Woe to Those Who Crucify God Once Again
During the last days, God has been incarnated in China to work, and has expressed millions of words, conquering and saving a group of...
ঈশ্বরের আবির্ভাবের জন্য যারা আকুলভাবে অপেক্ষা করছেন তাদের সবাইকে স্বাগত জানাই!
প্রভু যীশু খ্রীষ্টের অন্যান্য লক্ষ লক্ষ অনুগামীর মতো, আমরাও বাইবেলের বিধান এবং আদেশসমূহ মেনে চলি, প্রভু যীশু খ্রীষ্টের অপার অনুগ্রহ উপভোগ করি, এবং একত্রিত হয়ে প্রভু যীশু খ্রীষ্টের নামে প্রার্থনা, স্তুতি, ও সেবা করি—আর এইসব কিছু আমরা করি প্রভুর যত্ন ও সুরক্ষার অধীনে। আমরা মাঝে মধ্যে দুর্বল থাকি, আবার অনেকসময় শক্তিশালীও থাকি। আমরা বিশ্বাস করি যে আমাদের সকল কার্যকলাপ প্রভুর শিক্ষাদানের সঙ্গে সঙ্গত। তাহলে বলাই বাহুল্য যে, আমরা এও বিশ্বাস করি যে আমরা স্বর্গস্থ পিতার ইচ্ছা পালনের পথেই আছি। আমরা প্রভু যীশুর প্রত্যাবর্তন, তাঁর মহিমান্বিত অবতরণ, পৃথিবীতে আমাদের জীবনযাত্রার অবসান, রাজ্যের আবির্ভাব এবং প্রকাশিত বাক্যের গ্রন্থে পূর্বকথিত সমস্ত কিছুর জন্য আকাঙ্ক্ষা করি: প্রভু আসেন, তিনি বিপর্যয় নিয়ে আসেন, তিনি সাধু ব্যক্তিকে পুরস্কৃত ও মন্দকে দণ্ডিত করেন, এবং যারা তাঁর অনুগামী ও তাঁর প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানায় তাদের সকলকে তিনি তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য আকাশে নিয়ে যান। যখনই এ কথা ভাবি, আমরা আবেগে আপ্লুত না হয়ে থাকতে পারি না, এই ভেবে খুশি হই যে আমরা অন্তিম সময়ে জন্মেছি এবং প্রভুর আগমন প্রত্যক্ষ করার সৌভাগ্য অর্জন করেছি। আমরা নিগ্রহ ভোগ করলেও পরিবর্তে পেয়েছি “ক্রমবর্ধমান অতুল গৌরবের সম্পদ”। কী অপরূপ আশীর্বাদ! এই সকল আকাঙ্ক্ষা এবং প্রভুর প্রদত্ত অনুগ্রহ আমাদের প্রার্থনার বিষয়ে প্রতিনিয়ত শান্ত করে এবং একত্র হওয়ার জন্য আরও পরিশ্রমী করে তোলে। হয়তো পরের বছর, হয়তো আগামীকাল, আর হয়তো মানুষের ধারণাতীত স্বল্প সময়ে, প্রভু হঠাৎই অবতীর্ণ হবেন এবং তাঁর জন্য অধীরভাবে একাগ্র হয়ে অপেক্ষমান মানুষজনের দলের মাঝে আবির্ভূত হবেন। আমরা প্রভুর আবির্ভাব প্রত্যক্ষ করার প্রথম দলে থাকার স্বার্থে, উন্নীতদের মধ্যে স্থান করে নেওয়ার স্বার্থে একে অন্যের চেয়ে এগিয়ে যাওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করি, কেউই পিছিয়ে পড়তে চাই না। মূল্যের কথা না ভেবেই আমরা এই দিনটির আগমনের জন্য আমাদের সব দিয়েছি; কেউ কেউ নিজের কাজ, কেউ পরিবার, কেউ বিবাহ পরিত্যাগ করেছে, এমনকি কেউ কেউ নিজের সমস্ত সঞ্চয় দান করে দিয়েছে। ভক্তির কী নিঃস্বার্থ নিদর্শন! এমন আন্তরিকতা এবং আনুগত্য নিশ্চিতভাবে অতীত যুগের সন্তদেরকেও ছাড়িয়ে যায়! যেহেতু প্রভু যাকে খুশী তার উপর অনুগ্রহ অর্পণ করেন, এবং যাকে খুশী করুণা দেখান, আমরা বিশ্বাস করি যে আমাদের ভক্তি এবং ব্যয় অনেকদিন ধরেই তাঁর দৃষ্টিগোচর হয়েছে। ফলে আমাদের আন্তরিক প্রার্থনাও তাঁর কানে পৌঁছোক, এবং আমরা আস্থা রাখি যে প্রভু আমাদের নিষ্ঠার জন্য আমাদের প্রতিদান দেবেন। উপরন্তু, ঈশ্বর এই বিশ্ব সৃষ্টি করার আগে থেকেই আমাদের প্রতি করুণাময় ছিলেন, এবং তিনি আমাদের যে আশীর্বাদ ও প্রতিশ্রুতি দান করেছেন তা কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। আমরা সবাই ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা করছি, এবং সময়ের সাথে সাথে আমাদের নিষ্ঠা ও ব্যয়কে জুয়ার মুদ্রা, বা পুঁজি বানিয়ে ফেলেছি, যাতে তার বিনিময়ে প্রভুর সাথে আকাশে সাক্ষাতের জন্য আমরা উন্নীত হই। এছাড়াও, সামান্যতম ইতস্তত বোধ না করেই, আমরা সকল দেশ এবং সকল মানুষের উপর কর্তৃত্ব করার জন্য, বা রাজা হিসেবে রাজত্ব করার জন্য নিজেদেরকে ভবিষ্যতের সিংহাসনে বসিয়েছি। আমরা এই সবকিছুই প্রদত্ত, প্রত্যাশিত হিসাবে ধরে নিয়েছি।
যারা প্রভু যীশুর বিরুদ্ধে তাদের সকলকেই আমরা অবজ্ঞা করি; বিনাশেই তাদের সবার সমাপ্তি ঘটবে। প্রভু যীশুই যে পরিত্রাতা, এমনটা কে তাদের অবিশ্বাস করতে বলল? অবশ্যই, কখনো কখনো আমরা বিশ্বের মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার ক্ষেত্রে প্রভু যীশুকে অনুকরণ করি, কারণ এই মানুষেরা উপলব্ধি করে না এবং আমাদের তাদের প্রতি সহিষ্ণু ও ক্ষমাশীল হওয়াই সঠিক। আমরা যা কিছু করি, তা বাইবেলের বাক্যের সাথে সঙ্গত, কারণ যা বাইবেলের অনুবর্তী নয়, তা সবই ধর্মবিচ্যুতি এবং ধর্মদ্রোহিতা। এই ধরনের বিশ্বাস আমাদের প্রত্যেকের মনে গভীরভাবে প্রোথিত হয়ে আছে। আমাদের প্রভু বাইবেলে আছেন, এবং আমরা যদি বাইবেল থেকে দূরে সরে না যাই, তাহলে আমরা প্রভুর থেকেও বিচ্যুত হব না; আমরা যদি এই নীতি মেনে চলি, তাহলে আমরা পরিত্রাণ অর্জন করব। আমরা একে অন্যকে অনুপ্রেরণা যোগাই, একে অন্যকে সমর্থন করি, এবং প্রতিবার যখন আমরা একত্রে জড়ো হই, আমরা আশা করি যে আমরা যা বলি এবং করি, তা সবই প্রভুর ইচ্ছার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ এবং প্রভুর দ্বারা স্বীকৃত হবে। আমাদের পরিবেশের তীব্র প্রতিকূলতা থাকা সত্ত্বেও, আমাদের হৃদয় আনন্দে পরিপূর্ণ। এত সহজে লাভ করা যায় এমন আশীর্বাদের কথা যখন আমরা ভাবি, তখন এমন কি কিছু আছে যা আমরা আলাদা করে সরিয়ে রাখতে পারি না? এমন কি কিছু আছে যা পরিত্যাগ করতে আমরা অনিচ্ছুক? এসব কথা বলাই বাহুল্য, এবং এই সবকিছুই ঈশ্বরের সজাগ দৃষ্টির অধীন। আমরা এই মুষ্টিমেয় কয়েকজন অভাবী, যাদের আবর্জনা থেকে তুলে আনা হয়েছে, আমরা প্রভু যীশুর সকল সাধারণ অনুগামীদের মতোই, যারা উন্নীত হওয়ার, আশীর্বাদ লাভ করার এবং সকল দেশের উপর রাজত্ব করার স্বপ্ন দেখছি। আমাদের দুর্নীতি ঈশ্বরের চোখে নগ্নভাবে উন্মুক্ত হয়েছে, এবং আমাদের কামনা ও লোভ ঈশ্বরের চোখে নিন্দিত হয়েছে। তা সত্ত্বেও, এই সবকিছুই এমনই স্বাভাবিকভাবে এবং এত যুক্তিপূর্ণভাবে ঘটে, যে আমাদের আকাঙ্ক্ষা সঠিক কিনা সে বিষয়ে আমরা কেউ ভাবিত নই, এবং আমরা যা কিছু ধরে রাখি, তার যথার্থতা নিয়ে তো আরোই কম সন্দেহ করি। ঈশ্বরের ইচ্ছা কে জানতে পারে? মানুষ যে পথে চলে তা যে ঠিক কোন ধরণের পথ, তা আমরা খুঁজতে বা অন্বেষণ করতে জানি না; এবং অনুসন্ধান করতে তো আরোই কম আগ্রহী। কারণ আমরা কেবল উন্নীত হতে পারব কিনা, আশীর্বাদ লাভ করতে পারব কিনা, স্বর্গরাজ্যে আমাদের জন্য কোনো স্থান আছে কিনা, এবং জীবননদীর জল, ও জীবনবৃক্ষের ফলে আমাদের ভাগ থাকবে কিনা, এইসব নিয়েই চিন্তিত। আমরা কি কেবল এই বিষয়গুলি লাভের স্বার্থেই প্রভুকে বিশ্বাস করে তাঁর অনুগামী হই না? আমাদের পাপ ক্ষমা করা হয়ে গেছে, আমরা অনুতাপ করেছি, আমরা দ্রাক্ষারসের তিক্ত পেয়ালা পান করেছি, এবং আমরা আমাদের পৃষ্ঠে ক্রুশ স্থাপন করেছি। কে বলতে পারে যে আমরা যে মূল্য দিয়েছি, তা ঈশ্বর গ্রহণ করবেন না? কে বলতে পারে যে আমরা যথেষ্ট তৈল প্রস্তুত করি নি? আমরা সেই মূর্খ কুমারী বা পরিত্যক্ত মানুষদের একজন হতে চাই না। উপরন্তু, ভণ্ড খ্রীষ্টদের দ্বারা প্রতারিত হওয়া থেকে বাঁচাতে আমরা প্রতিনিয়ত প্রভুর কাছে প্রার্থনা করি, কারণ বাইবেলে বলা আছে: “কেউ যদি তখন তোমাদের বলে যে খ্রীষ্ট এখানে রয়েছেন কিম্বা ওখানে আছেন সে কথা বিশ্বাস করো না। কারণ অনেক নকল খ্রীষ্ট ও ভুয়ো নবীর আবির্ভাব ঘটবে। তারা এমন সব চমকপ্রদ নিদর্শন ও অলৌকিক কাণ্ড দেখাবে যার ফলে মনোনীতরাও প্রতারিত হতে পারে” (মথি ২৪:২৩-২৪)। আমরা সকলেই বাইবেলের এই চরণগুলি স্মৃতিতে আবদ্ধ করেছি; এগুলি অন্তর থেকে জানি, এবং এগুলি আমাদের কাছে বহুমূল্য ধন, জীবনীশক্তি, অঙ্গীকারপত্রস্বরূপ, যা নির্ধারণ করে যে আমাদের উদ্ধার বা উন্নীত করা যাবে কিনা …
হাজার হাজার বছর ধরে, জীবিতেরা মৃত্যুবরণ করেছে, তাদের আকাঙ্ক্ষা এবং স্বপ্নগুলিকে সাথে নিয়ে গেছে, কিন্তু তারা স্বর্গরাজ্যে গমন করেছে কিনা, কেউ সত্যিই জানে না। মৃতেরা ফিরে আসে একসময় ঘটে যাওয়া সকল কাহিনী ভুলে গিয়ে, এবং তারা এরপরেও পূর্বপুরুষদের শিক্ষা এবং পথ অনুসরণ করে। আর এইভাবে, যখন দিনের পর দিন আর বছরের পর বছর চলে যায়, কেউ জানে না আমাদের প্রভু যীশু, আমাদের ঈশ্বর, আমাদের সকল কাজ প্রকৃতই গ্রহণ করেন কিনা। আমরা শুধু ফলাফলের প্রত্যাশা এবং যা কিছু ঘটতে পারে তা অনুমান করতে পারি। তবুও ঈশ্বর সর্বাংশে তাঁর মৌনতা বজায় রেখেছেন, কখনো আমাদের সম্মুখে আবির্ভূত হন নি, আমাদের সঙ্গে কখনো কথা বলেন নি। আর তাই, বাইবেল অনুসরণ করে এবং প্রতীকের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হয়ে, আমরা স্বেচ্ছায় ঈশ্বরের ইচ্ছা ও স্বভাব সম্বন্ধে রায়দান করি। আমরা ঈশ্বরের মৌনতায় অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি; নিজেদের চিন্তাধারার মাধ্যমে নিজেদের আচরণের ঠিক ও ভুলের পরিমাপ করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি; ঈশ্বর আমাদের কাছে যা দাবী করেন, তার জায়গায় আমরা নিজেদের জ্ঞান, ধারণা, এবং নীতি-নৈতিকতার উপর নির্ভর করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি, আমরা ঈশ্বরের অনুগ্রহ উপভোগ করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি; যখন আমাদের প্রয়োজন তখনই ঈশ্বরকে সহায়তার জন্য পেতে আমরা অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি; সকল বিষয়ের জন্য ঈশ্বরের কাছে হাত বাড়িয়ে দিতে, এবং ঈশ্বরকে আদেশ করে যেতে আমরা অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি; নিয়মকানুনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হতে, পবিত্র আত্মা কীভাবে আমাদের পথপ্রদর্শন করেন তার প্রতি মনোযোগ না দিতে, আমরা অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি; এবং এমনকি তার চেয়েও বেশি, আমরা এমন দিনকালে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি, যেখানে আমরাই আমাদের নিজেদের মালিক। আমরা এ রকমই এক ঈশ্বরে বিশ্বাস করি, যাঁর সাথে আমাদের কখনো মুখোমুখি সাক্ষাৎ হয় নি। তাঁর স্বভাব কেমন, তাঁর কী আছে এবং তিনি কেমন, তাঁর প্রতিমূর্তি কেমন, তাঁর আগমনকালে আমরা তাঁকে জানতে পারব কিনা, ইত্যাদি নানাবিধ প্রশ্ন—এগুলোর কোনোটাই গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ হল এই যে, তিনি আমাদের হৃদয়ে আছেন এবং আমরা সবাই তাঁর প্রতীক্ষা করি, আর এটাই যথেষ্ট যে আমরা কল্পনা করতে সক্ষম যে তিনি এরকম অথবা ওরকম। আমরা আমাদের আস্থার প্রশংসা করি এবং আমাদের আধ্যাত্মিকতাকে সম্পদের মতো আগলে রাখি। আমরা সবকিছুকে আবর্জনা হিসেবে দেখি, এবং সবকিছুকে পায়ের তলায় মাড়িয়ে দিই। যেহেতু আমরা মহিমান্বিত প্রভুর অনুগামী, তাই যত দীর্ঘ এবং কঠিন যাত্রাই হোক না কেন, যা-ই কষ্ট বা বিপদ আমাদের সামনে আসুক না কেন, যখন আমরা প্রভুকে অনুসরণ করি কোনোকিছুই আমাদের পদক্ষেপকে থামাতে পারে না। “জীবনজলের নদী, তার জল স্ফটিকের মত উজ্জ্বল এবং ঈশ্বরের ও মেষশাবকের সিংহাসন থেকে উৎসারিত। …সেই নদীর দুই তীরে রয়েছে জীবনতরু। তরুগুলি বারো মাসে বারো রকমের ফল দেয়, সেই তরুপল্লবে সর্বজাতি আরোগ্য লাভ করে। সেখানে অভিশপ্ত কোন বস্তু থাকবে না। নগরীতে থাকবে ঈশ্বরের ও মেষশাবকের সিংহাসন। তাঁর সেবকেরা তাঁর আরাধনা করবে, দর্শন করবে তাঁর শ্রীমুখ। তাঁর নাম অঙ্কিত থাকবে তাদের ললাটে। রাত্রি হবে না সেখানে। তাই প্রদীপ কিম্বা সূর্যালোকের প্রয়োজন তাদের হবে না। কারণ প্রভু পরমেশ্বরই হবেন তাদের দীপ্তি, আর তারা চিরকাল রাজত্ব করবে” (প্রকাশিত বাক্য ২২:১-৫)। প্রতিবার আমরা যখন এই বাক্যগুলি ধ্বনিত করি, আমাদের হৃদয় সীমাহীন আনন্দ ও পরিতৃপ্তিতে কানায় কানায় ভরে যায়, এবং চোখ থেকে অশ্রু ঝরে পড়ে। আমাদের নির্বাচন করার জন্য, তাঁর অনুগ্রহের জন্য প্রভুকে ধন্যবাদ। এই জীবনে তিনি আমাদের শতগুণ দিয়েছেন এবং আগামী বিশ্বের জন্য অনন্ত জীবন দান করেছেন। তিনি যদি এখন আমাদের মৃত্যুবরণ করতে বলেন, আমরা সামান্যতম অভিযোগ না করেই তা করব। হে প্রভু! দয়া করে শীঘ্র আসুন! আমরা কতখানি মরিয়া হয়ে আপনার জন্য আকুল হয়ে আছি, এবং আপনার জন্য সবকিছু পরিত্যাগ করেছি, এ কথা বিবেচনা করে আপনি অনুগ্রহ করে আর এক মিনিট, এক সেকেণ্ডও অধিক বিলম্ব করবেন না।
ঈশ্বর মৌন, এবং কখনো আমাদের কাছে আবির্ভূত হন নি, তবু তাঁর কাজ কখনো থামে নি। তিনি সমগ্র পৃথিবীর নিরীক্ষা করেন, সবকিছুকে আদেশ দেন, এবং মানুষের সকল বাক্য ও কাজ প্রত্যক্ষ করেন। তিনি পরিমিত পদক্ষেপে এবং তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী, নীরবে ও নাটকীয় প্রভাব ব্যতিরেকে, তাঁর ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করেন, তবুও তাঁর পদক্ষেপ এক এক করে মানবজাতির আরো নিকটে এগোয়, এবং তাঁর বিচারের আসন সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে বিদ্যুৎগতিতে নিযুক্ত হয়, যার পর তাঁর সিংহাসন আমাদের মাঝে তৎক্ষণাৎ অবতীর্ণ হয়। সে কী মহিমান্বিত দৃশ্য, কী রাজকীয় এবং গুরুগম্ভীর এক মূকনাট্য! একটি পায়রার মতো, এবং এক গর্জনশীল সিংহের মতো, আত্মা আমাদের মাঝে অবতীর্ণ হন। তিনিই জ্ঞান, তিনিই ন্যায়পরায়ণতা ও মহিমা, এবং তিনি কর্তৃত্বের শাসন নিয়ে এবং ভালোবাসা ও করুণায় পূর্ণ হয়ে গোপনে আমাদের মাঝে অবতীর্ণ হন। কেউ তাঁর আগমন সম্পর্কে অবগত থাকে না, কেউ তাঁর আগমনকে স্বাগত জানায় না, উপরন্তু, কেউ জানে না তিনি কী করতে চলেছেন। মানুষের জীবন আগের মতোই চলতে থাকে, তার হৃদয়ও তা থেকে পৃথক নয়, দিন যথারীতি নিয়মেই অতিক্রান্ত হয়। ঈশ্বর আমাদের মাঝে বাস করেন, অন্যান্য মানুষদের মতো এক মানুষ রূপে, অনুগামীদের মধ্যে সবচেয়ে তুচ্ছদের একজন এবং এক সাধারণ বিশ্বাসী হয়ে। তাঁর নিজস্ব সাধনা আছে, তাঁর নিজস্ব লক্ষ্য আছে; এবং তদুপরি তাঁর আছে দেবত্ব যা সাধারণ মানুষের অধিকারে নেই। কেউ তাঁর দেবত্বের অস্তিত্ব লক্ষ্য করে নি, আর কেউ মানুষের এবং তাঁর সারসত্যের মধ্যেকার পার্থক্যও অনুধাবন করে নি। আমরা তাঁর সঙ্গে একসাথে অকুন্ঠ ও নির্ভীকভাবে বাস করি, কারণ আমাদের চোখে তিনি কেবল একজন তুচ্ছ বিশ্বাসী। তিনি আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপে নজর রাখেন, এবং আমাদের সব ভাবনা এবং ধারণা তাঁর সামনে উন্মুক্ত। তাঁর অস্তিত্বে কেউ আগ্রহী নয়, কেউ তাঁর কাজের বিষয়ে কিছু কল্পনা করে না, এবং উপরন্তু, তাঁর পরিচয়ের বিষয়ে কারোর ন্যূনতম কোনো সন্দেহ হয় না। আমরা শুধু আমাদের অনুসন্ধান চালিয়ে যাই, যেন আমাদের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্কই নেই …
যদি ভাগ্যক্রমে পবিত্র আত্মা বাক্যের একটি অনুচ্ছেদ তাঁর “মাধ্যমে” প্রকাশ করে ফেলে, এবং তা যদি খুবই অপ্রত্যাশিতও মনে হয়, তবুও আমরা তাকে ঈশ্বরের কাছ থেকে আসা উচ্চারণ হিসেবে চিনতে পারি এবং সঙ্গে সঙ্গে ঈশ্বরের থেকে তা গ্রহণ করি। এর কারণ, কে এই বাক্যগুলি প্রকাশ করে তা নির্বিশেষে, যতক্ষণ তা পবিত্র আত্মার কাছ থেকে আসে, আমাদের উচিত সেগুলিকে গ্রহণ করা, অস্বীকার করা নয়। পরবর্তী উচ্চারণ আমার মাধ্যমে, বা তোমার মাধ্যমে, বা অন্য কারোর মাধ্যমে আসতে পারে। সে যে-ই হোক, সবই ঈশ্বরের অনুগ্রহ। তবুও যে-ই হোক, আমরা হয়তো এই মানুষটির উপাসনা করব না, কারণ যা-ই হোক না কেন, এই মানুষটি ঈশ্বর হওয়া সম্ভব নয়, আর আমরাও কোনোভাবেই এমন একজন সাধারণ মানুষকে আমাদের ঈশ্বর হিসাবে নির্বাচন করব না। আমাদের ঈশ্বর কত মহান এবং সম্মানীয়; এমন একজন তুচ্ছ মানুষ কীভাবে তাঁর স্থানে দাঁড়াতে পারে? এছাড়াও, আমরা ঈশ্বরের জন্য অপেক্ষা করছি যাতে তিনি এসে আমাদেরকে স্বর্গ-রাজ্যে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারেন, তাহলে এমন তুচ্ছ একজন মানুষ কীভাবে এত গুরুত্বপূর্ণ এবং কঠিন কাজের দায়িত্ব নিতে পারে? প্রভু যদি পুনরায় আসেন, তাহলে তিনি নিশ্চয়ই সাদা মেঘে চড়ে আসবেন, যাতে বিশাল জনগণ তাঁকে দেখতে পায়। তা কতই না মহিমান্বিত বিষয় হবে! এটা কীভাবে সম্ভব যে তিনি একদল সাধারণ মানুষের মাঝে নিজেকে এমন গোপনে আড়াল করে রাখবেন?
এবং এরপরেও মানুষের মাঝে লুকিয়ে থাকা এই সাধারণ মানুষটিই আমাদের উদ্ধারের নতুন কাজ করছেন। তিনি আমাদের কোনো ব্যাখ্যা পেশ করেন না, এও বলেন না যে তিনি কেন এসেছেন, কেবল তিনি যে কাজ করতে চান পরিমিত ধাপে এবং তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী সেই কাজ করেন। তাঁর বাক্য এবং কথনের প্রকাশ আরও ঘন ঘন হয়। সান্ত্বনা, উপদেশ, স্মরণ করিয়ে দেওয়া এবং সতর্ক করা থেকে শুরু করে তিরস্কার এবং অনুশাসন করা পর্যন্ত; নম্র এবং মৃদু কন্ঠস্বর থেকে শুরু করে ক্রুদ্ধ এবং রাজকীয় বাক্য পর্যন্ত—এই সবই মানুষের উপর করুণা বর্ষণ করে এবং তার অন্তরে ভীতির সঞ্চার করে। তিনি যা বলেন, তার সবকিছুই আমাদের অন্তরের গভীরে লুকিয়ে রাখা গোপনীয়তাগুলিতে আঘাত করে; তাঁর বাক্য আমাদের হৃদয় দংশন করে, আমাদের আত্মাকে দংশন করে, এবং আমাদের আত্মগোপন করার মতো স্থান না রেখেই অসহনীয় লজ্জায় জর্জরিত করে রেখে যায়। আমরা ভাবতে শুরু করি এই মানুষটির হৃদয়ে অবস্থিত ঈশ্বর সত্যিই আমাদের ভালোবাসেন কিনা এবং তিনি আসলে কী করতে চাইছেন। হয়তো একমাত্র এই কষ্ট সহ্য করার পরেই আমরা উন্নীত হতে পারি? আমরা আমাদের মাথায় হিসাব করছি … আসন্ন গন্তব্য বা আমাদের ভবিষ্যৎ ভাগ্য সম্বন্ধে। এখনও, আগের মতোই, আমরা কেউই বিশ্বাস করি না যে ঈশ্বর ইতিমধ্যেই আমাদের মাঝে কাজ করার জন্য দেহধারণ করে ফেলেছেন। যদিও তিনি এত দীর্ঘ সময় ধরে আমাদের সঙ্গ দিয়েছেন, যদিও তিনি ইতিমধ্যে আমাদের সাথে মুখোমুখি এত বাক্য উচ্চারণ করেছেন, তবুও আমরা এমন সাধারণ একজন মানুষকে আমাদের ভবিষ্যতের ঈশ্বর হিসাবে গ্রহণ করতে অনিচ্ছুকই রয়ে যাই, এবং আমাদের ভবিষ্যৎ ও অদৃষ্টের নিয়ন্ত্রণ এই তুচ্ছ মানুষটির হাতে অর্পণ করতে তো আমরা আরোই রাজি হই না। তাঁর কাছ থেকে আমরা প্রাণবারির অনন্ত সরবরাহ উপভোগ করি, এবং তাঁর মধ্য দিয়ে আমরা ঈশ্বরের মুখোমুখি জীবনযাপন করি। কিন্তু আমরা কেবল স্বর্গস্থ প্রভু যীশুর অনুগ্রহের জন্যই কৃতজ্ঞ, এবং দেবত্বের অধিকারী এই সাধারণ মানুষটির অনুভূতির প্রতি কখনও কোনো মনোযোগই দিই নি। এখনও, আগের মতোই, তিনি দেহরূপের আড়ালে থেকে বিনীতভাবে তাঁর কাজ করে যান, তাঁর অন্তরতম হৃদয়ের অভিব্যক্তি ঘটান, যেন মানবজাতির তাঁর প্রতি প্রত্যাখ্যানের বিষয়ে তিনি অনুভূতিহীন, যেন মানুষের শিশুসুলভ আচরণ এবং অজ্ঞতার প্রতি চিরকাল ক্ষমাশীল, এবং তাঁর প্রতি মানুষের অসম্মানজনক মনোভাবের বিষয়ে চিরকাল সহিষ্ণু।
আমাদের অজান্তে, এই গুরুত্বহীন মানুষটি ঈশ্বরের কাজের একের পর এক ধাপে আমাদের এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে। আমরা অসংখ্য পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যাই, অগুনতি শাস্তিদান সহ্য করি, মৃত্যুর দ্বারা পরীক্ষিত হই। আমরা ঈশ্বরের ধার্মিক ও মহিমান্বিত স্বভাবের কথা শিখি, তাঁর ভালোবাসা এবং করুণাও উপভোগ করি, তাঁর বিশাল ক্ষমতা ও প্রজ্ঞার প্রশংসা করতে পারি, মাধুর্যের সাক্ষী হই, এবং মানুষকে উদ্ধার করার জন্য তাঁর একান্ত বাসনা প্রত্যক্ষ করি। এই সাধারণ মানুষটির বাক্যের দ্বারা, আমরা ঈশ্বরের স্বভাব এবং সারসত্য জানতে পারি, তাঁর ইচ্ছা উপলব্ধি করতে পারি, মানুষের প্রকৃতি ও নির্যাস জানতে পারি, এবং পরিত্রাণ ও নিখুঁতকরণের পথ দেখতে পাই। তাঁর বাক্য আমাদের “মৃত্যু” ঘটায় এবং তারাই “পুনর্জন্ম” ঘটায়; তাঁর বাক্য আমাদের স্বস্তি এনে দেয়, আবার সেইসাথে অপরাধবোধে এবং ঋণী হওয়ার বোধে জর্জরিত করে রেখে যায়; তাঁর বাক্য আমাদের আনন্দ ও শান্তি এনে দেয়, কিন্তু সেই সাথে অসীম যন্ত্রণাও নিয়ে আসে। তাঁর হাতে কখনো আমরা বধ্যভূমিতে থাকা মেষশাবকের মতো; আবার কখনো আমরা তাঁর চোখের মণির মতো হয়ে তাঁর স্নিগ্ধ ভালোবাসা উপভোগ করি; আবার কখনো আমরা তাঁর শত্রুর মতো, তাঁর ক্রোধের দৃষ্টিতে ভস্মে পরিণত হই। আমরা তাঁর দ্বারা উদ্ধারপ্রাপ্ত মানব জাতি, আমরা তাঁর চোখে কীটসম, এবং আমরা সেই হারিয়ে যাওয়া মেষশাবক, দিনরাত যাদের তিনি দৃঢ়সঙ্কল্প হয়ে খুঁজছেন। তিনি আমাদের প্রতি করুণাময়, তিনি আমাদের ঘৃণা করেন, তিনি আমাদের প্রতিপালন করেন, তিনি আমাদের স্বস্তি ও পরামর্শ দেন, তিনি আমাদের পথপ্রদর্শন করেন, তিনি আমাদের আলোকিত করেন, তিনি আমাদের শোধন ও শাসন করেন, এবং এমনকি তিনি আমাদের অভিশাপও দেন। দিবারাত্র, কখনো তিনি আমাদের বিষয়ে দুশ্চিন্তা করা বন্ধ করেন না, এবং আমাদের রক্ষা ও যত্ন করেন, দিবারাত্র, তিনি কখনো আমাদের পক্ষ ছেড়ে যান না, বরং আমাদের স্বার্থে তাঁর হৃদয়ের রক্ত ঝরান এবং আমাদের জন্য যেকোনো মূল্য দেন। এই ক্ষুদ্র ও সাধারণ দেহের উচ্চারণের অভ্যন্তরে আমরা ঈশ্বরের সামগ্রিকতা উপভোগ করেছি এবং সেই গন্তব্য প্রত্যক্ষ করেছি যা ঈশ্বর আমাদের আশীর্বাদস্বরূপ দান করেছেন। তা সত্বেও, আত্মগর্ব এখনো আমাদের হৃদয়ের অভ্যন্তরে সমস্যা জাগিয়ে তোলে, এবং আমরা এরপরেও এহেন মানুষকে আমাদের ঈশ্বর হিসাবে গ্রহণ করতে সক্রিয়ভাবে অনিচ্ছুক। যদিও তিনি আমাদের এত পরিমাণে মান্না দিয়েছেন, এতকিছু উপভোগ করার জন্য দিয়েছেন, তবু এর কোনোটাই আমাদের হৃদয়ে প্রভুর স্থান নিতে পারে না। শুধুমাত্র খুবই অনিচ্ছার সাথে আমরা এই ব্যক্তির বিশেষ পরিচয় ও মর্যাদাকে সম্মান জানাই। যতক্ষণ না তিনি নিজে আমাদের একথা স্বীকার করতে বলেন যে তিনিই ঈশ্বর, আমরা কখনোই নিজে থেকে তাঁকে সেই ঈশ্বর বলে স্বীকার করি না, যাঁর শীঘ্রই আগমন ঘটবে এবং যিনি অনেকদিন থেকেই আমাদের মাঝে কাজ করে চলেছেন।
আমাদের কী করা উচিত সে বিষয়ে আমাদের উপদেশ দেওয়ার বিভিন্ন পদ্ধতি ও দৃষ্টিকোণ কাজে লাগিয়ে ঈশ্বর তাঁর কথন চালিয়ে যান, এবং একই সময়ে, তাঁর হৃদয়কে কন্ঠস্বর প্রদান করেন। তাঁর বাক্য জীবনীশক্তি বহন করে, আমাদের কোন পথে চলা উচিত তা দেখায়, এবং সত্য আসলে কী, তা বুঝতে সক্ষম করে। আমরা তাঁর বাক্যের দ্বারা আকৃষ্ট হতে শুরু করি, তাঁর স্বর ও বাচনভঙ্গির উপর মনোনিবেশ করতে শুরু করি, এবং অবচেতন ভাবে আমরা এই অনুল্লেখযোগ্য মানুষটির অন্তরতম অনুভূতির প্রতি আগ্রহী হতে শুরু করি। তিনি আমাদের হয়ে কাজ করার জন্য তাঁর হৃদয়ের রক্ত ঝরান, আমাদের জন্য নিজের নিদ্রা ও ক্ষুধা বিসর্জন দেন, অশ্রুবর্ষণ করেন, দীর্ঘশ্বাস ফেলেন, অসুখে কাতরান, আমাদের গন্তব্য ও পরিত্রাণের স্বার্থে অপমান সহ্য করেন, এবং আমাদের অসাড়তা ও বিদ্রোহী মনোভাব তাঁর হৃদয় থেকে অশ্রু ও রক্ত ঝরায়। তিনি যা এবং তাঁর যা আছে, তা কোনো সাধারণ মানুষের কাছে থাকে না, আর কোনো ভ্রষ্ট মানুষের দ্বারা তা অর্জিত বা অধিকৃতও হতে পারে না। তিনি যে সহিষ্ণুতা ও ধৈর্য দেখান, কোনো সাধারণ মানুষ তার অধিকারী হতে পারে না, এবং কোনো সৃষ্ট জীব তাঁর মতো ভালোবাসায় ভূষিত নয়। তিনি ছাড়া আর কেউ আমাদের সকল ভাবনা জানতে পারে না, অথবা আমাদের প্রকৃতি ও সারসত্যের বিষয়ে এত পরিষ্কার ও পূর্ণাঙ্গ ধারণা করতে পারে না, বা মানবজাতির বিদ্রোহী মনোভাব এবং ভ্রষ্ট আচরণের বিচার করতে পারে না, অথবা স্বর্গস্থ ঈশ্বরের হয়ে এভাবে আমাদের সঙ্গে কথা বলতে এবং আমাদের উপর কাজ করতে পারে না। তিনি ছাড়া আর কেউ ঈশ্বরের কর্তৃত্ব, প্রজ্ঞা, ও মর্যাদায় ভূষিত নয়; ঈশ্বরের স্বভাব আর তাঁর যা আছে এবং তিনি যা, তা তাঁর মাধ্যমেই সামগ্রিক ভাবে প্রকাশিত হয়। তিনি ছাড়া আর কেউ আমাদের পথ দেখাতে এবং আলো এনে দিতে পারে না। সৃষ্টির দিন থেকে আজ পর্যন্ত যে রহস্য ঈশ্বর প্রকাশ করেননি, তা তিনি ছাড়া আর কেউ উন্মোচন করতে পারে না। তিনি ছাড়া আর কেউ আমাদের শয়তানের দাসত্ব এবং নিজেদের ভ্রষ্ট স্বভাবের থেকে উদ্ধার করতে পারে না। তিনি ঈশ্বরের প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি ঈশ্বরের অন্তরতম হৃদয়, তাঁর উপদেশাবলী, এবং সমগ্র মানবজাতির উদ্দেশে ঈশ্বরের বিচারের বাক্য ব্যক্ত করেন। তিনি এক নতুন কাল, নতুন যুগের প্রারম্ভ করেছেন, এবং সূচনা করেছেন এক নতুন আকাশ ও পৃথিবী এবং নতুন কাজের, এবং তিনি আমাদের জন্য নিয়ে এসেছেন আশা, তিনি আমাদের অস্পষ্টতাময় জীবনযাপনের পরিসমাপ্তি ঘটিয়েছেন এবং আমাদের পূর্ণ সত্তাকে সম্পূর্ণ সুস্পষ্টভাবে পরিত্রাণের পথ প্রত্যক্ষ করতে সক্ষম করেছেন। তিনি আমাদের পূর্ণ সত্তাকে জয় করেছেন এবং হৃদয় জিতে নিয়েছেন। সেই মুহূর্ত থেকেই আমাদের মন সচেতন হয়েছে, এবং আমাদের আত্মা যেন পুনরুজ্জীবিত হয়েছে: এই সাধারণ, তুচ্ছ মানুষটি, যিনি আমাদের মাঝেই থাকেন এবং বহুকাল ধরেই আমাদের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন—ইনিই কি সেই প্রভু যীশু নন, যিনি জাগরণে বা স্বপ্নে সর্বদা আমাদের ভাবনায় থাকেন, এবং যাঁর জন্য আমরা দিনরাত প্রতীক্ষা করি? ইনি তিনিই! ইনি সত্যই তিনি! তিনিই আমাদের ঈশ্বর! তিনিই সত্য, পথ, এবং জীবন! তিনি আমাদের পুনরায় জীবনযাপন করতে এবং আলো দেখতে সক্ষম করেছেন এবং আমাদের হৃদয়কে বিপথগামী হওয়া থেকে আটকেছেন। আমরা ঈশ্বরের গৃহে প্রত্যাবর্তন করেছি, আমরা তাঁর সিংহাসনের সম্মুখে ফিরে এসেছি, আমরা তাঁর মুখোমুখি রয়েছি, তাঁর মুখাকৃতি প্রত্যক্ষ করেছি, এবং সামনে যে রাস্তা রয়েছে তা দেখেছি। এই সময়ে আমাদের হৃদয় তাঁর দ্বারা সম্পূর্ণভাবে বিজিত; আমরা আর সন্দেহ করি না তিনি কে, আর তাঁর কাজ এবং বাক্যের বিরোধিতা করি না, আমরা তাঁর সম্মুখে প্রণত হই। আমরা আমাদের বাকি জীবনে ঈশ্বরের পদাঙ্ক অনুসরণ করার চেয়ে বেশি আর কিছু চাই না, তাঁর দ্বারা নিখুঁত হয়ে উঠতে চাই, তাঁর অনুগ্রহ আর আমাদের প্রতি তাঁর প্রেমের প্রতিদান দিতে চাই, তাঁর সমন্বয়সাধন এবং আয়োজন মেনে চলতে চাই, তাঁর কাজে সহযোগিতা করতে চাই, এবং আমাদের উপর তাঁর অর্পিত দায়িত্ব সম্পন্ন করার জন্য সবকিছু করতে চাই।
ঈশ্বরের দ্বারা বিজিত হওয়া যেন এক মার্শাল আর্টের প্রতিযোগিতার মতো।
ঈশ্বরের প্রত্যেকটি বাক্য আমাদের নশ্বর স্থানগুলির একটিতে স্থানে আঘাত হানে, আমাদের আহত ও ভীত করে রেখে যায়। তিনি আমাদের ধারণা, কল্পনা, এবং ভ্রষ্ট স্বভাব অনাবৃত করেন। আমরা যা বলি এবং করি, তা থেকে শুরু করে আমাদের প্রতিটি ভাবনা ও ধারণা, আমাদের প্রকৃতি ও সারসত্য তাঁর বাক্যে প্রকাশিত হয়, যা আমাদের এক ভীত এবং কম্পমান অবস্থায় নিয়ে যায় আর আমাদের লজ্জা গোপন করার মতো কোনো জায়গা থাকে না। আমাদের সকল কাজ, সকল লক্ষ্য ও অভিপ্রায়, এমনকি যেসব ভ্রষ্ট স্বভাব আমরা নিজেরাও কোনোদিন আবিষ্কার করি নি, সেসব তিনি একে একে আমাদের বলেন, আমরা আমাদের সমস্ত হীন অসম্পূর্ণতা সমেত অনাবৃত বোধ করতে থাকি, এবং উপরন্তু সম্পূর্ণ বিজিত অনুভব করি। তাঁর বিরোধিতা করার জন্য তিনি আমাদের বিচার করেন, ধর্মনিন্দা ও তাঁকে তিরস্কার করার জন্য আমাদের শাস্তি দেন, এবং আমাদের অনুভব করান যে, তাঁর চোখে, আমাদের মুক্তিলাভের একটিমাত্র বৈশিষ্ট্যও নেই, যেন আমরাই জীবন্ত শয়তান। আমাদের সকল আশা ভঙ্গ হয়; আমরা আর তাঁর কাছে কোনো অযৌক্তিক দাবী করার, বা তাঁর উপর কোনো পরিকল্পনা পোষণ করার সাহস করি না, এবং আমাদের স্বপ্নগুলিও রাতারাতি বিলুপ্ত হয়ে যায়। এটি এমন একটি তথ্য যা আমরা কেউই কল্পনা করতে পারি না এবং যা কেউই স্বীকার করতেও পারি না। মুহূর্তের মধ্যে আমরা আমাদের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য হারিয়ে ফেলি এবং বুঝতে পারি না সামনে যে পথ রয়েছে এরপর তাতে কীভাবে চলতে থাকবো, অথবা আমাদের বিশ্বাসের পথে এরপর কীভাবে চলতে থাকবো। মনে হয়, যেন আমাদের বিশ্বাস একেবারে প্রথম পর্যায়ে ফিরে গেছে, এবং যেন আমরা কোনোদিন প্রভু যীশুকে দেখিই নি অথবা তাঁকে জানি নি। আমাদের চোখের সামনে সবকিছু আমাদেরকে বিভ্রান্তিতে ভরিয়ে দেয় এবং সিদ্ধান্তহীনতায় আমাদের অস্থির করে তোলে। আমরা হতাশ হই, নিরাশ হই, এবং আমাদের হৃদয়ের গভীরে অদম্য রাগ এবং অসম্মান জন্মায়। আমরা তা নির্গত করতে চেষ্টা করি, মুক্তির পথ খুঁজে পেতে চাই, এবং উপরন্তু, আমাদের পরিত্রাতা যীশুর জন্য অপেক্ষা চালিয়ে যেতে চাই, যাতে তাঁর কাছে আমরা আমাদের হৃদয় উজাড় করে দিতে পারি। যদিও কোনো কোনো সময়ে বাইরে থেকে দেখে মনে হয় যে আমরা সাম্যময় অবস্থানে রয়েছি, উদ্ধত নই আবার বিনীতও নই, কিন্তু আমাদের হৃদয়ে আমরা এক ক্ষতির অনুভূতিতে আক্রান্ত যা আমরা আগে কখনো অনুভব করিনি। কোনো কোনো সময়ে বাইরে আমাদের অস্বাভাবিক রকমের শান্ত দেখালেও, আমাদের মন ঝোড়ো সমুদ্রের মতো যন্ত্রণায় ছটফট করছে। তাঁর বিচার এবং শাস্তি আমাদের সকল আশা এবং স্বপ্ন কেড়ে নিয়েছে, আমাদের অসংযত কামনার পরিসমাপ্তি ঘটিয়েছে এবং ইনিই যে আমাদের পরিত্রাতা এবং আমাদের উদ্ধার করতে সক্ষম, একথা বিশ্বাস করতে অনিচ্ছুক করে তুলেছে। তাঁর বিচার এবং শাস্তি আমাদের এবং তাঁর মাঝখানে এক খাদের জন্ম দিয়েছে, যা এত গভীর যে কেউই তা অতিক্রম করতে ইচ্ছুক নয়। তাঁর বিচার এবং শাস্তিতেই আমরা প্রথমবার আমাদের জীবনে এমন দারুণ বিপত্তি, এত বড় অপমান সহ্য করেছি। তাঁর বিচার এবং শাস্তির কারণেই আমরা ঈশ্বরের সম্মান এবং মানুষের অপরাধের প্রতি তাঁর অসহিষ্ণুতাকে সত্যিকারের প্রশংসা করতে পেরেছি, যার তুলনায় আমরা অত্যন্ত নিকৃষ্ট, অত্যন্ত অশুদ্ধ। তাঁর বিচার এবং শাস্তিই আমাদের প্রথমবার উপলব্ধি করিয়েছে যে আমরা কত অহংকারী আর আত্মম্ভরী, এবং কেন মানুষ কখনোই ঈশ্বরের সমান হবে না, বা তাঁর সমতুল্য হবে না। তাঁর বিচার এবং শাস্তি আমাদেরকে এহেন ভ্রষ্ট স্বভাবে জীবনযাপন না করতে, এই প্রকৃতি ও সারসত্য থেকে যত দ্রুত সম্ভব মুক্তি পেতে, এবং তাঁর কাছে এরকম নীচ ও ঘৃণ্য হওয়া বন্ধ করতে আকুল করে তুলেছে। তাঁর বিচার এবং শাস্তি আমাদেরকে তাঁর সমন্বয়সাধন এবং আয়োজনসমূহের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ না করে তাঁর বাক্য মেনে চলায় আনন্দিত করে তুলেছে। তাঁর বিচার এবং শাস্তি আরও একবার আমাদের মধ্যে অস্তিত্ব বাঁচিয়ে রাখতে পারার আকাঙ্খা প্রদান করেছে এবং তাঁকে আমাদের পরিত্রাতা হিসেবে গ্রহণ করায় আমাদের আনন্দিত করেছে…। আমরা বিজয়লাভের কাজ থেকে, নরক থেকে, মৃত্যুর ছায়াঘেরা উপত্যকা থেকে বেরিয়ে এসেছি…। আমাদের, মানুষের এই গোষ্ঠীকে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর অর্জন করেছেন! তিনি শয়তানের উপর বিজয়ী হয়েছেন এবং বহু শত্রুকে পরাস্ত করেছেন!
আমরা শুধু এক সাধারণ মানুষের দল, ভ্রষ্ট শয়তানোচিত স্বভাবের অধিকারী, যারা যুগযুগান্তকাল আগেই ঈশ্বরের দ্বারা পূর্বনির্ধারিত, এবং সেইসব অভাবী মানুষ যাদের ঈশ্বর আবর্জনার স্তুপ থেকে তুলে এনেছেন। আমরা একসময় ঈশ্বরকে প্রত্যাখ্যান ও তাঁর নিন্দা করেছিলাম, কিন্তু এখন আমরা তাঁর দ্বারা বিজিত। ঈশ্বরের কাছ থেকে আমরা পেয়েছি জীবনীশক্তি, অনন্ত জীবনের পথ। আমরা পৃথিবীর যেখানেই উপস্থিত থাকি না কেন, যেকোনো নিপীড়ন বা ক্লেশই সহ্য করি না কেন, আমরা সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের পরিত্রাণের থেকে দূরে থাকতে পারব না। কারণ তিনি আমাদের সৃষ্টিকর্তা, এবং আমাদের একমাত্র মুক্তি!
ঈশ্বরের প্রেম ঝরনার জলের মতো সম্মুখে প্রসারিত হয়, এবং তোমাকে, আমাকে, অন্যান্যদের, এবং যারা প্রকৃতই সত্যের অন্বেষণ করে ও ঈশ্বরের আবির্ভাবের যারা প্রতীক্ষা করে, তাদের সকলকেই তা দেওয়া হয়।
ঠিক যেভাবে সূর্য এবং চন্দ্র পালা অনুযায়ী ওঠে, তেমনই ঈশ্বরের কাজও কখনো স্থগিত হয় না, এবং তা তোমার উপর, আমার উপর, অন্যান্যদের উপর, এবং ঈশ্বরের পদাঙ্ক অনুসরণকারী এবং তাঁর বিচার ও শাস্তি গ্রহণকারী সবার উপরেই নির্বাহিত হয়।
মার্চ ২৩, ২০১০
—বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য
প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।
During the last days, God has been incarnated in China to work, and has expressed millions of words, conquering and saving a group of...
In 1995, the work of testifying to the kingdom gospel of Almighty God formally began in Mainland China. Through our gratitude to God and...
করুণার যুগে, প্রভু যীশু তাঁর অনুগামীদের প্রতিশ্রুতি দেন, “তোমাদের জন্য স্থান নির্দিষ্ট করতে আমি যখন যাচ্ছি তখন আমার কাছে তোমাদের নিয়ে...
China is the land where the great red dragon resides, and is the place that has resisted and condemned God most severely throughout...