অধ্যায় ১৫

ঈশ্বর ও মানুষের মধ্যে সবথেকে বড়ো পার্থক্য হল, ঈশ্বরের বাক্যগুলি সর্বদা সরাসরি বিষয়ের মূল বক্তব্যে গিয়ে প্রবেশ করে, কোনোকিছুই গোপন করে না। কাজেই, আজকের প্রথম বাক্যটিতেই ঈশ্বরের স্বভাবের এই দিকটি পরিলক্ষিত হতে পারে। একই সাথে তা মানুষের প্রকৃত স্বরূপকে অনাবৃত করে, এবং ঈশ্বরের স্বভাবকে সর্বসমক্ষে প্রকাশ করে। এটি ঈশ্বরের বাক্যের ফলাফল অর্জনের ক্ষমতার একাধিক দিকের উৎস। কিন্তু, মানুষ এই বিষয়টিকে উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়; ঈশ্বরের বাক্যের মাধ্যমে, ঈশ্বরকে “কাটাছেঁড়া” না করে, সর্বদা তারা শুধু নিজেদেরকেই জানতে পারে। যেন তাঁকে অসন্তুষ্ট করার বিষয়ে তারা আতঙ্কিত অথবা যেন তাদের “সতর্কতা”-র দরুন তিনি তাদের প্রাণনাশ করবেন। বস্তুত, অধিকাংশ মানুষ যখন ঈশ্বরের বাক্য ভোজন ও পান করে, তারা তা করে এক নেতিবাচক পরিপ্রেক্ষিত থেকে, কোনো ইতিবাচক পরিপ্রেক্ষিত থেকে নয়। বলা যায়, তাঁর বাক্যের পথনির্দেশনার অধীনে মানুষ আজকাল “বিনয় ও সমর্পণের উপর মনোনিবেশ” করতে আরম্ভ করেছে। এর থেকে প্রতীয়মান হয় যে, মানুষ যাত্রা শুরু করেছে আরেক চরম সীমার দিকে—ঈশ্বরের বাক্যের প্রতি কোনো অভিনিবেশ না দেওয়া থেকে সেগুলির প্রতি অসমীচীন রকমের মনোযোগ প্রদানের দিকে। কিন্তু, একজন মানুষও কোনো ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে প্রবেশ করেনি, এবং তাঁর বাক্যের প্রতি মানুষকে মনোযোগী করানোর নেপথ্যে ঈশ্বরের নিহিত লক্ষ্যটিও কেউ কখনো যথাযথভাবে উপলব্ধি করেনি। ঈশ্বরের বক্তব্য থেকে জানা যায় যে, গির্জার সকল লোকের প্রকৃত অবস্থা যথাযথ ও নির্ভুলভাবে উপলব্ধি করতে সমর্থ হওয়ার জন্য তাঁর নিজের ব্যক্তিগতভাবে গির্জা-জীবনের অভিজ্ঞতা লাভের কোনো প্রয়োজন নেই। যেহেতু তারা সবেমাত্র একটি নতুন পদ্ধতিতে প্রবেশাধিকার লাভ করেছে, মানুষ এখনো তাদের নেতিবাচক উপাদানগুলি থেকে নিজেদের সম্পূর্ণরূপে মুক্ত করে তুলতে পারেনি; এখনো গির্জা জুড়ে শবদেহের পুতিগন্ধ বাতাসে ভেসে বেড়ায়। দেখে মনে হয় বুঝি মানুষ এইমাত্র ঔষধ সেবন করেছে এবং এখনও এক ঘোরের মধ্যে রয়েছে, তাদের সচেতনতা এখনও পুরোপুরি ফিরে আসে নি। মনে হয় যেন তারা এখনও মৃত্যুভয়ে সন্ত্রস্ত, ফলে, এখনও আতঙ্কের মাঝে, তারা নিজেদের অতিক্রম করে উঠতে পারছে না। “সকল মানুষই আত্মজ্ঞানহীন প্রাণী”: যেভাবে এই বক্তব্যটি বিবৃত হয়েছে, তা এখনও গির্জানির্মাণের ভিত্তির উপর সংস্থাপিত। গির্জার সকল মানুষ ঈশ্বরের বাক্যের প্রতি মনোযোগী হওয়া সত্ত্বেও, তাদের প্রকৃতি গভীরভাবে বদ্ধমূল, অনুদ্ধরণীয় রয়ে গিয়েছে। এই কারণেই পূর্ববর্তী পর্যায়ে মানুষকে বিচার করতে ঈশ্বর বাচনভঙ্গি যেমন ছিল, এখনও তেমনই রয়েছে, যাতে তারা তাদের অহংকারের মধ্যিখানে তাঁর বাক্যের অতর্কিত প্রহার মেনে নিতে পারে। মানুষ যদিও অতল গহ্বরে পাঁচ মাসব্যাপী পরিমার্জনের মধ্য দিয়ে গিয়েছে, তবু বস্তুত তারা এখনো বস্তুত ঈশ্বরজ্ঞানরহিত অবস্থাতেই রয়ে গিয়েছে। এখনও তারা ইন্দ্রিয়পরায়ণ; শুধুমাত্র তারা ঈশ্বরের বিষয়ে আরেকটু বেশি সতর্ক হয়ে উঠেছে। ঈশ্বরের বাক্যকে অনুধাবনের পথে এটিই হল মানুষের নেওয়া প্রথম সঠিক পদক্ষেপ; তাই, ঈশ্বরের বাক্যের সারসত্যের সূত্র ধরে বিচার করলে, এটা বুঝতে পারা দুরূহ কিছু নয় যে, কার্যের পূর্ববর্তী অংশ বর্তমানের পথ প্রশস্ত করে দিয়েছিল, এবং সবেমাত্র এখনই সকলকিছু স্বাভাবিক হয়েছে। মানুষের মারাত্মক দুর্বলতা হল ব্যক্তিগত স্বাধীনতা লাভ ও প্রতিনিয়ত বাধ্যবাধকতা এড়াতে ঈশ্বরের আত্মাকে তাঁর দেহধারী সত্তা থেকে পৃথক করার প্রবণতা। এই কারণেই ঈশ্বর মানুষকে “উৎফুল্লচিত্তে উড়ে বেড়ানো” ছোট্ট পাখি বলে বর্ণনা করেছেন। এটিই হল সমগ্র মানবজাতির প্রকৃত অবস্থা। এর কারণেই যেকোনো মানুষের পতন ঘটানো হল সহজতম কাজ, আর এখানেই তাদের পথ হারানোর সম্ভাবনা সর্বাধিক। এর থেকে স্পষ্টতই প্রতীয়মান যে, মানবজাতির মধ্যে শয়তানের কাজকর্ম এই কাজের অপেক্ষা অধিক কিছু নয়। মানুষের মধ্যে শয়তান এই কাজ যত বেশি করে সম্পন্ন করে, তাদের কাছে ঈশ্বরের চাহিদা তত বেশি কঠোর হয়। ঈশ্বর দাবি করেন মানুষ তাঁর বাক্যের প্রতি তাদের মনোযোগ নিয়োজিত করুক, যেখানে শয়তান তা লঙ্ঘন করার জন্য কঠোর প্রচেষ্টা চালায়। ঈশ্বর, অবশ্য, তাঁর বাক্যের প্রতি আরো মনোযোগ প্রদানের বিষয়ে মানুষকে সর্বদাই স্মরণ করিয়েছেন; আধ্যাত্মিক জগতে ঘটমান প্রবল যুদ্ধের এটাই হল চরম পরিণতি। বিষয়টা এভাবে বলা যায়: মানুষের মধ্যে ঈশ্বর যা সম্পন্ন করতে চান, শয়তান ঠিক সেটাই ধ্বংস করতে চায়, আর শয়তান যা ধ্বংস করতে চায় তা মানুষের মাধ্যমেই সম্পূর্ণ প্রকটভাবে অভিব্যক্ত হয়। মানুষের মধ্যে ঈশ্বর যা সম্পন্ন করেন, তার স্পষ্ট উদাহরণসমূহ রয়েছে: তাদের অবস্থা ক্রমাগত উন্নত থেকে উন্নততর হচ্ছে। মানবজাতির মাঝে শয়তানের ধ্বংসলীলারও স্পষ্ট বিবরণ আছে: ক্রমাগত তারা আরো বেশি করে দুশ্চরিত্র হয়ে উঠছে, এবং তাদের অবস্থার ক্রমাবনতি ঘটেই চলেছে। তাদের পরিস্থিতি যখন যথেষ্ট শোচনীয় হয়ে পড়বে, তখন তারা শয়তানের করায়ত্ত হতে বাধ্য। ঈশ্বরের বাক্যের দ্বারা যেমন উপস্থাপিত হয়, এ-ই হল গির্জার প্রকৃত অবস্থা, এবং একই সাথে তা আধ্যাত্মিক জগতের প্রকৃত পরিস্থিতিও বটে। আধ্যাত্মিক জগতের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার এ হল এক প্রতিবিম্ব। মানুষের যদি ঈশ্বরের সাথে সহযোগিতা করার মতো আত্মবিশ্বাস না থাকে, তাহলে তারা শয়তানের হাতে বন্দী হওয়ার বিপদাপন্ন। এ এক বাস্তব সত্য। মানুষ যদি তাদের হৃদয়কে ঈশ্বরের দ্বারা অধিকৃত হওয়ার নিমিত্ত সম্পূর্ণরূপে নিবেদন করতে প্রকৃতই সমর্থ হয়, তাহলে ঈশ্বর ঠিক যেরকম বলেছেন, “তাদের, আমার সম্মুখে, মনে হয় যেন আমার আলিঙ্গনে আবদ্ধ, যেন এই আলিঙ্গনের উষ্ণতা আস্বাদন করছে।” এতে প্রতিপন্ন হয় যে মানবজাতির কাছে ঈশ্বরের চাহিদা উচ্চ কিছু নয়; তিনি শুধু চান তারা যেন উঠে দাঁড়ায় ও তাঁর সাথে সহযোগিতা করে। এ কি এক সহজ ও আনন্দজনক বিষয় নয়? এটা কি সেই বিষয় যা প্রত্যেক বীরপুরুষ ও মহান ব্যক্তিকে বিভ্রান্ত করেছে? মনে হয় যেন সেনানায়কদের যুদ্ধক্ষেত্র থেকে উৎপাটিত করে এনে পরিবর্তে তাদের বননের কাজ করানো হচ্ছে—দুখঃদারিদ্র্য এই “বীরপুরুষদের” নিশ্চল করে দিয়েছে, এবং তাদের কী করণীয় তারা তা জানে না।

মানবজাতির কাছে ঈশ্বরের চাহিদার যে দিকটি কঠোরতম, সেই দিকটিতেই মানুষের উপর শয়তানের আক্রমণ হবে প্রবলতম, আর এইভাবে, সকল মানুষের অবস্থা সেইমতো প্রকাশিত হয়। “আমার সম্মুখে দণ্ডায়মান তোমাদের মধ্যে কোনজন বায়ুতাড়িত তুষারের মতো বিশুদ্ধ এবং জেড পাথরের মতো নিষ্কলঙ্ক হতে?” সকল মানুষ এখনও ঈশ্বরকে মিষ্টি কথায় প্রতারিত করে এবং নানা বিষয় তাঁর কাছ থেকে গোপন করে; এখনো তারা তাদের নিজস্ব বিশেষ অভিসন্ধি কার্যকর করে চলেছে। ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করতে এখনো তারা তাদের হৃদয় সম্পূর্ণভাবে তাঁর হস্তে সমর্পণ করেনি, তবু প্রবল উৎসাহ সহযোগে তারা তাঁর পুরস্কার লাভ করতে চায়। মানুষ যখন সুস্বাদু খাদ্য ভক্ষণ করে, তখন ঈশ্বরকে তারা একপাশে সরিয়ে রাখে, কখন তাঁর একটা “বন্দোবস্ত করা হবে” তার জন্য তাঁকে অপেক্ষাতুর ভাবে দাঁড় করিয়ে রাখে; মানুষের যখন সুদৃশ্য পোশাক থাকে, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে তারা নিজেদের সৌন্দর্য উপভোগ করে, এবং তাদের অন্তরের গভীরে, তারা ঈশ্বরকে পরিতুষ্ট করে না। যখন তাদের সামাজিক প্রতিষ্ঠা থাকে, যখন তাদের বিলাসবহুল আমোদপ্রমোদের উপকরণাদি থাকে, তাদের পদমর্যাদার উপর আরোহন করে, তখন তারা তা উপভোগ করে, তবু ঈশ্বরের উচ্চতার ফলস্বরূপ নিজেদের বিনীত করে না। পরিবর্তে, তারা তাদের উচ্চস্থানে দাঁড়িয়ে আড়ম্বরপূর্ণ কথাবার্তা বলে, এবং ঈশ্বরের উপস্থিতির প্রতি কোনো মনোযোগ দেয় না, কিংবা তাঁর মহার্ঘতার বিষয়ে জানার কোনো প্রচেষ্টাও করে না। মানুষের হৃদয়ে যখন কোনো প্রতিমা বিরাজ করে, কিংবা তাদের হৃদয় যখন অন্য কারো দখলীকৃত হয়ে পড়েছে, এর অর্থ হল তারা ইতিমধ্যেই ঈশ্বরের উপস্থিতিকে অস্বীকার করেছে, যেন তিনি তাদের হৃদয়ে নিছকই এক অনধিকার প্রবেশকারী। তারা আতঙ্কিত যে, ঈশ্বর বুঝি তাদের প্রতি অন্যদের ভালোবাসা হরণ করে নেবেন, আর তখন তারা নিঃসঙ্গ বোধ করবে। ঈশ্বরের আদি অভিপ্রায় হল পৃথিবীর বুকের কোনোকিছুই মানুষকে তাঁকে তাচ্ছিল্য করতে প্ররোচিত করবে না, এবং যদিও মানুষে-মানুষে প্রেম থাকতেই পারে, তবু এই “প্রেম” থেকে ঈশ্বরকে বিতাড়িত করা যায় না। সকল পার্থিব বস্তুই অন্তঃসারশূন্য—এমনকি মানুষের মধ্যে বিদ্যমান দৃশ্যাতীত ও স্পর্শাতীত অনুভূতিসমূহও। ঈশ্বরের অস্তিত্ব ব্যতীত, সকল জীবিত সত্তা অর্থহীনতায় পর্যবসিত হবে। ধরাতলে, সকল মানুষেরই ভালোবাসার কিছু বস্তু আছে, কিন্তু কেউ-ই কখনো ঈশ্বরের বাক্যকে তার ভালোবাসার বস্তু হিসাবে গ্রহণ করেনি। মানুষ তাঁর বাক্যকে কোন মাত্রায় উপলব্ধি করে, এটাই তা নির্ধারণ করে। যদিও তাঁর বাক্যসমূহ শ্রুতিকটু, কিন্তু কেউ এগুলির দ্বারা আহত হয় না; বরং, কোনো ফুলকে তারা যেভাবে দেখতে পারতো, এই বাক্যগুলিকে তারা সেভাবেই দর্শন করে। তাঁর বাক্যকে তারা তাদের নিজেদের আস্বাদনযোগ্য ফল হিসাবে গণ্য করে না, তাই তারা ঈশ্বরের বাক্যের সারসত্যকে জানে না। “মানুষ যদি প্রকৃতই আমার তরবারির তীক্ষ্ণতা অনুভব করতে সক্ষম হতো, তাহলে তারা ইঁদুরের মতো ক্ষিপ্রবেগে ছুটে তাদের বিবরে আশ্রয় নিতো।” স্বাভাবিক মানুষের অবস্থায় স্থিত কোনো ব্যক্তি, ঈশ্বরের বাক্য পাঠ করার পর, হতবাক ও লজ্জায় অধোবদন হয়ে যাবে, এবং অন্য কারো কাছে মুখ দেখাতে পারবে না। কিন্তু, আজকাল, মানুষ সম্পূর্ণ বিপরীত রকমের হয়—ঈশ্বরের বাক্যকে তারা অন্যদের আঘাত করার এক অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করে। তাদের সত্যিই কোনো লজ্জা নেই!

ঈশ্বরের উচ্চারণসমূহের মাধ্যমে, আমরা এরকম এক পরিস্থিতির মধ্যে নীত হয়েছি: “রাজ্যের মাঝে, শুধু যে আমার মুখগহ্বর থেকে উচ্চারণসমূহ বিনির্গত হয় তা নয়, উপরন্তু আমার পদযুগল ভূমণ্ডল জুড়ে সর্বত্র সাড়ম্বরে দলিত করে বেড়ায়।” ঈশ্বর ও শয়তানের মধ্যে যুদ্ধে, যাত্রার প্রতিটি পদে ঈশ্বর জয়যুক্ত হচ্ছেন। সমগ্র ব্রহ্মাণ্ড জুড়ে তিনি তাঁর কার্যকে এক বৃহদায়তন ক্ষেত্রে প্রসারিত করছেন, এবং বলা যেতে পারে যে, সর্বত্র তাঁর পদাঙ্ক ও তাঁর জয়লাভের চিহ্ন পরিলক্ষিত হচ্ছে। শয়তান তার অভিসন্ধি অনুসারে রাষ্ট্রগুলিকে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে ঈশ্বরের ব্যবস্থাপনাকে বিপর্যস্ত করার আশা পোষণ করে, কিন্তু ঈশ্বর সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ডকে চিনে নিতে এই বিভাজনের সুবিধা গ্রহণ করেছেন—যদিও তা নিশ্চিহ্ন করা তাঁর অভিলাষ নয়। ঈশ্বর প্রতিদিনই নতুন কিছু সম্পন্ন করেন, কিন্তু মানুষ তা লক্ষ্য করেনি। আধ্যাত্মিক জগতের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার প্রতি তারা কোনো মনোযোগ দেয় না, তাই তারা ঈশ্বরের নতুন কার্যকে প্রত্যক্ষ করতে অসমর্থ। “জ্যোতিষ্কলোকে, আমার মহিমার উদ্ভাসে সকলকিছু নতুনের মতো ঝকমক করে, এক হৃদয়গ্রাহী দৃশ্যরূপ উপস্থাপিত হয় যা ইন্দ্রিয়সমূহকে বিমুগ্ধ করে এবং মানুষের উদ্দীপনা বাড়িয়ে তোলে, মানুষের কল্পলোকে যেভাবে প্রতিভাত হয়, যেন তা স্বর্গসমূহের ঊর্ধ্বে আরেক স্বর্গে বিরাজমান, যেন তা শয়তানের দ্বারা অনুপদ্রুত এবং বহিঃশত্রুর হামলা থেকে মুক্ত।” এই বাক্যগুলি পৃথিবীর বুকে খ্রীষ্টের রাজ্যের আনন্দঘন দৃশ্যের ভবিষ্যদ্বাণী করে, এবং মানবজাতিকে কাছে তা তৃতীয় স্বর্গের পরিস্থিতির সঙ্গে পরিচিতও করে: শুধুমাত্র ঈশ্বরের অধিকৃত পবিত্র বস্তুগুলিই সেখানে রয়েছে, শয়তানের বাহিনীর কোনো আক্রমণ সেখানে নেই। কিন্তু সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ যা তা হল পৃথিবীর বুকে স্বয়ং ঈশ্বরের কার্যের পরিস্থিতি মানুষকে চাক্ষুষ করতে অনুমতি দেওয়া: স্বর্গ হয় এক নতুন স্বর্গভূমি, এবং তার অনুসরণে, মর্ত্যলোকও একই ভাবে হয়ে ওঠে এক নতুন পৃথিবী। যেহেতু এই জীবন ঈশ্বরের আপন পথপ্রদর্শনের অধীনে নির্বাহিত হয়, তাই সকল মানুষ অপরিমিত রকমের খুশী। তাদের সচেতনতায়, শয়তান মানবজাতির হাতে “বন্দী”, এবং তার অস্তিত্বের কারণে তারা আদৌ শঙ্কিত বা ভয়কাতর নয়। প্রত্যক্ষ দৈবিক নির্দেশ ও পরিচালনার কারণে, শয়তানের সকল দুরভিসন্ধি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে, এবং এমনকি এর থেকেই পর্যাপ্তরূপে প্রমাণিত হয়, যে, শয়তানের আর কোনো অস্তিত্বই নেই, ঈশ্বরের কার্যের দ্বারা সে নিশ্চিহ্ন হয়েছে। সেই কারণেই বলা হয় “স্বর্গসমূহের ঊর্ধ্বে আরেক স্বর্গে বিরাজমান।” ঈশ্বর যখন বলেছিলেন, “কখনো কোনো বিশৃঙ্খলা উদ্ভূত হয়নি, বা জ্যোতিষ্কলোক কখনো বিভাজিতও হয়নি,” তখন তিনি আধ্যাত্মিক জগতের পরিস্থিতির প্রতি নির্দেশ করেছিলেন। এটাই প্রমাণ যে ঈশ্বর শয়তানের উদ্দেশ্যে তাঁর বিজয় ঘোষণা করেন, এবং তা ঈশ্বরের চূড়ান্ত জয়লাভের ইঙ্গিত। কোনো মানুষ ঈশ্বরের সঙ্কল্পের পরিবর্তন ঘটাতে পারে না, এবং কেউ তা জানতেও পারে না। মানুষ যদিও ঈশ্বরের বাক্য পাঠ করেছে এবং গুরুত্বসহকারে সেগুলিকে নিরীক্ষা করে দেখেছে, কিন্তু তারা সেগুলির সারসত্য ব্যক্ত করতে অসমর্থ রয়ে গেছে। উদাহরণস্বরূপ, ঈশ্বর বলেছিলেন, “তারকারাজির ঊর্ধ্বে আমি দীর্ঘ উল্লম্ফন দিই, এবং সূর্য যখন তার রশ্মিসমূহ নিক্ষেপ করে, আমার করতল থেকে প্রবহমান হাঁসের পালকের আকৃতির তুষারকণার অতিকায় ঝাপটা পাঠিয়ে সেগুলির উষ্ণতা আমি মুছে দিই। আবার যখন আমি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করি, তখন সেই সমস্ত তুষার গলে এক নদীতে পরিণত হয়, এবং ক্ষণিকের মধ্যে দেখা যায়, আকাশের নীচে সর্বত্র বসন্তের আবির্ভাব ঘটেছে এবং পান্নার মতো হরিদ্বর্ণ পৃথিবীর বুক জুড়ে সমগ্র প্রেক্ষাপটকে রূপান্তরিত করেছে।” যদিও মানুষ হয়তো তাদের মনের মধ্যে এই বাক্যগুলিকে কল্পনা করতে সক্ষম, কিন্তু ঈশ্বরের অভিপ্রায় এত সরল নয়। স্বর্গের নীচে সকলেই যখন স্তম্ভিত, ঈশ্বর তখন তাঁর পরিত্রাণস্বর উচ্চারিত করেন, এইভাবে মানুষের হৃদয়কে করেন জাগরিত। কিন্তু, সমস্ত ধরনের বিপর্যয় তাদের উপর ঘনিয়ে আসার কারণে তারা পৃথিবীর হতাশাব্যঞ্জক বিবর্ণতা অনুভব করে, ফলে তারা সকলেই মৃত্যু অন্বেষণে রত হয়ে হিমশীতল, কনকনে ঠাণ্ডা গুহার ভিতর অবস্থান করে। বিপুল তুষারঝঞ্ঝার হাড়-কাঁপানো শৈত্যে তারা এতটাই জমাট বেঁধে যায় যে, পৃথিবীপৃষ্ঠে উষ্ণতার অভাবের কারণে, তারা জীবনধারণে অক্ষম হয়ে পড়ে। মানুষের অনাচারের কারণেই পরস্পরকে তারা ক্রমাগত নিষ্ঠুরতররূপে হত্যা করে চলেছে। এবং গির্জায়, অতিকায় লাল ড্রাগন অধিকাংশ মানুষকে একগ্রাসে গলাধঃকরণ করে ফেলবে। সকল পরীক্ষা অতিক্রান্ত হলে, শয়তানের ব্যাঘাতসমূহ বিদূরিত করা হবে। এইভাবে, রূপান্তরের মাঝে, সমগ্র জগৎ বসন্ত ঋতুর দ্বারা পরিব্যাপ্ত হয়ে উঠবে, পৃথিবী উষ্ণতার চাদরে আচ্ছাদিত হবে, এবং চরাচর প্রাণশক্তিতে ভরপুর হয়ে ঊঠবে। এই সকলই হল সমগ্র পরিচালনামূলক পরিকল্পনার পদক্ষেপসমূহ। যে “রাত্রি”-র কথা ঈশ্বর বলেছেন, তা সেই সময়কালকে নির্দেশ করে যখন শয়তানের উন্মত্ততা তার চরমে গিয়ে পৌঁছায়, যা রাত্রিকালে সংঘটিত হবে। ঠিক এই মুহূর্তে যা ঘটছে সেটা কি তাই-ই নয়? সকল মানুষ যদিও ঈশ্বরের আলোর নির্দেশনার অধীনে জীবনধারণ করে, কিন্তু তাদের রাত্রিকালীন তমসার মর্মযন্ত্রণার অভিজ্ঞতার ভিতর দিয়ে প্রেরণ করা হচ্ছে। তারা যদি শয়তানের বাঁধন ছিঁড়ে পালাতে না পারে, তাহলে তারা অনন্তকাল এক তিমিরঘন নিশীথেই জীবনযাপন করবে। পৃথিবীর রাষ্ট্রগুলির দিকে তাকিয়ে দেখো: ঈশ্বরের কার্যের পদক্ষেপগুলির কারণে, পৃথিবীর রাষ্ট্রসমূহ “নানান কাজে লিপ্ত হয়ে ছোটাছুটি করছে,” এবং প্রত্যেকেই “তার নিজের জন্য উপযুক্ত গন্তব্যের সন্ধান করছে।” যেহেতু ঈশ্বরের দিবস এখনো এসে উপনীত হয়নি, সেহতু ধরাতলে সকলেই এক পঙ্কিল অস্থিরতাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যখন তিনি সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সমক্ষে প্রকাশ্যে আবির্ভূত হবেন, তখন তাঁর মহিমা সিয়োন পর্বতকে পরিপূর্ণ করবে, এবং সকলকিছু সুশৃঙ্খল ও পরিপাটি হয়ে উঠবে, কারণ সেগুলি তাঁর হস্তের দ্বারা আয়োজিত হবে। ঈশ্বরের বাক্যসমূহ কেবল আজকের উদ্দেশ্যেই উক্ত নয়, একই সঙ্গে তা আগামীর ভবিষ্যদ্বাণীও। বর্তমান সময় হল আগামীদিনের বুনিয়াদ, তাই, আজকের পরিস্থিতি যা দাঁড়িয়েছে, ঈশ্বরের উচ্চারণসমূহ কেউই সম্পূর্ণরূপে উপলব্ধি করতে পারে না। একমাত্র যখন তাঁর বাক্যগুলি আদ্যন্ত কার্যকর হবে, তখনই মানুষ সেগুলির অর্থ সামগ্রিকভাবে হৃদয়ঙ্গম করতে সমর্থ হবে।

ঈশ্বরের আত্মা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সকল পরিসরকে পরিব্যাপ্ত করে রাখে, তবু সকল মানুষের মধ্যে তিনি কার্যরতও থাকেন। সেই অর্থে, মানুষের হৃদয়ে, মনে হয় বুঝি ঈশ্বরের মূর্তি সর্বত্র বিরাজমান এবং বুঝিবা সকল স্থানে তাঁর আত্মার কার্য আধৃত রয়েছে। বস্তুত, ঈশ্বরের দেহরূপে আবির্ভাবের উদ্দেশ্য হল শয়তানের দৃষ্টান্তস্থাপক এই ব্যক্তিগুলিকে জয় করা, এবং, পরিশেষে, তাদের অর্জন করা। কিন্তু, দেহরূপে কার্য সম্পাদন করাকালীন, এই মানুষগুলিকে রূপান্তরিত করার কাজে আত্মাও দেহরূপী অবতারের সঙ্গে সহযোগিতা করছেন। বলা যায়, ঈশ্বরের কার্যকলাপ সমগ্র বিশ্বময় পরিব্যপ্ত, এবং অখিল ব্রহ্মাণ্ড তাঁর আত্মা দ্বারা পরিপূর্ণ হয়েছে, কিন্তু তাঁর কার্যের পদক্ষেপগুলির কারণে, যারা মন্দ কর্ম করে তারা দণ্ডিত হয়নি, এবং যারা সাধু কর্ম করে তারা পুরস্কৃত হয়নি। তাই, পৃথিবীর সমুদয় মানুষের দ্বারা তাঁর কার্যাবলী বন্দিত হয়নি। তিনি যুগপৎ সকলকিছুর ঊর্ধ্বে ও অন্তরে রয়েছেন; তদুপরি, সকল মানুষের মাঝেও তিনি বিরাজমান। এটাই পর্যাপ্তরূপে প্রতিপন্ন করে যে, ঈশ্বর বস্তুতই রয়েছেন। সকল মানুষের সমক্ষে তিনি প্রকাশ্যে অবতীর্ণ হননি বলে তাদের মধ্যে এজাতীয় বিভ্রমের সৃষ্টি হয়েছে, যেমন, “মানুষের চিন্তাভাবনা মতো, মনে হয় বুঝি বস্তুতই আমার অস্তিত্ব রয়েছে, তবু মনে হয়, আমি যেন নেই।” সমুদয় ঈশ্বরবিশ্বাসী মানুষের মধ্যে, কেউই সম্পূর্ণরূপে, একশো শতাংশ নিশ্চিত নয় যে ঈশ্বর প্রকৃতই অস্তিমান; তাদের সকলের মনের মধ্যে তিনভাগ সন্দেহ ও দুভাগ বিশ্বাস। এ-ই হল মানবজাতির বর্তমান অবস্থা। এই সময়ের সকল মানুষ নিম্নবর্ণিত পরিস্থিতিতে অবস্থান করছে: তারা বিশ্বাস করে যে একজন ঈশ্বর রয়েছেন, কিন্তু তারা তাঁকে প্রত্যক্ষ করেনি; অথবা, তারা বিশ্বাস করে না যে ঈশ্বর বলে কেউ রয়েছেন, কিন্তু বিশ্বাস করে যে, এমন অনেক জটিলতা রয়েছে মানবজাতি যেগুলির মীমাংসা করে উঠতে পারে না। মনে হয় সবসময়ই কিছু একটা যেন তাদেরকে জটিলতায় আবদ্ধ করে এবং তা থেকে তারা নিষ্ক্রান্ত হতে পারে না। যদিও তারা ঈশ্বরে বিশ্বাস করে, তবু মনে হয় তারা সর্বদাই যেন কিঞ্চিৎ অনিশ্চয়তা বোধ করে। অন্যদিকে, তারা যদি ঈশ্বরবিশ্বাসী না-ও হয়, তবু যদি তিনি সত্যিই থেকেই থাকেন, সেক্ষেত্রে তারা সুযোগ হারাবে, এই আশঙ্কা তাদের রয়েছে। এ-ই হল তাদের উভয়সংকট।

“আমার সুনামের খাতিরে, আমার আত্মার খাতিরে, এবং আমার সমগ্র পরিচালনামূলক পরিকল্পনার খাতিরে, কে তার সর্বশক্তি এর প্রতি উৎসর্গ করতে পারে?” ঈশ্বর আরো বলেছিলেন, “আজ, রাজ্য যখন মনুষ্যজগতে সমাগত, এখনই হল সেই সময় যখন আমি সশরীরে মানুষের মাঝে আবির্ভূত হয়েছি। এমন কেউ কি আছে, যে নিষ্কম্পচিত্তে আমার নিমিত্ত যুদ্ধক্ষেত্রে ঝঁপিয়ে পড়তে পারতো?” ঈশ্বরের বাক্যগুলির লক্ষ্য ছিল এই: দেহরূপী ঈশ্বরের অবতার যদি প্রত্যক্ষভাবে তাঁর ঐশ্বরিক কার্য সম্পন্ন না করতেন, অথবা অবতার না হয়ে তার পরিবর্তে তিনি যদি সেবাব্রতীবর্গের মাধ্যমে কাজ করতেন, তাহলে ঈশ্বর কখনোই অতিকায় লাল ড্রাগনকে পরাভূত করতে সক্ষম হতেন না, এবং মানুষের মাঝখানে রাজা হয়ে রাজত্ব করতেও তিনি অসমর্থ হতেন। মানবজাতিও স্বয়ং ঈশ্বরের অবতারকে প্রকৃতপক্ষেই জানতে অসমর্থ রয়ে যেতো, ফলে এখনো তা শয়তানেরই রাজত্ব থেকে যেতো। সেই কারণে, কার্যের এই পর্যায়টি অবশ্যই ঈশ্বরের দ্বারা ব্যক্তিগতভাবে, দেহধারী অবতারের মাধ্যমে, সম্পন্ন হতে হবে। দেহরূপ যদি পরিবর্তিত হতো, তাহলে পরিকল্পনার এই পর্যায়টি কখনো সম্পূর্ণ হতে পারতো না, কারণ ভিন্ন ভিন্ন দেহরূপের তাৎপর্য ও উপাদান অভিন্ন হতো না। মানুষ এই বাক্যগুলির আক্ষরিক অর্থটুকুই শুধু উপলব্ধি করতে পারে, কারণ মূল অর্থটি উপলব্ধি করেন ঈশ্বর। ঈশ্বর বলেছিলেন, “তবু, সমস্তকিছু বিচারবিবেচনার পর, এটি আত্মার কর্ম নাকি দেহরূপী অবতারের কোনো কার্যকলাপ তা উপলব্ধি করে এমন একজনও নেই। শুধু এই একটিমাত্র বিষয়কে বিশদে অনুভব করতে মানুষের সমগ্র এক জীবৎকাল লেগে যাবে।” বহু বছর হল মানুষ শয়তানের দ্বারা কলুষিত হয়েছে, এবং অনেক আগেই আধ্যাত্মিক বিষয়সমূহে তারা তাদের সংজ্ঞান হারিয়েছে। এই কারণে, ঈশ্বরের উক্তির কেবলমাত্র একটি বাক্যও মানুষের দৃষ্টিতে অতি উপভোগ্য। ঈশ্বরের আত্মা ও অন্যান্য আত্মাদের মধ্যে ব্যবধানের কারণে, সকল ঈশ্বরবিশ্বাসী মানুষ তাঁর প্রতি এক আকুলতা অনুভব করে, এবং তাদের সকলেই ইচ্ছুক হয় তাঁর সাথে আরো অন্তরঙ্গ হয়ে নিজ-নিজ হৃদয় উজাড় করে দিতে। কিন্তু, তারা তাঁর সংস্পর্শে আসার স্পর্ধা করে না, পরিবর্তে তারা কেবল সম্ভ্রমবোধজনিত দূরত্বেই রয়ে যায়। এ-ই হল আত্মার আকর্ষণী শক্তি। যেহেতু ঈশ্বর হলেন মানুষের প্রেমার্হ ঈশ্বর, এবং যেহেতু তাঁর মধ্যে মানবপ্রেমোচিত অনন্ত উপাদান রয়েছে, তাই সকলেই তাঁকে ভালোবাসে এবং সকলেই তাঁকে ভরসা করতে চায়। বাস্তবে, সকলেই নিজ-হৃদয়ে ঈশ্বরপ্রেম পোষণ করে—শুধুমাত্র শয়তানের ব্যাঘাতের কারণেই অসাড়হৃদয়, ক্ষুদ্রবুদ্ধি, করুণা-উদ্রেককারী মানুষেরা ঈশ্বরকে জানতে পারেনি। এই কারণেই মানুষ তাঁর প্রতি প্রকৃতই যে অনুভূতি পোষণ করে সে বিষয়ে ঈশ্বর বলেছেন: “তাদের হৃদয়ের নিগূঢ়তম প্রান্তে মানুষ কখনো আমাকে ঘৃণা করেনি; বরং, তাদের আত্মার গভীরে তারা আমায় আঁকড়ে ধরে থাকে। … আমার বাস্তবতা মানুষকে বিহ্বল, হতবাক ও হতবুদ্ধি করে তোলে, কিন্তু তবু তারা তা মেনে নিতে ইচ্ছুক।” এ-ই হল ঈশ্বরবিশ্বাসী মানুষদের অন্তরের একান্ত গভীরে বিদ্যমান প্রকৃত পরিস্থিতি। মানুষ যখন প্রকৃতপক্ষেই ঈশ্বরকে জেনে ফেলে, তখন তাঁর প্রতি তাদের মনোভাব স্বভাবতই পরিবর্তিত হয়, এবং তখন তারা তাদের আত্মার ক্রিয়াবশত নিজ-নিজ অন্তঃকরণের গভীর থেকে প্রশস্তি উচ্চারণে সমর্থ হয়। সকল মানুষের আত্মার একান্ত গভীরে ঈশ্বর রয়েছেন, কিন্তু শয়তানের ভ্রষ্ট আচরণের কারণে, মানুষ ঈশ্বরের সঙ্গে শয়তানকে গুলিয়ে ফেলেছে। ঠিক এই সমস্যাটি নিয়েই ঈশ্বরের আজকের কার্যের সূচনা হয়, এবং আধ্যাত্মিক জগতে, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এটাই ছিল লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দু।

পূর্ববর্তী: অধ্যায় ১৪

পরবর্তী: অধ্যায় ১৬

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।

সেটিংস

  • লেখা
  • থিমগুলি

ঘন রং

থিমগুলি

ফন্টগুলি

ফন্ট সাইজ

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

পৃষ্ঠার প্রস্থ

বিষয়বস্তু

অনুসন্ধান করুন

  • এই লেখাটি অনুসন্ধান করুন
  • এই বইটি অনুসন্ধান করুন

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন