শুধু যারা ঈশ্বরের আজকের কাজ জানে তারাই ঈশ্বরের সেবা করতে পারে

ঈশ্বরের সাক্ষ্য বহন করতে এবং অতিকায় লাল ড্রাগনকে লজ্জিত করতে হলে কারুর অবশ্যই একটি নীতি থাকতে হবে, এবং অবশ্যই একটি শর্ত পূরণ করতে হবে: কাউকে তাদের হৃদয়ে অবশ্যই ঈশ্বরকে ভালবাসতে হবে এবং তাঁর বাক্যে প্রবেশ করতে হবে। তুমি যদি ঈশ্বরের বাক্যের মধ্যে প্রবেশ না করো, তাহলে শয়তানকে লজ্জা দেওয়ার কোনো উপায়ই থাকবে না। তোমার জীবনে বিকাশের মাধ্যমে, তুমি অতিকায় লাল ড্রাগনকে পরিত্যাগ করো এবং তার উপর চরম অপমান হানো; এ ঘটনা ঘটে শুধুমাত্র এই অতিকায় লাল ড্রাগনকে প্রকৃত লজ্জা দিতে। তুমি ঈশ্বরের বাক্যগুলিকে বাস্তবে প্রয়োগ করতে যত বেশি ইচ্ছুক হবে, ঈশ্বরের প্রতি তোমার প্রেম এবং অতিকায় লাল ড্রাগনের প্রতি তোমার ঘৃণার প্রমাণও ততই বড় হবে; তুমি ঈশ্বরের কথা যত বেশি মানবে, সত্যের জন্য তোমার আকাঙ্ক্ষার প্রমাণও ততই বড় হবে। যারা ঈশ্বরের বাক্যের জন্য ব্যাকুল হয় না তারা জীবনহীন মানুষ। এই ধরনের মানুষেরা ঈশ্বরের বাক্য-বহির্ভূত, যা ধর্মের অন্তর্ভুক্ত। যে সমস্ত মানুষ প্রকৃত অর্থে ঈশ্বরে বিশ্বাস করে তারা ঈশ্বরের বাক্যসমূহকে আহার ও পান করার মাধ্যমে তাঁর বাক্য সম্পর্কে আরও গভীর জ্ঞানের অধিকারী হয়। তুমি যদি ঈশ্বরের বাক্যের জন্য আকুল আকাঙ্ক্ষা না করো, তাহলে তুমি প্রকৃত অর্থে তাঁর বাক্য ভোজন ও পান করতে পারবে না, এবং যদি তোমার ঈশ্বরের বাক্যসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান না থাকে, তাহলে ঈশ্বরের সাক্ষ্য বহন করার বা ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করার কোনো উপায় তোমার নেই।

ঈশ্বরে বিশ্বাস করলে, ঈশ্বরকে কীভাবে চিনতে হবে? বিচ্যুতি বা ভ্রান্ত বিশ্বাস ছাড়াই আজ ঈশ্বরের বাক্য ও কর্মের উপর ভিত্তি করে একজনের ঈশ্বরকে জানতে হবে এবং অন্যান্য সব কিছুর আগে, ঈশ্বরের কাজ সম্পর্কে জানতে হবে। এটি হলো ঈশ্বরকে জানার ভিত্তি। যাতে ঈশ্বরের বাক্য সম্পর্কে বিশুদ্ধ উপলব্ধির অভাব আছে সেই যাবতীয় ভ্রান্ত বিশ্বাস হল ধর্মীয় ধারণা; সেগুলি বিচ্যুত এবং ভ্রান্ত উপলব্ধি। ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের সর্বাধিক উৎকৃষ্ট দক্ষতা হলো অতীতে উপলব্ধি করা ঈশ্বরের বাক্যসমূহ গ্রহণ করা এবং সেগুলির বিরুদ্ধে আজ ঈশ্বরের বাক্যসমূহ পরিমাপ করা। তুমি যদি, আজ ঈশ্বরের সেবা করার সময়, অতীতে পবিত্র আত্মার আলোকপ্রাপ্তি দ্বারা প্রকাশিত জিনিসগুলিকে আঁকড়ে ধরে থাক, তাহলে তোমার সেবা ব্যাহত হবে, এবং তোমার অনুশীলন সেকেলে হয়ে যাবে, যা ধর্মীয় অনুষ্ঠান ছাড়া আর কিছুই নয়। তুমি যদি বিশ্বাস করো যে যারা ঈশ্বরের সেবা করে তাদের, অন্যান্য গুণাবলীর মধ্যে, অবশ্যই বাহ্যিকভাবে নম্র এবং ধৈর্যশীল হতে হবে, এবং তুমি যদি আজ এই ধরনের জ্ঞানকে বাস্তবে প্রয়োগ করো, তাহলে এই ধরনের জ্ঞান হল একটি ধর্মীয় ধারণা; এই ধরনের অনুশীলন একটি কপট প্রদর্শনে পরিণত হয়েছে। “ধর্মীয় ধারণা” শব্দগুচ্ছটি এমন জিনিসগুলিকে বোঝায় যেগুলি সেকেলে এবং অপ্রচলিত (ঈশ্বরের দ্বারা পূর্বে বলা বাক্যগুলির উপলব্ধি এবং পবিত্র আত্মার দ্বারা সরাসরি প্রকাশিত আলোক সহ), এবং যদি সেগুলি আজকে বাস্তবায়িত করা হয়, তাহলে সেগুলি ঈশ্বরের কাজকে ব্যাহত করে এবং মানুষের কোনো উপকারেই আর আসে না। মানুষ যদি ধর্মীয় ধারণার অন্তর্গত সেই জিনিসগুলিকে নিজেদের থেকে অপসারণ করতে না পারে, তবে এই জিনিসগুলি তাদের ঈশ্বরের সেবা করার জন্য একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে। ধর্মীয় ধারণা পোষণ করা মানুষদের পবিত্র আত্মার কর্মের ধাপগুলির সাথে তাল মিলিয়ে চলার কোন উপায় নেই–তারা প্রথমে এক ধাপ পিছিয়ে পড়ে, তারপরে দুই ধাপ। এর কারণ হল, এই ধর্মীয় ধারণাগুলি মানুষকে অসাধারণভাবে স্ব-ধার্মিক ও দাম্ভিক করে তোলে। ঈশ্বর অতীতে যা বলেছেন এবং যা করেছেন তার জন্য কোনো স্মৃতিকাতরতা অনুভব করেন না; যদি কিছু অপ্রচলিত হয়, তিনি তা নির্মূল করে দেন। তুমি কি সত্যিই নিজের ধারণাগুলি পরিত্যাগ করতে অক্ষম? তুমি যদি ঈশ্বরের অতীতে বলা বাক্যগুলিকে আঁকড়ে ধরে থাক, তাহলে কি এটা প্রমাণিত হয় যে তুমি ঈশ্বরের কর্মসমূহ জানো? তুমি যদি আজ পবিত্র আত্মার আলোক গ্রহণ করতে অক্ষম হও এবং তার পরিবর্তে অতীতের আলোকে আঁকড়ে ধরে থাক, তাহলে কি এটি প্রমাণিত হতে পারে যে তুমি ঈশ্বরের পদাঙ্ক অনুসরণ করছো? তুমি কি এখনও ধর্মীয় পূর্বধারণা ছেড়ে দিতে অক্ষম? যদি তাই হয়, তাহলে তুমি এমন একজন হয়ে উঠবে যে ঈশ্বরের বিরোধিতা করে।

মানুষ যদি ধর্মীয় পূর্বধারণাগুলি পরিত্যাগ করতে পারে, তবে তারা আজ ঈশ্বরের বাক্য এবং কর্ম পরিমাপ করতে তাদের মনের ব্যবহার করবে না, এবং তার পরিবর্তে সরাসরি সেগুলি মান্য করবে। যদিও আজ ঈশ্বরের কর্ম অতীতের তুলনায় স্পষ্টতই ভিন্ন, তবুও তুমি অতীতের দৃষ্টিভঙ্গি ছেড়ে দিতে এবং ঈশ্বরের আজকের কর্মকে প্রত্যক্ষ ভাবে মান্য করতে সক্ষম। তুমি যদি বুঝতে সক্ষম হও যে ঈশ্বর অতীতে যেভাবে কাজ করেছেন তা নির্বিশেষে তোমাকে অবশ্যই আজ ঈশ্বরের কাজকে সর্বাধিক বিশিষ্ট স্থান দিতে হবে, তাহলে তুমি এমন একজন যে তাদের পূর্বধারণাগুলি পরিত্যাগ করেছে, যে ঈশ্বরকে মান্য করে এবং যে ঈশ্বরের কর্ম ও বাক্যগুলি মান্য করতে সক্ষম এবং তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করে। এতে, তুমি এমন একজন হয়ে উঠবে যে প্রকৃতই ঈশ্বরকে মান্য করে। তুমি ঈশ্বরের কর্মকে বিশ্লেষণ বা যাচাই-বাছাই করো না; যেন ঈশ্বর তাঁর আগের কর্মসমূহ বিস্মৃত হয়েছেন, আর তুমিও সেসব ভুলে গেছ। বর্তমান হল বর্তমান, এবং অতীত হল অতীত, এবং যেহেতু আজ, ঈশ্বর অতীতে যা করেছেন তা একপাশে সরিয়ে রেখেছেন, তোমারও এই নিয়ে বেশি ভাবিত হওয়া উচিত নয়। কেবলমাত্র সেই ব্যক্তিই হলো এমন একজন যে ঈশ্বরকে সম্পূর্ণরূপে মান্য করে এবং যে তাদের ধর্মীয় ধারণাগুলিকে সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাগ করেছে।

ঈশ্বরের কর্মে সর্বদাই যেহেতু নতুন নতুন পরিবর্তন ঘটে থাকে, তাই এমন কিছু কাজ আছে যা নতুন কাজ শুরু হলে অপ্রচলিত ও পুরোনো হয়ে যায়। পুরাতন এবং নতুন এই বিভিন্ন ধরনের কাজ পরস্পরবিরোধী নয়, বরং পরিপূরক; প্রতিটি ধাপ বিগত ধাপটিকে অনুসরণ করে। যেহেতু নতুন কর্ম রয়েছে, সেহেতু পুরাতন জিনিসকে অবশ্যই বাদ দিতে হবে। উদাহরণ স্বরূপ, মানুষের বহু বছরের অভিজ্ঞতা ও শিক্ষার সাথে মিলিত হয়ে মানুষের বহুদিন ধরে প্রতিষ্ঠিত কিছু অভ্যাস ও রীতিসিদ্ধ বাক্য, মানুষের অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলে, বিভিন্ন প্রকার ও প্রকরণবিশিষ্ট ধারণার জন্ম দিয়েছে। যে ঈশ্বর এখনও মানুষের কাছে তাঁর আসল চেহারা এবং অন্তর্নিহিত প্রকৃতিকে সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করেননি, বহু বছর ধরে, প্রাচীন কাল থেকে প্রচলিত তত্ত্বের বিস্তারের সাথে সাথে মানুষের এই ধরনের ধারণাগুলি গড়ে ওঠার জন্য আরও বেশি উপযোগী হয়েছে। এটা বলা যেতে পারে যে, ঈশ্বরে মানুষের বিশ্বাসের সময়, বিভিন্ন ধারণার প্রভাব মানুষের মধ্যে ঈশ্বরের সমস্ত ধরনের ধারণাগত উপলব্ধির ক্রমাগত গঠন এবং বিবর্তনের দিকে পরিচালিত করেছে, যার ফলে ঈশ্বরের সেবা করে এরকম অনেক ধার্মিক মানুষই তাঁর শত্রু হয়ে উঠেছে। সুতরাং, মানুষের ধর্মীয় ধারণা যত বেশি শক্তিশালী, তারা তত বেশি ঈশ্বরের বিরোধিতা করে এবং তারা ততটাই বেশি করে ঈশ্বরের শত্রুতে পরিণত হয়। ঈশ্বরের কাজ সবসময় নতুন এবং তা কখনই পুরোনো হয় না; এটি কখনই মতবাদ গঠন করে না, তার পরিবর্তে তা ক্রমাগত পরিবর্তিত হয় এবং বৃহত্তর বা ক্ষুদ্রতর পরিসরে পুনর্নবীকৃত হয়। এইভাবে কর্ম সম্পাদন করা হলো স্বয়ং ঈশ্বরের অন্তর্নিহিত প্রকৃতির প্রকাশ। এটি ঈশ্বরের কর্মের অন্তর্নিহিত নীতি, এবং একটি উপায় যার দ্বারা ঈশ্বর তাঁর ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন করেন। যদি ঈশ্বর এইভাবে কর্ম সম্পাদন না করেন, তাহলে মানুষ পরিবর্তিত হবে না বা ঈশ্বরকে জানতে সক্ষম হবে না, এবং শয়তান পরাজিত হবে না। এইভাবে, তাঁর কর্মের মধ্যে, পরিবর্তনগুলি ক্রমাগত ঘটে যা অনিয়মিত দেখালেও প্রকৃতপক্ষে সেগুলি কিন্তু পর্যায়ক্রমিক। মানুষ যেভাবে ঈশ্বরে বিশ্বাস করে, তা কিন্তু একেবারেই আলাদা। সে পুরোনো, পরিচিত মতবাদ এবং প্রণালীগুলিকে আঁকড়ে ধরে থাকে এবং সেগুলি যত বেশি পুরোনো হয়, ততই তার কাছে সুস্বাদু হয়ে ওঠে। মানুষের মূর্খ মন, যে মন পাথরের মত অনমনীয়, ঈশ্বরের এত অভাবনীয় নতুন কর্ম ও বাক্য কীভাবে মেনে নিতে পারে? মানুষ ঈশ্বরকে ঘৃণা করে যিনি সর্বদা নতুন এবং কখনও পুরোনো নন; সে কেবল বৃদ্ধ ঈশ্বরকেই পছন্দ করে, যাঁর দাঁতগুলি লম্বা, চুল সাদা এবং যিনি এক জায়গায় আটকা পড়ে রয়েছেন। সুতরাং, ঈশ্বর এবং মানুষ প্রত্যেকের নিজস্ব পছন্দ আছে বলে, মানুষ ঈশ্বরের শত্রু হয়ে উঠেছে। এই দ্বন্দ্বের অনেকগুলি আজও বিদ্যমান, এমন এক সময়ে যখন ঈশ্বর প্রায় ছয় হাজার বছর ধরে নতুন কাজ করে চলেছেন। তারা, তাহলে, প্রতিকারের বাইরে। সম্ভবত এটি মানুষের একগুঁয়েমির কারণে, বা ঈশ্বরের প্রশাসনিক ফরমানসমূহ মানুষের দ্বারা অলঙ্ঘনীয় হওয়ার কারণে-কিন্তু সেই পুরুষ ও মহিলা পুরোহিতরা এখনও ছাতাপড়া পুরোনো গ্রন্থ এবং কাগজপত্র আঁকড়ে ধরে থাকে, যখন ঈশ্বর তাঁর ব্যবস্থাপনার অসম্পূর্ণ কাজটি চালিয়ে যান, যেন তাঁর পাশে কেউ ছিল না। যদিও এই দ্বন্দ্বগুলি ঈশ্বরের ও মানুষের শত্রু করে তোলে এবং এগুলি অমীমাংসিত হলেও, ঈশ্বর সেগুলির প্রতি কোনো মনোযোগ দেন না, যেন সেগুলি একই সঙ্গে সেখানে ছিলও আবার ছিলও না। মানুষ, তা স্বত্বেও, এখনও তার বিশ্বাস এবং ধারণাগুলিকেই আকঁড়ে ধরে থাকে এবং সেগুলিকে কখনও পরিত্যাগ করে না। তবুও একটি বিষয় স্বতঃসিদ্ধ: মানুষ তার অবস্থান থেকে বিচ্যুত না হলেও, ঈশ্বরের চরণ সর্বদাই চলমান, এবং তিনি সর্বদাই পরিবেশ অনুসারে তাঁর অবস্থান পরিবর্তন করছেন। শেষ পর্যন্ত, মানুষই বিনা লড়াইয়ে পরাজিত হবে। ঈশ্বর, ইতিমধ্যে, তাঁর সমস্ত পরাজিত শত্রুদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ শত্রু, এবং একইভাবে পরাজিত এবং অপরাজিত নির্বিশেষে মানবজাতির মধ্যেও বিজয়ী। ঈশ্বরের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে কেই বা বিজয়ী হতে পারে? মানুষের ধারণাগুলি ঈশ্বরের কাছ থেকে এসেছে বলে মনে হয় কারণ সেগুলির অনেকগুলিরই উদ্ভব ঘটেছিল ঈশ্বরের কর্মের প্রাক্কালে। তা স্বত্বেও, ঈশ্বর এই কারণে মানুষকে ক্ষমা করেন না, বা এছাড়াও তিনি তার কর্মের প্রাক্কালে তাঁর কাজের বাইরে “ঈশ্বরের জন্য” সারি সারি পণ্য উত্পাদন করার জন্য মানুষের প্রশংসা করেন না। তার বদলে, তিনি মানুষের ধারণা এবং পুরোনো, পুণ্য বিশ্বাসগুলির প্রতি অত্যন্ত বিরক্ত এবং এই ধারণাগুলি প্রথম যেদিন উত্থাপিত হয়েছিল সেই দিনটিকে স্বীকার করার মতো মনও তাঁর নেই। তিনি মোটেও স্বীকার করেন না যে এই ধারণাগুলি তাঁর কর্মের দ্বারা সৃষ্ট, কারণ মানুষের ধারণা মানুষের দ্বারা ছড়িয়েছে; সেগুলির উৎস হলো মানুষের চিন্তাভাবনা ও মন–ঈশ্বর নন, শয়তান। ঈশ্বরের অভিপ্রায় সর্বদাই ছিল যাতে তাঁর কর্ম নতুন এবং জীবন্ত হয়, পুরোনো এবং মৃত নয়, এবং মানুষের মেনে চলার জন্য তাঁর কাছে যা আছে তা বয়স ও সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয় এবং সেগুলি চিরস্থায়ী আর অপরিবর্তনীয় নয়। এর কারণ হল যে তিনি হলেন একজন ঈশ্বর যাঁর কারণে মানুষ জীবিত ও নতুন হয়, একজন শয়তান নয় যে হল মানুষের মৃত্যুর ও বৃদ্ধ হওয়ার কারণ। তোমরা কি এখনও এটা বোঝো না? ঈশ্বর সম্পর্কে তোমার ধারণা আছে এবং তুমি সংকীর্ণমনা বলে সেগুলিকে পরিত্যাগ করতে অক্ষম। এর কারণ এই নয় যে ঈশ্বরের কর্মের মধ্যে খুব কম কারণ আছে, বা ঈশ্বরের কর্ম মানুষের ইচ্ছা থেকে বিচ্ছিন্ন, উপরন্তু, এই জন্যও নয় যে ঈশ্বর সর্বদা তাঁর কর্তব্যে অবহেলা করেন। তুমি তোমার ধারণাগুলি ত্যাগ করতে পারো না কারণ তোমার মধ্যে আজ্ঞাকারিতার অত্যন্ত অভাব রয়েছে, এবং সৃষ্ট সত্তার সামান্যতম সাদৃশ্যও তোমার মধ্যে নেই; এই নয় যে ঈশ্বর তোমার জন্য বিষয়গুলি কঠিন করে দিচ্ছেন। এই সবকিছু তুমিই ঘটিয়েছ, এবং এর সঙ্গে ঈশ্বরের সঙ্গে কোন সম্পর্ক নেই; যাবতীয় দুঃখ এবং দুর্ভাগ্য মানুষের দ্বারা সৃষ্ট। ঈশ্বরের চিন্তাভাবনা সর্বদাই উত্তম: তিনি চান না যে তুমি কোনো ধারণা তৈরি করো, তিনি চান যেন তুমি যুগের সাথে সাথে পরিবর্তিত এবং পুনরায় নতুন হয়ে ওঠো। তা সত্ত্বেও তুমি জানো না যে তোমার জন্য কী ভালো, এবং তুমি সর্বদাই হয় খুঁটিয়ে দেখছো বা বিশ্লেষণ করছো। এমনটা নয় যে ঈশ্বর তোমার জন্য বিষয়গুলি কঠিন করে তুলছেন, অথচ ঈশ্বরের প্রতি তোমার কোন শ্রদ্ধা নেই এবং তোমার অবাধ্যতা অত্যন্ত বেশি। একটি ক্ষুদ্র সৃষ্ট সত্তা, এমন কিছু তুচ্ছ অংশ নেওয়ার সাহস করে, যা পূর্বে ঈশ্বরেরই প্রদত্ত, তারপর ঘুরে দাঁড়ায় এবং ঈশ্বরকে আক্রমণ করার জন্য তা ব্যবহার করে–এটি কি মানুষের অবাধ্যতা নয়? এটা বলা ন্যায়সঙ্গত যে মানুষ ঈশ্বরের সামনে তাদের মতামত প্রকাশ করার জন্য সম্পূর্ণরূপে অযোগ্য, এবং এখনও তারা নিজেদের ইচ্ছামতো তাদের মূল্যহীন, দুর্গন্ধযুক্ত, পচে যাওয়া, মধুর ভাষাকে জাহির করার জন্য ব্যবহার করার যোগ্যই নয়–সেই সমস্ত সেকেলে ধারণাগুলি সম্পর্কে তো কিছুই না বলা-ই ভালো জন্য। তারা কি আরও মূল্যহীন নয়?

যে প্রকৃত অর্থে ঈশ্বরের সেবা করে সে হল এমন একজন যে ঈশ্বরের ইচ্ছার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ, যে ঈশ্বরের দ্বারা ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত এবং যে ধর্মীয় ধারণাগুলি পরিত্যাগ করতে সক্ষম। তুমি যদি তোমার ঈশ্বরের বাক্য ভোজন ও পান করাকে কার্যকর করতে চাও, তাহলে তোমাকে অবশ্যই নিজের ধর্মীয় ধারণাগুলি পরিত্যাগ করতে হবে। তুমি যদি ঈশ্বরের সেবা করতে চাও, তাহলে প্রথমেই ধর্মীয় ধারণাগুলি পরিত্যাগ করা এবং সবকিছুতে ঈশ্বরের বাক্য মান্য করা আরও বেশি প্রয়োজন। ঈশ্বরের সেবা করে এমন একজনের কাছে এই গুণ থাকা উচিত। তোমার এই জ্ঞানের অভাব থাকলে তুমি সেবা করার সাথে সাথেই বিঘ্ন ও ব্যাঘাত ঘটাবে এবং তুমি যদি নিজের ধারণাগুলি ধরে রাখো তাহলে ঈশ্বর তোমাকে অবশ্যই আছড়ে ফেলবেন, তুমি আর কখনও উঠে দাঁড়াবে না। উদাহরণ স্বরূপ বর্তমানের কথাই ধরো: আজকের অনেক কথন এবং কর্ম বাইবেলের সাথে এবং ঈশ্বরের পূর্বে সম্পাদিত কর্মের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং যদি তোমার মান্য করার ইচ্ছা না থাকে তাহলে যে কোনো সময় তোমার পতন হতে পারে। তুমি যদি ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুযায়ী সেবা করতে চাও, তাহলে তোমাকে প্রথমে ধর্মীয় ধারণাগুলি ত্যাগ করতে হবে এবং তোমার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি সংশোধন করতে হবে। যা বলা হবে তার বেশিরভাগই অতীতে যা বলা হয়েছিল তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে না, এবং এখন যদি তোমার মান্য করার ইচ্ছার অভাব থাকে তাহলে তুমি সম্মুখপথে হাঁটতে অক্ষম হবে। যদি ঈশ্বরের কর্ম সম্পাদনের পদ্ধতিগুলির মধ্যে কোনো একটি তোমার ভিতরে শিকড় গেড়ে গিয়ে থাকে এবং তুমি যদি এটিকে কখনও ত্যাগ করতে না পারো, তবে এই পদ্ধতিটি তোমার ধর্মীয় ধারণা হয়ে উঠবে। ঈশ্বরের যা আছে, তা যদি তোমার মধ্যে শিকড় বিস্তার করে থাকে, তাহলে তুমি সত্য অর্জন করেছো, এবং যদি ঈশ্বরের বাক্য এবং সত্য তোমার জীবন হয়ে উঠতে সক্ষম হয়, তাহলে ঈশ্বর সম্পর্কে তোমার আর পূর্বধারণাসমূহ থাকবে না। যারা ঈশ্বরের প্রকৃত জ্ঞানের অধিকারী তাদের কোন ধারণা থাকবে না এবং তারা মতবাদ মেনে চলবে না।

নিজেকে সতর্ক রাখতে এই প্রশ্নগুলি জিজ্ঞাসা করো:

১. তোমার অন্তঃস্থ জ্ঞান কি ঈশ্বরের সেবায় অন্তরায় হয়?

২. তোমার দৈনন্দিন জীবনে কয়টি ধর্মীয় অনুশীলন আছে? তুমি যদি কেবল ধর্মনিষ্ঠ চেহারাটি উপস্থাপন করো তাহলে এর অর্থ কি এই যে তোমার জীবন বিকশিত এবং পরিণত হয়েছে?

৩. তুমি যখন ঈশ্বরের বাক্য ভোজন ও পান করো, তখন কি তুমি তোমার ধর্মীয় ধারণাগুলি ত্যাগ করতে পারো?

৪. তুমি যখন প্রার্থনা করো, তখন কি তুমি ধর্মীয় অনুষ্ঠান থেকে দূরে থাকতে পারো?

৫. তুমি কি এমন কেউ যে ঈশ্বরের ব্যবহারের উপযুক্ত?

৬. ঈশ্বর সম্পর্কে তোমার জ্ঞানের মধ্যে ধর্মীয় ধারণাসমূহ কতটুকু?

পূর্ববর্তী: বিশ্বাসের ক্ষেত্রে অবশ্যই বাস্তবিকতার দিকে মনোযোগ দিতে হবে—ধর্মীয় আচার বা অনুষ্ঠানে জড়িত থাকাকে বিশ্বাস বলে না

পরবর্তী: ঈশ্বরের প্রতি প্রকৃত ভালোবাসা স্বতঃস্ফূর্ত

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।👇

সম্পর্কিত তথ্য

ঈশ্বর হলেন মানুষের জীবনের উৎস

ক্রন্দনরত অবস্থায় এই জগতে ভূমিষ্ঠ হবার সময় থেকেই তুমি তোমার কর্তব্য পালন করা শুরু করো। ঈশ্বরের পরিকল্পনা ও তাঁর নির্ধারিত নিয়তি অনুসারে...

রাজ্যের যুগই হল বাক্যের যুগ

রাজ্যের যুগে, যে পদ্ধতিতে তিনি কাজ করেন তা পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে, এবং সমগ্র যুগের কাজ সম্পাদন করার জন্য, ঈশ্বর নতুন যুগের সূচনা করতে বাক্যের...

সেটিংস

  • লেখা
  • থিমগুলি

ঘন রং

থিমগুলি

ফন্টগুলি

ফন্ট সাইজ

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

পৃষ্ঠার প্রস্থ

বিষয়বস্তু

অনুসন্ধান করুন

  • এই লেখাটি অনুসন্ধান করুন
  • এই বইটি অনুসন্ধান করুন

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন