ঈশ্বরের প্রতিদিনের বাক্য: ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কাজ | উদ্ধৃতি 71

04-03-2022

ঈশ্বরের ছয় হাজার বছরের পরিকল্পিত কর্মধারা শেষ হতে চলেছে আর যারা তাঁর আবির্ভাবের পথ চেয়ে আছে এমন সবার জন্য স্বর্গের দ্বার ইতিমধ্যেই উন্মুক্ত হয়েছে। প্রিয় ভাই ও বোনেরা, তোমরা কীসের অপেক্ষা করছ? তোমরা কী খুঁজছ? তোমরা কি ঈশ্বরের আবির্ভাবের প্রতীক্ষা করছ? তোমরা কি তাঁর পদাঙ্ক খুঁজছ? ঈশ্বরের আবির্ভাব দেখার জন্য কতই না ব্যাকুলতা! আর ঈশ্বরের পদাঙ্ক খুঁজে পাওয়া কতই না কঠিন! এমন এক যুগে, এমন এক দুনিয়ায়, ঈশ্বর যে দিন আবির্ভূত হবেন সেই দিনটির সাক্ষী হতে আমাদের কোন কোন প্রস্তুতি অবশ্যই নিতে হবে? ঈশ্বরের দেখানো পথে চলতে গেলে আমাদের অবশ্যই কী করতে হবে? এই ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি এমন সবাইকেই হতে হয় যারা ঈশ্বরের আবির্ভাবের প্রতীক্ষা করছে। তোমরা সবাই এইসব কথা অনেকবার ভেবেছ—কিন্তু তার ফল কী হয়েছে? ঈশ্বর কোথায় আবির্ভূত হয়েছেন? ঈশ্বরের পদাঙ্ক কোথায় পড়েছে? তোমরা কি তার কোনো জবাব খুঁজে পেয়েছ? অনেকে তার জবাব এভাবে দেবে: “যারা ঈশ্বরকে অনুসরণ করে তিনি তাদের মধ্যে আবির্ভূত হন আর আমাদের মধ্যেই তিনি বিরাজমান; এটা এতটাই সহজ!” যেকোনো ব্যক্তিই কোনো একটা ছক বাঁধা জবাব দিতে পারে, কিন্তু তোমরা কি ঈশ্বরের আবির্ভাব বা তাঁর পদাঙ্ক বলতে কী বোঝায় সেটা বুঝতে পেরেছ? ঈশ্বরের আবির্ভাব বলতে মানুষের মধ্যে তাঁর কার্যকলাপ করার জন্য মানুষের রূপে মর্ত্যে আবির্ভূত হওয়াকে বোঝায়। তাঁর নিজের পরিচয় ও মনোভাবের গুণে এবং তাঁর সহজাত উপায়ে, একটা যুগের সূচনা ঘটানো এবং একটা যুগের অবসান ঘটানোর জন্য তিনি মানুষের মধ্যে অবতরণ করেন। এই ধরনের আবির্ভাব কোনো উৎসবের রূপে হয় না। এটা কোনো একটা চিহ্ন, ছবি, বা অলৌকিক ঘটনা অথবা কোনো ধরনের মহান দর্শন নয়, আর একে তো কোনো ধরনের ধার্মিক প্রক্রিয়া একেবারেই বলা যাবে না। এটা এমন একটা আসল এবং বাস্তব সত্য যেটা যেকোনো ব্যক্তি ছুঁয়ে এবং হাতে ধরে প্রত্যক্ষ করতে পারবে। এই ধরনের আবির্ভাব গতির সাথে গা ভাসিয়ে দেওয়ার জন্য নয় বা কোনো স্বল্পমেয়াদী দায়িত্ব পালনের জন্যও নয়; বরং, এটা হল তাঁর পূর্বপরিকল্পিত কর্মধারার একটা পর্যায়। ঈশ্বরের আবির্ভাব সর্বদাই অর্থপূর্ণ হয় আর সেটা সব সময়ই তাঁর পরিকল্পিত কর্মধারার সাথে কিছু না কিছু সম্পর্ক রেখে চলে। এখানে যাকে আবির্ভাব বলা হচ্ছে, সেটা ঈশ্বর যেভাবে পথ দেখান, নেতৃত্ব দেন, এবং মানুষকে আলোকিত করেন সে ধরনের “আবির্ভাব”-এর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। ঈশ্বর যখনই স্ব-মহিমায় আবির্ভূত হয়েছেন, প্রত্যেকবারই তিনি তাঁর মহান কার্যকলাপের একটা পর্যায়কে সম্পন্ন করেছেন। এই কার্যকলাপ অন্য যেকোনো যুগের তুলনায় আলাদা ধরনের হয়। এটা মানুষের পক্ষে অকল্পনীয়, আর এর আগে কখনই মানুষ এমন কোনো অভিজ্ঞতা লাভ করেনি। এটা এমন এক ধরনের কার্যকলাপ যেটা কোনো নতুন যুগের সূচনা করে এবং পুরানো যুগের উপসংহার টানে, আর এটা মানবজাতির মোক্ষলাভের জন্য এক নতুন ও বিকশিত রূপের কার্যকলাপ; উপরন্তু, এই কার্যকলাপই মানুষকে নতুন যুগে উপনীত করে। ঈশ্বরের আবির্ভাব বলতে একেই বোঝায়।

ঈশ্বরের আবির্ভাব বলতে কী বোঝায় সেটা একবার বুঝে ওঠার পরে, তোমরা ঈশ্বরের পদাঙ্ক কীভাবে খুঁজবে? এই প্রশ্নের ব্যাখ্যা করা কঠিন কাজ নয়: যখনই ঈশ্বরের আবির্ভাব হয়, তখনই সেখানে তাঁর পদাঙ্ক দেখতে পাবে। এমন কোনো ব্যাখ্যা বেশ সহজ সরল বলে মনে হয়, কিন্তু সেটার অনুশীলন তত সহজ নয়, কেননা অনেকেই জানে না যে ঈশ্বর কোথায় আবির্ভূত হন, আরও কম মানুষ জানে যে তিনি কোথায় আবির্ভূত হতে চান, বা কোথায় তাঁর আবির্ভাব হওয়া উচিত। কেউ কেউ আবেগতাড়িত হয়ে বিশ্বাস করে যে পবিত্র আত্মা যেখানেই কাজ করে, সেখানেই ঈশ্বর আবির্ভূত হন। নতুবা তারা বিশ্বাস করে যে যেখানেই আধ্যাত্মিক ব্যক্তি আছে, সেখানেই ঈশ্বর আবির্ভূত হন। নতুবা তারা বিশ্বাস করে যে যেখানেই অত্যন্ত খ্যাতিমান ব্যক্তিরা আছে, সেখানেই ঈশ্বর আবির্ভূত হন। সাময়িক ভাবে, এই বিশ্বাসগুলি ঠিক না ভুল সে তর্ক মুলতুবি রাখা যাক। এমন কোনো প্রশ্নের ব্যাখ্যা করতে হলে, প্রথমে আমাদের অবশ্যই একটা স্পষ্ট উদ্দেশ্য থাকতে হবে: আমরা ঈশ্বরের পদাঙ্ক খুঁজতে চাইছি। আমরা কোনো আধ্যাত্মিক ব্যক্তি খুঁজছি না, বিখ্যাত ব্যক্তিদেরকে তো আরোই খুঁজছি না; আমরা ঈশ্বরের পদাঙ্ক খুঁজছি। তাই, আমরা যেহেতু ঈশ্বরের পদাঙ্ক খুঁজতে চাইছি, ঈশ্বরের ইচ্ছা, দৈববাণী, তাঁর কথা বলার কায়দা কী সেটা জানা আমাদের কর্তব্য—কেননা ঈশ্বর যখনই কোনো নতুন কথা বলেন, দৈববাণী শোনা যায়, আর যেখানে ঈশ্বরের পদাঙ্ক থাকে, সেখানেই ঈশ্বরের কার্যকলাপগুলি হয়ে থাকে। যেখানেই ঈশ্বরের ভাব প্রকাশিত হয়, ঈশ্বরের আবির্ভাব ঘটে, আর যেখানেই ঈশ্বর আবির্ভূত হন, সেখানেই সত্য, সত্য জানবার পথ, আর জীবনের অস্তিত্ব দেখা যায়। ঈশ্বরের পদাঙ্ক খুঁজতে গিয়ে, তোমরা এই কথাগুলিকে অগ্রাহ্য করেছ “ঈশ্বরই সত্য, তিনিই সত্য জানবার পথ, আর জীবনও।” আর তাই, বহু মানুষ সত্য জানতে পারলেও বিশ্বাস করে না যে তারা ঈশ্বরের পদাঙ্ক পেয়ে গেছে, আর তারা ঈশ্বরের আবির্ভাবকে আরোই কম স্বীকার করে। কত বড় ভুল! ঈশ্বরের আবির্ভাব মানুষের ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ধারণা দিয়ে বুঝতে পারা সম্ভব নয়, আর ঈশ্বর যে মানুষের ইচ্ছা অনুসারে আবির্ভূত হবেন তেমন সম্ভাবনা আরোই কম। ঈশ্বর নিজের কাজ করার সময় নিজেই নিজের পছন্দ আর পরিকল্পনাগুলি নির্ধারণ করেন; তাছাড়াও, তাঁর নিজস্ব কিছু উদ্দেশ্য আর পদ্ধতি আছে। তিনি যে কাজই করুন, তাঁর সেই নিয়ে কোনো মানুষের সাথে আলোচনা করার বা পরামর্শ চাওয়ার কোনো দরকার নেই, আর তার কার্যকলাপ নিয়ে একে একে সবাইকে বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার দরকার তো আরও নেই। এটাই ঈশ্বরের স্বভাব, আর এটা আরও বিশেষ করে প্রত্যেককে মেনে নিতে হবে। তোমরা যদি ঈশ্বরের আবির্ভাব দেখতে চাও, ঈশ্বরের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে চাও, তাহলে তোমাদের অবশ্যই প্রথমে নিজেদের ধারণাগুলি ছেড়ে বেরিয়ে আসতে হবে। তুমি অবশ্যই ঈশ্বর অমুক করেছেন-তমুক করেছেন, এমন দাবি করবে না, তাঁকে নিজের ধারণাগত গণ্ডির ঘেরাটোপের মধ্যে তো একেবারেই রাখবে না। বরং, তুমি তোমাদের নিজেদের মধ্যে জানার জন্য দাবি তুলবে যে তোমাদের কীভাবে ঈশ্বরের পদাঙ্ক খুঁজতে চাওয়া উচিত, তোমাদের কীভাবে ঈশ্বরের আবির্ভাব মেনে নেওয়া উচিত, আর কীভাবে ঈশ্বরের নতুন নতুন কার্যকলাপের কাছে তোমাদের আত্মসমর্পণ করা উচিত। মানুষের এটাই করা উচিত। কেননা মানুষ সত্য নয় আর সে সত্যকে ধারণ করে নেই, তার সত্য অনুসন্ধান করা, গ্রহণ করা আর মেনে চলা উচিত।

“বাক্য দেহে আবির্ভূত হল” থেকে

আরও দেখুন

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? অনুগ্রহ করে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। 😊

শেয়ার করুন

বাতিল করুন

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন