুঝতে পেরেছ? ঈশ্বরের আবির্ভাব বলতে মানুষের মধ্যে তাঁর কার্য সম্পাদন করার উদ্দেশ্যে মর্ত্যে আবির্ভূত হওয়াকে বোঝায়। তাঁর নিজের পরিচয় ও মনোভাবের গুণে, এবং তাঁর সহজাত উপায়ে, একটা যুগের সূচনা ঘটানো এবং একটা যুগের অবসান ঘটানোর কার্য সম্পাদনের উদ্দেশ্যে তিনি মানবজাতির মধ্যে অবতীর্ণ হন। এই ধরনের আবির্ভাব কোনো অনুষ্ঠানের রূপে ঘটে না। এটা কোনো চিহ্ন, ছবি, বা অলৌকিক ঘটনা নয়, অথবা কোনো ধরনের মহান কল্পচিত্র নয়, এবং তা কোনোমতেই কোনো ধরনের ধার্মিক প্রক্রিয়া নয়। এ হল এমন এক প্রকৃত এবং বাস্তবিক সত্য যা যেকেউ স্পর্শ এবং প্রত্যক্ষ করতে পারে। এই ধরনের আবির্ভাব গতির সাথে গা ভাসিয়ে দেওয়ার জন্য নয়, অথবা কোনো স্বল্পমেয়াদী দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যেও নয়; বরং, এ হল তাঁর পরিচালনামূলক পরিকল্পনার একটা পর্যায়। ঈশ্বরের আবির্ভাব সর্বদাই অর্থপূর্ণ হয় এবং তা সব সময়ই তাঁর পরিচালনামূলক পরিকল্পনার সাথে কিছু না কিছু সম্পর্ক রেখে চলে। এখানে আবির্ভাব বলতে যা বোঝানো হচ্ছে, তা ঈশ্বর যেরূপে মানুষকে পথ দেখান, নেতৃত্ব দেন, এবং আলোকিত করেন, সেই ধরনের “আবির্ভাব”-এর থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। ঈশ্বর যখনই স্ব-প্রকাশিত হয়েছেন, প্রতিবারই তিনি তাঁর মহান কার্যের একটা পর্যায়কে সম্পন্ন করেছেন। এক যুগের কার্য অন্যান্য যুগের কার্যের তুলনায় ভিন্নতর হয়। এ মানুষের পক্ষে অকল্পনীয়, এবং এর অভিজ্ঞতা মানুষের আগে কখনোই হয় নি। এ হল এমন এক ধরনের কার্য যা নতুন যুগের সূচনা করে এবং পুরাতন যুগের অবসান ঘটায়, এবং এ হল মানবজাতির পরিত্রাণের উদ্দেশ্যে এক নতুন ও উন্নত ধরনের কার্যকলাপ; উপরন্তু, এই কার্যই মানুষকে নতুন যুগে উপনীত করে। ঈশ্বরের আবির্ভাব বলতে এ-ই বোঝায়।

ঈশ্বরের আবির্ভাব বলতে কী বোঝায় সেটা একবার উপলব্ধি করার পরে, তোমরা ঈশ্বরের পদাঙ্ক কীভাবে অনুসন্ধান করবে? এই প্রশ্নের ব্যাখ্যা করা কঠিন নয়: যেখানেই ঈশ্বরের আবির্ভাব ঘটে, তখনই সেখানেই তুমি তাঁর পদাঙ্ক খুঁজে পাবে। এই ব্যাখ্যা সরল মনে হতে পারে, কিন্তু এর অনুশীলন তত সহজ নয়, কেননা অনেকেই ঈশ্বর কোথায় আবির্ভূত হন তা জানে না, তিনি কোথায় আবির্ভূত হতে চান, বা কোথায় তাঁর আবির্ভাব হওয়া উচিত—তা জানা তো আরো দূরের কথা। কেউ কেউ আবেগতাড়িত হয়ে বিশ্বাস করে যে পবিত্র আত্মা যেখানেই কাজ করে, সেখানেই ঈশ্বর আবির্ভূত হন। নতুবা তারা বিশ্বাস করে যে যেখানেই আধ্যাত্মিক ব্যক্তি আছে, সেখানেই ঈশ্বর আবির্ভূত হন। নতুবা তারা বিশ্বাস করে যে যেখানেই উচ্চ পদমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিরা রয়েছে, সেখানেই ঈশ্বর আবির্ভূত হন। আপাতত, এই বিশ্বাসগুলি ঠিক না ভুল সেই তর্ক মুলতুবি রাখা যাক। এমন কোনো প্রশ্নের ব্যাখ্যা করতে হলে, প্রথমে আমাদের অবশ্যই একটা স্পষ্ট উদ্দেশ্য থাকতে হবে: আমরা ঈশ্বরের পদাঙ্ক খুঁজছি। আমরা কোনো আধ্যাত্মিক ব্যক্তিবর্গের অনুসন্ধান করছি না, বিখ্যাত ব্যক্তিত্বগণের অন্বেষণ তো আরোই খুঁজছি না; আমরা ঈশ্বরের পদাঙ্কের অন্বেষণ করছি। অতএব, যেহেতু আমরা ঈশ্বরের পদাঙ্ক অনুসন্ধান করছি, সেহেতু আমাদের উচিত ঈশ্বরের ইচ্ছার, তাঁর বাক্যের, তাঁর উচ্চারণের অন্বেষণ করা—কারণ যেখানেই ঈশ্বর-কথিত নতুন বাক্য রয়েছে, সেখানেই ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর রয়েছে, এবং যেখানেই ঈশ্বরের পদাঙ্ক রয়েছে, সেখানেই ঈশ্বরের দ্বারা সংঘটিত কর্মসমূহ বিদ্যমান। যেখানেই ঈশ্বরের অভিব্যক্তিসমূহের প্রকাশ ঘটে, সেখানেই ঈশ্বর আবির্ভূত হন, আর যেখানেই ঈশ্বর আবির্ভূত হন, সেখানেই সত্য, পথ, এবং জীবনের অস্তিত্ব বিদ্যমান হয়। ঈশ্বরের পদাঙ্ক অন্বেষণে, তোমরা এই বাক্যগুলিকে অগ্রাহ্য করেছ “ঈশ্বরই সত্য, পথ, এবং জীবন”। এবং তাই, বহু মানুষ, সত্য গ্রহণ করা সত্ত্বেও, বিশ্বাস করে না যে তারা ঈশ্বরের পদাঙ্ক খুঁজে পেয়েছে, এবং তারা ঈশ্বরের আবির্ভাবকে আরোই কম স্বীকার করে। কি বিরাট এই ভুল! ঈশ্বরের আবির্ভাব মানুষের ধারণা দিয়ে অনুধাবন করা সম্ভব নয়, এবং ঈশ্বর যে মানুষের ইচ্ছা অনুসারে আবির্ভূত হবেন, এমন সম্ভাবনা তো আরোই নেই। ঈশ্বর তাঁর কাজ করার সময় নিজেই নিজের পছন্দ ও পরিকল্পনা নির্ধারণ করেন; এছাড়া, তাঁর নিজস্ব কিছু উদ্দেশ্য ও পদ্ধতি রয়েছে। তিনি যে কর্মই করুন, তা নিয়ে তাঁর কোনো মানুষের সাথে আলোচনা করার বা পরামর্শ চাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই, এবং তাঁর কার্যের বিষয়ে সবাইকে বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার প্রয়োজন তো আরোই নেই। এই হল ঈশ্বরের স্বভাব, যা, উপরন্তু, সকলকেই স্বীকার করতে হবে। তোমরা যদি ঈশ্বরের আবির্ভাব প্রত্যক্ষ করার, ঈশ্বরের পদাঙ্ক অনুসরণ করার আকাঙ্ক্ষা রাখ, তাহলে তোমাদের অবশ্যই সর্বাগ্রে নিজেদের পূর্বধারণাগুলি ছেড়ে বেরিয়ে আসতে হবে। তুমি অবশ্যই ঈশ্বরের কাছে এটা-ওটা করার দাবি রাখতে পার না, তাঁকে নিজের পূর্বধারণাগত গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ করে তো আরোই রাখবে না। বরং, তোমাদের কীভাবে ঈশ্বরের পদাঙ্ক অনুসন্ধান করা উচিত, কীভাবে ঈশ্বরের আবির্ভাব মেনে নেওয়া উচিত, এবং কীভাবে ঈশ্বরের নতুন কর্মের প্রতি নিজেদের সমর্পণ করা উচিত, তা জানার জন্য নিজেদের অন্তরে নিজেদেরই কাছে দাবি রাখবে: মানুষের এমনই করা উচিত। যেহেতু মানুষ সত্য নয়, এবং যেহেতু সে সত্যকে ধারণ করে না, সেহেতু তার সত্য অনুসন্ধান করা, সত্যকে গ্রহণ, এবং মান্য করা উচিত।

—বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, পরিশিষ্ট ১: ঈশ্বরের আবির্ভাব এক নতুন যুগের সূচনা করেছে

আরও দেখুন

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।

Leave a Reply

শেয়ার করুন

বাতিল করুন

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন