ঈশ্বরের প্রতি প্রকৃত ভালোবাসা স্বতঃস্ফূর্ত

ঈশ্বরের বাক্যের কারণে সমস্ত মানুষের পরিমার্জনা হয়। ঈশ্বর যদি অবতাররূপ ধারণ না করতেন তাহলে মানবজাতি এই পরিমার্জনার মধ্যে দিয়ে যাওয়ার যন্ত্রণাভোগের আশীর্বাদ লাভ করত না। অন্যভাবে বলতে গেলে, যারা ঈশ্বর-বাক্যের পরীক্ষাকে স্বীকার করতে পারে তারাই আশীর্বাদধন্য। মানুষের অন্তর্নিহিত যোগ্যতা, তাদের আচরণ এবং ঈশ্বরের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গির বিচারে তাদের এই ধরনের পরিমার্জনার উপযুক্ত বলে ধরা হয় না। কারণ এই ধরনের মানুষেরা ঈশ্বরের দ্বারা উন্নীত হয়ে এই আশীর্বাদ লাভ করেছে। মানুষ এক সময় বলত, তারা ইশ্বরের দর্শন পাওয়ার বা তাঁর বাক্য শ্রবণ করার যোগ্য নয়। কিন্তু আজ সম্পূর্ণরূপে ঈশ্বরের মহিমান্নয়ন ও তাঁর করুণার জন্য মানুষ তাঁর বাক্যের পরিমার্জনা লাভ করেছে। অন্তিম সময়ে যারা জন্মগ্রহণ করেছে এটা তাদের প্রত্যেকের কাছেই একটা আশীর্বাদস্বরূপ – তোমরা কি ব্যক্তিগতভাবে সেটা উপলব্ধি করেছ? মানুষ কোন ক্ষেত্রে যন্ত্রণাভোগ করবে বা বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হবে তা ঈশ্বর কর্তৃক পূর্বনির্ধারিত – মানুষের নিজস্ব চাহিদা অনুযায়ী সেটা ঘটে না। এটাই দ্ব্যর্থহীন সত্য। ঈশ্বরের বাক্যের পরীক্ষার সম্মুখীন হওয়া এবং তাঁর বাক্যের মধ্যে যন্ত্রণাভোগের ক্ষমতা সমস্ত বিশ্বাসী মানুষের মধ্যে থাকতে হবে। কথাটা কি তোমাদের কাছে পরিষ্কার? তাই যে যন্ত্রণাভোগ তুমি করেছ তার বিনিময়েই তুমি আজকের আশীর্বাদ পেয়েছ; ঈশ্বরের জন্য যদি যন্ত্রণাভোগ না করো তাহলে তুমি তাঁর সাধুবাদও লাভ করবে না। তুমি হয়তো অতীতে অভিযোগ করেছ, তবে যতই অভিযোগ করে থাকো না কেন ঈশ্বর তোমার সেই অভিযোগের কথা মনে রাখেননি। এটা আজ, এবং গতকাল কী হয়েছে না হয়েছে সেদিকে ফিরে তাকানোর কোনো দরকার নেই।

কেউ কেউ বলে, তারা নাকি ঈশ্বরকে ভালোবাসার চেষ্টা করে কিন্তু পেরে ওঠে না। যখন তারা শোনে যে ঈশ্বর প্রস্থান করতে উদ্যত হয়েছেন তখন হঠাৎ করে তাদের মধ্যে তাঁর জন্য ভালোবাসা জেগে ওঠে। আবার কেউ কেউ সাধারণভাবে সত্যের অনুশীলন করে না, কিন্তু যখন তারা শোনে ইশ্বর ক্রোধবশত প্রস্থান করতে উদ্যত হয়েছেন তখন তারা তাঁর সামনে এসে প্রার্থনা জানায়ঃ “হে ঈশ্বর! দয়া করে যাবেন না। আমাকে একটা সুযোগ দিন! হে ঈশ্বর! অতীতে আমি আপনাকে সন্তুষ্ট করিনি; আমি আপনার কাছে কাছে ঋণী হয়ে থেকেছি এবং আপনাকে প্রতিরোধ করেছি। আজ আমি নিজের দেহ মন উৎসর্গ করতে রাজি যাতে শেষপর্যন্ত আপনাকে সন্তুষ্ট করতে পারি এবং আপনাকে ভালোবাসতে পারি। এই সুযোগ আমি আর পাবো না”। এইভাবে প্রার্থনা কি তুমি করেছ? ঈশ্বরের বাক্য দ্বারা যখন কারো বিবেক জাগ্রত হয় তখন সে এইভাবে প্রার্থনা করে। সমস্ত মানুষ অসাড় এবং ক্ষুদ্রমতি। তাদের শাস্তি ও পরিমার্জনা চলতে থাকে, কিন্তু এর দ্বারা ঈশ্বর কী সাধন করতে চান তা তারা জানে না। ঈশ্বর যদি এইভাবে কার্যসাধন না করেন তাহলে মানুষ এইভাবে হতবুদ্ধি হয়েই রয়ে যাবে; কোনো মানুষই অন্যদের হৃদয়ে আধ্যাত্মিক অনুভূতি জাগাতে পারবে না। ঈশ্বরের যে বাক্য মানুষের বিচার করে ও তাদের প্রকাশ ঘটায় একমাত্র সেটাই এই ফললাভ করতে পারবে। সুতরাং ঈশ্বরের বাক্যের কারণেই সমস্ত কিছু অর্জন করা যায়, সমস্ত কিছু পূর্ণ হয়, একমাত্র তাঁরই বাক্যের কারণে ঈশ্বরের প্রতি মানুষের ভালোবাসা জাগ্রত হয়েছে। ঈশ্বরের প্রতি ভালোবাসা শুধুমাত্র যদি মানুষের বিবেকের ওপর নির্ভর করে তাহলে কাঙ্ক্ষিত ফল মেলে না। অতীতে ঈশ্বরের প্রতি মানুষের ভালোবাসা কি বিবেকের ওপর নির্ভর করত না? একজন মানুষও কি নিজস্ব উদ্যোগে ঈশ্বরকে ভালোবেসেছে? একমাত্র ঈশ্বরের বাক্য দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েই মানুষ ঈশ্বরকে ভালোবেসেছে। কেউ কেউ বলেনঃ “আমি বহু বছর ধরে ঈশ্বরকে অনুসরণ করেছি, এবং তাঁর কত অনুগ্রহ, কত আশীর্বাদ লাভ করেছি। তাঁর বাক্য দ্বারাই আমার পরিমার্জনা ও বিচার হয়েছে। তাই আমি অনেক কিছু বুঝতে পেরেছি, এবং আমি ঈশ্বরের ভালোবাসা দেখেছি। তাঁকে আমার ধন্যবাদ জানাতেই হবে, তাঁর অনুগ্রহ আমাকে পরিশোধ করতেই হবে। মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে ঈশ্বরকে আমি সন্তুষ্ট করব, আমার বিবেকের ভিত্তিতেই তাঁর জন্য আমার ভালোবাসা উৎসারিত হবে”। মানুষ যদি শুধুমাত্র তাদের বিবেকের অনুভূতির কথা শোনে তবে তারা ঈশ্বরের মাধুর্য অনুভব করতে পারবে না। তারা যদি সম্পূর্ণভাবে বিবেকের ওপর নির্ভর করে তবে ঈশ্বরের প্রতি তাদের ভালোবাসা হবে দুর্বল। তুমি যদি শুধুমাত্র ঈশ্বরের অনুগ্রহ ও ভালোবাসা পরিশোধে কথা বল তাহলে তাঁর প্রতি তোমার ভালোবাসায় কোনো তাগিদ থাকবে না। তোমার বিবেকের অনুভূতির ওপর ভিত্তি করে তাঁকে ভালোবাসাটা একটা নিষ্ক্রিয় প্রক্রিয়া। কেন আমি একে নিষ্ক্রিয় প্রক্রিয়া বলছি? একটা একটা ব্যবহারিক বিষয়। ঈশ্বরের প্রতি তোমাদের ভালোবাসাটা আসলে কী ধরনের ভালোবাসা? এটা কি শুধুমাত্র ঈশ্বরকে প্রবঞ্চনা করে দায়সারা কাজ নয়? অধিকাংশ মানুষের বিশ্বাস, ঈশ্বরকে ভালোবাসার যেহেতু কোনো পুরস্কার নেই, এবং তাঁকে ভালো না বাসার জন্যও একই শাস্তি রয়েছে, সেহেতু মোটের ওপর পাপকাজ না করলেই চলবে। তাই বিবেকের ওপর ভিত্তি করে ঈশ্বরকে ভালোবাসা এবং তাঁর ভালোবাসার পরিশোধ একান্তই নিষ্ক্রিয় পদ্ধতি, যে ভালোবাসা হৃদয় থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আসে ঈশ্বরের প্রতি এটা সেই ভালোবাসা নয়। ঈশ্বরের প্রতি ভালোবাসার অনুভূতি আসবে একজন মানুষের হৃদয়ের গভীর থেকে। কেউ কেউ আবার বলেন: “আমি নিজেই ঈশ্বরের অন্বেষণে ও তাঁকে অনুসরণে আগ্রহী। এমনকী, এখন যদি ঈশ্বর আমাকে পরিত্যাগও করতে চান তবুও আমি তাঁকেই অনুসরণ করব। তিনি আমাকে চান বা না চান, আমি তাঁকে ভালোবাসব, এবং অবশেষে আমি নিশ্চিতভাবেই তাঁকে লাভ করব। আমি আমার হৃদয়কে ঈশ্বরের কাছে উৎসর্গ করছি, এবং তিনি যাই করুন না কেন আমিও সারাজীবন ধরে তাঁকেই অনুসরণ করব। যাই ঘটুক না কেন আমি ঈশ্বরকে ভালোবাসব ও তাঁকে লাভ করবোই। তাঁকে না পাওয়া পর্যন্ত বিরাম নেবো না”। তোমার মধ্যে এই রকম দৃঢ় সংকল্প রয়েছে?

ঈশ্বরকে বিশ্বাস করার ও তাঁকে ভালোবাসার পথটা একই। তুমি যদি তাঁকে বিশ্বাস করো, তবে তাঁকে তুমি ভালোবাসবেই; তবে ভালোবাসার অর্থ শুধু তাঁর ভালোবাসা পরিশোধ করা বা বিবেকের অনুভূতির ওপর ভিত্তি করে তাঁকে ভালোবাসা নয় – এটা হল ঈশ্বরের জন্য খাঁটি ভালোবাসা। শুধুমাত্র বিবেকের ওপর ভিত্তি করে মানুষ কখনো কখনো ঈশ্বরের ভালোবাসা অনুভব করতে পারে না। আমি কেন সবসময় বলেছি: “ঈশ্বরের আত্মা আমাদের আত্মাকে চালনা করুক”। আমি কেন ঈশ্বরকে ভালোবাসার জন্য মানুষের বিবেককে চালনা করার কথা বলিনি? তার কারণ, মানুষের বিবেক ঈশ্বরের মাধুর্যকে উপলব্ধি করতে পারে না। এই কথায় যদি তোমাদের প্রত্যয় না জাগে, তাহলে বিবেক দিয়ে তাঁর ভালোবাসাকে অনুভবের চেষ্টা করো। মুহূর্তের জন্য তোমার মধ্যে হয়তো একটা তাগিদ জাগবে, কিন্তু খুব শীঘ্রই সেটা হারিয়ে যাবে। তুমি যদি শুধুমাত্র বিবেক দিয়ে ঈশ্বরের মাধুর্য উপলব্ধির চেষ্টা করো, তাহলে প্রার্থনার সময় তোমার মনে একটা তাড়না আসবে, কিন্তু ঠিক তার পরেই সেই তাড়না ফিকে হতে হতে বিলীন হয়ে যাবে। কিন্তু সেটা কেন ঘটে? তুমি যদি শুধুমাত্র তোমার বিবেককে কাজে লাগাও তাহলে ঈশ্বরের প্রতি নিজের ভালোবাসাকে তুমি জাগ্রত করতে পারবে না; তুমি যখন হৃদয় দিয়ে ঈশ্বরের মাধুর্যকে উপলব্ধি করবে তখন তোমার আত্মা তাঁর দ্বারা চালিত হবে, একমাত্র সেই সময় তোমার বিবেক তার প্রকৃত ভূমিকা পালন করতে পারবে। অর্থাৎ, ঈশ্বর যখন মানুষের আত্মাকে উদ্বুদ্ধ করেন এবং মানুষ যখন জ্ঞান লাভ করে এবং যখন সে হৃদয়ে অনুপ্রাণিত হয়, অর্থাৎ, যখন সে অভিজ্ঞতা অর্জন করে একমাত্র তখনই সে বিবেক দিয়ে যথার্থভাবে ঈশ্বরকে ভালোবাসতে পারবে। তোমার বিবেক দিয়ে ঈশ্বরকে ভালোবাসাটা ভুল নয় – সেটা ঈশ্বরকে ভালোবাসার সবচেয়ে নীচের ধাপ। শুধুমাত্র “ঈশ্বরের অনুগ্রহের প্রতি সুবিচারের মাধ্যমে” যে ভালোবাসা তা মানুষকে সক্রিয় হয়ে ওঠার জন্য উদ্বুদ্ধ করবে না। মানুষ যখন পবিত্র আত্মার কিছু কাজের দায়িত্ব পায়, অর্থাৎ, যখন তারা তাদের ব্যবহারিক অভিজ্ঞতায় ঈশ্বরের ভালোবাসাকে প্রত্যক্ষ করতে ও অনুভব করতে পারে, যখন ঈশ্বরের সম্বন্ধে কিছু জ্ঞান অর্জন করতে এবং সত্যিকারের বুঝতে পারে যে ঈশ্বর মানবজাতির ভালোবাসার কতখানি হকদার এবং তিনি কতটা মধুর একমাত্র তখনই তারা তাঁকে প্রকৃত অর্থে ভালোবাসতে পারে।

নিজেদের হৃদয় দিয়ে মানুষ যখন ঈশ্বরের সঙ্গে সংযোগস্থাপন করে, তখন তাদের হৃদয় সম্পূর্ণভাবে ঈশ্বরের অভিমুখে যেতে পারে, এটাই ঈশ্বরের প্রতি মানুষের ভালোবাসার প্রথম ধাপ। তুমি যদি ঈশ্বরকে ভালোবাসতে চাও তাহলে তাহলে তাঁর কাছে হৃদয় নিবেদন করো। ঈশ্বরের কাছে হৃদয় নিবেদনের অর্থ কী? হৃদয় দিয়ে তুমি যা কিছুই করো তার লক্ষ্য যদি ঈশ্বরপ্রেম আর ঈশ্বরলাভ হয়ে থাকে তাহলেই তুমি ঈশ্বর অভিমুখী হবে। এ থেকে বোঝা যায় যে তোমার হৃদয় সম্পূর্ণভাবেই ঈশ্বরে নিবেদিত। ঈশ্বর ও তাঁর বাক্য ব্যতীত তোমার হৃদয়ে কোনোকিছুরই প্রায় আর কোনো স্থান নেই (পরিবার, সম্পদ, স্বামী, স্ত্রী, সন্তান ইত্যাদি)। এমনকী যদি থেকেও থাকে তবে সেটা তোমার হৃদয়কে দখল করতে পারবে না, তুমি নিজের ভবিষ্যতের সম্ভাবনা নিয়ে আর কোনো চিন্তাভাবনা করবে না, শুধুমাত্র ঈশ্বরকেই ভালোবেসে যাবে। এই রকম সময়ে তোমার হৃদয় সম্পূর্ণভাবে ঈশ্বরের কাছে নিবেদিত হবে। ধরা যাক মনে মনে এখনও তুমি নিজের জন্য অনেক পরিকল্পনা করছ, ব্যক্তিগত মুনাফার পেছনে ছুটছ, সবসময় ভাবছ: “ভগবানের কাছে কখন আমি একটা ছোট্ট অনুরোধ রাখতে পারব? কখন আমার পরিবার বিত্তবান হবে? কীভাবে আমি সুন্দর একটা বস্ত্র পাবো? ...” এই যদি তোমার মনের অবস্থা হয় তাহলে বুঝতে হবে যে তোমার হৃদয় সম্পূর্ণভাবে ঈশ্বরে সমর্পিত হয়নি। ঈশ্বরের বাক্য যদি তুমি হৃদয়ে ধারণ করো তাহলে তুমি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতে পারবে এবং সবসময়ের জন্য তাঁর নিকটে থাকতে পারবে – যেন তিনিই সবসময় তোমার পাশে রয়েছেন, যেন ঈশ্বর তোমার মধ্যে বিরাজ করছেন এবং তুমি বিরাজ করছ তাঁর মধ্যে – এই রকম অবস্থা হলে বুঝতে হবে তোমার হৃদয় ঈশ্বরের অস্তিত্বের মধ্যেই রয়েছে। তুমি যদি প্রতিদিন ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করো এবং তাঁর বাক্য ভোজন ও পান করো, যদি তুমি গির্জার কাজের কথা সবসময় চিন্তা করো, ঈশ্বরের ইচ্ছার ওপর মনোনিবেশ করো, নিজের হৃদয় দিয়ে যদি তাঁকে আন্তরিকভাবে ভালোবাসো ও তাঁর হৃদয়কে তৃপ্ত করো তাহলে তোমাদের হৃদয় ঈশ্বরের অধিকারভুক্ত হবে। তোমাদের হৃদয় যদি অন্যান্য বিষয়ে ভারাক্রান্ত থাকে তাহলে বুঝতে হবে যে তা প্রকৃত অর্থে ঈশ্বর-অভিমুখী হয়নি। কারো হৃদয় যখন সম্পূর্ণভাবে ঈশ্বরের কাছে নিবেদিত হবে তখন তাদের মনে তাঁর প্রতি খাঁটি ও স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসা জাগবে এবং তাঁরা ঈশ্বরের কাজের পর্যালোচনা করতে পারবে। তাদের মধ্যে মাঝে মাঝে অজ্ঞতা, যুক্তিহীনতার মুহূর্ত আসতেই পারে, তবে তারা ঈশ্বরের গৃহের স্বার্থ, তাঁর কর্ম ও নিজের স্বভাবের পরিবর্তনের প্রসঙ্গে চিন্তা করার পরিচায়ক, এবং তাদের হৃদয়ের অভিপ্রায় সৎ। কেউ কেউ আবার সবসময় দাবি করে যে তারা যা কিছু করে সব গির্জার জন্য, কিন্তু আদতে তাদের সব কাজই নিজেদের স্বার্থের জন্য। এই ধরনের মানুষের অভিপ্রায় মন্দ। তারা কুটিল এবং শঠ, এবং তারা যা কিছু করে তার বেশিরভাগই নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য। এই ধরনের মানুষেরা ঈশ্বরের ভালোবাসার জন্য ব্যাকুল হয় না, তাদের হৃদয় এখনও শয়তানের দখলে এবং তারা ঈশ্বরের কাছে যেতে পারে না। তাই এই ধরনের মানুষদের গ্রহণ করার জন্য ঈশ্বরের কাছে কোনো পথই আর খোলা নেই।

তুমি যদি প্রকৃত অর্থেই ভালোবাসতে চাও এবং তাঁর দ্বারা অর্জিত হতে চাও তাহলে তার প্রথম ধাপ হিসাবে নিজের হৃদয়কে সম্পূর্ণভাবে ঈশ্বরের কাছে নিবেদন করো। যখনই কোনো কাজ করবে তখনই নিজের ভেতরটা তলিয়ে দেখবে এবং নিজেকে জিজ্ঞাসা করবে: “আমি কি ঈশ্বরের ভালোবাসায় পরিপূর্ণ হৃদয়ের ওপর ভিত্তি করে এই কাজ করছি? এর পেছনে আমার কি কোনো ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য রয়েছে? এটা করার পেছনে আমার আসল লক্ষ্য কী?” তুমি যদি নিজের হৃদয়কে ঈশ্বরের কাছে সমর্পণ করতে চাও তাহলে প্রথমে নিজের হৃদয়কে সংযত করো, নিজেদের সমস্ত স্বার্থ পরিত্যাগ করো এবং নিজের অবস্থাকে ঈশ্বরের জন্য প্রস্তুত করো। এটাই ঈশ্বরের কাছে নিজের হৃদয় সমর্পণের অনুশীলনের পথ। নিজের হৃদয়কে সংযত করার অর্থ কী? এ হল অতিরিক্ত দৈহিক চাহিদা পরিহার তথা আরাম বা সামাজিক মর্যাদার সুবিধাগুলির প্রতি আসক্তি ত্যাগ। এর অর্থ হল ঈশ্বরের সন্তুষ্টির জন্যই সমস্ত কিছু করা এবং নিজের জন্য নয়, বরং ঈশ্বরের জন্যই হৃদয়কে পূর্ণ রাখা। এটাই যথেষ্ট।

ইশ্বরের প্রতি খাঁটি ভালোবাসা হৃদয়ের গভীর থেকে আসে; ঈশ্বর সম্বন্ধে মানুষের জ্ঞানের ভিত্তির ওপরই এই ভালোবাসা দাঁড়িয়ে থাকে। কারো হৃদয় যখন সম্পূর্ণরূপে ঈশ্বরে নিবেদিত হয় তখন তারা ঈশ্বরের জন্য ভালোবাসা অনুভব করে, তবে এই ভালোবাসা যে শুদ্ধ এবং সম্পূর্ণ হবে তার কোনো মানে নেই। কারণ ঈশ্বরের প্রতি সেই ব্যক্তির হৃদয় সমর্পণ এবং সেই ব্যক্তির প্রকৃত ঈশ্বর উপলব্ধি ও তার ঈশ্বর উপাসনার মধ্যে এখনও কিছুটা ফাঁক রয়ে গেছে। ঈশ্বরের কাছে হৃদয় নিবেদনের মাধ্যমে মানুষ প্রকৃত অর্থে ঈশ্বরকে ভালোবাসতে পারে, তাঁর স্বভাব সম্বন্ধে জানতে পারে। মানুষ যখন ঈশ্বরের কাছে হৃদয় সমর্পণ করে তখন সে জীবনের অভিজ্ঞতার মধ্যে প্রবেশ করতে শুরু করে। এইভাবেই তার স্বভাবের পরিবর্তন শুরু হয়, ঈশ্বরের প্রতি তার ভালোবাসা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে, ঈশ্বর সম্বন্ধে তার জ্ঞানও ধীরে ধীরে বাড়ে। তাই ঈশ্বরের কাছে হৃদয় সমর্পণই জীবন অভিজ্ঞতার সঠিক পথে চালিত হওয়ার পূর্বশর্ত। মানুষ যখন ঈশ্বরের কাছে নিজেদের হৃদয় নিবেদন করে, তখন তাঁর জন্য হৃদয় আকুল হয়, কিন্তু তাঁর প্রতি হৃদয়ে ভালোবাসা থাকে না, কারণ ঈশ্বর সম্বন্ধে তাদের জ্ঞানই নেই। যদিও এই পরিস্থিতিতেও তাদের মনে তাঁর জন্য কিছুটা ভালোবাসা থাকে, কিন্তু এটা স্বতঃস্ফূর্ত নয়, খাঁটি নয়। কারণ মানুষের দেহ থেকে যা উৎপন্ন হয় তা আবেগের ফসল, তা প্রকৃত উপলব্ধি থেকে আসে না। এটা মুহূর্তের আবেগ, এবং তা দীর্ঘস্থায়ী ভালোবাসা হয়ে উঠতে পারে না। মানুষের যখন ঈশ্বর উপলব্ধি থাকে না তখন তারা নিজেদের পছন্দ-অপছন্দ বা ব্যক্তিগত ধ্যানধারণার ভিত্তিতে তাঁকে ভালোবাসতে পারে; এই ধরনের ভালোবাসাকে স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসা বলা যায় না, খাঁটি ভালোবাসাও বলা যায় না। একজন মানুষের হৃদয় প্রকৃত অর্থেই ঈশ্বরে নিবেদিত হতে পারে, এবং সমস্ত কিছুতেই সে ঈশ্বরের স্বার্থ নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে পারে, কিন্তু ঈশ্বরের জ্ঞান যদি না থাকে তবে সে প্রকৃত অর্থে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঈশ্বরকে ভালোবাসতে পারবে না। সে বড়জোর গির্জার জন্য কিছু কাজ করতে পারে, নিজের দায়িত্ব কিছুটা পালন করতে পারে, কিন্তু সেগুলোর কোনো ভিত্তি থাকবে না। এই ধরনের মানুষের স্বভাবের পরিবর্তন খুব কঠিন; এই ধরনের মানুষেরা হয় সত্যকে অনুসরণ করে না, নয়তো, সত্যকে বোঝেই না। এমনকী, যদি কোনো ব্যক্তি ঈশ্বরের কাছে সম্পূর্ণভাবে নিজের হৃদয় নিবেদনও করে, তার অর্থ এই নয় যে ঈশ্বর প্রেমে পূর্ণ তাদের হৃদয় পুরোপুরি শুদ্ধ, কারণ যাদের হৃদয়ে ঈশ্বর রয়েছে তাদের হৃদয়ে যে ঈশ্বরের জন্য ভালোবাসাও থাকবে তার কোনো মানে নেই। এখানেই যে মানুষ ঈশ্বরের জ্ঞান লাভ করে আর যে মানুষ এই জ্ঞান লাভ করে না তাদের মধ্যে পার্থক্য। মানুষের মনে একবার ঈশ্বর উপলব্ধি আসা মানেই তাদের হৃদয় সম্পূর্ণ রূপে ঈশ্বরে নিবেদিত হয়েছে, এবং তাদের হৃদয়ে ঈশ্বরের প্রতি এই খাঁটি ভালোবাসা স্বতঃস্ফূর্ত। একমাত্র এই ধরনের মানুষের হৃদয়েই ঈশ্বর বিরাজ করেন। ঈশ্বরের প্রতি হৃদয় নিবেদনই সঠিক পথে চলা, ঈশ্বরের জ্ঞান লাভ করা এবং ঈশ্বরকে ভালোবাসার পূর্বশর্ত। এর দ্বারা ঈশ্বরকে ভালোবাসার কর্তব্যকে সম্পূর্ণ পালন করা হচ্ছে কিনা তা চিহ্নিত করা যায় না, বা, কারো মনে ঈশ্বরের জন্য খাঁটি ভালোবাসা রয়েছে কিনা তাও চিহ্নিত করা যায় না। ঈশ্বরকে প্রকৃত অর্থে ভালোবাসার একমাত্র উপায় হল তাঁর কাছে হৃদয় নিবেদন, ঈশ্বরের এক অন্যতম সৃষ্টি হিসাবে একজন ব্যক্তির এটাই প্রথম কাজ। ঈশ্বরকে যারা ভালোবাসে তারা সবাই জীবনকে অনুসরণ করে, অর্থাৎ, যারা সত্যকে অনুসরণ করে ও প্রকৃত অর্থে ঈশ্বরকে লাভ করতে চায় তারা সবাই পবিত্র আত্মার দ্বারা আলোকপ্রাপ্ত হয় এবং তাঁর দ্বারা চালিত হয়। তারা সবাই ঈশ্বরের পথনির্দেশ লাভ করে।

কোনো কোনো ব্যক্তি যখন মনে করেন যে তাঁরা ঈশ্বরের কাছে ঋণী, তখন বুঝতে হবে তাঁরা আত্মার দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়েছেন; যাদের মনে এই অনুভূতি আসে তাদের হৃদয় আকুল হয়ে ওঠে এবং তারা জীবনে প্রবেশের পথে এগোতে পারে। কিন্তু তুমি যদি একটা নির্দিষ্ট ধাপে এসে দাঁড়িয়ে যাও তাহলে তুমি আরো গভীরে আর যেতে পারবে না; শয়তানের ফাঁদে ধরা পড়ার বিপদ থেকে যাবে, এবং একটা নির্দিষ্ট স্থানে শয়তান তোমাকে বন্দী বানিয়ে ফেলবে। ঈশ্বরের প্রদীপ্তি মানুষকে নিজেদের জানতে এবং পরবর্তী সময়ে ঈশ্বরের প্রতি নিজেদের ঋণী বলে ভাবতে সাহায্য করে; তাঁরা ঈশ্বরের সঙ্গে সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসে এবং যা কিছু ঈশ্বরের অপছন্দ সেই সমস্তকিছুই তারা ছুঁড়ে ফেলে দেয়। এটাই ঈশ্বরের কর্মের নীতি। তোমরা সকলে জীবনে বিকশিত হতে ও ঈশ্বরকে ভালোবাসতে চাও, কিন্তু তুমি কি নিজের ভাসাভাসা, অগভীর পথগুলি ছেড়ে বেরিয়ে এসেছ? তুমি যদি এই অগভীর পথগুলি ছেড়ে বেরিয়ে আসতে পারো এবং ধ্বংসাত্মক ও দাম্ভিক আচরণ থেকে বিরত থাকতে পারো তাহলে কি সত্যিই তুমি জীবনে বিকশিত হতে পারবে? সমস্ত অগভীর আচরণ থেকে নিজেকে মুক্ত করেও যদি তুমি ঈশ্বরের বাক্যে প্রবেশ করতে না পারো তাহলে বোঝা যায় যে তোমার আসলে কোনো উন্নতি হয়নি। তোমার এই অগভীর আচরণের মূল কারণ কী? তোমার সব কাজ কি শুধুমাত্র জীবনে বিকশিত হওয়ার জন্যই? ঈশ্বর মনোনীত ব্যক্তি হিসাবে নিজেকে চালিয়ে দিতে চাও? তোমার লক্ষ্য যাই হোক না কেন এই লক্ষ্যেই তুমি বেঁচে থাকবে, অগভীর আচরণের মধ্যেই যদি তোমার লক্ষ্য সীমাবদ্ধ হয়ে থাকে তাহলে তোমার হৃদয়ের বাহ্যিক প্রকাশই ঘটবে, এবং জীবনে বিকশিত হওয়ার আর কোনো পথই তোমার খোলা থাকবে না। ঈশ্বর চান স্বভাবের পরিবর্তন, কিন্তু বাহ্যিক বিষয়গুলির প্রতিই তোমার সবসময় নজর; এই ধরনের ব্যক্তিরা নিজেদের স্বভাবের পরিবর্তন ঘটাতে পারে না! জীবনে পরিণত হয়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় প্রত্যেককেই একটা পথ অনুসরণ করতে হবেঃ তাদের অবশ্যই ঈশ্বরের বিচার, শাস্তি এবং ঈশ্বরবাক্যের ত্রুটিহীনতাকে মাথা পেতে নিতে হবে। ঈশ্বরের বাক্য লাভ না করে তুমি যদি শুধুমাত্র নিজের আত্মবিশ্বাস ও ইচ্ছার ওপর আস্থা রাখো, তাহলে তুমি যাকিছু করো না কেন, সেটা করবে গভীর উদ্যম থেকে। অর্থাৎ, যদি জীবনের বিকাশ চাও ঈশ্বরের বাক্য আরো বেশি করে পান, ভোজন ও অনুধাবন করতে হবে। ঈশ্বরের বাক্য দ্বারা যারা নিখুঁত হয়েছে তারা সেগুলি পালন করতে পারে; আর যারা তাঁর বাক্যের দ্বারা পরিমার্জিত হয়নি তারা ঈশ্বরের কাজে লাগার যোগ্য হয়ে উঠতে পারে না। তাই, তাঁর বাক্য তোমরা কতটা পালন করো? তোমরা যদি শুধুমাত্র ঈশ্বরের বাক্য ভোজন ও পান করো তাহলে সেগুলিকে তোমরা নিজের জীবনের অবস্থার সঙ্গে তুলনা করতে পারবে এবং আমি যে বিষয়গুলি উত্থাপন করলাম তার আলোকে অনুশীলনের একটা পথ খুঁজে পাবে, ঈশ্বরের ইচ্ছার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে তোমাদের অনুশীলন সঠিক হোক। এই ধরনের অনুশীলন যার রয়েছে একমাত্র তারই ঈশ্বরকে ভালোবাসার ইচ্ছা রয়েছে।

পূর্ববর্তী: শুধু যারা ঈশ্বরের আজকের কাজ জানে তারাই ঈশ্বরের সেবা করতে পারে

পরবর্তী: প্রার্থনার অনুশীলন বিষয়ে

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? অনুগ্রহ করে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। 😊

সম্পর্কিত তথ্য

প্রার্থনার অনুশীলন বিষয়ে

তোমরা তোমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রার্থনার উপর জোর দাও না। মানুষ প্রার্থনার বিষয়টিকে অবহেলা করে। প্রার্থনা সাধারণত করা হয়ে থাকে দায়সারাভাবে...

শুধুমাত্র অন্তিম সময়ের খ্রীষ্ট মানুষকে অনন্ত জীবনের পথ দেখাতে পারেন

জীবনের গতিপথ কারও নিয়ন্ত্রণে থাকে না, বা এটি সহজে অর্জন করতে পারার মতো বিষয়ও নয়। কারণ জীবন কেবল ঈশ্বর প্রদত্ত, অর্থাৎ, শুধুমাত্র ঈশ্বর...

ঈশ্বরের সঙ্গে সহজ সম্পর্ক স্থাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

যে পথে মানুষ ঈশ্বরকে বিশ্বাস করে, ভালোবাসে এবং ঈশ্বরের আস্থাভাজন হয়ে ওঠে, সেই পথটি হল নিজের হৃদয়ে ঈশ্বরের পরম শক্তিকে স্থান দিয়ে তাঁর...

সেটিংস

  • লেখা
  • থিমগুলি

ঘন রং

থিমগুলি

ফন্টগুলি

ফন্ট সাইজ

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

পৃষ্ঠার প্রস্থ

বিষয়বস্তু

অনুসন্ধান করুন

  • এই লেখাটি অনুসন্ধান করুন
  • এই বইটি অনুসন্ধান করুন

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন