পথ … (৩)

আমার জীবনে, আমি ঈশ্বরের কাছে নিজের শরীর এবং মন সম্পূর্ণরূপে সমর্পণ করে সর্বদা আনন্দিত থাকি। একমাত্র তাতেই, আমার বিবেক গ্লানিমুক্ত এবং কিছুটা শান্তিতে থাকে। যারা জীবনের অন্বেষণ করে, তাদেরকে প্রথমেই নিজেদের সম্পূর্ণ হৃদয় ঈশ্বরকে দিতে হবে: এটি একটি পূর্বশর্ত। আমি চাইব আমার ভাই ও বোনেরা আমার সঙ্গে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করুক: “হে ঈশ্বর, আপনার স্বর্গস্থ আত্মা যেন পৃথিবীতে মানুষের প্রতি অনুগ্রহ বর্ষণ করেন, যাতে আমার হৃদয় সম্পূর্ণরূপে আপনার দিকে ফিরতে পারে, যাতে আমার আত্মা আপনার দ্বারা চালিত হয়, যাতে আমি আপনার মাধুর্যকে আমার হৃদয় এবং আত্মার মধ্যে প্রত্যক্ষ করতে পারি, এবং যাতে পৃথিবীর মানুষেরা আপনার সৌন্দর্য দেখে ধন্য হতে পারে। ঈশ্বর! আপনার আত্মা আরও একবার আমাদের আত্মাকে চালিত করুন, যাতে আমাদের ভালোবাসা চিরস্থায়ী এবং অপরিবর্তনীয় হয়!” আমাদের সকলের ক্ষেত্রেই, ঈশ্বর প্রথমে আমাদের হৃদয়ের পরীক্ষা নেন—একবার যখন আমরা তাঁর প্রতি আমাদের হৃদয় নিবেদন করে দিই, তখন তিনি আমাদের আত্মাকে চালিত করতে শুরু করেন। শুধুমাত্র আমাদের আত্মার মধ্যেই আমরা ঈশ্বরের মাধুর্য, শ্রেষ্ঠত্ব এবং মহত্ত্ব প্রত্যক্ষ করতে পারি। এটি-ই হল মানুষের মধ্যে পবিত্র আত্মার পথ। তুমি কি এমন জীবনের অধিকারী? তুমি কি পবিত্র আত্মার জীবন-অভিজ্ঞতা করেছ? তোমার আত্মা কি ঈশ্বরের দ্বারা চালিত হয়েছে? তুমি কি দেখেছ কীভাবে পবিত্র আত্মা মানুষের মধ্যে কাজ করেন? তুমি কি তোমার সম্পূর্ণ হৃদয় ঈশ্বরের কাছে নিবেদন করেছ? যখন তুমি তোমার সম্পূর্ণ হৃদয় ঈশ্বরের কাছে নিবেদন করবে, তখন তুমি পবিত্র আত্মার জীবন সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা লাভ করতে সক্ষম হবে এবং তাঁর কাজ তোমার কাছে প্রতিনিয়ত প্রতিভাত হবে। সেই সময় তুমি এমন এক ব্যক্তিতে পরিণত হবে, যে পবিত্র আত্মার দ্বারা ব্যবহৃত। তুমি কি তেমন মানুষে পরিণত হতে চাও? আমার মনে পড়ে, আমি যখন প্রথমবার পবিত্র আত্মার দ্বারা চালিত হয়েছিলাম এবং আমার সম্পূর্ণ হৃদয় প্রথমবারের জন্য ঈশ্বরকে নিবেদন করেছিলাম, সেদিন আমি কীভাবে তাঁর সম্মুখে নত হয়ে সোচ্চার প্রার্থনা করেছিলাম: “হে ঈশ্বর, আপনি আমার চোখ খুলে দিয়েছেন এবং আপনার পরিত্রাণ অনুধাবন করতে অনুমতি দিয়েছেন। আমি আপনাকে আমার হৃদয় সম্পূর্ণভাবে সমর্পণ করতে চাই, এবং আমি শুধু চাই যে আমার হৃদয় আপনার উপস্থিতিতে আপনার অনুমোদন লাভ করুক এবং আমি শুধু আপনার ইচ্ছা পালন করতে চাই।” আমি কখনো সেই প্রার্থনা ভুলব না; আমি গভীরভাবে উদ্বেলিত হয়েছিলাম এবং, ঈশ্বরের সামনে বেদনার্ত কান্নায় ভেঙে পড়েছিলাম। সেটি ছিল ঈশ্বরের উপস্থিতিতে একজন উদ্ধারপ্রাপ্ত মানুষ হিসাবে আমার প্রথম সফল প্রার্থনা, এবং এটিই ছিল আমার হৃদয়ের প্রথম বাসনা। তারপর, আমি প্রায়শই পবিত্র আত্মার দ্বারা চালিত হতাম। তোমার কি কখনো এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে? তোমার মধ্যে পবিত্র আত্মা কীভাবে কাজ করেছে? আমি মনে করি যে, যারা ঈশ্বরের ভালোবাসা পেতে চায়, তাদের সকলকেই কমবেশি এই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়েছে—শুধু তারা সেটা ভুলে যায়। যদি কেউ বলে যে তার এমন কোনো অভিজ্ঞতা হয় নি, তাহলে প্রমাণ হয় যে তারা এখনো উদ্ধার পায় নি, এবং তারা শয়তানের আধিপত্যের অধীনে আছে। পবিত্র আত্মার কাজের যে বিষয়টি আমাদের সকলের ক্ষেত্রে সমান, সেটি হল তাঁর চলার পথ, এবং এটি তাদেরও পথ, যারা ঈশ্বরকে বিশ্বাস করে এবং সন্ধান করে। পবিত্র আত্মা মানুষের মধ্যে প্রথম যে কাজটি সম্পন্ন করেন, তা হল তাদের আত্মাকে চালনা করা, যার পরে তারা ঈশ্বরকে ভালোবাসতে শুরু করে, এবং জীবন অন্বেষণ করতে শুরু করে, এবং যারা এই পথে হাঁটছে তারা সকলেই পবিত্র আত্মার স্রোতের মধ্যে চলেছে। এটা শুধুমাত্র মূল চীনা ভূখণ্ডেই ঈশ্বরের কাজের গতিবিধি নয়, সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের গতিবিধি। এভাবেই তিনি প্রত্যেক মানুষের মধ্যে কাজ করেন। যদি কেউ এমন থাকে, যে কখনো পবিত্র আত্মার দ্বারা চালিত হয় নি, তাহলে প্রমাণিত হয় যে, তারা পুনরুদ্ধারের স্রোতের বাইরে আছে। আমার হৃদয়ে আমি ঈশ্বরের কাছে অবিরাম প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন সমস্ত মানুষকে চালিত করেন, যাতে প্রত্যেকে তাঁর দ্বারা চালিত হতে পারে, এবং এই পথে হাঁটতে পারে। হতে পারে এটা আমার পক্ষ থেকে ঈশ্বরের প্রতি একটি তাৎপর্যহীন অনুরোধ, কিন্তু আমি বিশ্বাস করি যে তিনি এটি করবেন। আমি আশা করি যে, আমার সকল ভাইবোনেরা এর জন্য প্রার্থনা করবেন, যাতে ঈশ্বরের ইচ্ছা পূর্ণ হতে পারে, এবং তাঁর কাজ শীঘ্র সমাপ্ত হতে পারে, এবং যাতে তাঁর স্বর্গস্থ আত্মা বিশ্রাম নিতে পারেন। এটা আমার ব্যক্তিগত ক্ষুদ্র আশা।

আমি বিশ্বাস করি যেহেতু ঈশ্বর দৈত্যদের দুর্গে তাঁর কাজ শুরু করতে সক্ষম হয়েছেন, তিনি নিশ্চিতভাবেই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড জুড়ে অগণিত মানুষের মধ্যে তা করতে পারবেন। আমরা যারা অন্তিম সময়ের মানুষ, তারা নিশ্চিতভাবেই ঈশ্বরের মহিমার দিনটিকে প্রত্যক্ষ করব, ঠিক যেমন বলা হয়, “যে শেষ পর্যন্ত অনুসরণ করবে, সে উদ্ধার পাবে।” কেউই ঈশ্বরকে তাঁর কাজের এই স্তরে প্রতিস্থাপিত করতে পারে না—কেবলমাত্র স্বয়ং ঈশ্বরই কাজটি করতে পারেন, কারণ কাজের এই পর্যায়টি অসাধারণ, এটি বিজয়কার্যের একটি স্তর এবং একজন মানুষ কখনোই অন্য একজন মানুষকে জয় করতে পারে না। কেবলমাত্র ঈশ্বরের নিজের মুখনিঃসৃত বাক্য এবং নিজের হাতে সঞ্চালিত কাজ দ্বারাই মানুষ বিজিত হয়। এই সমগ্র মহাবিশ্বের মধ্যে ঈশ্বর অতিকায় লাল ড্রাগনের দেশকেই তাঁর পরীক্ষার স্থল হিসাবে ব্যবহার করেন, যার পরে তিনি সমস্ত মহাবিশ্ব জুড়ে তাঁর এই কাজে প্রবৃত্ত হবেন। এইভাবে, তিনি মহাবিশ্ব জুড়ে মহত্তর কাজ করবেন এবং মানুষ ঈশ্বরের বিজয়কার্য লাভ করবে। সমস্ত ধর্ম এবং সম্প্রদায়ের মানুষকে এই পর্যায়ের কাজ অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে। এই পথ অবশ্যপালনীয়—কেউ-ই এর থেকে পালাতে পারে না। ঈশ্বরের দ্বারা তোমার প্রতি যা অর্পিত হয়েছে তা কি তুমি গ্রহণ করতে ইচ্ছুক? আমি সবসময় উপলব্ধি করেছি যে, পবিত্র আত্মার অর্পিত দায়িত্ব গ্রহণ করা অত্যন্ত মহৎ। আমি এটাকে যেভাবে দেখি যে, তা হল মানবজাতির প্রতি অর্পিত ঈশ্বরের মহত্তম দায়িত্ব। আমি আশা করি যে, আমার ভাই ও বোনেরাও আমার পাশাপাশি পরিশ্রম করবে এবং এই ঈশ্বরের অর্পিত এই দায়িত্ব গ্রহণ করবে, যাতে ঈশ্বর সমস্ত মহাবিশ্ব তথা ঊর্ধ্বতন রাজত্ব জুড়ে তাঁর মহিমা অর্জন করতে পারেন, এবং আমাদের জীবন বৃথা না যায়। আমাদের ঈশ্বরের জন্য কিছু করা উচিত, অথবা আমাদের শপথ নেওয়া উচিত। ঈশ্বরকে বিশ্বাস করার সময়ে মানুষ যদি কোনো লক্ষ্য পূরণ করতে না পারে, তাহলে তাদের জীবনের কোনো অর্থ থাকে না, এবং যখন তাদের মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয় তারা কেবল নীলাকাশ এবং ধূলিধূসর পৃথিবী দেখতে পাবে। সেটা কি কোনো অর্থপূর্ণ জীবন? তুমি যদি জীবদ্দশায় ঈশ্বরের সমস্ত প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে সক্ষম হও, সেটা কি একটি সুন্দর বিষয় নয়? কেন তুমি সবসময় নিজের উপরে এত সমস্যা বয়ে আনো, আর কেন সবসময় তুমি এত হতাশ? এমন আচরণ করে তুমি ঈশ্বরের কাছ থেকে কিছু লাভ করেছ কি? আর ঈশ্বরও কি এইভাবে তোমার থেকে কিছু অর্জন করতে পারেন? ঈশ্বরের কাছে আমার প্রতিজ্ঞায় কেবলমাত্র আমার হৃদয়ের শপথ ছিল; আমি তাঁকে আমার বাক্যের দ্বারা প্রতারিত করতে চাইছিলাম না। আমি কখনোই তেমন কিছু করব না—আমি কেবল সেই ঈশ্বরকে সান্ত্বনা দিতে চাই যাকে আমি আমার হৃদয় দিয়ে ভালোবাসি, যাতে তাঁর স্বর্গস্থ আত্মা সান্ত্বনা পায়। হৃদয় হয়তো গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু ভালোবাসা অধিক মূল্যবান। আমি আমাদের হৃদয়ের সবচেয়ে মূল্যবান ভালোবাসা ঈশ্বরকে প্রদান করব যাতে তিনি আমার সবচেয়ে সুন্দর বস্তুটি উপভোগ করতে পারেন, এবং তিনি যাতে তাঁর প্রতি আমার অর্পিত ভালোবাসায় পূর্ণ হতে পারেন। তুমি কি তোমার ভালোবাসা ঈশ্বরকে তাঁর উপভোগের জন্য নিবেদন করতে ইচ্ছুক? তুমি কি এটিকে তোমার অস্তিত্বের পুঁজি করতে চাও? আমার অভিজ্ঞতায় আমি দেখেছি যে, যত বেশি আমি ঈশ্বরকে ভালোবাসা দিতে পারি, তত আমি বেঁচে থাকার আনন্দ খুঁজে পাই; অধিকন্তু, আমার শক্তির কোনো সীমা থাকে না, এবং আমি সানন্দে আমার শরীর এবং মন নিবেদন করতে পারি, এবং আমার প্রতিনিয়ত এই অনুভূতি হয় যে, আমি ঈশ্বরকে যথেষ্ট পরিমাণে ভালোবাসতে পারি না। তাহলে, তোমার ভালোবাসা কি তুচ্ছ, নাকি তা অসীম, অপরিমেয়? যদি তুমি সত্যিই ঈশ্বরকে ভালোবাসতে চাও, তোমার সবসময় তাঁর ভালোবাসার প্রতিদান হিসাবে তাঁকে আরো বেশি ভালোবাসা থাকবে—এবং এটাই যদি ঘটনা হয়, তাহলে ঈশ্বরকে ভালোবাসার পথে কে তোমার বাধা হবে?

ঈশ্বর প্রতিটি মানুষের ভালোবাসা উপভোগ করেন। যারা তাঁকে ভালোবাসে তাঁদের প্রতি তাঁর আশীর্বাদ দ্বিগুণ, কারণ মানুষের ভালোবাসা পাওয়া খুব কঠিন, এবং এটি এতই কম আছে যে, তা যেন প্রায় অদৃশ্য। সমস্ত মহাবিশ্ব জুড়ে, ঈশ্বর মানুষকে তাঁর ভালোবাসার প্রতিদান দিতে তাদের বলার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু এত যুগ ধরে আজ পর্যন্ত, খুব অল্পসংখ্যক—মুষ্টিমেয়—মানুষই তাঁর ভালোবাসার পরিবর্তে তাঁকে প্রকৃতভাবে ভালোবাসতে পেরেছে। যতদূর আমার মনে পড়ে, পিতর ছিল তেমন একজন, কিন্তু সে ব্যক্তিগতভাবে যীশুর দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল, এবং একমাত্র মৃত্যুর সময়েই সে তার সম্পূর্ণ প্রেম ঈশ্বরকে দান করেছিল, এবং তারপর তার জীবন সমাপ্ত হয়। আর তাই, এই ঘৃণ্য পরিস্থিতিতে, ঈশ্বর পৃথিবীতে তাঁর কাজের পরিসর কমিয়ে এনেছিলেন, এবং তাঁর সমস্ত শক্তি এবং প্রচেষ্টাকে এক জায়গায় কেন্দ্রীভূত করে অতিকায় লাল ড্রাগনের দেশকে একটি প্রদর্শনের ক্ষেত্র হিসাবে ব্যবহার করেছিলেন, যাতে তাঁর কাজকে আরো ফলদায়ক করা যায়, এবং তা তাঁর সাক্ষ্যদানের জন্য আরো সুবিধাজনক হতে পারে। এই দুই শর্তের অধীনেই ঈশ্বর তাঁর সমগ্র মহাবিশ্বের কাজকে স্থানান্তরিত করেছিলেন চীনের মূল ভূখণ্ডের বাসিন্দাদের প্রতি, যাদের ক্ষমতা সবচেয়ে কম, এবং তিনি তাঁর প্রিয় বিজয়কার্য শুরু করেছিলেন। এবং তিনি যখন সকলকে তাঁর প্রতি ভালোবাসা অর্জন করাবেন, তখন তিনি তাঁর কাজের পরবর্তী পর্যায়টি শুরু করবেন, যা তাঁর পরিকল্পনায় রয়েছে। এভাবেই তাঁর কাজ সর্বাধিক প্রভাব লাভ করে। তাঁর কাজের পরিসরের মূল এবং সীমাবদ্ধতা দুই-ই রয়েছে। এটা পরিষ্কার যে, ঈশ্বর আমাদের মধ্যে ক্রিয়া সম্পাদনের সময় কত ব্যাপক মূল্য দিয়েছেন এবং আমাদের আজকের দিন আনার জন্য তিনি কতখানি প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন। এটা আমাদের আশীর্বাদ। যা মানুষের ধারণাকে বিভ্রান্ত করে তা হল, একটি সুন্দর জায়গায় জন্ম নেওয়ার জন্য পাশ্চাত্যের লোকজন আমাদের হিংসা করে, কিন্তু আমরা নিজেদের দিনহীন ভাবেই দেখি। ঈশ্বর কি এভাবে আমাদের উন্নীত করছেন না? পাশ্চাত্যের লোকেরা অতিকায় লাল ড্রাগনের বংশধরদের, যাদের কিনা সবসময় পদদলিত করা হয়েছে, তাদের মুখাপেক্ষী—এটা সত্যিই আমাদের জন্য আশীর্বাদ। যখন আমি এভাবে চিন্তা করি, আমি ঈশ্বরের দয়া, তাঁর প্রিয়তা এবং ঘনিষ্ঠতার দ্বারা আপ্লুত হই। এর থেকে বোঝা যায়, ঈশ্বরের করা প্রতিটি কাজই মানুষের ধারণার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। যদিও এই সমস্ত মানুষই অভিশপ্ত, তবুও তিনি আইনি নিদানের দ্বারা সীমাবদ্ধ নন এবং তিনি স্বেচ্ছায় তাঁর কাজের কেন্দ্রকে পৃথিবীর এই অংশে স্থানান্তরিত করেছেন। এই কারণেই আমি আনন্দ পাই, এবং অপরিসীমভাবে সুখী অনুভব করি। ইসরায়েলীয়দের মধ্যে প্রধান যাজকদের মতোই এই কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী একজন হিসাবে, আমি সরাসরি আত্মার কাজ নির্বাহ করতে এবং সরাসরি ঈশ্বরের আত্মার সেবা করতে সক্ষম; এটা আমার আশীর্বাদ। কে এমন কল্পনা করতে সাহস করবে? কিন্তু আজ এটা অপ্রত্যাশিতভাবে আমাদের উপরে এসে পড়েছে। এটা প্রকৃতই একটি বিশাল আনন্দ যা উদযাপনের যোগ্য। আমি আশা করি যে ঈশ্বর আমাদের ক্রমাগত আশীর্বাদ করবেন এবং আমাদের উন্নীত করবেন, যাতে আমরা যারা এই ক্লেদের পাহাড়ের মধ্যে বাস করি, তারা ঈশ্বরের দ্বারা ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতে পারি, এবং এভাবেই তাঁর ভালোবাসার প্রতিদান দিতে পারি।

আমি এখন যে পথে চলি, সেটা হল ঈশ্বরের ভালোবাসার প্রতিদান দেওয়ার পথ, তবুও আমার প্রতিনিয়ত অনুভূতি হয় যে ঈশ্বরের ইচ্ছা এমনটা নয়, বা এটা সেই পথও নয় যেখানে আমার চলা উচিত। ঈশ্বরের দ্বারা ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হওয়া—এটিই ঈশ্বরের ইচ্ছা, এবং এটিই পবিত্র আত্মার পথ। হতে পারে আমি ভুল করছি, কিন্তু আমার মনে হয় এটিই পবিত্র আত্মার পথ, কারণ বহুকাল আগে আমি ঈশ্বরের কাছে শপথ নিয়েছিলাম যে আমি তাঁর দ্বারা নির্দেশিত হতে চাই, আমি অতি সত্বর সেই পথে পা রাখি যে পথে আমায় চলতে হবে, এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ঈশ্বরের ইচ্ছাকে চরিতার্থ করতে হবে। অন্যরা যা-ই ভাবুক, আমি বিশ্বাস করি যে ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুসরণ করাই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। আর কোনো কিছুই আমার জীবনে এর চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়, এবং কেউ আমাকে এই অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারবে না। এ হল আমার ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি, এবং হয়তো কিছু মানুষ আছে যারা এটা বুঝতে পারবে না, কিন্তু আমার মনে হয় না আমাকে কারোর কাছে এর ন্যায্যতা প্রতিপন্ন দিতে হবে। আমি সেই পথই গ্রহণ করব যে পথ আমার গ্রহণ করা উচিত—একবার যখন আমি আমার ন্যায্য পথ চিনতে পারব, তখন আমি তা গ্রহণ করব এবং কিছুতেই পিছু হঠব না। এভাবেই, আমি ফিরে আসি এই বাক্যগুলিতে: আমি আমার হৃদয়কে প্রস্তুত করেছি ঈশ্বরের ইচ্ছাপালন করার জন্য। আমি নিশ্চিত যে আমার ভাই ও বোনেরা আমার প্রতি সমালোচনামূলক হবে না! সামগ্রিকভাবে, যেমন আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, অন্যরা বলতে পারে তাদের কী ভালো লাগে, কিন্তু আমার কাছে ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুসরণ করাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এবং কোনোকিছুই আমাকে তা থেকে প্রতিনিবৃত্ত করতে পারবে না। ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুসরণ করা কখনোই ভ্রান্ত হতে পারে না! তা নিজের স্বার্থে কাজ করা নয়! আমি বিশ্বাস করি যে ঈশ্বর আমার হৃদয়ের অন্তঃস্থলে দৃষ্টিপাত করেছেন! তাহলে কীভাবে তুমি তা বুঝবে? তুমি কি ঈশ্বরের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে ইচ্ছুক? তুমি কি ঈশ্বরের দ্বারা ব্যবহৃত হতে ইচ্ছুক? তুমি কি ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুসরণ করার শপথ নাও? আমি আশা করি যে আমার বাক্যগুলি আমার ভাই ও বোনেদের কিছুটা হলেও সাহায্য করবে। যদিও আমার অন্তর্দৃষ্টি তেমন গভীর কিছু নয়, তবুও আমি সেগুলির বিষয়ে তোমাদের বলি, যাতে আমরা আমাদের অন্তরতম অনুভূতিগুলি বিনিময় করতে পারি, এবং যাতে ঈশ্বর আমাদের মধ্যে সবসময় বিরাজ করেন। এইসব আমার হৃদয় থেকে উৎসারিত বাক্য। ঠিক আছে! আজ এইসব বাক্যই আমার অন্তর থেকে তোমাদের কাছে বলার ছিল। আমি আশা করব আমার ভাই ও বোনেরা কঠোর পরিশ্রম করা জারি রাখবে, এবং আমি আশা করব যে ঈশ্বরের আত্মা সর্বদা আমাদের খেয়াল রাখবেন!

পূর্ববর্তী: পথ … (২)

পরবর্তী: পথ … (৪)

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।👇

সম্পর্কিত তথ্য

সর্বশক্তিমানের দীর্ঘশ্বাস

তোমার হৃদয়ে এক বিশাল গোপন বিষয় আছে যার ব্যাপারে তুমি কখনও সচেতন ছিলে না, কারণ তুমি বেঁচে আছ আলোকহীন এক জগতে। তোমার হৃদয় আর তোমার আত্মাকে...

প্রার্থনার অনুশীলন বিষয়ে

তোমরা তোমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রার্থনার উপর জোর দাও না। মানুষ প্রার্থনার বিষয়টিকে অবহেলা করে। প্রার্থনা সাধারণত করা হয়ে থাকে দায়সারাভাবে...

পরিশিষ্ট ১ ঈশ্বরের আবির্ভাব এক নতুন যুগের সূচনা করেছে

ঈশ্বরের ছয় হাজার বছরের পরিচালনামূলক পরিকল্পনা শেষ হতে চলেছে, এবং যারা তাঁর আবির্ভাবের পথ চেয়ে আছে তাদের সকলের জন্য স্বর্গের দ্বার ইতিমধ্যেই...

সেটিংস

  • লেখা
  • থিমগুলি

ঘন রং

থিমগুলি

ফন্টগুলি

ফন্ট সাইজ

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

পৃষ্ঠার প্রস্থ

বিষয়বস্তু

অনুসন্ধান করুন

  • এই লেখাটি অনুসন্ধান করুন
  • এই বইটি অনুসন্ধান করুন

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন