স্বয়ং অনন্য ঈশ্বর ৫

ঈশ্বরের পবিত্রতা (II)

ভ্রাতা ও ভগিনীরা, চলো আজ একটি স্তবগান গাওয়া যাক। তোমাদের একটি পছন্দের স্তবগান খুঁজে নাও যা তোমরা নিয়মিত গেয়ে থাক। (আমরা ঈশ্বরের বাক্যসমূহের ৭৬০ নম্বর স্তবগান গাইব: “নিষ্কলঙ্ক বিশুদ্ধ ভালোবাসা।”)

১  “ভালোবাসা”, বলতে এমন একটি আবেগকে বোঝায় যা বিশুদ্ধ এবং নিষ্কলঙ্ক, যেখানে তুমি তোমার হৃদয়ের ব্যবহার করো ভালোবাসার জন্য, অনুভব করাএ জন্য এবং চিন্তাশীল হওয়ার জন্য। ভালোবাসা হল শর্তহীন, বাধাহীন, দূরত্বহীন। ভালোবাসায় কোনও সন্দেহভাজনতা নেই, প্রতারণা নেই ও ধূর্ততা নেই। ভালোবাসায় কোনও দেওয়া-নেওয়ার সম্পর্ক নেই এবং অশুদ্ধ কোনোকিছুই নেই। যদি তুমি ভালোবেসে থাকো, তাহলে তুমি প্রতারণা করবে না, অভিযোগ করবে না, বিশ্বাসঘাতকতা করবে না, বিদ্রোহ করবে না, নির্দিষ্ট কিছু আদায় করতে চাইবে না, বা কোনও নির্দিষ্ট কিছু লাভের চেষ্টা করবে না।

২  “ভালোবাসা”, বলতে এমন একটি আবেগকে বোঝায় যা বিশুদ্ধ এবং নিষ্কলঙ্ক, যেখানে তুমি তোমার হৃদয়ের ব্যবহার করো ভালোবাসার জন্য, অনুভব করাএ জন্য এবং চিন্তাশীল হওয়ার জন্য। ভালোবাসা হল শর্তহীন, বাধাহীন, দূরত্বহীন। ভালোবাসায় কোনও সন্দেহভাজনতা নেই, প্রতারণা নেই ও ধূর্ততা নেই। ভালোবাসায় কোনও দেওয়া-নেওয়ার সম্পর্ক নেই এবং অশুদ্ধ কোনোকিছুই নেই। যদি তুমি ভালোবাসো, তবে সানন্দে নিজেকে উৎসর্গ করবে, সানন্দের কষ্ট সহ্য করবে, আমার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হবে, আমার জন্য তোমার সর্বস্ব ত্যাগ করবে, তোমার পরিবার, তোমার ভবিষ্যৎ, তোমার যৌবন, এবং তোমার বিবাহ পর্যন্ত পরিত্যাগ করবে। যদি তা না হয়, তবে তোমার ভালোবাসা আদৌ ভালোবাসা হবে না, তা হবে প্রতারণা এবং বিশ্বাসঘাতকতা!

—মেষশাবককে অনুসরণ করুন ও নতুন গীত গান

এই স্তবগানটি একটি উত্তম পছন্দ ছিল। তোমরা সবাই কি এটি গাওয়া উপভোগ কর? এটা গাওয়ার পর তোমরা কী অনুভব কর? তোমরা কি নিজেদের অন্তরে এই ধরনের ভালোবাসা অনুভব কর? (এখনও নয়।) এই বাক্যগুলির মধ্যে কোনটি তোমাকে সবচেয়ে বেশি নিগূঢ়ভাবে নাড়া দেয়? (ভালোবাসা হল শর্তহীন, বাধাহীন, দূরত্বহীন। ভালোবাসায় কোনও সন্দেহভাজনতা নেই, প্রতারণা নেই ও ধূর্ততা নেই। ভালোবাসায় কোনও দেওয়া-নেওয়ার সম্পর্ক নেই এবং অশুদ্ধ কোনোকিছুই নেই। কিন্তু আমি এখনও নিজের ভিতরে বহু অপবিত্রতা আর আমার এমন অনেক অংশই দেখতে পাই যা ঈশ্বরের সঙ্গে ব্যবসায়িক চুক্তি করার চেষ্টা করে। আমি সত্যিই এখনও এমন ভালোবাসা অর্জন করিনি যা বিশুদ্ধ আর নিষ্কলঙ্ক।) তুমি যদি বিশুদ্ধ আর নিষ্কলঙ্ক ভালোবাসা অর্জন না-ই করে থাকো, তাহলে তোমার ভালোবাসার মাত্রাটি কী? (আমি নিছকই এমন একটি ধাপে রয়েছি যেখানে আমি অন্বেষণ করতে চাইছি, আমি যেখানে আকুল আকাঙ্ক্ষা অনুভব করছি।) তোমার নিজস্ব আত্মিক উচ্চতার ভিত্তিতে আর তোমার নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকে বলতে গেলে, তুমি ঠিক কী মাত্রা অর্জন করেছো? তোমার মধ্যে কি ধূর্ততা রয়েছে? তোমার কি অভিযোগ আছে? তোমার অন্তরে কি দাবী রয়েছে? এমন কিছু কি রয়েছে যা তুমি ঈশ্বরের কাছ থেকে চাও আর কামনা কর? (হ্যাঁ, আমার অভ্যন্তরে এইসমস্ত কলঙ্কিত জিনিস রয়েছে।) কোন কোন পরিস্থিতিতে এগুলি বেরিয়ে আসে? (যখন ঈশ্বরের আমার জন্য আয়োজিত পরিস্থিতি আমার পূর্বধারণার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হয় না, অথবা যখন আমার কামনাগুলি অপূর্ণ রয়ে গেছে: সেই সমস্ত মুহূর্তে, আমি এইরকম ভ্রষ্ট স্বভাব প্রকাশ করে থাকি।) তাইওয়ান থেকে আগত ভ্রাতা ও ভগিনীরা, তোমরাও কি এই স্তবগানটি প্রায়শই গেয়ে থাক? “নিষ্কলঙ্ক বিশুদ্ধ ভালোবাসা” বলতে তোমরা কী উপলব্ধি কর সে সম্পর্কে তোমরা অল্প কিছু বলতে পার? ভালোবাসাকে ঈশ্বর কেন এইভাবে সংজ্ঞায়িত করেন? (আমি স্তবগানটিকে অত্যন্ত পছন্দ করি কারণ এর মধ্যে যে ভালোবাসা আমি দেখতে পাই তা এক সম্পূর্ণ ভালোবাসা। তবে, ওই মানদণ্ড অর্জন করতে আমাকে এখনও অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে, আর আমি এখনও প্রকৃত ভালোবাসা অর্জন করা থেকে অনেকটা পিছিয়ে আছি। কিছু কিছু জিনিসের ক্ষেত্রে আমি অগ্রগতি করতে এবং তাঁর বাক্যসমূহ থেকে প্রাপ্ত শক্তির সাহায্যে আর প্রার্থনার মধ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে সক্ষম হয়েছি। তবে, নির্দিষ্ট কিছু পরীক্ষা বা উদ্ঘাটনের সম্মুখীন হলে, আমি অনুভব করি যে আমার কোনো ভবিষ্যৎ বা নিয়তি নেই, নেই কোনো গন্তব্য। সেই সমস্ত মুহূর্তে, আমি অত্যন্ত দুর্বল বোধ করি, আর এই সমস্যাটা আমাকে প্রায়শই বিরক্ত করে।) “ভবিষ্যৎ এবং নিয়তি” বলতে তুমি শেষ পর্যন্ত ঠিক কী বোঝাতে চাইছ? তুমি কি বিশেষ কোন কিছুর কথা বলছ? কোনো চিত্র অথবা তোমার কল্পিত কিছু একটা, নাকি তোমার ভবিষ্যৎ এবং নিয়তিকে তুমি সত্যিই চাক্ষুষ করতে পার? এটা কি বাস্তব কোন বস্তু? আমি চাই তোমরা সকলেই এটা নিয়ে ভাবো: তোমাদের ভবিষ্যৎ আর তোমাদের নিয়তির বিষয়ে তোমাদের যে উদ্বেগ আছে তা ঠিক কী বোঝায়? (তা হল উদ্ধার লাভে সক্ষম হওয়া যাতে আমি বেঁচে থাকতে পারি।) তোমরা, বাকি সকল ভ্রাতা ও ভগিনীরা, তোমরা “নিষ্কলঙ্ক বিশুদ্ধ ভালোবাসা” বলতে তোমাদের উপলব্ধি সম্পর্কে সামান্য কিছু বলো। (কোনো ব্যক্তির অন্তরে এটি থাকলে, তাদের স্বীয় সত্তা থেকে কোনো অপবিত্রতা বেরিয়ে আসে না, আর তারা তাদের ভবিষ্যৎ বা নিয়তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নয়। ঈশ্বর তাদের সঙ্গে যে আচরণই করুন না কেন, তারা ঈশ্বরের কার্য আর তাঁর সমন্বয়সাধন মান্য করতে এবং একেবারে শেষ অবধি তাঁকে অনুসরণ করতে সম্পূর্ণরূপে সক্ষম। ঈশ্বরের প্রতি শুধুমাত্র এই প্রকার ভালোবাসাই হল বিশুদ্ধ এবং নিষ্কলঙ্ক ভালোবাসা। এর পরিপ্রেক্ষিতে নিজের পরিমাপ করতে গিয়ে, আমি আবিষ্কার করেছি যে যদিও আমি ঈশ্বর-বিশ্বাসের শেষ কয়েক বছরে নিজেকে ব্যয় করেছি বলে বা নির্দিষ্ট কয়েকটি জিনিস পরিহার করেছি বলে মনে হয়, কিন্তু আমি সত্যিসত্যিই তাঁকে আমার হৃদয় দিতে সক্ষম হইনি। ঈশ্বর যখন আমাকে অনাবৃত করেন, আমার মনে হয় আমি যেন উদ্ধারের অযোগ্য, আর আমি একটা নেতিবাচক অবস্থায় থেকে যাই। আমি নিজেকে নিজ কর্তব্য পালনে রত দেখি, কিন্তু একই সঙ্গে আমি ঈশ্বরের সাথে রফা করার চেষ্টা করি, আমি আমার হৃদয়ের সবটুকু দিয়ে ঈশ্বরকে ভালবাসতে সক্ষম নই, আর আমার গন্তব্য, ভবিষ্যৎ ও নিয়তির চিন্তা সর্বদাই আমার মনেঘোরাফেরা করে।) মনে হচ্ছে যে তোমরা সকলেই এই স্তবগানের কিছুটা উপলব্ধি করেছ, আর তোমরা এটির সাথে তোমাদের প্রকৃত অভিজ্ঞতার কিছু কিছু সংযোগ স্থাপন করেছ। তবে, “নিষ্কলঙ্ক বিশুদ্ধ ভালোবাসা” স্তবগানটির প্রতিটি বাক্যাংশ গ্রহণ করার ক্ষেত্রে তোমাদের মধ্যে মাত্রাভেদ রয়েছে। কেউ কেউ মনে করে এটা সাগ্রহ সম্মতি সম্পর্কিত, কেউ তাদের ভবিষ্যৎ একপাশে সরিয়ে রাখতে চাইছে, আর কিছু মানুষ তাদের পরিবারকে ত্যাগ করতে চাইছে, আবার কেউ কেউ কিছুই গ্রহণ করতে চাইছে না। এখনও অন্যান্যরা চাইছে তারা যেন কোনো শঠতা না করে, তাদের কোনো অভিযোগ না থাকে, আর তারা ঈশ্বরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ না করে। ঈশ্বর এই ধরণের ভালোবাসার পরামর্শই বা দেবেন কেন, আর চাইবেনই বা কেন যে মানুষ তাঁকে এই উপায়ে ভালোবাসুক? এটা কি এমন প্রকারের ভালোবাসা যা মানুষ অর্জন করতে পারে? অর্থাৎ, মানুষ কি এইভাবে ভালোবাসতে সক্ষম? মানুষ হয়ত অনুভব করবে যে তারা পারে না, কারণ তাদের কাছে এই ধরনের ভালোবাসার কোনো ইঙ্গিত নেই। যখন এটি মানুষের অধিকৃত নয়, আর যখন তারা মূলগতভাবে ভালোবাসা সম্পর্কে জানে না, ঈশ্বর তখন এই বাক্যগুলি উচ্চারণ করেন, আর এই বাক্যগুলি তাদের কাছে অপরিচিত। আর যেহেতু মানুষ এই বিশ্বের মধ্যে একটি ভ্রষ্ট স্বভাবের মধ্যে বাস করে, মানুষের যদি এই প্রকার ভালোবাসা থাকত অথবা যদি কোন এক ব্যক্তি যদি এই ধরণের ভালোবাসার অধিকারী হত, এমন ভালোবাসা যা কোনো অনুরোধ বা দাবী করে না, এমন এক ভালোবাসা যার জন্য তারা নিজেদের উৎসর্গ করতে, কষ্ট সহ্য করতে ও তাদের নিজস্ব সব কিছু পরিত্যাগ করতে ইচ্ছুক হত, তাহলে যার অধিকারে এই ধরণের ভালোবাসা আছে তার সম্পর্কে অন্যান্যরা কী ভাবতো? এই ধরণের মানুষ কি একজন নিখুঁত মানুষ হতো না? (হ্যাঁ।) বিশ্বে এমন নিখুঁত মানুষের কি অস্তিত্ব আছে? এই বিশ্বে এরকম নিখুঁত মানুষের অস্তিত্বই নেই। এটা চরম সত্য। তাই, কিছু কিছু মানুষ, তাদের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে, এই বাক্যগুলির পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের পরিমাপ করার জন্য অত্যন্ত প্রয়াসী হয়। তারা নিজেদের মোকাবিলা করে, নিজেদের সংযত করে, এবং এমনকি তারা অবিরাম নিজেদের পরিত্যাগ করে চলে: তারা কষ্ট সহন করে আর নিজেদের পূর্বধারণা পরিত্যাগ করে। তারা তাদের বিদ্রোহী আচরণ, আর নিজেদের কামনা-বাসনা পরিত্যাগ করে। কিন্তু পরিশেষে, এতকিছুর পরেও তারা প্রয়োজনীয় গুণাবলীর অধিকারী হয়ে উঠতে পারে না। এরকম কেন হয়? ঈশ্বর এইগুলি বলেন যাতে মানুষের অনুসরণের জন্য একটি আদর্শ মানদণ্ড প্রদান করা যায়, যাতে মানুষ তাদের কাছ থেকে ঈশ্বর যে মান দাবি করেন সে বিষয়ে অবহিত থাকে। কিন্তু ঈশ্বর কি কখনও বলেন যে মানুষকে ঠিক এখনই এটি অর্জন করতে হবে? ঈশ্বর কি কখনও বলেন যে এটা অর্জন করার জন্য মানুষকে কতটা সময় বরাদ্দ করা হয়েছে? (না।) ঈশ্বর কি কখনও বলেন যে মানুষকে তাঁকে এইভাবেই ভালোবাসতে হবে? পাঠ্যের এই পরিচ্ছেদ কি তাই বলে? না, বলে না। ঈশ্বর শুধুমাত্র সেই ভালোবাসা সম্পর্কে মানুষকে বলছেন যা তিনি উল্লেখ করছেন। এইভাবে ঈশ্বরকে ভালোবাসতে আর এইভাবে ঈশ্বরের প্রতি আচরণ করতে মানুষ সক্ষম কিনা সে প্রসঙ্গে প্রশ্ন ওঠে, ঈশ্বর মানুষের কাছ থেকে কী কী চান? তাদের তৎক্ষণাৎ সেগুলি অর্জন করার প্রয়োজন নেই, কারণ তা তাদের ক্ষমতার বাইরে। তোমরা কি কখনও ভেবে দেখেছ যে এইভাবে ভালোবাসতে গেলে মানুষকে কী প্রকার শর্ত পালন করতে হবে? মানুষ এই বাক্যগুলি প্রায়শই পাঠ করলেই কি মানুষ ধীরে ধীরে এই ভালোবাসা আয়ত্ত করতে পারবে? (না।) তাহলে শর্তগুলি কী? প্রথমত, মানুষ কীভাবে ঈশ্বর বিষয়ে সন্দেহ থেকে মুক্ত হতে পারে? (শুধুমাত্র সৎ ব্যক্তিরাই এটি অর্জন করতে পারে।) প্রতারণা করার প্রবণতা থেকে মুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে বিষয়টি কীরকম? (তাদেরও সৎ ব্যক্তি হতে হবে।) এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যাপারটা কীরকম যে ঈশ্বরের সাথে দরাদরি করে না? এটাও সৎ ব্যক্তি হওয়ার একটা অংশ। ধূর্ততা থেকে মুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রেই বা বিষয়টা কীরকম? ভালোবাসায় কোনো বাছবিচার হয় না এটা বলার অর্থ কী? এই সবকটিই কি সৎ ব্যক্তি হওয়ার প্রসঙ্গেই ফিরে আসে? এখানে অনেক বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। ঈশ্বর যে এই প্রকার ভালোবাসা সম্পর্কে কথা বলতে ও একে এইভাবে সংজ্ঞায়িত করতে সক্ষম তা কী প্রমাণ করে? আমরা কি বলতে পারি যে এই প্রকার ভালোবাসা ঈশ্বরের অধিকৃত? (হ্যাঁ।) তোমরা এটা কোথায় দেখতে পাও? (মানুষের প্রতি ঈশ্বরের ভালোবাসার মধ্যে।) মানুষের প্রতি ঈশ্বরের ভালোবাসা কি শর্তসাপেক্ষ? ঈশ্বর ও মানুষের মাঝে কি দেয়াল বা দূরত্ব রয়েছে? ঈশ্বরের কি মানুষের প্রতি সন্দেহ রয়েছে? (না।) ঈশ্বর মানুষকে পর্যবেক্ষণ করেন ও উপলব্ধি করেন; মানুষকে তিনি প্রকৃতই উপলব্ধি করেন। ঈশ্বর কি মানুষের প্রতি প্রতারণাপূর্ণ? (না।) ঈশ্বর যেহেতু এই ভালোবাসার বিষয়ে এত নিখুঁতভাবে কথা বলেন, তাঁর হৃদয় অথবা তাঁর সারসত্যও কি ততটাই নিখুঁত হতে পারে? (হ্যাঁ।) সন্দেহাতীত ভাবেই, সেসবই নিখুঁত; মানুষের অভিজ্ঞতা যখন বিশেষ একটি বিন্দুতে গিয়ে পৌঁছায়, তখন তারা এটা অনুভব করতে পারে। মানুষ কি কখনও ভালোবাসাকে এইভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে? মানুষ কোন কোন পরিস্থিতিতে ভালোবাসাকে সংজ্ঞায়িত করেছে? মানুষ ভালোবাসা সম্পর্কে কীভাবে কথা বলে? মানুষ কি সম্প্রদান বা নিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ভালবাসার কথা বলে না? (হ্যাঁ।) ভালোবাসার এই সংজ্ঞা সরলীকৃত; এতে সারসত্যের অভাব রয়েছে।

ঈশ্বরের ভালোবাসার সংজ্ঞা এবং ঈশ্বর যেভাবে ভালোবাসার কথা বলেন তা তাঁর সারসত্যের একটা দিকের সঙ্গে সংযুক্ত, কিন্তু সেটা কোন দিক? শেষবার আমরা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছিলাম, এমন একটি বিষয় যা আমি আগেও প্রায়শই আলোচনা করেছি। বিষয়টার মধ্যে এমন একটা শব্দ রয়েছে যা ঈশ্বর-বিশ্বাসের বিষয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে প্রায়শই বলা হয়ে থাকে, আর তা সত্ত্বেও এটা এমন একটা শব্দ যার সঙ্গে প্রত্যেকেই পরিচিতও, আবার অপরিচিতও বটে। আমি কেন একথা বলছি? এটা হল এমন একটা শব্দ যা মানুষের ভাষা থেকে এসেছে; তবে, মানুষের মধ্যে এর সংজ্ঞা হল সুস্পষ্ট এবং অস্পষ্ট দুটোই। কী সেই শব্দ? (পবিত্রতা।) পবিত্রতা: শেষবার আমাদের আলোচনার বিষয় ছিল এটাই। বিষয়টির একটি দিক নিয়ে আমরা আলোচনা করেছিলাম। আমাদের শেষ আলোচনার মধ্য দিয়ে, প্রত্যেকেই কি ঈশ্বরের পবিত্রতার সারসত্য সম্পর্কে কিছু নতুন উপলব্ধি অর্জন করেছিলে? এই উপলব্ধির কোন দিকগুলিকে তোমরা একেবারে নতুন বলে বিবেচনা কর? অর্থাৎ, এই উপলব্ধির ভিতরে অথবা সেই বাক্যগুলির ভিতরে এমন কী আছে যার দরুন তোমাদের মনে হয়েছে যেসহকারিতার সময় ঈশ্বরের পবিত্রতা সম্পর্কে আমি যা বলেছি তার থেকে ঈশ্বরের পবিত্রতা সম্পর্কে তোমাদের উপলব্ধি পৃথক বা ভিন্ন ছিল? (ঈশ্বর তাঁর অন্তরে যা অনুভব করেন তাই বলেন; তাঁর বাক্যসমূহ আবিলতাশূন্য। এটি হল পবিত্রতার একটি দিকের প্রকাশ।) (ঈশ্বর যখন মানুষের প্রতি ক্রুদ্ধ হন তখন সেখানেও পবিত্রতা বিরাজ করে; তাঁর ক্রোধ নিষ্কলঙ্ক।) (ঈশ্বরের পবিত্রতার ব্যাপারে, আমি উপলব্ধি করি যে ঈশ্বরের ধার্মিক স্বভাবের মধ্যে তাঁর ক্রোধ আর তাঁর অনুগ্রহ দুইই আছে। এটা আমার উপরে একটা অত্যন্ত দৃঢ় প্রভাব ফেলেছে। আমাদের শেষ আলোচনায়, এটাও উল্লেখ করা হয়েছিল যে ঈশ্বরের ধার্মিক স্বভাব হল অনন্য—আমি অতীতে এটা উপলব্ধি করতে পারিনি। ঈশ্বর কী আলোচনা করেছিলেন তা শ্রবণ করার পরই আমি উপলব্ধি করি যে ঈশ্বরের ক্রোধ মানুষের রাগের চেয়ে পৃথক। ঈশ্বরের ক্রোধ একটি সদর্থক জিনিস এবং তা হল নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত; ঈশ্বরের অন্তর্নিহিত সারসত্যের কারণে এটি নিষ্ক্রান্ত হয়। ঈশ্বর নেতিবাচক কিছু দেখেন, আর সেই কারণেই তিনি তাঁর ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটান। এ হল এমন একটা বিষয় যা কোনো সৃষ্ট জীবের অধিকৃত নয়।) আজ আমাদের বিষয় হল ঈশ্বরের পবিত্রতা। সকল মানুষই ঈশ্বরের ধার্মিক স্বভাবের বিষয়ে কিছু না কিছু শুনেছে ও জেনেছে। উপরন্তু, অনেক মানুষই ঈশ্বরের পবিত্রতা আর ঈশ্বরের ধার্মিক স্বভাব সম্পর্কে প্রায়শই যুগপৎ একসাথে কথা বলে থাকে; তারা বলে যে ঈশ্বরের ধার্মিক স্বভাব হল পবিত্র। “পবিত্র” শব্দটি নিশ্চিতরূপেই কারো কাছে অপরিচিত নয়—এটা বহুল-ব্যবহৃত একটি শব্দ। কিন্তু শব্দটির অন্তর্নিহিত অর্থসমূহের প্রসঙ্গে, ঈশ্বরের পবিত্রতার কোন কোন অভিব্যক্তি মানুষ চাক্ষুষ করতে সক্ষম? ঈশ্বর এমন কী প্রকাশ করেছেন যা মানুষ শনাক্ত করতে পারে? আমার আশঙ্কা এ বিষয়ে কেউ কিছু জানে না। ঈশ্বরের স্বভাব হল ধার্মিক, কিন্তু তারপর তুমি যদি ঈশ্বরের ধার্মিক স্বভাবকে ধর আর বলে বসো যে তা পবিত্র, তাহলে সেটা একটু অস্পষ্ট, একটু বিকৃত প্রতিবেদন হয়ে যায়; সেটা কেন হয়? তুমি বল ঈশ্বরের স্বভাব হল ধার্মিক, অথবা তুমি বল তাঁর ধার্মিক স্বভাব হল পবিত্র, তাহলে তোমার অন্তরে তুমি ঈশ্বরের পবিত্রতাকে কীভাবে চিহ্নিত করবে, কীভাবেই বা তা উপলব্ধি করবে? অর্থাৎ, ঈশ্বর যা প্রকাশ করেছেন, বা তাঁর যা আছে এবং তিনি যা, এসবের অন্তর্গত কোন বিষয়গুলিকে মানুষ পবিত্র বলে স্বীকৃতি দেবে? তুমি এই নিয়ে আগে কখনও ভেবে দেখেছ? আমি দেখেছি যে মানুষ কথা বলার সময় প্রায়শই সাধারণভাবে ব্যবহৃত শব্দ বা বহুল-ব্যবহৃত শব্দবন্ধের প্রয়োগ করে, তবু তারা নিজেরা যে কী বলছে তাই জানে না। ঠিক এইভাবেই প্রত্যেকে এটা বলে থাকে, আর তারা সেটা বলে অভ্যাসবশত, তাই সেটা তাদের কাছে একটা বাঁধাধরা পরিভাষায় পরিণত হয়। তবে, তারা যদি খোঁজখবর নিয়ে সত্যিই বিশদে অধ্যয়ন করত, তাহলে তারা দেখতে পেত যে তারা এর প্রকৃত অর্থ কী বা এটি কী বোঝায় তা তারা জানে না। “পবিত্র” শব্দটির মতই, তারা তাঁর যে পবিত্রতার কথা বলে, তার মাধ্যমে ঈশ্বরের সারসত্যের ঠিক কোন দিকটিকে নির্দেশ করা হচ্ছে, তা কেউ জানে না, এবং কেউ জানে না ঈশ্বরের সঙ্গে “পবিত্র” বাক্যটির সামঞ্জস্যবিধানই বা কীভাবে করতে হয়। মানুষ নিজেদের অন্তরে বিভ্রান্ত, ঈশ্বরের পবিত্রতা সম্পর্কে তাদের স্বীকৃতি অস্পষ্ট এবং ঝাপসা। ঈশ্বর কীভাবে পবিত্র সে সম্পর্কেও কেউ যথেষ্ট পরিষ্কার নয়। আজ আমরা ঈশ্বরের সঙ্গে “পবিত্র” বাক্যটির সামঞ্জস্যবিধান করতে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব যাতে মানুষ ঈশ্বরের পবিত্রতার সারমর্মের প্রকৃত বিষয়বস্তুটি অনুধাবন করতে পারে। এটি কিছু কিছু মানুষকে অভ্যাসবশত এবং অসতর্কভাবে শব্দটির ব্যবহার করা ও যথেচ্ছ ভাবে কথাবার্তা বলা থেকে বিরত করবে যখন তারা জানে না যে সেগুলি কী বোঝাচ্ছে বা সেগুলি সঠিক এবং নির্ভুল কিনা। মানুষ সর্বদাই এইভাবেই কথা বলে এসেছে; তুমি বলেছ, সে বলেছে, এবং এইভাবেই এটা কথা বলার একটা রীতিতে পরিণত হয়েছে। এটি অনবধানতাবশত এই ধরনের পরিভাষাটিকে গুরুত্বহীন করে তোলে।

আপাতদৃষ্টিতে, “পবিত্র” শব্দটি অত্যন্ত সহজে উপলব্ধি করা যায় বলে মনে হয়, তাই নয় কি? মানুষ অন্ততপক্ষে বিশ্বাস করে যে “পবিত্র” বাক্যটির অর্থ শুচি, অকলুষিত, পূত এবং বিশুদ্ধ। এমনও কিছু মানুষ আছে যারা আমাদের এইমাত্র গাওয়া “নিষ্কলঙ্ক বিশুদ্ধ ভালোবাসা” স্তবগানটিতে “পবিত্রতা”-র সঙ্গে “ভালোবাসা”-কে সংশ্লিষ্ট করে থাকে। এটা সঠিক; এটা এর একটা অংশ। ঈশ্বরের ভালোবাসা তাঁর সারসত্যের অংশ, কিন্তু তার সমগ্রতা নয়। তবে, মানুষের ধারণায়, শব্দটিকে দেখার পর যে বিষয়গুলিকে তারা বিশুদ্ধ আর শুচি মনে করে তাদের সঙ্গে, অথবা তারা ব্যক্তিগতভাবে যে যে জিনিসকে অকলুষ বা নিষ্কলঙ্ক বলে মনে করে সেসবের সঙ্গে এটিকে সংশ্লিষ্ট করে ফেলে। উদাহরণস্বরূপ, কিছু মানুষ পদ্মফুলকে শুচিশুদ্ধ বলেছিল, আর মনে করেছিল যে এটি আবিল পঙ্কের মধ্যে থেকে নিষ্কলঙ্ক হয়ে ফুটে ওঠে। তাই মানুষ পদ্মফুলের সঙ্গে “পবিত্র” বাক্যটি প্রয়োগ করতে শুরু করেছিল। আবার কিছু মানুষ বানানো প্রেমের গল্পকে পবিত্র মনে করে, অথবা তারা হয়ত কিছু কাল্পনিক, আশ্চর্যজনক চরিত্রকে পবিত্র হিসাবে দেখে থাকতে পারে। উপরন্তু, কেউ কেউ বাইবেলের মানুষজন, বা আধ্যাত্মিক বইগুলিতে লিপিবদ্ধ অন্যান্য ব্যক্তি—যেমন সন্ত, প্রেরিত শিষ্য বা অন্যরা যারা ঈশ্বরকে তাঁর কার্য করাকালীন একবার অনুসরণ করেছিল—তাদের পবিত্র আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা ছিল বলে মনে করে। এসমস্তই হল মানুষের মনের মধ্যে গড়ে তোলা ধারণা; এগুলি হল মানুষের পোষণ করা পূর্বধারণা। মানুষে এই ধরনের ধারণা পোষণ কেন করে? কারণটা অত্যন্ত সহজ: এর কারণ হল যে মানুষ ভ্রষ্ট স্বভাব আর মন্দ ও কলুষপূর্ণ এক জগতে বাস করে। তাদের চাক্ষুষ করা, স্পর্শ করা, তাদের লব্ধ অভিজ্ঞতার প্রতিটিই হল শয়তানের মন্দ ও ভ্রষ্ট আচরণ এবং একই সঙ্গে শয়তানের প্রভাবে মানুষের মধ্যে যে ষড়যন্ত্র, অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং লড়াই ঘটে সে সবই। সেই হেতু, ঈশ্বর যখন মানুষের মধ্যে তাঁর কার্য সম্পাদন করেন, আর এমনকি যখন তিনি তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁর স্বভাব ও সারসত্য প্রকাশ করেন, তারা ঈশ্বরের পবিত্রতা ও সারসত্য চাক্ষুষ করতে বা উপলব্ধি করতে সক্ষম হয় না। মানুষ প্রায়শই বলে যে ঈশ্বর পবিত্র, কিন্তু তাদের মধ্যে প্রকৃত উপলব্ধির অভাব থাকে; তারা কেবল ফাঁকা বুলি আওড়ায়। মানুষ কলুষ ও অনাচারের মধ্যে আর শয়তানের রাজত্বের মধ্যে বাস করে বলে, আর তারা আলো চাক্ষুষ করে না বলে, সদর্থক বিষয়ের কিছুই জানে না বলে, উপরন্তু, সত্যকেও জানে না বলে, কেউই প্রকৃতও অর্থে জানে না “পবিত্র” শব্দটির অর্থ কী? তাহলে, এই ভ্রষ্ট মনুষ্যলোকের মধ্যে কি কোনো পবিত্র জিনিস বা পবিত্র মানুষ রয়েছে? আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারি: না, নেই, কারণ শুধুমাত্র ঈশ্বরের সারসত্যই হল পবিত্র।

শেষবার, আমরা ঈশ্বরের সারসত্য কীভাবে পবিত্র তার একটি দিক নিয়ে আলাপ-আলোচনা করেছিলাম। এটি মানুষকে ঈশ্বরের পবিত্রতার বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে কিছুটা অনুপ্রেরণা দিয়েছিল, কিন্তু তা যথেষ্ট নয়। এটি মানুষকে ঈশ্বরের পবিত্রতা বিষয়ে জানতে পর্যাপ্ত রকমের সক্ষম করেও তুলবে না, আর ঈশ্বরের পবিত্রতা যে অনন্য তা তাদের উপলব্ধি করতেও যথেষ্ট সক্ষম করবে না। উপরন্তু, এটি মানুষকে পবিত্রতার প্রকৃত অর্থ, যা সম্পূর্ণরূপে ঈশ্বরের মধ্যে অঙ্গীভূত, তা উপলব্ধি করতেও যথেষ্ট সক্ষম করে তুলতে পারে না। তাই, আমাদের এই বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা অব্যাহত রাখাটা জরুরী। শেষবার, আমাদের সহকারিতায় তিনটি বিষয় আলোচনা করা হয়েছিল, তাই এখন আমাদের চতুর্থটি আলোচনা করা উচিৎ। আমরা শাস্ত্র থেকে পাঠ করার মাধ্যমে আলোচনা শুরু করব।

শয়তানের প্রলোভন

মথি ৪:১–৪ এর পর পবিত্র আত্মা যীশুকে মরুপ্রান্তরে নিয়ে গেলেন। সেখানে তিনি শয়তানের প্রলোভনের সম্মুখীন হলেন। সেখানে চল্লিশ দিন ও চল্লিশ রাত্রি তিনি উপবাস কাটালেন। তারপর তিনি অত্যন্ত ক্ষুধার্ত হলেন। শয়তান তখন তাঁর কাছে এসে বলল, তুমি যদি ঈশ্বরের পুত্র হও, তাহলে আদেশ দাও যেন এই পাথরের টুকরোগুলো রুটিতে পরিণত হয়। প্রত্যুত্তরে যীশু বললেন, “মানুষ কেবল রুটিতে বাঁচে না, ঈশ্বরের মুখনিঃসৃত বাক্যই তাঁকে বাঁচিয়ে রাখে।”

এইগুলি হল সেই বাক্যসমূহ যা দিয়ে শয়তান প্রথমে প্রভু যীশুকে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করেছিল। শয়তানের বলা বাক্যগুলির বিষয়বস্তু কী ছিলো? (“তুমি যদি ঈশ্বরের পুত্র হও, তাহলে আদেশ দাও যেন এই পাথরের টুকরোগুলো রুটিতে পরিণত হয়।”) শয়তানের বলা এই বাক্যগুলি খুবই সহজ-সরল, কিন্তু সেগুলির সারসত্যে কী কিছু সমস্যা রয়েছে? শয়তান বলেছিল, “তুমি যদি ঈশ্বরের পুত্র হও,” কিন্তু তার অন্তরে সে কি জানত, নাকি জানত না যে যীশু ছিলেন ঈশ্বরের পুত্র? সে কি জানত নাকি জানত না যে তিনি ছিলেন খ্রীষ্ট? (সে জানত।) তাহলে সে কেন বলেছিল “তুমি যদি হও”? (সে ঈশ্বরকে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করছিল।) কিন্তু এমন করার পিছনে তার উদ্দেশ্য কী ছিল? সে বলেছিল, “তুমি যদি ঈশ্বরের পুত্র হও।” সে তার অন্তরে জানত যে যীশু খ্রীষ্ট ছিলেন ঈশ্বরের পুত্র, মনে মনে সে এই ব্যাপারে সম্পূর্ণ নিশ্চিত ছিল, কিন্তু সেটা জানা সত্ত্বেও, সে কি তাঁর কাছে সমর্পণ করেছিল ও তাঁর আরাধনা করেছিল? (না।) সে কী করতে চেয়েছিল? সে এই পদ্ধতি আর এই বাক্যগুলি ব্যবহার করে প্রভু যীশুকে রাগান্বিত করতে, আর তারপর তার নিজ উদ্দেশ্য অনুযায়ী কাজ করিয়ে নিয়ে তাঁকে বোকা বানাবার চেষ্টা করেছিল। এগুলিই কি শয়তানের বাক্যগুলির অন্তর্নিহিত অর্থ নয়? মনে মনে শয়তান পরিষ্কার জানত যে তিনিই ছিলেন প্রভু যীশু খ্রীষ্ট, কিন্তু তাসত্ত্বেও সে বাক্যগুলি বলেছিল। এটাই কি শয়তানের প্রকৃতি নয়? শয়তানের প্রকৃতি কী? (ধূর্ত, মন্দ এবং ঈশ্বরের প্রতি শ্রদ্ধাহীন হওয়া।) ঈশ্বরের প্রতি কোনোরকম শ্রদ্ধা না থাকার পরিণাম কী হবে? এটা কি সত্য নয় যে সে ঈশ্বরকে আক্রমণ করতে চেয়েছিল? সে ঈশ্বরকে আক্রমণ করতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করতে চেয়েছিল: “তুমি যদি ঈশ্বরের পুত্র হও, তাহলে আদেশ দাও যেন এই পাথরের টুকরোগুলো রুটিতে পরিণত হয়।”; এটাই কি শয়তানের অশুভ উদ্দেশ্য নয়? সে ঠিক কী করতে চাইছিল? তার উদ্দেশ্য ছিল একেবারেই স্পষ্ট: সে প্রভু যীশু খ্রীষ্টের অবস্থান এবং পরিচয় অশ্বীকার করতে এই পদ্ধতির ব্যবহার করতে চেয়েছিল। ঐ বাক্যগুলি দ্বারা শয়তান যা বলতে চেয়েছিল তা হল, “আপনি যদি ঈশ্বরের পুত্র হয়ে থাকেন, প্রস্তরখণ্ডগুলিকে রুটিতে পরিণত করে দিন। আপনি যদি তা করতে না পারেন, তাহলে আপনি ঈশ্বরের পুত্র নন, আর তাই আপনার কার্যও আর সম্পন্ন করা উচিত নয়।” এটাই কি নয়? সে ঈশ্বরকে আক্রমণ করতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করতে চেয়েছিল, সে ঈশ্বরের কার্যকে টুকরো টুকরো করে ফেলতে আর ধ্বংস করতে চেয়েছিল; এ হল শয়তানের অপচিকীর্ষা। তার এই বিদ্বেষ হল তার প্রকৃতির এক স্বাভাবিক অভিব্যক্তি। প্রভু যীশু খ্রীষ্টই যে ঈশ্বরের পুত্র, স্বয়ং ঈশ্বরের অবতাররূপ, এটা জানা সত্ত্বেও সে এইধরণের কাজ না করে পারেনি, ঈশ্বরের পশ্চাতে ঘনিষ্টভাবে অনুসরণ করে, অবিরাম তাঁকে আক্রমণ করে গেচছে আর নানাভাবে চেষ্টা করেছে ঈশ্বরের কার্যকে ব্যাহত করার ও অন্তর্ঘাত সৃষ্টি করার।

এখন, শয়তানের বলা বাক্যটি বিশ্লেষণ করা যাকঃ “আদেশ দাও যেন এই পাথরের টুকরোগুলো রুটিতে পরিণত হয়।” প্রস্তরখণ্ডগুলিকে রুটিতে পরিণত করা—এর কি কোনো অর্থ আছে? যদি সেখানে খাদ্য থাকে, তাহলে সেটা খাবে না কেন? পাথরকে রুটিতে পরিণত করাটা জরুরি কেন? তাহলে এর কোনো অর্থ নেই এটা কি বলা যেতে পারে? যদিও তিনি সেই মুহূর্তে উপবাসে ছিলেন, তবুও প্রভু যীশুর নিশ্চিতরূপেই ভোজনের মতো খাদ্য ছিল? (হ্যাঁ ছিল।) তাহলে, আমরা এখানে শয়তানের বাক্যগুলির অযৌক্তিকতা দেখতে পাই। শয়তানের সকল বিশ্বাসঘাতকতা ও বিদ্বেষের ক্ষেত্রেও, আমরা তার অযৌক্তিকতা আর অর্থহীনতা দেখতে পাই। শয়তান এমন বেশ কিছু কাজ করে যেগুলির মাধ্যমে তুমি তার বিদ্বেষপূর্ণ প্রকৃতি চাক্ষুষ করতে পার; তুমি তাকে এমন সব কাজ করতে দেখবে যা ঈশ্বরের কাজকে অন্তর্ঘাত করে, আর সেটা দেখে তুমি মনে কর যে এটি ঘৃণ্য এবং ক্রোধ উদ্রেককারী। অন্যদিকে, তুমি কি তার বাক্য ও কাজের পিছনে একটি শিশুসুলভ, হাস্যকর প্রকৃতিও দেখতে পাও না? এটি হল শয়তানের প্রকৃতির উদ্ঘাটন; তার এই ধরনের প্রকৃতি বলেই সে এই ধরনের কাজ করবে। আজকের মানুষের কাছে, শয়তানের এই বাক্যগুলি অযৌক্তিক এবং হাস্যকর। কিন্তু শয়তান সত্যিই এই রকম বাক্য উচ্চারণে সক্ষম। আমরা কি বলতে পারি যে সে অজ্ঞানতাপূর্ণ এবং যৌক্তিকতাশূন্য? শয়তানের অনিষ্টকারিতা সর্বত্রই উপস্থিত এবং প্রতিনিয়ত তা উদ্ঘাটিত হয়ে চলেছে। এবং প্রভু যীশু কীভাবে এর উত্তর দিয়েছিলেন? (“মানুষ কেবল রুটিতে বাঁচে না, ঈশ্বরের মুখনিঃসৃত বাক্যই তাঁকে বাঁচিয়ে রাখে।”) এই বাক্যগুলির কি কোনো শক্তি আছে? (হ্যাঁ, আছে।) আমরা কেন বলি যে এগুলির শক্তি আছে? বলি কারণ এই বাক্যগুলিই হল সত্য। এখন, মানুষ কি শুধুমাত্র রুটি দ্বারাই বেঁচে থাকে? প্রভু যীশু চল্লিশটি দিনরাত্রি ব্যাপী উপবাসে ছিলেন। তিনি কি অনাহারে প্রাণ ত্যাগ করেছিলেন? তিনি অনাহারে প্রাণ ত্যাগ করেননি, তাই শয়তান তাঁর কাছে আসে, পাথরের টুকরোগুলিকে খাদ্যে পরিণত করার জন্য তাঁকে প্ররোচিত করে বলে: “আপনি যদি প্রস্তরখণ্ডগুলিকে খাদ্যে পরিণত করেন, তাহলে কি আপনার কাছে খাদ্যবস্তু থাকবে না? তাহলে তো আপনাকে উপবাসে থাকতে হবে না, ক্ষুধার্ত থাকতে হবে না?” কিন্তু প্রভু যীশু খ্রীষ্ট বললেন, “মানুষ কেবল রুটিতে বাঁচে না,” যার অর্থ হল যে, যদিও মানুষ ভৌত শরীরে বেঁচে থাকে, কিন্তু তার ভৌত শরীরকে শুধু খাদ্যই জীবিত ও শ্বাসরত রাখে না, তাকে বাঁচিয়ে রাখে ঈশ্বরের মুখ থেকে উচ্চারিত প্রতিটি বাক্য। একদিকে, এই বাক্যগুলিই হল সত্য; এগুলি মানুষকে ভরসা দেয়, তাদের অনুভব করায় যে তারা ঈশ্বরের উপর নির্ভর করতে পারে এবং তিনি সত্য। অপরদিকে, এই বাক্যগুলির কি কোনো ব্যবহারিক দিক রয়েছে? চল্লিশ দিবস-রাত্রি ব্যাপী উপবাস করার পরেও কি প্রভু যীশু দাঁড়িয়ে ছিলেন না, জীবিত ছিলেন না? এটা কি একটা প্রকৃত উদাহরণ নয়? চল্লিশটি দিন-রাত তিনি বিনা খাদ্যে ছিলেন, আর তাসত্ত্বেও তিনি জীবিত ছিলেন। এ হল তাঁর বাক্যের সত্যতা নিশ্চিতকরণের শক্তিশালী প্রমাণ। এই বাক্যগুলি সহজ-সরল, কিন্তু প্রভু যীশুর ক্ষেত্রে, তিনি কি এগুলি শুধুমাত্র তখনই বলেছিলেন যখন শয়তান তাঁকে প্ররোচিত করেছিল, নাকি ইতিমধ্যেই সেগুলি তাঁর স্বাভাবিক প্রকৃতির অংশ ছিল? এটাকে অন্যভাবে বললে বলা যায়, ঈশ্বর হলেন সত্য, এবং ঈশ্বর হলেন জীবন, কিন্তু ঈশ্বরের সত্য আর জীবন কি কোনো পরবর্তী সংযোজন? এগুলির জন্ম কি পরবর্তী অভিজ্ঞতা থেকে? না—এগুলি ঈশ্বরের সহজাত। অর্থাৎ, সত্য এবং জীবন হল ঈশ্বরের সারসত্য। তাঁর যাই ঘটুক না কেন, তিনি যা প্রকাশ করেন তা হল সত্য। এই সত্য, এই বাক্যসমূহ—তাঁর বক্তব্যের বিষয়বস্তু দীর্ঘ হোক বা সংক্ষিপ্ত—তা মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে এবং মানুষকে জীবন দান করে; এগুলি মানুষকে মানবজীবনের পথ সম্পর্কে সত্য ও স্বচ্ছতা অর্জনে সক্ষম করে তোলে, আর তাদের ঈশ্বরে আস্থাবান করে তোলে। অন্যভাবে বললে, ঈশ্বরের এই বাক্যগুলির ব্যবহারের উৎসটি হল সদর্থক। তাহলে আমরা এই বলতে পারি যে এই সদর্থক জিনিসটি পবিত্র? (হ্যাঁ।) শয়তানের ওই বাক্যগুলি আগত হয়েছে শয়তানের প্রকৃতি থেকে। শয়তান সর্বত্র, প্রতিনিয়ত তার মন্দ এবং বিদ্বেষপরায়ণ প্রকৃতির প্রকাশ ঘটায়। এখন, শয়তান কি স্বাভাবিকভাবেই এই প্রকাশগুলি ঘটায়? তাকে কি কেউ এগুলি করার নির্দেশ দেয়? তাকে কি কেউ সাহায্য করে? কেউ কি তাকে বাধ্য করে? না। এই সব উদ্ঘাটন, সবই সে স্বেচ্ছায় করে। এই হল শয়তানের মন্দ প্রকৃতি। ঈশ্বর যাই করুন না কেন এবং তিনি যেভাবেই তা করুন না কেন, শয়তান তাঁকে পায়ে পায়ে অনুসরণ করে। শয়তানের বলা কথা আর তার করা কাজের নির্যাস এবং যথার্থ প্রকৃতি হল শয়তানের সারসত্য—এমন এক সারসত্য যা মন্দ এবং বিদ্বেষপরায়ণ। এখন, আমরা আরও পাঠ করে দেখব, শয়তান আর কী কী বলেছে? পড়া যাক।

মথি ৪:৫–৭ তারপর শয়তান তাঁকে পবিত্র নগরী জেরুশালেমে নিয়ে গেল। মন্দিরের চূড়ার উপরে তাঁকে দাঁড় করিয়ে সে বলল, তুমি যদি ঈশ্বরের পুত্র হও, তাহলে এখান থেকে লাফিয়ে পড়, শাস্ত্রে তো লেখা রয়েছে: ঈশ্বর তাঁর দূতবাহিনীকে আদেশ দেবেন, তাঁরা তোমাকে হাত পেতে ধরে নেবেন যেন তোমার গায়ে পাথরের আঘাত না লাগে। যীশু বললেন, শাস্ত্রে এ কথাও লেখা রয়েছে, “তুমি কখনও তোমার প্রভু ঈশ্বরকে পরীক্ষা করেত চেয়ো না।”

আমরা এখানে প্রথমে শয়তানের বলা বাক্যগুলি দেখে নেব। শয়তান বলেছিল, “তুমি যদি ঈশ্বরের পুত্র হও, তাহলে এখান থেকে লাফিয়ে পড়,” আর তারপর সে শাস্ত্র থেকে উদ্ধৃত করেছিল: “ঈশ্বর তাঁর দূতবাহিনীকে আদেশ দেবেন, তাঁরা তোমাকে হাত পেতে ধরে নেবেন যেন তোমার গায়ে পাথরের আঘাত না লাগে।” শয়তানের কথা শুনে তুমি কেমন অনুভব কর? সেগুলি কি অত্যন্ত শিশুসুলভ কথা নয়? সেগুলি শিশুসুলভ, অযৌক্তিক, এবং ন্যক্কারজনক। আমি কেন এমন কথা বলছি? শয়তান প্রায়শই মূর্খতাপূর্ণ কাজ করে থাকে, আর বিশ্বাস করে যে সে অত্যন্ত চতুর। সে প্রায়শই শাস্ত্র থেকে উদ্ধৃত করে—এমনকি স্বয়ং ঈশ্বরের বলা বাক্যসমূহও—ঈশ্বরের কার্যের পরিকল্পনাকে অন্তর্ঘাত করে নিজের উদ্দেশ্যকে সফল করার প্রচেষ্টায় সেই বাক্যগুলিকে সে ঈশ্বরের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে প্রয়াসী হয় তাঁকে আক্রমণ ও প্ররোচিত করার জন্য। তুমি কি শয়তানের বলা এই বাক্যগুলির মধ্যে থেকে কিছু উপলব্ধি করতে সক্ষম? (শয়তান মন্দ উদ্দেশ্য পোষণ করে।) শয়তান যা কিছুই করে, তাতে সে সর্বদাই মানবজাতিকে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করেছে। শয়তান সোজাসুজি কথা বলে না, বরং কুকর্মে প্ররোচনা, প্রতারণা আর প্রলোভন ব্যবহার করে ঘুরিয়ে কথা বলে। শয়তান তার ঈশ্বরকে প্রলোভিত করার কাজে এমনভাবে অগ্রসর হয় যেন তিনি কোনো এক সাধারণ মানুষ, সে বিশ্বাস করে যে ঈশ্বরও অজ্ঞতাপূর্ণ, মূর্খ এবং মানুষের মতোই তিনিও বিষয়াদির যথার্থ রূপ নিরূপণ করতে অক্ষম। শয়তান মনে করে যে ঈশ্বর ও মানুষ একইরকমভাবে তার সারসত্য আর তার প্রতারণা এবং অশুভ উদ্দেশ্য ধরে ফেলতে অক্ষম। এটাই কি শয়তানের মূর্খতা নয়? উপরন্তু, শয়তান প্রত্যক্ষভাবে শাস্ত্র থেকে এই বিশ্বাসে উদ্ধৃত করে যে, এর মাধ্যমে সে নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে পারবে, আর তুমি তার বাক্যের কোনো ভুল ধরতে এবং প্রতারিত হওয়া এড়াতে অক্ষম হবে। এটাই কি শয়তানের হাস্যকরতা আর বালখিল্যতা নয়? এটা তো ঠিক সেইরকমই যখন মানুষ সুসমাচার প্রচার করে ও ঈশ্বরের সাক্ষ্য দেয়:অবিশ্বাসীরাও কি কখনও কখনও শয়তান যেমন বলেছিল তেমনই কিছু বলে না? তোমরা কি মানুষকে এরকম কিছু বলতে শুনেছ? এরকম কিছু শুনে তুমি কেমন বোধ কর? তুমি কি নিদারুণ বিরক্তি বোধ কর? (হ্যাঁ।) তুমি যখন নিদারুণ বিরক্তি বোধ কর, তখন কি তুমি বিরাগ এবং ঘৃণাও বোধ কর? যখন তোমার এই অনুভূতিগুলি হয় তখন কি তুমি শয়তান আর মানুষের মধ্যে শয়তান যে ভ্রষ্ট স্বভাব সঞ্চারিত করে তা যে দুষ্ট তা শনাক্ত করতে সক্ষম হও? তোমার অন্তরে কি কখনও এই উপলব্ধি হয়েছে: “শয়তান যখন কথা বলে, তখন সে সেটা একটা আক্রমণ আর প্রলোভন হিসাবে করে; শয়তানের বাক্যগুলি হল অযৌক্তিক, হাস্যকর, শিশুসুলভ, এবং বিরক্তিকর; তবে, ঈশ্বর কখনও অনুরূপভাবে বাক্য উচ্চারণ বা কার্য সম্পাদন করবেন না, আর বস্তুতই তিনি কখনই এরকম করেননি”? অবশ্যই, এই পরিস্থিতিতে মানুষ কেবল ক্ষীণভাবে এটি উপলব্ধি করতে সক্ষম হয় এবং ঈশ্বরের পবিত্রতা উপলব্ধি করতে অক্ষম রয়ে যায়। তোমাদের বর্তমান উচ্চতায়, তোমরা নিছকই অনুভব কর যে: “ঈশ্বর যাই বলেন তা সত্য, আমাদের পক্ষে হিতকর এবং আমাদের তা গ্রহণ করতেই হবে।” তোমরা তা গ্রহণ করতে সক্ষম হও বা না হও তা নির্বিশেষে, তোমরা কোনোরকম ব্যক্তিক্রম ছাড়াই বল যে ঈশ্বরের বাক্য হল সত্য এবং ঈশ্বর হলেন সত্য, কিন্তু তোমরা জান না যে সত্য নিজে পবিত্র এবং ঈশ্বরও পবিত্র।

তাহলে, শয়তানের এই বাক্যগুলির পরিপ্রেক্ষিতে যীশুর প্রত্যুত্তর কী ছিল? যীশু তার উত্তরে বলেছিলেনঃ “শাস্ত্রে এ কথাও লেখা রয়েছে, ‘তুমি কখনও তোমার প্রভু ঈশ্বরকে পরীক্ষা করেত চেয়ো না।’” যীশুর বলা বাক্যগুলিতে কি কোনো সত্যতা আছে? সেগুলির অবশ্যই সত্যতা আছে। বাহ্যিকভাবে, এই বাক্যগুলি মানুষকে অনুসরণ করার জন্য একটি আদেশ, একটি সহজ বাক্যাংশ, অথচ তবুও, মানুষ এবং শয়তান উভয়ই প্রায়শই এই বাক্যগুলিকে লঙ্ঘন করেছে। তাই প্রভু খ্রীষ্ট শয়তানকে বলেছিলেন, “তুমি কখনও তোমার প্রভু ঈশ্বরকে পরীক্ষা করেত চেয়ো না,” কারণ শয়তান প্রায়শই সেটাই করেছিল, তা করার জন্য বহু প্রচেষ্টা করেছিল। এটা বলা যেতে পারে যে শয়তান সেটা করেছে বেহায়ার মত আর নির্লজ্জভাবে। শয়তানের প্রকৃতি ও সারসত্যই হল ঈশ্বরকে ভয় না পাওয়া আর নিজের অন্তরে ঈশ্বরকে সম্মান না করা। এমনকি শয়তান যখন ঈশ্বরের পাশে দণ্ডায়মান ছিল এবং তাঁকে চাক্ষুষ করতে পারত, তখনও সে ঈশ্বরকে প্ররোচিত না করে থাকতে পারেনি। তাই, প্রভু যীশু শয়তানকে বলেন, “তুমি কখনও তোমার প্রভু ঈশ্বরকে পরীক্ষা করেত চেয়ো না।” এই বাক্যগুলি ঈশ্বর শয়তানকে প্রায়শই বলেছেন। তাহলে, এই বাক্যাংশটির বর্তমান সময়ে প্রয়োগ করাটা কি যথাযথ? (হ্যাঁ, যেহেতু আমরাও প্রায়শই ঈশ্বরকে প্রলুব্ধ করি।) মানুষ কেন প্রায়শই ঈশ্বরকে প্রলুব্ধ করে? এর কারণ কি এই যে মানুষ ভ্রষ্ট শয়তানি স্বভাবে পূর্ণ? (হ্যাঁ।) তাহলে কি মানুষও শয়তানের উপরোক্ত বাক্যগুলি প্রায়শই বলে থাকে? আর কোন পরিস্থিতিতে মানুষ এই বাক্যগুলি বলে থাকে? বলা যেতে পারে যে মানুষ এরকম কথা স্থান ও কাল নির্বিশেষে বলে আসছে। এটা প্রমাণ করে যে মানুষের স্বভাব শয়তানের ভ্রষ্ট স্বভাবের চেয়ে কোনো অংশেই ভিন্ন নয়। প্রভু যীশু কয়েকটি সহজ-সরল বাক্য বলেছিলেন, এমন বাক্য যা সত্যের প্রতিনিধিত্ব করে, এমন বাক্য যা মানুষের প্রয়োজন। তবে, এই পরিস্থিতিতে, প্রভু যীশু কি এমন ভাবে কথা বলছিলেন যেন তিনি শয়তানের সাথে তর্ক করছেন? তিনি শয়তানকে যা যা বলেছিলেন তাতে কি দ্বন্দ্বমূলক কিছু ছিল? (না।) প্রভু যীশু শয়তানের প্রলোভনের বিষয়ে তাঁর অন্তরে কী অনুভব করেছিলেন? তিনি কি বিরাগ এবং ঘৃণা অনুভব করেছিলেন? প্রভু যীশু বিরাগ এবং ঘৃণা অনুভব করেছিলেন, আর তা সত্ত্বেও তিনি শয়তানের সঙ্গে তর্ক করেননি, আর মহান নীতিসমূহ সম্পর্কে কথা তো তিনি আরোই বলেননি। সেটা কেন? (কারণ শয়তান সবসময়েই এরকমই; সে কখনই বদলাবে না।) এটা কি বলা যেত যে শয়তান যুক্তির ক্ষেত্রে অভেদ্য? (হ্যাঁ।) শয়তান কি উপলব্ধি করতে পারে যে ঈশ্বরই হলেন সত্য? শয়তান কখনই উপলব্ধি করবে না ও স্বীকার করবে না যে ঈশ্বরই হলেন সত্য; এটাই শয়তানের প্রকৃতি। শয়তানের প্রকৃতির আর একটি দিকও ঘৃণা উদ্রেককারী। সেটা কী? প্রভু যীশুকে প্রলুব্ধ করার চেষ্টায়, শয়তান ভেবেছিল যে সফল না হলেও, সে তা করার চেষ্টা করবেই। সে যদি শাস্তিপ্রাপ্তও হয়, তবু সে চেষ্টা করে যাওয়াই বেছে নিয়েছিল। এমনকি এটা করেতার কোন লাভ না হলেও সে এই চেষ্টা করবেই, অবিচল থাকবে নিজের প্রচেষ্টায় এবং শেষ অবধি ঈশ্বরের বিরুদ্ধাচার করবে। এ কেমন প্রকৃতি? এটা কি মন্দ নয়? ঈশ্বরের উল্লেখ করা মাত্রই যদি কোনো মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে রাগে ফেটে পড়ে, সে কি ঈশ্বরকে চাক্ষুষ করেছে? সে কি জানে ঈশ্বর কে? সে জানে না যে ঈশ্বর কে, তাঁকে বিশ্বাস করে না, ঈশ্বর তাঁর সঙ্গে কথা বলেননি। ঈশ্বর তাঁকে কখনই ক্লিষ্ট করেননি, তাহলে সে কেন এত রাগান্বিত হবে? আমরা কি বলতে পারি যে ব্যক্তিটি মন্দ? জাগতিক প্রবণতা, ভোজন, পান এবং সুখ-অন্বেষণ, আর বিখ্যাত ব্যক্তিদের পশ্চাদ্ধাবন—এই সবের কোনোকিছুই এইরকম মানুষকে বিব্রত করবে না। তবে, “ঈশ্বর” বাক্যটি, অথবা ঈশ্বরের বাক্যের সত্যতার উচ্চারণমাত্রই সে রাগান্বিত হয়ে পড়ে। এটা কি মন্দ প্রকৃতির গঠন নয়? এটাই প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট যে এটি মানুষের মন্দ স্বভাব। এখন, তোমাদের নিজেদের কথা ধরা যাক, কখনো কি এমন হয় যে যখন সত্যের কথা উল্লেখ করা হয়, বা যখন ঈশ্বরের দ্বারা মানবজাতির পরীক্ষা বা ঈশ্বর কর্তৃক মানুষের বিচারের কথা উল্লেখ করা হয়, তখন তুমি বিরাগ অনুভব কর; তুমি ঘৃণা বোধ কর, আর তুমি এইধরনের কথা শুনতেই চাও না? তোমার হৃদয় হয়ত ভাবে: “সকলেই কি বলে না যে ঈশ্বর হলেন সত্য? এই বাক্যগুলির কিছু কিছু সত্য নয়! এগুলি স্পষ্টতই মানুষের প্রতি ঈশ্বরের ভর্ৎসনার বাক্য মাত্র!” কিছু কিছু মানুষ নিজেদের অন্তরে এক প্রবল বিরাগও অনুভব করে ভাবতে পারে: “প্রতিদিনই এই কথা বলা হয়—তাঁর পরীক্ষা, তাঁর বিচার, এসব কখন শেষ হবে? কবে আমরা শুভ গন্তব্যস্থল লাভ করব?” এই অযৌক্তিক রাগ-ক্ষোভ কোথা থেকে আগত হয় তা অজ্ঞাত। এ কী ধরনের প্রকৃতি? (মন্দ প্রকৃতি।) এটি শয়তানের মন্দ প্রকৃতি দ্বারা পরিচালিত ও নির্দেশিত হয়। ঈশ্বরের দৃষ্টিকোণ থেকে, শয়তানের মন্দ প্রকৃতি ও মানুষের ভ্রষ্ট স্বভাবের বিষয়ে, তিনি কখনই তর্ক করেন না বা মানুষের বিরুদ্ধে ক্ষোভও পোষণ করে থাকেন না, এবং মানুষ মূর্খতার পরিচয় দিলেও তিনি কখনই তা নিয়ে অযথা হৈচৈ করেন না। তুমি কখনই দেখবে না যে ঈশ্বর মানুষের মতো একইরকমের ধারণা পোষণ করেন, উপরন্তু, বিভিন্ন বিষয় সামলাবার ক্ষেত্রে তুমি তাঁকে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি, জ্ঞান, বিজ্ঞান, দর্শন অথবা কল্পনা ব্যবহার করতে দেখবে না। বরং, ঈশ্বর যা কিছুই করেন আর যা কিছুই তিনি প্রকাশ করেন তার সবই সত্যের সঙ্গে সংযুক্ত। অর্থাৎ, তাঁর বলা প্রতিটি বাক্য এবং তাঁর সম্পাদিত প্রতিটি কার্যই সত্যের সহিত সংবদ্ধ। এই সত্য কোনো ভিত্তিহীন অলীক কল্পনা প্রসূত নয়; তাঁর সারসত্য এবং তাঁর জীবনের কারণেই এই সত্য এবং এই বাক্যসমূহ ঈশ্বরের দ্বারা প্রকাশিত হয়। এই বাক্যসমূহ এবং ঈশ্বর দ্বারা কৃত সকল কার্যেরই নির্যাস সত্য বলে, আমরা বলতে পারি যে ঈশ্বরের সারসত্য হল পবিত্র। অন্য কথায়, ঈশ্বর যাই বলেন এবং করেন তা মানুষের কাছে জীবনীশক্তি এবং আলো নিয়ে আসে, মানুষকে তা সদর্থক জিনিস ও সেই সব সদর্থক জিনিসের বাস্তবতা চাক্ষুষ করতে সক্ষম করে তোলে, এবং মানবতাকে অঙ্গুলিনির্দেশ করে যাতে তারা সঠিক পথে এগিয়ে যেতে পারে। এইসবই ঈশ্বরের সারসত্য ও তাঁর পবিত্রতার সারসত্য দ্বারা নির্ধারিত হয়। তোমরা এখন এটা দেখতে পাচ্ছ, তাই নয় কি? এখন, আমরা শাস্ত্র থেকে আরেকবার পাঠ করে আমাদের আলোচনা অব্যাহত রাখব।

মথি ৪:৮-১১ এরপর শয়তান যীশুকে নিয়ে গেল খুব উঁচু একটি পাহাড়ে। এবং সে তাঁকে জগতের রাজ্যপাট ও সেগুলোর বৈভব দেখাল। তারপর সে যীশুকে বলল তুমি যদি ভূমিষ্ঠ হয়ে আমাকে প্রণাম কর তাহলে এ সবই আমি তোমাকে দিয়ে দেব। যীশু তাকে বললেন, দূর হও শয়তান। শাস্ত্রের নির্দেশ: তুমি শুধু তোমার ঈশ্বর প্রভুরই উপাসনা করবে, একমাত্র তাঁরই সেবা করবে। শয়তান তখন তাঁর কাছ থেকে চলে গেল, আর স্বর্গদূতেরা এসে তাঁর পরিচর্যা করতে লাগল।

পূর্বের দু’দুটি ফন্দি ব্যর্থ হওয়ার পর দুষ্ট শয়তান আরও একটির চেষ্টা করেছিল: সে প্রভু যীশুকে বিশ্বের সকল রাজ্য এবং তাদের মহিমা প্রদর্শন করানোর পর তাঁকে তার উপাসনা করতে বলে। এই পরিস্থিতি থেকে তুমি শয়তানের যথার্থ বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে কী লক্ষ্য কর? দুষ্ট শয়তান কি একেবারেই নির্লজ্জ নয়? (হ্যাঁ।) কেন তাকে নির্লজ্জ বলছি? সবকিছুই ঈশ্বর-সৃষ্ট, অথছ শয়তান ঈশ্বরকেই সবকিছু ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখায় আর বলে, “এই সমস্ত রাজ্যের সম্পদ আর মহিমা দেখ। তুমি যদি আমার উপাসনা কর আমি এইসবকিছু তোমাকে প্রদান করব।” এ কি ভূমিকার আমূল বিপর্যাস নয়? শয়তান কি নির্লজ্জ নয়? ঈশ্বর সমস্তকিছু সৃষ্টি করেছেন, কিন্তু তিনি কি এইসবকিছু নিজের উপভোগের জন্য তৈরী করেছেন? ঈশ্বর মানুষকে সবকিছু প্রদান করেছেন, কিন্তু শয়তাম এইসমস্ত কিছু ছিনিয়ে নিতে চেয়েছিল, আর ছিনিয়ে নিয়ে সে ঈশ্বরকে বলে, “আমার উপাসনা কর! আমার উপাসনা কর আর আমি তোমাকে এই সবকিছু প্রদান করব।” এই হল শয়তানের কুৎসিত রূপ; সে একেবারেই নির্লজ্জ! শয়তান এমনকি “লজ্জা” শব্দটির অর্থ পর্যন্ত জানে না। এ নিছকই তার শয়তানির আরেকটি উদাহরণ। সে জানেই না লজ্জা বলতে কী বোঝায়। শয়তান স্পষ্টরূপে অবহিত যে ঈশ্বরই সমস্তকিছু সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি সবকিছু পরিচালনা করেন আর সবকিছুর উপর তাঁরই কর্তৃত্ব। কোনোকিছুই মানুষের নয়, শয়তানের তো একেবারেই নয়, বরং সবকিছুই ঈশ্বরের, আর তদসত্ত্বেও দুষ্ট শয়তান নির্লজ্জের মত বলে যে সে নাকি সবকিছু ঈশ্বরকে প্রদান করবে। এটা কি শয়তানের উপুর্যপরি অযৌক্তিক আর নির্লজ্জ আচরণের আরেক উদাহরণ নয়? এই কারণে ঈশ্বর শয়তানকে আরও বেশি ঘৃণা করেন, তাই নয় কি? তবু, যত চেষ্টাই করে থাকুক না কেন, শয়তান কি প্রভু যীশুকে বোকা বানাতে পেরেছিল? প্রভু যীশু কী বলেছিলেন? (“তুমি শুধু তোমার ঈশ্বর প্রভুরই উপাসনা করবে, একমাত্র তাঁরই সেবা করবে।”) এই বাক্যগুলির কি কোনো ব্যবহারিক অর্থ আছে? (হ্যাঁ।) কী ধরনের ব্যবহারিক অর্থ? আমরা শয়তানের উক্তিতে তার দুষ্টতা আর নির্লজ্জতা দেখি। তাহলে মানুষ যদি তার উপাসনা করে, তার পরিণাম কী হবে? তারা কি বিশ্বসংসারের সকল রাজ্যের সম্পদ আর মহিমা অর্জন করবে? (না।) তারা কী অর্জন করবে? মানবজাতিও কি শয়তানের মতই নির্লজ্জ আর হাস্যাস্পদ হয়ে উঠবে? (হ্যাঁ।) তারা শয়তানের চেয়ে কোনো অংশেও ভিন্ন হবে না। তাই, প্রভু যীশু এই বাক্যগুলি বলেছেন, যা প্রতিটি মানুষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ: “তুমি শুধু তোমার ঈশ্বর প্রভুরই উপাসনা করবে, একমাত্র তাঁরই সেবা করবে।” এর অর্থ হল যে প্রভু ব্যতীত, স্বয়ং ঈশ্বর ব্যতীত, তুমি যদি আর কারো সেবা করতে, তুমি যদি দুষ্ট শয়তানের উপাসনা করতে, তাহলে তুমিও শয়তানের মত একই পঙ্কে নিমজ্জিত হতে। তুমিও তাহলে শয়তানের নির্লজ্জতা আর তার শয়তানি ভাগ করে নিতে এবং ঠিক শয়তানের মতই ঈশ্বরকে প্রলুব্ধ আর আক্রমণ করতে। তাহলে তোমার পরিণতি কী হতো? ঈশ্বর তোমাকে ঘৃণা করতেন, তোমাকে আঘাত করতেন আর ঈশ্বরের দ্বারা তুমি ধ্বংসপ্রাপ্ত হতে। প্রভু যীশুকে একাধিকবার প্রলুব্ধ করার ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর শয়তান কি আবারও চেষ্টা করেছিল? শয়তান আর কোনো চেষ্টা করেনি এবং সে চলে গিয়েছিল। এতে কী প্রমাণ হয়? এতে এটাই প্রমাণ হয় যে শয়তানের মন্দ প্রকৃতি, তার বিদ্বেষ, আর তার অর্থহীনতা ও অযৌক্তিকতা ঈশ্বরের মুখে উল্লেখেরও যোগ্য নয়। প্রভু যীশু শয়তানকে মাত্র তিনটি বাক্য দ্বারা পরাস্ত করেছিলেন, যার পর সে লেজ গুটিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল, লজ্জায় নিজের মুখ পর্যন্ত দেখাতে পারেনি, আর সে এরপর আর কখনই প্রভু যীশুকে প্রলুব্ধ করেনি। প্রভু যীশু শয়তানের এই প্রলোভনকে পরাজিত করায়, তিনি এখন সহজেই তাঁর করণীয় কার্য এবং তাঁর সম্মুখের কর্মভার পালন অব্যাহত রাখতে পেরেছিলেন। এই পরিস্থিতিতে প্রভু যীশু যা যা করেছিলেন ও বলেছিলেন তা যদি আজকের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োগ করা হত তাহলে কি তা প্রতিটি মানুষের কাছে কোনো ব্যবহারিক অর্থ বহন করতো? (হ্যাঁ।) কী ধরনের ব্যবহারিক অর্থ? শয়তানকে পরাজিত করাটা কি খুব সহজসাধ্য কাজ? মানুষের কি শয়তানের মন্দ প্রকৃতির বিষয়ে একটা সুস্পষ্ট উপলব্ধি থাকাটা আবশ্যিক? মানুষের কি শয়তানের প্রলোভনসমূহের বিষয়ে একটা যথাযথ উপলব্ধি থাকা আবশ্যিক? (হ্যাঁ।) যখন তুমি নিজের জীবনে শয়তানের প্রলোভনের অভিজ্ঞতা লাভ কর, তখন তুমি যদি শয়তানের মন্দ প্রকৃতি সুস্পষ্টরুপে চাক্ষুষ করতে পার তাহলে কি তুমি তাকে পরাস্ত করতে সক্ষম হবে না? তুমি যদি শয়তানের অসঙ্গতি আর তার অযৌক্তিকতা সম্পর্কে অবগত থাকো, তাহলে কি তারপরেও তুমি শয়তানের পক্ষ নিয়ে ঈশ্বরকে আক্রমণ করতে? তুমি যদি উপলব্ধি করতে যে তোমার মধ্য দিয়ে শয়তানের বিদ্বেষ আর নির্লজ্জতা কীভাবে অনাবৃত করা হচ্ছে—তুমি যদি স্পষ্টরূপে এই জিনিসগুলি চিনতে ও উপলব্ধি করতে—তাহলেও কি তুমি এইভাবে ঈশ্বরকে আক্রমণ আর প্রলুব্ধ করতে? (না, আমরা তা করতাম না।) তোমরা কী করতে? (আমরা শয়তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতাম আর তাকে দূরে সরিয়ে রাখতাম।) এটা করা কি খুব সহজ? এটা সহজ নয়। এটা করতে হলে, মানুশকে অবশ্যই প্রায়শই প্রার্থণা করতে হবে, তাদের প্রায়শই নিজেদের ঈশ্বরের সম্মুখে বসাতে হবে আর নিজেদের পরীক্ষা করতে হবে। আর তাদেরকে অবশ্যই ঈশ্বরের অনুশাসন ও তাঁর বিচার ও শাস্তিকে মাথা পেতে নিতে হবে। শুধুমাত্র এইভাবেই মানুষ ধীরে ধীরে নিজেদের শয়তানের প্রতারণা আর নিয়ন্ত্রণের কবল-মুক্ত করতে সক্ষম হবে।

এখন, শয়তানের বলা এইসকল বাক্য দেখে আমরা সবকিছুর সারাংশ করে শয়তানের সারসত্য গড়ে তুলব। প্রথমত, শয়তানের সারসত্যকে সাধারণভাবে ঈশ্বরের পবিত্রতার বিপরীতে মন্দ বলা যায়। শয়তানের সারসত্যকে আমি মন্দ বলছি কেন? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে, শয়তান মানুষের সঙ্গে যা করে তার পরিণতি পরীক্ষা করে দেখতে হবে। শয়তান মানুষকে ভ্রষ্ট ও নিয়ন্ত্রণ করে, আর মানুষ শয়তানের ভ্রষ্ট স্বভাবের অধীনে কাজ করে, আর শয়তান দ্বারা কলুষিত মানুষের জগতে বাস করে। মানবজাতি অজান্তেই শয়তান দ্বারা অধিকৃত ও অঙ্গীভূত হয়; তারপর মানুষের মধ্যে শয়তানের ভ্রষ্ট স্বভাব আরোপিত হয়, যা কিনা শয়তানেরই প্রকৃতি। শয়তান যা কিছু বলেছে ও করেছে, তার মধ্যে তোমরা তার ঔদ্ধত্য লক্ষ্য করেছ? তার প্রতারণা আর বিদ্বেষ দেখেছ? শয়তানের ঔদ্ধত্য প্রাথমিকভাবে কীভাবে প্রদর্শিত হয়েছে? শয়তান কি সবসময়ই ঈশ্বরের স্থান দখল করার বাসনা পোষণ করে থাকে? শয়তান সর্বদাই ঈশ্বরের কার্য, ও ঈশ্বরের অবস্থানকে নষ্ট করে দিয়ে তা নিজে দখল করতে চায় যাতে মানুষ শয়তানকে অনুসরণ, সমর্থন এবং উপাসনা করে; এই হল শয়তানের ঔদ্ধত্যপূর্ণ প্রকৃতি। যখন শয়তান মানুষকে ভ্রষ্ট করে, তখন কি সে তাদের কী করতে হবে তা প্রত্যক্ষ ভাবে বলে দেয়? শয়তান যখন ঈশ্বরকে প্রলুব্ধ করে, তখন কি সে সামনে এসে বলে, “আমি তোমাকে প্রলুব্ধ করছি, আমি তোমাকে আক্রমণ করতে চলেছি”? না, সে তা একেবারেই করে না। তাহলে শয়তান ঠিক কোন পদ্ধতি ব্যবহার করে? সে লুব্ধ করে, প্রলোভন দেখায়, আক্রমণ করে, ফাঁদ পেতে রাখে, আর এমনকি শাস্ত্র থেকেও উদ্ধৃত করে। শয়তান তার অশুভ উদ্দেশ্য সিদ্ধ করতে ও তার অভিপ্রায়কে সফল করতে বিভিন্ন উপায়ে কথা বলে আর কাজ করে। শয়তান তা করার পর, মানুষের মধ্যে যা প্রকাশিত হয় তা থেকে কী দেখা যায়? মানুষও কি ঔদ্ধত্যপূর্ণ হয়ে ওঠে না? মানুষ বহু সহস্র বছর ধরে শয়তানের ভ্রষ্টতা দ্বারা ক্লিষ্ট হয়েছে আর তাই মানুষও হয়ে উঠেছে ঔদ্ধত্যপূর্ণ, প্রতারক, বিদ্বেষপূর্ণ এবং যুক্তিহীন। এই সবকিছুই ঘটেছে শয়তানের প্রকৃতির কারণেই। যেহেতু শয়তানের প্রকৃতি হল মন্দ, তাই মানুষকেও সে এই মন্দ প্রকৃতি প্রদান করেছে, এবং মানুষকে ভ্রষ্ট স্বভাবের করে তুলেছে। তাই, মানুষ ভ্রষ্ট শয়তানি স্বভাবের বশবর্তী হয়ে বাস করে আর শয়তানের মতই, সেও ঈশ্বরের বিরোধিতা করে, ঈশ্বরকে আক্রমণ করে আর তাঁকে প্রলুব্ধ করে, এতটাই যে মানুষ ঈশ্বরের উপাসনা করতে পারে না আর তাঁকে সম্মান করাও মতো হৃদয়ও তার নেই।

যে পাঁচটি উপায়ে শয়তান মানুষকে ভ্রষ্ট করে

ঈশ্বরের পবিত্রতা সম্পর্কিত বিষয়টি হয়ত একটা পরিচিত বিষয়, এটি এমন একটি বিষয়ও যা বলতে গেলে কিছু কিছু মানুষের কাছে কিছুটা বিমূর্ত ও প্রগাঢ় আর তাদের বোধগম্যতার উর্দ্ধে বলে মনে হতে পারে। তবে চিন্তার কোনো কারণ নেই। আমি তোমাদের ঈশ্বরের পবিত্রতা কী তা উপলব্ধি করতে সাহায্য করব। কেউ ঠিক কী ধরনের মানুষ তা উপলব্ধি করতে, তারা কী করে আর তাদের কাজের পরিণাম কী তা দেখ, আর তাহলেই তোমরা সেই ব্যক্তির সারসত্য চাক্ষুষ করতে সক্ষম হবে। এটা কি এইভাবে বলা যেতে পারে? (হ্যাঁ।) তাহলে, আমরা প্রথমে এই দৃষ্টিকোণ থেকে ঈশ্বরের পবিত্রতা সম্পর্কে আলোচনা করব। এটা বলা যেতে পারে যে শয়তানের সারসত্য হল মন্দ, আর তাই মানুষের প্রতি শয়তানের কাজকর্মও হল তাদের অবিরত ভ্রষ্ট করা। শয়তান হল মন্দ, তাই তার দ্বারা কলুষিত মানুষগুলিও নিশ্চিতভাবেই মন্দ। কেউ কি বলবে, “শয়তান মন্দ, কিন্তু হয়ত তার দ্বারা কলুষিত মানুষটা পবিত্র”? সেটা তাহলে হবে একটা হাস্যাস্পদ বিষয়, তাই নয় কি? এরকম হওয়া কি সম্ভব? (না।) শয়তান হল মন্দ, এবং তার এই মন্দের মধ্যে রয়েছে এক অপরিহার্য আর এক বাস্তববাদী উভয় দিকই। এটা কোনো ফাঁপা বুলি নয়। আমরা শয়তানকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছি না; আমরা নিছকই সত্য ও বাস্তবতা সম্পর্কে আলোচনা করছি। এই বিষয়ের বাস্তবতা সম্পর্কে আলোচনা করাটা কিছু কিছু মানুষকে বা নির্দিষ্ট এক শ্রেণীর মানুষকে আঘাত করতে পারে, কিন্তু এর মধ্যে বিদ্বেষপূর্ণ কোনো উদ্দেশ্য নেই; হয়তো আজ তোমরা এটা শুনতে শুনতে একটি অস্বস্তি বোধ করবে, কিন্তু খুব শীঘ্রই একদিন, যখন তোমরা এটি চিনতে সক্ষম হবে, তখন তোমরা নিজেদের ঘৃণা করবে, এবং অনুভব করবে যে আজ আমি যা নিয়ে কথা বলছি তা তোমাদের পক্ষে অত্যন্ত উপকারী এবং মূল্যবান। শয়তানের সারসত্য হল মন্দ, তাই আমরা কি বলতে পারি যে শয়তানের কর্মের ফলশ্রুতিও অবশ্যই মন্দ, অথবা অন্ততপক্ষে, তার শয়তানি দ্বারা আবদ্ধ? (হ্যাঁ।) তাহলে শয়তান ঠিক কীভাবে মানুষকে ভ্রষ্ট করে থাকে? শয়তান এই বিশ্বে আর মানুষের মধ্যে যে মন্দ কর্ম সংঘটন করে সেগুলির নির্দিষ্ট কোন দিকগুলি মানুষের কাছে দৃশ্যমান আর অনুভবগ্রাহ্য? তোমরা কি এর পূর্বে কখনও এটা নিয়ে ভেবে দেখেছ? তোমরা হয়ত বিষয়টা নিয়ে তেমন ভেবে দেখোনি, তাই আমিই একাধিক মূল বিষয়ের অবতারণা করছি। শয়তানের প্রস্তাবিত অভিব্যক্তিবাদ সম্পর্কে প্রত্যেকেই অবগত, তাই তো? এ হল মানুষের অধ্যয়িত জ্ঞানের এক ক্ষেত্র, তাই নয় কি? (হ্যাঁ।) অর্থাৎ, শয়তান প্রথমে মানুষকে কলুষিত করতে জ্ঞানের ব্যবহার করে আর তাদেরকে জ্ঞান প্রদান করতে ব্যবহার করে তার নিজ শয়তানি পদ্ধতি। তারপর সে মানুষকে ভ্রষ্ট করতে বিজ্ঞান ব্যবহার ক’রে, জ্ঞান, বিজ্ঞান, রহস্যময় বিষয়গুলি কিংবা যা নিয়ে মানুষ অনুসন্ধান করতে চায় সেই বিষয়গুলিতে তাদের আগ্রহ জাগিয়ে তোলে। এরপর শয়তান মানুষকে কলুষিত করতে ব্যবহার করে প্রথাগত সংস্কৃতি ও কুসংস্কার, আর তারপর সামাজিক প্রবণতা। দৈনন্দিন জীবনে মানুষ এসবেরই সম্মুখীন হয়ে থাকে, আর এসবের অস্তিত্বই হল মানুষের হাতের নাগালের মধ্যেই; তারা যা কিছু দেখে, যা কিছু শোনে, স্পর্শ করে আর অনুভব করে সেসবের সঙ্গে এগুলি সংযুক্ত। একথা বলা যেতেই পারে যে প্রতিটি মানুষই এইসকল জিনিস দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়ে জীবন যাপন করে, তারা চাইলেও এগুলি থেকে তারা পলায়ন করতে বা এগুলির হাত থেকে মুক্তি পেতে পারে না। এই জিনিসগুলির সম্মুখে, মানুষ অসহায়, আর এগুলির দ্বারা প্রভাবিত হওয়া, সংক্রমিত হওয়া, নিয়ন্ত্রিত ও আবদ্ধ হওয়া ছাড়া তাদের আর কিছুই করার থাকে না; এগুলি থেকে নিজেদের মুক্ত করার ক্ষমতা মানুষের নেই।

ⅰ. মানুষকে ভ্রষ্ট করতে শয়তান কীভাবে জ্ঞানের ব্যবহার করে

প্রথমে আমরা জ্ঞান বিষয়ে আলোচনা করব। জ্ঞান কি এমন কিছু যাকে সকলেই ইতিবাচক বলে মনে করে? অন্ততপক্ষে, মানুষ মনে করে যে “জ্ঞান” শব্দের নিহিত অর্থ নেতিবাচক নয়, বরং ইতিবাচক। তাহলে এখানে আমরা কেন উল্লেখ করছি যে শয়তান মানুষকে ভ্রষ্ট করতে জ্ঞানের ব্যবহার করে? বিবর্তনবা কি জ্ঞানের একটি দিক নয়? নিউটনের বৈজ্ঞানিক সূত্রগুলি কি জ্ঞানের অংশ নয়? পৃথিবীর মহাকর্ষীয় টানও তো জ্ঞানেরই একটা অংশ, তাই না? (হ্যাঁ।) তাহলে শয়তানের মানবজাতিকে ভ্রষ্ট করার জন্য ব্যবহার করা জিনিসগুলির মধ্যে জ্ঞানকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে? এ বিষয়ে তোমাদের দৃষ্টিভঙ্গি কী? জ্ঞানের মধ্যে কি লেশমাত্র সত্যতাও আছে? (না।) তাহলে জ্ঞানের সারসত্য কী? মানুষ যাকিছু জ্ঞান আহরণ করে তা কিসের ভিত্তিতে অর্জিত হয়? তা কি বিবর্তনবাদের উপর ভিত্তি করে? বিশদ অনুসন্ধান ও সারসঙ্কলনের মাধ্যমে মানুষ যে জ্ঞান অর্জন করেছে তা কি নাস্তিকতার উপর প্রতিষ্ঠিত নয়? এই সকল জ্ঞানের কোনটির কি ঈশ্বরের সাথে কোনো সংযোগ আছে? এটি কি ঈশ্বরের উপাসনার সাথে যুক্ত? এটি কি সত্যের সাথে যুক্ত? (না।) তাহলে মানুষকে ভ্রষ্ট করতে শয়তান কীভাবে জ্ঞানের ব্যবহার করে? আমি একটু আগেই বলেছি যে এই জ্ঞানের কোনটিই ঈশ্বরের উপাসনার সাথে বা সত্যের সাথে যুক্ত নয়। কিছু কিছু মানুষ এই বিষয়ে এরকমভাবে: “সত্যের সাথে জ্ঞানের কোনো সম্পর্ক নাও থাকতে পারে, কিন্তু তবুও, এটি মানুষকে ভ্রষ্ট করে না।” এ বিষয়ে তোমাদের দৃষ্টিভঙ্গি কী? জ্ঞানের মাধ্যমে তোমাকে কি এই শেখানো হয়েছিল যে একজন ব্যক্তির সুখ তার নিজের দুই হাতে গড়ে নিতে হবে? জ্ঞান কি তোমাকে শিখিয়েছে যে মানুষের ভাগ্য তার নিজের আয়ত্তাধীন? (হ্যাঁ।) এ কী ধরনের কথা? (এ হল শয়তানসুলভ কথা।) একেবারে ঠিক! এ হল শয়তানোচিত কথা! আলোচ্য বিষয় হিসাবে জ্ঞান একটি জটিল প্রসঙ্গ। সহজভাবে বলা যায় যে জ্ঞানের ক্ষেত্রটি নিছক জ্ঞান ছাড়া আর কিছুই নয়। এটি প্রজ্ঞার এমন একটি ক্ষেত্র যা ঈশ্বরের উপাসনা না করার এবং ঈশ্বর যে সমস্ত কিছু সৃষ্টি করেছেন তা উপলব্ধি না করার ভিত্তিতে শেখা হয়। মানুষ যখন এই ধরনের জ্ঞান অধ্যয়ন করে, তখন তারা দেখতে পায় না যে সমস্ত কিছুর উপর ঈশ্বরের সার্বভৌমত্ব রয়েছে; তারা ঈশ্বরকে সব কিছুর ভারপ্রাপ্ত হিসাবে বা সব কিছু পরিচালনা করতে দেখে না। বরং, তারা অবিরাম কেবল জ্ঞানের সেই ক্ষেত্রটির গবেষণা এবং অন্বেষণ করে চলে এবং জ্ঞানের উপর ভিত্তি করেই উত্তর সন্ধান করে। কিন্তু, এটা কি সত্য নয় যে মানুষ যদি ঈশ্বরে বিশ্বাস না করে এবং তার বদলে শুধুমাত্র গবেষণা নিরত থাকে, তবে তারা কখনই প্রকৃত উত্তর খুঁজে পাবে না? জ্ঞান তোমাকে শুধুমাত্র একটি জীবিকা, চাকুরি, উপার্জন দিতে পারে যাতে তুমি ক্ষুধার্ত না থাকো; কিন্তু এটি তোমাকে কখনই ঈশ্বরের উপাসনা করাবে না এবং তোমাকে কখনও মন্দ থেকে দূরে রাখবে না। মানুষ যত বেশি জ্ঞান অধ্যয়ন করবে, তত বেশি তারা ঈশ্বরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে, ঈশ্বরকে তাদের অধ্যয়নের বিষয় করে তুলতে, ঈশ্বরকে প্রলুব্ধ করতে এবং ঈশ্বরকে প্রতিরোধ করতে চাইবে। তাহলে এখন জ্ঞান মানুষকে কী শিক্ষা দিচ্ছে বলে আমরা লক্ষ্য করছি? এসবই হল শয়তানের দর্শন। ভ্রষ্ট মানুষের মধ্যে শয়তান দ্বারা প্রচারিত জীবনধারণের দর্শন ও নিয়মগুলির কি সত্যের সঙ্গে কোনোরকম সম্পর্ক আছে? এগুলির সত্যের সঙ্গে কোনোই সম্পর্ক নেই, বরং এগুলি সত্যের অপলাপ মাত্র। মানুষই প্রায়শই বলে থাকে, “গতিই হল জীবন”, “মানুষ লৌহসম, ভাত হল ইস্পাতসম, একবেলা না খেলে মানুষ ক্ষুধার্ত বোধ করে”; এগুলি আবার কেমন কথা? এগুলি ভ্রান্ত ধারণা, এগুলি শ্রবণ করলে ঘৃণার উদ্রেক ঘটে। মানুষের তথাকথিত জ্ঞানে, শয়তান তার জীবনদর্শন ও চিন্তাভাবনা বেশ কিছুটা সঞ্চারিত করিয়ে দিয়েছে। আর শয়তানের এরকম করার ফলে, মানুষও তার চিন্তাভাবনা, দর্শন আর দৃষ্টিকোণ গ্রহণ করে নিয়েছে যার ফলে মানুষ ঈশ্বরের অস্তিত্বকে অস্বীকার করে, অস্বীকার করে সমস্তকিছু আর মানুষের ভাগ্যের উপর ঈশ্বরের কর্তৃত্বকেও। তাই মানুষের অধ্যয়ন যতই অগ্রসর হয় আর সে যতই বেশি জ্ঞান অর্জন করে, সে অনুভব করে যে ঈশ্বরের অস্তিত্ব ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে, আর এমনকি ঈশ্বরের অস্ত্বিত্বই সে আর অনুভব নাও করতে পারে। শয়তান মানুষের মধ্যে বিশেষ কিছু চিন্তাভাবনা, দর্শন আর ধারণা এমন ভাবে ঢুকিয়ে দিয়েছে যে, মানুষের মধ্যে শয়তান একবার এই বিষ ছড়িয়ে দিলেই মানুষ কি শয়তান দ্বারা প্রতারিত আর কলুষিত হয়ে পড়ে না? তাহলে মানুষ আজ কীসের অবলম্বন করে জীবনধারণ করে বলে তোমাদের মনে হয়? তারা কি শয়তানের আরোপিত জ্ঞান আর চিন্তাভাবনা অবলম্বন করে জীবনধারণ করে না? আর এই জ্ঞান আর চিন্তাভাবনার মধ্যে লুকিয়ে থাকা জিনিসগুলি—সেগুলি কি শয়তানেরই দর্শন আর বিষ নয়? মানুষ শয়তানের দর্শন আর বিষ অবলম্বন করে জীবন যাপন করে। আর শয়তানের মানুষকে ভ্রষ্ট করার মূলে কী রয়েছে? শয়তান চায় মানুষ ঈশ্বরকে অস্বীকার করুক, তাঁর বিরোধিতা করুক আর ঈশ্বরের বিরুদ্ধে দাঁড়াক, ঠিক যেমনটা সে নিজে করে থাকে; শয়তানের মানুষকে ভ্রষ্ট করার লক্ষ্যই হল এটা, তার সঙ্গে এটা শয়তানের মানুষকে ভ্রষ্ট করার উপায়ও বটে।

আমরা শুরু করব জ্ঞানের সর্বাধিক অগভীর দিকটির আলোচনা করে। ভাষার ব্যাকরণ আর শব্দ কি মানুষকে ভ্রষ্ট করতে সক্ষম? শব্দ কি মানুষকে ভ্রষ্ট করতে পারে? শব্দ মানুষকে ভ্রষ্ট করে না; এগুলি হল কথা বলার জন্য মানুষের ব্যবহৃত সরঞ্জাম বিশেষ আর একই সঙ্গে এগুলি সেই সরঞ্জামও যার দ্বারা মানুষ ঈশ্বরের সঙ্গে যোগাযোগ করে, বলাই বাহুল্য যে বর্তমানে, ঈশ্বরও মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ভাষা ও বাক্য ব্যবহার করেন। এগুলি হল সরঞ্জাম, আর এগুলি প্রয়োজনীয়ও। এক আর এক যোগ করলে হয় দুই, আর দুই আর দুই গুণ করলে হয় চার; এটা কি জ্ঞান নয়? কিন্তু এটি কি তোমাকে ভ্রষ্ট করতে পারে? এটা একটা সাধারণ জ্ঞান—এটি একটি নির্দিষ্ট ধাঁচ—এবং এটি মানুষকে ভ্রষ্ট করতে পারে না। তাহলে কোন ধরণের জ্ঞান মানুষকে ভ্রষ্ট করে? ভ্রষ্টকারী জ্ঞান হল এমন প্রকারের জ্ঞান যা শয়তানের দৃষ্টিভঙ্গি আর চিন্তা-ভাবনার সঙ্গে বিমিশ্রিত। শয়তান এই দৃষ্টিভঙ্গি আর চিন্তাভাবনা জ্ঞানের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে দৃঢ়ভাবে গেঁথে দিতে চায়। উদাহরণস্বরূপ, একটি প্রবন্ধে, লিখিত শব্দগুলির নিজস্ব কোনো অসুবিধা নেই। সমস্যাটা হল প্রবন্ধটি লেখার সময়ে লেখকের দৃষ্টিকোণ আর উদ্দেশ্য নিয়ে, তাদের চিন্তার বিষয়বস্তু নিয়েও। এগুলি হল আত্মার বিষয় আর এগুলি মানুষকে ভ্রষ্ট করতে সক্ষম। উদাহরণস্বরূপ, তুমি যদি টেলিভিশনে কোনো একটি অনুষ্ঠান দেখ, তার মধ্যে কোন ধরণের জিনিসগুলি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিতে পারে? মনোরঞ্জনকারীরা যা বলে, সেই বাক্যগুলি নিজে, কি মানুষকে ভ্রষ্ট করতে সক্ষম? (না।) কোন ধরনের জিনিসগুলি মানুষকে ভ্রষ্ট করতে সক্ষম? সেটা হল অনুষ্ঠানটির মূল চিন্তাভাবনা আর বিষয়বস্তু, যা পরিচালকের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিনিধিত্ব করে। এইসমস্ত দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে বাহিত তথ্য মানুষের মন ও হৃদয়কে প্রভাবিত করতে পারে। তাই নয় কি? এখন তোমরা বুঝে গেছ মানুষকে ভ্রষ্ট করতে শয়তানের জ্ঞানের ব্যবহার নিয়ে আমার আলোচনায় আমি কী বলতে চেয়েছি। তোমরা ভুল বুঝবে না, বুঝবে কি? তাহলে এরপর কোনো একটি উপন্যাস বা নিবন্ধ পড়ার সময় তুমি কি লিখিত বাক্যগুলির মাধ্যমে প্রকাশিত চিন্তাভাবনাগুলি মানুষকে কলুষিত করে নাকি মানবতা প্রতি অবদান রাখে সেটার মূল্যায়ন করতে সক্ষম হবে? (হ্যাঁ, খুব সামান্য হলেও পারবো।) এ হল এমন একটি বিষয় যা ধীরে ধীরে অধ্যয়ন ও অনুভব করতে হয়, এবং এ জিনিসটি খুব সহজেই তৎক্ষণাৎ উপলব্ধি করা যায় না। উদাহরণস্বরূপ, জ্ঞানের কোনো একটি ক্ষেত্র নিয়ে গবেষণা বা অধ্যয়ন করার সময় সেই জ্ঞানের একটা সদর্থক দিক সেই ক্ষেত্রটি সম্পর্কে কিছু সাধারণ জ্ঞান উপলব্ধি করতে তোমাকে সহায়তা করতে পারে, একইসাথে মানুষকে কী এড়িয়ে চলতে হবে তা জানতেও সক্ষম করে তুলতে পারে। যেমন, ধরা যাক “বিদ্যুৎ”—এটি জ্ঞানের একটি ক্ষেত্র, তাই তো? বিদ্যুৎ যে মানুষকে তড়িদাহত আর আহত করতে পারে একথা না জানাটা কি তোমার অজ্ঞানতা হবে না? কিন্তু একবার জ্ঞানের এই ক্ষেত্রটি উপলব্ধি করলে, তুমি বিদ্যুৎবাহী বস্তু স্পর্শ করার ব্যাপারে আর অসতর্ক হবে না, এবং তুমি বিদ্যুৎ কী করে ব্যবহার করতে হয় তাও জানবে। এদু’টিই সদর্থক জিনিস। জ্ঞান কীভাবে মানুষকে ভ্রষ্ট করে সে বিষয়ে আমরা যা আলোচনা করছিলাম তা তোমাদের কাছে এখন স্পষ্ট তো? বিশ্বে বিভিন্ন প্রকারের জ্ঞান অধ্যয়ন করা হয়, এবং তোমাদের নিজেদেরকেই ধীরে ধীরে সেগুলির মধ্যে পার্থক্য করতে হবে।

ⅱ. মানুষকে ভ্রষ্ট করতে শয়তান বিজ্ঞানকে কীভাবে ব্যবহার করে

বিজ্ঞান কী? প্রতিটি মানুষের মনেই কি বিজ্ঞান একটা উচ্চ মর্যাদার আসনে আসীন নয় আর বিজ্ঞানকে কি প্রগাঢ় বলে মনে করা হয় না? বিজ্ঞানের উল্লেখ মাত্রই, মানুষ কি অনুভব করে না: “এ হল সাধারণ মানুষের বোধগম্যতার অধিক; এটি এমন একটি বিষয় যা শুধুমাত্র বৈজ্ঞানিক গবেষক অথবা বিশেষজ্ঞরাই স্পর্শ করতে পারে; আমাদের মত সাধারণ মানুষের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই”? এর কি সাধারণ মানুষের সঙ্গে কোনো সংযোগ আছে? (হ্যাঁ।) শয়তান মানুষকে ভ্রষ্ট করতে কীভাবে বিজ্ঞানের ব্যবহার করে? এখানে আমাদের আলোচনায়, আমরা শুধুমাত্র সেই বিষয়গুলি নিয়েই কথা বলব যাদের সম্মুখীন মানুষ তাদের নিজেদের জীবনে প্রায়শই হয়ে থাকে, আর অন্যান্য জিনিসগুলিকে আমরা উপেক্ষা করব। “জিন” বলে একটি শব্দ আছে। তোমরা কি এ সম্পর্কে জান? তোমরা সকলেই পরিভাষাটি সম্পর্কে অবগত। জিন কি বিজ্ঞান দ্বারা অবিষ্কৃত নয়? জিন বলতে মানুষ ঠিক কী বোঝে? মানুষকে তারা কি এটাই উপলব্ধি করায় না যে শরীর হল এক রহস্যময় জিনিস? মানুষকে যখন এই বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত করানো হয়, তখন সেখানে কি এমন কিছু মানুষ থাকবে না—বিশেষ করে কৌতূহলী কিছু মানুষ—যারা আরও বেশি করে আর আরও বিশদে জানতে চাইবে? এই কৌতূহলী মানুষগুলি তাদের শক্তি সন্নিবদ্ধ করবে এই বিষয়টির উপর আর যখন তাদের অন্য কিছু করার থাকবে না, তারা বইয়ে, ইন্টারনেটে তথ্য ঘাঁটাঘাটি করবে এই বিষয়ে আরও বিশদে জানতে। বিজ্ঞান কী? সহজ কথায় বলতে গেলে, বিজ্ঞান হল সেই সব বিষয়ের চিন্তা ও তত্ত্ব যেগুলির বিষয়ে মানুষ কৌতূহলী, যা অজানা, এবং যা ঈশ্বর তাদের বলেননি; বিজ্ঞান হল সেইসব রহস্যের বিষয়ে চিন্তাভাবনা ও তত্ত্ব যা মানুষ অন্বেষণ করতে চায়। বিজ্ঞানের পরিধি কী? তুমি বলতেই পার যে এটি বেশ বিস্তৃত; যে বিষয়ে তার আগ্রহ আছে মানুষ সেই সমস্ত বিষয়েই গবেষণা এবং অধ্যয়ন করে। বিজ্ঞান জড়িত এইসব বিষয়গুলির বিশদ আর তাদের সূত্রগুলির সম্বন্ধে গবেষণা আর তারপর সম্ভাব্য তত্ত্ব উপস্থাপন করা নিয়ে, যাতে প্রত্যেকে চিন্তা করে যে: “এই বিজ্ঞানীরা সত্যিই অসাধারণ! এরা কত কী জানে, এই জিনিসগুলি উপলব্ধি করার পক্ষে যথেষ্ট বেশি জানে!” বিজ্ঞানীদের জন্য তাদের কতই না প্রশংসা, তাই না? যারা বিজ্ঞানের গবেষণা করে, তারা কী ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে? তারা কি বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের বিষয়ে গবেষণা করতে, তাদের আগ্রহের ক্ষেত্রে রহস্যময় জিনিসগুলির গবেষণা করতে চায় না? এর চূড়ান্ত পরিণতি কী? বিজ্ঞানের কিছু বিষয়ে, মানুষ অনুমানিক ধারণার মাধ্যমে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়, আর অন্যান্য ক্ষেত্রে তারা সিদ্ধান্তে উপনীত হতে নির্ভর করে মানুষের অভিজ্ঞতার উপর। বিজ্ঞানের আরো অন্যান্য কিছু ক্ষেত্রে, মানুষ ঐতিহাসিক ও পটভূমিকাগত পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়। তাই নয় কি? তাহলে বিজ্ঞান মানুষের জন্য ঠিক কী করে? বিজ্ঞান যা করে তা হল মানুষকে ভৌত জগতের বস্তুগুলি দেখতে নিছকই সমর্থ করা এবং মানুষের কৌতূহল মেটানো, কিন্তু এটি মানুষকে সেই আইনগুলি দেখতে সক্ষম করে না যাদের মাধ্যমে ঈশ্বর সমস্তকিছুর উপর ঈশ্বর কর্তৃত্ব করেন। মানুষ বিজ্ঞানের মধ্যে উত্তর খুঁজে পায় বলে প্রতিভাত হয়, কিন্তু সেই উত্তরগুলি বিভ্রান্তিকর এবং শুধুমাত্র সাময়িক তৃপ্তি আনে, এমন এক তৃপ্তি যা মানুষের হৃদয়কে বস্তুগত জগতে সীমাবদ্ধ রাখার অতিরিক্ত কিছু করে না। মানুষ অনুভব করে যে তারা বিজ্ঞানের কাছ থেকে উত্তর পেয়েছে, তাই যে সমস্যাই আসুক না কেন, বিষয়টিকে সপ্রমাণ ও গ্রহণ করতে তারা তাদের বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিগুলিকে ভিত্তি হিসাবে ব্যবহার করে। মানুষের হৃদয় বিজ্ঞানের দ্বারা এতটাই চরিত্রভ্রষ্ট ও কবলিত হয়ে যায় যে মানুষের আর ঈশ্বরকে জানার, ঈশ্বরের উপাসনা করার এবং সমস্ত কিছু যে ঈশ্বর থেকেই আসে আর উত্তরের জন্য মানুষকে যে তাঁর দিকেই তাকাতে হয়—এটা বিশ্বাস করার মতো মানসিকতা থাকে না। তাই নয় কি? কোনো ব্যক্তি যত বেশি বিজ্ঞানে বিশ্বাস করে, তত বেশি সে অযৌক্তিক হয়ে ওঠে, সে বিশ্বাস করে যে সবকিছুর একটি বৈজ্ঞানিক সমাধান আছে, গবেষণা যেকোনো কিছুর সমাধান করতে পারে। তারা ঈশ্বরের অন্বেষণ করে না এবং বিশ্বাস করে না যে তিনি আছেন। অনেক দীর্ঘদিনের ঈশ্বর-বিশ্বাসী আছে যারা কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে কম্পিউটার ঘেঁটে উত্তরের খোঁজ করে; তারা শুধু বিজ্ঞানসম্মত জ্ঞানেই বিশ্বাসী। তারা বিশ্বাস করে না যে ঈশ্বরের বাক্যগুলি সত্য, তারা বিশ্বাস করে না যে ঈশ্বরের বাক্যগুলি মানবজাতির সমস্ত সমস্যার সমাধান করতে পারে, তারা মানবজাতির অগণিত সমস্যাকে সত্যের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে না। যে সমস্যারই সম্মুখীন হোক না কেন, তারা কখনই ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে না বা ঈশ্বরের বাক্যে সত্যের সন্ধান করে মীমাংসার অন্বেষণ করে না। অনেক বিষয়ে তারা বিশ্বাস করতে পছন্দ করবে যে জ্ঞান সমস্যার সমাধান করতে পারে; তাদের কাছে বিজ্ঞান হল চূড়ান্ত উত্তর। এমন মানুষের হৃদয়ে ঈশ্বর সম্পূর্ণরূপে অনুপস্থিত। তারা অবিশ্বাসী, এবং ঈশ্বরে বিশ্বাসের বিষয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ওই সমস্ত বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এবং বিজ্ঞানীদের থেকে ভিন্ন নয়, যারা সর্বদা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করে ঈশ্বরকে পরীক্ষা করার চেষ্টা করছে। উদাহরণস্বরূপ, অনেক ধর্মীয় বিশেষজ্ঞ আছে যারা সেই পাহাড়ে গেছে যেখানে নোহের জাহাজটি থেমেছিল এবং এইভাবে তারা ওই জাহাজের অস্তিত্ব প্রমাণ করেছিল। কিন্তু জাহাজের চেহারায় তারা ঈশ্বরের অস্তিত্ব দেখতে পায় না। তারা শুধু গল্পগাথা ও ইতিহাসে বিশ্বাস করে; এটি তাদের বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং বস্তুজগৎ অধ্যয়নের ফল। তুমি যদি বস্তুগত বিষয় নিয়ে গবেষণা কর, তা অণুজীববিদ্যা, জ্যোতির্বিদ্যা বা ভূগোলই যা-ই হোক না কেন, কখনই তুমি এমন কোনো ফল পাবে না যা নির্ধারণ করে যে ঈশ্বরের অস্তিত্ব রয়েছে বা সমস্ত কিছুর উপর তাঁর সার্বভৌমত্ব রয়েছে। তাহলে বিজ্ঞান মানুষের জন্য কী করে? এটা কি মানুষকে ঈশ্বরের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দেয় না? এটা কি ঈশ্বরকে মানুষের অধ্যয়নের বিষয়বস্তু করে তোলে না? এটা কি মানুষকে ঈশ্বরের অস্তিত্ব এবং সার্বভৌমত্ব সম্পর্কে আরও সন্দিহান করে তুলে এইভাবে ঈশ্বরকে অস্বীকার ও বিশ্বাসঘাতকতা করায় না? এই হল পরিণাম। তাহলে শয়তান যখন মানুষকে কলুষিত করার জন্য বিজ্ঞানকে ব্যবহার করে, তখন শয়তান কোন লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করছে? এটি মানুষকে প্রতারণা করতে এবং তাদের অসাড় করে দেওয়ার জন্য বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্তগুলি ব্যবহার করতে চায় এবং মানুষের হৃদয়ের উপর কব্জা বজায় রাখতে অস্পষ্ট উত্তর ব্যবহার করতে চায় যাতে তারা অন্বেষণ বা ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাস না করে। তাই এই কারণেই আমি বলি যে বিজ্ঞান হল শয়তানের মানুষকে কলুষিত করার একটি উপায়।

ⅲ. মানুষকে ভ্রষ্ট করতে শয়তান কীভাবে প্রথাগত সংস্কৃতির ব্যবহার করে

আমরা কি অনেক কিছুইকেই প্রথাগত সংস্কৃতির অংশ বলে বিবেচনা করি না করি না? (হ্যাঁ করি।) এই “প্রথাগত সংস্কৃতি” বলতে কী বোঝায়? কেউ কেউ বলে এটি পুরুষানুক্রমে বাহিত—এটি এর একটি দিক। শুরু থেকেই, জীবন প্রণালী, আচার, কথন আর নিয়মগুলি পরিবারের, নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী এমনকি সমগ্র মানব জাতির মধ্যেই বাহিত হয়ে এসেছে, আর সেগুলি মানুষের চিন্তা-ভাবনার মধ্যে ধীরে ধীরে সঞ্চারিত ও প্রোথিত হয়ে গিয়েছে। মানুষ সেগুলিকে তাদের জীবনের অপরিহার্য অংশ আর নিয়ম বলে বিবেচনা করে, মনে করে যেন সেগুলি নিজেরাই জীবন। বস্তুত, তারা এই অনুভূতিগুলি কখনই বদলাতে আর বর্জন করতে চায় না, কারণ সেগুলি পুরুষানুক্রমে তাদের কাছে বাহিত হয়ে এসেছে। প্রথাগত সংস্কৃতির আরও কতকগুলি দিক আছে যেগুলি মানুষের অস্থিমজ্জায় গেঁথে গিয়েছে, যেমন কনফুসিয়াস আর মেনসিয়াস থেকে বাহিত জিনিসগুলি এবং চীনা তাওবাদ ও কনফুসিয়াসবাদ দ্বারা মানুষকে যা কিছু শেখানো হয়। তাই নয় কি? প্রথাগত সংস্কৃতির অন্তর্গত বিষয়গুলি কী? এর মধ্যে কি মানুষের উদযাপিত ছুটির দিনগুলি আছে? যেমন ধরা যাক: বসন্ত উৎসব, লন্ঠন উৎসব, সমাধি সম্মার্জন দিবস, ড্রাগন নৌকা উৎসব আর প্রেত উৎসব ও মধ্য-শরৎ উৎসব। কিছু কিছু পরিবার তো বাড়ির বয়োজ্যেষ্ঠরা বিশেষ কোনো এক বয়সে পা দিলে, বা শিশুদের বয়স এক মাস বা একশত দিন হলে সেটিও উদযাপন করে থাকে। এইরকমই আরও কত কি। এইসবই হল প্রথাগত ছুটির দিন। প্রথাগত সংস্কৃতিই কি এই ছুটিগুলির ভিত্তি নয়? প্রথাগত সংস্কৃতির মূলে কী আছে? এর সাথে কি ঈশ্বরের আরাধনার কোনো সম্পর্ক আছে? এর সাথে কি মানুষকে সত্য অনুশীলন করতে বলার কোনো সম্পর্ক আছে? এমন কোনো ছুটির দিন আছে কি যেদিন ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ নিবেদন করা হয়, যেদিন ঈশ্বরের বেদীতে গিয়ে তাঁর শিক্ষা গ্রহণ করা হয়? এমন কোনো ছুটির দিন আছে কি? (না।) এই সমস্ত ছুটির দিনগুলিতে মানুষ কী করে থাকে? আধুনিক যুগে, এগুলিকে পান-ভোজন আর আমোদফূর্তি করার উপলক্ষ্য হিসাবে দেখা হয়। প্রথাগত সংস্কৃতির অন্তর্নিহিত উৎসটি কী? প্রথাগত সংস্কৃতি কার কাছ থেকে এসেছে? এটা এসেছে শয়তানের কাছ থেকে। এই প্রথাগত ছুটির দিনগুলির পশ্চাদপটে, শয়তান মানুষের মধ্যে বিশেষ কিছু কিছু জিনিস ঢুকিয়ে দেয়। এই জিনিসগুলি কী? মানুষ যেন তার পূর্বপুরুষকে স্মরণে রাখে তা নিশ্চিত করা—এটি কি এগুলির মধ্যে একটি? উদাহরণস্বরূপ, সমাধি সম্মার্জন দিবসে, মানুষ সমাধিক্ষেত্রগুলি সাজিয়ে রাখে আর নিজেদের পূর্বপুরুষের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ নিবেদন করে, যাতে তারা তাদের পূর্বপুরুষদের বিস্মৃত না হয়। এছাড়াও, শয়তান নিশ্চিত করে যেন মানুষ দেশভক্ত হয়, যার একটা উদাহরণ হল ড্রাগন নৌকা উৎসব। মধ্য-শরৎ উৎসবে কী হয়? (পারিবারিক পুনর্মিলন।) পারিবারিক পুনর্মিলনের প্রেক্ষাপটটি কী? এর কারণ কী? এ হল আবেগগতভাবে যোগাযোগ ও সংযোগ স্থাপন করা। অবশ্যই, চান্দ্র নববর্ষ দিবস অথবা লন্ঠন উৎসব যাই উদাযাপন করা হোক না কেন,এই উদযাপনগুলির পিছনে থাকা কারণগুলি বর্ণনা করার বহু উপায় আছে। কারণগুলি যেভাবেই বর্ণনা করা হোক না কেন, প্রতিটিই হল মানুষের মধ্যে শয়তানের নিজ দর্শন ও চিন্তা প্রবেশ করিয়ে দেওয়া, যাতে তারা ঈশ্বরের কাছ থেকে পথবিচ্যুত হয় আর জানেই না যে ঈশ্বর আছেন, এবং নিজেদের পূর্বপুরুষ বা শয়তানকে উৎসর্গ নিবেদন করে, অথবা দৈহিক কামনা-বাসনা পূরণ করতে পান-ভোজন ও আনন্দে মগ্ন হয়। এই প্রতিটি ছুটির দিন উদযাপিত হওয়ার সাথে সাথে, মানুষের অজান্তেই তাদের মনের গভীরে শয়তানের চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গি গেঁথে যায়। মানুষ যখন চল্লিশ, পঞ্চাশের কোঠায় বা আরও বেশি বয়সে পৌঁছায়, তখন তাদের হৃদয়ের গভীরে শয়তানের চিন্তাভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গি ইতিমধ্যেই প্রোথিত হয়ে গেছে। উপরন্তু, মানুষ আপ্রাণ চেষ্টা করে ঠিক-ভুল নির্বিশেষে যথেচ্ছভাবে এবং কোনো মানসিক সংবরণ ছাড়াই এই ধারণাগুলিকে পরবর্তী প্রজন্মে চালিত করার। তাই নয় কি? (হ্যাঁ।) প্রথাগত সংস্কৃতি আর এই ছুটির দিনগুলি মানুষকে কীভাবে ভ্রষ্ট করে? তোমরা জান কি? (মানুষ এইসব প্রথার নিয়মাবলীর দ্বারা অবরুদ্ধ ও আবদ্ধ হয়ে পড়ে, এমনভাবে যে তাদের আর ঈশ্বরের অন্বেষণের জন্য সময় বা শক্তি থাকে না।) এ হল একটি দিক। যেমন, প্রত্যেকেই চান্দ্র নববর্ষ উদযাপন করে থাকে—তুমি যদি উদযাপন না করে থাক, তাহলে কি বিষন্ন বোধ করবে না? তুমি কি নিজের অন্তরে কিছু কুসংস্কার পোষণ কর? তুমি হয়ত বা অনুভব করে থাকবে যে, “আমি নববর্ষ উদযাপন করিনি, আর চান্দ্র নববর্ষ দিবসটাও ভালো যায়নি, তাই বছরের বাকি পুরো সময়টাই খারাপ যাবে না তো?” তুমি কি অস্বস্তি ও সামান্য শঙ্কিত বোধ করবে না? এমন কিছু মানুষও আছে যারা বেশ কয়েক বছর নিজেদের পূর্বপুরুষের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ নিবেদন করেনি এবং অকস্মাৎই তারা স্বপ্নে দেখল যে কোনো এক মৃত ব্যক্তি তাদের কাছে অর্থ চাইছে। তারা কেমন বোধ করবে? “যে মানুষটা চলে গিয়েছে তার ব্যয় করার জন্য অর্থের প্রয়োজন—এটা কতটাই না দুঃখজনক! আমি তাদের জন্য কিছু কাগজের টাকা আহুতি দেব। তা না করাটা উচিৎ কাজ হবে না। এর জন্য হয়ত আমরা যারা জীবিত তাদের কোনো সমস্যায় পড়তে হতে পারে–কে বলতে পারে কখন দুর্ভাগ্য কড়া নাড়বে?” তাদের অন্তরে সর্বদাই এই আতংক আর দুশ্চিন্তার এক টুকরো মেঘ জমে থাকবে। কে তাদের এই দুশ্চিন্তা প্রদান করে? এই দুশ্চিন্তার উৎস হল শয়তান। এ কি শয়তানের মানুষকে ভ্রষ্ট করার উপায়গুলিরই একটি নয়? সে তোমাকে নিয়ন্ত্রণ করতে, হুমকি দিতে এবং তোমাকে আবদ্ধ করার জন্য বিভিন্ন উপায় এবং অজুহাত ব্যবহার করে, যাতে তুমি হতবুদ্ধি হয়ে তার কাছে নিজেকে সমর্পণ কর; এইভাবেই শয়তান মানুষকে ভ্রষ্ট করে। প্রায়শই যখন মানুষ দুর্বল থাকে অথবা যখন তারা পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্পূর্ণরূপে অবগত না থাকে, তারা অনববধানতাবশত বিভ্রান্ত হয়ে কিছু করে ফেলতে পারে; অর্থাৎ, তারা অনবধানবশত শয়তানের কবলে পড়ে এবং অনবহিতভাবে কাজ করতে পারে, নিজেদের অজান্তেই অনেক কিছু করে বসতে পারে। এইভাবে শয়তান মানুষকে কলুষিত করে। এখনও এরকম কিছু মানুষ আছে যারা বদ্ধমূল প্রথাগত সংস্কৃতিকে ত্যাগ করতে অনিচ্ছুক, যারা কোনোমতেই তা পরিত্যাগ করতে পারে না। বিশেষ করে যখন তারা দুর্বল আর নিষ্ক্রিয় তখনই তারা এই ধরনের ছুটির দিনগুলি উদযাপন করতে চায় আর চায় শয়তানের সাক্ষাৎ পেতে আর আবারও শয়তানকে সন্তুষ্ট করতে, নিজেদের হৃদয়কে স্বস্তি দিতে। প্রথাগত সংস্কৃতির প্রেক্ষাপট কী? এর পিছনে কি শয়তানের কালো হাত দড়ি ধরে টানছে? শয়তানের মন্দ প্রকৃতি কি নিপুনভাবে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করছে? এইসবের উপর কি শয়তানের প্রভাব রয়েছে? (হ্যাঁ।) মানুষ যখন একটি প্রথাগত সংস্কৃতির মধ্যে বাস করে আর এই ধরনের প্রথাগত ছুটির দিন উদযাপন করে, আমরা কি বলতে পারি যে এটি হল এমন একটি পরিবেশ যেখানে শয়তান তাদের বোকা বানাচ্ছে আর কলুষিত করছে, উপরন্তু তারাও শয়তানের কাছে বোকা বনতে আর কলুষিত হয়ে খুশী হয়? (হ্যাঁ।) এ হল এমন বিষয় যা তোমরা স্বীকার কর, যার সম্পর্কে তোমরা জান।

ⅳ. মানুষকে ভ্রষ্ট করতে শয়তান কীভাবে কুসংস্কারকে ব্যবহার করে

তোমরা “কুসংস্কার” পরিভাষাটির সঙ্গে পরিচিত, তাই তো? কুসংস্কার আর প্রথাগত সংস্কৃতির মধ্যে কিছু সংযোগ আছে, তবে আজ আমরা সেগুলি নিয়ে কথা বলব না। বরং, আমরা কুসংস্কারের সবচেয়ে প্রচলিত রূপগুলি নিয়ে আলোচনা করব: ভবিষ্যৎ কথন, অদৃষ্জ্ঞাপন, ধূপ জ্বালানো এবং বুদ্ধের উপাসনা করা। কিছু কিছু মানুষ ভবিষ্যৎ কথনের অনুশীলন করে, কেউ বুদ্ধের উপাসনা করে ধূপ জ্বালায়, কেউ বা আবার অন্যদের দিয়ে নিজেদের ললাট-লিখন অথবা মুখমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য পড়িয়ে সেইভাবে ভাগ্য বলিয়ে নেয়। তোমাদের মধ্যে কতজন নিজেদের ভাগ্য বলিয়ে নিয়েছ বা মুখমণ্ডল পাঠ করিয়ে নিয়েছ? এই জিনিসগুলিতেই অধিকাংশ মানুষের আগ্রহ, তাই না? (হ্যাঁ।) কেন? ভাগ্য-বলে দেওয়া আর ভবিষ্যৎ কথনে মানুষের কী উপকার হয়? এগুলি থেকে তারা কী ধরনের সন্তুষ্টি লাভ করে? (কৌতূহল।) শুধুই কি কৌতূহল? শুধু কৌতূহলই হতে হবে এমন তো আমার মনে হয় না। ভবিষ্যৎ কথন আর ভাগ্যের লিখন পাঠ করাবার লক্ষ্য কী? এটা কেন করা হয়? ভবিষ্যৎ দেখার জন্যই নয় কি? কেউ কেউ ভবিষ্যৎ অনুমান করার জন্য নিজেদের মুখমণ্ডল পড়িয়ে নেয়, অন্যান্যরা তা করায়তাদের ভাগ্য ভালো যাবে কিনা তা জানতে। কেউ কেউ এমনটা করে তাদের বিবাহ কেমন হবে তা জানতে, আর আরো অন্যেরা এটা করে আসন্ন বছর কী কী সৌভাগ্য বহন করে আনবে তা জানতে। কিছু কিছু মানুষ তাদের এবং তাদের পুত্র-কন্যাদের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা কী হবে তা দেখার জন্য তাদের মুখমণ্ডল পাঠ করিয়ে থাকে, আর কিছু কিছু ব্যবসায়িক মানুষ কত অর্থ উপার্জন করবে তা দেখার জন্য এটি করে, তাদের কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত সে সম্পর্কে তারা মুখমণ্ডল-পাঠকারীর দিকনির্দেশনা জানতে চায়। তাহলে, এটা কি শুধুই কৌতূহল মেটাতে করা হয়? যখন মানুষ নিজেদের মুখমণ্ডল পাঠ করায় বা এইধরনের জিনিসগুলি করে, তারা তা করে নিজস্ব ভবিষ্যৎ সুবিধার জন্যই; তারা বিশ্বাস করে যে এই সবকিছুই তাদের নিজেদের অদৃষ্টের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত। এগুলির কোনোটিই কি দরকারী? (না।) কেন এটা দরকারী নয়? এই জিনিসগুলির মধ্য দিয়ে মানুষের কিছু জ্ঞান অর্জন করাটা কি ভালো নয়? এই অনুশীলনগুলি তোমাদের কখন বিপদ কড়া নাড়তে পারে সেই বিষয়ে জানতে সাহায্য করতে পারে, আর তুমি যদি আগে থেকেই এই বিপদগুলি সম্পর্কে জানতে পার, তাহলে কি তুমি সেগুলি এড়িয়ে যেতে পারবে না? যদি তোমার ভাগ্য বলে দেওয়া হয়, তাহলে তো তা তোমায় গোলোকধাঁধার মধ্যে থেকে কী করে পথ খুঁজে বের হতে হয় তা দেখিয়ে দিতে পারে, যাতে তুমি আসন্ন বছরে সৌভাগ্য উপভোগ করতে পার আর তোমার ব্যবসায়ের মধ্য দিয়ে অঢেল সম্পদ লাভ করতে পার। তাহলে, এটা কি দরকারী, নাকি নয়? এটা দরকারী কিনা তাঁর সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই, আর আমাদের আজকের আলোচনাতেও এই বিষয়টি সংযুক্ত হবে না। শয়তান মানুষকে ভ্রষ্ট করতে কীভাবে কুসংস্কার ব্যবহার করে? সকল মানুষই তাদের অদৃষ্ট জানতে চায়, তাই শয়তান তাদের কৌতূহলের সুযোগ নেয় তাদের প্রলুব্ধ করতে। মানুষ ভবিষ্যৎ কথন, ভাগ্য বলে দেওয়া, আর মুখমণ্ডল পাঠ করার দ্বারস্থ হয় ভবিষ্যতে তাদের সঙ্গে কী ঘটবে এবং তাদের সম্মুখে কী ধরনের পথ রয়েছে তা জানতে। কিন্তু পরিশেষে, মানুষ যে অদৃষ্ট আর সম্ভাবনাসমূহ নিয়ে এতটা উদ্বিগ্ন তা কার হাতে ন্যস্ত? (ঈশ্বরের হাতে।) এইসমস্ত কিছুই রয়েছে ঈশ্বরের হাতে। এই পদ্ধতিগুলি ব্যবহার করে, শয়তান মানুষকে কী জানাতে চায়? শয়তান এই মুখমণ্ডল-পাঠ আর ভাগ্যগণনা ব্যবহার করে মানুষকে এটা বলতে যে সে তাদের ভবিষ্যৎ ভাগ্য সম্পর্কে অবগত, এবং সে যে শুধু সেসব জানে তাই-ই নয়, বরং সে সেগুলি নিয়ন্ত্রণও করে। শয়তান এই সুযোগের ব্যবহার করতে চায় এবং এই পদ্ধতিগুলি মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যবহার করে, যাতে মানুষ তার উপরে অন্ধভাবে বিশ্বাস করে আর তার প্রতিটি বাক্য মান্য করে। উদাহরণস্বরূপ, যদি তুমি নিজের মুখমণ্ডল পাঠ করাও, যদি গণৎকার চোখ বন্ধ ক’রে তোমাকে শেষ কয়েক দশক ধরে তোমার সঙ্গে যা যা ঘটেছে সব যথাযথভাবে বলে দেয়, তুমি ভিতরে ভিতরে কেমন বোধ করবে? তুমি সাথে সাথেই বোধ করবে, “লোকটা কী অসম্ভব যথাযথ কথা বলে! আমি এর আগে আমার অতীত সম্পর্কে কাউকে কিছু বলিনি, এ এসব কী করে জানল? আমি এই গণৎকারকে সত্যি ভীষণ তারিফ করি!” শয়তানের কাছে, তোমার অতীত সম্পর্কে অবগত হওয়াটা কি অত্যন্ত সহজ ব্যাপার নয়? তুমি আজ যেখানে আছ, সেখানে ঈশ্বর তোমাকে পরিচালিত করে নিয়ে এসেছেন, আর শয়তান সর্বক্ষণ মানুষকে ভ্রষ্ট আর তোমাকে অনুসরণ করে চলেছে। তোমার জীবনের কয়েকটা দশকের অতিক্রান্তি শয়তানের কাছে কিছুই নয় আর সেইসমস্ত কিছু জানাটাও তাঁর পক্ষে কঠিন নয়। যখন তুমি জানতে পার যে শয়তানের বলা সবকিছুই যথাযথ, তখন কি তুমি তাকে তোমার হৃদয় দিয়ে বসবে না? তুমি কি তার উপর নির্ভর করছ না যাতে সে তোমার ভবিষ্যত এবং ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারে? এক লহমার মধ্যে, তুমি তোমার অন্তরে তার প্রতি কিছুটা শ্রদ্ধা ও সম্মান অনুভব করবে, আর কিছু মানুষের ক্ষেত্রে, এই মুহূর্তে হয়ত তাদের অন্তরাত্মা ইতিমধ্যেই সে ছিনিয়ে নিয়েছে। এবং তুমি অবিলম্বে গণৎকারকে জিজ্ঞাসা করবে: “এরপর আমার কী করা উচিৎ? আগামী বছরে আমাকে কী এড়িয়ে চলতে হবে? কী কী জিনিস আমার করা উচিৎ নয়?” আর তখন সে বলবে, “তোমার ওখানে যাওয়া উচিৎ নয়, তোমার এটা করা উচিৎ নয়, বিশেষ কোনো এক রঙের পোশাক পরিধান করো না, নির্দিষ্ট কয়েকটি জায়গায় তোমার কম যাওয়া উচিৎ, নির্দিষ্ট কিছু জিনিস বেশি করে কর…।” সে যা বলে তুমি কি সেই সবকিছুকে অবিলম্বে নিজের অন্তরে স্থান দেবে না? তুমি তার বাক্যগুলি ঈশ্বরের বাক্যের চেয়ে বেশি দ্রুত মুখস্থ করে ফেলবে। তুমি সেগুলি কেন এত দ্রুত মুখস্থ করে ফেলবে? কারণ তুমি সৌভাগ্যের জন্য শয়তানের উপর নির্ভর করতে চইবে। ঠিক এই সময়েই কি সে তোমার হৃদয় দখল করে ফেলে না? যখন তার ভবিষ্যদ্বাণী একটার পর একটা ফলে যায়, তখন কি তুমি আগামী বছর আবার কী সৌভাগ্য বহন করে আনতে চলেছে তা জানতে ঠিক তাঁর কাছেই ফিরে যেতে চাইবে না? (হ্যাঁ।) শয়তান তোমাকে যাই করতে বলবে তুমি ঠিক তাই করবে আর সে যা যা তোমাকে এড়িয়ে চলতে বলবে তুমি সেগুলি এড়িয়ে চলবে। এইভাবে, তুমি কি সে যা কিছু বলছে তাই মান্য করছ না? খুব দ্রুতই তুমি তার ফাঁদে আটকা পড়ে যাবে, প্রতারিত হবে, আর তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন হয়ে পড়বে। এটা যে হয় তার কারণ তুমি বিশ্বাস কর যে সে যা বলে সেটাই সত্য আর তোমার বিশ্বাস যে সে তোমার অতীত জীবন, তোমার এখনকার জীবন, এবং ভবিষ্যতে কী ঘটবে সবই জানে। শয়তান মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করতে এই পদ্ধতিরই ব্যবহার করে। কিন্তু বাস্তবে, প্রকৃতপক্ষে কে নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন? নিয়ন্ত্রণ করেন স্বয়ং ঈশ্বর, শয়তান নয়। এক্ষেত্রে শয়তান শুধুমাত্র তার চতুর অভিসন্ধিগুলি ব্যবহার করছে অজ্ঞানতাপূর্ণ মানুষকে ধোঁকা দিতে, সেই সমস্ত মানুষকে বোকা বানাতে যারা শুধুই জাগতিক পৃথিবীকে দেখতে পায়, তাকে বিশ্বাস করতে আর তার উপরেই নির্ভর করতে। তারপর তারা শয়তানের কবলে পড়ে আর তার প্রতিটি বাক্য মান্য করে। কিন্তু মানুষ যখন ঈশ্বরকে বিশ্বাস আর অনুসরণ করতে চায় তখন কি শয়তান তার মুষ্ঠি আলগা করে? শয়তান তা করে না। এই পরিস্থিতিতে মানুষ কি সত্যিই শয়তানের কবলে পড়ছে? (হ্যাঁ।) আমরা কি বলতে পারি যে এক্ষেত্রে শয়তানের আচরণ নির্লজ্জ? (হ্যাঁ।) আমরা কেন তা বলব? কারণ এগুলি হল প্রতারণা আর ছলনাপূর্ণ কৌশল। শয়তান নির্লজ্জ আর সে মানুষকে এরকম চিন্তা করতে বিভ্রান্ত করে যে তাদের সমস্তকিছুই সে নিয়ন্ত্রণ করে আর তাদের ভাগ্যও সে-ই নিয়ন্ত্রণ করে। এর ফলে অজ্ঞানতাপূর্ণ মানুষ তাকে সম্পূর্ণরূপে মান্য করে চলে। কয়েকটি মাত্র বাক্যেই তারা ধোঁকা খেয়ে যায়। হতবুদ্ধি অবস্থায় মানুষ তাঁর সামনে মাথা নত করে। তাহলে, শয়তান কী ধরণের পদ্ধতি ব্যবহার করে, সে এমন কী বলে যার জন্য তুমি তাকে বিশ্বাস করে ফেল? উদাহরণস্বরূপ, তুমি হয়তো শয়তানকে বলোনি যে তোমার পরিবারে কতজন মানুষ আছে, কিন্তু সে হয়তো তারপরেও কতজন মানুষ আছে আর তোমার পিতা-মাতা ও সন্তানদের কার কত বয়স তা বলে দিতে সক্ষম হবে। যদিও বা এর পূর্বে শয়তান সম্পর্কে তোমার মনে হয়তো সন্দেহ ও সংশয় ছিল, কিন্তু তার মুখে এইসব শ্রবণ করার পর কি তুমি কি তাকে আরও একটু বেশি বিশ্বাসযোগ্য বলে বোধ করবে না? তারপর শয়তান হয়ত বলতে পারে যে সম্প্রতি তোমার কাজ কতটা কঠিন ছিল, যে তোমার ঊর্ধ্বতনরা তোমাকে তোমার প্রাপ্য স্বীকৃতি দেয় না এবং তারা সর্বদাই তোমার বিরুদ্ধে কাজ করছে, ইত্যাদি। এসব শ্রবণ করার পর, তুমি ভাববে, “একদম ঠিক! কর্মক্ষেত্রে পরিস্থিতি খুব একটা মসৃণভাবে চলছে না।” তাই শয়তানকে তুমি আরও একটু বেশি বিশ্বাস করবে। তারপর সে তোমাকে প্রতারিত করতে আরও কিছু বলবে, তুমি তাতে আরও বেশি বিশ্বাস করবে। একটু একটু করে দেখবে যে তুমি আর তাকে প্রতিরোধ করতে বা তার সম্পর্কে সংশয়াপন্ন থাকতে অক্ষম। শয়তান নিছকই তুচ্ছ, নিতান্ত মামুলি কয়েকটি ছলনার আশ্রয় নেয়, আর এইভাবে সে তোমাকে বিভ্রান্ত করে। বিভ্রান্ত হয়ে পড়লেই, তুমি নিজ মানসিক অবস্থান প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে না, কী করতে হবে ভেবে তুমি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়বে, আর তুমি শয়তান যা বলবে তাই অনুসরণ করতে শুরু করবে। এই হল সেই “চমৎকার” পদ্ধতি যা শয়তান মানুষকে ভ্রষ্ট করতে ব্যবহার করে, যার ফলে তুমি অজান্তেই তাঁর ফাঁদে পা দিয়ে ফেল এবং তাঁর দ্বারা মোহাবিষ্ট হয়ে পড়। শয়তান তোমাকে এমন কিছু কথা বলে মানুষ যাকে ভালো বলে কল্পনা করে, আর তারপর সে তোমাকে কী করতে হবে আর কী এড়িয়ে চলতে হবে তা বলে দেয়। ঠিক এইভাবেই তুমি অজান্তেই প্রতারিত হও। একবার তুমি তার ফাঁদে পড়লেই, পরিস্থিতি তোমার পক্ষে যন্ত্রণাদায়ক হয়ে উঠবে; শয়তান তোমাকে কী বলেছিল আর সে তোমাকে কী করতে বলেছিল সেই বিষয়ে তুমি অনবরত ভেবে চলবে, আর নিজের অজান্তেই তুমি তাঁর দ্বারা অধিকৃত হয়ে পড়বে। এটা কেন হয়? এর কারণ হল মানবজাতির মধ্যে সত্যের অভাব রয়েছে আর তাই তারা অবিচল থাকতে এবং শয়তানের মোহাবেশ আর প্রলোভন প্রতিরোধেও অক্ষম। শয়তানের মন্দ রূপ এবং তার শঠতা, বিশ্বাসঘাতকতা এবং বিদ্বেষের সম্মুখীন এই মানবজাতি সত্যিই অজ্ঞ, অপরিণত এবং দুর্বল, তাই নয় কি? শয়তানের মানুষকে ভ্রষ্ট করার এটি একটি অন্যতম উপায় নয় কি? (হ্যাঁ।) মানুষ শয়তানের বিভিন্ন পদ্ধতিতে একটু একটু করে নিজেদের অজান্তেই প্রতারিত ও ছলনার শিকার হয়, কারণ ইতিবাচক এবং নেতিবাচকের মধ্যে ফারাক করার ক্ষমতা তাদের নেই। তাদের এই আত্মিক উচ্চতা, এবং শয়তানের বিরুদ্ধে বিজয়লাভের ক্ষমতা নেই।

ⅴ. মানুষকে ভ্রষ্ট করতে শয়তান সামাজিক প্রবণতাগুলিকে কীভাবে ব্যবহার করে

সামাজিক প্রবণতাগুলির উদ্ভব কখন হয়েছিল? এগুলি কি সবেমাত্র বর্তমান সময়েই উদ্ভূত হয়েছে? কেউ বলতেই পারে যে শয়তান মানুষকে ভ্রষ্ট করতে শুরু করার সময় থেকেই সামাজিক প্রবণতাগুলির সৃষ্টি হয়েছিল। সামাজিক প্রবণতাগুলির মধ্যে কী কী অন্তর্ভূক্ত রয়েছে? (পোশাক-আশাক আর রূপসজ্জার শৈলী।) মানুষ বেশি করে এগুলির সংস্পর্শেই আসে। পোশাক-আশাকের শৈলী, চল আর প্রবণতা—এগুলি এর একটা ক্ষুদ্র অংশ গঠন করে। এছাড়াও আর কি কিছু আছে? মানুষের প্রায়শই বলা জনপ্রিয় প্রবাদগুলিকেও কি এর মধ্যে ধরা হয়? মানুষ যে ধরনের জীবনশৈলী কামনা করে সে-সবও কি ধরা হয়? সঙ্গীততারকা, খ্যাতনামা ব্যক্তি, পত্রিকা, ও মানুষের পছন্দের উপন্যাসগুলিও কি এর মধ্যে পড়ে? (হ্যাঁ।) সামাজিক প্রবণতাগুলির কোন দিকটি মানুষকে ভ্রষ্ট করতে সক্ষম বলে তোমাদের মনে হয়? এই প্রবণতাগুলির কোনটি তোমাদের কাছে সর্বাধিক প্রলুব্ধকর? কেউ কেউ বলে: “আমরা সকলেই নির্দিষ্ট একটি বয়সে পৌঁছেছি, আমরা আমাদের পঞ্চাশের, বা ষাটের কোঠায়, বা সত্তর-আশির কোঠায়, আর আমরা আর এই প্রবণতাগুলির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারি না আর এগুলি আর আমাদের মন কাড়ে না।” এটা কি সঠিক? অন্যান্যরা বলে: “আমরা বিখ্যাত মানুষদের অনুসরণ করি না, এগুলি করে থাকে বিশের কোঠায় থাকা তরুণরা; আমরা কেতাদুরস্ত পোশাকও পরি না, সেসব পরে ভাবমূর্তি-সচেতন মানুষেরা।” তাহলে এগুলির কোনটি তোমাদের ভ্রষ্ট করতে সক্ষম? (জনপ্রিয় বক্তব্য।) এই কথাগুলি কি মানুষকে ভ্রষ্ট করতে পারে? আমি একটা উদাহরণ দেব, আর তোমরা বুঝতে পারবে যে এটা মানুষকে ভ্রষ্ট করে কিনা: “দুনিয়া টাকায় চলে”; এটা কি একটা প্রবণতা? তোমাদের উল্লেখ করা কেতাদুরস্ত চল আর পানভোজনবিলাসী প্রবণতাগুলির তুলনায়, এটা কি আরও খারাপ নয়? “দুনিয়া টাকায় চলে”—এই হল শয়তানের একটি দর্শন। এটি সমগ্র মানবজাতির মধ্যে, প্রতিটি মানব সমাজে প্রচলিত; তুমি বলতে পার যে এটি হল একটি ধারা। কারণ প্রতিটি ব্যক্তির হৃদয়েই এটি বপন করা হয়েছে যারা প্রথমে কথাটি গ্রহণ করেনি, কিন্তু তারপরে বাস্তব জীবনের সংস্পর্শে এসে এটিকে অকথিত গ্রহণযোগ্যতা দিয়েছে এবং অনুভব করতে শুরু করেছে যে এই কথাগুলি বাস্তবেই সত্য। এটা কি শয়তানের মানুষকে কলুষিত করার একটা প্রক্রিয়া নয়? মানুষ সম্ভবত কথাটি একই মাত্রায় উপলব্ধি করে না, তবে তাদের চারপাশে যা ঘটে চলেছে এবং তাদের নিজস্ব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রত্যেকেরই কথাটির ব্যাখ্যা এবং স্বীকৃতির ভিন্ন-ভিন্ন মাত্রা রয়েছে। ব্যাপারটা এমনই নয় কি? কথাটির বিষয়ে যেটুকু অভিজ্ঞতাই থাকুক না কেন, কারো হৃদয়ে এটি কী রকম নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে? তোমরা প্রত্যেকে সুদ্ধ এই পৃথিবীর সকল মানুষের মানবিক স্বভাবের মাধ্যমে কিছু না কিছু প্রকাশিত হয়। সেটা কী? তা হল টাকার আরাধনা। কারো হৃদয় থেকে একে মুছে ফেলা কি কঠিন কাজ? খুবই কঠিন! মনে হয় মানুষের মধ্যে শয়তানের দ্বারা প্রণোদিত কলুষতা সত্যিই গভীর! শয়তান মানুষকে প্রলুব্ধ করার জন্য অর্থ ব্যবহার করে এবং অর্থের উপাসনা ও পার্থিব স্থূলবস্তুর আরাধনা করতে তাদের কলুষিত করে। আর টাকার এই আরাধনা মানুষের মধ্যে কীভাবে প্রকাশ পায়? তোমরা কি মনে কর যে টাকা ছাড়া তোমরা এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে পারবে না, টাকা ছাড়া এমনকি একদিন বেঁচে থাকাও অসম্ভব? মানুষের মর্যাদা ও তাদের সম্ভ্রম উদ্রেগের ক্ষমতা তাদের কত টাকা আছে তার উপর নির্ভর করে। গরীবদের পিঠ লজ্জায় বেঁকে যায়, আর ধনীরা সেখানে তাদের উচ্চ মর্যাদা উপভোগ করে। তারা মাথা উঁচু করে গর্বিত ভাবে দাঁড়িয়ে থাকে, উচ্চগ্রামে কথা বলে এবং উদ্ধতভাবে জীবনযাপন করে। এই প্রবাদ এবং প্রবণতা মানুষের কাছে কী বয়ে আনে? অর্থ উপার্জনের তাড়নায় অনেকেই যে যা-খুশি বিসর্জন দিতে পারে এটা কি সত্য নয়? অনেক মানুষই কি আরও অর্থ উপার্জনের তাড়নায় তাদের মর্যাদা এবং চারিত্রিক সততা হারায় না? অর্থের লোভে অনেকেই কি তাদের দায়িত্ব পালনের এবং ঈশ্বরকে অনুসরণ করার সুযোগ হারায় না? সত্য অর্জনের এবং উদ্ধার হওয়ার সুযোগ হারানো কি মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় ক্ষতি নয়? এই পদ্ধতি এবং এই প্রবাদকে মানুষকে এতটা কলুষিত করার জন্য ব্যবহার করার দরুন শয়তান কি অনিষ্টকর নয়? এটি কি একটি বিদ্বেষপরায়ণ কৌশল নয়? তুমি যখন এই জনপ্রিয় উক্তিটির প্রতি আপত্তি জানানো থেকে অবশেষে এটিকে সত্য হিসাবে গ্রহণ করার দিকে অগ্রসর হও, তখন তোমার হৃদয় সম্পূর্ণরূপে শয়তানের দখলে চলে যায় এবং সেইজন্য তুমি অজান্তেই উক্তিটি মানতে শুরু করো। এই উক্তি তোমাকে কতটা প্রভাবিত করেছে? তুমি হয়ত প্রকৃত পথ জান, এবং তুমি হয়ত সত্যও জান, কিন্তু তুমি তা অনুসরণে অক্ষম। তুমি হয়তো স্পষ্টভাবে জান যে ঈশ্বরের বাক্যই সত্য, কিন্তু তুমি সত্য অর্জনের জন্য মূল্য চুকাতে বা কষ্ট করতে রাজি নও। তার পরিবর্তে, শেষ অবধি ঈশ্বরকে প্রতিরোধ করার জন্য তুমি বরং তোমার নিজের ভবিষ্যৎ এবং ভাগ্যকে উৎসর্গ করবে। ঈশ্বর যা-ই বলুন না কেন, ঈশ্বর যা-ই করুন না কেন, তোমার প্রতি ঈশ্বরের ভালবাসা কতটা গভীর ও কতটা মহান তা তুমি উপলব্ধি কর বা না-কর, তুমি একগুঁয়েভাবে তোমার নিজের পথে চলার জেদ ধরবে এবং এই উক্তির মূল্য চুকাবে। অর্থাৎ, এই প্রবচনটি ইতিমধ্যেই তোমার চিন্তাভাবনাকে প্রতারিত এবং নিয়ন্ত্রণ করেছে, এটি ইতিমধ্যেই তোমার আচরণকে পরিচালিত করেছে, এবং সম্পদের সাধনাকে দূরে ঠেলে রাখার পরিবর্তে তুমি বরং নিজের ভাগ্যকে তার দ্বারা শাসিত হতে দেবে। মানুষ এইভাবে কাজ করতে পারে, তারা শয়তানের বাক্য দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং চালিত হতে পারে—এর অর্থ কি এই নয় যে তারা শয়তান দ্বারা প্রতারিত এবং কলুষিত হয়েছে? শয়তানের দর্শন ও মানসিকতা এবং শয়তানের স্বভাব কি তোমার হৃদয়ে গেঁথে যায়নি? সত্যের সন্ধান ত্যাগ করে তুমি যখন অন্ধভাবে সম্পদের পিছনে ছোটো, তখন শয়তান কি তোমায় বোকা বানানোর লক্ষ্য হাসিল করেনি? ঠিক সেটা-ই ঘটছে। তাহলে তুমি যখন শয়তান দ্বারা প্রতারিত এবং কলুষিত হও তখন তুমি কি তা অনুভব করতে পার? তুমি তা পার না। তুমি যদি ঠিক তোমার সামনে শয়তানকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখতে না পাও বা অনুভব করতে না পারো যে শয়তান আড়ালে কাজ করছে, তুমি কি তাহলে শয়তানের দুষ্টতা দেখতে সক্ষম হবে? তুমি কি জানতে পারবে শয়তান কীভাবে মানবজাতিকে কলুষিত করে? শয়তান মানুষকে সর্বদা এবং সর্বত্র কলুষিত করে। মানুষের পক্ষে এই ভ্রষ্ট আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা শয়তান অসম্ভব করে তোলে এবং এর বিরুদ্ধে মানুষকে অসহায় করে দেয়। যখন তুমি অনবহিত ও তোমার মধ্যে কী ঘটছে সে বিষয়ে অসচেতন, এমন একটা পরিস্থিতিতে শয়তান তোমাকে তার চিন্তাভাবনা, তার দৃষ্টিভঙ্গি এবং তার থেকে আগত খারাপ জিনিসগুলিকে গ্রহণ করতে বাধ্য করায়। কোনোরকম বিক্ষোভ ছাড়াই মানুষ এই জিনিসগুলি গ্রহণ করে। তারা এই জিনিসগুলোকে লালন করে এবং মহার্ঘ সম্পদের মত সেগুলিকে আঁকড়ে ধরে থাকে, তারা নিজেদেরকে এই জিনিসগুলির দ্বারা ব্যবহৃত হতে আর এগুলির হাতের পুতুল হয়ে থাকতে দেয়; এভাবেই মানুষ শয়তানের ক্ষমতার অধীনে বাস করে, এবং অবচেতনভাবে শয়তানের আনুগত্য করে, এবং মানুষের শয়তান-প্রণোদিত ভ্রষ্টতা আরও গভীর হয়।

শয়তান এই বিবিধ পদ্ধতি ব্যবহার ক’রে মানুষকে ভ্রষ্ট করে। কিছু বৈজ্ঞানিক নীতি সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান ও উপলব্ধি আছে, মানুষ জীবন যাপন করে প্রথাগত সংস্কৃতির প্রভাবাধীন হয়ে, এবং প্রতিটি মানুষ প্রথাগত সংস্কৃতির উত্তরাধিকারী ও প্রেরক। মানুষ শয়তানের দ্বারা প্রদত্ত প্রথাগত সংস্কৃতি বহন করে নিয়ে চলতে বাধ্য, এবং শয়তান মানবজাতিকে সামাজিক প্রবণতাগুলি প্রদান করে মানুষ তা মেনে চলে। মানুষ শয়তানের থেকে অবিচ্ছেদ্য, সর্বদা শয়তান যা করে সে তার অনুরূপ কাজ করে, তার মন্দ কর্ম, প্রতারণা, বিদ্বেষ আর ঔদ্ধত্যকে নিজেদের মধ্যে গ্রহণ করে। মানুষ একবার শয়তানের এই স্বভাব আত্মস্থ করে ফেলার পর, এই কলুষিত মানবজাতির মধ্যে বাস করে সে সুখে আছে না দুঃখে? (দুঃখে।) এটা কেন বললে? (কারণ মানুষ এই ভ্রষ্ট জিনিসগুলির দ্বারা আবদ্ধ এবং নিয়ন্ত্রিত হয়, সে পাপের মধ্যে বাস করে আর একটি কঠিন সংগ্রামে নিমগ্ন থাকে।) কেউ কেউ চশমা পরিধান করে, তাদের দেখে খুব বুদ্ধিজীবী বুদ্ধিজীবী মনে হয়; তারা হয়তো বাগ্মিতা আর যুক্তিসহকারে অত্যন্ত শিষ্টভাবে কথা বলে, এবং তারা যেহেতু নানাবিধ জিনিসের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে, তাই তারা হয়তো খুবই অভিজ্ঞ আর পরিমার্জিত। তারা হয়তো বৃহৎ বা ক্ষুদ্র বস্তু সম্পর্কে বিশদে কথা বলতে সক্ষম; তারা হয়তো বা কোনো বিষয়ের সত্যতা ও যুক্তির মূল্যায়ন করতেও সক্ষম। কেউ কেউ এইসব মানুষের আচরণ আর চেহারা এবং একই সাথে তাদের চরিত্র, মানবতা, আচার-ব্যবহার ইত্যাদি দেখে তাতে কোনো ত্রুটি খুঁজে পায় না। এই ধরণের মানুষ বিশেষ করে বর্তমান সামাজিক প্রবণতাগুলির সঙ্গে মানিয়ে নিতে সক্ষম। এইধরনের মানুষজনের বয়স অধিক হলেও তারা কখনই যুগের প্রবণতাগুলির থেকে পিছিয়ে পড়ে না আর শেখার ক্ষেত্রেও বয়স তাদের বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। বাহ্যিকভাবে, এমন মানুষের কোনো ত্রুটি কেউ খুঁজে পাবে না, অথচ তাদের অন্তরস্থ সারসত্যের গভীরে তারা নিতান্তই এবং সম্পূর্ণরূপেই শয়তানের দ্বারা ভ্রষ্ট। এই মানুষগুলির কোনো বাহ্যিক ত্রুটি খুঁজে পাওয়া না গেলেও, উপরিগতভাবে তারা ভদ্র, পরিশীলিত হলেও, আর জ্ঞান ও বিশেষ নৈতিকতা সম্পন্ন হলেও, এবং তাদের মধ্যে চারিত্রিক সততা থাকলেও, আর যদিও জ্ঞানের ক্ষেত্রে তারা তরুণদের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়, অথচ তাদের প্রকৃতির ও সারসত্যের দিক থেকে, এইধরনের মানুষ হল শয়তানের সম্পূর্ণ আর জীবন্ত নমুনা; তারা হল শয়তানের প্রায় অবিকল প্রতিচ্ছবি। এই হল শয়তানের মানুষকে ভ্রষ্ট করার “ফল”। আমি যা বলেছি সেসব তোমাদের কাছে বেদনাদায়ক হলেও, এসবই সত্যি। মানুষ যে জ্ঞানের অধ্যয়ন করে, যে বিজ্ঞান সে উপলব্ধি করে, আর সামাজিক চলনগুলির সঙ্গে নিজেকে খাপ খাওয়াতে যে উপায়গুলি সে বেছে নেয়, সেগুলির সবই ব্যতিক্রমহীনভাবে শয়তানের মানুষকে ভ্রষ্ট করার সরঞ্জাম মাত্র। এটা আদ্যন্ত সত্যি। তাই, মানুষ এমন এক স্বভাবের মধ্যে বাস করে যা শয়তান দ্বারা সম্পূর্ণরূপে ভ্রষ্ট, এবং ঈশ্বরের পবিত্রতা কী বা ঈশ্বরের সারসত্য কী তা জানার কোনো উপায়ই মানুষের থাকে না। এর কারণ হল শয়তানের মানুষকে ভ্রষ্ট করার উপায়গুলির মধ্যে বাহ্যিকভাবে কেউ কোনো ত্রুটি খুঁজে পায় না; কারো আচরণ দেখে কোথাও যে কিছু অসংগতি তা বলা সম্ভব নয়। প্রত্যেকেই স্বাভাবিকভাবে নিজের নিজের কাজ করে যায় আর স্বাভাবিক জীবন যাপন করে; তারা স্বাভাবিকভাবেই বই আর সংবাদপত্র পাঠ করে, স্বাভাবিকভাবেই তারা অধ্যয়ন করে ও কথাবার্তা বলে। কেউ কেউ খানিকটা নীতিতত্ত্ব শিখেছে আর তারা খুবই বাকপটু, বুঝদার এবং বন্ধুত্বপূর্ণ, তারা সাহায্যকারী আর দানশীল, এবং তারা তুচ্ছ বিষয়ে ঝগড়াঝাঁটি করে না আর মানুষের সুযোগ নেয় না। কিন্তু, তাদের কলুষিত শয়তানি স্বভাব প্রোথিত রয়েছে তাদের অন্তরের গভীরে এবং এই সারসত্য কোনো বাহ্যিক প্রচেষ্টার উপরে ভরসা করে বদলানো যায় না। এই সারসত্যের কারণে, মানুষ ঈশ্বরের পবিত্রতা জানতে অক্ষম, এবং ঈশ্বরের পবিত্রতার সারসত্য মানুষের কাছে ব্যক্ত করা সত্ত্বেও, মানুষ তা গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করে না। এর কারণ হল, শয়তান ইতিমধ্যেই বিভিন্ন উপায়ে মানুষের অনুভূতি, ধারণা, দৃষ্টিকোণ আর চিন্তা-ভাবনা সম্পূর্ণরূপে করায়ত্ত করে ফেলেছে। এই দখল করে নেওয়া আর ভ্রষ্ট করাটা সাময়িক বা অনিয়মিত নয়, বরং তা সর্বত্র আর সর্বক্ষণই উপস্থিত। এইভাবে, অজস্র মানুষ যারা তিন-চার বছর, এমনকি পাঁচ-ছয় বছর ধরে ঈশ্বরে বিশ্বাস করেছে, তারা এখনও এই মন্দ চিন্তা, দৃষ্টিভঙ্গি, যুক্তি আর দর্শনগুলি গ্রহণ করে যা শয়তান তাদের অন্তরে ধন-সম্পদের ন্যয় অনুপ্রবিষ্ট করেছে, আর তারা সেগুলিকে ঝেড়ে ফেলতে সমর্থ নয়। মানুষ যেহেতু শয়তানের প্রকৃতি থেকে আগত মন্দ, উদ্ধত আর বিদ্বেষপূর্ণ জিনিসগুলি গ্রহণ করেছে, তাই মানুষের আন্তঃব্যক্তিগত সম্পর্কের মধ্যে অনিবার্যভাবেই প্রায়শই দ্বন্দ্ব, বিতর্ক আর অসংগতির সৃষ্টি হয়, যা শয়তানের উদ্ধত প্রকৃতিরই পরিণাম বিশেষ। শয়তান যদি মানবজাতিকে ইতিবাচক জিনিস দিত—উদাহরণস্বরূপ, যদি মানুষের স্বীকার করে নেওয়া প্রথাগত সংস্কৃতির কনফুসীয়বাদ আর তাওবাদ ভালো হত—তাহলে একই ধরনের মানুষের সেই জিনিসগুলি গ্রহণ করার পরে পরস্পরের সাথে মিলমিশ করে চলতে সক্ষম হওয়া উচিত। তাহলে যারা ঐ একই জিনিস গ্রহণ করেছে সেইসব মানুষের মধ্যে এত বড় বিভাজন কেন? এরকমটা কেন? এর কারণ হল, এই জিনিসগুলি শয়তান থেকে আগত আর শয়তান মানুষের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে। শয়তান থেকে আগত জিনিস, উপর থেকে তা সে যত মর্যাদাপূর্ণ কিংবা মহান বলে মনে হোক না কেন, মানুষের মধ্যে আর মানুষের জীবনে সেগুলি বহন করে আনে শুধুই ঔদ্ধত্ব, আর শয়তানের মন্দ প্রকৃতি ব্যতীত আর কিছুই নয়। তাই নয় কি? যে ছদ্মবেশ ধারণে সক্ষম, যের জ্ঞান-সম্পদের অধিকারী অথবা যে সুশিক্ষার মাধ্যমে লালিত-পালিত হয়েছে, তাকেও নিজের ভ্রষ্ট শয়তানি স্বভাব লুকিয়ে রাখতে যথেষ্ট কষ্ট করতে হয়। অর্থাৎ, সেই ব্যক্তি যত উপায়েই নিজেকে লুকিয়ে রাখুক না কেন, তুমি তাকে সন্ত বলেই ভাবো, অথবা মনে কর যে সে একদম নিঁখুত, কিংবা তুমি যদি মনে কর যে সে একজন দেবদূত, তুমি তাকে যত শুদ্ধ বলেই ভাবো না কেন, দৃশ্যের অন্তরালে তাদের বাস্তব জীবনটা ঠিক কেমন? তাদের স্বভাব উদ্ঘাটিত হলে তুমি কী সারসত্য চাক্ষুষ করবে? নিঃসন্দেহে তুমি শয়তানের মন্দ প্রকৃতিই দেখবে। একথা বলাটা কি অনুমোদনযোগ্য? (হ্যাঁ।) উদাহরণস্বরূপ, ধর তুমি এমন কোনো ঘনিষ্টজনকে জানো যাকে তুমি ভালো মানুষ বলে মনে করতে, যাকে হয়ত তুমি দেবতাজ্ঞানে পূজা করতে। তোমার বর্তমান উচ্চতায়, তুমি তাদের সম্পর্কে কী ভাব? প্রথমে, তুমি এইধরনের মানুষের মধ্যে মনুষ্যত্ব আছে কিনা, তারা সৎ কিনা, মানুষের প্রতি তাদের সত্যিকারের ভালোবাসা আছে কিনা, তাদের বাক্য ও কাজ মানুষের উপকার ও সহায়তা করে কিনা এসবের মূল্যায়ন করবে। (না, করে না।) এইধরনের মানুষের প্রকাশিত তথাকথিত দয়া, ভালবাসা বা ভালোত্ব আসলে কী? এসবই হল মিথ্যা, লোকদেখানি মাত্র। ঐ মুখোশের আড়ালে রয়েছে প্রচ্ছন্ন একটি অশুভ উদ্দেশ্য: ঐ ব্যক্তিকে আরাধ্য ও দেবতা-স্থানীয় করে রাখা। তোমরা কি এটা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছ? (হ্যাঁ।)

শয়তান মানুষকে ভ্রষ্ট করতে যে পদ্ধতিগুলি ব্যবহার করে তা মানবজাতির কাছে কী বহন করে নিয়ে আসে? এগুলি কি সদর্থক কিছু বহন করে আনে? প্রথমত, মানুষ কি ভালো ও মন্দের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে? তুমি কি বলতে পারবে যে এই বিশ্বে, সে কোনো বিখ্যাত ব্যক্তিই হোক বা কোনো পত্রিকা বা অন্য কোনো প্রকাশনাই হোক, কোনটি ভালো আর কোনটি মন্দ, আর কী ঠিক বা কী ভুল তার বিচার করতে তাদের ব্যবহৃত মানদণ্ড একেবারে যথাযথ? ঘটনাবলী এবং মানুষের বিষয়ে তাদের মূল্যায়ন কি ন্যায্য? এগুলির কি সত্যতা আছে? এই বিশ্ব, এই মনুষ্যজাতি কি, সত্যের মানদণ্ডের ভিত্তিতে ইতিবাচক ও নেতিবাচক জিনিসের মূল্যায়ন করে থাকে? (না।) কেন মানুষের এই ক্ষমতা নেই? মানুষ এত জ্ঞান অধ্যয়ন করেছে আর বিজ্ঞান সম্পর্কে এত কিছু জানে, তাহলে তো তারা মহান ক্ষমতার অধিকারী, তাই নয় কি? তাহলে তারা ইতিবাচক আর নেতিবাচক জিনিসের মধ্যে পার্থক্য করতে অক্ষম কেন? এটা কেন হয়? (কারণ মানুষের সত্যজ্ঞান নেই; বিজ্ঞান ও জ্ঞান সত্য নয়।) শয়তান মানুষের কাছে যা কিছু বহন করে আনে তা সবই মন্দ, কলুষিত এবং তাতে সত্য, জীবন ও পন্থার অভাব। মানুষের মধ্যে শয়তান যে মন্দ ও ভ্রষ্টতা নিয়ে আসে, তার থেকে তুমি কি বলতে পার যে শয়তানের মধ্যে ভালোবাসা আছে? তুমি কি বলতে পার যে মানুষের মধ্যে ভালোবাসা রয়েছে? কেউ কেউ বলতে পারে: “তুমি ভুল; বিশ্বজুড়ে এরকম বহু মানুষ রয়েছে যারা দরিদ্র অথবা গৃহহীনদের সাহায্য করে থাকে। এরা কি ভালো মানুষ নয়? এরকম কত দাতব্য সংস্থাও রয়েছে যারা ভালো কাজ করে; তাদের কাজ কি ভালো কাজ নয়?” এর উত্তরে তুমি কী বলবে? শয়তান মানুষকে ভ্রষ্ট করতে নানাবিধ পদ্ধতি আর তত্ত্ব ব্যবহার করে;মানুষের এই ভ্রষ্টতা কি কোনো অস্পষ্ট ধারণা? না, তা অস্পষ্ট নয়। শয়তান কিছু কিছু ব্যবহারিক জিনিসও করে থাকে, আর সে এই বিশ্বে ও এই সমাজে একটি দৃষ্টিকোণ বা তত্ত্বেরও প্রচার করে। প্রতিটি রাজবংশে আর প্রতিটি যুগে, সে কোনো না কোনো তত্ত্ব প্রচার করে আর মানুষের মনের মধ্যে তা বদ্ধমূল করে দেয়। এই চিন্তাভাবনা আর তত্ত্বগুলি ধীরে ধীরে মানুষের অন্তরেও শিকড় বিস্তার করে, আর তারপর তারা সেগুলি অনুসরণ করতে শুরু করে। একবার তারা সেসব অনুসরণ করতে শুরু করলেই, তারাও কি নিজেদের অজ্ঞাতসারেই শয়তান হয়ে ওঠে না? মানুষ কি তখন শয়তানের সঙ্গে একাকার হয়ে যায় না? মানুষ যখনই শয়তানের সঙ্গে একাত্ম হয়ে যায়, তখন পরিশেষে ঈশ্বরের প্রতি তাদের মনোভাব কেমন দাঁড়ায়? সেটা কি ঈশ্বরের প্রতি শয়তানের মনোভাবের অনুরূপ নয়? এটা স্বীকার করার স্পর্ধা কারো নেই, আছে কি? কি ভয়ঙ্কর! কেন আমি বলি যে শয়তানের প্রকৃতি হল মন্দ? একথা আমি ভিত্তিহীনভাবে বলি না; বরং সে কী করেছে আর কী প্রকাশ করেছে তার ভিত্তিতেই শয়তানের প্রকৃতি নির্ধারিত ও বিশ্লেষিত হয়। আমি যদি শুধু বলতাম যে শয়তান মন্দ, তোমরা কী ভাবতে? তোমরা ভাবতে: “শয়তান অবশ্যই মন্দ।” তাই আমি তোমাকে প্রশ্ন করি: “শয়তানের কোন দিকটি মন্দ?” তুমি যদি বল: “শয়তানের ঈশ্বরের প্রতি প্রতিরোধ হল মন্দ,” তাহলেও তুমি কিন্তু স্পষ্টতার সঙ্গে কথা বলছো না। এখন যেহেতু আমি এই ভাবে সুনির্দিষ্ট দিকগুলি সম্পর্কে বলেছি, তোমাদের কি শয়তানের মন্দ প্রকৃতির সারসত্যের সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু সম্পর্কে একটা উপলব্ধি হয়েছে? (হ্যাঁ।) তোমরা যদি শয়তানের মন্দ প্রকৃতি স্পষ্টরূপে চাক্ষুষ করতে সক্ষম হও, তাহলে তোমরা তোমাদের নিজেদের পরিস্থিতিও দেখতে পাবে। এই দু’টি জিনিসের মধ্যে কি কোনো সম্পর্ক রয়েছে? এটা তোমাদের পক্ষে উপযোগী নাকি নয়? (হ্যাঁ, উপযোগী।) আমি যখন ঈশ্বরের পবিত্রতার সারসত্য বিষয়ে আলোচনা করি, তখন কি আমার শয়তানের মন্দ সারসত্য সম্পর্কে আলোচনা করাটাও জরুরী? এই ব্যাপারে তোমাদের মতামত কী? (হ্যাঁ, এটা জরুরী।) কেন? (শয়তানের মন্দ দিকটি ঈশ্বরের পবিত্রতাকে লক্ষ্যণীয় করে তোলে।) ব্যাপারটা কি এরকমই? এটা আংশিকভাবে সঠিক, এই অর্থে যে শয়তানের মন্দ দিক ব্যতীত, মানুষ জানবে না যে ঈশ্বর হলেন পবিত্র; একথা বলাটা সঠিক। তবে, তুমি যদি বল যে ঈশ্বরের পবিত্রতার অস্তিত্ব শুধুমাত্র শয়তানের মন্দের সঙ্গে বৈপরীত্যের কারণেই, সেটা কি ঠিক? চিন্তার এই দ্বান্দ্বিক পদ্ধতি ঠিক নয়। ঈশ্বরের পবিত্রতা হল ঈশ্বরের সহজাত সারসত্য; এমনকি ঈশ্বর তাঁর কার্যের মাধ্যমে তা প্রকাশ করলেও, তখনও তা ঈশ্বরের সারসত্যের একটি স্বাভাবিক অভিব্যক্তিই থাকে আর তা তখনও ঈশ্বরের সহজাত সারসত্যই থাকে; এর অস্তিত্ব সর্বকালীন এবং এটি স্বয়ং ঈশ্বরের স্বকীয় ও সহজাত, যদিও মানুষ তা চাক্ষুষ করতে পারে না। এর কারণ হল মানুষ শয়তানের ভ্রষ্ট স্বভাবের মধ্যে ও শয়তানের প্রভাবাধীন হয়ে বাস করে, আর তারা পবিত্রতা সম্পর্কে জানে না, ঈশ্বরের পবিত্রতার সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু সম্পর্কে তো আরোই কম জানে। তাই, প্রথমে শয়তানের মন্দ সারসত্য সম্পর্কে আমাদের আলোচনা করে নেওয়াটা কি জরুরী? (হ্যাঁ, জরুরী।) কেউ কেউ কিছু সংশয় প্রকাশ করতে পারে: “তুমি স্বয়ং ঈশ্বর সম্পর্কে আলোচনা করছ, তাহলে তুমি সর্বদাই শয়তান কীভাবে মানুষকে ভ্রষ্ট করে আর শয়তানের প্রকৃতি কীভাবে মন্দ সে বিষয়েই কথা বলছ কেন?” এখন তোমরা এই সংশয়গুলিকে একপাশে সরিয়ে রেখেছ, তাই তো? যখন মানুষের শয়তানের মন্দের বিচার করার সূক্ষ্ণ বুদ্ধি থাকে আর যখন তাদের কাছে এর একটা যথাযথ সংজ্ঞা থাকে, যখন মানুষ মন্দের সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু আর প্রকাশ, মন্দের উৎস আর সারসত্য সুস্পষ্টরূপে দেখতে পায়, শুধুমাত্র তখনই ঈশ্বরের পবিত্রতা সম্পর্কে আলোচনার মধ্য দিয়ে মানুষ ঈশ্বরের পবিত্রতা কী, পবিত্রতাই বা কী তা স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করতে ও শনাক্ত করতে পারে। আমি যদি শয়তানের মন্দের আলোচনা না করি, কিছু কিছু মানুষ ভুল করে বিশ্বাস করে বসবে যে সমাজে এবং মানুষের মধ্যে মানুষের করা নির্দিষ্ট কিছু কাজ—অথবা এই বিশ্বে অস্তিত্ব রয়েছে এরকম নির্দিষ্টি কতকগুলি বিষয়—পবিত্রতার সাথে কিছুটা সম্পর্কিত হতে পারে। এটা কি একটা ভুল দৃষ্টিকোণ নয়? (হ্যাঁ, ঠিক তাই।)

এখন যখন আমি এই ভাবে শয়তানের সারসত্য সম্পর্কে আলোচনা করে ফেলেছি, তোমার বিগত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে, ঈশ্বরের বাক্যসমূহ পাঠ করে আর তাঁর কার্যের অভিজ্ঞতা লাভ করে তোমরা ঈশ্বরের পবিত্রতা সম্পর্কে কী ধরনের উপলব্ধি অর্জন করেছো? এস, সেটা সম্পর্কে কিছু বল। তোমাকে শ্রুতিমধুর বাক্য ব্যবহার করতে হবে না, তুমি শুধু তোমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে কথা বল। ঈশ্বরের পবিত্রতয় কি কেবলমাত্র তাঁর ভালোবাসা দ্বারাই গঠিত? আমরা যাকে পবিত্রতা বলে বর্ণনা করি তা কি নিছকই ঈশ্বরের ভালোবাসা? সেটা বড়ই একপেশে হয়ে যাবে, তাই নয় কি? ঈশ্বরের ভালোবাসা ছাড়া, ঈশ্বরের সারসত্যের কি আর কোনো দিক আছে? তোমরা কি সেগুলি চাক্ষুষ করেছো? (হ্যাঁ। ঈশ্বর উৎসব আর ছুটির দিন, রীতিনীতি আর কুসংস্কার ঘৃণা করেন; এটাও ঈশ্বরের পবিত্রতা।) ঈশ্বর হলেন পবিত্র, আর তাই তিনি কিছু জিনিসকে ঘৃণা করেন, এটাই কি বলতে চাইছ? সে প্রসঙ্গেই যদি আসি, তাহলে ঈশ্বরের পবিত্রতা কী? ঈশ্বরের পবিত্রতায় কি ঘৃণা ছাড়া আর কোনো সারবান বিষয়বস্তু নেই? মনে মনে কি তোমরা ভাবছ, “ঈশ্বর যেহেতু এই মন্দ জিনিসগুলি ঘৃণা করেন, তাই বলা যায় যে ঈশ্বর পবিত্র”? এটা কি এখানে অনুমান হয়ে যাচ্ছে না? এটা কি পূর্ব প্রবণতা দেখে অনুসিদ্ধান্ত আর বিচারেরই একটা রূপ নয়? ঈশ্বরের সারসত্য সম্পর্কে আমাদের উপলব্ধি প্রসঙ্গে সবচেয়ে বড় কোন ভুল পদক্ষেপটি অবশ্যই সম্পূর্ণরূপে এড়িয়ে চলতে হবে? (এটা হল যখন আমরা বাস্তবতাকে ভুলে গিয়ে তার বদলে মতবাদের কথা বলি।) এটা অত্যন্ত বড় এক ভুল পদক্ষেপ। আর কি কিছু আছে? (জল্পনা এবং কল্পনা।) এগুলিও খুবই গুরুতর ভ্রান্তি। জল্পনা আর কল্পনা কেন কোনো কাজে আসে না? তুমি যে যে বিষয়গুলি সম্পর্কে জল্পনা বা কল্পনা কর সেগুলি কি তুমি সত্যিই দেখতে পাও? এগুলি কি ঈশ্বরের প্রকৃত সারসত্য? (না।) আর কী এড়িয়ে চলতে হবে? ঈশ্বরের সারসত্য বর্ণনা করতে গিয়ে একগুচ্ছ মধুর বাক্য আওড়ে যাওয়াটা কি একটা ভুল পদক্ষেপ? (হ্যাঁ।) এটা কি আড়ম্বরপূর্ণ এবং অযৌক্তিক নয়? বিচার করা এবং জল্পনা করা হল অর্থহীন, মধুর বাক্যগুলি বেছে নেওয়াটাও তাই-ই। ফাঁপা প্রশংসাও হল অর্থহীন, তাই নয় কি? ঈশ্বর কি মানুষের এই ধরনের অর্থহীন কথাবার্তা শুনে উপভোগ করেন? (না, তিনি তা করেন না।) তিনি এসব শ্রবণ করলে অস্বস্তিবোধ করেন! ঈশ্বর যখন একদল মানুষকে পথনির্দেশ ও উদ্ধার করেন, ওই একদল মানুষ তাঁর বাক্য শ্রবণ করার পরেও কখনো উপলব্ধি করে না যে তিনি কী বলতে চাইছেন। কেউ প্রশ্ন করতে পারে: “ঈশ্বর কি ভালো?” আর তারা উত্তর দেবে, “হ্যাঁ!” “কতটা ভালো?” “অত্যন্ত ভালো!” “ঈশ্বর কি মানুষকে ভালোবাসেন?” “হ্যাঁ!” “কতটা ভালোবাসেন? তুমি কি তা বর্ণনা করতে পারবে?” “অত্যন্ত বেশি! ঈশ্বরের ভালোবাসা সমুদ্রের চেয়ে গভীর, আকাশের চেয়ে উচ্চ!” এই বাক্যগুলি কি অর্থহীন নয়? আর এই অর্থহীন বাক্যগুলি কি তোমরা এক্ষুনি যা বললেতার অনুরূপ নয়: “ঈশ্বর শয়তানের ভ্রষ্ট স্বভাবকে ঘৃণা করেন, আর তাই ঈশ্বর হলেন পবিত্র”? (হ্যাঁ।) তোমরা এক্ষুনি যা বললে সেটা কি অর্থহীন নয়? আর যে সব অর্থহীন কথাবার্তা বলা হয় তাদের অধিকাংশই প্রাথমিকভাবে কোথা থেকে আগত হয়? যেসব অর্থহীন কথা বলা হয় তা প্রাথমিকভাবে মানুষের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা এবং ঈশ্বরকে সম্মান না করা থেকেই উদ্ভূত হয়। আমরা কি একথা বলতে পারি? তোমার কোনো উপলব্ধি ছিল না, অথচ তাও তুমি অর্থহীন কথা বলতে। এটা কি দায়িত্বজ্ঞানহীনতা নয়? এটা কি ঈশ্বরের প্রতি অশ্রদ্ধা নয়? তুমি কিছু জ্ঞান অর্জন করেছো, কিছু কিছু বিচারবুদ্ধি ও যুক্তিবিদ্যা উপলব্ধি করেছো, তুমি এই জিনিসগুলি ব্যবহার করেছো, উপরন্তু এগুলি করেছো ঈশ্বরকে উপলব্ধি করতেই। তোমার কি মনে হয় যে ঈশ্বর তোমাকে এইভাবে কথা বলতে শুনে মর্মাহত হন? এইসব পদ্ধতি ব্যবহার করে তোমরা কিভাবে ঈশ্বরকে জানার প্রচেষ্টা করতে পার? তোমরা যখন এইভাবে কথা বল, তখন কি তা আনাড়ির মতো শোনায় না? অতএব, ঈশ্বরের জ্ঞানের ক্ষেত্রে, তোমাকে অত্যন্ত সতর্ক হতে হবে; তুমি ঈশ্বরকে যতটা জানো শুধু ততটাই বলবে। সৎভাবে এবং বাস্তবিকভাবে কথা বল আর বিনম্র প্রশংসা দিয়ে তোমাদের বাক্যগুলি সুসজ্জিত করো না, এবং স্তাবকতার ব্যবহার করো না; ঈশ্বরের তার প্রয়োজন নেই; এগুলি আগত হয় শয়তানের কাছ থেকে। শয়তানের স্বভাব হল উদ্ধত; শয়তান স্তাবকতা আর মিষ্ট বাক্য শ্রবণ করতে পছন্দ করে। মানুষ যদি তাদের শেখা যাবতীয় মিষ্ট বাক্য আওড়ে যায় আর সেগুলি শয়তানের জন্য ব্যবহার করে তাহলে শয়তান আনন্দিত এবং খুশি হবে। কিন্তু ঈশ্বরের এসবের প্রয়োজন নেই; ঈশ্বরের তোষণ অথবা স্তাবকতার প্রয়োজন নেই এবং তিনি চান না যে মানুষ অর্থহীন কথা বলুক আর অন্ধভাবে তাঁর প্রশংসা করুক। ঈশ্বর বাস্তবের সাথে সংশ্রবশূন্য প্রশংসা আর স্তাবকতা ঘৃণা করেন এবং সেগুলি শ্রবণ করেনও না। তাই, যখন কিছু মানুষ কপটভাবে ঈশ্বরের প্রশংসা করে, এবং অন্ধভাবে শপথ নেয় আর তাঁর কাছে প্রার্থনা করে, ঈশ্বর আদৌ তা শ্রবণ করেন না। তুমি যা বলবে তার দায় তোমাকেই নিতে হবে। তুমি যদি কিছু না জেনে থাক, তাহলে সেটা বল; তুমি যদি কিছু জান, তাহলে তা ব্যবহারিক উপায়ে প্রকাশ কর। তাহলে, ঈশ্বরের পবিত্রতার ফলস্বরূপ সুনির্দিষ্টভাবে ও প্রকৃতপক্ষে কী ঘটে, সে সম্পর্কে তোমাদের কি প্রকৃত কোনো উপলব্ধি আছে? (আমি যখন বিদ্রোহ প্রকাশ করেছিলাম, আমি যখন সীমালঙ্ঘন করেছিলাম, তখন আমি ঈশ্বরের বিচার ও শাস্তি গ্রহণ করেছিলাম, আর তার মধ্যেই আমি ঈশ্বরের পবিত্রতা চাক্ষুষ করেছিলাম। এবং যখন আমি এমন পরিবেশের সম্মুখীন হয়েছিলাম যা আমার আশানুরূপ ছিল না, আমি এই জিনিসগুলির বিষয়ে প্রার্থনা করেছিলাম এবং ঈশ্বরের উদ্দেশ্য জানতে চেয়েছিলাম, আর ঈশ্বর আমাকে তাঁর বাক্যদ্বারা আলোকিত করলে ও পথনির্দেশ করলে, আমি ঈশ্বরের পবিত্রতা চাক্ষুষ করেছিলাম।) এটি এসেছে তোমার নিজ অভিজ্ঞতা থেকে। (ঈশ্বর এই বিষয়ে যা বলেছেন তা থেকে, আমি দেখেছি যে মানুষ শয়তান দ্বারা কলুষিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর কীসে পরিণত হইয়েছে। তদসত্ত্বেও, ঈশ্বর আমাদের উদ্ধার করার জন্য সবকিছু দিয়েছেন, আর এ থেকেই আমি ঈশ্বরের পবিত্রতা চাক্ষুষ করেছি।) এই হল কথা বলার বাস্তববাদী পন্থা; এই হল সত্য জ্ঞান। এটা উপলব্ধি করার অন্য আর কোনো পথ আছে কি? (শয়তানের হবাকে পাপাচারের প্রলোভন দিতে এবং প্রভু যীশুকে প্রলুব্ধ করতে বলা বাক্যগুলি থেকে তার মন্দ কর্ম চাক্ষুষ করি। ঈশ্বরের বলা বাক্যগুলি থেকে যেখানে ঈশ্বর আদম ও হবাকে তারা কী খেতে পারে আর কী খেতে পারে না তা বলেছিলেন, আমি দেখি যে ঈশ্বর সোজাসুজি, সুস্পষ্টরূপে, এবং বিশ্বস্তভাবে কথা বলেন; এর থেকে আমি ঈশ্বরের পবিত্রতা চাক্ষুষ করি।) উপরের মন্তব্যগুলি শ্রবণ করে, কার বাক্যগুলি তোমাদের “আমেন” বলার জন্য সর্বাধিক অনুপ্রেরণা দেয়? কার আলাপ-আলোচনা আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়বস্তুর নিকটতম ছিল? কার বাক্যগুলি অধিক বাস্তবসম্মত ছিল? সর্বশেষ ভগিনীর আলোচনা কেমন ছিল? (ভালো।) সে যা বলেছে তোমরা তাতে “আমেন” বল। তার বলা কোন কথা সঠিক লক্ষ্যনিষ্ঠ ছিল? (ভগিনীর একটু আগে বলা বাক্যগুলিতে, আমি শুনেছি যে ঈশ্বরের বাক্য সোজাসুজি এবং সুস্পষ্ট, আর তা শয়তানের ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে কথা বলার মত একেবারেই নয়। আমি এর মধ্যে ঈশ্বরের পবিত্রতা চাক্ষুষ করেছি।) এ হল এটির একটি অংশ। এটি কি সঠিক ছিল? (হ্যাঁ।) খুব ভালো। আমি দেখতে পাচ্ছি যে তোমরা এই শেষ দু’টি আলোচনায় কিছু জিনিস অর্জন করেছ, তবে তোমাদের কঠোর পরিশ্রম করে যেতে হবে। তোমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হবে তার কারণ ঈশ্বরের সারসত্য বিষয়টা হল এক অত্যন্ত গভীর শিক্ষা; কেউ রাতারাতি এটি উপলব্ধি করে ফেলতে পারে না, কিংবা কয়েকটি মাত্র বাক্য দ্বারা কেউ তা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে পারে না।

মানুষের ভ্রষ্ট শয়তানি স্বভাবের প্রতিটি দিক, জ্ঞান, দর্শন, মানুষের চিন্তাভাবনা আর দৃষ্টিভঙ্গী, এবং স্বতন্ত্র ব্যক্তির নির্দিষ্ট কয়েকটি ব্যক্তিগত দিক তাদের ঈশ্বরের সারসত্য জানতে তাদের অত্যন্ত বাধা দেয়; তাই তুমি যখনই ঐ বিষয়গুলি শ্রবণ কর, সেগুলির কিছু কিছু তোমাদের নাগালের বাইরে হতে পারে; কিছু জিনিস তোমরা হয়তো উপলব্ধি করতে পার না, আবার কিছু কিছু বিষয় তোমরা মূলগতভাবে বাস্তবতার সঙ্গে মেলাতে সক্ষম নাও হতে পার। তা সত্ত্বেও, আমি তোমাদের ঈশ্বরের পবিত্রতা সম্পর্কে উপলব্ধির কথা শুনেছি এবং আমি জানি যে তোমাদের অন্তরে তোমরা আমি ঈশ্বরের পবিত্রতা সম্পর্কে যা বলেছি আর আলাপ-আলোচনা করেছি তা স্বীকার করতে শুরু করছ। আমি জানি যে তোমাদের অন্তরে ঈশ্বরের পবিত্রতার সারসত্য উপলব্ধি করার বাসনা জাগ্রত হতে শুরু করছে। কিন্তু আমি আরও বেশি খুশি হই এই কারণে যে তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ ইতিমধ্যেই ঈশ্বরের পবিত্রতা সম্পর্কে তোমাদের জ্ঞানের বর্ণনা দিতে সরলতম বাক্যের ব্যবহার করতে সক্ষম। যদিও কথাটা বলা অত্যন্ত সহজ আর আমি এটা আগেও বলেছি, তবুও তোমাদের মধ্যে অধিকাংশই এখনও তাদের অন্তরে এই বাক্যগুলি গ্রহণ করেনি, আর বস্তুত তোমাদের মনে সেগুলি কোনো ছাপই ফেলতে পারেনি। তবুও, তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ এই বাক্যগুলি স্মৃতিতে ধরে রেখেছ। এটি অত্যন্ত ভালো আর আশাব্যঞ্জক সূচনা। আমি আশা করি যে তোমরা যে বিষয়গুলিকে গভীর বলে মনে কর—অথবা যে বিষয়গুলি তোমাদের নাগালের বাইরে সেগুলি সম্পর্কে তোমরা আরো বেশি করে ভাবনাচিন্তা করা ও আলাপ—আলোচনা করা অব্যাহত রাখবে। তোমাদের বোধগম্যতার বাইরে থাকা বিষয়গুলির ক্ষেত্রে কেউ একজন তোমাদের আরও বেশি পথনির্দেশনা প্রদান করবে। বর্তমানে তোমাদের বোধগম্যতার অন্তর্গত বিষয়গুলি নিয়ে তোমরা যদি আরো বেশি আলাপ-আলোচনায় আত্মনিয়োগ কর, পবিত্র আত্মা তাঁর কার্য সম্পাদন করবেন এবং তোমরা আরও সম্যকতর উপলব্ধিতে উপনীত হবে। ঈশ্বরের সারসত্য উপলব্ধি করা এবং ঈশ্বরের সারসত্য জানাই হল মানুষের জীবনে প্রবেশের ক্ষেত্রে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। আমি আশা করি যে একে তোমরা উপেক্ষা করবে না বা এটাকে একটা খেলা হিসাবে দেখবে না, কারণ ঈশ্বরকে জানা হল মানুষের বিশ্বাসের ভিত আর মানুষের সত্যানুসরণ ও পরিত্রাণ লাভের চাবিকাঠি। মানুষ যদি ঈশ্বরকে বিশ্বাস করে অথচ তাঁকে না জানে, তারা যদি শুধুই বাক্য এবং মতবাদের মধ্যেই বাস করে, তাহলে তারা কখনই পরিত্রাণ পাবে না, এমনকি তারা যদি সত্যের অগভীর অর্থের সাথে সঙ্গতি রেখে আচরণ ও যাপন করে তবুও। অর্থাৎ, তুমি যদি ঈশ্বরে বিশ্বাস কর অথচ তাঁকে না জান, তাহলে তোমার বিশ্বাস পুরোটাই বৃথা এবং তার মধ্যে বাস্তবতার লেশমাত্র নেই। তোমরা উপলব্ধি করতে পারছ তো, তাই না? (হ্যাঁ, আমরা উপলব্ধি করতে পারছি।) আমাদের আলাপ-আলোচনা আজ এখানেই শেষ হবে।

জানুয়ারি ৪, ২০১৪

পূর্ববর্তী: স্বয়ং অনন্য ঈশ্বর (৪)

পরবর্তী: স্বয়ং অনন্য ঈশ্বর ৬

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।

সেটিংস

  • লেখা
  • থিমগুলি

ঘন রং

থিমগুলি

ফন্টগুলি

ফন্ট সাইজ

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

পৃষ্ঠার প্রস্থ

বিষয়বস্তু

অনুসন্ধান করুন

  • এই লেখাটি অনুসন্ধান করুন
  • এই বইটি অনুসন্ধান করুন

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন