ঈশ্বর যাদের পছন্দ করেন তাদেরই তিনি নিখুঁত করে তোলেন

ঈশ্বর এখন মানুষের একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী অর্জন করতে চান, যারা তাঁর সাথে সহযোগিতা করার চেষ্টা করে, যারা তাঁর কাজ মেনে চলতে পারে, যারা বিশ্বাস করে যে ঈশ্বরের বাণীগুলি সত্য এবং যারা ঈশ্বরের প্রয়োজনীয়তাগুলি অনুশীলন করতে পারে; তারাই সেই মানুষ যাদের অন্তরে সত্যিকারের বোধশক্তি আছে, তাদেরই নিখুঁত করা যেতে পারে এবং তারাই অনিবার্যভাবে নিখুঁত হওয়ার পথে হাঁটতে সক্ষম হবে। যাদের ঈশ্বরের কাজ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নেই, যারা ঈশ্বরের ঈশ্বরের বাক্য ভোজন ও পান করে না, যারা তাঁর বাণীর প্রতি মনোযোগ দেয় না এবং যাদের অন্তরে ঈশ্বরের জন্য কোনও ভালবাসা নেই, তাদের নিখুঁত করা সম্ভব নয়। যারা ঈশ্বরের অবতারে সন্দেহ প্রকাশ করে, তারা সর্বদা তাঁর সম্পর্কে অনিশ্চিত, তাঁর কথাগুলি কখনও গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে না এবং সর্বদা তাঁকে প্রতারিত করে, তারা ঈশ্বরের বিরোধিতা করে এবং শয়তানের কবলে রয়েছে; এই ধরনের মানুষদের নিখুঁত করার কোনো উপায় নেই।

যদি তুমি নিখুঁত হতে চাও, তবে তোমাকে অবশ্যই প্রথমে ঈশ্বরের অনুগ্রহ লাভ করতে হবে, কারণ তিনি তাদেরকেই নিখুঁত করেন, যাদেরকে তিনি অনুগ্রহ করেন এবং যাদের তিনি পছন্দ করেন। তুমি যদি ঈশ্বরের কৃপা লাভ করতে চাও, তবে তোমার অবশ্যই এমন একটি হৃদয় থাকতে হবে যা তাঁর কাজকে মেনে চলে, তোমাকে অবশ্যই সত্যকে অনুসরণ করার চেষ্টা করতে হবে এবং তোমাকে অবশ্যই সব বিষয়ে ঈশ্বরের পরীক্ষা নেওয়া স্বীকার করে নিতে হবে। ঈশ্বরের পরীক্ষায় তোমার সব কাজই কি উত্তীর্ণ হয়েছে? তোমার উদ্দেশ্য কি মহৎ? যদি তোমার উদ্দেশ্য মহৎ হয়, তবে ঈশ্বর তোমার প্রশংসা করবেন; যদি তোমার উদ্দেশ্য ভুল হয়, তবে প্রমাণ হয় যে তোমার হৃদয় যা ভালবাসে তা ঈশ্বর নয়, বরং রক্তমাংসের শরীর এবং শয়তান। তাই, সব বিষয়ে ঈশ্বরের পরীক্ষা নেওয়া স্বীকার করতে তোমাকে অবশ্যই প্রার্থনাকে একটি উপায় হিসাবে ব্যবহার করতে হবে। যখন তুমি প্রার্থনা কর, যদিও আমি সশরীরে তোমার সামনে থাকি না, কিন্তু পবিত্র আত্মা তোমার সাথেই থাকে এবং তুমি আমার এবং ঈশ্বরের আত্মা উভয়ের কাছেই প্রার্থনা করছ। তোমরা কেন এই রক্ত মাংসের শরীরকে বিশ্বাস করো? তুমি বিশ্বাস করো কারণ তার কাছে ঈশ্বরের আত্মা রয়েছে। তার মধ্যে ঈশ্বরের আত্মা না থাকলে কি তুমি এই ব্যক্তির উপর বিশ্বাস রাখতে পারবে? যখন তুমি এই ব্যক্তির উপর বিশ্বাস রাখো, তখন তুমি ঈশ্বরের আত্মায় বিশ্বাস করছো। যখন তুমি এই ব্যক্তিকে ভয় করো, তখন তুমি ঈশ্বরের আত্মাকে ভয় করছো। ঈশ্বরের আত্মার উপর বিশ্বাসের অর্থ এই ব্যক্তির উপর বিশ্বাস এবং সেইসাথে এই ব্যক্তির উপর বিশ্বাসের অর্থ ঈশ্বরের আত্মায় বিশ্বাস। যখন তুমি প্রার্থনা করো, তখন তুমি অনুভব করো যে ঈশ্বরের আত্মা তোমার সাথে আছে এবং ঈশ্বর তোমার সামনে আছেন, এবং তাই তুমি তাঁর আত্মার কাছে প্রার্থনা করো। আজ, বেশিরভাগ মানুষ ঈশ্বরের সামনে তাদের ক্রিয়াকলাপ প্রকাশ করতে ভয় পায়; যদিও তুমি হয়ত তাঁর রক্ত মাংসের শরীরকে ধোঁকা দিতে পারো, কিন্তু তুমি তাঁর আত্মাকে ধোঁকা দিতে পারবে না। যেকোনো বিষয় যা ঈশ্বরের পরীক্ষার সামনে দাঁড়াতে পারে না তা সত্যের পরিপন্থী এবং তাকে ত্যাগ করতে হবে; তা না করার অর্থ হল ঈশ্বরের বিরুদ্ধে পাপে লিপ্ত হওয়া। সুতরাং, যখন তুমি প্রার্থনা করো, যখন তুমি তোমার ভাই ও বোনদের সাথে কথা বলো এবং সহযোগিতা করো এবং যখন তুমি তোমার দায়িত্ব কর্তব্য পালন করো এবং নিজের কাজে লিপ্ত হও, সেই সব সময়ে তোমাকে অবশ্যই ঈশ্বরের কাছে তোমার হৃদয় নিবেদন করতে হবে। যখন তুমি তোমার কর্তব্য পালন করছ, তখন ঈশ্বর তোমার সাথেই আছেন এবং যতক্ষণ পর্যন্ত তোমার উদ্দেশ্য মহৎ থাকবে এবং ঈশ্বরের গৃহের কাজের জন্য থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তুমি যা কিছু করো, তা তিনি স্বীকার করে নেবেন; তোমার কর্তব্য পালনের জন্য তোমাকে অন্তর থেকে নিজেকে উৎসর্গ করতে হবে। যখন তুমি প্রার্থনা করো, যদি তোমার হৃদয়ে ঈশ্বরের প্রতি ভালোবাসা থাকে এবং ঈশ্বরের কৃপা, সুরক্ষা এবং নিরীক্ষণ সন্ধান করো, যদি এই বিষয়গুলি তোমার উদ্দেশ্য হয় তবে তোমার প্রার্থনা কার্যকর হবে। উদাহরণস্বরূপ, যখন তুমি সভাতে প্রার্থনা করো, যদি তুমি খোলা মনে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করো এবং মিথ্যা কথা না বলে তোমার অন্তরে যা আছে তা তাঁকে নিবেদন করো, তবে তোমার প্রার্থনা অবশ্যই কার্যকর হবে। যদি তুমি অন্তর থেকে ঈশ্বরকে ভালোবাসো, তবে ঈশ্বরের কাছে শপথ করো: “ঈশ্বর, যিনি স্বর্গে এবং মর্ত্যে এবং সবকিছুর মধ্যেই আছেন, আমি আপনার কাছে শপথ করছি: আপনার আত্মা, আমি যা কিছু করি, তা পরীক্ষা করে দেখুক এবং সর্বদা আমাকে রক্ষা করুক এবং আমাকে কৃপা করুক এবং আপনার উপস্থিতি আমার সব কাজকে সফল করে তুলুক। যদি আমার অন্তর আপনাকে ভালোবাসতে না পারে অথবা আপনার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে, তবে আমাকে শাস্তি দিন এবং আমাকে কঠিন অভিশাপ দিন। আমাকে এই জীবনে বা পরকালেও ক্ষমা করবেন ন!” তোমার কি এরকম শপথ নেওয়ার সাহস আছে? যদি তোমার সে সাহস না থাকে তাহলে এটাই প্রমাণ করে যে তুমি ভীরু এবং তুমি এখনও নিজেকেই ভালোবাসো। তোমাদের কি এই সংকল্প আছে? এটা যদি সত্যিই তোমার সংকল্প হয়ে থাকে, তাহলে তোমাকে এই শপথ গ্রহণ করতে হবে। তোমার যদি এরকম একটি সংকল্প থাকে তাহলে ঈশ্বর তোমার সংকল্প পূরণ করবেন। তুমি যখন ঈশ্বরের কাছে একটি শপথ নাও তখন তিনি তা শোনেন। তোমার প্রার্থনা এবং আচার-আচরণ থেকে ঈশ্বর নির্ধারণ করেন তুমি পাপাচারী, না ধার্মিক। এখন এটাই তোমাদেরকে নিখুঁত করার প্রক্রিয়া এবং যদি সত্যিই নিখুঁত হওয়ায় তোমার বিশ্বাস থাকে, তাহলে তুমি যা কিছু করো তা ঈশ্বরের কাছে প্রকাশ করো এবং তাঁর পরীক্ষা করা স্বীকার করো; যদি তুমি এমন কিছু করো, যা চরমভাবে ঈশ্বরবিরোধী অথবা যদি তুমি ঈশ্বরের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করো, তাহলে তিনি তোমাদের শপথকে বাস্তবায়িত করবেন এবং এইভাবে তোমার যা-ই হোক না কেন, তা ধ্বংস হোক বা শাস্তি, এটা তোমার নিজেদের কর্মফল। তুমি শপথ করেছ, সুতরাং তোমকে তা মেনে চলতে হবে। যদি তোমরা একটি শপথ করো, কিন্তু তা পালন না করো, তবে তুমি নরক যন্ত্রণা ভোগ করবে। যেহেতু তুমিই শপথ করেছিলে, তাই ঈশ্বর তোমার শপথকে বাস্তবায়িত করবেন। কেউ কেউ প্রার্থনা করার পর ভয় পায় এবং বিলাপ করে বলে, “সব শেষ হয়ে গেছে! আমার অসদাচরণের সুযোগ চলে গেছে; আমার দুষ্ট কাজ করার সুযোগ চলে গেছে; আমার পার্থিব আকাঙ্ক্ষা পূরণের সুযোগ চলে গেছে!” এই লোকেরা এখনও পার্থিব সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য এবং পাপকে ভালোবাসে এবং তাদের নরক যন্ত্রণা ভোগ করা নিশ্চিত।

ঈশ্বরবিশ্বাসী হওয়ার অর্থ হল তুমি যা করবে তা ঈশ্বরকে জানাতে হবে এবং সেগুলি তাঁর যাচাইকরণ সাপেক্ষ করতে হবে। তুমি যা কর সেটা যদি ঈশ্বরের আত্মার সামনে রাখতে পারো কিন্তু ঈশ্বরের শরীরী রূপের সামনে না রাখতে পারো তাহলে এটা বোঝায় যে তুমি তাঁর আত্মার দ্বারা যাচাইকরণের পর্যায়ে উন্নীত হতে পারোনি। কে এই ঈশ্বরের আত্মা? কে এই ব্যক্তি যার কাছে ঈশ্বর সাক্ষ্য দেন? তাঁরা কি এক এবং অভিন্ন নয়? বেশিরভাগ মানুষ তাঁদের দুজন কে ভিন্ন বলে মনে করে, ঈশ্বরের আত্মায় বিশ্বাসী হওয়া মানে ঈশ্বরের আত্মাকেই বিশ্বাস করা এবং ঈশ্বর যার কাছে তাঁর সাক্ষ্য রাখেন সে একজন সাধারণ মানুষ ছাড়া আর কেউ নয়। কিন্তু তুমি কি ভুল করছো না? কার হয়ে এই ব্যক্তি কাজ করে? যারা ঈশ্বরের অবতার সম্পর্কে জানে না তাদের আধ্যাত্মিক বোধশক্তি নেই। ঈশ্বরের আত্মা এবং শরীরী অবতার দুটোই এক, কারণ ঈশ্বরের শরীরী রূপের মধ্যেই ঈশ্বরের আত্মা রূপায়িত হয়েছে। যদি এই মানুষটি তোমার উপর নির্দয় হয়, তাহলে ঈশ্বরের আত্মা কি তোমার উপর সদয় হবেন? তুমি কি বিভ্রান্ত নও? আজকের দিনে, যারা ঈশ্বরের দ্বারা যাচাইকরণ হতে সম্মত নয় তারা তাঁর অনুমোদন পাবে না এবং যারা ঈশ্বরের অবতার সম্পর্কে জ্ঞাত নয় তাদের নিখুঁত করা যাবে না। তুমি যা যা করছ তার দিকে তাকাও এবং দেখো সেই সব কাজ ঈশ্বরের সামনে নিয়ে আসতে পারবে কিনা। যদি তুমি তোমার সকল কাজ ঈশ্বরের সামনে আনতে না পারো, তাহলে এটাই প্রমাণ হয় যে তুমি অন্যায় কাজে লিপ্ত। যারা অন্যায় কাজে লিপ্ত তাদের কি কখনও নিখুঁত করা যেতে পারে? তুমি যা করো, প্রতিটা কাজ, প্রতিটা উদ্দেশ্য এবং প্রতিটা প্রতিক্রিয়া ঈশ্বরের সামনে নিয়ে আসতে হবে। এমন কি তোমার রোজকার আধ্যাত্মিক জীবন—তোমার প্রার্থনা, ঈশ্বরের সাথে তোমার নৈকট্য, যেভাবে তুমি ঈশ্বরের বাক্য ভোজন ও পান করো, তোমার ভাই বোনদের সাথে মেলামেশা করো, এবং তোমার গির্জার মধ্যেকার জীবন—এবং অন্যের সাথে মিলেমিশে তুমি যে সেবা করো তার সবটাই ঈশ্বরের সামনে তাঁর যাচাইকরণের জন্য উপস্থিত করতে হবে। এটি হল সেই ধরনের সাধনা যা তোমায় জীবনে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে। ঈশ্বরের যাচাইকরণ পদ্ধতিকে স্বীকার করার অর্থ হল বিশুদ্ধিকরণের প্রক্রিয়াকে স্বীকার করা। যত বেশি তুমি ঈশ্বরের যাচাইকরণ প্রক্রিয়াকে স্বীকার করবে ততো বেশি তোমার বিশুদ্ধিকরণ ঘটবে এবং যত বেশি তুমি ঈশ্বরের ইচ্ছের সাথে সামঞ্জস্যতা রাখবে, তুমি ব্যভিচারের দিকে আকৃষ্ট হবে না এবং তোমার হৃদয়ে সর্বদা ঈশ্বরের উপস্থিতি থাকবে। যত বেশি তুমি তাঁর যাচাইকরণ স্বীকার করে নেবে, শয়তান তত কোণঠাসা হবে এবং শরীরী চাহিদা পরিত্যাগ করার তোমার ক্ষমতা তত বেশি হবে। তাই, ঈশ্বরের যাচাইকরণ স্বীকার করে নেওয়া এমন একটি অনুশীলনের পথ যা মানুষের অনুসরণ করা উচিত। তুমি যাই করো না কেন, এমনকি তোমার ভাই ও বোনদের সাথে যোগাযোগ করার সময়ও, তুমি তোমার কাজগুলি ঈশ্বরের সামনে আনতে পারো এবং তাঁর যাচাইকরণ এবং স্বয়ং ঈশ্বরের আনুগত্য করার লক্ষ্য সন্ধান করতে পারো। এটি তুমি যা অনুশীলন করো তা আরও সঠিক করে তুলবে। শুধুমাত্র যদি তুমি যা করো তা ঈশ্বরের সামনে নিয়ে আসতে পারো এবং ঈশ্বরের যাচাইকরণ স্বীকার করতে পারো তাহলে তুমি এমন একজন হয়ে উঠতে পারবে যে ঈশ্বরের উপস্থিতিতে জীবনধারণ করে।

যাদের মধ্যে ঈশ্বরজ্ঞান নেই তারা কখনই সম্পূর্ণরূপে ঈশ্বরের অনুগত হতে পারে না। এ ধরনের মানুষ অবাধ্যতার সন্তান। তারা অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী এবং তাদের মধ্যে খুব বেশি বিদ্রোহ রয়েছে, তাই তারা ঈশ্বরের কাছ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেয় এবং তাঁর যাচাইকরণ স্বীকার করতে অনিচ্ছুক। এই ধরনের মানুষকে সহজে নিখুঁত করা যাবে না। কিছু লোক কীভাবে ঈশ্বরের বাক্য ভোজন এবং পান করবে এবং ঈশ্বরের যাচাইকরণ স্বীকার করার বিষয়ে নির্বাচনশীল। তারা ঈশ্বরের বাণীর কিছু অংশ গ্রহণ করে যা তাদের অভীষ্টের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং যা তাঁর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় সেগুলি প্রত্যাখ্যান করে। এটা কি ঈশ্বরের বিরুদ্ধে সবচেয়ে নির্লজ্জ বিদ্রোহ এবং বিরোধিতা নয়? যদি কেউ বছরের পর বছর ধরে ঈশ্বরে বিশ্বাস করে, এমনকি তাঁর সম্পর্কে সামান্য জ্ঞানও অর্জন না করে, তবে তারা অবিশ্বাসী। যারা ঈশ্বরের যাচাইকরণকে স্বীকার করতে ইচ্ছুক, তারাই হল সেই সমস্ত ব্যক্তি যারা তাঁর সম্বন্ধে বোঝার চেষ্টা করে, যারা তাঁর বাণী গ্রহণ করতে ইচ্ছুক। তারাই ঈশ্বরের উত্তরাধিকার ও আশীর্বাদ লাভ করবে এবং তারাই সবচেয়ে বেশি আশীর্বাদপ্রাপ্ত হবে। ঈশ্বর তাদেরকে অভিসম্পাত করেন, যাদের অন্তরে তাঁর স্থান নেই এবং তিনি এরূপ ব্যক্তিদেরকে শাস্তি দেন ও পরিত্যাগ করেন। যদি তুমি ঈশ্বরকে না ভালোবাসো তবে তিনি তোমাকে পরিত্যাগ করবেন এবং যদি তুমি আমার কথা না শোনো, তবে আমি প্রতিজ্ঞা করছি যে, ঈশ্বরের আত্মা তোমাকে পরিত্যাগ করবেন। তুমি যদি এটি বিশ্বাস না করো তবে এটি চেষ্টা করে দেখো! আজ আমি তোমার জন্য অনুশীলনের একটি পথ স্পষ্ট করে দিচ্ছি, কিন্তু তুমি এটি বাস্তবে প্রয়োগ করবে কিনা তা তোমার উপর নির্ভর করে। যদি তুমি এটি বিশ্বাস না করো, যদি তুমি এটি অভ্যাসে পরিণত না করো তবে তুমি নিজেই দেখতে পাবে যে পবিত্র আত্মা তোমার মধ্যে কাজ করে কিনা! যদি তুমি ঈশ্বরের বোধগম্যতাকে অনুসরণ না করো, তাহলে পবিত্র আত্মা তোমার মধ্যে কাজ করবে না। যারা তাঁর বাণী অনুসরণ করে এবং সঞ্চয় করে, ঈশ্বর তাদের মধ্যে কাজ করেন। তুমি যত বেশি ঈশ্বরের বাণীগুলি ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করবে, তাঁর আত্মা তোমার মধ্যে তত বেশি কাজ করবে। একজন ব্যক্তি যত বেশি ঈশ্বরের বাণীকে মূল্যবান মনে করে, ঈশ্বরের দ্বারা তাদের নিখুঁত হওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি। যারা ঈশ্বরকে ভালোবাসে, তিনি তাদের নিখুঁত করেন এবং তাঁর সম্মুখে যাদের অন্তর শান্তিতে আছে, তাদেরকে তিনি নিখুঁত করেন। ঈশ্বরের সমস্ত কাজকে মূল্যবান করে তোলা, ঈশ্বরের জ্ঞানার্জনকে মূল্যবান করে তোলা, ঈশ্বরের উপস্থিতিকে মূল্যবান করে তোলা, ঈশ্বরের যত্ন এবং সুরক্ষাকে সঞ্চয় করা, ঈশ্বরের বাণীগুলি কীভাবে তোমার বাস্তব জীবনকে মূল্যবান করে তোলে এবং তোমার জীবন কে রক্ষা করে-এই সমস্ত কিছু ঈশ্বরের হৃদয়ের সাথে সর্বোত্তম। যদি তুমি ঈশ্বরের কাজ সঞ্চয় করো, অর্থাৎ যদি তুমি তোমার উপর তিনি যা কিছু করেছেন, সে সকল কাজকে ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করো, তবে তিনি তোমাকে আশীর্বাদকরবেন এবং তোমাদের যা কিছু আছে, তা বহুগুণে বৃদ্ধি করবেন। যদি তোমরা ঈশ্বরের বাণীগুলিকে ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় না করো, তবে তিনি তোমাদের মধ্যে কাজ করবেন না, কিন্তু তিনি কেবল তোমাকে তোমার বিশ্বাসের জন্য সামান্য কৃপা করবেন, অথবা তোমাকে সামান্য সম্পদ এবং তোমার পরিবারকে সামান্য নিরাপত্তা দিয়ে আশীর্বাদ করবেন। ঈশ্বরের বানীকে তোমার বাস্তবতায় পরিণত করার চেষ্টা করা উচিত, এবং তাঁকে সন্তুষ্ট করতে এবং তাঁর নিজের হৃদয়ের অংশ হতে সক্ষম হওয়া উচিত; তোমার শুধু তাঁর অনুগ্রহ উপভোগ করার চেষ্টা করা উচিত নয়। বিশ্বাসীদের জন্য ঈশ্বরের কাজ স্বীকার করা, নিখুঁত হয়ে ওঠা এবং ঈশ্বরের ইচ্ছা্নুযায়ী কাজ করে একজন হয়ে ওঠার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ আর কিছুই নেই। এই লক্ষ্যটি তোমার অনুসরণ করা উচিত।

অনুগ্রহের যুগে মানুষ যা কিছু অনুসরণ করেছিল তা এখন অপ্রচলিত, কারণ বর্তমানে সাধনার একটি উচ্চতর মান রয়েছে; যা অনুসরণ করা হয় তা হ'ল উচ্চতর এবং আরও ব্যবহারিক উভয়ই, যা অনুসরণ করা হয় তা মানুষের ভিতরে যা প্রয়োজন তা আরও ভালোভাবে পূরণ করতে পারে। অতীতের যুগে, ঈশ্বর আজকের মতো মানুষের উপর কাজ করেননি; তিনি তাদের সাথে আজকের মত কথা বলেননি, এবং তাদের সম্পর্কে তাঁর চাহিদাও আজকের মত উচ্চতর ছিল না। যে ঈশ্বর তোমাদের কাছে যে বিষয়গুলি নিয়ে কথা বলেছেন তা এখন দেখায় যে ঈশ্বরের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য তোমাদের উপরই আছে, এই গোষ্ঠীর লোকেদের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা রয়েছে। যদি তোমরা সত্যিই ঈশ্বরের দ্বারা নিখুঁত হতে চাও, তবে তা তোমাদের মূল লক্ষ্য হিসেবে অনুসরণ করো। তুমি চারপাশে দৌড়ে বেড়াচ্ছো কিনা, নিজেকে ব্যয় করছো কিনা, একটি অনুষ্ঠানে সেবা করছো কিনা, বা তুমি ঈশ্বরের কর্মভার পেয়েছ কিনা সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, লক্ষ্য সর্বদা নিখুঁত হতে হবে এবং এই লক্ষ্যগুলি পূরণের জন্য ঈশ্বরের ইচ্ছাকে পূর্ণ করতে হবে। যদি কেউ বলে যে তারা ঈশ্বরের দ্বারা নিখুঁত হওয়াকে বা জীবনে প্রবেশ করাকে অনুসরণ করে না, তবে কেবল শরীরী শান্তি এবং আনন্দকে অনুসরণ করে, তবে তারা সবচেয়ে বেশি বিচারবুদ্ধিহীন মানুষ। যারা জীবনের বাস্তবতা অনুসরণ করে না, কিন্তু শুধুমাত্র পরকালের জন্য এবং এই বিশ্বের নিরাপত্তা জন্য বিশ্বের অনন্ত জীবন অনুসরণ করে, তারা সবথেকে বেশি বিচারবুদ্ধিহীন মানুষ। তাই, তুমি যা কিছু করো তা নিখুঁত হওয়ার উদ্দেশ্যে করা উচিত এবং ঈশ্বরের দ্বারা অর্জিত হওয়ার জন্যই করতে হবে।

মানুষের জন্য ঈশ্বর যে কাজটি করেন তা হল তাদের বিভিন্ন প্রয়োজনীয়তা পূরণ করা। একজন মানুষের জীবন যত বড় হবে, তত বেশি তাদের প্রয়োজন হবে এবং তারা তত বেশি অনুসরণ করবে। যদি এই পর্যায়ে তোমার কোনও অভীষ্ট বস্তু না থাকে তবে এটি প্রমাণ করে যে পবিত্র আত্মা তোমাকে পরিত্যাগ করেছে। যারা জীবনকে অনুসরণ করে পবিত্র আত্মা তাদের কখনও পরিত্যাগ করে না; এই ধরনের মানুষেরা সর্বদা অনুসরণ করে এবং সর্বদা তাদের হৃদয়ে আকুলতা থাকে। এই ধরনের মানুষ তারা যেমন বর্তমান বস্তুগত জীবনে সন্তুষ্ট কখনও সেরকম জীবনে সন্তুষ্ট হয় না। পবিত্র আত্মার কাজের প্রতিটি পর্যায় তোমার মধ্যে একটি প্রভাব অর্জনের লক্ষ্য রাখে, কিন্তু যদি তুমি আত্মতুষ্টিতে ভোগো, যদি তোমার আর প্রয়োজন না থাকে, যদি তুমি আর পবিত্র আত্মার কাজ স্বীকার না করো, তাহলে তিনি তোমাকে পরিত্যাগ করবেন। মানুষের প্রতিদিন ঈশ্বরের যাচাইকরণ প্রয়োজন; প্রতিদিন তাদের ঈশ্বরের কাছ থেকে প্রচুর বন্দোবস্ত প্রয়োজন। মানুষেরা কি প্রতিদিন ঈশ্বরের বাক্য ভোজন ও পান না করে সবকিছু সামলাতে পারবে? যদি কেউ সর্বদা মনে করে যে তারা যথেষ্ট পরিমাণে ঈশ্বরের বাক্য ভোজন বা পান করতে পারে না, যদি তারা সর্বদা এটি সন্ধান করে এবং এটির জন্য ক্ষুধিত এবং তৃষ্ণার্ত হয় তাহলে পবিত্র আত্মা সর্বদা তাদের মধ্যে কাজ করবে। কেউ যত বেশি, আকুল হবে তারা তত বেশি বস্তুগত জগতের সংসর্গ থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে। যত বেশি আকুলভাবে কেউ সত্য, অন্বেষণ করে তত দ্রুত তারা তাদের জীবনে উন্নতি লাভ করে, যা তাদের অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ করে তোলে এবং তারা ঈশ্বরের গৃহের অধিবাসী হয়ে ওঠে।

পূর্ববর্তী: ঈশ্বরের নবীনতম কর্মধারাকে জানো এবং তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করো

পরবর্তী: যারা শুদ্ধ মনে ঈশ্বরকে মেনে চলেন ঈশ্বর তাদের নিশ্চয়ই কৃপা করবেন

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? অনুগ্রহ করে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। 😊

সম্পর্কিত তথ্য

ঈশ্বর হলেন মানুষের জীবনের উৎস

ক্রন্দনরত অবস্থায় এই জগতে ভূমিষ্ঠ হবার সময় থেকেই তুমি তোমার কর্তব্য পালন করা শুরু করো। ঈশ্বরের পরিকল্পনা ও তাঁর নির্ধারিত নিয়তি অনুসারে...

শুধুমাত্র অন্তিম সময়ের খ্রিষ্ট মানুষকে অনন্ত জীবনের পথ দেখাতে পারেন

জীবনের গতিপথ কারও নিয়ন্ত্রণে থাকে না, বা এটি সহজে অর্জন করতে পারার মতো বিষয়ও নয়। কারণ জীবন কেবল ঈশ্বর প্রদত্ত, অর্থাৎ, শুধুমাত্র ঈশ্বর...

প্রার্থনার অনুশীলন বিষয়ে

তোমরা তোমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রার্থনার উপর জোর দাও না। মানুষ প্রার্থনার বিষয়টিকে অবহেলা করে। প্রার্থনা সাধারণত করা হয়ে থাকে দায়সারাভাবে...

সেটিংস

  • লেখা
  • থিমগুলি

ঘন রং

থিমগুলি

ফন্টগুলি

ফন্ট সাইজ

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

পৃষ্ঠার প্রস্থ

বিষয়বস্তু

অনুসন্ধান করুন

  • এই লেখাটি অনুসন্ধান করুন
  • এই বইটি অনুসন্ধান করুন

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন