অধ্যায় ৫৭

তুমি কি তোমার প্রতিটি চিন্তা এবং ধারণা, এবং তোমার প্রতিটি কার্যকে পরীক্ষা করেছ? এগুলির মধ্যে কোনগুলি আমার ইচ্ছার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ এবং কোনগুলি নয় সে সম্বন্ধে স্পষ্ট ধারণা কি তোমার রয়েছে? তুমি এই পার্থক্য নিরূপণে একেবারেই অক্ষম! তুমি কেন আমার সম্মুখে আসোনি? তার কারণ কি এই যে আমি তোমাকে কিছু বলব না নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে? তোমার এটা জানা উচিত! জেনে রেখো যারা অমনোযোগী তারা আমার ইচ্ছাকে একেবারেই উপলব্ধি করতে পারে না বা কোনো মহান প্রদীপ্তি বা উদ্‌ঘাটন লাভ করতে পারে না।

গির্জা কেন পুষ্টি লাভ করতে অক্ষম এবং সেখানে কেন খাঁটি সহকারিতার অভাব রয়েছে সেই কারণগুলি কি তুমি আবিষ্কার করেছ? যে বিষয়গুলি এই অবস্থার জন্য দায়ী তাদের মধ্যে কতগুলির সঙ্গে তুমি সম্পর্কিত সে বিষয়ে কি তুমি অবগত আছ? আমি তোমাকে জীবন সরবরাহ করার এবং আমার কণ্ঠস্বরকে মুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছি। এই কাজগুলি কি তুমি করেছ? তোমার ভ্রাতা ও ভগিনীদের জীবনের অগ্রগতিতে কালবিলম্ব ঘটানোর দায়িত্ব কি স্বীকার করতে পারো? যখন তুমি কোনো সমস্যার সম্মুখীন হও তখন শান্ত ও ধীরস্থির থাকার পরিবর্তে তুমি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ো। তুমি প্রকৃতই অজ্ঞ! আমার কন্ঠস্বর সন্তদের কাছে বিমুক্ত করা দরকার। পবিত্র আত্মার কর্মকে গোপন করে রেখো না, এবং দীর্ঘসূত্রতার দ্বারা আমার বিলম্ব ঘটিও না, এর কোনোটিতেই কারো উপকার হবে না। আমি চাই তুমি নিজেকে সম্পূর্ণভাবে, কায়মনোবাক্যে আমার কাছে উৎসর্গ কারো যাতে তোমার প্রতিটি চিন্তা ও ভাবনা আমার উদ্দেশে হয়, যাতে তুমি আমার চিন্তা ও উদ্বেগগুলির অংশীদার হও, এবং যাতে তোমার প্রতিটি কর্ম আমার রাজ্য ও আমার ব্যবস্থাপনার স্বার্থে হয়, তোমার নিজের স্বার্থে নয়। একমাত্র এটাই আমার হৃদয়কে পরিতৃপ্ত করবে।

আমি এমন কোনো কাজ করিনি যা সাক্ষ্যবিহীন। তুমি কেন আমাকে অনুকরণ করোনি? তুমি যা করো কেন তার সাক্ষ্যের সন্ধান করোনি? আমার কাছ থেকে আর কোন কথা তুমি শুনতে চাও? তোমার হাত ধরে আমি শিক্ষা দিয়েছি, তবুও তুমি শিখতে পারোনি। তুমি এতই নির্বোধ! তুমি কি আবার প্রথম থেকে শুরু করতে চাও? হতাশ হয়ো না। তোমাকে আরো একবার নিজের আবেগকে সংযত করতে হবে, এবং সন্তদের সম্মিলিত আশা ও কামনার হয়ে সম্পূর্ণভাবে নিজেকে উৎসর্গ করতে হবে। এই বাক্যগুলি মনে রেখো: “আমার জন্য যারা আন্তরিক ভাবে নিজেদের ব্যয়িত করে, আমি নিশ্চিত ভাবেই তাদের আশীর্বাদধন্য করবো”।

তুমি যে কাজই করো না কেন তা সুশৃঙ্খলভাবে করতে হবে, বিশৃঙ্খল ভাবে করলে চলবে না। তুমি কি এটা দাবি জানানোর সাহস রাখো যে তুমি সন্তদের অবস্থা নিজের হাতের তালুর মতো জানো? এটাই প্রমাণ যে তোমার প্রজ্ঞার অভাব রয়েছে, তুমি এই বিষয়টিকে মোটেই গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করোনি, এবং তুমি এই বিষয়টি নিয়ে কোনো সময় ব্যয় করোনি। তুমি যদি এই বিষয়টির উপর তোমার সবটুকু সময় ব্যয় করতে পারতে তাহলে দেখতে পেতে যে তোমার অভ্যন্তরীণ অবস্থা কেমন হতে পারে। তুমি বিষয়নিষ্ঠ প্রয়াস করতে চাও না; আমার ইচ্ছার প্রতি লেশমাত্র সহানুভূতি না দেখিয়ে তুমি শুধুমাত্র বস্তুনিষ্ঠ কারণগুলি সন্ধান করো। এটা আমাকে গভীরভাবে আহত করেছে! এইভাবে চলতে দিয়ো না! এমনটা কি হতে পারে যে, যে আশীর্বাদ আমি তোমাকে দিয়েছি সেটা তুমি গ্রহণ করো না?

হে ঈশ্বর! আপনার সন্তান আপনার ঋণে ডুবে রয়েছে। আমি আপনার কর্মকে গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করিনি বা আপনার ইচ্ছার প্রতি সহানুভূতি দেখাইনি, আপনার উপদেশের প্রতি বিশ্বস্তও থাকিনি। আপনার সন্তান এ সকল কিছুর থেকে ঘুরে দাঁড়াতে চায়। আপনি যেন আমাকে পরিত্যাগ না করেন, আপনি যেন আমার মধ্যে দিয়ে আপনার কর্ম বজায় রাখেন। হে ঈশ্বর! আপনার সন্তানকে আপনি একা ছেড়ে দেবেন না! বরং, দয়া করে প্রতি মুহূর্তে আমাকে সঙ্গ দিন। হে ঈশ্বর! আপনার সন্তান জানে যে আপনি আমাকে ভালোবাসেন, তবুও আপনার ইচ্ছাকে আমি উপলব্ধি করতে পারি না; আমি জানি না কীভাবে আপনার দায়ভারের প্রতি সহানুভূতি দেখাতে হয় বা যে দায়িত্ব আপনি আমার উপর অর্পণ করেছেন তা পালন করতে হয়। গির্জাকে কীভাবে পরিচালনা করতে হয় তা তো আরোই কম জানি। আপনি জানেন এই বিষয়টি নিয়ে আমি আশাহত এবং প্রপীড়িত। হে ঈশ্বর! দয়া করে সদাসর্বদা আমাকে পথনির্দেশ দিন। শুধুমাত্র এখন আমি অনুভব করতে পারি আমার মধ্যে কতটা ঘাটতি রয়েছে—আমার মধ্যে অনেক ঘাটতি! কতটা ঘাটতি তা আমি বর্ণনাও করতে পারি না। আপনার সর্বশক্তিমান হস্ত আপনার সন্তানকে অনুগ্রহ প্রদর্শন করুক, সকল সময়ে আমাকে সহায়তা করুক, এবং আপনার সম্মুখে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে অবনত করতে আমায় সমর্থ করুক, আমার কোনো নিজস্ব পছন্দ-অপছন্দ এবং আমার আর কোনো চিন্তা বা ধারণা যেন না আসে। হে ঈশ্বর! আপনি জানেন যে আপনার সন্তান সম্পূর্ণভাবে আপনারই জন্য এবং আজকের রাজ্যের স্বার্থে সকল কিছু করতে চায়। এই মুহূর্তে আমি কী চিন্তা করছি এবং কী করছি তা আপনি জানেন। হে ঈশ্বর! আপনি নিজেই আমার সন্ধান করুন! আমি শুধু এটাই চাই যে আপনি আমার সঙ্গে হাঁটুন এবং জীবনে সবসময় আমার পাশে থাকুন যাতে আমার সকল কাজে আপনার শক্তি আমার সঙ্গে থাকে।

পূর্ববর্তী: অধ্যায় ৫৬

পরবর্তী: অধ্যায় ৫৮

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।👇

সম্পর্কিত তথ্য

সর্বশক্তিমানের দীর্ঘশ্বাস

তোমার হৃদয়ে এক বিশাল গোপন বিষয় আছে যার ব্যাপারে তুমি কখনও সচেতন ছিলে না, কারণ তুমি বেঁচে আছ আলোকহীন এক জগতে। তোমার হৃদয় আর তোমার আত্মাকে...

ঈশ্বর হলেন মানুষের জীবনের উৎস

ক্রন্দনরত অবস্থায় এই জগতে ভূমিষ্ঠ হবার সময় থেকেই তুমি তোমার কর্তব্য পালন করা শুরু করো। ঈশ্বরের পরিকল্পনা ও তাঁর নির্ধারিত নিয়তি অনুসারে...

একটি সাধারণ আধ্যাত্মিক জীবন মানুষকে সঠিক পথে নিয়ে যায়

তোমরা ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাসের পথে খুব সামান্য অংশই হেঁটেছো, এবং তোমরা এখনও সঠিক পথে প্রবেশ করতে পারোনি, তাই তোমরা এখনও ঈশ্বরের নির্ধারিত...

সেটিংস

  • লেখা
  • থিমগুলি

ঘন রং

থিমগুলি

ফন্টগুলি

ফন্ট সাইজ

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

পৃষ্ঠার প্রস্থ

বিষয়বস্তু

অনুসন্ধান করুন

  • এই লেখাটি অনুসন্ধান করুন
  • এই বইটি অনুসন্ধান করুন

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন