অধ্যায় ৫৬

অন্যায় যারা করে, যারা ক্ষমতা প্রয়োগ করে এবং যারা ঈশ্বরপুত্রদের নির্যাতন করে তাদের আমি শাস্তি দিতে শুরু করেছি। এবার থেকে যারা নিজেদের মনে আমার বিরোধিতা করবে তাদের ওপর আমার পরিচালনমূলক আজ্ঞাসমূহ নেমে আসবে। এটা জেনে রাখো। এই আমার বিচারের শুরু। কাউকে আর কোনো ক্ষমা প্রদর্শন করা হবে না, কাউকে অব্যাহতিও দেওয়া হবে না। কারণ আমি অনাসক্ত ঈশ্বর, আর আমি শুধু ন্যায়পরায়ণতার পথে চলি। এটা তোমরা সবাই জেনে রাখো। তাতে তোমাদেরই মঙ্গল।

অন্যায় যারা করে তাদের যে আমি শাস্তি দিতে চাই তা কিন্তু নয়, অপরাধ করার পরিণামে তারা নিজেদের উপর এই প্রতিফল ডেকে আনে। আমি হঠকারী হয়ে কাউকে শাস্তি দিইনা, কারো সঙ্গে অবিচারও করি না। আমি সকলের প্রতিই ন্যায়পরায়ণ। নিঃসন্দেহে আমি আমার পুত্রদের ভালোবাসি, আমাকে যারা অগ্রাহ্য করে নিঃসন্দেহে তাদের আমি ঘৃণা করি। আমার কাজের নেপথ্যে এই একটিই নীতি। আমার পরিচালনামূলক আজ্ঞাগুলি সম্বন্ধে তোমাদের প্রত্যেকের একটা অন্তর্দৃষ্টি থাকা চাই, তা যদি না থাকে তাহলে তোমাদের মনে কণামাত্রও ভয় থাকবে না এবং তোমরা আমার সামনে অসাবধান আচরণ করবে। তাহলে আমি কী অর্জন করতে চাই, আমি কী সাধন করতে চাই, আমি কী লাভ করতে চাই বা আমার রাজ্যে কী ধরনের মানুষ প্রয়োজন সেটাও তোমরা জানতে পারবে না।

আমার পরিচালনামূলক আজ্ঞাগুলি হলঃ

১. তুমি যেই হওনা কেন, হৃদয় থেকে যদি আমার বিরোধিতা করো, তবে তোমার বিচার হবেই।

২. আমি যাদের নির্বাচন করেছি তাদের মনে যদি কুচিন্তা আসে তবে তাদের শৃঙ্খলা শেখানো হবে।

৩. আমার ওপর যাদের বিশ্বাস নেই তাদের আমি একদিকে রাখব। আমি তাদের অন্তিম মুহূর্ত অবধি যতখুশি বলতে দেব, যতখুশি খামখেয়ালিপনা করতে দেব, তারপর তাদের চুড়ান্ত শাস্তি দেব ও বাতিল করব।

৪. আমার ওপর যারা সবসময় বিশ্বাস রেখেছে আমি তাদের দেখাশোনা করব ও তাদের রক্ষা করব। সর্বদাই পরিত্রাণের মাধ্যমে তাদের জীবন আমি পূর্ণ করে তুলব। এরা আমার ভালোবাসা পাবে, এদের কখনো পতন ঘটবে না, এরা কখনো পথভ্রষ্ট হবে না। যদি কিছু দুর্বলতা তাদের থেকে থাকে তবে সেটা সাময়িক এবং আমি কখনোই তাদের এই দুর্বলতার কথা মনে রাখব না।

৫. যারা বিশ্বাসের ভান করে কিন্তু প্রকৃত বিশ্বাস করে না অর্থাৎ যারা ঈশ্বর আছে বলে বিশ্বাস করলেও খ্রিষ্টের অন্বেষণ করেনা অথচ তাঁকে অস্বীকারও করতে পারে না তাদের অবস্থা সবচেয়ে করুণ। আমার কাজের মাধ্যমে আমি তাদের স্বচ্ছ দৃষ্টি প্রদান করব। আমার কাজ দিয়ে এই সমস্ত মানুষকে আমি উদ্ধার করব ও তাদের নিজের কাছে ফিরিয়ে আনব।

৬. প্রথমজাত পুত্ররা যারা প্রথম আমার নাম স্মরণ করবে তারা আশীর্বাদধন্য হবে! নিশ্চিতভাবেই আমার পরম আশীর্বাদ আমি তোমাদের সবার ওপর বর্ষণ করব, তোমরা যত পারো তা উপভোগ করো। কেউ এতে বাধা দেওয়ার স্পর্ধা দেখাবে না। আমার পরিচালনামূলক আজ্ঞা হিসাবে এ সব কিছুই তোমাদের জন্য তৈরি করা হয়েছে।

তোমরা সব দিক থেকেই আমার হাতের সমস্ত কাজ এবং আমার হৃদয়ের সমস্ত ভাবনা দেখতে সক্ষম হবে। এ সবকিছুই কি তোমাদের জন্য নয়? তোমাদের মধ্যে কে আমার জন্য রয়েছ? নিজেদের মনের সব ভাবনা ও মুখের সব কথাকে কি তোমরা বিচার করে দেখেছ? তোমরা কি বিবেকবান ব্যক্তির মতো এই সবকিছু বিচার করেছ? জড়বুদ্ধি! অসচ্চরিত্র! তোমরা পবিত্র আত্মার নিষেধগুলি স্বীকার করোনি! তোমার মধ্যে নিজের কন্ঠস্বরকে আমি বারবার প্রকাশ করেছি, কিন্ত তার কোনো প্রতিক্রিয়া আসে নি। আর নির্বোধ হয়ে থেকো না! আমার ইচ্ছাকে বুঝতে পারাই তোমার কর্তব্য; উপরন্তু, এই সেই পথ, এখানেই তোমাকে প্রবেশ করতে হবে। তুমি এখন বিভ্রান্ত, তোমার কোনো অন্তর্দৃষ্টি নেই। তোমার মধ্যে দিয়ে আমি কী অর্জন করতে চাইছি বা তোমার কাছ থেকে আমি কী লাভ করতে চাইছি তা তুমি স্পষ্ট ভাবে দেখতে পাচ্ছ না! আমার ইচ্ছা অনুধাবন করার জন্য প্রথমে তোমায় আমার কাছে আসতে হবে এবং আমার সঙ্গে আরো বেশি করে সংলগ্ন থাকতে হবে। তুমি সবসময় বলো, আমার ইচ্ছা নাকি অনুধাবন করতে করতে পারছ না। নিজেদের বিষয় নিয়েই যদি সবসময় এত ব্যস্ত থাকো তাহলে আমি কীভাবে তোমার উপর কাজ করবো? তুমি নিজে উদ্যোগ নিয়ে আমার সামনে আসো না, শুধু ভাবলেশহীন হয়ে অপেক্ষা করে যাও। আমি বলি, তুমি আসলে কীটের মতো, তারপরও ভাবো যে তোমার সঙ্গে অবিচার হয়েছে এবং সত্যিটা মানতে অস্বীকার করো। এবার তোমার উঠে দাঁড়ানো এবং আমার সঙ্গে সহযোগিতা করা উচিত! এভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে থেকো না! তাহলে তোমার জীবনের গতি ব্যাহত হবে। উদ্যমী হলে সুফল তোমারই, অন্য কারো নয়। এই কথাটা কি এখনও স্বীকার করো না? এখনও বোঝো না? আমার ইচ্ছা তোমার মাঝেই নিরন্তর প্রকাশিত হয়ে চলেছে। তুমি কি সেটা উপলব্ধি করোনি? কেন এ বিষয়টাতে মনোযোগ দাওনি? কেন আমার ইচ্ছা কখনোই বুঝতে পারোনি? আমার ইচ্ছাকে উপলব্ধি করে সত্যিই কি তোমার কোনো লাভই হয় না?

আমি চাই, সবদিক থেকেই তুমি আমার ইচ্ছাকে মর্যাদা দাও যাতে তোমার মধ্যে দিয়ে আমি সামনে চলার পথ আর বিশ্রাম নেওয়ার জন্য একটা আবাস পাই। আমাকে আর বাধা দিয়ো না – সেটা খুবই হৃদয়হীন আচরণ হবে! তোমরা আমার কথা বুঝতে পারো না, আমার বাক্যে সাড়া দাও না। দেখো, এখন সময় কী হয়েছে; আর অপেক্ষা করা যাবে না! আমার পদাঙ্ক যদি ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ না করো তাহলে অনেক দেরি হয়ে যাবে, তখন আর মুক্তির পথ পাবে না!

পূর্ববর্তী: অধ্যায় ৫৫

পরবর্তী: অধ্যায় ৫৭

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।👇

সম্পর্কিত তথ্য

ঈশ্বর হলেন মানুষের জীবনের উৎস

ক্রন্দনরত অবস্থায় এই জগতে ভূমিষ্ঠ হবার সময় থেকেই তুমি তোমার কর্তব্য পালন করা শুরু করো। ঈশ্বরের পরিকল্পনা ও তাঁর নির্ধারিত নিয়তি অনুসারে...

প্রার্থনার অনুশীলন বিষয়ে

তোমরা তোমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রার্থনার উপর জোর দাও না। মানুষ প্রার্থনার বিষয়টিকে অবহেলা করে। প্রার্থনা সাধারণত করা হয়ে থাকে দায়সারাভাবে...

পরিশিষ্ট ২ ঈশ্বর সমগ্র মানবজাতির ভাগ্য নির্ধারক

মানব প্রজাতির সদস্য এবং ধর্মপ্রাণ খ্রীষ্টান হিসাবে আমাদের সকলের দায়িত্ব এবং কর্তব্য হলো নিজেদের দেহ ও মনকে ঈশ্বরের অর্পিত দায়িত্বে নিযুক্ত...

সেটিংস

  • লেখা
  • থিমগুলি

ঘন রং

থিমগুলি

ফন্টগুলি

ফন্ট সাইজ

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

পৃষ্ঠার প্রস্থ

বিষয়বস্তু

অনুসন্ধান করুন

  • এই লেখাটি অনুসন্ধান করুন
  • এই বইটি অনুসন্ধান করুন

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন