ঈশ্বরের নবীনতম কর্মধারাকে জানো এবং তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করো

এখন তোমাদেরকে ঈশ্বরের লোক হয়ে ওঠার চেষ্টা করে সঠিক পথেই সম্পূর্ণভাবে প্রবেশ করতে হবে। ঈশ্বরের লোক হওয়ার অর্থ হলো তাঁর রাজ্যের যুগে প্রবেশ করা। তাঁর রাজ্যের যুগে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশ করার প্রশিক্ষণের দিন শুরু হল আজ থেকেই এবং তোমার ভবিষ্যতের জীবনযাত্রা আগের মত আর আলস্যে পূর্ণ থাকলে চলবে না। এই ভাবে জীবনযাপন করলে ঈশ্বর নির্ধারিত মানে পৌঁছানো অসম্ভব। তোমার মধ্যে এর আশু প্রয়োজনীয়তা অনুভূত না হলে বুঝতে হবে নিজেকে উন্নত করার কোনও ইচ্ছাই তোমার মধ্যে নেই, তোমার চেষ্টা অস্পষ্ট, বিভ্রান্তিকর এবং তুমি ঈশ্বরের ইচ্ছা পূর্ণ করতে অসমর্থ। তাঁর রাজ্যে প্রবেশের প্রশিক্ষণের অর্থ হল ঈশ্বরের লোক হয়ে জীবন শুরু করা—তুমি কি সেই প্রশিক্ষণ নিতে আগ্রহী? তুমি কি এই ত্বরার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করতে চাও? চলতে চাও কি ঈশ্বর নির্দেশিত শৃঙ্খলায়? ঈশ্বরের দেওয়া শাস্তির বিধান কি মাথা পেতে নিতে চাও? ঈশ্বরের বাক্য তোমার উপর বর্ষিত হলে এবং তোমার পরীক্ষা নিলে তুমি কী করবে? এবং সব সত্যের মুখোমুখি হলেই বা তুমি কী করবে? অতীতে, জীবনের উপর তোমার মনোযোগ ছিল না; এখন তোমাকে অবশ্যই জীবনের বাস্তবিকতায় প্রবেশের জন্য মনোনিবেশ করতে হবে এবং আনতে হবে তোমার স্বভাবে পরিবর্তন। ঈশ্বরের রাজ্যের মানুষকে অবশ্যই এগুলি অর্জন করতে হবে। ঈশ্বরের মানুষদের অবশ্যই জীবনের অধিকারী হতে হবে এবং গ্রহণ করতে হবে তাঁর রাজ্যের প্রশিক্ষণ এবং তাদের জীবন স্বভাবের পরিবর্তন আনার চেষ্টা চালাতে হবে। রাজ্যের মানুষদের থেকে ঈশ্বর এটাই আকাঙ্ক্ষা করেন।

তাঁর রাজ্যের লোক হয়ে ওঠার জন্য ঈশ্বরের প্রয়োজন এইগুলি:

১। ঈশ্বরের অর্পিত দায়িত্ব তাদের অবশ্যই পালন করতে হবে অর্থাৎ অন্তিম সময়ের কাজে যেসব বাক্য ঈশ্বর বলেছিলেন তা অবশ্যই পালন করতে হবে।

২। তাঁর রাজ্যে প্রবেশের জন্য তাদের অবশ্যই প্রশিক্ষণ নিতে হবে।

৩। তাদের অবশ্যই অন্তরে ঈশ্বরের স্পর্শ অনুভব করার চেষ্টা চালাতে হবে। তোমার হৃদয় যখন সম্পূর্ণ ঈশ্বরমুখী হয়ে উঠবে এবং তোমার স্বাভাবিক জীবন আধ্যাত্মিক হবে, স্বাধীন সত্তায় বাঁচবে, তখনই তুমি বুঝবে তুমি ঈশ্বরের করুণা এবং ভালোবাসার সুরক্ষা-বলয়ে রয়েছ। ঈশ্বরের সুরক্ষা এবং ভালোবাসায় থাকলেই তুমি হয়ে উঠবে ঈশ্বরের লোক।

৪। তাদের অবশ্যই ঈশ্বরের দ্বারা অর্জিত হতে হবে।

৫। তাদের অবশ্যই পৃথিবীতে ঈশ্বরের মহিমা প্রকাশের মাধ্যম হয়ে উঠতে হবে।

এই পাঁচটি প্রস্তুতিই তোমাদের প্রতি আমার অর্পিত দায়িত্ব। আমার এই বাক্যগুলি ঈশ্বরের লোকেদের উদ্দেশ্যে ব্যক্ত হয়েছে এবং তুমি যদি তা স্বীকার করতে না চাও আমি তোমাকে বাধ্য করব না, কিন্তু যদি তুমি আন্তরিকভাবে তা গ্রহণ করো তাহলে ঈশ্বরের ইচ্ছানুযায়ী তোমরা কাজ করতে পারবে। আজ থেকে তোমরা ঈশ্বরের অর্পিত দায়িত্ব অনুসারে কাজ করা শুরু করবে এবং ঈশ্বরের রাজ্যের মানুষ হওয়ার এবং সেই রাজ্যের উপযোগী হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় মান অর্জনে সচেষ্ট হবে। ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশের এটি প্রথম ধাপ। তুমি যদি ঈশ্বরের ইচ্ছানুযায়ী সব কাজ করতে চাও তাহলে তোমাকে অবশ্যই এই পাঁচটি দায়িত্ব মেনে চলতে হবে। যদি নির্দিষ্ট ধাপগুলি অর্জন করতে পারো তা হলে তুমি ঈশ্বর ইচ্ছার সাথে সুসঙ্গত হবে এবং নিশ্চিতভাবে তোমাকে তিনি তাঁর বৃহৎ কোনও উদ্দেশ্য সাধনের কাজে লাগাবেন। এই রাজ্যে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণে রয়েছে আধ্যাত্মিক জীবন-চর্যা। এর আগে আমরা আধ্যাত্মিকতা নিয়ে কোনও আলোচনা করি নি, কিন্তু যেহেতু আজ তুমি ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশের প্রশিক্ষণ নিতে চলেছ, তাই তুমি আনুষ্ঠানিকভাবেই আধ্যাত্মিক জীবনে প্রবেশ করলে।

কী ধরনের জীবনকে আমরা আধ্যাত্মিক বলব? যখন তোমার হৃদয় সম্পূর্ণ ঈশ্বরমুখী হবে এবং অন্তরে ঈশ্বরের ভালোবাসা অনুভব করবে, সেটিই হল আধ্যাত্মিক জীবন। যখন তুমি ঈশ্বরের বাক্যতেই জীবন অতিবাহিত কর, ঈশ্বর-চিন্তা ছাড়া তোমার হৃদয়ে অন্য কিছুই থাকে না, তুমি তাঁর বর্তমানের ইচ্ছা বুঝতে পারো এবং তোমার দায়িত্ব পূরণের জন্য বর্তমানের পবিত্র আত্মার আলোর নির্দেশ অনুসরণ করো, তখনই তুমি আধ্যাত্মিক জীবনে আছ বলে বুঝবে। ঈশ্বর-সান্নিধ্যে থাকা মানুষের এই জীবনই হল আধ্যাত্মিক জীবন। প্রাত্যহিক জীবনে তুমি যদি এই আলোকে অনুসরণ না কর তাহলে তোমার এবং ঈশ্বরের সম্পর্কের মধ্যে এক দূরত্ব তৈরি হবে—এবং সেই দূরত্ব যদি দুস্তর হয়, তাহলে তোমার আধ্যাত্মিক জীবন থাকা আর সম্ভব হবে না। ঈশ্বরের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের ভিত্তি হলো বর্তমানের ঈশ্বরের বাক্য এবং নির্দেশ যথাযথভাবে স্বীকার ও পালন করা। তোমার আধ্যাত্মিক জীবন কি স্বাভাবিক? ঈশ্বরের সঙ্গে তোমার সম্পর্ক কি সহজ? তুমি কি সেইসব মানুষের মধ্যে একজন যারা পবিত্র আত্মার কর্মধারা অনুসরণ করো? যদি আজ তুমি পবিত্র আত্মার আলো অনুসরণ করতে পারো ও তাঁর বাক্যে ঈশ্বরের ইচ্ছা তুমি বুঝতে এবং গ্রহণ করতে পারো এবং এই বাক্যে পূর্ণ প্রবেশ করতে পারো, তাহলেই পবিত্র আত্মার প্রবহমান কর্মধারার একজন অনুসারী তুমি হতে পারবে। তুমি যদি এই বহমান কর্মধারাকে অনুসরণ না করো তাহলে নিশ্চিত ভাবে তুমি সত্যেরও অনুসন্ধান করো না। আত্ম-উন্নতির চেষ্টা যাদের মধ্যে নেই, তাদের মধ্যে কাজ করার কোনও ইচ্ছাই পবিত্র আত্মার থাকে না। ফলে, তারা নিজেদের শক্তিকে সংহত করতে পারে না এবং সব সময় নিষ্ক্রিয়ই থেকে যায়। এখন কি তুমি পবিত্র আত্মার সেই বহমান কর্মধারা অনুসরণ কর? তুমি কি সেই ধারার মধ্যে রয়েছে? নিষ্ক্রিয়তা থেকে কি তুমি উজ্জীবিত হয়েছ? ঈশ্বরের বাক্যে যারা বিশ্বাস করে, যাদের জীবনের ভিত্তি ঈশ্বরের কর্মধারা এবং আজকের পবিত্র আত্মার আলোর উজ্জ্বল পথ যারা অনুসরণ করে, তারা সকলে পবিত্র আত্মার এই কর্মধারার মধ্যেই রয়েছে। ঈশ্বরের বাক্য যদি তুমি দ্ব্যর্থহীন ভাবে সত্য এবং সঠিক বলে মনে করো এবং ঈশ্বরের সমস্ত বাক্য যদি অবিসংবাদিতভাবে পালন করো তাহলে তুমি ঈশ্বরের কর্মধারার মধ্যে প্রবেশের জন্য সচেষ্ট বিবেচিত হবে এবং এভাবেই তুমি ঈশ্বরের ইচ্ছা পূর্ণ করতে পারবে।

পবিত্র আত্মার প্রবহমান কর্মধারার মধ্যে প্রবেশের জন্য তোমার সঙ্গে ঈশ্বরের সহজ একটি সম্পর্ক থাকত হবে এবং তোমাকে অবশ্যই নিষ্ক্রিয়তা থেকে মুক্ত হতে হবে। যারা অন্য মানুষের মতো গতানুগতিকতাকে অনুসরণ করে, মন থেকে তারা ঈশ্বরের কাছে পৌঁছতে পারে না, আত্ম উন্নতির কোনও চেষ্টাই থাকে না তাদের মধ্যে এবং তারা যেসব কাজের জন্য সক্রিয় সেসবের মানও অত্যন্ত হীন। ঈশ্বরকে ভালোবাসার চেষ্টা এবং ঈশ্বরের দ্বারা অর্জিত হওয়াই হল ঈশ্বরের ইচ্ছা। এমন অনেক মানুষ আছে যারা ঈশ্বরের ভালোবাসার প্রতিদান দেওয়ার জন্য বিবেক থেকেই সচেষ্ট তবে শুধুমাত্র এভাবে ঈশ্বরের ইচ্ছা পূরণ করা যায় না; তোমার প্রয়াস যত কঠোর হবে, ততই তা ঈশ্বরের ইচ্ছার সঙ্গে সম্পৃক্ত হবে। যারা স্বাভাবিক জীবন-যাপন করে এবং ঈশ্বরকে ভালোবাসার প্রয়াস চালায়, তাদের সবার কাছেই প্রকৃত ভবিষ্যৎ হল ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করে ঈশ্বরের লোক হওয়া, সেই জীবনই সর্বাধিক মূল্যবান এবং গুরুত্বপূর্ণ, এর থেকে বড় আশীর্বাদ আর কোনোভাবেই তোমাদের উপর বর্ষিত হতে পারে না। কেন এ কথা বলছি? কারণ, যারা ঈশ্বরে বিশ্বাস করে না এবং শুধু ভোগ সুখেই বেঁচে থাকে—তারা বাঁচে শয়তানের স্বার্থসিদ্ধির জন্য; কিন্তু এখন তোমরা ঈশ্বরের জন্যই বেঁচে আছ এবং ঈশ্বর-ইচ্ছা পূর্ণ করাই হবে তোমাদের জীবন। সেই কারণেই আমি বলি, তোমাদের জীবন অতি গুরুত্বপূর্ণ। একমাত্র এই গোষ্ঠীর মানুষেরাই ঈশ্বরের নির্বাচিত এবং তারাই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ জীবন যাপন করবে। পৃথিবীর অন্য কারোর জীবন এত অর্থবহ এবং তাৎপর্যপূর্ণ নয়, কারণ তোমরা ঈশ্বর নির্বাচিত এবং তাঁর দ্বারাই লালিত। শুধু তাই নয়, ঈশ্বরের ভালোবাসার কারণে তোমরা প্রকৃত জীবন লাভ করেছ এবং জেনেছ কীভাবে জীবনযাপন করলে তা সর্বাধিক অর্থবহ হয়। তোমরা সাধু প্রকৃতির মানুষ বলে তা হয় না—এর কারণ হল, তোমাদের প্রতি ঈশ্বরের করুণা; ঈশ্বরই তোমার আত্মার উন্মেষ ঘটিয়েছেন ঈশ্বরের আত্মাই তোমাদের হৃদয়ে ঈশ্বরের স্পর্শ করেছে, যার ফলে ঈশ্বর-সান্নিধ্যে আসার মত বিরল সৌভাগ্য তোমাদের হয়েছে। যদি ঈশ্বরের আত্মা তোমাদের হৃদয় আলোকিত না করতেন, তাহলে তোমরা ঈশ্বরের ভালো দিকটি বুঝতে পারতে না, এমন কি ঈশ্বরকে ভালোবাসাও তোমাদের পক্ষে সম্ভব হত না। একমাত্র ঈশ্বরের আত্মার করুণাময় স্পর্শেই মানুষের হৃদয় ঈশ্বরমুখী হয়। কখনো কখনো এমনও হয় যে ঈশ্বরের বাক্য শুনতে শুনতে তোমার হৃদয়ে তাঁর স্পর্শ অনুভব কর এবং তুমি বুঝতে পার, ঈশ্বরকে না ভালবেসে তুমি থাকতে পারবে না, তোমার মধ্যে সঞ্চারিত হয় অসীম শক্তি এবং তুমি যেকোনো বাধাকেই তখন অতিক্রম করতে পারো। এইরকম অনুভব যখন তোমার মধ্যে আসবে, তখনই তুমি বুঝবে তোমার হৃদয়ে ঈশ্বরের আত্মার স্পর্শ রয়েছে এবং তা সম্পূর্ণই ঈশ্বরমুখী, প্রার্থনায় নতজানু হয়ে তখন তুমি বলবে, “হে ঈশ্বর! সত্যই আমরা তোমার দ্বারা পূর্বনির্ধারিত এবং নির্বাচিত। তোমার মহিমায় আমি উদ্ভাসিত এবং তোমার লোকেদের একজন হতে পেরে গর্বিত। তোমার ইচ্ছা পূরণের জন্য আমি যেকোনো মূল্য এবং সব কিছু উৎসর্গ করতে রাজি এবং আমার জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই এখন তোমার এবং সমস্ত প্রচেষ্টাই তোমার কাজে উৎসর্গীকৃত।” যখন তুমি এইভাবে প্রার্থনা করো, তখন তোমার হৃদয়ে ঈশ্বরের প্রতি অসীম ভালোবাসা এবং আজ্ঞাকারিতা প্রকাশিত হয়। এইরকম কোনও অভিজ্ঞতা কি তোমার কখনো হয়েছে? যাদের হৃদয় প্রায়শই ঈশ্বরের স্পর্শ পায় এবং তাঁর প্রতি উৎসর্গীকৃত, প্রার্থনায় তারা বলে “হে ঈশ্বর, তোমার মহিমার দিনগুলি আমি প্রত্যক্ষ করতে চাই এবং তোমার জন্যই আমার সমগ্র জীবন—তোমার জন্য বাঁচা ছাড়া আর কোনও কিছুই আমার কাছে মূল্যবান বা শ্রেয়তর নয়, শয়তানের স্বার্থসিদ্ধি বা ব্যক্তিগত ভোগবাসনার বিন্দুমাত্র লালসা আমার মধ্যে আজ আর নেই।” এইভাবে প্রার্থনা করতে পারলে তুমি বুঝবে যে ঈশ্বরকে হৃদয়-সমর্পণ করা ছাড়া তুমি নিরুপায়, তোমাকে ঈশ্বরের দ্বারা অর্জিত হতে হবে, এমনকি যতদিন জীবিত থাকবে ততদিন ঈশ্বরের দ্বারা অর্জিত না হয়ে মৃত্যু বরং করতেও তোমার নিজের প্রতি ঘৃণা হবে। এইভাবে প্রার্থনা করলেই অন্তর থেকে তুমি এক অক্ষয় শক্তি পাবে এবং তুমি জানতেও পারবে না যে সে শক্তির উৎস কোথায়, তোমার হৃদয় পূর্ণ হবে অপরিসীম ক্ষমতায় এবং তুমি অনুভব করবে ঈশ্বর কতটা প্রেমময় এবং কতটা ভালবাসার যোগ্য। তোমার মধ্যে ঈশ্বরের স্পর্শেই এটা সম্ভব হতে পারে। যাদের এই ধরনের অভিজ্ঞতা হয়েছে তারা সকলেই ঈশ্বরের স্পর্শ পেয়েছে। যাদের হৃদয়ে বারে-বারে ঈশ্বরের স্পর্শ আসে তাদের জীবন সদাই পরিবর্তনশীল ও নতুন সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম এবং ঈশ্বরের দ্বারা সম্পূর্ণ অর্জিত হওয়ার জন্য উৎসুক। তাদের হৃদয় ঈশ্বর-ভালোবাসায় আরো দৃঢ় এবং সম্পূর্ণ ঈশ্বরমুখী হয়; পরিবার, পৃথিবী, সামাজিক বন্ধন অথবা তাদের ভবিষ্যৎ—এই সবকিছু সম্পর্কেই তারা সম্পূর্ণ উদাসীন হয়ে পড়ে এবং তাদের সমস্ত জীবনের প্রচেষ্টাকেই তারা ঈশ্বরের কাছে নিবেদন করতে চায়। যারা ঈশ্বরের আত্মার এই করুণার স্পর্শ পেয়েছে, তারা সকলেই সত্যকে অনুসরণ করে এবং তাদের সকলেরই ঈশ্বরের দ্বারা নিখুঁত হয়ে ওঠার আশা রয়েছে।

ঈশ্বরের কাছে তোমার হৃদয় কি সমর্পণ করেছ? পেয়েছ কি হৃদয়ে ঈশ্বরের আত্মার স্পর্শ? যদি কখনো তোমার এই ধরনের অভিজ্ঞতা না হয়ে থাকে এবং এই প্রার্থনা তুমি যদি কখনো না করে থাকো, তাহলে বুঝতে হবে তোমার হৃদয়ে ঈশ্বরের কোনো স্থানই নেই। ঈশ্বরের আত্মা যাদের পথ-প্রদর্শক হন এবং যারা ঈশ্বরের স্পর্শ পেয়েছে তারা সকলেই ঈশ্বরের কর্মধারায় অনুপ্রাণিত। এ থেকেই বোঝা যায়, ঈশ্বরের বাক্য এবং তাঁর কাজ এদের হৃদয়ের গভীরে প্রোথিত হয়েছে। কেউ কেউ বলেন, “তোমাদের মত প্রার্থনায় আমি অত একান্ত নই এবং কখনো ঈশ্বরের স্পর্শ অনুভব করি নি। তবে, কখনো কখনো যখন ধ্যানস্থ হয়ে প্রার্থনা করি, তখন অনুভব করতে পারি ঈশ্বর প্রেমময় এবং আমি হৃদয়ে ঈশ্বর স্পর্শ পাই।” হৃদয়ের থেকে গুরুত্বপূর্ণ মানুষের কাছে অন্য কিছুই নয়। যখন তোমার হৃদয় ঈশ্বরমুখী হবে এবং তোমার সমস্ত সত্তা ঈশ্বর অভিমুখে যাবে, একমাত্র সেই সময়েই তুমি ঈশ্বরের আত্মার স্পর্শ পাবে। তোমাদের মধ্যে অনেকেরই এই ধরনের অভিজ্ঞতা হয়েছে। তফাৎ হল, সবার অনুভূতির গভীরতা সমান নয়। কেউ কেউ বলে, “প্রার্থনার সময় আমি বেশি কিছু বলি না, শুধু মন দিয়ে অন্যদের যোগাযোগ শুনি এবং তাতেই আমার অন্তরের শক্তি বৃদ্ধি পায়”; এ থেকেই বোঝা যায়, অন্তরের গভীরে তুমি ঈশ্বরের স্পর্শ পেয়েছ। যারা অন্তরে ঈশ্বরের স্পর্শ লাভ করে, তারাই অন্যদের যোগাযোগে অনুপ্রাণিত হতে পারে। অনুপ্রাণিত হওয়ার মতো বাক্য শুনেও যদি কারোর মন কিছুমাত্র বিচলিত না হয়, তাহলে বুঝতে হবে পবিত্র আত্মার কর্মধারা তার মধ্যে বহমান নয়। তাদের ঈশ্বরের জন্য আকুলতা থাকে না, ফলে তাদের সঙ্কল্পও গভীর হয় না এবং তাই, তারা পবিত্র আত্মার কর্মধারার বাইরে থাকে। কারোর হৃদয়ে ঈশ্বরের স্পর্শ অনুভব করলেই তার মধ্যে ঈশ্বরের বাক্য শ্রবণে এক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ঈশ্বর স্পর্শ যদি তাদের মধ্যে না থাকে, তাহলে তারা ঈশ্বরের বাক্যে আপ্লুত হয় না, নিজেদেরকে কোনোভাবেই সেইসব বাক্যের সঙ্গে যুক্ত করতে পারে না এবং আলোকিত হওয়া থেকে তারা অক্ষম ঈশ্বরের বাক্য শুনেও যাদের মনে পরিবর্তন আসে না, তারা হলো সেইসব মানুষ যারা ঈশ্বরের স্পর্শ পায় নি-এরাই সেই মানুষ যারা পবিত্র আত্মার কর্মধারার বাইরে থাকে। একমাত্র তারাই পবিত্র আত্মার এই নতুন আলোতে উদ্দীপ্ত হবে যারা তার কাজের দ্বারা হৃদয়ে স্পর্শ পেয়েছে এবং অনুপ্রাণিত হয়েছে।

নিজেকে বিচার করে দেখো:

১। তুমি কি পবিত্র আত্মার বর্তমান কাজের মধ্যে রয়েছ?

২। তোমার হৃদয় কি ঈশ্বর অভিমুখী? ঈশ্বরের স্পর্শ কি তুমি পেয়েছ?

৩। ঈশ্বরের বাক্য কি তোমার মধ্যে প্রোথিত হয়েছে?

৪। তোমার অনুশীলন কি ঈশ্বরের কাঙ্ক্ষিত প্রয়োজনীয়তার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে?

৫। পবিত্র আত্মার বর্তমান আলোকবর্তিকার নির্দেশেই কি তুমি পথ চল?

৬। তোমার হৃদয় কি পুরনো ধ্যান-ধারণার অনুসারী নাকি তা ঈশ্বরের বর্তমানে প্রদর্শিত বাক্য অনুসারেই চলে?

এইসব কথা শুনে তোমাদের কী প্রতিক্রিয়া হচ্ছে? দীর্ঘদিন ধরে শোনা এইসব বাক্যকেই কি তোমাদের জীবন বলে মনে হয়? তোমার পূর্বকার এবং ভ্রষ্ট স্বভাবের কি কোনও পরিবর্তন হয়েছে? ঈশ্বরের বর্তমান বাক্য অনুযায়ী তুমি কি জানো তোমার জীবনে কী কী থাকা উচিত এবং সেগুলি না থাকলে জীবন কী রকম হয়? এই ব্যাপারটি কি তোমাদের কাছে স্পষ্ট হয়েছে? ঈশ্বরকে অনুসরণ করার পথে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হলো, প্রতিটি বিষয় ঈশ্বরের আজকের বাক্যের অনুসারী হতে হবে; ঈশ্বর নির্দেশিত জীবনে তুমি প্রবেশের চেষ্টা করবে কিনা অথবা ঈশ্বরের ইচ্ছা পরিপূরণে কতটা সচেষ্ট হবে, তার সবকিছুই ঈশ্বরের বর্তমান বাক্যের উপরেই নির্ভর করা উচিত। যদি আজ তুমি যোগাযোগের সময় যেসব কথা বল, যেসব চেষ্টা চালাও, তার কোনোটিই ঈশ্বরের বর্তমান বাক্যকে কেন্দ্র করে না করো তাহলে, ঈশ্বরের বাক্যের জগতে তুমি নেহাতই এক আগন্তুক এবং পবিত্র আত্মার কাজ থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত। ঈশ্বর সেই সব মানুষকেই চান যারা তার পদাঙ্ক অনুসরণ করবে। তুমি আগে যা জেনেছ, তা যতই চমৎকার বা শুদ্ধ হোক না কেন ঈশ্বর তা চান না এবং তুমি যদি সেই সব ধারণা এবং অভ্যাস বর্জন না করো তাহলে সেগুলিই হয়ে উঠবে ভবিষ্যতের প্রবেশদ্বারে দুরতিক্রম্য বাধা। পবিত্র আত্মার প্রদর্শিত বর্তমান আলোকিত পথ যারা অনুসরণ করতে পারে, তারাই একমাত্র আশীর্বাদ ধন্য। প্রাচীন কাল থেকেই মানুষ ঈশ্বরের পদাঙ্ক অনুসরণ শুরু করেছে, কিন্তু আজ পর্যন্ত তারা অনুসরণ চালিয়ে যেতে পারে নি। এটিই অন্তিম সময়ের মানুষের এক অমোঘ আশীর্বাদ। পবিত্র আত্মার বর্তমান কর্মধারা যারা অনুসরণ করে ও তাঁর পদাঙ্কের অনুগমন এমনভাবে করে যে তিনি যেখানেই তাদের নিয়ে যেতে চান, তারা সেখানেই যেতে প্রস্তুত-তারাই হল ঈশ্বরের প্রকৃত আশীর্বাদ-ধন্য। পবিত্র আত্মার বর্তমান কর্মধারার অনুসরণ যারা করে না, তারা ঈশ্বরের বাণীর মর্মার্থ বুঝতে পারে না, তারা যতই কাজ করুক বা তাদের কষ্ট কত বড়ই হোক বা তারা যতই ছোটাছুটি করে বেড়াক না কেন, এর কোনোটাই ঈশ্বরের কাছে কিছু নয় এবং তিনি তাদের প্রশংসাও করেন না। ঈশ্বরের বর্তমান বাক্য যারা এখন অনুসরণ করে, একমাত্র তারাই রয়েছে পবিত্র আত্মার কর্মপ্রবাহের মধ্যে। ঈশ্বরের এখনকার বাক্য যাদের কাছে অচেনা, তারা তাঁর কর্মধারার বাইরেই রয়ে গেছে এবং তারা ঈশ্বরের প্রশংসা পায় না। পবিত্র আত্মার বর্তমান কথন অনুসারে যারা সেবা করে না, তাদের সেই সব আচার মূলত ভোগ-বিলাসের, ব্যক্তিগত এবং পুরনো ধ্যান-ধারণা অনুযায়ী এবং সেগুলি কখনোই ঈশ্বরের ইচ্ছানুযায়ী হয় না। শুধুমাত্র পুরনো ধর্মীয় ধ্যান-ধারণা অনুযায়ী যদি মানুষ চলে, তবে তারা ঈশ্বরের ইচ্ছার উপযুক্ত কোনো কিছুই করতে অক্ষম এবং তারা ঈশ্বরের সেবা করলেও তা হয় তাদের কল্পনা ও ধারণা অনুযায়ী, ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুসারে সেবা করতে তারা সম্পূর্ণ অপারগ। পবিত্র আত্মার কর্মধারা যারা অনুসরণ করে না, তারা ঈশ্বরের ইচ্ছা বুঝতে পারে না এবং তাঁর ইচ্ছা বুঝতে না পারলে ঈশ্বরের সেবা করা যায় না। তিনি চান তাঁর হৃদয়ের সুসঙ্গত সেবা। পার্থিব ভোগ-লালসা এবং প্রাচীন ধ্যান ধারণা অনুযায়ী অর্চনা তার কাঙ্ক্ষিত নয়। মানুষ যখনই পবিত্র আত্মার কর্মধারা অনুসরণ করতে পারে না, বুঝতে হবে তখনও সে প্রাচীন এবং নিজস্ব ধ্যান-ধারণার মধ্যেই আছে। এই ধরনের মানুষের সেবা ঈশ্বরের কাজে বাধা এবং বিঘ্ন ঘটায় এবং ঈশ্বরের পরিপন্থী। সুতরাং, যারা ঈশ্বরের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে পারে না, তারা ঈশ্বর-সেবাতেও অক্ষম। ঈশ্বরের পদাঙ্কের অনুগামী যারা নয়, তারা নিশ্চিতভাবে ঈশ্বরের বিরোধী এবং ঈশ্বরের ইচ্ছার সাথে সুসঙ্গত হতে অপারগ। “পবিত্র আত্মার কাজের অনুগামী” হওয়ার অর্থ হল, ঈশ্বরের বর্তমান ইচ্ছা অনুধাবন করা, তাঁর আজকের প্রয়োজন অনুযায়ী কাজ করা, বর্তমানে ঈশ্বরকে অনুসরণ ও মান্য করা এবং ঈশ্বরের নবীনতম কথনের মর্মার্থ গ্রহণ করা। একমাত্র তারাই এই কাজ করতে পারে যারা পবিত্র আত্মার কর্মধারার মধ্যে রয়েছে এবং তার অনুসারী। তারা শুধু ঈশ্বরের আনুকূল্য বা দর্শনই পায় না, তাঁর নবীনতম কাজ থেকে বুঝতে পারে তাঁর অভিপ্রায়, অবগত হয় মানুষের ধ্যান-ধারণা, ঈশ্বরের প্রতি তার অবাধ্যতা এবং মানুষের স্বভাব ও প্রকৃতি সম্পর্কে। শুধু তাই নয়, ঈশ্বর-সেবার মাধ্যমে নিজেদের স্বভাব পরিবর্তনেও তারা সক্ষম হয়। এই ধরনের ব্যক্তি ঈশ্বরের দ্বারা অর্জিত হতে পারে এবং জীবনের সঠিক পথ খুঁজে পায়। ঈশ্বরের বর্তমান কর্মধারার যারা বিরোধী এবং এই কর্মধারা অনুসরণ করে না, তাদের সকলকেই পবিত্র আত্মা পরিত্যাগ করে। ঈশ্বর নতুন কর্মধারা শুরু করেছেন বলেই এরা সরাসরি ঈশ্বরের বিরোধিতা শুরু করেছে; ঈশ্বরের বর্তমান রূপ এদের ধ্যান-ধারণা অনুযায়ী গড়ে ওঠে নি এবং এ কারণেই এরা সর্বসমক্ষে ঈশ্বর-বিরোধী এবং তার সমালোচনাকারী। সে জন্যই ঈশ্বর এদের ঘৃণা করেন এবং পরিত্যাগ করেছেন। ঈশ্বরের বর্তমান কর্মধারা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করা সহজ কাজ নয়। তবে ঈশ্বরের কর্মধারা মান্য এবং তা গ্রহণ করার মানসিকতা যদি কারোর থাকে, একমাত্র তারাই ঈশ্বর দর্শনের সুযোগ পেতে পারে, লাভ করতে পারে পবিত্র আত্মার নবীনতম পথনির্দেশ। যারা সচেতন ভাবেই ঈশ্বরের কাজের বিরোধিতা করে, তারা কখনই পবিত্র আত্মার আলোকপ্রাপ্তি বা পথ নির্দেশ পায় না। অর্থাৎ, ঈশ্বরের অনুগ্রহতেই নির্ভর করে কোনো মানুষ ঈশ্বরের নতুন কর্মধারার অংশ হবে কি না। আবার তাও সম্পূর্ণ নির্ভর করে মানুষের প্রয়াস এবং উদ্দেশ্যের উপর।

পবিত্র আত্মার বর্তমান বাক্য যারা উপলব্ধি করতে পারে তারা আশীর্বাদ ধন্য। তারা কোন প্রকৃতির বা পবিত্র আত্মা কীভাবে নিজেকে তাদের মধ্যে কর্মে ব্যাপৃত রেখেছেন—এসব কোনো কিছুতেই কিছু যায় আসে না। ঈশ্বরের সর্বশেষ কর্মধারায় যারা অর্জিত হয়েছে, তারা নিশ্চিত সর্বাধিক আশীর্বাদধন্য এবং যারা ঈশ্বরের এই নতুন কর্মধারা অনুসরণ করে না, তাদের সবাইকেই ঈশ্বর বর্জন করেছেন। সেইসব মানুষকেই ঈশ্বর চান, যাদের তাঁর প্রদর্শিত নতুন আলো গ্রহণের ক্ষমতা রয়েছে, যারা তাঁর নতুন কর্মধারা জানে এবং স্বীকার করে। কেন বলা হয় যে তোমাকে অবশ্যই এক পবিত্র কুমারীর মতো হতে হবে? পবিত্র এক কুমারীই পবিত্র আত্মার কর্মধারা প্রার্থনা করতে পারে এবং নতুন বিষয়ে অবগত হয়, তদুপরি পুরানো ধ্যান-ধারণা সরিয়ে রেখে ঈশ্বরের আজকের কর্মধারাকে মেনে নিতে পারে। ঈশ্বরের এই নতুন কর্মধারাকে এই ধরনের যে গোষ্ঠী গ্রহণ করবে, তাদের বহু যুগ আগেই ঈশ্বর পূর্বনির্ধারিত করে রেখেছিলেন এবং তারা বিপুল সৌভাগ্যের অধিকারী। ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর তোমরা সরাসরি শুনতে পাবে, প্রত্যক্ষ করবে তাঁর আবির্ভাব, পৃথিবী ও স্বর্গের বহু ঘটনা এবং আরও অনেক কিছু হওয়া সত্ত্বেও তোমাদের মত এত সৌভাগ্যের অধিকারী বহু যুগের মধ্যে আর কেউই হয় নি। এ সবই সম্ভব হবে ঈশ্বরের নতুন কর্মপ্রবাহে—কারণ ঈশ্বরের অনুগ্রহে এসবই পূর্বনির্ধারিত; ঈশ্বরের এই বাক্য যদি কথিত না হত, তাহলে কি তোমরা বর্তমান অবস্থায় পৌঁছাতে পারতে? সুতরাং, সমস্ত গৌরব এবং প্রশংসা ঈশ্বরেরই—এসব কিছুই ঘটেছে কারণ ঈশ্বর তোমাদের লালন করেছেন। এই কথাগুলি হৃদয়স্থ করার পরও কি তোমরা নিষ্ক্রিয় থাকবে? এখনো কি তোমাদের অন্তরে শক্তি জাগ্রত হবে না?

বিচার, শাস্তি, আঘাত, এবং ঈশ্বরের বাক্যে নিজেকে খাঁটি করার ক্ষেত্রে তোমরা শুধু স্বীকৃতই হবে তা নয়, ঈশ্বরের অর্পিত দায়িত্বও তোমরা মেনে নিতে সক্ষম হবে—একথা ঈশ্বর বহুযুগ পূর্বেই নির্ধারিত করে রেখেছিলেন। সুতরাং, তাঁর দেওয়া শাস্তির সময়ে নিজেকে খুব বিপন্ন মনে কোরো না। ঈশ্বর তোমাদের মধ্যে যে কর্মধারা প্রবহমান রেখেছেন এবং যে আশীর্বাদ তিনি তোমাকে করেছেন তা অন্য কেউই কোনো ভাবেই নিতে পারবে না। কেউই হরণ করতে পারবে না তোমাদেরকে দেওয়া ঈশ্বরের দান। তথাকথিত ধর্মীয় লোকেদের সঙ্গে তোমাদের কোনো তুলনাই চলে না! হয়তো তোমরা দক্ষ বাইবেল বোদ্ধা নও, ধর্মীয় নীতিশাস্ত্রে যথেষ্ট পারঙ্গমও নও, কিন্তু ঈশ্বরের কর্মধারা যেহেতু তোমাদের মধ্যে বহমান, তাই তোমরা বহু যুগ ধরে তাঁর দ্বারা অর্জিত হয়েছ এবং এটিই তোমাদের উপর ঈশ্বরের সব থেকে বড় আশীর্বাদ। ঠিক এই কারণেই তোমাদের অবশ্যই ঈশ্বরে আরও নিবেদিত এবং তাঁর প্রতি আরও বিশ্বস্ত হতে হবে। যেহেতু ঈশ্বর তোমাকে ললন করেছেন, তাই তোমার প্রয়াস হবে আরও কঠোর এবং তোমরা তৈরি থাকবে ঈশ্বরের অর্পিত দায়িত্ব মেনে নেওয়ার জন্য। ঈশ্বর তোমাদের জন্য যে স্থান নির্বাচিত করেছেন, সেখানে তোমরা অনড় থাকবে, চেষ্টা চালিয়ে যাবে ঈশ্বরের অন্যতম প্রতিনিধি হওয়ার, স্বীকার করবে তাঁর রাজ্যে প্রবেশের প্রশিক্ষণ, ঈশ্বরের দ্বারা অর্জিত হওয়ায় সচেষ্ট হবে এবং শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠবে ঈশ্বরের সাক্ষ্যের গৌরবান্বিত উদাহরণ। এইসব সংকল্পে তুমি কি অনুপ্রাণিত হচ্ছ? যদি অনুপ্রাণিত হও, তাহলে নিশ্চিতভাবেই তুমি ঈশ্বরের দ্বারা অর্জিত হয়েছ এবং ঈশ্বরের সাক্ষ্যের এক গৌরবান্বিত উদাহরণ। তোমার উপলব্ধি করা উচিত প্রধান কাজ হলো ঈশ্বরের দ্বারা অর্জিত হওয়া এবং ঈশ্বরের মহান সাক্ষ্য হিসাবে প্রতীয়মান হওয়া। এটিই ঈশ্বরের ইচ্ছা।

পবিত্র আত্মার কর্মধারার গতিশীলতা তাঁর বাক্যেই নিহিত। এই পর্বে পবিত্র আত্মার কর্মধারার প্রবণতাই হল মানুষকে ক্রমাগত আলোকিত করা। তাহলে, এখন পবিত্র আত্মার কর্মধারার প্রধান প্রবণতা কী? এটা হল ঈশ্বরের কাজে সাধারণ মানুষের নেতৃত্ব এবং একটি স্বাভাবিক আধ্যাত্মিক জীবন-চর্যা করা। এই স্বাভাবিক আধ্যাত্মিক জীবন-চর্যায় প্রবেশের জন্য কয়েকটি ধাপ আছে।

১। প্রথমত ঈশ্বরের বাক্যে তোমার হৃদয় পূর্ণ হতে হবে। প্রাচীন কালে ঈশ্বরের বাক্য তুমি পালন করতে সচেষ্ট হবে না—এমন কি তা জানবার বা ঈশ্বরের বর্তমান বাক্যের সঙ্গে তা তুলনা করারও চেষ্টা করবে না। পরিবর্তে, ঈশ্বর এখন যা বলছেন, সেই বাক্যে তুমি হৃদয় পূর্ণ করবে। যেসব মানুষ এখনও ঈশ্বরের প্রাচীন বাক্য, আধ্যাত্মিক গ্রন্থ বা অতীতের প্রচারের অন্যান্য বিবরণ পড়ার চেষ্টা করে এবং যারা পবিত্র আত্মার এখনকার বাক্য অনুসরণে ব্রতী হয় না—সে সব মানুষ মহা মূর্খ। ঈশ্বর তাদের ঘৃণা করেন। তুমি যদি পবিত্র আত্মার বর্তমান আলোকে উদ্বুদ্ধ হতে চাও, তা হলে সর্বান্তকরণে ঈশ্বরের এখনকার কথন হৃদয়স্থ কর। প্রথমে এই ধাপটি অবশ্যই পেরোতে হবে।

২। তোমার প্রার্থনার ভিত্তি হতে হবে ঈশ্বরের বর্তমান বাক্য এবং সেই সব কথনের মর্মার্থ গ্রহণের মাধ্যমেই ঈশ্বরের সাথে যোগাযোগ স্থাপনে সচেষ্ট হতে হবে। নির্দিষ্ট মানে উন্নীত হওয়ার জন্য কতটা সচেষ্ট হবে, সে বিষয়ে ঈশ্বরের সামনে সংকল্প করতে হবে।

৩। পবিত্র আত্মার বর্তমান কর্মধারাকে আশ্রয় করে তুমি সত্যের গভীরে পৌঁছাতে চেষ্টা করবে। বিগত দিনের উক্তি এবং তত্ত্বকে এখনও আঁকড়ে ধরে রাখবে না।

৪। পবিত্র আত্মার করুণা স্পর্শ পাওয়ার জন্য এবং ঈশ্বরের বাক্যের নিহিত অর্থ বুঝতে তুমি উদ্যোগী হবে।

৫। পবিত্র আত্মা আজ যে পথে চলেছেন তার পদচিহ্ন অনুসরণে তুমি তৎপর হবে।

পবিত্র আত্মার স্পর্শ পেতে কীভাবে তুমি সচেষ্ট হবে? এ ব্যাপারে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হল ঈশ্বরের এখনকার বাক্যের উপর সর্বতোভাবে নির্ভর করা এবং ঈশ্বর প্রয়োজনীয়তাকে ভিত্তি করে প্রার্থনা করা। একমাত্র এইভাবে প্রার্থনা করলেই তুমি অন্তরে পবিত্র আত্মার স্পর্শ পাবে। ঈশ্বরের এখনকার বাক্য যদি তোমার প্রার্থনার ভিত্তি না হয়, তা হলে তা নিষ্ফল হবে। প্রার্থনায় তুমি অবশ্যই বলবে, “হে ঈশ্বর, তোমার বিরোধিতা করেছিলাম, কিন্তু আমি সর্বতোভাবে তোমার কাছে ঋণী। আমি খুবই অবাধ্য এবং তোমাকে সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট করতে আমি পারি নি। হে ঈশ্বর, আমি চাই তুমি আমায় উদ্ধার করো, আমি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তোমার সেবায় নিযুক্ত থাকতে চাই। তোমার জন্য আমি মৃত্যুকেও বরণ করে নিতে প্রস্তুত। তোমার বিচার এবং শাস্তি আমি মাথা পেতে নেব, আমার কোনও অভিযোগ থাকবে না। যেহেতু তোমার বিরোধিতা করেছিলাম, তাই মৃত্যুই আমার প্রাপ্য; যাতে আমার মৃত্যুর মাধ্যমে সমস্ত মানুষ তোমার ন্যায়পরায়ণতা প্রত্যক্ষ করতে পারে।” অন্তর থেকে যখন তুমি এই ভাবে প্রার্থনা করবে ঈশ্বর তোমার কথা শুনবেন এবং তোমাকে পথ দেখাবেন। পবিত্র আত্মার বর্তমান বাক্যের উপর বিশ্বাস না করে তুমি যদি প্রার্থনা করো, তাহলে পবিত্র আত্মার স্পর্শ পাওয়া কখনই সম্ভব নয়। তুমি যদি ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুযায়ী এবং ঈশ্বর এখন যা করতে চাইছেন সেই অনুযায়ী প্রার্থনা করো, তাহলে তোমার প্রার্থনা হবে: “হে ঈশ্বর, আমি স্বীকার করছি তোমার অর্পিত দায়িত্ব এবং সেই অর্পিত দায়িত্বে আমি বিশ্বস্ত থাকব। তোমার মহিমায় উৎসর্গ করব আমার সমগ্র জীবন যাতে ঈশ্বরের লোক হওয়ার নির্দিষ্ট মানে পৌঁছাতে পারি। তোমার স্পর্শে ধন্য হোক আমার অন্তর, তোমার আলোকবর্তিকা আমাকে চিরকাল পথ দেখাক, শয়তানের স্বার্থ ব্যর্থ করার জন্য করণীয় সব কিছু আমি করব এবং শেষ পর্যন্ত আমি তোমার দ্বারা অর্জিত হব।” তুমি যদি এইভাবে এবং ঈশ্বরের বর্তমান ইচ্ছানুযায়ী প্রার্থনা করো, তাহলে পবিত্র আত্মা নিশ্চিতভাবে তোমার মধ্যে কাজ করবে। তোমার প্রার্থনা তুমি কতবার বা কত শব্দে করলে তার থেকে গুরুত্বপূর্ণ হল তুমি ঈশ্বরের মূল ইচ্ছাটি অনুধাবন করেছ কিনা। হয়তো তোমাদের সকলেরই এই ধরনের অভিজ্ঞতা হয়েছ: সমবেত প্রার্থনার সময় যখন পবিত্র আত্মার অনুপ্রেরণায় সকলেই চূড়ান্ত উদ্বেলিত হয়ে ওঠে তখন তা প্রত্যেকেরই আত্মিকশক্তি বৃদ্ধি করে। কেউ কেউ প্রার্থনা করার সময় অঝোরে কাঁদে, ঈশ্বরের সামনে অনুশোচনায় বিনত হয়, কিছু লোক সংকল্পে ব্রতী হয় এবং মানত করে। পবিত্র আত্মার কর্মধারার এই হল প্রভাব। এখনকার সময়ে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হল, প্রতিটি মানুষ ঈশ্বরের বর্তমান বাক্যে হৃদয় পূর্ণ করবে। আগে যে সব বাক্য কথিত হয়েছে সেগুলিতে পুনর্বার মনোযোগ দিও না। যদি মনে কর, আগে যা ঘটেছে তারই পুনরাবৃত্তি হবে, তা হলে পবিত্র আত্মার বর্তমান কর্ম তোমার মধ্যে সম্পন্ন হবে না। এটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা কি তুমি বুঝেছ?

যে পথে এখন পবিত্র আত্মা চলে, সে পথের দিশা কি তোমরা জানো? উপরের তালিকায় বলা বিভিন্ন ধাপে পবিত্র আত্মা তার কর্মসমাধা বর্তমানে করে চলেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। এই পথেই পবিত্র আত্মা চলেছে এবং এই পথে উত্তরণের প্রয়াস মানুষকে চালিয়ে যেতেই হবে। ঈশ্বর-নির্দেশিত জীবনে প্রবেশের জন্য ন্যূনতম প্রয়োজন হল ঈশ্বর-বাক্যে মন আবিষ্ট করা, তাঁর বাক্যের বিচার এবং শাস্তি গ্রহণ করা; তোমার হৃদয়ের ঈশ্বরের জন্য আকুল হওয়া। তোমায় করতে হবে সত্যের গভীরে প্রবেশের প্রয়াস এবং ঈশ্বরের অভিপ্রায় অনুযায়ী লক্ষে পৌঁছানোর চেষ্টা। এই সব শক্তিতে তুমি যখন বলীয়ান হয়ে উঠবে, তখনই তুমি ঈশ্বরের স্পর্শ পাবে, তোমার হৃদয় হয়ে উঠবে ঈশ্বরমুখী।

ঈশ্বর-আদিষ্ট জীবনে প্রবেশের প্রথম ধাপ হল ঈশ্বরের বাক্যে হৃদয় পূর্ণ করা এবং দ্বিতীয় ধাপ হল পবিত্র আত্মার স্পর্শ অনুভবে স্বীকৃত হওয়া। পবিত্র আত্মার স্পর্শের অনুভূতি স্বীকার করার ফলে কী কী প্রভাব হবে? এতে সত্য-অনুসন্ধানের আকুতি ও চেষ্টার সক্ষম হতে পারবে। আরও ইতিবাচক ভাবে ঈশ্বরের কাজে সহযোগিতার প্রয়াস করতে পারবে। এখন তোমরা ঈশ্বরের কাজের সহযোগী অর্থাৎ, চেষ্টা করার মত উদ্দেশ্য তোমাদের রয়েছে, তোমাদের প্রার্থনা, ঈশ্বরের বাক্যের মধ্য দিয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা এবং ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুযায়ী তাঁর নির্ধারিত কর্তব্য পালন—এগুলিই হল ঈশ্বরের কাজে সহযোগিতা। ঈশ্বরকে তুমি শুধু বল যে তিনি যেন কাজ করেন। অথচ তুমি নিজে কিছুই করো না—না প্রার্থনা, না তাঁর জন্য আকুলতা, একে কি সহযোগিতা বলা চলে? সহযোগিতার কোনও চিহ্ন যদি তোমার মধ্যে বর্তমান না থাকে এবং সেই জীবনে প্রবেশের কোনো প্রশিক্ষণই তুমি যদি না নিয়ে থাক, তাহলে তুমি কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা করছ না। অনেকে বলে থাকে “সব কিছুই নির্ভর করে ঈশ্বরের পূর্ব নির্দেশের উপর। ঈশ্বর নিজেই সবকিছু সম্পন্ন করে থাকেন। ঈশ্বর যদি সে কাজ না করেন, তাহলে মানুষের সাধ্য কি তা করার?” ঈশ্বরের কর্মধারা খুবই স্বাভাবিক, তার মধ্যে অতিপ্রাকৃত কিছু নেই এবং তা তোমাদের সক্রিয় প্রচেষ্টার মাধ্যমেই ঈশ্বর তার কর্ম সম্পন্ন করেন। কোনও মানুষকেই ঈশ্বর কোনও কাজ করতে বাধ্য করেন না, তোমাকে শুধু ঈশ্বরকে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। তুমি যদি সে ব্যাপারে সচেষ্ট না হও, তোমার হৃদয়ে যদি বিন্দুমাত্র আকুলতাও না থাকে, তাহলে ঈশ্বরের কাজ করবার সুযোগই হয় না। কোন পথে গেলে তুমি ঈশ্বরের স্পর্শ চাইতে পারো? তোমার প্রার্থনার মাধ্যমে এবং ঈশ্বর সান্নিধ্যে। কিন্তু মনে রেখ, সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো এই সব কিছুই করতে হবে ঈশ্বরের বর্তমান বাক্যের বুনিয়াদের উপর। ঈশ্বরের স্পর্শ যখন তুমি মাঝে মাঝেই পাবে তখন জানবে, তুমি আর ভোগ বিলাসের দাস নও: স্বামী, স্ত্রী, সন্তান-সন্ততি কিংবা অর্থ—এগুলির কোনোটিই তোমার হৃদয়ের বন্দিদশা দূর করতে পারে না। তুমি শুধু সত্যের অন্বেষণ এবং ঈশ্বরের জন্যই জীবন অতিবাহিত করবে। ঠিক এই মুহূর্তে তুমি এমন একজন মানুষ যে মুক্ত ক্ষেত্রের দ্বারপ্রান্তে বিদ্যমান রয়েছে।

পূর্ববর্তী: বিশ্বাসের ক্ষেত্রে অবশ্যই বাস্তবতার দিকে মনোযোগ দিতে হবে—ধর্মীয় আচার বা অনুষ্ঠানে জড়িত থাকাকে বিশ্বাস বলে না

পরবর্তী: ঈশ্বর যাদের পছন্দ করেন তাদেরই তিনি নিখুঁত করে তোলেন

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? অনুগ্রহ করে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। 😊

সম্পর্কিত তথ্য

ঈশ্বরের সঙ্গে সহজ সম্পর্ক স্থাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

যে পথে মানুষ ঈশ্বরকে বিশ্বাস করে, ভালোবাসে এবং ঈশ্বরের আস্থাভাজন হয়ে ওঠে, সেই পথটি হল নিজের হৃদয়ে ঈশ্বরের পরম শক্তিকে স্থান দিয়ে তাঁর...

একটি সাধারণ আধ্যাত্মিক জীবন মানুষকে সঠিক পথে নিয়ে যায়

তোমরা ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাসের পথে খুব সামান্য অংশই হেঁটেছো, এবং তোমরা এখনও সঠিক পথে প্রবেশ করতে পারোনি, তাই তোমরা এখনও ঈশ্বরের নির্ধারিত...

সেটিংস

  • লেখা
  • থিমগুলি

ঘন রং

থিমগুলি

ফন্টগুলি

ফন্ট সাইজ

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

পৃষ্ঠার প্রস্থ

বিষয়বস্তু

অনুসন্ধান করুন

  • এই লেখাটি অনুসন্ধান করুন
  • এই বইটি অনুসন্ধান করুন

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন