অধ্যায় ১১৭

তুমিই সে যে পুঁথি খোলে, এবং তুমিই সাতটি সীলমোহর ভাঙো, কারণ সব রহস্য তোমার থেকেই আসে এবং সব আশীর্বাদ তোমার দ্বারাই প্রকাশিত হয়। আমি তো তোমাকে অনন্তকাল ভালোবাসবই, এবং আমি সমস্ত মানুষকে তোমার পূজায় নিয়োজিত করতে বদ্ধপরিকর, কারণ তুমিই আমার ব্যক্তিত্ব; তুমি আমার প্রাচুর্যময় ও সম্পূর্ণ প্রকাশের অংশ, আমার দেহের এক অপরিহার্য অঙ্গ। তাই, আমাকে বিশেষ সাক্ষ্য দিতেই হবে। আমার ব্যক্তিত্বের অন্তর্লীন সেই একক সত্তা ছাড়া কে-ই বা আমার হৃদয়ে স্থান চায়? তুমি নিজে তোমার সাক্ষ্য বহন কর না, আমার আত্মাই তোমার সাক্ষ্য বহন করে, এবং তোমাকে অমান্য করার দুঃসাহস যে দেখাবে আমি তাকে অবশ্যই ক্ষমা করব না, কারণ এর সঙ্গে আমার প্রশাসনিক নির্দেশনামা জড়িত। তুমি যা কিছু বল তা আমি অবশ্যই সম্পন্ন করব আর তুমি যা কিছু ভাব তা আমি নিশ্চয় গ্রহণ করব। কেউ যদি তোমার প্রতি বিশ্বস্ত না হয়, তাহলে সে প্রকাশ্যে আমাকে প্রতিরোধ করছে এবং আমি কোনোমতেই তাদের ক্ষমা কপব না। যারা আমার পুত্রকে প্রতিরোধ করবে তাদের সবাইকে আমি নির্মম শাস্তি দেব আর যারা তোমার সহচারী তাদের সকলকে আশীর্বাদ করব। এই হল সেই কর্তৃত্ব যা আমি তোমাকে প্রদান করছি। অতীতে যেসব দাবি ও যোগ্যতা প্রথমজাত সন্তানের থাকা উচিত বলে বলা হয়েছে, তুমি তার মূর্ত উদাহরণ। অর্থাৎ আমি সব প্রথমজাত পুত্রদের মধ্যে তোমারই গুণাবলী চাই। কোনো মানুষ তা করতে পারে না, আমার আত্মা নিজেই তা করে। যদি কেউ বিশ্বাস করে যে মানুষই এসব করছে তাহলে সেই সৃষ্ট জীব অবশ্যই শয়তানের গোষ্ঠীভুক্ত এবং আমার শত্রু! তাই, এই সাক্ষ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ, চিরকালীন অপরিবর্তনীয় এবং পবিত্র আত্মা অনুমোদন করে। কারোর একে খেলার ছলে বদলানোর অনুমতি নেই এবং যদি কেউ তা করে আমি তাকে ক্ষমা করব না। যেহেতু মানুষ আমার সাক্ষ্য বহন করতে পারে না, আমি নিজেই নিজের ব্যক্তিত্বের সাক্ষ্য বহন করি এবং মানুষের আমার কাজে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। এসব কঠিন বিচারের বাণী, এবং প্রত্যেক ব্যক্তির তা সচেতনভাবে মনে রাখা উচিত!

আমি যাকিছু বলি তার প্রতিটি খুঁটিনাটি তোমাদের বিবেচনা করা ও লক্ষ করা উচিত। আমার বাণী হাল্কাভাবে নিও না, মন দিয়ে শোনো। কেন আমি বলি যে প্রথমজাত পুত্ররা আমার ব্যক্তিত্ব ও আমার রাজ্যের অপরিহার্য অঙ্গ? সমস্ত যুগের আগে, আমরা একসাথে থাকতাম ও কখনো বিচ্ছিন্ন হইনি। শয়তান-সৃষ্ট বিপর্যয়ের পর, প্রথমবার অবতারত্ব গ্রহণ করার পর আমি জায়নে ফিরে যাই। এর পর আমরা সবাই পৃথিবীতে আসি, এবং অন্তিম সময়ে আমার জয়ের পর, অর্থাৎ, তোমাদের সকলকে শয়তান-কলুষিত দেহ থেকে পুনরুদ্ধার করার পর, আমি তোমাদের জায়নে নিয়ে যাব যাতে আমার ব্যক্তিত্ব পুনর্মিলিত হয় ও আর কখনো বিচ্ছিন্ন না হয়। তারপর আমি আর কখনো অবতাররূপ ধারণ করব না। এবং তোমরা অবশ্যই আমার দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হবে না। অর্থাৎ এর পর আমি আর বিশ্ব সৃষ্টি করব না, বরং চিরকালের মতো আমার প্রথমজাত পুত্রদের সঙ্গে অভিন্ন সত্তারূপে সিয়োনে বিরাজমান থাকব, কারণ সবকিছুই এখন সম্পূর্ণরূপে সম্পাদিত হয়েছে এবং আমি প্রায় পুরাতন যুগের অন্ত রচনা করে ফেলেছি। একমাত্র সিয়োনেই নতুন স্বর্গ ও পৃথিবীর জীবন রয়েছে কারণ আমার ব্যক্তিসত্তা আত্মা সিয়োনে বাস করে। এছাড়া আর কোনো নতুন স্বর্গ বা নতুন পৃথিবীর অস্তিত্ব থাকবে না। আমিই নতুন স্বর্গ এবং নতুন পৃথিবী, কারণ আমার ব্যক্তিত্ব গোটা সিয়োনকেনে পরিব্যাপ্ত। এ-ও বলা যায় যে আমার প্রথমজাত পুত্রেরাই নতুন স্বর্গ, আমার প্রথম জাত পুত্ররাই নতুন পথিবী। আমার প্রথমজাত পুত্রগণ ও আমি একই দেহে লীন, অভিন্ন। আমার কথা বলা মানেই প্রথমজাত পুত্রদের কথা বলা এবং আমি অবশ্যই যারা আমাদের বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করে তাদের ক্ষমা করব না। যখন আমি সব জাতিরাষ্ট্র ও জাতিগোষ্ঠীকে আমার সিংহাসনের সামনে ফিরিয়ে আনব, সব শয়তান সম্পূর্ণরূপে অপমানিত হবে ও সব অনিষ্টকারী দৈত্য আমার থেকে দূরীভূত হবে। তখন নিশ্চিতরূপেই সমস্ত মানুষের মধ্যে (অর্থাৎ আমার পুত্রগণ ও মানুষের মধ্যে) ন্যায়পরায়ণতা বিরাজ করবে, এবং নিশ্চিতভাবে, কোনো জাতিরাষ্ট্রেই শয়তানের দুরাচারের কোনো প্রভাব থাকবে না। কারণ আমিই সব জাতিরাষ্ট্র ও জাতিগোষ্ঠী শাসন করব, সমস্ত ব্রহ্মাণ্ডে আমার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হবে, এবং সমস্ত শয়তানকুল সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হবে, পরাজিত হবে ও আমার প্রশাসনিক নির্দেশনামার শাস্তি ভোগ করবে।

আমি সব জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে আমার কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু তাদের শুধুই আমার আত্মার প্রদীপ্তি আছে, এবং তাদের মধ্যে আমার রহস্য উন্মোচনের যোগ্য, আমাকে ব্যক্ত করার যোগ্য কেউ নেই। একমাত্র যে আমার থেকে এসেছে সে-ই আমার কাজ করার যোগ্য—বাকীদের আমি সাময়িকভাবে ব্যবহার করি মাত্র। আমার আত্মা যদৃচ্ছভাবে যে কোনো ব্যক্তির ওপর অবতীর্ণ হবে না, কারণ আমার সবই মূল্যবান। আমার আত্মা কারোর ওপর অবতীর্ণ হওয়া এবং কারোর ওপর কাজ করা সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যাপার। আমার আত্মা সেইসব মানুষের ওপর কাজ করে যারা যারা আমার বাইরে আছে, কিন্তু আমার আত্মা তার ওপরেই অবতীর্ণ হয় যে আমার থেকে এসেছে। এ দুটি সম্পূর্ণরূপে সংযোগহীন বিষয়। কারণ আমার থেকে যে আসে সে পবিত্র, কিন্তু যারা আমার বাইরে আছে তারা পবিত্র নয়, সে তারা যতই ভালো হোক না কেন। আমার আত্মা ছোটোখাটো কারণে কারোর ওপর অবতীর্ণ হবে না। মানুষের চিন্তা করা উচিত নয়। আমি কোনো ভুল করি না, এবং আমি যা করি সে বিষয়ে একশ শতাংশ নিশ্চিত থাকি। যেমন আমি তাঁর সাক্ষ্য দিয়েছি, আমি অবশ্যই তাঁকে রক্ষাও করব; সে অবশ্যই আমার থেকে এসেছে এবং আমার ব্যক্তিত্বের পক্ষে অপরিহার্য। তাই আমি আশা করি মানুষ তার নিজের ধারণাগুলি সরিয়ে রাখবে, শয়তান প্রদত্ত চিন্তা-ভাবনা ত্যাগ করবে, আমার প্রতিটি উচ্চারণকে সত্য জ্ঞান করবে, এবং তাদের মনে সন্দেহের উদ্রেক হতে দেবে না। এই হল মানবতার প্রতি আমার অনুজ্ঞা, মানবতার প্রতি আমার উপদেশ। প্রত্যেকের এগুলি মেনে চলা উচিত, প্রত্যেকের ঐকান্তিকভাবে একে মান্য করা উচিত, এবং প্রত্যেকের আমি যাকে মানক বলে গ্রহণ করেছি তা মেনে নেওয়া উচিত।

আমার শুধু জাতিরাষ্ট্র ও জাতিগোষ্ঠীগুলির মধ্যেই কাজ শুরু করলে চলবে না, সমগ্র ব্রহ্মাণ্ডে কাজ শুরু করতে হবে এবং এর থেকেই দেখা যাচ্ছে যে আমার সিয়োনে প্রত্যাবর্তনের দিন আর খুব দূরে নেই (কারণ সমস্ত জাতিগোষ্ঠী এবং বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে আমার কাজ শুরু করার আগে আমার সিয়োনে ফেরাটা প্রয়োজন)। এমন কেউ আছে যে আমার কাজের ধাপগুলি এবং আমার কাজের পদ্ধতি বুঝতে পারে? আমি বলি বিদেশিদের সঙ্গে আমি আত্মার মাধ্যমে সংযোগ স্থাপন করব কারণ এ কাজ দেহের মাধ্যমে করা সম্ভব নয়, এবং আমি দ্বিতীয়বার বিপদের ঝুঁকি নিতে চাই না। এই হল বিদেশীদের সঙ্গে আত্মার মাধ্যমে সংযোগ স্থাপনের কারণ। এটা এক প্রকৃত আধ্যাত্মিক বিশ্বে হবে, দেহে আবদ্ধ প্রাণী যেরকম ভাবে[ক] তেমন কোনো অস্পষ্ট আধ্যাত্মিক দুনিয়ায় নয়। তখন আমি যা বলব তার ধরণই কেবল আলাদা হবে যেহেতু আমি এক ভিন্ন যুগে কথা বলব। তাই আমি বারবার মানবতাকে বারবার আমার কথা বলার শৈলীতে মন দিতে বলছি, এবং আমি মানবতাকে এ-ও স্মরণ করাচ্ছি যে আমি যা বলি তাতে এমন বহু রহস্য আছে যা মানুষ উন্মোচন করতে পারে না। কিন্তু কেউ বোঝে না কেন আমি এই কথাগুলো বলি এবং শুধুমাত্র আমি এগুলো আজ তোমাদের বলছি বলেই তোমরা একটু একটু বুঝতে পারছ, তা-ও পুরোটা নয়। আমার কাজের এই পর্যায়ের পর আমি ধাপে ধাপে তোমাদের জানাব। (যেহেতু এখনও আমি কিছু লোককে এর মাধ্যমে পরিত্যাগ করতে চাই তাই আমি আপাতত কিছু বলব না)। এ হল আমার কাজের পরবর্তী ধাপের পদ্ধতি। প্রত্যেকের নজর করা উচিত ও স্পষ্টভাবে দেখা উচিত আমিই ঈশ্বর, যিনি জ্ঞানী।

পাদটীকা:

ক. মূল রচনায় “যেরকম ভাবে” কথাটি নেই।

পূর্ববর্তী: অধ্যায় ১১৬

পরবর্তী: অধ্যায় ১১৮

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।👇

সম্পর্কিত তথ্য

শুধুমাত্র অন্তিম সময়ের খ্রীষ্ট মানুষকে অনন্ত জীবনের পথ দেখাতে পারেন

জীবনের গতিপথ কারও নিয়ন্ত্রণে থাকে না, বা এটি সহজে অর্জন করতে পারার মতো বিষয়ও নয়। কারণ জীবন কেবল ঈশ্বর প্রদত্ত, অর্থাৎ, শুধুমাত্র ঈশ্বর...

পরিশিষ্ট ২ ঈশ্বর সমগ্র মানবজাতির ভাগ্য নির্ধারক

মানব প্রজাতির সদস্য এবং ধর্মপ্রাণ খ্রীষ্টান হিসাবে আমাদের সকলের দায়িত্ব এবং কর্তব্য হলো নিজেদের দেহ ও মনকে ঈশ্বরের অর্পিত দায়িত্বে নিযুক্ত...

রাজ্যের যুগই হল বাক্যের যুগ

রাজ্যের যুগে, যে পদ্ধতিতে তিনি কাজ করেন তা পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে, এবং সমগ্র যুগের কাজ সম্পাদন করার জন্য, ঈশ্বর নতুন যুগের সূচনা করতে বাক্যের...

ঈশ্বরের সঙ্গে সহজ সম্পর্ক স্থাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

যে পথে মানুষ ঈশ্বরকে বিশ্বাস করে, ভালোবাসে এবং ঈশ্বরের আস্থাভাজন হয়ে ওঠে, সেই পথটি হল নিজের হৃদয়ে ঈশ্বরের পরম শক্তিকে স্থান দিয়ে তাঁর...

সেটিংস

  • লেখা
  • থিমগুলি

ঘন রং

থিমগুলি

ফন্টগুলি

ফন্ট সাইজ

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

পৃষ্ঠার প্রস্থ

বিষয়বস্তু

অনুসন্ধান করুন

  • এই লেখাটি অনুসন্ধান করুন
  • এই বইটি অনুসন্ধান করুন

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন