পথ … (৬)

ঈশ্বরের কাজের জন্যই আমাদের বর্তমান সময়ে আনা হয়েছে, এবং এইভাবে আমরাই হলাম ঈশ্বরের পরিচালনামূলক পরিকল্পনার মধ্যে টিকে যাওয়া লোকজন। আমরা যে আজ টিকে আছি, তা ঈশ্বরের অসীম ঔদার্য, কারণ, ঈশ্বরের পরিকল্পনা অনুযায়ী অতিকায় লাল ড্রাগনের দেশ ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু, আমার ধারণা, হয়তো তিনি অন্য কোনো পরিকল্পনা করেছেন, বা তিনি তাঁর কাজের অন্য কোনো অংশ সম্পন্ন করতে চান, সেজন্যই আজও আমি এটা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে পারিনা—এটা আমার কাছে একটা অমীমাংসিত হেঁয়ালির মতো মনে হয়। কিন্তু, মোটের উপর, আমাদের এই গোষ্ঠী ঈশ্বরের দ্বারা পূর্বনির্ধারিত, এবং আমি বিশ্বাস করি, আমাদের জন্য ঈশ্বরের অন্য কাজ রয়েছে। আমরা যেন স্বর্গের প্রতি এইভাবেই মিনতি করি: “আপনার ইচ্ছাপূরণ হোক, এবং আপনি আমাদের কাছে আরও একবার আবির্ভূত হয়ে একবার আমাদের দেখা দিন, যাতে আমরা আপনার মহিমা ও মুখচ্ছবি আরও স্পষ্টভাবে প্রত্যক্ষ করতে পারি।” আমার প্রতিমুহূর্তে মনে হয়, ঈশ্বর আমাদের যে পথের হদিশ দেন, সেই পথ সহজ নয়, তা গর্তে ভরা ঘুরপথ; অধিকন্তু, ঈশ্বর বলেন, পথ যত প্রস্তরাকীর্ণ হবে, ততই তা আমাদের অন্তরের প্রেমের প্রকাশ ঘটাবে। তবুও আমরা কেউই এমন পথ উন্মোচন করতে পারিনা। আমার অভিজ্ঞতায়, আমি বহু পাথুরে, বিপজ্জনক পথে হেঁটেছি, এবং প্রবল যন্ত্রণা সহ্য করেছি; কোনও কোনও সময়, আমি এতটাই শোকাতুর হয়ে পড়েছিলাম, যে, আমার ইচ্ছা করত চিৎকার করে উঠি, কিন্তু আমি এই পথেই আজ অবধি হেঁটে চলেছি। আমি বিশ্বাস করি, এই পথ ঈশ্বরের নির্দেশিত পথ, তাই, আমি সমস্ত কষ্ট ও যন্ত্রণা সহন করে চলেছি। কারণ, ঈশ্বরের এমনটাই নির্দেশ, কে তা থেকে বাঁচতে পারে? আমি কোনো আশীর্বাদ পেতে চাই না; আমি শুধু চাই যে, ঈশ্বরের ইচ্ছানুসারে যে পথে আমার হাঁটা উচিত, যেন আমি সেই পথে হাঁটতে সক্ষম হই। আমি অন্যদের অনুকরণ করতে চাই না, তাদের পথে হাঁটতেও চাই না; আমি কেবল চাই যে, আমার জন্য নির্ধারিত পথে আমি যেন সম্পূর্ণ নিবেদিত হয়ে শেষ অবধি যেন চলতে পারি। আমি যেমন অন্য কারোর সাহায্য চাইনা; সত্যি বলতে, তেমনই আমি অন্য কাউকে সাহায্য করতেও পারব না। মনে হয় যেন, আমি এই বিষয়ে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। আমি জানিনা, বাকিরা কী ভাবে। কারণ, আমি সবসময় বিশ্বাস করি যে, কোনও ব্যক্তিকে আবশ্যিকভাবে যে পরিমাণ কষ্ট সহ্য করতে হয় বা যতটা পথ পেরোতে হয়, তা ঈশ্বরের নির্দেশেই হয়, এবং কেউই কাউকে প্রকৃতপক্ষে সাহায্য করতে পারে না। আমাদের মধ্যে কোনো কোনো ঈর্ষাকাতর ভাইবোন হয়তো বলবে, আমার মধ্যে ভালোবাসার ছিটেফোঁটা নেই, কিন্তু আমি এমনটাই বিশ্বাস করি। মানুষ ঈশ্বরের নির্দেশে ভরসা করে সেই পথে চলে, এবং আমি বিশ্বাস করি যে, আমার ভাইবোনেদের বেশিরভাগই আমার অন্তরের কথা বুঝবে। আমি এ-ও আশা করি যে, ঈশ্বর আমাদের এই বিষয়ে আরও বেশি আলোকিত করবেন, যাতে আমাদের ভালোবাসা শুদ্ধ হয়, এবং যাতে আমাদের বন্ধুত্ব আরও বেশি মূল্যবান হয়। আমরা যেন এই বিষয়ে বিভ্রান্ত না হই, বরং আরও স্বচ্ছ ধারণা লাভ করি, যাতে আমাদের পারস্পরিক ব্যক্তিসম্পর্ক ঈশ্বরের নেতৃত্বের উপরে ভিত্তি করে গড়ে ওঠে।

ঈশ্বর চীনের মূল ভূখণ্ডে বহুবছর ধরে তাঁর কাজ করছেন, এবং তিনি সমস্ত মানুষের জন্য অনেক মূল্য পরিশোধ করেছেন, যাতে অবশেষে আমরা আমাদের আজকের অবস্থানে এসে পৌঁছাতে পারি। আমার মনে হয়, প্রত্যেককে সঠিক পথের নির্দেশ দিতে, এই কাজটি সেই স্থান থেকে শুরু করা উচিত, যেখানে প্রত্যেকেই দুর্বলতম অবস্থায় রয়েছে; একমাত্র সেক্ষেত্রেই তারা প্রাথমিক বিঘ্ন অতিক্রম করতে পারবে, এবং তারপর আরও এগিয়ে যেতে পারবে। তা-ই শ্রেয় নয় কি? বহু সহস্র বছর ধরে ভ্রষ্ট হয়ে থাকা চীনা জাতি, আজ পর্যন্ত টিকে আছে, প্রত্যেক প্রকার “ভাইরাস” অবিরাম অগ্রসর হচ্ছে, মহামারীর আকারে চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ছে; মানুষের মধ্যে যে কত “জীবাণু” লুকিয়ে আছে, তা দেখার জন্য শুধু মানুষের সম্পর্কের দিকে তাকানোই যথেষ্ট। এতখানি অবরুদ্ধ এবং জীবাণুসংক্রামিত এলাকায় ঈশ্বরের পক্ষে কাজ করা খুব কঠিন। মানুষের ব্যক্তিত্ব, স্বভাব, কাজের পদ্ধতি, জীবনে তারা যা যা প্রকাশ করে, এবং তাদের পারস্পরিক ব্যক্তিসম্পর্ক—সেই সবই বিপর্যস্ত, তার মাত্রা এমনই যে মানুষের জ্ঞান ও সংস্কৃতি সবই ঈশ্বরের দ্বারা মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত। এছাড়াও পরিবার ও সমাজ থেকে তাদের যে নানান অভিজ্ঞতা হয়েছে—তা সকলই ঈশ্বরের চোখে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। কারণ, যারা এই স্থানে বাস করে, তারা বিপুল পরিমাণে জীবাণু গ্রাস করেছে। এটা তাদের কাছে অত্যন্ত স্বাভাবিক, তারা এই নিয়ে কিছু ভাবে না। সেকারণেই, একটা জায়গায় যত বেশি ভ্রষ্ট মানুষ থাকে, ততই তাদের পারস্পরিক ব্যক্তিসম্পর্ক অস্বাভাবিক হয়ে পড়ে। তাদের সম্পর্ক ষড়যন্ত্রে পরিপূর্ণ, তারা একে অপরের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে, এবং তারা এমনভাবে একে অপরের উপর হত্যালীলা চালায়, যেন নরখাদক অপদেবতাদের এ এক গড়শহর। এহেন ভীতিপ্রদ স্থান, যেখানে অপদেবতাদের নিয়মিত যাতায়াত, সেখানে ঈশ্বরের কাজ নির্বাহ করা খুবই কঠিন। মানুষের সঙ্গে সাক্ষাত করতে হলে, আমি ঈশ্বরের কাছে অবিরাম প্রার্থনা করে যাই, কারণ আমি মানুষের সঙ্গে দেখা করতে খুব ভয় পাই, এবং আতঙ্কিত বোধ করি এই ভেবে যে আমি আমার স্বভাবের জন্য তাদের “সম্মানহানি” না ঘটিয়ে ফেলি। আমার অন্তরে, আমি সবসময় এই অশুচি আত্মার বেলাগামভাবে কাজ করাকে ভয় পাই, আর সে কারণেই ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি যাতে তিনি আমায় রক্ষা করেন। অস্বাভাবিক সম্পর্কের প্রতিটি ধরনই আমাদের মধ্যে স্পষ্ট, এবং এইসব দেখে আমার অন্তরে ঘৃণার উদ্রেক হয়, কারণ, মানুষ সারাক্ষণ নিজেদের মধ্যে “বেসাতি” করে চলেছে, এবং তারা কখনোই ঈশ্বরের সম্পর্কে কোনোরকম ভাবনাচিন্তা করেনা। আমি তাদের এই আচরণকে মজ্জাগতভাবে ঘৃণা করি। চীনের মূল ভূখণ্ডের মানুষের মধ্যে, ভ্রষ্ট শয়তানোচিত স্বভাব ছাড়া আর কিছুই দেখা যায় না, তাই এইসব মানুষের উপর ঈশ্বরের কাজের ক্ষেত্রে, তাদের মধ্যে সার্থক কিছু খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব; সমস্ত কাজ পবিত্র আত্মার দ্বারা সম্পন্ন হয়, এবং কেবল পবিত্র আত্মাই মানুষকে আরও বেশি করে চালনা করেন, এবং তাদের মধ্যে কাজ করেন। এইসব মানুষকে কাজে লাগানো প্রায় অসম্ভব; অর্থাৎ, মানুষের সহযোগিতায় পবিত্র আত্মার দ্বারা মানুষকে চালনা করার কাজটি করা যাবে না। পবিত্র আত্মা মানুষকে চালনা করার জন্য প্রভূত পরিশ্রম করেন, তবু মানুষ অসাড় ও অজ্ঞান রয়ে যায়, এবং ঈশ্বর কী করছেন সে বিষয়ে তাদের কোনো ধারণা থাকে না। তাই, চীনের মূল ভূখণ্ডে ঈশ্বরের কাজ তাঁর স্বর্গ ও মর্ত্য সৃষ্টির কাজের সমতুল্য। তিনি প্রত্যেক মানুষের পুনর্জন্ম ঘটান, তাদের মধ্যেকার সমস্তকিছু বদলে দেন, কারণ, তাদের মধ্যে কোনো সার্থক কোনোকিছুই নেই। এ ভীষণ হৃদয়বিদারক। আমি প্রায়শই এদের জন্য দুঃখিত হয়ে প্রার্থনা করি: “ঈশ্বর, আপনার অসীম শক্তি এদের মাঝে প্রকাশিত হোক, যাতে আপনার আত্মা এদের ভীষণভাবে চালিত করতে পারে, এবং যাতে এই অসাড় নির্বোধ ভুক্তভোগীরা জেগে ওঠে, তারা আর অলস নিদ্রায় ডুবে না থাকে, এবং আপনার মহিমার দিন দেখতে পারে।” আমরা সকলে যেন ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতে পারি এবং বলতে পারি; হে ঈশ্বর! আপনার করুণা এবং যত্ন আমাদের উপরে আরও একবার বর্ষিত হোক, যাতে আমাদের হৃদয় সম্পূর্ণভাবে আপনার দিকে চালিত হয়, এবং যাতে আমরা এই অশুচি স্থান থেকে নিষ্কৃতি পেতে পারি, এবং দৃঢ়ভাবে আপনার অর্পিত কাজ সম্পন্ন করতে পারি। আমি আশা করি যে, ঈশ্বর আবারও আমাদের চালিত করবেন যাতে আমরা তাঁর আলোকপ্রাপ্তি লাভ করতে পারি, এবং আমি আশা করি যে, তিনি আমাদের উপরে করুণা করবেন, যাতে আমাদের হৃদয় ধীরে ধীরে তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং তিনি আমাদের অর্জন করতে পারেন। এটাই আমাদের সকলেরই ইচ্ছা।

আমরা যে পথে চলি তা সম্পূর্ণভাবে ঈশ্বরের নির্দেশিত। সংক্ষেপে, আমার বিশ্বাস, আমি নিশ্চিতভাবেই এই পথে শেষ অবধি চলব, কারণ ঈশ্বর সর্বদা আমার প্রতি তুষ্ট, যেন তাঁর আশীর্বাদ সবসময়ই আমার সঙ্গে রয়েছে। এভাবেই আমার হৃদয় অন্য কিছু দ্বারা বিকৃত হতে পারেনা, এবং তাই আমি ঈশ্বরের কাজের প্রতি সদা মনোযোগী হয়ে থাকি। আমি আমার সমস্ত শক্তি এবং নিষ্ঠা দিয়ে ঈশ্বরের অর্পিত সমস্ত কাজ সম্পন্ন করি, এবং যা আমার জন্য বরাদ্দ নয় সেই কাজের বিষয়ে আমি কখনো হস্তক্ষেপ করি না, বা কে তা করবে সেই বিষয়েও নিজেকে জড়িত করি না—কারণ, আমি বিশ্বাস করি যে, প্রত্যেক ব্যক্তির তার নিজস্ব পথে চলা উচিত, অন্যের বিষয়ে অনধিকার প্রবেশ করা উচিত নয়। আমি এভাবেই বিষয়টাকে দেখি। সম্ভবত এটা আমার নিজস্ব ব্যক্তিত্বের ফসল, কিন্তু আমি আশা করি যে, আমার ভাই ও বোনেরা আমায় বুঝবে এবং ক্ষমা করবে, কারণ আমি কখনো আমার পিতার ফরমানের বিরুদ্ধে যাওয়ার সাহস করিনি। আমি স্বর্গের ইচ্ছাকে অস্বীকার করার সাহস করিনি। তুমি কি ভুলে গেছো যে, “স্বর্গের ইচ্ছা কখনো অস্বীকার করা যায় না”? কেউ কেউ আমায় আত্মকেন্দ্রিক ভাবতে পারেন, কিন্তু আমি বিশ্বাস করি যে, আমি ঈশ্বরের পরিচালনামূলক কাজের একটি নির্দিষ্ট অংশ সম্পন্ন করতেই পৃথিবীতে এসেছি। আমি পারস্পরিক ব্যক্তিসম্পর্কে লিপ্ত হতে আসিনি; আমি কখনো শিখব না যে অন্যদের সঙ্গে কীভাবে ভালো ব্যবহার করতে হয়। তবে, ঈশ্বরের অর্পিত দায়িত্বের ক্ষেত্রে, আমার কাছে ঈশ্বরের নির্দেশিকা রয়েছে, এবং এই কাজটি অনুধাবন করার বিশ্বাস ও ধৈর্য আমার আছে। হতে পারে, আমি খুব বেশি “আত্মকেন্দ্রিক” হয়ে পড়ছি, কিন্তু, আমি আশা করি, প্রত্যেকেই ঈশ্বরের ন্যায় ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসা অনুভব করার চেষ্টা করবে, এবং ঈশ্বরের সঙ্গে সহযোগিতায় প্রয়াসী হবে। ঈশ্বরের মহিমার দ্বিতীয় আবির্ভাবের জন্য অপেক্ষা কোরো না; তা কারোর পক্ষেই মঙ্গলজনক নয়। আমি সবসময় ভাবি যে, এই বিষয়েই আমাদের বিবেচনা করা উচিত: “আমাদের অবশ্যই ঈশ্বরের সন্তুষ্ট করার জন্য আমাদের পক্ষে যা যা করা সম্ভব তা সবই করতে হবে। আমাদের প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই, ঈশ্বরের অর্পিত দায়িত্বটি ভিন্নতর; কীভাবে আমরা তা সম্পন্ন করব?” তোমার চলার পথটি উপলব্ধি করতে হবে তোমায়—এই বিষয়টা নিয়ে স্পষ্ট ধারণা থাকা তোমার জন্য অপরিহার্য। তোমরা সবাই ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করতে চাও, তাহলে তোমরা নিজেদের ঈশ্বরের কাছে অর্পণ করো না কেন? প্রথমবার যখন আমি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছিলাম, আমি নিজের সম্পূর্ণ হৃদয় তাঁকে সমর্পণ করেছিলাম। আমার নেওয়া সঙ্কল্পের কারণে, আমার চারপাশের মানুষজন—আমার পিতামাতা, বোন, ভাই, এবং সহকর্মী সকলেই আমার মনের থেকে অনেক দূরে সরে গিয়েছিল, যেন তাদের অস্তিত্বই মুছে গিয়েছিল। আমার মন ঈশ্বরের প্রতি, ঈশ্বরের বাক্যের প্রতি, অথবা ঈশ্বরের প্রজ্ঞার প্রতি নিবদ্ধ ছিল; এই বিষয়গুলি আমার হৃদয়ে অত্যন্ত মূল্যবান হিসাবে জায়গা করে নিয়েছিল। সেজন্যই, যেসব মানুষেরা জীবনযাপনের জন্য দর্শনে কানায় কানায় পূর্ণ, তাদের কাছে আমি একজন শীতল হৃদয়ের আবেগশূন্য মানুষই বটে। তারা আমার আচরণে, কাজের পদ্ধতিতে, আমার প্রতিটি চালচলনে ব্যথিত হয়। তারা আমার দিকে বিস্ময়সূচক দৃষ্টিনিক্ষেপ করে, যেন আমি এক দুর্বোধ্য ধাঁধা। তাদের ধারণা, তারা আমায় গোপনে মেপে নিচ্ছে, জানতেও পারছে না এরপরে আমি কী করতে চলেছি। তারা কীভাবে আমার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে? তারা ঈর্ষান্বিত বা বিরক্ত হোক, বা উপহাস করুক, তা নির্বিশেষে, আমি যেন প্রবল ক্ষুধা-তৃষ্ণা নিয়ে ঈশ্বরের সম্মুখে অবিরাম প্রার্থনা করি, ঠিক যেন কেবল তিনি এবং আমিই এই একই দুনিয়ায় রয়েছি, এবং আমরা ব্যতীত আর কেউ কোথাও নেই। বহির্বিশ্বের শক্তিগুলি আমার চারপাশে নিয়ত ভিড় করে—কিন্তু সেই একইসাথে, ঈশ্বরের দ্বারা চালিত হবার অনুভূতিও আমার ভিতর উত্থিত হয়। এই দোটানার মধ্যে পড়ে আমি ঈশ্বরের সামনে নতজানু হয়ে বলেছিলাম; “হে ঈশ্বর! আমি কীভাবে আপনার ইচ্ছার প্রতি নিষ্ক্রিয় হতে পারি? আপনার চোখে আমি খাঁটি সোনার মতোই সম্মানীয়, তবুও আমি অন্ধকারের শক্তি থেকে নিষ্কৃতিলাভে অক্ষম। আমি আজীবন আপনার জন্য কষ্ট সহ্য করব, আমি আপনার কাজকেই আমার জীবনের বৃত্তি হিসাবে গ্রহণ করব, এবং আমি আপনার কাছে ভিক্ষা চাইব আমার নিজের জন্য একটি উপযুক্ত বিশ্রামস্থানের, যেখানে আমি নিজেকে আপনার কাছে নিবেদন করতে পারি। হে ঈশ্বর! আমি নিজেকে আপনার কাছে উৎসর্গ করতে চাই। আপনি মানুষের দুর্বলতা খুব ভালো করে জানেন, তাহলে আপনি কেন নিজেকে আমার থেকে গোপন রাখেন?” ঠিক তখনই, মনে হল যেন আমি পার্বত্য লিলিফুল, যার সুবাসে বাতাসে আলোড়িত, এবং যে সবার কাছে অজানা। স্বর্গে ক্রন্দন শোনা গিয়েছিল, আমার হৃদয়েও তাই; মনে হচ্ছিল যেন আমার হৃদয়ে আরও গভীর এক ব্যথা বেজে উঠেছে। মানুষের সমস্ত শক্তি ও অবরোধ ছিল বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো। কে আমার অন্তরের কথা বুঝবে? তাই আমি আরও একবার ঈশ্বরের কাছে এসে বলেছিলাম; “হে ঈশ্বর! এই অপবিত্র স্থানে আপনার কাজ সম্পন্ন করার কি আর কোনও উপায় নেই? কেন অন্যেরা আপনার হৃদয়কে একটি আরামদায়ক, সহায়ক, পীড়নমুক্ত পরিবেশ হিসাবে মনে করতে পারে না? আমি আমার ডানা মেলতে চাই, কিন্তু উড়ে যাওয়া এত কঠিন কেন? আপনি কি অনুমোদন করেননি?” দিনের পর দিন, আমি এই নিয়ে কান্নাকাটি করেছি, যদিও আমি সবসময় বিশ্বাস করেছি যে, ঈশ্বর আমার শোকাকুল হৃদয়ে স্বস্তি নিয়ে আসবেন। কেউ আমার দুশ্চিন্তা কখনো বুঝতে পারেনি। হয়তো এটি ঈশ্বরের থেকে আসা প্রত্যক্ষ উপলব্ধি—আমার মধ্যে সবসময় তাঁর কাজ সম্পন্ন করার জন্য আগুন প্রজ্বলিত ছিল, এবং কাজের ফাঁকে আমি নিঃশ্বাস নেওয়ারও অবসর পেতাম না। আজকের দিন অবধি, আমি এখনও প্রার্থনা করি এবং বলি, “হে ঈশ্বর! এমনই যদি আপনার ইচ্ছা হয়, তবে আপনি যেন আমায় আপনার মহত্তর কার্যসাধনের পথে নেতৃত্ব দেন, যাতে তা সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে তা প্রসারিত হয়, যাতে তা প্রত্যেক জাতি ও সম্প্রদায়ের মধ্যে উন্মোচিত হয়, যাতে আমার হৃদয়ে কিছুটা প্রশান্তি আসে, এবং আমি আপনার জন্য একটি শান্তিপূর্ণ স্থানে বাস করতে পারি, যাতে আমি কোনোরকম হস্তক্ষেপ ছাড়াই আপনার কাজ করতে পারি, আর আজীবন শান্তিতে আপনার সেবা করতে পারি।” এ-ই হল আমার হৃদয়ের বাসনা। হয়তো ভাইবোনেরা বলবে, আমি উদ্ধত ও আত্মাভিমানী; আমিও তা স্বীকার করছি, কারণ এমনটা সত্যি—তরুণদের ঔদ্ধত্য না থাকলে কিছুই থাকে না। এইভাবেই, সত্যের অপলাপ না করে আমি সত্যিটা বলি। আমার মধ্যে তুমি হয়তো তরুণদের ব্যক্তিত্বের সমস্ত বৈশিষ্ট্যই দেখতে পাবে, কিন্তু আমি কোথায় বাকি তরুণ ব্যক্তিদের চেয়ে আলাদা, তা-ও তোমায় লক্ষ্য করতে হবে: আমার স্থিতধী ও নীরব আচরণে। আমি এই নিয়ে আর বিস্তৃত আলোচনা করতে চাই না; আমি জানি যে ঈশ্বর আমায় আমার নিজের থেকে অনেক ভালো করে চেনেন। এগুলিই আমার হৃদয়ের কথা, এবং আমি আশা করি যে ভাইবোনেরা অসন্তুষ্ট হবে না। আমাদের জীবনকে সুন্দরতর করে তোলার জন্য আমরা যেন প্রত্যেকে আমাদের হৃদয়ের কথা বলতে পারি, আমরা প্রত্যেকে কী অনুসরণ করি তা দেখতে পারি, আমাদের ঈশ্বরের প্রতি প্রেমপূর্ণ হৃদয়ের তুলনা করতে পারি, ঈশ্বরের কাছে মৃদুকণ্ঠে গুঞ্জরিত কথাগুলি শুনতে পারি, আমাদের অন্তরের সুন্দরতম গানগুলি গাইতে পারি, এবং আমাদের হৃদয়ের গরিমাকে স্বর দিতে পারি। অতীত ভুলে ভবিষ্যতের দিকে তাকাও। ঈশ্বর আমাদের জন্য পথ অবারিত করবেন!

পূর্ববর্তী: পথ … (৫)

পরবর্তী: পথ … (৭)

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।👇

সম্পর্কিত তথ্য

পরিশিষ্ট ১ ঈশ্বরের আবির্ভাব এক নতুন যুগের সূচনা করেছে

ঈশ্বরের ছয় হাজার বছরের পরিচালনামূলক পরিকল্পনা শেষ হতে চলেছে, এবং যারা তাঁর আবির্ভাবের পথ চেয়ে আছে তাদের সকলের জন্য স্বর্গের দ্বার ইতিমধ্যেই...

শুধুমাত্র অন্তিম সময়ের খ্রীষ্ট মানুষকে অনন্ত জীবনের পথ দেখাতে পারেন

জীবনের গতিপথ কারও নিয়ন্ত্রণে থাকে না, বা এটি সহজে অর্জন করতে পারার মতো বিষয়ও নয়। কারণ জীবন কেবল ঈশ্বর প্রদত্ত, অর্থাৎ, শুধুমাত্র ঈশ্বর...

সর্বশক্তিমানের দীর্ঘশ্বাস

তোমার হৃদয়ে এক বিশাল গোপন বিষয় আছে যার ব্যাপারে তুমি কখনও সচেতন ছিলে না, কারণ তুমি বেঁচে আছ আলোকহীন এক জগতে। তোমার হৃদয় আর তোমার আত্মাকে...

সেটিংস

  • লেখা
  • থিমগুলি

ঘন রং

থিমগুলি

ফন্টগুলি

ফন্ট সাইজ

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

পৃষ্ঠার প্রস্থ

বিষয়বস্তু

অনুসন্ধান করুন

  • এই লেখাটি অনুসন্ধান করুন
  • এই বইটি অনুসন্ধান করুন

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন